ঢাকা,বুধবার,১৯ আষাঢ় ১৪২৭,০৩,মার্চ,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > দাগন ভূঞায় রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন   > তিস্তা চরের পতিত জমিতে সবজি চাষ   > ইসলামপুর পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী আ’লীগের মেয়র আব্দুল কাদের শেখ   > রামগতিতে মেঘনায়, সকল ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ   > যুবনেতা থেকে পৌরপিতা সেলিম   > ঝুঁকিপূর্ণ হাওয়ার বাঁধ হুমকির মুখে কালিকোটা হাওর   > পিছিয়ে পড়েও লিস্টারকে হারালো আর্সেনাল   > প্রস্তুত হচ্ছেন সামান্থা আক্কিনেনি   > হাওরের ফসল রক্ষা করতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে : কবির বিন আনোয়ার   > সৈয়দপুর পৌরসভায় মেয়র পদে প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হলেন বেবী  

   চলতি পথে
  যা প্রকাশ হয়নি : রিপোর্টারের ডায়েরী-১০
  স্লিপিং সিকনেস, ঘুমে ঘুমে মানুষ মারা যায়
  Publish Time : 10 February 2021, 11:11:50:AM

আফ্রিকার এক অন্ধকার দেশ

হাসান মাহমুদ, জাতিসংঘ শান্তি মিশন : জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাবার জন্য ব্যাপক পূর্ব প্রস্তুতি দরকার হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মেডিক্যাল চেকআপ করার পর ভ্যাকসিন নিতে হয়। শুরু করতে হয় অ্যাডভান্স ম্যালেরিয়া প্রতিরোধমূলক ঔষধ খাওয়া । মিশন শেষ হলে আরো তিন মাস খেতে হয় এই ঔষধ। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান বলে কথা। দীর্ঘ ২২ বছরের গৃহযুদ্ধে এখানকার অস্থিরতা চারপাশে। নানা জটিল রোগ ছড়িয়ে আছে এই এলাকায়। দক্ষিণ সুদানের একপাশে উগান্ডা, অন্যপাশে কঙ্গো এবং ইথিওপিয়া। সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপের সদস্যরা এসব সীমান্ত দিয়েই গভীর রাতে ভারি অস্ত্র নিয়ে দক্ষিণ সুদানে ঢুকে হামলা চালায়। তাদের প্রতিরোধ করে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হয় শান্তি মিশনে কর্মরত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীকে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন তাদের কাজ করতে হয়। তবে দক্ষিণ সুদানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খুব সাবধানে বাইরে বের হতে হয়। দিনের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আগুনের মতো গরম বাতাস। রাতে হালকা শীত পড়ে। আছে বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণ। ম্যালেরিয়া, স্লিপিং সিকনেস, মেনিনজাইটিস, ইয়েলো ফিভার, লাসা ফিভার অন্যতম। ম্যালেরিয়া ছাড়া অন্য চার রোগে মানুষ যখন তখন মারা যায় এবং সেই মৃতদেহ কেউ ছুঁয়ে দেখে না। দূর থেকে লাঠি দিয়ে ঠেলে গর্তে কবর দেয়া হয়। এখানে বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভাইরাস। স্লিপিং সিকনেস বা ঘুম রোগ হলে টানা কয়েকদিন ঘুমিয়ে থাকে এবং ঘুমের মধ্যেই মানুষ মারা যায়। এটি একটি ভাইরাস। এছাড়া এইডস-এর বিস্তারতো আছেই। ফলে এই অঞ্চলে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম। এই সব তথ্য যাবার আগেই আমাদের জানানো হয়। চার্টার্ড ফ্লাইটে ২ শতাধিক সেনা সদস্য। মেডিক্যাল কোরের অনেক নারী সদস্যরা এই প্রথম মিশনে যাচ্ছেন। ফলে বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মূল সুদানের রাজধানী খার্তুম হয়ে আমরা দক্ষিণ সুদানের রাজধানী ‘জুবা’য় যাচ্ছি। খার্তুম থেকে বিমানে দক্ষিণ সুদানের ‘জুবা’য় যেতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। বিমানটি যখন দক্ষিণ সুদানে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা বাজে। ওপর থেকে শুধু বিশাল বন এবং বিরান ভূমিই নজরে এলো। বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার ফেলার শব্দ শুনতে পেলাম। বিমানটি প্রথম দফায় অবতরণ করতে না পেরে আবার আকাশে উঠে যায়। বিমানবন্দরের একপাশ ঘেঁষে রয়েছে বিশাল একটি পাহাড়। অনেকটা নেপাল এয়ারপোর্টের মতো মনে হলো। তবে এই পাহাড়টি পুরোটাই কালো পাথরের। পাহাড়ের ওপর দিয়ে এসে রানওয়ে নির্ধারণ করার পর দেখা গেলো বিমানবন্দর বলতে একটি বিশাল টিনের ঘর। কন্ট্রোল টাওয়ারটি মাথা উঁচু করে শুধু দাঁড়িয়ে আছে । এর চেয়ে উঁচু কিছু আর গোটা এলাকায় নেই। নজরেও আসলো না। চারপাশে ধুধু বিরানভূমি। গভীর জঙ্গল আর ছন বিচালিতে ঢাকা। পাইলট ঘোষণা দিলেন, আমরা এই মুহূর্তে ‘জুবা’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছি।’ বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বিমানটি সুদানের মাটি স্পর্শ করলো। শক্ত পাথরের মাটির রানওয়ে। দৌড়াতে দৌড়াতে রানওয়ের উত্তর পাশের শেষ মাথায় গিয়ে থামলো। হাঁফ ছেড়ে যেন সবাই বাঁচলাম। বিমানে থেকেই লক্ষ্য করলাম অসংখ্য সশস্ত্র কালো মানুষ অস্ত্র তাক করে বিমানটিকে ঘিরে ফেললো মুহূর্তে। পরে জানা গেলো এরা এসপিএলএ’র সদস্য। গেরিলাদের আকস্মিক কোন হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা এগিয়ে এসেছে কমান্ডারের নির্দেশে। বলে রাখি এই অঞ্চলে প্রচন্ড যুদ্ধ পরিস্থিতি তখন। কখনো কখনো মর্টার সেল আঘাত হানছে অনেক এলাকায়। জাতিসংঘ শান্তি মিশনের সেনারা এসএএফ ও এসপিএলএ সদস্যদের একই টেবিলে আলোচনায় বসিয়েছে। এটি তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। অস্ত্রের ভাষায় নয়। আলোচনার টেবিলে সব সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ শান্তি মিশনের অফিসাররা।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর সূর্যের তাপ আমাদের বিচলিত করে তুললো। বিমানবন্দরে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় শেষে আমরা চললাম ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে। বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপনা। তাঁবুর পর তাঁবু। বিশাল কন্টেইনারে ‘এসি’ লাগানো রয়েছে। বিশেষ করে দুপুরে এসি ছাড়া থাকা অসম্ভব ব্যাপার। চারপাশে কাঁটাতারের বেস্টনি। ভেতরে প্রবেশ করতে তিনটি নিরাপত্তা গেইট পার হতে হয়। আগে থেকেই সিডিউল ছিল চূড়ান্ত। ফলে মিটিং, ইন্টারভিউ ও রিপোর্ট করার সব কিছু ছিল নির্ধারিত। হাতের কাছেই ছিল কম্পিউটার বিভাগ। সংযুক্ত ইন্টারনেট। হঠাৎ হঠাৎ নেটওয়ার্ক হারিয়ে যেত। আফ্রিকা বলে কথা। দক্ষিণ সুদানের কোথাও বিদ্যুৎ নেই। জাতিসংঘ মিশনগুলোর অফিস জেনারেটরের সাহায্যে চলে। ক্যাম্পের বাইরে গোটা সুদানে রাতে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। সন্ধ্যা হলেই ম্যালেরিয়াবাহি মশার ভয়। আফ্রিকার মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া জ্বর হয়। এই জ্বর এতটাই ভয়ঙ্কর যে, দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগী মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দক্ষিণ সুদানের রাজধানী ‘জুবা’ এবং আশপাশের জাবেল কুজুর, ইয়েই, মালাকাল, ইয়ামবিও ও মারিদি এলাকায় এ মশার উপদ্রব বেশি। রিপোর্ট করার জন্য আমাকে দূরের এলাকায় যেতে হয় প্রতিদিন। তবে থাকে সার্বক্ষণিক সামরিক প্রহরায় একটি হেলিকপ্টার সুবিধা। হেলিকপ্টার ছাড়া দুর্গম এলাকায় যাওয়া যায় না। সড়ক পথে যে কোন সময় গেরিলা হামলার আশঙ্কা থাকে। হেলিকপ্টার আকাশে উড়লেই গেরিলারা গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় অনেক উপরে গুলির রেঞ্জের বাইরে চলে যান রাশিয়ান বিমানবাহিনীর পাইলট। এমনটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় প্রতিদিন ঘটছে। আর দক্ষিণ সুদানে জ্বর মানেই ম্যালেরিয়া। কোনো কারণে জ্বর এলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে উচ্চমাত্রার ‘কুইনাইন’ ডোজ দেয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে গেলে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা শতভাগ। পৃথিবীর সবচেয়ে তিতো ওষুধ হিসাবে পরিচিত কুইনাইন ম্যালেরিয়ার একমাত্র প্রতিষেধক। প্রবাদ আছে ‘কুইনাইন জ্বর সারাবে বটে। তবে কুইনানইন সারাবে কে।’ মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য সন্ধ্যার আগে মোটা কাপড়ের প্যান্ট, মোজা, ফুলহাতা জামা পরতে হয়। জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত সবাই এই সতর্কতা অবলম্বন করেন। দিনে গরম রাতে মশা। সুদানে বিদ্যুৎ ও পানি কোনোটাই নেই। সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস গোসল করে না। সারা দিন এক বোতল পানি পান করার সামর্থ্য ও সুযোগ অধিকাংশের নেই। তবে সন্ধ্যার পর তারা পানাহারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কঙ্গো ও উগান্ডা থেকে আসা এক ধরনের বোতলজাত বিয়ার পানির মতো তারা পান করে। এসময় আনন্দ ফুর্তি করে একে-৪৭ বা ভারি অস্ত্রের শত শত রাউন্ড গুলি আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে। তাই রাতে কান পাতলেই গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় ক্যাম্পের নিরাপত্তা চৌকিতে নাইটভিশন বাইনোকোলার (রাতে দিনের মতো দেখা যায়) নিয়ে প্রহরায় থাকে সেনা সদস্যরা। দিনে সুদানে প্রচন্ড গরম থাকায় নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। নাকের নরম টিসু ফেটে যায়। এই সমস্যা শতকরা ৯০ জনের ক্ষেত্রে হয়। সুদানের সীমান্ত এলাকা নাবিয়াপাই। জুবা থেকে হেলিকপ্টারে করে আড়াই ঘণ্টার দূরত্বে ইয়ামবিও প্রদেশ। সেখান থেকে সড়ক পথে ৫০ কিলোমিটার দূরে নাবিয়াপাই। বিশাল গভীর অরণ্য। চারপাশে পিনপতন নীরবতা। পথের দুই পাশে শত বছরের পুরনো গাছপালা। এই অরণ্য পথেই কঙ্গো বা উগান্ডা থেকে এলআরও সন্ত্রাসীরা এসে থাকে। সুদানে যুদ্ধ চলা অবস্থায় তারা একটি নেটওয়ার্ক থেকে অস্ত্র, রসদ, গোলাবারুদ, নগদ অর্থ ও খাবার পেত। কিন্তু ২২ বছরের গৃহযুদ্ধ জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে সাময়িক স্থগিত এলআরএ বা তাদের মতো বিভিন্ন সশস্ত্র অস্ত্রবাজ গ্রুপ সঙ্কটে পড়ে। প্রত্যন্ত এলাকায় তারা মানুষের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বিদেশীদের অপহরণ করে মুক্তিপণও আদায় করে। তাদের প্রতিরোধ করতে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত সেনা সদস্যরা অভিযান চালান। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গভীর অরণ্য দিয়ে যেতে হয় নাবিয়াপাই বা কঙ্গো সীমান্তে। এসব এলাকায় এলআরএ যোদ্ধারা অবস্থান করে মেশিনগান, একে-৪৭, আরজেস গ্রেনেডের মতো মারণাস্ত্র নিয়ে। জুবাকে ঘিরে জাতিসংঘ মিশনের সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতা। পৃথিবীর ৬৩টি দেশের সেনাবাহিনী সুদান মিশনে কাজ করে। বাংলাদেশের সেক্টরের অফিসার কর্নেল কুদরত ইলাহী , মেজর কবীর, মেজর মাহফুজ, লে. কর্নেল তাবিব, মেজর সালাম, লে. কর্নেল রেজা, ক্যাপ্টেন মোমতাজ, ক্যাপ্টেন শাহরিয়া, মেজর ইমাদ (২০২১-এ কুয়েত মিশনে কর্মরত), ক্যাপ্টেন ফারুক, ক্যাপ্টেন আজমসহ দক্ষ অফিসাররা প্রতিদিন দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছেন।
কোথাও গাড়ির হর্ণ শোনা যায় না। শহরের সর্বত্র অস্ত্রের ঝনঝনানি। মোড়ে মোড়ে যুবকরা অস্ত্র নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। একেকটি আড্ডাস্থল যেন মিনি ক্যাপ্টনমেন্ট। কাঁধে একে-৪৭ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যুবকরা। গোষ্ঠীগত দাঙ্গার সাথে এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। কিন্তু কোটি টাকা নিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ জিজ্ঞেস করবে না। ছিনতাই বলে কিছু নেই। সুদানে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকশ’ কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের একজন হচ্ছেন এএসপি বখশি জাহিদ। তিনি জুবা থেকে চার কিলোমিটার দূরে বসবাস করেন। সেখানেই তার অফিস। তিনি জানালেন, সুদানিরা নিয়ম-নিষ্ঠার ক্ষেত্রে অটল। ছেলেরা ১৫ বছর হলেই এসপিএলএ সদস্য হয়ে যায়। দামি হোন্ডা ও আধুনিক অস্ত্র হচ্ছে তাদের সঙ্গী। জীবনটা থাকে হাতের মুঠোর মধ্যে। ছেলেরা বিয়ের সময় মেয়ের বাবাকে যৌতুক দিতে বাধ্য থাকে। ছেলে পক্ষ থেকে কম করে হলেও ২০টি গরু মেয়ের বাবাকে দিতে হয়, না হলে বিয়ে হয় না। ২০টি গরুর মূল্য বাংলাদেশী প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সুদানের মেয়েরা অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারিণী। তারা ছোটবেলা থেকে বাইসাইকেল চালায়, মাইলের পর মাইল হাঁটে এবং ভাত জাতীয় কোনো খাবার খায় না। খাদ্য তালিকায় সব থাকে শুকনো খাবার। মুসলিম পরিবারেও একই নিয়ম। খাবারের কারণেই তারা শারীরিকভাবে সুঠাম ও সুন্দর দেহের অধিকারিণী।
জাবেল কুজুর বিশাল বদ্ধভূমি মনে হতে পারে। বড় বড় গর্ত আর খাল হয়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এর মূল কারণ হলো উদ্ধারকৃত ল্যান্ডমাইন, গ্রেনেড, শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলে গোটা এলাকায় মাটি ওলটপালট হয়ে আছে। মনে হয় যেন হাল চাষ করে রাখা হয়েছে। এই এলাকায় হাঁটতে গেলে খুব সাবধানে পা ফেলতে হয়। কারণ মাটির নিচেই হয়তো রয়েছে কোনো অ্যান্টি পার্সোনাল মাইন। রাশিয়ার তৈরি প্রোমজ-২ বা এম-১৪ বা এম-৪২ মাইন অতি ভয়ঙ্কর। যুদ্ধকালীন এসপিএল-এর সদস্যরা গোটা এলাকায় এ ধরনের মাইন পুঁতে রাখে সুদান সরকারি বাহিনীকে (এসএএফ) ঠেকানোর জন্য। এসব ভয়ঙ্কর মাইনই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুদানবাসীর। এসব মাইন যারা পুঁতেছিল, তাদেরও কোনো সন্ধান নেই। হয়তো তারা মারা গেছেন। নয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মাইন পুঁতে রাখার নকশা শাসকদের হাতে নেই। ফলে ঝুঁকির মধ্যে এবং নিখুঁতভাবে মাইনগুলো জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সেনারা অপসারণ করছেন। সেনা বাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত ক্যাপ্টেন মোমতাজ অত্যন্ত দক্ষতা দেখিয়ে উদ্ধারকৃত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, এক সাথে ৩৯টি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলো জাবেলকুজুর পাহাড়ি এলাকায়। বিস্ফোরণের ঠিক আগ মুহূর্তে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া হলো। বোমার বিস্ফোরণ ঘটার সময় বিশাল জাবেলকুজুরের পাহাড় কেঁপে ওঠে। কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আমরা নিরাপদ দূরত্বে ছিলাম। প্রশিক্ষণপাপ্ত একেকটি কুকুর প্রতিমাসে জাতিসংঘ থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার বা এক লাখ টাকা করে খরচ ভাতা পাচ্ছে। কুকুরগুলো প্রথমে মাটি শুঁকে মাইনের সন্ধান দেয়। তারপর মাইন ডিরেক্টর দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গর্ত করে তুলে আনা হয়। জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাইন অপসারণ করে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছেন।
তীব্র তাপমাত্রায় ক্যাম্পে এসে গোসল শেষে লাঞ্চ সেরে আবার ছুটে চলা ভিন্ন কোন খবরের সন্ধানে। গোসলের পানি লরিতে করে আনা হয়েছে মিশরের নীল নদের একটি প্রবহমান শাখা থেকে। যা দক্ষিণ সুদানের মালাকাল দিয়ে বয়ে গেছে। জুবার পুরো এলাকায় পানির জন্য হাহাকার। সারাদিন ক্যাপ্টেন ফারুক ও ক্যাপ্টেন শাহরিয়ারের ব্যস্ততার শেষ ছিল না। ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে নিউজ পাঠাতে গেলে তার সহযোগিতার বিকল্প নেই। গভীর রাতে, গহিন জঙ্গলে গুলির শব্দ ভেসে আসে। নিউজ রেডি করে অপেক্ষায় থাকি কখন ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক আসবে। খুব কাছাকাছি গুলাগুলির শব্দ হতে থাকলে সে রাতে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে জেগে থাকি।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 52        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     চলতি পথে
যুবনেতা থেকে পৌরপিতা সেলিম
.............................................................................................
আমরাও মানুষ কাজের ব্যবস্থা হলে মুক্তি মিলবে এই বিড়ম্বনার জীবন থেকে
.............................................................................................
প্রতিবন্ধী রোজিনা এখন রিকশা চালক
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁয় ৪০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী পেলেন হুইল চেয়ার
.............................................................................................
পদ্মায় শুকনো মৌসুমেও তলিয়ে যাচ্ছে নদী রক্ষা বাঁধ
.............................................................................................
বাঁচতে চায় হাবিবুর
.............................................................................................
সততার অনন্য এক উদাহরণ রিকশা চালক কবির হোসেন
.............................................................................................
স্লিপিং সিকনেস, ঘুমে ঘুমে মানুষ মারা যায়
.............................................................................................
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাড়ে তিন হাজার পরিবার পেল নতুন ঘর
.............................................................................................
চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রবাসী খুন!
.............................................................................................
এমপি পাপুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ মার্চ
.............................................................................................
রানীশংকৈল পৌর নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ
.............................................................................................
বাঁচতে চায় নীলফামারী আতোয়ারা বেগম
.............................................................................................
দুই পরিবারের মানবেতর জীবন
.............................................................................................
সিলেটে ৪ স্তরে গ্যাসের সন্ধান
.............................................................................................
তাড়াশে ডালের বড়িতে জীবিকা
.............................................................................................
বকশীগঞ্জে ছাপরায় থাকা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন প্রকৌশলী
.............................................................................................
হাঁস পালণ করে স্বাবলম্বি হাসান, বছরে আয় ৪ লাখ টাকা
.............................................................................................
এখনও স্বীকৃতি পেলেন না মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী
.............................................................................................
প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান
.............................................................................................
ফটো সাংবাদিক কাজল দীর্ঘ নয় মাস পর বাড়ি ফিরলেন
.............................................................................................
টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
.............................................................................................
করোনায় একদিনে ২৫ মৃত্যু, তাদের ১৭ জন পুরুষ
.............................................................................................
গুলির শব্দ শুনে ঘুমাতে যাই আবার গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে
.............................................................................................
আফ্রিকার এক অন্ধকার দেশ: মৃত্যু যেখানে হাতছানি দেয় প্রতি মুহূর্তে
.............................................................................................
দেশে দেশে মেয়ে শিশু পাচার ও বিশ্ব গণমাধ্যমের দায়
.............................................................................................
‘মুজিব অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত ইউএস বাংলার কামরুল ইসলাম
.............................................................................................
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদীর করোনাজয়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন
.............................................................................................
বান্দরবানে কৃষিপ্রেমী দোলন
.............................................................................................
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার
.............................................................................................
মোংলায় নৌবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
.............................................................................................
বালিয়াকান্দি ব্লাড ডোনার্স এ্যাসোসিয়েশনের ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং
.............................................................................................
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমান অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ
.............................................................................................
কক্সবাজার ইন্সটিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরীর উন্নয়নে ফিরছে গতি
.............................................................................................
মাগুরায় আনসার ভিডিপিদের মাঝে সাইকেল বিতরণ
.............................................................................................
পাখির অভয়রাণ্য নতুন চর
.............................................................................................
নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন আ’লীগ নেতা
.............................................................................................
অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না এক মুক্তিযোদ্ধার
.............................................................................................
২০ বছর শিকলে বাঁধা
.............................................................................................
এ্যাডভোকেট ও জননেতা এম. আব্দুর রহিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা
.............................................................................................
মাদকে জিরো টলারেন্সের অগ্রযাত্রায় রাজশাহী মতিহার থানার ওসি সিদ্দিক
.............................................................................................
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জাতীয় রবীন্দ্র্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান
.............................................................................................
বগুড়ায় প্রকৌশলীদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
.............................................................................................
বিশ্বনাথে যুক্তরাজ্য ফেরৎ অভিবাসীকে এক লাখ টাকার চেক তুলে দিলেন ইউএন
.............................................................................................
কালিয়াকৈরের একজন সফল যুব সংগঠক মো. সেলিম রানা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ
.............................................................................................
ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনকে পাকা বাসগৃহ ও দোকানের চাবি হস্তান্তর
.............................................................................................
মোহনগঞ্জে উদিয়মান নেতৃত্বে শীর্ষে তোফায়েল আহমেদ
.............................................................................................
বীরগঞ্জে গাছ লাগিয়ে নিজেই পরিচর্যা করেন ইউএনও
.............................................................................................
Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale
Digital Load Cell
Digital Indicator
Digital Score Board
Junction Box | Chequer Plate | Girder
Digital Scale | Digital Floor Scale

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop