১৭ জিলক্বদ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার, বিজিবির গুলিতে নিহত ৩   > ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক গ্রেপ্তার   > ২৪ ঘন্টায় মৃত ৪৬, শনাক্ত ৩৪৮৯   > কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ হারাবেন পাপুল: প্রধানমন্ত্রী   > টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করলো নৌবাহিনী   > করোনাকালে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়তে দেয়া যাবে না: এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল   > আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরতদের মধ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমন   > কাঁঠালিয়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন   > টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী পালন   > বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রাজবাড়ীতে প্রায় ৪ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : আজও রাজবাড়ীর পদ্মার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ ষ্টেশনে ১৪ সেন্টি মিটার পানি কমে ৮.৮৫ পয়েন্ট অর্থাৎ বিপদ সীমার ২০ সেন্টি মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ পানি প্রবাহের এ তথ্য জানান।
বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহের কারনে প্লাবিত হয়েছে পদ্মা নদী তীরবর্তী বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল। এতে ফসলী জমির ফসল তলিয়ে গেছে, তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ। দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাবার সংকট। জনসাধারনের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কষ্টে জীবন যাপন করছেন নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ।
তলিয়ে গেছে পাট, ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত, তিল, বাদাম সহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এতে এসব অঞ্চলের মানুষ ক্ষতির মুখে পরেছেন। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন তারা।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপল কৃষ্ন দাস জানান ,নদীতে পানি বারার কারনে নিম্নাঞ্চলে আবাদী জমির পাট ২২৪ হেক্টর ,বোনা আমন ৫৯ হেক্টর, বোনা আউশ,৮১ হেক্টর, তিল,১৩ হেক্টর,সবজি ১৮ হেক্টর এবং ধানের বীজতলা আধা হেক্টর বা ১শত ৩০ বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে।সব মিলিয়ে জেলার ৩৯৫ হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে পানি এসব ফসলি ক্ষেত থেকে সরে না গেলে এসব ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

রাজবাড়ীতে প্রায় ৪ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত
                                  

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : আজও রাজবাড়ীর পদ্মার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ ষ্টেশনে ১৪ সেন্টি মিটার পানি কমে ৮.৮৫ পয়েন্ট অর্থাৎ বিপদ সীমার ২০ সেন্টি মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ পানি প্রবাহের এ তথ্য জানান।
বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহের কারনে প্লাবিত হয়েছে পদ্মা নদী তীরবর্তী বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল। এতে ফসলী জমির ফসল তলিয়ে গেছে, তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ। দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাবার সংকট। জনসাধারনের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কষ্টে জীবন যাপন করছেন নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ।
তলিয়ে গেছে পাট, ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত, তিল, বাদাম সহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এতে এসব অঞ্চলের মানুষ ক্ষতির মুখে পরেছেন। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন তারা।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপল কৃষ্ন দাস জানান ,নদীতে পানি বারার কারনে নিম্নাঞ্চলে আবাদী জমির পাট ২২৪ হেক্টর ,বোনা আমন ৫৯ হেক্টর, বোনা আউশ,৮১ হেক্টর, তিল,১৩ হেক্টর,সবজি ১৮ হেক্টর এবং ধানের বীজতলা আধা হেক্টর বা ১শত ৩০ বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে।সব মিলিয়ে জেলার ৩৯৫ হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে পানি এসব ফসলি ক্ষেত থেকে সরে না গেলে এসব ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

ফলন বেশি হলেও দামে হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা
                                  

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ব্যাপক। উৎপাদনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু নানা কারণে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেনা। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর দাম পড়ে গেছে। ক্ষেতের পাশে, সড়কের পাশে হাজার হাজার মিষ্টি কুমড়ার স্তুপ জমে আছে। সুলভ ভাড়ায় যদি ট্রাক পাওয়া যায় এই আশায় অপেক্ষায় আছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ।

সদর উপজেলার নারগুন কহরপাড়া গ্রামের কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, এবার মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহওয়ার কিছুটা প্রভাব পড়লেও উৎপাদন বেশি হয়েছে। কিন্তু দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছি। উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি।

বরুনাগাঁও গ্রামের কৃষক মজিবুল হক বলেন, এবার পরিবহন খরচও বেশি। তাই লাভ হবে কিনা-এ নিয়ে চিন্তিত আছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার ১২০০ হেক্টরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২৪ হাজার টন। যা দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সর্বোচ্চ।

তিনি জানান, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই দাম কমে গিয়ে এখন ৩/৪ টাকা কেজি দরে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে কৃষকের লাভ হবেনা।

তবে তিনি জানান, মিষ্টি কুমড়া সহজে পঁচেনা, সংরক্ষণ করা যাবে। তাছাড়া কুমড়া পরিবহনের জন্য স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা গেলে পরিবহণ সমস্যার সমাধান হতো।
মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনকারী কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য জেলা প্রশাসন করোনাকালীন ত্রাণ হিসাবে বিতরণের জন্য খাদ্যদ্রব্যের সাথে একটি করে মিষ্টি কুমড়া যুক্ত করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গনে নির্বিচারে চলছে মা মাছ নিধন !
                                  

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ‘ মাছে ভাতে বাঙালি’ বহুল প্রচলিত এই প্রবাদটি বাঙালির ঐতিহ্য ও জীবন যাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নদী খাল বীল সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎসের মাছ যেমন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। প্রায় এক দশক আগেও প্রাকৃতিক উৎসের মাছ প্রচুর পাওয়া যেত দেশের উত্তরের এ জেলায়। বর্তমানে তা আর পাওয়া যায় না বললেই চলে। বাজারে অল্প যা কিছু পাওয়া যায় তার দামও অত্যন্ত চড়া। ফলে এ এলাকার ‘মাছে-ভাতের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি’ অনেকটা বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে কিনে খাচ্ছে খামারে বা হ্যাচারীতে চাষ করা মাছ।

ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম নদী টাঙ্গন। বর্ষার পানি জমা হতে না হতেই টাঙ্গন নদীসহ এর ব্যারাজের পানিতে চলছে মা মাছ নিধনের ‘উৎসব’। একশ্রেণির জেলে ও মাছ শিকারী টাঙ্গন নদী ও ব্যারাজের বিভিন্ন পয়েন্টে কারেন্ট জাল, ফিকা জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধরছেন মা মাছ । স্থানীয় হাটবাজারে সেগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না জেলা মৎস্য বিভাগকে । অথচ এই সময়টা মাছের প্রজননকালীন সময়। কঠোর নজরদারী না থাকায় স্থানীয় জেলেরা অবাধে ধরছে দেশীয় নানা প্রজাতির মা মাছ । কারন বর্ষার এ সময়টাতে ধরা পড়ছে সব ধরনের পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ।

দেশের প্রচলিত মৎস্য আইনে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পোনামাছ ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন করা যাবে না। যদি কেউ এ আইন অমান্য করে তাহলে তার অর্থদন্ড ও জেল জরিমানা কিংবা উভয় দন্ড হতে পারে। কিন্তু এর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বাস্তবে দেখা যায় নি এ জেলায়।

গতকাল সোমবার জেলার সদর উপজেলাধীন, টাঙ্গন নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট, উত্তর বঠিনা, রুহিয়া টাঙ্গন ব্যরাজ এলাকায় ও পাটিয়াডাঙ্গী ব্রীজ, বরদেশ্বরী ব্রীজ, শুক নদসহ বিভিন্ন ঘুরে দেখা যায় -জেলেরা বাদাই, কারেন্ট, ফিকা, ছাপি জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ডিমওয়ালা কৈ, মাগুর, শিং, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, শৌল, বোয়াল, ভ্যাদা, বাইম, খলিশা, ফলি, চিংড়ি, টাকি, চিতল, বালিয়া, কাকিলা, চাপিলা, বৈচা, দেশি পুঁটি, সরপুঁটি, তিতপুঁটি, বাচা, পিয়ালি, জয়া, ছোট টেংরা, বড় টেংরা, চ্যাং, ছোট চিংড়ি, বাতাসি, বড় বাইন ,তারা বাইন, শালবাইন, কুচিয়া, খোকসা, গচি, বইরালি, গোলসাসহ নাম না-জানা বহু প্রজাতির মাছ প্রকাশ্যে নিধন করছেন।

যদিও দেশীয় প্রজাতির এই মাছগুলো বিলুপ্তির পথে। সরকারিভাবে মা মাছ নিধন নিষেধ থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন ডিমওয়ালা ওই মাছগুলো আশপাশের স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। মাছগুলো স্থানীয় লোকজন বেশি দাম হাঁকিয়েই কিনে নিচ্ছেন।

জেলার বিভিন্ন বাজার গুলিতে প্রতি কেজি টেংরা ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা, পুঁটি ৪শ’ টাকা, মোয়া মাছ ৫-৬শ’ টাকা, ডিমওয়ালা বোয়াল বিক্রি ৮শ’ টাকা কেজি, শৈল বা টাকি মাছের পোনাও ২ থেকে ৩শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলার সচেতন মহলের অনেকেই জানান, একটা সময় ছিল জেলে ও কৃষকেরা শখের বসে স্বল্প আকারে পোনা মাছ ধরত। আর এখন মহোৎসব চলছে পোনা ও ডিমওয়ালা সব ধরণের মাছ নিধনের । তাই এই সময় প্রশাসনের পক্ষে কঠোর নজরদারী ও পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধনে মৎস্য আইন প্রয়োগ করলে মাছের বংশ বৃদ্ধি করা সহজ হত। আর ব্যরাজের ও নদীর পানিতে স্রোত তৈরি হচ্ছে, সে স্রোতের পানিতেই রুই, ঘনিয়াসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ ডিম ছাড়বে। পানির স্রোত না থাকলে মাছ ডিম ছাড়তে পারে না। আর টাঙ্গন নদী ও ব্যারাজের স্রোতকে পুজি করেই চলছে মা মাছ নিধন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ আফতাব হোসেন বলেন, টাঙ্গন ব্যারাজে বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ নিধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় একসঙ্গে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বীরগঞ্জে আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিঃ-এর ভুট্টা সংগ্রহ ও কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
                                  

বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) : আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড কর্তৃক চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টা সংগ্রহ কার্যক্রম এর শুভ উদ্বোধন এবং ভুট্টা সরবরাহকারী ও কৃষকভাইদের সাথে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার বিকেলে সেবা লিমিটেড এবং অরোরা এন্ড কোং এর আয়োজনে বীরগঞ্জ পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠ সংলগ্ন অরোরা সীড/এগ্রো প্রসেসিং সেন্টারে উক্ত মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে অরোরা এন্ড কোং এর এমডি অর্থনীতিবিদ মো: কামরুজ্জামান বাবু এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সেবা এগ্রোটেক এন্ড সীডস লি: এর এজিএম মো: মনজুরুল ইসলাম, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো: জাকারিয়া জাকা, আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড এর কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার মো: আব্দুল মজিদ, অরোরা এন্ড কোং এর মনিটরিং অফিসার বি.এম.এম এ কবির। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দীপংকর রাহা বাপ্পী, মো. রোকুনুজ্জামান বিপ্লব, তানীম সহ বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুট্টা সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষকবৃন্দ। অরোরা এন্ড কোং এর এমডি মো. কামরুজ্জান বাবু বলেন সেবা লি: এবং অরোরা এন্ড কোং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভুট্টা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হল এবং ভবিষ্যতে বৃহৎ শিল্পে ব্যবহার উপযোগি ভুট্টা, আলু, এবং ধান উৎপাদনে এবং ফসল সংগ্রহ পরবর্তী পর্যায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের কন্ট্রাক্ট ফার্মিং প্রকল্পের আওতায় দক্ষতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান, মানসম্পন্ন ভুট্টা বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং সংগ্রহে সহযোগিতা করা ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

নীলফামারীতে তিল চাষের বাম্পার ফলন
                                  

আব্দুল মালেক, নীলফামারী : নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষিচাপ ইউনিয়নে ৪ হেক্টরসহ উপজেলায় মোট ৫ হেক্টর খরিপ ওয়ান মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নামমাত্র উৎপাদন খরচ আর চাহিদার সাথে ভাল দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক।

চলতি খরিপ-ওয়ান মৌসুমে তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে তিল চাষিরা। ভাল দাম ও প্রচুর চাহিদা থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। কৃষক ঝুঁকছেন তিল চাষাবাদের দিকে।

তিল বীজ বপনের ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা ক্ষেত থেকে ঘরে তুলতে পেরেছেন। আর এতে উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। তিলের ঔষধি গুণ থাকায় বাজারে চাহিদা রয়েছে বেশি। লক্ষিচাপ দুবাছুড়ি এলাকার তিল চাষী বেলাল হোসেনসহ অনেকে বলেন ধান, পাট ও ভুট্টাসহ অন্য ফসলের চেয়ে তিলের আবাদে লাভ বেশি। তবে তামাক চাষের পর পরিত্যক্ত জমিতে কম খরচে তিল চাষে লাভজনক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে কৃষকরা। তাই কৃষকরা বলছে আমরা অনেকেই এখন তিল আবাদের দিকে ঝুঁকেছি । তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে আরো ব্যাপক লাভের আশা করছে কৃষকরা।

ব্যবসায়ীরাও জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি মণ তিল বিক্রি হচ্ছে ২হাজার থেকে ২৫শ’ টাকায়। যা গত বছরের চেয়ে ৫ থেকে ৭শ’ টাকা বেশি।
সদর উপজেলা কৃষিবিদ কামরুল হাসান বলছে, ভালো জাতের বীজ সরবরাহসহ কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সবধরনের সহযোগিতার ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় উপজেলায় চলতি মৌসুমে তিলের ভালো ফলন হয়েছে।

রাজবাড়ীতে চালের বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা
                                  

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : বাজারে নতুন চাল উঠেছে এ মাসের প্রথমেই এবং পর্যাপ্ত চালও রয়েছে বাজারে। কিন্তু তা সত্বেও রাজবাড়ীর বাজার গুলোতে প্রতি কেজি চালের দর বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা আর বস্তা প্রতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে রাজবাড়ীর বাজার গুলোতে প্রতিকেজি সরু চাল বিক্রি হয়েছে মান ভেদে ৪২ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি সরু চালের দাম বেড়েছে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বড় বাজারে গীয়ে দেখা যায় পর্যাপ্ত চাল বাজারে থাকা সত্বেও বেশি দরে তা বিক্রি করা হচ্ছে।
আর মোটা চাল প্রতি কেজি আগে বিক্রি হত ৩৪ টাকা থেকে ৩৮ টাকায় কিন্তু মোটা চালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা থেকে ৮ টাকা।বর্তমানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে। অথচ বাজারে নতুন চাল উঠলেও এবং ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত চালের মজুদ থাকা সত্বেও চালের বাজার লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। এতে সাধারন মানুষ চাল কিনতে তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজাওে চাল কিনতে এসে তারা এখন হিমশিম খাচ্ছেন।
সাধারন ক্রেতারা বলছেন, বাজারে চালের অভাব নেই অথচ ব্যবসায়ীরা কেনো চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন তা তারা জানেন না। চালের বাজার স্থিতিশীল করতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন,বাজারে প্রচুর চাল রয়েছে,কিন্তু মিলাররা তাদের কাছে চালের বাড়তি দাম নিচ্ছেন। তাই তারা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর আগের চাইতে মোটা ও সরু চালের দাম প্রকার ভেদে কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা থেকে ৮ টাকা। আর বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মত। চালের বাজার দর বাড়তি এটা মিলারদের কারসাজি। কারন সবে মাত্র বাজারে নতুন চাল এসেছে আর বাজারে পর্যাপ্ত চালও রয়েছে ,তাই চালের বাজার দর বেশি হওয়ার কোন কারন নেই। মিলারদের কাছ থেকে বেশি দরে কিনতে হয় বিধায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

জমজমাট আম বাজারেও নাখোশ রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা
                                  

মাজহারুল ইসলাম চপল, রাজশাহী : রাজশাহীতে জমে উঠেছে আমের বাজার। কিন্তু আমের বাজার জমে উঠলেও হিসাবের খাতায় যোগ হচ্ছেনা মুনাফার অংক এমনটাই দাবী রাজশাহীর আম ব্যাবসায়ীদের। এই নিয়ে হতাশা বোধ করছে রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীরা।

তবে অন্য জেলা থেকে রাজশাহীতে ক্রেতা আসার পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও চলছে ভরদুম বেচাকেনা। রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ্বর, মোহনপুরের কাঁমারপাড়া ও মহানগরীর শালবাগান এলাকা ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। হাটে আম বিক্রি করতে আসা কয়েকজন চাষী জানান, করোনা ভাইরাস জনিত কারণে এবার আমের দাম কম কিন্তু বাইরে থেকে ক্রেতা আসায় দাম পুষিয়ে যাচ্ছে এবার। গত বছরের তুলনায় এবার দাম পেলেও ফলনের দিকে কম হয়েছে রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি বাগানে। তাই সন্তষ্ট হতে পারছেনা আম চাষীরা।
রাজশাহীর হাটগুলোতে এখন ৮ থেকে ১০ জাতের আম পাওয়া গেলেও সুস্বাদু কয়েক জাতের আমের চাহিদা সব সময় থাকার কারনে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ১। গোপালভোগ ষোলশত থেকে দুই হাজার টাকা ২। খিরসাপাত (হিমসাগর) চব্বিশশত থেকে ছাব্বিশশত টাকা ৩। লক্ষণা সাতশত থেকে এক হাজার টাকা ৪। গুটি সাতশত থেকে এক হাজার টাকা ৫। ল্যংড়া অঠারোশত থেকে বাইশশত টাকা ৬। ফজলি এক হাজার থেকে বারোশত টাকা ৭। আম-রুপালী দুই হাজার থেকে চব্বিশশত টাকা ৮। চুষা চৌদ্দশশত থেকে ষোলশত টাকা ৯। ডবল-বি তেরশত থেকে সতেরোশত টাকা ১০। রানী প্রস্বাদ এক হাজার থেকে চৌদ্দশত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে । দাম চওড়া হওয়ায় অনেক ক্রেতারা হতাশা ও না কেনার আফসোশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

আম ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহ থেকে বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসতে শুরু করলেও মুনুফা আসছেনা ব্যাবসায়। এর কারন হচ্ছে অন লাইনে বেচা-কেনা। করোনা ভাইরাসের কারনে অনেকেই বাজারে আসছেনা দাম বেশি দিয়ে হলেও অনলাইনে কিনে নিচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে অনলাইন ফড়ে (ছাট) ব্যাবসায়ীরা। গত বছরে আমের ফলন ভলো ছিল তাই আমদানী বেশি ছিল এর কারনে দামও কম ছিল। এবার দাম ভালো পেলেও করোনা ভাইরাস ও অনলাইন ব্যাবসায়ীদের কারনে আমারা লাভবান হচ্ছিনা। আমের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারে দাম বেশি তবে । গত সপ্তাহ থেকে গোপালভোগ ও খিরসাপাত (হিমসাগর) আমের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

এদিকে, সরাসরি বেচাকেনার পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের বিভিন্ন গ্রুপে প্রচারণা চালিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনলাইনে অর্ডার, বিকাশে পেমেন্ট আর কুরিয়ারে পণ্য পৌঁছে দেওয়া– এসব অনেকের কাছেই নতুন হওয়ায় সম্ভাবনার পাশাপাশি সমস্যার কথাও বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এসব সমস্যা সমাধানে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাধিক সাহায্য করছেন বলে জানান তারা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, গত মৌসুমে চার-পাঁচ জন ব্যবসায়ী অনলাইনে ব্যবসা করলেও এবার ৩০ থেকে ৪০ জন্য অনলাইনে আমের ব্যবসা করছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আমবাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা ঠেকাতে গত চার বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী গত ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা এবং ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত নামানোর সময় শুরু হয়েছে। ল্যাংড়া ৬ জুন, আমরূপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং ‘বারী আম-৪’ জাতের আম। গত ২২ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে গাছের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। এতে চাষিদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আম্পান যেতে না যেতেই ২৬ মে দিবাগত রাতে কালবৈশাখীতে ঝরেছে আরও অনেক আম।

পঞ্চগড়ে চাষ হচ্ছে পুষ্টি ও ঔষুধী গুণে সমৃদ্ধ ড্রাগণ ফল
                                  

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে কমলা ও চা চাষের সাফল্যের পর নতুন মাত্রায় যুক্ত হয়েছে আরো একটি পুষ্টি ও ঔষুধী গুণে সমৃদ্ধ ড্রাগণ ফল চাষ। সখের বসে সামান্য জমিতে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য পাওয়ায় এখন শুরু হয়েছে বানিজ্যিক ভিত্তিতে এই ফলের চাষ। চলতি গ্রীষ্মকালিন মৌসুমে বাগানে প্রচুর ফল হয়েছে। এই ফল বাগানে দাঁড় করানো প্রতিটি খুঁটিতে বাঁধা গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে পাখা মেলানো তাজা রঙ্গিন ফল ড্রাগন। জেলায় নতুন রুপে ড্রাগণ ফল চাষ হওয়ায় অনেকে আগ্রহী হয়ে দেখতে আসেন এই ফলের বাগান। এই ফল চাষের সফলতার গল্প শুনে অনেইে আগ্রহ হচ্ছে এই চাষে স্ট্রবেরি পিয়ার বা ড্রাগন একটি গ্রীস্মকালিন ফল যা তার প্রাণবন্তর লাল ছিলকা এবং মিস্টি ও বীজযুক্ত সাঁজের জন্য সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। চমৎকার আকৃতির এবং দারুণ সব পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সুপারফুড স্বাস্থ্য সচেতনদের নিত্যকার খাদ্যাভ্যাসে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি তাজা বা ফ্রোজেন রুপে বিশ্বব্যাপী সুপার মার্কেট গুলোতে পাওয়া যায় খুব সহজেই। এই ফলের ৭টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা বৈজ্ঞনিক ভাবে প্রমাণিত বলে জানাগেছে। ১.পুষ্টিতে ভরপুর ড্রাগনঃ ২.দুরারোগ্য ব্যাধি সারাতে পারে ড্রাগনঃ ৩.ফাইবারে সমৃদ্ধ ড্রাগনঃ ৪. অন্ত্র সুরক্ষিত রাখে ড্রাগনঃ ৫.ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে ড্রাগনঃ ৬.রক্তে আইরন লেভেল বাড়িয়ে দেয় ড্রাগনঃ ৭. ম্যাগনেসিয়ামের উৎস ড্রাগনঃ ড্রাগন ফলে নানা ধরনের পুষ্টি ও ঔষুধী গুণ থাকায় জেলার ৪ থেকে ৫ জন সৌখিন কৃষক প্রাথমিক ভাবে নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পুরণে এই চাষ শুরু করেন। দিনদিন সচেতন মহলের মাঝে এর চাহিদা বাড়ায় ও স্থানীয়দের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে এখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হচ্ছে। পুষ্টিকর, সুসাধু ও ঔষুধী গুণ থাকায় এই ফলের চাহিদা এখন অনেক বেশি। তাদের এই ড্রাগণ চাষের সাফল্যে জেলার সৌখিন কৃষকেরা এখন পুরনো গতানুগতিক কৃষি ব্যবস্থার উপর নির্ভশীল না হয়ে সময়ের প্রয়োজনে এবং চাহিদার কথা বিবেচনা করে লাভজনক কৃষিপণ্য উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলার মাটি ড্রাগন চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং পরীক্ষামুলক ভাবে চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় এখন ড্রাগন ফল চাষীদের গড়ে তোলা ছোট ছোট বাগান গুলোর সাফল্যে জেলার অন্য কৃষকদের প্রেরণা হিসেবে বিশেষ ভুমিকা রাখছে। বাগান গড়তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে আরও বেশ কিছু কৃষক। জেলায় আরও নিত্য নতুন বাগান গড়ে উঠলে একদিকে যেমন লাভবান হবেন কৃষকরা অন্য দিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পুরণে অন্যতম ভুমিকা রাখবে। বোদা উপজেলার নয়াদীঘির সফল কৃষক মো, রাশেদ প্রধান জানান, তিন বছর আগে ৫৪ শতক জমির উপর পরীক্ষামুলক ভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি। গাছ লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল ধরে এবং ভালো দাম ও প্রর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় চাষের সাফল্য পেয়েছি। বিভাগীয় জেলা গুলোতে এর চাহিদা অনেক বেশি। বাগান গড়তে যে পরিমান ব্যয় হয়েছে তা এবার উঠে আসবে। চাহিদার কারনে জমির পরিধি বৃদ্ধি করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু করেছি এই ফল চাষ।এই ফল গাছের দির্ঘায়ু প্রায় ৩০ বছর। পুষ্টি ও ঔষুধী গুণে সমৃদ্ধ এই ফল। আমার এই ড্রাগন বাগান দেখতে এসে অনেকেই এখন বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছে।

মো, আবু হানিফ উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর পঞ্চগড় জানান, এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগি। তাই কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও মানুষের পুষ্টির চাহিদা পুরনে ড্রাগণ চাষে উদ্বুদ্ধ করণে মাঠ পর্যায়ে তদারকিসহ ভালো ফলনের লক্ষে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এজেলার উৎপাদিত ড্রাগন ফল স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হয়ে থাকে। এবং এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করণের ফলে অনেক কৃষক ড্রাগণ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আগামিতে এর চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা ।

গাংনীতে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় দিশেহারা কৃষকরা
                                  

এ সিদ্দিকী শাহীন, মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুর গাংনী উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের চোখ তোলা নামক স্থানে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন ও বাঁধ দেওয়ার কারনে হাজার হাজার একর জমির ফসল পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক।
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে গাংনী উপজেলার সাহারবাটিও ষোল টাকা ইউনিয়নের জোড়পুকুর, ধর্মচাকী ও চেংগাড়া গ্রামের কৃষককের প্রায় ৫ হাজার একর জমির পাট পানির নিচে। এ অবস্থায় ফসলহানির শঙ্কায় এলাকার প্রায় দুই হাজার কৃষক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ,একসপ্তাহ টানা বর্ষণে তিন ফসলী জমির পাট তলিয়ে গেছে। মাঠের এক মাত্র পানি নিষ্কাশনের যে ব্রিজ সেই ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্রমান্বয়ে তলিয়ে যেতে থাকে পাট ধানের ক্ষেত। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তলিয়ে যাওয়া পাটের জমিতে পানি জমে থাকায় পাট ক্ষেত পচে যাওয়ার আশস্কা প্রবল। দুইদিনের মধ্যে পানি নিস্কাশন না হলে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জোড় পুকুর গ্রামের কৃষক নাসির জানান, এই মাঠে তাঁর ১একর জমিতে পাট ও ১ বিঘা জমিতে আঊশ ধান রয়েছে। টানা বর্ষণে ক্ষেত তলিয়ে গেছে।জোর পুকুর গ্রামের প্রভাবশালী বকুল হোসেন মাঠের পানি নিস্কাশনের মুখে পুকুর খনন কারায় পানি বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। যার কারনে এই মাঠের হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমিতে পানি জমে আছে।
এব্যাপারে আমরা গ্রামবাসী গাংনী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম, ফজলুল হক জানান, তাদের ৫ একর জমিতে পাট ও ২ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি সরে না গেলে পুরোটাই পচে যাবে। তাছাড়া এসব তিন ফসলি জমিতে পানি জমে থাকলে আমন মৌসুমে ধানের আবাদ হবেনা। এ অবস্থায় আগামী একটি বছর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে আমাদের।
ধর্মচাকী গ্রামের কৃষকরা জানান, জোরপুকুর গ্রামের প্রভাবশালী বকুল ও চেংগাড়া গ্রামের আব্দুলগনি, কুষ্টিয়া মেহেরপুর সড়কের চোখ তোলা নামক স্থানে মাঠের এক মাত্র পানি নিস্কাশনের মুখে পুকুর খনন করার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকায় বিগত ৫০-৬০ বছরেও এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ধর্মচাকী গ্রামের ইউপি সদস্য নিজামউদ্দিন, ও জোরপুকুর গ্রামে ইউপি সদস্য শাহাবদ্দিন জানান, ব্রিজের মুখে পুকুর কেটে বা নিচু জমিতে বাঁধা দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করায় এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এখন বৃষ্টি হলেই ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
তারা আরও বলেন, পাট ছোট থাকা অবস্থায় একবার বৃষ্টি হয়ে পাট ঢুবে গেলে আমরা তৎকালীন গাংনী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি পুকুর মালিকদের ডেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এবং একসপ্তাহর মধ্যে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।সেখানে পুকুর মালিকরা আবারো ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।আমরা গ্রামবাসির পক্ষ থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাহারবাটি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, ইতিপূর্বে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ-জামান থাকা অবস্থায় পুকুর খননের মাধ্যমে জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে সেখানে আমি ও আরিফ উজ-জামান স্যারসহ গ্রামবাসি পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করি। সেখানে আবারো কিছু স্বার্থলোভী ব্যাক্তি তাদের নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কৃষকদের সমস্যা সৃষ্টি করছে।পুকুর খননের কারনে এলাকায় হাজার হাজার কৃষকের বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আর ও বলেন, এখান থেকে বাঁচার পথ এবং কৃষকদের ফসল আদি যাতে ফলাতে পারে। সেজন্য আমি উচ্ছ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এবং অত্র এলাকার মানুষের সমস্যা লাঘবের জন্য পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কে. এম. শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে পাট ও আউশ ধান নষ্ট হওয়ার আশস্কা রয়েছে।এছাড়াও আমন মৌসুমে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর. এম.০ সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

মৌ চাষ করে সাবলম্বী শ্রীপুরের মোহাম্মদ আলী
                                  

মোক্তার হোসেন, গাজীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুরে মৌ চাষ করে সাবলম্বী শেখ মোহাম্মদ আলী।তার বাড়ি উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামে। তিনি পেশায় মৌচাষী। তিনি ২০০৬ সালে মৌমাছি নিয়ে কাজ শুরু করেন । তখন সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের চেষ্টা করেন। সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের কথা ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত গ্রামের লোকজন। ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, এ কারনে অনেক কৃষক তাদের জমিতে মধুর বাক্স বসাতে দিতেন না। এ প্রসঙ্গে শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেকে বাক্স নিয়ে টানা-হেঁচরা করতেন। কেউ কেউ বাক্স বসানোর জন্য টাকা দাবী করতেন। ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে সেইসব দুঃসহ দিন। বাংলাদেশের সরিষা ক্ষেত মৌচাষের জন্য উপযোগী। এটা উপলব্ধি করতে শুরু করেন অনেক কৃষক ।
এভাবে চলতে থাকে কয়েক বছর। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে সাত দিনের প্রশিক্ষন নিয়ে প্রথমে তিনটি মৌবাক্স ক্রয় করেন।কিছুদিন পর তিনটি মৌবাক্সের মৌমাছি মারা যায়। তারপর অবার সাতটি সেরেনা মৌমাছি (মৌবাক্স )ক্রয় করেন ।পরে লাভের মুখ দেখতে থাকেন।তিনি এপর্যন্ত পাঁচ হাজরের ও অধিক মৌমাছি সহ মৌবাক্স বিক্রি করেছেন। সে মৌচাষের উপর আরো অনেক প্রশিক্ষন নেন। গত বছরে সমবায়ের মাধ্যমে মধু বিক্রির জন্য বি এস টি আই র অনুমোদন পান।
তিনি জানান,বাংলাদেশে কয়েক ধরনের মৌমাছি চাষ হয়। এর মধ্যে ডরসেটা জাতের মৌমাছি ঘরের কোনায় বা খোলা জায়গায় চাষ করা যায়। বর্তমানে চাষ উপযোগী তিন প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে-মেলিফেরা, ফ্লোরিয়া ও সেরেনা ।
আশপাশের আবাদি জমির তুলনায় মধুর বাক্স বসানো জমিতে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সেসব জমিতে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে। শুধু তাই নয়, মৌমাছিরা ফুলে পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবি শস্যেরও ফলন বৃদ্বি করছে। এমন চিত্র দেখে এলাকার সাধারন কৃষক মোহাম্মদ আলীকে সহায়তা করছেন।আবার কেউ কেউ তার মতো পথও বেছে নিয়েছেন মৌচাষে সফলতার মুখ দেখে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের যুবকরা বানিজ্যিকভাবে এ পেশায় আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমানে মোহম্মদ আলীর ৯০টির বেশি মৌবাক্স রয়েছে। প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ কেজি কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের উত্তম সময় অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাস। এ দুই মাসে অধিক পরিমানে মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে সরিষা ফুলের মধু অধিক ঠান্ডায় জমাট বেঁধে যায়। এজন্য সরিষার মধুতে থাকা গ্লুকোজকে দায়ী করা হয়। তিনি লিচু, কালিজিরা ও কেওড়া ফুল থেকে ও মধু সংগ্রহ করে থাকেন।
বর্তমানে এক কেজি সরিষার মধুর দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। লিচু ফুলের মধু প্রতি কেজি ৬০০ টাকা। কালিজিরার মধু প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। কেওড়া ফুলের মধু প্রতি কেজি ৬০০ টাকা। সব খরচ বাদে এ বছর আট থেকে-দশ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। বর্তমানে করোনার এই সংকটময় সময়ে ও মধুর চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে জানান এই মৌচাষী।

মৌচাষের মাধ্যমে তার তার জীবন ও পরিবারের অভাব দূর হয়েছে। নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারছেন সামাজিক কর্মকান্ডেও। তিনি বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা মৌচাষি সমবায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, মৌচাষে তেমন বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয় না, অল্প পুঁজিতে, স্বল্প পরিসরে এ ব্যবসা শুরু করা যায়।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান জানান, শ্রীপুর অঞ্চলের মধু বিষমুক্ত ও নির্ভেজাল। এ অঞ্চলে মৌমাছিরা ফুলে পরাগায়ন ঘটায়। ফলে লিচু সহ রবি শস্যের ফলন দিন দিন বাড়ছে।

শ্রীপুরে কাঁঠালের ফলন ভাল হলেও দাম পাচ্ছেনা বাগান মালিকেরা
                                  

মোক্তার হোসেন, গাজীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের বাগানে কাঁঠালের প্রচুর ফলন হয়েছে। শ্রীপুরের কাঁঠালের সুখ্যাতি রয়েছেদেশজুড়ে। তাই এখানকার কাঁঠালের চাহিদা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় একটু বেশি। বন্যার ঝুঁকি না থাকা এবং মাটির উর্বতার কারনে শ্রীপুরে কাঁঠালের ফলন বেশি ও সুস্বাদ। কাঁঠাল দ্রুত পঁচনশীল হওয়ায় কোনো কোনো সময় লাভের চেয়ে ক্ষতির অঙ্ক কষতে হয় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। আর এ কারণেই কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি এ এলাকার কাঁঠাল বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। সরকারি-বেসরকারি কোনো পন্থায় প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকেরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ এলাকায় সংরক্ষণাগার স্থাপন করা গেলে কাঁঠাল চাষে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়া যেতো। কাঁঠাল চাষের আলাদা যন্ত্র ও খরচ না থাকায় অল্প বিনিয়োগ লাভজনক আবাদ হিসেবে সাফল্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেরা। কাঁঠাল বাগানের মালিকরা জানিয়েছে বাগানগুলোতে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হলেও দাম ও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বাগান মালিকেরা বলছেন উৎপাদিত কাঁঠালের বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তারা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিনেও সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় একটি কৃষিখাত ধ্বংস হতে চলেছে।

মহামারী করোনা কালে বাগান মালিকেরা উপযুক্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে যেসব ব্যবসায়ী বাগান কিনেছেন তারাও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠাল পাঠাতে পারছেন না ।

জাতীয় ফল কাঁঠাল। শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার কাঁঠাল বাগান মালিকদের গাছে কাঁঠাল ঝুলে রয়েছে। উপজেলার হাট বাজারগুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। এখানকার অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও বাড়ীর আঙিনায়, রাস্তার দু’ধারে, স্কুল, কলেজের চত্তরে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠলের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। চারা লাগানোর পর সাধারনত এর কোন যত্ন নেয়া হয় না। ঝড়ে যাতে ভেঙ্গে না পড়ে তার জন্য বড়জোর একটা খুঁটি ও খাঁচা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাঁঠালের চারা আপনা থেকেই বেড়ে উঠে। এক কথাই অনাদর আর অবহেলায় বন-বাদারে বেড়ে উঠে ফলের রাজা জাতীয় ফল কাঁঠাল।

তেলিহাটি ইউনিয়নের কাঁঠাল বাগান মালিক কায়সার মৃধা খোকন বলেন, অন্যান্য ফল ও গাছ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় কাঁঠাল নিয়ে তার সিকি ভাগও হয়না। কোন কোন পরিবার ফল মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করে সারা বছরের আয় করে। ২ থেকে তিন মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম এসময় পাইকার ও শ্রমিক শ্রেনীর লোকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। তবে ফলন বেশি হলে দাম না পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। কারণ বেশি ফলনে দাম পড়ে যাওয়ার রেওয়াজও রয়েছে।

টেপির বাড়ী গ্রামের কাঁঠাল বাগান মালিক তাইজুদ্দিন বলেন, তার কাঁঠালের দুটি বাগান রয়েছে। প্রতি বছর তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার কাঁঠাল বাগান বিক্রি করেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে এবার বেশি দাম পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু, করোনার কারনে সঠিক দাম ও বিক্রি নিয়ে টেনশন হচ্ছে। উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বাগান মালিক আব্দুর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাগানে অনেক বেশি কাঁঠাল ধরেছে। তিনি প্রতি বছর প্রায় লাখ টাকার কাঁঠাল বাগান বিক্রি করেন। এ বছরও ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু করোনাকালে কাঁঠাল নিয়ে বিপাকে আছেন।

উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কোড়লপাড়া গ্রামের বাগান মালিক আব্দুর রউফ জানান এ বছর কাঁঠালের ফলন খুবই ভাল হয়েছে তবে বাজারে দাম একেবারেই কম। কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি হওয়ার কথা সেখানে ২০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। লোকসানের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান কাঁঠাল আগের মত বিনা চর্চায় এখন আর হয় না। ফলে কাঁঠালের উৎপাদন খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন।

কেওয়া গ্রামের বাগান মালিক নূরুল আলম বিএসসি বলেন, করোনার কারণে কাঁঠালের দাম কম। শতাধিক কাঁঠাল গাছ রয়েছে তার। অন্যান্য বছরের মতো এবছর বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারী না আসায় কাঁঠালের উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কে পর্যাপ্ত পরিবহন না চলার কারণে কাঁঠাল বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গাছের কাঁঠাল গাছেই পেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছি। তাছাড়া, এলাকায় কোন কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার বাবস্থা না থাকায় তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে অত্র এলাকায় একটি কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।

গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গাজীপুরে কাঁঠালের এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৯হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হচ্ছে। গত বছর ছিল ৯ হাজার ৩ ৬৬ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২’শ ১০ মে.টন। গাজীপুরের মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় কাঁঠালের এলাকা বেশি। কাঁঠালটাকে গাজীপুরে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। “সবুজে শ্যামলে ভরপুর মিষ্টি কাঁঠালে ভরপুর।” কাঁঠালের ঔতিহ্য রক্ষার জন্যই এ ধরনের শ্লোগান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাঁঠালের আবাদ করতে গেলে যে কোনো ফলেরই কিছু সমস্যা থাকে। তার প্রতিকারের ব্যবস্থাও আছে। কাঁঠালেরও সেরকম কিছু রোগ ব্যাধি থাকতে পারে। সেটার যথাযথ ব্যবস্থাপনাও আছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি বিশেষ করে “গামোসিস” বা “আগামরা” রোগের বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। সেখানে আমরা বোর্ডোক্স মিক্সচার (Bordeaux mixture) মিক্সচার লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি। তাতে এই রোগটা আস্তে আস্তে কমে আসছে এবং এ বছর কাঁঠালের ফলন আরও অনুকূলে থাকায় কৃষকদের লাভ হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি। আমরা আশা করছি কৃষক কাঁঠালের উপযুক্ত দামও পাবে।

তিনি বলেন, যেসব কৃষক উপযুক্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন না তারা স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে অন্যত্র কাঁঠাল সরবরাহের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করবেন।

ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা
                                  

মো, রফিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় : হাসি খুশি নিয়ে ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা। তবে এবার লম্বা শীতের কারণে ধানের আবাদে কিছুটা বিলম্বিত হওয়ায়, অন্য দিকে চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে ধানের ফলন, মৃল্য ও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা। কিন্তু পাকা ধান ঘরে উঠার আগেই দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র। পঞ্চগড়ে চলতি বোর মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অপর দিকে বাজারে ধানের ন্যয্য দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। তাই উদ্দাম গতিতে চলছে ধান কাটা মাড়াই, আর ব্যাস্ত সময় পার করছে কৃষাণ,কৃষাণীরা। তবে গত দুই বছরে ধানের দাম নাপেয়ে লোকশানের ছিলেন কৃষকরা। এবারে ভারা মৌসুমে বাজারে শুরুতেই ধানের ন্যয্য দাম পেয়ে অতি লাভের মুখ দেখছেন তারা। তবে ধানের বাজার এরকম থাকলে আগামিতে ধান চাষে বেশি আগ্রহী হবে। বোর ধান চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকদের মাঝে পরামর্শসহ কারিগরি নির্দেশনা দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি প্রধান জেলা পঞ্চগড়ে পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোর ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার, ফলনের পাপশপাশি এবার ধানের মুল্য পেয়ে কৃষরা খুশি। তাই উদ্দাম গতিতে চলছে ধান কাটা মাড়াইর কাজ। আর ধান কাটা মাড়াই নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছে কৃষাণ,কৃষাণীরা । তবে গত দুই বছরে ধানের দাম না পেয়ে লোকশানে ছিলেন কৃষকরা। এর ফলে অনেকেই ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য আবাদে ঝুকে পড়েন। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ কম হয়েছে । ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১লক্ষ ২৮ হাজার মেট্রিক টন। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে বেশি ধানের আবাদ হয় বোদা ও দেবীগ্ঞ্জ উপজেলায়। ব্রি-ধান ২৮ বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মন, আর হাইব্রিড জাতের ধান হয়েছে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ২৮ মন। । তবে ধানের আবাদ কমলেও এবার বেড়েছে দাম। এবার শুরুতেই ধান ভেদে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা। যা গত বারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। অপর দিকে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহের কর্যক্রম শুরু হয়েছে। লটারীর মাধ্যমে ভাগ্যবান অনেকে কৃষক সরকারী খাদ্য গুদামে প্রতিমন ধান বিক্রি করছেন ১হাজার ৪০টাকায়। তবে গত ২ বছরে তুলনায় এবার ধানের দাম পেয়ে অতি লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ধানের বাজার এরকম থাকলে আগামিতে ধান চাষে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হবে এমন আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, এবারে শীত দির্ঘস্থায়ী থাকায় ১৫/২০ দিন দেরিতে ধান রোপন করা হয়েছে, ঝড়,তুফানে ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিলো. এবং করোনার কারনে ধান বিক্রি নিয়েও শঙ্কায় ছিলাম. অবশেষে তার উল্টো হলো। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে,দামও গত দুই বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন, সাড়ে ৭শ থেকে ৮শ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছরে ধান বিক্রি করা হয়েছিলো সাড়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা ,তাতে অনেক লোকশান হয়েছে. বারবার লোকশানে পড়ে ধানের আবাদ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এবারের মত দাম পেলে সামনের দিকে ধানের আবাদ আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বোদা উপজেলার ধান ব্যবসায়ী ডাবলু জানান, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, বাজারে ধানের পর্যাপ্ত আমদানী চাহিদাও অনেক, শুরুতেই আমরা ধান ভেধে ক্রয় করছি ৭থেকে ৮শ টাকা, ধানের দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। আর কিছু দিন পর ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এরকম দাম যদি অব্যাহত থাকে , তাহলে আগামিতে ধান চাষে বেশি আগ্রহী হবে কৃষকরা।

জেলা কৃষিম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো,আবু হানিফ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ১২৫ হেক্টার জমিতে বোর ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন হয়েছে বাম্পার। বাজারে ধানের দামও সন্তোষ জনক থাকায় কৃষকরা অনেক লাভাবান হচ্ছেন. এছারাও অনেক কৃষক লটারীর মাধ্যমে সরকারী খাদ্য গুদামে প্রতিমন ধান ১হাজর ৪০টাকা দরে বিক্রি করে তারা আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন। চাষাবাদে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

রাণীশংকৈলে কালো কচুতেই হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে
                                  

মো: সবুজ ইসলাম, রানীশংকৈল : অল্প পরিশ্রম করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এমন একটি ফসল কালো কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের কৃষক। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের কচু’র চাষ হলেও খাবার উপযোগী এই কালো জাতের কচুতে হাসি ফুটছে কচু চাষীদের। সাধারণত উচু জমিতেই অল্প পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায় বলে ভালো দামেও বাজারে বিক্রি হয়। তাই এই কালো জাতের কচু চাষ করে হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের কালো কচু চাষ করেছেন এক চাষী শাহাদত হোসেন মিলন জানান, এটি এমন একটি ফসল যা থেকে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তেমন একটা খরচ এবং পরিশ্রম ছাড়াই দু-একটা নিড়ানী এবং জৈব সার দিয়ে উৎপাদনে লাভ বেশি হয়।এতে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। তাই তিনি প্রতিবছর তার বাড়ির পাশে এই কচু’র চাষ করেন। এবার তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে এই কচু চাষ করেছেন। কিছু দিন আগে এই জমির অর্ধেক কচু তুলে প্রতি কেজি ৩৯ টাকা দরে বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। আর জমির বাকি কচু আরোও ভালো দামে বিক্রি এবং ওই জমি থেকে ৬০-৬৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী । মিলন এর মতো উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকও কালো জাতের এই কচু চাষ করছেন।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা কচু চাষী মো: দুলাল বলেন, জমিতে কচুর বীজ রোপণের কয়েকমাস এর মধ্যেই নতুন কচু বাজারে বিক্রি করা যায়। এই সবজি চাষে কৃষকের উৎপাদন খরচও কম লাগে। আমি এবার কয়েকশতক জমিতে সাদা কচু চাষ করেছি এবং আগামীতে তিনিসহ বেশ কয়েকজন কৃষক এই কচু চাষে ঝুঁকে পড়বেন বলে তিনি আশাবাদী।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় বেদনাথ জানান,কচু শাক একটি বিষমুক্ত সবজি। কচুর শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি , সি , ক্যালসিয়াম ও লৌহ আছে । ভিটামিন “এ” ছোট-বড় সবার রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন “সি” শরীরের যে কোনো ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই কচু চাষীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি ।

কুমারখালীতে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ
                                  

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ করেছে এবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কৃষকেরা। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারও সোনালী আঁশখ্যাত পাট চাষের দিকে জোর দিয়েছে তারা।
উপজেলা কৃষি সাম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট পাটের আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে।এবছর লক্ষমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি। লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৪০ হেক্টর জমিতে বেশি পাটের আবাদ করা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি সাম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, গত বছর ভাল পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের।তিনি আরো জানান,এবছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ২৪০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে উপজেলায়।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের আর্টিস্টিক জাতের লাল ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন
                                  

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রাণালয়ের অধীনে মৌলভীবাজার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবার জাপানের আর্টিস্টিক জাতের লাল ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন হয়েছে। লাল জাতের ঢেঁড়সের ফলন খুব কম জায়গায় হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রচলিত ঢেঁড়সের রং সাধারণত সবুজ হয়। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দেশের মহামাররি করোনা ভাইরাসের কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সকল কিছু। কিন্তু, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্নতা। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অফিসের সকল দায়িত্ব পালণ করেও নিজ উদ্যাগেই কেন্দ্রের ভেতরে রোপণ করেছেন জাপানের আর্টিস্টিক জাতের লাল ঢেঁড়স। সঠিক পরিচর্যায় ফলনও হয়েছে অনেক ভালো। পাশাপশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেপে, পেয়ারা, আপেল, কমলা, মালটা, আতা, আনার, সবেদা, ড্রাগন, অরবরই, বিলম্ব, জামরুল, আমলকি, বেল, শরীফা, লুকলুকি, ডেওয়া, কফি, কাউ, লেবু, বরই, করমচা, কামরাঙ্গা, চালতা, সাতকরা, ট্যাং, কদবেল,মোসাম্বি, ডালিম, লটকন, জলপাই, এলাচ (মসলা), তেজপাতা (মসলা), গোলাপ জাম, বিলাতি গাব,গোল মরিচ (মসলা), দারুচিনি, সুইট লেমনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ও বনজ গাছের চারা রোপন করে বাগান তৈরি করে রেখেছেন। এসব কিছুতে খাদ্যমানও রয়েছে অন্যসব প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে কৃষক পর্যায়ে এসব জাত বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জানা গেছে- লাল ঢেঁড়স এটি একটি হাইব্রিড জাত। ঢেঁড়সের পাতা সবুজ হলেও পাতার শিরা ও পুরো ফলটি লাল রঙের হয়ে থাকে। ফুলটি হলুদ-লালাভ। এর ফলগুলো বেশ বড় বড়। লাল ঢেঁড়স সারা বছরই চাষযোগ্য। বীজ বপন থেকে শুরু করে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই ঢেঁড়স সংগ্রহ করা যায়। এ ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণ সালফার, বিটা-ক্যারোটিন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। যা মানুষের রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। ঢেঁড়সের বীজে উচ্চমানের তেল ও আমিষ আছে। আমাশয়, কোষ্টকাঠিন্যসহ পেটের পীড়ায় ঢেঁড়স অত্যন্ত উপকারী।সবজি হিসেবে এটি সবার নিকটই প্রিয়। এ ঢেঁড়স চাষে পেটের খোরাকের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের খোরাকও মেটাবে। এটি যেখানে রোপন করা যাবে সেখানেই শোভাবর্ধনও করবে।

অর্ধেক দামে কৃষি যন্ত্রপাতি, আসছে ৩০০০ কোটি টাকার প্রকল্প
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : দেশের কৃষি ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়া অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেভাবে হয়নি। কারণ কৃষি যন্ত্রপাতির দাম অনেক, যা কৃষকের পক্ষে কেনা কষ্টসাধ্য। তাই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের কৃষকদের যন্ত্রপাতি দেবে সরকার। এজন্য তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, থ্রেসার, রিপার, কম্বাইন্ড হারভেস্টার কেনা হবে প্রকল্পের আওতায়। বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় হাওর ও লবণাক্ত জেলায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। অন্য জেলায় দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি। কৃষক যেসব যন্ত্র পছন্দ করবে সেগুলোই দেওয়া হবে। জোর করে কৃষি যন্ত্রপাতি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কৃষক গ্রুপের সদস্যরাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

যাতে কেউ এই সুবিধা নিয়ে অন্যজনের কাছে কৃষিযন্ত্র বিক্রি করে না দিতে পারে সেজন্য কৃষি কার্ড রয়েছে এমন কৃষকেরাই কেবল ভর্তুকি পাবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ২৮ লাখ টাকা দাম হলে কৃষক দেবে ১৪ লাখ টাকা বাকি ১৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করবে। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকের নাম ঠিক করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেওয়া হবে কৃষকদের। কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ধান কাটা, মাড়াই, পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত করা যায়। এর সঠিক ব্যবহারে একর প্রতি কৃষি উৎপাদন খরচ ৫ হাজার টাকা থেকে মাত্র দেড় হাজার টাকায় নামিয়ে আনা যায়। একটা কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ৫০ থেকে ১০০ বিঘা জমিতে ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব।

ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য ১৫ হাজার মেইজ শেলার কেনা হবে। ধান রোপনের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লাটরসহ আলু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি ভর্তুকি মূল্যে পাবে কৃষকেরা।

কৃষিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসল সংগ্রহত্তোর অপচয় হ্রাস, শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে পারেন কৃষক। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা, সাধারণ কৃষকদের মধ্যে যন্ত্র ব্যবহারের প্রসারতা বৃদ্ধি না পাওয়া এবং ফসল চাষে যন্ত্রের ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে প্রচারণা কম থাকাসহ নানা কারণে এখনও আধুনিক যন্ত্রনির্ভর হতে পারেনি কৃষি খাত। এজন্য ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার।

প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রথমে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় ২০০ কোটি টাকা কমিয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রকল্পটি সংশোধন হয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আসলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি জুলাই ২০২০-২০২৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার প্রকল্প নিয়ে একবার সভা হয়েছে। ব্যয় কমানোসহ কিছু সংশোধনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আমাদের হাতে আসলে একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। সরকারের উন্নয়ন বাজেটের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সারাদেশের কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন মেয়াদে ‘খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি-দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৩৩৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যন্ত্রপাতি ব্যবহারে শস্য সংগ্রহত্তোর অপচয় সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ কমেছে। তবে ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতিপর্ব, কাটার আগে পরিচর্যা, কাটার সময় ও কাটার পরে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়। কৃষি কাজের এসব স্তরে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিশ্চয়তার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। উৎপাদন ও শ্রম খরচ কমবে কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে।

ধান বীজ বোনার জন্য রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের প্রয়োজন দুই লাখ। এছাড়া ধান কাটার যন্ত্র রিপারের চাহিদা এক লাখ হলেও দেশে এ যন্ত্র রয়েছে পাঁচ হাজার। ধান বোনার জন্য পিটিও সিডার আছে মাত্র আড়াই হাজার। দেশে এ যন্ত্রের চাহিদা রয়েছে এক লাখ। প্রকল্পের আওতায় চাহিদা পূরণ করা হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জমি চাষে এখন প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়া লাগলেও পিছিয়ে রয়েছে ট্রান্সপ্লান্টিং ও হারভেস্টিং। মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ জমিতে ট্রান্সপ্লান্টিং করতে ব্যবহার করা হচ্ছে যন্ত্রের। অন্যদিকে, মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ জমিতে হারভেস্টিং করতে ব্যবহার করা হচ্ছে যন্ত্রের। যন্ত্রের ব্যবহার না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে কৃষক।

সূত্র জানায়, কৃষকের খরচ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ট্রান্সপ্লান্টার ও হারভেস্টার মেশিন। ৪ সারিবিশিষ্ট রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের এক মেশিনেই ঘণ্টায় ২ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা যায়। অন্যদিকে, জিপিএস প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন হারভেস্টার দিয়ে একই সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ একর জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায়। হারভেস্টারের মাধ্যমে খরচের পরিমাণ ৭০-৮০ শতাংশ, সময় ৭০-৮২ শতাংশ বাঁচানো সম্ভব। কৃষির সব সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) শাহ মোহাম্মদ আকরামূল হক বলেন, সারাদেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণ করার জন্য বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে সব থেকে বড় প্রকল্প। এটা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি অনেক উন্নত হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়া দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে।


   Page 1 of 11
     কৃষি সংবাদ
রাজবাড়ীতে প্রায় ৪ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত
.............................................................................................
ফলন বেশি হলেও দামে হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গনে নির্বিচারে চলছে মা মাছ নিধন !
.............................................................................................
বীরগঞ্জে আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিঃ-এর ভুট্টা সংগ্রহ ও কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
নীলফামারীতে তিল চাষের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে চালের বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা
.............................................................................................
জমজমাট আম বাজারেও নাখোশ রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
পঞ্চগড়ে চাষ হচ্ছে পুষ্টি ও ঔষুধী গুণে সমৃদ্ধ ড্রাগণ ফল
.............................................................................................
গাংনীতে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় দিশেহারা কৃষকরা
.............................................................................................
মৌ চাষ করে সাবলম্বী শ্রীপুরের মোহাম্মদ আলী
.............................................................................................
শ্রীপুরে কাঁঠালের ফলন ভাল হলেও দাম পাচ্ছেনা বাগান মালিকেরা
.............................................................................................
ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা
.............................................................................................
রাণীশংকৈলে কালো কচুতেই হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে
.............................................................................................
কুমারখালীতে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ
.............................................................................................
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের আর্টিস্টিক জাতের লাল ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
অর্ধেক দামে কৃষি যন্ত্রপাতি, আসছে ৩০০০ কোটি টাকার প্রকল্প
.............................................................................................
চোখ ধাঁধানো সবুজের বুকে হলুদের সমাহার
.............................................................................................
ফুলপুরের মাড়াদেওড়া খাল বিলীন হওয়ার পথে
.............................................................................................
মধুপুরে দোখলা রেঞ্জে ৮ একর জায়গা জবরদখল মুক্ত
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র নওগাঁয় মাঠ দিবস
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র নওগাঁয় মাঠ দিবস
.............................................................................................
আক্কেলপুরে সেচ পানির দাম বৃদ্ধির অভিযোগ
.............................................................................................
সিলেটে সূর্যমুখী ফুলবাগান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ক্যাপসিকাম চাষে সফল মহেশপুর মিন্টু মিয়া
.............................................................................................
কমলগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক
.............................................................................................
রেকর্ড পরিমাণ রসুনের আবাদ পুঠিয়ায়
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে শষ্য আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে শষ্য আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
.............................................................................................
বকশীগঞ্জে সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
.............................................................................................
নওগাঁয় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বেড়েছে ভুট্টার চাষ
.............................................................................................
বসন্তের আগমনে নতুন সাজে আম গাছ, মৌমাছির গুনগুন চারিদিকে
.............................................................................................
ঝিনাইদহে ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক
.............................................................................................
গৌরীপুরে কৃষক প্রশিক্ষণ
.............................................................................................
নান্দাইলে নরসূন্দা নদীর নাব্যতা হ্রাস
.............................................................................................
চুনারুঘাটে চা শ্রমিক হত্যার অভিযোগে আটক ২
.............................................................................................
নাজিরপুরে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি মেলা
.............................................................................................
ফুলবাড়ীতে ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক
.............................................................................................
গোবিন্দগঞ্জে শরিষা কর্তন উপলক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্টিত
.............................................................................................
মৌসুমী সবজি থাকলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
.............................................................................................
মাগুরায় রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ রোপন করেছে কৃষকরা
.............................................................................................
কুড়িগ্রামের বৃষ্টির কারনে সরিষা ফলনে দু:চিন্তায় কৃষকরা
.............................................................................................
ডিমলায় কৃষকদের মাঝে মুগডাল বীজ ও সার বিতরণ
.............................................................................................
পাইকগাছার লবনাক্ত মাটিতে “তীন” গাছে ফল
.............................................................................................
মধুপুর-ধনবাড়ীতে কলা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক
.............................................................................................
কোল্ড ইনজুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার কারণে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা
.............................................................................................
রাজনগরে আমন ধান সংগ্রহে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্ণয়
.............................................................................................
ধনবাড়ীতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে
.............................................................................................
জয়পুরহাটে ব্রোকলি চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে কৃষক
.............................................................................................
ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে শরীয়তপুর-নাগেরপাড়া সড়কে
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD