ঢাকা,শুক্রবার,১১০ ভাদ্র ১৪২৮,২৩,এপ্রিল,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলছে পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম দপ্তর   > কাউয়াদিঘি হাওরে ধান কাটা উৎসব   > পঞ্চগড়ের এক মৌসুমে তিন ফসল   > অস্তিত্ব সংকটে রামগঞ্জে বীরেন্দ্র খাল   > করোনা থেকে সুস্থ হতে ঘরেই যা করবেন   > নোয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ইফতার সামগ্রী বিতরণ   > পিএসজি-বায়ার্নকে নিয়ে পেরেজের মিথ্যাচার   > জিৎ করোনায় আক্রান্ত   > টিকার বিকল্প দেশের সন্ধান চলছে, সেরাম দিচ্ছে না   > বিচারকাজে গতি আনতে হাইকোর্টে আরও দুই বেঞ্চ  

   ফিচার
  কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ শিকার
  Publish Time : 3 March 2021, 4:30:9:PM

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের পলো দিয়ে মাছ শিকার। অতীতের মতো শীতের শেষ দিকে খাল-বিল-নদীতে পানি কমে গেলে দল বেঁধে গ্রামীন ঐতিহ্য পলো নিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। মাঝে মধ্যে কয়েকজন সৌখিন শিকারীকে পলো দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। অনেকে প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রো বাস হাঁকিয়ে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের জলাঞ্চলে খাল-বিল ও ডাকাতিয়া নদীতে মাছ শিকার করতে আসলে ওই সময় এলাকায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ ৫টি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খাল ও পার্শ্ববর্তী বিলগুলো এখন প্রায় পানিশূন্যের পথে। দেশীয় প্রজাতির মাছ নেই বললেই চলে। তারপরও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাছ শিকারীরা পলো দিয়ে এসব এলাকার নদী-খাল-বিলে মাছ ধরায় নেমে পড়েন। লাকসামের ডাকাতিয়া নদী, চাইলতাতলী খাল, ফতেপুর-গাজিমুড়া খাল, চিলোনিয়া-বিপুলাসার খাল, শ্রীয়াং-মুদাফরগঞ্জ কার্জন খাল, বাইপাস-নরপাটি খাল, ফতেপুর-নাঙ্গলকোট খাল এবং মনোহরগঞ্জের মেল্লা খাল, ঘাগৈর খাল, দাঁড়াচো খাল, লৎসর-লক্ষণপুর খালসহ ডাকাতিয়ার সাথে সংযুক্ত শাখা খালে এখন চলছে পলোসহ নানাহ সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরতে দেখা গুটি কতেক সৌখিন শিকারীকে। এ অঞ্চলে এক সময় শত শত লোকের মাছ শিকারকালে সমগ্র এলাকা উৎসব মুখর হয়ে উঠলেও তা আজ যেন শুধুই অতীত স্মৃতি। মনোহরগঞ্জের সৌখিন মাছ শিকারী আবু জাহেদ, আবুল কালাম, আব্দুস ছাত্তার ও জামাল হোসেন জানান, বিগত ১০/১৫ বছর আগে এ অঞ্চলে মাইকিং করে বিভিন্ন স্থানে পলো দিয়ে মাছ শিকার করা হতো। নদী ও খালের দু’পাড়ে ভোর না হতেই হরেক রকম পণ্যের মেলা বসতো। আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে হৈ-হুল্লোল ঝাঁকে ঝাঁকে পলো দিয়ে মাছ ধরতো যুব-বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ। এ সুযোগে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েসহ স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও নেমে পড়তো মাছ ধরতে। নদী ও খালে হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি। মাইলের পর মাইল নদী-খালে হাজার হাজার মানুষ পলোসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নামতো মাছ শিকারে। এখন আর ওইসব দেখা যায় না। তবে কিছু কিছু লোক এখনো অতীত ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
লাকসাম পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের মাছ শিকারী তসলিম হোসেন, মিনার মাহমুদ, রাসেল আহমেদ ও আলী আক্কাছ জানায়, এখন আর আগের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নদী-খালে মাছ নেই। আগে দেশীয় মাছের মধ্যে বোয়াল, শৈল, গজার, আইড়, রুই, কাতল, চিতলসহ হরেক রকমের মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ওইসব মাছ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ডাকাতিয়া নদীতে হামিরাবাগ এলাকায় সারাদিন মাছ ধরতে গিয়ে একটা মাছও পাইনি। সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারী আরব আলী, আমির হোসেন, কোরবান আলী ও আবদুস সামাদ জানায়, এ অঞ্চলের নদী-খালের মিঠা পানিতে সুস্বাদু মাছ ধরতে আগে আমরা বন্ধুরা মিলে কয়েক গ্রুপে মাছ ধরতাম। বর্তমানে মাছ তেমন না থাকায় এখন আর কেউ আসতে চায় না। বিগত ৮/১০ বছর আগে এ এলাকার নদী ও খালে সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন পেশার লোকজন শখ করে পলোসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরতো। এ সময় তারা বাড়ি থেকে আনা খাবার খেতো নদীর পাড়ে বসেই। সারাদিন পলো দিয়ে ধরা হরেক রকমের মাছ পলোর ভিতরে কলাপাতা দিয়ে বেঁধে বিভিন্ন যানবাহনে দলে দলে বাড়ি ফিরতো শিকারীরা। এ দিকে ৫ উপজেলার স্থানীয় জেলে সুধীর, বিপ্লব দাশ, মইন, আশ্রাফ হোসেন, নিখিল ও রবীন্দ্র জানায়, মেল্লা খালসহ ডাকাতিয়া নদীতে প্রতি বছর অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো পলো নিয়ে। তারা সাইকেল, রিক্সা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে পলো বেঁধে নিয়ে আসতো। আবার কেউ আগের দিন এসে থাকতো নদী বা খালের পাড়ে তাঁবু গেড়ে কিংবা আশে পাশের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে। সকাল হলেই এ সময় উৎসব মুখর হয়ে উঠতো এলাকার পরিবেশ কিন্তু এখন তা অনেকটাই অতীত। লাকসাম উপজেলা জলাঞ্চলের বেশক’টি গ্রামের বাসিন্দা আক্রাম আলী, মামুন মিয়া, সুলতান মাহমুদ, সিরাজুল ইসলাম ও আলী আজগর জানায়, গত শুক্রবার সকালে ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ কয়েকটি খালে পলোসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েকটি ভাগ হয়ে সৌখিন মাছ শিকারী নামছিলো। সব মিলিয়ে এতে শ’তিনেক লোক অংশ নেয়। অনেকক্ষণ পলো মারার পর মাছ না পেয়ে অনেকেই হতাশ। অথচ কালের আর্বত্তে এখন আর সকল ঐতিহ্যের সাথে দেশীয় মাছ ধরার বাহন পলোও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 90        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     ফিচার
কাউয়াদিঘি হাওরে ধান কাটা উৎসব
.............................................................................................
সুনসান নিরবতায় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি
.............................................................................................
গোয়াইনঘাটে চলছে ধান কাটার উৎসব
.............................................................................................
বাগাতিপাড়ায় অস্তিত্ব সংকটে শিমুল গাছ
.............................................................................................
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কোটি টাকার মধু সংগ্রহ
.............................................................................................
খাগড়াছড়িতে তৈরি কোটি টাকার খাট
.............................................................................................
পাখিদের রক্ষায় গাছে গাছে কৃত্রিম হাড়ি স্থাপন
.............................................................................................
রাণীশংকৈলে যত্রতত্র অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দির
.............................................................................................
তালা উপজেলার গ্রামগঞ্জ থেকে হারিকেন বিলুপ্ত
.............................................................................................
মির্জাগঞ্জে দেখা মিললো বিলুপ্তপ্রায় পলাশ গাছের
.............................................................................................
বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঝালকাঠির শঙ্খশিল্প
.............................................................................................
দেওয়ানগঞ্জে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ শিকার
.............................................................................................
পৈত্রিক পেশা ঘোড়া দিয়ে ঘানি ভাঙা
.............................................................................................
বিদেশি পর্যটক আকৃষ্টে পতেঙ্গায় হচ্ছে বিশ্বমানের ট্যুরিস্ট জোন
.............................................................................................
নবীনগরে বিলুপ্তির পথে বাঁশশিল্প
.............................................................................................
মেহেরপুর বিলুপ্তির পথে ঘটকালী প্রথা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যস্ত মৌ-চাষীরা
.............................................................................................
কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে
.............................................................................................
থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের কুটির শিল্প
.............................................................................................
কালের সাক্ষী ৪০০ বছরের বলিয়াদী জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
বরগুনায় নৌকা জাদুঘর
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে এক বাড়িতে ৫০টি মৌচাক
.............................................................................................
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
চৌহালীতে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ
.............................................................................................
ফুরবাড়িতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বি সুজন
.............................................................................................
অতিথি পাখিদের কলরবে মুগ্ধ দিনাজপুরের শেখপুরা ইউনিয়নে ভাটিনা গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
ঐতিহ্য হারাচ্ছে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
জয়পুরহাটে পরিযায়ি পাখির অভয়ারণ্য পুন্ডুরিয়া গ্রাম
.............................................................................................
কাস্তে বানাতে ব্যস্ত মির্জাগঞ্জের কামারা
.............................................................................................
কুমিল্লার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে
.............................................................................................
ফুলবাড়িতে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী
.............................................................................................
অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী
.............................................................................................
জাবি ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা
.............................................................................................
ঝুটের জোড়া তালির কম্বলে নারীদের ভাগ্য বদলে চেষ্টা
.............................................................................................
সুপারি কেনা-বেচায় ভালো দাম পাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে হাসি
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধে মাছ ধরা উৎসব
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র ভারী শিল্প কারখানা সুপ্রিয় জুটমিল
.............................................................................................
গোপালগঞ্জের শাপলার বিল
.............................................................................................
সিরাজদিখানের কোলা ভিলেজ পার্ক
.............................................................................................
শামুক নিধনে ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য
.............................................................................................
বর্ষার পানি মিলছে দেশি প্রজাতির মাছ
.............................................................................................
স্ট্রিট লাইটের আলোয় আলোকিত ধোবাউড়ার জনপদ
.............................................................................................
পিলপিলের ৪৪ ডিমে চারটি বাচ্চার জন্ম
.............................................................................................
পর্যটকদের জন্য খুলেছে বান্দরবান
.............................................................................................
কদর বেড়েছে মৌসুমি ছাতার কারিগরদের
.............................................................................................
আদর্শ নগর পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে আদর্শ নগরে
.............................................................................................
সুন্দরবনে বেড়েছে মধু উৎপাদন, খুশি মৌয়াল
.............................................................................................
বীরগঞ্জে হারিয়ে যাওয়া মাছ ধরার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে
.............................................................................................
Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale
Digital Load Cell
Digital Indicator
Digital Score Board
Junction Box | Chequer Plate | Girder
Digital Scale | Digital Floor Scale

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop