ঢাকা,শনিবার,৯ মাঘ ১৪২৭,২৩,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ১১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্রশস্য মজুদ রয়েছে সংসদে জানালেন খাদ্যমন্ত্রী   > কুড়িগ্রামে কম্বল বিতরণ   > থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার   > মুজিববর্ষে ঘর পাচ্ছে নওগাঁর ১১০ পরিবার   > লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত ৬০ পণ্য বিশ্ববাজারে   > ‘নির্ধারিত সময়েই হবে অলিম্পিক’   > অপেক্ষায় ঐশী   > জাতীয় সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি   > ৪২ হাজার রোহিঙ্গা শনাক্ত মিয়ানমারের এপ্রিলে প্রত্যাবাসনের আশা   > রাজউকে প্রভাবশালি শফিউল্লাহ বাবু নকল, জাল-জালিয়াতির প্রধান কারিগর  

   আজকের পত্রিকা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ওয়াশিংটন ছাড়লেন ট্রাম্প : শপথ বাইডেনের

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে জো বাইডেনের হোয়াইট হাউজ জীবন শুরু হলো। গোটা ওয়াশিংটন গত কয়েকদিন থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতটি ছিলো ভূতুড়ে নগরির মতো। কোন মানুষের সাড়া নেই। এমন এক পরিবেশে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার জন্মস্থান ডিলাওয়ার ছেড়ে গতকাল সপরিবারে ওয়াশিংটন এসেছেন। এসময় তাকে একটি জেট বিমান ভাড়া করে আসতে হয়েছে। কারণ ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের জন্য বরাদ্দ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি বাইডেনের জন্য পাঠাতে নিষেধ করেন। বারাক ওবামা তার বিদায়ের দিন ঠিকই এই বিমানটি পাঠিয়ে ট্রাম্প পরিবারকে ওয়াশিংটন এনেছিলেন। এদিকে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় রাতে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না। তার কয়েক ঘন্টা আগে (ওয়াশিংটন সময় সকালে) তিনি হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যান বলে জানা গেছে। তিনি ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে এখন পর্যন্ত ঠিক হয়ে আছে। এর আগে বিদায় ভাষণের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘যে জন্য এসেছিলাম, তারচেয়ে বেশি কিছু করতে পেরেছি।’ ট্রাম্প আগামী কিছুদিনের মধ্যে ‘পেট্রিয়ট পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার আভাস দিয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন প্রেসিডেন্টকে বলতে হয়, ‘আমি একনিষ্ঠভাবে শপথ গ্রহণ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দায়িত্ব সম্পাদন করব, এবং আমি আমার সামর্থের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করবো’। আইন অনুযায়ী, অভিষেকের দিনটি হলো ২০শে জানুয়ারি। সাধারণত উদ্বোধনী বক্তব্যটি দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটা), আর তার ঠিক আধঘণ্টা পর মধ্যাহ্নের সময় জো বাইডেন এবং কমালা হ্যারিস শপথ নেন। তারপর হোয়াইট হাউজে যান জো বাইডেন, যেটা হতে যাচ্ছে তার আগামী চার বছরের কর্মস্থল ও বাসস্থান। প্রেসিডেন্টের অভিষেকে প্রথাগতভাবেই সবিস্তার নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকে। আর ৬ই জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালানোর কারণে এবার নিরাপত্তা থাকছে অনেক বেশি। মার্কিন কর্মকর্তারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন, শহরের বেশিরভাগ অংশেই চলাচল আটকে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার নেতৃত্বে আছে সিক্রেট সার্ভিস, যাদের সাথে যোগ হয়েছে ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সেনা সদস্য। আর অতিরিক্ত হিসেবে হাজার হাজার পুলিশ অফিসারতো থাকছেনই। ওয়াশিংটন ডিসিতে আগে থেকেই জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে, যা বলবৎ থাকবে অভিষেক শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর পর্যন্ত। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রে একটা প্রথায় পরিণত হয়েছিল। যদিও এই প্রথা কখনো কখনো অপ্রস্তুত ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু এই বছর সেই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে যোগ হচ্ছে ভিন্ন মাত্রা - অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাজিরই নেই। মি. ট্রাম্প যখন শপথ নিয়েছিলেন, তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ তার মাত্র দু`মাস আগেই মিসেস ক্লিনটন মি. ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন এক তিক্ত প্রচারণা পর্ব শেষে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র তিনজন প্রেসিডেন্ট তাদের উত্তরাধিকারীর অভিষেকে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন - জন অ্যাডামস, জন কুইন্সি এবং অ্যান্ড্রু জনসন। গত শতাব্দীতে অবশ্য একজন প্রেসিডেন্টও এই কাজ করেননি। অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন যে তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথমবারের অভিষেকে কুড়ি লাখের মতো মানুষ এসেছিল। এবার মঞ্চে যে শ’দুয়েক মানুষ বসছেন, তাদের আসন সাজানো হয় সামাজিক দূরত্ব মেনে। মঞ্চে যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেকের মুখই থাকে মাস্কে ঢাকা - অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে সবারই কোভিড-১৯ আছে কি-না, তা পরীক্ষা করে দেখার কথা। অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের রীতি অনুযায়ী সেনাবাহিনী পরিদর্শন করে কমাণ্ডার-ইন-চিফ। তবে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ থেকে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত সেই প্রথাগত প্যারেডের বদলে এবার হয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ভার্চুয়াল প্যারেড। জানা যায়, পরে সস্ত্রীক মি. বাইডেন এবং স্বামীসহ মিজ হ্যারিসকে হোয়াইটে হাউজে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী, যাদের সাথে থাকে ব্যান্ড দলও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রেসিডেন্টরা অভিষেকের দিনে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় তারকাদের হাজির করেছেন। মহামারি সত্বেও এ বছরও ব্যতিক্রম হবে না। জো বাইডেনের সক্রিয় সমর্থক লেডি গাগা উপস্থিত থাকেন এবারের অভিষেকে। তিনি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে মঞ্চে গান গেয়েছেন জেনিফার লোপেজ। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন জন বন জোভি, ডেমি লোভ্যাটো এবং জাসটিন টিম্বারলেক। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ টিভি নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো সম্প্রচার করেছে।

ওয়াশিংটন ছাড়লেন ট্রাম্প : শপথ বাইডেনের
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে জো বাইডেনের হোয়াইট হাউজ জীবন শুরু হলো। গোটা ওয়াশিংটন গত কয়েকদিন থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতটি ছিলো ভূতুড়ে নগরির মতো। কোন মানুষের সাড়া নেই। এমন এক পরিবেশে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার জন্মস্থান ডিলাওয়ার ছেড়ে গতকাল সপরিবারে ওয়াশিংটন এসেছেন। এসময় তাকে একটি জেট বিমান ভাড়া করে আসতে হয়েছে। কারণ ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের জন্য বরাদ্দ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি বাইডেনের জন্য পাঠাতে নিষেধ করেন। বারাক ওবামা তার বিদায়ের দিন ঠিকই এই বিমানটি পাঠিয়ে ট্রাম্প পরিবারকে ওয়াশিংটন এনেছিলেন। এদিকে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় রাতে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না। তার কয়েক ঘন্টা আগে (ওয়াশিংটন সময় সকালে) তিনি হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যান বলে জানা গেছে। তিনি ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে এখন পর্যন্ত ঠিক হয়ে আছে। এর আগে বিদায় ভাষণের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘যে জন্য এসেছিলাম, তারচেয়ে বেশি কিছু করতে পেরেছি।’ ট্রাম্প আগামী কিছুদিনের মধ্যে ‘পেট্রিয়ট পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার আভাস দিয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন প্রেসিডেন্টকে বলতে হয়, ‘আমি একনিষ্ঠভাবে শপথ গ্রহণ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দায়িত্ব সম্পাদন করব, এবং আমি আমার সামর্থের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করবো’। আইন অনুযায়ী, অভিষেকের দিনটি হলো ২০শে জানুয়ারি। সাধারণত উদ্বোধনী বক্তব্যটি দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটা), আর তার ঠিক আধঘণ্টা পর মধ্যাহ্নের সময় জো বাইডেন এবং কমালা হ্যারিস শপথ নেন। তারপর হোয়াইট হাউজে যান জো বাইডেন, যেটা হতে যাচ্ছে তার আগামী চার বছরের কর্মস্থল ও বাসস্থান। প্রেসিডেন্টের অভিষেকে প্রথাগতভাবেই সবিস্তার নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকে। আর ৬ই জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালানোর কারণে এবার নিরাপত্তা থাকছে অনেক বেশি। মার্কিন কর্মকর্তারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন, শহরের বেশিরভাগ অংশেই চলাচল আটকে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার নেতৃত্বে আছে সিক্রেট সার্ভিস, যাদের সাথে যোগ হয়েছে ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সেনা সদস্য। আর অতিরিক্ত হিসেবে হাজার হাজার পুলিশ অফিসারতো থাকছেনই। ওয়াশিংটন ডিসিতে আগে থেকেই জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে, যা বলবৎ থাকবে অভিষেক শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর পর্যন্ত। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রে একটা প্রথায় পরিণত হয়েছিল। যদিও এই প্রথা কখনো কখনো অপ্রস্তুত ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু এই বছর সেই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে যোগ হচ্ছে ভিন্ন মাত্রা - অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাজিরই নেই। মি. ট্রাম্প যখন শপথ নিয়েছিলেন, তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ তার মাত্র দু`মাস আগেই মিসেস ক্লিনটন মি. ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন এক তিক্ত প্রচারণা পর্ব শেষে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র তিনজন প্রেসিডেন্ট তাদের উত্তরাধিকারীর অভিষেকে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন - জন অ্যাডামস, জন কুইন্সি এবং অ্যান্ড্রু জনসন। গত শতাব্দীতে অবশ্য একজন প্রেসিডেন্টও এই কাজ করেননি। অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন যে তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথমবারের অভিষেকে কুড়ি লাখের মতো মানুষ এসেছিল। এবার মঞ্চে যে শ’দুয়েক মানুষ বসছেন, তাদের আসন সাজানো হয় সামাজিক দূরত্ব মেনে। মঞ্চে যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেকের মুখই থাকে মাস্কে ঢাকা - অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে সবারই কোভিড-১৯ আছে কি-না, তা পরীক্ষা করে দেখার কথা। অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের রীতি অনুযায়ী সেনাবাহিনী পরিদর্শন করে কমাণ্ডার-ইন-চিফ। তবে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ থেকে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত সেই প্রথাগত প্যারেডের বদলে এবার হয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ভার্চুয়াল প্যারেড। জানা যায়, পরে সস্ত্রীক মি. বাইডেন এবং স্বামীসহ মিজ হ্যারিসকে হোয়াইটে হাউজে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী, যাদের সাথে থাকে ব্যান্ড দলও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রেসিডেন্টরা অভিষেকের দিনে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় তারকাদের হাজির করেছেন। মহামারি সত্বেও এ বছরও ব্যতিক্রম হবে না। জো বাইডেনের সক্রিয় সমর্থক লেডি গাগা উপস্থিত থাকেন এবারের অভিষেকে। তিনি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে মঞ্চে গান গেয়েছেন জেনিফার লোপেজ। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন জন বন জোভি, ডেমি লোভ্যাটো এবং জাসটিন টিম্বারলেক। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ টিভি নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো সম্প্রচার করেছে।

আমেরিকায় আজ সেই দিন
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : মিডিয়া কর্মী ছাড়া সড়কে আর কেউ নেই। কঠোর নিরাপত্তা চারদিকে। আজ ২০ জানুয়ারি। আমেরিকার ইতিহাসে ঘটতে যাচ্ছে নজিরবিহীন ঘটনা। নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনে ২৫ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সশস্ত্র হামলা এড়াবার জন্যই এই প্রস্তুতি। আজ ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১টার সময় শপথ নেবেন জো বাইডেন। এর আগেই ডনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যেতে হবে। তার সহকর্মী অধিকাংশই তাকে ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছেন। জো বাইডেনের অভিষেক ঘিরে ক্যাপিটল হিলের চারপাশে সামরিক গ্রিণ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্পের অভিষেকের চেয়েও এবার আড়াই গুণ বেশি নিরাপত্তা কর্মী। চিরায়ত প্রথা ভেঙে শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন না ট্রাম্প-দম্পতি। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ পতাকা আর ৫৬টি পিলারে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও টেরিটরিগুলোর অবস্থান নির্দেশক এই পিলারগুলো। এই আলোকসজ্জা-ই দিচ্ছে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক বার্তা। অবশ্য, বাইডেনের শপথ ঘিরে কার্যত জনমানবহীন মৃত্যুপুরী রাজধানী ওয়াশিংন ডিসি। সর্বত্রই গিজ গিজ করছে সেনাবাহিনী। বলা হচ্ছে ইরাক-আফগানিস্তানে বর্তমানে যে পরিমাণ মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে, তার চেয়ে বেশি সেনা সদস্য এখন রাজধানীতে। বার্তা সংস্থা বলছে, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ২১ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন। তাই, অভ্যন্তরীণ নাশকতার বিষয়ে বেশ সতর্ক এফবিআই। তল্লাশির আওতায় খোদ নিরাপত্তাকর্মীরাও। ওয়াশিংটন ডিসির পাহাড়ায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের ওপর নজরদারির জন্য পাল্টা সেনা গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। পেনসিলিভেনিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসের মতো ১২ রাজ্যের স্টেট পার্লামেন্ট ভবন ও স্টেট গভর্নর অফিস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়ছে। এসব অফিসের বাইরেও থাকছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।
ব্রংকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো জন হুদাক বলেন, ‘ট্রাম্প সমার্থকরা যেভাবে কথা বলছে তা রীতিমত আল কায়েদা- আইএসকেও হার মানিয়েছে। একেতো করোনার দাপট, তার ওপর নিরাপত্তা হুমকিতে নজিরবিহীন এক অভিষেকের সাক্ষী হতে চলছে যুক্তরাষ্ট্র।’ ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তার স্ত্রীসহ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে তার স্বামীসহ হোয়াইট হাউজে নিয়ে যাবেন। যদিও এবার করোনা ও নিরাপত্তা হুমকি অনেক অনুষ্ঠানই কাটছাট করা হয়েছে। এর আগে, ট্রাম্পের শপথে ৫ লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আর ২০০৯ ওবামার সময়ে ছিলেন প্রায় ১৮ লাখ। চিরায়ত রীতি ভেঙে লাল কার্পেটে ২১ বার সামরিক তোপধ্বনি ছাড়াই বিদায় নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল আটটার দিকে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যাবার কথা রয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্পের। তবে দিন শেষে আজ কি হয় তা এখন দেখার বিষয়।

রাতেই হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন ট্রাম্প
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : ডনাল্ড ট্রাম্প বিদায়ের আগে সামরিক অভিবাদন পাবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্যান্টাগন থেকে তার কোন অনুমতি মিলেনি। ফলে অনেকটা অপমান সূচক ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার রাতে বা আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২ আগে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যেতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। এদিকে নিজ দেশে সশস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনে ২৫ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন আমেরিকার ইতিহাসে আর ঘটেনি। বলতে পারেন বিশাল এক দুর্গে পরিণত হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে চারদিকে। আগামীকাল বুধবার বাইডেন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার নেবেন। তার নিজের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে দেখার জন্য আহবান করা হয়েছে। এতো নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাম্পের সশস্ত্র সমর্থকরা টহল দিয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রাজ্য আইনসভার সামনে বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল দেখা গেছে, যাদের কেউ কেউ ছিল ভার অস্ত্র নিয়ে। ওয়াশিংটন ডিসি’র ক্যাপিটল ভবনে সহিংস হামলার পর জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কি হয়, কি হতে পারে এমন গুঞ্জনের শেষ নেই। গতকাল টেক্সাস, ওরেগন, মিশিগান, ওহাইও এবং অন্যান্য কিছু রাজ্যের স্থানীয় ক্যাপিটল ভবনের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করার পর আমেরিকার বহু সরকারি ভবনেই সোমবারের দিনটি মোটামুটি নিরুত্তাপ কেটেছে। এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, বুধবার নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেককে সামনে রেখে সশস্ত্র বিক্ষোভ হতে পারে। গত ৬ই জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসি`র ক্যাপিটল ভবনে লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর দু`সপ্তাহ পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। ওই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৫ জন নিহত হন। এই সপ্তাহান্তে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় বহু শহরেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। শহরগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। ট্রাম্প সমর্থক এবং কট্টর ডানপন্থীদের অনলাইন নেটওয়ার্কগুলোতে সশস্ত্র বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করা হয়। যদিও কিছু মিলিশিয়া তাদের সমর্থকদের এই বিক্ষোভে যোগ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এই যুক্তিতে যে, নিরাপত্তা কড়াকড়ির মধ্যে এসব বিক্ষোভে যোগ দেয়া হবে ফাঁদে পা দেওয়ার শামিল। যতদূর জানা যাচ্ছে, কয়েকটি শহরে অল্প কিছু বিক্ষোভকারীর ছোট জমায়েত দেখা গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট গতকাল এক রিপোর্টে বলেছে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলাম্বাসের স্টেট হাউজের সামনে বুগালু বয়েস আন্দোলনের জনা পঁচিশেক সদস্য জড়ো হয়েছিল, যারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
তবে মার্কিন সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি বলছে, তাদের এই জমায়েত ছিল আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকারের পক্ষে অনেক আগে পরিকল্পনা করা একটি সমাবেশ। এদিকে, মিশিগানে কুড়ি-পঁচিশজন মানুষকে দেখা যায় ল্যানসিংয়ের স্টেট হাউজের সামনে প্রতিবাদ করতে। এদের কয়েকজনের হাতে রাইফেল ছিল। ডজনখানেক বিক্ষোভকারীর একটি ছোট দল জড়ো হয়েছিল অস্টিন শহরে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটলের সামনে। এদেরও কয়েকজনের হাতে রাইফেল ছিল। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার জন্য ২৫ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তারা কতটা চিন্তিত তা বোঝার জন্য এই একটা তথ্যই যথেষ্ট। এদিকে আর্মি সেক্রেটারি রায়ান ম্যাককার্থি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে রবিবার বলেছেন, অভ্যন্তরীণ হুমকির আশঙ্কায় প্রত্যেক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের অতীত পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজে প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশ জারি করবেন মি. বাইডেন, আর প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবারও অংশীদার করবেন যুক্তরাষ্ট্রকে। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আলাদা হওয়া পরিবারগুলোকে একীভূত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অভিষেকের আগে ওয়াশিংটন ডিসি`র অধিকাংশ এলাকাকেই লকডাউন করে রাখা হয়েছে। অভিষেকের দিন সাধারণত ন্যাশনাল ম্যালে বহু মানুষের সমাগম ঘটে, তবে সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে এবারে তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইডেনের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে মহামারির কারণে তারা যেন অভিষেকে অংশ নেয়ার জন্য ওয়াশিংটনে না আসেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষের উচিত হবে দূর থেকে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করা।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা জারি
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : জো বাইডেনের আগামী বুধবারের অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে আমেরিকার ৫০ রাজ্য জুড়ে। ইতিহাসে এমন ঘটনা কোন দেশে আর ঘটেনি। কি ঘটতে যাচ্ছে ২০ জানুয়ারি তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগের শেষ নেই। ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা সব রাজ্যে এবং ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়া (ডিসি) ছুটির দিনেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ৬ জানুয়ারির ভয়াবহ দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ডের ২১ হাজার সদস্য ওয়াশিংটন ডিসি ও আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকরা ৫০টি রাজ্যের রাজধানীতে সশস্ত্র সমাবেশ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এমন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়ী থামিয়ে তল্লাশিকালে এক অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে এমন পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে যা সরকারের ইস্যু করা নয়। নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশি চালানোর সময় ওই ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫০৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে ওয়েসলে অ্যালেন বিলার নামে ওই ব্যক্তিকে পরে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি একটি বেসরকারি সুরক্ষা সংস্থার সাথে কাজ করতেন। ওয়াশিংটন জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করার মধ্যেই এই আটকের ঘটনা ঘটলো। এছাড়া রাজধানী থেকে কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত বহু রাস্তা কংক্রিটের ব্যারিকেড এবং ধাতব বেড়া দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। অভিষেক অনুষ্ঠানে যে ন্যাশনাল মলে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো, এই স্থানটি সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় বিশেষভাবে কাজ করে। মিশিগান রাজ্যের রাজধানী ল্যানসিঙের চারপাশে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বাইডেনের দল ইতোমধ্যে আমেরিকানদের বলেছেন, তারা যেন কোভিড ১৯ মহামারির বিষয়টি মাথায় রেখে দেশটির রাজধানীতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন। স্থানীয় কর্মকর্তারাও বলছেন, মানুষের উচিৎ হবে এই অভিষেক অনুষ্ঠান আলাদাভাবে দেখা। ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই বার অভিশংসনের মুখে পড়ার মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটলো। বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে তিনি এখন সেনেটের বিচারের মুখোমুখি। গত ৬ই জানুয়ারি তার সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে সহিংস অবস্থান নেয়ায় তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে বেকড আলাস্কা নামে পরিচিত ডানপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে গ্রেফতার করা হয় যার আসল নাম অ্যান্থাইম জোসেফ জিওনেট। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে বলা হয়েছে যে তাকে শুক্রবার টেক্সাসের হিউস্টন থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ক্যাপিটলে সহিংস প্রবেশ ও বিশৃঙ্খল আচরণসহ দুটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

নতুন সহিংসতার আভাস
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : নতুন এক পরিস্থিতি দেখার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ। নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন সহিংসতার কারণে ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীতে। প্রধান সড়কগুলো ছাড়াও বিভিন্ন লেনে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। পথে পথে তল্লাশি করা হয়। বাইডেন শপথ নেয়ার আগে পাতাল রেলসহ অনেক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হবে। যাতে করে রাজধানীর বাইরে থেকে উগ্র হামলাকারিরা প্রবেশ করতে না পারে। এদিকে ক্যাপিটাল হিলে সেনারা ক্যাম্প স্থাপন করে অবস্থান নিয়েছে। করোনার মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীতে মানুষের চলাচল অনেকটাই সীমিত। সেই সঙ্গে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। সবারই একই প্রশ্ন সহিংসতা আগের চেয়েও বাড়বে কিনা। জানা গেছে, জো বাইডেন শপথ নেওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস ছাড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি সকালেই ফ্লোরিডার মার-এ-লেগো রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন ট্রাম্প। তবে, এ নিয়ে এখনো প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহেই জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। ১৮৬৯ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে বলেছিলেন, ‘যারা জিজ্ঞাসা করেছেন তাদের সবাইকে জানাই, আমি ২০ জানুয়ারি অভিষেক অনুষ্ঠানে যাব না।’
এদিকে, গত বুধবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে (প্রতিনিধি পরিষদ) ২৩২-১৯৭ ভোটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১০ জন রিপাবলিকানও ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট দুই বার অভিশংসিত হলেন। বাইডেন বলেন, ‘আমি আশা করি সিনেটের নেতারা অভিশংসনের বিষয়ে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য একটি উপায় খুঁজে নেবেন। পাশাপাশি জাতির অন্যান্য জরুরি বিষয়েও কাজ করবেন।’ গত ৬ জানুয়ারি যারা ক্যাপিটাল হিলে হামলা চালিয়েছে তাদের অনুসন্ধান করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।ধ

প্রতিপক্ষের সহিংসতা বাড়ছে
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : বিভিন্ন জেলায় পৌর নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, কুপিয়ে জখম, খুন খারাবির মতো ঘটনা ঘটছে। গত চারদিনে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় চট্টগ্রামে খুন হয়েছেন ৩ জন। বরগুনা, শরীয়তপুর, রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হামলায় কয়েকজন রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়েছেন। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত (২০)। তিনি ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানবাজার এলাকায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর জনসংযোগে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন। নিহত রোহিত ওমরগনি এমইএস কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রোহিত সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। ৮ জানুয়ারি দেওয়ানবাজার এলাকায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর গণসংযোগে অংশ নিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। চান মিয়া মুন্সী লেনের মা মনি ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে দুটি পক্ষের বিরোধের জেরে রোহিতকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের।
বাঘায় কুপিয়ে ২ জনকে আহত
পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীতে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামানের দুই সমর্থককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ওপর হামলা হয়। আহতরা হলেন, বজলুর রহমান (৪৫) ও আরিফ হোসেন (৩০)। বজলুর রহমান আড়ানী পৌর এলাকার ৪ নম্বর নুরনগর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আহত আরিফ তার ভাগনে। বৃহস্পতিবার রাতেই দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। আরিফের মামাতো বোন আঁখি খাতুন জানান, তার ফুফাতো ভাই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন আরিফ, ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বরগুনায় কুপিয়ে জখম
এদিকে বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এক কর্মীকে বাসায় ডেকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম নাসরিন নাহার সুমি। একই ওয়ার্ডে তিনি অটোরিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আহত ওই কর্মীর নাম মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তিনি বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তারের কর্মী। আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন নাসরীন নাহার সুমির বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের পক্ষে বাসায় বাসায় গিয়ে ভোট চাইতে আমি শহীদ মিনার এলাকায় যাই। এসময় নিপা আক্তারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসরিন নাহার সুমি আমাকে তার বাসা থেকে দেখে ফেলেন। পরে তিনি আমাকে ডেকে বাসায় নেন। এসময় আমি কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি, তা তিনি জানতে চান। আমি নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছি, বলতেই তিনি আমাকে গালাগাল শুরু করেন। আমি এর প্রতিবাদ করতেই তিনি একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার মাথায় কোপ বসিয়ে দেন। পরবর্তীতে তার বাসার আশপাশে টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালাতে না যাওয়ার জন্য সতর্কও করে দেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় ভোট চাইতে গেলে অবস্থা খারাপ হবে বলেও আমাকে হুমকি দেন তিনি।’
শরীয়তপুরে আহত ১০
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবুল বাশারের স্ত্রী আফরিন মিতুসহ অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গৈড্ডা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আবুল বাশারের সমর্থক হান্নান মুন্সী, ফয়সাল সরদার, শামীম, নাসিমা, পাখি, রাজিয়া সুলতানা ও নাসরিনের পরিচয় জানা গেছে। সংবাদ সংগ্রহ করার সময় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। তাদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হান্নান মুন্সী ও ফয়সাল সরদারের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা যায়। এর আগে বুধবার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাইফুল (৩০) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। নিহত সাইফুল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কুমিরাঘোনা হারিমুন পাড়ার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে কুমিরাঘোনা কালিনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা সাইফুলকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা মুখোশ পরা ছিল। আহত অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা সদরের এক বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর এবং বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। নিহতের স্বজনদের দাবি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ এলাকায় বাবুল কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের পক্ষত্যাগ করে নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে যোগ দেয়ায় তাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে। ওই রাতেই ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিহত আজগর আলীর ছেলে সেজান মোহাম্মদ সেতু। বুধবার আদালত কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের নানান নির্দেশনার পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাগে রাখা যায়নি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ার আগে নিজ দলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেই মাঠে নামতে হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল শুরু থেকেই। সম্প্রতি পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনেও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে কোন্দল এবং দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সিএমপির মাসিক অপরাধ সভায় এই নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

নাশকতায় হাই অ্যালার্ট
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : অন্য রকম এক আমেরিকা। যা অতীতে কেউ দেখেননি। ট্রাম্প সমর্থকদের দাপটে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে হোয়াইট হাউজ থেকে। অভিসংশন করে ট্রাম্পকে বিদায় করা এবং অন্য দিকে ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা ঘটতে পারে এমন আভাস দেয়া হয়েছে শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে। তারপর থেকেই রাজধানী ওয়াশিংটনসহ বড় রাজ্যগুলোতে নাশকতার আশঙ্কায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এমন নজির এর আগে আমেরিকায় আর কেউ দেখেননি। যারা এখন বৃদ্ধ তারাও স্মরণ করতে পারছেন না নির্বাচন নিয়ে আমেরিকায় এমন নাশকতা কোন দিন ঘটেছিলো কিনা। ত্রিশ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার আবির সোলেমান। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা আমার জানা নেই। আমরা আতঙ্কিত।’ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এ নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সময়ের আগে ক্ষমতাচ্যুত করলেও তাঁর সমর্থকদের মধ্যে সহিংস আচরণ দেখা যেতে পারে। এ নিয়ে এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যান্য সংস্থা মাঠে নেমেছে। শুধু রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি নয়, ৫০ অঙ্গরাজ্যের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রচারপত্রও বিলি করা হচ্ছে। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ১৫ হাজার অতিরিক্ত ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হচ্ছে। বাইডেন বলেছেন, উন্মুক্ত স্থানে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মোটেই ভীত নন। অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে ২০ জানুয়ারির শপথ অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। ছয় দিন আগে থেকেই সবকিছু প্রস্তুত থাকবে। এদিকে, কার্যকর নিরাপত্তার নির্দেশনা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান চ্যাড উলফ নিজেই পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্পের আহ্বানে ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়া লোকজন আবার সহিংসতায় জড়িত হতে পারে বলে তদন্তে আভাস পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সাবেক সেনা ও পুলিশের লোকজন সমাবেশে যোগ দিয়ে সহিংসতায় অংশ নিতে পারে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প-সমর্থক উগ্রবাদীরা আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র মহড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের আগে ১৭ জানুয়ারি তাঁরা এমন সমাবেশের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এবিসি নিউজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলেছে, ট্রাম্পকে সময়ের আগে ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো প্রয়াসে সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আদালত ভবন, অঙ্গরাজ্য সভা, নগর ভবন, ফেডারেল ভবন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইতিমধ্যে কংগ্রেসে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিশংসন প্রস্তাবটি আজ বুধবার আলোচনায় যেতে পারে।
ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে এফবিআই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। রক্ষণশীল উগ্রবাদীদের তৎপরতার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা গ্রহণ করার জন্য এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার শত বছরের ঐতিহ্য ও উৎসবের উপলক্ষ নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান। এই প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চলছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গত ১৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকবেন।
ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত তার ভাতিজি মেরি ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ‘অস্থির’ লোক বলে আখ্যা দেন। এর আগে সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের আহ্বান জানান মেরি ট্রাম্প। এ হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করে মেরি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটা ধীরেসুস্থে এগোনোর সময় নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ডনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন মেরি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তবে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তেমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। কারণ তিনি (মাইক পেন্স) হলেন এই গ্রহের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ।’ অভিসংশন ভোটাভোটি নিয়ে আজ বুধবার বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা মিডিয়া জুড়ে।

ভ্যাকসিনের নিবন্ধন ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে শিগগির শুরু হবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম। সে লক্ষ্যে অনলাইন নিবন্ধনের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে একটি অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৈরি ‘সুরক্ষা’ নামের একটি মোবাইল ও ওয়েবভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহীরা নিবন্ধন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে তারা ২৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর জন্য সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা ২১ জানুয়ারির মধ্যে অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। গতকাল সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে এই অ্যাপের বিস্তারিত জানানো হবে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ বিকাল ৪টায় একটি সংবাদ সম্মেলন করে ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা এবং সুরক্ষা অ্যাপের বিস্তারিত প্রকাশ করার কথা রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মিরাজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, অ্যাপটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের সুযোগ দিতে পারি। একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষ নিবন্ধন করতে গেলে অ্যাপে অনেক বেশি চাপ পড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের জন্য এটি উন্মুক্ত রাখা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।’ আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধনের জন্য অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে অথবা ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। সেখানে থাকা প্রায় ১৯টি পেশার মধ্যে নিজের বিভাগ বেছে নিতে হবে। এরপর, ব্যবহারকারীকে এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিতে হবে। অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনআইডি ডেটাবেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাকি তথ্য পূরণ করে নেবে। নিবন্ধনকারীকে এই অ্যাপে ডায়াবেটিস, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য রোগ আছে কি না, সে তথ্য দিতে হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর দিলে নিবন্ধনকারী মোবাইলে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাবেন। ওটিপি দেওয়ার পর একটি ভ্যাকসিন কার্ড তৈরি হবে। ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ কোথায় এবং কখন দেওয়া হবে তা কার্ডে উল্লেখ থাকবে। ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেলে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে। কেউ ভ্যাকসিন পেয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে ইমিগ্রেশন এবং বিভিন্ন দূতাবাস এই ওয়েব পোর্টালের সাহায্য নিতে পারবে।

টানটান উত্তেজনা চারদিকে
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : কংগ্রেস ভবনে ৬ জানুয়ারি ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা যে সহিংস তান্ডব চালিয়েছে তাতে ভিত হয়ে পড়েছেন সিনেটররা। তারা ভাবতেই পারছেন না ট্রাম্পের উস্কানিতে সে দিন অনেক সিনেটর সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। অনেকে বাথরুমে ৫ ঘন্টা পর্যন্ত আটকা থাকেন। বর্বরতার শেষ ছিলো না সারা দিনের নজিরবিহীন ঘটনায়। মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতিক হিসেবে পরিচিত ক্যাপিটল হিলের ভেতরে তাণ্ডবে ট্রাম্পকে অচিরেই অভিশংসনের দাবি উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ভোট হতে পারে। এদিকে আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শেষ দিন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তারা উন্মত্ত জনতাকে ‘অভ্যুত্থানে প্ররোচনা’ দেয়ার অভিযোগ আনার পরিকল্পনা চলছে। যদি অভিশংসন প্রক্রিয়া পরিকল্পনা মাফিক এগোয় তাহলে ট্রাম্প হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুইবার অভিশংসন হওয়া একমাত্র প্রেসিডেন্ট। সেজন্য অভিশংসন অভিযোগ হাউজে ভোটে পাস হতে হবে। তারপর বিষয়টি সিনেটে যাবে যেখানে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে দুই তৃতীয়াংশ ভোট দরকার হবে। বর্তমান পরিস্থিতে এতটাই নাজুক যে ট্রাম্পের নিজ দলের অনেক সিনেটরই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি উগ্রবাদিদের উস্কে দিয়েছিলেন। রিপাবলিকান সেনেটর প্যাট টুমি ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় দেশের জন্য এখন সবচেয়ে ভাল হবে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পদত্যাগ করে দ্রুত বিদায় নেন’। এর আগে আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি প্রথম ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসেও ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কথা বলেছেন। আরও এক রিপাবলিকান, ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আর্নল্ড সোয়ার্জিনেগার ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে রিপাবলিকানদের কেউ তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন এমন ইঙ্গিত দেননি। ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এতে দেশের মধ্যে বিভাজন আরও বৃদ্ধি পাবে।

বঙ্গবন্ধুর খুনির সনদ বাতিল
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : দীর্ঘদিন পর হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি বরখাস্তকৃত রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খানসহ ৫২ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে সরকার। এদের সনদ বাতিল করে গত ৫ই জানুয়ারি গেজেট জারি করা হয়। গতকাল রোববার এটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭০তম সভার সুপারিশ অনুযায়ী গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে খুন হন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন। মোসলেহ উদ্দিন তাদের অন্যতম। তিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেন। মোসলেহ উদ্দিন ভারতে আটক হয়েছেন- কয়েক মাস আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এখনও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ১৯শে নভেম্বর জামুকার সভায় মোসলেহ উদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া আরও ৫১ জনের মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ বাতিল করা হয়। মোসলেহ উদ্দিনের সেনা গেজেট নম্বর ৬৪৩। এছাড়া যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে তারা হলেন- নরসিংদী সদরের আবুল ফজল (গেজেট-৩৭৫২, সনদ-ম-১৮৫১৫), মো. জয়নাল (গেজেট-৩৭৫৯, সনদ-ম-১৮৫১৪), কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের মৃত গোলাম মোস্তফা (গেজেট-১৮৩২), গাজীপুরের কালীগঞ্জের আবদুল কাদের (সেনা গেজেট-১৭৭১৭, সনদ-৭৪৮৫৫), মো. আলতাফ হোসেন (গেজেট-১৫২৮), কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মো. ওয়াহিদুর রহমান (গেজেট-৫৯৫৬) ও মরহুম মো. আবদুল মালেক (গেজেট-৬৮৯৬), কক্সবাজার উখিয়ার রুহুল আমিন (গেজেট-২৪৪), ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ডা. এ গাফফার মিয়া যুদ্ধাহত (লাল মুক্তিবার্তা নং-১০৮০৬০০৫৪), বগুড়ার সারিয়াকান্দির মো. সামাদ আলী (গেজেট-২৯৮২, সনদ-১৯৯৯৮৫), নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চাঁদ মোহাম্মদ (গেজেট-৬৭২), মো. ওসমান আলী (গেজেট-৭২৭), মো. জাকির হোসেন (গেজেট-৭২৮), আ. কাদের মোল্লা (গেজেট-৬৮২), আ. রহমান (গেজেট-৭০১), আ. জব্বার (গেজেট-৭০৩), সরদার মো. বয়েত রেজা (গেজেট-৭১৩, সনদ-৭২৬৪৪), মো. শামসুল হক (গেজেট-৬৪১), মৃত সিরাজুল ইসলাম (গেজেট-৬৮৩), মো. আ. গফুর খান (গেজেট-৬৮৪), মো. শফি উদ্দিন (গেজেট-৭১২), মো. নাজিম উদ্দিন (গেজেট-৬৭৫), মো. আ. রব (গেজেট-৫৬৪), মো. জামাত আলী (গেজেট-৬৫৯), মো. আ. সামাদ (গেজেট-৬৮৫), মো. আফজাল হোসেন (গেজেট-৬৮৮), মো. আ. আউয়াল (গেজেট-৫৪৮), মো. রফিকুল ইসলাম (গেজেট-৬৮৬), মৃত আনছার আলী (গেজেট-৬৯৩), মৃত নুরুল ইসলাম (গেজেট-৬৯৬), পাবনার ঈশ্বরদীর মো. তরিকুল ইসলাম (গেজেট-১০৪৬), পাবনা সদরের মো. নাসির উদ্দিন (গেজেট-৩২৫)। এছাড়া টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মো. আব্দুল বাছেদ করিম (গেজেট-৬০৬) ও সখিপুরের মো. আ. বছির মিয়া (গেজেট-৪১৩৬), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মৃত ইলিয়াস মিয়া (গেজেট-১৫৩৯), তোফাজ্জল হোসেন (গেজেট-৮৯২), নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মো. শহীদুল্লাহ সরদার (গেজেট-২৭৯), মৃত আলী আকবর (গেজেট-৪৭৫), মনিরুল ইসলাম (গেজেট-৪৭৩), রহমত উল্লাহ (লাল মুক্তিবার্তা নং-০১৪০২০১৬৯), আবদুল মাজেদ (গেজেট-৩৫৫), বরিশালের উজিরপুরের মো. বেলায়েত আলী বিশ্বাস (গেজেট-৪৬৯০), মো. আবদুল হাকিম মোল্লা (গেজেট-৫০৩১), এছাহাক মুন্সি (গেজেট-৫০২৩), আবদুল মাজেদ আলী হাওলাদার (গেজেট-৪৯৭৪), মৃত মো. আ. রহিম (গেজেট-৫৩৫২), হারুন অর রশিদ (গেজেট-৫১৬১) এবং আ. রহমান সরদার (গেজেট-৫৪১০), কিশোরগঞ্জের মৃত মো. মুখলেছুর রহমান (গেজেট-১৪২৪), মো. নাসিরুল ইসলাম খান (গেজেট-৩৫৭৯) ও মো. আজিজুল হকের (গেজেট ৩৩০৩) মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে।

অন লাইনে টিকার আবেদন
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা দ্রুতই চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। টিকা চলে আসার পর তা বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে অ্যাপের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষকে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে এই টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কখন করতে হবে, তা আমরা জানিয়ে দেব। কখন কোথায় ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, তা অ্যাপের মাধ্যমেই মনিটরিং করা সম্ভব। এজন্য অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তিন মাসের মধ্যে করোনার টিকা পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী, সামনের সারিতে থাকা পেশাজীবী ও বয়স্করা। বাদ যাবে ১৮ বছর বয়সের নিচে থাকা শিশুরা। এদিকে দেশে করোনার টিকা আসার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এর বিতরণ কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকারের গঠিত কোভিড-১৯ জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘করোনার টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা হবে বাংলাদেশে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সবার আগে পাবেন। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক যেটা শুনেছি, ৮০ বছরের ওপরে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ আছেন, তারা প্রথম গ্রুপেই পাবেন। আবার পুলিশ বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের কিছু মানুষ, তারপরে গণমাধ্যমের কিছু মানুষ মূলত যারা ফ্রন্টলাইনার, তারা প্রথম দিকেই পাবেন।’ করোনার জন্য বয়স্ক ব্যক্তিরা ছাড়াও ঝুঁকির মধ্যে আছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। ওই সব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতায় কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কো-মর্বিডিটি (বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত) যেহেতু আমাদের দেশে রেকর্ড কিপিংটা ওরকম না, সেজন্য ওটা বয়স ভিত্তিকের মাধ্যমে ইনডাইরেক্টলি কাভার করা হবে। ফেইজ ওয়ান যদি প্রথম তিন মাস হয়, তাহলে ওই সময়ে আমরা ৭৫ লাখ লোককে দিয়ে ফেলতে পারব।’ এদিকে, সাধারণ মানুষ হিসেবে কীভাবে এই টিকা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করবে, সেটিরও একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের লিস্টটা আমরা আইসিটি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। একটি অ্যাপের মাধ্যমে তারা রেজিস্ট্রেশন করবে। এটা হয়তো আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে হলে তখন জাতীয় পরিচয়পত্রটাও লাগবে। যেহেতু আমরা ১৮ বছরের নিচে ভ্যাকসিন ইস্যু করব না, সেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্র এখানে লাগবে। হতে পারে এক থেকে দুই শতাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকবে না। সেখানে জন্ম নিবন্ধনটাকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। আপনি যখন রেজিস্ট্রেশন করবেন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার ডাটা আমাদের কাছে চলে আসবে। আপনি কোথায় কখন ভ্যাকসিন পাবেন, সেই তথ্যও আপনি জানতে পারবেন।’ করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকায় কারা থাকবেন না, সেটিরও একটি হিসাব করে রাখা হয়েছে পরিকল্পনায়। ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘খুব কম সংখ্যক কিছু লোক হয়তো পাওয়া যাবে, যারা বলবেন, আমরা টিকা নেব না, তাহলে তারা বাদ। ২ নম্বর হলো, কারো যদি খুব অ্যালার্জি থাকে হয় সে বাদ যাবে, অথবা স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে তাকে টিকা দেওয়া হবে।’

থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে
                                  

মীর শওকত, ওয়াশিংটন থেকে : ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল হিল ভবনে হামলার পর কড়া নিরাপত্তা আরোপ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ক্যাপিটাল হিলের পুলিশ প্রধান পদত্যাগ করেছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৫ জন রায়টে নিহত হয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রচার হয়েছে। তবে ঘটনার দুইদিন পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। আজ শনিবার এবং আগামীকাল রোববার এখানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শহর জুড়ে কারফিউ বলবত রয়েছে। চারদিকে একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা কংগ্রেস ভবনে হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হচ্ছে। তারা দূরের কোন রাজ্য থেকে রাজধানীতে এসে হামলায় জড়িত কিনা তার সন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের অভিশংসিত করার বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে জালিয়াতি হওয়াই কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলায় প্ররোচিত করার পেছনে দায়ী ট্রাম্পের এমন অসত্য দাবির দুদিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার থেকে ট্রাম্পের অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ভাবছে ডেমোক্র্যাটরা। সাধারণভাবে গণমাধ্যম সূত্রে সবাই জানতে পেরেছেন যে গত বুধবার কংগ্রেসের বৈঠক চলাকালে ক্যাপিটল ভবনে হামলাকারীরা ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক। তাদের প্রতি ট্রাম্প ‘ভালোবাসা’ও প্রকাশ করেছিলেন। তাদেরকে ‘স্পেশাল’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। হামলাকারীদের হাতের পতাকা ও বিভিন্ন প্রতীক দেখে তাদের মতাদর্শ বিশ্লেষণ করা হয়েছে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে সেদিন অনেক ব্যক্তিও মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। ক্যাপিটল ভবনে হামলায় গোপন ‘উগ্র ডানপন্থি’ সংগঠন কিউঅ্যাননের সদস্যরা ছিলেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের কয়েকজনের ছবি দেখে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিউঅ্যাননের সদস্যদের অনেকে অনলাইন প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের সমাবেশেও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে এক ব্যক্তির চেহারায় আমেরিকার পতাকা আঁকা, মাথায় শিং সম্বলিত ফারের টুপি ও হাতে বর্শায় বাঁধা আমেরিকার পতাকা। তাকে জ্যাক অ্যাঞ্জেলি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি কিউঅ্যানন’র এক সুপরিচিত সদস্য। তিনি নিজেকে ‘কিউঅ্যানন শ্যামান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা যদি ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে অভিশংসনের প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং সিনেটের সংখ্যালঘিষ্ট নেতা চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প ‘বিদ্রোহ’ উসকে দিয়েছেন অভিযোগ করে এক বিবৃতিতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে ডেমোক্রেটিক নেতারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের বিপজ্জনক ও দ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে ক্ষমতা থেকে তাৎক্ষণিক অপসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’ তবে, ট্রাম্প সরকারের মেয়াদ আর দুই সপ্তাহেরও কম হওয়ায়, অভিশংসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা না করলেও, এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর নির্বাচনি এলাকার ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গত বুধবার ক্যাপিটল দখলের ঘটনায় দলের পদক্ষেপ দেখতে চান। যদি ট্রাম্প কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে বিচারের মুখে পড়তে হবে। এদিকে হাউসে ট্রাম্প অভিশংসিত হলে কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলীয় নেতা মিচেল ম্যাকোনেলের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। এখন দেখার অপেক্ষা অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়।

আরও চাল আমদানির অনুমতি
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : বাজারে বিনা কারণে চালের দাম বাড়ছে। পাইকারী হাটে চালের অভাব নেই। মিলাররা চাল নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায়। কোন ঝড়, বন্যা নেই। তারপরও বাজারে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে মিলারদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়ানোর অভিযোগ করেন খুদ মন্ত্রী নিজে। তারপরও বাজার নিয়ন্ত্রণ আসেনি। মিলারদের গোপন সিন্ডিকেটের কারণেই বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এদিকে সরকারি গুদামে মজুদ বাড়াতে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী সিংগাপুর থেকে অনলাইনে সভায় যোগ দেন। আড়াই লাখ টন চালের মধ্যে দেড় লাখ টন ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা হবে। আর এক লাখ টন চাল আমদানিতে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। গত ৪ জানুয়ারি সরকারের গুদামে চালের মজুদ ছিল পাঁচ দশমিক ৩২ লাখ টন। রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে শর্ত সাপেক্ষে ১০ আমদানিকারককে এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণে গত বছর সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় এবং চাল আমদানি বন্ধের সুপারিশ করেছিল খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত এক বছরে খাদ্য মজুদ অর্ধেক কমে যাওয়ায় তিন বছর পরে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া এবং চলমান মহামারি ও মহামারির মধ্যে কয়েক দফা বন্যার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালের ১ জুলাই সরকারের হাতে খাদ্য মজুদ ছিল ১৬ দশমিক ৭৪ লাখ টন। এক বছরে তা কমে ১১ দশমিক ৮৮ লাখ টনে দাঁড়ায়।

করোনা প্রকল্প সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেন্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন ১৭২ কোটি ৪৬ লাখ এবং বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) সহায়তা দেবে ছয় হাজার ৬১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।এর মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন কেনা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ বাবদ চার হাজার ২৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। করোনা মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত বছর বিশ্বব্যাংক জরুরি সহায়তা তহবিল থেকে এক শ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে এই এক শ মিলিয়ন ডলার ঋণদান করবে।

এ ছাড়া, করোনা ভ্যাকসিন কেনা বাবদ বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত পাঁচ শ মিলিয়ন ডলার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং করোনা ভাইরাস বার বার মিউটেশনের কারণে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে, সেই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যামান অসংগতি দূর করতে প্রকল্পে সংশোধন প্রয়োজন হয়। সংশোধিত প্রকল্পের কার্যক্রম হিসেবে ২৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন, আইইডিসিআর এবং বিআইটিআইডিতে তিনটি ল্যাব স্থাপন, একটি মোবাইল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব স্থাপন, প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সংক্রামক হাসপাতালে পাঁচ শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপন, প্রতিটি জেলা সদরে ২০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি, চট্টগ্রাম স্থলবন্দরে একটি এবং মোংলা স্থলবন্দরে একটি মেডিকেল স্ক্রিনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রকল্পে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিকল্পনা করা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি (কোভ্যাক্স) উদ্যোগ বাবদ ১৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ডিরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মোট ভ্যাকসিন ৩৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, স্টোরেজ অ্যান্ড কোল্ড চেইন বাবদ ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পরিবহন ও বাস্তবায়ন বাবদ ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে।
সভায় মোট প্রায় নয় হাজার ৫৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন তিন হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে পাঁচ হাজার ৭০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

টিকা নিয়ে দিল্লিমুখি ঢাকা
                                  

সাঈদ আহমেদ খান : ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট গতকাল সোমবার দিন শেষে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছে। বাংলাদেশ যথাসময়ে করোনার টিকা পাবে বলে তারা বিবিসিকে জানিয়েছে। এর আগেই হঠাৎ করে ভারত সরকারের টিকা রফতানি নিষেধাজ্ঞার খবরটি দুনিয়া জুড়ে চাউড় হয়ে যায়। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকায়। একদিন আগে সরকার টিকার অর্থ ছাড় করেছিলো। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কি হলো তা নিয়েই গতকাল সোমবার মিডিয়াপাড়া এবং সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ছিলেন। করোনার মানবিক বিষয়কে ভারত মোটেও গুরুত্ব দেয়নি। তারা পেঁয়াজ রফতানির মতো আচরণ করে বসলো এমনটাই ভেবে চারদিকে সমালোচনা চলছে।
বৃটেনের পর ভারতও যখন অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়, তখন সবার ধারণা জন্মে যে সহসাই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসছে। টাকা ছাড়ের কথাও বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই এসে যাবে টিকার ৫০ লাখ ডোজ। এ টিকার তিন কোটি ডোজ পেতে বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল আগেই। কিন্তু অনেকটা আকস্মিকভাবে ভারত সরকার টিকা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলো। আর এ সিদ্ধান্তে হতাশা তৈরি হয়েছে পুরো বাংলাদেশেই। সংবাদ মাধ্যমে খবরটি জানার পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ হাইকমিশনে যোগাযোগ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের ভাষ্য হচ্ছে, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানাতে পারেনি। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ-ভারত উষ্ণ সম্পর্কের কারণে টিকা পেতে সমস্যা হবে না।
তবে একটি সূত্র বলছে, এই বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ এক্সেম্পসন’ বা ছাড় পাবে বলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা রয়েছে। ভারত সরকারও এই বিষয়ে পূর্বে বাংলাদেশকে অনানুষ্ঠানিকভাবে আশ্বস্ত করেছিল। এক্ষেত্রে আগে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ওই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিতে হবে, যেমনটা যুক্তরাজ্য ও ভারত দিয়েছে। নিবন্ধন বা অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বেক্সিমকো ফার্মা জমা দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ থেকে অনুমোদন পেলেই ভারতের কাছ থেকে এক্সেম্পসনে’র জন্য আবেদন করা হবে। বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও ভারতের সিরামের মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন আমদানির বিষয়ে চুক্তি হয় নভেম্বরে। তার আগে আগস্টে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ সফরে আসেন। ওই সফরেই সিরাম উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশের পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। ওই সফরের পরই মূলত সিরাম-বেক্সিমকো সমঝোতা গতি পায়। আচমকা ভারতীয় কর্তৃৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে, সিরাম এখন ভ্যাকসিন রফতানি করতে পারছে না। অথচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন হলেও কোন দেশই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে এরইমধ্যে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাই ভারতীয় কর্তৃৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনৈতিক বলছেন, বিশ্লেষকরা। এছাড়া, বাড়ির পাশের বাংলাদেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ না হলে ভারতে করোনা নিয়ন্ত্রণ কতোটা সফল হবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভারত অতীতে পেঁয়াজ রফতানি নিয়েও প্রতিবেশিসুলভ আচরণ করেনি। বাংলাদেশে যখন প্রয়োজন তখন তারা রফতানি বন্ধ করে দেয় আবার বাংলাদেশের পেঁয়াজ যখন বাজারে আসে তখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। করোনা টিকাকে তারা কি পেঁয়াজের মতো হাতিয়ার হিসেবে দেখছে এই প্রশ্ন এখন কোটি মানুষের।

তিনদিনের শিশুসহ নিহত ৭
                                  

গণমুক্তি রিপোর্ট : করোনার মধ্যে হাসপাতালে জন্ম নেয়া ছেলে নবজাতককে নিয়ে পরিবারে আনন্দের শেষ ছিলো না। দল বেধে একটি সিএনজি করে পরিবারের সবাই গতকাল রোববার বাড়ি ফিরছিলেন সেই নবজাতককে নিয়ে। তার নামও রাখা হয়নি। পৃথিবীতে আসার পর সবাই তাকে ‘বাবু’ বলেই ডাকছিলেন। আশা ছিলো বাড়ি ফিরে নাম ঠিক করবেন। হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় পরিকল্পনা করছিলেন বড় করে আকিকা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। কিন্তু পরিবারের কেউ আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। সড়কে বেপরোয়া এক বাসের চাপায় সেই নবজাতকসহ পরিবারের ৬ জন নিহত হন। এছাড়া সিএনজির চালকও ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। নিহত ৬ জন একই পরিবারের। গতকাল রোববার ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বাস চাপা দিলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতরা হলেন-নেত্রকোনা জেলার পুর্বধলা গ্রামের পেচুয়ালেঞ্জী গ্রামের ফারুক হোসেন (৩০), তার স্ত্রী মাসুমা খাতুন (২৩), তাদের তিন দিন বয়সী নবজাতক শিশু, ফারুকের বোন জুলেখা খাতুন, ভাই নিজাম উদ্দিন (৩২) এবং ভাবি জোসনা বেগম। অটোরিকশা চালকের নাম রাকিবুল হাসান (৩০) বলে জানা গেছে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরলক্ষীপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাছতলা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন দাস বলেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’ নিহতদের স্বজন মাসুম বলেন, ‘তিন দিন আগে ময়মনসিংহের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে মাসুমা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সিএনজিতে করে বাড়িতে ফেরার পথে নবজাতকসহ ঘটনাস্থলেই সবাই মারা যান।’ এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘দুপুরের দিকে নেত্রকোনা থেকে ঢাকাগামী হযরত শাহ জালাল পরিবহনের একটি বাস নেত্রকোনাগামী অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার সাতজন মারা যান। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশু রয়েছেন। নিহতের মধ্যে তিন দিন বয়সী নবজাতকসহ একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তাদের লাশ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল মিয়া জানান, বাসটি একটি ট্রাক ওভারটেক করার সময় অটোরিকশাটি সামনে চলে আসে। অটোরিকশাটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে ছেঁচড়ে আসে। আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি, একজন একটু নড়াচড়া করছে। আর বাকি সবাই মারা গেছেন। ওই একজনকে টেনে বের করে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়িতে তুলতে গিয়ে দেখি তিনিও মারা গেছেন।’


   Page 1 of 32
     আজকের পত্রিকা
ওয়াশিংটন ছাড়লেন ট্রাম্প : শপথ বাইডেনের
.............................................................................................
আমেরিকায় আজ সেই দিন
.............................................................................................
রাতেই হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন ট্রাম্প
.............................................................................................
নজিরবিহীন নিরাপত্তা জারি
.............................................................................................
নতুন সহিংসতার আভাস
.............................................................................................
প্রতিপক্ষের সহিংসতা বাড়ছে
.............................................................................................
নাশকতায় হাই অ্যালার্ট
.............................................................................................
ভ্যাকসিনের নিবন্ধন ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে
.............................................................................................
টানটান উত্তেজনা চারদিকে
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর খুনির সনদ বাতিল
.............................................................................................
অন লাইনে টিকার আবেদন
.............................................................................................
থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে
.............................................................................................
আরও চাল আমদানির অনুমতি
.............................................................................................
করোনা প্রকল্প সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো
.............................................................................................
টিকা নিয়ে দিল্লিমুখি ঢাকা
.............................................................................................
তিনদিনের শিশুসহ নিহত ৭
.............................................................................................
শিঘ্রই টিকা : আজ অর্থ ছাড়
.............................................................................................
আকাশে আতশবাজির খেলা
.............................................................................................
৫৫ কোটি টাকার ইউরেনিয়াম
.............................................................................................
থার্টি ফার্স্টে কঠোর নিরাপত্তা বলয়
.............................................................................................
ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গা কাফেলা
.............................................................................................
পদ্মা সেতু আগামী বছরের মধ্যে
.............................................................................................
সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে বিজিবির উদ্বেগ
.............................................................................................
২শ’ কোটি ডলার বাণিজ্য টার্গেট
.............................................................................................
ঢাকার ভাস্কর্যে নিরাপত্তা জোরদার
.............................................................................................
ইউরোপ জুড়ে আতঙ্ক
.............................................................................................
ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না, ঐক্য অনেক সুদৃঢ় : সেনাপ্রধান
.............................................................................................
ঠাণ্ডায় জমে আছে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন
.............................................................................................
টাকা পাচারে গার্লফ্রেন্ড ব্যবহার
.............................................................................................
ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন
.............................................................................................
জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ
.............................................................................................
সিনহা হত্যার চার্জশিট
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর নামে দৃপ্ত শপথ
.............................................................................................
উচ্ছ্বাস আনন্দে ভাসছে দেশ
.............................................................................................
ইন্টারপোলে পরোয়ানা
.............................................................................................
উস্কানিদাতাদের শাস্তির নির্দেশ
.............................................................................................
ভাস্কর্য নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
.............................................................................................
ভাস্কর্য ভাঙ্গায় ফুঁসছে সারা দেশ
.............................................................................................
৫৭ লক্ষ কোটি টাকা উধাও
.............................................................................................
ভাসানচরে রোহিঙ্গা বসতি
.............................................................................................
পিকে হালদারের সন্ধানে ইন্টারপোল
.............................................................................................
১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসি বৈধ হবে
.............................................................................................
৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম
.............................................................................................
৫৫ দিন পরই ট্রাম্পের বিদায়
.............................................................................................
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা
.............................................................................................
নদী ভাঙ্গা মানুষের বাতিঘর
.............................................................................................
লাশের সিরিয়াল ধর্ষক ডোম মুন্না
.............................................................................................
জাতি ও ধর্মগত সহিংসতা বাড়ছে
.............................................................................................
কঙ্কালের আন্ডারওয়ার্ল্ড বাণিজ্য
.............................................................................................
করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop