| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বিয়ের কনের ক্রয়মূল্য   > ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পেলেন আরচার রোমান সানা   > পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ধসে মৃত্যু ১১   > সালমানের সিনেমার এক দৃশ্যের খরচ সাড়ে ৭ কোটি রুপি   > শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে : ঢাবি উপাচার্য   > ভারতে `বেইমান`দের গুলি করে মারার স্লোগান দিলেন বিজেপি মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর   > সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার অব্যাহত রাখবে : প্রধানমন্ত্রী   > ধর্মান্তরিত ১২ সদস্যের পরিবারটিকে ভারতে ফেরত পাঠানোর নেপথ্যে   > আবদুল্লাহর পদত্যাগ, কাতারের নতুন প্রধানমন্ত্রী খালিদ   > সোলেইমানি হত্যার নীল নকশাকারী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত  

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আত্রাইয়ে মাটির ঘর

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আধুনিকতার উৎকর্ষতায় আর কালের আবর্তে

গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এখন বিলুপ্তির পথে। গরীবের এসিখ্যাত মাটির বাড়ি এখন আর নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে উপজেলার কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে,গ্রাম বাংলার চিরচেনা সেই মাটির ঘর এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রামের মাটির ঘর ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইটের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রাচীনকাল থেকে গ্রামবাংলায় মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এঁটেল মাটি দিয়ে এসব  ঘর তৈরি করা হতো।

মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে কাদায় পরিনত করে সেই কাদা ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো।

এ দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগে, কারণ একসঙ্গে বেশি উঁচু করে তৈরি করা যায় না।

 প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়।

কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার ওপর একই উচ্চতায় দেয়াল তৈরি করা হয়।

এভাবে দেয়াল ১০-১২ ফুট উঁচু হলে বেশ কিছুদিন ধরে রোদে শুকানো হয়।

তারপর এই দেয়ালের ওপর বাঁশের চালা তৈরি করে খর বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়।

একটি মাটির ঘর তৈরি করতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগে।

মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরাম দায়ক, তবে বন্যা,

ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘরশতাধিত বছর পর্যন্ত টিকসই হয়।

অনেক সময় মাটির ঘর দোতলা পযন্ত করা হয়।

গৃহিনীরা তাদের নরম হাতের কোমল ছোঁয়ায় নিপুন ভাবে কাদা দিয়ে লেপে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতো।

এখন আর সেই মাটির ঘর চোখে পড়ে না বললেই চলে।

এখনো বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই খরচ করে দু-একটা মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছে।

বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘরগুলো।

মাটির ঘরগুলো বন্যা, ঝড়, জলচ্ছাসের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ ক্ষতি সাধন হয় বলেই মানুষ ইট-সিমেন্ট এর ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে।

তা ছাড়া গ্রামের মানুষ আগের তুলনায় এখন আধুনিক। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ হলেও পাকা ঘর-বাড়িই নির্মাণ করছে।

আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রুপকথার গল্পের মতো।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আত্রাইয়ে মাটির ঘর
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আধুনিকতার উৎকর্ষতায় আর কালের আবর্তে

গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এখন বিলুপ্তির পথে। গরীবের এসিখ্যাত মাটির বাড়ি এখন আর নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে উপজেলার কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে,গ্রাম বাংলার চিরচেনা সেই মাটির ঘর এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রামের মাটির ঘর ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইটের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রাচীনকাল থেকে গ্রামবাংলায় মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এঁটেল মাটি দিয়ে এসব  ঘর তৈরি করা হতো।

মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে কাদায় পরিনত করে সেই কাদা ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো।

এ দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগে, কারণ একসঙ্গে বেশি উঁচু করে তৈরি করা যায় না।

 প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়।

কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার ওপর একই উচ্চতায় দেয়াল তৈরি করা হয়।

এভাবে দেয়াল ১০-১২ ফুট উঁচু হলে বেশ কিছুদিন ধরে রোদে শুকানো হয়।

তারপর এই দেয়ালের ওপর বাঁশের চালা তৈরি করে খর বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়।

একটি মাটির ঘর তৈরি করতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগে।

মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরাম দায়ক, তবে বন্যা,

ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘরশতাধিত বছর পর্যন্ত টিকসই হয়।

অনেক সময় মাটির ঘর দোতলা পযন্ত করা হয়।

গৃহিনীরা তাদের নরম হাতের কোমল ছোঁয়ায় নিপুন ভাবে কাদা দিয়ে লেপে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতো।

এখন আর সেই মাটির ঘর চোখে পড়ে না বললেই চলে।

এখনো বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই খরচ করে দু-একটা মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছে।

বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘরগুলো।

মাটির ঘরগুলো বন্যা, ঝড়, জলচ্ছাসের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ ক্ষতি সাধন হয় বলেই মানুষ ইট-সিমেন্ট এর ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে।

তা ছাড়া গ্রামের মানুষ আগের তুলনায় এখন আধুনিক। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ হলেও পাকা ঘর-বাড়িই নির্মাণ করছে।

আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রুপকথার গল্পের মতো।

নারী জাগরনের অগ্রদূত -বেগম রোকেয়া
                                  

তারাপদ আচার্য্য : আজ ৯ ডিসেম্বর সেই সাহিত্যিক, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

মাত্র বায়ান্ন বছর বয়সে নারী জাগরণের অগ্রদূত এই মহিয়সী নারী ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 

বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও বাড়িতে বড় ভাইদের সহায়তায় পড়ালেখার সুযোগ লাভ করেন।

শুধু তাই নয়, সাহিত্য চর্চা করার যথেষ্ঠ উপযুক্ত পরিবেশও বেগম রোকেয়া ছোটবেলা থেকেই পেয়েছিলেন।

আর তাই সামাজিক পশ্চাৎপদতা আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নারী সমাজের বহুমাত্রিক অধিকার আদায় ও নারী শিক্ষার পথ নির্দেশক হতে পেরেছিলেন বেগম রোকেয়া।

১৯৮৭ সালে বিহারের ভাগলপুরের এক খানদানি ক্ষয়িঞ্চু মুসলিম পরিবারের কীর্তিমান ও মহাত্না পুরুষ সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেন রোকেয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সাখাওয়াৎ হোসেন ছিলেন নিজের যোগ্যতা ও গুণেই সমাজে পরিচিত হওয়ার মতো মানুষ। তার কর্মজীবন ছিলো নানা বৈচিত্র্যমন্ডিত। সাখাওয়াতের পত্নী প্রেমও ছিল প্রগাঢ়।

বেগম রোকেয়ার স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তিনি সম্ভাব্য সব কিছুই করেছিলেন।  বেগম রোকেয়ার মনের গঠন, শিক্ষা ও সাহিত্য চর্চায় স্বামীর ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয়।

স্বামীর থেকে তিনি ভালো ইংরেজি শিখেছিলেন। রোকেয়ার ভেতরে যে সুপ্ত প্রতিভা ছিলো তার আবিষ্কার ও প্রকাশেও স্বামী রোকেয়ার নারী মুক্তির যে ভাবনা-চিন্তা তারও সমর্থক ছিলেন সাখাওয়াৎ। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া নিজেও বলেছেন, ‘আমার শ্রদ্ধেয় স্বামী অনুকূল্য না পাইলে আমি কখনোই প্রকাশ্য সংবাদপত্রে লিখিতে সাহসী হইতাম না’।

সাখাওয়াৎ হোসেন একজন অত্যন্ত দিলখোলা প্রাণবন্ত মানুষও ছিলেন। তিনি নারী শিক্ষার একান্ত পক্ষপাতী ছিলেন।

নিঃসন্তান রোকেয়া যাতে মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠার ভিতরে দিয়ে তাঁর নিঃসঙ্গতা ঘোঁচাতে পারেন, সেই সাথে সমাজের কল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থাই করেছিলেন স্বামী সাখাওয়াৎ।
অথচ বর্তমান সময়ে পৃথিবী যখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এখনও দেখি স্বামীদের উদার মন-মানসিকতার অভাবে নারীদের সুপ্ত প্রতিভা আবিষ্কার ও প্রকাশ হয় না।

নারীরা তাই পারছে না, তাদের চিন্তার স্বাধীনতার আত্নপ্রকাশ ঘটাতে। এদিক দিয়ে সাখাওয়াৎ হোসেন ব্যতিক্রম ছিলেন বলেই বেগম রোকেয়ার নামের সাথে তাঁর স্বামীর নামটি নারী মুক্তির আন্দোলনের যুক্ত হয়ে গেছে।

বাঙালি মুসলমান সমাজে নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ অবশ্যই বেগম রোকেয়া।

তিনি প্রথমবারের মতো বাঙালি মুসলিম সমাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকারের দাবি তুলে ধরেন, নারী স্বাধীনতার পক্ষে নিজের মতবাদ প্রচার করেন, অবরোধ প্রথার শিকল ভাঙেন।
সাহিত্যিক হিসেবে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা। তার সাহিত্য কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের কুসংস্কার ও অবরোধ প্রথার কুফল, নারী শিক্ষার প্রতি তার নিজস্ব মতামত, নারীদের প্রতি সামাজিক অনাচার ও অপমানের কথা।

নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা তাঁর সাহিত্যে বার বার উঠে এসেছে। বাল্য-বিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তার লেখনী ছিল সোচ্চার।

রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে মতিচুর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যাঙ্গাত্নক রচনা ও অনুবাদ।

বেগম রোকেয়া আজ থেকে একশ দশ-পনের বছর পূর্বে নারীর শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে পল্লিগ্রামেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুনে গিয়েছেন।

বাল্যবিয়ে যে নারীশিক্ষার অন্তরায়, তা তিনি চিহ্নিত করেছেন। বেগম রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনষ্ক ছিলেন।

তিনি অনেক সুন্দর একটি দেশের কল্পনা করে গেছেন। যেখানে মানুষ, ‘নারী-পুরুষ’ হিসেবে নয়, দু’জনেই মানুষ হিসেবে কাজ করবে। কেউ কাউকে অবমূল্যায়ন করবে না।

যার-যার জায়গা থেকে কাজ করবে। শারীরিকশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা দু’টিকেই কাজে লাগিয়ে একটি দেশকে কীভাবে সুখের স্বর্ণরাজ্যে পরিণত করা যায়, সেই স্বপ্ন রচনা করে গেছেন।

কার্যত এই ‘সুলতানার স্বপ্ন’ কল্পকাহিনিটিকে আমরা আধুনিক ‘সাইন্স ফিকশনের’ সাথে তুলনা করতে পারি। তিনি সেই সময়েই বসে সৌররশ্মির ব্যবহার করে সংসারের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করার কথা চিন্তা করতে পেরেছেন। সৌররশ্মিকে যুদ্ধে জেতার জন্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি মাঠের ফসল ফলানোর কাজে ব্যবহারের চিন্তা করেছেন।

বৃষ্টির পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রয়োজনমতো ব্যবহারের চিন্তা করেছেন। আজ বর্তমান বিশ্বে, ঠিকই সৌররশ্মির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।

বৃষ্টির পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

বেগম রোকেয়া তাঁর চিন্তাধারায় নিজেকে আধুনিক করতে পেরেছিলেন বলেই এ ধরনের স্বপ্ন বুনতে সমর্থ হয়েছিলেন।

যা আজকে আমরা আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে বিদ্যমান পাই। তাঁকে বেগম রোকেয়ার স্বপ্নদেখা রাষ্টনায়কের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখতে পাই।

রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্নে’র রাজ্যের মহারানির স্বপ্ন, আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনার কর্মে যেন এক মেলবন্ধন তৈরি করছে।

তিনি যেন রোকেয়ার স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি এং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁর স্বপ্নের ছেয়েও বেশি অগ্রগামী।

যেমন উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা স্বপ্ন বুনছেন।

তিনি ইতিমধ্যে ২০২১ সালের রূপকল্প ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে ? কেমন করে এগিয়ে যাবে ?

কেমন করে নেতৃত্ব দেবে ? তিনি সে স্বপ্ন রচনা করে যাচ্ছেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়েছেন বাস্তবায়নের জন্য।

একুশ শতকের বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কান্ডারী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
আমরা শ্রদ্ধাভরে স্বরণকরি স্বপ্নদ্রষ্টা বেগম রোকেয়া কে তাঁর জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে।

 

 

অসহায় মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান রেশমা জাহান
                                  

ছুটির সকাল। এক সঙ্গে সবাই নাস্তার সেরে নেবে। তারপর দুপুরের ভালমন্দ খাবার। এমন পরিকল্পনাই ছিল। কিন্তু বাড়ির কর্ত্রীর দেখা নেই। সাজ সকালে ঘর ছেড়ে ছুটে গেছেন বস্তিতে স্বাস্থ্যক্যাম্প করতে। কখনও আবার ছিন্মমূল শিশুদের নিয়ে বসে পড়েন লেখাপড়া শেখাতে। সময় পেরিয়ে যায় নিঃশব্দে। যখন ঘরে ফেরার তাড়া অনুভব করেন, তখন দেখতে পান বেলা গড়িয়ে গেছে। অবেলায় বাড়ি ফেরা। তারপর ঘরের কাজ শেষ করতে সন্ধ্যা। তারপরও মনে তৃপ্তি পান, যখন ভাবেন কিছুতো করা গেল। সামাজিক দায়িত্ব থেকেই ছিন্নমূল নারী-শিশুদের জন্য কাজ করে থাকেন রেশমা জাহান। সে দিন যুব মেলায় দেখা হতেই একমুখ হাসি নিয়ে এগিয়ে এলেন। যেন বহুকালের চেনাজানা। কত আপন। সদা হাসি মাখা মুখ। সকল কষ্টকে হজম করে নিতে পারেন অবলিলায়। সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকেই কাজ করেন। রেশমা একাধারে সংগঠক, সমাজসেবী এবং সংস্কৃতি পরিমন্ডলের বাসিন্দা। তিনি জীবনভর কঠোর সংগ্রামী এবং প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেননি। তিনি মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। তরুণদের সংগঠিত করে সম্পৃক্ত করেছেন মানবসেবায়।

মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ব্যাপারে পরিবার বড় অনুপ্রেরণা। মানব জীবনের সংক্ষিপ্ত জমিনে সুফল চাষ করে যেতে চাই। এতেই তার পরম সার্থকতা। মানব দরদি এই নারী পথশিশু এবং অনাথ শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন পরম মমতায়। বয়স্ক নারীদের পাশে গিয়ে যখন দাড়ান, তখন মনে হয় তিনি মায়ের ভূমিকায়। তাদের কল্যাণে নিবেদীত হয়ে কাজ করে যান। তাদের নানা উৎসবে ভাল মন্দ খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার মানবিকগুণের আবেদনটিকে মানবসেবার মাধ্যমে নিবেদিত করেছেন সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর কল্যাণে। কাজ করেন নিভৃতে। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তার জন্যই মানায়। এ কারণেই আজকের একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে শুধু আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তাই তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী। তিনি সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন পশ্চাৎপদ অনগ্রসর মানুষকে যে-কোন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে।
জানালেন তার প্রতিষ্ঠিত স্বপ্ন কথা কুটির শিল্প মাধ্যমে বেশ পিছিযে পড়া নারীকে প্রশিক্ষিত করে কর্মীর হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছেন। তাদের মেশিনের ব্যবস্থা করে কাজ দিয়ে নবজীবন দিয়েছেন। ছিন্নমূল শিশুদের লেখাপড়া শেখার ব্যবস্থা করেছেন। দেশের বিভিন্নস্থানে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রেশমা। সমাজের অনগ্রসর ও দুঃস্থ মানুষের সেবা করাটাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেঁেচ নিয়েছেন। দুঃখী, অস্বচ্ছল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প মহিয়ষী করেছে জীবন সংগ্রামে জয়ী এই নারীকে। তার এই মানবিক গুণের কারণেই তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষের মনমন্দিরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সেবাই হচ্ছে ধর্ম ব্রত পালনের মত একটি পবিত্র দায়িত্ব। তাই তার মনে সব সময়ই উদীত হয় ‘মানব সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন। এই দায়িত্ববোধ সমাজের সাম্য, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। তাই একজন দুঃস্থের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে যদি তার জীবনের অবলম্বন তৈরি করে দেয়া যায়-তা হলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় মহৎ কর্তব্য পালন। এই কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের মহত্ব প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে। এই মহত্ব অর্জনের মধ্য দিয়েই সমাজের মলিনতা দূর হয়।
রেশমা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন, সেবা ধর্মে নারীরাই যোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এ কারণেই নারী সর্বদা মমতাময়ী। তার সেবা ব্রতের মহতী আদর্শ হলেন মাদার তেরেসা। মহিয়ষী মাদার তেরেসার আদর্শকে ধারণ করেই তিনি জীবনের সার্থকতাকে খুঁজে পেতে চান মানব দরদী রেশমা জাহান। বলেন, মাদার তেরেসার মমতাময়ী স্পর্শে অনেক অবহেলিত নারী-শিশু সমাজে আলোকিত হয়েছে। দুঃস্থজনের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনিই সেবার ক্ষেত্রে সেরা আদর্শ। তাই মাদার তেরেসা মাতৃজাতির উজ্জ্বল অহংকার। মাদার তেরেসার সেবার আদর্শকে আমৃত্যু অনুসরণ করতে চান রেশমা। তিনি মনে করেন, সমাজে নারী শক্তিকে এখনো শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়েছে। নারীরা নানাভাবে কুসংস্কারেরর শিকার। কিছু ধর্মীয় গোড়ামীর কারণেই সমাজ উন্নয়নে নারীরা পুরুষের সমান অবদান রাখতে পারছেন না। সুতরাং নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র শ্লোগানবন্দী হয়ে আছে। তার সীমিত সামর্থের মধ্যেই সেবাব্রত’র মন্ত্রে দু’বাহু বাড়িয়ে দিয়েছেন-এটাই তার জীবনের লক্ষ্য। তার দুয়ার সকাল-সন্ধ্যা-রাত অষ্টপ্রহরব্যাপী সমাজের দুঃস্থ ও অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য খোলা। সমাজে পিছিয়ে মানুষের জীবনের দ্বীপ জ্বালাতে চান রেশমা।
আমিনুল হক

লাখো ভক্তের স্বপ্নসারথী ইকবাল হোসেন অপু প্রকৃত অর্থেই একজন জননেতা
                                  

কাজী নজরুল ইসলাম :

বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক দলের যেমন অভাব নেই, নেতা-নেত্রীদেরও তেমন কমতি নেই। দু‘দিন কোন দলীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করলে, গাছের মাথায় নেতা-নেত্রীর সাথে ছবি টাঙগালে, কোন জনপ্রতিনিধির পেছনে মিছিল করলে-শ্লোগান দিলে, অমুক ভাই-তমুক ভাইর সাথে সেলফি তুলে ফেইসবুকে দিয়েই একেকজন নেতা বনে যান। শুধু নেতাই নন, তারা জননেতা, জনতার নেতা, গণ মানুষের নেতা, সমাজ গড়ার কারিগর, উন্নয়নের বরপূত্র নানান খেতাবে ভূষিত হতে থাকেন। আসলে রাজনৈতিক বিবেচনায় এগুলো পাপতুল্য। তথাকথিত কিছু  রাজনীতিবীদ নামধারি জ্ঞানপাপীদের উদাসীনতা আর দল ভারীর অসুস্থ্য প্রতিযোগিতার ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক নেতাদের পবিত্র খেতাবগুলো আজ বাজারের সস্তা পণ্যের কাতারে সামিল হয়েছে।

 

যারা যুগে যুগে জননেতা হয়েছেন, গণ মানুষের আস্থার ঠিকানা হয়েছেন তাদের ইতিহাস অনেক লম্বা, অবর্ণনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষার। সে সকল নেতারা কখনো বিপ্লবী ধারায় দখলদার হঠানোর লড়াইয়ে জীবন বাজি রেখেছেন। আবার কখনো পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্তির জন্য মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছেন। জনমত তৈরী করতে গিয়ে জেল-জুলুম, নির্যাতন ভোগ করে নিপীড়িত মানুষের মাঝেই মিশে গেছেন। এখনো দেশে এমন অনেক নেতা রয়েছেন যাদের হৃদয় মন্দিরে শুধু বঞ্চিত মানুষের কল্যানে সাম্যের সুর ধ্বনিত হয়। শৈশব থেকেই তারা পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে মানবতার জয়গানে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক বা দলীয় বড় কোন পদ বা আর্থিক সক্ষমতা না থাকলেও অনেক বড় আশ্রয় করে নিয়েছেন গণ মানুষের অন্তরের গহীনে।

 

তৃণমূল থেকে রাজপথ, যেখানেই যাবেন দলে দলে অসহায় নিঃস্ব মানুষেরা এসে ভীড় জমান এমন নেতাদের ঘিড়ে। নিষ্পেশিত মানুষের সুখ-দুঃখের কথায় মনোনিবেশ করেন গভীর নিমগ্নতায়। দুখী মানুষের সমস্যা ঘোচাতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন নিজের শেষ স্বামর্থটুকু দিয়ে। বার বার অলংঘনীয় জীবন ঝুঁকিতে পরেও কোন অবস্থাতেই তারা জনতার ভালবাসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেননা । মৃত্যুভয় কখনো তাদের তাড়া করেনা। অসুর শক্তির বন্দুকের নিশানা থেকে বারংবার বেঁচে এসে তারা হয়ে উঠেন মৃত্যুঞ্জয়ী। আর সে কারনেই এমন সব নেতা বা ব্যক্তিকে লাখো মানুষ মনের অজান্তেই খেতাব তুলে দেন জননেতা বা গণ মানুষের নেতা নামে। আর এমনটি এক দিনে, এক বছরে, এক দশকেও সম্ভব হয়না। যুগের পর যুগ একজন জননেতা হয়ে উঠেন অযুত মানুষের আরাধ্য পুরুষ।

 

আমি এধরনের নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট বা গুন খুঁজতে খুব দুরে যেতে চাইনা, কোন ভিন গ্রহেও হাত বাড়াবোনা। আমার দৃষ্টির খুব সন্নিকটে, হাতের বেশ নাগালেই খুঁজে পাই একজনাকে। যিনি আর কেউ নন, আমাদের শরীয়তপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য, জননন্দিত পুরুষ, সময়ের সাহসী সন্তান ইকবাল হোসেন অপু। প্রকৃত অর্থেই তিনি জননেতা, জনতার নেতা, গণ মানুষের নেতা, হাজারো অসহায়ের ভরসারস্থল, লাখো জনতার আরাধ্য পুরুষ, বঞ্চিত-নিপীড়িতের সূহৃদ-স্বজ্জন, দুস্থ্য-অবহেলিতের আশার বাতিঘর, মুজিবাদর্শের লড়াকু সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনার গত তিন যুগের পরম বিশ্বাসের অদম্য সাহসী এক ত্যাগী সিপাহসালার। একজন আদর্শবান পিতার সুযোগ্যতম সন্তান। সুখে-দুখে, রাত্রি-দিবসে, দুর্যোগ-দুঃসময়ে হাজারো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নিবেদিত বন্ধু। বিত্ত-বৈভব, সম্পদের মোহ, অবৈধ উপার্জণ, বিলাসী জীবন কিছুই যাকে স্পর্শ করেনা এমন এক দেবতুল্য মানবিক নেতা, মানতার ফেরিওয়ালা। সব বয়সের, সকল শ্রেনি-পেশার মানুষের “প্রিয় অপু ভাই”।

 

এদশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখন চিরায়ত নিয়ম হয়ে গেছে, কোন রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতা পেলেই পাল্টে যান। পাল্টায় তার বেশ-ভূষন, চাল-চলন, খাবার মেনু, বন্ধুত্বের তালিকা, শোবার ঘর, আসবাব, ড্রয়িং রুম, গাড়ির মডেল, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন, আচার-আচরণ, চশমার ফ্রেম, চলার পথ, কথা বলার ভঙ্গি এমনকি আত্মীয়তাও। অনেককে ক্ষমতার মোহ বৈধ-অবৈধ পন্থায় কাড়ি কাড়ি টাকা কামানোর নেশায় বুদ করে রাখে। কেউ কেউ জাত-বিজাতের হিসেব ভুলে দলীয় আদর্শের পৃষ্ঠমূলে কুঠারাঘাত করে সামান্য ভিক্ষা কুড়ানোর লোভে অনাদর্শের দাশ হয়ে যান। ক্ষমতা অনেককে এমনই এক উম্মাদ বানিয়ে তোলে কিছু চামচা-চাটুকার পোষন করে তাদের মাধ্যমে দরিদ্রের হক আত্মসাতেও দ্বিধা করেননা। আবার কেউ কেউ আছেন, যাদের এক সময় চৌকিদারী টেক্স পরিশোধের সক্ষমতা ছিলনা ক্ষমতায় গিয়ে তাদের সন্তানদের অবৈধ রুজির পয়সায় উন্নত দেশের শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ করে দিয়ে মহা তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন। হঠাৎ ক্ষতাবান হয়ে অনেকেই আছেন যাদের কাছে জরুরী দরকারে আসা ভুখা নাঙ্গা মানুষদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখে স্ত্রী-সন্তানের প্রশংসার গীতি কবিতা শুনিয়ে মুগ্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। আবার কখনো দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাবা-দাদাকে ঘোড়ায় চড়িয়ে ১২ ভূঁইয়াদের এক ভূইয়া বানানোর মিথ্যে রূপকাহিনী শুনিয়ে অত:পর “তন্দ্রাদেবীর কোলে ঢলিয়া পরিয়া কুসুম কুসুম নিদ্রার হাই তুলিয়া বলিয়া উঠেন, রাত্রি বুঝি পোহাইয়া গেলগো, তোমরা বরং কিয়ৎকাল বাদেই আসিও, আমার শুধাইবার আরো বহুধা কথন অসমাপ্ত রহিয়া গিয়াছে” (ধিক জানানোর মত এমন লোকেরাও এদেশে এখন জননেতা) !

 

গত সাড়ে ৯ মাসেরও বেশী সময় পার হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। যে নির্বাচনে ইকবাল হোসেন অপুও শেখ হাসিনার মনোনীত একজন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এতদিনে তার মধ্যে ন্যুনতম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ঠিক আগের মতই রয়ে গেছেন অপু ভাই। একটুও বদলাননি তিনি। তার স্বভাবে আচরনে একজন সাধারণ মানুষের জীবন চিত্রই এখনো স্পষ্ট। পরম মমতায় কাছে টেনে নেন কর্মীদের। নিজের খাবার টুকু পর্যন্ত ভাগ করে খান কর্মীদের নিয়ে। মানুষের ভোগান্তি হয় বা সাধারণ মানুষ সামান্যতম বিরক্ত হন এমন একটি কাজও তিনি করেননি। আগের সেই ৯ শত বর্গ ফিটের ছোট্ট ভাড়া বাসাটিতেই থাকছেন স্বাচ্ছন্দে। অন্য সব সংসদ সদস্যগণ ন্যাম ভবনে ফ্লাট বরাদ্দের জন্য হুমরি খেয়ে পরলেও তিনি সেখানে যেতে পছন্দ করছেননা। এমনকি তার সহধর্মিনীও চাচ্ছেননা, যেখানে নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে যাতায়াত করতে নানা বিঘ্নতায় পরবেন সেখানে বাসা পরিবর্তন করে যেতে। সাংসদদের জন্য বরাদ্দকৃত বিলাশবহুল ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানির কথাও ভাবছেননা তিনি। অপু ভাই আগের মতই নিয়মিত ধানমন্ডির ৩/এ সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন আমতলাতেই বসেন। সেখানে সকাল থেকে বিকেল, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি খোলা আকাশের নিচে অফিস করেন। যদিও জাতীয় সংসদে সরকার তাকে একটি অফিস বরাদ্দ দিয়েছেন, সেখানে প্রশাসনিক অনেক আনুষ্ঠানিকতা মোকাবেলা করে মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় বাবুয়ানা ভাবটা পরিহার করে গাছতলায় বসেই জনসেবা করে যাচ্ছেন ইকবাল হোসেন অপু।

 

একেবারে অতি সাধারণ মানুষের মতই এখনো তার চলাফেরা। বাসা থেকে বেড়িয়ে রিক্সায় চড়েন আবার রিক্সায় করেই বাসায় ফিরেন। যখন নির্বাচনী এলাকায় আসেন, তখন বিলাসবহুল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত দামী গাড়িতে না ঘুরে তিনি বন্ধু-বান্ধব ও কর্মীদের নিয়ে অটো রিক্সায় চলাচল করেন। নির্বাচনী এলাকার দুর্গম কোন এলাকায় গেলে সেখানে নিজে মোটর বাইক  চালিয়েই ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের জীবন চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। রাস্তার পাশে কাজ করা শ্রমজীবী নারী-পুরুষদের সাথে মিশে যান শিশুর মত। তাদের কথা শুনেন মন দিয়ে। কখনো কারো অতি অসহায়ত্বের কথা জানলে সন্তোষজনক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তৎক্ষনাত। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ প্রকোপ যখন শরীয়তপুরে বিরাজমান ছিল, প্রতিদিন একাধিকবার হাসপাতালে গিয়ে রুগিদের খোঁজ নিয়েছেন, দেখে এসেছেন। চিকিৎসকদের সাথে সভা করেছেন। নিজের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত এ্যাডভোকেট আলহাজ সুলতান হোসেন মিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রুগিদের নিয়মিত ঔষুধ পথ্য কিনে দিয়েছেন। এমনকি তিনি এও ঘোষনা দিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার (পালং-জাজিরায়) ডেঙ্গু আক্রান্ত সকল রুগিদের চিকিৎসা করাবেন নিজ খরচে। করিয়েছেনও তাই। আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের চরযাদবপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পিতার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ডেঙ্গু আক্রান্ত কিশোর সন্তানকে বাঁচানোর সব আশা ছেরে দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের চিকিৎসকরা। সেদিন  ১৪ আগষ্ট। রাত ১০টার পর এমন সংবাদ জানতে পেরে ব্যাকুল হয়ে অপু ভাই হাসপাতালে পৌছে সেই অন্ধ কিশোরের চিকিৎসার ভার গ্রহন করেন। গভীর রাতে নিজ খরচে ঢাকা প্রেরণ করেন। আল্লাহর রহমতে আর অপু ভাইর চেষ্টায় যথাযথ চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে বাবা-মা‘র কোলে ফিরে আসে আতাউর মোড়লের ছেলে পবিত্র কোরানের হাফেজ অন্ধ হেলাল উদ্দিন। ইকবাল হোসেন অপু এমন অসংখ্য নজীর সৃষ্টি করেছেন এম.পি নির্বাচিত হওয়ারও বহুকাল আগে থেকেই। 

 

এরই মধ্যে ৯২ দিন তার নির্বাচনী এলাকায় সময় দিয়েছেন সাংসদ অপু। এলাকার উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। রাষ্ট্রীয়-সামাজিক অসংখ্য আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈকিত ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন জনহিতৈষী কাজে। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগিয়েছেন সড়কের পাশে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সহায়তা প্রদান করেছেন নিজ এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে। ছুটে গেছেন বন্যা-নদী ভাঙ্গনে বানভাসী মানুষের পাশে।

 

একদিনেই বা হঠাৎ করেই সৃষ্টি হননি অপু। দীর্ঘ ইতিহাসের পথ পেরিয়ে আজ তিনি জননেতা-জনপ্রতিনিধি। তৃণমূল থেকেই রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে ইকবাল হোসেন অপুর। অপুর জন্মস্থান শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রনখোলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহি মিয়া পরিবারে। তার  বাবা মরহুম আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট সুলতান হোসেন মিয়া আইন পেশার কারনে ৫০ এর দশক থেকেই মাদারীপুরে স্যাটেল্ট ছিলেন। সেখানেই অপুর বেড়ে উঠা। অপুর শৈশব, কৈশরের সকল স্মৃতিই জরিয়ে আছে আড়িঁয়াল খাঁ নদের বাঁকে বাঁকে। ৬০ এর দশক থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরে অপুর বাবা সুলতান হোসেন মিয়ার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এক সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর এতদাঞ্চলের হাতে গোনা কয়েকজন সহচরের মধ্যে ছিলেন একজন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরন করে অপু পারিবারিকভাবেই অর্থাৎ জন্মগত উত্তরাধিকার নিয়েই আওয়ামী রাজনীতির দীক্ষা গ্রহন করেন। মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করে অপু শিশু শ্রেনী থেকে ¯œাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। স্কুল জীবনেই ছাত্রলীগের সকল মিছিল, শোভাযাত্রা, সভা , সমাবেশে অংশ গ্রহন করতে থাকেন।

 

১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মাদারীপুর জেলা শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ইরশাদ হোসেন উজ্জল। এরপর ১৯৮৭ সালে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন অপু। মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্স শ্রেনীতে ভর্তি হন অপু ভাই। তখন স্বৈরাচারি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। ছাত্র সমাজের ঐতিহাসিক দশ দফার সংগ্রাম আর  এরশাদ হটাও আন্দোলনে সুদুর মাদারীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত যুগান্তকারি ভূমিকা পালন করেন অপু। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে অপুদের পরিবার মাদারীপুর থেকে শরীয়তপুর শহরে স্থানান্তরিত হয়। তার বাবা সুলতান হোসেন মিয়াও শরীয়তপুরেই শুরু করেন তার আইন ব্যবসা। ওই সময় শরীয়তপুরে গোটা আওয়ামী পরিবার ছিল এক ভয়ংকর জল্লাদের দাপটে ভীত সন্ত্রস্ত। অপুর শরীয়তপুরে আবির্ভাব এবং আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখায় ঝিমিয়ে পরা সংগঠনে প্রান সঞ্চারিত হতে থাকে। এ সময় মন্টু খান, বাবুল খান, বাবুল তালুকদার, চুন্নু মাঝি সহ মাত্র কয়েকজন তরুন বন্ধু ইকবাল হোসেন অপুর সার্বক্ষনিক সহচর হিসেবে সংগঠনের কাজ করতেন।

 

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাঝেই ১৯৮৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত হয় ডাকসুর নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ডাকসু প্যানেলে সুলতান-মোশতাক পরিষদ ও হল সংসদ নির্বাচনে বিশেষ করে জহুরুল হক হল সংসদে চুন্ন-রাজা পরিষদের বিজয়ের পেছনে অনেক শ্রম ও কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন অপু। ৯০ সালে জহুরুল হক হলের ভিপি শহিদুল ইসলাম চুন্নুকে ছাত্রদল-পুলিশ মিলে হল গেইটের কাছাকাছি গুলি করে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচক্ষন ও সাহসী ছাত্রলীগ নেতা চুন্নু নিহত হবার পরে গোটা ক্যাম্পাস জুরে ভীতি নেমে আসে ছাত্রলীগ শিবিরে। তখন থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসে সময়ের এক সাহসী যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে ইকবাল হোসেন অপু নামের ছিপ ছিপে এক তরুনের। ৯০ দশকের গোড়ার দিকে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুখ-রশীদ চক্র যখন ফ্রিডোম পার্টির ব্যানারে নাজাত দিবস পালনের নামে অপতৎপরতা চালাচ্ছিল, তখন অনেক বীর পুরুষরাই ফারুখ-রশীদের সমাবেশ পন্ড করার জন্য সাহস দেখাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিিেছলেন। কিন্তু ইকবাল হোসেন অপুর সুযোগ্য ও সাহসী নেতৃত্বেই সেদিন শত শত পুলিশ-বিডিআর হঠিয়ে ওই খুনি কুলাঙ্গারদের সভা সমাবেশ ধুলিস্যাৎ করে দেয়া হয়েছিল। অপু তার কর্মদক্ষতা ও সাহসিকতার কারনে ক্রমশই নৈকট্য লাভ করতে থাকেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার। নব্বই দশকের শেষ প্রহরে এরশাদের পতন হলে ৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ পালং-জাজিরা নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভ করেন কে,এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। আওরঙ্গের নির্বচনী বৈতরনী পার করতে অপু ও তার সহকর্মীরা অভাবনীয় সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এই নির্বাচনে আওরঙ্গের মনোনয়ন লাভের অন্যতম কুশীলবও ছিলেন ইকবাল হোসেন অপু।

 

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে সারা দেশে শুরু হয় ছাত্রলীগের উপর কঠিন দমন-পীড়ন। সরকারি মদদে ছাত্রলীগকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কখনো মন্টু গ্রæপ, কখনো বরিশাল গ্রæপ আবার কখনো থার্ড ওয়ার্ল্ড নামে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হতে থাকে ছাত্রলীগ। কিন্তু তখন মূল ছাত্রলীগ বা শেখ হাসিনার অস্তিত্ব রক্ষার সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহন করেন ইকবাল হোসেন অপু। ১৯৯২ সালের ২ আগষ্ট তৎকালিন বিএনপি সরকার ছাত্রলীগ নির্মূলের নামে “অপারেশন দূর্বার-৯২” শিরোনামে আইন শৃংখলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালি মিশন মাঠে নামান। এ সময়কার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ঢাকা ইউনিভারসিটি কেন্দ্রীক রাজনীতিতে অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে অনেকাংশেই ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। শত প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে অপু তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে হলে শরীয়তপুর-মাদারীপুরের বেশ কিছু সাহসী ছাত্রলীগের কর্মীদের সমন্বয়ে একটি প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়ে তোলেন। এরপর অপুর বিপুল কর্মজজ্ঞের ফল স্বরূপ ১৯৯২ সালে গঠিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে (মাঈন-ইকবাল) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে গঠিত (শামীম-পান্না) কমিটিতে সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

এরপর ২০০২ সাল  থেকে টানা ২০১৬ সন পর্যন্ত আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তুমুল আলোচিত-আলোরিত দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ইকবাল হোসেন অপুকে সম্মানীত কার্য নির্বাহী সদস্য মনোনীত করে লাখো মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্ম ইতিহাসে গত ৭০ বছরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা তথা পালং থেকে ইকবাল হোসেন অপুর আগে কেউ আ‘লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতা নির্বাচিত হননি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন থেকেই শরীয়তপুর সদর উপজেলা (পালং) এর আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা বাইরের উপজেলার লোকদের ভোট দিয়ে আসছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ  ভাগের ৩৯ বছর পর ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে পালং এর সন্তান তৎকালিন জেলা আ‘লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মতিউর রহমান দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। দূর্ভাগ্য যে, সেই নির্বাচনে তার অভাবনীয় পরাজয় হয়েছিল। এর পর গত ৩২ বছর ধরে জেলা সদরের নির্যাতিত আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা পালং এর একজন যোগ্য সন্তানের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে আসছিলেন। লাখো মানুষের আরাধনার ফল স্বরূপ ২০১৮ সালের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসনে পালং এর সন্তান ইকবাল হোসেন অপুকে মনোনীত করেন দেশরতœ শেখ হাসিনা।

 

আজ থেকে তিন দশক আগে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব রক্ষার সেই সারা জাগানো নেতা ইকবাল হোসনে অপু বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। ৮০’র দশকের শেষ ভাগ থেকে কখনো আন্ত-দলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে, কখনো বিএনপি-জামাতের টার্গেটে পরে আবার কখনো এরশাদ-খালেদার লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর অস্ত্রের নিশানা থেকে বেঁচে এসেছেন অপু। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট শেখ হাসিনার সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সময়ও নেত্রীর খুব কাছাকাছি ছিলেন অপু ভাই। যুবলীগ নেতা মোশতাক হোসেন সেন্টুর সাথে হাতে হাত ধরা অবস্থায় ছিলেন ইকবাল হোসেন অপু। গ্রেনেডের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন  সেন্টু । সৌভাগ্যক্রমে মহান শ্রষ্ঠা সেদিনও জীবন ভিক্ষা দেন অপু ভাইকে। অনেক আগেই ইকবাল হোসেন অপুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ খেতাব দিয়েছেন “মৃত্যুঞ্জয়ী অপু” নামে। অপু শুধু মৃত্যুঞ্জয়ীই নন। অপু ছাত্রলীগের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কিংবদন্তীর নামও বটে।

 

ইকবাল হেসেন অপু আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান তার আদর্শবান পিতা আর সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরে মৃত্যুবরণ করেন মমতাময়ী মা। এখন তিনি মা-বাবাহীন একজন এতিম সন্তান।

 

একমাত্র সন্তান দানীব বিন ইকবাল আদর ও স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট সংসার অপু‘র। এর বাইরে রয়েছে দলীয় লাখো জনতার বিশাল পরিবার। তাকে নিয়ে সহ মানুষের সুদীর্ঘ কালের লালিত স্বপ্ন আর নির্বাচনী এলাকা ঘিরে তার পরিকল্পনা। এই দুইয়ের সম্মিলনে চাই আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত-আধুনিক পালং-জাজিরা। মাদক আর সন্ত্রাস নির্মুলে তিনি অসংখ্যবার যে প্রতিজ্ঞা-প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেছেন তা বাস্তবায়নে তার পূর্নাঙ্গ সফলতা কামনা করি। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন এই মানব দরদী, কর্মী বান্ধব মানুষটাকে দীর্ঘ ও সুস্থ্য জীবন দান করেন। আর বিশ্ব মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রত্যাশা, তিনি যেন তার স্নেহ ধণ্য অপুকে আমৃত্যু তাঁর আদর-ভালবাসায় আগলে রেখে দল পরিচালনা ও জনসেবার পথটি আরো প্রসস্ত করে দেন।

 

লেখক : গণমাধ্যম কর্মী  ও সাবেক আহবায়ক শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগ|

“নারীবাদ নাকি সমকামিতা, কোন পথে আমরা”
                                  

পাকিজা মল্লিক : নারীবাদ বা ফেমিনিজম মানে এই নয় যে নারীর সাথে নারীর শারীরিক সম্পর্ক। হোমোসেক্সুয়ালিটি (লেজবিয়ান বা গে) এর সাথে নারীবাদের সম্পর্কটা কোথায় এই সামন্য জিনিসটা যে বা যেসব বুদ্ধিজীবীরা জানেন না তারা নারীবাদ নিয়ে কথা তুললে বিষয়টা যথেষ্ট গন্ধযুক্ত পচাঁ জিনিস মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।


নারীবাদের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সর্বাধুনিক শাখায় (রেডিকালিজম) সমকামিতার বিষয়টি স্থান পেয়েছে। কিন্তু সমকামিতা  (লেজবিয়ানিজম) মানেই নারীবাদ বা নারীবাদ মানেই সমকামিতা একথা ভিত্তিহীন। কারণ সমকামিতা শুধু নারীদের মধ্যে না বরং পুরুষের মাঝেও বিরাজমান।

তাহলে সমকামী পুরুষদের কি আমরা পুরুষবাদী বলি? উত্তরটা নিশ্চয় না। যদি তাই হয় তাহলে নারীদের ক্ষেত্রে কেন? প্রথমত, নারীবাদ আর সমকামিতা দুইটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। যারা এই দুটিকে গুলিয়ে পেচিয়ে গুলি বানিয়ে খান তাদের জন্য বলা, নারীবাদ হলো নারীদের ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক ক্ষেত্রে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র তাদের হারানো অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাকে স্বাধীন স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার এবং ওঠার আহবান বা আন্দোলন।

এগুলো নারীরা নানাভাবে করতে পারে, কেউ লিবারেলিজম ফলো করে করতে পারে আবার কেউ নিওলিবারেলিজম ফলো করেও করতে পারে, কেউ রেডিকালিজম বা পোস্ট মডার্নিজম ফলো করেও করতে পারে। এখন কে কোনটা ফলো করবে সেটা ফেমিনিজম ঠিক করে দেয় না বা দিবেও না। এটা ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা। দ্বিতীয়ত, সমকামিতা কোন ‘বাদের’ অর্ন্তভ‚ক্ত নয় বরং এটি সৃষ্টির শুরু থেকেই ছিল। এটা কারো হারানো অধিকার পুনুরুদ্ধারের জন্য বা কারো প্রতি ঘৃণা বা ক্ষোভ থেকে করে সেটাও নয়। বরং যদি কেউ এমন করে থাকে তাহলে সে পুরুষ বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই করছে না বুঝতে হবে।

সমকামিতা হলো একধরনের হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে সৃষ্ট সম লিঙ্গের মানুষের প্রতি সেক্সুয়াল আকষর্ণ। সেটা যে কারোরই হতে পারে ছেলে বা মেয়ে। এর জন্য নারীবাদী বা পুরুষবাদী কোনটিই হওয়ার দরকার পড়ে না। একজন নারীবাদী নিঃসন্দেহে সমকামী হতে পারেন তবে প্রত্যেক সমকামী নারীই যে নারীবাদী বিষয়টি মোটেই তা নয়।

তৃতীয়ত, নারীবাদী শুধুই যে নারীরা হয় বিষয়টা তা নয়। একজন পুরুষও নারীবাদী হতে পারে। সে যদি নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করে তাহলে অবশ্যই তাকে ফেমিনিস্ট বলা যাবে। বাইরের অনেক দেশে অনেক পুরুষ নিজেকে নারীবাদী বলে দাবী করেন শুধু মাত্র এই জন্য যে তারাও নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন।

এখন আসি যে জন্য এই প্রবন্ধটা লেখা তার আসল কথায়। ইদানিংকালে অনেক নামধারী বুদ্ধিজীবী বা নব্য ট্যাবু লাগানো নারীবাদী বলতে চাইছেন যে সকল নারীবাদীরা নারীবাদ নারীবাদ করে চিল্লায় ওদিকে সেক্সের বেলায় পুরুষকে খুজে বেড়ায় তারা কি আদৌ নারীবাদী কিনা? তাদের কাছে জানতে চাই বঙ্গদেশের প্রথম নারীবাদী (প্রকাশ্যে লেখালেখির মাধ্যমে) ছিলেন বেগম রোকেয়া।

তিনি কি লেজবিয়ান ছিলেন? তার পরের জন ছিলেন? তার পরের জন? উত্তর যদি না হয় তাহলে তসলিমা নাসরিন বা বর্তমান সময়ের অন্যান্যদের কেন লেজবিয়ান হয়ে প্রমাণ দিতে হবে তারা নারীবাদী কিনা? আর লেজবিয়ান না হলে তারা নারীবাদী হবেন না কেন? পরিশেষে বলতে চাই সমকামিতা বিষয়টি যতটা উত্তরআধুনিকতা বাদের সাথে যুক্ত ততটাই নারীবাদ থেকে বিচ্ছিন্ন। সুতরাং এটিকে নারীবাদের ধারা বিবেবচনা না করে বরং উত্তরাধুনিকতাবাদের ধারা বিবেচনা করাই শ্রেয়।

(লেখক : একজন কবি-লেখাটি নিজস্ব মতামত। এই মতামতরে সাথে আমাদর কোন সম্পৃক্ততা নইে)

কি ঘটে জানুয়ারির প্রথম সোমবারে?
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : জানুয়ারির প্রথম সোমবারকে `বিচ্ছেদের দিন` বলে ডেকে থাকেন পরিবার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা, এদিন অনেক মানুষ জানতে চান, কিভাবে ভালোভাবে তাদের বিয়ের সমাপ্তি টানা যায়।

সুতরাং কি এমন ঘটে, যা এতো যুগলকে এরকম উৎসবের মতো করে বিয়ে বিচ্ছেদে আগ্রহী করে তোলে?

ব্রিটেনের সম্পর্ক বিষয়ক একটি দাতব্য সংস্থার তথ্য মতে, দেশটির ৫৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্রিটিশ মনে করে, ক্রিসমাস আর নতুন বছর হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং সম্পর্কে চাপের কারণ।

কেউ বলছে না যে, ক্রিসমাসই কাউকে বিচ্ছেদ বা ছাড়াছাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি এর মধ্যেই নানা সমস্যার মধ্যে থাকেন, তাহলে এই উৎসবের অতিরিক্ত চাপ, যেমন অতিরিক্ত খরচ এবং পারিবারিক বিরোধে খারাপ লাগা শেষপর্যন্ত বিচ্ছেদের দিকে গড়াতে পারে, বলছেন সিমোন বোস, রিলেটের একজন পরামর্শক।

ফলে ছুটি শেষে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিচ্ছেদের ব্যাপারে আলাক করতে চাওয়া যুগলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সেই সঙ্গে, যুক্তরাজ্যের অনলাইন এইচএম কোর্ট এন্ড ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস জানিয়েছে, সংস্থাটি ক্রিসমাসের শুরু থেকে নববর্ষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের জন্য ৪৫৫টি অনলাইন আবেদন এসেছে। যার মধ্যে ১৩টি আবেদনই ছিল ক্রিসমাসের দিনে।

বিচ্ছেদ বিষয়ক একটি সহায়তা প্রতিষ্ঠান, অ্যামিকেবলের তথ্য মতে, শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই যুক্তরাজ্য জুড়ে ৪০৫০০ মানুষ `বিচ্ছেদ` শব্দটি লিখে কম্পিউটারে সার্চ করেছে।

জানুয়ারির আগে ঠিক কী ঘটে?

অনেক সময় ছুটি বা অবকাশে গিয়ে খরচসহ নানা কারণে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকে বিচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এটা পরিষ্কার যে, ক্রিসমাস আর নববর্ষ হচ্ছে এমন একটা সময় যখন যুগলরা লম্বা একটা সময় ধরে একত্রে থাকে এবং তাদের আবেগও উত্তুঙ্গ অবস্থায় থাকে, বলছেন অ্যামিকেবলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কেট ড্যালি।

সম্পর্ক খারাপ হওয়া সত্ত্বেও সন্তান বা পরিবারের কথা ভেবে অনেক যুগল তাদের খারাপ সম্পর্ক বয়ে নিয়ে যান। অন্য অনেকে আরেকবার শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান।

অনেক সময় যুগলরা ক্রিসমাস বা কোন ছুটির দিনের কথা আলাপ করতে গিয়ে ঝগড়ার মতো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন। তখন তারা পরিবার বা ভবিষ্যতে একসঙ্গে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দেন।

কিন্তু সম্পর্ক যদি তলানিতে গিয়ে ঠেকে, তখন কোন আকর্ষণহীন জীবন কাটানো, ধরাবাঁধা পারিবারিক কাজের মধ্য দিয়ে গেলে সেটা ক্রমেই একঘেয়ে বলে মনে হতে পারে। হয়তো মনে হতে পারে এরকমটা আর বহন করা সম্ভব নয়।

বছরের এই উৎসবের সময়টায় এসে অতিরিক্ত খরচ আর পারিবারিক চাপের কারণে এ ধরণের খারাপ সম্পর্কগুলো আর টিকে থাকতে পারে না, বরং দীর্ঘদিনের চাপা পড়ে থাকা বিষয়গুলো সামনে বেরিয়ে আসে।

সুতরাং মাস শেষে, যেমনটা বলছে ড্যালি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, অনেক মানুষ বুঝতে শুরু করে যে, তারা অখুশি এবং ছাড়াছাড়ির বিষয়টি ভাবতে শুরু করে।

এটা শুধুমাত্র ক্রিসমাস শেষেই হয় তা নয়, বরং গ্রীষ্মের ছুটি শেষেও বিচ্ছেদের এই প্রবণতা দেখা যায়।

নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি

সাধারণত নতুন বছরকে দেখা হয় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার, নিজেদের পুনরায় গড়ে তোলার ও নতুন করে শুরু করার একটি সময় হিসাবে।

কোন মানুষ যদি ভাবতে থাকে যে, সে একটি খারাপ পরিস্থিতি বা সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে, তারা হয়তো সেই অবস্থায় আরো ১২টি মাস আর থাকতে চাইবে না-সেটা শারীরিক বা মানসিকভাবেই হোক না কেন।

দুঃখজনক ব্যাপার হল, অনেক যুগল মনে করে যে, ফেরত যাওয়ার আর কোন উপায় নেই এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা বিচ্ছেদ করতে চান, বলছেন ড্যালি।

অ্যামিকেবলের তথ্য বলছে, বিচ্ছেদ নিয়ে ২০১৮ মানুষের সবচেয়ে বেশি আগ্রহের দিনটি ছিল বছরের প্রথম কর্ম দিবসটি।

দাতব্য সংস্থা রিলেটের তথ্যও বলছে, জানুয়ারির প্রথম কর্ম দিবসে বিচ্ছেদের বিষয়ে তারা ১৩ শতাংশ নতুন টেলিফোন পান এবং ওয়েবসাইটে ৫৮ শতাংশ ব্যবহারকারী বেড়ে যায়।

তবে তারা এটাও বলছেন, সঠিকভাবে পরামর্শ পেলে অনেক দম্পতি তাদের সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে পারে, অথবা অন্তত বেদনাহীনভাবে সম্পর্কটি শেষ করতে পারেন।

কিভাবে সম্পর্কের ঝামেলা এড়ানো যায়:

প্রতিটি সম্পর্কেই মনোযোগ ও যত্নের দরকার হয়। কিন্তু সেজন্য আপনি একা নন। আপনি যদি পারিবারিকভাব চমৎকার একটি ছুটি উপভোগ করার পরিকল্পনা করে থাকেন, সেজন্য রিলেটের কিছু পরামর্শ রয়েছে:

খরচের বিষয়টি ঠিক করুন: আপনার সঙ্গীর সঙ্গে বসে ঠিক করুন আপনাদের অবকাশটি কেমন হবে, কোথায় বেড়াতে যাবেন, খবর কেমন হবে এবং আপনি কতটা খরচ করতে চান। সেক্ষেত্রে হয়তো দুজনকেই খানিকটা ছাড় দিতে হবে, বিশেষ করে যদি টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তার বিষয় থাকে।

কাজকর্ম ভাগ করুন: উপহার কেনা, বাড়ি ঠিক করা বা খাবার প্রস্তুত করার মতো বিষয় গুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিন। দক্ষতা ও আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে দুজনে কাজকর্ম ভাগ করে নেয়া ভালো। নিজের ও আমাদের জন্য খানিকটা সময়: যখন আপনি একটি বড় পরিবারের মধ্যে বেশ কিছুদিন সময় কাটাবেন, তখন নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করে নিন, যাতে নিজে ক্লান্ত হয়ে না পড়েন। নিজের রুমে গিয়ে পরস্পরকে খানিকক্ষণ জড়িয়ে রাখুন, খুব ভোরে উঠে একসঙ্গে খানিকক্ষণ হাঁটুন।

পরস্পরকে সমান গুরুত্ব দিন: আপনি হয়তো প্রিয় কোন আত্মীয় বা বন্ধুর সঙ্গে একত্রে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। অথবা কোন সন্তানের সঙ্গে বেশি একাত্মতা বোধ করেন। কিন্তু পরিবারে অন্য সদস্যদের সময় কাটানোর চেষ্টা করা উচিত, যাতে সবাই একাত্মতা বোধ করেন।

দ্রুত কিছু না করা: যদি আপনার সঙ্গী এমন কিছু করে, যা আপনাকে আহত করে তোলে, তাহলে তাদেরকে পরিবারের সবার সামনে অপদস্থ না করে অনুরোধ করুন যে, তার সঙ্গে আপনি আড়ালে গিয়ে কথা বলতে পারেন কিনা। যদি বাসায় মেহমান থাকে, তাহলে বাগানে যেতে পারে বা হাটতে যেতে পারেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে পারেন।

অথবা ভালোভাবে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে পারেন। বিচ্ছেদ যদি করতেই হয়, সেক্ষেত্রে ভালোভাবে সেটি করার জন্য বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ রয়েছে:

১.বিচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু পর যদি আপনি সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে আবার সম্পর্ক করার চেষ্টা করেন, তাহলে হয়তো অযথাই সময় ক্ষেপণ হবে। কারণ আপনি এবং আপনার সঙ্গী হয়তো তখন ভিন্ন ধরণের মানসিক অবস্থায় রয়েছেন। আপনার সঙ্গীকে খানিকটা সময় দিন, যাতে তিনি পুরো বিষয়টি আবার ভেবে দেখতে পারেন। বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শক বা পেশাদারদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে, যা হয়তো বিচ্ছেদের সময়কার বেদনার কাটিয়ে ওঠা এবং মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে।

২. আবেগ নয়, যুক্তির দিক থেকে আলোচনা করুন। বড় ধরণের কোন আইনি ঝামেলায় না গিয়েই আলোচনার মাধ্যমে ভালোভাবে বিচ্ছেদ করা সম্ভব। তবে বিয়ের সময় যেমন জীবনযাপন করেছেন, দুজনের কেউই হয়তো বিচ্ছেদের পরে আর সেরকম জীবনযাপন করতে পারবেন না- প্রথমেই এটা মেনে নেয়া ভালো।

৩. বিচ্ছেদ যদি করতেই হয়, তাহলে সঙ্গীর সঙ্গে একটি সময় ঠিক করে নিন, এবং সেই সময়ে স্থির থাকুন। কারণ বিচ্ছেদের বিষয়টি যতো দীর্ঘ হবে, ততো কষ্ট এবং খরচ বাড়বে।

৪. বিচ্ছেদের খরচ বা অর্থনৈতিক বিষয়ে দুজনে যৌক্তিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিন। সেখানে সম্পদ এবং ঋণ- উভয়ের ক্ষেত্রেই দুজনকে সমান দায়িত্ব নিতে হবে।

৫. প্রথমেই কোন আইনজীবীর কাছে না দৌড়ানো ভালো। কারণ সেটি খরচ বাড়িয়ে দেয়। বরং প্রথমে নিজে থেকে বিচ্ছেদের আইনকানুন জেনে নিন। অনেক সংস্থা এক্ষেত্রে বিনামূল্যে পরামর্শ ও সহায়তা করে থাকে- তাদের সাহায্য নিতে পারেন।

৬. অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে নজর রাখুন। আলোচনার ধরণ পাল্টান। চিন্তা করুন, কিভাবে নিজেকে সুখী করা যায়। যদি সন্তান থাকে, তাহলে ভাবুন তাদের কিভাবে খুশী রাখা যায়। অতীত ভেবে নিজের সময়, শক্তি বা অর্থ নষ্ট করবেন।

বিবিসি

নারী পুরুষের ১০টি মানসিক পার্থক্য
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : নারী-পুরুষের শারীরিক গঠনে পার্থক্য থাকলেও, সে কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তার উপরেই নির্ভর করে তার মানসিকতা।

লজ্জা নারীর ভূষণ হতেই পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সব কিছুর আড়ালে থেকে যাবে সে। বর্তমান যুগে নারী-পুরুষের বিভেদ করা শিক্ষাহীনতারই পরিচয়।

তা সত্ত্বেও, নারী ও পুরুষের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য থেকেই যাবে, যা সম্পূর্ণভাবে মানসিক। মনস্তত্ত্ববিদদের ব্যাখ্যা অনুয়ায়ী, ছেলে ও মেয়ের ব্রেনের কাজ কারবারের উপরেই মানসিক এই বিভেদ ঘটে। ‘সাইকোলজি টুডে’ নামে এক মেডিক্যাল ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী-পুরুষের মধ্যে ১০টি মানসিক পার্থক্য রয়েছে...

১। পুরুষদের ব্রেন স্বাভাবিকভাবেই অঙ্ক কষতে পছন্দ করে। মহিলারা পছন্দ করেন ভাষা।

২। মেয়েরা ঝগড়া করলেও, সচরাচর মারামারি করে না। কিন্তু, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় সেটাই।

৩। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গেলে, আবেগকে প্রাধান্য দেয় না পুরুষরা। কিন্তু, মহিলারা আনুষঙ্গিক অনেক কিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়।

৪। মজার কিছু হলে পুরুষরা হাসেন, কিন্তু মহিলারা হাসেন যখন তারা মনে করেন হাসবেন।

৫। পুরুষদের কাছে তাদের গাড়ি অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হয়, তাই তা পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে। কিন্তু, মহিলারা মনে করে, গাড়ি পরিষ্কার করা আর জুতোর তলা পরিষ্কার একই ব্যাপার।

৬। আবেগজড়িত ঘটনার কথা পুরুষদের তুলনায় বেশি মনে করেন মহিলারা।

৭। জীবনে স্ট্রেস বাড়লে, পুরুষদের শারীরিক চাহিদা বাড়ে। যা একেবারেই উল্টো মেয়েদের ক্ষেত্রে।

৮। মানুষ বিচার করার ক্ষমতা পুরুষদের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয় মেয়েদের।

৯। একজন মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রথম কারণ তার সৌন্দর্য। অন্য দিকে, দেখনদারি বিশেষ আকর্ষণ করে না মহিলাদের।

১০। সমস্যার কথা সাধারণত কারোর সঙ্গে আলোচনা না করেই মেটানোর চেষ্টা করে ছেলেরা। কিন্তু, মেয়েরা তা আলোচনা না করতে পারলে বেশি সমস্যায় পড়েন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য— ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই পরস্পরের থেকে আলাদা। একজন ব্যক্তি কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তার পারিপার্শ্বিক লোকজন কেমন, এমনই অনেক কারণের উপর নির্ভর করে তার চরিত্র গঠন।

মহিলা হলেই যে সে সব সময় আবেগতাড়িত হবে, তা মনে করার কোনও কারণ নেই। আবার পুরুষ মানেই যে সে সবজান্তা হবে, সে ভাবনাও ভুল।

শিশুর যত সুন্দর নাম
                                  

প্রত্যেক পিতামাতার কাছে সন্তান যেন স্রষ্টার দেওয়া সেরা উপহার। বাবা মায়ের কাছে সন্তান পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন। সন্তান জন্মলাভের পর প্রতিটি বাবা মায়ের খুশির অন্ত থাকে না। তারা সন্তানকে নিয়ে নানা পরিকল্পনা শুরু করেন। সন্তানের নাম কেমন হবে বা কি হবে, তা অনেক বাবা-মা আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখলেও কেউ কেউ আবার সন্তান জন্মের পর নাম ঠিক করেন।

পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে। রয়েছে নানা নামও। আবার সেসব নামের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ। তাই সন্তানের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অর্থের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। কেননা, নামের সঙ্গে ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। আবার অনেক সময় নাম অনুযায়ী ব্যক্তির স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি গড়ে ওঠে। নবজাতক সন্তানের বেশ কয়েকটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম সম্পর্কে জেনে নিন।

মেয়েদের নাম
আয়াত, আরিয়া, অহনা, বাণী, গীত, ইভানা, মিরা, মেয়া, মেয়ানা, মিহির, নিয়ানা, নায়না, রুমি, স্পর্ধা, সায়রা, সামায়রা, রুবামা, তৃষা, সামিরা, জয়া, নীরা, রুনি, সামিয়া, ইনা, কণা, জ্যোতি, জুঁই, কান্তা, শান্তা, লিমা, লামিয়া, রুবি, রূপসা, নৈঋতা, ঝুমু, ঝুমা, প্রভা, প্রভাতি, রিচি, আতিয়া, আবিদা, আদিবা, আরাবি, আনিয়া, আনিকা, ফাওজিয়া, প্রেমা, প্রিমা, সেতু, কাজল, শৈলী, ফারাহ, ফাইরুজ, হুমায়রা, লুবনা, লুবাবা, লাবিবা, সাঈমা, সুবহা, স্বর্ণা, সাফা, লায়লা, মুর্শীদা, মাদেহা, মাদিহা, মাহবুবা, মাহমুদা, মুবাশ্বিরা, মুতাহারা, মাঈশা, মালিহা, মাসুমা, মায়মুনা, মম, মুমতাজ, মোনা, মুনাওয়ারা, নাদিয়া, সাদিয়া, সাফিয়া, সুফিয়া, পান্না, অর্ণা, পরশ, শুভ্রা, নীলা, বনলতা, নোশীন, নওশীন, নওরিন, নওয়ার, নাঈমা, নাজিয়াহ, নাজাহ, নাসেহা, নুসরাত, রোশনী, রুমালি, রুমা, রাফা, রাশীদা, রাফিয়া, রুম্মান, রামিশা, শাবা, সাবা, সাইয়ারা, শারিকা, তাহিয়াত, তাহিরা, ওয়ামিয়া, তাজনিয়া, যাহিন, যাইমা, যেবা, জান্নাত, যাকীয়াহ, ইশরাত, এশা, ঈশিতা, আলিশা, তানিশা, আনিশা, অর্পা, তামান্না, জিনাত, ঝিনুক ইত্যাদি।

ছেলেদের নাম
আবরাম, শোয়েব, রাকিব, ইমন, মারুফ, সাদাত, আদনান, ফাহিম, সাদাফ, সাদমান, রাব্বি, মাসুম, টুটুল, খোকন, ছোটন, অর্ক, অর্ঘ্য, অঙ্কন, মাহিদ, রিজভী, সাজ্জাদ, মিযান, নাজমুল, তানজিম, আবিদ, মোস্তাকিম, সাদ্দাম, জিসান, সিজান, আমান, আরমান, রাশেদ, জিম, সংগ্রাম, সাইফুল, শুভ্র, আশরাফুল, আরাবি, হাফিজুল, তপু, আনন্দ, তাওহিদ, জুনায়েদ, নাফিস, অপু, উজ্জ্বল, প্রশান্ত, পান্না, সাফওয়াত, শামীম, সামিন, সামি, কাউসার, রানা, রূপক, সৌরভ, অতুল, রাহাত, অপূর্ব, মেহেদী, সজীব, নিখিল, নিশাত, প্রিতম, প্রতীক, মাজিদ, মুহিন, সাবাব, রাবাব, লিমন, শিমন, রাওনাক, আবরার, আহনাফ, আরিফ, আনজুম, আশহাব, আয়মান, আতিক, আয়াত, আকিফ, বাসীম, দীদার, দীনার, এখলাস, ইরম, ফাইয়াজ, ফুয়াদ, পিয়াস, হাসনাত, রায়হান, হিশাম, রিফাত, ইশমাম, ইশরাক, ইরফান, ইমতিয়াজ, জামিল, লাবিব, জুবায়ের, মাশুক, মুরাদ, পলাশ, প্লাবণ, মুহীব, মিহির, মেসবাহ, নাঈম, নেহাল, নাদিম, নাসিম, সোহাগ, রাফাত, রাদ, সাদিক, শিতাব, তাহির, তাহমীদ, তামজীদ, ওয়াদুদ, ওয়াসী, ইয়াসির, জারিফ, তৈমুর ইত্যাদি।

সৌভাগ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে চারটি বিষয়
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : আপনি কতটা সৌভাগ্যের অধিকারী তা আসলে নির্ভর করে আপনার মানসিকতা এবং ব্যবহারের ওপর। অনেককেই বলতে শোনা যায় `আমার ভাগ্যটাই খারাপ` কিংবা `আমার চেয়ে তোমার ভাগ্য ভালো` ইত্যাদি। কিন্তু কেন কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি ভাগ্যবান? এই প্রশ্নটি যদি কখনো আপনাকে ভাবিয়ে থাকে তাহলে আসলেই তা পুনর্বিবেচনা করে দেখবার সময় এসেছে।

`মানুষ নিজেরাই তাদের ভালো এবং খারাপ ভাগ্য তৈরি করে থাকে।` এমনটাই মনে করেন রিচার্ড ওয়াইজম্যান। তিনি মানুষের জীবনে ভাগ্যের ভূমিকা এবং তার প্রভাব বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি এটিকে `বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান` বলে অভিহিত করছেন এবং এখানে স্বঘোষিত বা নিজেদের যারা সৌভাগ্যবান এবং দুর্ভাগ্যবান বলে মনে করেন সেইসব মানুষদের মধ্যে পার্থক্যগুলোর দিকে নজর দেয়া হচ্ছে।
ভাগ্য কোনো যাদুকরী ক্ষমতা নয় কিংবা যথেচ্ছভাবে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নয়। আসলে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমরা কিভাবে চিন্তা করি এবং আচরণ করে থাকি তার ওপর।

বিশেষ করে যাদেরকে আমরা `সৌভাগ্যের অধিকারী` বলে মনে করি তারা যে চারটি বিষয় সবসময় অবলম্বন করেন তা হচ্ছে :

১. নতুন নতুন সুযোগ ছিনিয়ে নেয়া

স্ব-ঘোষিত সৌভাগ্যের অধিকারী যারা তারা সবসময় সুযোগগুলোকে চিহ্নিত করতে পারেন এবং অবশ্যই সঠিক সময়ে তাকে কাজে লাগিয়ে থাকেন। যখনই তারা সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন কোনো উপায় বা পন্থা দেখতে পান, আনন্দ চিত্তে তারা সেদিকে নিজেদের পরিচালিত করতে উদ্যোগী হন। কিন্তু হতভাগ্য মানুষেরা করেন এর ঠিক বিপরীত। এমনটাই বলেন মিস্টার ওয়াইজম্যান।

তার ভাষায়, তারা একটি বাধা-ধরা ছকের মধ্যে বাস করেন। তাই যদি কোনো সুযোগ তাদের সামনে আসে, তারা সেই সুযোগের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ভয় পান।`

২. সহজাত প্রবৃত্তির দৃঢ়তাকে অনুসরণ

নতুন নতুন সুযোগ গ্রহণ করার জন্য নিজের সহজাত দৃঢ়তাকে অনুসরণ করা জরুরি। সৌভাগ্যবান মানুষেরা তাতে ভীত হননা। যদি কোনকিছু তাদের কাছে সঠিক বলে মনে হয় তাহলে তারা বিশ্বাসের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এগিয়ে যান। কিন্তু যারা নিজেদের দুর্ভাগ্যবান মানুষ মনে করেন তারা দেখা গেছে যে, প্রকৃতিগত-ভাবে অতিরিক্ত বিশ্লেষণাত্মক মনোভাবের এবং পরিস্থিতি নিয়ে বারবার ভাবনা চিন্তা করতে ব্যস্ত থাকেন। এটা তাদের জন্য বিশাল এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানী ওয়াইজম্যানের মতে, "এই বিষয়টির কারণে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে তারা প্রচুর সময় নেয় এবং তাদের চিন্তা-ভাবনা খুব একটা ইতিবাচক হয়না।"

৩. সাফল্যের প্রত্যাশা

আশাবাদী হিসেবে সৌভাগ্যের অধিকারী মানুষেরা প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা করে। `তারা আশা করে, সব কাজ ঠিকঠাক মত হবে এবং সেই বিশ্বাসই একটি নিজস্ব দৈববাণীতে পরিণত হয়" বলে মনে করেন ওয়াইজম্যান। অর্থাৎ ইতিবাচক প্রত্যাশার মনোভাব সফলতা আনতে জোরালো প্রভাব রাখতে পারে।

তবে সবসময়ই যে এই বিষয়টি সঠিকভাবে কাজ করবে তেমন নয়। কিন্তু ইতিবাচক মনোভাব তাদের কঠিন দুঃসময়েও পথ চলতে সহায়তা করে। এই গুণটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং শেষপর্যন্ত অন্যান্য মানুষকে তা আকর্ষিত করে।

হতভাগ্য লোকেদের বেলায়, হতাশা বা নিরাশাবাদী ধরণ তাদের মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তাদেরকে অন্য অনেক লোকজন এড়িয়ে চলে কারণ সবসময় তারা মনমরা, বিষণ্ণ থাকে, বলেন ওয়াইজম্যান।

৪. ইতিবাচক অবস্থান

ইতিবাচক থাকা সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। আমাদের সবার জীবনেই অনেক খারাপ বা মন্দ ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সৌভাগ্যবান মানুষেরা সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি যত খারাপই হোকনা কেন তা থেকে তারা শিক্ষা নিয়ে তাদের পথচলা চালিয়ে যান।

দেখা যায়, এই গুনটিই এমনকি দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে রূপান্তরিত করে। কিন্তু যারা নিজেদের `দুর্ভাগ্যের অধিকারী` বলে বিবেচনা করে তারা নেতিবাচক বিষয়ের দ্বারা নিজেরা নিজেদের অবস্থানকে নিচের দিকে নিয়ে যায়। তারা মনে করে ভবিষ্যৎ অন্ধকার এবং তাই চেষ্টা করেও কোনও লাভ নেই। সুতরাং সৌভাগ্যের অধিকারী হতে চাইলে...

এটা যথেষ্ট সৌভাগ্যের বিষয় যে, এখনো আশা ফুরিয়ে যায়নি। রিচার্ড ওইয়াইজম্যান বলেন, কিছু কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে সেটি যেকোনো ব্যক্তিকে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতে এবং সেরকমই আচরণ করতে সাহায্য করতে পারে।

এরকমই একটি কাজ হচ্ছে `লাক ডায়েরি` বা `ভাগ্যের দিনলিপি` লেখা যা আপনার ভাগ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। `রোজকার জীবনে ইতিবাচক, সৌভাগ্যময় যা ঘটবে তা লিখে রাখা, সেটি যত ক্ষুদ্র নগণ্য ঘটনাই হোক না কেন সেটি মুখ্য নয়।"

এই বিষয়টি নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে সহায়তা করে এবং জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোতে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। এটা সত্য যে আমাদের জীবনে অনেক ঘটনাই ঘটে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিন্তু `লাক ডায়েরি` নিয়মিতভাবে বজায় রাখার ফলে তা দৃঢ় লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

হয়তো তা রাতারাতি ঘটবে না। মিস্টার ওয়াইজম্যান বলেন, "কিন্তু কম-বেশি এক সপ্তাহ পর তা মানুষের জীবনে সত্যিকারভাবেই প্রভাব ফেলতে শুরু করে।`

মানসিক সমস্যা সারিয়ে তুলতে পারেন দাদা-দাদি
                                  

শিশু-কিশোর বা তরুণ তরুণীর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা বা উদ্বিগ্নতা দেখা দিলে, সেটা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে দাদা-দাদি বা নানা-নানি।

এ কারণে শিশু বা অল্পবয়সীদের মধ্যে এমন সমস্যা দেখা দিলে তাদের দাদা-দাদির সংস্পর্শে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

টেলিফোন হেল্প-লাইন পরিষেবা চাইল্ড-লাইনের প্রতিষ্ঠাতা ডেইম এস্থার রান্টজেন বলেছেন, ‘যৌথ পরিবারের ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এবং নিকটবর্তী আত্মীয় স্বজনের সাহচর্যের অভাবে কারণে শিশুদের বেড়ে ওঠা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তার মতে, শিশুদের, তাদের পিতামহ ও মাতামহদের সঙ্গে দেখা করার আইনগত অধিকার দেয়া উচিত। যেটা কি-না ফ্রান্সে আছে।

তিনি বলেন, অনেক বাবা-মা এতোটাই ব্যস্ত থাকেন যে তারা শিশুদের মানসিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।

আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকানো যায়

চাইল্ড-লাইন পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থা এনএসপিসিসির হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে শিশুদের উদ্বেগ কাটাতে সহযোগিতার চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভূগছে এমন তরুণদের জন্য গত দুই বছরে ২১ হাজারেরও বেশি সেবা দিয়েছে। তারা মূলত টেলিফোনের মাধ্যমে আক্রান্তের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করে যা প্রাথমিক অবস্থায় অনেককেই আত্মহত্যা থেকেও ফিরিয়ে আনতে পেরেছে।

এ থেকে আন্দাজ করা যায় যে, একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গেও মন খুলে কথা বলতে পারার সুযোগ কতোটা সহায়ক হতে পারে। আর সেই মানুষটা যদি পরিবারের কাছের মানুষ হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা

প্রতিনিয়ত মানসিক উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সেক্ষেত্রে এ ধরণের হেল্প-লাইন পরিসেবা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ডেম এস্থার। এক্ষেত্রে তিনি পরিবারের ভূমিকাকে সবচেয়ে বড় করে দেখছেন।

ডেম এস্থার বলেছেন, ‘যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন আমি যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছিলাম। আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না, সেটা নিয়ে হয়তো পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলতাম। সেই সুযোগটা আমার ছিল।’

তাই পরিবারগুলোর আসলে বোঝা উচিত যে পরিবারের শিশু বা তরুণ সদস্যদের যথেষ্ট মানসিক সহায়তা দেয়ার মতো অবস্থা তাদের রয়েছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

অল্পবয়সীদের মানসিক সুস্থতার জন্য দাদা- দাদির সঙ্গে দেখা করাটাকে অধিকার হিসেবে দেখতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা।

সহায়ক ভূমিকা পালন

মানুষ সারা দিন ব্যস্ত থাকে - অনেকেই দুই থেকে তিনটা চাকরি করে থাকেন, অথবা তারা যেখানে কাজ করছেন সেখানে হয়তো তার পরিবার থাকে না। আবার অনেককেই চাকরির কারণে পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। এমন নানা কারণে দিন দিন পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

আবার ছোট পরিবারগুলোর সদস্যরাও সময় দিতে না পারার কারণে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে।

ডেইম এস্থারের মতে, আজকাল বড় পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং পরিবার একীভূত রাখাটাকে এখন আর কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেনা। অথচ এটা সত্যি যে, শিশুদের মানসিক বিকাশে বা উদ্বিগ্নতা কাটাতে এই বড় পরিবারের কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘যে পরিবারের শিশুরা দাদা- দাদী বা নানা-নানীর সংস্পর্শে বেড়ে ওঠে তারা বুঝতে শেখে যে জীবনকে তারা যতোটা জটিল ভাবে, জীবন এতোটা খারাপ না।’

আবারও যোগাযোগ স্থাপন

বর্তমান পরিস্থিতিতে নবীনদের মানসিক সুস্থতার জন্য দাদা- দাদি বা নানা-নানির সঙ্গে দেখা করাটাকে অধিকার হিসেবে দেখতে চাইছেন ডেম এস্থার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন প্রত্যেক শিশুকে তাদের পিতামহ বা মাতামহের সাথে যোগাযোগ রাখার অধিকার দিতে হবে, যেটা কিনা ফ্রান্সে আছে।’

ডেম এস্থার এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে দিন দিন বাড়তে থাকা পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে ওই শিশুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের পিতা-মাতামহের অনেক সময় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।

তবে ফ্রান্সের মতো দেশে, সবারই তাদের মাতামহ- পিতামহের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে এবং এই নিয়ম যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন ডেম এস্থার।

তিনি বলেন, ‘ডিউক অব ক্যামব্রিজ এবং ডিউক অফ সাসেক্সসহ উচ্চ মার্গীয় ব্যক্তিরাও এই সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন। পরিবারের বিচ্ছিন্নতা রোধ, সেইসঙ্গে নবীনদের মানসিক উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে উঠতে খোলামেলা কথাবার্তার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।’

ডেইম এস্থারের মতে পরিবারের কেউ যদি মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভোগে, এবং দ্রুত যদি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে যে কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার দেখা দিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

যে গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ
                                  

পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। তাই নিশ্চিন্তে জীবনটা কাটাতে পারছেন তারা। তাদের জিনওয়ার গ্রামটা পেরলেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার দাঁত-মুখ বের করা চেহারাটা অদ্ভুতভাবে ধরা দেয়। আইসিস জঙ্গিদের কালো পতাকা আর মুহুর্মুহু গ্রেনেডের হুঙ্কারে কার্যত জনপদ শূন্য। এর মধ্যেই নিজেদেরকে নিজেরা নিরাপত্তা দিয়ে একটি সুরক্ষিত গ্রাম তৈরি করেছেন। হ্যাঁ, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দিশ এলাকায় এই জিনওয়ার গ্রামে সব বাসিন্দাই নারী।

কৌতূহল নিশ্চয়ই হচ্ছে আপনার? তাহলে সেখানকার বাসিন্দা বছর আঠাশের যুবতি জ়য়নব গাবারীর কথায় আসা যাক। তিনি বলছেন, আমাদের জীবনে কোনও পুরুষের প্রয়োজন নেই। আমরা বেশ ভাল আছি। যে সব নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, তাদের জন্য এটা আদর্শ জায়গা। জ়য়নবের মতো এখানকার সব নারীরা এই ভাবনাই বিশ্বাস করে। কিন্তু কেন?

জিনওয়ার গ্রামের প্রত্যেক নারীর জীবনে রয়েছে এক একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কেউ আইসিস জঙ্গিদের হাতে দীর্ঘদিন যৌনদাসী হয়ে বর্বরোচিত অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছেন। কারওর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। কেউ বা জঙ্গি হামলায় সন্তান-স্বামী দুই খুইয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়েছেন। কেউবা দিনের পর দিন ধর্ষণ হয়ে সন্তানসম্ভাবনা হয়ে পড়েছেন। জীবনের ঘটনা যাই হোক না কেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এক সরলরেখায় তারা যে অত্যাচারিত এবং অবহেলিত, আজ নির্দ্বিধায় বলছেন ওই গ্রামের নারীরা।

জিনওয়ার গ্রামে ঢুকতে গেলে সামনের ফটকে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন নারী। আইসিসদের হামলা রুখতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কড়া পাহারা দিচ্ছেন। কৃষিকাজ থেকে স্কুলে পড়ানো সব কাজে পারদর্শী তারা। স্থানীয় নারী এবং আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে এই গ্রাম। বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা নারী শক্তির নানা কাহিনি। শরণার্থী হয়ে না পালিয়ে আইসিস জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

স্বামী হারিয়ে বছর আটত্রিশের আমিরা মহম্মদ বলেন, নারী ছাড়া স্বাধীনতা পাওয়া যায় না। যত দিন না নারীরা শিক্ষিত হচ্ছেন, স্বনির্ভর হচ্ছেন এই সমাজও কখনও স্বাধীন হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই কৃষিকাজ করি। ফসল ফলাই। সেই ফসল রফতানিও করি। আবার সন্তান পালনও করি। পুরুষবিহীন এই ছোট্ট গ্রামই এখন ‘শান্তির রাজধানী’ তৈরি হয়েছে বাশার-অল আসাদের যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায়।

সূত্র: জিনিউজ

স্বাধীন ভারতের বীরপুত্র
                                  

সাদিক পলাশ : ‘ভেড়া বা শিয়ালের মতো দু’শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দু’দিন বেঁচে থাকাও ভালো।’ টিপু সুলতানের অমর বাণী আজও বীরত্ব আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কন্ঠ তুলে দেয়। টিপু সুলতানকে ডাকা হতো শের-ই-মহীশূর। উপাধিটা ইংরেজদেরই দেয়া। তাঁর এই বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পিছনে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত ছিলো। মূল কারণ ছিলো তাঁর অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা। বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন টিপু সুলতান। 

ছোটবেলা থেকেই টিপু বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবাই তাঁকে বাঘের গল্প শোনাতেন। কিশোর বয়সে টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। বাঘ নিয়ে তাঁর ব্যঘ্রতার শেষ ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করলেন তখন বাবার পুরানো সিংহাসনটি তিনি ঠিক পছন্দ করলেন না। তাই তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের ফ্রেমের উপর সোনার পাত বসিয়ে তার উপর মণিমুক্তা ও রতœখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন, যাকে বরং ‘ব্যাঘ্রাসন’ই (ঞরমবৎ ঃযৎড়হব) বলা যায়। কারণ আট কোণা ঐ আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিলো একটি বাঘের মূর্তি। ৮ ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিলো সম্পূর্ণ স্বর্ণে তৈরি দশটি বাঘের মাথা, আর উপরে উঠার জন্য ছিলো দুধারে রূপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিলো বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।
টিপু সুলতানের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন পন্ডিত পুরণাইয়া। টিপু সুলতান সামরিক তালিম নেন সরদার গাজী খান এর কাছ থেকে। টিপু সুলতান ছিলেন বহুভাষায় পারদর্শী। টিপু সুলতানের রাজ্যের প্রতীক ছিলো বাঘ। এই বাঘ ছিলো তাঁর কাছে অনুপ্রেরণার মতো। তার সমস্ত পরিধেয় পোষাক ছিলো হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিলো ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিলো খোদাই করা বাঘের মূর্তি। তাঁর ব্যবহৃত রুমালও ছিলো বাঘের মতো ডোরাকাটা। তাঁর রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি। এমনকি তিনি তাঁর রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে, বাড়ির মালিকদেরকে বাড়ির দেয়ালে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। তাঁর রাজবাড়িতে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিলো। তার কয়েকটি আবার তাঁর ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো।
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে হেক্টর মুনরোর একমাত্র পুত্র সুন্দরবনের সাগর দ্বীপে বাঘ শিকার করতে গিয়ে বাঘ আক্রমণে নিহত হয়। এই সংবাদ পেয়ে টিপুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি এই ধারণা কাজে লাগিয়ে একটি বিচিত্র খেলনা বানিয়েছিলেন, যা সারা দুনিয়ায় ‘টিপু’স টাইগার’ (ঞরঢ়ঁ’ং ঞরমবৎ) নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। ফরাসি যন্ত্রকুশলীদের দ্বারা নির্মিত প্রমাণ আকারের এই খেলনাটিতে ক্লকওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিলো। খেলনাটিতে দম দিয়ে ছেড়ে দিলে এর সাথে লাগনো একটি অর্গান পাইপ থেকে রক্ত হীম করা বাঘের প্রচÐ গর্জন, আর এক ইংরেজের প্রচÐ গোঙানির আওয়াজ বের হতো। পুরো খেলনাটি ছিলো এরকম: ‘একজন ইংরেজ একটি বাঘের থাবার মধ্যে অসহায়ভাবে পড়ে গোঙাচ্ছে আর একটা বাঘ প্রচন্ড আওয়াজ করে সেই ইংরেজের বুকের উপর চেপে গলা কামড়ে ধরতো। তখন ইংরেজটি তার হাত উঠিয়ে চেষ্টা করতো বাঘের মাথাটি এদিক-ওদিক সরিয়ে দিতে। ভিতরকার অর্গান থেকে আরো বেরিয়ে আসতো মহীশূর সুলতানের প্রিয় গজলের সুর।’
টিপু’স টাইগার বানানোর পিছনে একদিকে যেমন ছিলো তাঁর ইংরেজদের প্রতি উষ্মা, তেমনি অন্যদিকে ছিলো প্রচন্ড ব্যঘ্রপ্রীতি। সময় পেলেই তিনি বাঘটিতে দম দিতেন; কখনও কখনও রাতের পর রাত একই জিনিস দেখে গায়ের জ্ব¡ালা মেটাতেন। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর ও তাঁর বাহিনীর কাছে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে টিপু ও তাঁর বাবা মারাত্মক নাজেহাল হন এবং টিপুর রাজ্যে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হয় অনেক সৈন্য।
টিপু সুলতান হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর নবুওয়াত লাভের বছর থেকে মুহাম্মদী সন নামে একটি নতুন সাল চালু করেন। তিনি শ্রীরঙ্গপট্টম, বাঙ্গালোর, চীতল, দারাক ও নাগর নামক স্থানে ‘তারামন্ডল’ নামে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপন করেন। এসব কারখানায় তোপ, বন্দুক, চাকু ইত্যাদি তৈরি হতো। তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপন করেছিলেন।
টিপু সুলতানের পুরো জীবনটাই যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে জন্ম, বেড়ে উঠা, যুদ্ধেই মৃত্যু। বাবা হায়দার আলীরও সারা জীবন কেটেছে যুদ্ধে। টিপু সুলতান যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন ইংরেজদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছেন, দেশের স্বাধীনতা আগলে রেখেছেন। কিন্তু তিনি শাহাদাত বরণ করলে শুধু হিন্দুস্থানই নয়, গোটা মুসলিম বিশ্ব যেন স্বাধীনতার এক অতন্দ্রপ্রহরী হারিয়ে অভিভাবক হারা হয়ে যায়। তাই টিপু সুলতান ছিলেন ভারতবাসীর জন্য একজন চিরস্মরণীর বীর।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খাবারের সন্ধান
                                  

খাবার তো পচনশীল তাই তা নষ্ট হবেই। কিন্তু ইতিহাসবিদরা এমন কিছু খাবারের সন্ধান পেয়েছেন যা বহু বছর পুরোনো। এত বছর কীভাবে এই খাবার না পচে থাকল তা নিয়েও রয়েছে নানা রহস্য।

রোমানীয় সমাধিস্থ ওয়াইন

মানব সভ্যতার রোমানরা একটা সময় পর্যন্ত খুব ক্ষমতাশালী ছিল। এমন কি তাদের টাকারও কমতি ছিল না। তাই তাদের সমাধিও হতো রাজকীয়ভাবে। জার্মানির একদল মাটি খননকারী ১৬০০ বছর পুরনো ওয়াইনের বোতল আবিষ্কার করে। যা এখনো তরল অবস্থায় রয়েছে। রোস্ট করা ষাঁড়ের সাথে খাওয়া হতো।

ব্রিটিশদের পোড়া রুটি

যুক্তরাজ্যে পাওয়া ৫৫০০ বছরের এই পোড়া রুটিকে আবিষ্কারকরা শুরুতে কয়লা ভেবে ভুল করেছিলেন। ঠিক তখন খেয়াল করলেন এটার ভেতর থেকে গুঁড়া বা দানাদার পদার্থ বের হচ্ছে। মানুষ যখন প্রথম ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলো, সেই সময়ে বানানো হয় এই রুটি।

৩০০০ বছর আগের মাখন

৩০০০ বছর আগে ৭৭ পাউন্ডের মাখন ভর্তি পিপে একটি জলাশয়ে ডুবিয়ে রেখে হয়েছিল। সেই মাখন ভর্তি পিপেটা ২০০৯ সালেও সেখানে ছিল। কয়েক হাজার বছর পেরিয়ে যাওয়ার কারণে মাখনের সেই কোমল নমনীয় ভাবটা কমে গিয়ে পুরো মাখন চর্বিযুক্ত সাদা মোমের দলায় পরিণত হয়েছিল।

আদি নুডলস

চীন, আরব, ইতালিয়ান প্রায় সবাই নুডুলসকে নিজেদের আবিষ্কার দাবি করেন। কিন্তু চীনে ৪০০০ বছর পুরনো নুডলস আবিষ্কার করেন গবেষকরা। সেই সময়ে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পের পর বন্যা হলে কেউ একজন তার নুডুলসের বাটি উলটে ফেলে রেখে যায়। যা নুডুলসগুলোকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে।

চকলেট

মাত্র ১১০ বছর আগের এক টিন চকলেট হয়ত আগের খাবারগুলোর মতো হাজার বছরের পুরনো না, তবে এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা সবচেয়ে পুরনো চকলেট। এটি রাজা এডওয়ার্ড দ্য সেকেন্ডের সময়ের অর্থাৎ ১৯০২ সালের। সবশেষে ২০০৮ সালে সেইন্ট এন্ড্রুস প্রিজারভেশন ট্রাস্টে দান করা হয়।

৩৬২ কোটি টাকা এক খণ্ড হিরের দাম
                                  

বিশাল আকারের চৌকো গোলাপি রঙের হিরে। আলো ঠিকরে বেরচ্ছে তার শরীর থেকে। এমন এক হিরেই এখন আলোচনার শীর্ষে।

১৯ ক্যারেট ওজনের কাছাকাছি এই হিরে যেমন দুষ্প্রাপ্য তেমনই অভিজাত। এই হীরকখণ্ডই এ বার নিলামে উঠতে চলেছে জেনেভায়। আগামী ১৩ নভেম্বর জেনেভায় ঐতিহাসিক জিনিসপত্রের নিলামঘর ক্রিস্টিসে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

রত্নবিশেষজ্ঞদের আশা, ভারতীয় মুদ্রায় এর দাম উঠতে পারে প্রায় ২২০ কোটি থেকে ৩৬২ কোটি টাকা। এর আভিজাত্যের কারণে এই হিরের নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য পিঙ্ক লেগাসি’। এর আগে এত দামি ও ঐতিহ্যময় রত্ন নিলামে ওঠেনি বলেই তাদের দাবি।

সাধারণত বেশির ভাগ গোলাপি হিরেই এক ক্যারেটের কম ওজনের হয়। সেখানে এই হিরের ওজন ও ঔজ্জ্বল্য এতটাই যে একে ‘বিরল’ বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। চৌকো এই হিরের রঙের ঘনত্বও অন্য সব হীরকখণ্ডকে পিছনে ফেলে দেবে।

এমনিতেই গোলাপি হিরে খুবই দুষ্প্রাপ্য, তার উপর এর ওজন নিয়েও বিস্মিত রত্নবিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৭-র নভেম্বরে হংকংয়ে ১৫ ক্যারেটের একটি গোলাপি হিরে নিলামে ওঠে। সে ক্ষেত্রে প্রতি ক্যারেটের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ধার্য হয় প্রায় ১৬কোটি টাকা। আজ পর্যন্ত নিলামের ইতিহাসে সেটিই সবচেয়ে দামি হিরে হিসাবে পরিচিত ছিল।

২০১৩ সালে প্রায় ৬০ ক্যারেট ওজনের একটি হিরে নিলামে ওঠে, যার প্রতি ক্যারেটের দাম উঠেছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা।

আপাতত এই মূল্যবান হীরকখণ্ডটি জেনেভার ওপেনহাইমার পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বিগত দশ বছর ধরে এই পরিবার ডে বিয়ার্স ডায়মন্ড মাইনিং সংস্থার কর্ণধার। যদিও এই হীরকখণ্ডের বর্তমান মালিকের পরিচয় দিতে তারা অস্বীকার করেন।

এই হীরকখণ্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও এক আকরিকের খনি থেকে প্রায় একশো বছর আগে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেন জেনেবার রত্নবিশেষজ্ঞ জিন মার্ক লুনেল। তার মতে, এটিই আপাতত পৃথিবীর সেরা হীরকখণ্ড।

তার মতে, ১৯২০ সাল নাগাদ এই হীরকখণ্ডটিকে কেটে ১৯ ক্যারেটের ওজন দেওয়া হয়। আগামী ১৩ তারিখ পৃথিবীর সেরা এই হিরের কত দাম ওঠে তা নিয়ে আধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রত্নব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার

কুকুর শনাক্ত করবে ম্যালেরিয়া রোগ
                                  

বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ম্যালেরিয়া রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এই রোগ শনাক্ত এবং নিরাময়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে কুকুর ম্যালেরিয়া রোগ নিশ্চিতভাবে গন্ধ শুঁকে শনাক্ত করতে পারে।

যুক্তরাজ্য ইউনিভার্সিটির প্রফেসর স্টিভ লিন্ডসে ডারহাম বলেন, আমরা জানি যে, ম্যালেরিয়া বহনকারী মানুষ এক ধরণের রাসায়নিক উৎপাদন করে। সেটা হয় তাদের নিশ্বাসে কিংবা রক্তে।

এই গন্ধ প্রকৃতপক্ষে মশা থেকে আসতে পারে। আমরা সন্দেহ করি কুকুররা এই গন্ধগুলি গ্রহণ করে যা মশা নিতে পারে।

গবেষণার জন্য গাম্বিয়ার শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের ব্যবহার করা নাইলনের মোজা ব্রিটেনে নেওয়া হয় এবং পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।

শিশুদের যদি ম্যালেরিয়া থাকে, তাহলেও ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে কুকুর তা সঠিকভাবে ধরতে পারে।

বিমানবন্দরে আক্রান্ত মানুষদের চিহিৃত করতে এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতে কুকুর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন এই লড়াইয়ে কুকুরকে শামিল করার আগে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি

হঠাৎই হারিয়ে গেল জাপানের আস্ত একটি দ্বীপ!
                                  

দিনে দুপুরে ছোটখাটো জিনিস না হয় চুরি যেতে পারে। কিন্তু আস্ত একটা দ্বীপ! অবিশ্বাস্য। তাও যদি ঝড়ঝঞ্ঝা হল বা সুনামি এল, তাতে সমুদ্রে তলিয়ে যায় দ্বীপ, তবে একটা ব্যাখ্যা থাকে। কিন্তু এমন কিছু নেই। আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার, এমন ক্ষেত্রে দ্বীপ গায়েব হয়ে যাওয়া শুধু অবিশ্বাস্য নয়, অদ্ভুতুড়েও। কিন্তু যাই হোক, এমনই একটা ঘটনা ঘটেছে জাপানে।

সে দেশের মূলভাগে হোক্কাইদো নামে একটি দ্বীপ আছে। উপকূলের সারাফুতসু নামে একটি গ্রাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। দ্বীপটির নাম এসানবে হানাকিতা কোজিমা। কবে যে এটা হারিয়ে গেল, তা কেউ কোনওদিন খেয়ালই করেনি। বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন লেখক হিরশি শিমিজু। দ্বীপ নিয়ে একটি বই লিখছিলেন তিনি। তখনই তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে দেখেন বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে এসানবে হানাকিতা কোজিমা দ্বীপটি। তিনি স্থানীয়দের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। কিন্তু তারাও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। তবে বহুদিন থেকেই দ্বীপটি তারা দেখতে পান না। এমনকি কয়েকজন তো এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন, আদৌ ওই দ্বীপটি কখনও ওখানে ছিল!

তবে এই সন্দেহ একেবারেই ভুল। ওই দ্বীপটা যে কখনই ছিল না, তা নয়। তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। দ্বীপটি সমুদ্রতল থেকে মাত্র ১ দশমিক ৪ মিটার উঁচু ছিল। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি ছিল জাপানের অন্তর্গত। জাপান সরকারই এর নাম রেখেছিল। উপকূল থেকে স্পষ্ট দেখা যেত দ্বীপটি।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্বীপটি তো আর উধাও হয়ে যেতে পারে না। তার পিছনে অবশ্যই কোনও না কোনও কারণ আছে। খুব সম্ভবত সেটি হতে পারে ঝোড়ো বাতাস বা তুষারপাত। সেই কারণে হয়তো পানির তলায় তলিয়ে গেছে এসানবে হানাকিতা কোজিমা দ্বীপটি। তবে সত্যিই যদি দ্বীপটি তলিয়ে যায়, তাহলে নতুন করে তৈরি করতে হবে জাপানের মানচিত্র।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


   Page 1 of 13
     ফিচার
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আত্রাইয়ে মাটির ঘর
.............................................................................................
নারী জাগরনের অগ্রদূত -বেগম রোকেয়া
.............................................................................................
অসহায় মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান রেশমা জাহান
.............................................................................................
লাখো ভক্তের স্বপ্নসারথী ইকবাল হোসেন অপু প্রকৃত অর্থেই একজন জননেতা
.............................................................................................
“নারীবাদ নাকি সমকামিতা, কোন পথে আমরা”
.............................................................................................
কি ঘটে জানুয়ারির প্রথম সোমবারে?
.............................................................................................
নারী পুরুষের ১০টি মানসিক পার্থক্য
.............................................................................................
শিশুর যত সুন্দর নাম
.............................................................................................
সৌভাগ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে চারটি বিষয়
.............................................................................................
মানসিক সমস্যা সারিয়ে তুলতে পারেন দাদা-দাদি
.............................................................................................
যে গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ
.............................................................................................
স্বাধীন ভারতের বীরপুত্র
.............................................................................................
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খাবারের সন্ধান
.............................................................................................
৩৬২ কোটি টাকা এক খণ্ড হিরের দাম
.............................................................................................
কুকুর শনাক্ত করবে ম্যালেরিয়া রোগ
.............................................................................................
হঠাৎই হারিয়ে গেল জাপানের আস্ত একটি দ্বীপ!
.............................................................................................
৪০০ কোটি বছরেরও পুরোনো গোমেদ পাথর!
.............................................................................................
যে কারণে সুইসাইড স্পট হয়ে ওঠে এই স্টার হোটেলটি
.............................................................................................
আমার শরীরটা পুরুষের ছিল, কিন্তু মনটা ছিল নারীর
.............................................................................................
এই পান্নার দাম ১৫ কোটি টাকা!
.............................................................................................
অসাধারণ জীবনীশক্তি মিঠা পানির জেলিফিশের
.............................................................................................
দাবানল ঠেকাবে ছাগল বিগ্রেড
.............................................................................................
নিজের স্বরের এই ৭ তথ্য আপনি জানেন কি?
.............................................................................................
পাঁচ মাস বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্য ভ্রমণ
.............................................................................................
বিশ্বের উষ্ণতা কমানোর ৫ উপায়
.............................................................................................
ভারতের যেসব মন্দিরে নারীদের প্রবেশ নিষেধ
.............................................................................................
চুল শুকাতে সোনার হেয়ার ড্রায়ার!
.............................................................................................
১৯ বছর ধরে যে শহরে চলে না গাড়ি
.............................................................................................
বরফের নিচে আশ্চর্য শহর
.............................................................................................
মোগলাই খাবার এত স্পাইসি হয় কেন?
.............................................................................................
সেতুও আবার রোলার কোস্টার হয় নাকি
.............................................................................................
ভিনদেশি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন
.............................................................................................
আমার বর্ষাকাল
.............................................................................................
খালি পায়ে চলি
.............................................................................................
আর মাত্র ১২ দিন বাকি
.............................................................................................
মুক্তি পেল ‘সাঞ্জু’র নতুন গান
.............................................................................................
দুই তরমুজ প্রায় ২৫ লাখ!
.............................................................................................
যৌন-আসক্তিকে কি এক কাতারে ফেলা যায়
.............................................................................................
অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ ও করণীয়
.............................................................................................
যে কফিশপের কর্মীরা সবাই প্রতিবন্ধী
.............................................................................................
গান শুনলে মন ভালো হয়
.............................................................................................
চাকরি পাওয়ার সঠিক এবং সহজ উপায়
.............................................................................................
স্মর্টফোন মানুষের জীবনে দিনে দিনে উদ্বেগ অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে
.............................................................................................
চাকরির জন্য সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিতে হবে যে ৭ বিষয়
.............................................................................................
টিভি দেখলে শিশুদের সৃজনশীলতা কমে যায়
.............................................................................................
সেলফি তোলার কিছু টিপস
.............................................................................................
সেই বিপাশার বিয়ে মহা ধুমধামে
.............................................................................................
যেসব ক্ষেত্রে চুপ থাকা উচিত
.............................................................................................
নারীদের নিয়ে রাইড শেয়ারিং চালু করল ‘ও ভাই’
.............................................................................................
যে ৫ কারণে ছেলেদের ছেড়ে যায় মেয়েরা
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি