ঢাকা,মঙ্গলবার,১৩ মাঘ ১৪২৭,২৬,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > মেসিবিহীন বার্সেলোনার জয়   > সাতপাকে বাঁধা পড়লেন বরুণ-নাতাশা   > এসএসসির পাঠ্যসূচি কমিয়ে সিলেবাস প্রকাশ   > কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে   > রিমান্ডে পিকে হালদারের তিন সহযোগী   > আসামী কারাগারে, সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ   > করোনায় একদিনে ১৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬০২   > দেশে এখন ৭০ লাখ ভ্যাকসিন   > প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো ভূমিহীন পরিবাররা   > কুড়িগ্রামে পৌর মেয়র কাজিউল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ  

   সারা বাংলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে

গণমুক্তি রিপোর্ট : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এক দুর্ঘটনাতে সাতটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি প্রাইভেটকার, একটি ট্রাক ও একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাসারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে আজ সোমবার সকালে প্রথমে ঢাকাগামী একটি ট্রাক রাস্তার নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় পেছন দিক থেকে পাঁচটি প্রাইভেটকার ও একটি বাসের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এদিকে, এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন আহত হলেও তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলছিল বলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিকে দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় এক্সপ্রেসওয়ের একটি পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরানোর পর চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ।

কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে
                                  

গণমুক্তি রিপোর্ট : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এক দুর্ঘটনাতে সাতটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি প্রাইভেটকার, একটি ট্রাক ও একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাসারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে আজ সোমবার সকালে প্রথমে ঢাকাগামী একটি ট্রাক রাস্তার নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় পেছন দিক থেকে পাঁচটি প্রাইভেটকার ও একটি বাসের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এদিকে, এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন আহত হলেও তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলছিল বলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিকে দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় এক্সপ্রেসওয়ের একটি পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরানোর পর চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ।

গোসাইরহাটে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার ঘর পেলেন গৃহহীন ৪৮টি পরিবার
                                  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : ‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য স্বপ্নের নীড় তৈরি করা হয়েছে। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক যোগে হস্থান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারবাহিকতায় শনিবার (২৩ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টায় গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষে নির্মিত এসব ঘরের জমির পর্চা, খাজনার চেক, সাটিফিকেট ও ঘরের দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্থান্তর করেছেন গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হুসাইন। এসময় অন্যন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শাজাহান সিকদার, গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. আবুল খায়ের, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীবৃন্দ, গোসাইরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাষ্টার গিয়াসউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক খালেদ মো. সাইফুল্লাহ কাওসার সহসূধীবৃন্দ।
উপকারভোগী নাগেরপাড়া ইউনিয়নের কেছুয়ারজর গ্রামের ছিপারননেসা বলেন, আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই যে আমি একটা দালান ঘরের ভিতরে থাকতে পারমু, আমি আমাগো এমপি নাহিম রাজ্জাক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাইগা আল্লাহর কাছে দোয়াকরি আল্লাহ যেন হেগরে ভালো রাহে। ছিপারননেসা স্বামী হারা, মানুষের বাড়িতে ও বিভিন্ন দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা একজন মানুষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হুসাইন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দোয়া ও উদ্বোধন শেষে এ উপজেলার ৪৮ টি পরিবারের মধ্যে জমির পর্চা, খাজনার চেক সাটিফিকেট সহ গৃহ হস্থান্তর করা হয়েছে।

৬৯৯টি ভূমিহীন পরিবার ২ শতাংশ জায়গাসহ ঘর পেলো শরীয়তপুরে
                                  

মহিউদ্দিন তুষার : দেশের ছিন্নমূল-দুস্থ, ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার ঘর পাচ্ছে। প্রথম ধাপের প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের মাঝে দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর, একটি বসার ঘর, একটি টয়লেট ও একটি রান্নার ঘর হস্তান্তর করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সরকারের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে স্বপ্ন পূরণ হয় দেশের অসহায় ভূমিহীন এবং গৃহহীন ৭০ হাজার পরিবারের। এরই অংশ হিসেবে শরীয়তপুর জেলায় ৬৯৯টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার ২ শতাংশ জায়গা সহ ঘর পেলো। গৃহহীনদের জন্য নির্মিত শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলার আশ্রয়ন নিবাসের উপকারভোগী মানুষ সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলার মানুষও টেরেস্টিয়ালে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সভাকক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীম, এমপি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর-আল-নাসীফ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পারভেজ হাসান,জেলা প্রশাসক শরীয়তপুর, এস এম আশারাফুজ্জামান,পুলিশ সুপার,শরীয়তপুর, ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ,শরীয়তপুর, অনল কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ, মোঃ হুমায়ুন কবির,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,ভেদরগঞ্জ, আ. মান্নান রাড়ী, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, ভেদরগঞ্জসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও উপকারভোগী পরিবারবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত তার ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে বলেই আজ তিনি দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে পেরেছেন। মন্ত্রী বলেন, যোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনন্য শিখরে পৌঁছেছেন। সারা বিশ্ব এখন তাকে ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার একজন হিসেবে মনে করে। শেখ হাসিনার সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছেন। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দূর করেছেন। তিনি আরও বলেন, এদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তাই বারবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছে। কারণ, জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে থাকে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানভীর-আল-নাসীফ গণমুক্তিকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা কাজ করেছি। আজকে ২০২টি ঘর হস্তান্তর করেছি। বাকিগুলোর কাজ শেষ হলে প্রযায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। চাকরি জীবনে এমন ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। আমরা এর জন্য গর্ববোধ করি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই গণমুক্তিকে বলেন, সদর উপজেলায় ৫০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেয়েছে। প্রতিটি ঘরে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এমন কাজ করতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল-মুঈদ গণমুক্তিকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ডামুড্যা উপজেলায় ৬৬ জন গৃহহীন ঘরের বরাদ্দ পেয়েছেন। আমরা শতভাগ কাজ সম্পূর্ণ করে সবাইকে ঘর বুঝিয়ে দিয়েছি। গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ দেয়া ঘরগুলো সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া গণমুক্তিকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তার যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে একই দিনে প্রায় ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করা এটা হিউম্যান সিভিলাইজেশন হিস্টরিতে একমাত্র। আমার উপজেলায় শতভাগ ঘরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গতকাল শনিবার ৫৪ টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়। জাজিরাবাসি আজ অনেক খুশি। বিশেষ করে যারা ঘরগুলো পেয়েছে তাদের চোখে আনন্দের অশ্রু। তারা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হুসাইন গণমুক্তিকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমরা শতভাগ দিয়ে তা সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেছি। গোসাইরহাট উপজেলায় প্রাথমিক প্রযায়ে ৪৮টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য এমন কাজ করতে পেরে নিজ থেকেই ভালো লাগা কাজ করছে। শরীয়তপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ঘরগুলো দুই রুমবিশিষ্ট। এসব ঘরের মেঝে ও চারদিকের ওয়াল পাকা, সামনে খোলা বারান্দা, ওপরে উন্নত টিনের ছাউনিতে ঘেরা। এর সঙ্গে রান্নাঘর ও টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান গণমুক্তিকে বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুরে ৬৯৯ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাবে। এরমধ্যে গতকাল শনিবার ৫০০ পরিবারকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৯৯ পরিবারকে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দেয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের যে সুযোগ দিয়েছেন আমরা তাঁর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এটা আমাদের জন্য অতি গৌরবের। আমরা সকল জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি, মাননীয় উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সবাইকে সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে কাজগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে।

ভাঙ্গন আতঙ্কে তিন উপজেলার মানুষ
                                  

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খেয়াঘাটে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনে নদীর দুই পাশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে ৩ উপজেলার মানুষ। ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন, রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নসহ ৩ উপজেলার সম্মুখস্থল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ঘেষা শ্যামেরকোনা ফলে ঘর-বাড়ী বিলিন হয়ে যাবার অশংকা রয়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে জোয়ারের পানি ব্যাপক ভাবে চাঁপ দিবে। ওই সময় বাঁধের মধ্যে পানি ঢুকে বালু সরে গিয়ে আর বাঁধ টিকবে না। পাশাপাশি এই মৌসুমে অভয়চরণ উচ্চ বিদ্যালয়, শ্যামেরকোনা সরকারি (জুনিয়র) প্রাইমারি বিদ্যালয়, শ্যামেরকোনা দাখিল মাদ্রাসা, দি হলি চাইল্ড কেজি স্কুল ও শ্যামেরকোনা বাজারের লোকজন, ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় লোকজনদের চলাচলের রাস্থাটি বালুর গাড়ি দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করায় ধুলা বালির সৃষ্টি হয়ে লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্থাটি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলাবালি ও গাড়ীর শব্দে শব্দ দূষন হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে। কোমলমতি শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন ৩ উপজেলার লোকজন। জানা গেছে- প্রতিবছরই এই নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্সা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। নদী সন্নিকটের বাসিন্দাদের দাবি “শ্যামেরকোনা খেয়াঘাটে” ইজার দেওয়া চিরতরে বন্ধ করা না হলে ভাংঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দাসহ উপজেলার লোকজনদের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গৃহপালিত প্রাণী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। “শ্যামেরকোনা খেয়াঘাটে” ইজার গাট চিরতরে বন্ধ করার দাবীতে স্থানীয় এলাকাবাসী গণ স্বাক্ষর দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোঃ আনকার মিয়া, মোঃ ফজলুল কাদির, হাজী আব্দুল মালিক, মোঃ সিরাজ মিয়া, আছকির মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন বলেন- নদীতে পানি কমার সাথে সাথেই এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সদর উপজোর শ্যামেরকোনা, পালপাড়া, বাঘরঘর, বাসতলা, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের জলালপুর, কোনাগাঁও, নোয়াগাও, খাস প্রেমনগর এবং কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাট. কালিমন্দির, লক্ষীপুর এলাকার উভয় তীরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভিটেহারা হতে পারে বলে জানান এলাকাবাসী।

লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত ৬০ পণ্য বিশ্ববাজারে
                                  

মো. নজরুল ইসলাম দিপু লক্ষ্মীপুর : দীর্ঘ বছর পর অবশেষে ভাগ্য খুললো লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর। লক্ষ্মীপুরকে দেশ তথা বিশ্ব দরবারে গৌরবান্বিত করতে বিসিক শিল্পনগরীতে কারখানা স্থাপন করেছে দেশবিখ্যাত ভাইয়া গ্রুপের নেক্সট ফুড এন্ড বেভারেজ লি.। গত ৩ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে লক্ষ্মীপুরের বিসিক শিল্পনগরীতে ফুড আইটেমের কারখানা স্থাপন করে বর্তমানে পন্য বাজারজাত করছে। উৎপাদিত এসব পন্যে কারখানার ঠিকানা লক্ষ্মীপুর লেখা থাকায় দেশব্যাপী লক্ষ্মীপুরের সুণাম বৃদ্ধি করছে। সরেজমিনে জানা যায়, ‘ভাইয়া গ্রুপ’ এর নেক্সট ফুড এন্ড বেভারেজ লি. ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার বর্গ ফুট এলাকায় কারখানা স্থাপন করে। কারখানা স্থাপনের পরে পালজ, লাভ ক্যান্ডিসহ প্রায় ২০টি পন্য উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৬০টি পন্য উৎপাদন করছে। এসব উৎপাদিত পন্য এখন দেশব্যাপী বাজারজাত করাসহ বহিঃবিশ্বেও রপ্তানি হচ্ছে। এসব উৎপাদিত পন্যের মধ্যে পালজ ক্যান্ডি, কফিকো, ললিপপ, লাফজ, ম্যাঙ্গো, ডেইরি মিল্ক চকলেট, চকো চকো প্রভৃতি। স্বাস্থ্য ও মানসম্মত পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব পন্য শিশুসহ তরুন-তরুনীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বিএসটিআই এর মান নিয়ন্ত্রনে উৎপাদিত পন্য দেশের ফুড আইটেমের মধ্যে শীর্ঘ্রই শীর্ষস্থানে অবস্থান করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদিত অনেক পন্য সারাদেশের ব্যাপক চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। কুমিল্লার লাকসামের কৃতি সন্তান ভাইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মোমিন আলী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফ সাত্তার আলী ও সিএফও এবং নেক্সট ফুড ও বেভারেজ এর জিএম ওসমান গনি মিন্টুর উদ্যোগে বিসিক শিল্প নগরীতে স্থাপিত কারখানায় ৯শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকুরী করে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী লক্ষ্মীপুর জেলার বলেও জানা যায়। আইএসও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্মীপুরে তাদের কারখানা স্থাপন করে লক্ষ্মীপুরের বেকার জনগোষ্ঠীকে চাকুরী দিয়ে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করায় জেলাজুড়ে সমাদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত পন্য দেশ-বিদেশে বাজারজাত করণে জেলার সুণাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনরা। জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার কৃতি সন্তান ও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড সাহাপুরে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট সমাজসেবক ওসমান গনি মিন্টুর প্রচেষ্টায় কারখানাটি লক্ষ্মীপুরে স্থাপিত হয়েছে। মিন্টু লক্ষ্মীপুর স্টার থিয়েটারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সাবেক সদস্য, জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন কমিটির সাবেক সদস্য, ভুমি বন্দোবস্ত কমিটির সাবেক সদস্য সচিব, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এলআরডিবির নির্বাহী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ভাইয়া গ্রুপের সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাইয়া গ্রুপের জিএম ওসমান গনি মিন্টু বলেন, লক্ষ্মীপুরকে উন্নত ও বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে ভাইয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্মীপুরে স্থাপিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার বেকার সন্তানদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আগামী ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সকল পন্য বিশ্বমানের ও বহির্বিশ্বে রপ্তানি করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

রাজবাড়ীতে মোট আক্রান্ত ৩৪২৫ সুস্থ ৩৩৩৭ জন
                                  

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর ৫ উপজেলার মধ্যে ২ টিতে নতুন করে করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪ টি নমুনা পরিক্ষা করে নতুন ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। ৬ ও ৭ জানুয়ারী তারিখে ৫৪ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে সোমবার রাতে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নতুন এ ৫ জনের নমুনায় করোনা পজেটিভ ধরা পরে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বাড়িয়েছে ৩৪২৫ জনে। নতুন আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ জন, কালুখালীতে ১ জন।
পাংশা ,বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দে নতুন কোন করোনা আক্রান্ত রোগী নেই। আজ করোনা পজেটিভের হার ৯.৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ্য হয়েছে ৩৩৩৭ জন। হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা গ্রহন করছেন ৫৪ জন এবং সদর হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে ভর্তি রয়েছে ৪ জন করোনা রোগী। রবিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহিম টিটন জানান, রাজবাড়ীতে করোনা আক্রান্তের হার ৯.৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪ জনের নমুনা পরিক্ষা করে নতুন ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দ্বাড়াল ৩৪২৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৩৩৩৭ জন। জেলায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৫৪ জন। সদর হসপাতালের কোভিড ইউনিটে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী।

পাহাড়বাসীর দুর্ভোগ : বিকল্প সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনী
                                  

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়িতে ৬৪ মিটার সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে গত পাঁচদিন ধরে। এতে থমকে গেছে এই সড়কের ওপর দিয়ে যান চলাচলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাজ। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু সংস্কার করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন জানায় সড়ক বিভাগ। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সড়ক বিভাগকে সহায়তা করার জন্য সদর দফতর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের নির্দেশে স্থানীয় ২০ ইসিবি বিকল্প সেতু নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। ২০ ইসিবি’র দায়িত্বরত প্রকৌশলী মেজর এস এম খালেদুল ইসলাম জানায়, ১৫ জানুয়ারি থেকে কনস্ট্রাশনে এ ব্যটেলিয়ান দ্রুতগতিতে একটি বেইলি ডাইভারসন সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। সড়কটিতে যানবাহন চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন ও সচল রাখার জন্য ডাইভারসন সড়কে ১৪০ ফুটের বেইলি সেতু ও ২৪০ মিটার এপ্রোচ সড়কের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করা যায় সড়কটি নির্মাণ করে খুব শীগগিরই জনসাধারণের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে। সড়ক বিভাগ ও সেনাবাহিনীর এই বিকল্প সেতু নির্মাণকে সাধুবাদ জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সড়ক সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সড়কটিতে যান চলাচল শুরু করতে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার। এভাবে সকলে এগিয়ে আসলে দ্রুততার সাথে এই সড়কে যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়িতে বেইলি সেতুটি পাথরবোঝাই ট্রাকসহ ভেঙ্গে পড়লে তিনজন নিহত হয়। এতে খাগড়াছড়ির সাথে রাঙামাটির যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শরীয়তপুরে কাউন্সিলরের জিম্মায় থাকা ৫০ বস্তা ওএমএস`র চাল উদ্ধার
                                  

নড়িয়া (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ওএমএস`র ১০ টাকা কেজি দরের ৫০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) দুপুরের দিকে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারের মোহনা বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যালয় থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায় ওই কার্যালয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি করতেন চালের ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম সরদার। স্ত্রীর নামে ডিলারশীপ শহিদুল ইসলাম সরদার নিজেই পরিচালনা করতেন এবং তিনি সমিতির লোকজনকে ম্যানেজ করে সমিতির কার্যালয় থেকেই চাল বিক্রি করতেন।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ টাকা দরে ন্যায্যমূল্যে গরীবদের মাঝে বিক্রির জন্য সরকার এ চালগুলো বিশেষ বরাদ্ধ দিয়েছিলেন। যা গত ২০২০ সালের জুন মাসের আগেই বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, ওই সময় কার্ডধারীদের না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য চালগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ জানুয়ারী) রাত ৮টার দিকে সমিতির ওই কার্যালয়ে করোনাকালীন সময়ের সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের চাল রয়েছে জানতে পেরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর ও ব্যবস্থা নিতে বলেন। নির্দেশ পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সমিতির ওই কার্যালয়ের লোকজন ডেকে তালা খুলে ওএমএস`র প্রায় ৫০ বস্তা চাল দেখতে পান। যা করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় গরীবদের জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্ধ দিয়েছিলেন। নড়িয়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারে গিয়ে একটি সমিতির কার্যালয়ের ভিতর করোনাকালীন সময়ে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ওএমএস`র প্রায় ৫০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। যা ছয়মাস পূর্বেই বিক্রির কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। চালগুলো প্রায় নষ্টের পথে। আমরা রাতেই ওই কার্যালয়টি সীলগালা করে দিয়ে এসেছিলাম। দুপুরের দিকে চালগুলো জব্ধ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম সরদার বলেন, চালের মান খারাপ হওয়ায় ওই সময় কার্ডধারীরা চাল নিতে আসেননি। বিষয়টি আমি পৌরসভা মেয়রকে জানিয়েছি। তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে বলেননি। তাই চালগুলো ওখানেই রয়ে গেছে। উপজেলা বির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তানভীর আল নাসিফ বলেন, বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পওয়ায় রাতেই ওই কার্যালয়টি সীলগালা করে দেই। আজকে দুপুরের দিকে চালগুলো জব্ধ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।`

রাঙামাটিতে ব্রীজ ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ৩
                                  

রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙামাটির কুতুকছড়িতে বেইলী ব্রীজ ভেঙ্গে গিয়ে পাথর বোঝাই ট্রাক পানিতে পড়ে চালকসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। রাঙামাটি-মহালছড়ি সড়কে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামের মগাছড়ি থেকে পাথর বোঝাই ট্রাকটি খাগড়াছড়ির মাহালছড়ি যাওয়ার পথে কুতুকছড়ি বাজার সংলগ্ন বেইলী ব্রিজে ওঠলে হঠাৎ ব্রীজটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে ট্রাক চালক মো. আরাফাত (৪৫) সহ ঘটনাস্থলেই ৩জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও মাহালছড়ি সড়ক যোগযোগ বন্ধ রয়েছে।
বেইলী ব্রীজ ভেঙ্গে ট্রাক নদীতে পড়ে ৩জনের মৃত্যুর খবরে তাৎক্ষনিকভাবে উদ্ধার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন জানান, সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চট্ট (মেট্টে) শ-১১-৩৪ ৩৮ নাম্বারের ট্রাকটি মাহালছড়ি থেকে পাথর নিয়ে যাওয়ার পথে কুতুকছড়ি বেইলী ব্রীজ ভেঙ্গে ঘটনাস্থলেই চালকসহ তিন জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত ৩ জনের মধ্যে ২জনের নাম এখনো জানাযায়নি।

ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আদালতের ২ জারিকারক নিহত
                                  

গণমুক্তি রিপোর্ট : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় একটি মোটরসাইকেল রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জেলা জজ আদালতের জারিকারক রুহুল আমিন ও আব্দুস সোবহানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনই সদর উপজেলার আকচা ও দেওগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা সরকারি কাজে পীরগঞ্জ গিয়েছিলেন। পীরগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার এস এম মুক্তারুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস সকালে পীরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই একটি মোটরসাইকেল রেল ক্রসিং পার হতে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রেনটির সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন মুক্তারুল ইসলাম।

শাহজাদপুরে ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়
                                  

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাপুর উপজেলার কৃষকের হৃদয় খুঁড়ে ক্ষত সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ করতে পছন্দ করেন প্রভাবশালী মাটি দস্যুরা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন আবাদি জমি এবং করতোয়া সেতুর উত্তর পাশে করতোয়া নদীর তীর সংলগ্ন কৃষি জমি খুঁড়ে পুকুর বানিয়ে মাটি বিক্রির হিড়িক চলছে। কোন রকম আইনের তোয়াক্কা না করে ইট তৈরির কাচামাল হিসেবে ভাটার জন্য ইচ্ছা মতো নদী ও আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রশাসনের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই একটি প্রভাশালী চক্র। গাড়াদহ করতোয়া নদী ও আবাদি জমির মাটি গভীর করে ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। এক্সেভেটর যন্ত্র (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় পার্শ্ববর্তী আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বেশ কিছু চাষি পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী জমির চাষিরা জানান, ‘যেভাবে মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর বানানো হচ্ছে, তাতে করে আমাদের একমাত্র অবলম্বন আবাদি জমি ধসে নদী হয়ে যাবে। চাষ উপযোগী জমি আর আমাদের থাকবেনা। এতে আমরা সব হারিয়ে পথে বসে যাব।’ মাটি উত্তোলনকারীরা ব্যাপক প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হওয়ায় পার্শ্ববর্তী আবাদি জমির মালিকরা বারবার নিষেধ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, শাহজাদপুরের গাড়াদহ ইউনিয়নের ভাটা মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালি মাটিদস্যুদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে আসছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ভয় দেখিয়ে কৃষকদের জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে পুরোদমে মাটি কেটে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এতে পার্শ্ববর্তী শত শত বিঘা আবাদি জমির ফসল নষ্টসহ বিভিন্ন ফলদ বাগান বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। অপরদিকে প্রতিদিন ১০০-১২০টি মাটিভর্তি ট্রাক মাঠে আসা-যাওয়ার ফলে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশা।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ হোসেন জানান, ‘আবাদি জমি থেকে যেন টপ সয়েল লুট না হয়ে যায় সেজন্য সাধারণ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। অপরদিকে ভাটার মালিকরা দিনের বেলায় সাধারণত বন্ধ রাখলেও গভীর রাতে একটি চক্র মাটি কেটে নিচ্ছে বলেও খবর পেয়েছি। তবে অচিরেই এদের দৌরাত্ম থামাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুতের সুবিধা নেই কালেঞ্জী পুঞ্জি গ্রামে!
                                  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জকে শতভাগ বিদ্যুতায়ীত ঘোষণার পরও বিদ্যুৎহীন কালেঞ্জী গ্রাম। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী গণ ভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে এখনও শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসেনি কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রাম। গ্রামটি বিদ্যুতায়িত না হওয়ায় প্রায় দেড়শত পরিবার বিদ্যুতের সাহায্যে প্রাপ্ত আধুনিক সুবিধা হতে বঞ্চিত।
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করেছে। অথচ এই দু’টি গ্রাম এখনও শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ টি পরিবারের সদস্যরা দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত।কিন্তু বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না। পুঞ্জির নারী পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ হতে পানি সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করে আসছেন। বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেতো। খাসিয়া সদস্যদের আয়ের প্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান চাষ।তাদের খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল তথা যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ’ ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসতঘর। খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের প্রায় ছয়শত লোকের বাস। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবুর চাষ।পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় পাঁচশতাধিক লোকের বসবাস আছে।তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতর ছোঁয়া পৌঁছায়নি এই গ্রামে।যোগাযোগ ব্যাবস্হার ও রয়েছে করুন দশা। খারাপ যাতায়াত ব্যাবস্থার কারণে কালেঞ্জি পুঞ্জি র খাসিয়া সম্প্রদায় ও গ্রামের লোকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আদমপুর বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী সংরক্ষিত বনের মাঝে কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও পুঞ্জি ঘেষা কালেঞ্জি গ্রাম।পুঞ্জি প্রধান হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, আমাদের পুঞ্জির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রায় ২`শ ছাত্রছাত্রী বেশিরভাগ সময়ে পায়ে হেটে ১০ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে স্কুল কলেজে যেতে হয়। যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলো দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী আদমপুর বাজারে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, একই উপজেলার সংরক্ষিত বনের পাত্রখোলা,মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ কমলগঞ্জের পাত্রখোলায় বনের মধ্যে খাসিয়া পুঞ্জি ও গারো টিলায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ১৫০টি পরিবারকে বিদ্যুতায়নের আওতায় এনেছেন। অথচ বন বিভাগ অযৌক্তিভাবে আপত্তি দিয়ে কালেঞ্জী পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন,পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য খুটি এনে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ করতে পারেনি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রাম। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তিনি কমলগঞ্জে নতুন যোগদান করেছেন। তবে অফিস রেকর্ড দেখে জেনেছেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি।
কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন তাদের আপত্তির কথা স্বীকার করে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে নিষেধ আছে। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করণে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামের কথা ভেবে বনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কিভাবে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে জরিপ কাজ করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামের বিদ্যুতায়নের বিষয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসূতী সেবা
                                  

মো. নজরুল ইসলাম দিপু, লক্ষ্মীপুর : জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করাকে লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুরে কাজ করে যাচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। আর এ কাজে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করছে বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলি। সাধারণ মানুষজনও পাচ্ছে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে একসময় গ্রামীন দরিদ্র জনগোষ্ঠী সঠিক স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। কুসংস্কার আর হাতুড়ে ডাক্তার ও অধিক খরচের ভয়ে নিশ্চিত হতোনা স্বাস্থ্য সেবা। সামর্থবানরা উন্নত হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতো। কিন্তু দরিদ্র প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষজন নিরাপদ মাতৃত্বসেবা ও শিশু সেবা থেকে বঞ্চিত হতো। ইউনিয়ন পর্যায়ে অভিজ্ঞ পরিদর্শিকা না থাকা ও সেবা না পাওয়ায় মানুষজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভীড় করতো। এতে করে জনগণের ভোগান্তিও বাড়তো। কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের মতই রোগী সেবা নিশ্চিত করেছে পরিবার কল্যান বিভাগ।
জানা যায়, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন প্রসূতী মায়ের হাতের কাছেই ২৪ ঘন্টা মাতৃত্ব সেবা ও প্রসব পরবর্তী শিশু সেবা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। তার প্রচেষ্টা ও কর্ম পদ্ধতিতে এই কার্যক্রমের সূফলও পেতে শুরু করেছে মানুষজন। এরই মধ্যে জেলার প্রায় সব ইউনিয়ন সেন্টারেই মানুষজন নিরাপদ মাতৃত্ব ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করছে। হাতের কাছেই সেবা পাওয়ায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় এইসব সেন্টারে মাসে ৪/৫টি ডেলিভারী হলেও এখন শতাধিক ডেলিভারী করানো হয়। এতে মানুষের সময় ও টাকা অপচয় রোধ হয়। সরেজমিনে জানা যায, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দিঘলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমলনগর ইউনিয়নের হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, রামগতি উপজেলার চরআলগী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র শতভাগ নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা ও শিশু সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এতে করে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় অভাবনীয় সাফল্য বয়ে এনেছে। করোনা কালীন সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা করে আসছেন তারা। ২৪ ঘন্টা মাতৃত্ব সেবা ও দিনব্যাপী সাধারণ রোগীদের সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছে এসব কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকারা। এছাড়াও এসব কেন্দ্রে সেকমোগণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচেছন। এতে করে স্বাধীন বাংলাদেশের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতও হচ্ছে। করোনার ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য সেবা নিতে কম আসার পরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মায়ের নিরাপদ ডেলিভারী নিশ্চিত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে।
কেরোয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা মিসেস সুফিয়া আক্তার বলেন, গত ৬ মাসে তার সেন্টারে ৬৬৬ জনের ডেলিভারী হয়েছে। এছাড়াও প্রসব পূর্ব ১০৮৩জন, প্রসব পরবর্তি ৭৪৪জন, স্থায়ী ও অস্থায়ী ধরণের জন্মবিরতিকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি ২৫০জন, সাধারণ রোগী ১৫০০জন, শিশু ৮০০জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কিশোরী ও মায়েদের বিভিন্ন ধরণের সেবা দেওয়া হয়েছে। এই সেন্টারে সেকমো না থাকায় রোগী সেবায় কষ্ট বেশি করতে হয় বলেও জানান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের ইউনিয়নে এই সেন্টারটি হওয়ার পরেও অনেক রোগী হয়। সঠিক ও নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার কারণেই পাশ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকার পরেও এখানে রোগী বেশি হয় বলেও জানান তিনি। চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা মিসেস সুলতানা রাজিয়া বলেন, মহামারী করোনার মধ্যেও তার সেন্টারে ৪৭০ জনের ডেলিভারী হয়েছে। এছাড়াও স্থায়ী ও অস্থায়ী ধরণের জন্মবিরতিকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি ৬০জন (করোনায় ক্যাম্প বন্ধ), সাধারণ ও শিশু রোগী ৩০০০জন ও অন্যান্য ৭০জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কিশোরী ও মায়েদের বিভিন্ন ধরণের সেবা দেওয়া হয়েছে। প্রসূতীদের প্রসব পূর্ব ও পরবর্তি সেবা ছাড়াও শিশু কিশোর, সাধারণ অসংখ্য রোগীদের সেবা দেওয়া হয়।
হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা মৃত্তিকা দাস সাথী বলেন, গত ৬ মাসে তার এই সেন্টারে ২৪১ জনের ডেলিভারী হয়েছে। এছাড়াও প্রসব পূর্ব ১১৩৯জন, প্রসব পরবর্তি ৫৭০জন, স্থায়ী ও অস্থায়ী ধরণের জন্মবিরতিকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি ৩০০জন, সাধারণ রোগী ২০৬৬জন, শিশু ৩৪৮জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। প্রসূতীদের প্রসব পূর্ব ও পরবর্তি সেবা ছাড়াও শিশু কিশোরী, সাধারণ অসংখ্য রোগীদের সেবা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, আমি চাই লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি মা ও শিশু তার হাতের নাগালে সেবা পাক। তার নিজের ইউনিয়নেই সম্পূর্ণ মাতৃত্ব সেবা পায়। ২৪ ঘন্টাই ডেলিভারী সেবা পায়। সেই সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন এই কাজে সফল। আশা করি পুরো জেলা এই মুজিববর্ষেই নিরাপদ পরিকল্পনা সেবা ও প্রসূতী মায়ের সেবা যাতে পায় না নিশ্চিত হবে। জনবলের অভাবে আমরা দ্রুত কিছু করতে পারছিনা। তবে অচীরেই লক্ষ্মীপুরের মানুষজন হাতের কাছেই তাদের স্বাস্থ্য সেবা পাবে সে লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ কাজ করছে।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে কেউ গৃহহীন ও ভুমিহীন থাকবেনা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান এমপি বলেছেন মুজিব বর্ষ এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা বাংলাদেশের কেউ গৃহহীন এবং ভুমিহীন থাকবেনা। সেই লক্ষ্যে সারাদেশে সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ৯ লক্ষ বাড়ি নির্মান করে গৃহহীন পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার কারন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য এদেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কেউ ঠিকানাহীন থাকবে না। বৃহষ্পতিবার বিকালে নওগাঁ জেলা ত্রান গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র নির্মান কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ মোহসীন, নওগাঁ’র জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশীদসহ ত্রান মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় ত্রান বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন দেশে বিভিন্ন দুর্যোগ মুহুর্তে জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে দ্রুত ত্রান সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার জন্য মোট ৬৬টি এ ধরনের গুদাম কাম তথ্য কেন্দ্র নির্মান করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে নওগাঁয় এই ত্রান গুদাম কাম তথ্য কেন্দ্রটি নির্মানের কার্যক্রম হাতে নেয়া হলো। তিনি বলেন জেলা পর্যায়ের এসব গুদামে ত্রান সামগ্রী মজুদ থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই জেলার সকল উপজেলায় জরুরী ত্রান সহায়তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন এই লক্ষ্যে একই প্রকল্পের আওতায় আরও ৫শ’টি উপজেলায় এমন ত্রান গুদাম কাম তথ্য কেন্দ্র নির্মানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। শীঘ্রই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এবং এর অধিনস্থ সকল দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুযোগ্য দায়িত্বশীলতার কারনে এই মন্ত্রনালয় একটি সক্ষম মন্ত্রনালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সেই কারনে দুর্যোগ মেকাবেলা ও যোগাযোগ সচল রাখতে ৩শ কোটি টাকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা দৃষ্টান্তমুলক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহিত ৪২ নং প্যাকেজের আওতায় জেলা ত্রান গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মান শীর্ষক এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৯২ টাকা।

কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ
                                  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন গ্রামবাসী। এটি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের ইউনিয়নের বড়চেগ উজান বিল। এখানে ১০০ পরিবারের জমি রয়েছে। কিছু পরিবার বসতঘর নির্মাণ করে বাস করছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এখানে গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন মক্তব ও মসজিদ।কিছু পরিবার শুধু যাতায়াতের রাস্তার সমস্যার কারণে গ্রামটিতে বসতঘর নির্মাণ করতে পারছেন না। গত কয়েক দিন ধরে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামটিতে যাতায়াতের জন্য কাঁচা রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আমীর আলী, তৈয়ব আলী, আইয়ূব আলী হোসেন ও খাদেমুল হোসেনের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা শমশেরনগর পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশ থেকে বড়চেগ উজান বিল গ্রামে যাতায়াতের জন্য ১ কি.মি রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন। এলাকার আমীর আলী নামে একজন জানান, এ গ্রামে মানুষ বসবাসের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ করে আসছেন। পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশ থেকে গ্রামের ভিতর একটি সরু কাঁচা রাস্তা গেছে। গ্রামেটিতে মসজিদুলকুবা নামে একটি মসজিদ ও আরবি পড়ার জন্য একটি মক্তবও স্থাপিত হয়েছে। রাস্তাটি সরু ও কাঁচা থাকায় সহজে কোন প্রকার যানবাহন ঢুকতে পারে না। এখানে জমি থাকলেও যাতায়াতের রাস্তার অসুবিধার কারনে অনেক পরিবার বসতঘর নির্মাণ করছেন না। সবাই বসতঘর নির্মাণ করে এখানে বসবাস করলে আসলেই এ গ্রামটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামে রুপ পাবে। জানা যায়,বড়চেগ উজান বিল গ্রামের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য এক বছর পূর্বে ১০০ পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা পাননি তারা। অবশেষে পেট্রোল পাম্পের পূর্ব দিকে শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কের কাছে অবস্হিত বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম খানের পরামর্শ ও উৎসাহে নিজেরা কুদাল, টুকরি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ১ কি.মি. রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু করেছেন। এ রাস্তার সম্মুখের দিকে কিছুটা অংশ পাকা করা হবে। রাস্তার কোন অংশ ১০ ফুট প্রস্থ্ আবার কোন অংশ ১২ফুট প্রস্থ রয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে আসলে শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদের বড় ভাই হাজী আকমল আলী ও ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ রাস্তার কাজ পরিদর্শনে যান।এসময় তারা এ কাজে সহায়তা দানের আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানাযায়। গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন, এ গ্রামের জমির মালিক সবাই বসতবাড়ি নির্মাণ করে নিলে এটি একটি আদর্শ গ্রাম হবে। তাছাড়া গ্রামের সামনেই শমশেরনগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল প্রধান সড়ক। উত্তর ও পূর্ব দিকে চা বাগানের সবুজ প্রান্তর। এবিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সহকারি প্রকৌশলী মামুন ভূঁইয়া বলেন, বড়চেগ উজান বিল গ্রামের রাস্তা নির্মাণের জন্য কোন আবেদন তাদের কাছে নেই। তাই আপাতত গ্রামটির রাস্তা উন্নয়নের কোন পরিকল্পনাও নেই।

শ্রীপুরের বহেরারচালায় বিদ্যুতের আলোয় পথ চলেন গ্রামবাসী
                                  

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা এলাকার লোকজন এখন রাতের আঁধারে বিদ্যুতের আলোতে পথ চলেন। ওই এলাকার আশপাশের লোকজনও রাতে ওই আলোতে যাতায়ত করছেন। শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বহেরারচালা গ্রামটি পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত। ওই গ্রামের আশপাশে মাওনা ইউনিয়ন ও গাজীপুর সদর উপজেলা। ঐতিহ্যবাহী লবলং খাল এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। পৌরসভা গঠনের পর থেকে ক্রমাগতভাবে ওই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, সড়ক আলোকিত করার জন্য শ্রীপুর পৌরসভা থেকে সড়ক বাতির প্রকল্প চালু করা হয়। পৌরসভার অভ্যন্তরীণ বাজার এবং সড়কগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সরকারের ছেলে মনোয়ার সরকার বলেন, কড়ইতলা বাজার থেকে ২ নং সিএন্ডবি রাস্তায় ২ বছর আগেও রাতের অন্ধকারে পথ চলতে হতো। গত ২ বছর যাবত রাতের আঁধারে তারা বিদ্যুতের আলোতে পথ চলেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. হালিম উদ্দিন বলেন, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সড়কবাতি সংযোজন করায় চোরের উপদ্রব ও মন্দ লোকের আনাগোণা কমেছে। আব্দুল বাতেন ফকির বলেন, কড়ইতলা মোড় থেকে বিলাইঘাটা সড়কে আমিনুল ইসলামের বাড়ী পর্যন্ত সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। আগে এ সড়কে তৈরী পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকেরা অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। তারা উত্যক্তসহ নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হতো। সাধারণ লোকজন ছিনতাইয়ের শিকার হতো। কিন্ত্র বর্তমানে রাতের আঁধার নামলেও ওই সড়ক সারারাত আলোকিত থাকে। টি ডিজাইন কারখানার নারী শ্রমিক হোসেনে আরা বলেন, শিফিটিং ডিউটি থাকলে বিশেষ করে রাতে কাজে যেতে হয়। ফলে অন্ধকার ও গুমোট পরিবেশ আমাদেরকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। বছল দু’য়েক যাবত সড়কবাতির কাণে সড়কগুলো রাতের আঁধারে আলোকিত থাকে। এতে রাতে কারখানায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা অনেকটাই কমেছে। শ্রীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র ও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের সকল সড়কগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ইতোমধ্যে সড়কবাতি স্থঅপন করা হয়েছে। নাগরিকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে অন্যান্য সড়কগুলো সড়কবাতি প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র অনিছুর রহমান বলেন, সড়কবাতি প্রকল্পের কাজটি গত কয়েক বছর যাবত চালু হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এ প্রকল্প চালু করা হয়। পর্যায়ক্রমে পুরো পৌরসভাকে রাতের আঁধার ছাপিয়ে আলোকিত করা হবে।


   Page 1 of 951
     সারা বাংলা
কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে
.............................................................................................
গোসাইরহাটে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার ঘর পেলেন গৃহহীন ৪৮টি পরিবার
.............................................................................................
৬৯৯টি ভূমিহীন পরিবার ২ শতাংশ জায়গাসহ ঘর পেলো শরীয়তপুরে
.............................................................................................
ভাঙ্গন আতঙ্কে তিন উপজেলার মানুষ
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত ৬০ পণ্য বিশ্ববাজারে
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে মোট আক্রান্ত ৩৪২৫ সুস্থ ৩৩৩৭ জন
.............................................................................................
পাহাড়বাসীর দুর্ভোগ : বিকল্প সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনী
.............................................................................................
শরীয়তপুরে কাউন্সিলরের জিম্মায় থাকা ৫০ বস্তা ওএমএস`র চাল উদ্ধার
.............................................................................................
রাঙামাটিতে ব্রীজ ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ৩
.............................................................................................
ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আদালতের ২ জারিকারক নিহত
.............................................................................................
শাহজাদপুরে ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়
.............................................................................................
বিদ্যুতের সুবিধা নেই কালেঞ্জী পুঞ্জি গ্রামে!
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসূতী সেবা
.............................................................................................
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে কেউ গৃহহীন ও ভুমিহীন থাকবেনা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ
.............................................................................................
শ্রীপুরের বহেরারচালায় বিদ্যুতের আলোয় পথ চলেন গ্রামবাসী
.............................................................................................
রাঙামাটিতে বাড়ছে শীত জনিত রোগ
.............................................................................................
রামগতির ১৮৫ গৃহহীন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ
.............................................................................................
বিআইডব্লিউটির ফ্লোটিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ‘পাতানো’ নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান
.............................................................................................
আজও দিশেহারা ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো!
.............................................................................................
দিনাজপুর সংগীত শিল্পী কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভা ও সংগীত পরিবেশন
.............................................................................................
দাগনভূঞায় অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীনদের মানবেতর জীবন যাপন
.............................................................................................
রাণীশংকৈলে বধ্যভূমি ৪৯ বছর বেদখল
.............................................................................................
ফুলবাড়ীতে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে অস্থির চালের বাজার
.............................................................................................
শেখ হাসিনার কাছেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নিরাপদ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
.............................................................................................
‘বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শ, বঙ্গবন্ধু মানেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’: লক্ষ্মীপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ১১ ঘন্টা পর ফেরি স্বাভাবিক
.............................................................................................
রাতের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ব্যানার খুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা
.............................................................................................
গাংনীতে বাড়ছে শিশু শ্রম
.............................................................................................
কুষ্টিয়ায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
.............................................................................................
নাটোরে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন
.............................................................................................
হয়নি সীমান্ত মেলা, দেখা না করেই ফিরে গেলেন স্বজনরা
.............................................................................................
মোংলা পৌর সভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা
.............................................................................................
মরা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তালন
.............................................................................................
বাগেরহাটে শিশু হত্যা মামলায় তিন আসামীর যাবজ্জীবন
.............................................................................................
টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খালে, নিহত ৪
.............................................................................................
ঝুঁকি নিয়ে চলাচল : গাংনীতে কালভার্টে বাঁশের ঠেকনা
.............................................................................................
শাহজাদপুরে মেসার্স তৃপ্তি জর্দ্দাকে নকল করে জর্দ্দা তৈরীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে সেই বিলকিসের অবৈধ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ
.............................................................................................
বাজার মূল্য ভাল পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
বীরগঞ্জে কমতে শুরু করেছে শাক-সবজির দাম
.............................................................................................
তনু হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর
.............................................................................................
রাঙ্গামাটিতে দুঃস্থ নারীদের মাঝে ৪৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ
.............................................................................................
ভোলার ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে চরফ্যাশনের ঢালচর
.............................................................................................
সিরাজগঞ্জ সংসদ উপ-নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে ডিসি-আনসার মির্জা সিফাত-ই-খোদা
.............................................................................................
নন্দীগ্রামে নানা আয়োজনে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
কুমারখালীতে সমবায় দিবস পালিত
.............................................................................................
স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
.............................................................................................
শাহজাদপুরের বেলতৈল ইউনিয়নে মহানবী ( সাঃ) এর ব্যঙ্গ চিত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop