| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > এ শূণ্যতা কখনো পূরন হবার নয়   > প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার সফল বাস্তবায়নে ৩৬ বিসিএস আনসারের ১১জন কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ   > আমাদের দাবি , ‘জাতীয় দাম্পত্য দিবস’   > ৫০ দিনে ৪০ হাজার ক্ষুধার্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা   > অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   > রাজশাহী জেলা আনসার ও ভিডিপি’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ   > গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৩০৯   > করোনায় মাদক-জঙ্গি রোধে কঠোরতর ব্যবস্থা : র‌্যাব ডিজি   > রাজশাহী জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় করোনাভাইরাসের প্রভাব হ্রাসে নিরবে কাজ করছে   > ক্যামেরা জার্নালিস্টদের সহায়তা দিলো পারটেক্স গ্রুপ  

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ সহ নানা ঐতিহ্যের মধুপুর

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : পর্যটন ও ঐতিহাসিক দিক দিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা দেশব্যাপী অতি পরিচিত একটি নাম। শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ, সন্ন্যাস বিদ্রোহের আনন্দমঠসহ নানা ঐতিহ্যের উপাদান এ মধুপুরে। রাজধানী ঢাকা থেকে ১৪২ কিমি. এবং টাঙ্গাইল থেকে ৪৬ কিলোমিটার উত্তরে এ মধুপুরের অবস্থান। বছরজুড়েই মধুপুরের নৈসর্গিক প্রকৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

আগের ঘন বন নেই। তবুও যতটুকু আছে এত টুকুতেই মন জুড়িয়ে যাবে। দেখে আর স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে আন্দাজ করতে পারবেন বনের অতীত। নদী, বন ও বনবাসী গারো-কোচসহ নানা নামের আদিবাসী অধ্যুষিত মধুপুরের প্রধান আকর্ষণ শাল বন। এখানে আছে আজুলি, কাইকা, পলাশ, হরিতকি, বহেডা, আমলকি, সোনালু, জয়না, গান্ধারী, সেগুনসহ হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, গুল্ম ও লতাপাতা। আছে বিরল প্রজাতির হনুমান, বানর, হরিণ, বন মোরগ, বাগডাসা, অজগর, বহু প্রকারের প্রজাপতি এবং নানা প্রজাতির পাখি। বনের ভেতর লহুরিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা চিড়িয়াখানা, আছে শতাধিক হরিণ। চিড়িয়াখানার আশপাশে বাস করে অসংখ্য বানর, হনুমান। টাওয়ারে উঠে সবুজ দিগন্তে হারিয়ে যাবেন। নির্জন ও নির্মল প্রকৃতিকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারবেন, দেখতে পাবেন বিভিন্ন বন্য প্রাণী, পাখি। ভ্রমণ সময়ের সঙ্গে মিলে গেলে আদিবাসী সংস্কৃতির যে কোনো অনুষ্ঠান হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।

মধুপুর বনাঞ্চলের অরনখোলা মৌজার বনভূমিতে অবস্থিত বন বিশ্রমাগারটিই দোখলা রেস্ট হাউজ। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রসুলপুর নামক স্থান হতে ৮কি.মি. উত্তর- পশ্চিমে এর অবস্থান। ১৯৬২-৬৩ সনে এ বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে এর সংস্কার করা হয়। মধুপুর গড় অঞ্চলের প্রায় ৬৭,০০০.০০ একর বনভূমি পরিদর্শন, দর্শন, উন্নয়ন ও তদারকির জন্য এ বিশ্রামাগারটি তৈরী করা হয়। এঅঞ্চলের বনভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা, বন্য প্রাণী ও জীব- বৈচিত্র অবলোকনকরার সুবিধা এ রেস্ট হাউজের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অধিকন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উদ্ভিদও প্রাণী সম্পর্কিত শিক্ষা কার্যক্রমে বিশ্রামাগারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরে। আদিবাসীদের জীবনধারা বিচিত্র। দোখলা পঁচিশমাইল রাস্তার শেষে জলছত্র এলাকায় আদিবাসীদের নিজস্ব তাঁতে বুনান বিভিন্ন ধরণের রেশম বস্ত্র শিল্পেরবিক্রয় কেন্দ্র ‘‘কারিতাস’’। জানা যায় বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সাথেও দোখলা রেস্ট হাউজটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মধুপুরের দোখলা রেস্ট হাউজ এলাকাতেই সালমান শাহ-শাবনুরের ‘আনন্দ অশ্রুু’ চলচ্চিত্রটি চিত্রায়িত হয়েছিল।

আরও যা দেখার আছে :

এখানে আছে সাত হাজার একরের সরকারী রাবার বাগান। খুব ভোর থেকেই শ্রমিকরা গাছের বাঁকল কেটে সংগ্রহ করে গাছের কাঁচা (রস) রাবার। সংগ্রহীত কাঁচা রাবার কারখানায় জমিয়ে ধুঁম ঘরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বেশ কয়েকটি রাবার বাগানে এরকম দৃশ্য চোখে পড়বে। সন্তোষপুর রাবার বাগানে যাওয়ার পথে কাকরাইদ বিএডিসির সুদৃশ্য ক্যাম্পাস। এর পাশেই জয় তেঁতুল গ্রামের গোজাখালের বিখ্যাত লক্ষ্মীজোড়া ঝরণা এখন ইতিহাস।

একই পথে ঘাটাইল সীমানায় ইতিহাস প্রসিদ্ধ সাগরদীঘি। শতাব্দী প্রাচীন হিজলতলা মন্দির। কাকরাইদ থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ধরে এগুলে বন গবেষণা কেন্দ্রের বিশাল ভেষজ উদ্যান, বৈষ্ণবদের আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী সনাতন মন্দির, জলছত্র মিশন, বেলজিয়ামের অনুদানে নির্মিত বৃহত্তম কুষ্ঠ ব্যাধি হাসপাতাল, কারিতাস সিল্ক ফ্যাক্টরি ও শো-রুম। এখান থেকে কেনা যায় সিল্কের নানা পোশাক।

মধুপুর পৌর শহরের মধ্যেই ছিল ব্রিটিশবিরোধী ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের আশ্রয়স্থল ‘আনন্দমঠ’। বোয়ালী গ্রামে কাদের মাস্টারের বাড়ীতে তার সামান্য চিহ্ন এখনও আছে। পৌর শহরে আছে সনাতনীদের মদন গোপাল আঙ্গিনা মন্দির, দুর্গাপুর গ্রামে আছে পঞ্চপীরের মাজার। আম্বাড়িয়া গ্রামে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ি।

মধুপুর সদর থেকে ১৩ কিমি. দূরে ধনবাড়ী পৌর শহরে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর নবাববাড়ী, নবাব প্যালেস, মসজিদও অনেককে আকৃষ্ট করে।

 

শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ সহ নানা ঐতিহ্যের মধুপুর
                                  

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : পর্যটন ও ঐতিহাসিক দিক দিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা দেশব্যাপী অতি পরিচিত একটি নাম। শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ, সন্ন্যাস বিদ্রোহের আনন্দমঠসহ নানা ঐতিহ্যের উপাদান এ মধুপুরে। রাজধানী ঢাকা থেকে ১৪২ কিমি. এবং টাঙ্গাইল থেকে ৪৬ কিলোমিটার উত্তরে এ মধুপুরের অবস্থান। বছরজুড়েই মধুপুরের নৈসর্গিক প্রকৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

আগের ঘন বন নেই। তবুও যতটুকু আছে এত টুকুতেই মন জুড়িয়ে যাবে। দেখে আর স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে আন্দাজ করতে পারবেন বনের অতীত। নদী, বন ও বনবাসী গারো-কোচসহ নানা নামের আদিবাসী অধ্যুষিত মধুপুরের প্রধান আকর্ষণ শাল বন। এখানে আছে আজুলি, কাইকা, পলাশ, হরিতকি, বহেডা, আমলকি, সোনালু, জয়না, গান্ধারী, সেগুনসহ হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, গুল্ম ও লতাপাতা। আছে বিরল প্রজাতির হনুমান, বানর, হরিণ, বন মোরগ, বাগডাসা, অজগর, বহু প্রকারের প্রজাপতি এবং নানা প্রজাতির পাখি। বনের ভেতর লহুরিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা চিড়িয়াখানা, আছে শতাধিক হরিণ। চিড়িয়াখানার আশপাশে বাস করে অসংখ্য বানর, হনুমান। টাওয়ারে উঠে সবুজ দিগন্তে হারিয়ে যাবেন। নির্জন ও নির্মল প্রকৃতিকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারবেন, দেখতে পাবেন বিভিন্ন বন্য প্রাণী, পাখি। ভ্রমণ সময়ের সঙ্গে মিলে গেলে আদিবাসী সংস্কৃতির যে কোনো অনুষ্ঠান হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।

মধুপুর বনাঞ্চলের অরনখোলা মৌজার বনভূমিতে অবস্থিত বন বিশ্রমাগারটিই দোখলা রেস্ট হাউজ। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রসুলপুর নামক স্থান হতে ৮কি.মি. উত্তর- পশ্চিমে এর অবস্থান। ১৯৬২-৬৩ সনে এ বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে এর সংস্কার করা হয়। মধুপুর গড় অঞ্চলের প্রায় ৬৭,০০০.০০ একর বনভূমি পরিদর্শন, দর্শন, উন্নয়ন ও তদারকির জন্য এ বিশ্রামাগারটি তৈরী করা হয়। এঅঞ্চলের বনভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা, বন্য প্রাণী ও জীব- বৈচিত্র অবলোকনকরার সুবিধা এ রেস্ট হাউজের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অধিকন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উদ্ভিদও প্রাণী সম্পর্কিত শিক্ষা কার্যক্রমে বিশ্রামাগারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরে। আদিবাসীদের জীবনধারা বিচিত্র। দোখলা পঁচিশমাইল রাস্তার শেষে জলছত্র এলাকায় আদিবাসীদের নিজস্ব তাঁতে বুনান বিভিন্ন ধরণের রেশম বস্ত্র শিল্পেরবিক্রয় কেন্দ্র ‘‘কারিতাস’’। জানা যায় বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সাথেও দোখলা রেস্ট হাউজটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মধুপুরের দোখলা রেস্ট হাউজ এলাকাতেই সালমান শাহ-শাবনুরের ‘আনন্দ অশ্রুু’ চলচ্চিত্রটি চিত্রায়িত হয়েছিল।

আরও যা দেখার আছে :

এখানে আছে সাত হাজার একরের সরকারী রাবার বাগান। খুব ভোর থেকেই শ্রমিকরা গাছের বাঁকল কেটে সংগ্রহ করে গাছের কাঁচা (রস) রাবার। সংগ্রহীত কাঁচা রাবার কারখানায় জমিয়ে ধুঁম ঘরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বেশ কয়েকটি রাবার বাগানে এরকম দৃশ্য চোখে পড়বে। সন্তোষপুর রাবার বাগানে যাওয়ার পথে কাকরাইদ বিএডিসির সুদৃশ্য ক্যাম্পাস। এর পাশেই জয় তেঁতুল গ্রামের গোজাখালের বিখ্যাত লক্ষ্মীজোড়া ঝরণা এখন ইতিহাস।

একই পথে ঘাটাইল সীমানায় ইতিহাস প্রসিদ্ধ সাগরদীঘি। শতাব্দী প্রাচীন হিজলতলা মন্দির। কাকরাইদ থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ধরে এগুলে বন গবেষণা কেন্দ্রের বিশাল ভেষজ উদ্যান, বৈষ্ণবদের আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী সনাতন মন্দির, জলছত্র মিশন, বেলজিয়ামের অনুদানে নির্মিত বৃহত্তম কুষ্ঠ ব্যাধি হাসপাতাল, কারিতাস সিল্ক ফ্যাক্টরি ও শো-রুম। এখান থেকে কেনা যায় সিল্কের নানা পোশাক।

মধুপুর পৌর শহরের মধ্যেই ছিল ব্রিটিশবিরোধী ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের আশ্রয়স্থল ‘আনন্দমঠ’। বোয়ালী গ্রামে কাদের মাস্টারের বাড়ীতে তার সামান্য চিহ্ন এখনও আছে। পৌর শহরে আছে সনাতনীদের মদন গোপাল আঙ্গিনা মন্দির, দুর্গাপুর গ্রামে আছে পঞ্চপীরের মাজার। আম্বাড়িয়া গ্রামে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ি।

মধুপুর সদর থেকে ১৩ কিমি. দূরে ধনবাড়ী পৌর শহরে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর নবাববাড়ী, নবাব প্যালেস, মসজিদও অনেককে আকৃষ্ট করে।

 

আমাদেরকে কী সবকিছুই আইন করেই মানাতে হবে?
                                  

মো. মাহবুব আলম : করোনা কাঁপিয়ে দিয়েছে সারাবিশ্বকে। শঙ্কিত সারা পৃথিবীর সচেতন সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ। যেখানে সারা পৃথিবীতে শংকা-সংশয়-ভয়, সেখানে বাংলাদেশে এখনো প্রত্যাশা সুলভ জনসচেতনতা তৈরী হয়নি। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা ছিল সরকারের যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত। কিন্তু অতি মুনাফালোভী-পিশাচ শ্রেণির কিছু মানুষ প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার হর-হামাশাই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে যেন টাকার মূল্য অনেক বেশি। আর আমাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের নিয়ে যে কতটুকু ভাবেন অথবা কি ভাবেন তাই এখন বড় ভাবনার বিষয়। সম্প্রতি নরসিংদীতে প্রস্তুতি কোচিং সেন্টার নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং ক্লাস করার সময় প্রায় ২’শ শিক্ষার্থীকে পায় ভ্রাম্যমান আদালত। কিন্তু যেখানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, সেখানে এমন ধূর্ত আচরণ কোনোভাবেই সহজভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এই ২’শ শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ে এনে তাদের জীবনকে হুমকির মুখোমুখি করার এতটা সাহস একজন শিক্ষক কীভাবে পারেন! তাহলে কী আমরা অল্প সময়ের জন্য এটা ভাবতেই পারি এই প্রস্তুতির মতো অজস্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা প্রশাসনের চোখের বাইরে নিরবে এমন নগ্ন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে আমরা কী ভাবব? তারা কী শিক্ষা উদ্যোক্তা নাকি শিক্ষাকে পণ্য করে স্বপ্নবাজ অভিভাবকদেরকে তথাকথিত রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারিত করার প্রতারক ভাবব? কোনভাবেই এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। কারণ শুধু শিক্ষককে দোষ দিয়েই তো সমাধান হচ্ছে না। কারণ এই ২’শ শিক্ষার্থীর বাবা-মা ই কী অশিক্ষিত? তারা কী একবারও দেখলো না সারা পৃথিবীতে কী হচ্ছে? আমরা মুজিব শতবর্ষের আমাদের কাঙ্খিত আয়োজনকে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও পালন করতে পারিনি। সেখানে পিতা-মাতা কীভাবে পারলো তার সন্তানকে কোচিং সেন্টারে পাঠানোর নাম করে করোনা ভাইরাসের দিকে ঠেলে দিতে? আচ্ছা, আমরা কী নিজেদের কথা ভেবেও সচেতন হতে পারি না? সবকিছুই কেন আমাদেরকে আইন করে মানাতে হবে। শিক্ষকদেরকেও কেন দন্ডের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্ব যখন স্থবির তখন কেন এই শিক্ষকরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (নিষিদ্ধ কোচিং সেন্টারগুলো) বন্ধ করতে পারছেন না? আমাদেরকে কেন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বলতে হয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বললে তাদের বিরুদ্ধে শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে দেশটা কীভাবে এগিয়ে যাবে? তথাকথিত আখের গুছানো ব্যবসায়ীদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার লাইসেন্সটা কেড়ে নেওয়ার দরকার।
২। বাজারে যেন ঈদের আমেজ লেগেছে। নিত্য পণ্য মজুদে শুরু হয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কখনো কখনো কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। করোনা ভাইরাসের জ্বরে কাঁপিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের নিত্য পণ্যের বাজারকেও। আর সেই হিসেবে যেখানে আমাদের সকল ক্ষেত্রে কাজের অবস্থাটা কমে গেছে-বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে এই মূল্য বৃদ্ধির আমাদের মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত-নিম্ন বিত্ত এবং বিত্তহীনদের জন্য মরার উপর খাড়ার গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর জানা গেছে, এই মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদেরই ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। নিকট ভবিষ্যৎে খাদ্য পণ্য পাওয়া যাবে কী না এই আশংকায় ভোক্তারা বাজার থেকে চাহিদার কয়েক গুণ বেশি পণ্য সামগ্রী কিনে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা নন, এবার মজুদকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন ভোক্তারাই। আর সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, আটা, ডিম, শাক-সবজি, মাছ-মাংস সহ প্রতিটি পণ্যের দাম বছরের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। অন্যান্য দেশগুলোতে এই সংকট সময়ে সকল পণ্যের দাম কমিয়ে রাখা হয়েছে। জনগণের জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশটির জন্য অনেক বেশি আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে একজন করোনা রোগীর মৃত্যুর পর বাজারে পরিস্থিতি আরও অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। এ দিকে নিত্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য সামগ্রী কেনা থেকে বিরত থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আতংকিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়ের কোন যৌক্তিকতা নেই। আপনি বিষয়টি সহজেই বুঝবেন-আপনার ঘর ভর্তি খাদ্য বা চাহিদার সব যদি থাকে; কিন্তু আপনার চারপাশ যদি করোনায় আক্রান্ত থাকে তাহলে কী আপনি করোনা থেকে বাঁচতে পারবেন? করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে আমরা সারাবিশ্বের মানুষ যে সমস্যা বা সংকটে আছি সেখান থেকে উত্তরণের একটাই পথ-তা হলো সবাই সুস্থ থেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্তক থাকা। আর বিজ্ঞানীরা অতি দ্রুত একটি ফলাফল আমাদের জন্য বয়ে আনতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং সবাই নিজ নিজ ধর্মের মত অনুযায়ী স্রষ্টার কাছে (আল্লাহর কাছে) একটি প্রার্থনাই করি। করোনা ভাইরাস যেন আমাদেরকে গায়িবীভাবে একটি বার্তা দিচ্ছে-আর তা হলো কেউ চাইলেই পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। সবাইকে সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। একই ভাইরাসে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এই ভাইরাসটি একক কোন গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ করে আসেনি। করোনার চ্যালেঞ্জ এখন সারা পৃথিবীর; করোনার চ্যালেঞ্জ এখন প্রতিটি মানুষের।
৩। করোনা ভাইরাস ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য একটি আশার আলো নিয়ে এসেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণমাধ্যমে পাওয়া সূত্র মতে, করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য একটি কীট তারা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ডা. বিজন চক্রবর্তী ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় করোনা শনাক্তকরণ কীটটি আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন তারা সরকারের সহযোগিতা পেলে কীট তৈরীর কাঁচামাল আমদানির পর মাত্র ৭ দিনের মধ্যে দেশেই করোনা শনাক্তকরণ কীট উৎপাদন করতে পারবেন। যার ফলে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় করোনা শনাক্ত করা যাবে এবং তা মাত্র একদিনের মধ্যেই। যা আমাদের জন্য অবশ্যই একটি আশার সংবাদ। এজন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে অভিনন্দন এবং আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি দেশের এই অবস্থায় সারাবিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া মহামারী করোনা থেকে মুক্তির ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার যেন সারাবিশ্বের মধ্যে নিজেদের সফলতার জানান দিতে পারে। আর সেক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কারণ বাতাসের মধ্য দিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই প্রয়োজন এবং এ লড়াই বেঁচে থাকার জন্য। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে দেশের সবাইকে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে। এক্ষেত্রে এখন কেবল অভিযোগ অনুযোগ, দোষারুপ বা সংকট, আতংকের কথা না বলে যে যার অবস্থান থেকে বৈশ্বিক ও জাতীয় দুযোর্গ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। করোনা ভাইরাস পৃথিবীর জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমাদের ছোট দেশে মানুষ বেশি। তাই সরকারের পক্ষে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া কষ্টসাধ্য হবে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে সেক্ষেত্রে আমাদের কোন কমতি রাখলে হবে না। স্ব স্ব উদ্যোগে বাধা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে আতংকিত না হয়ে নিজেদের বাঁচাতে সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের বাঁচাতেই সবাইকে সতর্কতার সাথে চলতে হবে।

 

‘৩২ নম্বর’ বাড়িটি এখন ইতিহাস
                                  

এফ রহমান রূপক (আহ্বায়ক, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ) : দর্শনার্থীরা সিঁড়ির কাছে এসে কিছুক্ষণ থাকছেন, আবার চলে যাচ্ছেন। কিন্তু রাশিদা বেগম স্থির। তিনি বাড়িটির সিঁড়ির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। বেশ খানিকক্ষণ মুখে কোনো কথা নেই। তাঁর পরনে সাধারণ সুতি শাড়িÍঘরে যেমন করে শাড়ি পরেন নারীরা, তেমনই। লক্ষ করি, শাড়ির আঁচল দিয়ে বার কয়েক চোখের পানি মুছলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রাশিদা বেগম। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই সিঁড়িতে, যেখানে ঘাতকের বুলেটে বিদ্ধ বঙ্গবন্ধুর প্রাণহীন দেহ পড়ে ছিল। এ সিঁড়ি ধানমন্ডির সেই বাড়ির, যার পরিচিত ‘৩২ নম্বর’ নামে। যেখানে প্রায় ১৪ বছর সপরিবারে ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক।

আমাদের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রহরগুলো এখানেই গুনেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাড়িটি দেখতে অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন রাশিদা বেগমও। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরে। এত কাছের শ্রীপুর, তারপরও আসা হয়ে ওঠেনি গ্রামীণ কৃষক পরিবারের এই নারীর। শ্রাবণ শুরুর এক সকালে ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে তাঁর সঙ্গে দেখা। দেখেই কথা বলতে ইচ্ছে হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে মোহাম্মদ হালিম। তিনি অকপটে বললেন, ‘আমার আম্মা কিন্তু অ্যাক্কেবারে গ্রামের সাধারণ গৃহিণী। আপনাদের সঙ্গে ঠিকমতো হয়তো গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন না।’
ছেলে জানালেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাø কখনো মেনে নিতে পারেন না তাঁর মা। আগস্টের সেই কালদিনটিতে তাঁর মা আকুল হন কান্নায়। হালিম বলছিলেন, ‘দুনিয়ার সবকিছু উল্টাইয়ে গেলেও শেখ মুজিব আর হাসিনা ছাড়া আম্মা কিছু বোঝেন না।’
বাড়িটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন রাশিদা। ঘুরে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখার পর একরাশ বিষণ্নতা তাঁর চোখেমুখে। ধাতস্থ হওয়ার পর এটুকুই বললেন রাশিদা, ‘যেখানে শ্যাখ সাবের রক্ত আছে, সেইটাও দেখতে হইল।’
বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাড়িটি যেন সবাই দেখতে পারে, সে জন্যই বঙ্গবন্ধুর এই বাড়ি এখন জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। শেখ হাসিনা বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। ট্রাস্টই বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। নাম দেওয়া হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।’
আসলে বঙ্গবন্ধুর এই বাড়ির নম্বর ১০। বাড়িটি যে সড়কে, আগে এর নম্বর ছিল ৩২। সড়কের নামেই এখন বাড়িটির পরিচিতি। সড়কের এখন নতুন নম্বর ১১। তবে এই নম্বরটি বেশির ভাগ লোকই জানেন না। সবাই জানে ‘৩২ নম্বরই’।
ধানমন্ডির সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি এখন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ধানমন্ডির সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি এখন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’
নতুন প্রজšে§র আরেফিনও এ নামেই চেনেন বাড়িটিকে। রংপুর ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর এখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকায় কোচিং করছেন। ১৭ মার্চ (বঙ্গবন্ধু জš§দিন) ও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর নানা ভিডিও দেখছেন তিনি। এরপর থেকেই ৩২ নম্বর বাড়িটি একবার নিজ চোখে দেখার ইচ্ছে। আরেফিনের কথা, ‘যিনি আমাদের জাতির পিতা, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, এ অন্যায়।’
বাড়িটির প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে এবং পরিবারের অন্যদের আরও অনেক স্মৃতি। ভবনটিতে ঢুকে নিচতলাতেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধুর বড় একটি প্রতিকৃতি। প্রথম ঘরে সাজিয়ে রাখা ছবিগুলো কথা বলছে ইতিহাসের নানা সময়ের। সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতা ও শুভেচ্ছাবিনিময়ের আলোকচিত্র আছে এখানে। এই কক্ষই ছিল ড্রয়িংরুম, যেখানে বসে বঙ্গবন্ধু দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই কক্ষের পাশের কক্ষটি ছিল বঙ্গবন্ধুর পড়ার ঘর। এখানে বসে তিনি লেখালেখিও করতেন। এখান থেকেই তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠিয়েছিলেন।

দোতলায় প্রথম ঘরটি বঙ্গবন্ধু ব্যবহার করতেন। এর পরের কক্ষটি ছিল তাঁর শোয়ার ঘর। পাশের কক্ষটি কন্যা শেখ রেহানার শোয়ার ঘর। কক্ষগুলোয় বিভিন্ন প্রদর্শনসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেলের খেলার জিনিস। আছে রাসেলের বল, হকিস্টিক, ব্যাট আর হেলমেট। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু ব্যবহƒত পাইপ, চশমাসহ বিভিন্ন জিনিস তো আছে। এসব ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নানা ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষ্যও অমলিন এ বাড়িতে।
১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১–এর শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনÍনানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী এই বাড়ি। এসব আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাধারণ মানুষের দুঃখ–কষ্টের কথা শোনাÍসবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩২ নম্বরের এই বাড়ি।
ইতিহাসের এসব ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাড়িটি জাদুঘরে পরিণত করা একটা সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। প্রতিটি জিনিস দেখছি আর ভাবছি, এখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, এখানে তাঁর স্পর্শ আছে। আমার কাছে কেমন জানি অবিশ্বাস্য মনে হয়। আমি বিমোহিত।’
প্রতিদিন এ জাদুঘরে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ দর্শনার্থী আসেন বলে জানান কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবসে জনসামগম বেশি হয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষই আসেন। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের আসার পরিমাণ বেশি।
দেশের মানুষই শুধু নন, এ জাদুঘরে ছুটে আসেন বাংলাদেশে আসা বিশ্বের নানা দেশের মানুষ। ওমানের নাগরিক হারিস ওসমানের সঙ্গে দেখা হলো এখানেই। সস্ত্রীক এসেছেন তিনি। বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে ওসমান বলছিলেন, ‘আমি আপনাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের কিছুটা জানতাম দেশে থাকতেই। এ মাপের নেতা পাওয়াটা যেকোনো দেশের জন্য সৌভাগ্যের। সব দেশ এমন নেতা পায় না।’
বঙ্গবন্ধু পাখি ভালোবাসতেন। কবুতর মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হাসোজ্জ্বল বঙ্গবন্ধুর একাধিক ছবি সুপরিচিত। এ বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই থাকা পায়রার খোপ এখনো আছে। পায়রা শান্তির প্রতীক। কিন্তু পায়রা থাকা, সবুজ গাছে ঘেরা বাড়িটি প্রত্যক্ষ করেছে এ দেশের সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনার, যা ঘটেছিল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে। বাড়িটি তাই নিছক বাড়ি নয়; এ দেশের আশা, আনন্দ আর দুঃখের এক স্বাক্ষর হয়ে আছে। নজরুল ইসলাম খান ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ থেকে এখানে আছেন কিউরেটর হিসেবে। আশা-আনন্দ ও দুঃখের ব্যাখ্যা দেন নজরুল ইসলাম। বলেন, ‘আশা এই কারণে যে এই বাড়িকে কেন্দ্র করে, যিনি থাকতেন এই বাড়িতে সেই বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতি একটা আশার আলো দেখেছিল। এ বাড়ি থেকেই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা তথা গৌরবের আসনের অধিষ্ঠিত করার প্রয়াস ছিল। তাই এখান থেকে আনন্দ উৎসারিত হয়েছিল।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একইভাবে এ বাড়ি থেকে বাঙালি জাতির কলঙ্কের অধ্যায় সূচিত হয়েছিল। এ বাড়িতে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছিল পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে। তাঁকে হত্যারও সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানিরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি। তবে বাংলাদেশেরই কিছু বিপথগামী সৈনিক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। এর চেয়ে দুঃখের কাহিনি আর কী হতে পারে?’

 

জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ : পানি ও পরিবেশ
                                  

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন : পরিবেশগত দূষণ, বিশেষত যারা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে জড়িত তাদের উদ্ভব হয়েছে দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে যদিও সাইন আপ করা সম্ভব হয়নি দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মত নিম্নোক্ত এলাকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা রয়েছে, পানির সংকট, নদী ভাঙ্গন, পরিবেশগত দুর্যোগের কার্যকর প্রতিরোধ, দূষণ শিল্প বর্জ্য দিয়ে, দ্রুত নগরায়নের পরিণতি, ভূগর্ভস্থ পানির গুণমান, আর্সেনিক দূষণ, দুর্বল কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইনফ-সিআইটি ক্লিনিকাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী দূষণ, কীটনাশক ক্ষতিকর প্রভাব, লিঙ্গ প্রসঙ্গে স্থিতিশীলতা জলবায়ুু পরিবর্তন, পরিবেশগত গবেষণা থেকে বাধা, শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা, বেঁচে থাকার জন্য সুন্দরবন সংগ্রাম, পরিবেশগত শিক্ষা। এই সমস্ত থিমগুলি দেশের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি আভাস দিন। নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টির মধ্যে প্রথমটিই নির্ধারিত হয়েছে পানি-সংশ্লিষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। 

রাস্তাঘাট ও বাজার থেকে আমরা কী পানি কিনে খাচ্ছি, যে পানিকে আমরা ‘বিশুদ্ধ’ নামের দূষিত পানি পান করছি? তাতেই যদি এই অবস্থা দেখা যায়, তাহলে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ কতটা যে সঠিক, তা বলাই বাহুল্য। আমরা মনে করি, বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার আগে সুপেয় পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে। সেই পানি নিয়েই এখন চলছে প্রতারণা ও বাণিজ্য! ওয়াসা নগরবাসীর জন্য যে পানি সরবরাহ করছে তার মানও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। ঢাকা ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে থাকে তাকে পুরোপুরি সুপেয় পানি বলা যাবে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, ওয়াসা যেসব জায়গাকে পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে তা এতটাই দূষিত যে পরিশোধনের পরও স্বাভাবিক অবস্থায় আসে না। এ ছাড়া ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টেও (পানি শোধনাগার) সঠিকভাবে পরিশোধন হয় না। পানি দুর্গন্ধমুক্ত করতে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা নিয়েও আরেক সমস্যা। পরিমাণে বেশি ব্যবহার করলে পানিতে কেমিক্যালের গন্ধ থাকে। আর পরিমাণে কম দিলে পানিতে দুর্গন্ধ থাকে। সব কিছু মিলিয়ে পানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসার আরো যুগোপযোগী চিন্তাভাবনা করার এখনই সময়।
বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার বিষাক্ত হয়ে পড়া পানি শোধন করতে মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, লাইম (চুন) ও অ্যালাম (ফিটকিরি)। ফলে শোধনের পর অনেক সময় পানিতে ক্লোরিনের গন্ধ পাওয়া যায়। আবার পুরনো পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করায় পানিতে অনেক সময় দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। কিছু এলাকায় পাইপলাইনে ফুটো করে অবৈধভাবে পানির লাইন দেয়া হয়েছে। সেসব ফুটা দিয়ে ময়লা-আবর্জনা প্রবেশ করে পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ফোটানোর পরও সেই পানি দূষণমুক্ত করা যাচ্ছে না।
যদিও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে সব আশঙ্কা উড়িয়ে
দেয়। ওয়াসার পানির পাইপলাইন লিকেজ হয়ে তাতে স্যুয়ারেজ লাইনের ময়লা পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকায় আমরা সাধারণ মানুষ অনেকেই নিরাপদ ভেবে ব্যবহার করছি জারের পানি। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, জারের পানি বিক্রি করে বিভিন্ন পানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান দুই হাতে টাকা আয় করলেও জারের পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একদল গবেষক জানিয়েছেন, রাজধানীর বাসাবাড়ি, অফিস-আদালতে সরবরাহ করা ৯৭ ভাগ জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু ‘কলিফর্ম’ রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই জার ভর্তি পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা মারাত্মক ও হুমকিস্বরূপ। বিশুদ্ধ পানির নামে অপরিশোধিত পানি সরবরাহের রমরমা ব্যবসা চলছে খোদ রাজধানীসহ সারা দেশেই। এসব কি দেখার কেউ নেই? কার কাছে উত্তর জানতে চাইব?
গবেষকদের মতে, পানিতে টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের পরিমাণ শূন্য থাকার কথা, সেখানে ৯৭ ভাগ জারের পানিতেই দুটো জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কলিফর্ম মূলত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী প্যাথোজেন যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রোটাজেয়ার সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায় বা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে নানাবিধ রোগ সৃষ্টি করে ক্রমাগত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলস্বরূপ পরবর্তী সময়ে যে কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দ্বারা এই দেহ খুব সহজেই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আমরা জানি, সব মরণব্যাধির জন্ম দেয় দূষিত পানি। ডায়রিয়া, কলেরা, ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, টাইফয়েট, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগের মূল কারণ এই দূষিত পানি। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় সরবরাহ করা পানি সাপ্লাই লাইন দূষিত। বোতল বা জারজাত পানির ৯০ ভাগই বিশুদ্ধ নয়। এমন ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাচ্ছি। কেবল জারের পানিতে প্রাণঘাতী জীবাণুর উপস্থিতিই নয়, বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিএসটিআই নির্ধারিত মান না পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
কারণ ১৬ কোটি মানুষের দেশটিতে ৯৮ ভাগের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হলেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে না পারা এবং মৌসুমভেদে পানি সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। জনগণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য সরকারের ১৩টি মন্ত্রণালয়ের ৩৫টি সংস্থার নানা উদ্যোগের কথা শুনেছি কিন্তু বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ তাদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের বড় অভাব। এর সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বিশুদ্ধ পানির নামে জারে করে অপরিশোধিত ও দূষিত পানিই তারা বিক্রি করছে চড়া দামে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত হলো নিরাপদ সুপেয় পানি এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য। এটা নিশ্চিত করা মূলত সরকারের দায়িত্ব। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে সরকারের বিভাগ রয়েছে, জনবল রয়েছে। বাজারজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের কাজটা কী? যেসব অসাধু ব্যবসায়ী বিশুদ্ধ পানির নামে দূষিত মানহীন পানি বাজারজাত করছে, তাদের অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে, শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পানির ন্যূনতম মান বজায় রাখতে পানি পরিশোধন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো ও নজরদারির বিকল্প নেই। চালাতে হবে জনসচেতনতামূলক প্রচারনাও।

 

১৩৬ বছরেও কাজ করছেন সোনাভান
                                  

মাজহারুল ইসলাম চপল, রাজশাহী : ভারতের আসাম রাজ্যটা সবারই চেনা। ১৮শতকের শেষের দিকে আসামের কামরুখ-কামুকখ্যায় গরীব পরিবারে জন্ম হয় সোনাভান বেওয়ার। ছোটবলা থেকেই অনেক চতুর ছিলেন এই সোনাভান বেওয়া। খুব ছোটতেই একই এলাকার মোঃ আয়েনচান এর সাথে বিয়ে হয় সোনাভানের। বিয়ের পর ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার। কিন্তু কোন এক কালো ঝড় এসে লন্ডভন্ড করে দেয় তাদের সুখের সংসার। রাজনৈতিক ইস্যুর জের ধরে শুরু হয় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা। প্রানের ভয়ে যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে। ঠিক ঐ সময় সুখের সংসার ছেড়ে দুই সন্তান সাথে নিয়ে স্বামীর হাত ধরে প্রানের ভয়ে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে ।

যার অবস্থান বর্তমানে রাজশাহী শহরের আসাম কলোনী। এরপরে গন্ডগোল থামলেও আর ফিরে যায়নি এই সোনাভানের নিজের দেশ আসাম রাজ্যে। সোনাভানের স্বামী মোঃ আয়েন চান ইসলাম ধর্মে শিক্ষিত হওয়ায় এ দেশে বহু হিন্দু মানুষকে বয়াত পাঠ করিয়েছেন। এর পর থেকে তার ভক্তরা আর যেতে দেইনি কোথাও। এরপর আস্তে আস্তে আয়েন চানের জ্ঞানের মহিমায় যুক্ত হতে থাকে নামের পদবী। হযরত, রহঃ বিভিন্ন টাইটেল যুক্ত হয় তার নামের সাথে। ইসলামের আলোয় আলোকিত হতে থাকে এলাকা। আস্তে আস্তে গড়ে উঠে পাড়া মহল্লায় । তিনি এই এলাকার নাম করন করেন আসাম কলোনী। আয়েন চান এলাকায় গড়ে তোলেন মসজিদ। ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করেন অনেক মানুষকে। এরপর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ১৯৫২ সালে । বর্তমানে তার নামে এলাকায় একটি মাজার নির্মান হয়েছে। যার নাম করন করা হয় হযরত আয়েন চান রহঃ মাজার শরীফ। এরই মধ্যে সোনাভান ৫ সন্তানের জননীও হয়েছেন। স্বামী হারিয়ে সোনাভান হোচট খেলেও সামলে নেই সন্তান ও নিজেকে। আস্বাভাবিক পরিশ্রম ও ধর্য্যরে পরিক্ষায় সফল হয়ে সন্তানদের মানুষও করেছেন।
বর্তমানে সোনভানের বয়স ১৩৬ বছর। নিজের মনেবলের কাছে হার মেনেছে বয়স। এই বয়সেও চাল বাছা, নিজের কাপড় ধোয়া, ঝাড়ু দেওয়াসহ নানা কাজ করেন এই সোনাভান। তবে কয়েকদিন যাবত তিনি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নামাজ কালাম পড়তে হচ্ছে শুয়ে শুয়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তিনি এখনো মনোবল হারাননি। তিনি দৈনিক গনমুক্তিকে বলেন, আমি এখনো কাজ করি। তবে ভাষাটি ছিলো কাঁপা কাঁপা তোতলানো। তার ৫ সন্তানের ৪ টি মারা গেছে। সব ছোট মেয়ে বর্তমানে জীবিত রয়েছে। পরে পরিবারের লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার নাতি আর নাত-বৌ এর সাথে আছেন। তার নাত-বৌ বলেন, দাদী আমাকে অনেক কাজে সাহায্য করেন। সোনাভানের নাতি মোঃ হাবলু বলেন, আমরা দাদীর সেবার কোন কমতি রাখিনা। দাদী যা বলেন আমরা তাই করি। সবাই আমার দাদীর জন্য দোয়া করবেন।

আমাদের সেই মহানায়ক
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে লাখ লাখ মানুষ নিরস্র ভাবে যার যা আছে তাই নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে ১১ই জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের তেজ্বসী ভাষনের মুল মন্ত্র। ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) নিয়মিত বাহিনীর নাম মুক্তিফৌজ, এক লক্ষ গেরিলা ও বেসামরিক যোদ্ধা মিলে তিনটি ব্রিগেট ফোর্সে ভাগ করা হয়। ১-কে ফোর্স ২-এস ফোর্স ৩-জেড ফোর্স। তাদের মুখে শ্লোগান ছিল জয় বাংলা এদের মধ্যে নারী ও পুরুষ দুই ভাগে প্রশিক্ষন নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। লক্ষ লক্ষ মা ও শিশু জীবন বাচানোর জন্য প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের লঙ্গর খানায় আশ্রয় গ্রহন করেন। ভারত সরকার এদেরকে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, সেবা ও সহায়তা প্রদান করেন। এদেরকে শরনার্থী বলা হয়। আর এক শ্রেণীর লোক মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার অযুহাতে নিজেকে বাচানোর জন্য চিলে কোঠায়, গোলা ঘরে, জঙ্গলে পালিয়ে আত্ন গোপন করেছিলেন। 

আর এক শ্রেণীর লোক এরা পাকিস্তানীদের সহায়তার জন্য এদের দোসর সাজিয়ে রাস্তাঘাট দেখাতো, ভাষা বুঝাত ও রাতে ডাকাতি ও লুটতরাজ করত। মুক্তিযোদ্ধাদের গতিবিধির সংবাদ পাকিস্তানীদের সরবরাহ করত। এরা সমাজের ও দেশের শত্রু ও ঘৃনিত লোক এদেরকে রাজাকার, আলবদর, আসশামস্ বলা হয়। বর্তমানে এরা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচারের কাঠগড়ায়। কিছু রাজাকারের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। এটা বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের কৃতিত্ব। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা নিজের মাতা পিতা স্ত্রী সন্তান এমনকি নববধূসহ নানা প্রকার ভোগ বিলাস পরিহার করে নিজ মাতৃভূমিকে রক্ষা করা তথা স্বাধীনতার জন্য নিজেদের মন প্রান উজাড় করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। যুদ্ধকালীন সময়ে এদের দেখ ভালের কেউ ছিল না।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ছিল পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুকি নিয়ে আত্নমন বিসর্জন দিয়ে একটাই সংকল্প ছিল যেদেশ রক্ষা। এই যুদ্ধকালীন সময়ে তারা লোমহর্ষক বেদনার মধ্য দিয়ে তাদের যুদ্ধ করতে হয়েছিল। না ছিল খাদ্য, না ছিল বস্ত্র, পানি আশ্রয়। কোন কোন সময় তাদের ৫/৭ দিন পর্যন্ত না খেয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। এই ভয়াল দিন গুলিতে তারা ক্ষুধার তাড়নায় কাঁচা লাউ, কাঁচা কুমড়া, আলু খেয়েছেন। তবু তারা যুদ্ধ করেন একটাই চিন্তা যে, আমাদের দেশ স্বাধীন করতেই হবে। এবং বঙ্গবন্ধুর সম্মান চির উন্নত রাখতেই হবে। এই বিপদের সময় তাদের দূর্দিন চরমে ঠিক তখন এক শ্রেণীর লোক যারা পাকিস্তানীদের ভয়ে পালায়নি মহিলা ও পুরুষ কিশোর তাদের সাহায্যের হাত অন্য ভাবে বাড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে সঠিক ভাবে যুদ্ধ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ও খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করতে থাকেন। কেহ রান্না করে ঝোপ ঝাড়ে লুকিয়ে থাকা মুক্তিবাহিনীদের খাদ্য ও পানি পৌছিয়ে দেন। কেহ বা ব্যাংকার খননের সহায়তা করেন। কেহ গাছের গুড়ি, বাঁশ, গাছ, কুড়াল, খন্তা আনার কাছে সহায়তা করেন। কেহ গোলা বারুদ বহন করেন। আবার কেহ বা ঝড় বৃষ্টির দিনে নিজ গৃহেই একটু সাময়িক ঠাঁই দেন। আবার কেহ কেহ কলা ও মাছ বিক্রি করার ছলে হাটে বাজারে যাওয়ার সময় পাকবাহিনীদের খবর ও অবস্থান নির্ণয় করেন। সঠিক সংবাদ সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীদেরকে অবহিত করার কাজে সদা সর্বদাই নিয়োজিত ছিল। এমনি এক সহযোগী মহিলার কথা আমি এখানে তুলে ধরলাম।
নাম জানা নেই তবে আসির চাচার বউ। আমি সন্ধ্যার একটু আগে ওয়াবদার কেনালে বসে ছিলাম। দেখি একজন মহিলা ঢাকিতে কি যেন নিয়ে খারির জঙ্গলের দিকে যাইতেছে হাতে একটি পানির কলসি । আমার সামনে আসলে আমি তাকে বললাম কি বারে কেত যাবেন। চাচী বলল বারে হামার ছুয়ালা রাতি করে গুলাগুলি করে যাবা পারেনি ঐ বাগডোকড়া জঙ্গলের ধাদনি খানত সারাদিন নুকায় আছে। উমার তানে চাইটা ভাত আর আলু ভর্তা ধরে যাছু বা। রাতি করে আরো কুনতি ওমাক যাবা হবে। আমি বললাম চাচী তুই কেংক বুঝা পালো উমরা জঙ্গলত লুকায় আছে। ওবা মুই দুইপহরে খরি নুরিবা গেইছিনু একটা ছুয়া মোক কহিল চাচী হামাক চাডিক ভাত আনে দেন। কালি হতে হামরা কিছু খাই নি। এমনি দেখেছি কুলা বেচার বউ চাচীকেউ। স্থান সালটিয়া পাড়া নুনিয়া পাড়া বর্ডারের চাওয়াই নদী সংলগ্ন। জানি না এভাবে কত চাচা চাচী ও মা বোনেরা যুদ্ধকালীন সময়ে নিজের রান্না করা খাবার থেকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধে অনেক সময় আগাতে পিছাতে দেখেছি ঐ সময় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তার নিরাপদ জায়গায় মাল-ছামান নিয়ে দেওয়াও ছিল অনেক সাহায্যকারীর কাজ এরা “৭১”-এর সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা। এদের প্রধান কাজ যে যে ভাবে পারেন মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাঙ্গীন সঠিক ভাবে সহযোগীতা করা যেন তারা (মুক্তিযোদ্ধারা) সঠিক ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম হন। সঠিক যুদ্ধের ফলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই তারা বীর মুক্তিযোদ্ধার খেতাব, সম্মান, পুরস্কার পেয়েছেন। তাতে আমরাও আনন্দিত ও গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জতি সদা সর্বদা শ্রদ্ধা করে। তবে ৭১-এর সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদেরও মুক্তিযুদ্ধে অবদান অপরিসীম। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এরা ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমানেও এরা মক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বর্তমান প্রজন্মকে অবহিত করে চলেছেন। তাহা কোন মুক্তিযোদ্ধারাই অস্বীকার করতে পারেন না। তাদের প্রাপ্ত সম্মানটুকু বহন করার সুযোগ তাদের আপনাদেরকেই করে দিতে হবে। এবং আপনার ভাতা, আপনার সম্মান এমনকি আপনাদেরকে সদা সর্বদা শ্রদ্ধার আসনেই রাখবে। আপনাদের অধিকার খর্ব হলে আমরাই আবারও ঢাল হয়ে কাজ করব। তাই আমাদেরকে মর্যদা পেতে সঠিক সহায়তা দিন যেমনি ভাবে ৭১-এ আমরা আপনাদেরকে সহযোগীতা করেছি।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষন ও ২৬শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু হয় এই জন্য ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার যা মুজিবনগর সরকার নামে বিশ্বে পরিচিত। ১৭ই মার্চ এই নবগঠিত সরকার শপথ গ্রহন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারনে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রধান মন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী, এ.এইচ. এম কামরুজ্জামান মজিব নগর সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধের গতি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়। ১-কে ফোর্স, ২-এস ফোর্স, ৩-জেড ফোর্স। মুক্তিযুদ্ধকে সহজ ও সুবিধার জন্য মুক্তিবাহিনীকে ১১টি সেক্টরে ভাগকরা হয়।এই ১১টি সেক্টর সারা বাংলাদেশের তৎকালীন প্রতিটি জেলাকে কভার করে। এই ১১টি সেক্টরের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (নায়ক) ছিলেন জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি। প্রতিটিই সেক্টরে গেরিলা বাহিনীর জন্য বিশেষ নির্দেশনা ছিল। ১- অ্যাকশন গ্রুপ অস্ত্র বহন করত এবং সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিতেন। ২- ইনটেলিজেন্ট গ্রুপ খবরাখবর ও তথ্য সগ্রহ করতেন। ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর ভারতীয় মিত্র বাহিনী গঠন করা হয়। মিত্র বাহিনীর প্রধান নায়ক ছিলেন লেফটন্যান্ট জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ।

১০ই ডিসেম্বর থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পাক-বাহিনী এদেশের অনেক অপার সম্ভবনা ময় জ্ঞানী -গুনি, শিক্ষক, শিল্পি, চিকিৎসক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও দেশ প্রেমিকদের ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে।এই জন্য ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজিবী দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণ ভাবে আত্ন সর্ম্পনের মাধ্যমে দেশ পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তিপায়। দেশ ও জাতি বিজয় উল্লাসে মেতে উঠে আনন্দে ও উল্লাসে মেতে উঠে সারা দেশ। তাই প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় দিবস পালন করি।
১৯৭২ সালের ০৮ই জানুয়ারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক পাকিস্তানের কারাগার থেকে নিঃর্শত ভাবে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী এই মহান ব্যাক্তি স্বদেশ তথা স্বাধীন বাংলার মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। এই দিনটিও আমরা স্মরন করি, জাঁক জমক ভাবে পালন করি। এই দিনটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে।
ভাবার বিষয়: এই যে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ছাড়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক বাহিনী ছিল তাদের আলাদা আলাদা প্রধান (নায়ক) ছিল। ১৯৭১ সালের ১১ই জুলাই মুক্তিবাহিনী নামে একটি বাহিনী গঠন করা হয়। এই বাহিনীর প্রধান নায়ক ছিলেন জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী। সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তি যোদ্ধাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য মিত্র বাহিনীর নামে একটি সহায়তা কারী বাহিনী গঠন করেন এই বাহিনীর প্রধান (নায়ক) ছিলেন জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরা।
প্রত্যেক বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের অবদান আছে। কিন্তু এর উপরেও একটি শক্তিছিল সেই শক্তিবান মহা নায়ক কে ছিলেন? তিনি বাঙ্গালী জাতির গর্ব যিনি সারা জীবন বাঙ্গালী জাতির জন্য ভাবতেন। বার বার আন্দোলন, জেল, জুলুম, নির্যাতন সইতে কুন্ঠাবোধ করেননি। এই বাঙ্গালী জাতির চিন্তা ভাবনা ছাড়া যেন তিনি আর কিছুই ভাবেননি। সংসার, পরিবার,চাকুরী, ব্যবসা, মন্ত্রিত্ত সবকিছুকে উপেক্ষা করে একমাত্র নিপিড়িত, নিগৃহ, লাঞ্চিত বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি মাতৃভূমি ছিনিয়ে আনলেন। বিশ্বের বুকে উপহার দিলেন একটি ভাষা যার নাম বাংলা ভাষা বিশ্বের বুকে একটি জাতি যে জাতির নাম বাঙ্গালী আরো উপহার দিয়ে গেলেন একটি লাল সবুজের পতাকা ও একটি স্বাধীন দেশ যার নাম বাংলাদেশ। বাংলা নামে একটি শস্য শ্যামল দেশ যার নাম বাংলাদেশ। তিনি কে? তিনিই স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী তিনিই মহানায়ক যার নাম জাতির জনক মঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। তার ১০০ তম জন্ম শত বার্ষিকীতে আমরা জানাই জাতীয় ভাবেশত শস্ত্র শ্রদ্ধা এই দিবসটি উৎজ্জাপীত হওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অশেষ ধন্যবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু জয় হউক শেখ হাসিনার। মুজিব শতবর্ষ সুখ সমৃদ্ধ বয়ে আনুক। মজিব বর্ষ সফল হউক, বাংলাদেশ চিরজীবি হউক।



 

সুতাং নদীর দূষিত পানিতে মারা যাচ্ছে জলজ প্রাণী
                                  

সিলেট ব্যুরো চীফ : সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায়  আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার নেতৃবৃন্দ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার শিল্পবর্জ্যে দূষণে আক্রান্ত সুতাং নদী ও তৎসংলগ্ন খালগুলো পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তারা দেখতে পান সুতাং নদীর পানি কালো কুচকুচে হয়ে আছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীর দূষিত পানিতে মরে আছে জলজ প্রাণী। বাপা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপারের একটি প্রতিনিধিদল ‘ বাদ-জলকপাট দখল ও দূষণমুক্ত নদী প্রবাহ নিশ্চিত করো। আংশিক নয়, নদী বিষয়ক হাইকোর্টেও রায় সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করো’ এই স্লোগানে সুতাং নদী পরিদর্শন করেন। 

পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিনিধি দল দেখতে পান হবিগঞ্জ জেলায় অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে চরম সঙ্কটে পতিত হয়েছে নদী, খাল-বিল, জলাশয়। বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর লাখো মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নদী পাড়ের মানুষ। কয়েক বছর ধরে চলে আসা শিল্পবর্জ্য দূষণের কারণে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু হাঁস-মুরগী। মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ছে নদী-খাল-বিল জলাশয়। অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ জটিল রোগে। অসহনীয় দুর্গন্ধের ভেতর দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন লাখো মানুষ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দায়ী করছে কল-কারখানার মালিক ও দূষণ রোধে দায়িত্বশীলদের। বাপা জেলা সেক্রেটারি ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেলের নেতৃত্বে পরিদর্শন দলে ছিলেন বাপা আজীবন সদস্য এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল, বাপা সদস্য অ্যাডভোকেট বিজন বিহারী দাস, নদীকর্মী ডা. আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. আবিদুর রহমান রাকিব, সাইফুল ইসলাম, মেহের সাগর সোহাগ প্রমুখ। এই নদীর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করে অনেক কৃষক উপকৃত হতেন । কিন্তু দুর্ভাগ্য বিগত কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানা হবার পর থেকেই নানান সমস্যা হচ্ছে। মানুষ পানি ব্যবহার করলে চর্মরোগ সহ নানান ধরণের অসুখ হয়। নদী এবং আমাদের বিলগুলোর মাছ বিনষ্ট হচ্ছে। পানিতে যত ধরণের প্রাণী আছে প্রায়ই দেখা যায় মরে ভেসে উঠে। ময়লা পানির কারণে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হবার কথা তা হচ্ছে না। দূষণের কারণেই প্রাণী এবং মাছ ধ্বংস হচ্ছে। লাখাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম নদীর পাড়ে। এই গ্রামগুলোর মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না। ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, হবিগঞ্জে সুশাসন না থাকাতে, পরিবেশগত মনিটরিং না থাকাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অনাচারে এই এলাকার পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। হবিগঞ্জের ৫টি নদী সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়ে গেছে শুধুমাত্র হবিগঞ্জের শিল্পায়নের জন্য। এই শিল্পায়ন এবং প্রবৃদ্ধি কার জন্য? এখন যদি মানুষই না থাকে তাহলে ভোগ করবে কে? নদীর পানি কালো আলকাতরার মতো প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা দেখেছি ব্যাঙ মরে ভেসে রয়েছে। এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, এই পানি যদি পশুপাখি খায় তাহলে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে। এই পানি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজকর্ম চলত, চাষাবাদ হচ্ছে না। প্রতিবছর এইখানে পুণ্যস্নান হত কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ এলাকার জন-প্রতিনিধিদের দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তা না হলে কিছুদিন পর এখানে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।



মহম্মদপুরে ঋতুরাজ বসন্তের শিমুল ফুল
                                  

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুরে শিমুল ফুলের রঙিন পাঁপড়িতে রাঙিয়ে তুলেছে প্রকৃতি। নতুন সাজে সেঁজেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই শিমুল ও পলাশ ফুলের সৌন্দর্যে নান্দনিক হয়ে উঠেছে প্রকৃতি ও উপজেলার গ্রাম-বাংলার পরিবেশ। শিমুল ফুলের আভা জানান দিচ্ছে বসন্ত বুঝি এলো রে।
উপজেলার গ্রামাঞ্চলের পথে-প্রান্তরে, নদী বা পুকুরপাড়ে, মাঠে-ঘাটে, বাড়ির আঙিনায় এবং অফিসের ধারে রক্তিম ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির কোলে। তবে আজ অম্লান অতীতের স্মৃতি। তেমন একটা চোখে পড়ে না ফাগুনের রঙে রাঙানো রক্তলাল শিমুলের গাছ। দিনদিন কমে যাচ্ছে মূল্যবান শিমুলের সংখ্যাও। এক সময় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। আর এই গাছের উৎপাদিত তুলা গ্রাম-গঞ্জে খুব জনপ্রিয় ছিলো।
এছাড়া ঔষধি গাছ হিসেবেও বেশ পরিচিত। গ্রাম-বাংলার মানুষ বিষ ফোড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস এবং কোষ্ঠ কাঠিণ্য নিরাময়ে ব্যবহার করতো শিমুল গাছের মূল। এই শিমুল গাছের তুলা দিয়ে সুতা, বালিশ, লেপ, তোষকসহ হরেক রকমের বেডিং নিমার্ণে কোনো জুড়ি ছিল না। নিজের শিমুল গাছের তুলা বিক্রি করে সাবলম্বী হয়েছে অনেকে এমন নজিরও আছে গ্রামে। আবার শিমুল তুলা কুড়িয়ে বিক্রি করে উপার্জনও করতো অনেকে।
ফাগুনের প্রথমেই লাল রঙের ফাগুন ঝরা রঙিন পাঁপড়িতে রাঙিয়ে যেত শিমুল গাছ আর চৈত্রের শেষে ফুটন্ত তুলা বাতাসের সাথে উড়ে উড়ে মাতিয়ে রাখতো প্রকৃতিকে। সাঁদা তুলায় ঠেঁকে যেত নীল আকাশ। তখন পরিবেশটাও হতো অন্যরকম। নানা ছন্দে ও গানের খোরাক যোগাতো কবি সাহিত্যিকদের। কিন্তু গ্রাম-বাংলার বুক থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে মূল্যবান এই শিমুল গাছ। যা এক সময় অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধি এনে দিত।
যখন কোনো কিছু প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যায়, তখন তার কদরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। আর শিমুল গাছ ও ফুল হচ্ছে তেমনই। যা এখনও গাও-গ্রামে মান্দার গাছ হিসেবে বেশ পরিচিত। তাই সকলেই গাছ লাগায় এবং গাছের পরিচর্চা করি। একদিকে যেমন প্রাণ বাঁচবে অন্যদিকে তেমনই প্রকৃতির সৌন্দর্যও বাড়বে।

কালিয়াকৈরে নবনির্মিত ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে গর্ত, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
                                  

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় নব নির্মিত ব্রিজের সংলগ্ন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজটি উদ্বোধনের কয়েকদিন পর ওই গর্তের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। 

এলাকাবাসী ও পরিবহণ শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় ঘাটাখালী নদীর উপর দুটি ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্রিজ অতিঝুঁকিপূর্ণ হলে সেখানে আরেকটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নবনির্মিত ওই ব্রিজের কয়েক গজ পূর্ব পাশে মহাসড়কে স্থাপিত গ্যাস লাইনের স্লাপ হঠাৎ ভেঙ্গে ডেবে গর্তের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের এখন পর্যন্ত টনক নড়েনি। প্রতিদিন সেখান দিয়ে উত্তরবঙ্গের যানসহ স্থানীয় শত শত যানবাহন ঝুকি নিয়ে চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে বড় ধরনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অতিদ্রুত সেখানে মেরামত করে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকদের।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলরত গাড়ী চালক আঃরাজ্জাক বলেন, এই সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় দুর থেকে গর্তটি তেমন ভালো ভাবে দেখা যায় না। একটি গাড়ী পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে মারত্বক সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু উক্ত গর্তটির কারণে অনেক ঝুকি নিয়ে গাড়ী চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় মোঃ কবীর হোসেন জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় যাত্রী ওপণ্য পরিবহনের যানবাহনসহ উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসনের লোকজনও চলাচল করে। অনেক সময় চালকরা গর্তের কাছাকাছি চলে এসে হার্ড ব্রেক করে বিপদ থেকে রক্ষা পান।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাশেদ জানান, নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণের সময় ওই গ্যাস লাইনের স্লাপটি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি আবার ভেঙ্গে ডেবে যায়। তবে ওই গর্তটি কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কার করা হবে।

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে বাংলাদেশ
                                  

এম সাদ্দাম হোসেন পবন : বিশ্বে তাপমাত্রা (গ্লো¬বাল ওয়ার্মিং) ক্রমশই বাড়ছে। এর প্রভাব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ ও এর জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। অভিজ্ঞতা সম্পূন্ন বড় বড় পরিবেশবাদী ও উন্নয়ন সংস্থাদের বিভিন্ন কেস স্টাডিতেই এর যথেষ্ঠ প্রমাণ পাওয়া গেলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানব জীবনের খাপ খাইয়ে নেয়ার কোন কৌশল নির্ধারন বা প্রনয়ন হয়নি। উষ্ণতার প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন, পানি সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে এমনকি পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারনে মানব অস্তিত্ব নিশ্চিহৃ হয়ে যাওয়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। গ্লোবাল ওয়ার্মিং মানব জীবন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে নীতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ বাংলাদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়; সহস্রাব্দ কাল হতেই চলে আসছে ভয়াবহ রুপ নিয়ে। জীবাশ্ম জ্বলানীর সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী উন্নয়ন শীল দেশ গুলোর ”প্রিন্সিপাল কনসিউমারস” সৃষ্ট গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমণ সীমাবদ্ধতার মধ্যে রেখে পার্শ্ববর্তী অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মসূচীতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া অনিবার্য।
১৯৯২ সালে ইউনাইটেড নেশন ফ্রেম ওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) কনভেনশনে য্ক্তুরাষ্ট্র,অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ ১শ’ ৮০টির বেশী দেশ স্বাক্ষর করে এবং অনুমোদন করে। কনভেনশনের ২নং আর্টিকেল অনুসারে এসব দেশ আবহাওয়া পরি-মন্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন স্থিতিশীল রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেও বাস্তবে তার কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তারা গ্যাস নির্গমন এমন একটি স্তরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে জলবায়ু নানা সিস্টেমের সহায়তায় মানব জাতির অস্তিত্বের জন্য কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। এই অঙ্গীকার উপেক্ষা করে ধনী দেশগুলো সীমাহীনভাবে গ্যাস নির্গমন করে চলছে। যা ভয়াবহতার দিকে অনুন্নত দেশগুলো মারাত্মক হুমকির সমূখীন হয়েছে। ইতিমধ্যে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু শীর্ষক নানা কনভেনশন ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলা হলেও কার্যকরী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আশানুরুপ অগ্রগতি আসেনি। বাস্তবমূখী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী চলমান তাপমাত্রার সাথে তাদের জীবন ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি-হ্রাসে সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে বিশেষ গুরুত্বশীল হওয়া দরকার।
সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব নিয়ে সরকার এক ধরনের বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছিল। সুন্দরবন বাঁধা হয়ে দাড়ানোর কারনেই বুলবুল ভয়ানক তান্ডবের বিস্তার করতে পারেনি,বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহনশীল করতে হলে সুন্দরবনের প্রতি সরকারের উদ্যোগী হতে হবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়ানক ভাবে তেড়ে আসার আশংকা উড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়।
সর্বশেষ ঘূণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরা,খুলনা,বাগেরহাট,বরগুনা, পিরোজপুর,মাদারী, পটুয়াখালীসহ ১০ জেলায় ১৩ জনের প্রানহানি ও ৩ লক্ষাধিক ঘর-বাড়ি,কৃষির ক্ষেত্রে ক্ষতিসহ চিংড়ি ঘের-পুকুরের মাছ প্লাবিত হয়। ঘূণিঝড় বুলবুলের প্রভাব অতি দূর্বল হলেও ক্ষতির সংখ্যা বেশী। এ থেকেই অনুধাবন করা যায়,যে সতর্কতা এবং মহা-বিপদ সংকেত দেখানো হয়ে ছিল এর প্রভাব বিস্তার হলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতির ব্যাপকতা ভয়াবহ আকার ধারন করতো। আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্রমতে-যেখানে ১৪০ বা ১৫০ কিলো-মিটার সঞ্চারিত গতি নিয়ে বুলবুল উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার কথা,সেখানে সুন্দরবনে ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানার কারনে বাঁধা পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে বুলবুল দমকা হওয়ায় প্রবেশ করে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বৃক্ষ বুলবুলের গতি থাকিয়ে দেয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে বুলবুলের প্রলয়ংকরী কোন প্রভাব বিস্তার হয়নি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে বার বার সুন্দরবন রক্ষা করলেও সুন্দরবনের যত্নে সরকারের তেমন নজরদারি নেই। শনিবার রাতে বাংলাদেশের সুন্দরবন নিকবর্তী সাতক্ষীরায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এবং গতিবেগ খুলনা ও বাগেরহাটের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। ১৪টি জেলার প্রায় ২২ লাখ উপকূলীয় বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রমকে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানান দেয়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের উৎপত্তি স্থল আন্দামান সাগর সেখান থেকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে এবং সেখান থেকে ভয়ানক গতি বাড়িয়ে সুন্দরবনে গতিপথ থাকায় এবারের জন্য বড় ধরনের বিপদাপন্নতার কবল থেকে বেঁচে গেল বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড় তো এক বারেই শেষ নয়; বার বার ধেঁয়ে আসবে কিন্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা প্রাকৃতিক ভাবেই করার সক্ষমতা অর্জনে সরকারকে গুরুত্বশীল হওয়া দরকার।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের যে ধরনের প্রস্তুতি দেখা গেছে সেই অর্থে সুন্দরবনের বন উজাড় তান্ডবের বিরুদ্ধে কঠোরতা দৃশ্যয়মান নয়। গাছ কেটে সুন্দরবন উজাড় করার ঘটনা প্রায়শই ঘটলেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের ক্ষেত্রে তেমন নজির স্থাপন করতে পারেনি প্রশাসন।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় কতটা ভয়াবহতা সৃষ্টি করতে পারে যা পূর্বের ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর,২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার সংঘটিত ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ ছিল। পরবর্তী যে ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হবে তার নাম দেয়া হয়েছে পবন। এই বিশ্লেষন ধর্মী নাম থেকেই ধারনা করা যায়, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় ভয়ানক হবে এবং যা মানব অস্তিত্বে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। বুলবুলের ধেঁয়ে আসা প্রভাব নিয়ে আশংকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার গোটা রাত্রি জেগে থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মাঠ প্রশাসনের সাতে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল বেষ্টিত ১৪টি জেলার প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক কার্যক্রমের নির্দেশনা প্রমান করে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সরকার শতভাগ সক্ষমতা দূযোগ ঝুঁকি হ্রাসে নিয়োগ করতে পারে। তবে বনাঞ্চলের কোন বিকল্প নেই এই চিন্তা থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহন করতে হবে। দরকার আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মতামত ভিত্তিক টেকসই সময়োপযোগি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন।
কাজী নজরুল ইসলামের “বুলবুলি নিরব নার্গিস বনে” গানটির সাথে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও সুন্দরবনের মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায়। ভয়ানক শক্তি নিয়ে আঘাত হানা বুলবুলকে সুন্দরবন নিরব করে দিল তা অবশ্যই প্রকৃতির ভারসাম্যতা। কাজী নজরুল ইসলামের গানের নার্গিস বন হয়তো সুন্দরবন নিয়ে চিন্তাকেন্দ্রিক ছিল না তবে ঘূনিঝড় বুলবুলকে নার্গিসবন নিরব করে দিলো তা অবশ্যই ভাবনা দায়ক বটে। তাই অতীতের অফুরন্ত ভাললাগা এবং ভালবাসার সুন্দরবন হিসেবে সারা বিশে^ খ্যাতি ধরে রাখতে সুন্দরবনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রাকৃতিক যে নিয়মাবলী রয়েছে তাকে ভেঙ্গে চুড়ে নতুন নিয়ম তৈরী করার ধৃষ্টতা এবং উদ্ধত্বা বৈজ্ঞানিকরা দেখাচ্ছেন তার ফলে সৃষ্টিতে যে অনাবৃষ্টি জন্ম নিচ্ছে তার ভয়াবহ প্রমাণ পাওয়া সত্বেও বৈজ্ঞানিকরা নিবৃত্ত হচ্ছে না। ওজন লেয়ারে যে ঘটনা ঘটেছে তা তারা জানেন। অথচ কি করে এর হাত থেকে মুক্ত হবেন তা তারা জানেন না। ৩০ শতকে আমেরিকাতে পাহাড় পর্বত ভেঙ্গে চুড়ে নতুন নতুন শহর করতে গিয়ে ইকোলোজিতে গড়-বড় টের পেয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে পারিপার্শি¦ক স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট করলে অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়। ঠিক সেই সময়ে পারিপার্শ্বিক বিজ্ঞানের জন্ম হয় এবং তখনি তারা বুঝতে পারলেন, প্রকৃতিতে যে নিয়ম রয়েছে তাকে অগ্রাহ্য করে ভেঙ্গে ফেলে নতুন কোন নিয়মে কেউ যদি প্রকৃতিকে পরিচালিত করতে চায়-তাহলে সকলেই অপ্রত্যাশিত বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। তখন থেকে পারিপার্শ্বিক বিজ্ঞানের উদ্ভব হয় এবং ধর্ম যে নীতির কথা বলেছে প্রকৃতি সম্বন্ধে সেই নীতিকেই গ্রহন করতে বাধ্য হয়।
২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এমন নজির স্থাপন করবে তা থেকে বেঁচে উঠার কোন কৌশল নেই বাংলাদেশের। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা দেড় মিটারে রুপ নিলে বাংলাদেশের মানব অস্তিত্ব মহুূত্বে গুলিয়ে মিশিয়ে যাবে সে আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ স্থল ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। বিশ^জুড়ে সর্ব বৃহৎ ১০টি মেগাসিটির মধ্য ৮টি মেগাসিটিই সমুদ্র-তীরবর্তী এলাকাজুড়ে বিস্তৃত যার পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ দেড়’শ হতে ২’শ কিলোমিটারের মধ্যে মানব ও প্রানিকুলের বসবাস। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে সেই প্রভাবে আক্রান্ত মানুষদের পাশ^বর্তী দেশ ভারতেও যাওয়ার কোন উপায় থাকবে না। তারকাটা দিয়ে সিমান্ত অঞ্চলের যে বেষ্টিনী রয়েছে তা বিপদাপন্নতার সময় ভেদ করে আশ্রয় নেয়াও বাংলাদেশের মানুষের মরণ ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
একবিংশ শতাব্দির এই সুন্দরবন উজাড়ের ভয়াবহ বিপর্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কর্ম- প্রচেষ্টা গ্রহন করা অত্যাবশ্যক। আজকের মানুষ যে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা থেকে মুক্তির পথ আবিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরী ; অন্যথায় এই গাফিলতিই মানব জাতির জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। এমনকি পৃথিবীতে প্রাণীর অস্তিত্ব বিলপ্তি হওয়া স্বাভাবিক। তাই আসুন বিশ্বের পরিবেশ দূষণ রোধ করি, গাছ লাগাই, পরিবেশ বাচাঁই। সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বনাঞ্চলকে টেকসই এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা অতীব জরুরি।

 

বীরগঞ্জে গাছে গাছে শিমুল ফুল
                                  

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও উপজেলায় বসন্তের শুরু থেকেই রক্তিম রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে শিমুল গাছের ফুল। শুধু ফুল আর ফুল -পাতা নেই, ফুটন্ত এ ফুল যেন সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। আর এই রক্ত লাল থেকে সাদা ধূসর হয়ে তৈরি হয় তুলা। কিন্তু এখন বিভিন্ন প্রযুক্তিতে তুলা তৈরি ও ফোম ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিমূল তুলা ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় গাছে গাছে শোভা বর্ধন করতো এই শিমুল ফুল। তবে কালের বিবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তে এখন আর যেখানে সেখানে চোখে পড়ে না রক্তলাল শিমূল গাছ। মূল্যবান শিমুল গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তর পথে। বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলল ফুটন্ত ফুলের রক্ত লাল শিমূল গাছ। শিমূল গাছের ফুটন্ত রক্ত লাল শিমূল যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে রঙ।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বনমালী রায় বলেন, বলাকার মোড়ের কালী মন্দিরের পিছনে একটি ঐতিহাসিক শিমূল গাছ ছিল, সেটি অযত্নে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবে পরিচিত। গ্রামের মানুষ এক সময় আখের গুড় তৈরিতে শিমূলের রস ও কোষ্ঠ কাঠন্য নিরাময়ে শিমূল গাছের মূলকে ব্যবহার করতো। গোলাপগঞ্জ হাট এলাকার কবিরাজ দরপো চন্দ্র রায় জানান, গ্রাম বাংলার মানুষদের এই শিমূল গাছ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিত। মানুষরা এই শিমূলের তুলা কুড়িয়ে বিক্রি করতো। অনেকে নিজের গাছের তুলা দিয়ে বানাতো লেপ,তোষক,বালিশ। কিন্ত আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর তেমন চোখে পড়ে না শিমূল গাছ।

বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি প্রশান্ত সেন বলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তিতে তুলা তৈরি ও ফোম ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিমূল তুলা অনেকে ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছে। বাংলার চিরন্তন রুপ শিমূল পলাশের লাল সুন্দর্য থেকে আজ আমরা সরে আসছি। ফলে শিমূল গাছ বিলুপ্তর পথে।

 

বীরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প
                                  

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)প্রতিনিধি : উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগীয় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় একসময় এখানকার মানুষ তাদের কৃষিজনিত বিভিন্ন কাজে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তাদের চাহিদা পুরন করতো। সে সময় কৃষির মৌসুম ভেদে এ শিল্পে নিয়োজিতরা ব্যস্ত সময় পার করতো, দেখে মনে হতো তাদের দম ফেলার সময় থাকতো না। মানুষ তাদের দরকারের কয়েকদিন আগ থেকে বাঁশ শিল্পের কারিগরদের কাছে ধর্ন্যা দিত। বিভিন্নজনের বিভিন্ন ধরণের চাহিদা,সবাই তাদের প্রয়োজনীয় ডালি,কুলা,চালন,চারাইয়া,ধামা, মাছ ধারা খোলোই, ডারকিসহ আরো অনেককিছু তৈরি করে নিতো। আর কারিগররা দিনরাত ক্রেতাদের চাহিদা পুরন করার জন্য কাজ করে যেত। এতে করে পরিশ্রম অনুযায়ী মুনাফাও ভাল পেত।

অনেকেই তাদের ভবিষ্যৎ এর আশায় নিজের ছেলে - মেয়েকে এ পেশায় নিয়োজিত করেছে। সময়ের পরিবর্তনে এ শিল্পের কদর আর আগের মত নাই বলেই চলে। বর্তমানে দেশ উন্নয়নের এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক পণ্য ব্যাপক হারে ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করছে কম। বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এবং বেশি দামে বাঁশ ক্রেয় করে কম দামে পণ্য বিক্রি করায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বাঁশ শিল্পে নিয়োজিত কয়েকশত মানুষ। তারা অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে।

উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাটে দানিয়াল মৃধা দি, ওয়েট্রাস্ট চার্চ এ চাকুরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন বাঁশের কুটির শিল্প। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন বিক্রেতা এসব পণ্য বিক্রি করছে। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, একটা সময় আমরা এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে পারতাম না। আমরা বিভিন্ন মৌসুমের আগে মজুদ করে রাখতাম। এখন আর আগের মত চাহিদা নেই, সবাই কম দামে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করে আসছে। তারা মনে করেন এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দরকার। কারণ কমদামে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করলেও সেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। বীরগঞ্জ পৌর হাটখোলায় একটি দোকানের মধ্যে কয়েকজনকে বসে কাজ করতে দেখা গেছে। তারাও বলছে একই কথা এসব শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

ইসলামপুর পৌরবাসীর প্রিয় নেতা মেয়র সেখ মো: আ: কাদের
                                  

মীর জাহাঙ্গীর,জামালপুর : মানুষের সাথে যার আত্মার সম্পর্ক, পৌরবাসী অধিকাংশ নাগরিকের নাম, গ্রাম,কে কি করেন, তার ঘরবাড়ী কেমন, সংসার কেমন চলছে প্রায় সব অবস্থা যার নখদর্পনে তিনি জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার পর পর দুইবারের নির্বাচিত মেয়র সেখ মো: আ: কাদের। তার কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা বহু মানুষদের মধ্যে বোরকা মুখোশপরা মহিলাদের এক নজর দেখেই চিনে বলে দেন তার নাম, কোথায় থাকেন। মানুষের সাথে কত বেশী মিশলে এ বিষয়গুলো রপ্ত করা যায় তা মেয়র কাদেরকে না দেখলে বুঝা কঠিন। জনগনের ক্ষমতা ও ভালবাসায় ক্ষমতায়িত মেয়র সিদ্বান্ত নেন কোন ধরণের প্রভাব ছাড়া। তার কাছে সহজে মানুষ সেবা পায়। কোন মধ্যষত্বভোগীর প্রয়োজন বা সুপারিশ লাগেনা।
সম্প্রতি তার কার্যালয়ে গিয়ে সেবা নিতে আসা মানুষদের সাথে কথা বলে উঠে আসে নানা বিষয়। এদের মধ্যে রিক্সা চালক নজর আলী জানায়, ভাই সবাইতো নেতা। আমগোরে খবর কেও নেয় না। তবে আমগোরে মেয়র কাদের ভাই অন্য রকম মানুষ। আমাদের যে কোন সমস্যায় তার কাছে আসি। তার কাছে অসুখ-বিসুখে, গরিব মানুষের বিয়ে সাদীর ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ পাই। আমাদের এলাকার যে কোন ঝগড়া বিবাদে তার কাছে এলে তিনি উভয় পক্ষের কথা শুনে বাদী বিবাদীর ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সুবিচার করে দেন। তার কারনেই আমাদের এলাকায় মামলা মোকদ্দমার সংখ্যা কম। কত ভাঙ্গা সংসার জোড়া লাগাইছে আমাদের কাদের ভাই। আমরা তারে যতদিন বাইচা থাকবো ভোট দিমু।
পৌর এলাকার অটোবাইক চালক জামাল উদ্দিন কথা প্রসঙ্গে বলেন, অনেক পৌরসভায় শুনছি লাইসেন্স নিয়া ঝামেলা হইছে। আমরা খুব সহজে লাইসেন্স পাইছি। আমাদের পৌরসভার প্রায় সব রাস্তা পাঁকা হইছে। এতে মানুষের যাতায়াতে খুব সুবিধা হইছে। অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের এক অটো ড্রাইভার মারাত্মক অসুস্থ্য হয়েছিলো। চিকিৎসা করার সামর্থ্য তার ছিলো না। কাদের ভাই নিজে চাঁদা তুলে তার সুচিকিৎসা করেছে। এখন সে আগের মতই অটো চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল আছে। শীতের রাতে নিজে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে গরিব মানুষ,অটোচালক-রিক্সা চালকদের নিজের টাকায় কম্বল দিয়েছে। তার জন্য আমরা সবাই দোয়া করি।
পৌর এলাকার ব্যবসায়ী আজমত আলী। তিনি এসেছেন ট্রেড লাইসেন্স নিতে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কোন ধরণের চাদাবাজীর শিকার হয়না। ঝামেলা ছাড়া তারা ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, কাদের ভাই প্রায় প্রায়ই বাজারে এসে আমাদের খোঁজখবর নেন।
পৌর এলাকার চাতাল শ্রমিক খোদেজা কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমার একটা ছেলে প্রতিবন্ধী। অনেক চেষ্টা করেও টাকার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড পাই নাই। কয়েকদিন আগে মেয়র কাদের ভাই মাইক দিয়ে সব প্রতিবন্ধী মানুষদেরসহ অভিভাবকদের আসতে বলেন পৌরসভায়। আমিও আমার ছেলেরে নিয়া যাই। সেখানে আমার ছেলের নাম উঠছে। এইবার কার্ড পামু। কোন টেহা লাগবোনা।
পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, পৌর মেয়র সেখ মো: আ: কাদের ২০১১ সালে প্রথম বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তখন ইসলামপুর পৌরসভা ছিলো “গ” শ্রেণির। বর্তমানে তা “ক” শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তখন পৌর এলাকার রাস্তায় সড়কবাতী ছিলো মাত্র ৮০টি বর্তমানে তা হয়েছে ১২শত টি। তখন বেশীর ভাগ রাস্তা ছিলো কাঁচা আর বর্তমানে পৌর এলাকায় ৫০ কি:মি: পাঁকা রাস্তা। পয়:নিস্কাশনের জন্য ৩০ কি:মি: ড্রেন নির্মান করা হয়েছে। পৌরসভায় বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ১৭৭৭জন। প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ৬৯০ জন। বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ৪৩৭জন। মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন ৫শত জন। মসজিদ মন্দিরের উন্নয়নে এবং শিশুকিশোরদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন সময় অনুদান দেয়া হয়। অতি সম্প্রতি পৌর ঈদগাহ ময়দানের জন্য জায়গা ক্রয় সহ সিমানা প্রাচীরের কাজ চলছে। এছাড়াও পৌরসভার বিধি অনুযায়ী অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রকল্প চলমান রয়েছে।
পৌর মেয়র সেখ মো: আ: কাদেরের নিকট তার জনপ্রিয়তার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একাধারে আওয়ামীলীগ ইসলামপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জনগনের ভোটে নির্বাচিত মেয়র। আমি বিশ্বাস করি দল যার যার মেয়র সবার। আমাকে দলমত নির্বিশেষে সকলে ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে। আমাকে তারা সেবা করার সুযোগ দিয়েছে আমি তাদের সেবক। আর পৌরবাসীর সাথে আমার ছোটবেলা থেকেই আত্মার সম্পর্ক। তাদের সুখে-দু:খে আমি পাশে থাকি। তারা আমাকে ভালবাসে আমিও তাদের ভালবাসী। ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পৌরসভায় একটি পর্যটন কেন্দ্র ও একটি শিশুপার্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার সকল কাজে ইসলামপুরের সংসদ সদস্য মো: ফরিদুল হক খান দুলাল ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজম এমপির বিশেষ নজর রয়েছে ইসলামপুর পৌরসভার প্রতি। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা গড়ার কাজে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক স্বচ্ছ, জবাবদিহীতামুলক, জনগনের বাসযোগ্য উন্নত পৌরসভা করার জন্য কাজ করছি। 

 

ফুলপুরে কংশ নদীতে পারাপার ঝুঁকিতে দশ গ্রামের মানুষ
                                  

(ফুলপুর) ময়মনসিংহ : স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও ফুলপুরের পুটিয়াকান্দি গ্রামে কংশ নদীর উপর সেতু নির্মাণ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোতে বর্তমানে নদী পার হচ্ছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। হালুয়াঘাটে এপারে আমতৈল ও ওপারে ফুলপুরের সিংহেশ্বর ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে গেছে কংশ নদী।

এখানে স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০০ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো। প্রায় ৫ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়েই চলেন দশটি গ্রামে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রায় ৫বছর আগে নদীর উপর ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। তখন থেকে এই সাঁকোই নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা। পুটিয়াকান্দি গ্রামে সেতু না থাকায় উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের লোকজনকে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসসহ বেশি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী বর্ষাকালে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপৃর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করে থাকে। প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার সাধারণ মানুষ। এই পথে সাঁকো দিয়েই হালুয়াঘাটের বাহিরশিমুল, আমতৈল, দলারচর, বিষমপুর এবং ফুলপুরের মারুয়াকান্দি, পটিয়া, মাইজপাড়া ও ডুবারপার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়ত করে। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের অনেকেই। এই জায়গায় শীঘ্রই একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা বলছেন, পাকা সেতু হলে বদলে যাবে দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা। পুটিয়াকান্দি গ্রামের মোঃ আব্দুল বারেক সরকার বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার লোকজন ফুলপুর উপজেলা ও হালুয়াঘাট সদরে সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য শহরে বাজারজাত করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেইসাথে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পুটিয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছেন। তাই বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব,শরীফ আহম্মেদ এমপি যদি আমাদের এই বাঁশের সাঁকো সেতু দিকে একটু নজর দেন তাহলে ২টি উপজেলার অনেক উপকার হত। একই কথা বলেন, পুটিয়াকান্দি গ্রামের মোঃ রজব আলী। শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় ছেলে মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সিংহেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এম এ মোতালেব জানান, নড়বড়ে এই সাঁকোটি যে কোন সময় ভেঙ্গে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সর্বসাধারণের যাতায়াতের কষ্ট দূর করার এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

সাহেবের আলগা হতে দাঁতভাংগা পর্যন্ত রাস্তাটির বেহালদশা
                                  

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্প হইতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রাস্তাটির এখন বেহালদশা। এই রাস্তাটি সরাসরি রাজধানী ঢাকার সাথে সংযুক্ত। সাহেবেরর আলগা হইতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পবিষদ পর্যন্ত রাস্তাটির দুরত্ব প্রায় ১৬ কিলমিটার। ডিগ্রিরচর, নামাজের চর, ইটালুকান্দা, লাউবাড়ি, গাছবাড়ি, কাজাইকাটা, চর কাজাইকাটা, শান্তিরচর, আনন্দ বাজার, খেওয়ার চর, পাড়ের চর, গয়টাপাড়া, কাউনিয়ার চর সহ প্রায় ২০টি গ্রামের পেশাজীবী মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি।

গত বন্যা মৌসুমের পূর্বে রাস্তাটির সংস্কার হলেও বন্যার তীব্র জলরাশি সে মাটি পুরোপুরিই ধুয়ে নেয়। রাস্তাটি দেখলে মনে হবে এ যেন ধুসর মরুভূমির উঁচু-নিচু বালুময় স্রোত। বড় গাড়ি তো নয়ই, ভ্যান-রিক্সার মতো কোনো প্রকার ছোট যানবাহন চলার উপযোগীও নয় এ রাস্তাটি। কোনো রকমে মোটর বাইকে পথ চলছিলেন স্কুল শিক্ষক আনিস ও হাসান। তাঁদের সাথে কথা হলে ভয়ানক দূর্দশার কথা বললেন তাঁরা। প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসতে হয় তাঁদের। চলতি পথে পরপর বাইক চালানো আরেক বিপত্তি। সামনের বাইকের চাকার ঘর্ষণে উত্থিত ধুলায় পিছনে যেন মরুঝড়। মাঝেমাঝেই ছোটোবড়ো খাদে পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাও বেশ ভীতিকর। এ ছাড়াও নিত্যদিন ধুলা সেবনের মধ্যদিয়ে সর্দিজ্বর ও শ্বাসকষ্ট হরহামেশা লেগেই থাকে। দেখা হলো রুনা লায়লা নামে এক গ্রাম্য বধুর সাথে। চিকিৎসার জন্য অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে পায়ে হেঁটে চলছিলো দাঁতভাঙ্গা বাজারের দিকে।

প্রকৃতপক্ষে গর্ভবতী মা আর এপেন্ডিসাইটিস এর মতো রোগাক্রান্ত মানুষেরা যানবাহন সংক্রান্ত ন্যূনতম সুবিধার অভাবে নিরুপায় হয়ে হয় মারা যায়, নয়তো কাতরাতে কাতরাতে কোনোরকমে বেঁচে থাকে।

কথা হচ্ছিলো এক ঝাঁক স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সাথে। প্রতিদিন বিস্তর ভাঙাচোরা রাস্তা পায়ে হেঁটে ওরা ছুটছে দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের দিকে। চোখে মুখে ওদের বড় হওয়ার স্বপ্ন। সে স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই বাধা যানবাহন চলার অনুপযোগী এ ভাঙ্গাচোরা রাস্তাটি।

কথা বলছিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব শামছুল হকের সাথে। তাঁর মতে, নদী বাঁধার কারণে প্রতিবছর উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির স্রোত নদীর বাঁধে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমতঃ রাস্তার উত্তরাঞ্চল উপছে দিয়ে ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি আনে এবং পরবর্তীতে সে স্রোত আরও ভয়াল রুপ ধারণ করে পুরো রাস্তাকে খালখন্দরে পরিণত করে। নদীতে ব্রীজ থাকলে এমনটা হতো না বলে তাঁর বিশ্বাস।

বস্তুতঃ ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বকোলঘেঁষা উল্লিখিত জনপদের মানুষের শিক্ষা অর্জন, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, কৃষিপন্য বাজারজাতকরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের সাথে একমাত্র সেতুবন্ধন এ রাস্তাটি। বর্তমান জনবান্ধব সরকারের কাছে রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার এ অঞ্চলের ভূক্তভোগী মানুষদের প্রাণের দাবী।

 

সুনামগঞ্জের পাখির গ্রাম মুরাদপুর
                                  

রুজেল আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : এত পাখি, এত কিচির মিচির শব্দ আদিকালে দেখেনি মুরাদপুর গ্রামবাসী। হাওর বেষ্টিত বৃহৎ এ পল্লীটি জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নে অবস্থিত। গ্রামটি উপজেলা সদর থেকে ২০ কি: মিটার দুরে। এদিকে মুরাদপুর গ্রাম থেকে ৮ কি: মিটার দুরে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া জমিদার বাড়ি। এছাড়া চারদিকে নয়নাভিরাম হাওর আর হাওর। বর্ষায় থৈ থৈ জলের ঢেউ। বসন্তে বাসন্তী হাওয়া। এখানে এসে বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ হয়েছে পাখি আর পাখি। এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভুতি। যে কারো মনে মুগ্ধতা আনে। দিন দিন পর্যটকদের জন্য বড়ই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এলাকাটি। তবে রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে আধুনিকতার ছোঁয়া না লাগায় কেউ জানে না এ গ্রামে হাজার হাজার পাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। গাছে গাছে, বাঁশ ঝাড়ে ঝাড়ে পাখির কিচির মিচির শব্দে গড়ে উঠা গ্রামটিকে জাতীয়ভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণার দাবি স্থানীয়দের। সরজমিনে গিয়ে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নানা প্রজাতির পাখি গ্রামে গাছের ডালে বাঁশঝাড়ে আসতে শুরু করে। এ বছর এত পাখি এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে যে লাখো ছাড়িয়ে যাবে। পাখির ভাড়ে ডাল ভাঙ্গে। এত পাখি এখানে এমনভাবে বসতি স্থাপন করেছে যেন তাদের বাড়ি এটি। তাই লোকে লোকে গ্রামটিকে এখন পাখির গ্রাম হিসেবেই ডাকতে শুরু করেছে। নানা প্রজাতির পাখিদের মধ্যে রয়েছে, পানকোঁড়ি, সাদা বক, পরালি, ঘুঘু, চুড়ই, ধনেশ, সারশসহ অসংখ্য পাখি। এসব পাখিরা কালিকোটা হাওর, ছায়ার হাওরসহ বিভিন্ন ছোট ছোট হাওরে সারাদিন আহার জোটায়। সুর্য ডুবার আগেই ঝাঁকে ঝাঁকে আকাশে উড়ে উড়ে মুরাদপুর গ্রামে ফিরতে শুরু করে। গ্রামের চারপাশের হাওর থেকে হাজার হাজার পাখি ডানা ঝাপটিয়ে যখন গ্রামের আকাশে এসে পেখম মেলে অবস্থান করে তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতরণা হয়। পাখির কিচির মিচির শব্দ, ডানা ঝাপটানোর শব্দ, দলবেঁধে সারিসারি দৃশ্য যেন আনন্দের মেঘ বর্ষিত হয় লোকে লোকে। এ দৃশ্য উপভোগ করতে গ্রামের শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ নর-নারী প্রতিদিন গ্রামের বাড়ির উঠোনে, রাস্তার ধারে, স্কুল আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে থাকেন। আবার ভোর হলেই পাখিরা গ্রাম ছেড়ে আহারের সন্ধানে হাওরে বাওরে ছুটে বেড়ায়। তখন প্রাণে প্রাণে স্পন্দিত হয় গ্রাম। পাখিরা পৌষ মাসে আসে আর বৈশাখ এলেই ফিরে যায় তাদের গন্তব্যে। এখানে পাখিরা এত নিরাপদ কেন জানতে চাইলে চমৎকার তথ্য পাওয়া যায়। গ্রামবাসী পাখিকে জাতীয় সম্পদ মনে করে সংরক্ষনের জন্য পাখি শিকারীদের উপর ১০ হাজার টাকা জারিমানার বিধান করেছেন। এমনকি ঢিল ছু’ড়ে বিরক্ত করলেও একই জরিমানার বিধান বহাল রেখেছেন তারা। তাই এ গ্রামে পাখি ডুকা মানে শতভাগ নিরাপদ। এ গ্রামে সব বয়সী নারী পুরুষরা আপন সন্তানের মতো আগলে রাখেন পাখিদের। তবে পখির বিষ্টা এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, বাড়ি ঘর, রাস্তা-ঘাট, দুর্গন্ধ লেগেই আছে। গ্রামবাসী এ দুর্গন্ধ সইতে পারলেও বিষ্টা দুরকরণের উপায় খোঁজছেন। এছাড়া এখানে নেই কোন পর্যটকদের বসার স্থান। ভাটি অঞ্চল হওয়ায় পাখির মেলা দেখা বড়ই মুশকিল। তাই পাখির বিষ্টা পরিস্কারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান স্থানীয়রা। গ্রামের মুরুব্বি সানজব আলী, হারুন মিয়া জানান, পাখি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ নিরাপদ রাখতে আমরা গ্রামবাসী কেউ পাখি শিকার করলে কিংবা বিরক্ত করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বিধান রাখা হয়েছে। আমরা চাই পাখির এই অভয়ারণ্যকে জাতীয় ভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হোক। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু জানান, মুরাদপুর এখন পাখির গ্রাম। পাখির এই গ্রামকে ঘিরে হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র। আমি রাস্তা-ঘাটের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর সাথে কথা বলব। এমন ভাবে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই যেন দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এসে আনন্দের সাথে পাখিদের এ মেলা উপভোগ করতে পারে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, সংবাদটি শুনে খুশী হলাম। আমি মুরাদপুর গ্রামের পাখির এ দৃশ্য অবলোকন করতে যাব। পাখিকে ঘিরে যদি পর্যটন গড়ে তোলার মতো পরিবেশ চোখে পড়ে অবশ্যই আমি ভাটি অঞ্চলের এ গ্রামে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করব।


 


   Page 1 of 15
     ফিচার
শাল, গজারি, আদিবাসী, আনারস, রাবার চাষ সহ নানা ঐতিহ্যের মধুপুর
.............................................................................................
আমাদেরকে কী সবকিছুই আইন করেই মানাতে হবে?
.............................................................................................
‘৩২ নম্বর’ বাড়িটি এখন ইতিহাস
.............................................................................................
জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ : পানি ও পরিবেশ
.............................................................................................
১৩৬ বছরেও কাজ করছেন সোনাভান
.............................................................................................
আমাদের সেই মহানায়ক
.............................................................................................
সুতাং নদীর দূষিত পানিতে মারা যাচ্ছে জলজ প্রাণী
.............................................................................................
মহম্মদপুরে ঋতুরাজ বসন্তের শিমুল ফুল
.............................................................................................
কালিয়াকৈরে নবনির্মিত ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে গর্ত, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
.............................................................................................
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে বাংলাদেশ
.............................................................................................
বীরগঞ্জে গাছে গাছে শিমুল ফুল
.............................................................................................
বীরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প
.............................................................................................
ইসলামপুর পৌরবাসীর প্রিয় নেতা মেয়র সেখ মো: আ: কাদের
.............................................................................................
ফুলপুরে কংশ নদীতে পারাপার ঝুঁকিতে দশ গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
সাহেবের আলগা হতে দাঁতভাংগা পর্যন্ত রাস্তাটির বেহালদশা
.............................................................................................
সুনামগঞ্জের পাখির গ্রাম মুরাদপুর
.............................................................................................
প্রায় ৮ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু’র আদর্শকে ধারণ করে চলছেন আবদুল খালেক
.............................................................................................
ডেপুটেশনের ফাঁদে ধ্বংস হচ্ছে কুড়িগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা
.............................................................................................
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আত্রাইয়ে মাটির ঘর
.............................................................................................
নারী জাগরনের অগ্রদূত -বেগম রোকেয়া
.............................................................................................
অসহায় মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান রেশমা জাহান
.............................................................................................
লাখো ভক্তের স্বপ্নসারথী ইকবাল হোসেন অপু প্রকৃত অর্থেই একজন জননেতা
.............................................................................................
“নারীবাদ নাকি সমকামিতা, কোন পথে আমরা”
.............................................................................................
কি ঘটে জানুয়ারির প্রথম সোমবারে?
.............................................................................................
নারী পুরুষের ১০টি মানসিক পার্থক্য
.............................................................................................
শিশুর যত সুন্দর নাম
.............................................................................................
সৌভাগ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে চারটি বিষয়
.............................................................................................
মানসিক সমস্যা সারিয়ে তুলতে পারেন দাদা-দাদি
.............................................................................................
যে গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ
.............................................................................................
স্বাধীন ভারতের বীরপুত্র
.............................................................................................
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খাবারের সন্ধান
.............................................................................................
৩৬২ কোটি টাকা এক খণ্ড হিরের দাম
.............................................................................................
কুকুর শনাক্ত করবে ম্যালেরিয়া রোগ
.............................................................................................
হঠাৎই হারিয়ে গেল জাপানের আস্ত একটি দ্বীপ!
.............................................................................................
৪০০ কোটি বছরেরও পুরোনো গোমেদ পাথর!
.............................................................................................
যে কারণে সুইসাইড স্পট হয়ে ওঠে এই স্টার হোটেলটি
.............................................................................................
আমার শরীরটা পুরুষের ছিল, কিন্তু মনটা ছিল নারীর
.............................................................................................
এই পান্নার দাম ১৫ কোটি টাকা!
.............................................................................................
অসাধারণ জীবনীশক্তি মিঠা পানির জেলিফিশের
.............................................................................................
দাবানল ঠেকাবে ছাগল বিগ্রেড
.............................................................................................
নিজের স্বরের এই ৭ তথ্য আপনি জানেন কি?
.............................................................................................
পাঁচ মাস বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্য ভ্রমণ
.............................................................................................
বিশ্বের উষ্ণতা কমানোর ৫ উপায়
.............................................................................................
ভারতের যেসব মন্দিরে নারীদের প্রবেশ নিষেধ
.............................................................................................
চুল শুকাতে সোনার হেয়ার ড্রায়ার!
.............................................................................................
১৯ বছর ধরে যে শহরে চলে না গাড়ি
.............................................................................................
বরফের নিচে আশ্চর্য শহর
.............................................................................................
মোগলাই খাবার এত স্পাইসি হয় কেন?
.............................................................................................
সেতুও আবার রোলার কোস্টার হয় নাকি
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD