ঢাকা, সোমবার , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ , ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > করোনায় দেশে আরো ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১,২৭৫   > এক্সট্রাকশনের পর নেটফ্লিক্সের নতুন ছবিতে ক্রিস হেমসওয়ার্থ   > ঠাকুরগাঁওয়ে সুরক্ষা সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ   > বিনামূল্যে গ্রামীন জনপদের প্রান্তিক মায়েরা পাচ্ছে জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের সেবা   > বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে বাঁধের পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন   > টাঙ্গাইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা!   > নীলফামারীতে ভিটামিন"এ" ক্যাম্পেইন সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা   > সাংগুতে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড   > মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস পালন   > বৌদ্ধবিহারে বিশ্ববিদ্যালয় পুন:প্রতিষ্ঠার দাবি  

   সাক্ষাৎকার
  দারিদ্র বিমোচন ও শিক্ষা বিস্তারে জেছিস উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলেছে : এ.টি.এম বদরুল ইসলাম
  Publish Date : 25-10-2018

দিনবদলে পাল্টে যাচ্ছে বাংলাদেশের হালচাল পাল্টে যাচ্ছে। চারদিকে উন্নয়নে অদম্য বাংলাদেশর চিত্রের জয় জয়কার । এই যখন আজকের বাস্তবতা তখন একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিভিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন স্থাপন করার মাধ্যমেবাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সিলেট জেলার চারটি পার্টনার অর্গানাইজেশনের মধ্যে অন্যতম অর্গানাইজেশন হলো জৈন্তাপুর ছিন্নমূল সংস্থা। যে সংস্থাটি আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত হয়ে কাজ করছে সিলেটে বিভাগে। জানাযায় জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡কগোষ্ঠী ও বাঙালীদের স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা বিতরণ, সবজি বীজ বিতরণ করে থাকে। এছাড়া দরিদ্র শ্রেণী বিশেষত চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡কগোষ্ঠীর জন্য সংস্থাটি কাজ করে আসছে। উল্লেখ্য দীর্ঘদিন দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক ও মানব উন্নয়ন কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা(জেছিস) নির্বাহী প্রধান এ.টি.এম বদরুল ইসলাম । তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের নয়াখেল দক্ষিণ গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি সিলেটর এক আলোকিত মানুষ জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা(জেছিস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। সংস্থার মধ্যে দিয়ে এলাকার গরিব অসহায়দের সাহায্য সহযোগিতা করেন অনায়েসে এতে অনেকে তার সহযোগিতায় সাবলম্ভী হয়েছেন আবার অনেকে আলোরমুখ দেখতে শুরু করেছেন । সবমলিয়ে এ.টি.এম বদরুল ইসলাম শিক্ষা ও সমাজ সেবামূলক অসংখ্য কর্মকান্ডে জড়িত আছেন । জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অবদান : প্রেক্ষিত সিলেট জেলার জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা(জেছিস)’ নিয়ে দৈনিক সকালের সময়ে সাথে মুখোমুখি হয়েছেন সংস্থার নির্বাহী এ.টি.এম বদরুল ইসলাম সিলেট ব্যুরো মবরুর আহমদ সাজুর একান্তে কথা বলেছেন সেখানে উঠে আসে অনেক অজানা তথ্য। যা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।
সকালের সময় : জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থার (জেছিস) অপরিহার্যতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ তথা সিলেট প্রেক্ষিত সম্পর্কে জানেতে চাই।
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম : সিলেট উন্নয়নশীল হলে বুঝতে হবে সারাদেশ তথা বাংলাদেশ উন্নয়ন সম্ভব। সিলেট বিভাগে “দারিদ্র্ বিমোচন ও শিক্ষা বিস্তারে জেছিস উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলেছে। জৈন্তাপুর ছিন্নমূল সংস্থা দরিদ্র শ্রেণী বিশেষত চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡কগোষ্ঠীর জন্য সংস্থাটি কাজ করছে। ।বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জেছিসের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা মনে করি সিলেট ধনী এলাকা তা বাস্তবে দেখা যায় সেখানেও গরীব, অসহায় লোকজন আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অবস্থা দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্র“তি ছিল বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে তারই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন জাতির জনরে কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশ এখন দিন দিন উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই পাশাপাশি যে সমস্ত এনজিওগুলো দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জৈন্তাপুর ছিন্নমূল সংস্থা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡কগোষ্ঠী ও বাঙালীদের স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা বিতরণ, সবজি বীজ বিতরণ করে থাকে। জৈন্তাপুর ছিন্নমূল সংস্থার প্রকল্প হচ্ছে সমন্বিত ক্ষুদ্র নারী উদ্যোগ উন্নয়ন প্রকল্প। এটি চারিকাটা ইউনিয়নে গ্রহণ করা হয়েছিল অনেক বছর আগে আজ সময়ের পরিক্রমায় জেসিসের আওতায় সিলেট বিভাগে জুড়ে জণমকল্যাণে কাজ করছে এ সংস্থার মানুষ।
সকালে সময় : সিলেটে বিভাগে জিছিসের জীবন মান উন্নয়ন কর্মসূচি বহুল আলোচিত। এ ক্ষেত্রে কোনো গুণগত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে কি?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: সফলতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমাদের চেষ্টা হবে সৃজনশীল। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জীবন মান উন্নয়ন বাড়ানো গেলে আমরা একটি যোগ্য আগামী প্রজন্ম নিশ্চিত করতে পারব। আমরা চাই মানসম্মত সেবার মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণ, দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী ও একটি মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠুক। বলা যায় শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা এখন গুণগত মানের দিকে নজর দেব।
সকালের সময় : পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জেছিস তার কর্মসূচিতে কি পরিবর্তন আনছে। বা আগামিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসছে কি?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: সরকারের দেয়া কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মানবিক সেবা মূলক সংস্থা হিসেবে জেছিস এ সৃজনশীলতা আনা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে দূর্নীতির সাহায্যনির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসা। জাতিগতভাবে আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে এখন আমাদের সাহায্যনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার সময় হয়েছে।
সকালের সময়: আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হিসাবে জেছিস শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্ন্য়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই জেছিস পরীক্ষামুলকভাবে সার্বজনিক প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের ড্রপ-আউট কমানোর এবং শিক্ষা বিশেষ করে নারী শিক্ষা উন্নয়নের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জন্মলগ্ন থেকেই সংস্থাটি দরিদ্র, অবহেলিত, দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংস্থার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী আছে যেমন অ-প্রাতিষ্ঠনিক শিশু শিক্ষা, কারিগরী প্রশিক্ষণ,স্বাস্থ্য উন্নয়ন সেবা, ত্রান ও পূনর্বাসন কার্যক্রম, মানবাধিকার ও সুশাসন, বৃত্তি প্রদান, ঋণ কার্যক্রম ও সচেতনতা সৃষ্টি উল্লেখযোগ্য।বেইস বর্তমানে সিলেটের প্রতিটি উপ জেলায় উল্লেখিত কার্যক্রম সমূহ সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করে আসছে। জিছিসের এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় বেশ কিছু পাইলট কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে, যা পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক জাতীয় কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্ত করা সহ পাইলট কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলো হলো, প্রক-শৈশব উন্নয়ন, উন্নত চূলা, গণশিক্ষা, ম্যাচ বক্সের মাধ্যমে স্বাক্ষরতা ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিক্ষানবিশী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। জিছিস তার কর্ম উদ্দীপনায় প্রমাণ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও সেবাব্রতী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ালে আস্থা ও ভালোবাসায় যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয় তা দেশ, সমাজ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।বস্তুতঃ যুগোপযোগী কর্মকান্ডের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। একটি দেশ ও জাতির জন্য তা গর্বের বিষয়।
সকালের সময়: দারিদ্র্যবিমোচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাÍএসব খাতে সিলেট যথেষ্ট এগিয়েছে। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতিও ঘুচেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেছিসের কাজ ও কর্মসূচির ক্ষেত্রে সামনে কোনো পরিবর্তন আসছে কি?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: দেখুন, সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে বাংলাদেশ সত্যিই বদলে গেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আমরা ভালো করেছি। এখন এসডিজি বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলো বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হবে। বর্তমান উন্নয়নকে মাথায় রেখে সামনে কী কী ক্ষেত্রে নজর দেওয়া উচিত, সেটাই এখন আমাদের বড় বিবেচনা। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত ও সে অনুযায়ী কর্মসূচি নেওয়ার কাজটিই আমরা করছি। আমরা ২০৪‘ সাল পর্যন্ত আগামী চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচিগুলো ঠিক করেছি। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের পরিবর্তন হচ্ছে, আগামী দিনে ৬ থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির এই সুফল সবাই পাবে কি? উন্নয়নের সুফল যাতে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনায় নিয়েই আমরা কর্মসূচিগুলো নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
সকালের সময় : আগামিতে জেছিস কোন কোন বিষয় প্রধান্য দিবে?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: আমরা জানি যে জনসংখ্যার পরিবর্তন হবে। জনসংখ্যা বাড়বে। জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ ভাগ সামনে শহরবাসী হবে। অন্যদিকে ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীও হবে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এই জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করা ও তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দেখা দেবে নতুন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে যে সম্মানজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, এর সুফল সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পৌঁছাতে হলে অর্থনৈতিক কর্মকাÐে সবার অংশগ্রহণ ও যুক্ততা বাড়াতে

সকালের সময়: নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করনীয় কি ?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: নারী নির্যাতন রোধে কিছু মৌলিক কাজ আগে করতে হবে । এর মধ্যে নারী শিক্ষা, সমাজে নারীর সুষ্ঠ অধিকার নিশ্চিত, নারীর কর্মসংস্থান ইত্যাদি ।বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ গুলো হল- নারীর পরনির্ভরশীলতা, শিক্ষার অভাব, দুর্বল মনোভাব । একজন নারী যখন শিক্ষিত হবেন, কাজ করবেন তখন তিনি আর অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকবেন না, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন । এছাড়া, পুরুষদের মাঝে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মনোভাব গড়ে উঠলে, এবং আইনের শাসন আরও কঠোর হলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব
সকালের সময়: দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশে কি বিরাট সাফল্য দেখছেন?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: বিশ্বে এখন হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৭৭ কোটি, যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলারের কম। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশ বা ৩৯ কোটির বাস সাব-সাহারা অঞ্চলে। আর ৩৪ শতাংশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বিশ্বব্যাংকের এই তথ্যের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এখন বাংলাদেশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানের চেয়েও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালেও দেশে যেখানে অতিদরিদ্রের হার ছিল ৪৩ শতাংশ, দশ বছরের ব্যবধানে তা কমে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বের খুব কম দেশই এ সাফল্য দেখাতে পেরেছে। ফলে বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সকালের সময় : দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে জেছিসের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন দেখছেন?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: বাংলাদেশে এনজিওর প্রয়োজন ফুরাবে নাজেছিসের অর্জিত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সিলেট বিভাগ কে দারিদ্র্যমুক্ত করার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে। আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে শতশত লোককে চরম দারিদ্র্য অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো গেছে। নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাÐে অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে অতিদরিদ্রদের অবস্থানের উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। মূলধন ও ঋণসহায়তা এবং বিমার মতো কর্মসূচি নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাÐে দরিদ্র জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দিনে দিনে আমাদের উন্নয়নের এবং সমৃদ্ধির গতিপথ বদলেছে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে আরো আগেই। এ দেশের মানুষের প্রাণশক্তি অনেক বেশি, তারাই অর্থনীতির চালিকাশক্তি সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিও, সুশীল সমাজের ভূমিকাও আছে। অর্থনৈতিক উন্নতির কারণেই চরম দরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। এত সমৃদ্ধির ও উন্নয়নের পরে দেশে এখনো প্রায় দুই কোটি মানুষ চরম দরিদ্র। সংখ্যার দিক থেকে এটি অনেক বেশি। বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য বিদায় নিয়েছে, তেমন দাবি করার সময় আসতে আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। দারিদ্র্য সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে- এটা ভাবলে হবে না। তবে দারিদ্র্যের চেহারাও বদলেছে। নগর দারিদ্র্য বেড়েছে, যা নতুন এক চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বৈষম্যও জোরালো হয়েছে।
সকালের সময়: নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করনীয় কি ?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: নারী নির্যাতন রোধে কিছু মৌলিক কাজ আগে করতে হবে । এর মধ্যে নারী শিক্ষা, সমাজে নারীর সুষ্ঠ অধিকার নিশ্চিত, নারীর কর্মসংস্থান ইত্যাদি । বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ গুলো হল- নারীর পরনির্ভরশীলতা, শিক্ষার অভাব, দুর্বল মনোভাব । একজন নারী যখন শিক্ষিত হবেন, কাজ করবেন তখন তিনি আর অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকবেন না, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন । এছাড়া, পুরুষদের মাঝে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মনোভাব গড়ে উঠলে, এবং আইনের শাসন আরও কঠোর হলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব
সকালের সময় : অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি নারী-পুরুষের বৈষম্য বাংলাদেশের বড় সমস্যা। নতুন পরিকল্পনায় জেছিস এই বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে কি?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: জেন্ডার-বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে জেসছস শুরু থেকেই কাজ করে আসছে এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সকল পর্যায়ে এই বৈষম্য দূর করার জন্য কর্মসূচি থাকছে। শ্রমক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বেতনের সমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা বাড়ানো, পুষ্টিক্ষেত্রে সমতাÍএগুলো সবই আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব কর্মসূচির মাধ্যমে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সকালের সময় : বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বাংলাদেশে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই? এক্ষেত্রে জেছিসের ভুমিকা কি?
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তলতে জেছিস েি¯øট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। আসলে বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক অভিশাপ । এর ফলে সম্ভাবনাময় কিশোর কিশোরীদের বেড়ে উঠা ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বিয়ে মানুষের জীবনে একটি আনন্দময় ঘটনা, সেই সঙ্গে পরিবার ও শুভানওধ্যায়ীদের জন্য একটি উৎসবের উপলক্ষ্য হলেও বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ঘটনাটি বেদনা ও তিক্ততার । কেননা বাল্য বিবাহ কোনো জীবনের শুভ সূচনা করে না, বরং একটি সর্বনাশা পরিণতি ডেকে আনে । অবুঝ মেয়ে শিশু বা অসহায় কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেক সময় জোড় করেই বাল্য বিবাহ দেয়া হয়। এ কারণে বাল্যবিবাহ মানে শিশু, বিশেষ করে ময়ে শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের ফলে ছেলে বা মেয়ের সুন্দর শৈশবের সমপাপ্তি ঘটে এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বিকাশের অধিকার ও সুয়োগ খর্ব হয়।
সকালের সময়: ধন্যবাদ আপনাকে
এ.টি.এম বদরুল ইসলাম: ধন্যবাদ আপনাকে ও সকালের সময় কে

 

এ.টি.এম বদরুল ইসলাম 

নির্বাহী প্রধান জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা(জেছিস)



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 585        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     সাক্ষাৎকার
জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি: বাবুল শেখ
.............................................................................................
পরিকল্পিত উন্নয়নের বিকল্প নেই: অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক
.............................................................................................
বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব শুরু হয়েছে
.............................................................................................
দারিদ্র বিমোচন ও শিক্ষা বিস্তারে জেছিস উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলেছে : এ.টি.এম বদরুল ইসলাম
.............................................................................................
মধ্যরাতেও জনসেবায় ব্যস্ত আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
শীতে আমার ভিডিও বেশি করে দেখুন : হিরো আলম
.............................................................................................
সৈয়দ হক ছিলেন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী : আসাদ চৌধুরী
.............................................................................................
নেপালের নির্বাচন জনগণের হাতেই: ড. আয়োধী প্রসাদ যাদব
.............................................................................................
প্রধান বিচারপতিকে সরকার চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করেছে
.............................................................................................
বিশেষ সাক্ষাৎকারে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত
.............................................................................................
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ওসি সহিদ আলম বি.পি.এম
.............................................................................................
Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale
Digital Load Cell
Digital Indicator
Digital Score Board
Junction Box | Chequer Plate | Girder
Digital Scale | Digital Floor Scale

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD