ঢাকা,মঙ্গলবার,১৩ মাঘ ১৪২৭,২৬,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বাঁচতে চায় নীলফামারী আতোয়ারা বেগম   > কমলগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে   > টুঙ্গিপাড়ায় সাড়ে ৩৫শ’ পরিবার পাচ্ছেন নিরাপদ পানি   > ধান সংগ্রহে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে : ইউএনও   > সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা বিষয়ক লোক সংগীত ও পথ নাটক   > মেসিবিহীন বার্সেলোনার জয়   > সাতপাকে বাঁধা পড়লেন বরুণ-নাতাশা   > এসএসসির পাঠ্যসূচি কমিয়ে সিলেবাস প্রকাশ   > কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে   > রিমান্ডে পিকে হালদারের তিন সহযোগী  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কাশ্মিরি আপেল কুল চাষ বিক্রির আশা ৫ লাখ টাকা

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আপেল কুলের পাশাপাশি নতুন জাতের কাশ্মিরি আপেল কুল চাষে এসেছে সাফল্য। ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক। দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির আপেলের মতো। রঙও আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। এ বরই অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত আপেল কুল। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের কৃষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এবছর কুল প্রথম বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা কেজি করে। এখন ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাদের ফলন ও বিক্রি খুব ভালো। কৃষি অফিস থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে। এ বছর উপজেলায় কুল চাষির সংখ্যা বেড়েছে। ফলনও বেড়েছে। কোনো প্রকার সমস্যা না হলে এবার ৫ লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। স্থানীয় আরেক কৃষক তুষার বিশ্বাস। তিনি বলেন, কুল চাষের জন্য উপযুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে ডুমুরিয়া অন্যতম। যেখান সূর্যের আলো পায়, সেসব জায়গায় আপেল কুল ভালো হয়। ভিটা জমিতে যে কুলগুলো চাষ হয়, তার চেয়ে ঘেরের বেড়ির আইলে যে কুলটা হয়, সেই কুলের রং, স্বাদ, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদা খুবই ভালো। কুল গাছ থেকে সংগ্রহ বাছাই ও প্যাকেজিং করে পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আড়তে বিক্রি করেন তারা। ডুমুরিয়ার শোলমারি গ্রামের কৃষক হোসেন সরদার এ বছর তার জমিতে ব্যাপক পরিমাণের কুল চাষ হয়েছে। তিনি ১৮ বছর ধরে কুল চাষ করছেন। ফলন বেশি হওয়াতে ফলের ওজনে তার গাছ ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। আশা করছেন এবার চার লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে। ডুমুরিয়ার জিলেরডাঙ্গী গ্রামের মৎস চাষি নিমাই চন্দ্র তার নিজস্ব মৎস ঘেরের বেড়িতে প্রায় একশত আপেল কুলের গাছ রোপণ করেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কুল বিক্রয় হবে বলে তিনি আশা করেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় এবার ১০০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কুলই ঘেরের পাড়ে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ উপায়ে উৎপাদন হয়েছে। এখানের উৎপাদিত কুল দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এখান থেকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়। এখানে যে জাতগুলো করা হয়েছে তার মধ্যে আপেল কুল, বাউকুল, নারকেল কুল। ইতোমধ্যে আপেল কুল ও কাশ্মিরি আপেল কুলের হারভেস্টিং (গাছ থেকে কুল সংগ্রহ) চলছে। এখান থেকে কুল সরাসরি ঢাকায় যাচ্ছে। এ বছর কুলের বাজার মূল্য বেশ ভালো। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লবণাক্ত এলাকা। কুল লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ উপজেলায় ঘেরের পাড়ে ও বাণিজ্যিকভাবে আরো বাগান তৈরি হচ্ছে। তারা কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের মাঠের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, সেগুলো মাঠে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলা ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে।

কাশ্মিরি আপেল কুল চাষ বিক্রির আশা ৫ লাখ টাকা
                                  

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আপেল কুলের পাশাপাশি নতুন জাতের কাশ্মিরি আপেল কুল চাষে এসেছে সাফল্য। ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক। দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির আপেলের মতো। রঙও আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। এ বরই অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত আপেল কুল। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের কৃষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এবছর কুল প্রথম বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা কেজি করে। এখন ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাদের ফলন ও বিক্রি খুব ভালো। কৃষি অফিস থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে। এ বছর উপজেলায় কুল চাষির সংখ্যা বেড়েছে। ফলনও বেড়েছে। কোনো প্রকার সমস্যা না হলে এবার ৫ লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। স্থানীয় আরেক কৃষক তুষার বিশ্বাস। তিনি বলেন, কুল চাষের জন্য উপযুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে ডুমুরিয়া অন্যতম। যেখান সূর্যের আলো পায়, সেসব জায়গায় আপেল কুল ভালো হয়। ভিটা জমিতে যে কুলগুলো চাষ হয়, তার চেয়ে ঘেরের বেড়ির আইলে যে কুলটা হয়, সেই কুলের রং, স্বাদ, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদা খুবই ভালো। কুল গাছ থেকে সংগ্রহ বাছাই ও প্যাকেজিং করে পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আড়তে বিক্রি করেন তারা। ডুমুরিয়ার শোলমারি গ্রামের কৃষক হোসেন সরদার এ বছর তার জমিতে ব্যাপক পরিমাণের কুল চাষ হয়েছে। তিনি ১৮ বছর ধরে কুল চাষ করছেন। ফলন বেশি হওয়াতে ফলের ওজনে তার গাছ ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। আশা করছেন এবার চার লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে। ডুমুরিয়ার জিলেরডাঙ্গী গ্রামের মৎস চাষি নিমাই চন্দ্র তার নিজস্ব মৎস ঘেরের বেড়িতে প্রায় একশত আপেল কুলের গাছ রোপণ করেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কুল বিক্রয় হবে বলে তিনি আশা করেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় এবার ১০০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কুলই ঘেরের পাড়ে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ উপায়ে উৎপাদন হয়েছে। এখানের উৎপাদিত কুল দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এখান থেকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়। এখানে যে জাতগুলো করা হয়েছে তার মধ্যে আপেল কুল, বাউকুল, নারকেল কুল। ইতোমধ্যে আপেল কুল ও কাশ্মিরি আপেল কুলের হারভেস্টিং (গাছ থেকে কুল সংগ্রহ) চলছে। এখান থেকে কুল সরাসরি ঢাকায় যাচ্ছে। এ বছর কুলের বাজার মূল্য বেশ ভালো। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লবণাক্ত এলাকা। কুল লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ উপজেলায় ঘেরের পাড়ে ও বাণিজ্যিকভাবে আরো বাগান তৈরি হচ্ছে। তারা কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের মাঠের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, সেগুলো মাঠে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলা ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে।

ভোলায় বাড়ছে ক্যাপসিকাম চাষ
                                  

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ। বিদেশি এ সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে চাষিদের। সরকারিভাবে ক্যাপসিকাম চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেয়ে ভোলার চরাঞ্চলে এ সবজি চাষের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে দাবি করছেন চাষিরা। অন্যদিকে রপ্তানীতেও সুবিধা চান তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে মনির পাঠান নামে এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করে। প্রথম বছর সফলতা পেয়ে পরবর্তী বছর বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি এ সবজির চাষ শুরু করেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় গত ৩ বছরে এ সবজির চাষ ও চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। বর্তমানে ভোলার সদরের মাঝের চর ও দৌলতখানের চর মদনপুরে প্রায় ১৫০ একর জমিতে প্রায় ৩০০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. তছির ফরাজী জানান, গত ৫ বছর ধরে এ চরে তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এবছরও তিনি ১ একর জমিতে চাষ করেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। খেতে প্রচুর ফলন হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন আর খেতে যে পরিমাণ ফলন আছে তাকে আরো ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গত বছর খেতে কিছুটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও এবছর সময় মত কিটনাশক ব্যবহার করায় পোকার আক্রমণ নেই। দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. শেখ ফরিদ জানান, আমার এক বন্ধুর ক্যাপসিকাম চাষ করে অধিকলাভবান হয়েছে। এটা দেখে আমি তার সাথে আলাপ করে গত ৩ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করি। ক্যাপসিকাম চাষ করে আমিও লাভবান হয়েছি।
তিনি আরো জানান, এ চরে আমরা আগে ২০থেকে ৩০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করতাম। অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিনই চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপসিকাম চাষে কোন লোকসান নেই। একই এলাকার ক্যাপসিকাম চাষি আব্দুল রব জানান, খেত থেকে আমরা ক্যাপসিকাম তুলে প্যাকেট করি। এরপর লঞ্চে করে ঢাকায় নিয়ে পাইকারী আড়তে বিক্রি করি। যদি ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যেতো তাহলে আমাদের কষ্ট কম হতো ও আরো অধিক লাভ করতে পারতাম। ১নং চর মদনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন জানান, চর মদনপুর ও কাচিয়ার মাঝের চরে বর্তমানে ১০০ কানি (১৬০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পাই না। যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাই তাহলে আগামীতে আমরা দুই চরে ৫০০ কানি (৮০০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করব। ভোলার চরাঞ্চলে ক্যাপসিকামের বিপ্লব ঘটনাতে পারবো। ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ জানান, ভোলা জেলায় গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৫ হেক্টর, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে অনেক বেড়ে হয়েছে ৭০ হেক্টর। অথাৎ গত তিন বছরের পরিসংখানে বোঝা যায় লাভজনক এ সবজি চাষ ভোলায় দিন দিনই বাড়ছে। তিনি আরো জানান, ক্যাপসিকাম বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা আগামীতে ভোলা জেলায় ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করব। আশা করছি আগামী বছর ক্যাপসিকাম চাষ ৪ গুণ বাড়বে।

কুলাউড়ায় জলাবদ্ধ জমিতে বারি লাউ চাষ
                                  

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার : কুলাউড়ায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত বারি লাউ-৪ চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন উপজেলার হিংগাজিয়া এলাকার কৃষক মো. কুদ্দুছ মিয়া। তিনি বলেন গবেষণা বিভাগ, বারি, সিলেট এর পরামর্শে চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বারি লাউ-৪ চাষাবাদ করেন এবং প্রতি সপ্তাহে শতাধিক লাউ উত্তোলন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। সঠিক প্রযুক্তি এবং পরামর্শ দ্রুত দোড়গোড়ায় পাওয়ার কারনে এরকম জমিতে তিনি চাষ করে সফল হন এবং বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বারি, সিলেট এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল বলেন, কৃষি বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পতিত জমির প্রতি ইঞ্চি জায়গা চাষাবাদের আওতায় নেয়ার জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সিলেট বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদের আধুনিক প্রযুক্তি সমূহ পৌঁছে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে দেশের পতিত জমির সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করার লক্ষ এবং উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যেনো তারা দেশের দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বারি লাউ-৪ চাষাবাদ একটি সফল মাইলফলক। বারি লাউ-৪ অত্যান্ত সুস্বাদু, উচ্চ ফলনশীল এবং লাভজনক জাত। আগামীতে জলাবদ্ধ জমিতে এই প্রযুক্তিতে বারি লাউ-৪ চাষের প্রতি এলাকার কৃষকেরা অত্যান্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বিষমুক্ত ও ফলন বেশি বিটি বেগুন চাষে আগ্রহী কয়রার কৃষকরা
                                  

কয়রা প্রতিনিধি : অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বিটি বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন কয়রার কৃষকরা। আবার এই জাতের বেগুনের উৎপাদন যেমন খরচ অনেক কম তেমনি বাজারে এর দামও ভালো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি বিটি জাতের এই বেগুন কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চাষ করে অনেকেই এরই মধ্যে লাভবান হয়েছেন। কৃষক ও কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমনে ৭০-৮০ ভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট যায়। এজন্য প্রতি বছর ১৭-২০ লাখ মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায় এবং কৃষকরা এ থেকে লাভবান হতে পারেন না। তাছাড়া প্রচুর পরিমানে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বিটি-১,২,৩, ও ৪ নামে চারটি নতুন উদ্ভাবন করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়। কয়রা উপজেলার ৪ নং কয়রা গ্রামের চাষী গোপাল সরদার প্রতিবেদককে বলেন, বিটি বেগুন পরিবেশবান্ধব। এতে কোনও ধরনের বালাইনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। সরেজমিন গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তার অনুরোধে বিটি বেগুনের চাষ শুরু করি। আগষ্ট মাসে বীজতলা ফেলে সেপ্টেম্বরে চাষ শুরু করি নভেম্বর মাসের ১স সপ্তাহ থেকে বেগুন তোলা শুরু হয়। এখন প্রতি সপ্তাহে ২ বার বেগুন তুলতে পারছি প্রতিবার ১৫০ থেকে ১৮০ কেজি বেগুন তুলতে পারছি। প্রথম দিকে বাজারে বেগুন ৬২ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিটি বেগুন বাজারে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাই আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই বেগুনের চাষ করতে চাই। আমার বেগুনের খেত দেখে এলাকার অনেকেই বিটি বেগুন চাষ করবেন বলে আমার কাছে বেগুনের বীজ চেয়েছেন। কৃষক গোপাল সরদার আরও বলেন, বেগুন চাষ করে এত লাভ হবে, কখনো ভাবিনি। এবার ২০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। চাষ করতে আমার ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। আর সার বীজ সরেজমিন কৃষিগবেষণা বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি এবং প্রতিনিয়ত পরামর্শ পাচ্ছি ক্ষেতে বসে। আগামীতে ২ থেকে ৩ বিঘা বিটি বেগুন চাষ করব। সবচেয়ে বড়কথা, এই বেগুন বিষমুক্ত। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২ মাসে ৫০ হাজার টাকার বিটি বেগুন বিক্রি করেছি। আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষক। একই উপজেলার কৃষক আজিজুল ১৩ শতক জমিতে বিটি বেগুন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বেগুন চাষে মাত্র ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। কৃষক আহসান বলেন, আগে বেগুন চাষ করলে কীটনাশক কিনতে গিয়েই অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত। তবে আমার পাশের জমিতে কীটনাশক ছাড়াই বিটি বেগুন চাষ করতে দেখেছি । আমিও আগামীতে এই বেগুন চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরেজমিনে বেগুন ক্ষেতে এমএলটি সাইট কয়রার বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসানের সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, প্রথম অবস্থায় কৃষকদের বেগুন চাষে আগ্রহী করতে বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনে সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের বিটি বেগুনের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া দেওয়া হয়েছে। বিগত বছর ৩ জনকে কৃষককে প্রদর্শণী দেওয়া হয় ।

নওগাঁয় আগাম জাতের আলু চাষ
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বাজারে নতুন জাতের আলুর ভাল দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। তবে শুরুতে আবহাওয়া প্রতিকুলে না থাকায় যেমন দেরীতে রোপন করতে হয়েছে তেমনি শীত ও কুয়াশার কারণে মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে করে লাভের একটি অংশ কীটনাশক কিনতে খরচ হয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর জেলায় প্রায় ২২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আগাম আলুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। যেখানে সাদা পাপড়ী ৯৬০ হেক্টর, লাল পাপড়ী ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর এবং সাইটা জাতের আলু ৪ হাজার ১৬৫ হেক্টর। এছাড়া স্থানীয় জাতের আলুর আবাদও হয়েছে। গত বছর ২০ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছিল।
আলুর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। এমন দৃশ্য নওগাঁ সদর উপজেলার ছোট যমুনা নদীর চরে শ্যামপুর গ্রামের মাঠ। চাষীরা কোথাও ক্ষেত থেকে আলু তুলছেন, আবারও কোথাও মড়ক দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। আগাম আলু কার্তিক মাসে রোপন করা হয়। প্রায় দুই মাসে এই আগাম জাতের আলু পরিপক্ক হয়ে বাজারজাত করা হয়। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা জমিতে গিয়ে গাছসহ আলু কিনে শ্রমিকদের দিয়ে আলু উত্তোলন করছেন। সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান বলেন, ভাল দাম পাওয়া আশায় কার্তিক মাসে একবিঘা জমি প্রস্তুত করে আগাম জাতের পাপড়ি আলু রোপন করেন। বীজ, হালচাষ, সার, ঔষধ ও শ্রমিকসহ বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ১৮ হাজার টাকা। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে আলু পরিপক্ক হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তিনি প্রায় ৩৫ মণের মতো ফলন পেয়েছেন। শুরুতে ২ হাজার টাকা মণ হলেও বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। জমি থেকে আলু উঠানোর পর সেই জমিতেই কপি ও পিয়াজ লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে খরচও কম পড়বে। একই গ্রামের আলু চাষী আনিছুর রহমান বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছেন। শুরুতে এবছর আবহাওয়া প্রতিকুলে ছিলনা। একদিকে ঘনবৃষ্টিপাতের কারণে আলু রোপনে বিলম্ব হয়েছে। অপরদিকে প্রচন্ড শীতের কারণে আগাম জাতের আলুতে মড়ক দেখা দিয়েছে। মড়কে আলুর পাতা কুকড়ে যাচ্ছে। মড়ক দমনে কীটনাশক দিচ্ছেন। এতে করে লাভের একটি অংশ কীটনাশক কিনতে খরচ হয়ে যাচ্ছে। তবে বাজারে ভাল দাম থাকায় লাভের মুখ দেখছেন তিনি। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, গত বছর আলুর দাম ভালো পাওয়ায় এবছর কৃষকরা আরো বেশি পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করেছে। আগাম আলুর উৎপাদন কিছুটা কম হয়। তবে বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এ বছর আলুর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে মনে করেন তিনি।

ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ১৫ হাজার চাষি
                                  

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারীর চাষিরা নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আগাম টমেটো চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা প্রতিকুল আবহাওয়াকে মোকাবেলা করে টমেটোর বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন। আর এই বাম্পার ফলনকে ঘিরে এ উপজেলার ১৫ হাজার চাষি ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের উৎপাদিত টমেটো দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ভরে যেতে শুরু করেছে। নায্যমূল্য পেলে এবং বেশী করে বাইরের পাইকারী ব্যবসায়ী এলে অবশ্যই ভাগ্য বদল হবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর এ উপজেলায় মোট এক হাজার ৫২৫ একর জমিতে আগাম টমেটোর চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হাইটম জাত ৫৭৩ একর, বিউটিফুল-১ জাত ৯৯ একর, লাভলী ১৩১ একর, চক্র ৯৪ একর, পানপাতা ২২১ একর, বিজলী ১২ একর, বিউটিফুল-২ জাত ২৪৭ একর, বিপুল প্লাস ৭০ একর, মেজর ৯৭ একর, বাহুবলী-২ জাত ৭০ একর ও অন্যান্য ২০ একর জাতের টমেটো। আগাম জাত তাই প্রথম দিকে বৃষ্টির কারণে অনেক টমেটো চাষির ২-৩ বারও চারা রোপণ করতে হয়েছে। এছাড়াও তারা এবছর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আগাম টমেটো চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রতিকুল আবহাওয়াকে মোকাবেলা করে টমেটোর বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন। আর এই বাম্পার ফলনকে ঘিরে এ উপজেলার ১৫ হাজার চাষি ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। ইতিমধ্যে শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারী ব্যাবসায়ীরা চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন টমেটোর আড়তে আসতে শুরু করেছেন। বর্তমান এখান থেকে প্রতিদিন ২০-৩০ ট্রাক টমেটো দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। আগামীতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক টমেটো উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দিকে প্রতিমন টমেটো দুই হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন প্রতিমন টমেটো এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার দড়িউমাজুড়ি গ্রামের টমেটো চাষি অনিমা বাড়ৈ, নকুল বিশ্বাস, বিউটি মন্ডল, বিধান রায়, নির্মল রায়, মিলন হীরা ও মুকন্দ মন্ডলসহ অনেকে জানান, এ বছর অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কষ্ট হলেও তারা সার্থক। তাদের ক্ষেতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। টমেটোর বাম্পার ফলনকে ঘিরে তারা ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। উৎপাদিত টমেটোর নায্যমূল্য এবং বেশী করে বাইরের পাইকারী ব্যাপারীরা এলে অবশ্যই তাদের ভাগ্য বদল হবে। সেই সাথে মিটবে সকল ধারদেনা। শরীয়তপুর থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ী মোঃ আবুল কালাম ও মোঃ মোতালেব হোসেন জানান, গত ১৫ দিন আগে তারা চিতলমারীতে টমেটো ক্রয়ের জন্য এসেছেন। আরও দুই মাস থাকবেন। বর্তমানে প্রতিমন টমেটো এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দরে ক্রয় করছেন। এ বাজার দর বজায় থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন। এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, আগাম টমেটো চাষে এ উপজেলার চাষিরা সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চাষিরা লাভবান হবেন। এছাড়া কৃষি বিভাগ প্রথম থেকেই চাষিদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে ও সার্বিক সহযোগিতা করছে।

৪৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ
                                  

অলক কুমার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন মৌয়াল বা মৌচাষীরা। সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবক্স বসিয়ে এই মধু সংগ্রহ করছে তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলায় উফশী জাতের ২১ হাজার ২১৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৪ হাজার ৪৪৫ হেক্টর মোট ৪৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। ফলনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৬৮ মেট্রিকটন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৩০ হেক্টর, বাসাইলে ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর, কালিহাতীতে ৩ হাজার ১৩০ হেক্টর, ঘাটাইলে ২ হাজার ৩৫২ হেক্টর, নাগরপুরে ১০ হাজার ৭৫ হেক্টর, মির্জাপুরে ৮ হাজার ৯৪৫ হেক্টর, মধুপুরে ৪৬২ হেক্টর, ভূঞাপুরে ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর, গোপালপুরে ৩ হাজার ৬০ হেক্টর, সখীপুরে ২ হাজার ১৪০ হেক্টর, দেলদুয়ারে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। আর সেই সকল সরিষা ক্ষেত থেকে মৌবক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌয়ালরা। অফিস সূত্র আরো জানায়, এ বছর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, ভূয়াপুর, কালিহাতী, সদর, সখিপুর, বাসাইল, নাগরপুর, দেলদুয়ার, মির্জাপুর উপজেলায় এপর্যন্ত ৮ হাজার ১৭৫টি মৌবাক্স বসানো হয়েছে। প্রতি বাক্স থেকে ছোট বক্স থেকে সপ্তাহে ৩-৪ কেজি; মাঝারি বক্স থেকে ৫-৭ কেজি আর বড় বক্স থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মৌসুমে মৌয়ালরা প্রায় দেড়’শ টন মধু সংগ্রহ করার আশা করছেন। টাঙ্গাইলের মৌয়ালরা জানান, তাদের সংগ্রহকৃত মধু বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া খুচরা ভাবেও মধু বিক্রি হয়। সরিষা চাষিরা জানান, মৌয়ালরা আসলে সরিষার ফলন আরো ভাল হয়। সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স বসানোতে লাভবান হচ্ছেন তারা।

কমলগঞ্জে সফল চাষি আসিয়া বেগম
                                  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘মুসলিম এইড’ এর আর্থিক সহায়তায় উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে সচ্ছল ও সাবলম্বী হয়েছেন আদমপুরের আসিয়া বেগম। তিনি আদমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের স্ত্রী।তাদের সংসারে আর্থিক অবস্হা খারাপ থাকায় তার স্ত্রী আসিয়া বেগম ‘মুসলিম এইড’ কমলগঞ্জ শাখা থেকে ক্ষুদ্র ঋণ পরের জমিতে সবঝি চাষ শুরু করেন। এভাবে সবঝি চাষ হতে উপার্জিত অর্থ ও ‘মুসলিম এইড’ কমলগঞ্জের সহায়তায় বর্তমানে তার নিজের ৯০ শতক জায়গায় টমেটো চাষ করছেন।আসিয়া বেগম আশা প্রকাশ করে বলেন প্রাকৃতিক কোন প্রকার বিপর্যয় না ঘঠলে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তিনি কয়েক লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।কৃষিঋণ নিয়ে কৃষিকাজ করে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বর্তমানে ভালই আছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে ‘মুসলিম এইড’-এর আর্থথিক সহযোগীতার কারনে। বিষয়টি নিয়ে ‘মুসলিম এইড’ কমলগঞ্জ শাখার প্রোগ্রাম সুপারভাইজার শাহীন আলম বলেন ২০০৫ সালে প্রথম চার হাজার টাকা ঋন নিয়ে সে কৃষিকাজের মাধ্যমে উপার্জন করে সচ্ছল হতে থাকে এভাবে ২০২০ সালে সে আমাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋন নেয়। এই ঋনের টাকা দিয়ে বর্তমানে তার নিজস্ব জমিতে টমেটো চাষ করে আজ সচ্ছল ও সাবলম্বী হয়েছেন তিনি।এবিষয়ে ‘মুসলিম এইড’ কমলগঞ্জ শাখার সিনিয়র ব্রাঞ্চ কর্মকর্তা শেখ ময়নুল হাসান বলেন টমেটো চাষ করে আসিয়া বেগমের মতো আর অনেকেই নিজেদের সাবলম্বি করতে পেরেছেন। এভাবে সরকার কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি ও উন্নয়ন নীতিমালা মেনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা
                                  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে কৃষকদের বহুল প্রতীক্ষিত লাঘাটা নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা আনয়নের কাজ চলছে দু’বছর ধরে। উপজেলার লাঘাটা নদীর খনন কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রত্যাশীত কাজ শুরু হলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। কিন্তু কাজে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে জনগনের মাঝে রয়েছে নানান উদ্বেগ। গত বছর নদী খনন কাজ শুরু হয়। তবে নদী খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সভা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ভূক্তভুগী কৃষকরা জানান, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল-পতনঊষার, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষকরা। এলাকার কৃষকরা জানান তারা বোরো, আউশ, আমন ও সবজি ক্ষেত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। তাই পানি নিষ্কাশনের জন্য লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সনে লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতার মুখে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়। কাজটি সম্পাদনের জন্য দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কি.মি. খনন কাজ হাতে নেওয়া হয়। ১১ দশমিক ৮শ মিটার ও ১২ দশমিক৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার খনন কাজ হবে। লাঘাটা নদীকে ঘিরে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমসেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের একাংশের কৃষকরা কৃষি, চাষাবাদ ও মাছ আহরণ করে জিবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নদীভাঙ্গন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পতনঊষারের কেওলার হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদী। দীর্ঘদিন ধরে এ নদী ভরাট, ঝোঁপজঙ্গল, পলিবালি ও নানান কারনে সংকোচন হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। জলাবদ্ধতার ফলে ধানী জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারন কৃষকরা। নদী খনন, সংস্কার ও ড্রেজিং না করার কারণে নদী সংকোচন হয়ে পড়েছিল। ধলাই ও লাঘাটা নদীর প্রশস্ত ও গভীরতা কমে যাওয়া, দু’পাশে ঝোঁপজঙ্গল ও গাছগাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠা, বসতি স্থাপণ এবং অসাধু মাছ শিকারী চক্রের স্থানে স্থানে ফেলা বাঁশের খাঁটি ও বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। লাঘাটা নদীতে খনন শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির দেখা দিয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোকসানে কমলা চাষিরা
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে ১৫ বছর ধরে পাহাড় টিলায় বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ হয়ে আসছে। চাষিরা জানান এ বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়নি। বাজার দখল করেছে আগাম ভারতীয় কমলায়। কৃষি বিভাগ জানায় সমস্যা সমাধানে তারা চাষিদের পরামর্শ দিয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর, উপজেলার ১৪২ শতক জমিতে কমলা চাষ হয়। চলতি বছর কমলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার মেট্রিকটন। এ অঞ্চলের মাটি আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগী হওয়ায় জুড়ী বড়লেখার হায়ছড়া, লালছড়া, শুকনাছড়া, রুপাছড়া, জরিছড়া ও কচুরগুল টিলার উপর ছোট বড় কমলার গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কাচাঁ, আধাপাকা ছোট ছোট কমলা। নাগপুরি, খাসি, ছাতকী, চায়নিজ কমলা। সুদূর চীন দেশ ও বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাষ হয় বলে ফলটির এমন নামকরণ। তবে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামের কমলা চাষি মুর্শেদ মিয়ার বাগানে বিভিন্ন জাতের কমলা চাষ হলেও এ বছর লোকসানে আছেন। কমলার ফলন কম হওয়ায় হতাশ চাষিরা। কথা হলে মুর্শেদ মিয়া বলেন এবার ফলন ভালো হয়নি। দেশীয় কমলা বাজারজাত করার আগেই। বাজারে আগাম ভারতীয় কমলা এসেছে। এতে আমাদের যা উৎপাদন হয়েছিল তা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচুর লোকসান হচ্ছে। লালছড়ার শিল্পী বেগম বলেন ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে কমলার ফুল আসে। এ সময় দীর্ঘ খরার কারণে ফুল ঝড়ে যায়। এতে কমলার ফলন অনেক কমে গেছে। জুড়ী উপজেলার ডুমা বাড়ি এলাকার ইসমাইল মিয়া বলেন পোকামাকড় ও এক ধরণের কালো প্রজাপতির আক্রমণে গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে কমলা। লালছড়ার মানিক মিয়া বলেন প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ায় কমলা চাষে পুঁজি নিয়ে ঠিকে থাকা কঠিন হবে। এবার উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। রাজনগরের মোক্তার মিয়া বলেন আমরা বিচ্ছিন্নভাবে বাড়ির টিলায় কমলা চাষ করে আসছি। এ বছর কমলার ফলন ভালো হয়নি। মৌলভীবাজার কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফুল বারি বৈরী আবহাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া উপজেলায়। সমস্যা সমাধানের জন্য কমলা চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা
                                  

রাজু বিশ্বাস, দিনাজপুর : দিনাজপুর সদর উপজেলায় শেখপুরা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বহমান গর্ভেশ্বরী নদীটি এখন চাষাবাদে উপযুক্ত ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় এখন যে কেউ দেখলে এটা নদী তা হারিয়ে যেতে চলেছে। কারন শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি শুকিয়ে যেয়ে নদীর বুক জুড়ে রয়েছে সবুজের ক্ষেতে বিভিন্ন ফসলের চাষ। তবে মাঝে মাঝে সেতুগুলি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় নদী রয়েছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীতে পানিতে ভরপুর থাকে কিন্তু শুকনা মৌসুমে পানি আর দেখা যায় না। তখন নদীর আশেপাশের সংলগ্ন এলাকাতে চলে নিবিড় শস্য চাষাবাদের চারনভূমি। বছরের অর্ধেকের বেশী সময়ে নদীতেই চলে আলু, রশুন, পেয়াঁজ, কপি ও শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ। মনে হচ্ছে এখানে চাষাবাদে উপযুক্ত ক্ষেত তৈরী হয়েছে। দিনাজপুরের সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের দিঘন,ভাটিনা, শিবপুরসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় নদীটি এখন আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে।
বর্ষার সময়ে নদীতে তার বৈচিত্র রুপ ফুটে উঠে। কিন্তু শুকনো সময় তার রুপ হারিয়ে চাষাবাদে উপযুক্ত ক্ষেতে পরিনত হয়ে থাকে। তখন নদীতে চলে শুধু চাষ আর চাষ। এখানকার জেলেরা তাদের পেশা পরিবর্তন করতে চলেছে। হারিয়ে গেছে স্থানীয় জেলেদের জীবন নির্বাহের ঐতিহ্য। ভুলে গেছে এক সময় জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। এখন এই নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারে না কারন শুকনো সময়ে পানি থাকে না। জেলেরা আর মাছ ধরতে পারে না। জীবিকার তাগিদে তাদের পেশার পরিবর্তন করতে হয়েছে। কমে গেছে নদীতে দেশীয় মাছ। এখন গর্ভেশ্বরী নদীটিতে জায়গায় জায়গায় অল্প পানি থাকলেও নদীর বেশীভাগ অংশই সমতল কৃষি জমিতে পরিনত হয়েছে। তাই বর্ষার সময় অল্প পানিই নদী ধারন করতে না পারলে পাশের জমিগুলিও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। নাই নদী খননের কোন পরিকল্পনা তাই নদীটি তার রুপ ও ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
দিঘন গ্রামের জঙ্গল পাড়ার মো. বুলবুল হোসেন ও বাবুল সাহাসহ কয়েকজন জানান, গর্ভেশ্বরী নদীতে এখন পানি না থাকায় জেলেরা তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আবার কেউ অন্যত্র চলে গেছে। নদীতে পানি না থাকায় সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারেন না কৃষকরা।
ভাটিনা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমসহ কয়েকজন জানান, দিন দিন নদীর ঐতিহ্য হারিয়ে সমতল ভূমিতে পরিনত হয়েছে। ফলে নদীর দেশী প্রজাতির মাছ হারানোর পাশাপাশি জেলেরা দিন দিন বেকার হচ্ছে এবং অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। নদীটিকে খনন করা হলে এই এলাকার কৃষিকাজের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছকে রক্ষা করা যাবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সবজি চাষ করে সফল শতাধিক কৃষক
                                  

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে শীতকালীন সবজি চাষ বরে সাফল হয়েছেন শত শত কৃষক। স্থানীয় কৃষকরা চারা উৎপাদন ও সবজি চাষ করে করোনাকালীন সময় অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠছে পাশাপাশি চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলছে। আমন ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামটাও এবার বেশি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মনে আনন্দের আমেজ। আগাম শীতের সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে দিন দিন সবজি চাষিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, মজিদপুর, এলেমপুর, বাইনতলা, ফরিদগঞ্জ ও ছোট কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা দ্ইুশত একর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করছে। এছাড়াও বাড়ির আনাচে-কানাচে খালি জায়গায় শীতকালীন সবজি চাষ কিংবা চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর পরই তারা বিভিন্নরকম সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
কোনো কোনো কৃষক সারা বছর সবজি উৎপাদন করার জন্য বেড তৈরি করে রাখেন। তারা সবজি ছাড়া আর কোনো কিছুই উৎপাদন করেন না। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিজেদের কর্মসংস্থান ও বিষমুক্ত বিভিন্নরকম সবজি চাষ করে স্থানীয় বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা জানা যায়, কুমিরমারা, সোনাতলা, বাইনতলার গ্রামের কৃষকরা ২ হাজার একরেরও বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং করোনার সময় আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকরা বেগুন, বাঁধাকপি, লাউ, লালশাক, শশা, মিষ্টিকুমরা, কলমিশাক, ডাটাশাক, ধনিয়াপাতা, শিম, বরবটিসহ বিভিন্নরকম সবজি চাষ করে। কুমিরমারা গ্রামের সবজি চাষি মো.শাহজাহান মৃধা বলেন, আমি ১৫ বছর বয়স থেকেই সবজি চাষ শুরু করেছি। আমার ২ একর জমিতেই সবজি চাষ হচ্ছে। আমি বছরে ৫-৬ লাখ টাকা শুধু সবজি চাষ করার মাধ্যমেই আয় করি। এবারে সবজির বাজার অনেক ভালো। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি।বাইনতলা গ্রামের কৃষক মো. রফিক বলেন, আমরা সব সময়ই আগাম সবজি উৎপাদন করার চেষ্টা করি। আমি ১ একর জমিতে সব সময় সবজি উৎপাদন করি। আমি সবজি উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো কাজ করি না। মৌসুম শুরুর দিকেই আমি প্রায় ৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট নাসির মাহমুদ বলেন, সবজির গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা অধিকাংশ কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিই উপজেলার চাহিদা মেটায়। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কুমিরমারা গ্রামসহ অন্যান্য কৃষকেরা সবজি উৎপাদন করে করোনার সংকট কাটিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এখানকার কৃষকদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন বাজার বাজারজাত করা হয়। আমরা বিভিন্নভাবে সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছি।

বন্ধ হওয়া ২টি সুগারমিলের আখসহ মাড়াই কার্যক্রম শুরু ঠাকুরগাঁও সুগারমিলে
                                  

মাহমুদ আহসান হাবিব, ঠাকুরগাঁও : পঞ্চগড় সুগারমিল, সেতাবগঞ্জ সুগারমিল ও ঠাকুরগাঁও সুগারমিল-এ তিন মিলের মোট এক লক্ষ ৫৩ হাজার মে.টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষমাত্রা নিয়ে জেলার একমাত্র ভারী শিল্প ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেড এর ৬৩ তম আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। আর এ মাড়াই কার্যক্রম চলবে ১১০ দিন।
গত শুক্রবার সন্ধায় ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন এর সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো, ঠাকুরগাঁও প্রেক্লাব সভাপতি মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও সুগারমিল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উলুব্বী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সারাদেশের ১৯টি সুগারমিলের মধ্যে এবছর ৬ টি সুগারমিলে মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই ৬ টি বন্ধ মিলের তালিকায় রয়েছে পঞ্চগড় ও সেতাবগঞ্জ সুগারমিল। এ দুইটি মিলের তত্বাবধানে রোপিত আখগুলো ঠাকুরগাঁও সুগারমিলেই মাড়াই করা হবে।

অনাবাদি জমিতে আমন চাষ কৃষকের মুখে হাসি
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনাবাদি জমিতে চাষ বাড়ায় ধানের ফলন বেড়েছে দ্বিগুন। সময় মতো রোদ-বৃষ্টি থাকায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে এক লাখ ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮০২ টন। রাজনগর উপজেলার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, এবার ৮ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে ধানের ভর্তুকি দিতে হবে না। একই উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি সঠিক বাজারমূল্য পাব। কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বালিয়াগ্রামের ফয়জুর রহমান ফজির বলেন, ৬ কিয়ার জমিতে আমান ধান আবাদ হয়েছে। শ্রমিক সংকট থাকায় ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে। জুড়ী উপজেলার কৃষক কাদির মিয়া বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। জমির ধান ভালো হয়েছে। সোনালি ধান পেয়ে আমি খুশি। সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর বড়ডহর গ্রামের কৃষক আহসান আলী চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি। কমলগঞ্জ উপজেলার সবুর মিয়া বলেন, বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম রয়েছে সেই দাম অব্যাহত থাকলে কৃষক লাভবান হবে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট রয়েছে। করোনার কারণে শ্রমিকরা বাড়তি মজুরি দাবি করছেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওর পাড়ের বড়কাপন গ্রামের ইটা সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাজন আহমদ বলেন, একসময় কাউয়াদিঘি হাওরের যেসব জমিতে আমন ধান চাষ করা যায়নি, এ বছর সেসব জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওর পাড়ের বড়কাপন গ্রামের কৃষক জামাল খান বলেন, ‘ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে। যদি ইঁদুরের উপদ্রব না থাকতো তাহলে আমন ধানের ফলন আরও ভালো হতো। ১১-১২ বিঘা জমি চাষ করে ৪১-৪২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদেও ভালো লাভ হবে।’ একাটুনা এলাকায় কথা হয় শ্রমিক সুন্দর মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার মালিকের জমিনে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ধান হয়েছে। আমরা চারজন মিলে ধান কাটতেছি। আমাদের মজুরি ৫৫০ টাকা করে।’ মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো রোদ বৃষ্টি হওয়ায় জেলায় এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে সময় লাগছে। আমরাও ধান কাটার মেশিন দিয়ে সহযোগিতা করছি।

সাবলম্বি হওয়ার আশায় ৫ শতাধিক কৃষক
                                  

মো. দুদু মল্লিক, শেরপুর : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নে দুই শতাধিক একর জমি আবাদের আওতায় আনতে বিএডিসি’র উদ্যোগে ২ কি. মি. পাইপ ড্রেনের দাবী জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এতে প্রান্তিক পযার্য়ের ৫শতাধিক কৃষক সাবলম্বি হওয়ার উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মহারশি নদী থেকে বিএডিসির পাইপ লাইন ড্রেনটি নলকুড়া ইউনিয়নের বাঐবাধাঁ শেষ প্রান্ত পযর্ন্ত আসায় সেখানকার দীঘর্দিনের অনাবাদি জমিগুলো আবাদের আওতায় আসে। অন্যদিকে আনুমানিক ২ কি. মি. দুরে ভারুয়া, বাঐবাধা ও জারুলতলা গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক একর জমি সেচের কোন ব্যবস্থা না থাকায় দীঘর্দিন ধরে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে। নলকুড়া ইউনিয়নের ফাকরাবাদ মানিককুড়া গ্রামের বিএডিসি`র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মো. খালেদ সাইফুল্লাহ, কৃষক সিদ্দিকুর রহমান, সেলিম মিয়া, শফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আ. খালেক, সুলতান, আ. রশিদ, সাইফুল ও আলাল উদ্দিন জানান, বিএডিসি`র আওতায় এই দুই কিলো মিটার পাইপ লাইন ড্রেনের ব্যবস্থা করতে পারলে ৩ গ্রামের প্রায় ২শতাধিক একর অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আসবে। এ ব্যাপারে নলকুড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মজনু মিয়া ওই ২ কিলো মিটার জায়গাতে পাইপ লাইন ড্রেনের ব্যবস্থা করতে বিএডিসি`র কতৃর্পক্ষকে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের সাথে যেগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে দেখবেন বলে জানান। শেরপুর জেলার বিএডিসি`র (ক্ষুদ্র সেচ) প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মো. আলাল উদ্দিন জানান, "উক্ত ইউনিয়নে ১ম দফায় ১ হাজার এবং পরের দফায ১ হাজারসহ মোট ২ হাজার মিটার ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মধুপুরে ৬২২ হেক্টর জমিতে বোরো বীজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
                                  

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাহাড়িয়া অঞ্চলে কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার প্রভৃতি দ্বারা এসব বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ৬২২ হেক্টর জবিতে বোরো বীজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও অনেক দরিদ্র কৃষকরা তাদের স্বল্প পরিসরের ভূমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে ইরি-বোরো ধানের বীজতলাও তৈরি করছেন। মধুপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, মধুপুরের কৃষকরা ভূমির আইল বাধা, জমির আগাছা পরিষ্কার করা, কোদাল দিয়ে জমির উঁচু-নিচু জায়গাগুলো সমান করা, শুকনো জমিতে সেচ প্রদান করাসহ প্রভৃতি কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে, দোকানপাটগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বোরো-ইরি ধানের বীজ বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা এসব বীজ ক্রয় করার জন্য দোকানগুলোতে অত্যধিক পরিমাণে ভীড় জমাচ্ছেন। মধুপুরের হাট-বাজারের কয়েকজন দোকানদাররা জানান, বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ধানের বীজগুলো প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও হাইব্রিড জাতের ধানের বীজগুলোও সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ টাঙ্গাইলেও কয়েক দফায় বন্যার হানা দেখা দিয়েছে। এতে আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার মধ্যে মধুপুর উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য উপজেলাগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ অত্যধিক। সৌভাগ্যবশত, টাঙ্গাইলের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় মধুপুর উপজেলাতে বন্যায় কৃষকদের ফসলি জমির তেমন ক্ষতি হয়নি। ফলে মধুপুরের কৃষকরা তাদের জমির আবাদকৃত ফসলি আমন ধানগুলোতে ভালো ফলন পেয়েছেন। মধুপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, "আমন ধানগুলো সফলভাবে ঘরে তুলতে পেরেছি। এখন বোরো বীজতলা তৈরি করছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। আমনের তুলনায় বোরো ধানের ফলন অনেক বেশী হয়ে থাকে। আমরা আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেলে আমরা এবারো সফল হতে পারবো এবং অনেক ফলন পাবো।"
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, "আসন্ন মধুপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদেরকে আদর্শ বীজতলা তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি শীতকালীন শৈত্যপ্রবাহ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কৃষকদেরকে উৎসাহিত করে যাচ্ছি।" উল্লেখ্য যে, মধুপুরে এবারের আমন মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা।


   Page 1 of 14
     কৃষি সংবাদ
কাশ্মিরি আপেল কুল চাষ বিক্রির আশা ৫ লাখ টাকা
.............................................................................................
ভোলায় বাড়ছে ক্যাপসিকাম চাষ
.............................................................................................
কুলাউড়ায় জলাবদ্ধ জমিতে বারি লাউ চাষ
.............................................................................................
বিষমুক্ত ও ফলন বেশি বিটি বেগুন চাষে আগ্রহী কয়রার কৃষকরা
.............................................................................................
নওগাঁয় আগাম জাতের আলু চাষ
.............................................................................................
ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ১৫ হাজার চাষি
.............................................................................................
৪৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ
.............................................................................................
কমলগঞ্জে সফল চাষি আসিয়া বেগম
.............................................................................................
বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা
.............................................................................................
বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোকসানে কমলা চাষিরা
.............................................................................................
শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা
.............................................................................................
সবজি চাষ করে সফল শতাধিক কৃষক
.............................................................................................
বন্ধ হওয়া ২টি সুগারমিলের আখসহ মাড়াই কার্যক্রম শুরু ঠাকুরগাঁও সুগারমিলে
.............................................................................................
অনাবাদি জমিতে আমন চাষ কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
সাবলম্বি হওয়ার আশায় ৫ শতাধিক কৃষক
.............................................................................................
মধুপুরে ৬২২ হেক্টর জমিতে বোরো বীজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
.............................................................................................
কুষ্টিয়ায় নতুন প্রজাতির ধান উদ্ভাবনের দাবি কৃষকের
.............................................................................................
দিনাজপুরে সুগন্ধী কাটারী ধান আবাদ ক্রমেই কমে যাচ্ছে
.............................................................................................
মুন্সীগঞ্জে অতিবৃষ্টি হওয়ায় আলু চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে শীতকালীন বেগুনের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
দিনাজপুরে মাটি ছাড়াই সবজি চারা উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য
.............................................................................................
দিনাজপুরে আমন ধান চাষে মাঝরা পোকার আক্রমণ
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধানে বেড়েছে পাতা ব্লাস্ট ও কারেন্ট পোকার উপদ্রব, দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
আগামীতে মেয়র নির্বাচিত হলে দূর্নীতি অনিয়ম ও অপচয় রোধে ব্যবস্থা নেব: মাওলানা আব্দুল মতিন
.............................................................................................
তিন মাসে ৬ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ফেরত দিলো কৃষকরা
.............................................................................................
ইসলামপুরে বেগুন চাষী সুরুজের স্বপ্ন ধ্বংস করেদিল কিছু অসাধু লোক
.............................................................................................
পোকা দমনে আলোক ফাঁদ
.............................................................................................
পোকা দমনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাচিং পদ্ধতি
.............................................................................................
খাল দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশন, খুশি কৃষক
.............................................................................................
নওগাঁর পত্নীতলায় কৃষি প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্বোধন
.............................................................................................
গবাদী পশুর খাদ্য সংকটে দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
কৃষি প্রণোদনা পেলেন কুমারখালীর ৮শ ৩৩জন কৃষক
.............................................................................................
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা
.............................................................................................
কুমারখালীতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে আখ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন
.............................................................................................
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে লোকসানে চাষিরা
.............................................................................................
বগুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজির চারা
.............................................................................................
শখের ড্রাগন চাষে সফল বাগেরহাটের কামরুল
.............................................................................................
পাটের দামে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
আউশের বাম্পার ফলনের আশায় নওগাঁর কৃষকরা
.............................................................................................
ভাসমান বীজতলার সুফল পাচ্ছেন রাজাপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বন্যা পরবর্তী বীজ ও চারা দেবে সরকার : কৃষি সচিব
.............................................................................................
বান্দরবানে আনারস চাষে সাফল্য: চাষীদের মুখে হাসি
.............................................................................................
শ্রীপুরে আফাজ উদ্দিন মাষ্টারের দৃষ্টিনন্দন মিশ্র ফল বাগান
.............................................................................................
প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে বিএডিসি দত্তনগরস্থ খামার
.............................................................................................
ঈশ্বরগঞ্জে নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে “লাম্পি স্কিন ডিজিজ” গবাদি পশু
.............................................................................................
কৃষিকে আরো আধুনিক করণ করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রনালয় : কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে প্রায় ৪ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত
.............................................................................................
ফলন বেশি হলেও দামে হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop