| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ইবি ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি   > ‘ভোটে বিচ্যুতি হলে সরকার হটানোর আন্দোলন’   > পর্দা নয় এবার বাস্তবে বাংলাদেশি ‘ভাইজান’কে দেখল ভারতবাসী!   > সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে : প্রধানমন্ত্রী   > মেডিকেল শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের কাছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   > হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে পদ্মা সেতুর ছবি   > পাকিস্তানের জয়ের পর শোয়েব মালিকের টুইটবার্তা   > সীমান্ত হত্যা: বিএসএফের `গরু পাচার` যুক্তি মানছে না বিজিবি   > ১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি   > মুজিববর্ষে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসা  

   ধর্ম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আগামীকাল আখেরি মোনাজাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

বাদ ফজর মদিনা নিবাসী মাওলানা মুফতি ওসমানের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এরপর দিনভর চলে বয়ান, তালিম, তাশকিলসহ বিভিন্ন আমল। দুপুরে জুমার জামাতে শরিক হন কয়েক লাখ মানুষ।

জুমায় ইমামতি করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। কাল দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমা।

এদিন ময়দানে জুমার জামাতে শরিক হন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক,

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম,

হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিরা ছাড়াও ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ এদিন জুমার জামাতে শরিক হন।

ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, বাদ ফজর মদিনা নিবাসী মাওলানা মুফতি ওসমান আম বয়ান করেন,

তা বাংলায় তরজমা করে মাওলানা আবদুল্লাহ মনসুর। সকাল সাড়ে ৯টায় তালিমের বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুফতি আসাদুল্লাহ,

বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা ইসলাম।

জুমার নামাজের আগে সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফাজায়েল সম্পর্কে বয়ান করেন মাওলানা মুফতি ফয়জুর রহমান।

বাদ জুমা বয়ান করেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা চেরাগ উদ্দিন,

তার বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী।

বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা খান শাহাবুদ্দিন নাসিম।

বাদ মাগরিব বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা জামশেদ, তা বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।

মো. সায়েম আরও জানান, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাদ ফজর মাওলানা চেরাগ উদ্দিনের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার কথা বিশ্ব ইজতেমা।

তবে অসুস্থতাজনিত কারণে মাসোহারার মাধ্যমে তাকে জুমার পর বয়ান দেন মুরুব্বিরা।

মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করা হচ্ছে।

বিদেশি মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন।

বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করেন।

বধিরদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করা হয় ইশারা ভাষায়।

এ ছাড়াও গতকাল শুক্রবার সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়

ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্দেশে খাস বয়ান করা হয়।

নামাজের মিম্বার থেকে ছাত্রদের উদ্দেশে খুসুশি বয়ান এবং ময়দানে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য উত্তর-পূর্ব পাশের টিনশেড মসজিদে খাওয়াজের বয়ান করা হয়।

বয়ানে যা বলা হল : মাওলানা মুফতি ওসমান বলেন, ইজতেমাওয়ালাদের কাজ হল পরিপূর্ণভাবে দিনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

নবী করিম (সা.) দাওয়াতের মেহনতের জন্যও মদিনা মনোয়ারায় হিজরত করেছিলেন।

তারপর আবার নিজ এলাকায় এসে দাওয়াতের কাজ জিন্দা করেছিলেন।

দাওয়াতের মাধ্যমে ইমানওয়ালা জিন্দেগি, আমলওয়ালা এবং সত্য ও সুন্দর জিন্দেগি তৈরি করতে হবে

মুফতি ওসমান বলেন, দাওয়াতের কাজে জান ও মাল কোরবান করতে হবে

দাওয়াত গ্রহণকারী যত নেক আমল করবেন, সমান সওয়াব দাওয়াতদাতাও পাবেন

তিনি বলেন, দুনিয়ার জিন্দেগি অনিশ্চিত জিন্দেগি, অক্ষম জিন্দেগিদুনিয়ার জিন্দেগি হল ধোঁকার জিন্দেগি

আর হাকিকতে জিন্দেগি হল আখেরাতের জিন্দেগিআখেরাতের জিন্দেগি হল চিরস্থায়ী জিন্দেগি

অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে আখেরাতের জিন্দেগিতে যেতে হবেএকমাত্র হুজুর (সা.)-এর বাতানো তরিকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবি

বিদেশি মুসল্লি : ৩১ দেশের ১ হাজার ৪৪১ জন বিদেশি মেহমান এ পর্বে গতকাল (শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত)

ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য

তবে আয়োজকদের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশিদেশি মুসল্লিদের মতো বিদেশি মুসল্লিরাও আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত আসতে থাকবেন

তিন মুসল্লির মৃত্যু : দুদিনে ইজতেমা ময়দানে তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার চানপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে কাজী আলাউদ্দিন (৬৫),

নরসিংদীর বেলাব থানার বিরবাঘরের চন্দনপুর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬০)

ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার টেংরাকান্দি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলজার হোসেন (৪০)

চিকিৎসাসেবা : গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত কারণে দুই শতাধিক মুসল্লি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন

এ ছাড়া টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, র‌্যাব, ইবনে সিনাসহ ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন

চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চগড়ের বোদা থানার বোয়ালমারী গ্রামের নূর মোহাম্মদ বলেন, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথায় ভুগছি

শরীর দুর্বল লাগেঢাকার কেরানীগঞ্জের বশির উদ্দিন (৪৫) জানান, মাথাব্যথা ও জ্বরের ওষুধ নিতে এসেছেন

ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী শাহ মো. মুহিবুল্লাহ বলেন, মুসল্লিরা নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দাওয়াতের মাধ্যমে ইমানওয়ালা জিন্দেগি, আমলওয়ালা এবং সত্য ও সুন্দর জিন্দেগি তৈরি করতে হবে।

মুফতি ওসমান বলেন, দাওয়াতের কাজে জান ও মাল কোরবান করতে হবে।

দাওয়াত গ্রহণকারী যত নেক আমল করবেন, সমান সওয়াব দাওয়াতদাতাও পাবেন।

তিনি বলেন, দুনিয়ার জিন্দেগি অনিশ্চিত জিন্দেগি, অক্ষম জিন্দেগি। দুনিয়ার জিন্দেগি হল ধোঁকার জিন্দেগি।

আর হাকিকতে জিন্দেগি হল আখেরাতের জিন্দেগি। আখেরাতের জিন্দেগি হল চিরস্থায়ী জিন্দেগি।

অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে আখেরাতের জিন্দেগিতে যেতে হবে।

একমাত্র হুজুর (সা.)-এর বাতানো তরিকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবি।

বিদেশি মুসল্লি : ৩১ দেশের ১ হাজার ৪৪১ জন বিদেশি মেহমান এ পর্বে (শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত)

ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।

তবে আয়োজকদের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

দেশি মুসল্লিদের মতো বিদেশি মুসল্লিরাও আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত আসতে থাকবেন।

তিন মুসল্লির মৃত্যু : দু’দিনে ইজতেমা ময়দানে তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার চানপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে কাজী আলাউদ্দিন (৬৫),

নরসিংদীর বেলাব থানার বিরবাঘরের চন্দনপুর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬০)

ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার টেংরাকান্দি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলজার হোসেন (৪০)।

চিকিৎসাসেবা : শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত কারণে দুই শতাধিক মুসল্লি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ

ছাড়া টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, র‌্যাব,

ইবনে সিনাসহ ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চগড়ের বোদা থানার বোয়ালমারী গ্রামের নূর মোহাম্মদ বলেন, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথায় ভুগছি।

শরীর দুর্বল লাগে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের বশির উদ্দিন (৪৫) জানান, মাথাব্যথা ও জ্বরের ওষুধ নিতে এসেছেন।

ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী শাহ মো. মুহিবুল্লাহ বলেন,

মুসল্লিরা নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন।

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা।

আগামীকাল আখেরি মোনাজাত
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

বাদ ফজর মদিনা নিবাসী মাওলানা মুফতি ওসমানের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এরপর দিনভর চলে বয়ান, তালিম, তাশকিলসহ বিভিন্ন আমল। দুপুরে জুমার জামাতে শরিক হন কয়েক লাখ মানুষ।

জুমায় ইমামতি করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। কাল দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমা।

এদিন ময়দানে জুমার জামাতে শরিক হন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক,

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম,

হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিরা ছাড়াও ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ এদিন জুমার জামাতে শরিক হন।

ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, বাদ ফজর মদিনা নিবাসী মাওলানা মুফতি ওসমান আম বয়ান করেন,

তা বাংলায় তরজমা করে মাওলানা আবদুল্লাহ মনসুর। সকাল সাড়ে ৯টায় তালিমের বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুফতি আসাদুল্লাহ,

বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা ইসলাম।

জুমার নামাজের আগে সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফাজায়েল সম্পর্কে বয়ান করেন মাওলানা মুফতি ফয়জুর রহমান।

বাদ জুমা বয়ান করেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা চেরাগ উদ্দিন,

তার বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী।

বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা খান শাহাবুদ্দিন নাসিম।

বাদ মাগরিব বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা জামশেদ, তা বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।

মো. সায়েম আরও জানান, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাদ ফজর মাওলানা চেরাগ উদ্দিনের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার কথা বিশ্ব ইজতেমা।

তবে অসুস্থতাজনিত কারণে মাসোহারার মাধ্যমে তাকে জুমার পর বয়ান দেন মুরুব্বিরা।

মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করা হচ্ছে।

বিদেশি মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন।

বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করেন।

বধিরদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করা হয় ইশারা ভাষায়।

এ ছাড়াও গতকাল শুক্রবার সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়

ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্দেশে খাস বয়ান করা হয়।

নামাজের মিম্বার থেকে ছাত্রদের উদ্দেশে খুসুশি বয়ান এবং ময়দানে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য উত্তর-পূর্ব পাশের টিনশেড মসজিদে খাওয়াজের বয়ান করা হয়।

বয়ানে যা বলা হল : মাওলানা মুফতি ওসমান বলেন, ইজতেমাওয়ালাদের কাজ হল পরিপূর্ণভাবে দিনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

নবী করিম (সা.) দাওয়াতের মেহনতের জন্যও মদিনা মনোয়ারায় হিজরত করেছিলেন।

তারপর আবার নিজ এলাকায় এসে দাওয়াতের কাজ জিন্দা করেছিলেন।

দাওয়াতের মাধ্যমে ইমানওয়ালা জিন্দেগি, আমলওয়ালা এবং সত্য ও সুন্দর জিন্দেগি তৈরি করতে হবে

মুফতি ওসমান বলেন, দাওয়াতের কাজে জান ও মাল কোরবান করতে হবে

দাওয়াত গ্রহণকারী যত নেক আমল করবেন, সমান সওয়াব দাওয়াতদাতাও পাবেন

তিনি বলেন, দুনিয়ার জিন্দেগি অনিশ্চিত জিন্দেগি, অক্ষম জিন্দেগিদুনিয়ার জিন্দেগি হল ধোঁকার জিন্দেগি

আর হাকিকতে জিন্দেগি হল আখেরাতের জিন্দেগিআখেরাতের জিন্দেগি হল চিরস্থায়ী জিন্দেগি

অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে আখেরাতের জিন্দেগিতে যেতে হবেএকমাত্র হুজুর (সা.)-এর বাতানো তরিকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবি

বিদেশি মুসল্লি : ৩১ দেশের ১ হাজার ৪৪১ জন বিদেশি মেহমান এ পর্বে গতকাল (শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত)

ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য

তবে আয়োজকদের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশিদেশি মুসল্লিদের মতো বিদেশি মুসল্লিরাও আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত আসতে থাকবেন

তিন মুসল্লির মৃত্যু : দুদিনে ইজতেমা ময়দানে তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার চানপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে কাজী আলাউদ্দিন (৬৫),

নরসিংদীর বেলাব থানার বিরবাঘরের চন্দনপুর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬০)

ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার টেংরাকান্দি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলজার হোসেন (৪০)

চিকিৎসাসেবা : গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত কারণে দুই শতাধিক মুসল্লি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন

এ ছাড়া টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, র‌্যাব, ইবনে সিনাসহ ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন

চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চগড়ের বোদা থানার বোয়ালমারী গ্রামের নূর মোহাম্মদ বলেন, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথায় ভুগছি

শরীর দুর্বল লাগেঢাকার কেরানীগঞ্জের বশির উদ্দিন (৪৫) জানান, মাথাব্যথা ও জ্বরের ওষুধ নিতে এসেছেন

ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী শাহ মো. মুহিবুল্লাহ বলেন, মুসল্লিরা নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দাওয়াতের মাধ্যমে ইমানওয়ালা জিন্দেগি, আমলওয়ালা এবং সত্য ও সুন্দর জিন্দেগি তৈরি করতে হবে।

মুফতি ওসমান বলেন, দাওয়াতের কাজে জান ও মাল কোরবান করতে হবে।

দাওয়াত গ্রহণকারী যত নেক আমল করবেন, সমান সওয়াব দাওয়াতদাতাও পাবেন।

তিনি বলেন, দুনিয়ার জিন্দেগি অনিশ্চিত জিন্দেগি, অক্ষম জিন্দেগি। দুনিয়ার জিন্দেগি হল ধোঁকার জিন্দেগি।

আর হাকিকতে জিন্দেগি হল আখেরাতের জিন্দেগি। আখেরাতের জিন্দেগি হল চিরস্থায়ী জিন্দেগি।

অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে আখেরাতের জিন্দেগিতে যেতে হবে।

একমাত্র হুজুর (সা.)-এর বাতানো তরিকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবি।

বিদেশি মুসল্লি : ৩১ দেশের ১ হাজার ৪৪১ জন বিদেশি মেহমান এ পর্বে (শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত)

ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।

তবে আয়োজকদের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

দেশি মুসল্লিদের মতো বিদেশি মুসল্লিরাও আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত আসতে থাকবেন।

তিন মুসল্লির মৃত্যু : দু’দিনে ইজতেমা ময়দানে তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার চানপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে কাজী আলাউদ্দিন (৬৫),

নরসিংদীর বেলাব থানার বিরবাঘরের চন্দনপুর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬০)

ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার টেংরাকান্দি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলজার হোসেন (৪০)।

চিকিৎসাসেবা : শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত কারণে দুই শতাধিক মুসল্লি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ

ছাড়া টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, র‌্যাব,

ইবনে সিনাসহ ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চগড়ের বোদা থানার বোয়ালমারী গ্রামের নূর মোহাম্মদ বলেন, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথায় ভুগছি।

শরীর দুর্বল লাগে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের বশির উদ্দিন (৪৫) জানান, মাথাব্যথা ও জ্বরের ওষুধ নিতে এসেছেন।

ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী শাহ মো. মুহিবুল্লাহ বলেন,

মুসল্লিরা নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন।

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীর-অনিন্দ্য ব্যানার্জী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক গভীর বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।

গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মাইজভান্ডারী একাডেমির উদ্যোগে

আয়োজিত ত্রয়োদশ শিশু কিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ত্বরিকা-ই-মাইজভান্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)

এর পবিত্র ১১৪তম ওরশ উপলক্ষে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী ট্রাস্টের ১০ দিনব্যাপী

কর্মসূচির অংশ হিসাবে মাইজভান্ডারী একাডেমি এ আয়োজন করে। অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম পরম বন্ধু।

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সেই সহযোগিতার হাত এখনো চলৎ রয়েছে।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সকলকে বিস্মিত করেছে।

আমরা চাই বাংলাদেশের এ অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও হিন্দু-মুসলমান ও

অন্যান্য ধর্মের মানুষরা শান্তিপূর্ণভাবে ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ অসাম্প্রদায়িক মিলনক্ষেত্র।

এই দরবার শরীফের যিনি প্রবর্তক তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক।

এ ছাড়া হযরত জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য কাজ করেছেন।

সহকারী হাই কমিশনার বলেন, আজকের শিশুরা আগামি দিনের ভবিষ্যত।

 তাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। শিশুদেরকে শুধু পড়ালেখার চাপ দিলে হবে না।

শিশুদের মধ্যে মানবিকতা, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক গুণাবলি সৃষ্টি করতে হবে। সত্যিকারের মানুষে পরিণত করতে হবে।

কারণ পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়, তবে মানুষ হতে হলে মানবিক গুণাবলি প্রয়োজন। শিশুদেরকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখবেন না।

তাদেরকে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে এবং খেলাধুলা করতে সুযোগ দিতে হবে।

ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এম জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. এহসানে এলাহী, কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী।

বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট ড. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী,

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি দিদারুল আলম চৌধুরী, কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন,

আলোকধারা সম্পাদক ড. সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, ইঞ্জিনিয়ার কামালুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খান, অধ্যাপক মির মোহাম্মদ তরিকুল আলম,

শাহনেওয়াজ চৌধুরী, মুহাম্মদ মঈনউদ্দিন ইমন, এম মাকসুদুর রহমান হাসনু, বিপ্লব পার্থ, মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আশরাফ,

এইচ আর মেহবুব জিকু, নুরুল করিম নুরু, আবুল মনসুর, মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

বান্দরবানের লামা উপজেলার জীনামেজু রাজামুনি বুদ্ধমূর্তির অভিষেক ও উৎসর্গ অনুষ্ঠান সম্পন্ন
                                  

বাসুদেব বিশ্বাস,বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৩৫ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন জীনামেজু রাজামুনি বুদ্ধমূর্তির অভিষেক ও বুদ্ধমূর্তি উৎসর্গ করা হয়েছে।

বুদ্ধমুর্তির অভিষেক ও উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা।

৭ম তম সংঘনায়ক, বাংলাদেশ তংশৈরোওয়া সংঘনিকায়া ভদন্ত উঃ চাইন্দা মহাথের এর সভাপতিত্বে আয়োজিত

অনুষ্ঠানে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম,

পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,

পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, সদস্য ক্যসাপ্রু, সদস্য ফাতেমা পারুল,

লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা জামাল, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ- জান্নাত রুমি,

সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিল্টন মুহুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত,

লামা পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক কেলুমং সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। 

উক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন,

জীনামেজু অনাথ আশ্রম অনাথ শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেই এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। একটি জাতি ও সমাজ গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নাই।

যেহেতু শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান সেহেতু এই আশ্রমের জন্য যা প্রয়োজন পর্যায়ক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। 

এসময় পার্বত্য মন্ত্রী আরো বলেন, আমি বীর বাহাদুর কোন একটি জাতির মন্ত্রী নই।

আমি পাহাড়ে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের মন্ত্রী।

সরকারীভাবে বরাদ্দ যাই আসুক তা সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সমবন্টন করে দেয়া হয়।

অনাথ আশ্রমের জন্য তিনি ১ লক্ষ টাকা অনুদান এবং ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য ঘোষনা দেন।

এদিকে মন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ প্রতি বছর এই অনাথ আশ্রমের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষনা দেন।

পরে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত ৪ কক্ষ বিশিষ্ট অনাথ আশ্রমের ছাত্রাবাসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। 

এদিকে জীনামেজু রাজামুনি বুদ্ধমূর্তির অভিষেক ও উৎসর্গ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ৩দিন ব্যাপী সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিন মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহি লোকনাট্য “জ্যাহ” এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানের ২য় দিন সকালে শোভাযাত্রা, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন,

ভিক্ষুসংঘ কর্তৃক বুদ্ধমুর্তির অভিষেক ও উৎসর্গ এবং ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি আগামীকাল রোববার শেষ দিন সকালে ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান এবং

রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য “জ্যাহ” অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য জীনামেজু রাজামুনি বুদ্ধমূর্তিটি জেলার সবচেয়ে উচ্চতা সম্পন্ন একটি বুদ্ধমুর্তি।

এটি লামা উপজেলার ইয়াংছা নামক এলাকায় জীনামেজু অনার্থ আশ্রমে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জীনামেজু অনাথ আশ্রমের অধ্যক্ষ উ নন্দমালা থের বলেন, নব উৎসর্গকৃত বুদ্ধমুর্তিটি আশ্রম পরিচালনায় একটি অনন্য ভুমিকা রাখবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা ও তার সহধর্মিনী কি কি এ এর সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় এই রাজামুনি বুদ্ধমুর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু আম বয়ানে
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি)

শুরু হলো বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব।

আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ২০২০ সালের বিশ্ব ইজতেমা।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে জড়ো হয়েছেন মুসল্লিরা।

ইজতেমা ময়দানসহ টঙ্গী আব্দুল্লাহপুরের আশপাশের এলাকায় মুসল্লিদের ভীড় বাড়ছে।

ফজরের নামাজের পর শুরু হয়, ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

সকালে ভারতের প্রখ্যাত আলেম আম বয়ান করেছেন। তা অনুবাদ করে ইজতেমা ময়দানে প্রচার করা হচ্ছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) আছর নামাজের পর থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের প্রাক প্রস্তুতি বয়ান।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতোই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে দ্বিতীয় পর্বেও।

এরইমধ্যে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আয়োজক তাবলিগ জামাতের সাবেক আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।

 

আখেরি মোনাজাতে মুসলিম জাতির শান্তি-ঐক্য কামনা
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে মুসলিম জাতির শান্তি-ঐক্য কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।

অ্যাজ রোববার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টা ৪০ মিনিটে।

মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ।

আখেরি মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লি মুখর করে তোলেন টঙ্গীর তুরাগ নদের তীর।

কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে তুরাগতীরে সমবেত হয়ে চোখের জলে মুসল্লিরা দেশ জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মুসল্লিদের ভিড়ে ইজতেমা ময়দানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ভেতরে ঠাঁই না পেয়ে তাদের অবস্থান নিতে হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকার মাঠে।

মোনাজাতে কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগমে শিল্পনগরী টঙ্গী পরিণত হয় ধর্মীয় নগরীতে।

আজকের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৫৫তম আয়োজনের প্রথম পর্ব।

এর আগে ফজরের নামাজের পর শুরু হয় নির্দেশনামূলক বয়ান। ১১টার পর জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে নীরবতা, এরপরই শুরু হয় আখেরি মোনাজাত।

মোনাজাতে গোটা দুনিয়ায় পথভ্রষ্ট মুসলমানের সঠিক পথের দিশা এবং তাবলীগের কাজে সবাইকে নিয়োজিত হওয়ার তওফিক কামনা করে মহান আল্লাহর রহমত,

মাগফিরাত ও নাজাত প্রার্থনা করা হয়।

ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন।

এসময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ বলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি আকুতি জানান।

এর আগে গতকাল শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বয়ান-মোজাকেরা, তালিম-তাশকিল, নামাজ-রোনাজারি ও তাসবিহ-তাহলিলে কেটেছে।

এবার কনকনে শীতের মধ্যেই ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন মুসল্লিরা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত মারা যান আরও পাঁচ মুসল্লি। এ নিয়ে ময়দানে ৯ মুসল্লি ইন্তেকাল করলেন।

ইজতেমার রেওয়াজ অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় যৌতুকবিহীন বিয়ে। মাঝে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর শনিবার আবারও এ ঐতিহ্যে ফিরল ইজতেমা।

এদিন বয়ানমঞ্চে ১০০ জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিয়ে পড়ান মাওলানা জোহায়েরুল হাসান।

আগামী শুক্রবার শুরু হবে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী ১৯ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এবার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব পরিচালনা করেন মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী মুরুব্বিরা। দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করবেন সাদ অনুসারীরা।

আরও ৪ জনের মৃত্যু ইজতেমায়
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা আরও চারজন মারা গেছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এই চারজন মারা যান বলে জানান ,গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মনজুর রহমান ।

তারা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ডিমলা এলাকার তমিজ উদ্দিন (৬৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার বড়তোল্লা এলাকার মো. শাহজাহান (৬০),

বরিশালের গৌরনদী থানার খালিজপুর এলাকার আলী আজগর (৭০) ও নারয়ণগঞ্জের বন্দর থানার দক্ষিণ কলাবাগান এলাকার মো. ইউসুফ আলী মেম্বার (৪৫)।

এই নিয়ে ইজতেমায় আসা আটজন মারা গেলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মনজুর বলেন, “অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তারা মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”

শীতের ভোরে গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ব সম্মিলনের প্রথম পর্ব আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

আগামী ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় পর্ব।

এবার প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা  অংশ নেবেন দ্বিতীয় পর্বে।

 

আজ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কনকনে শীতের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতমার প্রথম পর্ব।

দেশের ৬৪টি জেলা ও বিদেশিসহ মাওলানা জুবায়ের অনুসারী লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এ ইজতেমায় নিচ্ছেন।

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হওয়ার পর মুসল্লিরা ময়দান পার্শ্ববর্তী কামারপাড়া রোড,

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত এবং আশপাশের খালি জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন।

ইজতেমা ময়দানের মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুফুর রহমান জানান,

আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশীদ আম বয়ান করছেন।

বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আব্দুল মতিন।

আজ জুমার নামাজ পড়াবেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের।

মূল বয়ান উর্দূতে হলেও ইজতেমায় আগত বিভিন্ন দেশের ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য স্ব স্ব ভাষায় তাৎক্ষণিক বয়ান তরজমা করা হচ্ছে।

ইজতেমা ময়দান এবং এর আশ পাশ এলাকায় যতদূর চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি আর টুপি পরা মানুষের সমাগম।

ইজতেমার এ পর্বে যোগ দিতে কনকনে শীত, কুয়াশা আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার থেকে দলে দলে ময়দানে এসেছেন মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ময়দান পূর্ণ হয়ে গেলে ময়দানে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা ময়দান পার্শ্ববর্তী সড়ককের ফুটপাত-কামারপাড়া সড়কে ও

খালি জায়াগায় সামিয়ানা টানিয়ে আবস্থান নিয়েছেন। মুসল্লিদের আসা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আগত দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের পদচারণনায় শিল্প শহর টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরো ইজতেমা ময়দান সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচটাওয়ারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদ্যরা পর্যবেক্ষণ করছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাজায় রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাঁচটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নয় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার, ফুটপেট্রোল,

মোবাইল পেট্রোল চেকপোস্টসহ পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ইজতেমা ময়দানের ভেতরে এবং বাইরে দায়িত্ব পালন করছে।

জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের শুরা সদস্য ও বুজর্গরা বয়ান পেশ করবেন।

মূল বয়ান উর্দূতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হবে।

বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে নিবাস তৈরি করা হয়েছে।

ইজতেমায় বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসুল্লীরা আলাদা আলাদা স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু : 

বিশ্ব ইজতেমায় যোগদেয়া আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জের খোকা মিয়া (৬০) এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মদ আলী।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের মৃত‌্যু হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইয়াকুব শিকদার (৮৫) নামে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া এলাকার এক মুসল্লি মারা যান।

এদিকে ইজতেমা শুরুর দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে জুম্মার নামাজে অংশ নিতে ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও অনেক মুসল্লি আগেই ইজতেমাস্থলে এসেছেন।

সকাল থেকে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশে-পাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক ইজতেমাস্থলে জুম্মার নামাজে অংশ নিতে আসছেন।

তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামি ১২ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

পরে চারদিন বিরতি দিয়ে ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা।

ওই ইজতেমায় মাওলানা সাদ অনুসারী মুসল্লিগণ অংশ নেবেন।

আগামী শুক্রুবার থেকে বিশ্ব ইজতেমা শুরু
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ।

এরই মধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরুব্বি ও ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী মাহফুজ হান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিশ্ব ইজতেমা মিডিয়া সমন্বয়কারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বলেছেন,
‘ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লিরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’
তিন দিনের ইজতেমাকে ঘিরে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় ধর্মীয় উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।
আজ বুধবার বিকাল থেকে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মুসল্লিদের আনাগোনা বেড়ে যাবে।

প্রতিবছর ইজতেমায় ঢাকা জেলার সাথিরা সবার শেষে তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তার কাজ করে থাকেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—ঢাকা জেলার সাথিরাও তাদের জন্য নির্ধারিতস্থানে ছামিয়ানা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই তাদের ছামিয়ানা টানানোসহ সমস্ত কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক সাথি।
দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি ময়দানে এসে তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নেবেন।

 

১০-১২ জানুয়ারির ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :  ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জয়নুল বারী জানিয়েছেন, আগামী ৫ জানুয়ারি (রোববার) মধ্যেই বিশ্ব ইজতেমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে ।

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরে আগামী ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) শুরু হচ্ছে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব।

এরই মধ্যে পুরো দমে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মাঠের অধিকাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

চলছে ময়দানে বিদ্যুৎ সংযোগ, রাস্তা সংস্কারসহ অন্যান্য কাজ।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জয়নুল বারী সকালে ইজতেমার প্রস্তুতি দেখতে ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেন।

এ সময় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৭৯ সালে কাবা শরিফ অবরোধ : সৌদি আরবের ইতিহাস পাল্টে দেয়া ঘটনা
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯৭৯ সালের ২০শে নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রায় ৫০ হাজার অনুসারী ভোরের নামাজ আদায়ে সমবেত হয়েছিলো কাবা`র বিশাল প্রাঙ্গণে, যা ইসলামের পবিত্রতম স্থান।

এর মধ্যেই মিশে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী জুহায়মান আল ওতাইবি ও তার দুশো অনুসারী।

যখনি ইমাম নামাজ শেষ করলেন, তখনি জুহায়মান ও তার অনুসারীরা তাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে মাইক্রোফোনের দখল নেয়।

তারা কয়েকটি কফিন এনে রেখেছিলো কিন্তু যখন কফিনগুলো খোলা হলো তখন দেখা গেলো সেগুলো ভর্তি বন্দুক আর রাইফেল, যা তার লোকদের মধ্যে দ্রুতই বিতরণ করা হয়।

এর মধ্যে একজন আগে থেকে প্রস্তুত করা একটি লিখিত ভাষণ পড়তে শুরু করেন: "প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা,

আজ আমরা ইমাম মাহদীর আগমন ঘোষণা করছি..যিনি বিশ্বে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করবেন..."সেখানে প্রার্থনারতদের জন্য এটা ছিলো অসাধারণ ঘোষণা।

কারণ নবী মোহাম্মদ বলেছেন বা অনুমোদন করে গেছেন যে ইমাম মাহদী আসবেন যার কাছে আল্লাহ প্রদত্ত অসামান্য ক্ষমতা থাকবে।

জুহায়মানের একজন অনুসারী খালেদা আল ইয়ামি দাবি করেন হাজার হাজার মুসলমান যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেই মাহদী এখন তাদের মধ্যে এসে গেছেন।

এই মাহদীর নাম মোহাম্মেদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানি।

ভাষণের অডিওটিতে শোনা যায় জুহায়মান বক্তাকে বার বার বাধা দিচ্ছে এবং নির্দেশনা দিচ্ছে মাজার গেইটের কাছে যেতে আর উঁচু মিনারগুলোয় স্নাইপার নিয়ে পজিশন নিতে।

"এটেনশন ব্রাদারস! আহমদ আল লেহেবী ছাদে যাও। গেইটে কাউকে বাধা দিতে দেখলে তাকে গুলি করো"।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুহায়মান প্রথম মাহদীকে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে অন্যরা তাকে অনুসরণ করে।

তারা চিৎকার করে বলে `আল্লাহ মহান`। কিন্তু সেখানে কিছুটা দ্বিধাও ছিলো।

আবদেল মোনেইম সুলতান, একজন মিসরীয় যিনি ধর্ম বিষয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি জুহায়মানের কিছু অনুসারীকে চিনতে পেরেছিলেন।

সে দিনের ঘটনা মনে করে তিনি বলেন গ্র্যান্ড মসজিদ ছিলো বিদেশীদের দ্বারা পূর্ণ যারা আরবি অল্পই জানতো এবং কি ঘটছে সেটি বুঝতে পারেনি।

কোরানে সহিংসতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তার পরেও কয়েকটি গুলির শব্দ সেখানে প্রার্থনারতদের বিস্মিত করে।

এরপর চিৎকার শুরু হয় ও খোলা গেইটগুলোর দিকে সবাই দৌড়াতে থাকে।

"অস্ত্রধারীদের দেখে সবাই বিস্মিত হন। এটা এমন যা তাদের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিলোনা। নিঃসন্দেহে সবাই ভীত হয়ে পড়েছিলো," বলছিলেন আবদেল মোনেইম সুলতান।

কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেই কাবা দখল হয়ে গেলো। গ্র্যান্ড মসজিদ সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে এলো, যা ছিলো সৌদি রাজপরিবারের প্রতি সরাসরি একটি চ্যালেঞ্জ।

যারা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিলো তারা আল জামা আল সালাফিয়া আল মুহতাসিবা (জেএসএম) সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।

তেলের অর্থে সৌদি আরবের সমাজ তখন ক্রমশ ভোগবাদী হয়ে উঠছিলো। দেশটি ক্রমশ নগরায়ন হচ্ছিলো।

কিছু অঞ্চলে তখনো নারী ও পুরুষ প্রকাশ্যে একসাথে কাজ করতো। ওদিকে জেএসএম সদস্যদের জীবনযাত্রা ছিলো উগ্র।

জুহায়মান জেএসএম-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বেদুইন গোত্র থেকে আসা তিনি। তার অনুসারীদের কাছে স্বীকার করেন যে তার অতীত প্রশ্নমুক্ত ছিলো না।

উসামা আল কুশি নামে একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত তাদের গ্রুপ মিটিংয়ে যেতেন।

তিনি শুনেছেন যে জুহায়মান বলছেন যে তিনি অবৈধ বাণিজ্য, মাদক ও চোরাচালানীতে জড়িত ছিলেন।

এ সত্ত্বেও তিনি হয়ে উঠেন একজন ত্যাগী নেতায় এবং জেএসএম র অনেক সদস্য তার ভক্ত হয়ে উঠেন। যারা তাকে চিনতেন তার মধ্যে আরেকজন ছিলেন মুতাওয়ালী সালেহ।

"কেউ তাকে দেখেনি এবং তাকে পছন্দও করতোনা। তবে তার কারিশমা ছিলো। তিনি ছিলেন তার মিশনে নিবেদিত এবং তিনি আল্লাহর জন্যই তার দিনরাত্রি ব্যয় করেছেন"।

যদিও ধর্মীয় নেতা হিসেবে তিনি ততটা শিক্ষিত ছিলেন না।

নাসের আল হোজেইমি নামে একজন অনুসারী বলছেন, "জুহায়মান বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রামীণ বেদুইনদের মধ্যেই যেতে চেয়েছিলেন।

"কারণ তার আরবি ছিলো দুর্বল কিন্তু তার বেদুইন উচ্চারণ ছিলো অসাধারণ। তিনি শিক্ষিত লোকজন এড়িয়ে চলতেন নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হবার ভয়ে"।

অন্যদিকে জুহায়মান আবার ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর সৈনিকও ছিলেন।

কাবা দখলের প্রস্তুতির সময় তার সামরিক প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদিকে জেএসএম`র সাথে সৌদি পণ্ডিতদের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়।

জুহায়ামান মরুভূমিতে পালিয়ে যান ও পরে বেশ কিছু লিফলেট লিখেন সৌদি রাজ পরিবারের সমালোচনা করে এবং

পণ্ডিতদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে রাজপরিবার ছিলো দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বড় ধরনের একটি হস্তক্ষেপই শান্তি আনতে পারে।

এক পর্যায়ে তিনি মাহদী হিসেবে মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানিকে চিহ্নিত করেন যিনি ছিলেন তরুণ ধর্ম প্রচারক এবং ভালো আচরণের জন্য প্রশংসিত।

হাদিসে যেই মাহদীর কথা বলা আছে সেটি তার প্রথম নাম আর তার বাবার নামের সাথে নবী মোহাম্মদের নামের মিল ছিলো।

কিন্তু তিনি রাজী হচ্ছিলেননা। পরে তাকে রাজী করানো হলো এবং তিনি মাহদীর ভূমিকা নিলেন।

পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয় যখন জুহায়মান তার বোনকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

মসজিদ দখলের কয়েকমাস আগে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হলো যে মক্কার শত শত মানুষ ও হাজীরা কাহতানিকে স্বপ্নে দেখেছেন যে,

গ্র্যান্ড মসজিদে তিনি দাড়িয়ে আছেন ইসলামের ব্যানার হাতে। জুহায়মানের অনুসারীরা এসব বিশ্বাস করেছিলো।

জেএসএম সদস্য মুতাওয়ালি সালেহ বলছেন, "মনে পড়ে মেষ মিটিঙে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো মাহদী নিয়ে কি ভাবছি।

আমি বলেছিলাম এ বিষয়ে কথা বলোনা। তখন একজন বলেছিলো তুমি নিশ্চুপ শয়তান। মাহদী সত্যি এবং তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানি"।

পরে প্রত্যন্ত এলাকায় জুহায়মান ও তার অনুসারীরা সম্ভাব্য সহিংসতার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্ব গ্র্যান্ড মসজিদ দখলের ঘটনা শুরুতে গুরুত্ব দেয়নি।

যুবরাজ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ তিউনিসিয়ায় আরব লীগের সামিটে ছিলেন। ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান প্রিন্স আব্দুল্লাহ মরক্কোতে ছিলেন।

ফলে ব্যবস্থা নেয়ার সব দায়িত্ব ছিলো অসুস্থ রাজা খালেদ আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স সুলতানের হাতে। সৌদি পুলিশ শুরুতে সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেনি।

তারা কয়েকটি পেট্রল কার পাঠায় কি হয়েছে দেখতে কিন্তু গ্র্যান্ড মসজিদের আসার পথেই তারা গুলির মুখে পড়ে।

পরে যখন কতটা ভয়াবহ তা পরিষ্কার হয় তখন এগিয়ে আসে ন্যাশনাল গার্ড।

মার্ক হাম্বলে ছিলেন জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার। অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি।

"তীক্ষ্ম শুটারদের হাতে ভালো অস্ত্র ছিলো। অত্যন্ত ভালো মানের বেলজিয়াম রাইফেল"।

এরপর পুরো মসজিদ এলাকা জুড়ে সিকিউরিটি কর্ডন গড়ে তোলা হয় স্পেশাল ফোর্স, প্যারাট্রুপার ও আর্মারড ইউনিটি দিয়ে।

আবদের মোনেইম সুলতান তখনো ভেতরে আটকা ছিলেন। তিনি বলেন দ্বিতীয় দিন দুপুর থেকে লড়াই জোরদার হয়ে ওঠে।

"মিনার লক্ষ্য করে গুলি হচ্ছিলো। বার বার হেলিকপ্টার চক্কর দিচিছলো। সামরিক বিমানও দেখা যাচ্ছিল"।

মিস্টার সুলতান বলেন, জুহায়মানকে তখনো আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলো এবং কাবার সামনে দেখাও হয়েছিলো তাদের।

"তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা আমার পায়ে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। তার স্ত্রী দাড়িয়ে ছিলেন যিনি কখনো তাকে ছেড়ে যাননি"।

বিদ্রোহীরা কার্পেট ও রাবার টায়ার পুড়িয়ে কালো ধোয়া তৈরির চেষ্টা করছিলো। এগিয়ে আসা সৌদি বাহিনীর চোখ এড়াতে অন্ধকার অ্যামবুশ করে অবস্থান নিয়েছিলো তারা।

মুহূর্তের মধ্য পুরো ভবন হয়ে উঠে কিলিং জোন। হতাহতের সংখ্যা মুহূর্তেই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।

"এটা ছিলো অল্প জায়গায় সরাসরি লড়াই," বলছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল ফোর্সের মেজর মোহাম্মদ আল নুফাই।

সৌদি আরবের প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি একটি ফতোয়া জারি করেন যেখানে তিনি বলেন সৌদি মিলিটারি যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে।

অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার হয় মিনার থেকে বিদ্রোহীদের সরাতে। বিদ্রোহীরা মাহদীকে ঘিরে ছিলো।

"আমি তাকে অল্প আহত অবস্থায় দেখতে পাই। তার চোখের নীচে অল্প আঘাত আর তার পোশাকে অনেকগুলো গুলির দাগ ছিলো," বলছিলেন মিস্টার সুলতান।

"তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি মরবেন না, কারণ তিনি তো মাহদী"। কিন্তু কাহতানির বিশ্বাস বাস্তব হয়নি এবং তিনি শিগগিরই গুলির মুখে পড়েন।

"তিনি যখন আঘাত পেলেন তখন সবাই চিৎকার করে ওঠে,মাহদী আহত। কেউ কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যেতে চাইলো কিন্তু প্রচণ্ড গুলির মুখে তাও পারলো না,

" বলছিলেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তারা জুহায়মানকে বললো মাহদী আঘাতপ্রাপ্ত কিন্তু তিনি অনুসারীদের বললেন, ওদের বিশ্বাস করোনা।

ছয়দিন পর সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদ ভবন এলাকা ও আঙ্গিনার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলো।

"শুরুতে পানির সরবরাহ ছিলো কিন্তু পরে রেশন করে দেয়া হলো। এক পর্যাযে খেজুরও শেষ হয়ে গেলো। ভয়াবহ অবস্থা। মনে হচ্ছিলো হরর মুভি"।

এটা পরিষ্কার যে বিদ্রোহী নেতাদের জীবন্ত ধরতে সৌদি সরকারের সহায়তার দরকার ছিলো। তারা ফরাসী প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলে।

তিনি বলছিলেন, "রাষ্ট্রদূত আমাকে বলেছে যে সৌদি বাহিনী সংগঠিত নয় এবং কিভাবে ব্যবস্থা নেবে তা জানতো না"।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট কাউন্টার টেরর ইউনিট থেকে তিনজন উপদেষ্টাকে ডেকে নিলেন।

"পুরো অভিযান গোপন রাখা হলো যাতে ইসলামের জন্মস্থানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ নিয়ে কোনা সমালোচনা না ওঠে"।

ফরাসী দল তায়েফের কাছে একটি হোটেলে দপ্তর খোলে।

সেখান থেকেই পরিকল্পনা হয় যে বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করা, বেজমেন্ট গ্যাস দিয়ে পূর্ণ করা যাতে কেউ টিকতে না পারে।

ক্যাপ্টেন পর বারিল বলছেন বেজমেন্টে যেতে ৫০ মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিলো এবং এগুলো দিয়েই গ্যাস দেয়া হয়।

পরে বিদ্রোহীরা যেখানে ছিলো সেখানে গ্রেনেড দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে দেয়া হয়।

নাসের আল হোজেইমি বলেন জুয়াহমান অস্ত্র আর খাদ্য ছাড়াই ছিলেন শেষ দু দিন।

"তারা ছোটো একটি রুমে অবস্থান নেন। সৈন্যরা গর্ত দিয়ে স্মোক বোম্ব নিক্ষেপ করছিলো"। এ কারণে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

মেজর নুফাই এরপর সৌদি প্রিন্স ও জুহায়মানের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্স জিজ্ঞেস করেন এটা কেন করলে জুহায়মান। উত্তরে তিনি বলেন `ভাগ্য`। তার কিছু প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে জুহায়মান পানি চান।

জুহায়মানকে ক্যামেরার সামনে আনা হয় এবং এর একমাস পর ৬৩ বিদ্রোহীকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হয় এবং জুহায়মানকেই প্রথম মরতে হয়।

একজন ব্যক্তির ওপর এ ঘটনার প্রভাব পড়েছিলো তিনি হলেন ওসামা বিন লাদেন। সৌদির শাসকদের নিয়ে একটি লিফলেটে তিনি প্রসঙ্গটি এনেছিলেন।

নাসের আল হুজাইমির মতে জুহায়মানের পদক্ষেপে আধুনিকায়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গলো।

হারাম শরীফে ওই ঘটনার পর টিভি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো নারী উপস্থাপকেরা, যা জুহায়মানের একটি দাবি ছিলো।

সৌদি আরব আবার তার রক্ষণশীল পথে ফিরে গেলো এবং গত চার দশক ধরেই তা আছে। এখন অবশ্য কিছুটা পরিবর্তনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এক সাক্ষাতকারে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন ১৯৭৯ সালের আগে "আমাদের একটি স্বাভাবিক জীবন ছিলেন উপসাগরীয় অন্য দেশের মতো।

যেখানে নারীরা গাড়ি চালাতো এবং সৌদি আরবে মুভি থিয়েটারও ছিলো"।

 

আজ সারা দেশে শুভ বড়দিন উদযাপিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উদযাপিত হয়েছে।

নানা আয়োজন ও আনন্দ-উৎসবের মধ্যদিয়ে এদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় দিনটি পালন করেছে।

এ উপলক্ষে খ্রিস্টান পরিবারগুলোতে কেক তৈরি করার পাশাপাশি ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন।

দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এ উপলক্ষে সেখানে একটি ক্রিসমাস গাছ রোপণ ও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ, কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, কূটনৈতিক কোরের ডিন আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মিশনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এতে একদল সঙ্গীতশিল্পী বড়দিনের গান পরিবেশন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি বড়দিনের কেক কাটেন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

আজ বুধবার বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় গির্জায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। দিবসটি উপলক্ষে আজ ছিল সরকারি ছুটি।

এ উপলক্ষে দেশের সব গির্জাসহ খ্রিস্টান পরিবারগুলো ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে, কেক তৈরি করে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিনটি উদযাপন করছে।

শিশুদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় সান্তা ক্লজ।

বড়দিন উপলক্ষে দেশের সব গির্জায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে গোশালা স্থাপন এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানো হয়। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর রঙিন করা হয়। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি।

এছাড়া বড়দিন উপলক্ষে গির্জার মূল ফটকের বাইরে বসে মেলা।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গির্জাগুলোয় আসতে থাকেন যিশুভক্তরা। কয়েকটি পর্বে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলযজ্ঞে যিশুকে আহ্বান করে চলে ভক্তদের প্রার্থনা। শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা যেন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এমনটাই প্রার্থনা তাদের।

 এছাড়াও রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলসহ দেশের বড় হোটেলগুলোতেও বড়দিন উদযাপনের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়।

হোটেলগুলোতে গতকাল মঙ্গলবারই আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর পাশাপাশি গাজীপুরের নিকোলাসের গির্জায়ও ভক্তরা মেতে ওঠেন যিশুবন্দনায়। আজকের দিনে সত্য ও ন্যায়ের বাণী নিয়ে যিশুর আগমন মানবজীবনে যেন বারবার ফিরে আসে সে প্রত্যাশা ভক্তদের।

উল্লেখ্য, এই দিনে বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেয়া, মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা এবং সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার করতে তার আগমন ঘটেছিল।

বাংলাদেশে পীর-সুফিদের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য আসলে কী?
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের রাজনীতিতে পীর বা সুফি নেতাদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো দশকের পর দশক ধরে কাজ করলেও বিকল্প এবং স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি।

প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ঘিরে দুই জোটের রাজনীতিতেই ঘুরপাক খাচ্ছে এসব দলের রাজনীতি।

পীর বা সুফি নেতাদের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী দলগুলোর উদ্দেশ্য আসলে কি? বাংলাদেশে এই দলগুলোর ভবিষ্যত কতটা আছে—এসব প্রশ্ন এখন অনেকে তুলছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধন করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল ১৯৭৮সালে।

সেই সুযোগ নিয়ে তখন নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী কয়েকটি দল আবার রাজনীতি শুরু করেছিল। আশির দশকের শেষদিকে তাতে যুক্ত হয়েছিল পীরদের রাজনীতি।

কয়েকজন পীর বা সুফি নেতা ইসলামপন্থী দল গঠন করে রাজনীতির মাঠে নেমেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলছিলেন, জেনারেল এরশাদ তার ক্ষমতার স্বার্থে ধর্মকে ব্যপকভাবে ব্যবহার করেছিলেন এবং তার পৃষ্ঠপোষকতাতেই তখন দল গঠন করে পীরদের রাজনীতিতে নামতে দেখা গেছে।

"বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব পীরবাদী সংস্কৃতি যদি আমরা দেখি, সেখানে একটি আউলিয়াভিত্তিক সংস্কৃতি ছিল। যেখানে গানবাজনা, উৎসব, মেলা এবং একটা লোকাচার ছিল। আমাদের এখানে সুফিবাদের চর্চা দীর্ঘদিনের।"

"কিন্তু ৮০ সালের পর থেকে বিশেষ করে সামরিক শাসক এরশাদের সময় ১৯৮৭ সালে প্রথম তার পৃষ্ঠপোষকতায় চরমোনাই পীরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। এরপর আমরা দেখেছি ১৯৮৮ সালে ইসলাম রাষ্ট্র ধর্মের স্বীকৃতি পায়।"

জোবাইদা নাসরিন আরও বলেছেন, "শর্ষিনার পীর, ৭১ সালে যিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসককে সহযোগিতা করেছিলেন, তাকেও জেনারেল এরশাদ স্বাধীনতা পদক দিয়েছিলেন। সেই আমল থেকেই পীর এবং ইসলামকে আমাদের দেশের রাজনীতি ব্যবহার করার ব্যাপারটি ভিন্নমাত্রা পায়।"

দেশে ইসলামপন্থী দলের সঠিক সংখ্যা বলা মুশকিল। পীর বা তাদের বংশধরদের নেতৃত্বে দলের সংখ্যাও কম নয়।

তবে পীরদের দলগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি দল নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পেয়ে কাজ করছে।

এই দলগুলো ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠাকেই মুল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে।

কিন্তু সেই লক্ষ্যের ক্ষেত্রেও মতবাদ এবং চলার পথ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বেশ প্রকট।

এমন প্রেক্ষপটে তারা আসলে কি করতে চায়-এই প্রশ্ন তোলেন বিশ্লেষকরা।

বরিশালের চরমোনাইর পীর হিসেবে পরিচিত সৈয়দ ফজলুল করিম ইসলামী আন্দোলন নামে দল গঠন করে রাজনীতিতে নেমেছিলেন জেনারেল এরশাদের আমলে ১৯৮৭ সালে।

নিবন্ধিত এই দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার ছেলে সৈয়দ রেজাউল করিম এখন পীর এবং দলের নেতা হিসেবে কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠা থেকেই তিন দশকেরও বেশি সময়ে দলটিকে ক্ষমতাসীন বা বড় কোনো দলের সাথেই থাকতে দেখা গেছে।

তবে এই দলের মহাসচিব ইউনুস আহমদ বলেছেন, তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।

সেজন্য দেশে সব পর্যায়ের নির্বাচনে পাখা প্রতীক নিয়ে তারা অংশগ্রহণ করেন।

"আমরা ইসলামের আদর্শে ইসলামের আলোকে প্রত্যেকটা সেক্টরকে সাজাতে চাই।

আমরা বিশ্বাস করি, আত্মশুদ্ধি যতক্ষণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতি অপরাধ, অন্যায় দূর হবে না।"

আরেকটি ইসলামপন্থী দল জাকের পার্টিও প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পার করেছে।

জেনারেল এরশাদের শাসনের সময়ই ১৯৮৯ সালে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফরিদপুরের আটরশির পীর হিসেবে পরিচিত শাহ সুফি মো: হাসমতউল্লাহ।

তখনই তিনি তার ছেলে মোস্তফা আমীর ফয়সালকে চেয়ারম্যান করেছিলেন।

জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জাকের পার্টি গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে প্রার্থী দিয়েছিল।

জাকের পার্টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে রয়েছে।

দলটিতে এখন তৃতীয় প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। এর প্রতিষ্ঠাতার নাতি ড: সায়েম আমীর ফয়সালকে জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

এই দলটির এখনকার নেতৃত্ব স্বাধীনতা বিরোধী এবং কট্টরপন্থী ইসলামী দলগুলোর বিরুদ্ধে একটা অবস্থান তৈরির চেষ্টার কথা বলছে।

ড: সায়েম আমীর ফয়সাল দাবি করেছেন, তাদের দল ইসলামপন্থী হলেও উদার এবং প্রগতিশীল চরিত্র নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

"জাকের পার্টি একমাত্র ইসলামী রাজনৈতিক দল একটা প্রগতিশীল দল। এটা আমি গর্বের সাথে বলতে পারি। আমি বিশ্বাস করি ইসলাম পরিপূর্ণভাবে সেকুলার।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ মদিনা চুক্তি। নবী করিম (সা:) যে মদিনা চুক্তি আমাদের দিয়ে গেছেন, এর চেয়ে বড় উদাহরণতো আর কোথাও নাই।"

"অবশ্যই ইসলাম প্রগতিশীল এবং অবশ্যই ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। তো আমরা চাই, সাম্য কায়েম হবে। আমরা চাই, বিকৃত ইসলাম নয়, সত্য ইসলাম বাংলার জমিনে কায়েম হোক।"

পীরদের দলগুলোর মধ্যে শুধু তরিকত ফেডারেশন নামের একটি দলের নেতা সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী বর্তমান সংসদে সদস্য হিসেবে যেতে পেরেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক হিসেবে তিনি নৌকা প্রতীকে চট্টগ্রামের একটি আসন প্রার্থী হয়েছিলেন।

এই তরিকত ফেডারেশনের নেতৃত্বও তাদের দলকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী বলছিলেন, "আমরা আসলে সুফি মতবাদে বিশ্বাস করি। ইসলামের মুল থিমটাই হচ্ছে, মানবতার দর্শ, শান্তির ধর্ম।জঙ্গীবাদ এবং ইসলাম বা যে কোন ধর্মের নামে উগ্রতাকে আমরা না বলি। আমরা কেস করেছিলাম, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের জন্য এবং আমরা জিতেছি। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান পরিস্কার।"

তরিকত ফেডারেশন এবং জাকের পার্টি ইসলামপন্থী দল হলেও তারা ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারনীতির ভিন্ন রাজনীতির কথা বলছে।

আর চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন প্রচলিত ব্যবস্থা পাল্টিয়ে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অবস্থানকেই তুলে ধরছে।

তবে এই দলগুলোকে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ওপর ভর করেই এখন রাজনীতির মাঠে থাকতে দেখা যায়।

 

জোবাইদা নাসরিন বলছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিতে এবং দেশ শাসনের ব্যাপারে ধর্মভিত্তিক দলকে সমর্থন করেনা। সেকারণে এসব দল বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারছে না বলে তিনি মনে করেন।

 

"পীরবাদী দলগুলোর এককভাবে রাজনৈতিক সমর্থন আছে, এটা আমি মনে করি না। আসলে বাংলাদেশে মিশ্র সংস্কৃতির ইতিহাস। বাংলাদেশের মানুষ মানবিক দিক থেকে অনেক বেশি সেকুলার। এখানে বহুত্ববাদের সংস্কৃতি আছে। ফলে মানুষ তাদের গ্রহণ করবে না বলে আমার মনে হয়।"

এই দলগুলোর নেতাদেরও অনেকে তাদের বিকল্প বা স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে দাঁড়াতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেন।

কিন্তু একইসাথে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি তাদেরকে নতুন করে ভাববার সুযোগ করে দিয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ইসলামী আন্দোলনের নেতা ইউনুস আহমদ বলেছেন, এখনকার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট কাজে লাগিয়ে তারা বড় দলগুলোর বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

তবে ইসলামী আন্দোলনসহ এমন অন্য দলগুলো তাদের অর্থনৈতিক চিন্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন কর্মসূচি তুলে ধরে না।

এর পেছনে বিশ্লেষকরা অনেক কারণ দেখছেন। তারা বলছেন, রাজনীতিতে কোনভাবে একটা অবস্থান নিয়ে বড় দলগুলোর নজরে থাকা-এমন চিন্তার মাঝেই এই দলগুলো এখনও সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এছাড়া পীর হিসেবে পাওয়া মানুষের সমর্থন রাজনীতিতে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে এই দলগুলো গঠন করেছিলেন এর নেতারা। কিন্তু রাজনীতিতে তা কাজ করেনি।

তরিকত ফেডারেশনের নেতা সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী বলছিলেন, তারা এখনও সমমনাদের সাথে থেকে ঐক্যের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে বড় দলগুলোও একক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু পীরদের দলগুলো আরও বেশি এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক। সেজন্য এসব দল সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বলে রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।

জাকের পার্টির নেতা ড: সায়েম আমীর ফয়সাল অবশ্য অর্থনৈতিক কর্মসূচিসহ তাদের দলের কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক ভিত্তি দেয়ার দাবি করছেন।

যদিও ইসলামপন্থী এই দলগুলো মনে করছে, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির প্রতি মানুষ এখন ঝুঁকছে এবং তারা ভোটের বা ক্ষমতার রাজনীতিতেও তারা একটা প্রভাব রাখতে পারছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ইসলামপন্থী অন্য দলগুলোর ভোটের হিসাব এখনও নগণ্য পর্যায়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলছিলেন, ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে মানুষ এখনও সেভাবে সমর্থন করছে না বলে তিনি মনে করেন।

"দেশে যখন কোনো পলিটিক্স না থাকে, যখন শূণ্যতা দেখা দেয়, মসজিদকে ঘিরে রাজনীতি করে, পীরদের ঘিরে পলিটিক্স করে। কিন্তু এদের কোনো ভবিষ্যত রাজনীতিতে আছে বলে আমি মনে করি না। যে রাজনীতি জনকল্যাণের রাজনীতি, তাতে তাদের ভবিষ্যত নাই।"

পীর বা তাদের বংশধরদের রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ের মধ্যে একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে-এমন বিশ্বাস এখনও দলগুলোর নেতৃত্বের মাঝেও তৈরি হয়নি বলে মনে হয়েছে।

তবে দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, বড় দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টিকারী একটা শক্তি হিসেবে একটা অবস্থান তারা করতে পেরেছেন।

 

হজ কোটা বিভিন্ন দেশের জন্য যেভাবে নির্ধারিত হয়
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হচ্ছে হজ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর হজ পালন করতে যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

কিন্তু তারপরেও অনেক মুসলিম তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী নির্দিষ্ট বছর হজে যেতে পারেন না। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

এর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, কোন্ দেশ থেকে কত মানুষ হজে যেতে পারবেন, তার একটি কোটা রয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ থেকে সৌদি আরবকে ক্রমাগত অনুরোধ করা হচ্ছে হজের কোটা বাড়ানোর জন্য।

২০২০ সালের জন্য বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে হজ সংক্রান্ত যে চুক্তি সাক্ষর করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশিদের হজ কোটা ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী বছর ১ লক্ষ ৩৭ হাজার বাংলাদেশী হজে যেতে পারবেন।

২০১৯ সালে ভারত থেকে হজের কোটা বাড়ানো হয়েছে। এটি ১ লক্ষ ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই লক্ষ করা হয়েছে।

পাকিস্তান থেকেও দুই লক্ষ মুসলিম হজ করতে গিয়েছেন।

যদিও ২০২০ সালের জন্য এই সংখ্যা আরো ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি করেছে পাকিস্তান।

মালয়েশিয়া থেকে ২০১৯ সালে প্রায় ৩০ হাজার মুসলিম হজ পালন করতে গিয়েছিলেন। মালয়েশিয়াও এ কোটা বাড়ানোর দাবি করেছে।

হজের জন্য সৌদি আরবকে বিশাল আয়োজন করতে হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি`র একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজের এই কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওআইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে এক হাজার জন হজে যেতে পারবে।

হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা হাব-এর সহ-সভাপতি এ.এস.এম ইব্রাহিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশর জনসংখ্যা যেহেতু ১৬ কোটি, সেজন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লক্ষ ষাট হাজার মানুষ হজ করতে যেতে পারে।

কিন্তু কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেকেই তাদের পছন্দ অনুযায়ী বছরে হজে যেতে পারেন না বলে মি: ইব্রাহিম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে প্রায় এক লক্ষ সাতষট্টি হাজার মানুষ প্রাক নিবন্ধন করেছে। কিন্তু নতুন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে পারবে এক লক্ষ সাইত্রিশ হাজার।

বাংলাদেশের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী হজে যেতে আগ্রহীদের অনলাইনে প্রাক নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধন সারা বছরই চলে।

হজ পালনের কয়েকমাস আগে সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধনের আহবান জানানো হয়। সেক্ষেত্রে যারা আগে প্রাক নিবন্ধন করেন, তালিকায় ক্রমানুসারে তারাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারেন।

"চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য সরকার সময় নির্ধারণ করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তালিকা থেকে ক্রমানুসারে অন্যদের সুযোগ দেয়া হয়," বলছিলেন হাব-এর সহ-সভাপতি মি: ইব্রাহিম।

গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি হজ পালন করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে প্রায় দুই বছর আগে থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় হজে যাবার প্রবণতাও বাড়ছে।

কিন্তু কোটার কারণে সবাই সময়মতো যেতে পারছেন না। সেজন্য বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজ করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাব-এর হিসেব অনুযায়ী ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজ পালন করতে গিয়েছেন প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার মানুষ।

 

শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরে তিন দিন ব্যাপী শুরু হচেছ এ ইজতেমা।

প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইতজেমা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম পর্বের শেষ দিন ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি উভয় পর্বে মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার দুপুরে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে প্রথম পর্ব বাস্তবায়নের কর্মী ইজতেমার মুরুব্বি মো. মামুনুর রশীদ একথা জানিয়েছেন।

এদিকে, এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে সফল ও স্বার্থক করার জন্য ইজতেমা আয়োজক কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ প্রস্তুতির কাজ গত এক মাস যাবত বেশ জোরেসোরে এগিয়ে চলছে।

শত শত স্বেচছাসেবী প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কাজ করে যাচ্ছেন।

তারা এখন মাঠের ভেতরে বাঁশের খুঁটি সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো, কাঁচা টয়লেট নির্মাণ, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তা সংস্কার সহ সার্বিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন।

আজ বুধবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-ছাত্র, পেশাজীবী সহ সাধারণ মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এসে মাঠের নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণ বিনাশ্রমে তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ নভেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ প্রস্ততি কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

গাজীপুর-২ আসনের এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল প্রস্তুতি উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন।

 

আজ বাংলাদেশ-সৌদি হজ চুক্তি
                                  

ডেস্ক ‍রির্পোট : বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২০ সালের হজ চুক্তি সম্পন্ন হবে আজ বুধবার।

এ লক্ষ্যে বর্তমানে মরুর দেশটিতে অবস্থান করছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

চুক্তি সম্পাদন হবে সৌদির অন্যতম শহর জেদ্দায়।

এবারের চুক্তিতে বাংলাদেশ নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত ২০ হাজার জনের হজ কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করবে সৌদি সরকারের কাছে।

সেই সঙ্গে ৫০ শতাংশ হারে হজযাত্রীদের জেদ্দা এবং মদিনায় ফ্লাইট পরিচালনা, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার প্রস্তাব করা হবে।

এছাড়া চুক্তিতে মাশায়েরে মোকাদ্দাসায় হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করার প্রস্তাব দেয়া হবে।

সৌদি আরবের পক্ষে চুক্তির নেতৃত্বে থাকবেন সৌদি হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, কনসাল জেনারেল (জেদ্দা) ফয়সাল আহমেদ, কাউন্সেলর (হজ) মাকসুদুর রহমান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকবেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সৌদিতে হজ পালনের সুযোগ পেয়ে আসছেন।

দেশটি এবার পাঁচ হাজার জনের কোটা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২০ সালে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ আগস্ট। বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে ২৫ জুন থেকে।

 

মার্কিন গবেষণায় পাঁচওয়াক্ত নামাজে সুস্থ থাকা সম্ভব
                                  

গনমুক্তি ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সমপ্রতি নামাজ নিয়ে গবেষণা করেছেন ।

দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলে তারা বলেছেন, এটা প্রমাণ করেছে যে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকৃত হতে পারে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।

গবেষকরা আরো বলেছেন, নামাজের সময় শারীরিক যে ক্রিয়া হয়ে থাকে এটা যদি নিয়মিতভাবে ও নির্ধারিত সময়ে হয় তবে অন্য সব চিকি‍ৎসা থেকে পিঠের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করবে এই নামাজ।

শারীরিক এই উপকার ছাড়াও নামাজ আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে।

আর এই সম্পর্ক মানুষের আত্মাকে প্রশান্ত করে। নিয়মিত নামাজ শরীরের ওপর এই ঝিম প্রভাব, রক্তচাপ এবং হূদস্পন্দন কমাতে পারে, পরিণামে পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

যদি কেউ ঠিক মতো রুকু করতে পারে তাহলে তার পিঠে কোনো ব্যথা থাকবে না।

কেননা রুকুর সময়ই পিঠ সমান হয়ে থাকে বলেছেন, গবেষকরা ।

মূলত নামাজ পড়লে শারীরিক যে উপকারগুলো হবে সেই গুলো হলো -

রুকু : নিচের পিঠ, উরু এবং ঘাড়ের পেশিগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত করে।

রক্ত শরীরের ওপরের অংশে প্রবাহিত হয়।

সিজদা : সিজদা দিলে হাঁড়ের জোড়ার নমনীয়তা বাড়ে।

মাথা নামানোর সময় মস্তিকে রক্ত সঞ্চালন হলে রক্তচাপও কমে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। সিজদার পুনরাবৃত্তি : এই সিজদা শরীরের ভারসাম্য এনে দেয়।

তবে এটা সত্য যে নামাজ শারীরিক উপকারের জন্য পড়তে হয় না।

নামাজ পড়তে হয় মহান আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের জন্য।

 


   Page 1 of 15
     ধর্ম
আগামীকাল আখেরি মোনাজাত
.............................................................................................
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীর-অনিন্দ্য ব্যানার্জী
.............................................................................................
বান্দরবানের লামা উপজেলার জীনামেজু রাজামুনি বুদ্ধমূর্তির অভিষেক ও উৎসর্গ অনুষ্ঠান সম্পন্ন
.............................................................................................
আজ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু আম বয়ানে
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতে মুসলিম জাতির শান্তি-ঐক্য কামনা
.............................................................................................
আরও ৪ জনের মৃত্যু ইজতেমায়
.............................................................................................
আজ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু
.............................................................................................
আগামী শুক্রুবার থেকে বিশ্ব ইজতেমা শুরু
.............................................................................................
১০-১২ জানুয়ারির ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব
.............................................................................................
৭৯ সালে কাবা শরিফ অবরোধ : সৌদি আরবের ইতিহাস পাল্টে দেয়া ঘটনা
.............................................................................................
আজ সারা দেশে শুভ বড়দিন উদযাপিত
.............................................................................................
বাংলাদেশে পীর-সুফিদের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য আসলে কী?
.............................................................................................
হজ কোটা বিভিন্ন দেশের জন্য যেভাবে নির্ধারিত হয়
.............................................................................................
শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
আজ বাংলাদেশ-সৌদি হজ চুক্তি
.............................................................................................
মার্কিন গবেষণায় পাঁচওয়াক্ত নামাজে সুস্থ থাকা সম্ভব
.............................................................................................
তাফসীরুল কুরআন মাহফীল
.............................................................................................
কুমিল্লায় তিনজন মাওলানা নিষিদ্ধ, কিন্তু বয়ান নিয়ে এখনো কোন নীতিমালা নেই
.............................................................................................
মুন্সীগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত
.............................................................................................
ওজনে কম দেয়া, ঠকবাজি, প্রতারণায় দুনিয়া-আখিরাতে শাস্তি
.............................................................................................
নামাজে মনোযোগী হওয়ার উপায়
.............................................................................................
নামাজ না পড়ার শাস্তি
.............................................................................................
কুরআনের আলোকে মুমিনের বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি?
.............................................................................................
এবার একটাই হবে বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
স্থিরতা নামাজের প্রাণ
.............................................................................................
মিসরের সর্ববৃহৎ মসজিদ উদ্বোধন
.............................................................................................
চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আজ
.............................................................................................
শীতকালে রয়েছে বিশেষ ইবাদত
.............................................................................................
জুম্মার আগে ও পরের বিশেষ আমলসমূহ
.............................................................................................
আজ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের জন্মদিন
.............................................................................................
শুভ বড়দিন
.............................................................................................
অজুর পর নামাজের ফজিলত
.............................................................................................
অবৈধ উপার্জন সম্পর্কে ইসলাম কী বলে
.............................................................................................
জুম্মার নামাজে হেঁটে যাওয়ার ফজিলত
.............................................................................................
জামাতে নামাজ আদায়ে সওয়াব ২৭ গুণ বেশি
.............................................................................................
পরনিন্দার ৩টি অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছেন রাসুল সা.
.............................................................................................
উপমহাদেশে ইসলামের আগমন
.............................................................................................
সালাম দিলে নব্বই নেকি আর জবাব দিলে দশ নেকি
.............................................................................................
মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নতসমূহ
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
আঞ্চলিক ভাষার উচ্চারণে কুরআন পড়ার বিধান
.............................................................................................
কিছু বিস্ময়কর তথ্য মৃত্যু নিয়ে
.............................................................................................
আকিকার গুরুত্ব ও ফজিলত
.............................................................................................
ইসলামে কালিজিরার গুণাগুণ
.............................................................................................
স্ত্রীর সঙ্গে মিথ্যা বলা জায়েজ?
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২১ নভেম্বর
.............................................................................................
জাহান্নামীদের কী প্রশ্ন করা হবে?
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে রোগীর সেবা-যত্ন
.............................................................................................
আখেরি চাহার শম্বা আজ
.............................................................................................
তওবা ও ইস্তেগফারের ফজিলত কি কি?
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি