ঢাকা,শনিবার,৯ মাঘ ১৪২৭,২৩,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ১১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্রশস্য মজুদ রয়েছে সংসদে জানালেন খাদ্যমন্ত্রী   > কুড়িগ্রামে কম্বল বিতরণ   > থামছেই না টাঙ্গুয়ায় পাখি শিকার   > মুজিববর্ষে ঘর পাচ্ছে নওগাঁর ১১০ পরিবার   > লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত ৬০ পণ্য বিশ্ববাজারে   > ‘নির্ধারিত সময়েই হবে অলিম্পিক’   > অপেক্ষায় ঐশী   > জাতীয় সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি   > ৪২ হাজার রোহিঙ্গা শনাক্ত মিয়ানমারের এপ্রিলে প্রত্যাবাসনের আশা   > রাজউকে প্রভাবশালি শফিউল্লাহ বাবু নকল, জাল-জালিয়াতির প্রধান কারিগর  

   রাজধানী -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রাজউকে প্রভাবশালি শফিউল্লাহ বাবু নকল, জাল-জালিয়াতির প্রধান কারিগর

স্টাফ রিপোর্টার : অভাবের সংসারে পিতৃমাতৃহীন এতিম, বড় হয়েছেন এতিম খানায়। টেনেটুনে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। এরপর নিজ এলাকার সরকারদলীয় প্রভাবশালী এক নেতার হাত ধরে ঢাকায় আগমন। ওই নেতাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (রাজউক) একটা চাকরি যোগাড় করে দিলেন। ব্যস, ঘুরে গেলো ভাগ্যচাকা। রাজউকের চাকরি নয়, যেন আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ হাতে পেলেন। ওই চেরাগ ঘষে ঘষেই এখন স্থাবর-অস্থাবর সবকিছু মিলিয়ে শতকোটি টাকার মালিক তিনি। হ্যাঁ, ভাগ্যবান ওই ব্যাক্তির নাম মো. শফিউল্লাহ বাবু ওরফে সল্টু বাবু। জানা গেছে, রাজউকে বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নকল করে নকশা জালিয়াতির যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই শফিউল্লাহ বাবুর কাজ। খুব সহজেই যে কোন ব্যাক্তির স্বাক্ষর হুবহু নকল করতে পারেন বাবু। রাজউকের অধিকাংশ কর্মকর্তার নাম ও পদবী সম্বলিত সিল-কলম থাকে বাবুর কাছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়িত করার পাশাপাশি জাল-জালিয়াতিতে সিদ্ধহস্ত শফিউল্লাহ বাবুকে সহকর্মীরা তাই আদর করে নাম দিয়েছেন সল্টু বাবু। সম্প্রতি শফিউল্লাহ বাবুর জাল-জালিয়াতি প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। ওই অভিযোগ এবং সরেজমিন তদন্ত করে শফিউল্লাহ বাবু সম্পর্কে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তা রীতিমত অবাক হওয়ার মতো! কে এই বাবু? সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামের হতদরিদ্র পিতা (মৃত) জসমত উল্লাহ ও মাতা (মৃত) আছিয়া খাতুনের ছেলে শফিউল্লাহ বাবু। একদিকে পিতৃমাতৃহীন তারওপর অভাবের সংশার। তাই শফিউল্লাহ বাবুর শৈশব কেটেছে এতিমখানায়। ওখানে থেকেই পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। অথচ তার বর্তমান বিলাসবহুল জীবনের গল্প খুবই চমকপ্রদ। ২০০১ সালের ৯ জুলাই মাত্র ১৮৭৫ টাকা বেতনে রাজউকে কার্য তদারককারী (মান-১) পদে চাকুরিতে যোগদান করেন মো. শফিউল্লাহ বাবু। বর্তমানে তিনি রাজউক জোন-৬ এর রেখাকার (নিয়মিত)। বেতন (গ্রেড-১৭) ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮শ টাকা। রাজউকে যোগদানের পর গত ১৮ বছরে শতকোটি টাকার মালিক বাবু! এইচএসসি পাস করা শফিউল্লাহ বাবুর বর্তমান স্থাবর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশী। বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাটসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন তিনি। দেহরক্ষী, ড্রাইভার, পিয়নসহ অর্ধশতাধিক বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছে বাবুর। বাবুর যত সম্পদ : শুধুমাত্র রাজধানীর মিরপুরেই গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাটসহ শফিউল্লাহ বাবুর কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জেও করেছেন সম্পদের পাহাড়। অপসরা হোমস লিমিটেড নামে বাবুর একটি ডেভলপার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ আগষ্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানী কর্তৃক নিবন্ধিত (রেজি. নং-৯৫০৫৩) অপসরা হোমস লিমিটেড এর ব্যাবসায়িক পার্টনার মোট চারজন। অত্যন্ত চালাক বাবু সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকে স্ত্রী, শশুর ও ভাইয়ের নামে লিমিটেড কোম্পানী খুলেছেন। অপসরা হোমস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কুলসুমী আক্তার লিজা বাবুর স্ত্রী। কোম্পানীর চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির হচ্ছেন বাবুর শশুর। পরিচালক হাসনাত উল্লাহ দিপু বাবুর আপন ভাই এবং অপর পরিচালকের নাম সাজিদুর রহমান। ২০১১ সালে কোম্পানীর প্রাক মূলধন উল্লেখ ছিল ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে যা বেড়ে শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অদ্যাবধি অপসরা হোমস লিমিটেড এর পক্ষ হতে কোন রিটার্ন দাখিল করা হয় নাই।
অপসরা হোমস লিমিটেড এর চলমান প্রকল্পের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে অব¯ি’ত ৩৪৮/২, মধ্যপীরেরবাগে অপসরা সালমা গার্ডেন এর ৫তলার ছাদ ঢালাই শেষ। ৩৪০/১/বি, মধ্যপীরেরবাগ পাকা মসজিদ এলাকায় ৫ কাঠার প্লটে প্রস্তাবিত অপসরা রাজ্জাক গার্ডেন। ২৭৯/১/সি, মধ্যপীরেরবাগে অপসরা সায়েম হোমস এর ৯তলা ভবনের সবকটি ফ্লোর হস্তান্তর শেষ। ৫৩০/১, পশ্চিম শেওড়াপাড়া মিরপুর ঢাকায় অপসরা পান্থশালা নামে ৯ তলা একটি ভবন। ৯৩, মধ্যপীরেরবাগে ১০ তলা ভবনের ৩য় তলায় নিজস্ব ফ্ল্যাট। ৯৫/এ, মধ্যপীরেরবাগে ৫ কাঠা জমিতে (দলিল নং-৯৩৭২) ১০ তলা ভবনের ডেকোরেশনের কাজ চলছে। একই এলাকাতে নিজের নামে আরো একটি ৭ তলা বাড়ি রয়েছে। মিরপুরে ৬০ ফুট রাস্তার পাশে ৫ তলা ভবনসহ দেড় কোটি টাকার জায়গা তিন কোটি টাকায় কিনে অপসরা হোমস লিমিটেড এর অফিস বানিয়েছেন শফিউল্লাহ বাবু। এছাড়াও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল, উত্তরা ও ঝিলমিল প্রকল্পে নামে-বেনামে ৫,৭ ও ১০ কাঠার প্লট রয়েছে তার। একাধিক গাড়িতে চলাফেরা করেন বাবু যার একটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২০-৩০২০।
বাবুর বিদেশ ভ্রমণ : রাজউকের সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী হয়েও ব্যবসায়ী পরিচয়ে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ৮ বছরে দু’টি পাসপোর্ট (নং-অই৪২২০২৭৮ এবং ইখ০০২৯৩২৪) ব্যবহার করে কখনো একা আবার কখনো পরিবারসহ মোট ১৬ বার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন মো. শফিউল্লাহ বাবু। এর মধ্যে থাইল্যান্ড ৮বার, সিঙ্গাপুর ২বার, মালয়েশিয়া ৪বার এবং ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও দুবাই ভ্রমণ করেছেন একবার করে। ১৬ বার বিদেশ ভ্রমণে গেলেও কর্মচারি কোটায় মাত্র একবার ৫ দিনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমনে রাজউকের অনুমতি পান বাবু। গত ২৭ মার্চ ২০১৯ইং তারিখে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে শফিউল্লাহ বাবুকে ১ এপ্রিল ২০১৯ইং থেকে ৫ এপ্রিল ২০১৯ইং পর্যন্ত মাত্র ৫দিনের জন্য আরব-আমিরাত ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করা হয়। সরকারের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৬ বার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে ব্যাপক কানাঘুষা আছে রাজউকে। মজার বিষয় হচ্ছে- বিদেশে অবস্থানকালেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর থাকতো বাবুর।
নকশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির হোতা : অপসরা হোমস লিমিটেড এর বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবসায়িক, রাজনীতিক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ প্রশাসনের বড় কর্তাদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন শফিউল্লাহ বাবু। যে কারনে খুব সহজেই ঐসব পেশার বিভিন্ন ব্যাক্তির সাথে বাবুর সখ্য গড়ে ওঠে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের কিছু সাংবাদিক ও নেতার সাথে ভাই-বন্ধু সম্পর্ক বাবুর। বাজারদরের চাইতে কম মূল্যে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিস্তি সুবিধার বিনিময়ে ফ্ল্যাট দিয়ে ঐসকল সাংবাদিক বন্ধুকে বিভিন্ন সময় বিভন্ন কাজে ব্যবহার করেন বাবু। যে কারণে সামান্য বেতনের কর্মচারী শফিউল্লাহ বাবুর দাপটে তটস্থ থাকে রাজউকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৈধ-অবৈধ যেকোন আবদারে যখন তখন কর্মকর্তাদের রুমে প্রবেশ করেন বাবু। ফাইল সই না করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকী-ধমকি, ভয়ভীতি এবং গায়ে হাত তোলাসহ বিভন্ন পত্র-পত্রিকায় উল্টাপাল্টা নিউজ করান তিনি। বাবুর এহেন কর্মকান্ডে ত্যাক্ত-বিরক্ত রাজউকের অনেকেই। শুধুমাত্র মান-সম্মানের ভয়ে সবকিছু নীরবে সহ্য করে চলেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, শফিউল্লাহ বাবু ঠিকমত অফিস করেন না। অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত তার স্বাক্ষর থাকে। মাঝে মধ্যে অফিসে আসলেও সারাক্ষণ দালালির ফাইল নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে ছোটাছুটি করেন। রাজউকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বাবুর। নিজের ডেভলপার প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ট্রপিক্যাল হোমস, সামসুল আলামিন গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপসহ বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর ছাড়পত্র ও প্ল্যান পাসের দালালি করেন তিনি। এছাড়াও নকশা জালিয়াতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর নকল করে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু অবৈধ ফাইল অনুমোদন করিয়েছেন বাবু। তার নিজ প্রতিষ্ঠান অপসরা হোমস লিমিটেড এর অধিকাংশ প্রকল্পেরই রাজউক কর্তৃক অনুমোদন নাই। যে ক’টির আছে সেখানেও ৭তলাকে ১০তলা কিংবা ৬ কে ৯ করে প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার মালিক তিনি। ভুক্তভোগীরা জানান, রাজউক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর গত মেয়াদের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করেও পরাজিত হন শফিউল্লাহ বাবু। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর কয়েক আগে ১৪ তলা একটি ভবনের নকশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় দুদক কর্তৃক গ্রেফতার হন সংশ্লিষ্ট জোনের অথরাইজড অফিসার মো. মিজানুর রহমান। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। কথিত রয়েছে- ওই জালিয়াতির সঙ্গে শফিউল্লাহ বাবুর সরাসরি সমৃক্ততা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তার টিকিটি স্পর্শ করতে পারেনি কেউ। অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিউল্লাহ বাবু বলেন, “ঢাহা মিথ্যা কথা। আমি শশুরের দেয়া একটা গাড়িতে চড়ি এবং আমার স্ত্রীকে শশুর একটি বাড়ি দিয়েছেন। আমার কোন ডেভলপার প্রতিষ্ঠান নাই। অপসোরা হোমস আমার শশুরের প্রতিষ্ঠান। আমি নামে মাত্র ওই প্রতিষ্ঠানে আছি।” তিনি আরও বলেন, রাজউকের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে উল্টা-পাল্টা কুৎসা রটাচ্ছে এসব আদৌ সত্য নয়।

রাজউকে প্রভাবশালি শফিউল্লাহ বাবু নকল, জাল-জালিয়াতির প্রধান কারিগর
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : অভাবের সংসারে পিতৃমাতৃহীন এতিম, বড় হয়েছেন এতিম খানায়। টেনেটুনে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। এরপর নিজ এলাকার সরকারদলীয় প্রভাবশালী এক নেতার হাত ধরে ঢাকায় আগমন। ওই নেতাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (রাজউক) একটা চাকরি যোগাড় করে দিলেন। ব্যস, ঘুরে গেলো ভাগ্যচাকা। রাজউকের চাকরি নয়, যেন আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ হাতে পেলেন। ওই চেরাগ ঘষে ঘষেই এখন স্থাবর-অস্থাবর সবকিছু মিলিয়ে শতকোটি টাকার মালিক তিনি। হ্যাঁ, ভাগ্যবান ওই ব্যাক্তির নাম মো. শফিউল্লাহ বাবু ওরফে সল্টু বাবু। জানা গেছে, রাজউকে বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নকল করে নকশা জালিয়াতির যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই শফিউল্লাহ বাবুর কাজ। খুব সহজেই যে কোন ব্যাক্তির স্বাক্ষর হুবহু নকল করতে পারেন বাবু। রাজউকের অধিকাংশ কর্মকর্তার নাম ও পদবী সম্বলিত সিল-কলম থাকে বাবুর কাছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়িত করার পাশাপাশি জাল-জালিয়াতিতে সিদ্ধহস্ত শফিউল্লাহ বাবুকে সহকর্মীরা তাই আদর করে নাম দিয়েছেন সল্টু বাবু। সম্প্রতি শফিউল্লাহ বাবুর জাল-জালিয়াতি প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। ওই অভিযোগ এবং সরেজমিন তদন্ত করে শফিউল্লাহ বাবু সম্পর্কে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তা রীতিমত অবাক হওয়ার মতো! কে এই বাবু? সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামের হতদরিদ্র পিতা (মৃত) জসমত উল্লাহ ও মাতা (মৃত) আছিয়া খাতুনের ছেলে শফিউল্লাহ বাবু। একদিকে পিতৃমাতৃহীন তারওপর অভাবের সংশার। তাই শফিউল্লাহ বাবুর শৈশব কেটেছে এতিমখানায়। ওখানে থেকেই পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। অথচ তার বর্তমান বিলাসবহুল জীবনের গল্প খুবই চমকপ্রদ। ২০০১ সালের ৯ জুলাই মাত্র ১৮৭৫ টাকা বেতনে রাজউকে কার্য তদারককারী (মান-১) পদে চাকুরিতে যোগদান করেন মো. শফিউল্লাহ বাবু। বর্তমানে তিনি রাজউক জোন-৬ এর রেখাকার (নিয়মিত)। বেতন (গ্রেড-১৭) ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮শ টাকা। রাজউকে যোগদানের পর গত ১৮ বছরে শতকোটি টাকার মালিক বাবু! এইচএসসি পাস করা শফিউল্লাহ বাবুর বর্তমান স্থাবর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশী। বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাটসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন তিনি। দেহরক্ষী, ড্রাইভার, পিয়নসহ অর্ধশতাধিক বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছে বাবুর। বাবুর যত সম্পদ : শুধুমাত্র রাজধানীর মিরপুরেই গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাটসহ শফিউল্লাহ বাবুর কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জেও করেছেন সম্পদের পাহাড়। অপসরা হোমস লিমিটেড নামে বাবুর একটি ডেভলপার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ আগষ্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানী কর্তৃক নিবন্ধিত (রেজি. নং-৯৫০৫৩) অপসরা হোমস লিমিটেড এর ব্যাবসায়িক পার্টনার মোট চারজন। অত্যন্ত চালাক বাবু সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকে স্ত্রী, শশুর ও ভাইয়ের নামে লিমিটেড কোম্পানী খুলেছেন। অপসরা হোমস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কুলসুমী আক্তার লিজা বাবুর স্ত্রী। কোম্পানীর চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির হচ্ছেন বাবুর শশুর। পরিচালক হাসনাত উল্লাহ দিপু বাবুর আপন ভাই এবং অপর পরিচালকের নাম সাজিদুর রহমান। ২০১১ সালে কোম্পানীর প্রাক মূলধন উল্লেখ ছিল ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে যা বেড়ে শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অদ্যাবধি অপসরা হোমস লিমিটেড এর পক্ষ হতে কোন রিটার্ন দাখিল করা হয় নাই।
অপসরা হোমস লিমিটেড এর চলমান প্রকল্পের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে অব¯ি’ত ৩৪৮/২, মধ্যপীরেরবাগে অপসরা সালমা গার্ডেন এর ৫তলার ছাদ ঢালাই শেষ। ৩৪০/১/বি, মধ্যপীরেরবাগ পাকা মসজিদ এলাকায় ৫ কাঠার প্লটে প্রস্তাবিত অপসরা রাজ্জাক গার্ডেন। ২৭৯/১/সি, মধ্যপীরেরবাগে অপসরা সায়েম হোমস এর ৯তলা ভবনের সবকটি ফ্লোর হস্তান্তর শেষ। ৫৩০/১, পশ্চিম শেওড়াপাড়া মিরপুর ঢাকায় অপসরা পান্থশালা নামে ৯ তলা একটি ভবন। ৯৩, মধ্যপীরেরবাগে ১০ তলা ভবনের ৩য় তলায় নিজস্ব ফ্ল্যাট। ৯৫/এ, মধ্যপীরেরবাগে ৫ কাঠা জমিতে (দলিল নং-৯৩৭২) ১০ তলা ভবনের ডেকোরেশনের কাজ চলছে। একই এলাকাতে নিজের নামে আরো একটি ৭ তলা বাড়ি রয়েছে। মিরপুরে ৬০ ফুট রাস্তার পাশে ৫ তলা ভবনসহ দেড় কোটি টাকার জায়গা তিন কোটি টাকায় কিনে অপসরা হোমস লিমিটেড এর অফিস বানিয়েছেন শফিউল্লাহ বাবু। এছাড়াও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল, উত্তরা ও ঝিলমিল প্রকল্পে নামে-বেনামে ৫,৭ ও ১০ কাঠার প্লট রয়েছে তার। একাধিক গাড়িতে চলাফেরা করেন বাবু যার একটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২০-৩০২০।
বাবুর বিদেশ ভ্রমণ : রাজউকের সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী হয়েও ব্যবসায়ী পরিচয়ে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ৮ বছরে দু’টি পাসপোর্ট (নং-অই৪২২০২৭৮ এবং ইখ০০২৯৩২৪) ব্যবহার করে কখনো একা আবার কখনো পরিবারসহ মোট ১৬ বার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন মো. শফিউল্লাহ বাবু। এর মধ্যে থাইল্যান্ড ৮বার, সিঙ্গাপুর ২বার, মালয়েশিয়া ৪বার এবং ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও দুবাই ভ্রমণ করেছেন একবার করে। ১৬ বার বিদেশ ভ্রমণে গেলেও কর্মচারি কোটায় মাত্র একবার ৫ দিনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমনে রাজউকের অনুমতি পান বাবু। গত ২৭ মার্চ ২০১৯ইং তারিখে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে শফিউল্লাহ বাবুকে ১ এপ্রিল ২০১৯ইং থেকে ৫ এপ্রিল ২০১৯ইং পর্যন্ত মাত্র ৫দিনের জন্য আরব-আমিরাত ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করা হয়। সরকারের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৬ বার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে ব্যাপক কানাঘুষা আছে রাজউকে। মজার বিষয় হচ্ছে- বিদেশে অবস্থানকালেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর থাকতো বাবুর।
নকশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির হোতা : অপসরা হোমস লিমিটেড এর বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবসায়িক, রাজনীতিক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ প্রশাসনের বড় কর্তাদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন শফিউল্লাহ বাবু। যে কারনে খুব সহজেই ঐসব পেশার বিভিন্ন ব্যাক্তির সাথে বাবুর সখ্য গড়ে ওঠে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের কিছু সাংবাদিক ও নেতার সাথে ভাই-বন্ধু সম্পর্ক বাবুর। বাজারদরের চাইতে কম মূল্যে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিস্তি সুবিধার বিনিময়ে ফ্ল্যাট দিয়ে ঐসকল সাংবাদিক বন্ধুকে বিভিন্ন সময় বিভন্ন কাজে ব্যবহার করেন বাবু। যে কারণে সামান্য বেতনের কর্মচারী শফিউল্লাহ বাবুর দাপটে তটস্থ থাকে রাজউকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৈধ-অবৈধ যেকোন আবদারে যখন তখন কর্মকর্তাদের রুমে প্রবেশ করেন বাবু। ফাইল সই না করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকী-ধমকি, ভয়ভীতি এবং গায়ে হাত তোলাসহ বিভন্ন পত্র-পত্রিকায় উল্টাপাল্টা নিউজ করান তিনি। বাবুর এহেন কর্মকান্ডে ত্যাক্ত-বিরক্ত রাজউকের অনেকেই। শুধুমাত্র মান-সম্মানের ভয়ে সবকিছু নীরবে সহ্য করে চলেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, শফিউল্লাহ বাবু ঠিকমত অফিস করেন না। অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত তার স্বাক্ষর থাকে। মাঝে মধ্যে অফিসে আসলেও সারাক্ষণ দালালির ফাইল নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে ছোটাছুটি করেন। রাজউকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বাবুর। নিজের ডেভলপার প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ট্রপিক্যাল হোমস, সামসুল আলামিন গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপসহ বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর ছাড়পত্র ও প্ল্যান পাসের দালালি করেন তিনি। এছাড়াও নকশা জালিয়াতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর নকল করে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু অবৈধ ফাইল অনুমোদন করিয়েছেন বাবু। তার নিজ প্রতিষ্ঠান অপসরা হোমস লিমিটেড এর অধিকাংশ প্রকল্পেরই রাজউক কর্তৃক অনুমোদন নাই। যে ক’টির আছে সেখানেও ৭তলাকে ১০তলা কিংবা ৬ কে ৯ করে প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার মালিক তিনি। ভুক্তভোগীরা জানান, রাজউক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর গত মেয়াদের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করেও পরাজিত হন শফিউল্লাহ বাবু। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর কয়েক আগে ১৪ তলা একটি ভবনের নকশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় দুদক কর্তৃক গ্রেফতার হন সংশ্লিষ্ট জোনের অথরাইজড অফিসার মো. মিজানুর রহমান। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। কথিত রয়েছে- ওই জালিয়াতির সঙ্গে শফিউল্লাহ বাবুর সরাসরি সমৃক্ততা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তার টিকিটি স্পর্শ করতে পারেনি কেউ। অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিউল্লাহ বাবু বলেন, “ঢাহা মিথ্যা কথা। আমি শশুরের দেয়া একটা গাড়িতে চড়ি এবং আমার স্ত্রীকে শশুর একটি বাড়ি দিয়েছেন। আমার কোন ডেভলপার প্রতিষ্ঠান নাই। অপসোরা হোমস আমার শশুরের প্রতিষ্ঠান। আমি নামে মাত্র ওই প্রতিষ্ঠানে আছি।” তিনি আরও বলেন, রাজউকের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে উল্টা-পাল্টা কুৎসা রটাচ্ছে এসব আদৌ সত্য নয়।

ঢাকায় বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে গৃহকর্মীর পাশবিকতা, ভিডিও ভাইরাল
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মালিবাগের একটি ফাঁকা বাসায় ভয়ঙ্কর এক গৃহকর্মীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। গৃহকর্মীর পাশবিকতা দেখে আঁতকে উঠেছেন মানুষ। বৃদ্ধা মাকে দেখভালের জন্য রাখা হয়েছিল গৃহকর্মীকে। সেই গৃহকর্মীর নির্মম নির্যাতনেই এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সেই মা। ভাইরাল হওয়া এক সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেল, ওই বৃদ্ধাকে নগ্ন করে চরম নির্যাতন চালিয়েছে সেই গৃহকর্মী। সোমবার সকাল সোয়া ১০টার ঘটনা। বছর তিনেক ধরে কিডনিসহ নানা সমস্যায় ভোগা বৃদ্ধা শুয়ে আছেন বিছানায়। পরম যত্নে তার সেবা করছেন রেখা নামের গৃহকর্মী। এরপরই দেখা গেল ভয়ঙ্কর গৃহকর্মীর কাণ্ড। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশ করে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল। এরপরই ইন্টারনেটে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে ধরতে অভিযান শুরু করা হয়। গতকাল বুধবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধার গায়ের কাপড়-চোপড় খুলে তাকে জোর করে বাথরুমে ঢোকায় রেখা। শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ঢালা হয় ঠাণ্ডা পানি। কিন্তু ভেতরে গৃহকত্রীকে আটকাতে না পেরে বেরিয়ে আসে রেখার আসল চেহারা। বৃদ্ধার লাঠি দিয়েই শুরু হয় বেদম মারধর। একের পর এক আঘাতে বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে থামেনি রেখা। করা হয় মাথায় আঘাত। একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়েই চালিয়েছে নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকের উপর চেপে বসে। বঁটি হাতেও তেড়ে আসে রেখা। একসময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বৃদ্ধা। গলা থেকে চেইন খুলে নেয় রেখা। হাতের বালাও পরেন। চাবি দিয়ে আলমারি খুলতে ব্যর্থ হন। তারপরেই অসুস্থ বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করেন আলমারি খুলে দিতে। ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল নিজের কব্জায় নেয় রেখা। সবকিছু ব্যাগে ভরে বৃদ্ধাকে বাসায় তালা মেরে দেয় রেখা। পরে বাসার গেট খুলে ব্যাগসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই ভয়ঙ্কর গৃহকর্মী। ব্যবসায়িক কাজে ছেলে ঢাকার বাইরে গেলে এই ঘটনা ঘটায় গৃহকর্মী। শাহজাহানপুর থানা পুলিশ বলছে, গৃহকর্মীদের নামে ছদ্মবেশে পেশাদার অপরাধীরা ঢুকে যাচ্ছে মানুষের বাসাবাড়িতে। নির্যাতিত বৃদ্ধার ছেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক বছর আগে মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে মেয়েটিকে বাসায় কাজে রাখা হয়েছিল। তার দায়িত্ব ছিল আমার বৃদ্ধ মাকে সেবাযত্ন করা।’ তাদের একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে মেয়েটি এসেছিল। সেখান থেকে পরিচয়ের সূত্রে তাকে বাসার কাজে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধার ছেলে।

রাজউক চেয়ারম্যানের বেপরোয়া ভাব জাতীয় সংসদ সদস্যের অভিযোগ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান মো: সাঈদ নূর আলমের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ সদস্য হোসনে আরা ৩১৬, মহিলা আসন-১৬ সদস্য (কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত) সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে দায়ের করা এই অভিযোগে সংসদ সদস্য হোসনে আরা বলেন, তার নিজের ব্যক্তিগত কাজে রাজউক চেয়ারম্যানের অফিসে গেলে তার বেপরোয়া ভাব প্রদর্শন করায় তিনি বিব্রত হয়েছেন। চেয়ারম্যান তাকে তিন ঘন্টা বাহিরে বসিয়ে রাখেন এবং পবর্তীতে এক পর্যায়ে এমপি হোসনে আরা তার রুমে গেলে তিনি (চেয়ারম্যান) তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের প্যাডে এমপি হোসনে আরা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সংসদ সদস্যের পরিচয় দেয়ার পরও, রাজউক চেয়ারম্যান যে ভাষায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যান যান বলে বের হয়ে যাবার জন্য অভদ্র আচরণ করে চলে যাবার জন্য বলতে থাকেন তাতে একজন সংসদ সদস্যের প্রতি চরম অসম্মানজনক আচরণ বলে মনে করি। তার এই আচরণ একজন সরকারী কর্মচারি হিসেবে চাকরি শৃংখলা পরিপন্থি এবং অসদাচারণের শামিল। এদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরাতে প্লট জালিয়াতি করার অভিযোগ সারা রাজউকে ব্যাপকভাবে রটেছে। ভুক্তভোগিরা জানান, কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ৮টি প্লট বরাদ্ধ প্রদান এবং বদলি বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ বেশ কিছু দিন যাবৎ চলে আসছিল। অভিযোগকারিরা জানান, তিনি পরিচালক এষ্টেট-১ নুরূল ইসলামের সহায়তায় প্লট জালিয়াতিসহ সব ধরণের বদলি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।  এসব ঘটনা রাজউকের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। সূত্র জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলমের পিআরএল এ যাওয়ার কথা রয়েছে।  তার মেয়াদ বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বদলি বাণিজ্য এবং সংসদ সদস্য হোসনে আরার অভিযোগ সম্পর্কে মতামত জানতে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।  তার এমন বেপরোয়া কর্মকান্ড নিয়ে রাজউকের ভেতর বাইরে এখন ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৫০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালে আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমাটির ওজন ২৫০ কেজি। এ নিয়ে নির্মাণাধীন এই টার্মিনাল থেকে মোট ৫টি একই ওজনের বোমা পাওয়া গেল। গতকাল বুধবার বোমাটি উদ্ধার করা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান গণমাধ্যমকে জানান, বিমান বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এখানে আরও বোমা আছে। বেশ কয়েকবার এলাকাটি স্ক্যান করা হয়, কিন্তু শনাক্ত করা যায়নি। এগুলো মাটির বেশি গভীরে থাকায় স্ক্যানারে ধরা পড়ছে না। গত ৯ ডিসেম্বর বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ চালানোর সময় সিলিন্ডার সদৃশ ২৫০ কেজি ওজনের প্রথম একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর ১৪, ১৯ ও ২৮ ডিসেম্বর আরও তিনটি একই রকমের বোমা উদ্ধার হয়। পরে সেগুলো টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের রসুলপুর বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বোমা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উদ্ধার হওয়া বোমা দুটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

শাহজালালের নির্মাণাধীন টার্মিনাল থেকে সিলিন্ডার সদৃশ বোমা উদ্ধার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালে মাটি খোঁড়ার সময় ২৩০ কেজি ওজনের সিলিন্ডার সদৃশ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে এটি উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজের পাইলিংয়ের সময় মাটির প্রায় তিন মিটার গভীর থেকে সিলিন্ডার আকৃতির বোমাটি উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর জোনের সহকারি কমিশনার খন্দকার রেজাউল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা সিলিন্ডার আকৃতির বোমাটি দেখতে পান। বিমান বাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম এসে তা উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।

ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় দিনেও উচ্ছেদ অভিযান
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৩জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এই অভিযান শুরু করে। আজকের অভিযানে পার্কিংয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানগুলো ভেঙে ফেলা হবে। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, অভিযানকে কেন্দ্র করে আজও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ফুলবাড়িয়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএসসিসি। প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানে ২৫০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বিক্ষুব্ধ দোকানিরা প্রথমে অভিযান চালাতে দেননি। পুলিশ ও করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ওপর তারা ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, অস্থায়ী দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হলো করপোরেশন চাইলে যেকোনো সময় তা উচ্ছেদ করতে পারবে। এ জন্য নিয়ম মেনেই তারা অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু দোকানিদের দাবি, তারা অস্থায়ী বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের পাশাপাশি মার্কেট কমিটির নেতাদের লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। কমিটি ও আগের মেয়রের সময় কর্মকর্তারা তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, অতিরিক্ত টাকা দিলে এসব দোকান যাতে ভাঙা না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এ উচ্ছেদ অভিযানে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে স্থানীয় দোকানিদের বাধা ও হামলার মুখে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে উচ্ছেদ শুরু করে ডিএসসিসি। এ সময় ওই এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই অভিযান শুরু করার কথা থাকলেও অভিযান শুরু করতে করতে দুপুর ২টা বেজে যায়। দুপুরে এ ব্যাপারে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির বলেন, ‘ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দোকানিরা পুলিশ ও ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়।’ ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর এই বিপণিবিতানে মোট ৯১১টি নকশাবহির্ভূত দোকান আছে। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই অভিযান চলছে। দোকানিদের অভিযোগ, এর আগে নকশাবহির্ভূত এসব দোকান বৈধ করতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। সেসবের ভাউচারও আছে তাঁদের কাছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত দোকানিরা ভাড়াও দিয়ে এসেছেন। আর এখন তাদের কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে ডিএসসিসির উপসচিব ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলছেন ভিন্ন কথা। দোকানিদের কাছে লিখিত নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবার মাইকিং করে সবাইকে জানানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এ ছাড়া তাঁরা মাইকিংয়ের আগেও বিষয়টি জানতেন।’ দোকানিদের বিক্ষোভের কারণে অভিযান শুরু করতে দেরি হয়েছে বলেও জানান ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মুনিরুজ্জামান। অভিযান ঠেকাতে সকাল থেকেই বিপণিবিতানের সামনে রাস্তায় অবস্থান নেন শত শত দোকানি ও কর্মচারী। এ সময় ‘জীবন দেব, কিন্তু রাস্তা ছাড়ব না’সহ নানা ধরনের স্লোগান দেয় দোকানিরা। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিপণিবিতানটির নকশা অনুয়ায়ী এ ব্লকে ১৭৬টি দোকান, বি ব্লকে ১৭৬টি, সি ব্লকে ১৭৯টিসহ মোট ৫৩১টি দোকান থাকার কথা। কিন্তু নকশাবহির্ভূতভাবে এ ব্লকে ৩০৮টি, বি ব্লকে ২৯২টি এবং সি ব্লকে ৩১১টি দোকান করা হয়েছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি বিপণিবিতানে নকশাবহির্ভূত ৯১১টি দোকান চিহ্নিত করে এবং সেগুলো উচ্ছেদের সুপারিশ করে।

অনুমতি ছাড়া কোন সভা সমাবেশ করা যাবে না: ডিএমপি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা সমাবেশসহ কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন সভা, সমাবেশ, গণ-জমায়েতের কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে। তাদের কর্মসূচি পালন করতে রাস্তায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় যান ও জন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যমান আইনে বৈধ কোনও দল বা গোষ্ঠীর সমাবেশের স্বাধীনতা থাকলেও বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জন-শৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের নাগরিক সুবিধা অক্ষুন্ন রাখা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে এ ধরনের কর্মসূচি পালন এবং শব্দযন্ত্র ব্যবহারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অধ্যাদেশ অনুসারে ডিএমপি কমিশনারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে একদিকে যেমন মিছিল বা সমাবেশকারী ব্যক্তিদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। অপরদিকে কোনও কোনও দল বা গোষ্ঠী বেআইনি সমাবেশ আয়োজন করে জানমালের ক্ষতি সাধনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার সুযোগ পায়। ঢাকা মহানগরীর নাগরিকদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা-সমাবেশসহ কর্মসূচির গ্রহণ এবং শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছে। অনুমতি ছাড়া কেউ এরূপ কার্যকলাপে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিআরইউ’র সভাপতি নোমানী ও সম্পাদক মশিউর নির্বাচিত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০২১ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে মুরসালিন নোমানী (বাসস) ও সাধারণ সম্পাদক পদে মশিউর রহমান খান (সমকাল) নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে মুরসালিন নোমানী পেয়েছেন ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ দুলাল পেয়েছেন ৪৪৭ ভোট। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মশিউর রহমান পেয়েছেন ৬৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৪২৬ ভোট। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে এর ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ১৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ১৩৮১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ডিআরইউর ২০২১ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, ১২টি সম্পাদকীয় ও সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্যসহ ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪১ জন। তাদের মধ্যে নারী সম্পাদক রীতা নাহার (বৈশাখী টিভি), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুর রহমান রুবেল (আরটিভি) ও কল্যাণ সম্পাদক পদে খালেদ সাইফুল্লাহ (নয়াদিগন্ত) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সহ-সভাপতি পদে ওসমান গনি বাবুল, যুগ্ম-সম্পাদক পদে আরাফাত দাড়িয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান সোহেল (ইনকিলাব), অর্থ সম্পাদক পদে শাহ আলম নূর (এশিয়ান এজ) ও জাফর ইকবাল, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদে হালিম মোহাম্মদ (দৈনিক জাগরণ), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাকসুদা লিসা (ভয়েস অব এশিয়া), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে মোহাম্মদ নইমুদ্দীন বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য সাতটি পদে নির্বাচনে এমএম জসিম (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড), দৈনিক ঢাকা টাইমসের আজিজুর রহমান (রহমান আজিজ), রোমানা জামান (ভোরের কাগজ), মাহবুবুর রহমান, রফিক রাফি (নিউ নেশন), বিটিভির নার্গিস জুঁই ও মানবকণ্ঠের জাহাঙ্গীর কিরণ নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে গ্রেফতারের দাবী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতারের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে চারদিকের রাস্তা আটকিয়ে মহানবীর (সা.) অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপের হুমকি দেয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগঠনটি। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালীসহ নেতারা। এর আগে, বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন তারা। এতে অংশ নেয় মঞ্চের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও নায়ায়ণগঞ্জ শাখার প্রায় তিন হাজারেরও অধিক নেতাকর্মী। সমাবেশে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের যে সাম্প্রদায়িক শক্তি আছে তাদের রুখে দিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। মামুনুল হক মহানবীকে (স.) অবমামনা করেছে। নবীজি কীভাবে ঠোঁট নাড়াতেন তা দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো মুসলমান তার বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। তিনি বলেন, ফয়জুল করিমের বাবা ছিলেন রাজাকার। সেই অঞ্চলের মা-বোনেরা মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। তার বাবা তাদের গণিমতের মাল হিসেবে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের রক্তে এখন পাকিস্তানের বীজ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা তাদের যেখানে পাব, গণধোলাই দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেব। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সাত দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে- মহানবীকে (সা.) অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরােধিতা করার অপরাধে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসাগুলােতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যােগাযােগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ছড়ানাে ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। 

রাতে মহাখালিতে দিনে মোহাম্মদপুর বস্তিতে ভয়াবহ আগুন : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : মহাখালির সাত তলা বস্তিতে সোমবার মধ্যরাতে এবং গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আগুন লাগে। তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাবর রোডের বিহারী পট্টি জহুরী মহল্লার পাশের বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাদী সুলতানা জানান, মোহাম্মদপুরে বাবর রোডের বিহারি পট্টির বস্তিতে আগুনের খবর পেয়ে দুই দফায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, আগুন লাগার কারণও জানা যায়নি।

ভুয়া এনআইডি যাচাই রাজউকের যুগান্তকারী পদক্ষেপ
                                  

মশিউর নেরু : ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করে রাজধানীতে অতিগুরুত্বপূর্ণ প্লট, ফ্ল্যাট বা ভূমি জালিয়াতি বন্ধ করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ভূমিগ্রাস করার হীনউদ্দেশ্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ভূমি আগ্রাসীরা প্লট জালিয়াতি করার আর কোনো সুযোগ পাবে না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (উপ-সচিব) গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। নূরুল ইসলাম যুগান্তকারী এ পদক্ষেপটি বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজউক-এর এনআইডি ডাটাবেজ সংযুক্তির বিষয়টি তিনি তুলে ধরে বলেন, এনআইডি ডাটা বেইজের সঙ্গে সংযুক্তির ফলে ডাটা যাচাই করে দ্রুততর সঙ্গে সেবা প্রত্যাশীদের সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। তাছাড়া ভুয়া এনআইডি তৈরি করে গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরার মত গুরুত্বপূর্ণ অভিজাত এলাকার অতীব মূল্যবান সম্পত্তি যারা এতো দিন ধরে গ্রাস করে আসছিল বা এখনও অবৈধভাবে গ্রাস করার পায়তারা করছে, তাদের সে হীনউদ্দেশ্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। পরিচালক (স্টেট ও ভূমি-১) এ অধিনস্থ সেকশনসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নূরুল ইসলাম স্বয়ং মরিটরিং করছেন। এর ফলে সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা ভালো ব্যবহারসহ দ্রুততর সঙ্গে সেবা প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) নূরুল ইসলাম আরো বলেন, ভূমি জালিয়াত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে নামে-বেনামে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে থাকে। পরবর্তীতে এই ভুয়া এনআইডি নিয়ে তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সম্পত্তি গ্রাস করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে অবৈধ ভূমি দখলবাজদের হাত থেকে প্রকৃত ভূমি মালিকদের সম্পত্তি রক্ষা করতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজউকে বসেই এক ক্লিকে ভুয়া এনআইডি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে কেউ আর জালিয়াতি করার সুযোগ পাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অনেক নাগরিক বিদেশে যান চাকরি নিয়ে। দীর্ঘকাল বিদেশে থাকায় অনেকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি মারা গেলে তার সন্তানরা দেশে আসেন না। দেশে তাদের সম্পদের খোঁজ-খবরও তারা আর রাখেন না। তিনি বলেন, এমন অনেকের সম্পত্তি রাজধানীর অভিজাত এলাকাতে রয়েছে। ভূমি জালিয়াতচক্র এসব ভূমির সন্ধান নিয়ে তারা ভুয়া কাগজপত্র এবং এনআইডি তৈরি করে ওই সব সম্পত্তি গ্রাস করে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে এনআইডি পরীক্ষা করে যাচাই করলে জালিয়াতির বিষয়টি সহজে ধরা পড়বে। মূলত এ লক্ষ্যে রাজউক এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ভূমি জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি কার্যক্রমে যে জটিলতা ছিল তারও নিরসন হবে। তিনি বলেন, এ কাজটি অনেকখানি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে ভূমি জালিয়াতচক্রের রোষানলে পড়তে হবে। তারপরও ভূমি দালালদের জালিয়াতি ঠেকাতে এবং রাজউক এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাহস করেই এমন দায়িত্ব নিয়েছি। নূরুল ইসলাম জানান-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিবসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সপ্তাহখানের মধ্যে এই মহতি কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছি।

মাদকাসক্ত ডিএমপির ১০ পুলিশকে চাকরিচ্যুত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ডোপ টেস্টে মাদকাসক্তির প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ১০ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওয়ালিদ হোসেন জানান, গতবছর সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নেয়ার পরই পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার ঘোষণা দেন মোহা. শফিকুল ইসলাম। এ পর্যন্ত ৬৮ জনের মাদক নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭ জন এসআই, একজন সার্জেন্ট, ৫ জন এএসআই, ৫ জন নায়েক এবং ৫০ জন কনস্টেবল। তিনি জানান, মাদকাসক্ত ওই ৬৮ জন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং ১৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি শেষে ওই ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনকেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জানা গেছে, শুধু মাদক সেবন নয়; মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা, মাদক দিয়ে জনসাধারণকে ফাঁসানো, উদ্ধার করা মাদক জব্দ তালিকায় কম দেখানোর মতো অভিযোগ রয়েছে এসব পুলিশ সদস্যদের অনেকের বিরুদ্ধে।

ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ৫টি স্ল্যাব
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা ফার্মগেট ইন্দিরা রোড সড়কে গ্যাসের চাপে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সড়কের পাঁচটি ম্যানহোল ও স্ল্যাব উড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খামারবাড়ি দিকে যেতে ইন্দিরা রোডের শেষ মাথায় বিকট শব্দে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ওই সড়কের পাঁচটি ম্যানহোল ও স্ল্যাব উড়ে যায়। সড়কটিতে ছোট বড় কয়েকটি গর্ত তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ফাটলও দেখা যায়। ঘটনার পর পরই ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বিকট আওয়াজে শব্দ হয়। এসে দেখি ম্যানহোলগুলো উল্টে আছে, স্ল্যাবগুলো উপড়ে গেছে। আর চারপাশে গ্যাসের গন্ধ। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বারবার তিতাসকে জানানোর পরও কোনো সমাধান মেলেনি। ২০১৮ সালের মার্চ মাসের দিকে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় একই ধরনের গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইন্দিরা রোডের এই অংশেও তাঁরা গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন। গ্যাসের এই সমস্যার কথা ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানিকে বেশ কয়েকবার জানিয়েও কোনো সমাধান তাঁরা পাননি। সেখানে গ্যাসের উৎকট গন্ধ পাওয়া গেছে। ওই রাস্তায় ম্যানহোলগুলোতে কাজ করছিলেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষের ভাড়াটে শ্রমিকরা। তখনো একটি ম্যানহোল থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে তিতাস গ্যাসের ৮ জন ভাড়াটে শ্রমিক ওই সড়কের ম্যানহোল গুলোতে কাজ করেন। তিতাস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ধানমন্ডি টিমের টেকনিশিয়ান রবিউল আলম জানান, এখানে এমন বিস্ফোরণের কারণ হচ্ছে- গ্যাস লাইন ফুটো হওয়া এবং জমে থাকা ময়লা থেকে গ্যাস সৃষ্টি হওয়া। এই রাস্তার ঢালাই ত্রুটিপূর্ণ। এখানে ঢালাইয়ের পিটে কোনো ফাঁকা রাখা হয়নি। যার জন্য গ্যাস জমা হয়ে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাসে আগুনের মামলায় রিমান্ডে ২৮
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাস পোড়ানো এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন থানায় ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল এই রিমান্ড আদেশ দেন। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। শুনানি শেষ বিচারক ওই রিমান্ড আদেশ দেন। শাহবাগ থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় ৬ আসামির তিনদিন করে রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হযরত আলী, মঈনউদ্দিন,আবু সাঈদ শান্ত, আবুল কালাম আজাদ, আবু সুফিয়ান ও সোহেল। পল্টন থানার এক মামলায় ২ জন তিনদিন করে রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আলিজা আল আহমেদ মিটু ও মেহেদী হাসান ইয়াছিন। আর পাঁচদিন করে রিমান্ডপ্রাপ্তরা ৭ আসামিরা হলেন- একে ফজলুর বারী, আলতাফ হোসেন, নাঈম প্রধান, আলিফ মাহমুদ, হুমায়ুন রশীদ টুটুল, খন্দকার মাশুকুর রহমান ও রাশেদুজ্জামান। আদালতে এসব আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছিল পল্টন থানা পুলিশ। মতিঝিল থানার এক মামলায় আবদুর রহমান তাহের নামের একজনকে দুইদিনের রিমান্ডে দেয়া হয়। একই থানায় আরেক মামলায় জাকির হোসেন নামের একজনকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এ দুই মামলায় আসামি দুইজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়েছিল মতিঝিল থানা পুলিশ। বংশাল থানায় একটি মামলায় দুইদিনের রিমান্ডে যাওয়া ২ আসামি হলেন- সফিউদ্দিন আহমেদ সেন্টু ও মৃদু রহমান জনি ওরফে মোরশেদুর রহমান জনি। কলাবাগান থানায় একটি মামলায় দুইদিন করে রিমান্ডে পাঠানো ২ আসামি হলেন- মাহিফুর রহমান টিপু ও মাঈনউদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া সূত্রাপুর থানায় একটি মামলায় ৪ আসামির তিনদিন করে রিমান্ডে দেন আদালত। খিলক্ষেত থানায় একটি মামলায় দুইদিনের রিমান্ডে যাওয়া ২ আসামি হলেন মশিউর রহমান মসি ও ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম। তুরাগ থানায় একটি মামলায় সোহেল মিয়া নামের এক আসামির তিনদিনের রিমান্ড আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাগুলো করা হয়েছে। মামলার বাদী পুলিশ। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৪৬ জনকে। আসামিদের বেশিরভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছেন। মতিঝিল থানায় করা মামলায় আসামিদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে মতিঝিলে ১ জন, শাহবাগে ৬, পল্টনে ৯, বংশালে ২ জন ও কলাবাগানে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ১৭ জনকে শুক্রবার বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১০টি বাস পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাসের মধ্যে ৩টি সরকারি।

শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কে রাজধানীর ৪২ রুটে চলবে বাস
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিদ্যমান ২৯১টি রুট সমন্বয় করে ৪২টি মাধ্যমে বাস চলাচল করবে। আর এসব রুটে আড়াই হাজার বাস মালিকের সমন্বয়ে ২২টি কোম্পানি গঠন করা হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি জানান, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বাসগুলোর জন্য নগরের বাইরে করা টার্মিনালে অবস্থান করতে হবে। এতে যানজট কমার সঙ্গে কমে আসবে ঢাকার বাড়তি চাপ।

আজ মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে তার মতামত তুলে ধরেন।

ডিএসসিসি মেয়র তাপস বলেন, নগরবাসীর জন্য শৃঙ্খলা ও যানজটমুক্ত সড়ক উপহার দিতে বাসরুট রেশনালাইজেশন কমিটি কাজ করছে। কমিটির কাজের অগ্রগতিও অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা মালিক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ২৯১টি রুট থেকে কমিয়ে ৪২টি রুটে আনার প্রস্তাব করেছি। যেখানে ঢাকায় চলাচলরত সাড়ে ৪ হাজার গাড়ির ২৫শ মালিককে ২২টি কোম্পানির অধীনে আনা হবে।

‘এটা সম্পন্ন করতে পারলে যানজট অনেকটা কমে যাবে। পাশাপাশি ঢাকার পার্শ্ববর্তী শহর যেমন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গাড়িগুলোর জন্য শহরের বাইরে করা হবে নির্ধারিত টার্মিনাল। যেখানে যাত্রী নামানোর পর আবার নিজ শহরতলীতে সেগুলো ফিরে যাবে এতে যানজট কমবে আবার শহরের বাড়তি চাপও কমবে।’

তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে তিনটি টার্মিনাল আছে যা পর্যাপ্ত না, এতে অধিকাংশ গাড়ি রাস্তার ওপর অবস্থান করতে বাধ্য হয়। আমরা ঢাকায় ১০টি টার্মিনালের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করেছি। যেগুলো থেকে কয়টি টার্মিনাল হবে তার চূড়ান্ত প্রস্তাব আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিতে হবে। জানুয়ারিতে পরবর্তী সভায় এটা নির্ধারণ হবে। তবে আমাদের কমিটির করা সব প্রস্তাব মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারশনের সমন্বয়ে করা হবে।

বাসরুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. এহসানে এলাহী, রাজউক চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম, বাসরুট রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব ও ডিটিসিএ`র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দীন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আজমাল উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান।


   Page 1 of 82
     রাজধানী
রাজউকে প্রভাবশালি শফিউল্লাহ বাবু নকল, জাল-জালিয়াতির প্রধান কারিগর
.............................................................................................
ঢাকায় বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে গৃহকর্মীর পাশবিকতা, ভিডিও ভাইরাল
.............................................................................................
রাজউক চেয়ারম্যানের বেপরোয়া ভাব জাতীয় সংসদ সদস্যের অভিযোগ
.............................................................................................
শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৫০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার
.............................................................................................
শাহজালালের নির্মাণাধীন টার্মিনাল থেকে সিলিন্ডার সদৃশ বোমা উদ্ধার
.............................................................................................
ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় দিনেও উচ্ছেদ অভিযান
.............................................................................................
পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
.............................................................................................
অনুমতি ছাড়া কোন সভা সমাবেশ করা যাবে না: ডিএমপি
.............................................................................................
ডিআরইউ’র সভাপতি নোমানী ও সম্পাদক মশিউর নির্বাচিত
.............................................................................................
শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে গ্রেফতারের দাবী
.............................................................................................
রাতে মহাখালিতে দিনে মোহাম্মদপুর বস্তিতে ভয়াবহ আগুন : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
.............................................................................................
ভুয়া এনআইডি যাচাই রাজউকের যুগান্তকারী পদক্ষেপ
.............................................................................................
মাদকাসক্ত ডিএমপির ১০ পুলিশকে চাকরিচ্যুত
.............................................................................................
ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ৫টি স্ল্যাব
.............................................................................................
বাসে আগুনের মামলায় রিমান্ডে ২৮
.............................................................................................
শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কে রাজধানীর ৪২ রুটে চলবে বাস
.............................................................................................
সম্পত্তির জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসি দিয়ে নির্যাতন
.............................................................................................
নভেম্বর পর্যন্ত ঝুলন্ত তার অপসারণের অভিযান বন্ধ
.............................................................................................
মধ্যরাতে হয়ে গেলো ‘শেকল ভাঙ্গার পদযাত্রা’
.............................................................................................
ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
ঢামেক ওসিসিতে চিকিৎসাধীন ২৩ জনের ১৭ জনই শিশু!
.............................................................................................
মেয়র আতিক সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
এবার ঢাকায় মেসে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ!
.............................................................................................
শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী গণজমায়েত শুরু
.............................................................................................
ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ের গেট ভেঙে সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ
.............................................................................................
বনানীর বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
.............................................................................................
বাজার ভরা ইলিশে, দামেও সস্তা
.............................................................................................
এ বছরের মধ্যে তারের জঞ্জালমুক্ত হবে ডিএসসিসি : তাপস
.............................................................................................
ডুবে যাচ্ছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল
.............................................................................................
রাজধানীর ওয়ারী থেকে লকডাউন প্রত্যাহার
.............................................................................................
যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে নিজ হাতে হত্যা করেন নিরঞ্জন
.............................................................................................
আশুলিয়ায় হেরোইনসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক
.............................................................................................
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নাকাল রাজধানীবাসী
.............................................................................................
যশোর-৬ আসনে বিপুল ভোটে নৌকার মাঝি হলেন শাহীন
.............................................................................................
সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের মৃত্যু
.............................................................................................
ওয়ারীতে লকডাউনের মধ্যেও দ্বিগুণ লোকের চলাচল
.............................................................................................
করোনায় হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত
.............................................................................................
২১ দিনের জন্য `অবরুদ্ধ` ওয়ারী
.............................................................................................
২০ কোটি টাকা খাবার বিলের অভিযোগ সত্য নয়: ঢামেক পরিচালক
.............................................................................................
রাজধানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু
.............................................................................................
নীলফামারী জেলা সদর ভুমি অফিসে নেই ভোগান্তি
.............................................................................................
শনিরআখড়া আন্ডারপাসের ময়লা পরিষ্কার করে লাইটিং করলেন কুয়াশা
.............................................................................................
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪
.............................................................................................
এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত রাখতে পারবো: তাপস
.............................................................................................
কাশিমপুর কারাগারের হাজতির মৃত্যু
.............................................................................................
ভিডিপির সদস্যর ২৬শে মার্চ প্যারেডে অংশগ্রহন করার অনুরোধ
.............................................................................................
আজ রাত ১২টা থেকে ৪টি বাদে সব দেশে বিমান চলাচল বন্ধ
.............................................................................................
যানজট নিরসনে কাজ করছেন ছাত্রলীগ নেতা রুমান
.............................................................................................
সকাল সকাল বৃষ্টি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop