ঢাকা, সোমবার , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ , ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > করোনায় দেশে আরো ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১,২৭৫   > এক্সট্রাকশনের পর নেটফ্লিক্সের নতুন ছবিতে ক্রিস হেমসওয়ার্থ   > ঠাকুরগাঁওয়ে সুরক্ষা সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ   > বিনামূল্যে গ্রামীন জনপদের প্রান্তিক মায়েরা পাচ্ছে জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের সেবা   > বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে বাঁধের পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন   > টাঙ্গাইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা!   > নীলফামারীতে ভিটামিন"এ" ক্যাম্পেইন সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা   > সাংগুতে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড   > মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস পালন   > বৌদ্ধবিহারে বিশ্ববিদ্যালয় পুন:প্রতিষ্ঠার দাবি  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
খাল দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন, খুশি কৃষক

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনীর সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন করায় বন্ধ হয়ে যায় পানির প্রবাহ। এতে উপজেলার তেরাইল, ষোলটাকা ও শওড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষকদের কয়েক হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ফলে নিরব দুর্ভিক্ষ চলে ওইসব কৃষক পরিবারে। তবে সেই খালটি দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের যৌথ উদ্যোগে জলাবদ্ধ বিলের পানি নিষ্কাশনে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দখলীয় খালের পাড় কেটে দেয়া হয়। ৪ হাজার বিঘা কৃষি জমি থেকে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় গ্রামবাসী খুশী হলেও একশ্রেণির অসাধু চক্র বিরোধ সৃষ্টিতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তেরাইল গ্রামের লোকজন পুকুরের পাড় কাটতে গেলে ষোলটাকা গ্রামের কয়েকজন বাঁধা দেয়।
গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের মহিনুর ও মো. আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তেরাইল, ষোলটাকা ও শহড়াবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রিটিশ আমলের এ ঘিদার খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা করে বিদেশিরা যাওয়া-আসা করতো। তেরাইল গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তারা বিভিন্ন পণ্য বেচা-কেনাও করতো। ধীরে ধীরে পলি পড়ে সরু হয়ে যাওয়ায় ১৯৮০ সালের দিকে খালটি সরকারিভাবে পুন:খনন করা হয়। এ খালের পানি দিয়ে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ দিত। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে মাঠের পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার পাশাপাশি গ্রামের মানুষ এ খাল থেকে উৎপাদিত নানা প্রজাতির দেশি মাছ পেয়ে তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতো। কিন্তু দখলদারদের কারণে মানুষ সেসব সুবিধা থেকে এতোদিন বঞ্চিত ছিলো।
বামন্দী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, ষোলটাকা গ্রামের নিরীহ লোকজনকে উস্কানী দিয়ে মামলা, মানববন্ধন, এমনকি এমপি মহোদয়কে জড়িয়ে নানা কটুক্তি, ষড়যন্ত্র চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলেছে।
এনিয়ে বামন্দী ইউপি মেম্বর জিয়াউর রহমান বলেন, এমপি মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে অবৈধ সরকারি খালে নির্মিত পুকুরের পাড় কেটে পানি বের করা হয়েছে। সেখানে কোন রকম মারামারী বা সংঘর্ষ হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য অবৈধ পুকুরের পাড় কাটা হয়েছে। পুকুর মালিকদের নেট দেয়াতে কোনরকম বাঁধা দেয়া হয়নি। আমরা উভয় গ্রামের নেতৃবৃন্দ এ সাথে বসে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছি। এর মধ্যে এক শ্রেনির স্বার্থান্বেষী চক্র মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন করে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না।

খাল দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন, খুশি কৃষক
                                  

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনীর সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন করায় বন্ধ হয়ে যায় পানির প্রবাহ। এতে উপজেলার তেরাইল, ষোলটাকা ও শওড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষকদের কয়েক হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ফলে নিরব দুর্ভিক্ষ চলে ওইসব কৃষক পরিবারে। তবে সেই খালটি দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের যৌথ উদ্যোগে জলাবদ্ধ বিলের পানি নিষ্কাশনে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দখলীয় খালের পাড় কেটে দেয়া হয়। ৪ হাজার বিঘা কৃষি জমি থেকে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় গ্রামবাসী খুশী হলেও একশ্রেণির অসাধু চক্র বিরোধ সৃষ্টিতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তেরাইল গ্রামের লোকজন পুকুরের পাড় কাটতে গেলে ষোলটাকা গ্রামের কয়েকজন বাঁধা দেয়।
গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের মহিনুর ও মো. আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তেরাইল, ষোলটাকা ও শহড়াবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রিটিশ আমলের এ ঘিদার খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা করে বিদেশিরা যাওয়া-আসা করতো। তেরাইল গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তারা বিভিন্ন পণ্য বেচা-কেনাও করতো। ধীরে ধীরে পলি পড়ে সরু হয়ে যাওয়ায় ১৯৮০ সালের দিকে খালটি সরকারিভাবে পুন:খনন করা হয়। এ খালের পানি দিয়ে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ দিত। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে মাঠের পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার পাশাপাশি গ্রামের মানুষ এ খাল থেকে উৎপাদিত নানা প্রজাতির দেশি মাছ পেয়ে তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতো। কিন্তু দখলদারদের কারণে মানুষ সেসব সুবিধা থেকে এতোদিন বঞ্চিত ছিলো।
বামন্দী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, ষোলটাকা গ্রামের নিরীহ লোকজনকে উস্কানী দিয়ে মামলা, মানববন্ধন, এমনকি এমপি মহোদয়কে জড়িয়ে নানা কটুক্তি, ষড়যন্ত্র চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলেছে।
এনিয়ে বামন্দী ইউপি মেম্বর জিয়াউর রহমান বলেন, এমপি মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে অবৈধ সরকারি খালে নির্মিত পুকুরের পাড় কেটে পানি বের করা হয়েছে। সেখানে কোন রকম মারামারী বা সংঘর্ষ হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য অবৈধ পুকুরের পাড় কাটা হয়েছে। পুকুর মালিকদের নেট দেয়াতে কোনরকম বাঁধা দেয়া হয়নি। আমরা উভয় গ্রামের নেতৃবৃন্দ এ সাথে বসে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছি। এর মধ্যে এক শ্রেনির স্বার্থান্বেষী চক্র মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন করে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না।

নওগাঁর পত্নীতলায় কৃষি প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্বোধন
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পত্নীতলায় উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষন (৩য় পর্যায়) প্রকল্পে উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার এমপি। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেক চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গাফফার, নওগাঁ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক, পত্নীতলা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সৈকত দাস, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রকাশ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

গবাদী পশুর খাদ্য সংকটে দিশেহারা কৃষক
                                  

সাহানুর রহমান, পাবনা : পাবনার চাটমোহরের খাল বিল জলাশয়ের পানি কমলেও কমছে না গবাদী পশুর খাদ্য সংকট। বর্ষায় বিলগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করার ফলে গোচারণ ভূমি ও ঘাস খেত ডুবে যাওয়ায় গবাদী পশুর খাদ্য সংকট শুরু হয়। এক দিকে খড়ের মূল্য বৃদ্ধি অন্য দিকে চাষ কৃত উন্নত জাতের ঘাস ক্ষেতগুলো পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গরু মহিষ, ছাগল, ভেড়া নিয়ে বিপাকে পরেছেন চাটমোহরের পশু মালিকেরা। গরু মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে পশু মালিকেরা পানিতে ভাসমান কচুরী পানা ও রাস্তাার পার্শ্ববর্তী লতা গুল্ম ও গাছের পাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছেন। এ এলাকার অনেক পশু মালিক অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি গরু মহিষকে এখন এসব খাবার খাওয়াচ্ছেন।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহরে ৩শ ২৮ টি গাভীর খামার, ২৩২টি গরু মোটা তাজাকরণ খামার, ৩৮ টি ছাগলের খামার ও ৩২ টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারসহ অন্যান্য কৃষকের মিলে মোট ৯৯ হাজার গরু দুই হাজার ৭শ মহিষ, ১ লাখ ২৪ হাজার ছাগল ও ৪ হাজার ৭শ ভেড়া রয়েছে। আষাঢ়-শ্রাবন মাসে চাটমোহরের বিল গুলোতে বর্ষার পানি প্রবেশ করে। বছরের অন্যসময় গুলোতে দিনের বেলা গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে পতিত গোচারণ ভূমিতে খাওয়ানো সম্ভব হলেও বর্ষা ও শরতের প্রায় চার মাস মাঠে পানি থাকায় গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এসময় পুরোপুরি খড় খইল ভুশিসহ অন্যান্য দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করতে হয় পশু মালিকদের। বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে কৃষক বোরো ধান কাটলে বোরো ধানের কিছু খড় পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। ভাটি এলাকায় খড়ের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় সেসব এলাকার খড় ব্যবসায়ীরা চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় এসে চড়া দামে বোরো ধানের খড় কিনে নিয়ে যান। কুষ্টিয়া যশোর ঝিনাইদহসহ দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু অঞ্চল থেকে খড় ব্যবসায়ীরা কিছু খড় কিনে অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়া দিয়ে চাটমোহর এলাকায় এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। বর্তমান এ এলাকায় ছোট ছোট একশ আটি খড় প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পশু মালিকেরা চড়া দামে পশুখাদ্য কিনে খাওয়াতে হিম শিম খাচ্ছেন। অনেকে পশু পালন ছেড়ে ও দিচ্ছেন।চাটমোহরের পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকরভাঙ্গা গ্রামের মোসলেম সরদার জানান, তিনটি গরু রয়েছে তার। গরুর খড় খইল ভুষি বাবদ তাকে প্রতিদিন প্রায় ৬শ টাকা ব্যয় করতে হয়। গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গবাদী পশু পালন করে লাভবান হতে পারছেন না তিনি। বাধ্য হয়ে গরুর খাদ্য ব্যয় কমাতে প্রতিদিন কচুরী পানা কেটে খাওয়াচ্ছেন। একই গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মুন্নী ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী। চারটি গরু তাদের।
মুন্নী জানায়, কচুরীপানা খাওয়ালে অন্যান্য ঘাস কম লাগে। তাই খরচ বাঁচাতে কচুরী পানা কাটছি। ক্ষুদ্র গোখামারী আনিসুর রহমান জানান, খড় খইল ভুশি ভুট্টাসহ গরুর প্রায় প্রতিটি খাবারের দামই বেশি। এ অবস্থায় গরু পালন করা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পরেছে।
একজন ভেটেরেনারী সার্জন জানান, কচুরীপানা গবাদী পশুর আদর্শ খাবার নয়। গবাদী পশুর খাদ্য সংকটের কারণে অনেকে কচুরী পানা, লতা পাতা খাওয়ান।কিন্তু কচুরী পানাতে পানির পরিমান বেশি থাকে। গবাদী পশুকে মাত্রাতিরিক্ত কচুরী পানা খাওয়ালে পাতলা পায়খানা বা বদ হজম হতে পারে।

কৃষি প্রণোদনা পেলেন কুমারখালীর ৮শ ৩৩জন কৃষক
                                  

কুষ্টিয়া ব্যুরো : কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ পেয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮শ ৩৩জন কৃষক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে এগুলো বিতরণ করা হয়।

প্রতিবার একযোগে দেয়া হলেও, এবার করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব মেনে ধাপে ধাপে বিতরণ করা হয়েছে প্রণোদনার সার ও বীজ। একেক দিন একেক ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয় প্রণোদনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সার ও বীজ বিতরণের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস জানান, এ বছর প্রথম পর্যায়ে ৩শ ৮৩ জন ও ২য় পর্যায়ে ৪শ ৫০ জন কৃষককের মধ্যে এ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। জনপ্রতি কৃষক পেয়েছেন ৫ কেজি বীজ, ডিএপি (সার) ২০ কেজি ও এমওপি (সার) ১০ কেজি।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা
                                  

জাকের আলী শুভ, কুষ্টিয়া ব্যুরো : মহামারী করোনার মহা বিপর্যয়ের মধ্যে এবার দেশে লম্বা সময়ের স্থায়ী বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে। বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মাঝে বন্যায় তারা চরম অসহায় অবস্থায় আছেন। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জমি চাষ করে লাউ, করলা, বেগুন, লালশাক সহ বিভিন্ন শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

জমি চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে আবার ঝড় বৃষ্টি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড় বৃষ্টির কারণে আগাম সবজি চাষে প্রচুর খরচ হচ্ছে। এরই মধ্যে কৃষকরা সবজি লাগানোর জন্য একের পর এক জমি চাষ করে যাচ্ছেন। একটু খরা হলেই শুরু হয় জমি চাষের প্রক্রিয়া। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে এভাবেই সবজি চাষ করার জন্য জমিকে উপযোগী করে তৈরি করছেন চাষিরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। বৈরী আবহাওয়া ও টানা ঝড় বৃষ্টির কারণে এবারের সবজি চাষাবাদ করতে খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানান সবজি চাষিরা।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের সবজি চাষি নন্দীগ্রামের চন্দ্র শেখর বিশ্বাস জানান, এবারের ঝড়-বৃষ্টি বেশি হওয়ার কারণে জমিতে বেশি চাষ করতে হচ্ছে। একটু খরা হলে শুরু হয় চাষাবাদ। আবার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয়ে যায় ঝড় বৃষ্টি। আবার খরা হলে নতুন করে চাষ করতে হয়। এভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে তৈরি করতে হচ্ছে সবজি চাষের জমি।
হিজলাকরের হুদা গ্রামের সবজি চাষি মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, দুর্যোগ যখন আসে চতুর্দিক থেকেই আসে। একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম সবজি চাষে ব্যাহত হচ্ছে। মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে জীবনকে বাঁচাতে যেভাবে যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের। ঠিক সেভাবেই আগাম সবজি চাষ করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। করোনার কারণে অনেক জেলার বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছেন সবজি চাষে।

আবহাওয়া ভালো থাক আর না থাক তবুও আগাম সবজি চাষ করতে পিছপা হননি সবজি চাষিরা। বর্তমানে বাজারে সবজিকম পাওয়া গেলেও মাস খানেকের মধ্যে সবজিতে ভরপুর হবে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলো। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবেন শীতকালীন আগাম শাকসবজির। তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কুমারখালী উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের সবজি চাষি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেকে সবজি চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। গতবারে যে চাষি ৫বিঘা সবজি চাষ করেছিলেন এবারে তা কমে এসেছে তিন থেকে চার বিঘায়। টানা বৃষ্টিতে অনেকেরই জমিতে পানি থাকার কারণে সবজি চাষ করতে পারেন নাই। এবার সবজি চাষে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দাম ভাল পাবো বলে আশা করছি।

কুমারখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। এই এলাকার মাটি অনেক উর্বর তাই ফলন বেশি হয়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মহামারি করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে কৃষকের মাঝে কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন চাষাবাদের কলাকৌশল সর্ম্পকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছর প্রায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শীতকালীন আগাম সবজি চাষাবাদ হয়েছিল যার উৎপাদন ১১৭৪৩ মে:টন সেতুলনায় এবারে সবজি চাষ আবহাওয়া পরিস্থিতি কারণের কিছুটা কম হবে।

কুমারখালীতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ
                                  

কুষ্টিয়া ব্যুরো : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ মেশিনের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে স্বল্প খরচ ও অল্প সময়ে ধানের চারা রোপণের জন্য কৃষক পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে উপজেলার পৌরসভাসহ ১৬টি প্রদর্শনীতে মেশিনটি পাঠিয়ে প্রদর্শনী প্লটে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আফরিন সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রাইসুল ইসলাম এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সহ অত্র দপ্তরের অন্যান্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ করলে ৩৫ শতাংশ জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদিত হয়। এই পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরি করতেও কোন জমির প্রয়োজন হয় না। ছোট ছোট প্লাস্টিক বা ধাতব ট্রেতে খুব সহজেই বীজতলা তৈরি করা যায়। ১২ থেকে ১৫ দিন বয়সি ধানের চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে তুলে জমিতে রোপণ করা যায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে আখ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন
                                  

নূরে আলম শাহ, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ২০-২১ মৌসুমে আখ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার চিলারং গ্রামে মৌসুমের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াৎ হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আবদুছ ছামাদ, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) নুরুল কবির, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) হুমায়ুন কবির, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম, ডিজিএম (সম্প্র:) আবু রায়হান, ডিজিএম (সিপি) সুমন কুমার সাহা, সাবজোন প্রধান মহসিন আলম, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এনাইত আলী উলুব্বী, আখ চাষী ইউনুস আলী, তোজাম্মেল হক, তোফাজ্জল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এ সময় সদর উপজেলার চিলারং গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাদাকাশ ও বশির উদ্দিনের জমিতে ঈ-৪৬, ঈ-৩৫ ও ঈ-৩৬ জাতের আখ রোপণের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
২০-২১ মৌসুমে ৮ হাজার একর আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। যা গত বছরে ৫ হাজার ৬৫০ একর ছিল। চলতি মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯ হাজার মে: টন। এতে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৩০ মে: টন। আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে শতকরা ৭ শতাংশ। ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মিল জোন এলাকায় একযোগে ৫০টি কেন্দ্রের ৮০টি ইউনিটে একযোগে আখ রোপণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হবে জানান মিল কর্তৃপক্ষ।

মাছের পোনা অবমুক্তকরণ
                                  

কুষ্টিয়া ব্যুরো : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওয়তায় অভ্যন্তরীন জলাভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানক্ষেত, প্লাবন ভূমি, প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়সহ ১২ টি প্রতিষ্ঠানে ৪০০ কেজি কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৪০ কেজি পোনা অবমুক্তকরণ করেন ৭৮ কুষ্টিয়া -০৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

এসময় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজবাড়ীতে লোকসানে চাষিরা
                                  

আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলাটি কৃষি নির্ভর অঞ্চল। এ জেলাতে প্রতিবছরই প্রচুর পরিমানে পাটের আবাদ করেন চাষিরা। এবছর পাট আবাদের শুরু থেকেই প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো পাটের মৌসুমটাই অতি বৃষ্টির কারনে আবাদী পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে পাটের ফলন ভালো হয়নি। পাটের দৈর্ঘ্য ও আঁশ এবং আশানুরুপ মোটা না হওয়ায় এদিকে ক্ষেতের মধ্যে পানি জমে অধিকাংশ পাট শুকিয়ে মরে যাওয়ার কারনে চরম ভাবে লোকসানে পরেছেন কৃষকেরা। পাট চাষে যে পরিমান খরচ হয়েছে সে খরচ না ওঠার শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। এতে আশানুরুপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন পাট চাষি ও রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।
রাজবাড়ী ৫টি উপজেলার সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দের সব খানেই পাটের আবাদ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বালিয়াকন্দি ও পাংশা ও কালুখালী উপজেলার ফসলী মাঠ গুলোতে। পাটের আবাদ শুরু থেকেই অতি মাত্রায় বৃষ্টিপাতের কারনে এবং জমিতে পানি জমে পাটের ক্ষতি হয়েছে। তবে উচু জমিতে পাট ভালো হলেও নিচু জমিতে পাটের ফলন একবারেই ভালো হয়নি। অতি বৃষ্টিতে পাটের আকার ও পাটের আঁশ কোনটিই ভালো হয়নি। অন্যদিকে শেষ সময়ে এসে অধিকাংশ পাটের ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় পাট শুকিয়ে মরে গেছে। বিঘা প্রতি বীজ, সার, ঔষধ, চাষ, কীটনাশক ও মজুরিসহ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ফলন ভালো না হওয়ায় বিঘা প্রতি যা খরচ হয়েছে তা উঠবে না। আগে যেখানে ১ বিঘা জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া যেত এবছর সেখানে ফলন ভালো না হওয়ায় ৩ থেকে ৪ মণের বেশি পাট উৎপাদন হবেনা। যে কারনে পাট চাষিরা পরেছেন মারাত্বক লোকসানের মুখে।
পাট চাষিরা বলেন, এবছরের পাট চাষের শুরু থেকেই অতি বৃষ্টিতে পাট বড় ও মোটা হয়নি। আগে যেখানে ৮ ফিট থেকে ১০ ফিট লম্বা হত বর্তমানে ৩ থেকে ৫ ফিট লম্বা হয়েছে। বৃষ্টির কারনে পাটের গোড়া থেকে পলি মাটি সরে গীয়ে অধিকাংশ পাট চিকন ও অপুষ্ট হয়েছে। পাটের ক্ষেতে পানি জমে থাকায় পাট শুকিয়ে মরে গেছে বেশিরভাগ জমিতে। এতে তারা আর্থিক ভাবে চরম লোকসানের মধ্যে পরেছেন। ১ বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে পাট চাষে। পাট নষ্ট হওয়ায় খরচের টাকাই উঠবেনা বলে জানান চাষিরা। পাটের বাজার দর নিয়েও রয়েছে তাদের শঙ্কা। তবে এবছর মণ প্রতি ৩ হাজার টাকার কম বাজার দর পেলে তারা মারাত্বক ভাবে লোকসানের মধ্যে পরবেন।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপল কৃষ্ন দাস বলেন, এ বছর রাজবাড়ীতে ৪৬ হাজার ৪শত ৮৫ হেক্টর পাটের আবাদ হয়েছে। তবে প্রথম থেকেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে জমি গুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে পাটের ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে পাটের উৎপাদনে যে লক্ষমাত্রা ছিল তা ব্যহত হওয়ায় আশঙ্কা করছেন। গত বছর হেক্টর প্রতি পাটের উৎপাদন ২.১৫ মে. টন হলেও আবাদেও শুরুতে আম্ফান ও অতিবৃষ্টির কারনে এবছর ফলন ব্যহত হওয়ার কারনে ২ মেঃটন উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন। তবে চাষিরা যদি পাটগুলো ঠিক সময়ে কেটে জাগ দিয়ে ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারলে তেমন একটা লোকসান হবেনা বলে জানান।

বগুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজির চারা
                                  

বগুড়া ব্যুরো : বগুড়া গাবতলীর বাগবাড়ীতে প্রকৌশলী রাজ্জাকুল আমিন রোকন তালুকদারের হাইটেক নার্সারীর মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চারা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক কৃষক প্রকৌশলী রোকন তালুকদারের বোপন করা চারা গুলো নিয়ে গিয়ে জমিতে রোপন করে তাঁরাও বেশ লাভবান হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তিনি (রোকন তালুকদার) কয়েক বছর হলে অতি যত্ন সহকারী অত্যাধনিকভাবে মরিচসহ অন্যান্য সবজির চারা উৎপাদন করে আসছেন। এই চারা গুলো কৃষকরা নিরাপত্তার সাথে নিয়ে গিয়ে জমিতে রোপন করছেন। মরিচ ছাড়াও উৎপাদনকৃত চারা গুলো হলো টমেটো, কপি, বেগুন, তরমুজসহ আরো অন্যান্য সবজির চারা। এ ছাড়া প্রকৌশলী রোকন তালুকদার এ বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন এবং এলাকায় আলোড়ন সৃস্টি করেছেন। তিনি নিষ্ঠার সাথে আধুনিকভাবে চারা উৎপাদন করায় এলাকায় তাঁর কদর বেড়েছে। আগের প্রচলিত সবজির চারা খোলা মাঠের মাটিতে উৎপাদন করায় মাটি বাহিত রোগ ও উড়ন্ত পোকা মাকড় নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতো না। ফলে প্রকৌশলী রোকন তালুকদার পলিনেট হাউসের ঘর করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন নেট লাগিয়ে সিডলিং ট্রেতে কোকো পিটের (নারিকেলের ছোবলা) মাধ্যমে গুণগত মানের সবজির চারা উৎপাদন করছেন। এতে করে চারা গুলো সমান খাবার পায় এবং সমানভাবে বেড়ে উঠে। এই চারায় শিকড় ছিঁড়ে যায় না, যে কারনে ক্ষেতের মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস চারায় প্রবেশ করতে পারে না। এ ছাড়া ঘরে (শেড) চারিদিক নেট ও ২টি দরজা থাকায় চারা বৃদ্ধিকালিন সময়ে কোন পোকা মাকড় প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে পরিশ্রম আরা অত্যাধনিকভাবে চারা উৎপাদন করায় প্রকৌশলী রাজ্জাকুল আমিন রোকন তালুকদারের হাইটেক নার্সারীর মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চারা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া তিনি (রোকন) দীর্ঘ দিন যাবৎ হলে পোল্ট্রি পালন, মৎস্য চাষ ও কৃষি উৎপাদন করে আসছেন।
প্রকৌশলী রোকন তালুকদার জানান, এলাকায় অনেক কৃষক বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু তা পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্যসমত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উৎপাদন হয় না। আমার সকল সবজির চারা উৎপাদন হয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে।

শখের ড্রাগন চাষে সফল বাগেরহাটের কামরুল
                                  

হেদায়েত হোসাইন, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কৃষক কামরুল ইসলাম (৩৫) বিদেশী ফল ড্রাগন চাষে সফল হয়েছেন। আঙ্গিনায় শখের বসে লাগানো কয়েকটি গাছ থেকে তার এখন শতাধিক গাছ। মৌসুমের অর্ধেক সময়েই এই গাছের ফল দিয়ে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করেছেন তিনি।আরও দুই একর জমিতে নতুন করে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন। কামরুলের সফলতা দেখে প্রতিবেশীরাও ঝুকছেন ড্রাগন চাষে। শুধু কামরুলের প্রতিবেশী নয় বাগেরহাট জেলার অনেকেই সখের পাশাপাশি বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন। মাত্র তিন বছর আগে বড় ভাইয়ের দেওয়া চারা দিয়ে ড্রাগনের চাষ শুরু করেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের কামরুল ইসলাম। বড় ভাইয়ের পরামর্শে নিজেদের খাওয়ার জন্য নিজ বাড়ির উঠোনে কয়েকটি চারা রোপন করেন কামরুল। ৬ মাস পরেই ফল আসে এই গাছে। গাছের ফলের চেহারা ও স্বাদে মুগ্ধ হন কামরুল ও তার পরিবার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এক বছরের মাথায় নিজের গাছের কাটিং (গাছের ডালেরমত কিছু অংশ) দিয়ে চারা তৈরি করেন তিনি। ২য় বছরেই নিজের তৈরি বেশকিছু চারা রোপন করেন তিনি। বাড়ির উঠোনে ২০টি ঝাড়ে (পিলারে) কামরুলের ড্রাগন গাছের সংখ্যা পৌছায় ১২০ টিতে। মাত্র ২ থেকে ৩ শতক জমিতে লাগানো শতাধিক গাছ দিয়ে এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক টাকার বেশি বিক্রি করেছেন। গাছে যে ফুল ও ফল রয়েছে তাতে আরও সমপরিমান আয় হবে এবার কামরুলের। অন্যসব কাজ ছেড়ে দিয়ে এখন শুধু ড্রাগন চাষে মন দিয়েছেন কামরুল ইসলাম।

সফল ড্রাগন চাষী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বড় ভাই চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রাম থাকেন। বছর চারেক আগে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার সময় কিছু ড্রাগণের কাটিং (চারা) নিয়ে আসেন। আমাকে বলে এগুলো লাগা ভাল কিছু হতে পারে। আমি ক্যাকটাস ধরণের গাছ ভেবে না লাগিয়ে ফেলে দেই। পরবর্তীতে ভাই জানতে চাইলে বলি ও দিয়ে কি হবে। আমি ফেলে দিয়েছি। পরের বছর ঈদে আবারও ড্রাগনের কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন। এবার কঠোর নির্দেশনা দেন আমাকে ভাল ভাবে লাগানোর জন্য। আমি কোন মতে লাগাই। মাত্র ৬ মাসেই গাছে ফল আসায় আমি অবাক হয়ে যাই। যত্ন নিতে থাকি গাছ গুলোর। ২য় বছর থেকে গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি শুরু করি। বর্তমানে ২০টি খুটিতে আমার একশ এর মত গাছ রয়েছে। এবার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিক্রি করেছি। এবছর আরও ৫০ হাজার টাকার মত ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। এছাড়া ড্রাগন গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি করে বিক্রি করছি। তা দিয়েও ভাল আয় হচ্ছে আমার।’ কামরুল আরও বলেন, ‘এবছর আমি নতুন করে দুই একর জমিতে ড্রাগণের চাষ শুরু করেছি। প্রতিদিনই ২ একজন লোক আমার ড্রাগন ক্ষেতে কাজ করছেন। অনেকে আমার দেখাদেখি ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। এই গাছে তেমন সার ঔষধ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মোটামুটি গাছের গোরায় আগাছা পরিস্কার ও মাঝে মাঝে ছত্রাক নাশক দিলেই গাছ থেকে ভাল ফল পাওয়া যায়।

কামরুলের প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কামরুলের বাড়িতে বিদেশী ফল ড্রাগনের ফলন দেখে আমাদের ভাল লাগে। কামরুলের কাছ থেকে আমরা কিনে নিয়ে এই ফল খাই। এছাড়া মাঝে মাঝে কামরুল আমাদেরকে প্রতিবেশী হিসেবে খেতেও দেয়।’

কামরুল ইসলামকে দেখে ড্রাগন চাষ শুরু করা ইমতিয়াজ শেখ এবং আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কামরুলের বাড়ির উঠোনে যে পরিমান ড্রাগন হয়েছে আমরা দেখে অবাক হয়েছি। ফলের দামও অনেক ভাল। এবছর ৩‘শ থেকে ৫-৬শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। কামরুল এবং কচুয়া কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমরাও বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। আসাকরি এর মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে সফল হব।’

ড্রাগন চাষে ব্যয়ের বিষয়ে কামরুল বলেন, ‘৪টি গাছের জন্য একটি পিলার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি চারা অন্য ৩৫ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করি। প্রতিটি পিলারের খরচ পরে ৫‘শ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। আমার দুই একর জমিতে ৮‘শ পিলারে ৩ হাজার দুইশ চারা রয়েছে। ভূমি উন্নয়ন, পিলার, সার ও চারা সব মিলিয়ে ৮ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।’ তবে একবার শুরু করার পরে খরচ খুবই কম। মাসে আগাছা পরিস্কার, সেচ ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হাজার পাঁচেক টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ‘ড্রাগন একটি বিদেশী ফল। পুষ্টিগুন, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই চাষীরা সহজে এই ফল চাষ করতে পারে। বাগেরহাটে নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের কামরুল সহ অনেকেই বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। বানিজ্যিক, অবানিজ্যিক ও ছাদ কৃষি সব মিলিয়ে বাগেরহাটে ১০ একরের উপরে জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। চাষীরা ফলও পাচ্ছেন ভাল।’

পাটের দামে কৃষকের মুখে হাসি
                                  

বিশেষ প্রতিবেদক : সব আশঙ্কা কাটিয়ে হাসি ফুটেছে সারাদেশের পাট চাষিদের মুখে। সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করায় পাট ক্রয় বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)। ফলে বাম্পার ফলন হওয়ার পরও পাটের বাজার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে কৃষক। ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকলগুলো যথাযথ মূল্যে পাট কেনা শুরু করায় সব শঙ্কা কেটে গেছে পাট চাষিদের।

গত তিন-চার বছর ধরেই পাটের দাম ভালো যাচ্ছে। গত বছর সিজনের শুরুতে ১৫০০-১৬০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হলেও পরে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি করেছেন কৃষকরা। এবার সিজনের শুরুতেই পাটের দাম ভালো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত বছর দেশে ৬৮ লাখ বেল (এক বেলের ওজন ১৮২ কেজি) পাট উৎপন্ন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৮২ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মোট তিন লাখ ১৬ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক পাট কাটা হয়েছে। এবার ২৬ হাজার ৯৬ হেক্টর জমির পাট বানের পানিতে ডুবে গেছে। তারপরও গত বছরের চেয়ে এবার পাটের উৎপাদন বেশি হবে বলে আশা করছেন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কৃষি তথ্যসেবার সূত্র অনুযায়ী দেশের ৪০ লাখ চাষি পাট চাষ করেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চার কোটি মানুষের জীবিকা পাটকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর মৌসুমে গড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পান কৃষক। দেশের প্রায় সব জেলাতেই পাট উৎপন্ন হয়। তবে বেশি উৎপন্ন হয় ফরিদপুর, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলায়। এসব জেলার পাটচাষিরা এবার পাটের ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি।

পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক সওদাগর মোস্তাফিজুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘এবারতো সিজনের শুরু থেকেই কৃষক পাটের ভালো দাম পাচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে কৃষক আগামীতে পাটচাষে আরও উৎসাহিত হবেন।’

তিনি বলেন, এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ লাখ বেল। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ লাখ বেল বেশি।

আউশের বাম্পার ফলনের আশায় নওগাঁর কৃষকরা
                                  

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। সোনা মাখা রোদে ধানের শীষের সোনালী সমারোহ বলে দিচ্ছে আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা। এবার ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবং সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার পেয়ে কৃষকেরা অধিক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, এবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর বেশি জমি। আউশ ধান চাষে খরচ কম এবং ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এ উপজেলায় বাড়ছে আউশ চাষ। কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনা হিসেবে এবার ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ২০ জন কৃষকের আউশ ধানের ক্ষেত প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। এ ধান চাষ করে কৃষকেরা একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।
চলতি ইরি-বোরো ধান কাটার পর ধানের দাম বেশি পাওয়া ওইসব জমিতেই আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। আউশ ধান চাষে পানি সেচ দেওয়ার তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশক প্রয়োগও অন্যান্য ধান চাষের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম খরচ হয়। তাই উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে। আউশ ধানের চাহিদা ও বাজারে ভালো দাম থাকায় এ ধান উৎপাদনে কৃষকের উৎসাহ বেড়েছে। তাছাড়া আউশ ধান চাষ না করলে ওইসব জমির বেশিরভাগই পতিত পড়ে থাকে। আউশ ধান চাষ করার পরও ওইসব জমিতে আমন বা চিনি আতব ধানের চাষ করা হয়ে থাকে। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা।
সরোজমিনে উপজেলার রাইগাঁ, সারতা, গোসাইপুর, দাউল বারবাকপুর, হাসানপুর, আখেড়া, সিদ্দিকপুর, উত্তরগ্রাম, উত্তর আন্ধারকোঠা, চকরাজা, সরস্বতীপুর, চৌমাশিয়া, খোর্দনারায়ণপুর, হাটচকগৌরী, বাগাচারাসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে সোনালী রোদে বাতাসে দোল খাচ্ছে আউশ ধানের শীষ। অনেক ক্ষেতে সবুজ শীষগুলো সোনালী রঙ ধরতে শুরু করেছে। উপজেলার রাইগাঁ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, সারতা গ্রামের ইমরান হোসেন, গোসাইপুর গ্রামের মোজাফফর রহমান, দাউল বারবাকপুর গ্রামের ইউনুসার রহমান, হাসানপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, উত্তর আন্ধারকোঠা গ্রামের মিন্টু রহমানসহ বেশ কিছু কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবার ইরি- বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় অনেক স্বপ্ন নিয়ে অধিক জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছেন। স্বরসতীপুর গ্রামের খাঁপাড়ার কৃষক আব্দুস ছাত্তার জানান, গত বছর ৪ বিঘা আউশ ধান লাগিয়েছিলেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৭ মণ করে ধান উৎপাদন হলেও সাড়ে ৫শ থেকে ৬০০ টাকায় ওইসব ধান বিক্রি করেছিলেন। তবে গত ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের শুরু থেকে প্রকার ভেদে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে প্রতি মণ ধান কেনা- বেচা হওয়ায় এবং ইরি-বোরো ধানের নায্য মূল্য পাওয়ায় এ বছর ৬ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন।
এবার আউশ মৌসুমের শুরু থেকেই অধিক উৎপাদনের লক্ষে বুকভরা আশা নিয়ে কৃষকেরা দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন আউশ ধান চাষের শেষ মূহুর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, এবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছিল। এবার গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকেরা ইরি-বোরো ধানের মতো আউশ ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে এ উপজেলায় আউশ চাষে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। কৃষকরা যতক্ষণ ফসল ঘরে না তুলছেন ততক্ষণ কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবেন।

ভাসমান বীজতলার সুফল পাচ্ছেন রাজাপুরের কৃষকরা
                                  

রেজাউল ইসলাম ফরাজী, রাজাপুর (ঝালকাঠি) : বিশাল কৃষি জমিতে পানি থৈ থৈ। দেখলে মনে হবে বিশাল সমুদ্র। সেই সমুদ্রের মাঝে মধ্যে একখন্ড সবুজের হাত ছানি। কাছে যেতেই অবাক হবেন। কলার ভেলায় বিশাল সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছে বীজতলাটি। ভেলার উপর বীজতলা। গাঢ় সবুজের সেই রোপা আমন বাতাতে ভেসে বেড়াচ্ছে দিকবেদিক। যখন ভাটার সময়, তখনো ক্ষেতে হাটু পানি। ক্ষেতের আগাছা মাথা উঁকি দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। সেই আগাছা ভেদ করে বীরদর্পে তখনো ভাষমান বীজতলা। এটি অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ডুববে না। সেচের প্রয়োজন পড়বে না। কীটনাশক ছিটাতে হবে না। সারের প্রয়োজন হবে না। এমন বীজতলা এতদিন ছিল কৃষকদের স্বপ্নে। সেই স্বপ্নের বীজতলা বাস্তবেই তৈরী করছেন কৃষকরা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগীতায় চলতি আমন মৌসুমে রাজাপুর উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সময়মতো রোপা আমনের চাষ করতে পারে এজন্য এসব ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারা বিনা মূল্যে চাষীদের দেওয়া হবে।
প্রথমে একাধিক কলার গাছ একসঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তার উপর কচুরিপানা বিছিয়ে দিতে হয়। এর উপর ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পুরু কাদামাটি বিছিয়ে দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সেখানে ছিটানো হয় বীজ ধান। এভাবে রাজাপুর উপজেলায় প্রায় ২৪টি ভাসমান বীজতলায় ইতিমধ্যে চারা গজিয়েছে। চলতি আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এসব ভাসমান বীজতলায় তৈরি চারা। চলছে পরিচর্যার কাজ । এসব বীজতলায় ব্রি-২৩ জাতের বীজ বপন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চারা সঙ্কট মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ডুবে থাকা জমির পাশাপাশি পুকুর ও ডোবায় স্বল্প সময়ে ও কম খরচে এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করতে পেরে খুশি কৃষকরা।
কৃষক রুহুল আমিন খলিফা বলেন বন্যায় পানিতে আমার বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছি। চারা এখন রোপণের উপযোগী। জমি থেকে পানি নেমে গেলেই ধান লাগানো শুরু করব। একটু সময় সাপেক্ষ হলেও আমনে এবার ভালো ধান পাবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, সরকার এসব বীজতলা তৈরির খরচ বহন করেছে কারন ফসল উৎপাদনে বিলম্ব না হয়। তিনি জানান অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তেরি করা হয়েছে যার মধ্যে সাতুরিয়া ইউনিয়নে ১টি, রাজাপুর সদর ইউনিয়নে ২টি, গালুয়া ইউনিয়নে ১টি এবং মঠবাড়িয়া ইউনিয়নে ২টি। সরকার এজন্য ৩২৭৬০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বন্যা পরবর্তী বীজ ও চারা দেবে সরকার : কৃষি সচিব
                                  

মোঃ আজিজুল হক, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : দীর্ঘস্থায়ী ও আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের জমির ফসল। পরিপক্বতার পূর্বেই বন্যার পানি চলে আসায় নষ্ট হয়েছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সোনালী আঁশ পাট, ধানের বীজ তলা, তিল, লেবু ও পেঁপে বাগান সহ কৃষি অনেক জাতের ফসল। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বন্যাকালীন ক্ষয়ক্ষতি ও আগামী দিনগুলোতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় তিনি উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বলেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। প্রাকৃতিক বিভিন্ন দূর্যোগ মোকাবিলা করেই আমাদের কৃষক ভাইয়েরা ফসল ফলিয়ে থাকেন। অপেক্ষাকৃত প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহনীয় বিভিন্ন জাতের বীজ সরবরাহ করছে সরকার। কৃষিখাতে ভূর্তকিসহ নানা ভাবে কৃষককে সহযোগিতা করে কৃষকদের পাশে এ সরকার ছিলো ও ভবিষ্যতেও থাকবে। এবার আকস্মিক বন্যায় অনেক কৃষকই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেকেই জমির ফসল ঠিকমত ঘরে তুলতে পারেন নি। এমতাবস্থায় করোনা ভাইরাসের কারনে জনজীবন এমনিতেই অতিষ্ঠ। তাই কৃষক ভাইয়েরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন। তবু বেঁচে থাকার লড়াই থেমে নেই। সরকার এ সময়ে বন্যা পরবর্তীতে কৃষকের জমির ধরণ বুঝে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বীজ ও চারা বিনামূল্যে প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা সরকারের পক্ষে বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করে তাদের বীজ ও চারা প্রদান করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেবার চেষ্টা করবো যাতে তারা আবার হাসিমুখে ফসল ফলাতে পারেন। নাগরপুর উপেন্দ্র সরোবরে আয়োজিত কৃষকদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষণ সরকারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন: উপ- পরিচালক খামারবাড়ি টাঙ্গাইল কৃষিবিদ মোঃ আহসানুল বাসার, পরিচালক ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম কৃষিবিদ আজহারুল ইসলাম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পরিচালক খামারবাড়ি টাঙ্গাইল বি এম রাশেদুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃআব্দুল মতিন বিশ্বাস, কৃষিবিদ ইমরান শাকিল সহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীগণ।

বান্দরবানে আনারস চাষে সাফল্য: চাষীদের মুখে হাসি
                                  

বাসুদেব বিশ্বাস, বান্দরবান : চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষ করে দারুন সাফল্য পেয়েছেন বান্দরবানের আনারস চাষীরা। ফলে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। এই আনারস যেমনি সুস্বাদু তেমনি মিষ্টি,স্বাদে গন্ধে ও আকারে বড়। ফলে উৎপাদিত আনারসের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছে চাষীরা।

প্রতিদিন জেলা শহরের সদর উপজেলার লাইমি পাড়া, ফারুক পাড়া, গেসমনি পাড়া, স্যারন পাড়া, চিম্বুক এলাকা, রুমা উপজেলার বেথেল পাড়া, মুনলাই পাড়া, ইডেন রোড, ইডেন পাড়া, লাইরুনপি পাড়া, নাজেরেক পাড়া ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সুয়ানলু পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাহাড়ী আনারস এখন চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

বান্দরবানের লাইমি পাড়ার আনারস চাষী পাকসিয়াম বম। তিনি বলেন, পাঁচ একর জমিতে আনারসের চারা গাছ আছে ১৫ হাজার। ফলে পোকামাকড় নেই, ফলন ভালো হয়েছে। বাগানের ফল বাজারে বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয় হয়,এই টাকা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। আনারস চাষী পাকসিয়াম বম আরো বলেন, এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিক্রি কিছুটা দেরিতে হলে ও আমাদের আনারস ভালোই বিক্রি হয়েছে, লাভ ও হচ্ছে বেশ।

বান্দরবানের গেসমনি পাড়ার আনারস চাষী জিংলিং বম জানান,এক হাজার আনারস বিক্রি করলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মত পায়, আর বাগানে এসে পাইকাররা আনারস কিনে ট্রাক অথবা সিএনজি গাড়ি ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর বান্দরবানে ভালো আনারস উদপাদন হয় এবং বিভিন্ন স্থানের পাইকারী ব্যবসায়ীরা বান্দরবান থেকে আনারস সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে ভালো লাভ করে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বান্দরবান জেলায় ৪ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ৮৭ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদন হয়েছিল এবছরে ৮ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে আনারস চাষাবাদ করা হয়েছে যা থেকে উৎপাদন আশাবাদ করা হচ্ছে ৯২ হাজার ৭৫৮ মেট্রিক টন।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো.ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ের জায়গাগুলো ঢালু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমতে পারে না, তাছাড়া পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষ উপযোগী ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষীরা। তিনি আরও বলেন, বান্দরবানে জায়ান্টকিউ আনারসের চাষ হয় এবং এই আনারস ৩-৫ কেজি পর্যন্ত হয়। ওজন বেশি, মিষ্টি এবং আকারে বড়। যার কারণে এর চাহিদা সবজায়গায় বেশি। সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো.ওমর ফারুক আরো বলেন,বান্দরবানের আনারসের চাহিদা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,ঢাকাতে প্রচুর। ভবিষ্যতে এই আনারস বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, সে জন্য মাঠ পর্যায়ে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বালাইমুক্ত আনারস চাষের জন্য কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।


   Page 1 of 12
     কৃষি সংবাদ
খাল দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন, খুশি কৃষক
.............................................................................................
নওগাঁর পত্নীতলায় কৃষি প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্বোধন
.............................................................................................
গবাদী পশুর খাদ্য সংকটে দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
কৃষি প্রণোদনা পেলেন কুমারখালীর ৮শ ৩৩জন কৃষক
.............................................................................................
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা
.............................................................................................
কুমারখালীতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে আখ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন
.............................................................................................
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে লোকসানে চাষিরা
.............................................................................................
বগুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজির চারা
.............................................................................................
শখের ড্রাগন চাষে সফল বাগেরহাটের কামরুল
.............................................................................................
পাটের দামে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
আউশের বাম্পার ফলনের আশায় নওগাঁর কৃষকরা
.............................................................................................
ভাসমান বীজতলার সুফল পাচ্ছেন রাজাপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বন্যা পরবর্তী বীজ ও চারা দেবে সরকার : কৃষি সচিব
.............................................................................................
বান্দরবানে আনারস চাষে সাফল্য: চাষীদের মুখে হাসি
.............................................................................................
শ্রীপুরে আফাজ উদ্দিন মাষ্টারের দৃষ্টিনন্দন মিশ্র ফল বাগান
.............................................................................................
প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে বিএডিসি দত্তনগরস্থ খামার
.............................................................................................
ঈশ্বরগঞ্জে নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে “লাম্পি স্কিন ডিজিজ” গবাদি পশু
.............................................................................................
কৃষিকে আরো আধুনিক করণ করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রনালয় : কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে প্রায় ৪ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত
.............................................................................................
ফলন বেশি হলেও দামে হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গনে নির্বিচারে চলছে মা মাছ নিধন !
.............................................................................................
বীরগঞ্জে আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিঃ-এর ভুট্টা সংগ্রহ ও কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
নীলফামারীতে তিল চাষের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে চালের বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা
.............................................................................................
জমজমাট আম বাজারেও নাখোশ রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
পঞ্চগড়ে চাষ হচ্ছে পুষ্টি ও ঔষুধী গুণে সমৃদ্ধ ড্রাগণ ফল
.............................................................................................
গাংনীতে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় দিশেহারা কৃষকরা
.............................................................................................
মৌ চাষ করে সাবলম্বী শ্রীপুরের মোহাম্মদ আলী
.............................................................................................
শ্রীপুরে কাঁঠালের ফলন ভাল হলেও দাম পাচ্ছেনা বাগান মালিকেরা
.............................................................................................
ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা
.............................................................................................
রাণীশংকৈলে কালো কচুতেই হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে
.............................................................................................
কুমারখালীতে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ
.............................................................................................
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের আর্টিস্টিক জাতের লাল ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
অর্ধেক দামে কৃষি যন্ত্রপাতি, আসছে ৩০০০ কোটি টাকার প্রকল্প
.............................................................................................
চোখ ধাঁধানো সবুজের বুকে হলুদের সমাহার
.............................................................................................
ফুলপুরের মাড়াদেওড়া খাল বিলীন হওয়ার পথে
.............................................................................................
মধুপুরে দোখলা রেঞ্জে ৮ একর জায়গা জবরদখল মুক্ত
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র নওগাঁয় মাঠ দিবস
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র নওগাঁয় মাঠ দিবস
.............................................................................................
আক্কেলপুরে সেচ পানির দাম বৃদ্ধির অভিযোগ
.............................................................................................
সিলেটে সূর্যমুখী ফুলবাগান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ক্যাপসিকাম চাষে সফল মহেশপুর মিন্টু মিয়া
.............................................................................................
কমলগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক
.............................................................................................
রেকর্ড পরিমাণ রসুনের আবাদ পুঠিয়ায়
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে শষ্য আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে শষ্য আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
.............................................................................................
বকশীগঞ্জে সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD