ঢাকা,মঙ্গলবার,১৩ মাঘ ১৪২৭,২৬,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বাঁচতে চায় নীলফামারী আতোয়ারা বেগম   > কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে   > টুঙ্গিপাড়ায় সাড়ে ৩৫শ’ পরিবার পাচ্ছেন নিরাপদ পানি   > ধান সংগ্রহে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে : ইউএনও   > সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা বিষয়ক লোক সংগীত ও পথ নাটক   > মেসিবিহীন বার্সেলোনার জয়   > সাতপাকে বাঁধা পড়লেন বরুণ-নাতাশা   > এসএসসির পাঠ্যসূচি কমিয়ে সিলেবাস প্রকাশ   > কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে   > রিমান্ডে পিকে হালদারের তিন সহযোগী  

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে বসবাস দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মনিপুরী সম্প্রদায়।জানাযায় মনিপুরীরা এদেশে আঠারো শ` শতক থেকে বসবাস করে আসছে।তাদের নিজস্ব তাঁত শিল্পে প্রস্তুত শাড়ী কাপড় বাঙালী নারীদের কাছে আজ অতি প্রিয়।শাড়ী প্রত্যেক বাঙালী নারীর সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলে।আর সেই শাড়ী যদি হয় মনিপুরী শাড়ী তাহলে অনুভূতিটা অন্যরকম হয়।তাই শীতকালে বাঙালীদের ঘরে শোভা পায় আরামদায়ক মনিপুরী তাঁতের পোশাক।এ সময়ে নারীদের পরনে থাকে মনিপুরীদের তৈরি তাঁতের শাড়ী ও চাঁদর।গুনগত মানের কারনে বর্তমান সময়ে মনিপুরীদের তৈরি কাপড়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে সহ বহি:র্বিশ্বে।তাদের নারীদের সুখ্যাতি রয়েছে বুনন শিল্পে।কমলগঞ্জের প্রায় ষাটটি গ্রামের শতকরা নব্বই ভাগ মনিপুরী নারী তাঁত শিল্পের সাথে যুক্ত।মনিপুরী কাপড় তৈরির যন্ত্র হলো হস্তচালিত তাঁতের মেশিন।কমলগঞ্জের মনিপুরী এলাকা ঘুরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমপক্সে একটি করে কাপড় বোনার হস্ত চালিত তাঁতের মেশিনে দেখতে পাওয়া যায়।মনিপুরী শাড়ীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাপড় যে রঙের-ই হোক না কেন তার পাড়ের রং হবে গাঢ়। মণিপুরীদের শাড়ীর নকশা তৈরির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পাড়ের নকশাটি হয়ে থাকে ত্রিভুজাকৃতির আর শাড়ীর ভিতরে নকশাটি হয়ে থাকে হালকা সুতায় বোনা লতাপাতা।তারা মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের কাপড় প্রস্তুত করে থাকে। মনিপুরী কাপড় শাড়ী ওড়না বোনা হয় সুতি সুতা দিয়ে।একসময় মনিপুরী শাড়ী শুধু মনিপুরীরাই পড়তো কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মনিপুরী কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এখনকার আধুনিক নারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মনিপুরী শাড়ী চাঁদর ওড়না পরতে পছন্দ করেন। মনিপুরী শাড়ী সব ধরণের অনুষ্ঠানে পরার উপযুক্ত এটি গায়ে হলুদ, মেহেদি অনুষ্ঠান, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদিতে ব্যাবহার করা যায়।বর্তমানে মনিপুরী শাড়ীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এর উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।দেশের প্রায় সব শহরেই এখন মনিপুরী শাড়ী পাওয়া যায়।তাই মনিপুরী তাঁতশিল্পে সরকারি দপ্তর হতে প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা করা হলে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বাজারে মনিপুরী শাড়ীর দাম ছয়শত টাকা থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।তবে কাপড়ের মান ও নকশার ওপর দাম নির্ভর করে।এটি স্হানীয় ভাবে ক্রয় করলে একটু কম দামে পাওয়া যায়।

কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে
                                  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে বসবাস দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মনিপুরী সম্প্রদায়।জানাযায় মনিপুরীরা এদেশে আঠারো শ` শতক থেকে বসবাস করে আসছে।তাদের নিজস্ব তাঁত শিল্পে প্রস্তুত শাড়ী কাপড় বাঙালী নারীদের কাছে আজ অতি প্রিয়।শাড়ী প্রত্যেক বাঙালী নারীর সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলে।আর সেই শাড়ী যদি হয় মনিপুরী শাড়ী তাহলে অনুভূতিটা অন্যরকম হয়।তাই শীতকালে বাঙালীদের ঘরে শোভা পায় আরামদায়ক মনিপুরী তাঁতের পোশাক।এ সময়ে নারীদের পরনে থাকে মনিপুরীদের তৈরি তাঁতের শাড়ী ও চাঁদর।গুনগত মানের কারনে বর্তমান সময়ে মনিপুরীদের তৈরি কাপড়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে সহ বহি:র্বিশ্বে।তাদের নারীদের সুখ্যাতি রয়েছে বুনন শিল্পে।কমলগঞ্জের প্রায় ষাটটি গ্রামের শতকরা নব্বই ভাগ মনিপুরী নারী তাঁত শিল্পের সাথে যুক্ত।মনিপুরী কাপড় তৈরির যন্ত্র হলো হস্তচালিত তাঁতের মেশিন।কমলগঞ্জের মনিপুরী এলাকা ঘুরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমপক্সে একটি করে কাপড় বোনার হস্ত চালিত তাঁতের মেশিনে দেখতে পাওয়া যায়।মনিপুরী শাড়ীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাপড় যে রঙের-ই হোক না কেন তার পাড়ের রং হবে গাঢ়। মণিপুরীদের শাড়ীর নকশা তৈরির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পাড়ের নকশাটি হয়ে থাকে ত্রিভুজাকৃতির আর শাড়ীর ভিতরে নকশাটি হয়ে থাকে হালকা সুতায় বোনা লতাপাতা।তারা মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের কাপড় প্রস্তুত করে থাকে। মনিপুরী কাপড় শাড়ী ওড়না বোনা হয় সুতি সুতা দিয়ে।একসময় মনিপুরী শাড়ী শুধু মনিপুরীরাই পড়তো কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মনিপুরী কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এখনকার আধুনিক নারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মনিপুরী শাড়ী চাঁদর ওড়না পরতে পছন্দ করেন। মনিপুরী শাড়ী সব ধরণের অনুষ্ঠানে পরার উপযুক্ত এটি গায়ে হলুদ, মেহেদি অনুষ্ঠান, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদিতে ব্যাবহার করা যায়।বর্তমানে মনিপুরী শাড়ীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এর উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।দেশের প্রায় সব শহরেই এখন মনিপুরী শাড়ী পাওয়া যায়।তাই মনিপুরী তাঁতশিল্পে সরকারি দপ্তর হতে প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা করা হলে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বাজারে মনিপুরী শাড়ীর দাম ছয়শত টাকা থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।তবে কাপড়ের মান ও নকশার ওপর দাম নির্ভর করে।এটি স্হানীয় ভাবে ক্রয় করলে একটু কম দামে পাওয়া যায়।

থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার
                                  

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর : প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর শীত মেীসুমে অবৈধভাবে পাখি শিকারের অগ্রগতি চলমান থাকলেও এবার মৎস্য নিধন ও বন উজাড়ের ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে।
একসময়ে টাঙ্গুয়ার হাওর সবুজ বৃক্ষের সজীবতা ও পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকলেও এখন এ যেন বিরাণ ভূমি! নেই আগের মতো পাখির পদচারণা, নেই সবুজের সমারোহ। প্রতি বছর শীতের সময় সুদূর সাইবেরিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ পাখি এসে ভিড় জমায় পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত এই টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিন্তু আগত অতিথি পাখিদের নিরাপদে টাংগুয়ার স্বচ্ছ নিশ্বাস নিতে দেয় না হাওরপাড়ের অবৈধ পাখি শিকারীরা। রাতের আঁধারে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শিকারের দল ঝাঁকে ঝাঁকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে অতিথি পাখি নিধন যজ্ঞে। সন্ধ্যা হতে না হতেই এসব দস্যুর দল তীব্র আলোর টর্চলাইট, পাখি মারার হাতিয়ার (স্থানীয় ভাষায়- থুড়ি, মঘা, হাত্তর) ও বস্তা হাতে বেড়িয়ে পড়ে পাখি শিকারে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে সন্ধ্যার পর পাখিরা যখন চোখ বুজে একটু স্বস্থির নিশ্বাস নেয়, ঠিক তখনি প্রকৃতির সৌন্দর্যবর্ধক এসব পাখিদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় শিকারিরা। তীব্র আলোর টর্চলাইট পাখিদের চোখের দিকে তাক করে, ফলে পাখি নড়াচড়া বন্ধ করে দিয়ে একজায়গায় বসে থাকে। এমন সময় শিকারির নৃসংশ আঘাতে জব্দ হয় অতিথি পাখি। এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিনিটি গার্ড ও আনসার সদস্যরা নিচ্ছেন না কোনো যুগান্তকারী পদক্ষেপ। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আনসার বাহিনী ও কমিউনিটি গার্ড সদস্যরা বসে বসে অলস সময় পার করছে। চোখের সামনে হাওরের বৃক্ষ নিধন, মৎস্য নিধন ও পাখি নিধন দেখেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রজাতির বিভিন্ন উদ্ভিদ সহ, মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিযায়ী বিভিন্ন পাখিদের মধ্যে রয়েছে-বেগুনি কালেম, ডাহুক, লেনজা, প্যালাসেস, পানকৌড়ি, গাঙচিল, কিংস্টর্ক, সারস, শঙ্কচিল, মরচেরং ভুঁতি হাস, পিয়ং হাঁস, ভাঁলি হাঁস, ডুবুরি, মৌলভী, তিলা, রামের র্কুরা ও র্বোরাল সহ নানা ধরণের পাখি। এ ব্যাপারে হাওরপাড়ের শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন, বর্তমানে হাওরটি প্রায় অভিভাবক শূন্য। এই হাওরটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, মিলছে না প্রশাসনিক তদারকি। এদিকে হাওরে নিয়োজিত আনসার বাহিনী ও কমিউনিটি গার্ড টিম শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছে। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরের বনায়ন সংরক্ষণে জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার অক্ষুন্ন রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। কমিউনিটি গার্ড সভাপতি মনির মিয়া দায় এরিয়ে বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে হাওরের জন্য যথেষ্ট করছি। আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় যথেষ্ট পেরে উঠছি না। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ এ ব্যাপারে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের কুটির শিল্প
                                  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের কুটির শিল্প বলে খ্যাত বাঁশ বেত শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জেলার জাজিরা, শরীয়তপুর সদরসহ ৬টি উপজেলায় এক সময় বাঁশ বেত শিল্পে ছিলো বিখ্যাত। ডামুড্যা ও জাজিরায় বেতের ডালা, দাড়িপালা, সাজি, সোফাসেট, চেয়ার, টেবিলও ঘর সাজানো সামগ্রী তৈরী হতো। ছিলো দক্ষ ও অভিজ্ঞ বেতের কারিগর। অন্যদিকে জাজিরার মূলনা, জাজিরা, সেনেরচর, জয়নগর, নড়িয়া, রাজনগর, নশাসন, ভোজস্বর, জপসা ইউনিয়নে বাঁশ শিল্পের বিসাল সম্ভার ছিলো। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগরেরা বাঁশ দিয়ে ফলের জালা, চহি, ওড়া, বুক সেলফ, চাঙ্গা, ঝাকা, পালা, ডোল ইত্যাদি তৈরী করতো। যা স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতো। বর্তমানে ডামুড্যায় কিছু বেতের ডালা দেখতে পাওয়া যায়। বেত শিল্পী অনল ঋষি বলেন, আগে বেতের তৈরি জিনিসের চাহিদা ছিলো। বিশেষ করে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ধামা, পাল্লা, পুড়া ইত্যাদির প্রচুর চাহিদা ছিলো। দামও ছিলো কম বেতও পাওয়া যেত সহজেই। কিন্তু বর্তমানে বেত পাওয়া যায় না দামও বেশি তাই উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। বাজারে নতুন নতুন পাল্লা আসায় আমাদের তৈরি পাল্লার চাহিদা নাই। বেত না পাওয়ায় বেতের ফাণিৃচার বানানো ছেড়ে দিয়েছি; যদিও বেতের ফার্ণিচারের চাহিদা এখনও আছে।
গঙ্গানগর, ছাব্বিশ পাড়াসহ জাজিরা নড়িয়া অঞ্চলে এখনো কোন রকম বাঁশ শিল্প টিকে আছে। সেখানে কারিগররা ডালা, ঝাকা, সাজি, মাছ ধরার দোহাইর, চাই, বেড়, পলো ইত্যাদি তৈরি করে। এক সময় এই শিল্পে প্রচুর কারিগর কাজ করত বাঁশের তৈরি দ্রব্য জেলার ভিতরের চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে আর্থিক সংকট থাকায় আমরা বাঁশ কিনতে পারিনা, সিজনের সময় বাঁশ কিনে না রাখলে সারা বছর কাজ করা যায় না। এখনো মাছের ডালা, সাজি, বর্ষায় মাছ ধরার দোহাইর, চাই, বেড় ইত্যাদির চাহিদা আছে। আমাদের মধ্যে পেশা পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বাপ-দাদার পেশায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরেছে। সরকারি ভাবে যদি আমাদের সহযোগীতা করা হয় এবং বাজার সৃষ্টি করে তাহলে আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে সংসার চালাতে পারবো।
এনজিও কর্মী আছমা আক্তার জানান, বাঁশ শিল্প একটি সম্ভাবনা ময় শিল্প। এ শিল্পটি বাঁচিয়ে রেখে এই অঞ্চলকে কুটির শিল্পের নগরী বানানো সম্ভব। কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ এবং নতুন নতুন পন্য তৈরির জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তবে এদর আর্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন। আমরা যে সহযোগীতা করি তা পর্যাপ্ত নয়। আরো বড়ো আকারে আর্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন। এই বাঁশ শিল্প এর পাশাপাশি বেত শিল্পকে সংরক্ষন করা গেলে এই অঞ্চলে বেকারের সংখ্যা কমে আসবে।

কালের সাক্ষী ৪০০ বছরের বলিয়াদী জমিদার বাড়ি
                                  

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের বলিয়াদি জমিদার বাড়িটি। পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর এক মনোরম পরিবেশ এই জমিদার বাড়ি। যে কারোর মন কাড়তে পাড়ে এখানকার বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ।
পিচঢালা পথ হতেই চোখে পড়বে অন্যরকম সুন্দর এই জমিদার বাড়িটি। জমিদার বাড়ির সীমানায় ঢোকার মুখে হাতের ডান পাশে একটি পুকুর পড়বে আর বাম পাশে এক টুকরো খোলা মাঠ। এই মাঠ ধরে একটু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে হাতের বাম পাশের রয়েছে ‘বলিয়াদি ওয়াকফ এস্টেট জামে মসজিদ’। মসজিদটি প্রথম নির্মাণ করা হয় ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু সেই মসজিদটি এখন আর নেই। মসজিদটি পুনঃনির্মিত হয়েছে ১৯৯২ সালে। চার কোনায় চারটি এবং প্রতি বাহু’র মাঝে একটি করে মোট আটটি ছোট্ট মিনার রয়েছে এই একতলা বর্গাকৃতির মসজিদটিতে।
হাতের বাম পাশে মসজিদ রেখে সামনে এগিয়ে গেলে রয়েছে মূল জমিদার বাড়ির ভবন। মসজিদ এর ঠিক সম্মুখভাগে রয়েছে পারিবারিক কবরস্থান। এই কবরস্থান আর মূল ভবনের মাঝে রয়েছে ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বলিয়াদি এস্টেটের ‘হেড অফিস’ তথা ‘সদর দফতর’। যেখান থেকে বলিয়াদি এস্টেটের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান বলে ইংরেজি ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র কালিয়াকৈর থানা, ধামরাই থানা, সাভার থানা এবং বাসাইল থানা নিয়ে বলিয়াদি এস্টেট প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে কালিয়াকৈর থানার নাম ছিল পরগনা তালেবাবাদ। ধামরাই এবং সাভার থানা একসাথে ছিল। যার নাম ছিল পরগনা চন্দ্রপ্রতাপ। অপরদিকে বাসাইল থানার নাম ছিল পরগনা আমেনাবাদ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী এই এস্টেটের দিল্লী মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর কর্তৃক নিযুক্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবেদার নবাব কুতুবুদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র নবাব সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধার ছিলেন।
বর্তমান ডাক সাইটে রাজনীতিবিদ, বিএনপি নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী’র পূর্বপুরুষ হলেন এই বলিয়াদি জমিদারেরা। এই বলিয়াদি জমিদার বাড়ি তার পরবর্তী প্রজন্মের যত্নে আজো ভালো অবস্থায়ই টিকে আছে অন্যান্য জমিদার বাড়ির তুলনায়।
অপূর্ব নির্মাণশৈলীর এই জমিদার বাড়ির মূল পাঁচিলঘেরা অংশে মাঝখানে ত্রিতল জমিদার বাড়ির মূল কাঠামো। মূল বাড়ির ছাদে রয়েছে সফেদ গম্বুজ, যার চারিদিকে প্রতিটি ভিতের মাথায় রয়েছে ছোট ছোট মিনার আকৃতির নকশা। বলিয়াদি অফিসের যে প্রশাসনিক কার্যালয় আছে সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘুরে দেখতে পারেন এর চারপাশ। এর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী আপনার ভালো লাগবে। সামনে সবুজ ঘাসের লনে বসে আপনি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন একটি আনন্দঘন বিকেল। ঘুরতে আসা এক দর্শনাত্রী রাসেল হোসেন জানান, বলিয়াদী জমিদার বাড়ীতে অনেকে পুরাতন ইতিহাস দেখে অতীতকে স্মরণ করে। কালিয়াকৈর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন জানান, যে সব স্থাপত্য নষ্ট হয়েছে সেগুলো সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে আমরা ওই অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের পজেটিভ রিপোর্ট আসলেই আমরা সংস্কারের কাজ করবো।

বরগুনায় নৌকা জাদুঘর
                                  

পারভেজ, বরগুনা : বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনায় জেলা প্রশাসন ভবনসংলগ্ন উকিল বারের পূর্ব পাশে ৭৮ শতাংশ জমিতে ৮১ দিনে জাদুঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর উপলক্ষে ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের নৌকার আদলে নৌকা জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। একশত নৌকার মডেল নিয়ে নৌকা জাদুঘরের পরিকল্পনা করা হলেও আপাতত ৭৫টি নৌকা নিয়ে নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে একটি বড় নৌকা। ভবনটি ৭৫ ফুট গলুই ও ২৫ ফুট করে নৌকার পেটের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের নৌকার মডেল। বড় ছোট খাল-নদী-সাগরে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বিবেচনায় নৌকার প্রকরণ রয়েছে জাদুঘরে। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানিয়েছেন, কালের বিবর্তনে নৌকা এখন খাল-নদী-সাগরে তেমন দেখা না গেলেও বাংলাদেশের এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নৌকা। অবদান রেখেছে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি সংস্কৃতিতে। যুক্তফ্রন্ট থেকে স্বাধীনতা এবং বর্তমান রাজনীতিতে প্রতীক হিসেবে নৌকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বরগুনা বরিশালের অংশ হিসেবে হাজার নদী খাল এমনকি সংশ্লিষ্ট সাগরে এক সময় নৌকার আধিপত্য ছিল। যদিও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোট বের হয়েছে, যা ধীরগতির নৌকার দ্রুত গমন উপযোগী সংস্করণ। এক সময় নৌকা শুধু যানবাহনই নয়, মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা নেয়া, সুন্দরবন থেকে কাঠ সংগ্রহ, নদী সাগরে মৎস্য শিকারসহ বহুল কাজে ব্যবহার হতো। এখন পেশা হারিয়ে বেকার হয়েছে হাজার হাজার মাঝিমাল্লা। এখন তাদের কেউ খোঁজও নেয় না। এমনকি নৌকা নিয়ে গবেষণা বা এর সংরক্ষণে এ যাবতকাল কোথাও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সে শুন্যতা পূরণে বরগুনার নৌকা জাদুঘর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে জেলা প্রশাসন। নৌকা এবং নদী নিয়ে বাংলার মানুষের যে রূপকথা তা চিরন্তন। যদিও বাংলার সেই চিরন্তন ঐতিহ্য এখন আর নেই। খালগুলো গেছে শুকিয়ে গেছে, নদী গেছে ভরাট হয়ে। ধীরগতির নৌকার বদলে তৈরি হয়েছে দ্রুতগতির ট্রলার এবং ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। নাইওর নিতে এখন আর পানসি বা একমালই কেরায়া নৌকা নদীর ঘাটে আসে না। বরগুনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু জানিয়েছেন, পৃথিবীর আদিকালে জঙ্গলে পড়ে যাওয়া গাছ পেড়িয়ে খাল পাড় হওয়ার চিন্তা থেকে আসে সাঁকো তৈরির কথা। সাঁকো বা সেতুর পর ভাসমান কাঠ দেখে চিন্তা আসে ভেলা ও নৌকার। সাঁকো দিয়ে খাল পাড় হওয়া যায়, কিন্তু নৌকা দিয়ে নদী পথে যেদিক খুশি সেদিকে যাওয়া যায়। নৌকার আগে আসে ভেলার চিন্তা। নৌকা পৃথিবীর আদি যানবাহন হিসেবে মানবসভ্যতা বিকাশে সহায়তা করে। সুযোগ সুবিধা এবং ব্যবহারের উপযোগিতার কথা চিন্তা করে নৌকার প্রকরণ তৈরি হয়। সারা পৃথিবীতে শত প্রকারের নৌকা ছিল এক সময়। বাংলাদেশেও এক সময় বিভিন্ন প্রকারের নৌকা চলতো এলাকা ও নৌপথ ভেদে। বরগুনা জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান বলেন, বরগুনা নামের সাথেও জড়িয়ে আছে নৌকা। বরগুনা নামের উৎপত্তি হয়েছে বরগুন বা অনুকূল প্রবাহকে নিয়ে। উত্তরাঞ্চল থেকে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে কাঠ কাটতে আসা এবং ফিরে যাবার জন্য অনুকূল প্রবাহ বা বড় গোনের জন্য অক্ষো করত খাকদোন নদীর তীরে বিষখালীর মোহনার কাছে।

রাজবাড়ীতে এক বাড়িতে ৫০টি মৌচাক
                                  

মো. আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ীত : দ্বিতল বসত বাড়িটির চারদিকের কার্নিশ, সিলিং, বারান্দার দেয়াল, ভবনের পাশে এবং গাছের ডালেও রয়েছে মৌমাছির চাক বা বাসা। বাড়িটিতে রয়েছে অর্ধশত মৌচাক। এখনো নতুন নতুন মৌমাছি এসে বাসা বাঁধছে বাড়িটিতে। তাই এলাকাবাসি বাড়িটিকে মৌমাছি বাড়ি বলে নামকরন করেছেন। এমন বাড়িটির দেখা মিলবে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের ক্যানাডাবাজার রাজেন্দ্রপুর গ্রামে। গত ৫ বছর ধরে এই বাড়িটিতে বাসা বাঁধছে মৌ-মাছি গুলো। তবে কয়েক বছরের তুলনায় এবছর মৌ-মাছি বাসা বেধেছে বেশি। একটি-দুটি নয়, ৫০টির বেশি মৌমাছির চাক রয়েছে বাড়িটিতে। দোতলা ভবনের কার্নিশ, বারান্দার অংশসহ প্রায় সব জায়গায় বাসা বেঁধেছে মৌমাছি। এমনকি ভবনের আশপাশের গাছেও মৌমাছির বাসা দেখা গেছে ভবন ও ভবনের চার পাশে মৌমাছির বাসা থাকার কারনে বাড়িটি সৌন্দর্যের একটি অংশ হয়ে দ্বাড়িয়েছে। গত ৫ বছর ধরে বাড়িটিতে মৌমাছি এভাবেই বাসা বাঁধে আসছে। সারা বছর ৭ থেকে ৮টি মৌচাক থাকলেও শীতের সময় এলে বৃদ্ধি পায় মৌচাক। তবে অন্য কয়েকশ বছরের তুলনায় এ বছর মৌচাকের সংখ্যা বেশি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি মৌমাছি বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়িটির মালিক মোঃ সেকেন্দার মুন্সী দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশ থেকে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে মৌমাছি বাসা বাঁধার কারনে ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেউ বসবাস করেনা। বাড়ির অনেক কাজর পড়ে আছে মৌ-মাছির চাক বসার কারনে। বাড়ির মালিক তার ভালো লাগার কারনেই মৌ-মাছি গুলোর কোন ধরনের ক্ষতি হতে দেন না। প্রতি বছর এই মৌ-মাছির চাক গুলো থেকে প্রায় লক্ষা ধিক টাকার মধু পেয়ে থাকেন এবং এই মধু বিক্রিত অর্থ স্থানীয় মসজিদ ,মাদ্রাসা,এতিমখানা ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরন করেন। এবছর মৌ-মাছির চাক বেশি থাকায় মধু ও মধু বিক্রির টাকা বেশি পাবেন বলে জানান। স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, কয়েক বছর ধরে বাড়িটিতে মৌমাছির চাক থাকলেও কারো কোন ক্ষতি করে না। বাড়ির মালিকও মৌচাকগুলো দেখে রাখেন। প্রতিবছর সংগ্রহ করা মধু বিক্রির টাকাও বাড়ির মালিক এতিম খানা, মাদ্রাসা ,দরিদ্র মানুষের মাঝে দান করেন। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসেন এই মৌমাছির চাক দেখার জন্যে। অনেকে এই মৌ-মাছি বাড়িতে এসে ছবি তুলেন। মো. নুরুজ্জামান- সাবেক অধ্যাপক (প্রানী বিদ্যা বিভাগ-রাজবাড়ী সরকারী কলেজ) তিনি বলেন, মৌমাছি সব সময় নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাবার যেখানে থাকে সে স্থানে বাসা বাঁধে। বাড়িটিতে লোকজন কম থাকায় নিরাপত্তার জায়গা থেকেই মৌমাছি প্রতিবছর বাড়িটিতে আসে বাসা বেধে স্থান নেয়। গ্রামটিতে প্রচুর সরিষার আবাদ হয় এটিও মৌমাছির বাসা বাঁধার অন্যতম একটি কারণ।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা
                                  

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির ব্যবহার। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতাও। তবে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যকে লালন করতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা।
গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ দর্শক উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। এসময় সেখানে এক ধরণের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। এ প্রতিযোগিতাকে সেখানে আনন্দ মেলায় রুপ নেয়। আশেপাশের স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে। স্টলগুলো খেলায় বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আশেপাশের জেলা থেকে ৫০ টি গরুর গাড়ি এ খেলায় অংশ নেয়।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে এ খেলা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। খেলা শুরুর আগ থেকে হাজার হাজার দর্শক মাঠে জড়ো হয়। এলাকার রাস্তাগুলোতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এলাকায় মেয়ে-জামাই ও দুর-দুরান্তের আত্মীয়-স্বজনেরা এক-দু’দিন আগেই চলে আসায় এলাকায় বাড়তি উৎসব বিরাজ করছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী গাড়েয়ালকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারী গাড়োয়ালকে একটি বাইসাইকেল পুরস্কার দেয়া হয়। খেলাটি উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, জীবননগর পৌরসভার কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, সাখাওয়াত হোসেন ফরজ, খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সম্পাদক শাহাব উদ্দিন, ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, মহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান প্রমুখ।

চৌহালীতে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ
                                  

ইমরান হোসেন আপন, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার প্রায় প্রতিটি ক্ষেতে হলুদের সমারোহ। গ্রামের ক্ষেতজুড়ে আবাদ হয়েছে সরিষা। আর এই সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করে কৃষক এবং মৌ চাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছে। কারণ সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করলে সেই এলাকার জমির ফলনও বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যে চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন জমির সরিষা থেকে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
চৌহালীর খাষপুকুরিয়া, বাঘুটিয়া, খাষকাউলিয়া, উমারপুর, ঘোরজান, স্থল, রেহাইপুকুয়া, ঘুশুরিয়া ও সদিয়াচাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষী দিয়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ মৌ চাষী এসেছেন সাতক্ষীরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কথা হয় কুড়িগ্রামের মৌচাষী হাসান আলীর সাথে। সে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাপুকুরিয়া গ্রামে তার মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করে। এ সকল মৌচাষীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া আক্ষেপের সূরে বলেন, আমাদের যদি কৃষি অফিস মৌ চাষের প্রশিক্ষন দিত তাহলে আমরা সরিষার সাথে মৌ চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারতাম। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরিষাক্ষেতে মধু চাষের ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ না দিলেও কৃষকদের মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। তাছাড়া সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করলে ফসলের কোন প্রকার ক্ষতি হয় না বরং উল্টো সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারনা দেওয়া হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে। খোজ নিয়ে দেখা যায়, এই উপজেলার কৃষকেরা এবার ব্যাপক সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষাখেতে মধুর জন্য মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। সরিষার পরাগায়ন ঘটিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকে মৌমাছি। ফলে সরিষার ফলন ভালো হয় ও বাড়তি মধু পাওয়া যায়। প্রতিটি বাক্সে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। এবার উপজেলায় ৯ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার খেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে ফুলের পরাগায়নে ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। মৌ চাষের কারণে এবার সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় বেশি আয় হবে। উপজেলার প্রত্যেক এলাকায় মৌচাষ হচ্ছে, কোদালিয়া গ্রামে সারিবদ্ধ মৌবক্স যার বাস্তবচিত্র সরেজমিন।
জানা যায়, আগে এ উপজেলার কৃষকেরা ফলন নষ্ট হবে ভেবে তাঁদের আবাদি জমিতে মৌ বাক্স (কলনী)বসাতে দেওয়া হয়নি। অথচ মৌ চাষের ফলে সরিষার ২০ ভাগ ফলন বাড়ে। শুধু সরিষাই নয়, মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবিশস্যের ফলন বৃদ্ধি করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবাদি জমির পাশে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করতে সহযোগিতা করছেন সাধারণ কৃষকরা। বর্তমানে মৌ চাষে প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে ৪-৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মধু সংগ্রহ বেশি হয়।
সাতক্ষিরার মধুচাষি মামুন,আলিম ও লাবলু বলেন, আমরা মৌমাছি পালন করে মধু চাষ সংগ্রহ করে থাকি,সপ্তাহে প্রতি বাক্সে থেকে ৩/৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়,আমার ১৮০টি মৌবক্স নিয়ে ৪ জন শ্রমিক কাজ করছে। মৌ চাষে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মৌ চাষের কারণে একদিকে যেমন সরিষা উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অল্প খরচে মৌ চাষ করে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। বাণিজ্যিক মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন চৌহালী কুষক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জেরিন আহমেদ বলেন, এই উপজেলায় স্থানীয়ভাবে কোনো মৌ চাষ নেই। যারা মৌ চাষ করছেন তারা সকলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষী। তাই এখানে মৌ চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের ফসলের সাথে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করছি। দেশের নানা এলাকার মৌচাষিদের সাফল্যের কথা শুনে ও মৌ চাষ দেখে এখানকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

ফুরবাড়িতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বি সুজন
                                  

তানভীর হোসাইন রাজু, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে শীতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে স্বাবরম্বি সুজন (৩৫)। ১০ বছর ধরে প্রতি শীত মৌসুমে ৪ মাস ফলবাড়ির গংগারহাট বাজারে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। গংগারহাট বাজারের পাশে কিংবা স্কুল মাঠে দোকান নিয়ে বসলেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ আসতে শুরু করে ভাপা পিঠার দোকানে। স্হানিয় সরকারটারীর বাসিন্দা আরিফুর জামান জানান, শীত এলেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা গরম ভাপা পিঠা সকাল ও সন্ধায় খাই। এ পিঠা খুব সুস্বাদু। আমাদের মতো অনেকেই খেয়ে তৃপ্তি পায়। একই এলাকার পানের দোকানি বেলাল ও মেহেদী বলেন, আমরা প্রতিদিন সন্ধায় ভাপা পিঠা খাই। খোজ নিয়ে জানা গেছে, শীত মৌসুমে সুজনের একমাত্র আয়ের উৎস এই ভাপা পিঠা। শীতের চার মাস পিঠা বিক্রি করে আট(০৮) মাস চানচুরের দোকান করে। ভাপা পিঠা বিক্রেতা সুজন মিয়া(৩৫) জানান, আমার সম্পত্তি তেমন নাই, আমার পরিবারে ৫ সদস্য। আমার স্ত্রীসহ তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ৭ম শ্রেনীতে,২য় মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেনীতে আর ছোট মেয়ের বয়স ২ বছর নয় মাস। আমি দাসিয়ারছড়া কামালপুর গ্রামে বাস করি। ভাপা পিঠা বিক্রি করাই আমার একমাত্র পেশা। প্রতি শীতে ভাপা পিঠা বিক্রি করি। প্রতিদিন ২১০০-২৬০০ টাকা আয় হয়। খরচ বাদ দিয়ে ১০০০-১১০০ টাকা লাভ থাকে। তবে সরকারি সহায়তা পেলে এ ব্যাবসাকে আরো প্রসারিত করা যেত।

অতিথি পাখিদের কলরবে মুগ্ধ দিনাজপুরের শেখপুরা ইউনিয়নে ভাটিনা গ্রামের মানুষ
                                  

রাজু বিশ্বাস, দিনাজপুর প্রতিনিধি : পাখি দেখে যেন মনটা জুড়ে যায়। এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে শেখপুরা ইউনিয়নে ভাটিনাগ্রামে। লোকালয়ের শব্দের মাঝে শুনা যায় মিষ্টি শব্দের চেঁচামিচি। পুকুর পাড়ে বাঁশের ঝোপে চোখ তাকালেই শত শত পানকৌড়ি ও ঘুঘুর পাখির সমাগম। ভাটিনা গ্রামটির চারিদিকে সৌন্দর্য়ের এক অপরিসীম সৌন্দর্য নানা রকমের পাখির কলারবের দৃশ্য পরিলক্ষিত। মনে হচ্ছে পাখির অভয়অরণ্য গড়ে উঠেছে। শুধু পাখির কিচি-মিচির শব্দ মুগ্ধ করেছে চারদিক। কেউবা বসছে তারের উপরে কেউবা উড়ে গিয়ে বসছে গাছের ডালে। শত শত পাখির কোলাহল এই রকম দৃশ্য কম গ্রামে দেখা যায়। এই গ্রামে পাখি সংরক্ষনের জন্য বিভিন্ন রকম পন্থা অবলম্বন করেছেন এইখানের মানুষ। তাদের মধ্যে পরিবেশবীদ খেতাবে ভুষিত নাম না জানা ব্যক্তিত বীর মুক্তযোদ্ধা মোঃ আবুল হাসেম তালুকদার। তার আক্রান্ত পরিশ্রমের ফসলে হয়ে উঠেছে এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এখানকার মানুষেরা কোন জীব নিধন করে না, বরং সংরক্ষনে রাখার চেষ্টা করে আসছে। এইখানে সব জীব যেন নিরাপদে চলাচল করে। এ সমস্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। পুকুড়ের পাশে বাঁশ ঝোপে ঝাকে ঝাকে রাত চোড়া পাখি ও নানা রকমের বক দেখা যায়। এই গ্রামটিতে পাখিদের অভয়অরেন্যের জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হাসেম তালুকদারকে জাতীয় পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় কথা প্রসঙ্গে জানান শৈশবে ও কৈশরে পাখিদের যে কোলাহল দেখেছিলাম দিন দিন তা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ও প্রকৃতির সৌর্ন্দযের পরিবেশ থাকায় ১৯৮৫ সালে নিজ গ্রামটিতে বসবাসের জন্য আসি। এক সময় শহরে বসবাস করতাম। আমাদের দেশে জীব বৈচিত্র প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরিতে নিজে স্বপ্ন দেখি। প্রকৃতির বিভিন্নরুপতা হ্রাস পেতে বসেছে। ভাবলাম আমার নিজ গ্রামটিকে পাখিদের নিরাপদ অভয় অরন্য গড়ে তুলব। এখানে মাছরাঙ্গা, রাতচোরা, বুলবুলি, চড়ুই, কাকাতুয়া, দোয়েল, গাংচিল, ভেটকই, গেওরা, শালিক, কোকিল, পানকৌড়ি, ঘুঘু ও চার রকমের বকসহ নানা জাতের ছোট পাখি দেখা যায়। বিশেষ করে খরগোস, বিজি, শিয়াল ও বারবিড়ালসহ ছোট ছোট বন্য প্রানী এবং নানারকম পাখি এই গ্রামের সৌন্দর্যকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। সময়ের সঙ্গে এই সব প্রানী হারিয়ে যেতে বসেছে। পাখি সংরক্ষনের জন্য প্রতিটি পাড়ায় সাইনবোর্ড লাগাই এবং মাইকিং করি হাটে-বাজারে প্রচার ও লিফলেট বিতরন করি। নিজেকে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এলাকার জনগনকে বন্য প্রানী ও পাখি সংরক্ষনে উদ্বুদ্ধকরন করার জন্য যা যা পদক্ষেপ দরকার তা গ্রহন করি। এখানকার মানুষদের বোঝাই তারা বুঝে। বীর মুক্তযোদ্ধা মোঃ আবুল হাসেম তালুকদার আরও জানান, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাখি পর্যবেক্ষক টিম তিন দিনের সফরে এখানে এসেছিল তাদের গবেষনায় এখানে ৬৫ ধরনের পাখির সন্ধান পেয়েছে।
১৯৮৫ সাল থেকে আমার পাখি সংরক্ষনের উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। পাখি সংরক্ষনে বৃহদাকারভাবে ধারন করার জন্য নতুন প্রজন্মকে আহবান জানান যেন বাংলার চিরায়ত রুপে পাখিদের সমাহারে পরিনত করতে পারি। এইখানে বাংলার চিরাচরিত রুপকে ফিরে পাব। পাখিদের ডাক ও কোলাহলের প্রকৃতির সুর মনকে সতেজ করে। শিশুরা পাখিদের ভালবাসতে পারলে সুন্দর মন গড়ে উঠবে। যারা বন্য প্রানীকে ভালবাসে তারা ভাল মানুষ হয় ভবিষৎ জীবনে সুন্দর সমাহারে একটি ভাল মানুষের রুপ নেয় শিশুদেরকে এটি বুঝাতে হবে তারা আগামী দিনের এই দেশের সম্পদ। শিশুদের পাঠ পুস্তকে জীব বৈচিত্রময় ও পাখিদের সংরক্ষনের কথা বুঝাতে হবে। তাহলে ভবিষৎতে আমাদের প্রকৃতিতে নির্মল আনন্দদায়ক থাকার মত পরিবেশ আসবে যা আগে ছিল। আমাদের সকলের উচিত প্রকৃতিকে ভলবাসতে। ১৯১৩ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ পুরস্কারে রাষ্ট্রীয় ভাবে ভুষিত করা হয়। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড প্রজেক্ট থেকে ২০১৬ সালে পাখি সংরক্ষনের জন্য বিশেষ পুরষ্কার পান।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ি
                                  

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা : দেড়শ বছরের পুরনো দাগনভূঞা উপজেলার প্রতাপপুর জমিদার বাড়িটি প্রকৃত মালিকদের অনুপস্থিতিতে দিন দিন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সংস্কারহীনতায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এ বাড়ি। মাঝে মধ্যে কিছু দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে এলেও বখাটেদের উৎপাতের কারণে তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। উপরন্তু বিশাল এ বাড়িটি কুক্ষিগত করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল ছিদ্র খুঁজছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে জমিদার বাড়িটির অবস্থান। দাগনভূঞায় কয়েকটি চৌধুরী, ভূঞা ও জমিদার বংশের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদারদের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তারা ছিল আশপাশ এলাকার জন্য প্রভাবশালী। ব্রিটিশ আমলে বাড়ির জমিদার রাজকৃঞ্চ সাহা এ বাড়িতে বসেই এ এলাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি ও তার পাঁচ ছেলে জমিজমার খাজনাদি আদায় করতেন। জানা যায়, ১৮৫০ কিংবা ১৮৬০ সালে জমিদার রাজকৃঞ্চ সাহা ৮০০ শতক জায়গায় দৃষ্টিনন্দন করে বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে রয়েছে ১০টি ছোট-বড় দালান। এখানকার ১৩টি পুকুর পুরো বাড়িকে করেছে আকর্ষণীয়। ওই সময়ে বাড়িটি ছিল আশপাশের এলাকার জন্য দর্শনীয়। তৎকালীন সময়ে অন্যান্য স্থানের জমিদাররা এ বাড়িতে সফরবিরতি করতেন।
জমিদারদের চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬৪৪ শতাংশে বর্ধিত করা হয়। এক পর্যায়ে জমিদার প্রথার বিলুপ্তি ঘটলে এ বাড়ির প্রভাব-প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। জমিদার বাড়ির সদস্যরা দেশ-বিদেশে পাড়ি দিলে বাড়িটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজকৃষ্ণ সাহার উত্তরাধিকারীরা এ বাড়িতে অবস্থান করতেন। পরে ওই বাড়িটি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দখলে নিতে নানাভাবে হেনস্তা করতে থাকেন। এ সময় কয়েকবার বাড়িটিতে বসবাসকারীদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। স্থানীয় নেতাদের লোলুপদৃষ্টি আর নির্যাতনের কারণে এক পর্যায়ে তারা ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাস গড়ে তুলেছেন। বাড়িটি সংরক্ষণের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, বাড়িটি এখনও ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু করা যাচ্ছে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মালিকদের কোনো তত্ত্বাবধান না থাকায় এটি স্থানীয়রা দখল করে নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এর আগে বিষয়টি নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এ বাড়ির প্রতি উপজেলা প্রশাসনের তীক্ষ নজরদারি রয়েছে।

জয়পুরহাটে পরিযায়ি পাখির অভয়ারণ্য পুন্ডুরিয়া গ্রাম
                                  

ফয়সাল হোসেন বিদ্যুৎ, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের পুন্ডুরিয়া গ্রামের গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বিরল প্রজাতির পরিযায়ি পাখিরা। এটা যেন বিনোদনের খোরাক হয়ে পড়েছে বিনোদন পিপাসু মানুষের। গ্রামবাসীও গভীর যত্নে ও পরম মমতায় আগলে রেখেছেন পাখিগুলোকে। সুদুর সাইবেরিয়া থেকে আগত এসব পাখির মধ্যে রয়েছে শামুকখোল, রাতচোরা, পানকৌড়ি, শামুক ভাঙ্গা, হাইতোলা, বাদুর ও হারগিলা। এসব পাখি দেখতে আসা মানুষরা যেমন খুশি তার চেয়ে বেশি খুশি গ্রামবাসী। গ্রামে খাল-বিল আর ফসলের মাঠ থেকে খাবার খোঁজে খায় পাখিগুলো। নিরাপদ আশ্রয়ে প্রজননও করছে তারা। এতে দিন দিন বাড়ছে পাখির সংখ্যাও। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই গ্রামটি গুরুত্বপূর্ণ পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিণত হবে বলে জানান গ্রামবাসী।
এলাকার ২০০টি উঁচু গাছে এবং বাঁশঝাড়ে প্রায় ২০/২৫ হাজারো অতিথি পাখি বাসা বেঁধেছে। সেখানেই তারা বাচ্চা দিচ্ছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত সারা গ্রাম। পাখির সেই কোলাহল দেখতে ভোর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ওই গ্রামে ভিড় করে থাকেন হাজার হাজার বিনোদন পিপাসু মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসা অনেক দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া খুব কঠিন। এমন পরিবেশের কথা শুনতে পেরে আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় দিনই এখানে বেড়াতে আসি। ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, এখানে কোনো পাখিকে যেন কেউ বিরক্ত না করে সেদিকে আমি খেয়াল রাখছি। পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি বছর এ সময় এখানে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। এ সময় মানুষ অনেকটাই বিনোদন উপভোগ করেন। এখানে কেউ পাখি শিকার করতে না পারে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে। উপজেলা ভেটেনারী সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিযায়ী পাখি গুলো প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় আসে। উপজেলা প্রাণি স¤পদ দপ্তর থেকে পাখিগুলোকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তারা যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং কোন পাখি অসুস্থ্য হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম হাবিবুল হাসান বলেন, এ ব্যপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখিদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি এবং পাখি সংরক্ষন আইনের বিষয়ে গ্রাম বাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেখানে রাস্তা সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কাস্তে বানাতে ব্যস্ত মির্জাগঞ্জের কামারা
                                  

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আমন ধান কাটার সময় হয়ে গেছে। আমন ধান কাটাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে মির্জাগঞ্জের কামাররা। লোহা ও হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সব হাট-বাজারের কামারশালাগুলো। ধান কাটার জন্য কাস্তে, ধান মাড়াইয়ের ফাল এবং ধান কাটা শেষে প্রয়োজন হবে কোদাল। এসব তৈরি ও মেরামতে এখন ব্যস্ত কামারেরা। প্রতি বছর এ সময়টায় কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মেরামত ও নতুন করে বানানোর জন্য ভিড় করেন কামারশালাগুলোতে। গতকাল বুধবার দুপুরে সুবিদখালী ও কাঁঠালতলী বাজারের কামারশালা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। গোপাল কামার, নেপাল কামার, অমল কামার ও পরি কামারসহ অনেকেই সহযোগীদের নিয়ে দেদারসে কাজ করছে। তাদের কারও কথা বলার ফুরসতও নেই। হাঁপর দিয়ে কয়লা আগুনের বাতাসে টকটকে লাল লোহা পিটিয়ে কাস্তে, নিড়ানি, আঁচড়া আর কোদাল বানানোর কাজ করছিলেন তারা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নেপাল কামার বলেন, ধান কাটার সময় হওয়ায় এখন কাস্তে বানানো ও মেরামত কাজই বেশি। ধান মাড়াইয়ের ফালও বানাচ্ছে অনেকে। আবার অনেক কৃষক আগেই কোদাল বানিয়েছেন, এখন শুধু শান দিয়ে নিচ্ছেন। গোপাল কামার বলেন, এখন কয়লা পাওয়া যায় কম। তাই কাজ করতে খুব কষ্ট। তাও মানুষের চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করছি। টাকা-পয়সা না থাকায় গ্যাসের চুলা নেই। তাই কয়লা পুড়েই কাজ করছি।
কামারশালায় আসা পশ্চিম সুবিদখালী এলাকার কৃষক মোশাররফ হাং জানান, আমাদের এখন ধান কাটার সময় হয়েছে। ধান কাটার জন্য কাস্তের খুব দরকার। তাই ৩-৪ টি কাস্তে বানাতে সকাল থেকে এসে বসে আছি। কামারশালায় একটি নতুন কাস্তে তৈরির জন্য কামাররা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেন। পুরনো কাস্তে মেরামত করতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আর নতুন একটি কোদাল তৈরি করতে নেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

কুমিল্লার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে
                                  

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, সদর দক্ষিন, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গুইসাপ, কচ্ছপ, কচিয়া, কাকড়া ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন উভচর ও জলজ প্রাণী ধরে নিচ্ছে সাওতালসহ বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা ওইসব জলজ প্রাণী ভিনদেশে পাচার করছে গোল্ডেন ফিস নামে। এতে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আবার এসব প্রাণী একত্র করে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডোগায় জেলার সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে পাচার হচ্ছে দেদারছে। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একটি চক্র এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের যোগসাজসে এসব পন্যপাচারে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, জেলার ভারত সীমান্ত পেরিয়ে সাওতালসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এ অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষাকারী ওইসব জলজ প্রাণী ধরে ভারত, বার্মা, চীন, সিংগাপুর, ভুটান, নেপাল, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চোরাইপথে পাচার করছে ওই চক্র। এতে হুমকির মূখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। সীমান্ত হাটে ওইসব জলজ প্রানীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চোরা পথে পাচার অনেকটা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীসহ আশপাশের পুকুর, ডোবা, নালা, খাল-বিলে কুইচ্চা, কচ্ছপ, কাকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী পাওয়া যায়। আবার বন-বাদারে ও পাহাড়ে হেটে চলা হরেক রকমের গুইসাপ ও ব্যাঙ রয়েছে প্রচুর। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণী বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশ বিদরা। বছরের সকল মওসুমে এদেশীয় লোকজন ছাড়াও ভারত সীমান্ত পেরিয়ে বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকেরা দলে দলে এসে বিশেষ কায়দায় ওইসব জলজ ও উভয়চর প্রাণী অবাধে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওইসব শিকারীর দল প্রতিদিন বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে কুমিল্লাসহ ভারতীয় সীমান্ত এলাকার হাটে চোরাপথে নিয়ে যাচ্ছে এসব প্রাণী। সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন সীমান্ত হাটে প্রতিকেজি কুইচ্চা ৫/৬শ’ টাকা, কচ্ছপ ৪/৫শ’ টাকা, কাকড়া ৫/৬শ’ টাকা, গুইসাপ সাড়ে ৪শ’/৫শ’ টাকা, ব্যাঙ দেড়/দু’হাজার টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করা হয়। খুচরা বাজারে দাম আরো বেশি। এসব প্রাণী ভারত, বার্মা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও চীনের লোকজনের প্রিয় খাবার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় ওইসব দেশেই বেশি পাচার হচ্ছে। আবার স্থানীয় বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকায় তারাও যত্রতত্র ভাবে নিধন করছে ঐসব প্রাণী। বিশেষ সম্প্রদায়ের একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক পথ ওইসব প্রাণী পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অঞ্চলের হরেকরকম ছদ্দ নামে কয়েকটি চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করছে ভারত সীমান্ত অঞ্চলের শতাধিক পরিবার।

ফুলবাড়িতে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী
                                  

ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে কৃষি ও বিভিন্ন প্রকার পণ্য আনা-নেয়ার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল গরুর গাড়ি। তবে কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী এই গরুর গাড়ি এখন বিলুপ্তির পথে। কৃষিসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেয়ার জন্য গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র অবলম্বন। তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযান চলাচলের কারনে ধীর গতির এই গাড়িটি আজ বিলুপ্তির পথে। বর্তমান যুগ যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনিয় পণ্য বহনের জন্য বাহন হিসাবে ব্যাবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, ট্রাকটরসহ বিভিন্ন গাড়ি। ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের জলিল বলেন, আগে আমাদের নিজেদের গরুর গাড়ি ছিল। এখন নেই। সেই গাড়িতে কৃষি পণ্য ও মালামাল আনানেয়া করা হতো। ফুলবাড়ি সাহিত্য পরিষদের সভাপতি চারন কবি আজিজুল হাকিম মন্ডল জানান, গরুর গাড়ি এ অঞ্চলের প্রচীন বাহন। কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে।

অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী
                                  

ভ্রমণ ডেস্ক : চারপাশে নদী, মাঝখানে দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। পটুয়াখালী জেলার এ উপজেলায় রয়েছে সোনার চর, জাহাজমারা তুফানিয়াসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক। তবে যারা রাঙ্গাবালীর সোনার চর ভ্রমণ করতে পারেননি; তারা একবার হলেও ভ্রমণের চেষ্টা করে দেখতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ দ্বীপে।
ভোরের শুভ্র বাতাসে সাদা মেঘগুলো এক অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরপুর হয়ে ওঠে। চোখ জুড়ানো, মন ভোলানো দৃশ্য দিয়ে প্রকৃতি যেন সৃষ্টি করেছে সোনার চরকে। সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের দৃশ্য ছাড়াও রং-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য। পাখির রাজত্ব বললে অত্যুক্তি হবে না। দখিনা বাতাসে নদীর কুলকুল ধ্বনি। আবার বিনা বাতাসে হুমড়ি খেয়ে পড়া ঢেউ। জেলের নৌকা, ট্রলার ঢেউয়ের উপর নাগরদোলা চাপিয়ে ঢেউয়ের ফাঁকে অদৃশ্য হওয়া।
বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে সোনালি এক দ্বীপের নাম সোনার চর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। প্রকৃতি যেন তার নিজের হাতে সৃষ্টি করেছে। দিনের শুরুতেই চোখে পড়ে পুব সাগরে ডিমের কুসুমের মত লাল গোলাকার পিণ্ড। সাগরের বুক চিড়ে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। সারাদিন বিকিরণ শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে লাল গোলাকার পিণ্ডে পরিণত হয়। পানির মধ্যে যেতে যেতে একসময় টুপ করে ডুব দেয়। মনে হয় যেন পাতালপুরীর রাজবাড়ির অতিথি। এ দৃশ্য কার চোখ না জুড়ায়।
বন বিভাগের ছায়াঘেরা সবুজ বেষ্টনীতে নানা আকারের ছইলা, কেওরা, গাওয়া, বাইন গাছ। আরও আছে গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাটার ঝোপঝাড়। যা ডাহুক, কোড়া, ছেনিসহ (স্থানীয় নাম) নাম না জানা পাখির অভয়ারণ্য। গাছে গাছে রং-বেরঙের পাখি আপনমনে সুর দিয়ে যায়।
বিকেল গড়িয়ে এলেই বক, সারস, শামুকখোল, মদনটাক ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় বড় গাছের মগডালে। তাদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে চর। গভীর রাতে কুক্কা পাখির ‘পুতপুত’ ডাক আর ডাহুক-ডাহুকির ‘কোয়াক কোয়াক’ সুর জানিয়ে দেয় রাত ১২টা। ঘড়ির কাঁটার সাথে মিলিয়ে দেখা যায়, দু’চার মিনিটের বেশি ব্যবধান হয় না।
দক্ষিণ-পূর্বে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে ডুবোচর। ভর জোয়ারে এসব এলাকা পানিতে ডুব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিনা বাতাসে ঢেউ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বালুচরে। এর মাঝে উড়োহাঁস, কয়াল, গাংচিলরা দলবেঁধে সাঁতার কাটে। শতশত জেলে নৌকা, ট্রলার ব্যস্ত হয়ে ওঠে জাল ফেলার তাগিদে। জাল ফেলে স্রোতের টানে চলে যায় দূর থেকে বহুদূরে।
শেষ ভাটায় বিশাল এলাকাজুড়ে আবার জেগে ওঠে বালুচর। রোদের আলোয় ঝিকিমিকি সোনালি রং ছড়িয়ে দেয় চারিদিকে। শুরু হয় নানা প্রজাতির পাখির আগমন ও কলতান। গাংচিল, চকোয়া, কেচিকাটা, কন্যাসি, বক, সারসরা (স্থানীয় নাম) ভিন্ন ভিন্ন দলে বসে যেন গল্পে মেতে ওঠে। কেউবা হাঁটুজলে খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে।
সোনার চরে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশ। তাই নিত্য নতুন পর্যটকরা আসেন ওই চরে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা এসে অস্থায়ী আস্তানা করে শুঁটকি সংগ্রহ করেন। বালুর ওপর দোচালা বাসা তৈরি করে সাগরে জাল ফেলে ধরা সাদা চিংড়ি, টাইগার চিংড়ি, চাকা, চালি, বৈরাগি ও চেউয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি সংগ্রহ করে।
তবে ফাল্গুন এলেই দখিনা বাতাসে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। জেলেদের আর জাল ফেলা সম্ভব হয় না। তখন সব গুটিয়ে যে যার ঠিকানায় পারি জমান।


   Page 1 of 17
     ফিচার
কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে
.............................................................................................
থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের কুটির শিল্প
.............................................................................................
কালের সাক্ষী ৪০০ বছরের বলিয়াদী জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
বরগুনায় নৌকা জাদুঘর
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে এক বাড়িতে ৫০টি মৌচাক
.............................................................................................
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
চৌহালীতে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ
.............................................................................................
ফুরবাড়িতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বি সুজন
.............................................................................................
অতিথি পাখিদের কলরবে মুগ্ধ দিনাজপুরের শেখপুরা ইউনিয়নে ভাটিনা গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
ঐতিহ্য হারাচ্ছে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ি
.............................................................................................
জয়পুরহাটে পরিযায়ি পাখির অভয়ারণ্য পুন্ডুরিয়া গ্রাম
.............................................................................................
কাস্তে বানাতে ব্যস্ত মির্জাগঞ্জের কামারা
.............................................................................................
কুমিল্লার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে
.............................................................................................
ফুলবাড়িতে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী
.............................................................................................
অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী
.............................................................................................
জাবি ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা
.............................................................................................
ঝুটের জোড়া তালির কম্বলে নারীদের ভাগ্য বদলে চেষ্টা
.............................................................................................
সুপারি কেনা-বেচায় ভালো দাম পাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে হাসি
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধে মাছ ধরা উৎসব
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র ভারী শিল্প কারখানা সুপ্রিয় জুটমিল
.............................................................................................
গোপালগঞ্জের শাপলার বিল
.............................................................................................
সিরাজদিখানের কোলা ভিলেজ পার্ক
.............................................................................................
শামুক নিধনে ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য
.............................................................................................
বর্ষার পানি মিলছে দেশি প্রজাতির মাছ
.............................................................................................
স্ট্রিট লাইটের আলোয় আলোকিত ধোবাউড়ার জনপদ
.............................................................................................
পিলপিলের ৪৪ ডিমে চারটি বাচ্চার জন্ম
.............................................................................................
পর্যটকদের জন্য খুলেছে বান্দরবান
.............................................................................................
কদর বেড়েছে মৌসুমি ছাতার কারিগরদের
.............................................................................................
আদর্শ নগর পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে আদর্শ নগরে
.............................................................................................
সুন্দরবনে বেড়েছে মধু উৎপাদন, খুশি মৌয়াল
.............................................................................................
বীরগঞ্জে হারিয়ে যাওয়া মাছ ধরার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে
.............................................................................................
রামসাগর জাতীয় উদ্যানে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে চিত্রা হরিন দল
.............................................................................................
দস্যুতা দমন ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে পুলিশ-কোস্টগার্ড-র‌্যাব
.............................................................................................
নৌকা তৈরী ও কেনাবেচার ধুম!
.............................................................................................
কোরবানীর হাট মাতাতে আসছে ‘বাংলার বস’ ও ‘বাংলার সম্রাট’
.............................................................................................
করোনাকালে জলকেলিতে ব্যস্ত পথশিশু-কিশোরেরা
.............................................................................................
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বন্ধ থাকবে সিলেটের সব হোটেল
.............................................................................................
নাজিরপুরে বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে চাইয়ের হাট
.............................................................................................
রাসিক মেয়র লিটনের স্বপ্ন নগরীতে এখন ফুলের সুবাস
.............................................................................................
শরীয়তপুর উন্নয়নের স্বপ্ন
.............................................................................................
যেভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়
.............................................................................................
দিনাজপুরে উঠছে প্রচুর রসালো মিষ্টি লিচু
.............................................................................................
শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ সহ নানা ঐতিহ্যের মধুপুর
.............................................................................................
আমাদেরকে কী সবকিছুই আইন করেই মানাতে হবে?
.............................................................................................
‘৩২ নম্বর’ বাড়িটি এখন ইতিহাস
.............................................................................................
জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ : পানি ও পরিবেশ
.............................................................................................
১৩৬ বছরেও কাজ করছেন সোনাভান
.............................................................................................
আমাদের সেই মহানায়ক
.............................................................................................
সুতাং নদীর দূষিত পানিতে মারা যাচ্ছে জলজ প্রাণী
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop