| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বিয়ের কনের ক্রয়মূল্য   > ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পেলেন আরচার রোমান সানা   > পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ধসে মৃত্যু ১১   > সালমানের সিনেমার এক দৃশ্যের খরচ সাড়ে ৭ কোটি রুপি   > শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে : ঢাবি উপাচার্য   > ভারতে `বেইমান`দের গুলি করে মারার স্লোগান দিলেন বিজেপি মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর   > সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার অব্যাহত রাখবে : প্রধানমন্ত্রী   > ধর্মান্তরিত ১২ সদস্যের পরিবারটিকে ভারতে ফেরত পাঠানোর নেপথ্যে   > আবদুল্লাহর পদত্যাগ, কাতারের নতুন প্রধানমন্ত্রী খালিদ   > সোলেইমানি হত্যার নীল নকশাকারী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত  

   অন্যান্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বিদেশ থেকে দেশে ফেরা শ্রমিকের লাশ : মৃত্যুর বড় কারণ কী?

ডেস্ক রিপোর্ট :  প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে।

সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২জন শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরত এসেছে।

২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের মৃতদেহ ফিরেছে দেশে, অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরে এসেছে।

বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর বড় কারণ কী?

বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকের মৃত্যুর হারও প্রতি বছর বেড়েছে।

১৯৯৩ সালে মাত্র ৫৩ জন শ্রমিকের লাশ ফেরত এসেছিল প্রবাস থেকে, যে সংখ্যা ২০১৯ এ এসে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৮ জন।

সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, এই হিসাব কেবল যেসব লাশ ফেরত আসে সেই সংখ্যা ধরে।

এর বাইরে অনেক লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়, যার হিসাব সব সময় হালনাগাদ থাকে না।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, "যেসব প্রবাসীর লাশ ফেরত আসে দেশে, তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা ডেথ রিপোর্টে যা উল্লেখ থাকে, সেটিই জানা যায়। সেই হিসাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক,স্বাভাবিক মৃত্যু, এবং আত্মহত্যার কথা বেশি উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং অসুস্থতার কারণও উল্লেখ থাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে।"

২০১৯ সালে দেশে ফেরা লাশের এক তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। নারী শ্রমিকসহ মোট ১১৯৮ জনের লাশ ফেরতে এসেছে দেশটি থেকে।

সৌদি আরবে এই মূহুর্তে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করেন সৌদি আরবে।

কেন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক বেশি হয় শ্রমিকদের?

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

অল্প বয়েসী কর্মক্ষম মানুষ কাজে যাবার পরে কেন শ্রমিকদের দ্রুত এবং আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে?

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরু`র পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন,

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যায়। সেখানে মূলত হৃদরোগ এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন শ্রমিকেরা।

কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, প্রথম প্রথম অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাপমাত্রা সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।

"মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে তীব্র গরম, তাতে প্রচণ্ড পানি শূন্যতা তৈরি হয়। সে অবস্থায় পানি বেশি পানের পাশাপাশি আরো কী করতে হবে সেটা বুঝতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান অনেকে। সে অবস্থায় কাজ করতে থাকলে হয় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে, নতুবা কাজে মন দিতে পারবে না। উভয় ক্ষেত্রেই শারীরিক ক্ষতির সঙ্গে মানসিক চাপ বাড়বে।"

"আর অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি হবার কারণে শ্রমিকেরা ওখানে গিয়ে একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। হয়তো ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন, কিন্তু কাজটি হয়ত খুবই অল্প বেতনের। তখন দ্বিতীয় একটি কাজ বা পার্টটাইম খোঁজে তারা। ফলে অনেকেই ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে পর্যাপ্ত ঘুমানোরও সুযোগ পান না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।"

মিজ সুলতানা বলছেন, সেই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের নিশ্চয়তা, দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক অনেক বেশি থাকে।

"এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে যাবার কারণে নিম্ন মজুরীর কাজ করতে বাধ্য হয়।

যে কারণে সেই রোজগারের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকেনা বা তারা নিজেরাও সে খরচ করতে চায় না। যে কারণে দেখা যায়, হঠাৎ স্ট্রোক হলো বা হার্ট অ্যাটাক হলো।"

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালয়েশিয়াতে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন।

এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে মারা গেছেন।

বাংলাদেশে যাচাই হয় না মৃত্যুর কারণ

সিলেটের হবিগঞ্জের মারুফ সরকার সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে।

চার বছর পর মারুফের মৃত্যুর খবর তার একজন রুমমেট ফোনে হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এক মাস পরে তার লাশ ফেরে দেশে। মারুফের বোন সালমা আক্তার জানিয়েছেন, লাশের সাথে আসা রিপোর্টে লেখা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু,

কিন্তু দাফন করার সময় পরিবারের সদস্যরা মারুফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবার পর যাদের মাধ্যমে মারুফ বিদেশে গেছেন, তারা পরামর্শ দেয় বিষয়টি নিয়ে `ঝামেলা` না করে মেনে নিতে।

"আমার আরেক ভাইরে কম টাকায় সৌদি নিয়া দিব বলছে, এই জন্য আমরা আর আগাই নাই।

আমরা খালি বলছিলাম লাশটা একবার পরীক্ষা করে দেখতে, কিন্তু কেউ শুনে নাই, মাটি দিয়া দিছে ভাইরে।"

বাংলাদেশে অভিবাসন খাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু তদন্তে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলছিলেন, "লাশের গায়ে ডেথ সার্টিফিকেটে যা লেখা থাকে, তাই সবাই জানে এবং মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশেও যদি সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার ব্যবস্থা থাকত তাহলে স্বজনদের মনে কোন সন্দেহ থাকতো না।"

মিঃ হাসান বলছিলেন, শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর কারণ দেশে যাচাই না করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরা শ্রমিকের লাশ : মৃত্যুর বড় কারণ কী?
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :  প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে।

সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২জন শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরত এসেছে।

২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের মৃতদেহ ফিরেছে দেশে, অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরে এসেছে।

বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর বড় কারণ কী?

বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকের মৃত্যুর হারও প্রতি বছর বেড়েছে।

১৯৯৩ সালে মাত্র ৫৩ জন শ্রমিকের লাশ ফেরত এসেছিল প্রবাস থেকে, যে সংখ্যা ২০১৯ এ এসে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৮ জন।

সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, এই হিসাব কেবল যেসব লাশ ফেরত আসে সেই সংখ্যা ধরে।

এর বাইরে অনেক লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়, যার হিসাব সব সময় হালনাগাদ থাকে না।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, "যেসব প্রবাসীর লাশ ফেরত আসে দেশে, তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা ডেথ রিপোর্টে যা উল্লেখ থাকে, সেটিই জানা যায়। সেই হিসাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক,স্বাভাবিক মৃত্যু, এবং আত্মহত্যার কথা বেশি উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং অসুস্থতার কারণও উল্লেখ থাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে।"

২০১৯ সালে দেশে ফেরা লাশের এক তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। নারী শ্রমিকসহ মোট ১১৯৮ জনের লাশ ফেরতে এসেছে দেশটি থেকে।

সৌদি আরবে এই মূহুর্তে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করেন সৌদি আরবে।

কেন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক বেশি হয় শ্রমিকদের?

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

অল্প বয়েসী কর্মক্ষম মানুষ কাজে যাবার পরে কেন শ্রমিকদের দ্রুত এবং আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে?

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরু`র পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন,

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যায়। সেখানে মূলত হৃদরোগ এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন শ্রমিকেরা।

কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, প্রথম প্রথম অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাপমাত্রা সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।

"মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে তীব্র গরম, তাতে প্রচণ্ড পানি শূন্যতা তৈরি হয়। সে অবস্থায় পানি বেশি পানের পাশাপাশি আরো কী করতে হবে সেটা বুঝতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান অনেকে। সে অবস্থায় কাজ করতে থাকলে হয় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে, নতুবা কাজে মন দিতে পারবে না। উভয় ক্ষেত্রেই শারীরিক ক্ষতির সঙ্গে মানসিক চাপ বাড়বে।"

"আর অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি হবার কারণে শ্রমিকেরা ওখানে গিয়ে একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। হয়তো ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন, কিন্তু কাজটি হয়ত খুবই অল্প বেতনের। তখন দ্বিতীয় একটি কাজ বা পার্টটাইম খোঁজে তারা। ফলে অনেকেই ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে পর্যাপ্ত ঘুমানোরও সুযোগ পান না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।"

মিজ সুলতানা বলছেন, সেই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের নিশ্চয়তা, দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক অনেক বেশি থাকে।

"এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে যাবার কারণে নিম্ন মজুরীর কাজ করতে বাধ্য হয়।

যে কারণে সেই রোজগারের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকেনা বা তারা নিজেরাও সে খরচ করতে চায় না। যে কারণে দেখা যায়, হঠাৎ স্ট্রোক হলো বা হার্ট অ্যাটাক হলো।"

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালয়েশিয়াতে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন।

এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে মারা গেছেন।

বাংলাদেশে যাচাই হয় না মৃত্যুর কারণ

সিলেটের হবিগঞ্জের মারুফ সরকার সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে।

চার বছর পর মারুফের মৃত্যুর খবর তার একজন রুমমেট ফোনে হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এক মাস পরে তার লাশ ফেরে দেশে। মারুফের বোন সালমা আক্তার জানিয়েছেন, লাশের সাথে আসা রিপোর্টে লেখা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু,

কিন্তু দাফন করার সময় পরিবারের সদস্যরা মারুফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবার পর যাদের মাধ্যমে মারুফ বিদেশে গেছেন, তারা পরামর্শ দেয় বিষয়টি নিয়ে `ঝামেলা` না করে মেনে নিতে।

"আমার আরেক ভাইরে কম টাকায় সৌদি নিয়া দিব বলছে, এই জন্য আমরা আর আগাই নাই।

আমরা খালি বলছিলাম লাশটা একবার পরীক্ষা করে দেখতে, কিন্তু কেউ শুনে নাই, মাটি দিয়া দিছে ভাইরে।"

বাংলাদেশে অভিবাসন খাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু তদন্তে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলছিলেন, "লাশের গায়ে ডেথ সার্টিফিকেটে যা লেখা থাকে, তাই সবাই জানে এবং মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশেও যদি সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার ব্যবস্থা থাকত তাহলে স্বজনদের মনে কোন সন্দেহ থাকতো না।"

মিঃ হাসান বলছিলেন, শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর কারণ দেশে যাচাই না করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে মানব বিপদাপন্নতার হুুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু!
                                  

এম. সাদ্দাম হোসেন পবন : পরিবেশ বর্তমান সময়ের সর্বাধিক আলোচিত বিষয় । এক বিংশ শতকের শুরুতে এসে তা আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

পরিবেশের প্রতিটি জীব ও জড় একে অন্যের প্রতি গভীর ভাবে নির্ভরশীল। সমুদ্রপৃস্টের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ন দেশগুলোর মধ্য অন্যতম বাংলাদেশ।

গবেষনামূলক সংস্থাদের স্টাডি বিশ্লেষন করলে দেখাযায়, তাপমাত্রা ক্রমশই বাড়ছে এর বৃদ্ধির হার মানুষের আধুনিক জীবনযাত্রার কর্মকান্ডের ফলে নেতিবাচক প্রভাব পতিত হচ্ছে।

২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এমন নজির স্থাপন করবে তা থেকে বেঁচে উঠার কোন কৌশল নেই বাংলাদেশের। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা দেড় মিটারে রুপ নিলে বাংলাদেশের মানব অস্তিত্ব মহুূত্বে গুলিয়ে মিশিয়ে যাবে সে আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ স্থল ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে সর্ব বৃহৎ ১০টি মেগাসিটির মধ্য ৮টি মেগাসিটিই সমুদ্র-তীরবর্তী এলাকাজুড়ে বিস্তৃত যার পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ দেড়’শ হতে ২’শ কিলোমিটারের মধ্যে মানব ও প্রানিকুলের বসবাস। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে সেই প্রভাবে আক্রান্ত মানুষদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও যাওয়ার কোন উপায় থাকবে না।

তারকাটা দিয়ে সিমান্ত অঞ্চলের যে বেষ্টিনী রয়েছে তা বিপদাপন্নতার সময় ভেদ করে আশ্রয় নেয়াও বাংলাদেশের মানুষের মরণ ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

কোন একটি অস্তিত্বে টান পড়লে তার প্রভাব অন্যটির উপর পতিত হয়। মানব সভ্যতার বিকাশ ও অস্তিত্বের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য পূর্ন সহাবস্থান অতিব জরুরী।

পৃথীবিতে প্রাণের অস্তিত্ব  বিকাশের সুচনা থেকে সকল ধরনের প্রাণী তার চার পাশের পরিবেশ যা প্রকৃতি থেকে সংগহ করছে বেচেঁ থাকার উপাদান।

জন্মের পর থেকে আদিকাল হতেই মানুষ প্রকৃতিকে তার প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছে । প্রকৃতির সম্পদ সমূহ কাজে লাগিয়ে ঘটিয়েছে মানব সভ্যতার চুড়ান্ত বিকাশ ।

শুরুতে মানুষ প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজের অস্তিত্বের গতি সঞ্চার করেছে; তা তাকে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ আর দীর্ঘ স্থায়িত্ব।

কিন্তুু সভ্যতার বিকাশে আজ প্রকৃতিকেই মানব প্রজাতির সাথে তাল মেলাতে হচ্ছে যা মানব অস্তিত্বের স্বাচ্ছন্দ গতিই কেবল কেড়ে নেবার উপক্রম করেনি বরং তার সমগ্র পরিমন্ডলকে করে তুলেছে ধংশের মুখো-মুখি। বায়ু মন্ডলের উপরি স্তর থেকে মৃতিৃকা পর্যন্ত বৃক্ষ থেকে তৃনমূল পর্যন্ত পরিবেশ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সমুখীন।

আর তাই পরিবেশের ভারসাম্য হীনতায় আজকের আধুনিক বিশ্ব বিপর্যস্থ। নানাবিধ  প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘন ঘটায় সারা বিশ্ব অশান্ত এবং এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে মানব জাতির খাপ-খাইয়ে নেয়ার কৌশল উদ্ভাবন করছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো । এসব কৌশলেও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব হ্রাসে তেমন কোন আশানুরুপ প্রতিফলন ঘটছে না।

বন্যা, ভূমিকম্প, জলচ্ছাস, ঘূর্নিঝড়, টাইফুন, এসিড বৃষ্টি খড়া ভূমি ধসের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে আজকের প্রযুক্তি বিদ্যায় উদ্ধত ও উন্নত বিশ্ব ও রেহাই পাচ্ছে না- যে বিপর্যয়ের পথ বেয়ে নেমে আসছে মহামারী দূর্ভিক্ষ।

মানুষের আবাস ভূমি এ পৃথিবী ক্রমেই হয়ে উঠেছে বসবাসের অযোগ্য। এইডস এর মত কালো থাবায় অকালে ঝড়ে পরেছে আদম সন্তান মৃতে্যুর হিম শিতল কোলে।

তাই ইসলামী দৃষ্টি কোন থেকে প্রকৃতি বা আসমান যমীন এবং এর মধ্যেকার সম বস্তুই সৃষ্ট পর্দাথ। সুতরাং একে এক কথায় বলা হয় মহান আল্লাাহর সৃষ্টি ।

যেহেতু আল্লাহ তার গুনের সাহায্যই এই সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেছেন। এই সৃষ্টিকে পূর্ন ভাবে মানুষ বুঝলে আল্লাহর বিচিত্র বিবিধ এবং অসংখ্য গুন সমন্ধে মানুষ সচেতন হতে পারে এবং আল্লাহর রহমত-বরকত ও কুদরত বিবিধ ক্ষমতা সমন্ধে ওয়াকিব হাল হতে পারে ।

এই সৃষ্টিকে জানার এবং একে ব্যবহার করার দায়িত্ব হযরত আদম (আঃ) নিয়ে  ছিলেন আমানত হিসাবে।

সে দায়িত্ব নিজের ক্ষমতা অনুযায়ি কম বেশী প্রতিটি মানুষের কিন্তু সেই নিয়ম ভঙ্গ করার অধিকার মানুষের নেই।

বিজ্ঞান অর্থ এই সৃষ্টি সমন্ধে বিশেষ জ্ঞান কেই বিজ্ঞান বলে ; সেই জ্ঞান অর্জন করার দয়িত্ব প্রতিটি মানুষের তথা মানব গোষ্ঠির কিন্ত আল্লাহর সৃষ্টি কৃত নিয়মাবলীকে পরিবর্তন করে নতুন নিয়ম প্রচলন করার কাহারো অধিকার নেই।

আল্লাহর নির্ধারিত যে প্রাকৃতিক নিয়মাবলী রয়েছে তাকে ভেঙ্গে চুড়ে নতুন নিয়ম তৈরী করার ধৃষ্টতা এবং উদ্ধত্বা বৈজ্ঞানিকরা দেখাচ্ছেন তার ফলে সৃষ্টিতে যে অনাবৃষ্টি জন্ম নিচ্ছে তার ভয়াবহ প্রমাণ পাওয়া সত্বেও বৈজ্ঞানিকরা নিবৃত্ত হচ্ছে না। ওজন লেয়ারে যে ঘটনা ঘটেছে তা তারা জানেন।

অথচ কি করে এর হাত থেকে মুক্ত হবেন তা জানেন না। ৩০ শতকে আমেরিকাতে  পাহাড় পর্বত ভেঙ্গে চুড়ে নতুন নতুন শহর করতে গিয়ে ইকোলোজিতে গড়-বড় টের পেয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে পারিপার্শি¦ক স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট করলে অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়।

ঠিক সেই সময়ে পারিপার্শ্বিক বিজ্ঞানের জন্ম হয় এবং তখনি তারা বুঝতে পারলেন, প্রকৃতিতে যে নিয়ম রয়েছে তাকে অগ্রাহ্য করে ভেঙ্গে ফেলে নতুন কোন নিয়মে কেউ যদি প্রকৃতিকে পরিচালিত করতে চায়-তাহলে সকলেই অপ্রত্যাশিত বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।

তখন থেকে পারিপার্শ্বিক বিজ্ঞানের উদ্ভব হয় এবং ধর্ম যে নীতির কথা বলেছে প্রকৃতি সম্বন্ধে সেই নীতিকেই গ্রহন করতে বাধ্য হয়।

মুলত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত করার যাবতীয় হাতিয়ার। প্রকৃত পক্ষে- মানুষের কার্য্য কলাপেই বদলে যাচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ।

একবিংশ শতাব্দির শেষ নাগাদ বিশ্বায়নের ফলে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বেড়ে যায় বা বৃদ্ধি পায় তাহলে বাংলাদেশের উপকুলীয় অঞ্চল সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবেশ গত অবক্ষয়ের ক্ষতির পরিমান ও মানব প্রানহানির পরিমান যে কতটা ব্যাপক আকারে তা চিন্তা করলে গাঁ শিউরে ওঠে।

একবিংশ শতাব্দির এই ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কর্ম- প্রচেষ্টা গ্রহন করা অত্যাবশ্যক।

আজকের মানুষ যে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা থেকে মুক্তির পথ আবিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরী ; অন্যথায় এই গাফিলতিই মানব জাতির জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।

এমনকি পৃথিবীতে প্রাণীর অস্তিত্ব বিলপ্তি হওয়া স্বাভাবিক। তাই আসুন বিশ্বের পরিবেশ দূষণ রোধ করি, গাছ লাগাই, পরিবেশ বাচাঁই।

 

বাংলাদেশে চা-শিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয়
                                  

চা শিল্প শ্রমিকদের উন্নয়নেও নানা কমর্সূচি নিতে হবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে দিতে হবে নানা প্রণোদনা। এগুলোর সবো”র্চ ও যথাযথ ব্যবহার হ”েছ কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি।

চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অব¯’ান শীষর্ দিকেই। তবে উৎপাদন হার আর মানের দিকে কমতি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে চায়ের চাহিদা বাড়ছে। কিš‘ সে তুলনায় উৎপাদন বাড়ছে না। বাংলাদেশ চা বোডর্ (বিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার কেজি। এ সময়ে ভোগের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি।

ওই বছরে ১ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল। আর রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছিল প্রায় ৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে এসে এ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার কেজিতে। বিপরীতে ভোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে।

এ সময়ের ব্যবধানে দেশে ভোগ তথা ভোক্তা পযোর্য় পণ্যটির ব্যবহার বেড়েছে ১৩২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর বিপরীতে উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। কমেছে রপ্তানির পরিমাণও। গত বছর বাংলাদেশ থেকে পণ্যটি রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৬০ হাজার কেজি। অথার্ৎ প্রায় দেড় দশকের ব্যবধানে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০০১ সালে দেশে মাথাপিছু চা ভোগের পরিমাণ ছিল ২৯৩ গ্রাম।

২০১৩ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৩৭৯ গ্রামে। গত বছরেই তা ৫০০ গ্রাম ছাড়িয়ে যায়। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকা ও চাষ স¤প্রসারণের সুযোগ ও সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও উৎপাদনে ব্যথর্ হ”িছ। চা শিল্প খাতে একটু নজর দিলে চায়ের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। চা চাষের স¤প্রসারণের সুযোগ রয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে।
এ অঞ্চলের মাটি উন্নতমানের চা উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী।

এখানে চা উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চগড়ের অগাির্নক চা তো বিদেশে রপ্তানি হ”েছই। ঠাকুরগাঁতেও সীমিত পরিসরে চা চাষ হ”েছ। লালমনিরহাট, নীলফামারিতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। একটু উন্নতব্যব¯’াপনার মাধ্যমে সিলেট, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জের চায়ের মান বৃদ্ধি করা যেতে পারে। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল থেকে পাইলটিং হিসাবে শুরু করতে পারি। বাড়তি চাহিদা মেটাতে দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট জেলায় উন্নতমানের চা উৎপাদন বেগবান করতে হবে।

সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। চা-শিল্পকে দেশের শিল্প না বলে অনেকে আভিজাত্যের শিল্প বলে থাকেন। কারণ গুটিকয়েক মালিকের হাতে জিম্মি এ শিল্প। এ শিল্প দেখিয়ে তাদের অনেকে বেশ সুযোগ-সুবিধা নেন দেশ-বিদেশ থেকে। কিš‘ চা-কেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা নিলেও অনেকে চায়ের উন্নয়নে কাজে লাগান না! এ ব্যাপারে সরকার কঠোর হলেই বিপুল সম্ভাবনা দেখা দেবে এ শিল্পে। সরকার চা চাষের উন্নয়নে হাতে নিয়েছে পরিকল্পনা। ভিশন-২০২৫।

পাবর্ত্যাঞ্চলে চা স¤প্রসারণে নিয়েছে বেশকিছু প্রকল্প। এসব সহযোগিতা ও সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগালে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের ক্রমবধর্মান চাহিদা পূরণ করে বিপুল পরিমাণ চা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া চায়ের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। চায়ের বাজার ধরে রাখতে হলে আমাদের উ”চফলনশীল জাতের চা চাষ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে চা আবাদের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইলের মধুপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭২৪ হেক্টর ক্ষুদ্রায়তনে চাষযোগ্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে বৃহদায়তনের চা বাগানগুলোর আওতায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি রয়েছে।

এর মধ্যে চায়ের আবাদ হ”েছ ৫৭ হাজার ১৮৬ হেক্টরে। চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগানগুলোর সবো”র্চ কাযর্কারিতাও বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে উৎপাদনশীলতাও। উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশের অব¯’ান এখন বৈশ্বিক গড়ের নিচে। ভারত, চীন, শ্রীলংকা ও কেনিয়া দেশগুলোর মধ্যে হেক্টরপ্রতি আড়াই হাজার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন করে। বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে রয়েছে কেনিয়া। এর পরেই রয়েছে ভারত ও জাপান।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আবহাওয়া চা উৎপাদনের অনুক‚লে থাকলেও এখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। ফলে অন্য দেশের চেয়ে উৎপাদন কম হ”েছ। বিপুল পরিমাণ চা আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হ”েছ। ফলে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিক‚লে যা”েছ। দেশের চা শিল্পে বতর্মানে প্রায় দেড় লাখ লোকের সরাসরি কর্ম সংস্থান হয়েছে।

এ শিল্পের ওপর নানাভাবে নিভর্রশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত কমর্পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘বাংলাদেশ চা বোডর্’ বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত কমর্পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০২৫’-এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে বাষির্ক ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রমের লক্ষ্য নিধার্রণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য পূরণের জন্য বৃহদায়তনের বাগানের পাশাপাশি ক্ষুদ্রায়তনের জমিতে চায়ের আবাদ বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেয়া হ”েছ। বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চায়ের শ্রেণিবিন্যাস করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সাধারণ কালো চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঠাÐা চা, সুগন্ধি চা, মসলাযুক্ত চা, ঔষধি চায়ের মতো বিশেষ ক্যাটাগরির চা রপ্তানি করা হবে।

রপ্তানিযোগ্য চা উন্নত মোড়কে প্যাকেটজাত এবং চায়ের উৎপাদন ও গুণাগুণ-সম্পকির্ত পযার্প্ত তথ্যাবলিসহ রপ্তানি করা হবে। চা শিল্পের সমস্যাগুলো- পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার  অপযার্প্ততা, চায়ের বস্তা/মোড়ক/বাক্স সরবরাহের সমস্যা, অথার্ভাব, ব্যবস্পথাপনার দুবর্লতা, শ্রমিক সমস্যা, পয়ঃনিষ্কাশন ও সেচ সমস্যা, অবকাঠামোগত দুবর্লতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা, ভালো বীজের অভাব, রাসায়নিক সারের অপ্রাচুযর্ ও সময়োচিত সরবরাহ, যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ঘাটতি, গুদামের সমস্যা, প্রয়োজনীয় ঋণব্যবস্থার সমস্যা, অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত, উৎপাদনের উচ্চব্যয়, মূল্যের অস্থিতিশীলতা, গবেষণার সীমিত সুযোগ, রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ ইত্যাদি।

এ খাতের উন্নয়নে ব্যাংক সুদের হার কমানো, আমদানিকে নিরুৎসাহিত, নিরবচ্ছন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রম অসন্তষ্টি কমাতে আরও সুবিধা বাড়ানো ও জমি ইজারা নিয়ে বিরোধগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

চা শিল্প শ্রমিকদের উন্নয়নেও নানা কমর্সূচি নিতে হবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে দিতে হবে নানা প্রণোদনা। এগুলোর সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি।

গবেষণা কাজের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। বিদেশে বাজার সম্প্রসারন করতে হবে। চা বাগান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়াতে হবে বা আলাদা করা যেতে পারে।

আবু আফজাল মোহা. সালেহ
কবি, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

মানুষের কল্যাণে রক্ত ও মরণোত্তর চক্ষুদান
                                  

সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষ বিপদে-আপদে একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দুস্থ মানবতার পাশে এসে দাঁড়ানো এবং ব্যথিতজনের দুঃখ-কষ্ট, যন্ত্রণা এবং হাহাকার দূর করে মুখে হাসি ফোটানোই হলো মহৎ হৃদয়ের মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। আজকের দিনে অন্যের জীবন বাঁচাতে ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান’ কর্মসূচি মানবতার নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। নিজের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর উদ্যোগ মানুষকে মানবতাবোধে সমৃদ্ধ করে তোলে।

১৯৭৮ সালের ২ নভেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সন্ধানী আয়োজন করে দেশের সর্বপ্রথম স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি; যাতে ২৭ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে। ওই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার ২ নভেম্বরকে ঘোষণা করে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস হিসেবে। দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক সন্ধানী। অসহায় দুস্থদের সহায়তার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ সন্ধানী ২০০৪ সালে লাভ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ‘স্বাধীনতা পদক’। বর্তমানে সন্ধানী ছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, বাঁধনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন স্বেচ্ছায় রক্তদান নিয়ে কাজ করছে।

রক্তদাতার শ্রেণিবিন্যাস করলে আমরা দেখি-১. পার্টি ডোনেশন অর্থাৎ যখন ডোনার জানেন তিনি কাকে রক্ত দিতে যাচ্ছেন বা দিচ্ছেন। ২. প্রফেশনাল ডোনেশন, যিনি রক্ত অর্থের বিনিময়ে দান করেন, একসময়ে এঁদের সংখ্যাই আমাদের দেশে বেশি ছিল, এখন তা অনেক কমে এসেছে। ৩. স্বেচ্ছায় ডোনেশন, যিনি জানেন না কাকে রক্ত দিচ্ছেন। একটি দেশের রক্তের চাহিদা এঁরাই পূরণ করেন।

প্রফেশনাল ডোনারের সংখ্যা কমানোর চেষ্টায় একসময় প্রচলিত ছিল রক্ত নিকটবর্তী আত্মীয় থেকে নেওয়ার জন্য। কিন্তু একসময় দেখা গেল এতে ভবিষ্যৎ আরো অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। ছেলে মাকে রক্ত দিয়েছিল একসময়, পরবর্তী সময়ে মায়ের শরীরে সেই রক্তের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাই ছেলে মাকে রক্ত দিলেই সমস্যা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, ছেলের থেকে মা কোনো অঙ্গ গ্রহণ করতে পারছেন না। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রতি ৭০ হাজারে একটি ব্লাড রিজেকশন হয়। কারণ তাদের জেনেটিক্যাল সিমিলারিটি খুবই বেশি। আমরা সেই রকম না বলে অনেক ভাগ্যবান। এ কারণে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার বিকল্প আসলেই কম।

আবার চাইলে সবাই রক্ত দিতে পারে না। নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে এর জন্য। বাংলাদেশ সরকার আইন করে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে-
অ্যাবরশন হলে ছয় মাস, রক্ত পরিসঞ্চালন করলে ছয় থেকে ১২ মাস, সার্জারি ছয় থেকে ১২ মাস, টাইফয়েড হলে রোগমুক্তির পর ১২ মাস, ম্যালেরিয়া হলে তিন মাস (এনডেমিক) ও তিন বছর (নন-এনডেমিক), ট্যাটু মার্ক করলে ছয় মাস, ব্রেস্টফিডিং করলে সন্তান জন্মের পর ছয় থেকে ১২ মাস, দাঁত ওঠালে দুই সপ্তাহ, চর্মরোগ (একজিমা) হলে আরোগ্য লাভ পর্যন্ত, সন্তান প্রসবের পর ছয় মাস, লোকাল ইনফেকশন হলে সেরে ওঠা পর্যন্ত, মাসিক চললে সেরে ওঠা পর্যন্ত, সাধারণ সর্দি-জ¦র হলে সেরে ওঠা পর্যন্ত, রেবিস ভেকসিনেশনের পর এক বছর, ইবিউলিগেস্নাবিউলিন ইঞ্জেকশন দিলে এক বছর, ইম্যুনাইজেশন (কলেরা, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, প্লেগ) করলে ১৫ দিন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া হলে ছয় মাস ইত্যাদি।
রক্তদান করার পর রক্তদাতাকে কী উপদেশ দেওয়া উচিত

১. আধাঘণ্টার মধ্যে ধূমপান করবেন না। ২. পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি খাবেন। ৩. স্বাভাবিক কাজ করবেন, ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন। ৪. পরবর্তী চার ঘণ্টা গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকবেন। ৫. স্বাভাবিক খাবার খাবেন। ৬. মাথা ভারী লাগলে বা ঝিমঝিম লাগলে বসে পড়ে মাথা দুই পায়ের মাঝে দিয়ে নিচু হয়ে থাকবেন, তাতেও ভালো না লাগলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করবেন। ৭. ছয় মাসের মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ধরা পড়লে যে স্থানে রক্ত দান করেছেন সেখানে যোগাযোগ করে জানাতে হবে।
আমাদের দেশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরে আট লক্ষাধিক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে মাত্র দুই লক্ষাধিক পূরণ করে স্বেচ্ছায় রক্তদান। শ্রীলঙ্কার মতো দেশে যেখানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার হার প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি, সেখানে আমাদের দেশে তা বলতে গেলে একেবারেই নগণ্য।

স্বেচ্ছায় রক্তদান আমাদের দেশে মোটামুটি সাড়া ফেলতে পারলেও মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। দেশের মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচির পথিকৃৎ সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি যাত্রা শুরু করে ১৯৮৪ সালের ২৫ নভেম্বর। এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশে অন্ধত্বের অন্যতম কারণ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব। এর সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনই সন্ধানীর লক্ষ্য। চোখের ওপর যে স্বচ্ছ, কালো, গোলাকার ও পুনঃস্থাপনযোগ্য পর্দা থাকে তাকে কর্নিয়া বলে। কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব সম্পূর্ণই নিরাময়যোগ্য।

কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’র অভাব, কর্নিয়ায় সংক্রমণ, আঘাত ইত্যাদি। এ ধরনের অন্ধত্ব দূর করতে বর্তমানে দেশের মোট মৃত্যুর ১.৫ শতাংশ কর্নিয়া সংগ্রহই যথেষ্ট। জাতি-বর্ণ-ধর্ম-নির্বিশেষে সব ব্যক্তিই কর্নিয়া দান করতে পারবে। এমনকি চোখের যেকোনো ত্রুটি থাকলেও কর্নিয়া দান করা যাবে। তবে যারা এইডস, ভাইরাল হেপাটাইটিস, জলাতঙ্ক, সিফিলিস, ধনুষ্টঙ্কার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাদের মরণোত্তর কর্নিয়াদানের অনুপযুক্ত ধরা হয়।

উন্নত বিশ্বে বর্তমানে অনেক সচেতন লোক মরণোত্তর কর্নিয়া দান করে অমরত্ব লাভ করেছেন। আমাদের দেশে মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে অনগ্রসরতার অন্যতম কারণ চক্ষুদানের ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানের অভাব, ভয়ভীতি এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর বৈধতা সম্পর্ক না জানা। অতীতে কর্নিয়া সংগ্রহের জন্য মৃতদেহ থেকে সম্পূর্ণ চোখ তোলা হতো। এর ফলে মৃত ব্যক্তির চেহারার বিকৃতি ঘটত এবং যা ছিল অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু। বাংলাদেশের আইনে অন্ধত্ব মোচন (চক্ষুদান) অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫-তে বলা আছে, একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তাঁর চোখ দুটি মৃত্যুর পর সংগ্রহের জন্য অনুমতি দিতে পারেন।

এমনকি জীবিত অবস্থায়ও কেউ তাঁর চোখ সংস্থাপনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে দান করতে পারবেন, সে ক্ষেত্রে একটিমাত্র চোখ দান করতে পারবেন। ধর্মীয়ভাবে এতে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। প্রতিটি ধর্মেই বলে, মানবকল্যাণে মানুষ তার যেকোনো অঙ্গ দান করতে পারে। মক্কাভিত্তিক ইসলামি ফিকাহ একাডেমি বলেছে, মরণোত্তর অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বা সংস্থাপন শরিয়তবিরোধী নয়। মৃত্যুর চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হয়।

প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কর্নিয়ার প্রয়োজন হয়। তবে বছরে তিন শর বেশি কর্নিয়া পাওয়া যায় না। তরুণদের আমরা যেমন রক্তদানে উৎসাহ জোগাতে পারছি, তেমনি সবাইকে জানাতে পারলে কর্নিয়ার এই বিপুল চাহিদাও অনেকটা পূরণ করা সম্ভব হতো।

ডা. আশরাফুল হক
ট্রান্সফিউশন মেডিসিন স্পেশালিস্ট

বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনো সেলিমের দুর্নীতির তদন্ত
                                  

সুব্রত শ্বিাস, বরিশাল : অবশেষে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে বরিশাল সিভিল সার্জন দপ্তরের অফিস সহকারি মোঃ সেলিম হোসেনের। দুর্নিতীবাজ এই কর্মচারির বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নিতী নজরে আসে বর্তমান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের । সেমতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশাল থেকে গতমাসে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয। তিন সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির প্রধান করা হয় বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডাঃ বাসুদেব কুমার দাসকে, এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে সহকারি পরিচালক রোগ নিয়ন্ত্রক ডাঃ আব্দুর জব্বার হাওলাদার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদউদ্দিন মৃধা। তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নিতী কিছুতেই বরদাস্ত করা হবেনা। উপযুক্ত প্রমান পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুত্র মতে, ওই কমিটি বরিশাল সিভিল সার্জন দপ্তরে ষ্টেনো সেলিমের দুর্নিতীর বিষয়ে প্রমানাদি সংগ্রহ ও সাক্ষ্য গ্রহন করবেন। ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দাতাদের তাদের নিজ নিজ বক্তব্য প্রদানের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে আসার জন্য চিঠি প্রেরন করা হয়েছে।

টানা দুই যুগ বছর একই কর্মস্থলে কর্মরত থেকে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেপড়োয়া হয়ে উঠেছিল সিভিল সার্জন দপ্তরের অফিস সহকারি মোঃ সেলিম হোসেন। চিকিৎসকদের পোষ্টিং দেয়া, দাপ্তরিক কাজে ফরোয়ারডিং, অসুস্থতাজনিত কারন দেখিয়ে কর্মচারিরা বাধ্যতামূলক অবসরে যাবার সময়, ডায়াগনষ্টিকস এবং ক্লিনিকের অনুমোদন ও নবায়ন করাসহ বিভিন্ন কাজে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এইসব অনিয়মের মুল কারন হিসাবে স্বয়ং বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বির্বত বলে জানা গেছে। একনাগারে এত বছর নিয়ম বর্হিভূতভাবে কিভাবে অবস্থান করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কর্মকর্তাদের কাজের সুবিধার্থে কাউকে নির্ধারিত সময়ের চাইতে বেশিদিন একই কর্মস্থলে রাখতে পারেন। তবে, ষ্টেনো মোঃ সেলিম ধারনার চাইতেও অধিক সময় অবস্থান করার কারনেই এমন বেপড়োয়া হয়ে উঠেছে বলে তিনি (পরিচালক) স্বীকার করেন। জানা গেছে, বরগুনা স্বাস্থ্য দপ্তরে স্বাস্থ্য সহকারি পদ নিয়ে কর্মরত থেকে ১৯৯২ সালে বরিশালে তিনি ষ্টেনো হিসাবে বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসে যোগদান করেন।

সেই থেকে অদ্যাবধি তার কোন বদলি হয়নি। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, পর্যায়ক্রমে বরিশালের বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক, ক্লিনিক এর সত্বাধিকারিদের সাথে তার একটি সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নবায়ন নতুন রেজিষ্ট্রেশন, সার্ভে সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখভালের দ্বায়ীত্ব পায় ষ্টেনো সেলিম। আর এতেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠেন তিনি। জেলায় ডায়গনষ্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন করার সরকারি ফি নতুন-১হাজার ১শ টাকা ভ্যাটসহ। সেখানে ষ্টেনো সেলিম নুন্নতম বিশ হাজার টাকা আদায় করে। ক্লিনিকে ভ্যাটসহ নবায়ন ফির সরকারি ধার্য্য ৭ হাজার ৫শ’টাকা। এক্ষেত্রে ষ্টেনো সেলিম কম করে হলেও বিশ হাজার টাকার নির্ধারন করে দেয়। যারা তার কথামত চলে না, তাদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাগজপত্র আটকে দেয়া হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গৌরনদী-আগৈলঝড়া উপজেলার কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক থেকে এ ধরনের অর্থ উত্তোলন করেন তিনি। যার মধ্যে মৌরি ক্লিনিক গৌরনদী, আগৈলঝাড়ায় আদর্শ জেনারেল হাসপাতাল, একই এলাকার দুস্থ্য মানবতা হাসপাতাল থেকে নবায়ন বাবদ বিশ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে মাসিক মাসোয়ারা আদায় করে বলেও সুত্র নিশ্চিত করেছে।

নগরীর এমন ১০/১৫ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে যাদের আদৌ কোন লাইসেন্স বা কাগজপত্র নেই। ওইসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক মাসোয়ারা আদায় করা হয় বলেও জানা গেছে। এমনকি যে সব চিকিৎসক সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত আছেন তাদের বদলি বা পদায়ন অথবা যেকোন অফিস আদেশ লেখার জন্য তাকে (সেলিম) কে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে কাজ সমাপ্ত করতে গড়িমশি করে বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল সিভিল সার্জন দপ্তরে সাবেক এক চিকিৎসকের পদোন্নতি হওয়ার ফরোয়াডিং লিখে দেয়ার জন্র জোরপূবর্ক অর্থ আদায় করেছিল যা ওই চিকিৎসক নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছিলেন। স¤প্রতি যে সকল কর্মচারিরা সেচ্ছায় অবসরে গিয়েছে তাদের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করেছে। স্টেনো সেলিম তার এই সকল অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধতার ছোঁয়া লাগাতে অগোচরে বুঝিয়ে দেন এই বলে যে, বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ও অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের এই আদায়কৃত অর্থের ভাগ দিতে হয়। সবচেয়ে বড় দান মারার সুজোগটি হচ্ছে ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে, এই লাইসেন্স দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই। আর তাই ষ্টেনো সেলিম ক্লিনিক মালিকদের এই বলে বোঝায়, যেহেতু ঢাকা থেকে অনুমোদন করিয়ে আনতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন তাই কমপক্ষে ৭০/৮০ হাজার টাকা, অনেক ক্ষেত্রে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ নিয়ম মাফিক লাইসেন্স করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়।

যার বৃহদাংশই জমা হয় সরকারি কোষাগারে। ডায়াগনষ্টিক এ ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স ফি সরকারিভাবে ধার্য্য ৩০ হাজার টাকা, অথচ সেখানে নেয়া হয় নুন্যতম ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বরিশার জেলার আওতাধীন কোন প্রতিষ্ঠানের মাসে দুই থেকে পাঁচটি নতুণ লাইসেন্স করার কাজ হাতে পেলেই হল। তবে সুত্র মতে প্রতি মাসে ৮/১০ টি প্রািতষ্ঠানের জন্য আবেদন জমা পড়ে। এই বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডাঃ বাসুদেব বলেন, অতি শীঘ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। বরিশাল স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক পরিচালক ডাঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, কর্মচারিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার বিধান রয়েছে। তবে, তিনি (পরিচালক) অগোচরে স্বীকার করেন স্টেনো সেলিমের এ ধরনের অনিয়মের কথা তার গোচরিভুত হয়েছে। তিনি স্টেনো সেলিমকে এক পর্যায়ে সতর্কও করেছেন। এদিকে খোজ নিয়ে আরও জানা গেছে, সেলিম কোন রকম পূর্বানুমতি না নিয়ে আইনজীবি হিসাবে প্রাকটিস করছে, যা সরকারি চাকরি বিধির লংঘন, এমনটাই বলেন স্বয়ং বরিশাল সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন। তিনিও বিষয়টি অচীরেই ক্ষতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

বৈষম্যহীন এমপিওভুক্তির প্রত্যাশা
                                  

দেশে হাজার হাজার ননএমপিও শিক্ষক, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিবন্ধিতদের বঞ্চিত করে শিক্ষামন্ত্রণালয় সেকায়েপভুক্ত অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকদের (এসিটি) এমপিওভুক্ত করতে যাচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসিটিদের এমপিওভুক্তি নিঃসন্দেহ ভালো উদ্যোগ। তবে নন-এমপিও শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে এবং শিক্ষক নিবন্ধিতদের বেকার রেখে এই এমপিও জাতির জন্য কতটুকু মঙ্গলকর তার হিসেব করা দরকার। বছরের পর বছর বেতন-ভাতাহীন নন-এমপিও শিক্ষকগণ শিক্ষার আলোক বর্তিকা জ্বালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু নিজের ঘরেই তাদের আলো জ্বালানোর সামর্থ নেই। প্রতিটি দিন তাদের লাগামহীন চাহিদার সাথে যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে এমপিওভুক্তির আশায়। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেবা দেয়ার পর সংসারের অন্যান্য কাজ আদৌ করতে পারছেন না। বয়সের কারণে, পরিবার-পরিজনের কারনে পারছেন না অন্য চাকরির সন্ধান করতে। অতঃপর কোন রকমে গিনিপিগের মতো জীবন-ধারণ করে সমাজে টিকে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষক নিবন্ধিতরা শিক্ষক হওয়ার মনোবাসনা নিয়ে তাকিয়ে আছে এনটিআরসিএ`র দিকে। শিক্ষক নিবন্ধিতদের অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এতদিন শিক্ষকতার চাকরিটুকু নিতে পারেনি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক নিয়োগে একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ এনটিআরসির কাছে ন্যস্ত করে। তরুন মেধাবি শিক্ষক নিবন্ধিতরা স্বপ্ন দেখে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু উপজেলা কোটার কারণে সিংহভাগ সনদধারী বঞ্চিত হয়। শুধু তাই নয় প্রায় পনেরো হাজার পদের বিপরীতে এনটিআরসিএ মাত্র সাত হাজার নিবন্ধন সনদধারীকে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়। এনটিআরসিএ`র জগাখিচুরি মেধাতালিকা থেকে ঝরে পড়ে প্রায় আট হাজার নিবন্ধন সনদধারি। এরপর মামলার কারনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ আরো দুই বছর স্থগিত থাকার পর মহামান্য হাইকোর্র্টের নির্দেশনায় চলতি বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলেও এনটিআরসিএ কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং চেয়ারম্যান নিয়োগের নাটকীয়তায় ক`মাস অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত বদলিকৃত দুই কর্মকর্তার কেউই যোগদান করেনি। ফলে নিয়োগ ব্যবস্থা চালু হলেও এনটিআরসিএ`র কার্যক্রমে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠেনি। বরং বেশির ভাগ শিক্ষক নিবন্ধিত এমপিও নীতিমালা/১৮ এর আলোকে বয়স নির্ধারণের শংকায় আতঙ্কিত। এদিকে ননএমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তিকরণেও কোন অগ্রগতি নেই। অথচ সেকায়েপ প্রকল্পের পাঁচহাজার দুইশো অতিরিক্ত শিক্ষকের এমপিও নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। নন-এমপিও শিক্ষকদের রেখে এসিটি প্রকল্পের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ শিক্ষিত বেকারদের মাঝে বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।
অনেকের মতে মন্ত্রনালয় কর্মকর্তাদের নিশ্চয়ই নিকটাত্মীয় আছে যার জন্য সব ফেলে শুধু এসিটিদেরই এমপিও কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
জানা গেছে এসিটিদের কিছু সংখ্যক দারুল ইহসানসহ কিছু অখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রাপ্ত। হয়তো এ কারণেই গত ২৮ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার উপসচিব কামরুল হাসান উচ্চ আদালতের আদেশ মোতাবেক দারুল ইহসানের সনদ গ্রহনযোগ্যতার বিষয়ে স্কুল ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করার স্বাক্ষরিত আদেশ প্রদান করেন। তার অর্থ কি দাড়ায়? সাধারণের মনে প্রশ্ন জাগে অনৈতিক কাজের বৈধতা দিতে এ উদ্যোগ নয়তো আবার?

কিন্ত এনটিআরসিএ ২৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রনালয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করে যে- নতুন প্রতিষ্ঠান পাঠদান অনুমতির জন্য অবশ্যই নিবন্ধিত শিক্ষক থাকতে হবে। তাহলে অনিবন্ধিত কেউ শিক্ষক হওয়ার যোগ্য হতে পারেনা। এসিটিদের মধ্যে অনেকে আছেন যাদের শিক্ষক নিবন্ধন নেই। তাহলে মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কীভাবে নীতিমালা/আইন ভঙ্গ করে অনিবন্ধিত কাউকে শিক্ষক হিসেবে এমপিও`র সুপারিশ করতে পারে? দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি মহামান্য রাষ্ট্রপতিও নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেনা। তাহলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কীভাবে এরকম অনিয়ম করতে পারে আর সেখানে একজন প্রজ্ঞাবান মন্ত্রীও এই নিয়মহীন সিদ্ধান্তে তার মত প্রদান করেন? বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে কোন ব্যক্তিকে নিবন্ধন সনদ ছাড়া বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিধান নেই। তাহলে আইন প্রণয়নকারি হিসেবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের বিষয়টি আরো যাচাই করা অত্যাবশক ছিল।
এদিকে ননএমপিও শিক্ষকরা এ যাবত বহু আন্দোলন করেছে, বহুবার এমপিওভুক্তির আশ্বাসও পেয়েছে কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত হয়নি। এজন্যই ননএমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনের সময় তিনি অনেকবার ননএমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও করার আশ্বাস দেন যা পরবর্তীতে মিথ্যাবাদি রাখাল বালকের মতো অবস্থা হয়েছিল যেখানে শিক্ষকরা তার কথার ভিত্তি না পেয়ে তাকে আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মকর্তারা শুরু থেকেই বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। কিন্তু তাদের একটি কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, স্বাধীনতার পরে কিংবা আগে নাম কয়েকটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল যেগুলোর মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশ এ পর্যায়ে আসতে পারার কথা নয়। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায় ৯৭ ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে। এগুলো অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। আজ প্রশাসনের উচ্চ স্তরে যারা আছেন তারাও কোন না কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে এসে অতীত ভুলে যাওয়াটা ঠিক গরীবের ঘরে জন্ম নেওয়া উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মতো। যিনি বড় অফিসার হয়ে পরবর্তীতে নিজের পিতা-মাতাকে অন্যের নিকট কাজের লোকের পরিচয় দেন।

জ্ঞানীজনের প্রশ্ন- এত সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পাওয়ার যোগ্য না হলে তাদের কেন অনুমোদন, স্বীকৃতি দেয়া হলো? কেনই বা একজন তরুণকে স্বপ্ন দেখালেন শিক্ষক হবার যে ননএমপিও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে করতে প্রৌঢ় বয়সে পৌছেছেন। আবার অনেকে ননএমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে করতে বেতন ভাতা না পেয়েই অবসরে গেছেন। নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এই চিত্র হলে এতসব প্রতিষ্ঠান চালু করার আগে বন্ধ করার কেন আদেশ দেয়া হলো না? আপনারা সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এসমস্ত অযোগ্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, স্বীকৃতি এবং শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পকেট ভর্তি করবেন আর ননএমপিও শিক্ষকরা বেতন-ভাতা দাবী করলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সাফাই গাইবেন এটা কোন নীতিতে পড়ে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনপ‚র্বক বলতে চাই এই কর্তা ব্যাক্তিদের হঠকারি সিদ্ধান্ত সরকারের উন্নয়নে বাধার কারণ হতে পারে । আপনার যথাসময়ে যথাব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী। ননএমপিও শিক্ষক এবং নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষক নিবন্ধিত যুবকদের চাপা ক্ষোভ বড় আন্দোলনে পরিণত হওয়ার আগেই জাতিকে বৈষম্যহীনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সঠিক পদক্ষেপ গ্রহনের প্রত্যাশা সকলের।

ভূপেন্দ্র নাথ রায়,
অধ্যক্ষ,
সাইডিরিয়্যাল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ(এসএমএসসি),
খানসামা, দিনাজপুর।
মোবাইল: ০১৭১২৯৭৯৬৫৫।

 

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ
                                  

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কিছু পরে হেনরি কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন বাংলাদেশ হলো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি।’ যাই দাও না কেন ঝুড়ির তলা না থাকার কারণে সেখানে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সেই হেনরি কিসিঞ্জারও নেই, আগের তলাবিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশও নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব এখন অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে।

বিগত দশ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নে অভূতপুর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। আজ সেই বড় বড় সাফল্যের একটা ছোটখাটো পোস্টমর্টেম করছি। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অথার্য়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মানকাজ। দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুরুতে সবাই বলাবলি করেছিল নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি সম্ভব হবে না।

কিন্তু সম্ভাবনার বাংলাদেশে এখন প্রায় সবকিছু সম্ভব। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে আগামী বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। উন্নয়নে বাংলাদেশের মাইলফলক হবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দৌলতদিয়ায় তৈরি হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। কয়েকদিন আগে উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। এত বড় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপানসহ বিশ্বের আর কোথাও নেই এটা ভাবতেই গর্বে মাথা উঁচু হয়ে যায়। ৩০০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজও শুরু হয়েছে।

এসব অপ্রতিদ্বন্ধী উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভাবেনি বাংলাদেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশে আমরাও আমাদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছি এটা ভাবলেই ভালো লাগে। বাংলাদেশের বিরাট অর্জন। জ্যাম কমানোর জন্য বিশ্বের বড় বড় শহরের মতো ঢাকা শহরের বুকেও তৈরি হচ্ছে মেট্রোরেল।

মেট্রোরেলের কাজ শেষ হলে যখন ঝকঝক শব্দে মেট্রোরেল ছুটে বেড়াবে ঢাকা শহরের বুকে তখন কি আপনি পুলক অনুভব করবেন না? নিজের অজান্তে হলেও পুলক অনুভব করবেন। বাংলাদেশ দুটি সাবমেরিন কিনেছে কিছু দিন আগে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আমরা পেয়েছি প্রায় আরেকটি বাংলাদেশের সমান সমুদ্রসীমা। তাছাড়া শতবর্ষী বদ্বীপ পরিকল্পনায় সমুদ্র সম্পদ আহরণকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এখন সাবমেরিন দুটি সগৌরবে ঘুরে বেড়ায় বঙ্গোপসাগরে অতল জলে। বাংলাদেশের অর্জন সমুদ্রের অতল জল থেকে মহাকাশের ঊধ্বর্সীমা পযর্ন্ত। এসব দূরদর্শীর পরিকল্পনা এগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ছিটমহল সমস্যা ছিল বাংলাদেশের গলার কাঁটা। গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষ ছিটমহলে নিষ্পেষিত হয়ে আসছিল। সেসব মানুষের সবকিছুই ছিল কিন্তু বাস্তবে কিছুই ছিল না। মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি।

ছিটমহলবাসীর একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন মলিন হতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশের মানচিত্র নতুন করে তৈরি হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলমান। যেখান থেকে ২০২৪ সাল থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে আরও ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পথে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে ১৭টি সোলার পার্ক, ২টি উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট। বতর্মানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫১৮ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম ২১৮.৪৮ মেগাওয়াট, বায়ুচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২.৯০ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের রোল মডেল।

বিদ্যুৎ গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ থেকে ২ কোটি ৯৯ লাখ হয়েছে। এখন দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট হয়েছে।

গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য আবিষ্কৃত ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রসহ দেশের মোট গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৭টি। যার মধ্যে থেকে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি। মেডিকেল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নতুন করে আর কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দিন দিন জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবকিছু স্বপ্নের মতো হয়। সেই বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশ। সবকিছু পিছিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে দুবার্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মেট্রো-রেল, রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইনের মতো মেগা প্রকল্পসহ বিশাল উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছে সরকার। রাজধানীর দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে গ্রাম। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব বেড়েছে বাংলাদেশের।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, সামুদ্রিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ জোরালো। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস, ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট পূর্বের নতুন তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় হওয়া, জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি, উদ্যোক্ততাশূন্য বাংলাদেশে এখন লাখো উদ্যোক্তা তৈরি হওয়াসহ সামগ্রিক আমদানি ও রফতানিতে দেশ এগিয়ে চলছে। এক সময়কার আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ এখন আমদানির বিকল্প পণ্যের শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছে। খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর কাতারে দেশের নাম লিখিয়েছেন আমাদের দেশের কৃষকরা।

সবকিছুকে পিছিয়ে উঠে রোহিঙ্গা সংকট, যা একটি বৈশ্বিক রূপ নিয়ে বাংলাদেশকে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ, মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে থাকলেও রাজনীতিতে বিরাজ করছে অস্বস্তি। এ অস্বস্তির বাতাবরণ দূর না করায় সরকারই সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। চতুর্থ বছরে সরকারকে মোকাবিলা করতে না হলেও বেশ কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বেগ পেতে হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে না পারায় সমালোচনার শিকার হতে হয়।

চতুর্থ বছর সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করা। কম সময়ে এত শারণার্থী আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা অন্য দেশের নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ বিষয়েও সফলতা দেখায় সরকার। প্রাথমিকভাবে আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও তাদেরকে ফেরত পাঠানোর চ্যালেঞ্জ এখনো সরকার কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে শুরু থেকে সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে।

যার ফলে সারা বিশ্বে এ নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ধিক্কার উচ্চারিত হয় ও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কণ্ঠ সোচ্চার হয়। শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সাফল্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রায় পুরো বিশ্ব আজ বাংলাদেশের পক্ষে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর সরকারের যাত্রার শুরুতে পাশে ছিল শুধু ভারত। ফলে সরকারের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার স্বীকৃতি আদায় ছিল সে বছরের প্রথম মাসগুলোতে কূটনীতিকদের প্রধান কাজ। মেয়াদের শেষ বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, বৃহৎ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টাই কূটনৈতিক অঙ্গনে সরকারের অন্যতম প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।

ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো অর্থনৈতিক শক্তিগুলো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে। বাংলাদেশ চীনের ‘এক অঞ্চল ও এক পথ’ আর জাপানের ‘বিগ বি’র মতো বৃহদায়তন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ততার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক সম্প্রসারিত করেছে বাংলাদেশ। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈতরণী ২০১৭ সালে সফলভাবে পার হয়েছে সরকার।

২০১৬ সালের শুরু থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরানোর জন্য চাপ ছিল। বাংলাদেশকে চুক্তি করতে খসড়া দিলেও প্রায় দেড় বছর নানাভাবে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে চুক্তিটি সই করে বাংলাদেশ। তবে এতে বাংলাদেশ এটা নিশ্চিত করেছে যে ফিরে আসা লোকজনের পুনর্বাসনে উন্নয়ন সহায়তা দেবে ইইউ।

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুই প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বাংলাদেশ। কারণ, ওই প্রস্তাব দুটিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ইউরোপের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতর এবং স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নিবিড় যোগাযোগের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে বলে কূটনীতিকরা মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কে একধরনের গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছর সরকারের বৃহৎ দুইটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দৃশ্যমান সফলতা আসে। বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু করা পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজ পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় গত ১ অক্টোবর। এ ছাড়া গত ১ ডিসেম্বর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মূল পর্বের কাজটি শুরু হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ও রফতানির পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলার। এ সময়ে মুদ্রাস্ফীতি বিগত ৫৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। দারিদ্র্য হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও তাতে অর্থ সহায়তা বৃদ্ধি করায় ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তিলাভ সহজ হয়েছে।

সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কূটনীতি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে বেশ সাফল্য অর্জন করে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা।

মো.ওসমান গনি. সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

শ্রীলঙ্কা কি সহজে শৃঙ্খলমুক্ত হবে
                                  

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার পর বরাবরই এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একটি বিশিষ্ট মহিমায় উদ্ভাসিত। যদিও দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশটির উত্তর-পূর্বে সংখ্যালঘু তামিল বিদ্রোহীদের পৃথক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস রয়েছে, যা উন্নয়নের পথে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তথাপি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাক্ষরতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ সত্তা ধরে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহের অবসান হলে নতুন উদ্যমে যখন তারা জাঁতি গঠনে মনোযোগী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, আঞ্চলিক রাজনীতির বাস্তবতা বাদ সাধল এতে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতার বাইরেও এশীয় রাজনীতির একটি নিজস্ব ধারা রয়েছে, যেখানে চীন বর্তমানে তার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্থান দিয়ে বিশ্বকে চোখ রাঙাচ্ছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে ভারতের একধরনের প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল এবং বলা যায় তামিল বিদ্রোহ এবং এর ফলে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা দূরীকরণে তাদের বারবার ভারতের মুখাপেক্ষী হতে হয়েছে। অবশ্য এর জন্য ভারতকেও মূল্য দিতে হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মতো রাজনীতিবিদসহ আরো অনেককে তামিলদের হাতে প্রাণ হারানোয়। তামিল বিদ্রোহ অবসানে নেতৃত্বের দূরদর্শিতার কারণে কিংবা ঘটনাক্রমেই হোক দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে, যিনি ২০০৫-২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বাধিক জোর দেওয়া হয় এবং সবার আগে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে চীন। চীনের সহায়তায় সেখানে হাম্বানতোতা সমুদ্রবন্দরসহ (মাহিন্দ রাজাপক্ষের নির্বাচনী এলাকা) অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক চীনা ঋণ গ্রহণ করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে রাজাপক্ষে পরাজিত হন তাঁরই ক্যাবিনেটের একসময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার কাছে। বলা যায়, সে সময় রাজাপক্ষেকে পরাজিত করতে সব বিরোধী জোট একাট্টা হয়ে লড়েছিল, নেপথ্যে ছিল ভারত। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে চীনের আধিপত্য রুখতে তথা চীনের বিনিয়োগের নামে নব্য ঔপনিবেশিক আকাক্সক্ষাকে দমনে ভারতের কৌশল বেশ ভালোই কাজ করছিল।
গত কিছুদিন ধরে জোট সরকারের মধ্যকার বিশেষত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে আর তা হচ্ছে ভারতের গুপ্তচর বাহিনীর সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী সিরিসেনা ও তাঁর একান্ত অনুগতজনদের হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে। বিষয়টি গুজব নাকি বাস্তব সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও চীনপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপক্ষের ভাগ্য খুলে যায় এর মধ্য দিয়ে। সিরিসেনা কোনো রকম ঝুঁকিতে গেলেন না। নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তায় প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করে তাঁর স্থলে নিয়োগ দিলেন রাজাপক্ষেকে। শ্রীলঙ্কার বিদ্যমান অর্থনৈতিক দৈন্যদশা, সরকারি আয়ের ৮০ শতাংশ বিদেশি দেনা পরিশোধে খরচ হওয়া, চীনের আর্থিক ঋণে হাম্বানতোতা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পর সেই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার দায়ে বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি কম্পানির কাছে সমর্পণ করতে বাধ্য হওয়া, এক অর্থে দেশটির সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোশ করার শামিল। সেই সঙ্গে চীনের পক্ষ থেকে ক্রমাগত দেনা পরিশোধের চাপ সামলাতে রনিল বিক্রমাসিংহের ব্যর্থতার জুতসই বিকল্প হিসেবে রাজাপক্ষে ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। কিন্তু বিষয়টি যতটা সহজভাবে তিনি করলেন তা আসলেই সহজ নয়। শ্রীলঙ্কার ২২৫ আসনবিশিষ্ট সংসদে বিক্রমাসিংহের শ্রীলঙ্কান ফ্রিডম পার্টির দখলে রয়েছে ১০৬টি আসন (এর মধ্যে তিনটি ক্ষুদ্র দলের রয়েছে ১৯টি)। অন্যদিকে সিরিসেনার ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স এবং রাজাপক্ষের দলের মিলে সম্মিলিত আসন সংখ্যা ৯৫, অর্থাৎ কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৩টি আসন নেই। এর আগে সিরিসেনার দল কর্তৃক আনীত আস্থা ভোটে পরাজয়ের পরপরই তড়িঘড়ি করে গত ২৬ অক্টোবর সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজাপক্ষেকে শপথবাক্য পাঠ করান এবং আগামি ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন স্থগিত করেন। সংগত কারণেই পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে তাঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগদানের দাবি করে আসছেন। এসব দাবিতে উত্তাল রয়েছে কলম্বোর রাজপথ। বিক্রমাসিংহের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবন থেকে সরকারি গাড়ি এবং নিরাপত্তা সদস্যদের প্রত্যাহার করা হলে তিনি সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকার করেন এবং হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে তাঁর বাসভবনে অবস্থান করেন। এদিকে গত ২৮ অক্টোবর দেশটির বিলুপ্ত সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাঁর সরকারি অফিস সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে ঢুকতে গেলে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষের সমর্থকদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে তাঁর দেহরক্ষীর ছোঁড়া পাঁচ রাউন্ড গুলিতে রাজাপক্ষের একজন সমর্থক নিহত ও অন্য দুজন আহত হলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এখানে পদচ্যুত বিক্রমাসিংহের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ প্রদানের দাবি যেমন যৌক্তিক, একইভাবে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে বরখাস্ত করে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তও সঠিক। তবে এখানে মনে রাখতে হবে যে এ ক্ষেত্রে প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য সংসদের অধিবেশন স্থগিত করাটাই মূল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ১০৬ আসন নিয়ে বিক্রমাসিংহের জন্য যতটা কঠিন, ৯৫ আসন নিয়ে সিরিসেনা-রাজাপক্ষে জোটের জন্যও খুব সহজ নয়। আর এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিছু ক্ষুদ্র দল, যারা এ মুহূর্তে দর-কষাকষিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সমালোচকরা এবং বিক্রমাসিংহের সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন যে এই সময়ের মধ্যে নতুন সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে পর্দার অন্তরালে কাজ করবে এবং বিক্রমাসিংহ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

এখানে দুটি ছোট দল দ্য তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের রয়েছে ১৬টি আসন এবং তারা এখন পর্যন্ত স্থির করেনি যে তারা কোন পক্ষকে সমর্থন দেবে এবং দ্য মার্ক্সিস্ট জেভিপির রয়েছে ছয়টি আসন, যারা এরইমধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সুতরাং ১৬ তারিখের পর যখন আবার সংসদের অধিবেশন আরম্ভ হবে তখন যে রাজাপক্ষের নতুন সরকার পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে উতরে যাবে সে রকম জোরালো সম্ভাবনার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। আবার পরিস্থিতির চাপে যদি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়, তবে কি তখন তিনি সেটা করবেন নাকি মন্দের ভালো বিবেচনায় সংসদ ভেঙে দেবেন সেটাও বিবেচনার বিষয়।

শ্রীলঙ্কার এমন পরিস্থিতিতে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতের সহায়তা কামনা করেছিলেন। ভারত এ ব্যাপারে পশ্চিমা সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে ধীরে চলো নীতি অবলম্বনের পক্ষপাতী। অন্যদিকে চীন অনেকটাই প্রকাশ্যে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সদ্যঃসমাপ্ত নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থী আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পরাজয়ের পর।

প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন পাঁচ বছর ধরে চীনের সহায়তায় দেশটিতে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় এবং কারারুদ্ধ করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। চীনপন্থী ইয়ামিনের বিপরীতে বিরোধী পক্ষের নেতাদের মধ্যে ভারতপন্থীর সংখ্যাধিক্যের কারণে এবং সদ্যঃসমাপ্ত নির্বাচনে তাদের একাট্টা হওয়া এক নীরব বিপ্লবের সৃষ্টি করে, যা প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের পতনকে ত্বরান্বিত করে ভারতপন্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর বিজয় নিশ্চিত করে।

চীনের বিগত বছরগুলোতে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে বড় রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় না গিয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোতে আর্থিক বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে সেখানে তাদের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করা বেশি লাভজনক। এ ক্ষেত্রে মালদ্বীপের নির্বাচন থেকে যে ধাক্কাটা তারা খেয়েছে তা সামলাতে তড়িঘড়ি করে শ্রীলঙ্কায় যে রাজনৈতিক পরিবর্তনে মদদ জোগাচ্ছে তার জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাজাপক্ষেকে।

দেশটির জনসাধারণের মধ্যে এমন ধারণা দানের চেষ্টা করা হচ্ছে যে রাজাপক্ষের পক্ষে আর্থিক দৈন্যদশা কাটাতে নতুন করে বিপুল পরিমাণ চীনা অর্থের প্রবেশ ঘটবে। আজকের এই দৈন্যদশার মূল বীজ রোপিত হয়েছিল রাজাপক্ষের ২০০৫-২০১৫ শাসনামলে এবং এর সম্পূর্ণ দায় এসে পড়েছিল বিক্রমাসিংহের বিগত তিন বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদে। ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা চীনের এই ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত করবে তার আশু সদুত্তর দুরূহ।

ফরিদুল আলম
সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে বেইজিংয়ের ইউআইবিইতে উচ্চশিক্ষারত

শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
                                  

প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে তা স্পষ্ট করা আছে। যে কোন দেশের রাষ্ট্র চলে তার সংবিধান অনুসারে আর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সেটি আরো বেশি অনুকরনীয়। আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এমন ব্যক্তি আসীন যার পিতার হাত ধরে আমরা একটি স্বাধীন ভু খন্ড পেয়েছি, পেয়েছি আমাদের বাক স্বাধীনতা। সেই পিতার ঔরসজাত সন্তানতো সব সময় এ দেশের মঙ্গল কামনা করবেন এটাই বাস্তবতা। আমাদের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার পিতার মতোই সমুজ্জল। কি কথায়, কি কাজে সব জায়গাতেই তার পিতার মতোই কীর্তিমান। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন রাষ্ট্র ক্ষমায় আসীন হন তখন বাংলাদেশ ছিল একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। সব জায়গাতেই তখন পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন। কোন জায়গা থেকে শুরু করবেন সেই চিন্তাতেই মশগুল থাকতেন। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সর্বাগ্রে পুনর্গঠন করতে হবে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এবং প্রাধান্য দিতে হবে শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে। তাইতো জাতির জনক এক ঘোষণায় জাতীয়করণ করলেন ৩৭ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পিতার রেখে যাওয়া পথ অনুসরণ করে হাঁটছেন। তাইতো পিতাকে অনুসরণ করে ২০১৩ সালে তিনি ও জাতীয়করণ করলেন ২৬ হাজার বিদ্যালয় এবং প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষককে। এবং পিতার চাইতে ও আরো দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো প্রাথমিক শিক্ষাকেই জাতীয়করণ করে দিলেন। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি পিতার মতো তিনি ও বুঝতে পেরেছেন এ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে “প্রাথমিক শিক্ষা” খাতে। তিনি বুঝতে পেরেছেন এ দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাইতো এ দেশের শিক্ষার্থীরা আজ বছরের ১ম দিনেই বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা যেনো খাতা কলম কিনতে সমস্যায় না পড়ে তার জন্য ব্যবস্থা করেছেন মাসিক উপবৃত্তি। তিনি বুঝতে পেরেছেন বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়োজন তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পাঠদান। তাইতো সব বিদ্যালয়ে দিয়েছেন গঁষঃরসবফরধ সামগ্রী। কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন শিক্ষা অর্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তাইতো তার নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস( শ্রবণ যন্ত্র, হুইল চেয়ার, স্ক্র্যাচ ও চশমা)।

শিক্ষার্থীরা যেন পড়া লেখার পাশাপাশি খেলাধূলার মাধ্যমে ও শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারে তার জন্য আয়োজন করছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ টুর্ণামেন্ট “বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, যা আজ গিনেস বুকে স্থান করে নিয়েছে। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাকে চিত্তাকর্ষক করার জন্য প্রতিবছরই সরকারি বরাদ্দ থাকছে তারই নির্দেশনায়। বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নে প্রতিবছর ৪০ হাজার টাকা ¯িøপ গ্র্যান্ট নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তার সরকারের কোষাগার থেকে। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ, উন্নত সুবিধাসহ ওয়াশ বøক নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণ হচ্ছে যার ফলে সার্বিকভাবে আজ প্রাথমিক শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ২৬ দশমিক ১০ ভাগ। (২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। যার ফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৯%। জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় শিক্ষকদের ও বেতন ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রধান শিক্ষকদের পদকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের নেয়া এসব পদক্ষেপের ছোঁয়া লেগেছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হলো উপকুলীয় এলাকা। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেয়া পদক্ষেপে আমার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যে সুফল পেয়েছে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি বলেই প্রাথমিক শিক্ষায় শেখ হাসিনার সরকারের অবদান নিয়ে দুটো কথা লেখার সাহস পেয়েছি। আমার উপজেলায় গত কয়েক বছরে ৩০ টি নতুন ভবন, ৫০টি ওয়াশ বøক, ১০টি ফটকসহ সীমানা প্রাচীর তৈরী হয়েছে। ১৫০০ বিদ্যালয়ের আওতায় বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ৩টি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। পৌরসভার বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৬০০০ শিক্ষার্থী এ বছর উপবৃত্তি সুবিধার আওতায় এসেছে। ১৫ টি এ্যাসিসটিভ ডিভাইস বিতরণ হয়েছে। উপজেলার ৯০ টি বিদ্যালয়ের সব ক’টিতে গঁষঃরসবফরধ সামগ্রী পৌঁছেছে। ২০১৩ সালের জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের আওতায় ৩০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে এবং ১৫০ জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি হয়েছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা এ ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি আমার উপজেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি।

“দুপুরের খাবার স্কুলে খাব, রোগ মুক্ত জীবন গড়ব” এবং দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে যাতে মনোযোগ না হারায় সে জন্য “মিড ডে মিল ” কর্মসূচী বেগবান করতে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫০০০ টিফিন বক্স বিতরণ করি যার ফলে আমার উপজেলার শতভাগ বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করতে পেরেছি, সৎ নাগরিক গঠনে আমরা সব ক’টি বিদ্যালয়ে বিক্রেতা বিহীন দোকান ‘সততা ষ্টোর’ চালু করেছি, মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরীতে বিদ্যালয়গুলোতে মহানুভবতার দেয়াল চালু করেছি, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর করেছি, ১০টি টিনের ঘর তৈরী করে দিয়েছি, ঊহমষরংয ওহ অপঃরড়হ (ঊওঅ)প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে ৭৭টি বিদ্যালয়ের মাঝে ঝড়ঁহফ ইড়ী বিতরণ করেছি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করার জন্য পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে অনুদান প্রদান করেছি, আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা, শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা জাঁকজমকভাবে আয়োজনে পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে সহায়তা করেছি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪লক্ষ টাকা বাৎসরিক মেধাবৃত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবং মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নিয়মিত সভা সেমিনার এর আয়োজন অব্যাহত রেখেছি।

এ সকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাকে এবং আমার পরিষদকে সর্বোতভাবে সহায়তা করছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী এর ৩ জন দক্ষ কর্মকর্তা, বসুরহাট পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জননেতা আবদুল কাদের মির্জা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিনিয়োগ এর সুফল পড়ছে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতিতে। গউএ লক্ষ্য অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন ঝউএ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে সামিল হয়েছে। সবশেষে বলা যায় বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর হাত ধরে বাংলাদেশ নামক যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রকেই বিশ্বের মানচিত্রে ২য় বার পুনর্জন্ম ঘটানোর একমাত্র সক্ষমতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পক্ষেই স¤ভব। তাইতো আমরা এক সুরে বলি “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”

: মিজানুর রহমান বাদল, চেয়ারম্যান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ

 

প্রেরণায় বঙ্গবন্ধু
                                  

আগস্ট মাস, শোকের মাস; শোককে শক্তিতে পরিণত করে অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনে অশুভ ষড়যন্ত্রীদের বেড়াজাল ছিন্ন করে দৃপ্ত শপথে সামনে এগিয়ে চলার মাস। ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একটি দিন, ১৫ আগস্ট। আমাদের জাতীয় শোক দিবস। শোকাবহ এ দিনে পুরো বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শাহাদতবরণকারী তাঁর পরিবার সদস্যদের। ১৯৭৫ সালের এই দিনের কাক ডাকা ভোরে সেনাবাহিনীর উশৃঙ্খল ও বিপথগামী একদল সেনা সদস্যের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর ৩ পুত্র, ২ পুত্রবধূ, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ অনেকে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও কৃপায় এই নৃশংসতার হাত থেকে সেদিন বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। ছোট বোন রেহানাও তাঁর সঙ্গে থাকায় আল্লাহর কৃপায় সেদিন এই দু’ বোন বেঁচে যান।
একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনের স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে উপহার দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ, লাল-সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে দিতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা সেদিন এক হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা এই নৃশংস আঘাত হেনে দেশকে সাময়িক পিছিয়ে দিতে সক্ষম হলেও অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আবার ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। জাতি আজ যেমন তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ছায়াতলেও সবাই একাট্টা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অসাম্প্রদায়িক উন্নত দেশ গড়ার মিছিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার পথে আজ সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা একতাবদ্ধ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার মিশন এখন দেশের সাধারণ জনগণের চাওয়া। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের সাধারণ মানুষ সবসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আজন্ম স্বাধীন চেতা মানুষ। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই তিনি করতেন। যে দেশটি তিনি স্বাধীন করেছেন সে দেশের কোনো বাঙালি যে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এটা তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। তাইতো তিনি আগাম সতর্কতাকে আমলে না নিয়ে বঙ্গবভনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের নিজের বাড়িতেই বিশ্বাসের সঙ্গে অবস্থান করেন। তার বিশ্বাসকে পুঁজি করে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা সহজ টার্গেটে পরিণত করে কাপুরুষোচিতভাবে তাকে এবং তাঁর পরিবারকে হত্যা করে। লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় ঘাতকের বুলেটের সামনে বুক পেতে দেন স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়। ঘাতককে প্রশ্ন করেছিলেন, “তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?” কেউ যে তার বুকে গুলি চালাতে পারবে এটা তিনি এক মুহূর্ত আগেও ভাবতে পারেননি। এর মূল কারণটি ছিল দেশের মানুষের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস। আজীবন সংগ্রাম করে যাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন তাদের কেউ কি তাকে হত্যা করতে পারে?

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া শেখ মুজিবুর রহমান ’৫২ র ভাষা আন্দোলনে একজন সংগ্রামী নেতা। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফার প্রণেতাও ছিলেন তিনি। ষাটের দশক থেকেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭০’র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে এদেশের গণমানুষের আশ-আকাক্সক্ষা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। তার বজ্রকণ্ঠে আগামী দিনের কর্মসূচিসহ যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ছিল, সেটাই ছিল মুলত স্বাধীনতার ঘোষণা। এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে ছাত্র সমাজ, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, যুব-কিশোর, নারী-পুরুষ তথা পুরো বাঙালি জাতি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ছিলো : “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।” তার এই ভাষণ শোনার পর থেকেই এদেশের শোষিত-নিপীড়িত-বঞ্চিত বাঙালির রক্তে শিহরণ বইতে শুরু করে। মুক্তিকামী মানুষ দলে দলে মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিজেদের সংগঠিত করে বিভিন্ন দলে-উপদলে ভাগ হয়ে পাক হানাদার মোকাবেলায় নেমে পড়ে।
আমি তখন তরুণ ছাত্র নেতা, বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি। ছাত্রনেতা হিসেবে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে ছাত্র-যুব সমাজের মাঝে তখন আমার ব্যাপক পরিচিতি ও প্রভাব ছিল। শুধু বিএম কলেজই নয়, বরিশালের আরও ৫টি কলেজের ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব ছিল আমার দেয়া প্যানেলের। সে কারণে গোটা বরিশালের ছাত্র রাজনীতিতে আমার একটি সংগ্রামী অবস্থান ছিল। ছাত্র নেতা থেকে আজকে আমার বর্তমান অবস্থান, ৬ বার এমপি নির্বাচিত হওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা কর্তৃক ২০০৮ সালে হুইপ এবং ২০১৪ সালে চীফ হুইপের দায়িত্ব পাওয়া এটা রাজনীতিতে আমার জনগণের দেয়া সম্মান ও নেত্রীর বিশ্বস্ততার কারণেই সম্ভব হয়েছে।
আমি ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্রমিছিলে অংশগ্রহণ করি। ১৯৬৬ সালে বরিশাল এ.কে. স্কুলের নির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। ১৯৬৯ সনে গণঅভ্যুত্থানে বরিশালে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রনেতা হিসেবে আমার ভূমিকা ছিল বলিষ্ঠ। ১৯৭০ সনের প্রলংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট এবং আওয়ামী লীগের ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে থেকে আমি দক্ষিণাঞ্চলের চরাঞ্চলে ত্রাণ বিতরণে অংশগ্রহণ করি। ১৯৭০ নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ও থানায় অনেক সভা-সমাবেশ করেন। বঙ্গবন্ধু যতবার বরিশাল অঞ্চলে গিয়েছেন ততবারই তার সফরসঙ্গী থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তিনি যখন ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাউখালি এবং বাউফল সফর করেন তখন ছাত্রনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার থাকার সুযোগ হয়। ’৭০ এর নির্বাচনের পূর্বে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আমার নিজ গ্রাম বাউফলের কালাইয়াতে বঙ্গবন্ধু একটি সভা করেন। ঐ সভা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল আমার। সভাশেষে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় আপ্যায়িত হন। আমাকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার উপদেশ দেন। আমার জীবনের সাফল্যের মূলে বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা ও উপদেশ মন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। এর ঠিক দেড় মাস পরে ১২ নভেম্বর-১৯৭০ বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্থ দক্ষিণাঞ্চল সফরকালে পুনরায় কালাইয়া যান। বঙ্গবন্ধু যে ঘরে বসে মাত্র দেড় মাস আগে খাওয়া-দাওয়া করেছেন সে ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্থ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তখন বঙ্গবন্ধু আমার চাচাকে সান্ত¡না দিয়ে সমবেদনা জানান এবং পরবর্তীতে সাহায্য-সহযোগিতা প্রেরণ করেন। আমি বঙ্গবন্ধুর মাঝে একজন ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিপথগ্রস্থকে আপন করে নেয়ার অসীম ক্ষমতা দেখেছি। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন জনগণের প্রকৃত বন্ধু। তাই তিনি হয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু, হয়েছেন জাতির পিতা।
১৯৭০-৭৩ সময়ে বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলাম। ছাত্রদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল আমার। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার জন্য বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকা আসি। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে ছাত্রনেতাদের নিয়ে আমি রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হই। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী দিক নির্দেশনা পাওয়ার পর আমি বুঝে নেই এটাই ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা’। ছাত্রনেতা হিসেবে আমাকে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। সবাইকে নিয়ে বরিশালে ফিরে গিয়ে পরিকল্পনা আঁটতে থাকি কীভাবে সংগ্রামের প্রতি নেয়া যায়, সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এই সংগ্রামে একত্রিত করা যায়? এরই মাঝে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার পরপরই সমমনা ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে বিশেষ করে তৎকালীন এমএনএ, এমপি সবাই একত্রে বসে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম কমিটি গঠন করি। এই কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আমি সদস্য অন্তর্ভুক্ত হই। আমি বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র-যুব সমাজকে একত্রিত করে সংগ্রামে উজ্জীবিত করি।
 ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ২৭ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ৩০ এপ্রিল ভারতে পৌঁছি। ভারতে প্রশিক্ষণশেষে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২টি লঞ্চযোগে দেশে ফেরার পথে ৬ মে খুলনার গাবুরা এলাকায় পাকবাহিনীর গানবোট দ্বারা অতর্কিত হামলার শিকার হই। এই হামলায় ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে আমিসহ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে আটক হই। আটককৃতদের মধ্যে তৎকালীন সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদও ছিলেন। দু’দিন আটক থাকার পর পাকিস্তান আর্মির গানবোট আসে এবং পরবর্তীতে আমাদের ১৯ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি ও আমার বন্ধু ফুটবলার সুরুজ বোট থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করি। অতঃপর আত্মীয়দের সহায়তায় আমি সেখান থেকে বরিশালে আসি এবং ৩০ মে পুনরায় ভারতে গিয়ে ৯নং সেক্টরের চীফ পলিটিক্যাল মটিভেটরের দায়িত্ব পালন করি এবং বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধ ও আগামী দিনের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে সকলকে উদ্বুদ্ধ করি। পরবর্তীকালে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেই। ২০ নভেম্বর ঈদের দিন কালিগঞ্জ থানার পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকবাহিনীর ২ সদস্য ও ১২ রাজাকারকে আটক করে এলাকা শত্রুমুক্ত করি এবং সেখানে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করি। এই যুদ্ধে মেজর হুদার নেতৃত্বে আমি, ক্যাপ্টেন বেগ, লেঃ সচিন কর্মকার, লেঃ আহসান ও লেঃ মাইনুলসহ অনেকে অংশগ্রহণ করি। ১৬ ডিসেম্বর দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন আমরা সাতক্ষীরায় ছিলাম। সেখান থেকে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। আমরা তিন দিন পর বরিশাল পৌঁছি। আসার পথে সুন্দরবন এলাকার সাব-সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর জিয়ার সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়।
৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং নিপীড়িন-নির্যাতনের শিকার লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পা রাখলেন আমিও তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে সংবর্ধনা-অভিনন্দন জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বিমান বন্দর থেকে যে ট্রাকটিতে করে বঙ্গবন্ধু আসেন সেটাতে তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ছাত্রনেতা হিসেবে আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে সহযাত্রী হতে পারিনা এটা আমার জীবনের একটি সৌভাগ্য মনে করি। সেদিন দেখেছি জনসমুদ্র কী রকম হতে পারে? বিমান বন্দর থেকে পুরো রাস্তা লোকে লোকারণ্য। গাছের উপরে, ছাদের উপরে সবখানেই মানুষে ঠাসা। মানুষের ভিড় ঠেলে মিডিয়াকর্মীদের বহনকারী গাড়িটি যথাসময়ে সামনে আসতে না পারায় ঐ সংবাদ কভার করতে যাওয়া ফটোসাংবাদিকরা ছবি তুলতে পারেনি। যে কারণে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অধিক সংখ্যক ছবি পাওয়া যায়নি। মনে পড়ে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে এখনও যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁদের মধ্যে আছেন জনাব তোফায়েল আহমেদ এবং জনাব নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, যাঁরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত  আছেন। এছাড়া ছিলেন আসম আবদুর রব ও শাহজাহান সিরাজ। তারা অবশ্য এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। মনে পড়ে, সোনারগাঁও হোটেল পার হয়ে বাংলামটরের কাছাকাছি পৌঁছতেই বঙ্গবন্ধুর পানির পিপাসা লাগে। পানির জন্য  আশপাশে ছোটাছুটি শুরু করি। কিছু দূরে মসজিদের কাছে একটি ছোট দোকান দেখতে পেয়ে সেখানে চলে যাই। তখনকার সময়ে বোতলজাত পানি ছিল না। বঙ্গবন্ধুর জন্য দোকান থেকে সেভেনআপের একটি কেস ও একটি ওপেনার নিলাম। দোকানীকে টাকা দিতে গেলে তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্য পানি নিচ্ছি জেনে দাম নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমি নিজেই সেভেনআপের কেসটি বঙ্গবন্ধুর গাড়িতে তুলে দেই। বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী ট্রাকে আমি ছিলাম চালকের পাশে। তখন আমার পাশে ছিল জগন্নাথ কলেজের তৎকালীন ভিপি এমএ রেজা এবং ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের এমপি শামসুল হক। মাঝখানে ছিলাম আমি।
জননায়ক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সংবেদনশীল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যে কোনো ব্যক্তি অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারতেন তাঁর কাছে। কূটনীতি ও রাষ্ট্রাচারের ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্ব ও সহনশীল আচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখেনি, কিš‘ শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্বে, সাহসিকতায় এই মানবই হিমালয়।”  ১৯৭১ সালের ২ মে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা একটি নিবন্ধে লিখেছে, “সাধারণ বাঙালির কাছে তাঁর কাপড় স্পর্শ করা ছিলো তাবিজের শুভ ফল পাওয়ার মতো। তাঁর মুখের কথাই হয়ে উঠেছিল আইন। সম্পদ কিংবা পদ মর্যাদার দিকে তাঁর কোন নজর ছিলো না। সম্পূর্ণরূপে আন্তরিক ছিলেন জনগণের প্রতি। প্রতিটি বাঙালি, তিনি যতো তু”ছ বা গরিবই হোন না কেন, তিনি মানুষের মর্যাদা ও সম্মান দিয়েই বিবেচনা করতেন, সাহায্য করতেন।”
এমন এক বিশাল হৃদয়ের মহান নেতার হত্যাকা-ের পর পশ্চিম জার্মানির নোবেলজয়ী নেতা উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, “মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিকে আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।” বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা- কেবল তাকেই নিস্তব্ধ করেনি, ব্যাহত হয়েছে দেশের অগ্রযাত্রা। গভীর গিরিখাতের অতল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল দেশের মানুষ। দিকহারা জাতি সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হয়ে আসছিল দীর্ঘদিন। যেকারণে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সাম্প্রদায়িকতা, জামাত-বিএনপির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে দেশে সৃষ্টি হয় জঙ্গিবাদ। দেশের অগ্রযাত্রার সোপানকে পেছনে ধাবিত করে স্বীকৃতি পায় জঙ্গিবাদ ও দুনীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে। অবশেষে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার জাতি ফিরে পায় সঠিক দিক নির্দেশনা। সমৃদ্ধির পথে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক নতুন পালক। দেশে এখন একটি শান্তিময় পরিবেশ। সরকারের উপর আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্বমহলে স্বস্তি বিরাজমান। আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিদেশীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে। দেশে একটি সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি বিশেষ মহলের অপতৎপরতায় জাতি আজ শংকিত। সকলকে সাবধান হতে হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার সপক্ষের সকল শক্তিকে এক হতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে অব্যাহত সমর্থন জুগিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সকলের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় সকলকে এক হতে হবে। আর যাতে কোনো দিন কোন অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। কোনো  ষড়যন্ত্রী, কোনো আগুন সন্ত্রাসী যেন গণতন্ত্র ও অগ্রযাত্রার পথকে ব্যাহত করতে না পারেনা এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
 লেখক : আ.স.ম ফিরোজ, এমপি রাজনীতিক, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ।
 সংগ্রহে : জহির খান



হাওর পানিতে ভাসছে, বোরো ফসলের সর্বনাশ
                                  

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু : হাওর অঞ্চলে এমনিতেই টান এলাকার মতো যেমনি সারা বছর কোন রবিশস্যের আবাদ হয়না, তেমনি অন্যান্য এলাকার মতো আউশ, আমন ও ইরি ধানের চাষ হয় না। বছরে তাদের একটি মাত্র ফসল উৎপাদন হয়। তা হচ্ছে বোরো ধান। এই বোরো ধানই হাওর এলাকার কৃষককের একমাত্র সারা বছর খেয়ে জীবন ধারণের একমাত্র সম্বল। এই ধান বিক্রী করেই ছেলে মেয়েদের পড়ালেখাসহ বৈষয়িক অন্যান্য কাজ করা হয়ে থাকে। অপরদিকে স্বল্প আয়ের মানুষ ও কৃষকরা বিত্তশালীদের কাছ থেকে আগাম টাকা দিয়ে জমি বর্গা নিয়েও বোরো ধানের চাষ করে থাকে। কিন্তু এবারের আগাম বন্যা, উজানের পানি, পাহাড়ী ঢল এবং জোয়ারের পানিতে হাওর সয়লাব হয়ে যাওয়ার পর কৃষক সারা বছরের জন্য সঞ্চিত ধান ঘরে তুলতে পারেনি।

          যারা জমির মালিক বা জোতদার তাদের যেমনি দুঃখ, তেমনি যারা দাদন ও এনজিওর টাকা দিয়ে জোতদারের জমি বর্গা নিয়ে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারেনি তাদেরও সীমাহীন দুঃখ বেদনার আর শেষ থাকেনি। একদিকে বোরো ফসলের দিকে চেয়ে থেকে যেমনি সবকিছুর সর্বনাশ, তেমনি রাত পোহাতেই বিভিন্ন মহাজন ও বিভিন্ন এনজিওর টাকা পরিশোধের তাগিদ থেকে বাঁচার জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেরই নিরুদ্দেশ হওয়ার কথাও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এবারের আগাম বন্যা, উজানের পানি, পাহাড়ী ঢল ও জোয়ারের পানিতে দেশের প্রায় এলাকার বোরো ফসল তোলার আগেই ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই পানিতে ডুবে ও পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এমনিভাবে সুনামগঞ্জের হাকালুকি হাওর, বড় হাওর, শনির হাওর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার হাওরের মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ, কষ্ট ও বেদনার যেন অন্ত নেই। এমনিভাবে নতুন করে প্রতিদিন একেক করে নতুন হাওর প্লাবিত হচ্ছে ও হাওরের বোরো ধান পানিতে ডুবে গেছে। এ ব্যাপারে অনেক ঘটনা নজরে আসলেও একটি ঘটনার উল্লেখ করা হলো। প্রতি বছর বংশানুক্রমে আমাদের এলাকার বেশ কয়টি সাধারণ কৃষক পরিবার জোতদারের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে জমি বর্গা নিয়ে ভাটি এলাকায় পৌষ মাস শুরু হতে না হতেই হালের গরু, মহিষ, টায় টুবলা ও কামলা মুনি এবং ছেলে পেলে নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করার জন্য হাওর এলাকায় চলে যায়। যাকে

আঞ্চলিক ভাষায় “জিরাতি” বলা হয়ে থাকে। আবার ৩/৪ মাস হাওরে থেকে বৈশাখ মাসে নতুন ধান নিয়ে ঘরে ফিরে আসে। এই ধান বিক্রী করে যেমনি দাদন, এনজিও এবং মহাজনের টাকা পরিশোধ করে তাকে তেমনিভাবে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ মেটানো সহ সারা বছরের খাদ্য মওজুত করে রাখা হয়ে থাকে। তাদের অবস্থা নাজুক হলেও এমনিভাবে কায় ক্লেশে সারা বছর কারো দ্বারস্থ না হয়ে সংসার চালিয়ে থাকে।

             এ বছর হাওরের ধান আনতে না পারায় শূণ্য হাতে ঘরে ফিরতে হয়। তারপর অভাবী সংসারে দাদন ও এনজিওর টাকার চাপ মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের রূপ ধারণ করেছে। এ ধরণের অজস্র ঘটনার শেষ নেই। কৃষকের দাদন, মহাজনের টাকা ও এনজিওর টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তাদের ভিটামাটি বিক্রী করা ছাড়া কোন উপায়ন্তর নেই। এ লেখার সময় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, কালিয়াজুরি, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কথা জানা যায়। তন্মধ্যে এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল এলাকার হাওরে ৫৫ হাজার ৭৭৭ হেক্টর বোরো ধানের আধা-পাকা জমি পানির নিচে তলিয়ে পঁচে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে ধান ও ধান গাছের পচনের ফলে পানিতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে হাইড্রোজেন সালফাইড ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মাত্রা অন্যদিকে কমে গেছে অক্সিজেনের মাত্রা। যার ফলে এ সমস্ত হাওরে মাছের মড়ক যেভাবে বাড়ছে টিক তেমনিভাবে হাওরের পঁচা ও বিষাক্ত মাছ খেয়ে খামারীদের হাঁসও মরতে শুরু করেছে। জানা যায়, ভাটি এলাকায় হাওরে এ পর্যন্ত ১০ হাজার হাঁস মরেছে। যার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি। এমনিভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন হাওরে পানি বৃদ্ধির সংবাদ জানা যাচ্ছে এবং সেই সমস্ত এলাকার কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম ও অবর্ণনীয় কষ্টে দিন যাপন করছে। সূত্রে জানা যায় ১৯/০৪/১৭ ইং বুধবার সুনামগঞ্জের হাওরের ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল তা জানতে গেলে এলাকার সর্বস্তরে মানুষ, চেয়ারম্যান, মেম্বার, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে জরুরী খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের কথা জানালে, ত্রান সচিব ১৯/০৪/১৭ বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বলেছেন, দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নামে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরনের একটি আইন রয়েছে। ২০১২ এর ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোন এলাকার অর্ধেকের ওপরে জনসংখ্যা মারা যাওয়ার পর ওই এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হয়। তিনি নাকি আরো বলেছেন, কিসের দুর্গত এলাকা। একটি ছাগলও তো মারা যায়নি। যদিও এ পর্যন্ত এলাকার হাজার হাজার টন বোরো ধান পাকা ও আধা-পাকা অবস্থায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত টন মাছ মড়কে ভেসে উঠছে, খামারী ও কৃষকদের শত শত হাঁস বিষাক্ত ও পঁচা মাছ খেয়ে মরে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জনৈক আইনজীবী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অনেকেই সচিবের দুর্গত এলাকার এ সংজ্ঞাকে অর্থাৎ ২০১২ এর ২২ ধারাকে উদ্ভট উপাখ্যান বলে মন্তব্য করেছেন।

            এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের হাওরের দুর্দশা গ্রস্থ মানুষেকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের চরম অপমানকর, উপহাসমূলক ও উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ও মন্ত্রণালয় থেকে তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবীতে “হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও” আন্দোলন ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন হয়েছে। ২১/০৪/১৭ ইং শুক্রবার সুনামগঞ্জ শহরের আদালত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েণ্ট) অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতি কর্মি, শিক্ষক, কৃষক, সমাজ সেবক সহ অনেকেই অংশগ্রহন করে থাকেন। বক্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ২২ ধারার উপধারায় দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে, অর্ধেকের বেশী মানুষ মারা যাওয়ার কোন শর্তের কথা উল্লেখ নেই বলে মন্তব্য করে থাকেন।

          বৃহষ্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ২০ ও ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ছোট বড় ৫২টি বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তাতে কয়েক সহস্রাধিক হেক্টর ধানের জমি তলিয়ে যায়। তারপরও পানি বাড়ার সাথে সাথে আরো নতুন এলাকার ধানের জমি প্লাবিত হচ্ছে। উজানের বানের পানি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে নেত্রকোণা জেলায় মোহনগঞ্জে সম্প্রতি ১১৪ কোটি টাকার বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার ১৮ হাজার ৪০০ কৃষক

মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে এ লেখার দুদিন আগে সরকারীভাবে কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ৪৮ টন চাউল, ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণের কথা জানা যায়। তম্মধ্যে জনপ্রতি ১৫ কেজি করে চাউল এবং ২ হাজার কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বিতরণের কথাও জানা যায়। এখনও ১৩ হাজার ২০০ কৃষক কোন সহায়তা পায়নি।

          এ পরিসংখ্যানটি ২০/০৪/১৭ ইং ও ২১/০৪/১৭ ইং শুক্রবারের হলেও তারপর থেকে অবিরাম বর্ষন, পাহাড়ী ঢল ও উজানের পানি আসার প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যান্য হাওরে যেমন চরম নাজুক অবস্থা সৃষ্টি ও নতুন নতুন অবশিষ্ট হাওরে যেমনি পানি ঢুকছে, তেমনি নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের অবস্থা এখন চরম সংকটে নিপতিত।

            এমতাবস্থায় দেশের বিজ্ঞজন ও ভোক্তভোগীরা মনে করে দুর্গত এলাকার জন্য ২০১২ এর ২২ ধারা সহ যে কোন ধারা উপধারায় বিতর্কে না যেয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে এ মুহুর্তে অসহায় ও চরম কষ্টে দিনযাপনরত হতভাগা কৃষকদের পাশে সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের একাত্মতা হয়ে কাজ করা অত্যাবশ্যক বলে মনে হয়। কথায় বলে “হিলে পাটায় ঘষাঘষি মরিচের জান শেষ” এখান থেকে উপলব্ধি করে ২০১২ এর ২২ ধারা ও তথ্য থেকে বেড়িয়ে এসে যত দ্রুত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায় ততই মঙ্গল ও বাস্তবসম্মত বলে অনেকেই মনে করে থাকে। আরো জানা যায়, যে সমস্ত স্বল্প আয়ের কৃষক মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও এনজিও থেকে টাকা নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করেছিল, কৃষকদের এহেন দুরবস্থার সময়ও দাদন দেয়া মহাজন ও এনজিওদের চাপ থেকে রক্ষা করার আশু প্রয়োজন বলে ভোক্তভোগীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মনে থাকে। জানা যায়, এমনিতেই যাদের বাঁচার ঠাঁই নেই, অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, ছেলে মেয়েদের বই কিনে দেয়ার অবস্থা নেই, এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তারপর দাদনের মহাজন ও এনজিওদের তাড়নায় বসতভিটায় ঠাঁই পাচ্ছে না। ২৩/০৪/১৭ ইং রোববারের বিভিন্ন গনমাধ্যমে দেখা যায়, এত দুরবস্থার সময় ও মহাজনের দাদন ও এনজিওর টাকার তাগেদার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন কৃষক মারা গেছে। হাওরের কৃষক ও জিরাতিদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে ও বিবেচনা করে এনজিও এবং মহাজনদের দাদনের টাকা আপাতত সময় দিয়ে দুর্গত এলাকার কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ভোক্তভোগী ও দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

ভয় দিয়ে কিছুই জয় করা যায় না
                                  

মাহমুদুল বাসার : সাহসই ছিলো দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালির একমাত্র অস্ত্র; বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর কোনো বাহ্যিক চাকচিক্যময় যোগ্যতা ছিলো না। বিদ্রোহী সত্তাই নজরুলের আসল সত্ত। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাই তার শ্রেষ্ঠ কবিতা আর ‘মানুষ’ কবিতা। ব্রিটিশ সিংহাসন টালে উঠেছিলো নজরুলের বিদ্রোহী প্রবন্ধগুলোর উত্তাপে। বঙ্গবন্ধুকে খোদ মার্কিন রাজ্যের এক সাপ্তাহিক বলেছে ‘রাজনীতির কবি’। বলেছে তার ৭ মার্চের অন্নিগর্ভ ভাষণকে লক্ষ করে। যেখানে তার সাহসেরই দীপ্তিময় প্রকাশ ঘটেছে। সাহস রবীন্দ্রনাথের ও ছিলো। নাইটহুড প্রত্যাখ্যানের চিঠিটি পড়লে বোঝা ইংরেজ লাটকে কী তেজস্বী ভাষায় লিখেছিলেন চিঠিটি। পেছন ফিরে তাকাননি। নাইটহুড প্রত্যাখ্যান করলে আর্থিক লোকসানের কথা ভাবেননি, ইংরেজ তথা গোটা ইউরোপের বিরাজ ভাজনের তোয়াক্কা করেননি।
বঙ্গবন্ধুর জামাতা ড. ওয়াজেদের বইটি পড়লে বোঝা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সৌদি বাদশাহ্ বঙ্গবন্ধুর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অপসারণ করার জন্য। বঙ্গবন্ধু একটুও ভয় পাননি। মাথা নত করেন নি। বলেছিলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ অংশ গ্রহণ করেছে, রক্ত দিয়েছে, সব ধর্মের নারী ইজ্জত দিয়েছে। সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে উচ্ছেদ করা যায় না। দেশ স্বাধীনের পর হাজীদের হজ্বে পাঠানোর ব্যাপারে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলো, যাতে তিনি ভয় পেয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতা ত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি ভয় পাননি। ধর্মনিরপেক্ষতা ত্যাগ করেননি। অন্য দেশের সহযোগিতায় হাজীদের হজ্বে পাঠিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মৌলবাদীরা, পাকিস্তান পন্থীরা, চীনপন্থীরা, গলাকাটা পন্থীরা, ফতোয়াবাজরা, গণবাহিনী-সর্বহারা বাহিনী এক সঙ্গে জোট বেঁধে তাঁর বিরোধিতা করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা পর্যন্ত কূট সমালোচনা করেছে, তিনি মাথা নত করেননি। প্রতিটি মাদ্রাসায় লুকিয়ে থাকা জামায়াতীরা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রখর অপপ্রচার করেছে। তাকে ব্যঙ্গ  করেছে। বলেছে তিনি ইসলাম ধবংস করেছেন, ভারতের কাছে দেশ বন্ধক দিয়েছেন। বলেছে তার পূর্বপুরুষরা হিন্দু ছিলেন। তিনি মাথা নত করেননি। তিনি মিত্র চিনতে ভুল করেননি। তিনি বাকশাল গঠন করেছিলেন কমরেড মনিসিংহ, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ও হাজী দানেশকে নিয়ে। এটা ছিলো তার দুঃসাহসী পদক্ষেপ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং সেকুলার শক্তির সঙ্গেই তিনি জোট বেঁধেছিলেন। এই সাহস, এই বিস্তৃত বক্ষপট, এই পদক্ষেপ নেবার দৃঢ়তা তাঁর ছিলো। মৃত্যুতে তাঁর কোনো পতন হয়নি, কোনো পরাজয় ঘটেনি। পরাজয় হতো যদি তিনি ১৫ আগষ্টের খুনীদের কাছে আত্মসমর্পন করতেন। তাঁর সেনা প্রধান তাঁকে বাসা থেকে পালাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ছিঃ ছিঃ। ১৯৭১ সালে পালালেন না আর কর্ণেল ফারুকদের মতো চুনোপুটিদের ভয়ে পালাবেন? বরং ওরাই ভয় পেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর সামনে দাঁড়াতে। তারপর মদখেয়ে মাতাল হয়ে গুলি চালিয়েছে।
নজরুলের প্রবন্ধগুলোর মধ্যেই তার চরম সাহসের পতাকা উড্ডীয়মান হয়েছে। ‘আমি সৈনিক’ প্রবন্ধটি যখন পড়ি তখন রক্তের ফোটায় ফোটায় আগুন ধরে গেছে। রবীন্দুনাথ ইংরেজের ঔদ্ধত্যের মুখে দাঁড়িয়ে ১৯০৫ সালে, বিদ্রোহী বাংলাদেশে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি লিখেছিলেন। আর নজরুল ইংরেজের আস্ফালনের মুখেই ‘আমি সৈনিক’ প্রবন্ধে বললেন, ‘ওরে আমার ভারতের সেরা, আগুন খেলার সোনার বাঙলা।’ অগ্নির অক্ষরে লেখা এমন প্রবন্ধ সাহস না থাকলে লেখা যায় না। রবীন্দ্রনাথের সাহস না থাকলে কি নজরুলকে টেলিগ্রাম করে বলতে পারতেন, ‘প্লিজ গিভ আপ হাঙ্গার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার প্লেইমস্ ইউ।’ সাহস ছিলো বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচর্যের। নাহলে কি বলতে পারতেন ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘটি’? না হলে কি বলতে পারতেন, ‘জ্বলে পুড়ে মার ছারখার। তবু মাথা নোয়াবার নয়?’
কিন্তু আজ কি আমরা ৩০ লক্ষ শহীদের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে সাহস হারিয়ে ফেললাম, যে জন্য মৌলবাদীদের ভয়ে মাথা নোয়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম? কেউ মানুক বা না মানুক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দ্বিতীয় পর্বের মুক্তিযুদ্ধটা চলছে। আপোস করে, ভয় দিয়ে কিছুই জয় করা যায় না। মৌলবাদীদের কাছে যদি আপোসই করতে হবে তাহলে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিলো কেন? যুদ্ধের কৌশল একটাই, তাহলে শত্রুকে মোকাবেলা করা। সন্তোষগুপ্ত একটা প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে টিপু সুলতানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। টিপু সুলতান নিজেই যুদ্ধের মাঠে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। শেষ মুহূর্তেও যুদ্ধের মাঠ ত্যাগ করেননি, পালাননি। বঙ্গবন্ধুও খুনীদের ভয় পেয়ে আত্মসমর্পণ করেননি, তার সেনা প্রধানের কথামতো যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেননি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরস্ত্র কৌশলেই লড়াই করতে করতে প্রাণ দিয়েছেন।
আর এখন আমরা কী করতে যাচ্ছি? মৌলবাদীদের ছবক নিতে শুরু করেছি। মৌলবাদীদের দাওয়াত দিয়ে ঘরে এনে তোয়াজ করতে শুরু  করেছি। নজরুল বলেছেন, ‘মৌ-লোভী যত মৌলভী’-এদের ভয় পেতে হবে? কেন কী অন্যায় করেছে বাঙালি জ্যাতি? এরা তো পাকিস্তানি আর ইসলামকে এক করে দেখে, এ সব মৌ-লোভী, মৌলবাদীরা আয়ুব খান কে গাউস কুতুব মনে  করত, বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের শত্রু ভাবতো। এরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টকে স্বাগত জানিয়েছে, জিয়ায়উর রহমানকে ইসলাম পুনরুদ্ধারের নব খলিফা মনে করতো। এদের আস্কারা দিলে তো বাঙালি জাতির নৈতিক স্পিরিট হারিয়ে ফেলবে। বর্তমান যুদ্ধটাতো এদের বিরুদ্ধেই। এরা জিয়া এবং এরশাদের কাছ থেকে স্বার্থ নিয়ে তাদের ক্ষমতায় থাকার ছাড়পত্র দিয়েছে। এরা ধর্র্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে। যে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা নেই, সে দেশ হবে ওলামা লীগের দেশ, সে দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ হতে পারে না। মধ্য যুগের মোঘল সম্রাট আকবর বাংলা নববর্ষ চালু করেন। পাঠান সুলতানরা ধর্মনিরাপক্ষতা লালন করেছেন, বাঙালি সংস্কৃতির, বাঙালির উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সেখানে মৌলবাদীরা বাগড়া দিতে এসেছে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে। আমরা কি কাঠমোল্লাদের কথা মত চলবো নাকি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লা,  ড. মুহাম্মদ এনামূল হক, মাওলানা সুবীরুজ্জামান ইসলামাবাদী এবং আব্দুল করিম সাহিত্য বিশরেদের আদর্শ মেনে চলবো? আমরা কি এই মন্ত্র ভুলে যাবো,’ আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটা কি কাঠ মোল্লাদের দেশ হবে?


   Page 1 of 1
     অন্যান্য
বিদেশ থেকে দেশে ফেরা শ্রমিকের লাশ : মৃত্যুর বড় কারণ কী?
.............................................................................................
সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে মানব বিপদাপন্নতার হুুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু!
.............................................................................................
বাংলাদেশে চা-শিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয়
.............................................................................................
মানুষের কল্যাণে রক্ত ও মরণোত্তর চক্ষুদান
.............................................................................................
বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনো সেলিমের দুর্নীতির তদন্ত
.............................................................................................
বৈষম্যহীন এমপিওভুক্তির প্রত্যাশা
.............................................................................................
দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
শ্রীলঙ্কা কি সহজে শৃঙ্খলমুক্ত হবে
.............................................................................................
শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
.............................................................................................
প্রেরণায় বঙ্গবন্ধু
.............................................................................................
হাওর পানিতে ভাসছে, বোরো ফসলের সর্বনাশ
.............................................................................................
ভয় দিয়ে কিছুই জয় করা যায় না
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি