ঢাকা,মঙ্গলবার,১৩ মাঘ ১৪২৭,২৬,জানুয়ারী,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > এসএসসির পাঠ্যসূচি কমিয়ে সিলেবাস প্রকাশ   > কুয়াশায় মাওয়ায় বিধ্বস্ত ৭ গাড়ী, আহত অনেকে   > রিমান্ডে পিকে হালদারের তিন সহযোগী   > আসামী কারাগারে, সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ   > করোনায় একদিনে ১৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬০২   > দেশে এখন ৭০ লাখ ভ্যাকসিন   > প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো ভূমিহীন পরিবাররা   > কুড়িগ্রামে পৌর মেয়র কাজিউল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ   > টাঙ্গাইল সরকারি জমি উদ্ধার   > চুনারুঘাট-বাল্লা সড়কের বেহাল দশা  

   চলতি পথে -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দুই পরিবারের মানবেতর জীবন

অংকন তালুকদার, কোটালীপাড়া : ‘পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। গোয়ালের গরু থেকে গোলার ধান পর্যন্ত কিছুই বাকি নেই। সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কি খাবো, কি ভাবে বাঁচবো ভেবে পাচ্ছি না’-কান্না জড়িত কন্ঠে এ ভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মাচারতারা গ্রামের বৃদ্ধ সূর্যকান্ত রায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সূর্যকান্ত রায় (৭০) ও তার ভাই নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) এর বসতঘর, পাকের ঘর ও গোয়াল ঘরসহ ৪টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ৩দিন ধরে এ ২টি পরিবারের ১২জন সদস্য অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসত করছেন খোলা আকাশের নিচে। অগ্নিকান্ডের পরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুনসহ কিছু মানবিক ব্যক্তি নগদ অর্থ, শাড়ি-লুঙ্গি, শীতবস্ত্র দিয়েছেন। তবে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় এসব অপ্রতুল। নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমার ভাই সূর্যকান্ত রায়ের বসত ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মূহুর্তের মধ্যে আগুন চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িটি বিলের ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় অন্য বাড়ির লোকজন ছুটে আসতে আসতে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের এখন নতুন করে ঘর তৈরী করার মতো কোন অর্থ সম্পদ নেই। কি ভাবে এখন জীবনযাপন করবো ভেবে পাচ্ছি না। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে যতটুকু পেরেছি দিয়েছি। আগামীতে দলীয় ভাবে কিছু করার চেষ্টা করবো। আমি এই অসহায় পরিবার দুটির সাহায্যে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। মানবতার মাতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা`র নিকট এই অসহায় পরিবারের জন্য সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছি।

দুই পরিবারের মানবেতর জীবন
                                  

অংকন তালুকদার, কোটালীপাড়া : ‘পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। গোয়ালের গরু থেকে গোলার ধান পর্যন্ত কিছুই বাকি নেই। সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কি খাবো, কি ভাবে বাঁচবো ভেবে পাচ্ছি না’-কান্না জড়িত কন্ঠে এ ভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মাচারতারা গ্রামের বৃদ্ধ সূর্যকান্ত রায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সূর্যকান্ত রায় (৭০) ও তার ভাই নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) এর বসতঘর, পাকের ঘর ও গোয়াল ঘরসহ ৪টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ৩দিন ধরে এ ২টি পরিবারের ১২জন সদস্য অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসত করছেন খোলা আকাশের নিচে। অগ্নিকান্ডের পরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুনসহ কিছু মানবিক ব্যক্তি নগদ অর্থ, শাড়ি-লুঙ্গি, শীতবস্ত্র দিয়েছেন। তবে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় এসব অপ্রতুল। নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমার ভাই সূর্যকান্ত রায়ের বসত ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মূহুর্তের মধ্যে আগুন চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িটি বিলের ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় অন্য বাড়ির লোকজন ছুটে আসতে আসতে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের এখন নতুন করে ঘর তৈরী করার মতো কোন অর্থ সম্পদ নেই। কি ভাবে এখন জীবনযাপন করবো ভেবে পাচ্ছি না। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে যতটুকু পেরেছি দিয়েছি। আগামীতে দলীয় ভাবে কিছু করার চেষ্টা করবো। আমি এই অসহায় পরিবার দুটির সাহায্যে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। মানবতার মাতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা`র নিকট এই অসহায় পরিবারের জন্য সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছি।

সিলেটে ৪ স্তরে গ্যাসের সন্ধান
                                  

খায়রুল আলম সুমন, সিলেট : সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ৪টি স্তরে গ্যাসের অবস্থান চিহ্নিত করে বাপেক্স। এর মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তর ১ হাজার ৯৯৮ মিটার গভীর থেকে গত ৪ জানুয়ারি গ্যাস উঠতে শুরু করেছে। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে কূপটির ফ্লেয়ার লাইনে উঠে আসা গ্যাসে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে কূপটির ২ হাজার ৭২ থেকে ২ হাজার ৯৪ মিটার গভীরতায় তেল আছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু খননকালে ওই স্তরে পৌঁছাতে পারেনি বাপেক্সের খননযন্ত্র (রিগ)। ২ হাজার ২৫ মিটারে রিগটি আটকে যায়। ফলে সম্ভাব্য তেলের স্তরটি বাদ দিয়ে এর উপরে চিহ্নিত চার স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া হিসেবে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিচালনা করে পেট্রোবাংলার অধীনস্থ কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। এসজিএফএলের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তিতাসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ্?র তত্ত্বাবধানে কূপটির খননকাজ শুরু করা হয়। তিনি বলেন, কূপটির যে স্তর থেকে উঠে আসা গ্যাসে শিখা জ্বালানো হয়েছে, তার উপরের আরও ৩টি স্তরের অন্তত একটি অনেক সমৃদ্ধ। সবগুলো স্তরে ডিএসটি করার পর সেখানকার সম্ভাব্য মজুত নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হবে। দেশের প্রাচীনতম এই গ্যাস ক্ষেত্রটির ৯ নম্বর কূপে গত ২ অক্টোবর খননকাজ শুরু করে পেট্রোবাংলার অধীন আরেকটি কোম্পানি বাপেক্স। তাদের করা ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের ভিত্তিতেই কূপটি খননের স্থান ও গভীরতা নির্ধারণ করা হয়। এসজিএফএল সূত্র জানা যায়, ভূকম্পন জরিপের ফলের ভিত্তিতে এই কূপে তেল পাওয়ার আশা করা হয়েছিল। কূপটি খনন করার কথা ছিল ২ হাজার ১০০ মিটার গভীর। কিন্তু ২ হাজার ২৫ মিটার পযন্ত খনন করার পর ড্রিলিং পাইপ আটকে যায়, যা প্রচলিত কোনো পদ্ধতিতেই ছাড়ানো যায়নি। ভূতাত্ত্বিক জটিলতা এবং খননকাজ পরিচালনায় ত্রুটির কারণে এটা হয়ে থাকতে পারে। সূত্র জানায়, এই অবস্থায় করণীয় নির্ধারণের জন্য গত ১৭ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞসহ সব পক্ষ এক সভায় মিলিত হয়।
সে সভায় সামগ্রিক বিষয় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে, ড্রিলিং পাইপ যেখানে আটকে গেছে, সেখানেই এটি কেটে সিমেন্টিং করে দেয়া হবে। অর্থাৎ কূপটির খননকাজ সেখানেই শেষ করা হবে। এরপর ২ হাজার ২৫ মিটারের মধ্যে চিহ্নিত চারটি স্তরে ডিএসটি সম্পন্ন করে গ্যাস উত্তোলন করা হবে। হরিপুর ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত এ দেশের প্রথম গ্যাস ক্ষেত্র। ১৯৬০ সালে ক্ষেত্রটির ১ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ৪০ লাখ ঘনফুট করে গ্যাস ছাতক সিমেন্ট কারখানায় সরবরাহ শুরু করা হলে বাংলাদেশে শিল্পে গ্যাস ব্যবহারও সেটি প্রথম। সে ছিল এক নতুন যুগের সূচনা। এরপর ১৯৬১ সালে এই ক্ষেত্রের আরেকটি কূপ থেকে ৩০ মাইল দীর্ঘ ও ৮ ফুট ব্যাসের পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রে ৬টি কূপ খনন করা হয়। তবে একাত্তর সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সময় এর দুটি কূপ চালু ছিল। সিনলেটের হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রটি আরও যে কারণে ঐতিহাসিক তা হলো এই ক্ষেত্রেই প্রথম ব্লো-আউট (কূপ খননকালীন বিস্ফোরণ) হয়। আবার এটিই দেশের ১ম এবং একমাত্র তেলক্ষেত্র। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালে হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রে ৭ নম্বর কূপ খনন করা হয়। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ৭ নম্বর কূপে তেল পাওয়া যায়। প্রায় ৭ বছরে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৯ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পর ১৯৯৪ সালের ১৪ জুলাই কূপটিতে তেলের চাপ (ওয়েলহেড প্রেসার) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেলে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভে তেলের সঙ্গে মোম জাতীয় একটি পদার্থ (ওয়াক্স) থাকে। তেল উত্তোলনের সময় ওই ওয়াক্স কূপের পাইপের গায়ে জমতে থাকে, যাতে তেলের প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। তাই কূপে তেলের প্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য নিয়মিত ওই ওয়াক্স পরিষ্কার করতে হয়। সিলেটের হরিপুর ৭ নম্বর কূপে তা করা হয়নি। সেই কারণে ওয়েলহেড প্রেসার কমে গিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৯ সালে ক্ষেত্রটিতে ৮ নম্বর কূপ খনন করা হয়। সেই কূপেও তেল পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু পাওয়া যায় গ্যাস। এরপর বাপেক্স ক্ষেত্রটিতে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালায়। তারই ভিত্তিতে ৯ নং কূপ খনন করা হয়েছে।

তাড়াশে ডালের বড়িতে জীবিকা
                                  

সাইফুল্লাহ সরকার, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শীতর মৌসুমে চলছে ডালের বড়ি তৈরির কাজ। উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ৭টি পরিবার ডালের বড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ডালের বড়ি তৈরীর কারিগররা মাচা ফেলে তৈরীকৃত ডাল সুর্যের আলোতে শুকিয়ে বিক্রি করে। শীতের ভোরে নওগাঁ গ্রামের ৭টি পরিবারের নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমড়া বড়ি তৈরি করে। কেউ ছুটছেন ঢেঁকির কাছে, কেউবা সাহায্য নিচ্ছেন শিল পাটার। আবার অনেকে সাহায্য নিচ্ছেন বৈদ্যুতিক মেশিনের। নারীরা বেশি শ্রম দিয়ে ২-৩ দিন কড়া রোদে শুকিয়ে এই ডালের কুমড়া বড়ি প্রস্তুত করে। সময় আর কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও সুস্বাদু এই কুমড়া বড়ি তৈরি করতে পারে না। তবে সেই চাহিদার অনেকাংশে পূরণ করছে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ডালের বড়ি তৈরীর কারিগররা। বাজারে প্রচলিত এ্যাংকার ডাল ব্যবহার করা হয় এই কুমড়া বড়ি তৈরিতে। পরিবারের কাজের ফাঁকে কুমড়া বড়ি তৈরি করে বাড়তি উপার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন এই গ্রামের নারী ও পুরুষরা। নওগাঁ গ্রামের এই কুমড়া বড়ি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে এই বছরে করোনা আর ডালের দাম বৃদ্ধির কারনে বিপদে পরেছে এই কারিগররা। তবু ঐতিহ্য, ব্যবসা আর লাভের আশায় চলছে এই কুমড়া বড়ি তৈরির কাজ। নওগাঁ গ্রামের প্রদিপ কর্মকার জানান, মূলত শীতের মৌসুমে আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ এই তিন মাসে কারিগররা কুমড়া বড়ি তৈরি করে। এই বড়ি তৈরী করতে নারী পুরুষ এক সাথে কাজ করে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাট নিজ গ্রাম নওগাঁতে এই কুমড়া বড়ি বিক্রি করে। বর্তমানে এ অঞ্চলের হাট বাজারে প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই গ্রামের বাসিন্ধা মর্জিনা খাতুন বলেন, এ ডালের বড়ি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্য বিত্তদের জন্য মাছ-মাংসের সমান। তাই শীত এলেই গ্রামাঞ্চলের লোকজন বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। পাড়ার অনেক পরিবারই এ বড়ি বানায়। বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। বড়ি ভেঙে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাঁজি করলে এক চমৎকার খাবার তৈরি হয়। এছাড়া, বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলুর তরকারির স্বাদই আলাদা। কারিগর আলামিন বলেন, আগে পাটায় ডাল পিষতে সময় লাগতো আর কষ্ট হতো । বর্তমানে মেশিনের মাধ্যমে ডাল পিষে সহজে এই কাজটি করতে পারছি। ডালের সাথে কুমড়া, কালোজিরা আর বিভিন্ন প্রকারের মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় কুমড়া বড়ি। তরে আমাদের এই কুমড়া বড়ি শুধু ডাল দিয়ে তৈরী করা হয়। প্রতিদিন ১৫০ কেজি এ্যাংকার ডাল ব্যবহার করে কুমড়া বড়ি তৈরি করলে ১৩৫কেজির মতো হয়। ৩৫টাকা দরে ডাল কিনে শ্রমিকের মূল্য দিয়ে এটা তৈরী করতে প্রায় ৫০টাকার কেজি পরে। আমরা প্রাইকারী বিক্রি করি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর খুচরা বিক্রি করি ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। আমাদের তৈরী কুমড়া বড়ি স্থানীয় হাট বাজারের ব্যবসায়ীদের টাহিদা মিটিয়ে বাইরে মহাজনদের দেই। ঢাকা থেকে এসে আমাদের কুমড়া বড়ি প্রাইকারী নিয়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে আমাদের খরচ বাদ দিয়ে ১হাজার থেকে ১২শ টাকার মতো লাভ থাকে। তবে নিজের জায়গা না থাকায় ভাড়াকৃত জায়গা ব্যবহার করে ১৫-২০হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আবার এনজিও’র কাছ থেকে বেশী সুদে ঋণ নিয়ে যে কিস্তি দিতে হয় তাতে কিছুটা লাভ থাকে। তাই সরকারের কাছে দাবি যদি স¦ল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা ও খাসের জমি দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করতো তাহলে এই শিল্পটা ধরে রাখতে পারতাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের একটি অংশ এই কুমড়া বড়ি। এই কাজের সাথে বেশির ভাগ নারী শ্রমিক কাজ করে থাকেন। নারী উদ্যোক্তা বা শ্রমিকদের জন্য সরকার সবসময় সহায়তা করে। তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমরা সবসময় পাশে আছি। বিশেষ করে নারী ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা যদি আমাদের কাছে আবেদন করে তবে অবশ্যই তাকে সহযোগিতা করা হবে।

বকশীগঞ্জে ছাপরায় থাকা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন প্রকৌশলী
                                  

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সি অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন আল ইমরান নামে এক তরুন বস্ত্র প্রকৌশলী। ওই বৃদ্ধা একটি ভাঙা ছাপরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জামালপুর এসডিজি জেলা নেওটয়ার্কের সদস্য আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামে একজন তার ফেসবুকে পোষ্ট দিলে প্রকৌশলী আল ইমরানের নজরে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেকের বিধবা স্ত্রী ৭৬ বছর বয়সি তুলো বেওয়া একখন্ড জমিতে একচালা জরাজীর্ণ একটি ভাঙা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তুলো বেওয়ার দুই ছেলে ও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের বাড়িতে চেয়ে খেয়ে কোন রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকারে রাতের বেলায় একা নির্জনে থাকেন তিনি। অর্থের অভাবে বিদ্যুত সংযোগটিও নিতে পারেন নি এই বৃদ্ধা। বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার এমন দুর্দশার কাহিনী গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে পোষ্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামে এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের সদস্য। তার এই পোষ্ট দেখে বকশীগঞ্জের তরুন বস্ত্র প্রকৌশলী ও সমাজ সেবক আল ইমরান পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। শুক্রবার সকালে আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে একটি খাট, শীত নিবারণের জন্য একটি লেপ, তোষক, বালিশ , খাবারের জন্য চাল ও একটি নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান। নলকূপটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থাপন করা হয়।
জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করায় খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে তার একটি ঘর নির্মাণ করারও আশ্বাস দেন তরুন সমাজসেবক আল ইমরান। অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোয় আল ইমরানের মানবিক এই কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রকৌশলী আল ইমরান জানান, মানবিকতার কারণে আমি তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।

হাঁস পালণ করে স্বাবলম্বি হাসান, বছরে আয় ৪ লাখ টাকা
                                  

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : হাঁস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৫০টি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করে বেকারত্ব দূর করেন যুবক হাসান। এখন তার প্রতি মাসে আয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এবং খামার থেকে বছরে আয় করেন ৪ লাখ টাকা। হাঁস পালন করে এখন অনেকেরই ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করছেন তিনি। এ কারণে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. হাসানের সফলতা এখন সবার মুখে মুখে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, করোনার শুরুর দিকে ঘরবন্দি হওয়ার পর অভাব অনটনের দেখা দিলে হ্যাচারি থেকে ২৫০টি হাঁস ক্রয় করে শুরু করেন হাঁস পালন। অর্থনৈতিক পিছু টানের মধ্যে দিয়েও পিছ পা হননি হাসান। করোনায় দেশব্যাপি বন্ধের সময় হাতে কোনো কাজ না থাকায় নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছিল পরে ধার দেনা করে হাঁসের খাবার ক্রয় করতে হয়েছিল। টাকা বাকি পড়েছিল ছিল স্থানীয় দোকানেও। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি, এভাবেই শুরু হয় হাসানের হাঁসের খামারে পথ চলা। এখন হাসানের খামারে প্রায় ৫শ’ হাঁস আছে। প্রতিদিন হাঁসগুলো গড়ে ১৫০টি ডিম দেয়। প্রতিটি ডিম ১০ টাকা দরে বিক্রি করে আয় করেন ১৫০০ টাকা। এ ছাড়াও ৩ মাস পর তিনি প্রতিটি হাঁস বিক্রি করতে পারেন ৩০০-৩৫০ টাকা করে। হাসান হ্যাচারি থেকে প্রতিটি হাঁস ক্রয় করেন ২৫-২৮ টাকা দরে। পরিপক্ক হতে খাদ্য ও ঔষধ বাবদ সর্ব সাকুল্যে খরচ হয় ১৫০টাকা। এবার করোনার প্রভাবে হাঁসের ঔষধ ও খাবারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় হাঁস পালন করে তিনি ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন প্রথম দিকে। হাসান বলেন, করোনার সময় সংসারে অভাব দেখা দেয়। কোনো কাজও খুঁজে না পেয়ে চিন্তা করে কিছু হাঁস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। নিজে না খেয়ে সন্তানের মত হাঁসগুলোকে লালন-পালন করেছি। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন প্রতিদিন টাকার দেখা পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, হাঁসের খাবারের পিছনে খুব একটা বেশি খরচ করতে হয় না। বিলে হাঁসগুলো ছেড়ে দেই আবার সন্ধ্যার দিকে বিল থেকে নিয়ে আসি। তবে প্রতিদিন ঔষধ দিতে হয়। প্রতি মাসে ডিম ও হাঁস বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এ দিয়েই ভালোভাবে সংসার চলছে হাসানের। তবে খামারের প্রসার ঘটাতে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা তার। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন খান বলেন, হাসানের হাঁসের খামারটি দেখতে অনেকেই আসছেন। এটি দেখে কেউ কেউ আবার হাঁসের খামার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাছাড়া আমাদের গ্রামের মানুষের ডিম বা হাঁস কিনতে বাজারে যেতে হয় না। পাশ্ববর্তী গ্রামের যুবক মো. ফতে আলী বলেন, আমি হাসান ভাইর হাঁসের খামার দেখতে এসেছি। আমার ইচ্ছে আছে এ এরকম একটি খামার করার। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু জগৎ জীবন রায় জানান, খোলা বিলে হাঁস পালন করে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি আর্থিক সংকট দূর করেছেন যুবক হাসান। এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, হাসানের হাঁস খামারটি দ্বারা নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করেছেন। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনওয়ার হোসেন বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। স্বল্প খরচে হাঁস চাষ করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রচুর আয় করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, প্রাণীসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হয়। ডিম ও হাঁসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।

এখনও স্বীকৃতি পেলেন না মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী
                                  

যশোর ব্যুরো : দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে অসুস্থ্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কেরামত আলী ওরফে কেনা অসুস্থ্যতার কারণে জীবিকার জন্য ঠিকমত রিকসা চালাতে পারেন না। তারপরও ঘরে অসুস্থ্য স্ত্রী, হাতভাঙ্গা পুত্র ঘরে বসে আছে। তার এক মাত্র জীবিকার সম্বল রিকসার চাকা না ঘুরলে সেদিন তার ঘরে রান্না হয় না। জীবনের প্রতি মায়া ত্যাগ করে সম্মুখ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেও পেট ও পিটকে সে স্বাধীন করতে পারছে না। বেঁচে থাকার জন্য একমাত্র জীবনের হাতিয়ার রিকশা তার সহায়সম্বল। আর এ জন্য কপালকে দুসছেন এ বীরমুক্তিযোদ্ধা। পড়াশোনা না জানা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে ঘুষের টাকা দিতে না পারায় তার নাম তালিকায় উঠছে না। এমনটা অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মেজর হুদার নেতৃত্বে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী কেরামত আলী।
কেনা নামে পরিচিত এ মুক্তিযোদ্ধা নিজের এলাকা ছেড়ে যশোরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মুক্তিযোদ্ধা কেনা যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে কে নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে রিকসা চালিয়ে কোন রকম টিকে আছেন। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী, বিদেশ ফেরত হাতভাঙ্গা ছেলেটি কিছুই করতে পারে না। রিকশা চালিয়ে উপার্জিত অর্থে কোনোদিন ভরপেট খাওয়া হয় না, কোনোদিন বাজার জোটে না। অভুক্ত থাকতে হয় পরিবারের সকলকেই। বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রী হালিমার চিকিৎসার জন্যে অর্থ যোগাড় করতে পারছেন না তিনি। মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী কেনা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুদলি গ্রামের মান্দার আলী গাজীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার দুই ছেলেমেয়ে। তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করে চালিয়ে বেড়ান। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের কারণে লুকিয়ে অলিগলিতে তা চালাতে হচ্ছে। কেননা রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেওয়া হয় না।’ এসব কারণে ঠিকমত আয় রোজগারও করতে পারেন না তিনি। কোনোদিন রিকশা মালিককে টাকা দিয়ে আর বাজারের টাকাপয়সা থাকে না। সেদিন না খেয়েই পার করতে হয়। বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় প্রায় সময় অসুস্থ থাকতে হয়; তখন ওষুধ কেনার পয়সাও জোগাড় হয়ে ওঠে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধের পর অনেক সহযোদ্ধা সরকারের সকল সুযোগসুবিধা পেয়ে ভালভাবে দিন পার করছেন। আমি লেখাপড়া না জানায়, মুক্তিযোদ্ধা অফিসে টাকা পয়সা দিতে না পারায় সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। লেখাপড়া না জানা এই মানুষটির কষ্টের কথা বলার মতো কেউই নেই। এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজের নাম লেখাতে পারেননি। যখন জানতে পেরেছেন, তখন যশোরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে গেছেন, একাধিকবার। সে সময় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তার নাম তালিকাভুক্ত করতে তিন হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু হতদরিদ্র এই মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে একসঙ্গে তিন হাজার টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। আর সে কারণে তার নামটিও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঠাঁই পায়নি।
কেরামত আলী জানান, এ দেশকে হানাদারমুক্ত করতে যত না কষ্ট হয়েছে। তার থেকে এখন আরো বেশি কষ্ট জীবন চালানো। জীবনের শেষদিন গুলোতে কোন রকম একটু খেয়ে পরে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা হয় তার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।

প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে প্রথম নারী সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস খান বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩১শে ডিসেম্বর) রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরামের প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩৯৩ ভোট। জাতীয় প্রেসক্লাবের এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদে সর্বমোট ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের দু’টি প্যানেল ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরাম এবং সবুজ-ইলিয়াস পরিষদ। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অংশ নেন এ নির্বাচনে। নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ, সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা, যুগ্ম সম্পাদক পদে মাঈনুল আলম ও মো. আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। সদস্য পদে জিতেছেন- আইয়ুব ভূঁইয়া, জাহিদুজ্জামান ফারুক, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, রহমান মুস্তাফিজ, রেজানুর রহমান, শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাজী রওনাক হোসেন, বখতিয়ার রাণা, শাহনাজ বেগম পলি। এর আগে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোটগ্রহণ।

ফটো সাংবাদিক কাজল দীর্ঘ নয় মাস পর বাড়ি ফিরলেন
                                  

কোর্ট রিপোর্টার : প্রায় নয় মাস পর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার আলোচিত ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। কাজলের ছেলে মনোরম পলক জানিয়েছেন, বেলা এগারটার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় পৌঁছেছেন তার বাবা। কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট থেকে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম কাজল। গত ১১ই মার্চ পুরনো ঢাকার চকবাজার এলাকায় বাসা থেকে বের হয়েই নিখোঁজ হয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম কাজল। তিনি নিখোঁজ হওয়ার ৫৩ দিন পর গভীর রাতে যশোরে বেনাপোল সীমান্তের একটি মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করার কথা বলা হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। তখন এই সাংবাদিককে দুই হাত পেছনে দিয়ে হাত কড়া লাগিয়ে আদালতে নেয়ার ছবি ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল। এরপর তেসরা মে থেকে থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
তবে তিনি নিখোঁজ হওয়ার আগেই গত ১০ই মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছিলেন ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায়।
যুব মহিলা লীগের দু`জন নেত্রীও তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দু`টি মামলা করেছিলেন।
কয়েকটি মামলায় গত তেসরা মে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
গত ১৭ই ডিসেম্বর হাইকোর্ট দু`টি মামলায় তাকে জামিন দিলে তার মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়।
পক্ষকাল নামে একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল একই সাথে দৈনিক খবরের কাগজ বণিক বার্তার আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করতেন।

টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : টেকসই উন্নয়নে কৌশল নির্ধারণের অংশ হিসেবে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ‘সাসটেইনেবল টেকনোলজিস ফর ইন্ডাস্ট্রি (এসটিআই) ৪.০’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গতকাল শনিবার বিশ^বিদ্যালয়ের সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশে^র ২৯টি দেশ থেকে কয়েক শতাধিক শিক্ষক-গবেষক অংশ নেন। বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকিরের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, গ্রিণ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফায়জুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারনে শেষ পর্যন্ত তা পারেননি। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এই দুই অনুষঙ্গকে যত বেশি কাজে লাগানো যাবে, ততই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও অনেককে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি শিল্প বিপ্লবে বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনা করেন। গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, করোনাকালীন বিশে^র যেসব খাত সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তার অন্যতম হলো শিক্ষা। যদিও লকডাউনের শুরু থেকেই অনলাইন শিক্ষার সব সেবা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি। তিনি বলেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি ব্লেন্ডিং শিখন প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে, যেখানে ক্যাম্পাসে সরাসরির পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষাও সমানভাবে গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার ও গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এসটিআই-২০২০ সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলোঘ? গবেষক ও অভিজ্ঞতাবাদীদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা; যা কাজে লাগিয়ে টেকসই প্রযুক্তি ৪.০ উন্নয়নে আরো এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে জোর দিয়েছি, তাই এটাকে সামনে রেখে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ালেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সহজ হবে। সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ছাড়াও নতুন আইডিয়া তৈরি এবং সাসটেইনেবল টেকলোজির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। যা মূলত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে। সম্মেলনের প্রথমদিন উদীয়মান আইআর ৪.০ বিশেষজ্ঞ এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওটার লু’র আইইইই ফেলো ক্লাউডিও এ কেনিজারেজ, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের আইইইই ফেলো রাজকুমার বুঁইয়া; কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলোম্বিয়ার আইইইই ফেলো ভিনসেন্ট ওয়াং, অস্ট্রোলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক হুসেইন আব্বাস, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের সুস্মিতা মিত্রা এবং ব্রাক ইউনিভার্সিটির মনজুর আহমেদ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। এদিকে সম্মেলনের প্রথমদিন রাজধানীর ট্রাফিক দূরীকরণে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এআই-বেসড প্রজেক্টের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলসেভিয়ার দ্বারা অর্থায়িত প্রজেক্টটি সম্মেলনে সাসটেইনেবল টেকনোলজিস ফর ইন্ডাস্ট্রি অনুষ্ঠানের সহযোগী ইভেন্ট হিসেবে কাজ করছে। এর বাইরেও সম্মেলনের অংশ হিসেবে ‘এডুকেশন ৪.০- প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনীর সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক একটি টিউটোরিয়াল ও বিশ^বিদ্যালয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ফর টিচিং অ্যান্ড লার্নিয়ের উদ্যোগে ‘এডুনিয়াস ৪.০-ফাইন্ডিং দ্যা বেটার সল্যুশন ফর এডুকেশন শীর্ষক প্রতিযোগিতা স্থান পেয়েছে।

করোনায় একদিনে ২৫ মৃত্যু, তাদের ১৭ জন পুরুষ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে গত এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুহার বেড়েছে চার দশমিক ২৩ শতাংশ। এই সময়ে আগের সপ্তাহের তুলনায় সুস্থ রোগীর সংখ্যা ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, নমুনা পরীক্ষা এক দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫০তম এপিমেডিওলজিক্যাল সপ্তাহে (৬ থেকে ১২ ডিসেম্বর) নমুনা পরীক্ষা এক লাখ ছয় হাজার ৯৩১, শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ২৯৯ জন, সুস্থ রোগী ২৪ হাজার ৯৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২১৩ জন। ৫১তম এপিডেমিওলজিক্যাল (১৩ থেকে ১৯ ডিসেম্বর) নমুনা পরীক্ষা এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৮২, শনাক্ত রোগী ১০ হাজার ৩৮২ জন, সুস্থ রোগী ১৮ হাজার ৯৮ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২২ জন। দুই সপ্তাহের তুলনায় মৃত্যুহার বাড়লেও কমেছে নমুনা পরীক্ষা, সুস্থ ও শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২৫ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। ২৫ জনের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত হাজার ২৪২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার পাঁচটি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৩০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৪টি। এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ২৬৭ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল চার লাখ ৯৯ হাজার ৫৬০ জনে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯৮৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন চার লাখ ৩৫ হাজার ৬০১ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ১০ দশমিক শূন্য ৩০ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক শূন্য ২০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু সাত হাজার ২৪২ জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৫২২ জন (৭৬ দশমিক ২৫শতাংশ) ও নারী এক হাজার ৭২০ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৭৫ শতাংশ)। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৫ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৫ জন রয়েছেন। ২৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, চট্টগ্রামে চারজন, রাজশাহীতে একজন, খুলনায় দুইজন, রংপুরে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুইজন রয়েছেন।

গুলির শব্দ শুনে ঘুমাতে যাই আবার গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে
                                  

হাসান মাহমুদ, জাতিসংঘ শান্তি মিশন : আফ্রিকায় জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং অফিসাররা কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য দীর্ঘ এক বছরের জন্য যাচ্ছেন। তাদের পরিবার পরিজনরা বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জর্ডানের চার্টার্ড ফ্লাইটটি প্রস্তুত। পৃথিবীব্যাপি একটা সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, সেনা সদস্যদের নিয়ে চলাচলরত ফ্লাইট আলাদা রানওয়েতে অবতরণ করে এবং মূল টার্মিনালে আনা হয় না। রিফুয়েলিং হয় স্পেশাল ভাবে। আগেই বলেছি, প্রচন্ড ঠাণ্ডা বাতাস বইছে রানওয়েতে। বিমানে আমরা সবাই উঠে পড়েছি। ঢাকা থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টার জার্নি। আমাদের গন্তব্যস্থল আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ দক্ষিণ সুদানের রাজধানী ‘জুবা’। যেখানে সব সময় ওঁৎ পেতে থাকে এলআর’র (লর্ড রেজিসটেন্স আর্মি) গেরিলারা। তারা দেখতে অত্যন্ত কালো। সুঠাম দেহ। গেরিলা পোশাকে হাতে আধুনিক অস্ত্র। হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, লুটপাটই যেন তাদের কাজ। একে-৪৭, একে-৮১ এবং আরজেস গ্রেনেড নিয়ে তারা হামলা চালাতে দক্ষ এবং অভ্যস্ত। জাতিসংঘ মিশনে কর্মরতরা এদের আক্রমণের আশঙ্কায় বাড়তি সতর্কতায় থাকতে হয়। সুদানের পাশের কঙ্গো ও উগান্ডা। অন্যপাশে ইথিওপিয়ার সিমান্ত। গেরিলারা গভীর বনাঞ্চল দিয়ে দক্ষিণ সুদানে ঢুকে পড়ে। পুরো এলাকায় প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু হাতছানি দেয় এমন তথ্য অবগত ছিলাম। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা ২০ মিনিট। জর্ডানের পাইলট ঘোষণা দিলেন আমরা সুদানের পথে রওনা দিচ্ছি। এয়ার হোস্টেজ মিস হামিদা জাফরি সিট বেল্ট বাঁধতে অনুরোধ করলেন। এ সময় সবাই যেন তাকেই দেখছে। আমার আসনটি ছিল প্রথম দুই সারি পর তিন নম্বর রো’তে এবং বাম পাশে। সামনের দুই সারিতে সেনা অফিসাররা বসা। রাতের আকাশ দেখব ভেবে, আমি বাম পাশের জানালার পাশের সিটে বসলাম। আমার ডান পাশের সিটটি খালি। ভাবনা ছিল আলো আঁধারীর মধ্যে চাঁদ তারার খেলা দেখতে দেখতে এবং বই পড়ে ১৩ ঘণ্টা কাটিয়ে দেবো। কল্পনা-সব সময় বাস্তব হয় না। এবারো তা-ই হলো। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বোম্বে টাওয়ার টাচ করে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকে যাবে ফ্লাইটটি। সেখানে দুবাই বা শারজাহ বিমানবন্দরে অবরণ করে জ্বালানি নিয়ে আবার সুদানের পথে যাত্রা করবে। পরিকল্পনা যত না সুখের, বাস্তবে তা ঘটল না। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর সময় আকাশ ছিল চমৎকার। চাঁদ যেন কিছুটা পথ সাথেই ছিল। তারাগুলো ভাসছে দূর আকাশে। এ সময় পরিবারকে পেছনে ফেলে রেখে যাবার কথাই বেশি করে মনে পড়ছে। বিমানের ‘টেক অফ’ ভালো হলে বাকিটা পথ ভালোভাবেই যাবে এমনটাই মনে করেন পাইলটরা। কিন্তু শাহজালালে ‘টেক অফ’ খুব ভালো হলেও আধাঘণ্টা পর যে আকাশে বিপদের ঘনঘটা দেখা দেবে এমনটা কেউ ভাবতে পারেননি। বিপদ যেন সামনে এসে দাঁড়ালো। ভারতের আকাশে প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়ে যায় বিমানটি। বিদ্যুৎ চমকানির আলোতে বিমানের ভেতর আলোকিত হতে থাকলো। এক পর্যায়ে বিমানটি ঝড়ের তান্ডবে পড়ে কয়েক শ’ ফিট নিচে নেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন পাইলট। কিন্তু আবারো একই ঘটনায় বিমানের কারো দিকে আর তাকানো যাচ্ছিল না। দোয়া দরুদ পড়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। অভিজ্ঞ এয়ার হোস্টেজ হামিদা জাফরির মুখ সাদা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিনি কোথাও বসার চেষ্টা করছিলেন। তীব্র ঝাঁকুনিতে তাও পারছিলেন না। দুর্ঘটনার একবারেই সম্মুখে আমরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই রুটে আমি আসা-যাওয়ার করেছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু এ যাত্রায় যা ঘটেছে, এমনটা কখনো কল্পনাও করা যায় না। এই ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, তা কোনো ‘বাম্পিং’ নয় বা ‘এয়ারফোকেট’ও ছিল না। আমার সামনের ডান সারিতে বসা ছিলেন লে. কর্নেল তাবিব ও লে. কর্নেল সালামসহ অন্য অফিসাররা। তারা নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কথা বলছিলেন। বিমানের ঝাঁকুনিটা এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। রাতে বিমানের ভেতরে খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়ে খাবার আর তখন পেটে যাচ্ছিল না। আফ্রিকা যাত্রার শুরুতেই এ ধরনের ঘটনা ছিল ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা। ভোর রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিমানবন্দরের আকাশে আমরা। সোডিয়াম বাতির আলোয় গোটা শহর যেন নববধূর সাজে সজ্জিত। রেকর্ড বলছে, এই শহরে বিগত ১০ বছরে কোনো দিন এক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়নি। ইউএন মিশনের বিমানটি অবতরণ করে ভোর সোয়া ৫টায়। চমৎকার ল্যান্ডিং। মূল টার্মিনাল খেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিমান থেকে কেউই নামবেন না। নামার ব্যবস্থাও নেই। সামরিক বিমানগুলোকে এই নিয়ম মানতে হয়। দরজা খুলে দিলে আমরা কয়েকজন দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শারজাহ’র নির্মল রাতের আকাশ যেন মিটিমিটি হাসছে। অভিবাদনের হাসি যেন। আকাশের একপাশে চাঁদ হেলে পড়েছে। তারা ভরা রাতের আকাশ। দরজার বাইরে এসে দাঁড়াতেই মিষ্টি হাওয়া শরীর শীতল করে দিয়ে যায়। হালকা ঠাণ্ডা বাতাসের শরীর মন জুড়িয়ে যায়। মনে পড়ে যায় পেছনে ফেলে আসা বিপদের মুহূর্তটা। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে পাইলটসহ আমরা আলাপ করি। তবে বড় রকমের দুর্ঘটনার কবল থেকে যে রেহাই মিলেছে, তা সবাই বললেন। বাইরে দৃষ্টি ফেরতেই দেখা গেল দ্রুতগামী ট্রলিগুলো ছুটে চলেছে। ব্যস্ত বিমানবন্দরের কর্মীরা রাত জেগে কাজ করছেন। সেনা বহনকারী বিমান বলে কাউকে নিচে নামতে দেয়া হয়নি। প্রায় পৌনে একঘণ্টা সময় লাগলো রি-ফুয়েলিং করতে। এবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রা। বিমানটি ‘টেক অফ’ করল ভালোভাবে। আকাশে পাখা মেলে দিয়ে দিক নির্ণয় করল সোজা পশ্চিমে। সৌদি আরবকে পূর্ব দিকে রেখে পশ্চিমে ছুটে চললো বিমানটি। গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার। আকাশে ওঠার পর এবার যেন সময় আর কাটে না। বইয়ের পাতা উল্টাতে মন চায় না। আমার পাশের সারিতে বসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবু রুশদ সাহেব বই পড়তে গিয়ে মনে হলো ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাকাতেই দেখি না তিনি ঘুমাননি। চাঁদরের ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তারপর কিছুক্ষণ নীরবতা। পরে ফিসফিস করে বললেন, ‘আসলে আমরা কোথায় যাচ্ছি বলতে পারেন?’ আমি সংক্ষেপে উত্তর দিলাম আপনি কি ভয় পেয়েছেন? কোথায় যাচ্ছি পাইলট বলতে পারবেন।’ সংক্ষিপ্ত এমন কথাবার্তার মধ্যেই সময় কাটছে। আমি কিছু বললেই তিনি হাসেন। লে. কর্নেল তাবিবকে বললাম, বিমানে এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা আপনার আগে ছিল কি? তিনি চিন্তাযুক্ত মুখে বলেন, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন। আমি বললাম, আজকে এই বিমানের কোনো দুর্ঘটনা হলে বাংলাদেশের সব পত্রিকায় লিড নিউজ হয়ে যেত। লাল বড় হরফে ব্যানার হেডিং’। সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে এটি হতো সবচেয়ে ‘ভালো’ নিউজ। আমাদের কারো আর সময় কাটছে না। দীর্ঘ জার্নি তা নয়, তবে কত তাড়াতাড়ি মাটিতে গিয়ে নামবো সেটিই ছিল সবার মনের আসল কথা। শারজাহ থেকে বিমানের সব পাইলট, ক্রু, এয়ার হোস্টেজ বদলি হয়ে গেছে। নতুন টিম বিমান চালাচ্ছে। হামিদা জাফরি নেমে গেছেন শারজাহতে। অলস সময় আর অবসাদ কাটাতে কফি পান করছি। ‘আরব টাইমস’ পত্রিকার পাতায় চোখ রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু সারা পথে একবারও ঘুম পায়নি। ফ্লাইট যে দিকে যাচ্ছে, সেদিকে রাত। পেছনে সূর্যের রক্তিম আভা ঝিলিক দিয়ে উঠছে। ভোরের আলো আমাদের ধরতে পারছে না। যে দিকে ঘন অন্ধকার সেদিকে বিমানটি ছুটে চলেছে। মনে মনে ভাবছি, অন্ধকার এক আফ্রিকার দিকে যাওয়ার মধ্যে কি কোনো আনন্দ আছে। পেছনে সূর্য ওঠার অপূর্ব দৃশ্য এবং সামনে কবরের মতো ঘন অন্ধকারের মধ্যে যে মিলন রেখা তা দেখা যায়। ঘন অন্ধকারকে যেন ধাওয়া করছে সোনালি আলো। আলোকিত আকাশ নিয়ে পেছনের বিশাল পৃথিবী। সামনে শত শত মাইল অন্ধাকার। আমরা কি আসলে আফ্রিকার অন্ধকারের দিকে যাচ্ছি? আসলে আমাদের সঙ্গে আফ্রিকা সময় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে। বাংলাদেশে যখন সকাল ৬টা তখন সুদানে রাত ৩টা। সে কারণে আফ্রিকায় সকাল হয় দেরি করে। উত্তর সুদানের রাজধানী খার্তুমে এক ঘন্টার জন্য অবতরণ করে আমরা দক্ষিণ সুদানের রাজধানী ‘জুবা’য় যাচ্ছি। উত্তর সুদান থেকে বিমানে দক্ষিণ সুদান যেতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। বিমানটি যখন দক্ষিণ সুদানে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ওপর থেকে শুধু বিশাল বন এবং বিরান ভূমিই নজরে এল। ল্যান্ডিং গিয়ার ফেলার শব্দ শোনা গেলো। বিমানটি প্রথম দফায় অবতরণ না করতে পেরে আবার আকাশে উঠে যায়। বিমানবন্দরের কাছেই রয়েছে একটি পাহাড়। পুরোটাই কালো পাথরের। পাহাড়ের ওপর দিয়ে এসে রানওয়ে নির্ধারণ করার পর দেখা গেল বিমানবন্দর বলতে একটি বিশাল টিনের ঘর। কন্ট্রোল টাওয়ারটি মাথা উঁচু করে শুধু দাঁড়িয়ে। এর চেয়ে উঁচু আর কিছু গোটা এলাকায় নেই। নজরেও আসে না। চারপাশে ধুধু বিরানভূমি। গভীর জঙ্গল আর ছন বিচালিতে ঢাকা। পাইলট ঘোষণা দিলেন, আমরা এই মুহূর্তে জুবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছি।’ বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বিমানটি সুদানের মাটি স্পর্শ করল। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে রানওয়ের উত্তর পাশে গিয়ে থামল। হাঁফ ছেড়ে যেন সবাই বাঁচলেন। বিমানে থাকতেই লক্ষ্য করলাম, অসংখ্য সশস্ত্র কালো মানুষ ভারি অস্ত্র তাক করে আছেন। এমন দৃশ্য দেখে অনুমান করলাম বাকি দিনগুলো অত্যন্ত চ্যাঞ্জের মধ্য দিয়ে যাবে। পরে জানা গেল, এরা এসপিএলএ’র সদস্য। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কর্মরত সেনারা এসএএফ ও এসপিএলএ সদস্যদের একই টেবিলে আলোচনা বসিয়েছে। এটি তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিমানবন্দরের চারপাশে ঘন জঙ্গল এবং ছন খেত। দূরে তাকালে দেখা যায়, সশস্ত্র মানুষ। তখনো তাদের পরিচয় বুঝতে পারছিলাম না । দূর থেকে মাঝে মাঝেই গুলির শব্দ পাচ্ছিলাম। পরে তা নিয়মিত হয়ে যায়। বিমানে থেকেই অনুমান করলাম, আমার সামনের দিনগুলো সংবাদ হিসেবে অত্যন্ত আলোচিত এবং তাৎপর্যময় হতে পারে।

আফ্রিকার এক অন্ধকার দেশ: মৃত্যু যেখানে হাতছানি দেয় প্রতি মুহূর্তে
                                  

হাসান মাহমুদ, জাতিসংঘ শান্তি মিশন : কনকনে ঠান্ডা বাতাস। মনে হলো শীতের কাপড় না পরে ভুল করলাম। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের খোলা রানওয়েতে দাঁড়িয়ে আছি। সামনেই জর্ডানের চার্টার্ড ফ্লাইট। সময় তখন রাত পৌনে ১২টা। ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল থেকে ফোন করে আবার বিদায় নিলাম। আম্মা কান্নাকাটি করছেন। দুর্গম কোন যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছি তা ভেবেই চিন্তিত তিনি। শত পিছুটান থাকার পরও আমরা সবাই যাচ্ছি। জাতিসংঘ শান্তি মিশনের বিমানে মালামাল তোলা হচ্ছে। সেনা সদস্যরা লাইন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে বিমানে উঠছেন। সবশেষে অফিসার এবং কয়েকজন সাংবাদিক উঠবেন। তাই অপেক্ষার পালা। এই ফ্লাইটে মহিলা অফিসারও রয়েছেন। এই প্রথম মহিলা সেনা কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টার জার্নি। আমাদের গন্তব্যস্থল আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ দক্ষিণ সুদানের রাজধানী ‘জুবা’। যেখানে সব সময় ওঁৎ পেতে থাকে এলআর’র (লর্ড রেজিসটেন্স আর্মি) গেরিলারা। তারা দেখতে অত্যন্ত কালো। সুঠাম দেহ। গেরিলা পোশাকে হাতে আধুনিক অস্ত্র। হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, লুটপাটই যেন তাদের কাজ। একে-৪৭, একে-৮১ এবং আরজেস গ্রেনেড নিয়ে তারা হামলা চালাতে দক্ষ এবং অভ্যস্ত। জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত সেনাদের এদের আক্রমণের আশঙ্কায় বাড়তি সতর্কতায় থাকতে হয়। সুদানের পাশের কঙ্গো ও উগান্ডা। গেরিলারা গভীর বনাঞ্চল দিয়ে দক্ষিণ সুদানে ঢুকে পড়ে। দেশটির একপাশে কঙ্গো, উগান্ডা এবং ইথিওপিয়ার সিমান্ত। পুরো এলাকায় প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমি যাব না এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মতি দেইনি। তখন সবেমাত্র দেশে সামরিক শাসন জারি হয়েছে (২০০৭)। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মিলিটারি ইন্টিলিজেন্স-এর সিনিয়র কর্মকর্তা কর্নেল সামস আমাকে ফোন দিয়ে চায়ের দাওয়াত দিলেন। আর বললেন, সাথে ‘পাসপোর্টটা নিয়ে আসবেন।’ আমি পরদিন ক্যান্টনমেন্টে দেখা করতে গেলাম। প্রধান গেইট থেকে একজন আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন তার অফিসে। অনেকবার কথা হয়েছে তবে এই প্রথম আমাদের সাক্ষাৎ হবে আমি পাসপোর্ট না নিয়েই গেলাম দেখা করতে। প্রথম সাক্ষাতেই তিনি বললেন, ‘আপনাকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের দক্ষিণ সুদানে যাবার জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে। সময় খুব বেশি নেই। দ্রুত সকল প্রস্তুতি নিতে হবে। কয়েকটি সেশন  ক্লাস আছে। ওখানকার পরিস্থিতি বুঝিয়ে দেয়া হবে। এছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আপনার মেডিক্যাল সম্পন্ন করতে হবে। এডভান্স কিছু ভ্যাকসিন নিতে হবে। তাই মেডিক্যাল সম্পন্ন করতে হবে। এবার আপনার পাসপোর্টটা দেন।’ আমি বললা, ‘পাসপোর্ট আনা হয়নি। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমি না যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।‘ আমার কথা শুনে তিনি অবাক হলেন। চা খেতে খেতে বললেন, ‘আপনাকে যেতেই হবে। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’ এমন অবস্থায় কথা শেষ করে চলে আসলাম। পরিবার থেকে সম্মতি মিলার পর আবার যোগাযোগ হয়। তারপর যাবার পালা যুদ্ধ ক্ষেত্র দক্ষিণ সুদানে।

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ সুদান। জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলমান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এ দেশটি হতে পারত বিশ্বের ধনী দেশগুলোর একটি। ২২ বছরের গৃহযুদ্ধে সব সম্ভাবনা ছাড়খার হয়ে গেছে। দেশটির বড় অংশ জুড়ে এখনও বারুদের গন্ধ। এসপিএলএ এবং সুদান সরকারের বাহিনী এসএএফ যুদ্ধে জড়িয়ে যায় ১৯৮৩ সালে। সুদানের প্রেসিডেন্ট হাসান আল বশির সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে। তার সরকার সারাদেশের শরিয়াহ আইন জারি করে এ সময়। এর আগে দক্ষিণ সুদানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার জন্যই চলছিল যুদ্ধ। হাসান বশির ক্ষমতা নেয়ার পর যুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নেয়। দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অত্যাচার আর নির্যাতনের বিভীষিকা ছড়িয়ে দেয়া হয় উত্তর সুদানের ‘দারফুরে’। যেখানে মানুষের কান্না এখনও থামছে না। দারফুর আর দক্ষিণ সুদান নিয়ে আছে নানা খেলা। ভেতরের খবর জানাও বড় মুশকিল। লাশ, ধ্বংসযজ্ঞ আর মানবতার পরাজয়ই যেন পথে পথে জানান দিচ্ছে। সুদান যাওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকেই এক ধরনের ‘থ্রিল’ অনুভব করছিলাম। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছিলাম এসব। সুদানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সেনা সদরে আগেই আমাদের কয়েক দফা ব্রিফিং করেছেন সেনা অফিসাররা। বলে রাখা ভালো, উত্তর ও দক্ষিণ সুদান একত্রে বাংলাদেশের ১৮ গুণ বড় একটি রাষ্ট্র। কেবল দক্ষিণ সুদানই আয়তনে বাংলাদেশের পাঁচ গুণ বড়। গোটা সুদানে জনসংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি, যা বাংলাদেশে প্রায় ৪ ভাগের একভাগ মাত্র।

বিমানবন্দরে আসার জন্য প্রস্তুতি ছিল বিকাল থেকে। আর্মি অফিসার্স মেসে সাড়ে ৭টায় ডিনার শেষ হয়। পরে আমাকে নিয়ে আসা হয় বিমানবন্দরে। রাত সোয়া ৮টা থেকে আমরা ভিআইপি লাউঞ্চে বসে রয়েছি। যাবতীয় কাগজপত্র, বোর্ডিং পাস ও ইমিগ্রেশন সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছিল। রাত বাড়ছে নীরবে। প্লেন ছাড়তে আরও কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব। সেনাবাহিনীর অফিসাররা এসেছেন সহকর্মীদের বিদায় জানাতে। একবছরের জন্য চ্যালেঞ্জিং পেশায় যচ্ছেন তারা। দেশের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরে মিলাদ পড়ানো হলো। কোলাকুলির পর অনেকের চোখ অশ্রুসজল। জাতিসংঘ মিশনে যারা যাচ্ছেন, তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা কান্নাকাটি করছেন। এ দৃশ্য দেখে আমার মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল, নিজের পরিবার-পরিজন রেখে দুর্গম অজানা দেশে যাচ্ছি। আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানে প্রতিদিন গোলাগুলি হচ্ছে। গ্রেনেড ফুটছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। এন্টি পার্সোনাল মাইন বিস্ফোরণ হচ্ছে। তারপরও গোটা দেশে চলছে যুদ্ধাবস্থা। প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া চলছে। কাঁধে একে-৪৭ ঝুলিযে ঘুরে বেড়াচ্ছে যুবকরা। এসব চিত্র আগেই পেয়েছিলাম।

ফ্ল্যাশব্যাক
আফ্রিকা দেখতে যেতে হলে শারীরিক শক্তি ও সামর্থ দুটোই থাকা প্রয়োজন। আমার কোনোটাই ছিল না। ছিল শুধু মনোবল। ২০ কেজি ওজনের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেজ পরে চলাফেরা করা। সেনা জিপে উঁচু-নিচু রাস্তায় ৭০-৮০ কিলোমিটার যাত্রা করা। মাথায় দুই কেজি ওজনের বুলেটপ্রুফ হেলমেট লাগিয়ে রাখা। মাইন ফিল্ডে তীব্র গরমেও বুলেটপ্রুফ পোশাক পরা। সশস্ত্র গেরিলাদের অ্যাম্বুশ মোকাবেলা করা। মনের জোড়েই যেন সবকিছুতেই এগিয়ে ছিলাম। পূর্বপ্রস্তুতি রাখার অভ্যাস ছিল। আমার চেয়ে সুঠামদেহী অনেকে কাবু হয়ে পড়েছেন প্রতিকূল পরিবেশে। দিনের তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরে মনে হতো সূর্য যেন নিচে নেমে এসেছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে তা আরো বাড়ে। জাতিসংঘ সুদান মিশনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়ার পর বিনয়ের সাথে ‘না’ বলেছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত তা ‘হ্যাঁ’ সূচক হয়ে যায়। অবশেষে যাত্রা। একই ফ্লাইটে যাচ্ছেন ১৫২ জন সৈনিক ও অফিসার। যাওয়ার পাঁচ দিন আগে ‘কর্তব্যকালীন’ ছুটির জন্য অফিসে আবেদন করলাম। সহকর্মীদের কেউ কেউ ভয় দেখালেন আফ্রিকার নানা ঘটনা বলে। তারপরও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি। মনের ভেতরে কালো মানুষের দেশ দেখার অদম্য ইচ্ছা। সেনা সদরে ব্রিফিংকালে সুদানের যাবতীয় চিত্র তুলে ধরা হয়। লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয় তিনি আফ্রিকা সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। তার দেখা এবং অভিজ্ঞতাও বিস্তর। ২য় দিন ব্রিফিং শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন পরীক্ষা এবং পূর্ব সতর্কতামূলক কয়েকটি ভেকসিন দেয়ার আয়োজন ছিল। যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধমূলক ওষুধ খেতে দেয়া হয়, যা ফিরে আসার পরও অব্যাহত থাকে তিন মাস। সেনাসদর থেকে সুদান সম্পর্কে জানার জন্য পুস্তকসহ পরিবেশন করা হয় নানা তথ্য-উপাত্ত। শুরু হলো পড়াশোনা। ইন্টারনেট সার্চ। আফ্রিকার বিশাল দেশ ‘সুদান’ ভেসে আসে চোখের সামনে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কেমন হয় তা জানা যাবে চার্টার্ড ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার পর।

দেশে দেশে মেয়ে শিশু পাচার ও বিশ্ব গণমাধ্যমের দায়
                                  

হাসান মাহমুদ, বিশ্ব গণমাধ্যম : সুদান সেন্ট্রাল আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ। আয়তনের দিক দিয়ে গোটা ভারতের চেয়েও বড়। মূল সুদানের বিশাল এক অংশ দক্ষিণ সুদান। রাজধানী হচ্ছে ‘জুবা’। ২০ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। তাতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নারীদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনিয়। বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা পাচারের শিকার হচ্ছে অহরহ। কোন কোন গেরিলা গ্রুপ মানুষকে কেটে খেয়ে ফেলে। গেরিলাযুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল সালবাখির। তিনি ক্যাম্পের বাইরে বের হলে গোটা শহরে কোন যানবাহন চলাচল করে না। থমকে দাঁড়ায় সবকিছু। কারণ সালবাখির ‘মুভ’ করছেন। কঠিন এক নিরাপত্তা বলয় থাকে তাকে ঘিরে। সেই মানুষটার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্যই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বুলেটপ্রুফ আর্ম পার্সোনাল ক্যারিয়ার বা এপিসি’তে করে ‘ইয়ামবিও’ প্রদেশের সিমান্ত এলাকায় গেলাম। আমার শরীরে ২০ কেজির বেশি ওজনের বুলেটপ্রুফ জেকেট। মাথায় ভারি নীল রঙের হেলমেট। তাতে সাদা কালিতে লেখা ‘ইউএন’। সঙ্গি হয়েছেন জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কানাডা, ইউএসএ এবং বাংলাদেশি এরিয়া কমান্ডার ও সৈনিকদের ৩০ জনের একটি দল। কর্ণেল ইমাদ (২০২০-তে এখন কুয়েত মিশনে কর্মরত) দলনেতা। হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি প্রতি মুহূর্তে সবাইকে রাখতে হয় এখানে। কারণ যে কোন সময় ভারি গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যেতে হতে পারে। ইয়ামবিও প্রদেশের একপাশে ইথিওপিয়া অন্য পাশে কঙ্গো সিমান্ত। পাশের দেশ কঙ্গো ও উগান্ডা থেকে আসা ‘এলআরএ’ গেরিলারা হামলা চালায় দক্ষিণ সুদানে। ভয়ঙ্কর তাদের কর্মকান্ড। ‘ইয়ামবিও’ দক্ষিণ সুদানের সিমান্ত প্রদেশ। ইয়ামবিও’র গভর্ণরের পিএস মি: ফিলিপের সঙ্গে অল্প দিনেই আমার সখ্যতা হয়ে যায়। ৩০ বছর বয়সের স্মার্ট যুবক। গায়ের রঙ মিশমিশে কালো। গৃহযুদ্ধ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য তার জানা। সময়টা ২০০৭ সাল। যুদ্ধের দামামায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা। কানপাতলেই অবিরাম গুলির শব্দ। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ান ল্যান্ড মাইন পুতে রাখা আছে। মাইন ফুটে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। শুধু কি মানুষ! গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিশের পাল ল্যান্ড মাইনে পা দিলেই ছিন্নবিন্ন অবস্থা। দেশটির পথে পথে এমন দৃশের অভাব নেই। সেই দেশটি থেকে সিমান্ত দিয়ে অবাধে শিশু পাচারের ঘটনা ছিলো অত্যন্ত উদ্বেগের। বিশেষ করে মেয়ে শিশু পাচারের ঘটনা। আন্তর্জাতিক পাচার সিন্ডিকেটের সদস্যরা এসব ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই ঘটনাগুলো যে কোন মানুষকেই ব্যথিত করে। কারণ এই মেয়ে শিশুরা বহু টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। একই অবস্থার সম্মুক্ষিণ হলাম জার্মানি সিমান্তে। সাধারণ সিরিয়রা গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে গিয়ে জার্মানির সিমান্ত পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢুকার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু এক রাতেই ৫ শতাধিক মেয়ে শিশুর সন্ধান তাদের পরিবার আর পায়নি। সন্তানদের হারিয়ে হাহাকার একেকটি পরিবারে। সিরিয় মেয়ে শিশুরা অত্যন্ত সুন্দর হয়ে থাকে। তাদের গন্তব্য কোথায় তা কারো জানা থাকে না। হাত বদল হতে হতে তারা অন্য কোন লোকালয় বা দেশে চলে যায়। তেমনি ঘটনা ঘটলো মিয়ানমারের সৈন্যদের নির্যাতনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবারে। মিয়ানমারের পৈশাচিক অত্যাচারে রোহিঙ্গারা দল বেধে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালের ঘটনায় বিস্ময় তখন গোটা দেশ এবং বিশ্ব। চার লাখ শিশু সিমান্ত পাড়ি দিয়েছিলো তখন। একজন শিশুর মা আমাকে বলেছিলেন, তার ১১ বছর বয়সি মেয়েটাকে আনা সম্ভব হয়নি। কারণ ঘাটে আসার পর নদী পারাপারের টাকা ছিলো না। মাঝি বললো, তোমার মেয়েকে রেখে যাও। পাষাণ মা মেয়েকে রেখে পরিবারের অন্যদের নিয়ে রাতের আঁধারে নাফ নদী পারি দিয়ে টেকনাফে পৌঁছে যায়। তারপর থেকে মেয়ের জন্য তার মন পুড়তে শুরু করে। নওয়া খাওয়া ছেড়ে দেন। কত রোহিঙ্গা মেয়ে শিশু পাচার হয়েছে তার কোন বাস্তব হিসেব কারো কাছে নাই। আন্তর্জাতিক পাচারচক্র সক্রিয় ছিলো তা নিয়ে মিডিয়ায় অনেক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ‘ইউএনএইচসিআর’ তথ্য বলছে, নারী শিশু পাচারের অনেক কেইস তাদের হাতে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিশাল একটা অংশ শিশু। তা প্রায় ৪ লাখ। তাদের বিরাট একটা অংশ মেয়ে শিশু। এভাবেই মেয়ে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায়।
মেয়ে শিশু পাচারের মতো ঘটনার ওপর প্রকাশিত একটি রিপোর্ট দেখতে দেখতে মনে ভেসে উঠলো এসব। নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটনের বাৎসরিক অ্যাওয়ার্ড ডিনার প্রোগামে দেশটির সেরা মেধাবী সাংবাদিকরা সমবেত হয়েছেন। সময়টা ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস। প্রতিবছর আমেরিকার গণমাধ্যমে বৎসরের সেরা কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হয় সেরা সাংবাদিক, সেরা ফটো জার্নালিস্ট এবং সেরা কার্টুনিস্টকে। একই টেবিলে বসেছিলাম প্রভাবশালি সংবাদ সংস্থা ‘দ্য এসোসিয়েটেড প্রেস-এপি’ সাংবাদিক কেরিবিলানো ব্রেইন , ‘ব্লুমবার্গ’-এর কার্ভেলি অলিভিয়া, ‘দ্য লসএঞ্জেলেস টাইমস’-এর বারবারা ডেমিক, রয়টার্স-এর ইলসওয়ার্থ ব্রায়ার্ন, নিউইয়র্ক টাইমস-এর মিখাইল ফ্রস্টটি, চাড বাওচার্ড। মাঝে মাঝে এসে ঘুরে যাচ্ছেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের চেয়ারপার্সন, সিএনএন-এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব মিস সারা লুবম্যান। আমার কাছে আস্তে করে জানতে চাইলেন, নিউইয়র্কে তোমার কোন সমস্যা হচ্ছে না তো? আগের পর্বে বলেছিলাম সারা লুবম্যানের সঙ্গে কিভাবে নিউইয়র্ক টাইমস-এর ডেপুটি এডিটর প্যাট্রেসিয়া ক্র্যাঞ্জ আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমেরিকার মূল ধারার মিডিয়ায় সাংবাদিক মহলে মিস সারা এবং প্যাট্রেসিয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তারা। বহুবার নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিকদের ভোটে। প্রতিবেদনটি শেষ হতেই মঞ্চে উঠলেন প্রভাবশালি পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর নির্বাহি সম্পাদক মি: মার্টিন ব্যারেন। পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা। সর্বমহলে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। অনুষ্ঠানে ‘কী নোট’ পাঠ করলেন মি: ব্যারেন। আন্তর্জাতিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে বিশাল এক প্রতিবেদন। তারপর শুরু হলো পুরস্কারের পালা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে নোমিনেশন পেয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে মেয়ে শিশু পাচারের ঘটনার রিপোর্টগুলো সর্বাধিক ভোটে পুরস্কৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া মেয়ে শিশু পাচার প্রতিরোধের ওপর জোর দিলেও বিভিন্ন দেশে তা উপেক্ষিত। এমনি আমাদের দেশেও। এখনো দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া এবং রোহিঙ্গাদের ঘিরে আছে আন্তর্জাতিক পাচার চক্র। তারা মেয়ে শিশুদের জীবন বিপন্ন করার জন্য দায়ি।

‘মুজিব অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত ইউএস বাংলার কামরুল ইসলাম
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে বেসরকারী এভিয়েশন সেক্টরে প্রধান কারিগর হিসেবে দেখা হয় কামরুল ইসলামকে। সফলতাই যেন তার শেষ গন্তব্য। এই সেক্টরে বিশেষ অবদান রাখায় “মুজিব শতবর্ষে মুজিব অ্যাওয়ার্ড-২০২০”-এ ভূষিত হয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পিআর) মো: কামরুল ইসলাম। রাজধানীর একটি হোটেলে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাউন্ডেশন ও মাদার তেরেসা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে তাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখৎ। এছাড়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা লায়ন মোঃ মাসুদুর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। মিডিয়া বান্ধন কামরুল ইসলাম বাংলাদেশের এভিয়েশন জগতে ২৩ বছর ধরে অনবদ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর জিএমজি এয়ারলাইন্সে জুনিয়র অফিসার-মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পাবলিক রিলেশনস্ এ যোগদানের মাধ্যমে এভিয়েশন সেক্টরে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ পথচলায় কাজ করেছেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে। বাংলাদেশের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি বিশেষ করে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের উত্থান-পতনসহ অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে তার। চলার পথে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতার ও সম্মুখীন হয়েছেন বহুবার। এভিয়েশন জনসংযোগে ফ্যাটাল এক্সিডেন্টের পিআর করা সবচেয়ে কঠিনতম অভিজ্ঞতা। কর্মচারী অসন্তোষ, মালিকানার দ্বন্দের জন্য এয়ারলাইন্স কোম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রমের মতো নানা অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চলার পথে যাদের সহযোগিতা না পেলে পাবলিক রিলেশনস্ এ কাজ করা সম্ভব হতো না- সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের সকল মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে, যাদের সাথে আমার আত্নার সম্পর্ক। আমার এভিয়েশন সেক্টরের সকল সহকর্মী, আমার ভালোলাগার কেন্দ্রবিন্দু শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল শুভাকাঙ্খী, বন্ধু-বান্ধবসহ আমার পরিবারের সহযোগিতা না পেলে হয়তো সময় না মেনে কাজ করা অসম্ভব হতো, সেটাও আবার ২২ বছর। তিনি আরো বলেন, চলার পথে বাংলাদেশ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজকে কতটুকু দিতে পেরেছি আমি জানি না কিন্তু দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছি শতভাগ। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিনগুলোতে চলতে চাই। চাই সকলের দোয়া আর পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বানিজ্যিক বিভাগ কতৃর্ক অংশীজন সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা,নিরাপত্তা জোরদারসহ নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহা-ব্যবস্থাপক (পূর্ব) (অ:দা:) সরদার সাহাদাত আলী। প্রধান অতিথি বলেন, যাত্রীদের যে সকল সমস্যা, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে সকলকে পারস্পরিক ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে সুধী সমাজকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো: সুবক্তগীণ, প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী জনাব এফএম মহিউদ্দিন, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তারেক মোহাম্মদ সামস তুষার, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান সহ পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তা, নিয়মিত যাত্রী প্রতিনিধি, সূধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদীর করোনাজয়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন
                                  

এম.এ আউয়াল, নরসিংদী : জনবান্ধব এবং মানবিক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ২০১৮ সালের ১১ মার্চ নরসিংদী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাজয়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন নরসিংদী জেলায় দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সর্বস্তরের লোকজনের সাথে মিশে সবার সহযোগিতায় নরসিংদী জেলাকে একটি ডিজিটাল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহন করে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি নরসিংদী জেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শতভাগ লকডাউন কার্যকর করেন। এমনকি করোনার প্রার্দুভাবের জন্য খেঁটে খাওয়া কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে; বিষয়টি অনুধাবনের পর তিনি নিজ উদ্যোগে লকডাউন বিদ্যমান থাকাকালীন সময়ে ২০ হাজারের ও বেশী কর্মহীন গরীব মানুষের বাড়ীতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
এছাড়া জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত পেশাদারীত্বের সাথে শতভাগ আন্তরিকতার মাধ্যমে লকডাউন কর্মসূচি পরিচালনা, বিদেশ ও অন্যান্য জেলা শহর থেকে আগত মানুষকে হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত, জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্যবিধি সম্বলিত ১০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, বেশ কয়েকবার মাইকিং, করোনা সংক্রমণ হওয়ার পদ্ধতি ও প্রতিরোধ বিষয়ে ফেস্টুন, ব্যানার প্রদর্শণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা হ্যান্ডবিল আকারে প্রচার, অসচেতন কর্মজীবি জনসাধারণের মধ্যে ফ্রি প্রায় ২০ হাজার মাস্ক ও ১০ হাজার পিপিই বিতরণ, জেলা প্রশাসনের সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও শরীরে এন্ট্রিবডি তৈরী করতে পুষ্টিকর খাদ্য ও ঔষধ প্রদান, সরকার ঘোষিত রেড জোন এলাকায় প্রবেশ ও বাহির পথে লকডাউন এবং উক্ত এলাকার ম্যাপ ও ব্যানার প্রদর্শন, করোনা উপর্সগ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী মানুষের দাফনে সরাসরি সহায়তা ও নিরাপদ সৎকার কাজের সরঞ্জামাদি সরবরাহ বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। যার প্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলায় মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
মহামারী করোনা প্রতিরোধের যুদ্ধে শুরু থেকেই নরসিংদীতে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর দিকনির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘অগ্র সেনানী’র ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লক ডাউনের পর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনে যাত্রী সেবা তদারকি অব্যাহত রেখেছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসন।
একই সাথে চালিয়েছেন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণ ক্যাম্পেইন। বলা যায়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনীতিবিদদের সাথে পাল্লা দিয়েই বিভিন্নমুখী কার্যক্রম চালিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ করছেন ত্রাণ সামগ্রী। হট লাইনে ফোন দিলেই মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত অভুক্ত মানুষের ঘরে পৌছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী। রমজান মাসে এতিম, প্রতিবন্ধী, ভাসমান ও ছিন্নমূল অনাহারী মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন ইফতার। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। ডাক্তারদের সাথে নিয়ে তৈরী ভ্রাম্যমান টিম অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়ী বহর স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন এলাকা থেকে এলাকায়।
শুধু তাই নয়, করোনার ছোবল থেকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ষা করতে তার কার্যালয়ে জীবাণুনাশক ট্যানেল বসানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে একাধিক মৃত: ব্যক্তির লাশ দাফনে এলাকাবাসী ভয় পেলেও জেলা প্রশাসনের লোকেরা স্বমহিমায় এসব লাশের দাফন সম্পন্ন করছেন।
করোনার দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষকে সর্বাধিক সেবা প্রদান করে আলোচনায় এখন জেলা প্রশাসক। তাই সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা। সর্বশেষ লকডাউন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকান্ড আলোচনার সম্মুখ ভাগে চলে আসেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এছাড়া করোনাকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসক এখানকার অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে দুই হাজার দুইশত বিশ মেট্রিকটন চাল, এক কোটি একুশ লাখ পচাশি হাজার নগদ টাকা, ৩৪ লাখ টাকার শিশু খাদ্য, সাতচল্লিশ হাজার দুইশত নিরানব্বই মেট্রিকটন ওএমএস এর খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৩টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেন। এতে করে মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৮টি পরিবার উপকৃত হয়। অতিসম্প্রতি নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের নির্দেশে নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শাহ আলম মিয়া স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের বেদখলে থাকা প্রায় ২১ একর খাস জমি, যার আনুমানিক মূল্য ১১০ কোটি টাকা বেদখলমুক্ত করেছেন।
তিনি যোগদানের পরপরই নরসিংদী জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা কর্ণার স্থাপন করেছেন। যার ফলে কোমলমতি শিশুরা ছোটকাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধা সর্ম্পকে সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। তিনি বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির জন্য কর্মসংস্থান নরসিংদী নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার ৫ শতাধিক বেকার ছেলে-মেয়েকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জনপ্রশাসন পদক এবং ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসকের পদক লাভ করেন।
এছাড়া নরসিংদী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মুখে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় একটি জয় বাংলা চত্ত্বর নির্মাণ করেছেন। গত ৯ মার্চ তিনি নরসিংদী জেলার ৭৭টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কষ্টলাগবে “ছায়া পরশের” উদ্বোধন করেছেন। যারফলে এখন থেকে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আর বৃষ্টিতে কিংবা রৌদ্রে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবেনা। এসকল কর্মকান্ডে ভালবাসার বহি:প্রকাশ মনে করছেন নরসিংদীবাসী। এসকল কর্মকান্ড ছাড়াও নরসিংদীতে অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন।
নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শাখায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহরুখ খান জানিয়েছেন, নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন স্যার এর সুদক্ষ নির্দেশনায় জেলার ৬টি উপজেলায় সকল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ করোনা সংকট মোকাবেলায় ও লকডাউন নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করেছেন। পাশা-পাশি অসহায়দের খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও মাক্স বিতরণসহ সকল ধরনের কাজ করেছেন। এক কথায় মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমাদের জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। স্যার এর মত একজন জনবান্ধব জেলা প্রশাসক কাছে পেয়ে নরসিংদীবাসী আজ গর্বিত।


   Page 1 of 5
     চলতি পথে
দুই পরিবারের মানবেতর জীবন
.............................................................................................
সিলেটে ৪ স্তরে গ্যাসের সন্ধান
.............................................................................................
তাড়াশে ডালের বড়িতে জীবিকা
.............................................................................................
বকশীগঞ্জে ছাপরায় থাকা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন প্রকৌশলী
.............................................................................................
হাঁস পালণ করে স্বাবলম্বি হাসান, বছরে আয় ৪ লাখ টাকা
.............................................................................................
এখনও স্বীকৃতি পেলেন না মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী
.............................................................................................
প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান
.............................................................................................
ফটো সাংবাদিক কাজল দীর্ঘ নয় মাস পর বাড়ি ফিরলেন
.............................................................................................
টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
.............................................................................................
করোনায় একদিনে ২৫ মৃত্যু, তাদের ১৭ জন পুরুষ
.............................................................................................
গুলির শব্দ শুনে ঘুমাতে যাই আবার গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে
.............................................................................................
আফ্রিকার এক অন্ধকার দেশ: মৃত্যু যেখানে হাতছানি দেয় প্রতি মুহূর্তে
.............................................................................................
দেশে দেশে মেয়ে শিশু পাচার ও বিশ্ব গণমাধ্যমের দায়
.............................................................................................
‘মুজিব অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত ইউএস বাংলার কামরুল ইসলাম
.............................................................................................
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদীর করোনাজয়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন
.............................................................................................
বান্দরবানে কৃষিপ্রেমী দোলন
.............................................................................................
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার
.............................................................................................
মোংলায় নৌবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
.............................................................................................
বালিয়াকান্দি ব্লাড ডোনার্স এ্যাসোসিয়েশনের ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং
.............................................................................................
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমান অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ
.............................................................................................
কক্সবাজার ইন্সটিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরীর উন্নয়নে ফিরছে গতি
.............................................................................................
মাগুরায় আনসার ভিডিপিদের মাঝে সাইকেল বিতরণ
.............................................................................................
পাখির অভয়রাণ্য নতুন চর
.............................................................................................
নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন আ’লীগ নেতা
.............................................................................................
অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না এক মুক্তিযোদ্ধার
.............................................................................................
২০ বছর শিকলে বাঁধা
.............................................................................................
এ্যাডভোকেট ও জননেতা এম. আব্দুর রহিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা
.............................................................................................
মাদকে জিরো টলারেন্সের অগ্রযাত্রায় রাজশাহী মতিহার থানার ওসি সিদ্দিক
.............................................................................................
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জাতীয় রবীন্দ্র্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান
.............................................................................................
বগুড়ায় প্রকৌশলীদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
.............................................................................................
বিশ্বনাথে যুক্তরাজ্য ফেরৎ অভিবাসীকে এক লাখ টাকার চেক তুলে দিলেন ইউএন
.............................................................................................
কালিয়াকৈরের একজন সফল যুব সংগঠক মো. সেলিম রানা
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ
.............................................................................................
ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনকে পাকা বাসগৃহ ও দোকানের চাবি হস্তান্তর
.............................................................................................
মোহনগঞ্জে উদিয়মান নেতৃত্বে শীর্ষে তোফায়েল আহমেদ
.............................................................................................
বীরগঞ্জে গাছ লাগিয়ে নিজেই পরিচর্যা করেন ইউএনও
.............................................................................................
বগুড়ায় বিএনপি নেতা ভিপি সাইফুলের ইদ সামগ্রী বিতরন
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকসহ নতুন ৫২ জন করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
পঞ্চগড়ে এমকেপি’র ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
.............................................................................................
কোরবানীর অর্থ নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়ালেন দিপু ও টিপু
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে বন্যাকবলিত অসহায় পরিবারের মাঝে ইএসডিও’র সহায়তা প্রদান
.............................................................................................
সরিষাবাড়ীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
.............................................................................................
শিবপুরে মানবতার সেবায় আ’লীগ নেতা রাখিল
.............................................................................................
বাড়ির আঙিনায় কমপক্ষে দুটি করে গাছ লাগানোর আহবান এমপি টুসি’র
.............................................................................................
নবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন
.............................................................................................
যমুনা নদীর বাঁধের ভাঙ্গণ রোধে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী
.............................................................................................
ফরিদপুর ডিসির আন্তরিকতায় করোনা আক্রান্ত ডাক্তারকে ঢাকায় প্রেরণ
.............................................................................................
১০ বছর যাবৎ শিকল বন্দি জীবন মো. শুকুম চৌকিদার
.............................................................................................
বাঁচতে চায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর আমিনুল
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop