ঢাকা,সোমবার,১২ আশ্বিন ১৪২৮,২৭,সেপ্টেম্বর,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক   > বাণিজ্য সম্প্রসারণে বৈশ্বিক ভিত্তি বঙ্গবন্ধুর তৈরি করা   > সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তাঁর স্ত্রীর বিচার শুরু   > করোনায় শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২১   > প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন   > একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা   > রাজবাড়ীতে জন্ম নিবন্ধন তৈরিতে নাজেহাল সনদ গ্রহিতারা   > গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য থাকবে না : এমপি নয়ন   > সোনাইমুড়ীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন   > নন্দীগ্রামে ১৫ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল  

   আজকের পত্রিকা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : সারাদেশে করোনার টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে। এ উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। গতকাল রোববার দুপুরে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্যাম্পেইনে একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এদিকে রোববার এক ভার্চয়্যাল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আবার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৮০ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ করোনার টিকা দেয়া হবে। আপাতত এক সপ্তাহের জন্য এই ক্যাম্পেইন চলবে। এই কার্যক্রমের বাকি দিনগুলোতে দৈনিক ৬ লাখ ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদ, ১ হাজার ৫৪ পৌরসভায় প্রায় ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমে অংশ নেবে। প্রতিটি ইউনিয়নে এ উপলক্ষে টিকা প্রদানের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। চল্লিশোর্ধ্ব নাগরিক, বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অক্ষম, শিক্ষার্থী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের এই কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫ বছরের বেশি বয়সী যারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদেরও গণটিকার আওতায় টিকা দেয়া হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ মাসেই আবারও বড় পরিসরে সারাদেশে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন করা হবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় এক কোটিরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচিও চলমান থাকবে। দেশে শনিবার পর্যন্ত চার কোটি দুই লাখ ৩১ হাজার ৫৬৯ ডোজ করোনা টিকার প্রয়োগ হয়েছে। আর টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন চার কোটি ৪১ লাখ ১৫ হাজার ১৪৫ জন। যারা এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন দুই কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন এক কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, প্রথম ডোজ টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ১৬১ জন, আর নারী ১ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৪ জন, আর নারী ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড প্রয়োগ হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৫ ডোজ। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রয়োগ হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৯ ডোজ। চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪ ডোজ। আর মডার্নার টিকা প্রয়োগ হয়েছে ৫০ লাখ ২ হাজার ৯৩১ ডোজ।

একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : সারাদেশে করোনার টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে। এ উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। গতকাল রোববার দুপুরে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্যাম্পেইনে একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এদিকে রোববার এক ভার্চয়্যাল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আবার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৮০ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ করোনার টিকা দেয়া হবে। আপাতত এক সপ্তাহের জন্য এই ক্যাম্পেইন চলবে। এই কার্যক্রমের বাকি দিনগুলোতে দৈনিক ৬ লাখ ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদ, ১ হাজার ৫৪ পৌরসভায় প্রায় ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমে অংশ নেবে। প্রতিটি ইউনিয়নে এ উপলক্ষে টিকা প্রদানের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। চল্লিশোর্ধ্ব নাগরিক, বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অক্ষম, শিক্ষার্থী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের এই কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫ বছরের বেশি বয়সী যারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদেরও গণটিকার আওতায় টিকা দেয়া হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ মাসেই আবারও বড় পরিসরে সারাদেশে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন করা হবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় এক কোটিরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচিও চলমান থাকবে। দেশে শনিবার পর্যন্ত চার কোটি দুই লাখ ৩১ হাজার ৫৬৯ ডোজ করোনা টিকার প্রয়োগ হয়েছে। আর টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন চার কোটি ৪১ লাখ ১৫ হাজার ১৪৫ জন। যারা এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন দুই কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন এক কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, প্রথম ডোজ টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ১৬১ জন, আর নারী ১ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৪ জন, আর নারী ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড প্রয়োগ হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৫ ডোজ। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রয়োগ হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৯ ডোজ। চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪ ডোজ। আর মডার্নার টিকা প্রয়োগ হয়েছে ৫০ লাখ ২ হাজার ৯৩১ ডোজ।

কম মূল্যে বিশ্ববাসিকে টিকা দিন
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন। নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার সকালে এবং বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে বিশ্ব নেতাদের মাঝে করোনাকালের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের মানুষের পক্ষে শান্তির ডাক দিয়েছেন। বিশ্ববাসির জন্য তিনি কম মূল্যে টিকা নিশ্চিত করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাংখার কেন্দ্র’ মনে করতেন। ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে।’ বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের মাঝে তাঁর প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমত: কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।
দ্বিতীয়ত: এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।
তৃতীয়ত: মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।
চতুর্থত: কোভিড-১৯ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।
পঞ্চমত: মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
ষষ্ঠত: রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।
এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বিশ্ব নেতাদের মাঝে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার জাতিসংঘেরও
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। তিনি লটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় সকালে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় এই প্রশংসা করেন। পরে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক কার্যক্রমের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ (ইউএন) মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে স্বাগত জানান। জাতিসংঘ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মত বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো জাতিসংঘেরও অগ্রাধিকার। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের উচ্চপদে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরো বেশি সদস্য নিযুক্ত করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে জাতিসংঘের সাড়া দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুতেরেস এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন এবং তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন ও বাংলাদেশের জন্য আরো কিছু করতে চান। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব এই ব্যাপারে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের কথা এবং শান্তি রক্ষা মিশনে তাদের সাফল্যের গল্প রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। ড. মোমেন বলেন, একটি গতিশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশকে জাতিসংঘ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গুতেরেস বাংলাদেশের এবং দেশটির সার্বিক অর্জনের ব্যাপারে এর নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুক এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তাঁর সরকার ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তা ভাবনা করছে।  এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, মালে ও চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করার ব্যাপারে উভয় দেশ কাজ করছে।  ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে ফুককে অনুরোধ জানান।

জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সকলে এগিয়ে আসুন। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ রেখে যেতে ‘সার্বিক বৈশ্বিক’ উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথিবীর জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় বিশ্ব নেতাদের প্রতি সাহসী ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা বিষয়ক নেতৃবৃন্দের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ছয়টি সুপারিশ পেশ করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সোমবার সকালে নিউইয়র্কে যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করেন। শেখ হাসিনা তাঁর প্রস্তাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল আদায়ের ওপরও জোর দেন। এ তহবিলের ৫০ শতাংশ বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য ব্যবহার করা হবে। উন্নয়শীল দেশগুলোতে নতুন আর্থিক প্রক্রিয়া এবং সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লোকসান এবং ক্ষয়ক্ষতির সমস্যা এবং সেইসাথে বৃহৎ আকারের জনসংখ্যার স্থানচ্যুতি মোকাবেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহামারী ও দুর্যোগের দ্বৈত বিপদ মোকাবেলায় বিশেষ করে জলবায়ু-সৃষ্ট দুর্যোগের বর্ধিত পৌনপুনিকতা আক্রান্ত সিভিএফ দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে তাদের অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো বৈশ্বিক গ্রিণ হাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে কম অবদান রাখে, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক আইপিসিসি রিপোর্টেও উল্লেখ করে বলেন, এটি ভবিষ্যত সম্পর্কে একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। কেননা বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গেলে তারা স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তার সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পথিকৃৎ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি, ইউএনএফসিসিসি’তে বাংলাদেশ একটি উচ্চাভিলাষী ও হালনাগাদ এনডিসি জমা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সবুজ প্রবৃদ্ধি, স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে। তিনি এটা স্পষ্ট করেন যে সরকার জলবায়ু ঝুঁকি থেকে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং তা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির পথে যাত্রা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি২০-এর চেয়ার হিসেবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করা। এ সময় তিনি ঢাকাস্থ জিসিএ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অভিযোজন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ●︎ ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৬টার কিছু পর (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়) বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি  (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. শহিদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেএফকে বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা পরিবেষ্টিত হয়ে সরাসরি হোটেল লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে পৌঁছান। জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। অন্যান্য দেশের বেশিরভাগ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরাও নিউইয়র্কের অভিজাত এই হোটেলে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। ১৮৮০ সালে পাঁচতারকা ৫১তলা বিশিষ্ট এই বিখ্যাত হোটেলটি নির্মাণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে জেএফকে বিমানবন্দরের বাইরে রোববার বিকেল থেকে জড়ো হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শতশত নেতাকর্মী। তাঁরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। এ সময় তাঁরা বিমানবন্দরের সামনের এলাকা স্লোগানে মুখরিত করেন। নিউইয়র্কে আসার সময় শেখ হাসিনা হেলসিঙ্কিতে দুদিনের যাত্রা বিরতি করেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে শেখ হাসিনা বেশ কয়েক জন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে হেলসিঙ্কি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফরের দেড় বছর পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। 

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছাবার পরদিনই ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একটি ছোট দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে, প্রধানমন্ত্রী একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সম্মানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তর লনে ইউএন গার্ডেনে একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করেন। বিকেলে  প্রধানমন্ত্রী ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাংলায় তাঁর ভাষণ দেবেন। 

 তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং স্বাস্থ্যখাতের সাফল্য  সম্পর্কে আলোকপাত করবেন। পাশাপাশি, বিশ্ব শান্তি, নিরাপদ অভিবাসন, করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্যতাভিত্তিক বন্টন, বৃহৎ পরিসরে করোনা টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে পেটেন্টসহ মেধাস্বত্ব উন্মুক্তকরণ, ফিলিস্তিনি ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত  বিষয়সমূহ তার বক্তব্যে উঠে আসবে। ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কের উদ্ভোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত বিজনেস গোলটেবিল : ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল-অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ডারবান ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন গ্রহণের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন।

এ ছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস বৈশ্বিক কভিড-১৯ শীর্ষ সম্মেলন : মহামারির সমাপ্তি এবং আরও ভালো অবস্থা গড়ে তোলা শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন এবং বক্তৃতা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেদিন বিকেলে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট : একটি টেকসই সমাধানের জন্য করণীয় শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং সেখানে পূর্বে-রেকর্ড করা বক্তৃতা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সুইডিশ মিশন আয়োজিত জাতিসংঘের সাধারণ কর্মসূচি : সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের পদক্ষেপ শীর্ষক নেতাদের নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দশক কর্মসূচির অংশ হিসোবে খাদ্য ব্যবস্থা শীষর্ক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে শেখ হাসিনা বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন, বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিজ মিয়া আমোর মোটলি কিউসি, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, নেদারল্যান্ডের রানী ম্যাক্সিমা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সালিহ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন জুয়ান ফাইক।
এ ছাড়া শেখ হাসিনা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন।
জাতিসংঘ অধিবেশন এবং নিউইয়র্কে অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফরের কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শেখ হাসিনা ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং হেলসিঙ্কিতে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন বাংলায়
                                  

করোনা মহামারি ও জলবায়ু

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। অংশগ্রহণকারি নেতৃবৃন্দ সকলে টিকা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯৩টি সদস্য দেশের নেতাদের মধ্যে এবার এক-তৃতীয়াংশ ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য দেবেন। বাকিরা সরাসরি ভাষণ দেবেন। এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে করণিয় বিষয় নিয়ে। গতকাল রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কের পথে ছিলেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাঁর নিউইয়র্কে পৌঁছাবার কথা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় নেতাকর্মীরা জেএফকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করার জন্য জড়ো হতে থাকেন। এর আগের দিন জেকসন হাইটসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নেতাকর্মীদের যথা সময়ে বিমানবন্দরে হাজির হবার জন্য আহবান জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা আশা করছেন দলীয় সভানেত্রী এবার তাদের কমিটি ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘ আশা পূরণ করে যাবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ম্যানহাটনের লটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে তিনি যাবেন। এখানেই তিনি অবস্থান করবেন। সেকারণে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে গতকালই হোটেল প্রাঙ্গনে জড়ো হন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা বেশি থাকায় গত বছর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে বসেন। এবারের অধিবেশন ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অধিবেশনে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে কথা রয়েছে।নেতাদের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রবেশ মানেই ধরা হচ্ছে সবাই কোভিড-১৯ টিকা নিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধানদের টিকার সনদ জমা নেওয়া বা কোনো প্রমাণ দেখতে চায়নি জাতিসংঘ। এবার প্রথম বক্তব্য দেবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জয়ের বলসেনারো। তিনি নিজেই করোনার টিকার বিষয়ে সন্দিহান। গত সপ্তাহেও নিজের করোনার টিকা দরকার নেই বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হওয়ার কারণে তাঁর শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। আগামী বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে পৃথিবীর ৭০ শতাংশ মানুষকে কোভিড টিকার আওতায় আনতে চায় জাতিসংঘ। এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবারের সাধারণ অধিবেশনে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, এ পর্যন্ত ৫৭০ কোটি মানুষের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে, এই টিকা পাওয়া মানুষের মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ মানুষ আফ্রিকা মহাদেশের। এদিকে, করোনাকালিন সময়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টা নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন জো বাইডেন। আজ সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরে মঙ্গলবার অধিবেশনের শুরুর দিন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পরেই ভাষণ দেবেন জো বাইডেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আগামী দিনের লড়াই নিয়ে কথা বলতে পারেন জো বাইডেন। এর সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক স্থিতিশীলতা নিয়েও কথা বলবেন বাইডেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারোনা বিশ্বে টিকার সমন্বয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা ইস্যু বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা যায়।

ইকমার্সের প্রতারণার ফাঁদ
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ, ধামাকার মতো ইকমার্স প্রতিষ্ঠানের নিত্য নতুন প্রতারণার ফাঁদে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ গ্রাহক টাকা দিয়েও তাদের পণ্য পাচ্ছেন না। মাসের পর মাস টাকা আটকিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইভ্যালি বিজ্ঞাপনি টুপ দিয়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করে গ্রাহক হয়রানির সুযোগ পেয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান। এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতারণার অভিযোগ থাকায় গোয়েন্দা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শনিবার জানানো হয়, ইভ্যালি-ইঅরেঞ্জের মতো প্রতারক সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। ডিএমপির এ মুখপাত্র বলেন, ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা প্রতারণা করেছে। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না। তারা মূলত প্রতারণা করছে। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে। আমরা চাই সুন্দর একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম ফিরে আসুক। ইভ্যালির পর এবার ধামাকার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকার (ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড) ৬৫০ জন সেলারসহ ৩ লাখ গ্রাহক। ধামাকা শপিং ডটকমে উদ্যোক্তা বা সেলারদের ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই টাকা এখন তারা ফেরত চাচ্ছেন। সেলারদের ওই টাকা ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন ভূক্তভোগীরা। গতকাল শনিবার  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে ধামাকা শপিং ডটকম সেলার অ্যাসোসিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এ আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ধামাকা শপিং ডটকম সেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ধামাকার চেয়ারম্যান ডা. এম আলী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ডি জসিম উদ্দিন চিশতীর কাছ থেকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সেলারদের পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা ফেরতের দাবি করছি। অন্যথায় আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রাহকদের ১ লাখ পণ্য ডেলিভারি বাকি রয়েছে। যা টাকার অংকে ১০০ কোটি টাকা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রাহকদের পণ্য দিয়ে বিল সাবমিট করার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাওনা অর্থ পরিশোধের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ১০ কার্যদিবস এখন ১৬০ দিনেরও বেশি অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এপ্রিল থেকে ধামাকার নির্দেশিত গ্রাহকদের নিকট পণ্য সরবরাহ বাবদ সেলারদের পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। অ্যাসোসিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ধামাকা শপিং ডটকমের চেয়ারম্যানের পরিচালনায় সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেলারদের পাওনা অর্থ ফেরত ও গ্রাহকের পণ্য সরবরাহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সেলার ও ৩ লাখ গ্রাহকের মানবিক দিক বিবেচনা করে ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়াসহ ধামাকা শপিং ডটকম সম্পর্কে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়।

বিশ্ব নেতারা নিউইয়র্কে
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : করোনাকালে গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন হয়নি। এবার ১৯৪টি দেশের বিশ্ব নেতারা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ২৫ দিন পর জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশনে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন। ২০২১ সালের জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশন গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। বিশ্ব নেতারা এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। শহরে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক বিশ্ব নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জু বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তবে কোন বৈঠক হচ্ছে না বলে জানা যায়। এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চাটার্ড ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। করোনা মহামারির পর গত ১৯ মাসে এটাই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৮০ জন সফরসঙ্গী রয়েছেন। এছাড়াও ৫০ জন ব্যবসায়ি রয়েছেন বলে জানা যায়। বিশ্বে করোনা টিকার সমন্বয়, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জলবায়ু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে যাত্রা বিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। গতকাল রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায়) তিনি নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। সুবিশাল জেএফকে বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা দেয়ার জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এখান থেকে তিনি সরাসরি নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ম্যানহাটনে লটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে চলে যাবেন। ৫১তলা বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহি ফাইভ স্টার হোটেলটি জাতিসংঘ প্রধান কার্যালয়ের অতি নিকটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা গতকাল থেকেই হোটেলের আশপাশে আসতে শুরু করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি একটি বড় ইস্যু হিসেবে আলোচনা থাকছে। টিকা নিয়েও আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন কোনো শর্ত ছাড়াই সব দেশের টিকা পাওয়া উচিত। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে পৃথক একটি বৈঠক করে বিনিয়োগের আহবান জানাবেন। কোভিড ইস্যু নিয়ে আলোচনা ছাড়াও ‘কপ ২৬’ অনুষ্ঠানের আগে জাতিসংঘ অধিবেশনে জলবায়ু ইস্যু নিয়েও আলোচনা করা হবে, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ঢাকা বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) চেয়ার। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এবং বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে তাঁর সরকারি সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আগে ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবেন। আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। টিকার নিবন্ধন শেষ করতে হবে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বৈঠক করেন, সেখানেই এসব সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু ও আবাসিক হল খুলতে পারবে। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থবির হয়ে রয়েছে করোনার বিধিনিষেধের কারণে। বর্তমানে দেশে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মোট শিক্ষার্থী সাড়ে ছয় লাখ। তাঁদের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাড়ে তিন লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২৬০টি কলেজে মোট শিক্ষার্থী ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৩ জন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর বড় সাতটি কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন হলে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে। যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাঁদের জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বরের ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য ওই সব শিক্ষার্থীকে জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে দিতে হবে। এরপর ইউজিসি তা স্বাস্থ্য বিভাগকে দেবে। তখন স্বাস্থ্য বিভাগ এর ভিত্তিতে টিকার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর টিকা নিবন্ধনের কাজটি শেষ করতে পারবে, তারা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক টিকা নেওয়ার কার্যক্রম নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হতে পারে। একই নিয়ম কলেজগুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের গতকাল বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে তাদের আবাসিক হল খুলে দিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার একটি ডোজ নেওয়া হয়েছে এবং যাদের ক্যাম্পাসের মধ্যে সুযোগ আছে সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা ও ক্লাসে পাঠদান শুরুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৈঠক থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে সিদ্ধান্ত নেবে একাডেমিক কাউন্সিল। তবে ২৭শে সেপ্টেম্বরের আগে সব শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রশন করতে হবে। ২৭শে সেপ্টেম্বরের পর কর্তৃপক্ষ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারবে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল বৈঠক করে খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ভিড় জটলায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল সোমবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যাপিঠে আসতে পেরে আনন্দিত। অনেকে এখনো স্কুলে আসেনি। কিছু কিছু অভিভাবক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারপর সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। তবে অধিকাংশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে অভিভাবকদের গাদাগাদি ভিড় কোন প্রতিষ্ঠানই এখন আর সামলাতে পারছে না। একজন শিক্ষার্থীর সাথে একাধিক অভিভাবক আসছেন। তাতে স্কুল গেইটে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে জটলা ও ভিড় করার কারণে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কুল খুলার প্রথমদিন থকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সরকারীভাবে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে স্কুল আবার বন্ধ করে দেয়া হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিল, বাসাবো, আজিমপুর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীর চাইতে অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি সংঘন করছেন। অধিকাংশই কোন মাস্ক ব্যবহার করছেন না। স্কুল গেইটে দীর্ঘ সময় ধরে তারা জটলা পাকিয়ে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়েও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলে এই প্রতিবেদককে জানান। ছুটির আগে থেকেই অতি উৎসাহি এক শ্রেণীর অভিভাবকদের ভিড়, ঠেলাঠেলি দেখে অভিভাবকদের অন্য একটা অংশ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁরা বলছেন, স্কুলে পাঠাতে ও স্কুলের ভেতরে যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে, স্কুলের বাইরে বেরোলেই তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর ফলে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে। মূলত ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়ে আসার সময় এবং স্কুল ছুটির পর বাসায় পৌঁছাতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সরকারী বেশ কিছু নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মানছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও মাস্ক ব্যবহার করছেন। তবে স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে গেলে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে দেখা যাচ্ছে না। সেখানে ভিড় ঠেলাঠেলিতে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে বলে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, রোববার স্কুল শুরুর প্রথম দিনে গড় উপস্থিতি ছিল ৭৫ শতাংশ। গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৭৪ শতাংশ। স্কুলে ঢোকার সময় তাপমাত্রা মাপা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং দূরত্ব রেখে আসনে বসানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। গতকাল তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির ক্লাস হয়। এই স্কুলে আসার পর কোনো বাচ্চার শরীরে তাপমাত্রা বেশি বা অসুস্থ হয়েছে, এমনটি গত দুদিনে পাওয়া যায়নি। অসুস্থ থাকলে অভিভাবকেরাই ফোন দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে। স্কুল শুরুর আগে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। তবে স্কুল ছুটির পর মূল ফটকের সামনে অভিভাবকদের জটলা থাকছে। রশি টেনে শিক্ষার্থীদের বের করা হচ্ছে। বিএনসিসি সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও স্কুলের কর্মীরা এসব দায়িত্ব পালন করছেন। তারপর ভিড় উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানা তারা। ‘দীর্ঘ বিরতির পর ক্লাস শুরু হয়েছে বলে তাদের পড়ার চাপ কম দেওয়া হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষার্থী কিছুক্ষণ দম নেওয়ার জন্য মাস্ক খুলে ফেলছে। বলছে অস্বস্তি লাগে। আমরা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি।’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ২৩৩। তবে উপস্থিত ছিল ১৩২ জন। আর পঞ্চম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ২৪৭, উপস্থিত ছিল ১৩৯ জন। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে নিয়ম মানছেন না অভিভাবকরা।

উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীরা
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : করোনা মহামারির কারণে বহুদিন পর আবার বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হলো প্রিয় ক্যাম্পাসে। গতকাল রোববার দীর্ঘ ৫৪৪ দিন পর শ্রেণিকক্ষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলো। বহু স্কুলে তাদের বরণ করে নেয়া হয় ফুল দিয়ে। উৎসবের মধ্যদিয়ে প্রথমদিন স্কুলে প্রবেশ তাদের। জীবনে প্রথম স্কুলে যাবার মতো ঘটনা। এজন্য ঘরে ঘরে ছিলো বাড়তি প্রস্তুতি। বয়স বেড়েছে। আগের ড্রেস ছোট হয়ে গেছে। নতুন ড্রেস বানানো হয়েছে। করোনাকালিন দীর্ঘ দেড় বছরের বিরতির পর আবার মুখরিত হলো প্রতিটি স্কুল। গতকাল রোববার দিনের শুরুতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অনেক এলাকাতেই দেখা গেছে পথে পথে ছেলেমেয়েরা হেঁটে যাচ্ছে দল বেঁধে। কেউ অভিভাবকের সাথে। কেউ সহপাঠীদের সাথে দল বেঁধে। কেউবা একাকী। তাদের পরনে স্কুলপোশাক। পিঠে ব্যাগ। মুখে মাস্ক। রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল, আবদুর রউফ, ভিকারুন্নিসা, আজিমপুর গার্লস স্কুল, বিএএফ শাহীন স্কুলসহ রাজধানীতে ছিলো উৎসবের আমেজ। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ব্যাগ নিয়ে আবার স্কুলে ফিরছে। তাদের চেহারায় ছিল খুশির ঝিলিক, অনেকদিন পর বন্ধু-সহপাঠীদের সাথে দেখা হবার আনন্দ। টেলিভিশনে প্রচারিত সরাসরি সম্প্রচারকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশেই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। স্কুলে প্রবেশের সময় মাস্ক আছে কিনা সেটি যাচাই, না থাকলে বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া এবং শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এছাড়া শ্রেণীকক্ষের ভেতরেও সামাজিক দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীদের ফুল এবং চকলেট দিয়ে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ভিড় এড়াতে অনেক স্কুলেই অভিভাবকদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশে সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল ২০২০ সালের ১৬ই মার্চ। তার পরদিন ১৭ই মার্চ ছিল জাতীয় ছুটি। সেদিন মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী আয়োজনের প্রধান অনুষ্ঠানমালাও হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়লে তার এই যাত্রা বাতিল করা হয় শেষ মুহূর্তে। ১৮ই এপ্রিল ২০২০ থেকে বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি পরবর্তীতে যে পাবলিক পরীক্ষাগুলো হওয়ার কথা ছিল সেগুলোও অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের উপর ভিত্তি করে একটি ফলাফল প্রকাশ করা হয় যাকে ব্যাপকভাবে ‘অটোপাশ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে পরবর্তী দিনগুলোতে। এর পর গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ে দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণীকক্ষে কোন পাঠদান হয়নি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রকাশিত এক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, গত মার্চ মাস পর্যন্ত টানা এক বছর পৃথিবীজুড়ে প্রায় সতের কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দশ কোটি শিশুই ছিল ১৪টি দেশের, যেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিশ্বব্যাংকের এক হিসেব থেকে জানা যায়, ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল চার কোটির কিছু বেশি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পৃথিবীজুড়েই ব্যহত হলেও টানা দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নজির খুব কম দেশেই আছে। অনেক স্কুলে অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি স্বাস্থ্যবিধির অংশ হিসেবে। গত ৩রা সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের সব স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার থেকে মূলত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খুলে দেয়া হচ্ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। তবে, স্কুল খোলার ১৯ দফা শর্ত জুড়ে দেয় সরকার। এসব শর্ত ঠিক মতো পালিত হচ্ছে কিনা বা স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ। সব শর্ত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানের সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাইকে সবসময় মাস্ক পরতে হবে। শিক্ষার্থীদের তিন ফুট শারীরিক দূরত্বে রাখা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার কথা আছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কক্ষে ৫ ফুটের চেয়ে ছোট আকারের বেঞ্চিতে একজন ও এর চেয়ে বড় আকারের বেঞ্চিতে দুজন শিক্ষার্থী বসানো যাবে। স্কুলগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করা ছাড়াও স্কুলে কোভিড সংক্রান্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ হাত ধোয়া, তাপমাত্রা পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করারও শর্ত রয়েছে।

শিক্ষার্থী মুখরিত ক্যাম্পাস আবার
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : করোনার ভয়াবহ অন্ধকারে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ রোববার স্কুল কলেজ খুলছে। এর আগে ভার্চুয়ালি ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে ঘরে থেকে দুর্বিসহ সময় কেটেছে শিক্ষার্থীদের । দীর্ঘদিন অপেক্ষার এবার অবসান হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আজ থেকে দেশের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য। সরকার স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি শুরু হয়। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। নেয়া হতে থাকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সবকিছু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্লাসে তিন ফুট দূরত্ব রেখে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হবে। ছয় ফুটের বেঞ্চে দুজন করে বসানো হবে। সরকারি নিয়ম মোতাবেক প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে। প্রভাতী শিফট সকাল ৮টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় দিবা শিফট শুরু হয়ে সাড়ে ৪টায় শেষ হবে। স্কুলে ১২০ জন শিক্ষক, ২৫ জন কর্মচারী। তাদের মধ্যে চারজন বাদে সবাই টিকার দুটি করে ডোজ নিয়েছেন।’ হাজারিবাগের সালেহা স্কুলে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। বর্তমানে পাঠদান শুরুর জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কেনা হয়েছে সুরক্ষা সামগ্রী। নিয়মিত বিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। করোনা ও ডেঙ্গু থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষক করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সাতজন কর্মচারীর মধ্যে পাঁচজন ভ্যাকসিন নিয়েছেন।’ ‘ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে স্কুলে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিদিন ৯টা থেকে ক্লাস শুরু করা হবে। ক্লাস শুরুর আধঘণ্টা আগে থেকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে।’ গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। মারণ ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ওই বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। বন্যার কারণে সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় স্কুল খুলে দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি বলে জানা যায়।

টুইন টাওয়ার হামলার বিশ বছর আজ
                                  

হাসান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসি হামলার ২০ বছর পূর্তি আজ শনিবার। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই নারকিয় হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিকভাবে ভয়াবহ হামলার পর সারা বিশ্বে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের উত্তর টাওয়ারে সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে প্রথম বিমানটি আঘাত হানে। এর ১৬ মিনিট পর ৯টা ৩ মিনিটে দক্ষিণ টাওয়ারে দ্বিতীয় বিমানটি আঘাত হানে। সে এক নারকিয় দৃশ্য। টেলিভিশন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে এর প্রভাব পড়ে। অফিসগামী মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। দুটি ভবনের হামলার কারণে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আজ শনিবার এই দিনটিকে গভীরভাবে স্মরণ করা হচ্ছে আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে। আজ সকাল থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্বজনহারারা তাদের প্রিয়জনের জন্য প্রার্থনা করবেন এখানে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলে ফুলে ভরে উঠবে টুইন টাওয়ার আঙ্গিনা। যারা এই ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে এইটি সৌধ। তাতে নিহতদের সকলের নাম লেখা রয়েছে। প্রিয়জনহারা মানুষ এখানে ফুল দিয়ে তাদের স্মরণ করেন প্রতি বছর। এবারও এর ব্যাতিক্রম হবে না। চারদিকে দেয়ালের মতো দেখালেও এর মধ্যখানে রয়েছে অত্যন্ত গভীর এক ফুয়ারা। সারাক্ষণ ফুয়ারার পানি ঝরছে। এর চারপাশ ঘিরে মানুষ আজকের বিশেষ দিনে ভিড় করবেন। এজন্য সরকারীভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে মানুষের ভিড় এবার আরও বেশি হতে পারে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা দেশটির জন্য যেমন বেদনাদায়ক ঘটনা, তেমনি সারা বিশ্বে তার বিশাল প্রভাব রয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা তখন ধারাবাহিকভাবে চারটি আত্মঘাতী হামলা চালায়। টুইন টাওয়ার সন্ত্রাসী হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ পাঁচজন এখন গুয়ানতানামো কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের বিচার আবার শুরু হতে যাচ্ছে। গত রোববার ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক বিমানবাহিনীর কর্নেল ম্যাথিউ ম্যাককল এ মামলার বিচারকাজ ধীরে শুরু করার ইঙ্গিত দেন। ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এ হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানা যায়। এ হামলার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নামে যুক্তরাষ্ট্র। পরে পাকিস্তানের গোপন আস্তানায় অভিযান চালালে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়।
অন্যদিকে, প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানে যুদ্ধ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে ইতিহাসের দীর্ঘতম এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানা হয়। অবশ্য গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা আবার তালেবানের হাতে যায়। আজ শনিবার তালেবানরা তাদের নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এমন খবর গণমাধ্যমে এসেছে। ৯/১১ হামলা নামে পরিচিত ওই সন্ত্রাসী হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। পরে ২০১১ সালে এসে খোলা হয় আরেকটি তহবিল। সেখান থেকে ৯/১১-এর হামলার জেরে যাঁদের শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে, তাঁদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ‘দ্য সেপ্টেম্বর ১১ ভিকটিম কমপেনসেশন ফান্ড (ভিসিএফ)’ নামের এই তহবিলে সাহায্যের আবেদন এসেছে ৬৭ হাজারের বেশি। ভিসিএফের তথ্য অনুযায়ী, ৬৭ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ আবেদন এসেছে ৯/১১-এর হামলার পরে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। সেদিনের সন্ত্রাসী হামলার কারণে সৃষ্ট নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা কয়েকটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা করে। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে। তৃতীয় উড়োজাহাজটি আক্রমণ করে পেন্টাগনে। আর চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ায়। ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। টুইটারে ৯/১১ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর একটি পোস্টে জানায়, ‘১৯ বছর আগে, ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে, ১০২টি মিনিট চিরদিনের জন্য আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসের ভয়ঙ্কর হামলাগুলোর একটি ৯/১১ তে হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয় হাজার। সন্ত্রাসী ও তাদের দোসরদের মোকাবেলায় ৯/১১ হামলা বৈশ্বিক মনোভাব ও কৌশল বদলে দিয়েছে।
ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে চারটি মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। তাদের মধ্যে দুটি ম্যানহাটনের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে বিধ্বস্ত হয়েছে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে বিধ্বস্ত হয়। আর যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে দুটি ১১০-তলা টাওয়ার ধসে পড়ে। টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপে কমপ্লেক্সের অন্যান্য ভবনগুলোও ভেঙে পড়ে। শান্তিময় বিশ্ব বিনির্মাণে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই।

সাগর ভয়াবহ উত্তাল
                                  

শেখ শামসুদ্দিন রাসেল, পটুয়াখালি : সাগর এখন ভয়াবহ উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। ইলিশের ভরা মৌসুমে জেলেরা নিরাপত্তার জন্য ঘাটে ঘাটে ট্রলার ভিড়িয়ে বসে রয়েছেন। এদিকে যখন সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ তখন তাদের বেকার বসে থাকা। ইলিশ নিয়ে ইতোমধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে উপকূলের মাছের মোকামগুলোতে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাথে যোগ হয়েছে আমাবস্যার জো। ফলে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঢেউয়ের তাণ্ডবে টিকতে না পেরে গত সোমবার সকাল থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর ও মহিপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই তীরে নিরাপদ পোতাশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার মাছ ধরার ট্রলার। স্থানীয় ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ধার দেনা করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায় জেলেরা। এরপর সাগর বক্ষে জাল পাতে তারা। দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত সেই রূপালি ইলিশ। কিন্তু লঘুচাপ এবং আমাবস্যার প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় মরার উপড় খারার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢেউয়ের তাণ্ডব সইতে না পেরে ইতোমধ্যে হাজারো ট্রলার আন্ধারমানিক, রাবনাবাদ, সোনাতলা নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। উড়িষ্যা উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উপকূলীয় অন্ধপ্রদেশ ও এর কাছাকাছি উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় বায়ূচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বাড়তি অংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিম এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এদিকে পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের অবস্থানরত মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া আফিস। আলীপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সভাপতি মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, বর্তমানে সাগর চরম উত্তাল থাকায় হাজার হাজার মাছ ধরা ট্রলার মহিপুর ও আলীপুর ঘাটে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।

বাংলাদেশের উপর ৫ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
                                  

বিবিস/এনডিটিভি : বাংলাদেশের উপর পাঁচ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রবিবার থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ চালু হয়েছে। রবিবারই প্রথমবারের মত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে উড়ে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশের উপর অনেক দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিলেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং অনেকে আবার ভ্রমণের উপর কড়াকড়ি শিথিল করার কথা জানিয়েছে। ১. ভারত : এয়ার বাবল চুক্তির ভিত্তিতে রবিবার থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে রবিবার বিমান চলাচল শুরু হলেও ঢাকা-দিল্লি রুটে বিমান চালু হবে ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও বাংলাদেশের বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করেছে। এছাড়া বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর জন্যও পর্যটন ছাড়া অন্য সব ভিসা চালু করেছে ভারত। তবে ভারতে ভ্রমণ করতে হলেও কোভিড টেস্ট এবং টিকা দেয়ার প্রমাণপত্র দরকার হবে। ২. তুরস্ক : শনিবার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের বিমান চলাচল আবার চালু হওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ঢাকাস্থ তুর্কী দূতাবাস। তবে তুরস্কে যেতে হলে পৌঁছানো পর্যন্ত তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিডের পিসিআর এর নেগেটিভ টেস্টের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যারা তুরস্কে যেতে চায় বা যারা ১৪ দিন ধরে বাংলাদেশে রয়েছে এবং তুরস্কে যেতে চায় তাদের যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত টিকার দুটি ডোজই সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে কোয়ারেন্টিন করতে হবে না, বলা হয়েছে তুর্কী দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে। এসব টিকার মধ্যে রয়েছে, সিনোভ্যাক, বায়োএনটেক, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, সিনোফার্মের টিকার দুটি করে ডোজ। তবে জনসন এন্ড জনসনের টিকার এক ডোজ নেয়ার পর যদি ১৪ দিন পার হয় তাহলে তুরস্কে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। টিকা দেয়া না থাকলে তুরস্কে পৌঁছানোর পর সেখানকার আবাসেই কোয়ারেন্টিন করতে হবে। দশম দিনে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। ফলাফল নেগেটিভ এলে কোয়ারেন্টিন তুলে নেয়া হবে। ১২ বছরের কম বয়সীদের পিসিআর টেস্ট কিংবা টিকা নেয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে না। ফ্লাইট ক্রু, ট্রাক ড্রাইভার বা জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
৩. অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের জরুরি ভিত্তিতে এবং সীমিত আকারে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে তার জন্য বেশ কিছু নিয়মকানুন অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ঢাকাতে থাকা দেশটির হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে।
এতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় যেতে অবশ্যই কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
বিমানে ওঠার আগে ৭২ ঘণ্টা বা তার কম সময়ের মধ্যে করা কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
অন্য কোন দেশে ট্রানজিট নিলে সে দেশের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।
ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে সব যাত্রীকে যেতে হচ্ছে ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে সব যাত্রীকে যেতে হচ্ছে এছাড়া কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলেও অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর সরকারের অনুমোদিত নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
৪. ওমান
টাইমস অব ওমানসহ দেশটির স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ১লা সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের উপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওমান।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন বলা হয়, বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় আরো রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, তানজানিয়া, সুদান, ব্রাজিল, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাজ্য, লেবাননসহ মোট ২৪টি দেশ।
ওমানের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এসব সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, সব ওমানি নাগরিক, বাসিন্দা, ভিসা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা যারা ওমানে গিয়ে অন অ্যারাইভাল ভিসা পাবেন, তারা সবাই ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ওমানে প্রবেশ করতে পারবেন।
তবে সেসময় তাদেরকে কোভিড-১৯ এর কারণে জারি করা সব নির্দেশনা মানতে হবে।
ওমানে পৌঁছানোর পর সেখানে কোভিড-১৯ এর দুই ডোজ টিকা নেয়ার কিউআর কোড সম্বলিত সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। তবে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার পর অবশ্যই ১৪ দিন পার হতে হবে।
এছাড়া কোভিড এর পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলে তাদেরকে কোয়ারেন্টিন করতে হবে না। তবে দীর্ঘ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ওমানের পৌঁছানো পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড টেস্ট করাতে হবে। আর ৮ ঘণ্টার কম দীর্ঘ ফ্লাইট হলে অন্তত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করাতে হবে। যাদের কোভিড-১৯ এর পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকবে না, পৌঁছানোর পর তাদেরকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কোভিড পজিটিভ আসলে তাকে অন্তত ১০ দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে। ওমানে পৌঁছানোর পর পিসিআর টেস্ট করালে তার খরচ ওই ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। তবে ১৮ বছরের কম বয়স হলে তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত
বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার জন্য সব ধরণের ভিসা খুলে দেয়া হয়েছে।
তবে এর জন্য কিছু শর্ত বেধে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকতে হবে। ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরেই পিসিআর টেস্ট করাতে হবে।
তবে বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট করানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় শর্ত পূরণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোন বাংলাদেশি যেতে পারবেন না।
যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আগেই তুলে নিয়েছে। তবে তারা বাংলাদেশকে এখনো লাল তালিকায় রেখেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কেউ যুক্তরাজ্যে গেলে তাকে নিজ খরচে ব্রিটিশ সরকারের তালিকাভুক্ত হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি সংখ্যক যাত্রী যেসব দেশে যাওয়া আসা করে তার মধ্যে মালয়েশিয়ায় গত মে মাস থেকে বাংলাদেশিদের উপর একটি ভ্রমন বলবৎ আছে।
বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের উপর ফিলিপিন্সেরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে রবিবার পর্যন্ত।
তবে এর পর এই নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়বে কিনা সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন বিজ্ঞপ্তি দেয়নি দেশটি।

সংসদীয় নির্বাচনে নতুন আইন
                                  

সংসদ রিপোর্ট : জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিল-২০২১’ নামে নতুন আইন পাস হয়েছে। গতকাল শনিবার আইনমন্ত্রী আইনটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাক্ষর করলেই পাস হওয়া বিলটি কার্যকর হবে। এর ফলে সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই করা যাবে সংসদীয় নির্বাচন। দৈব-দুর্বিপাকে কোনো এলাকার সংসদ নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে বিদ্যমান সীমানায় নির্বাচন হওয়ার বিধান রেখে আইনটি পাস হয়েছে। এর আগে আইনটি পাস না করে কয়েকজন এমপি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য পুনরায় পাঠানোর দাবি জানালে তা কণ্ঠভোটে বাতিল হয়ে যায়।এ আইন কার্যকর হলে ১৯৭৬ সালের ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউয়েন্সিস অর্ডিনেন্স’রহিত হবে। গত ৩ জুন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।পরে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। আইনে নির্বাচন কমিশনকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আইনে নেই। এছাড়াও আইনটি আগে ইংরেজিতে ছিল, এখন তা বাংলায় করা হয়েছে। নতুন বিলে বিদ্যমান আইনের ৮ নম্বর ধারায় একটি উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, দৈব-দুর্বিপাকে বা অন্য কোনো কারণে আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণ করা না গেলে বিদ্যমান সীমানার আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং বাংলায় আইন করতেই মূলত বিলটি আনা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করে বিদ্যমান আইনগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনটি সংস্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়। কিন্তু সেটা হয়নি। পরে বিদ্যমান আইনেই সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। বিদ্যমান আইনের ৮টি ধারার স্থলে নতুন আইনে ৯টি ধারার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ধারাটিতে আইনের অধীনে বিধি প্রণয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে বিধি প্রণয়নের সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইনের ধারা-১-এ একটি নতুন উপধারার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলে আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সংখ্যক সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পুরো দেশকে সে সংখ্যক একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভৌগলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং আদমশুমারির ভিত্তিতে যতদূর সম্ভব বাস্তবভিত্তিক বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। বিলের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, ইসির সীমানা নির্ধারণের বিষয় নিয়ে দেশের কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউয়েন্সিস অর্ডিনেন্স-১৯৭৬ এর কার্যকারিতা লোপ পায়। যার প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে আবশ্যক বিবেচনায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন-২০১৩ দ্বারা অন্যান্য কতিপয় অধ্যাদেশের সাথে এই অর্ডিনেন্সকেও কার্যকর রাখা হয়। পরে সরকার সামরিক শাসনামলে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো সকল স্টেকহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে বাংলায় নতুন আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে অর্ডিনেন্সটির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তা রহিত করে সংশোধনসহ পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত বিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে।’


   Page 1 of 42
     আজকের পত্রিকা
একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা
.............................................................................................
কম মূল্যে বিশ্ববাসিকে টিকা দিন
.............................................................................................
বাংলাদেশের অগ্রাধিকার জাতিসংঘেরও
.............................................................................................
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন
.............................................................................................
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ●︎ ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন বাংলায়
.............................................................................................
ইকমার্সের প্রতারণার ফাঁদ
.............................................................................................
বিশ্ব নেতারা নিউইয়র্কে
.............................................................................................
বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে
.............................................................................................
ভিড় জটলায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে
.............................................................................................
উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
শিক্ষার্থী মুখরিত ক্যাম্পাস আবার
.............................................................................................
টুইন টাওয়ার হামলার বিশ বছর আজ
.............................................................................................
সাগর ভয়াবহ উত্তাল
.............................................................................................
বাংলাদেশের উপর ৫ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
.............................................................................................
সংসদীয় নির্বাচনে নতুন আইন
.............................................................................................
আমেরিকায় সামুদ্রিক ঝড় ও বন্যায় ৪১ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
৬ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
নিরাপত্তা জোন করা হচ্ছে
.............................................................................................
কাবুল বিমানবন্দর ঘেঁষে বিস্ফোরণ
.............................................................................................
কক্সবাজার সাগরে হচ্ছে রানওয়ে
.............................................................................................
সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস
.............................................................................................
টিকার দ্বিতীয় ডোজের সময়সীমা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ
.............................................................................................
পদপিষ্টে ৭ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
শোক বেদনায় স্মরণ
.............................................................................................
সংসদীয় কমিটিতে অসন্তোষ
.............................................................................................
দেশ ছাড়তে জনস্রোত রানওয়েতে
.............................................................................................
আজ জাতীয় শোক দিবস
.............................................................................................
একদিনে করোনায় মৃত্যু ১৯৭ জনের, শনাক্ত ৮,৪৬৫
.............................................................................................
পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ধাক্কা
.............................................................................................
দেশ ফিরলো আগের চেহারায়
.............................................................................................
লকডাউন বুধবার থেকে শিথিল
.............................................................................................
পরীকান্ডে ফেঁসে যাচ্ছে অনেকে
.............................................................................................
মৃত্যু ২২ হাজার ছাড়ালো
.............................................................................................
গণটিকার উদ্যোগ গ্রামগঞ্জে
.............................................................................................
মৃত্যু ২১ হাজার ছাড়ালো
.............................................................................................
করোনা শনাক্তের হার ২৯.৯৭ শতাংশ, মৃত্যু ২৩১ জন
.............................................................................................
পোশাককর্মীরা দুর্ভোগে নাকাল
.............................................................................................
দেশজুড়ে গার্মেন্টসের উত্তাল ঢেউ
.............................................................................................
চাপের মুখে শিল্পকারখানা খোলা
.............................................................................................
সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে পশুরহাট
.............................................................................................
কঠোরতম বিধিনিষেধ ঈদের পর
.............................................................................................
মৃত্যুর মিছিল আর উৎসবের জোয়ার
.............................................................................................
পুরনো চেহারায় ফিরেছে দেশ
.............................................................................................
সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে খুলছে সব
.............................................................................................
৫২ টি কঙ্কাল আর ২ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
আগ্রাসি রূপে করোনার বিস্তার
.............................................................................................
ঠেকানো যাবে কি সংক্রমণ আর মৃত্যু!
.............................................................................................
একদিনে দেড় শতাধিক মৃত্যু
.............................................................................................
সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবী
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop