ঢাকা,মঙ্গলবার,৬ ভাদ্র ১৪২৮,২০,এপ্রিল,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > অসহায় ও ছিন্নমূলদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ   > মেহেরপুরে লকডাউন মানছে না কেউ   > দাগনভূঞায় আয়েশা ডেইরি ফার্মের সফল উদ্যোক্তা তুহিন   > তীব্র তাপদাহে পুুড়ছে বাগাতিপাড়া   > সখীপুরে অবাধে কাটা হচ্ছে টিলা   > ‘লকডাউনের আগে থেকেই শুটিং করছি না’   > ফুটবলার পগবাকে নিয়ে চলচ্চিত্র   > কুড়িগ্রামে বাজারে অগ্নিকান্ড প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি   > কুমারখালীতে বাজার মনিটরিং কমিটির অভিযান   > ভারতে করোনায় একদিনে আক্রান্ত আড়াই লাখ, মৃত্যু দেড় হাজার  

   আজকের পত্রিকা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মামুনুল নাটকিয়ভাবে গ্রেফতার

আরিফুর রহমান শুভ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অনেকটা নাটকিয়ভাবে গতকাল রোববার দুপুরে ২০২০ সালের একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। মামুনুল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় আছেন এমন খবরের ভিত্তিতে তেজগাঁও জোনের পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এর আগে দুই প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ মাদ্রাসার অদূরে সতর্কতামূলক অবস্থানে রাখা হলেও তাদের কোন কাজে আসেনি। মামুনুলকে নিয়ে আসার সময় তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া আর কেউ ছিলো না। তিনি মাদ্রাসা থেকে নেমে তসবিহ হাতে হাঁটতে হাঁটতে গলির মাথায় রাখা পুলিশের ডিসির গাড়ীতে উঠে বসেন। তখন তাকে নিয়ে ডিসি হারুণ শ্যামলিস্থ তার অফিসে চলে যান। এই খবর দ্রুত মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশি বিদেশি অসংখ্য মিডিয়াকর্মীরা তার অফিসে ভিড় করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সম্মেলন করেন। গ্রেফতার নির্বিঘ্ন করার ব্যাপারে পুলিশ কিছু কৌশল অবলম্বন করে। মামুনুলকে খবর দেয়া হয় যে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে এসেছেন। তখন মামুনুল হক তাদের সঙ্গে তার কক্ষে প্রায় আধা ঘন্টা কথা বলেন। এ সময় মাদ্রাসার ছাত্ররা অনেকে উঁকি দিয়ে তা দেখতে থাকে। তবে তারা কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, ‘চারপাশে পুলিশ ঘিরে আছে। আমাদের সঙ্গে চলুন। আমরা আপনার বিষয়টা দেখছি।’ এক সময় মামুনুল তসবিহ হাতে নিয়ে তাদের সঙ্গে বের হয়ে আসেন। গলির মাথায় পুলিশের ডিসির গাড়ী রাখা ছিলো। তিনি এসে তাতে উঠে বসেন। তারপর তাতে শ্যামলিতে পুলিশের ডিসির কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে তাকে মিন্টু রোডের ডিবি অফিসে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে নেয়ার কথা রয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা বেশ কিছুদিন যাবৎ সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডব দেখেছেন। সরকারি স্থাপনাসহ থানায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও একটি ভাঙচুরের মামলা ছিল। আমরা মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলাটির তদন্ত করছিলাম। আমরা কনফার্ম হয়েছি যে, এই মামলার সঙ্গে মামুনুল হক জড়িত। ওই ঘটনা মামুনুল হক জানেন এবং তিনি স্বীকারও করেছেন।’ উপকমিশনার বলেন, ‘এ -২ এর পাতায় দেখুন

মামুনুল নাটকিয়ভাবে গ্রেফতার
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অনেকটা নাটকিয়ভাবে গতকাল রোববার দুপুরে ২০২০ সালের একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। মামুনুল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় আছেন এমন খবরের ভিত্তিতে তেজগাঁও জোনের পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এর আগে দুই প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ মাদ্রাসার অদূরে সতর্কতামূলক অবস্থানে রাখা হলেও তাদের কোন কাজে আসেনি। মামুনুলকে নিয়ে আসার সময় তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া আর কেউ ছিলো না। তিনি মাদ্রাসা থেকে নেমে তসবিহ হাতে হাঁটতে হাঁটতে গলির মাথায় রাখা পুলিশের ডিসির গাড়ীতে উঠে বসেন। তখন তাকে নিয়ে ডিসি হারুণ শ্যামলিস্থ তার অফিসে চলে যান। এই খবর দ্রুত মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশি বিদেশি অসংখ্য মিডিয়াকর্মীরা তার অফিসে ভিড় করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সম্মেলন করেন। গ্রেফতার নির্বিঘ্ন করার ব্যাপারে পুলিশ কিছু কৌশল অবলম্বন করে। মামুনুলকে খবর দেয়া হয় যে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে এসেছেন। তখন মামুনুল হক তাদের সঙ্গে তার কক্ষে প্রায় আধা ঘন্টা কথা বলেন। এ সময় মাদ্রাসার ছাত্ররা অনেকে উঁকি দিয়ে তা দেখতে থাকে। তবে তারা কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, ‘চারপাশে পুলিশ ঘিরে আছে। আমাদের সঙ্গে চলুন। আমরা আপনার বিষয়টা দেখছি।’ এক সময় মামুনুল তসবিহ হাতে নিয়ে তাদের সঙ্গে বের হয়ে আসেন। গলির মাথায় পুলিশের ডিসির গাড়ী রাখা ছিলো। তিনি এসে তাতে উঠে বসেন। তারপর তাতে শ্যামলিতে পুলিশের ডিসির কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে তাকে মিন্টু রোডের ডিবি অফিসে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে নেয়ার কথা রয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা বেশ কিছুদিন যাবৎ সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডব দেখেছেন। সরকারি স্থাপনাসহ থানায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও একটি ভাঙচুরের মামলা ছিল। আমরা মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলাটির তদন্ত করছিলাম। আমরা কনফার্ম হয়েছি যে, এই মামলার সঙ্গে মামুনুল হক জড়িত। ওই ঘটনা মামুনুল হক জানেন এবং তিনি স্বীকারও করেছেন।’ উপকমিশনার বলেন, ‘এ -২ এর পাতায় দেখুন

টানা দ্বিতীয় দিনেও শতাধিক মৃত্যুর বিভীষিকা
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : বাংলাদেশে লকডাউনের চতুর্থ দিনেও করোনা সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মৃত্যু শতাধিক ছাড়ালো। বাংলাদেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে করোনা ঝড় তুলবে। রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকা-ইউরোপের পর করোনা সংক্রমণ বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। গতকাল ভারতে একদিনে ২ লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্তের কথা জানানো হয়। এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বাধিক। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা আকাশ ছুঁয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হয়েছে বেশ কয়েকবার। বাংলাদেশেও শুক্রবার ও গতকাল শনিবার মৃতের সংখ্যা ১০০ পেরিয়েছে। দ্রুতই কোভিড-১৯ মহামারির বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠছে দক্ষিণ এশিয়া। করোনাভাইরাসের নতুন এ মারাত্মক ও ভয়াবহ সংক্রামক ঢেউটির কারণে রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের হাসপাতালগুলো। সামাজিক ব্যবস্থায়ও পড়েছে এর প্রভাব, লাখো মানুষ এরই মধ্যে দারিদ্র্য ও অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়েছে। আইএফআরসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রধান উদয় রেগমি বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলে যে গতিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে তা সত্যিই ভীতিকর। ভারতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী রয়েছে সাড়ে ১৫ লাখের বেশি। গত মাসের চেয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ৫০ গুণ বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।’ বাংলাদেশে গতকাল শনিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ২৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশে মোট সাত লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর মোট সুস্থ হয়েছে ছয় লাখ আট হাজার ৮১৫ জন। করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের চেয়ে বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছে। দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩ হাজার ৪৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৯০৭ জন। গতকাল শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৩টি। করোনা শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১০১ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন ও নারী ৩২ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজার ৬৩৫ জন ও নারী দুই হাজার ৬৪৮ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৯ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৫৮ জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগের দুইজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজন। হাসপাতালে ৯৯ জন ও বাড়িতে দুইজন মারা গেছে। অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সুস্থদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চার হাজার ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৪৬৮ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন, খুলনা বিভাগে ৪৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৩১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮১ জন, সিলেট বিভাগে ৪৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন সুস্থ হয়েছেন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। লকডাউন দিয়ে করোনার দাপট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে এখন।

করোনায় একদিনে শতাধিক মৃত্যু
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর রেকর্ড গড়লো গতকাল। একদিনে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা আগে আর ঘটেনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে অক্সিজেনের অভাব অর্থাৎ আইসিইউ সংকটকে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে মারা যাচ্ছেন। করোনার ভয়াবহতা সারাদেশে চলছে। তবে শহরে এর প্রকোপ বেশি। গ্রামগঞ্জে এখনো হাটবাজার খোলা। মানুষ মাঠেঘাটে তাদের কাজ করছেন। ঢাকার চিত্র গতকাল শুক্রবার লকডাউনের তৃতীয় দিনে মানুষের চলাচল কম ছিলো। একদিকে রোজার দিন, দ্বিতীয়ত শুক্রবার থাকার কারণে মানুষ ঘর থেকে খুব একটা বের হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন জামে মসজিদের জুমার নামাজে উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে গত একদিনে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় প্রাণ হারালেন মোট ১০ হাজার ১৮২ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৪১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে এসব জানা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৯৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তার আগে সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যা এ যাবতকালে দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৪ হাজার ৪১৭ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৭৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ও বাড়িতে নতুন করে ৫ হাজার ৬৯৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ লাখ ২ হাজার ৯০৮ জন। এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৭০৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ৯০৬টি। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৮টি। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। আর প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে করোনা পরিস্থিতি। কিন্তু এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে।গত বছরে এত মৃত্যুর সংখ্যা দেখেনি দেশ। তবে এ বছরই আক্রান্ত ও মৃত্যু রেকর্ড হারে বাড়তে থাকে।

কঠোর লকডাউন কাল শুরু
                                  

সালেহ আহমেদ জুবায়ের : করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠেকাতে সরকার কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন নিয়মে এবারের লকডাউন কার্যকর হতে যাচ্ছে। এজন্য হাজার হাজার মানুষ আজ মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে যাবেন। গত কয়েকদিন ধরে অনেকে গ্রামমুখি হয়েছেন। এজন্য মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট লেগেই আছে। পবিত্র মাহে রমজান পাশাপাশি কঠোর লকডাউনে মানুষ পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে যাবার পক্ষে। তাদের ধারণা গ্রামে লকডাউনের কোন চিত্র থাকবে না। গতকাল সোমবার রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগির মৃত্যু হয়েছে। যা আগে আর দেশে ঘটেনি। এবারের লকডাউন প্রাথমিকভাবে চলবে ৭ দিন। তবে কলকারখানা খোলা থাকবে। নিজ দায়িত্বে মালিকরা কর্মীদের আনা নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। কাঁচাবাজার খোলা থাকবে সীমিত সময়ের জন্য। বুধবার সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিধিনিষেধগুলো হলো- ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। ২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। ৩. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। ৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্বপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ৫. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন, সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়ত করা যাবে। ৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়, সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। ৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এবারের লকডাউনে শহর কেন্দ্রীক বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আতঙ্ক আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভ্যারিয়েন্ট এখন আতঙ্ক। দ্রুত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই অবনতি হচ্ছে। এই চিত্র ভয়াবহ। ২০২০ সালে এই সময় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছিলো কিন্তু মানুষের মৃত্যুহার এতোটা ভয়াবহ হয়ে উঠেনি। মানুষ তখন করোনা থেকে মুক্তির জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখনকার চেয়ে কঠোরভাবে পালন করেছে। তবে বর্তমান বাজারে মানুষের যে ঢল নেমেছে তাতে করোনার সুনামি চারদিকে ছড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগি ধারনের কোন ব্যবস্থাই আর নেই। একটি আইসিইউ নয় এখন একটি সাধারণ বেড পাবার জন্য মানুষের যে হাহাকার তা না দেখলে বুঝা যায় না। অক্সিজেনের অভাবে আপনজন চোখের সামনে ঢলে পড়ছেন। এমন অবস্থা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কল্পনা করা যেত না। তারপরও প্রতিদিন হাট বাজারে মানুষের ভিড়ে টেকা দায়। প্রয়োজনিয় জিনিসের জন্য ক্রেতাদের ঠেলাঠেলি গাদাগাদি আর মাস্ক না পড়ার প্রবণতায় আইইডিসিআর বলেছে, বাজার এবং পরিবহন থেকে ৬০ শতাংশ করোনার বিস্তার হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে এখন প্রভাব বিস্তার করেছে। বুধবার থেকে কঠোর লকডাউন সফল হলে এর মাত্রা কিছুটা কমতে পারে এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৭৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার ৮১৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে চার হাজার ২১২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯০ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৮ টি ল্যাবে ২৯ হাজার ৩৭৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৯ হাজার ২৯৮ টি। করোনা শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮১। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭৮ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৫৩ জন ও নারী ২৫ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজার ২৭৯ জন ও নারী দুই হাজার ৪৬০ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৪৮ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২০ জন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, খুলনা বিভাগের চারজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও রংপুর বিভাগের একজন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। একটি বেড, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং দু’চোখ ভরা বেঁচে থাকার স্বপ্নই এখন হাসপাতালে বন্দি থাকা মানুষের একমাত্র শান্তনা।

করোনার অশনি সংকেত
                                  

সালেহ আহম্মেদ জুবায়ের : সরকারী তরফ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করার পরও মানুষ ঈদের বাজার সারতে এখন ব্যস্ত। শপিং মলগুলোতে ভিড়। অনেকস্থানে লাইন ধরে ভেতরে ঢুকছে ক্রেতারা। আবার দীর্ঘ লাইনে থেকে হাসপাতালে একটি বেড পাবার জন্য মানুষ দিশেহারা। এই দুই চিত্র এখন নগরবাসির জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, মানুষ নিয়ম না মানার কারণে এখন তাদের মাশুল গুনতে হচ্ছে। সামনে অশনি সংকেত। মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ খালি না থাকায় রোগিরা অসহায় অবস্থায় মারা যাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষে বা আগামী মে মাসের মাঝামাঝি কি চিত্র দাঁড়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান চিত্র অব্যাহত থাকলে অসংখ্য পরিবারে নেমে আসবে মৃত্যুর হিমশিতল বার্তা। হয়তো বাবা নয়তো মা অথবা একান্ত আপনজনকে হারাতে হবে অকালে। ঈদ আসতে এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি। এখনই মানুষ শিশুদের নিয়ে শপিংমলে ভিড় করে ঈদের বাজার সারতে ব্যস্ত। মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়ে ঈদ আনন্দে মেতে রয়েছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের কিছু মানুষ। তাদের কারণেই করোনার বিস্তার দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইউকে বা আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত মানুষের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৬৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও ৫ হাজার ৩৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে তিন হাজার ৮৩৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ২৭৮ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। গতকাল শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৩টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৫ হাজার ১৮৫টি। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭৭ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৫৩ জন ও নারী ২৪ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজার ২২৬ জন ও নারী দুই হাজার ৪৩৫ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২২ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৪৪ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৫১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগের তিনজন, খুলনা বিভাগের দুজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগের একজন ও রংপুর বিভাগের চারজন। এ ছাড়া সবাই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।

কঠোর লকডাউনের পথে দেশ
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : আগামী পহেলা বৈশাখের দিন এবং রোজার প্রথম দিন থেকেই ‘কঠোর’ এক লকডাউনের দিকে যাত্রা করছে দেশ। এমন সিদ্ধান্তে রয়েছে সরকার। সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। বাস্তবতা হচ্ছে, করোনার ভয়াবহতা এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সে তুলনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা হচ্ছে না। গতকাল শপিংমল দোকানপাট খুলে দিলে যে যার মতো চলাফেরা করেছেন। এতে মানুষ বেশি করে সংক্রমিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্যে জরুরি সেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমাদেরকে সর্বাত্মক লকডাউনের দিকে যেতে হচ্ছে। আগামীকাল রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সবকিছুই বন্ধ থাকবে। আশা করছি, দেশের মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি চিন্তা করে যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করবেন। সর্বাত্মক লকডাউন সফল করার বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।’ ফরহাদ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ২০ এপ্রিল পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, করোনার বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গত রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সোমবার থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে সারা দেশে গণপরিবহণ বন্ধ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করে ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এবং বিক্ষোভের মুখে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গত বুধবার থেকে গণপরিবহণ চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই গণপরিবহণ চলার কথা জানানো হয়। বলা হয়, মহানগরের বাইরের কোনো পরিবহণ শহরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং বেরও হতে পারবে না।
এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল শুক্রবার থেকে সারা দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান (শপিং মল) খোলা যাবে। শুক্রবার থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার যাবে বলে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুক্রবার থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।
সবশেষ আজ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানালেন, করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে সিট নেই, রাস্তায়-বাজারে মানুষের ভিড়
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : নগরে নগরে, গ্রামে-বন্দরে করোনার ভয়াবহতা যখন তুঙ্গে তখন গত সোমবার থেকে সাতদিন সারাদেশে ‘লকডাউন’ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের পরিস্থিতি দেখে নগরবাসি মনে করছেন, লকডাউনের কার্যকারিতা শুরুতেই হোচট খেয়েছে। গতকাল সারাদিন বিভিন্ন রাস্তায় ছিলে তীব্র যানজট। মানুষের ওপর মানুষ। ঈদের কেনাকাটার মতো ভিড়। পাশাপাশি মোবাইল টিমের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি, জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সরকার জোর দিয়ে বলেনি এটিই ‘লকডাউন’। গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে করোনায় ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন আক্রান্ত আবার ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেলো। এমন রেকর্ড এবারই প্রথম। এর মধ্যে আজ থেকে সারাদেশে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চালু হচ্ছে। বাজারঘাটে মানুষের ভিড়, বইমেলা, সিনেমা হল খোলা। পাঠাও, উবার বন্ধ ঘোষণা হলেও এখন চলছে ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন নামে। রাজধানীর রাস্তায় যানজট লকডাউনে সবচেয়ে বেড়েছে। কেবল সংকট হাসপাতালে। রোগি ভর্তির কোন উপায় পাচ্ছেন না ভুক্তভোগিরা। সরকারী হাসপাতাল থেকে বেসরকারী হাসপাতাল কোথায় করোনা রোগিকে ভর্তি করানো যাচ্ছে না। কারণ সিট নেই। অক্সিজেন নেই। এই অবস্থায় ঢাকার ফলের বাজার, কাঁচাবাজার, জুতার দোকান, মিষ্টির দোকান কোন কিছুই থেমে নেই। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গতি নিয়েছে করোনা সংক্রমণ। গত বছর (২০২০) করোনা কোন সময়ই এতটা ঊর্ধ্বগতি পায়নি। চিকিৎসকগণ বলছেন, মানুষের বেপরোয়া চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। লকডাউন ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনের মাথায় এসে কার্যত ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। লকডাউনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় গতকাল আবার বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী দোকানদাররা। বনানী, মহাখালী এবং মগবাজার, শাহবাগসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় কার্যত যানজট ছিলো গতকাল। অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন অনেক দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। মিষ্টির দোকান, গাড়ির গ্যারেজ, লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট খোলা দেখা যায়। তবে ঢাকা শহরের বড় মার্কেটগুলো বন্ধ রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত পাবলিক বাস ছাড়া অন্য সব পরিবহন চলাচল করছে রাস্তায়। চট্টগ্রামেও লকডাউনের চিত্র বেশ ঢিলেঢালা। অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন দোকানপাটও খোলা রয়েছে।
লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজশাহী শহরে বেশিরভাগ দোকানপাট খোলা রয়েছে বলে জানান ফটো সাংবাদিক কিরন। তিনি জানান, লকডাউনের প্রথম দিন দোকান খোলা দাবিতে শহরের সাহেব বাজার মোড়ে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করেছিল। শহরের আরডিএ মার্কেটের বেশিরভাগ দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। সিলেটে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে শহরের ব্যবসায়ীরা গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন বলে জানা যায়। ঢাকার বাইরে করোনা এবং লকডাউন এসব নিয়ে কারো কোন চিন্তা নেই। তবে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, সংক্রমণ দিনদিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। কোথায় গিয়ে এবার থামবে তা এখনো বিশেষজ্ঞরা কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

করোনায় একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭০৭৫, মৃত্যু ৫২ জনের
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ৩১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশে নতুন করে আরও সাত হাজার ৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৯৩২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৪ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। গতকাল সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৭টি ল্যাবে ৩০ হাজার ২৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩১ হাজার ৯৭৯টি। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫২ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন ও নারী ১৮ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজার চারজন ও নারী দুই হাজার ৩১৪ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে নয়জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩২ জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রাজশাহী বিভাগের একজন, খুলনা বিভাগের একজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগের একজন ও রংপুর বিভাগের একজন। এ ছাড়া হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন ও বাড়িতে দুইজন।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বাধিক ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

শীতলক্ষ্যায় ২৮ লাশ উদ্ধার
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : লকডাউনের খবরে আতঙ্কিত মানুষ সন্ধ্যার আগে আগে লঞ্চটির যাত্রি হয়েছিলেন। পরে বেপরোয়া ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় শীতলক্ষ্যায় ডুবে যায় । এদিন লঞ্চে অতিরিক্ত মানুষ ছিলো বলে এই প্রতিবেদককে জানান উদ্ধার হওয়া যাত্রি হুমায়ুন। তিনি নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গতকাল সোমবার বাড়ি ফিরেছেন। অধিকাংশ যাত্রীই লকডাউনের কথা শুনে নিজনিজ বাড়ীর দিকে যাত্রা করেছিলেন। পরদিন লকডাউনে আর বাড়ি যাওয়া হবে এমন আশঙ্কা থেকেই শতাধিক যাত্রী হয়েছিলো দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তে। সবারই স্বপ্ন ছিলো পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন লকডাউনের আগেই। কিন্তু তাদের অনেকের আর বাড়ীতে ফেরা হয়নি চিরদিনের মতো। রোববারে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ১৮ ঘন্টা পর শীতলক্ষ্যার তীরে নিয়ে আসার পর তল্লাশি চালিয়ে আরও ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। আরও লাশ নদীতে পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে বলে জানান বিআইডব্লিউটির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সাংবাদিকদের কাছে গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে তীরে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’। তবে কতজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
নৌপুলিশ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক আলম জানান, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের কর্মীরা উদ্ধারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালিয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে আহাজারি করছে। এ ছাড়া কিছু মরদেহ স্রোতে ভেসেও যেতে পারে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, লঞ্চডুবির কারণ জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।
শীতলক্ষ্যা নদীতে ট্যাংকারের ধাক্কায় ‘এম এল ছাবিত আল হাসান’ নামের মুন্সীগঞ্জমুখী একটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর চরসৈয়দপুর এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এএসআই জহিরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। সৈয়দপুর কয়লাঘাট চায়না ব্রিজের সামনে গেলে একটি ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে আল হাসান নামের লঞ্চটি অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান জানান, লঞ্চটি সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পর নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে যায়। পথে এটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এদিকে গতকাল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের তড়িৎ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ছাবিত আল হাসান প্রায় ৫৫ জন যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রিমিয়ার সিমেন্টসংলগ্ন নদীতে এসকে ৩ কোস্টার জাহাজের আঘাতে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ডুবে যায়। এখন নদীর পাড়ে স্বজন হারানোর আহাজারি চলছে। গতকালও অনেকে নদীর ধারে এসেছিলেন তাদের প্রিয়জনতের খোঁজে। তবে তাদের সকলেই ছিলেন হতাশার সাগরে।

করোনায় মৃত্যু ৫৩ জনের, শনাক্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ২৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশে নতুন করে আরও সাত হাজার ৮৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ছয় লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৭০৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৪৮২ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৭টি ল্যাবে ৩০ হাজার ৭২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩১ হাজার ৪৯৩টি। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫৩ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন ও নারী আটজন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ছয় হাজার ৯৭০ জন ও নারী দুই হাজার ২৯৬ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩৪ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের নয়জন, রাজশাহী বিভাগের একজন, রংপুর বিভাগের তিনজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের তিনজন। একজন বাড়িতে, বাকি ৫২ জন হাসপাতালে মারা গেছেন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বাধিক ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

আজ থেকে লকডাউন
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা প্রতিরোধে আজ সোমবার থেকে সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। দেশের অন্তত ৩২ জেলায় করোনার মাত্রা অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন। মারা যাচ্ছেন গত বছরের তুলনা বেশি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকার লকডাইনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় রেল, লঞ্চ, বাস বন্ধ থাকবে। তবে বইমেলা, শেয়ারবাজার, ব্যাংক সীমিত আকারে খোলা থাকবে। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়িরা রাস্তায় বিক্ষোভ করে দোকানপাট খোলা রাখার জন্য। আজ ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গতকাল রোববার সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আগামী সাত দিনের লকডাইনে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরীর সই করা ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগে কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্ত সাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলী, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার অনুবৃত্তিক্রমে আগামী ৫ এপ্রিল ২০২১ ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল ২০২১ রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতিপালনের জন্য নিম্নে উল্লিখিত নির্দেশনা প্রদান করা হলো। আগের নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত নতুন নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-
ক. সকল প্রকার গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, বিদেশগামী বা বিদেশফেরতদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। খ. আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা, যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে। গ. সকল সরকার, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে পারবে। শিল্প-কারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃক শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘ. সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। ঙ. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। চ. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা সশরীরে দোকানে যেতে পারবেন না। ছ. কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। জ. ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। ঝ. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঞ. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

কাল থেকে দেশব্যাপি লকডাউন
                                  

সালেহ আহম্মেদ জুবায়ের : করোনার বিরামহীন সংক্রমণে সরকার সাময়িক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  আগামীকাল সোমবার থেকে তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এই ঘোষণা আসার পর থেকে বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানীর গ্রোসারি দোকানে ভিড় ছিলো সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে চাল, ডাল, মাংস, তেলের বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। নিউমার্কেট সংলগ্ন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ি নেতা ফিরোজ খান ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, দুপুরের পর থেকে বাজারে ক্রেতার ঢল নামে। গাড়ী নিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ গ্রোসারি আইটেম কিনতে থাকে। তিনি জানান, একই অবস্থা রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কারওয়ানবাজারেও চলছে বলে জানতে পেরেছেন। এর কারণে নিত্যপণ্যের ওপর তীব্র একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বেশি পণ্য সকলে ক্রয় করছেন। আজ রোববার বাজারে বিক্রি আরও বেশি হবে বলে ব্যবসায়িরা আশা করছেন। কারণ সোমবার থেকে সারাদেশে লকডাউন শুরু হবার কথা রয়েছে। লকডাউনে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মার্কেট বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানাসহ জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষের চলাফেরা যাতে কমাতে পারি সেজন্য আমরা আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দিচ্ছি। আমাদের জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস, ফায়ার সার্ভিসের অফিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অফিস, সংবাদপত্র অফিস- এই ধরনের অফিস খোলা থাকবে।’ তিনি বলেন, লকডাউনের মধ্যে শিল্পকারখানা খোলা থাকবে, সেখানে একাধিক শিফট করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে শ্রমিকরা কাজ করেন- সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আবার গত বছরের মতো শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার ঢল শুরু হয়ে যাবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। সব ধরনের মার্কেট বন্ধ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষের চলাচল যাতে একেবারে সীমিত করে ফেলা যায় আমরা সেই পদক্ষেপ নেব। কেউ অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারবে না।’ অনেক লোক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আটকে থাকতে পারে, তাদের সেই সুযোগটা দিয়ে একদিন পর লকডাউন দেয়া হচ্ছে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। এদিকে গতকাল বিকেল থেকেই অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ী ফিরতে শুরু করেছেন।

করোনার অবিরাম রেকর্ড
                                  

সালেহ আহম্মেদ জুবায়ের : করোনা আক্রান্ত রোগিদের ভিড়ে কোন হাসপাতালে জায়গা নেই। অনেকে রোগিকে ভর্তির জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে ছুটছেন। এসময় অনেকে অক্সিজেনের সংকটে মারা যাচ্ছেন। এই বেদনাময় ঘটনা গত বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে। করোনায় আক্রান্তের হার ভিতিকর অবস্থার দিকে যাচ্ছে। বিরামহীনভাবে করোনার শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। একদিনে দেশে নতুন করে আরও ছয় হাজার ৮৩০ জন জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এটিই একদিনে সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যা। এর আগে বৃহস্পতিবার ছয় হাজার ৪৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। এ নিয়ে দেশে মোট ছয় লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫০ জন মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৪৭৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৬টি ল্যাবে ২৯ হাজার ৩৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩০ হাজার ২৯৩টি। নমুনা শনাক্তের হার শতকরা ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ১১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫০ জন মৃতের মধ্যে পুরুষ ৪০ জন এবং নারী ১০ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় পুরুষ মারা গেছে ছয় হাজার ৮৮৭ জন ও নারী দুই হাজার ২৬৮ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ৩২ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রাজশাহী বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের তিনজন এবং সিলেট বিভাগের দুজন। এ ছাড়া হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৯ জন এবং বাড়িতে একজন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বাধিক ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

অবৈধ বিদেশিদের অপরাধ রাজত্ব
                                  

সালেহ আহম্মেদ জুবায়ের : অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশে অবস্থান করার পর তারা মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ব্যাপারে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তে জানতে পেরেছে । অপরাধে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন প্রমাণ পাবার পর তাদেরকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হয়। পরে নিজনিজ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয় কয়েকবার। তবে তারা নিজেদের কাছে তাদের পাসপোর্ট রাখে না। হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে এমন তথ্যই সাধারণত দেয়। অপরাধে জড়িত অনেকে কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করছে। তারা বাংলাদেশে আসার পর অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের অপরাধ রাজত্ব গড়ে তোলে। আশ্রয় হিসেবে স্থানীয় মেয়েদের লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে। এক পর্যায়ে তাদের মাধ্যমে বিভিন্নজনের তথ্য নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করে এসব বিদেশিরা। এ ক্ষেত্রে মেয়েরা তাদের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার হয় মাত্র। এমন অপরাধির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান, সিআইডির একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে অপরাধে জড়িত প্রায় ৫ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে পাঠাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব অপরাধিরা দেশে এসেই তাদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলে বা পাসপোর্ট অন্য কোথায় পাঠিয়ে দেয়। এসব অপরাধিদের কারাগারে রাখাও ঝামেলা। তারা অন্যদের নানা অপরাধে জড়াতে উৎসাহিত করে। বছরে পর বছর তাদেরকে কারাগারে রাখতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যা সংশ্লিষ্টদের মোকাবিলা করতে হয়। সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর ঢাকা থেকেই ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ভুয়া ডকুমেন্ট দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অর্ধ শতাধিক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা কার্ড ক্লোন করে ব্যাংক থেকে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে নাইজেরিয়া থেকে আসা মানুষ এ ধরণের অপরাধে জড়িত।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বিদেশি নাগরিক আছে প্রায় ১২ হাজার ৮০৫ জন। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি আছে ভারতীয় ও চীনা নাগরিক। এছাড়া আছে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা। এদের পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদও ফুরিয়ে গেলে তারা অনেকে জড়িয়ে পড়েন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে। অপরাধি মানসিকতা নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসার পর ইচ্ছা করেই নিজেদের পাসপোর্ট গোপন করে ফেলে। তাদের ব্যাপারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে প্রচুর সময় নিয়ে তদন্ত শেষ করতে হয়। তাদের দেশের কোন দূতাবাস না থাকার কারণে কারাগারই হচ্ছে তাদের ঠিকানা। এতে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গেও তারা জড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা তাদেরকে দেশে আসার সময় ভালোভাবে দেখি। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যায়। তখন তদন্ত থেকে শুরু করে প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় তাদের আনতে হয়। এই পর্যায়ে অনেকে বিয়ে করে নিজেদেরকে স্থানীয়দের মধ্যে পরিচিত করে তোলে। সূত্র বলছে, বিদেশি অপরাধীদের বেশিরভাগ অপরাধই প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত। প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত কয়েক মাসে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের অর্ধশতাধিক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ইউক্রেনের ছয় নাগরিক। মানবপাচার, মাদক, চোরাচালান, জাল টাকা ইত্যাদিসহ নানা অপরাধের সঙ্গেও তারা জড়িত বলে জানা গেছে।
শুরুর দিকে এসব আন্তর্জাতিক চক্র ডলার দ্বিগুণ করার নামে প্রতারণা করত। কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে ‘উপহার’ পাঠানোর নামে এবং ফেসবুকে অন্যের আইডি হ্যাক করে সেখানে থাকা বন্ধু তালিকার লোকজনকে ফাঁদে ফেলেও প্রতারণা করছে। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১২ বিদেশিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা সবাই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
তাদের অনেকের সাজা শেষ হলেও ডকুমেন্ট না থাকার কারণে নিজনিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা।

দুদক নিজেই এবার কাঠগড়ায়
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই বিধান। কিন্তু অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে একএক করে ছেড়ে দেয়া বা দায়মুক্তি দিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুদকের বিরুদ্ধে। দায়মুক্তির তথ্য প্রকাশ হবার পর উচ্চ আদালত আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে কাদেরকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে তাদের তালিকা, পরিচয় জানতে চেয়েছেন। দুদক এখন ব্যস্ত রয়েছে মামলার অভিযোগ থেকে যাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে তাদেরকে আবার সামনে নিয়ে আসার জন্য। এই তালিকা নিয়ে দুদককে এবার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। উচ্চ আদালতই সিদ্ধান্ত নেবেন কি কারণে বা কোন নিয়মে কয়েক ডজন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা না নিয়ে ‘খালাস’ দিয়ে বা দায়মুক্তির সনদ দিতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও এই তালিকার বিষয়ে তথ্য দিতে হতে পারে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ স্বর্ণ চোরাকারবারি, কাস্টমস কমিশনার, রাজউকের প্রকৌশলী, কয়েকটি ব্যাংকের এমডি, সরকারী সিনিয়র কর্মকর্তা, গণপূর্তের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের ৬ জন প্রকৌশলী, তিতাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা, রাজউকের সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ বড় একটি তালিকার ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক। এই কাজের জন্য দুদকের সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদকে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে কর্মকর্তারা দেখেছেন বলে জানা গেছে। তার সময়ে বিভিন্ন সরকারী দফতরে নিয়োগ জালিয়াতির মতো ঘটনাও দুদক ধামচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অযোগ্যদের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারী চাকরিতে সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আদালতে দুদক থেকে মামলার চার্জশিট দেয়ার পর তা আবার প্রত্যাহার করার মতো ভয়াবহ অনিয়মও ঘটেছে এই প্রতিষ্ঠানে। এর ফলে অপরাধীরা দিনে দিনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। সদ্য অবসরে যাওয়া দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজের সিদ্ধান্তে আদালতে জমা দেয়া চার্জশিট প্রত্যাহার করে তা আর কোনদিন দাখিল না করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে এখন দুদকেই আলোচনা জমে উঠেছে। কারণ এই সকল আইন বিরুদ্ধ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের সামনে আদালতের মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। সাবেক চেয়ারম্যানের সময়ে বিগত ৫ মাসে দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কতজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন শুধু সেই তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ডিভিশন বেঞ্চ এ তালিকা চান। পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। জমার সেই সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছে। সূত্রে জানা গেছে, যে সকল প্রভাবশালীকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে তারা আসলেই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নন কিনা তা আদালতে তথ্য প্রমাণ দিতে হবে এবার দুদককে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদেন ‘তথ্য প্রমাণ’ আদালতে জমা দিতে আদেশ দেয়া হয়েছে। আদেশের বিষয়ে ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, গত ৫ মাসে কতজনকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন তার একটি তালিকা বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে চেয়েছেন আদালত।


   Page 1 of 36
     আজকের পত্রিকা
মামুনুল নাটকিয়ভাবে গ্রেফতার
.............................................................................................
টানা দ্বিতীয় দিনেও শতাধিক মৃত্যুর বিভীষিকা
.............................................................................................
করোনায় একদিনে শতাধিক মৃত্যু
.............................................................................................
কঠোর লকডাউন কাল শুরু
.............................................................................................
আতঙ্ক আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট
.............................................................................................
করোনার অশনি সংকেত
.............................................................................................
কঠোর লকডাউনের পথে দেশ
.............................................................................................
হাসপাতালে সিট নেই, রাস্তায়-বাজারে মানুষের ভিড়
.............................................................................................
করোনায় একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭০৭৫, মৃত্যু ৫২ জনের
.............................................................................................
শীতলক্ষ্যায় ২৮ লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৫৩ জনের, শনাক্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
আজ থেকে লকডাউন
.............................................................................................
কাল থেকে দেশব্যাপি লকডাউন
.............................................................................................
করোনার অবিরাম রেকর্ড
.............................................................................................
অবৈধ বিদেশিদের অপরাধ রাজত্ব
.............................................................................................
দুদক নিজেই এবার কাঠগড়ায়
.............................................................................................
আন্তরিক পরিবেশে হাসিনা-মোদি বৈঠক
.............................................................................................
শান্তি-সমৃদ্ধির দক্ষিণ এশিয়া গড়ুন
.............................................................................................
ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানাই : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
হুজি’র জঙ্গি প্রশিক্ষণে শিশু মাদ্রাসা
.............................................................................................
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে ৬ সমঝোতা স্মারক সই
.............................................................................................
প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘মুজিব চিরন্তন’ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
.............................................................................................
জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণিল সূচনা
.............................................................................................
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী
.............................................................................................
গুলিতে দুইদিনে নিহত ৪৪
.............................................................................................
মিয়ানমারে আরও ৭ লাশ
.............................................................................................
মডেল স্বর্ণার রিমান্ড নামঞ্জুর জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে
.............................................................................................
পাঁচ রাষ্ট্রনেতারা আসছেন
.............................................................................................
প্রেষণের শাসনে দুদক
.............................................................................................
দেশের ইমেজ নষ্ট হলে জামিন নয়
.............................................................................................
‘আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারবা না’
.............................................................................................
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তিতে বাংলাদেশ
.............................................................................................
এপ্রিলে পাপুলের আসনে উপনির্বাচন
.............................................................................................
ভোটার দিবসে কমিশনারের মন্তব্যে সিইসি’র তীব্র প্রতিক্রিয়া
.............................................................................................
১৩ মিনিটে পিকে হালদার পালালেন
.............................................................................................
পার্বত্য ক্যাম্পে পুলিশ থাকবে
.............................................................................................
হাজার কোটি টাকার দলিল
.............................................................................................
অন্যরকম এক রাজধানী
.............................................................................................
যুদ্ধাপরাধিদের তালিকা প্রস্তুত
.............................................................................................
পাপুলের সংসদ আসন বাতিল
.............................................................................................
শূন্য হতে পারে পাপুলের আসন
.............................................................................................
দশ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল
.............................................................................................
এবিটি’র পাঁচ জঙ্গির ফাঁসি
.............................................................................................
সুচির রিমান্ড আরেক দফা বাড়লো
.............................................................................................
গুলাগুলি, হত্যাকান্ড ও সহিংস উত্তাপ
.............................................................................................
মিয়ানমারে বিক্ষোভকারি-পুলিশ সংঘর্ষ
.............................................................................................
দীপনের আট ঘাতকের ফাঁসি
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চান
.............................................................................................
দুদকে ২১ সহস্রাধিক অভিযোগ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop