| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ইবি ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি   > ‘ভোটে বিচ্যুতি হলে সরকার হটানোর আন্দোলন’   > পর্দা নয় এবার বাস্তবে বাংলাদেশি ‘ভাইজান’কে দেখল ভারতবাসী!   > সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে : প্রধানমন্ত্রী   > মেডিকেল শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের কাছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   > হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে পদ্মা সেতুর ছবি   > পাকিস্তানের জয়ের পর শোয়েব মালিকের টুইটবার্তা   > সীমান্ত হত্যা: বিএসএফের `গরু পাচার` যুক্তি মানছে না বিজিবি   > ১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি   > মুজিববর্ষে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসা  

   আদালত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে

জুয়া খেলা নিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হোসেন তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রেদোয়ান আহমেদ রানজীব।

অন্যদিকে ঢাকা ক্লাবের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

২০১৬ সালে ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে হাউজি,

ডাইস ও তাস খেলা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সামীউল হক ও রোকন উদ্দিন মো. ফারুক।

রিটের বিবাদীরা হলেন- স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, খুলনা মহানগর,

 সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশার, র‍্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

১৩টি ক্লাব হলো- ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, বনানী ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব,

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, সিলেট ক্লাব ও খুলনা ক্লাব।

ওই রিটের শুনানি করে একই বছরের গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবকে টাকার বিনিময়ে হাউজি,

ডাইস ও তাস খেলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ছাড়াও এ ব্যাপারে রুল জারি করা হয়েছে।

রুলে অভ্যন্তরীণ খেলার নামে কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলার বেআইনি ব্যবসা আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে

কেন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা ক্লাবের আবেদনের পর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং রুল নিষ্পত্তিতে আদেশ দেন।

১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে

জুয়া খেলা নিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হোসেন তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রেদোয়ান আহমেদ রানজীব।

অন্যদিকে ঢাকা ক্লাবের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

২০১৬ সালে ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে হাউজি,

ডাইস ও তাস খেলা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সামীউল হক ও রোকন উদ্দিন মো. ফারুক।

রিটের বিবাদীরা হলেন- স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, খুলনা মহানগর,

 সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশার, র‍্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

১৩টি ক্লাব হলো- ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, বনানী ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব,

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, সিলেট ক্লাব ও খুলনা ক্লাব।

ওই রিটের শুনানি করে একই বছরের গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবকে টাকার বিনিময়ে হাউজি,

ডাইস ও তাস খেলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ছাড়াও এ ব্যাপারে রুল জারি করা হয়েছে।

রুলে অভ্যন্তরীণ খেলার নামে কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলার বেআইনি ব্যবসা আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে

কেন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা ক্লাবের আবেদনের পর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং রুল নিষ্পত্তিতে আদেশ দেন।

হাইকোর্টে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব
                                  

 ডেস্ক রিপোর্ট : দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের

কপি না দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ

(নকল শাখা) মাসুকাতে রাব্বিকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে স্বশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও

বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আছরারুল হক।

তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সরোয়ার পায়েল।

অ্যাডভোকেট আছরারুল হক বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার আদেশের সার্টিফায়েড কপি না দেওয়ার বিষয়ে যে

ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে আদালত সন্তুষ্ট হননি। তাই ফের তাকে তলব করা হয়েছে।

আইনজীবী আরো বলেন, রাজউকের আইনজীবী আদালতকে জানান,

আদেশের সার্টিফায়েড কপির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ফরওয়ার্ডিং প্রয়োজন হয়।

সেই ফরওয়ার্ডিং এখনও আসেনি। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের

সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মাসুকাতে রাব্বিকে তলব করেছেন।

এর আগে প্রথম গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জেসমিন আক্তারকে তলব করেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিকে করা এক লাখ টাকার জরিমানার

আদেশের ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প উপদেষ্টা  লিমিটেডের কারিগরি পরিচালক মনিরুজ্জামানের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রকল্প উপদেষ্টা  লিমিটেড নামের একটি কনসাল্টিং,

আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে।

ওইদিনই জরিমানার টাকা আদায় করে নেন নর্বিাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এরপর এই আদেশের কপি চেয়ে গত বছরের  ৪ ও ৫ ডিসেম্বর আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু আজ পর্যন্ত আদেশের কপি সরবরাহ করা হয়নি।

এ কারণে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারছেন না তারা।

এ অবস্থায় আদেশের কপি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তারা।

শেষ ইচ্ছার কথা বলছেন না নির্ভয়ার ধর্ষকরা
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :প্রথা অনুযায়ী নির্ভয়া হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির ৪ জন আসামির শেষ ইচ্ছা জানতে চেয়েছিল ভারতের তিহার জেল কর্তৃপক্ষ

তবে নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা অন্য কোনও শেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেনি তারা

এমন খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

 এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি

ভোর ৬টায় নির্ভয়ার ধর্ষকদের দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামির ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।

এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আসামি মুকেশ সিং, বিনয় কুমার, অক্ষয় সিং এবং

পবন গুপ্তাকে শেষ ইচ্ছার কথা জিজ্ঞাস করলেও এ সম্বন্ধে কোনও কথাই প্রকাশ করেনি তারা।

অনেকেই মনে করছে, এরকম করে আসলে ফাঁসির সাজা আরও

পিছিয়ে দেওয়া যায় কিনা সেই ফিকিরও খুঁজছেন তারা।

এদিকে অধীর আগ্রহে ওই ৪ আসামির সাজা কার্যকর হওয়ার আশায় প্রহর গুণছেন নির্ভয়ার পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে।

পরে তাকে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা।

এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং

আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

২০১৭ সালের ৫ মে বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

রায়ের পর চার আসামিই তা রিভিউয়ের আবেদন করে।

গত শুক্রবার নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলার ৪ আসামির জন্য নতুন করে মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানা জারি করা হয়।

১লা ফেব্রুয়ারি ওই ৪ আসামির ফাঁসি হবে ভোর ৬ টায়।

এর আগে বিনয় শর্মা, মুকেশ সিং, অক্ষয় কুমার সিং এবং পবন গুপ্তকে

গতকাল ২২ জানুয়ারি সকাল ৭ টায় দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা ছিল।

কিন্তু আসামি মুকেশ নতুন করে ফাঁসি মওকুফের আবেদন জানিয়ে আবেদন করায় ফাঁসি পেছানো হয়।

মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের দীর্ঘদিনের প্রণয় ছিল-অ্যাটর্নি জেনারেল
                                  

‌‌‌ডেস্ক রিপোর্ট : বরগুনায় রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার

প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড।

স্বামী রিফাত শরীফের পাশাপাশি ‘প্রেমিক’নয়ন বন্ডের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতেন মিন্নি।

কলেজে যাওয়ার নাম করে নয়নের বাসায় যেতেন তিনি।

মিন্নির জামিন শুনানিতে আজ বৃহ্স্পতিবার রাষ্ট্পক্ষের আইনজীবী এ দাবি করেন।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন শুনানি হয়।

জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির।

এ সময় তিনি বলেন, মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের দীর্ঘদিনের প্রণয় ছিল। রিফাতের আগে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়।

সেই বিয়ের তথ্য গোপন করেই মিন্নি রিফাতের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

নয়ন বন্ড যখন জেলে থাকে তখন মিন্নি তথ্য গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন।

সেই কাবিননামা আমাদের কাছে রয়েছে। শুধু তাই নয়, নয়ন বন্ড জেল থেকে বের হয়ে আসার পর একসঙ্গে দুটি সম্পর্ক বজায় রাখেন মিন্নি।

স্বামীর পাশাপাশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতেন মিন্নি।

কলেজে যাওয়ার নাম করে মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়ে মেলামেশা করতেন।

এ বিষয়গুলো মিন্নি নিজেই স্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে।

নিম্ন আদালতে মিন্নির রিমান্ড আবেদনে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, দুজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় একসময় নয়ন বন্ড ও রিফাতের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়।

পরে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হত্যার উদ্দেশ্যে রিফাতকে কলেজে নিয়ে যান মিন্নি। এর পর তার সামনে রিফাতকে ধরে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

একপর্যায়ে নয়ন বন্ড কোপাতে থাকলে মিন্নি বাঁচানোর অভিনয় করেন।

তিনি বলেন, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার আগে এবং পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।

সেই রেকর্ডে বলা আছে, তারা রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

মিন্নি ও নয়ন বন্ডের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।

এর পর মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে বলেন, এসব ডকুমেন্ট ও ভিডিও তৈরি করা যায়।

ভেরিফায়েড কিনা, তা দেখতে হবে। এসব তো মামলার মেরিটের অংশ নয়।

আপনি মূল জায়গায় আসেন। এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আপনারা পত্রিকার সংবাদ উপস্থাপন করেছেন।

তা কি মামলার নথি? প্লিজ, সাইড টক করবেন না। কোনো কিছু কি জোরপূর্বক আদায় করবেন?

এ সময় আদালত বলেন, কেউ কোনো কিছুই জোরপূর্বক আদায় করতে পারবে না।

ফেসবুকের আইডি সঠিক কিনা, তার তো সার্টিফায়েড লাগবে।

এ সময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, মাই লর্ড, ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে যখন ধরে নিয়ে যায়, তখন মিন্নির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

কেননা কলেজের ফটকে তিনি একবার এসে আবার ভেতরে যান। আবার ফিরে আসেন।

রিফাত শরীফকে যখন মারার জন্য ধরে নিয়ে যাচ্ছে তিনি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

যখন কোপানো শুরু করল তখন বাঁচানোর নামে অভিনয় করেছেন।

রিফাতকে কোপানোর সময় বাঁচাতে এলো অথচ মিন্নির শরীরে একটু নখের আঁচড়ও লাগল না।

ঘটনার আগে ও পরে বহুবার নয়ন বন্ড এবং

মিন্নির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান আইনজীবী।

মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, প্রকৃতপক্ষে মিন্নি ছিলেন রিফাত হত্যার মাস্টারমাইন্ড।

মিন্নি নয়ন বন্ডকে বিয়ের তথ্য গোপন করে দুই মাস পর রিফাতকে বিয়ে করেন।

বিচারিক আদালত মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির স্বীকারোক্তি, নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা,

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ সময় মিন্নির পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে বলেন, দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে ঘটনা ঘটল।

দেশবাসীর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। অথচ কিছু লোককে রক্ষা করার জন্য মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার ১৮ দিন পর সাক্ষীকে আসামি করা হলো। আমরা নারী ও অসুস্থ বিবেচনায় তার জামিন চাই।

পরে মিন্নির আইনজীবীরা জামিন আবেদন তুলে নেন।

এর আগে গত ৫ আগস্ট মিন্নির জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

গত ৩০ জুলাই মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এর আগে ২২ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম।

ওই দিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর পর গত ২৩ জুলাই ‘মিস কেস’ দাখিল করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে ফের

জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।

পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের নথি তলব করে ৩০ জুলাই জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

সেদিনও শুনানি শেষে মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে।

পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পর দিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পুলিশ।

বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দায়েরা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মিন্নি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্নাতক ছাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি পদে নয় : হাইকোর্ট
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : স্নাতক ডিগ্রিধারী না হলে ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়া যাবে না।

গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট এক রায়ে এমন নির্দেশনা দিয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রথমে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির

কাছে স্নাতক ডিগ্রী ধারী তিনজন ব্যক্তির নাম পাঠাবেন। তিনজনের মধ্যে থেকে ভিসি একজনকে সভাপতি পদে মনোনীত করবেন।

তবে সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে কেউ সভাপতি হলে তা বাতিল হবে।

এ বিষয়ে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও

বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কালিশ পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি পদে এমপির ডিও লেটারে মো:

বেলাল হোসাইন বাবলুকে মনোয়ন দেওয়ায় তার সভাপতি পদ বাতিল করেছে আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মো: হুমায়ন কবির শুনানি করেন।

হুমায়ুন বলেন, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কালিশ পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি পদে

এমপির ডিও লেটারে মো: বেলাল হোসাইন বাবলুকে মনোনয়ন দেয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠান প্রধান শুধু তার নাম সুপারিশ করে ভিসির কাছে পাঠিয়েছিলেন।

পরে ওই মনোনায়ন দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ওই মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট।

লালদীঘিতে ২৪ জনকে হত্যার রায় ঘোষণা বিকালে
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : তিন দশক আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার আগে

গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচ আসামির কী শাস্তি হবে তা বিকালে জানা যাবে।

আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত

বিচারক চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন রায় ঘোষণার সময় ঠিক করে দেন।

বিস্তারিত আসছে

আজ প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৬ জনের জামিন শুনানি
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায়

করা মামলায় প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান ও

সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ছয়জনের জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি হবে আজ।

গতকাল রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও

বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের জামিন আবেদনের ওপর

আংশিক শুনানি শেষে আজকের দিন ঠিক করে আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আজ (সোমবার) জামিন আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্যে রাখেন।

তবে, ছয়জনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি না হওয়া পর্যন্ত  তাদের হয়রানি ও গ্রেফতার না করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই মামলায় ১৬ জানুয়ারি ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত 

প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

 মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ এ মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরপরই

বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ জনের নামে পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়া হয়।

এরপর ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে  জামিনের আর্জি জানান প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৬ জনের ।

এদিন বেলা সাড়ে ৩টায় আবেদনটি শুনানি করে আজকের দিন ঠিক করেন আদালত।

জামিন আবেদনকারী অপর পাঁচজন হলেন- প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক,

জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল,

নির্বাহী শাহপরান তুষার ও নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক।

এ ছাড়া কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জসীম উদ্দিন,

মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার জামিনের আবেদন করেননি।

গত ৬ নভেম্বর নাইমুল  আব্রারের বাবা মজিবুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন।

আদালত সেদিন নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলায় মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘১লা নভেম্বর (গত বছর) তার ছেলে নাইমুল আবরার

রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে কিশোরদের ম্যাগাজিন কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।’

থানা হেফাজতে মৃত্যু, ওসির ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : থানা হেফাজতে এফডিসির ফ্লোর ইনজার্চ আবু বকর সিদ্দিকীর মৃত্যুতে

সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন তার সহকর্মীরা।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এফডিসির সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন তারা।

থানা হেফাজতে নির্যাতন করে আবু বকরকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসির ফাঁসি দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

রাস্তা বন্ধ করে অবরোধের কারণে হাতিরঝিল থেকে কারওরান বাজার সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে আবু বকর ঢাকা সিটি নির্বাচনের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে

দায়িত্ব পালনের চিঠি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার সহকর্মীরা।

সহকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবু বকর সিদ্দিকী।

গত শনিবার সন্ধ্যায় অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাকে আটক করে।

রোকসান আক্তার মায়া নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেখানেই পুলিশি নির্যাতনে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবু বকর।

এসময় তাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) ইফতেখার ইসলাম অচেতন অবস্থায়

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা বলছেন, আবু বকরের গলায় কালো দাগ ও শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

আন্দোলনরত এফডিসির কর্মচারী ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজা বেগম বলেন,

‘আমাদের কথা একটাই; কেন আবু বকরকে থানা হেফাজতে মরতে হলো? আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।

তাকে (বকর) পুলিশ গ্রেপ্তার করছে গত শনিবার কিন্তু যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে সেটা হয়েছে একদিন পর (রবিবার)।

তার মানে পুলিশ তাকে হত্যা করে নতুন নাটক সাজিয়েছে।’

‘থানায় কম্বল পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দাবি করা হচ্ছে।

কিন্তু তার গলায় একটা চিকন দাগ রয়েছে। তার মানে এটা পরিকল্পিত হত্যা।’

ফিরোজা বলেন, ‘ঘটনার দিনেও সে (বকর) ডিউটি শেষ করে আমাদের সঙ্গে দেখা করে বাসায় ফিরছিল। তারপরই শুনলাম সে মারা গেছে।’

আন্দোলনরত জামাল শেখ নামে একজন বলেন, ‘আমাদের সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করতে হলে অনুমতি লাগে।

পুলিশ কেন তা নিল না? আর আমরা তো জানি থানার কাস্টরিতে ফাঁসি দেবার মতো কোনো অবস্থা থাকে না।

এছাড়া সেখানে সিসিটিভি থাকার কথা। তারপরও কীভাবে সে গলায় ফাঁস নিলো?’

খাদেজা বেগম নামে একজন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন থেকে ১ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা সিটি নির্বাচনের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চিঠি পেয়েছিলেন আবু বকর।

তার ডিউটি করার কথা ছিল শেওড়াপাড়ায়।’

 

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯ বছর আগে রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে

বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালত আসামি

ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় ৩৮ জন বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ,

শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই,

মুফতি শফিকুর রহমান ও নূর ইসলাম। এদের মধ্যে প্রথম চার জন কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

আসামিদের প্রত্যেককে এ মামলায় নিহতদের অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও

অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/১২০ এর বি/৩৪ ধারার অপরাধে

দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

মামলার পলাতক দুই আসামি মশিউর রহমান ও রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

এছাড়া, কারাবন্দি আরিফ হাসান সুমন ও পলাতক নুর ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কারণে ৩০৭/৩২৪/৩২৬/৩৪ ধারায় তাদের লঘুদণ্ড দেয়া হয়নি।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়,

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশ চলাকালে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত ও অনেকে আহত হন।

নিহতরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার হিমাংশু মণ্ডল, খুলনার রূপসা উপজেলার আব্দুল মজিদ,

ঢাকার ডেমরার আবুল হাসেম, মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ও খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস।

এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

এর দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে

আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন।

এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে যোগসূত্র পেয়ে ২০০৫ সালে আবার মামলার তদন্ত শুরু হয়।

ওই হামলায় মামলা হওয়ার ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা

১৩ জন আসামি চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন- হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ,

আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান,

জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল আলম ও নূর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর শেষের আটজন পলাতক।

 

‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ সরবরাহে কমিটি গঠনের নির্দেশ
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্র অ্যান্টি রেপ ডিভাইস সরববারহ করতে

একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটিতে বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাখতে বলা হয়েছে।

 আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কমিটিকে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে নারীদের যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।

আজ রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান,

ব্যারিস্টার শারমিন শিউলী ও অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।

এর আগে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের অ্যান্টি রেপ ডিভাইস সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও সিসিবি ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন।

রিটকারী আইনজীবী  জানান, অ্যান্টি রেপ ডিভাইস কোনো নারী তার শরীরে বহন করলে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করলে সংক্রিয়ভাবে ৯৯৯ কল চলে যাবে।

এটা উন্নত দেশে ব্যবহার করা হয়।

 

মতিউর রহমান-এর `বিষয়টি যাতে প্রথম আলোকে দেখে নেবার মতো না হয়`
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও পত্রিকাটির সহযোগী প্রকাশনা

কিশোর আলো`র সম্পাদক আনিসুল হকসহ দশজনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা

জারি করার পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে।

অনেকে মনে করছেন, প্রথম আলো যেহেতু সরকারের সমালোচক গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত –

সেজন্য তাদের উপর চাপ করতেই একটি হত্যা মামলাকে সামনে আনা হয়েছে।

আবার অনেকে বলছেন, যে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটির সাথে গণমাধ্যমে স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই।

গত পহেলা নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন

`কিশোর আলো`র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী

নাঈমুল আবরার নিহত হবার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত ছাত্রের পিতার দায়ের করা সে মামলায় অবহেলা জনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

সে ঘটনার পর অনেকে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তখন বলেছিলেন যে এমন `গর্হিত অপরাধ` সহ্য করা যায়না।

বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা কী বলছেন?

প্রথম আলো সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং

মামলার বিষয়টি নিয়ে কোন সোজাসাপ্টা উত্তর নেই বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

তিনি মনে করেন, বিষয়টিকে সার্বিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করতে হবে।

"এটা অন্য ধরণের মামলা। এর সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই।

কারণ প্রথম আলোর কোন প্রতিবেদন বা লেখালেখির কারণে এ মামলা দায়ের করা হয়নি।

একটা ইভেন্টে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ মামলা হয়েছে।

ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে সে দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে," বলছিলেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

"সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে যেভাবে মামলা দায়ের করা হয়, এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।"

তবে এটিকে ব্যবহার করে প্রথম আলো পত্রিকার স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং

স্পষ্ট কথা বলার অধিকারের উপর যদি চাপ তৈরি করা ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন

 

বলেন, বিষয়টি যাতে শুধু সে ঘটনার সাথে সীমাবদ্ধ থাকে।

তিনি বলেন, "বিষয়টি যেন প্রথম আলোকে দেখে নেবার মতো না হয়।

এর মাধ্যমে যাতে প্রতীয়মান না হয় যে বিরুদ্ধ মতকে দমন করা হচ্ছে।"

শিক্ষার্থী নিহত হবার বিষয়টিকে দু:খজনক হিসেবে বর্ণনা করে কাবেরী গায়েন আশা করেন,

এক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া যাতে যথাযথ অনুসরণ করা হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ফেসবুকে নানা মন্তব্য

আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নানা রকম মন্তব্য করেছেন।

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় বিপ্লব হাসান নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন,

"অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য র‍্যাব, পুলিশ,স্বেচ্ছাসেবক, এমনকি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছে।

ডাক্তার, অ্যাম্বুল্যান্স ছিল। একটি পত্রিকার পক্ষে আর কী করা সম্ভব?"

তবে অনেকে মনে করেন, এই ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেন না।

আহমেদুল হক আয়েল ফেসবুক পেজে লিখেছেন ,

 "একজন মানুষ মারা যাবার পরেও কেন গোপন রাখা হয়েছিল?

অনুষ্ঠান কেন সাময়িক বন্ধ করা হয়নি। তাহলে এটা কি হেঁয়ালি নাকি ইচ্ছাকৃত?"

মো. রহমতউল্লাহ লিখেছেন, "পত্রিকার সম্পাদক কি আইনের বাইরে পড়েছে নাকি? সবার জন্য আইন সমান"

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষকে যাতে হয়রানি না করা হয়

সেটি উল্লেখ করেছেন জাকির আল ফারুকী নামে এক ব্যক্তি।

তিনি মন্তব্য করেন, "এ অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর কোন দায় ছিল কিনা তার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার।

কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।"

প্রথম আলো পত্রিকা যেহেতু বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করে সেজন্য এ মামলা দায়ের করা হয়েছে কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

ফেসবুক পাতায় মুনির হাসান লিখেছেন, " প্রথম আলো ধর্ষণ, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে লেখা শুরু করেছিল

এমএস সিরাজ লিখেছেন, "দেশ সেরা সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলোকে ধ্বংস করার চেষ্টায় যে মহলটি লিপ্ত তারাই এসব করাচ্ছে বলে মনে হয়।"

 

জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়ন, দুই আইনজীবীকে অব্যাহতি হাইকোর্টের
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : নাশকতায় জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে করা দুই মামলা থেকে

অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে করা আবেদন গ্রহণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

ও বিচারপতি একেএম জহিরুলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

 আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

২ আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান আজিম।

পরে ব্যারিস্টার হাসান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়।

শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের ওই দুই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী উপজেলায় মাদরাসাতুল আবু বকর নামে

একটি মাদ্রাসায় ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান চালিয় ১২ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী উপজেলার লটমণি পাহাড়ে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তারা জানান,

হাটহাজারী ও বাঁশখালী থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সদস্য।

শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং রয়েছে। এগুলো হল- গ্রিন, ব্লু ও হোয়াইট।

প্রত্যেক উইংয়ে ৭ জন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছে।

২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পরে ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকা থেকে আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯),

অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরীকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে।

গত বছর ২০ আগস্ট হাটহাজারীর মামলায় ৩৩ জন আসামি ও বাঁশখালীর মামলায় ২৮ জন আসামির

বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে আদেশ দেন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালীম।

অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ।

 

সগিরা হত্যা মামলায় চার্জশিট-৪
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় তিন দশক আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যা মামলায়

চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বৃহস্পতিবার এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

পিবিআই’র প্রধান কার্যালয়ে আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

পিবিআই প্রধান ডিআইজি প্রকৌশলী বনজ কুমার সংবাদ সম্মেলনে জানান,

চারজনকে অভিযুক্ত করে চাজর্শিট দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে তারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছিল তার আদ্যোপান্ত বলা আছে। 

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

সগিরা মোর্শেদা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ছিলেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে

সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে গুলি করে হত‌্যা করে।

কিন্তু তদন্তে জানা যায় আসলে এটা ছিনতাই ছিল না। পারিবারিক দ্বন্দ্বে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত‌্যা করা হয়। 

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্ত করে।

নানা কারণে বছরের পর বছর ঝুলে ছিল এ মামলার তদন্ত কাজ।

তবে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে অবশেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ওই চারজন।

 

                                                                                                                       

মেয়র প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে

ও ঢাকা দক্ষিণের (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন।

তার আইনজীবী মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী অভিযোগ গঠন শুনানি করেন।

বিচারক অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

এর আগে গত বছরের ৫ মে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল।

এ দিন ইশরাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ৪নং বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

(অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন এবং

তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়।

একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিশটি জারি করতে তাদের বাসভবনে যান।

কিন্তু ইশরাক হোসেন সেখানে উপস্থিত না থাকায় উপস্থিত চারজনের (সাক্ষী) সামনে বাসভবনের

নিচতলায় প্রবেশ পথের বাম পাশের দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে নোটিশটি জারি করেন।

দুদকের দেয়া ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইশরাক হোসেন সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম।

যুদ্ধাপরাধী কায়সারের ফাঁসি আপিলেও বহাল
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে নির্বিচারে হত্যা,

ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ডের যে রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিল,
সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও তা বহাল রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ফাঁসিকাষ্ঠেই যেতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার মাত্র এক মিনিটে রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেয়।

কায়সারের আপিল আংশিক মঞ্জুর হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।

এই বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

একাত্তরের মুসলিম লীগ নেতা কায়সার ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর একজন বিশ্বস্ত সহযোগী।

‘কায়সার বাহিনী’ নামে দল গড়ে তিনি যেসব যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছেন,

সেজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের মানুষ তাকে একজন কুখ্যাত ব্যক্তি হিসাবেই চেনে।

সেই কায়সারই স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের আমলে হয়ে যান বিএনপির লোক,

হুসেইন  মুহাম্মদ এরশাদের সময় জাতীয় পার্টির; দল বদলের কৌশলে প্রতিমন্ত্রীও বনে যান।

পাঁচ বছর আগে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বলেছিল, “কায়সার এতোটাই নগ্নভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিলেন যে,

নিজের গ্রামের নারীদের ভোগের জন্য পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিতেও কুণ্ঠিত হননি।”

সেই রয়ে সাতটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যার মধ্যে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।

এই দুই বীরাঙ্গনার মধ্যে একজন এবং তার গর্ভে জন্ম নেওয়া এক যুদ্ধশিশু এ মামলায় সাক্ষ্যও দেন। আর একটি ঘটনায় ছিল নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ।

এছাড়া অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যায় সংশ্লিষ্টতার চারটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং

তিনটি অভিযোগে আরও ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলে আসা এটি নবম মামলা, যার ওপর চূড়ান্ত রায় হলো।

নিয়ম অনুযায়ী আসামি এই রায় পর্যালোচনার আবেদন করতে পারবেন।

তাতে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত না বদলালে আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন।

তাতেও তিনি বিফল হলে সরকার সাজা কার্যকরের পদক্ষেপ নেবে।

২০১৩ সালের ১৫ মে ট্রাইব্যুনাল কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম লীগের এই সাবেক নেতাকে।

বয়স ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। 

যুদ্ধাপরাধের ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পরের বছর ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।

সেই বিচার শেষে ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে।

সেই রায়ের পর একাত্তরের এই যুদ্ধাপরাধীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ের সময় তিনি ছিলেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে।

ফাঁসিকাষ্ঠের পথে

নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল।

সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ।

পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ।

তবে রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল  কাদের মোল্লা “রিভিউ” খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে।

রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা

আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

যা বলেছিল ট্রাইব্যুনাল

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর সৈয়দ কায়সারের মামলার রায় ঘোষণা করে।

ট্রাইব্যুনাল অন্য অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষণের দায়ে কোনো যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ ছিল সেটাই প্রথম।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিকে ‘দমনের অস্ত্র হিসাবে’ ধর্ষণের ব্যবহার এবং সেই পাশবিকতার শিকার নারীদের দুর্দশার কথা বার বার উঠে আসে এই রায়ে।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত আড়াই লাখ বীরাঙ্গনা ও

তাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশুদের ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে ‘জাতীয় বীর’ হিসাবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন-

তারা আমাদেরই মা, আমাদেরই বোন। আমরা আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারি না।”

বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের প্রাপ্য সম্মান দেখাতে তাদের দুর্দশা কমানোর জন্য সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও রায়ে আশা প্রকাশ করা হয়।

ক্ষতিপূরণ স্কিম চালুর পাশাপাশি বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের তালিকা করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা

এবং যারা ইতোমধ্যে মারা গেছেন, তাদের মরণোত্তর সম্মান জানিয়ে স্বজনদের শোক ও দুর্দশা লাঘবের ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে বলে ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “সমাজ ও জাতিকে আরো মনে রাখতে হবে যে, বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুরা যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত, মুক্তিযোদ্ধারা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সমাজ ও জাতির কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই এখনো সেই আত্মত্যাগের জন্য মানসিক ক্ষত বয়ে চলেছেন বেঁচে থাকা বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুরা।

ধর্ষণের শিকার এসব নারীদেরও মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেওয়া উচিৎ, তাদের অব্যক্ত বেদনাকে আর অবহেলা করা যায় না।”

ট্রাইব্যুনাল বলে, সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়,

বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের সম্মান দেখাতে তাদের দুর্দশা কমানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আদালত আশা করে।

 “শুধু ধর্ষণের শিকার নারীদের ক্ষত দূর করার জন্য নয়, বরং আমাদের সমাজ ও জাতির ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্যও এটি করা প্রয়োজন।

তাই, তাদের মানসিক-সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য বিস্তৃত ও সুশৃঙ্খল মনোযোগ ও ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছি আমরা।”

হবিগঞ্জের মাধবপুরের ইটাখোলা গ্রামের সৈয়দ সঈদউদ্দিন ও বেগম হামিদা বানুর ছেলে

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ওরফে মো. কায়সার ওরফে সৈয়দ কায়সার ওরফে এসএম কায়সারের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৯ জুন।

তার বাবা সৈয়দ সঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসন থেকে কনভেনশন মুসলিম লীগের এমএলএ নির্বাচিত হন।

ওই বছরই মুসলিম লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তার ছেলে কায়সার।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত কায়সার মুসলিম লীগ সিলেট জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন।

১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এই মুসলিম লীগ নেতা।

তিনি নিজে ছিলেন ওই বাহিনীর প্রধান।

তিনি যে সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক

এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছিলেন- সে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের রায়েও উঠে আসে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করার ঠিক আগে কায়সার পালিয়ে লন্ডনে চলে যান।

দেশে ফেরেন ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর।

জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৮ সালে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হন কায়সার।

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন।

পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ বিএনপির সভাপতি হন।

১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির শাহ আজিজুর রহমান অংশের যুগ্ম মহাসচিবও হন।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে কায়সার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান।

১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে আবারও দুই দফা তিনি সংসদ সদস্য হন।

ওই সময় তাকে কৃষি প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব দেন এরশাদ।

এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন কায়সার।

এক পর্যায়ে এরশাদের দল ছেড়ে তিনি যোগ দেন পিডিপিতে।

এই যুদ্ধাপরাধীর ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর ও সৈয়দ মোহাম্মদ গালিব দুজনেই বিতর্কিত গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানির (গ্যাটকো) পরিচালক।

দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার দায়িত্ব ওই কোম্পানিকে দেওয়ার

এক মামলায় তাদের দুজনকেই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগারে যেতে হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ওই মামলার আসামি।

 

নাজমুল হুদার স্ত্রী ও দুই মেয়ের আগাম জামিন ৮ সপ্তাহের
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : টাকা পাচার করে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায়

সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদা এবং দুই মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা হুদার আট সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরআগে সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।

আদালতে আজ আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

খুরশিদ আলম খান আগাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলেও জানান ।

 গত ৯ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলাটি করেন।

দুই মামলাতেই সিগমা হুদাকে আসামি করা হয়েছে।

এক মামলায় সিগমা হুদা ও অন্তরা সেলিমা হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,

৪ কোটি ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেন তারা।

সেই অর্থ দিয়ে লন্ডনের ওয়াটার গার্ডেনসের বারউড প্যালেসে ২০০৩ সালের ২৬ জুন একটি ফ্ল্যাট কেনেন।

অন্য মামলার অভিযোগে বলা হয়, সিগমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা হুদা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেন।

ওই অর্থ দিয়ে তারা ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর লন্ডনের হেলনি কোর্টের ডেনহাম রোডে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।

 


   Page 1 of 69
     আদালত
১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি
.............................................................................................
হাইকোর্টে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব
.............................................................................................
শেষ ইচ্ছার কথা বলছেন না নির্ভয়ার ধর্ষকরা
.............................................................................................
মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের দীর্ঘদিনের প্রণয় ছিল-অ্যাটর্নি জেনারেল
.............................................................................................
স্নাতক ছাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি পদে নয় : হাইকোর্ট
.............................................................................................
লালদীঘিতে ২৪ জনকে হত্যার রায় ঘোষণা বিকালে
.............................................................................................
আজ প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৬ জনের জামিন শুনানি
.............................................................................................
থানা হেফাজতে মৃত্যু, ওসির ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ
.............................................................................................
সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ সরবরাহে কমিটি গঠনের নির্দেশ
.............................................................................................
মতিউর রহমান-এর `বিষয়টি যাতে প্রথম আলোকে দেখে নেবার মতো না হয়`
.............................................................................................
জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়ন, দুই আইনজীবীকে অব্যাহতি হাইকোর্টের
.............................................................................................
সগিরা হত্যা মামলায় চার্জশিট-৪
.............................................................................................
মেয়র প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু
.............................................................................................
যুদ্ধাপরাধী কায়সারের ফাঁসি আপিলেও বহাল
.............................................................................................
নাজমুল হুদার স্ত্রী ও দুই মেয়ের আগাম জামিন ৮ সপ্তাহের
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশ
.............................................................................................
মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কায়সারের আপিলের রায় আগামী মঙ্গলবার
.............................................................................................
আদালতে মজনু, ১০ দিনের রিমান্ড
.............................................................................................
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পিলখানা হত্যাকান্ডের
.............................................................................................
পাকিস্তানের ক্ষমা আইন : হত্যার দায় থেকে রেহাই পাওয়ার মূল্য
.............................................................................................
ক্যাসিনোকান্ডের শেখ মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদ- দুদক
.............................................................................................
কৃষ্ণা রায়কে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া প্রশ্নে রুল
.............................................................................................
আগাম জামিন পেলেন বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী নাদিম চৌধুরীর
.............................................................................................
১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ রবিকে
.............................................................................................
আবরার হত্যায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ ৪ আসামিকে ধরতে
.............................................................................................
গ্রেফতারে পরোয়ানা বিচারপতি সিনহাকে
.............................................................................................
ধর্ষণ মামলায় এসআই কারাগারে
.............................................................................................
জামিন পেলেন যুবলীগ নেতা শফিকুল
.............................................................................................
বরগুনার যুদ্ধাপরাধে মান্নান হাওলাদারসহ ৪জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
.............................................................................................
শিশু তুহিন হত্যায় বাবাসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট
.............................................................................................
দুদকের মামলা সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে
.............................................................................................
কামাল হোসেনের ওপর হামলা : প্রতিবেদন পিছিয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
দীপন হত্যা : পরবর্তী সাক্ষ্য ১৫ জানুয়ারি
.............................................................................................
ব্যবসায়ী তোবারক হোসেন হত্যা মামলায় আটক-৫
.............................................................................................
নুরদের ওপর হামলায় মামুন ,তূর্য ও শান্ত কারাগারে
.............................................................................................
নুরকে নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাবি ভিসিকে নোটিশ
.............................................................................................
সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে সফল হতেই হবে : আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
বাবুল চিশতীর স্ত্রী-কন্যাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
.............................................................................................
নুরদের ওপর হামলায় রিমান্ডে-৩
.............................................................................................
দাবাং-থ্রির আয়
.............................................................................................
সকার বাপেক্সের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে চায়
.............................................................................................
সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান
.............................................................................................
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য রিমান্ডে ৪
.............................................................................................
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পারভেজ মুশাররফ
.............................................................................................
দুদক কার্যালয়ে এজাহার দাখিলের ক্ষমতা : হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
ফখরুলসহ ২৩ নেতার আগাম জামিন
.............................................................................................
অ্যাটর্নি জেনারেল : ১৭ বছর জেল খাটতে হবে খালেদাকে
.............................................................................................
খালেদার জামিন শুনানি সমাপ্ত, অপেক্ষা শুধু আদেশের
.............................................................................................
পাকিস্তানে হাসপাতালে আইনজীবীদের হামলা, নিহত ৩
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি