ঢাকা,সোমবার,১২ আশ্বিন ১৪২৮,২৭,সেপ্টেম্বর,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক   > বাণিজ্য সম্প্রসারণে বৈশ্বিক ভিত্তি বঙ্গবন্ধুর তৈরি করা   > সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তাঁর স্ত্রীর বিচার শুরু   > করোনায় শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২১   > প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন   > একদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা   > রাজবাড়ীতে জন্ম নিবন্ধন তৈরিতে নাজেহাল সনদ গ্রহিতারা   > গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য থাকবে না : এমপি নয়ন   > সোনাইমুড়ীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন   > নন্দীগ্রামে ১৫ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল  

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন

জি এম ফিরোজ উদ্দিন, মণিরামপুর : আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। যারা টেবিলের মাঝখানে হারিকেন রেখে চার পাশে বসে হারিকেনের মিট মিট আলো তে পড়া লেখা করে ছেন তারা আজ অনেক বড় বড় কর্মকর্তা উচ্চপদস্থ সরকারি বেসরকারি লোক। পথিকের পথের সাথী হারিকেন আজ শতভাগ বিদ্যুতায়নের যুগে কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মানুষের নিত্যা সঙ্গী ছিলো যে হারিকেন। যা দিয়ে গ্রাম বাংলার রাতের আঁধার দূরীভৃত হতো তা আজ টর্চ লাইট বা গ্যাস লইট দিয়ে খুজে পাওয়া মুশকিল। এই কেরোসিন তেলের হারিকেন জ্বালিয়ে রাতে কৃষকরা হালচাষ করতে দেখা গেছে। রাতে মাছ শিকার করেছে। তা আর দেখা যায় না গ্রামে। হারিকেন দেখতে কেমন এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম ছেলে মেয়ে রা জাদুঘরে যেতে হবে।হারিকেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের আলোর চাহিদা মিটানো বা অন্ধকার দূর করতে এক সময় গ্রামের মানুষের অন্যতম ভরসা ছিলো হারিকেন। যার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হতো কেরোসিন। যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিলো কেরোসিন। তখনকার সময় এসব জ্বালানি গ্রামঅঞ্চলে রাতে বিয়ে, যাত্রাগান, জারি সারি গান, মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা হতো। হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ীর ওঠানে বা ঘরের বারান্দায় ছাত্র, ছাত্রী রা বসে এক সাথে পড়াশুনা করতো।আবার রাতে খাবার ও খেতো। আজ আধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেছে সেসব। সেই হারিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় হারিয়ে গেছে এক সময়ের রাতের সঙ্গী হারিকেন। কয়েকদশকের বেড়ে ওঠা মানুষের স্মর্তির সাথে জড়িয়ে আছে হারিকেন শব্দ টা কিংবা জ্বলার দৃশ্যটা। জ্বালানোর আগে ঘরের গৃহিনীরা ওটাকে পরিস্কার করে যেনে আলো আরো ভালো পরিস্কার দেখা যায়। এখন অনেকেই চিনতে পারবে না। এই প্রযুক্তিটি। হারিকেন কেবল ঘরকে আলোকিত করবার জন্যই রাখা হতো না অন্ধকারে বাড়ীর বাইরে কোথাও গেলে এই হারিকেন ব্যবহার করা হতো। তখন রাতের সাথী ছিলো হারিকেন। আলোও হতো বেশ। যদি ও এখনকার সাদা আলোর মতো নয়। তখন এই ছিলো বেশ ভালো আলো। যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা জুড়ে আগের মত এখন আর হারিকেনের ব্যবহার দেখা যায় না।দোকান গুলোতে পাওয়া যায় না হারিকেন। ভ্যান গাড়ীতেও মিলছে না হারিকেন। মো আব্দুল মাজিদ গাজি ও মো সদর আলী গাজি বয়স ৭৫/৭৬ ছুই ছুই আমাদের সময় ঐ লম্প,হারিকেন এর ব্যবহার খবে বশীই ছিলো। সব কাজে লাগতো এই হারিকেন। আমাগে সময় কারেন্টের কোন দেখা মিলতো না। তখন আমরা টেলিভিশন দেখতে অনেক দুরে যেতে হতো তাও আবার চার্জ এর ব্যাটারি তে। তারা আরো স্মতিচারন করেন, খুব মনে পড়ে সে সব দিনের কথা যখন ছোট ছিলাম ইলেকট্রনিক যত্রাংশ ছিলো না ঘরে। আমরা পড়তে সন্ধ্যায় বসতাম পাটি নেছে মাঝে রেখে দিতাম তার আলোতে পড়াশুনা করতাম। আলো কম যদি থাকতো তাহলে। বকাবকি করলে মা রান্না ঘর থেকে কুপি বাতি এনে দিতো।আর একটু ঝড়, বৃষ্টি হলে হারিকেন আর কুপির আলো নিভু নিভু করতো। তখন পড়া থেকে বেঁচে যেতাম।রাতে সুবার ঘুমাবার সময় হারিকেন নিভু নিভু করে রাখতেন।যদি কোন কিছু আসে তার জন্য। সে সময় খুব মজা হতো যখন পড়া আর হতো না। সে সময় আমরা বাবা, মা, দাদা, দাদী, ভাই, বোন সভাই এক সাথে খেতাম হারিকেনের আলোতে। তখনকার কথা মনে পড়লে শুধু ই ভালো লাগে কি ভাবে দিন কাটিয়েছি। খুব সুন্দর সময় ছিলো সে সময়। মো রফিক, সহ আরো অনেকেই বলেন ২০০৩/২০০৪ সালের কথা তখনও হারিকেনের আলোয় পড়াশুনা করেছি। বিদ্যুৎ ছিলো কিন্তু যখন লোডশেডিং হতো তখন হারিকেন, কেই বা ল্যাম্প, বা মোমবাতির আলোতে পড়েছি। এস এস সি পরীক্ষা দিতে হবে তার জন্য স্কুলে থেকে পড়তে হবে সেখানেও হারিকেনের আলোতে পড়েছি। কিন্তু সেই হারিকেন, ল্যাম্প বাতী এখন আর সে ভাবে চোখে মেলে না। বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন আমি বিগত দিনে হারিকেন, ল্যাম্প বিক্রয় করেছি কিন্তু এখন আর বিক্রয় নেই বলতে গেলে চলে। হারিকেনের দামছিলো ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পযন্ত বিক্রয় করেছি আর ল্যাম্প ১০/২০ টাকা বিক্রয় করেছি।

হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন
                                  

জি এম ফিরোজ উদ্দিন, মণিরামপুর : আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। যারা টেবিলের মাঝখানে হারিকেন রেখে চার পাশে বসে হারিকেনের মিট মিট আলো তে পড়া লেখা করে ছেন তারা আজ অনেক বড় বড় কর্মকর্তা উচ্চপদস্থ সরকারি বেসরকারি লোক। পথিকের পথের সাথী হারিকেন আজ শতভাগ বিদ্যুতায়নের যুগে কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মানুষের নিত্যা সঙ্গী ছিলো যে হারিকেন। যা দিয়ে গ্রাম বাংলার রাতের আঁধার দূরীভৃত হতো তা আজ টর্চ লাইট বা গ্যাস লইট দিয়ে খুজে পাওয়া মুশকিল। এই কেরোসিন তেলের হারিকেন জ্বালিয়ে রাতে কৃষকরা হালচাষ করতে দেখা গেছে। রাতে মাছ শিকার করেছে। তা আর দেখা যায় না গ্রামে। হারিকেন দেখতে কেমন এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম ছেলে মেয়ে রা জাদুঘরে যেতে হবে।হারিকেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের আলোর চাহিদা মিটানো বা অন্ধকার দূর করতে এক সময় গ্রামের মানুষের অন্যতম ভরসা ছিলো হারিকেন। যার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হতো কেরোসিন। যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিলো কেরোসিন। তখনকার সময় এসব জ্বালানি গ্রামঅঞ্চলে রাতে বিয়ে, যাত্রাগান, জারি সারি গান, মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা হতো। হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ীর ওঠানে বা ঘরের বারান্দায় ছাত্র, ছাত্রী রা বসে এক সাথে পড়াশুনা করতো।আবার রাতে খাবার ও খেতো। আজ আধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেছে সেসব। সেই হারিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় হারিয়ে গেছে এক সময়ের রাতের সঙ্গী হারিকেন। কয়েকদশকের বেড়ে ওঠা মানুষের স্মর্তির সাথে জড়িয়ে আছে হারিকেন শব্দ টা কিংবা জ্বলার দৃশ্যটা। জ্বালানোর আগে ঘরের গৃহিনীরা ওটাকে পরিস্কার করে যেনে আলো আরো ভালো পরিস্কার দেখা যায়। এখন অনেকেই চিনতে পারবে না। এই প্রযুক্তিটি। হারিকেন কেবল ঘরকে আলোকিত করবার জন্যই রাখা হতো না অন্ধকারে বাড়ীর বাইরে কোথাও গেলে এই হারিকেন ব্যবহার করা হতো। তখন রাতের সাথী ছিলো হারিকেন। আলোও হতো বেশ। যদি ও এখনকার সাদা আলোর মতো নয়। তখন এই ছিলো বেশ ভালো আলো। যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা জুড়ে আগের মত এখন আর হারিকেনের ব্যবহার দেখা যায় না।দোকান গুলোতে পাওয়া যায় না হারিকেন। ভ্যান গাড়ীতেও মিলছে না হারিকেন। মো আব্দুল মাজিদ গাজি ও মো সদর আলী গাজি বয়স ৭৫/৭৬ ছুই ছুই আমাদের সময় ঐ লম্প,হারিকেন এর ব্যবহার খবে বশীই ছিলো। সব কাজে লাগতো এই হারিকেন। আমাগে সময় কারেন্টের কোন দেখা মিলতো না। তখন আমরা টেলিভিশন দেখতে অনেক দুরে যেতে হতো তাও আবার চার্জ এর ব্যাটারি তে। তারা আরো স্মতিচারন করেন, খুব মনে পড়ে সে সব দিনের কথা যখন ছোট ছিলাম ইলেকট্রনিক যত্রাংশ ছিলো না ঘরে। আমরা পড়তে সন্ধ্যায় বসতাম পাটি নেছে মাঝে রেখে দিতাম তার আলোতে পড়াশুনা করতাম। আলো কম যদি থাকতো তাহলে। বকাবকি করলে মা রান্না ঘর থেকে কুপি বাতি এনে দিতো।আর একটু ঝড়, বৃষ্টি হলে হারিকেন আর কুপির আলো নিভু নিভু করতো। তখন পড়া থেকে বেঁচে যেতাম।রাতে সুবার ঘুমাবার সময় হারিকেন নিভু নিভু করে রাখতেন।যদি কোন কিছু আসে তার জন্য। সে সময় খুব মজা হতো যখন পড়া আর হতো না। সে সময় আমরা বাবা, মা, দাদা, দাদী, ভাই, বোন সভাই এক সাথে খেতাম হারিকেনের আলোতে। তখনকার কথা মনে পড়লে শুধু ই ভালো লাগে কি ভাবে দিন কাটিয়েছি। খুব সুন্দর সময় ছিলো সে সময়। মো রফিক, সহ আরো অনেকেই বলেন ২০০৩/২০০৪ সালের কথা তখনও হারিকেনের আলোয় পড়াশুনা করেছি। বিদ্যুৎ ছিলো কিন্তু যখন লোডশেডিং হতো তখন হারিকেন, কেই বা ল্যাম্প, বা মোমবাতির আলোতে পড়েছি। এস এস সি পরীক্ষা দিতে হবে তার জন্য স্কুলে থেকে পড়তে হবে সেখানেও হারিকেনের আলোতে পড়েছি। কিন্তু সেই হারিকেন, ল্যাম্প বাতী এখন আর সে ভাবে চোখে মেলে না। বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন আমি বিগত দিনে হারিকেন, ল্যাম্প বিক্রয় করেছি কিন্তু এখন আর বিক্রয় নেই বলতে গেলে চলে। হারিকেনের দামছিলো ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পযন্ত বিক্রয় করেছি আর ল্যাম্প ১০/২০ টাকা বিক্রয় করেছি।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
                                  

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে লাভজনক করতে শনিবার মিলের ট্রেনিং কমপ্লেক্সে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে মিল কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ হুমাযুন কবীর এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিলুফার জেসমিন খান। সভায় অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) হিরন্ময়, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) আনোয়ারুল ইসলাম, শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাওছার, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় শ্রমিক ও কর্মচারীরা চিনিকলটিকে আধুনিকায়ন, উচ্চ ফলনশীল আখের জাত উদ্ভাবন ও উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চিনির মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
এছাড়া সমন্বয়ের নামে বন্ধ মিলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের নতুন করে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে অঙ্গিভুক্ত না করার করার দাবি জানান শ্রমিক কর্মচারীরা।

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য স্বাধীন বাহন পালকী
                                  

জি এম ফিরোজ উদ্দিন, মণিরামপুর : আধুনিক যুগ তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান অবশ্যই মানব সভ্যতার জন্য কল্যাণময়ী। যার বলেই চিকিৎসা, কৃষি, যাতায়াত ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিস্ময়কর এবং গৌরবময় ভূমিকার জন্য মানুষ সভ্যতার ছোঁয়া পেয়েছে। সেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের জনপদে। কিন্তু আধুনিক যুগে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বিজ্ঞান শুধু উপকার করছে না বরং প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে গ্রামিন জনপদ। প্রাচীনকালের অনেক ঐতিহ্য আছে যেগুলো আমাদের ভুলে গেলে চলবে না পরবর্তী প্রজম্মকেও জানানোর প্রয়োজন। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কত কিছুই না পাল্টাচ্ছে পাল্টায় সংস্কৃতি, সভ্যতা। সেই সঙ্গে বদলে যায় মানুষের জীবনধারা। এ পরিবর্তনের রেশ ধরেই হারিয়ে যাচ্ছে সংস্কৃতির সুপরিচিত অনেক পুরনো ঐতিহ্য স্বাধীন বাহন পালকি। মুলত পালকি দেখতে কিছুটা হলেও সিন্ধুকের মতো। সাধারণত তৈরি করা হতো বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কারুকাজ বিশিষ্ট এবং উপরে দেয়া হতো টিনের কারুকার্যময় নিখুঁত ছাউনি। ভিতরে যাত্রীর বসার আসন এবং যাত্রী আরামের জন্য উভয় পাশ্বে ও পিছনে বালিশের ব্যবস্তা রাখা হতো। পালকির উপরাংশের সামনে ও পেছন দিকে মজবুত লম্বা বাঁশ সংযুক্ত থাকতো যাহাতে সামনে পিছনে দুইজন করে চার জন বেহারা মিলে কাঁধে বহন করে চলতে পারেন। সেকালে পালকি ছাড়া বিয়ের বর ও কনের নেওয়ার জন্য বিকল্প কোন বাহনের কথা ভাবাই যেত না। বর বহনের বেলায় এতে বিভিন্ন বাহারি রঙের রঙিন পাতলা কাগজ কেটে সাজানো হতো, যাতে এক পলকে সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। কিন্ত বর বা বৌকে বহন করার সময় পালকির চতুর্দিকে কাপড় দিয়ে ঘেরা থকতো যাতে ভেতরে সহজে দৃষ্টি না পড়ে। আবার কখনওবা জোড়া পালকিতে বর-কনেকে আলাদা বহন করা হতো। বর্তমান বিয়েতে বিভিন্ন ধরনের উন্নত দামী দামী গাড়ির ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি ধনী পরিবারের বিয়েতে হেলিকপ্টার দেখা যায়। তাছাড়া আগেকার দিনে গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গম পথে জমিদার বা মোড়ল মাতব্বররা গন্তব্যে যেতেন পালকি চড়ে। আবার পালকি চড়ে জমিদার ব্রাক্ষণ বা বড়লোকের বাড়ির পার্শ্ব দিয়ে বা ব্যক্তিগত রাস্তা দিয়ে যেতে বিভিন্ন বিধি নিষেধ ছিল। পালকি চড়ে তারা গৌরব ও অহংকার করতো। প্রজা সাধারণ কেউ ভয়ে পালকি চড়ত না, চড়লে কঠিন শাস্তি পেতে হতো। বয়োবৃদ্ধ মাওলানারা ওয়াজ মাহফিলে যেতেন, আবার পীর মুর্শিদরা ভক্ত ও আশেকদের বাড়িতে যেতেন পালকিতে চড়ে। চলাচলের জন্য হিন্দু মুসলিম মহিলারা যেতেন বাবার বাড়ি, শশুর বাড়ি। তাই বর্তমানে আর পালকির কদর নেই বললেই চলে। পালকি আমাদের দেশের জাতী, ধর্ম, বর্ণ সবার কাছে সমান পছন্দনীয় ছিলো। এটি আমাদের দেশের হাজারও বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী একটি বাহন। পালকির কথা মনে হলে এখনও গা শিউরে ওঠে অনেকের। এই সম্পর্কিত অনেক প্রাচীন গান, পুঁথি, কবিতা, প্রবাদ, প্রবচণসহ কিংবদন্তি রয়েছে। তবে পালকি যে একটি ঐতিহ্যবাহী বাহন তা আজও প্রমান পাওয়া যায় বিয়ের কার্ডে পালকি ও বেহারাদের ছবি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।ওই পালকি আজ স্মৃতির অন্তরালে প্রায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাহনটি কাল্পনিক বা রূপকথার কাহিনীর মতোই অনেকটা। বাঙালির হাজার বছরের বাহন পালকি কিছুদিন পর আর দেখা মিলবে না, দেখতে যেতে হবে যাদুঘরে। আর এ বাহনটিকে চেনাতে হলে তাদেরকে যাদুঘরে নিয়ে যাওয়া ছাড়া হয়তো কনো উপায়ান্তর থাকবে না।

মির্জাগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা
                                  

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কামাররা। চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামার তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে কেনাবেচা কম। তাই সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মুখে নেই কোন উচ্ছাস, নেই প্রাণ ভরা হাসি। তারপরও আসন্ন কোরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়াগুলো। ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে এমন ব্যস্ততা। তবে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। কিন্তু পূর্ব পুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে। উপজেলার প্রতিটি কামারশালায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন কামাররা। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে তাদের জিনিসপত্রের কেনা-বেচা বেড়ে যায়। এ থেকে অর্জিত টাকায় সারা বছরের খোরাক জোগাড় করেন। অথচ বছরের বেশিরভাগ সময়ই কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা একপ্রকার বেকার সময় কাটান। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই কোরবানীর ঈদে দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ মৌসুম ঘিরে ভালো আয়-উপার্জন করে থাকেন তারা। তবে এবার হতাশা ঘিরে ধরেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে একেবারেই বেচাকেনা নেই বলা চলে। এখন তাদের আশা কোরবানির সময় ঘনিয়ে আসলে যদি বিক্রি কিছুটা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই থেমে না থেকে একের পর এক জিনিসপত্র তৈরী করে চলেছেন তারা। সুবিদখালী বাজারের গোপাল কর্মকার বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ১৫ থেকে ২০ দিন আগে থেকে দিন–রাত কাজ করতে হতো। কিন্তু লকডাউনে ১৪ দিন দোকান বন্ধ থাকায় দা-বটি কিছুই তৈরি করতে পারি নাই। তাই এখন কাজের চাপ খুব বেশি, বেচাকেনা মোটামুটি। তবে ২-৩ দিনের মধ্যে বেচাকেনা বেড়ে যাবে। তাই দিনরাত পরিশ্রম করে দা-বটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি বানিয়ে রাখছি। প্রতিবছর এ কাজ করে কোরবানিতেই ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন, এতোদিন দোকান বন্ধ রেখে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের খবর নেয়নি। এমনকি সরকারি কোন সাহায্যও আমরা পাইনি। নেপাল কর্মকার বলেন, লকডাউনের কারনে দোকান বন্ধ রাখায় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এখন দোকান খুলছি কিন্তু বেচাকেনা নাই। আর কিছু দিন পর ঈদ।

বীরগঞ্জে কর্মহীন নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পরচুলা শিল্প
                                  

বিকাশ ঘোষ ,বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) : কর্মমুখি হয়ে পড়েছে পিছিয়ে পড়া সুবিধা এবং কর্মহীন নারীরা। তাদের এখন কাজের সন্ধানে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয় না। কাজ কর্মহীন নারীদের খুজছে। গ্রামে গ্রামে পরচুলা তৈরীর কারখানায় কাজ হাজার হাজার নারীরা করছে। অনেক মেয়েরা কম বেতনের কাজ ছেড়ে দিয়ে পরচুলা তৈরীর কারখানায় কাজ নিচ্ছে।দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পরচুলা শিল্পের প্রধান কার্যালয়। প্রধান কার্যালয়ের আওতায় বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ইউনিয়নের কালাপুকুর গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ৭টি, দুলাল মিয়ার ৬টি কারখানা চলছে। এই দুজনের তত্তাবধানে মোট ১৩টি পরচুলা তৈরির কারখানা। কারখানা গুলোতে কাজ করছে ১ হাজার ৮শত নারী শ্রমিক। যারা সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছে। বীরগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পরচুলা বা চুলের ক্যাপ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কারী এই ক্ষুদ্র শিল্পটি গ্রামীণ কর্মহীন নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বিশ্বে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরচুলা বা চুলের ক্যাপের বাজার।কারখানার পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা মেয়েদের এনে প্রশিক্ষন দিয়ে আমাদের কারখানায় কাজ করার উপযোগি করে গড়ে তুলি, কাজ শিখতে একটি মেয়ের সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগে। এ সময়ের জন্য আমরা কোন ভাতা দেইনা । তবে আমাদের কারখানায় কাজ করা কালিন অসুস্থ হলে আমরা চিকিৎসা খরচ দেই। বীরগঞ্জে গড়ে উঠেছে ১৩টি পরচুলা তৈরীর কারখানা । চিনা প্রতিষ্ঠান গুলোর সহযোগিতায় কারখানা গুলোতে মান সম্মত কাজ ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চিন,জাপান সহ মধ্যেপাচ্যের ১০টি দেশের ব্যবসায়িরা বীরগঞ্জ থেকে সরাসরি পরচুলা ক্রয় করছে। উদ্যেগতারা জানান, চিন,জাপান,ভারত, দুবাই,থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর,নেপাল সহ বিভিন্ন দেশে পরচুলার ব্যপক চাহিদা রয়েছে।পপি আকতারের সাথে কথা বলে জানা যায় সে এর আগে দর্জির দোকানে কাজ করতো মাসে ৩ হাজার টাকা পেত, এখানে ঠিকমত কাজ করতে পারলে মাসে ৮হাজার টাকা আয় সম্বব। গোলাপি আকতার ক্লিনিকে কাজ করতো। সে পেতো মাসে ৪হাজার। গোলাপি আরো জনান,এখানে ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের পরচুলা আছে, দ্রুত কাজ করতে পারলে মাসে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকার কাজ করা সম্ভব। উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি বাজারে বাগদাদ পাজা ভাড়া নিয়ে রায়হান হেয়ার ইন্টারন্যাশনালের ১৭৫ জন নারী -পুরুষসহ আরো অনেকেই পরচুলা বা চুলের ক্যাপ তৈরি করে সাফল্য অর্জন করেছে । এব্যাপারে রায়হান হেয়ার ইন্টারন্যাশনালের ব্যাবস্থাপক সাজু ইসলাম জানান,আমরা ছেলে- মেয়েদের এনে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে অবসর সময়ে কাজ করে আয় করে বেশ ভালোই চলছেন তারা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব।

গাংনীর জমিদার বাবু যাবে ঢাকায়
                                  

নুহু বাঙ্গালী, মেহেরপুর : মেহেরপুরের গাংনীর বালিয়াঘাট গ্রামের কৃষক এমিলির পালন করা জমিদার বাবু যাবে ঢাকায়। গরুটি লম্বায় ১১ ফিট আর উচ্চতায় ৫ফিট ৫ ইঞ্চি। ৩১ মণ ওজনের এ গরুর দাম স্থানীয় বাজারে দশ লাখ টাকা হাঁকছেন। তবে এমিলি আসা করছেন ঢাকায় গেলে জমিদার বাবুর দাম হবে অনেক বেশি। এমিলি তিনি পেশায় একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশিপাশি নিজ বাড়িতে গরু পালন করে আসছেন। পশু পালন লাভবান হওয়ায় বাড়ির সাথেই গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। এখানেই বড় হয়েছে রাজা বাবু। বছর দুয়েক আগে দুলাখ বিশ হাজার টাকায় গরুটিকে কিনে আনেন এমিলি। ভাল ভাল খাবার আর ফলমুল খাওয়া অভ্যাস তাই এর নাম রাখা হয় রাজাবাবু। গেল বছর কোরবানির ঈদে কাঙ্খিত মুল্য না পাওয়ায় রাজাবুকে বিক্রি করেনি। এবার ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছেন তিনি। জমিদার বাবুকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাজাবাবু মেহেরপুর জেলার সব চেয়ে বড় গরু বলে দাবী করেছেন এমিলি। জমিদার বাবুকে দেখভাল করেন রাখাল হাবিবুর। তিনি জানান, শঙ্করাইন করা ফিজিয়ান জাতের জমিদারের খাবারের তালিকায় প্রতিদিন থাকে, কাচাঁ ঘাস, গমের ভূষি, ভাত, চিটাগুড় ও শুকনা খড় ও বাজারের আঙ্গুর আপেল ও কলা । বেশ কয়েকবার খাবারের পশাপাশি বেশি গরম পড়লে ২৪ ঘন্টায় চালাতে হয় বৈদ্যুতিক পাখা। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে বড় এই গরুটি দেখতে । আমাদের জমিদার বাবু হইলো জেলার সবচেয়ে বড় গরু। গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তফা জামান বলেন, প্রাকৃতিক ভাবে লালন পালন করা পশুর চাহিদা অনেক বেশি। খামারীদেরকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এবার গরুর দামও পাবেন তারা। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে মেহেরপুরে এবার ২৮ হাজার ৮১০ টি খামারি, ৪৭ হাজার ১৫৫ টি গরু, ৫৭৬ টি মহিষ, ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৭০৬ টি খাসি ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। বতর্মানে জেলায় কোরবানির পশুর লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৮০০ টি।

ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির টেরাকোটা অনন্য নিদর্শন
                                  

বিকাশ ঘোষ, (দিনাজপুর) বীরগঞ্জ : টেরাকোটা অলঙ্কারণের বৈচিত্র্য ইন্দো -পারস্য - ভাস্কর্য কৌশল ও শিল্প মহিমায় বিস্ময় জাগানিয়া ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির কে ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়ে তুলতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সাপেক্ষে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। উত্তর অঞ্চলের রংপুর বিভাগের দিনাজপুরের জেলার কাহারোল উপজেলায় কান্তজীউ মন্দিরটি অবস্থিত। জেলা শহর থেকে মন্দিরে যাওয়ার জন্য ঢেপা নদীর উপর তৈরি হয়েছে সেতু। যদি ওই সেতুটি নির্মাণ করা না হতো তাহালে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে কান্তজীউ মন্দিরটি এক নজর দেখার জন্য দর্শনার্থীদের যেতে হতো। আগে দর্শনার্থী বা পর্যটকরা এসে সেখানে থাকার কোন পরিবেশ ছিল না। সে কারণে মন্দিরের পাশ্বেই নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্য জানাতে রেস্ট হাউজ। দর্শনার্থীদের ইতিহাস- ঐতিহ্য জানাতে নির্মাণ করা হয়েছে মিউজিয়াম। কেনাকাটার সুবিধার্থে স্থাপিত হয়েছে নানা ধরনের রকমারি মার্কেট। উন্নয়ন করা হয়েছে রাস্তা। শুধু তাই নয়,পার্শ্ববর্তী শিবমন্দির ও নতুন করে সংস্কার করে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিনাজপুর -১ (বীরগঞ্জ -কাহারোল) আসনে সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপালের দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় সংস্কার ও উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। দিনাজপুর জেলা শহর হতে প্রায় ২০ থেকে ২১ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর হতে ৭ কিলোমিটার আগে সুন্দরপুর ইউনিয়নে দিনাজপুর - পঞ্চগড় মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেপা নদীর তীরে প্রাচীন টেরাকোটার অনন্য নিদর্শন কান্তজীউ মন্দির অবস্থিত। এব্যাপারে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান জানান,প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় কান্তজীউ মন্দির, নয়াবাদ মসজিদ সংস্কার ও এর আশপাশের স্থাপনা নির্মাণ নিঃসন্দেহে পর্যটন নগরীকে সমৃদ্ধ করেছে। এটি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তবে মন্দিরে আসা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে মন্দিরের পাশে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা।

চলনবিলে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
                                  

সাইফুল্লাহ সরকার, তাড়াশ থেকে : দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলে আসছে বন্যার পানি। এ বিলের নিচু এলাকা সহ মাঠ-ঘাট এখনো তলিয়ে না গেলে ও আসছে বর্ষাকে মোকাবেলা করার জন্য বিলাঞ্চলের মানুষ নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি আসলে বিল অঞ্চলের অনেকেই এই কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেন। কেউ করছেন নৌকা তৈরি, কেউবা আবার করছেন মেরামত। আর এ সব ছোট ছোট নৌকা বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন হাট বাজারে।
চলনবিলের ৯টি উপজেলার অধিকাংশ এলাকাই বন্যা প্রবণ। ফলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় রাস্তা-ঘাট। এ সময় চলাচলের একমাএ মাধ্যম নৌকা ,ডিঙ্গি নৌকা বা তালের ডিঙ্গি। চলনবিলের মানুষ নৌকা দিয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে কাজে লাগায়। তা ছাড়াও চলনবিলের মিঠা পানির মাছ শিকারের জন্য এ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই এ বন্যার মৌ-সুম আসার শুরু থেকেই নৌকা তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা।
বিভিন্ন গাছের কাঠ দিয়ে ১০-১২ হাত নৌকা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২হাজার ৫শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। যা ব্যবহার হয় মাছ শিকার ও অল্প মানুষের পারা পারের জন্য। এ ছাড়াও দুরে ভ্রমন ও কিংবা বেশী মালামাল বহনের জন্য তৈরি করা হয় ডিজেল চালিত শ্যালোর নৌকা বা বড় নৌকা।
তাড়াশের মান্নান নগড় এলাকার নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, আমরা এ নৌকা তৈরির কাজ অনেকটাই বানিজ্যিক ভাবেই করে থাকি। গ্রাহকের কাছ থেকে কাজের অর্ডার নিয়ে কাঠ কিনে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি।
তাড়াশের নওগাঁ হাটের নৌকা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারখানায় তৈরি করা নৌকা কিনেএনে হাটে হাটে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এ ছাড়াও বন্যার সময় চলনবিলে নৌকার চাহিদা প্রচুর। নৌকা ক্রেতা নাদোসৈয়দপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান,বন্যায় নিচু সড়ক ডুবে যায় তাই পরিবারের সদস্যদেও পারাপার করার জন্য ছোট নৌকা ২ হাজার ৬ শ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন।

শরীয়তপুর জেলা পরিষদ যার প্রতিটি স্থানেই নান্দনিকতার ছোঁয়া
                                  

মোঃ হাবিবুর রহমান হাবীব : শরীয়তপুর জেলা পরিষদ ভবনটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের ও পথচারীদের হাতছানি দেয়। শিল্পীর অংকনে রূপচিত্রের মাঝে যেন, কবির কাব্যে কল্পকথা নিয়ে পরস্ফুটিত হয়ে জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। যা দেখলে যেকোন দর্শনার্থীর দৃষ্টিতে শান্তির পরশে জড়িয়ে যাবে হৃদয় ও মন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী সুকদেব বিশ্বাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন মিয়াসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের এ কর্মস্থলে সেবা নিতে আসা মানুষ গুলোর অপেক্ষার সময় কখন যে কেটে যায় নিজেরাই ভুলে যান। কারণ এখানে এসে পেটের ক্ষুদা নিবারন না হলেও হৃদয়ের তৃষ্ণা মিটে যায়। দৃষ্টিনন্দন ভবনের বাহির, ভিতর সর্বত্রই যেন নয়নাভিরাম। একবার এলে মন আর ছেড়ে যেতে চায়না। দেয়ালে জাতির জনকের ফটোগ্রাফির সাথে প্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রোষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের আলোক চিত্র আপনাকে আকৃষ্ট করবেই! আপনি পূর্ব সড়ক বা পশ্চিম সড়ক ধরে ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এলেই ভবনের সৌন্দর্য আপনাকে টেনে নিয়ে আসবে। প্রধান প্রবেশ দ্বারে আসার পরে ফটকের সৌন্দর্য আপনার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবে ভিতরে। যাবার পূর্বে একটু ভিতরেই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক দেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন? না! আপনাকে আর একটু ভিতরে নিয়ে যাবে যার ডাকে সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ, লাল সবুজ পতাকা সেই মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল। এবার জাতির জনকের সৌন্দর্য মন্ডিত ম্যুরাল দর্শন ও তাকে সম্মান জানিয়ে হাতের বামে তাকালেই জেলা পরিষদ পুষ্পকুঞ্জ। যেখানে শতবর্ণের পুস্পে ভরা শাখি আপনাকে জেলা পরিষদের সম্মুখ বাগানে ঘুরতে বাধ্য করবে। বাগানে বাহারী ফুল আর ফল দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? তাহলে নতুন স্থাপিত ফ্লোরা ও তাজমহলের সামনে বসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। এখানে বসলে হৃদয়ে জাগ্রত হবে সম্রাট শাজাহানের অমর প্রেমের নিদর্শন আগ্রার তাজমহলের রূপের কথা। এখানে বসে একটু বিশ্রাম নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন পুকুরের চার পাশ। তাহলে দক্ষিণা হিল্লুল আপনার হৃদয়ে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিবে। ক্লান্ত হয়ে পড়লে আপনি পুকরের দক্ষিণ ঘাটলায় একটু বসেন। শরীয়তপুর জেলা পরিষদে ঘুরতে আসা ভেদরগঞ্জ উপজেলার আবদুল মান্নান ছৈয়াল বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমার জেলায় জেলা পরিষদ ভবন এত সুন্দর, তার ভিতরে বাহিরে সকল দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। পরিপাটি এ ভবনের ক্যাম্পাসটি আরো বেশি সুন্দর।
ডামুড্যা পৌর এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন তিনি বলেন, শিক্ষা, বিনোদন, ইতিহাস ঐতিহ্য সবই এখানে পাবেন। তার জন্য আপনার একটি সুন্দর মন লাগবে। এখানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর স্বপ্নের বাস্তবরূপদানকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উন্নয়নকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্মানিত করা হয়েছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও। জেলা পরিষদের কাছে তিনি প্রত্যাশা রেখে বলেন, হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার স্মৃতি সমূহ যেমন পালকি, গরুর গাড়ী, নৌকা, ঢেঁকি, কাহাইল, মাথাল, কুঁড়েঘর এর প্রদর্শণী রাখলে দর্শনার্থীদের চাহিদার ষোল আনাই পূর্ণ হতো। এগুলো বাস্তব না হলেও কীর্তিম তৈরী করা সম্ভব। যদি এটা করা হয় তবে জেলা পরিষদের রূপ লাবন্য চারিদিকে ছড়িয়ে পরবে। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন মিয়া বলেন, আমার জন্মস্থান শরীয়তপুর হওয়ায় শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রতি আমার দরদ কেন জানি একটু বেশি। এ ক্যাম্পাসটিকে শ্রীবৃদ্ধি করার জন্য স্যারদের সাথে আমিও কাজ করেছি। জেলা পরিষদের রূপকল্প যার প্রয়াস সেই সহকারী প্রকৌশলী সুকদেব বিশ্বাস বলেন, জেলা পরিষদের সৌন্দর্যতা ও নান্দনিকতা আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান স্যারের ও প্রধান নির্বাহী স্যারের রুচিশীল মনের পরিচয়। তাদের চিন্তা চেতনার ফসল আজকে এ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। স্যারদের চিন্তার ফসলই আমি তাদের নির্দেশে বাস্তবায়ন করেছি মাত্র। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন বলেন, পরিবেশ সুন্দর থাকলে মনও ভাল থাকে। আমাদের জেলা পরিষদের সৌন্দর্যের কারণে আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের গতি ফিরে এসেছে। আর আগত সেবা গ্রহিতারা যারা আমাদের এখানে সেবা গ্রহণের জন্য আসেন তারা দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখে বিমোহিত হয়ে যখন বলেন পরিবেশটা সুন্দর, তখনই মনে হয় আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমাদের জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান সাহেব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যগণের সম্মিলিত প্রয়াসেই আমাদের জেলা পরিষদ ক্যাম্পাস ও ভবন সমূহকে দৃষ্টিনন্দন করতে পেরেছি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার বলেন, জেলা পরিষদ ভবন ও কম্পাউন্ডের সৌন্দর্যের জন্য আমি আমার পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের মনের বহিপ্রকাশ বলে মনে করি। আমি বলেছিলাম আমাদের জেলা পরিষদের পরিবেশ সুন্দর করতে হবে। তারা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে আজকের এ অবস্থায় নিয়ে এসেছে। এর জন্য আমি পূর্ববর্তী প্রধান নির্বাহী মোঃ দিদারুল আলম ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন সাহেবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

হালদার বিল পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভবনা
                                  

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হালদার বিল। হতে পারে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভবনাময় স্থান। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় দূর দূরান্ত থেকে বেড়াতে আসছে দর্শনার্থীরা।উদ্যোগ নিলে হতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র। বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। আর নদের উপর রায়পুরা ও শিবপুর উপজেলাকে সংযুক্ত করার জন্য ব্রিজ। শিল্পীর রঙ তুলিতে আঁকা ছবির বাস্তব চিত্র যেন ফুটে উঠেছে এখানে। বিলপাড়ের চারপাশের দৃশ্য আপনাকে ভুলিয়ে দেবে ব্যস্তময় জীবনের কথা। আপনি হারিয়ে যাবেন এর মনোলোভা সুন্দরের ভুবনে। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এমন চমৎকার সৌন্দর্য তৈরি করে দিয়েছেন। একেক ঋতুতে এর বাহারি রূপ উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করার মতো নয়। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে দুপাশের আকর্ষণীয় দৃশ্য অবলোকন করা যায় অনায়াসে চারদিকে গাছ-গাছালি আর পত্র-পল্লব বেষ্টিত গ্রামগুলো কবিদের স্বপ্নেবুনা চির প্রশান্তির আশ্রয়স্থল। বিকেলে এখানকার সৌন্দর্য আরো বেশি আকর্ষণ করে। পাখিদের কলতান, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বৈকালিক উন্মাদনা, গৃহপালিত পশুর অবাধ বিচরণ, প্রকৃতি প্রেমিকদের আনাগোনা, স্নিগ্ধ সমীরণ, জলজ ফুলের আকর্ষণীয় রূপ সত্যিই বিমোহিত করার মতো। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার সীমান্তবর্তী বেলাব-ঢাকা সড়কের পাশে তিন উপজেলার তিনটি মৌজার মিলনস্থলে এ মনোমুগ্ধকর হালদার বিলটি অবস্থিত। জেলার শিবপুর উপজেলার জয়নগর, বেলাব উপজেলার আমলাব আর রায়পুরার মরজাল ইউনিয়নের মৈশারটেক, উজিলাব এবং রাজবাড়ী গ্রামের মাঝখানে সাদা-লাল শাপলায় ঢাকা অপার সৌন্দর্যের এ বিলটি। বিলটি বেলাব উপজেলা থেকে ৪ কিলোমিটার, রায়পুরার মরজাল থেকে ১ কিলোমিটার, শিবপুরের কামারটেক বাস-স্টেশন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
বিলটির ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন পত্নতাত্ত্বিক দুর্গ নগরী ওয়ারী-বটেশ্বর। তাই ঐতিহাসিক আর ভৌগোলিক গুরুত্বের আলোকে এবং সৌন্দর্য পিপাসুদের পিপাসা নিবারণে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ স্থানটিকে একটি বিনোদন পার্ক করার দাবি অনেক আগে থেকেই। বেড়াতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, আমি অনেক দিন ধরে শুনে আসছি আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন পত্নতাত্ত্বিক দুর্গ নগরী ওয়ারী-বটেশ্বররের কথা সেখানেই গিয়েছিলাম যাবার পথে হালদার ব্রীজের এই সুন্দর্য্য আমাকে মুগ্ধ করেছে তাই এখানে বসে একটু সময় পার করছি। এখানকার সৌন্দর্যে আমি অভিভূত। স্থানীয় বাসিন্দা মেহদেী হাসান ভূইয়া জনি বলেনঃ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটকদের আরো আকর্ষন করতে পারে। আর এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে। মো. আবু সিদ্দিক জানান নতুন ব্রিজ হওয়াতে মানুষ এখানে ঘুরতে আসে আশে পাশে যদি কফিশফ অতবা কোন রেস্টুরেন্ট খাকতো তাহলে বিকালে এখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলন মেলা হয়ে উঠতো।

মির্জাগঞ্জে চাই বেচাকেনার হিড়িক
                                  

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : উপকূলীয় জনপদের পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা ও শ্রীমন্ত নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার কৃষক, জেলে ও শ্রমিকদের মাঝে শুরু হয়েছে চাই দিয়ে মাছ ধরার ব্যস্ততা। এ উপজেলায় সাপ্তাহিক হাটের দিন রবিবার ও বুধবারে জমে ওঠে চাই কেনাবেচার হাট।
বর্ষামৌসুমে দেশীয় মাছ উৎপাদনের জন্য মির্জাগঞ্জ উপজেলা অনেক বিখ্যাত। এ উপজেলায় রয়েছে ছোট-বড় ২টি নদী এবং ৩৯ টি খাল । বর্ষা এলেই এ উপজেলার গ্রামের মানুষ চাই, বুছনা ও চড়গড়া, পোলো, কোচ, চল (এ এলাকার মাছ ধরার আঞ্চলিক বিশেষ নাম) ইত্যাদি দিয়ে মাছ ধরার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উপজেলা সদরের সুবিদখালী বাজারসহ ইউনিয়নগুলোতেও সাপ্তাহিক হাটের দিন মাছ ধরার জন্য তৈরি উপকরণ চাই বুছনা ,পলো , চড়গড়া ইত্যাদি বিক্রির ধুম পড়ে। ফলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার এসব উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুবিদখালী বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন রবিবার ও বুধবার জমজমাট হাট বসে। এ উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পাশ্বর্বতী উপজেলা বেতাগী, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকেও ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। কারিকররা ভ্যান ও ট্রলার বোঝাই করে হাটে বিক্রির জন্য এসব উপকরণ নিয়ে আসেন। দূরদূরান্ত থেকে মৎস্য শিকারীরা এসব মাছ ধরার এসব উপকরণগুলো কিনতে আসে এখানে। জিনিসের মান বুঝে চাই প্রতিজোড়া সাড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। সরেজমিনে গতকাল রবিবার সকালে সুবিদখালী হাট ঘুরে দেখা যায়, এ উপজেলার মাধবখালী, কাঁকড়াবুনিয়া, দেউলি, আমড়াঁগাছিয়া, মির্জাগঞ্জ, বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া, জলিশা, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া, ছোটবিঘাই, বড়বিঘাই সহ বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতারা তাদের তৈরি চাই, বুছনা, চড়গড়া ও পলো বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে এ হাটে। সেগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গার জেলে ও পাইকাররা ক্রয় করছে। চাঁই বিক্রি করতে আসা পটুয়াখালীর ছোটবিঘাই ইউনিয়নের রমেশ চন্দ্র বলেন,থপ্রতিটি চাঁই, বুচনা বানাতে (তৈরিতে) যা খরচ হয় বিক্রি করলে তাতে ভালোই লাভ হয়। একজন কারিগর সারা দিনে তিন থেকে পাঁচটি চাই বানাতে পারে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেচাকেনা ভালো হচ্ছে তবে দাম একটু কমথ। হাটে কিনতে আসা মো. রিপন মল্লিক বলেন, ‘চাঁই ও বুচনা পাতলে চিংড়ি, বোয়াল, আইর, বাইম, বাইল্যে, টেংড়াসহ বিভিন্ন রকমের দেশি মাছ ধরা পরে। পরিশ্রমও কম। একবার চাই ও বুছনা পেতে প্রতিদিন সকালে দেখতে হয় মাছ পড়েছে কি-না।

গরমে স্বস্তি পেতে তালের শাঁস
                                  

মোক্তার হোসেন, গাজীপুর : প্রচন্ড তাপদাহে দূরবিসহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তাই তীব্র তাপদাহের মাঝের একটু স্বস্তি পেতে সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মধুমাসের ফল তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে বিক্রেতারা এখন বিক্রি করছে তালের শাঁস। কোন কোন বিক্রেতারা ভ্যান যোগে পাড়া ও মহল্লায় ঘুরেও তাল শাঁস বিক্রি করছেন। উপজেলায় প্রায় কয়েকশত লোক তালের শাঁস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। শ্রীপুর চৌরাস্তার তাল ও ডাব ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতি বছর মধুমাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাইকারী দামে ক্রয় করে বিক্রি করে থাকে । এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে তালের ফলন ভাল হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিটি তাল শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন তার পাঁচ থেকে সাতশত আয় হচ্ছে। সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে পথচারী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তি পেতে ভীড় করছেন তাল শাঁস বিক্রেতাদের কাছে। অনেক সৌখিন ক্রেতারা অনেকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য পীর (এক বোটা) হিসেবে তাল শাঁস ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। দিনমজুর,অটো চালক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি বা পেশার লোকজনই মৌমুসী ফল তাল শাঁস ক্রয় করতে ভীড় করছেন বিক্রেতাদের কাছে।

চরবালুয়া দ্বীপ যেন নোয়াখালীর ছিটমহল
                                  

নোয়াখালী ব্যুরো : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড চরবালুয়া দ্বীপ যেন জেলার একটি ‘ছিটমহল’। অপার সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও সীমানা নির্ধারিত না হওয়ায় কাঙ্খিত উন্নয়নও হচ্ছে না এ জনপদে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের উড়িরচর ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরবালুয়া নিয়ে এ দ্বীপটি গঠিত। তবে উড়িরচর নামেই দ্বীপটি সর্বাধিক পরিচিত। কৃষক ও জেলে এ দুই পেশার মানুষই এখানে বেশি বসবাস করেন। বহমান বামনীয়া এবং মেঘনা নদীর ফলে ভূখণ্ড থেকে এ দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। চলাচলের একমাত্র ব্যবস্থা নদী পারাপার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য এ নদীর ওপর কোনো সেতু নেই। যাতায়াতে নৌকা বা ট্রলারই একমাত্র ভরসা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের দূরত্বে দস্যু কবলিত এ দ্বীপের অবস্থান। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ও প্রশাসনের বিচরণ কম থাকায় জলদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি।
দ্বীপটি ঘুরে দেখা যায়, অতি নিম্নমানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে নেই কোনো স্কুল বা মাদরাসা। শিক্ষার হার তাই এখানে প্রায় শূন্যের কোঠায়। চিকিৎসার জন্য নেই কমিউনিটি ক্লিনিক বা হাসপাতাল। চরবালুয়া দ্বীপ সম্পর্কে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা অজিত রায় বলেন, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী ১০ হাজার ৮৫৮ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দ্বীপে এক হাজার ৭৮টি পরিবারের বসবাস।
দ্বীপের মোট জনসংখ্যা চার হাজার ৪৯৭ জন। র মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৩৪৭ জন ও মহিলা দুই হাজার ১৫০ জন। যা কোম্পানীগঞ্জের মোট জনসংখ্যার এক দশমিক ৭৯ শতাংশ। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. খালেদ বলেন, ২০২০ সালের ২ মার্চ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এ দ্বীপের মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬১ জন। যা সেখানকার জনসংখ্যার মাত্র আট শতাংশ।
যাতায়াতে সমস্যা হলেও কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ ও মৎস্য আহরণে এখানে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ দ্বীপে কৃষি জমির পরিমাণ পাঁচ হাজার ৯২৮ একর। উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মধ্যে ধান, সরিষা, মশুর, তিল, তিশি, মুগ, হেলন, তরমুজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি অন্যতম। বিশেষ করে শশা উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের জন্য এ দ্বীপটি বিখ্যাত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, দ্বীপটির জমি খুবই উর্বর হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণ ধান, ডাল ও সবজি উৎপন্ন হয়। যে কারণে কৃষকদেরকে চাষাবাদে উৎসাহ দিতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদের মাঝে ইউরিয়া, টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট), এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও ডিএপি জিপসাম সার ভর্তুকি ও বীজ দেয়াসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হয়। আবার উৎপাদিত ধান বিক্রিতে সহায়তাও করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষককে কৃষিকার্ড করে দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সেখানে সিডিএসপির প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
স্থানীয় চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, দ্বীপটির সীমানা নির্ধারিত না হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের চরবালুয়া ও সন্দ্বীপের উরির চরের অধিবাসীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ফলে এখানে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিরোধের জেরে গত এক দশকে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে এখানে।
সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্যাটেলমেন্ট অফিস সূত্র জানায়, কাগজে (নকশায়) সীমানা নির্ধারণ করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সরেজমিন সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। করোনা পরস্থিতি স্বাভাবিক হলে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। তখন এ বিরোধ আর থাকবে না।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশের (আরআরএফ) একটি ফাঁড়ি আছে। আবার আমরাও সহায়তা করায় দ্বীপটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের চাইতে অনেক ভালো রয়েছে। তবে দূর্গম পথ হওয়ায় সেখানে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বলেন, চরবালুয়া কোম্পানীগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকার সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। অচীরেই সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।

কাউয়াদিঘি হাওরে ধান কাটা উৎসব
                                  

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার : বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের সোনালি শীষ। তিব্র তাপদাহের মধ্যে পাকা ধান দুলছে বাতাসে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়স্থ কাউয়াদিঘি হাওরের চাতল বিলে বর্গা চাষী পরিন্ড সরকার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বোরো ধান কাটা উৎসব শুরু করেছেন। শিষ দুলানো সোনালী ধান কাটা উৎসবে যোগ দেন ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামিম আহমদ, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশাহিদ আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক চিনু রঞ্জন তালুকদার। সরেজমিন দেখা যায়- কৃষক পরিন্ড সরকার নিজ উদ্যাগে জমি বর্গা নিয়ে মাইলের পর মাইল জুড়ে বোরো ধান রোপন করেছেন। বৈশাখের শুরু থেকেই সেই ধান সোনালী রং ধারণ করছে। এতে বিস্তৃত হাওর এলাকা হয়ে উঠেছে সোনালী রঙয়ের আভা। বিকেলের হালকা বাতাসে কিংবা সকালের সোনালী রোদে দুলছে ধানের সোনালি শিষ। আর সেই ধান সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কাটার মহোৎসব। বৃষ্টির পূর্ভাবাস উপেক্ষা করে ধান কাটছেন। চলছে মাড়াই। কৃষকরা খলাতেই শুকিয়ে নিচ্ছেন ধান। ধান গোলায় ভরে তবেই স্বস্তি তাদের। এ যেন এক অন্য রকম উৎসব। সবুজ শিষের রং লালচে হলেই চোখ-মুখ খুশিতে ভরে ওঠে কৃষকের। প্রস্তুতি শুরু হয় ধান কেটে মাড়াই করার স্থান খলা। র কৃষক পরিন্ড সরকার বলেন- জমি বর্গা চাষ করে ১শত কিয়ার জমির ধান কাটার জন্য ১শত জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা শুরু করলাম। এ বছর প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান- কৃষকের অবস্থা ভালো নয়। ফসলের ন্যায্য মৃল্য না ফেলে কৃষক কৃষি কাজ করতে আগ্রহ হারাবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে সঠিক কৃষককে সরকারি ঋন সহায়তা করার দাবী জানান।৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামিম আহমদ জানান- মনু সেচ প্রকল্প আজ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যে পৌছতে পারেনি। কাশিমপুর পাম্প হাউজ নতুন করে নির্মাণ কাজ হওয়ায় কৃষকরা বোরো ফসল ফলাতে পারছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কৃষকদের স্বার্থে অনেক উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। উচ্চপর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে মানুষ উপকৃত হবে। বর্গাচাষী পরিন্ড সরকারসহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন- কৃষকরা ন্যায্য মৃল্য পায়না। তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের ন্যায্য মুল্য দেওয়ার জোর দাবী জানান।

সুনসান নিরবতায় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি
                                  

লোকমান হাফিজ, গোয়াইনঘাট : বিছনাকান্দি এই নামটি সবার সাথে পরিচিত। হরেক রঙা পাথর ছড়ানো সর্বত্র। মনে হয় যেন পাথরের বিছানা বিছানো। উঁচু উঁচু পাহাড়ের ভাঁজে সবুজের আস্তর। সেই সবুজ পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে এসেছে সরু ঝরনা। কলকল করছে শীতল স্বচ্ছ জলরাশি। আকাশে কখনো ঘোলা মেঘ, কখনো নীলের ছায়া। গোয়াইনঘাট বলতেই যেন পর্যটন নগরী।সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা সরকারি ছুটির দিনে দেখা যেত পর্যটকদের ভীড়। কিন্তু বর্তমানে একদম ব্যতিক্রম। পুরো গোয়াইনঘাট জুড়ে সুনসান নিরবতা। নেই পর্যটকদের গাড়ি বহর। নেই পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভীড়। নেই পর্যটকদের কোলাহল। নীরব নিস্তব্ধ পাথরের জলরাশি এবং শীতল পানি স্তব্ধ হয়ে আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। দ্বিতীয় ধাপে করোনার সংক্রমণ রোধে সিলেটের সব পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণার পর পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ সিলেটের সব পর্যটন স্পট বন্ধের ঘোষণা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম। পরবর্তীতে একই বছরের ১ আগস্ট থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় আবারও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা এলো। পর্যটন স্পটকে ঘিরে যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একদম বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। বেকার হয়ে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হাজারো মানুষ। শতাধিক নৌকার মাঝি-হেলপার অলস সময় পার করছেন। বেকার হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফার। সপ্তাহের অন্যদিনের তুলনায় শুক্রবার এবং শনিবার পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে। মূলত চাকুরিজীবীরা এই দুই দিন বন্ধের হিসেব করে ঘুরতে আসেন।
এই দুই দিন পূর্বাকাশে সূর্য ওঠার সাথে সাথেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকত। কিন্তু, গত শুক্রবারের চিত্রটা একদম ভিন্ন ছিলো। পর্যটনকেন্দ্র ছিল ফাঁকা। আবার দেখা যেত পশ্চিমাকাশে সূর্যাস্তের সাথে সাথে সারি সারি গাড়ি গুলো সালুটিকর বাজার হয়ে শহরে প্রবেশ করত। স্থানীয় মানুষেরা দেখার মধ্যেই আনন্দ অনুভব করত।

গোয়াইনঘাটে চলছে ধান কাটার উৎসব
                                  

লোকমান হাফিজ, গোয়াইনঘাট : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায়। বর্ষার সময় আসতে না আসতেই পাহাড়ী ঢল নেমে চলে আসে বন্যা। প্রতিবছর কৃষকরা বোরো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে যাতে পাকা বোরো ধান নষ্ট না করে। সেজন্য কৃষকরা পাকা ধান কাটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনেক সময় ধান ভাল হলেও নির্ধারিত সময়ে কাটা না শুরু করলে ধানগুলো ঘরে তোলা যায় না। বৃষ্টির পানিতে কিংবা পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় কৃষকদের। তবে এ বছর শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় জমির ধান সহজে কাটা, ঝাড়াই-মাড়াই ও বস্তাবন্দি করার জন্য কৃষিক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনার অংশ হিসেবে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এবার ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের কম্বাইন্ড হারভেস্টার ২০ লাখ সরকার ভর্তুকি দিয়ে ১০ লাখ টাকায় কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী জানান, এ বছর গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৮ হাজার ২শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষাবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৭শ` ৫০ হেক্টরের মতো। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার হেক্টরের বেশি। যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে না পড়তে হয় তাহলে এবার রেকর্ড পরিমাণ ধান পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।
সরকার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষকদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করছে। কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ, বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করছেন। দেশের উন্নয়ন করতে হলে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য কৃষিতে সরকার ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।


   Page 1 of 19
     ফিচার
হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন
.............................................................................................
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য স্বাধীন বাহন পালকী
.............................................................................................
মির্জাগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা
.............................................................................................
বীরগঞ্জে কর্মহীন নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পরচুলা শিল্প
.............................................................................................
গাংনীর জমিদার বাবু যাবে ঢাকায়
.............................................................................................
ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির টেরাকোটা অনন্য নিদর্শন
.............................................................................................
চলনবিলে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
.............................................................................................
শরীয়তপুর জেলা পরিষদ যার প্রতিটি স্থানেই নান্দনিকতার ছোঁয়া
.............................................................................................
হালদার বিল পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভবনা
.............................................................................................
মির্জাগঞ্জে চাই বেচাকেনার হিড়িক
.............................................................................................
গরমে স্বস্তি পেতে তালের শাঁস
.............................................................................................
চরবালুয়া দ্বীপ যেন নোয়াখালীর ছিটমহল
.............................................................................................
কাউয়াদিঘি হাওরে ধান কাটা উৎসব
.............................................................................................
সুনসান নিরবতায় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি
.............................................................................................
গোয়াইনঘাটে চলছে ধান কাটার উৎসব
.............................................................................................
বাগাতিপাড়ায় অস্তিত্ব সংকটে শিমুল গাছ
.............................................................................................
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কোটি টাকার মধু সংগ্রহ
.............................................................................................
খাগড়াছড়িতে তৈরি কোটি টাকার খাট
.............................................................................................
পাখিদের রক্ষায় গাছে গাছে কৃত্রিম হাড়ি স্থাপন
.............................................................................................
রাণীশংকৈলে যত্রতত্র অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দির
.............................................................................................
তালা উপজেলার গ্রামগঞ্জ থেকে হারিকেন বিলুপ্ত
.............................................................................................
মির্জাগঞ্জে দেখা মিললো বিলুপ্তপ্রায় পলাশ গাছের
.............................................................................................
বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঝালকাঠির শঙ্খশিল্প
.............................................................................................
দেওয়ানগঞ্জে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ শিকার
.............................................................................................
পৈত্রিক পেশা ঘোড়া দিয়ে ঘানি ভাঙা
.............................................................................................
বিদেশি পর্যটক আকৃষ্টে পতেঙ্গায় হচ্ছে বিশ্বমানের ট্যুরিস্ট জোন
.............................................................................................
নবীনগরে বিলুপ্তির পথে বাঁশশিল্প
.............................................................................................
মেহেরপুর বিলুপ্তির পথে ঘটকালী প্রথা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যস্ত মৌ-চাষীরা
.............................................................................................
কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে
.............................................................................................
থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের কুটির শিল্প
.............................................................................................
কালের সাক্ষী ৪০০ বছরের বলিয়াদী জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
বরগুনায় নৌকা জাদুঘর
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে এক বাড়িতে ৫০টি মৌচাক
.............................................................................................
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
চৌহালীতে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ
.............................................................................................
ফুরবাড়িতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বি সুজন
.............................................................................................
অতিথি পাখিদের কলরবে মুগ্ধ দিনাজপুরের শেখপুরা ইউনিয়নে ভাটিনা গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
ঐতিহ্য হারাচ্ছে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
জয়পুরহাটে পরিযায়ি পাখির অভয়ারণ্য পুন্ডুরিয়া গ্রাম
.............................................................................................
কাস্তে বানাতে ব্যস্ত মির্জাগঞ্জের কামারা
.............................................................................................
কুমিল্লার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে
.............................................................................................
ফুলবাড়িতে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী
.............................................................................................
অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী
.............................................................................................
জাবি ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা
.............................................................................................
ঝুটের জোড়া তালির কম্বলে নারীদের ভাগ্য বদলে চেষ্টা
.............................................................................................
সুপারি কেনা-বেচায় ভালো দাম পাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে হাসি
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop