১৭ জিলক্বদ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ২৪ ঘন্টায় মৃত ৪৬, শনাক্ত ৩৪৮৯   > কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ হারাবেন পাপুল: প্রধানমন্ত্রী   > টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করলো নৌবাহিনী   > করোনাকালে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়তে দেয়া যাবে না: এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল   > আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরতদের মধ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমন   > কাঁঠালিয়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন   > টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী পালন   > বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার   > ভালুকায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি   > সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষ, যুবলীগ সাধারন সম্পাদকসহ আহত অন্তত ৩০  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ফ্রন্টলাইনার্স ইউএনও দম্পতিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসেবায়

মহিউদ্দিন তুষার: চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা জারি করার পর ২১শে জানুয়ারি থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা নাগরিকদের স্ক্রিনিং শুরু করে। এরপর (৭ই ফেব্রুয়ারি) থেকে বাংলাদেশে যেকোনো পথে এবং প্রতিটি দেশ থেকে আসা সব যাত্রী স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়। দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সারা দেশের মানুষের মধ্যে করোনা সচেতনতায়, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, ত্রাণ বিতরণ, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দরিদ্রদের তালিকা তৈরি, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের দাফন-কাফনসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্নভাবে এসব কাজ করতে গিয়ে নিজেরাও করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এ পর্যন্ত ২১১ জনের বেশি কর্মকর্তা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকই মাঠ প্রশাসনে চাকরি করছেন। করোনায় মারা গেছেন বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে ১১ জন কর্মকর্তা। এই কঠিন সময়ে প্রশাসন ক্যাডারে অনেক ইউএনও দম্পতি রয়েছেন যারা বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী আপনজন সবাইকে দূরে রেখে যে যার কর্মস্থলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মাহাবুর রহমান শেখ/তাসলিমা আলী দম্পতি:
মো: মাহাবুর রহমান শেখ শরীয়তপুর সদর (পালং) উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তার স্ত্রী মোসাঃ তাসলিমা আলী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দু`জনই ২৯ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দু`জনকে আলাদা কর্মস্থলে থাকতে হয়। তবে প্রতিটি দম্পতির ক্ষেত্রে একজনের বিপদে অন্যজনের পাশে থেকে বিপদে সাহস যোগাতে হয়। কিন্তু মাহাবুব রহমান শেখ দম্পতির জীবনে তা হয়ে উঠেনি। ইচ্ছে থাকা সত্বেও দায়িত্ব আর দেশের এমন পরিস্থিতিতে এক সাথে থাকা হয়ে উঠছে না তাদের।

মো: মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন কঠিন একটি সময় পার করছি আমরা। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এই দেশে করোনার মত মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখা সত্যিই কঠিন কাজ। মহামারির শুরু থেকেই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর এই কাজ করতে পারাটাই আমাদের ভালো লাগা। মানুষের ভালোর মধ্যই নিজের পরিবারের ভালো থাকাটা খুজে পান বলে জানান তিনি।

মোসাঃ তাসলিমা আলী বলেন, প্রথমে বলবো আমরা দু`জন দুপ্রান্তে কাজ করলেও আমাদের মধ্যে প্রতি মূহুর্তে যোগাযোগ হয়। বেশি যোগাযোগ হবারও একটা কারনও রয়েছে। যেহেতু দু`জনই একই পদে এবং একই কাজ করি সেক্ষেত্রে কাজের পরামর্শের জন্যই অনেক বেশি কথা বলা হয়। খুব কম দম্পতির এই সুযোগ আছে যারা একই পদে থেকে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পায়। সে দিক থেকে বলবো আমরা ভাগ্যবান। আমরা এটাই মনে করি দেশের জন্য কাজ করছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন সবাই দেশের জন্য কাজ করেছেন। এখন আমার মনে হয় এই করোনা যুদ্ধে পরাজিত করতে কাজ করছি। এটা আমাদের জন্য একটা বড় শক্তি। কাজ করাটা আমাদের জন্য ভালো লাগার যায়গা।

শাহিন রেজা/উম্মুল বানীন দ্যুতি দম্পতি:
মো: শাহনি রেজা রাজশাহী বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার স্ত্রী উম্মুল বানীন দ্যুতি নাটোর লালপুর উপজলো নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বরত আছেন। তারা দু`জন ৩০ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার। উম্মুল বানীন দ্যুতি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করেন। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনি উপজেলায় ব্যাপক সুমান অর্জন করেন। মো: শাহিন রেজা নিজের দক্ষতা দিয়ে করোনাকালীন এই সময়ে বাঘা উপজেলার মানুষকে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, মানুষকে সচেতন করা, বাড়ি-বাড়ি ত্রাণ পৌছে দেওয়া সব কিছুই করছেন নিজের দক্ষতা দিয়ে।

তিনি বলেন, সত্যিই করোনার এই সময় পরিবারের পাশে থাকতে না পারাটা এক অন্য রকম বেঁদনা। তবে সরকার আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন যত কষ্টই হোক না কেন এই দায়িত্ব আমরা হাঁসি মুখে পালন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি উপজেলার প্রতিটি সদস্যই আমার পরিবারের একজন!। তারা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। তাদের নিয়েই আমাদের ভালো থাকতে হয়।

উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, কাজ করা এটা আমাদের দায়িত্ব। দেশের এই ক্রান্তিকালে মানুষের জন্য কাজ করতে পারছি এটা অনেক বড় পাওয়া। তবে চার বছরের ছেলে এই সময় না পায় তার মাকে না পায় তার বাবাকে। আমাদের নিয়ে পরিবারের সবাই চিন্তায় থাকে। তার পরেও নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষদের ভালো রাখার জন্য। আশা করি খুব শীঘ্রই নতুন আলো আসবে।

পিজুস চন্দ্র দে/ শুভ্রা দাস দম্পতি:
পিজুস চন্দ্র দে বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার। শুভ্রা দাস একই জেলার মুলাদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার। দু`জনই করোনায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে পিজুস চন্দ্র দে পরে শুভ্রা দাস। পিজুস চন্দ্র দে করোনায় সুস্থ্য হলেও এখনও অসুস্থ্য তার স্ত্রী। তাদের সাথে থাকা মা এবং ১৩ বছরের ভাতিজাসহ পরিবারের আরও ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়।

শুভ্রা দাস বলেন, সরকারি চাকরির কারনে সব সময়ই দু`জনকে দুই স্টশনে থাকতে হয়। দু`জনই চিন্তায় থাকি কে কেমন আছে। সে ভাবে আমি সেফটি নিয়ে চলি কিনা। আমি ভাবি সে সেফটি নিয়ে চলে কিনা। কেউ কারো পাশেনেই। এই অবস্থায় শুধু আমরা দু`জন না আমাদের পরিবারের লোকজনও আমাদের নিয়ে চিন্তায় থাকেন। প্রথম সে (পিজুস চন্দ্র দে) করোনায় আক্রান্ত হয়। চিন্তায় ছিলাম। বর্তমানে সে ভালো আছেন। বেশ কয়েকদিন হলো আমি নিজেও করোনায় আক্রায় হই। সাথে আমার পরিবারের আর ৫ জন। দেশবাসীসহ আমরা সবাই একটা কঠিন সময় পার করছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

পিজুস চন্দ্র দে বলেন, একদিক থেকে বলতে গেলে এটা আমাদের দায়িত্ব। নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করছি। তার পরে বলবো আমরাও আর ৮/১০ সাধারণ মানুষের মত মানুষ। দু`জনই দুই প্রান্তে মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আসলে এটা বলে বুঝানোর মত ভাষা না। দিন শেষে এটাই মনে করি দেশের জন্য কাজ করছি।

শামীমুর রহমান/ ইফ্ফাত জাহান দম্পতি:
মোঃ শামীমুর রহমান সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার সহধর্মনী ইফফাত জাহান পাশের তারাশ উপজেলার দায়িত্বে আছেন। শামীমুর রহমান বলেন, আমরা যারা এডমিন ক্যাডারে কাজ করি স্বাভাবিক সময় কাজ করতে গেলেই আমরা পরিবার থেকে বেশিরভাগ সময় বঞ্চিত হই। কাজ করতে গিয়ে ভুলেই যাই যে আমাদেরও পরিবার আছে। করোনা মহামারির এই সময় যখন দিন শেষে কাজ করে বাড়ি যাই তখন পরিবারকে সময় দেয়া তো হচ্ছেই না বরং পরিবারকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে দেই। ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলা বের হচ্ছি সারাদিন কাজ করলে দেখা যায় আমাদের সংস্পর্শে প্রতিদিন গড়ে ১৫০০-২০০০ লোক আসছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রশাসনীক কাজ করতে হয়। বাড়ি ফিরে যখন ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের কোলে নিতে যাই তখন মনের মধ্যে এক অজানা ভয় কাজ করে। এর চেয়ে বড় কথা হলো এই কাজগুলো যদি আমি একা করতাম তবে কথা ছিলো যখন দম্পতি মিলে একই কাজ করছি তখন সন্তান এবং পরিবারের জন্য অনেক ঝুঁকি রয়ে যায়। দিন শেষে যখন ভাবি দেশের জন্য কাজ করছি তখন সব কিছু ভুলে যাই।

ইফ্ফাত জাহান বলেন, প্রশাসনের কাজ মানেই দেশ ও জনগনের জন্য। যে কোন সময় যে কোন ধরনের কাজ আসে তা আমাদের করতে হয়। একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপজেলার প্রতিটি কাজ তাকে দেখতে হয়। সব সময় কাজ করলেও করোনাকালীন এই সময় মাথায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয়। প্রথম দিকে যদিও করোনা রোগীর সংখ্যা কম ছিলো তবে মানুষের মধ্যে একটা ভয় ছিলো। এখন করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি তবে মানুষের মধ্যে ভয় কম। শুরু থেকেই আমরা ভয়কে সঙ্গী করে মাঠ প্রর্যায়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সাড়ে সাত মাসের ছোট বাবুকে ঘরে রেখে বের হতাম। বড় ছেলেটার বয়স ৩ বছর সাত মাস। আমি জানি না মার্চ এবং এপ্রিল মাস আমার বাবু দুইটা কেমন ছিলো! সারাদিন বাহিরে থাকার পর রাতে ঘরে ফিরে গোছল করে পরে ছোট বাবুটা কোলে নিতাম। বাবুটার দিকে তাকাতে পারতাম না! যখন অন্য ডিপাটমেন্টের কর্মকর্তারা হোম কোয়ারাইন্টে ছিলো তখন আমরা, পুলিশ বাহিনী, আনসার, গ্রাম পুলিশ মাঠে দিন রাত কাজ করেছি।

সত্যজিত রায় দাশ/ স্নিগ্ধা তালুকদার দম্পতি:
সত্যজিত রায় দাশ হবিগঞ্জ চুনারঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার। স্নিগ্ধা তালুকদার একই জেলার বাহুবল উপজেলার দায়িত্বে আছেন। তারা করোনাকালীন সময়টা দেশের জন্য নিজেদের কাজ করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। স্নিগ্ধা তালুকদার বলেন, যেহেতু আমরা দু`জনই এডমিন ক্যাডারে চাকরি করি কাজ করা এটা আমাদের দায়িত্ব। আমি মনে করি করোনাকালীন এই সময়ের মত দেশ সেবা করার সুযোগ আর পাবো না। আমরা কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কাজকে আমরা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারলেই আমাদের ভালো লাগে। এর জন্য আমাদের পারিবারিক সহযোগীতাও আছে। বাবা-মা, শশুর-শাশুড়ি যারা আছেন সবাই আমাদের যতেষ্ট সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন।

সত্যজিত রায় দাশ বলেন, নিজের দেশের জন্য যদি জীবন দিতে হয় রাজি আছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার এটা বড় সুযোগ।


রুহুল আমিন/ আইরিন আক্তার দম্পতি:
বি এম রুহুল আমিন রিমন সদ্য ঢাকা জেলা অফিসের সিনিয়র সহকারী কমিশনার থেকে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। আইরিন আক্তার একই জেলার ঘিওর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি করোনাকালীন এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, মানুষকে ঘরমুখী করা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে তিনি সহ তার কোলের আড়াই বছরের শিশুটিও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলো।

আইরিন আক্তার বলেন, কাজ করতে ভালোবাসি, এই মুহুত্বে পরিবার থেকে দেশের জন্য কাজ করাটা আমাদের জন্য জায়েজ হয়ে গেছে। এটা দেশ প্রেমের একটি অংশ। কর্তমান সরকারের সাফল্য প্রশানের কাজের উপর নির্বর করছে। বিশেষ করে ত্রাণ কার্যক্রম থেকে শুরু করে করোনায় আক্রান্ত বাড়ি লকডাউন করা প্রতিটি কাজই প্রশাসনের কর্মকর্তারা অগ্রগামী ছিলেন। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে। আমাদের যতই, দুঃখ হোক আমরা কখনই তা প্রকাশ করিনি। আমাদের যারা কর্মচারি আছে, আমরা যারা আছি আমাদের শুক্রবার, শনিবার বলতে আলাদা কোন দিন ছিলো না। ২৪ ঘন্টাই আমরা সরকারি কর্মচারি। আমাদের কাজে আমরা কখনই বিরক্ত হই না। শুক্রবার আমাদের অফিস করতে হচ্ছে এতে আমরা কখনই বিরক্ত হই না। দায়িত্বটাকে আমরা পেশা মনে করি এখন আমাদের নেশা হয়ে গেছে। আমাদের যত স্যাকরিফাইস সব দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

রুহুল আমিন বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কার্যপ্রণালি প্রয়োগ করছি। যেহেতু আমরা দুজন দুই উপজেলার দায়িত্বে আছি সেক্ষেত্রে হয়তো দুজনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না তবে আমরা দূরে থেকেও চেষ্টা করি একে অপরকে উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রাণিত করার। যেহেতু আমার আড়াই বছরের একটা বাচ্চা আছে এই বাচ্চা কে নিয়ে কাজের মধ্যে আমাদের চিন্তায় থাকতে হয়। আমাদের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হচ্ছে দেশ প্রেশ। আমরা দেশটাকে ভালোবাসি। এই সময় আমরা সমূখ যুদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে আত্মনিয়োজিত করেছি। আমরা চাই একটা সোনালী সকাল আসবে। সে সকালে আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব ইনশাআল্লাহ।

এসএইচ/ এমটি

ফ্রন্টলাইনার্স ইউএনও দম্পতিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসেবায়
                                  

মহিউদ্দিন তুষার: চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা জারি করার পর ২১শে জানুয়ারি থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা নাগরিকদের স্ক্রিনিং শুরু করে। এরপর (৭ই ফেব্রুয়ারি) থেকে বাংলাদেশে যেকোনো পথে এবং প্রতিটি দেশ থেকে আসা সব যাত্রী স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়। দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সারা দেশের মানুষের মধ্যে করোনা সচেতনতায়, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, ত্রাণ বিতরণ, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দরিদ্রদের তালিকা তৈরি, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের দাফন-কাফনসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্নভাবে এসব কাজ করতে গিয়ে নিজেরাও করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এ পর্যন্ত ২১১ জনের বেশি কর্মকর্তা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকই মাঠ প্রশাসনে চাকরি করছেন। করোনায় মারা গেছেন বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে ১১ জন কর্মকর্তা। এই কঠিন সময়ে প্রশাসন ক্যাডারে অনেক ইউএনও দম্পতি রয়েছেন যারা বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী আপনজন সবাইকে দূরে রেখে যে যার কর্মস্থলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মাহাবুর রহমান শেখ/তাসলিমা আলী দম্পতি:
মো: মাহাবুর রহমান শেখ শরীয়তপুর সদর (পালং) উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তার স্ত্রী মোসাঃ তাসলিমা আলী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দু`জনই ২৯ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দু`জনকে আলাদা কর্মস্থলে থাকতে হয়। তবে প্রতিটি দম্পতির ক্ষেত্রে একজনের বিপদে অন্যজনের পাশে থেকে বিপদে সাহস যোগাতে হয়। কিন্তু মাহাবুব রহমান শেখ দম্পতির জীবনে তা হয়ে উঠেনি। ইচ্ছে থাকা সত্বেও দায়িত্ব আর দেশের এমন পরিস্থিতিতে এক সাথে থাকা হয়ে উঠছে না তাদের।

মো: মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন কঠিন একটি সময় পার করছি আমরা। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এই দেশে করোনার মত মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখা সত্যিই কঠিন কাজ। মহামারির শুরু থেকেই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর এই কাজ করতে পারাটাই আমাদের ভালো লাগা। মানুষের ভালোর মধ্যই নিজের পরিবারের ভালো থাকাটা খুজে পান বলে জানান তিনি।

মোসাঃ তাসলিমা আলী বলেন, প্রথমে বলবো আমরা দু`জন দুপ্রান্তে কাজ করলেও আমাদের মধ্যে প্রতি মূহুর্তে যোগাযোগ হয়। বেশি যোগাযোগ হবারও একটা কারনও রয়েছে। যেহেতু দু`জনই একই পদে এবং একই কাজ করি সেক্ষেত্রে কাজের পরামর্শের জন্যই অনেক বেশি কথা বলা হয়। খুব কম দম্পতির এই সুযোগ আছে যারা একই পদে থেকে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পায়। সে দিক থেকে বলবো আমরা ভাগ্যবান। আমরা এটাই মনে করি দেশের জন্য কাজ করছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন সবাই দেশের জন্য কাজ করেছেন। এখন আমার মনে হয় এই করোনা যুদ্ধে পরাজিত করতে কাজ করছি। এটা আমাদের জন্য একটা বড় শক্তি। কাজ করাটা আমাদের জন্য ভালো লাগার যায়গা।

শাহিন রেজা/উম্মুল বানীন দ্যুতি দম্পতি:
মো: শাহনি রেজা রাজশাহী বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার স্ত্রী উম্মুল বানীন দ্যুতি নাটোর লালপুর উপজলো নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বরত আছেন। তারা দু`জন ৩০ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার। উম্মুল বানীন দ্যুতি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করেন। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনি উপজেলায় ব্যাপক সুমান অর্জন করেন। মো: শাহিন রেজা নিজের দক্ষতা দিয়ে করোনাকালীন এই সময়ে বাঘা উপজেলার মানুষকে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, মানুষকে সচেতন করা, বাড়ি-বাড়ি ত্রাণ পৌছে দেওয়া সব কিছুই করছেন নিজের দক্ষতা দিয়ে।

তিনি বলেন, সত্যিই করোনার এই সময় পরিবারের পাশে থাকতে না পারাটা এক অন্য রকম বেঁদনা। তবে সরকার আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন যত কষ্টই হোক না কেন এই দায়িত্ব আমরা হাঁসি মুখে পালন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি উপজেলার প্রতিটি সদস্যই আমার পরিবারের একজন!। তারা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। তাদের নিয়েই আমাদের ভালো থাকতে হয়।

উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, কাজ করা এটা আমাদের দায়িত্ব। দেশের এই ক্রান্তিকালে মানুষের জন্য কাজ করতে পারছি এটা অনেক বড় পাওয়া। তবে চার বছরের ছেলে এই সময় না পায় তার মাকে না পায় তার বাবাকে। আমাদের নিয়ে পরিবারের সবাই চিন্তায় থাকে। তার পরেও নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষদের ভালো রাখার জন্য। আশা করি খুব শীঘ্রই নতুন আলো আসবে।

পিজুস চন্দ্র দে/ শুভ্রা দাস দম্পতি:
পিজুস চন্দ্র দে বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার। শুভ্রা দাস একই জেলার মুলাদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার। দু`জনই করোনায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে পিজুস চন্দ্র দে পরে শুভ্রা দাস। পিজুস চন্দ্র দে করোনায় সুস্থ্য হলেও এখনও অসুস্থ্য তার স্ত্রী। তাদের সাথে থাকা মা এবং ১৩ বছরের ভাতিজাসহ পরিবারের আরও ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়।

শুভ্রা দাস বলেন, সরকারি চাকরির কারনে সব সময়ই দু`জনকে দুই স্টশনে থাকতে হয়। দু`জনই চিন্তায় থাকি কে কেমন আছে। সে ভাবে আমি সেফটি নিয়ে চলি কিনা। আমি ভাবি সে সেফটি নিয়ে চলে কিনা। কেউ কারো পাশেনেই। এই অবস্থায় শুধু আমরা দু`জন না আমাদের পরিবারের লোকজনও আমাদের নিয়ে চিন্তায় থাকেন। প্রথম সে (পিজুস চন্দ্র দে) করোনায় আক্রান্ত হয়। চিন্তায় ছিলাম। বর্তমানে সে ভালো আছেন। বেশ কয়েকদিন হলো আমি নিজেও করোনায় আক্রায় হই। সাথে আমার পরিবারের আর ৫ জন। দেশবাসীসহ আমরা সবাই একটা কঠিন সময় পার করছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

পিজুস চন্দ্র দে বলেন, একদিক থেকে বলতে গেলে এটা আমাদের দায়িত্ব। নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করছি। তার পরে বলবো আমরাও আর ৮/১০ সাধারণ মানুষের মত মানুষ। দু`জনই দুই প্রান্তে মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আসলে এটা বলে বুঝানোর মত ভাষা না। দিন শেষে এটাই মনে করি দেশের জন্য কাজ করছি।

শামীমুর রহমান/ ইফ্ফাত জাহান দম্পতি:
মোঃ শামীমুর রহমান সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার সহধর্মনী ইফফাত জাহান পাশের তারাশ উপজেলার দায়িত্বে আছেন। শামীমুর রহমান বলেন, আমরা যারা এডমিন ক্যাডারে কাজ করি স্বাভাবিক সময় কাজ করতে গেলেই আমরা পরিবার থেকে বেশিরভাগ সময় বঞ্চিত হই। কাজ করতে গিয়ে ভুলেই যাই যে আমাদেরও পরিবার আছে। করোনা মহামারির এই সময় যখন দিন শেষে কাজ করে বাড়ি যাই তখন পরিবারকে সময় দেয়া তো হচ্ছেই না বরং পরিবারকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে দেই। ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলা বের হচ্ছি সারাদিন কাজ করলে দেখা যায় আমাদের সংস্পর্শে প্রতিদিন গড়ে ১৫০০-২০০০ লোক আসছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রশাসনীক কাজ করতে হয়। বাড়ি ফিরে যখন ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের কোলে নিতে যাই তখন মনের মধ্যে এক অজানা ভয় কাজ করে। এর চেয়ে বড় কথা হলো এই কাজগুলো যদি আমি একা করতাম তবে কথা ছিলো যখন দম্পতি মিলে একই কাজ করছি তখন সন্তান এবং পরিবারের জন্য অনেক ঝুঁকি রয়ে যায়। দিন শেষে যখন ভাবি দেশের জন্য কাজ করছি তখন সব কিছু ভুলে যাই।

ইফ্ফাত জাহান বলেন, প্রশাসনের কাজ মানেই দেশ ও জনগনের জন্য। যে কোন সময় যে কোন ধরনের কাজ আসে তা আমাদের করতে হয়। একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপজেলার প্রতিটি কাজ তাকে দেখতে হয়। সব সময় কাজ করলেও করোনাকালীন এই সময় মাথায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয়। প্রথম দিকে যদিও করোনা রোগীর সংখ্যা কম ছিলো তবে মানুষের মধ্যে একটা ভয় ছিলো। এখন করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি তবে মানুষের মধ্যে ভয় কম। শুরু থেকেই আমরা ভয়কে সঙ্গী করে মাঠ প্রর্যায়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সাড়ে সাত মাসের ছোট বাবুকে ঘরে রেখে বের হতাম। বড় ছেলেটার বয়স ৩ বছর সাত মাস। আমি জানি না মার্চ এবং এপ্রিল মাস আমার বাবু দুইটা কেমন ছিলো! সারাদিন বাহিরে থাকার পর রাতে ঘরে ফিরে গোছল করে পরে ছোট বাবুটা কোলে নিতাম। বাবুটার দিকে তাকাতে পারতাম না! যখন অন্য ডিপাটমেন্টের কর্মকর্তারা হোম কোয়ারাইন্টে ছিলো তখন আমরা, পুলিশ বাহিনী, আনসার, গ্রাম পুলিশ মাঠে দিন রাত কাজ করেছি।

সত্যজিত রায় দাশ/ স্নিগ্ধা তালুকদার দম্পতি:
সত্যজিত রায় দাশ হবিগঞ্জ চুনারঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার। স্নিগ্ধা তালুকদার একই জেলার বাহুবল উপজেলার দায়িত্বে আছেন। তারা করোনাকালীন সময়টা দেশের জন্য নিজেদের কাজ করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। স্নিগ্ধা তালুকদার বলেন, যেহেতু আমরা দু`জনই এডমিন ক্যাডারে চাকরি করি কাজ করা এটা আমাদের দায়িত্ব। আমি মনে করি করোনাকালীন এই সময়ের মত দেশ সেবা করার সুযোগ আর পাবো না। আমরা কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কাজকে আমরা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারলেই আমাদের ভালো লাগে। এর জন্য আমাদের পারিবারিক সহযোগীতাও আছে। বাবা-মা, শশুর-শাশুড়ি যারা আছেন সবাই আমাদের যতেষ্ট সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন।

সত্যজিত রায় দাশ বলেন, নিজের দেশের জন্য যদি জীবন দিতে হয় রাজি আছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার এটা বড় সুযোগ।


রুহুল আমিন/ আইরিন আক্তার দম্পতি:
বি এম রুহুল আমিন রিমন সদ্য ঢাকা জেলা অফিসের সিনিয়র সহকারী কমিশনার থেকে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। আইরিন আক্তার একই জেলার ঘিওর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি করোনাকালীন এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, মানুষকে ঘরমুখী করা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে তিনি সহ তার কোলের আড়াই বছরের শিশুটিও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলো।

আইরিন আক্তার বলেন, কাজ করতে ভালোবাসি, এই মুহুত্বে পরিবার থেকে দেশের জন্য কাজ করাটা আমাদের জন্য জায়েজ হয়ে গেছে। এটা দেশ প্রেমের একটি অংশ। কর্তমান সরকারের সাফল্য প্রশানের কাজের উপর নির্বর করছে। বিশেষ করে ত্রাণ কার্যক্রম থেকে শুরু করে করোনায় আক্রান্ত বাড়ি লকডাউন করা প্রতিটি কাজই প্রশাসনের কর্মকর্তারা অগ্রগামী ছিলেন। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে। আমাদের যতই, দুঃখ হোক আমরা কখনই তা প্রকাশ করিনি। আমাদের যারা কর্মচারি আছে, আমরা যারা আছি আমাদের শুক্রবার, শনিবার বলতে আলাদা কোন দিন ছিলো না। ২৪ ঘন্টাই আমরা সরকারি কর্মচারি। আমাদের কাজে আমরা কখনই বিরক্ত হই না। শুক্রবার আমাদের অফিস করতে হচ্ছে এতে আমরা কখনই বিরক্ত হই না। দায়িত্বটাকে আমরা পেশা মনে করি এখন আমাদের নেশা হয়ে গেছে। আমাদের যত স্যাকরিফাইস সব দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

রুহুল আমিন বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কার্যপ্রণালি প্রয়োগ করছি। যেহেতু আমরা দুজন দুই উপজেলার দায়িত্বে আছি সেক্ষেত্রে হয়তো দুজনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না তবে আমরা দূরে থেকেও চেষ্টা করি একে অপরকে উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রাণিত করার। যেহেতু আমার আড়াই বছরের একটা বাচ্চা আছে এই বাচ্চা কে নিয়ে কাজের মধ্যে আমাদের চিন্তায় থাকতে হয়। আমাদের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হচ্ছে দেশ প্রেশ। আমরা দেশটাকে ভালোবাসি। এই সময় আমরা সমূখ যুদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে আত্মনিয়োজিত করেছি। আমরা চাই একটা সোনালী সকাল আসবে। সে সকালে আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব ইনশাআল্লাহ।

এসএইচ/ এমটি

কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ হারাবেন পাপুল: প্রধানমন্ত্রী
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল হোসেন পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে তার আসন শূন্য হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে পাপুল কুয়েতের নাগরিক কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে পাপুলের বিষয়ে স্পিকারের উদ্দেশে বিএনপির হারুন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা আনুগত্য গ্রহণকারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে এসেছে। তিনি সত্যিই যদি কুয়েতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেই থাকেন তাহলে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার। তিনি নিশ্চয়ই সরকারি (বাংলাদেশ) পাসপোর্টে সে দেশে যাননি। তাহলে তিনি নিঃসন্দেহে বিদেশি নাগরিক। তিনি নির্বাচনের সময় তথ্য গোপন করেছেন। আজকে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে সংবিধান অনুযায়ী আপনার (স্পিকারের) যে দায়িত্ব, আশা করবো আপনার জায়গা থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সংসদ সদস্যের কথা বলা হচ্ছে তিনি কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাদের নমিনেশন চেয়েছিলেন। আমি দেইনি। ওই আসনটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা নির্বাচন করেননি। ওই লোক জিতে আসেন। আবার তার ওয়াইফকেও যেভাবে হোক এমপি করেছেন (সংরক্ষিত আসনের এমপি নির্বাচিত করেন)। তিনি কুয়েতের নাগরিক কিনা সেই বিষয়ে আমরা কুয়েতে কথা বলছি। সেটা দেখবো। আর সেটা হলে তার ওই সিট হয়তো খালি করতে হবে। কারণ যেটা আইনে আছে, সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা দেশেও তদন্ত করছি।’

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকেই ধরেছি। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই কিন্তু সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অপরাধীদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছি। মাননীয় সংসদ সদস্য এই তথ্যটা আগেভাগে জানাতে পারলে আমরা খুশি হতাম। এই তথ্যটা অন্য কেউ কিন্তু জানায়নি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকেই এটা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিয়েছি। সেখানে র‌্যাব গিয়েছে। এসব খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

হারুন তার বক্তব্যে ৫০ লাখ পরিবারকে সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য তালিকা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এ বিষয়ে কে কোন দলের তা বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

করোনাকালে ত্রাণ সহায়তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘৫০ লাখ পরিবারকে আমরা যে সহায়তা দিচ্ছি তাদের তালিকা বানানো হচ্ছে। সেই তালিকা তিন দফা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাদের আইডি কার্ড ভোটার লিস্টে নাম সবকিছু মিলিয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু যাচাই করে যথাযথ যারা পাওয়ার তার কাছে টাকাটা পৌঁছে দিচ্ছি। এ প্রক্রিয়ায় আমাদের সময়ও লেগেছে। অন্য যে নামধাম (ভুয়া/অযোগ্য) আসছে, তা আমরা কেটেছেঁটে ফেলে দিচ্ছি।’

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : করোনাভাইরাসের টেস্ট না করে সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুজয় সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ০৫। তিনি জানান, এই মামলায় আসামি ১৭ জন। তাদের মধ্যে রিজেন্টের চেয়ারম্যান শাহেদ সহ ৯ জনকে পলাতক হিসেবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুরে অবস্থিত দুই শাখাই সিলগালা করে দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপপ্তের পক্ষ হাসপাতালটি বন্ধ রাখারা নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার আগে গত সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ বা পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ‌র‌্যাব। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অভিযানের পর তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে ২৮টি রিপোর্ট হাতেনাতে পাওয়া গেছে। যেগুলোর নমুনা আসলে পরীক্ষার জন্য যায়ইনি। সবগুলোই ভুয়া রিপোর্ট।’ ‘এই নমুনা পরীক্ষার নামে প্রত্যেকের কাছে থেকে তারা ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছে। এভাবে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল’, যোগ করেন সরোয়ার আলম।

করোনা পরীক্ষায় ফি: পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তের সংখ্যাও
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক: ‘একটা কিডনি রেখে দিয়ে করোনার টেস্ট করাই দিয়েন। তিন-চার মাস ধরে কামাই বন্ধ’- এমন মন্তব্য করে সম্প্রতি সংবাদের শিরোনাম হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাঈম হাসান নীল নামে এক তরুণ। বেসরকারি ব্রাহ্মণবাড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা করতে গেলে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ এনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যেতে পারে, করোনার প্রভাবে বিধ্বস্ত দরিদ্র মানুষের কাছে পরীক্ষার ফি দেয়া কতটা কষ্টসাধ্য।

এদিকে গত ২৮ জুন দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি পর্যায়েও টাকা দিয়ে করোনা পরীক্ষার বিধান চালুর পর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও শনাক্তে। ফি চালুর পর কমেছে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার হার, স্বাভাবিকভাবেই কমেছে শনাক্তের হারও।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সরকারের কোনো কৌশল হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কোনো কৌশল হিসেবে সরকার যদি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তবে এটা হবে আত্মঘাতী। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। কারণ তাদের পক্ষে ২০০ টাকা ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ করা কষ্টসাধ্য।

প্রজ্ঞাপন জারির আগের ৭ দিন (২১ থেকে ২৭ জুন) এবং পরের ৭ দিনের (১ থেকে ৭ জুলাই) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফি চালুর আগের ৭ দিনে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তের নমুনা সংগ্রহ হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭২৫টি এবং ফি চালুর পর নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১ লাখ ৬ হাজার ১৫৩টি। অর্থাৎ ফি চালুর পর এক সপ্তাহে নমুনা সংগ্রহ কমেছে ১১ হাজার ৫৭২টি। ফি চালুর আগের ৭ দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৫৭টি এবং ফি চালুর পরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩২০টি। অর্থাৎ ফি চালুর পর পরীক্ষা কমেছে ৮ হাজার ৮৩৭টি। ফি চালুর আগের ৭ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫ হাজার ২০৭ জনের এবং ফি চালুর পরে শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৬২ জনের। অর্থাৎ ফি চালুর পরের ৭ দিনে শনাক্ত কমেছে ২ হাজার ৪৫টি।

এ বিষয়ে কথা বলতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে ফোন দেয়া হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এসএইচ/ এমটি

 

সাধ্যের মধ্যেই থাকবে ভ্যাকসিন: ড. আসিফ মাহমুদ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, ‘অন্ধকারে আশার আলো’ দেখাচ্ছে। এবার নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সফল হয়ে কবে আসবে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাকসিনটি, সেই দিন গুনছে মানুষ। এরইমধ্যে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো সমাধান করতে পারলে চলতি বছরের বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব হবে জানিয়েছে গ্লোব বায়োটেক। শুধু তা-ই নয়, বাজারে এলে সেটি দেশের ১৬ কোটি মানুষের কেনার সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ।

সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আপাতত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় নিচ্ছি আমাদের রেগুলেটেড এনিমেল ট্রায়াল করতে। এরপর আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল বিএমআরসিতে (বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ) জমা দেব। বিএমআরসির অথোরাইজেশন বোর্ড আমাদের অনুমতি দিলে সিআরও দিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাব। এরপর আমরা মার্কেট অথোরাইজেশনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে যাব। এখানে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের হাতের নাগালে নেই। যেহেতু এই ভ্যাকসিনটা আমাদের দেশে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে, সেহেতু এটা সবার জন্যই নতুন একটি অভিজ্ঞতা। এখানে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো আমরা যদি একে একে সমাধান করতে পারি, তাহলে আমি আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন আমরা বাজারে আনতে পারব।

এসএইচ/ এমটি

 

প্রধান কার্যালয়সহ রিজেন্টের দুই হাসপাতাল সিলগালা
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, প্রতারণা ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়সহ সিলগালা করা হয়েছে উত্তরা ও মিরপুরের হাসপাতাল। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাসপাতাল সিলগালা করার আগে রোগীদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করত রিজেন্ট হাসপাতাল। এছাড়াও সরকার থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্টপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার করে আদায় করত তারা।

তিনি জানান, রিজেন্টের প্রধান কার‌্যালয় থেকেই এই অপকর্মগুলো হতো বিধায় এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগালা করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতেই মো. মোহাম্মদ সাহেদের মালিকানাধীন হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। অভিযানে রিজেন্টের ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য ১৫ জুলাই, অপেক্ষা সন্তানদের
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য জানিয়েছেন তার দুলাভাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস।
তিনি জানান, আগামীকাল (বুধবার) এন্ড্রু কিশোরের ছেলে এন্ড্রু জুনিয়র সপ্তক অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরবেন। আগামী ১৪ জুলাই অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরবেন শিল্পীর কন্যা সংঘা। এরপর ১৫ জুলাই সকালে ধর্মীয় আচার শুরু হবে। পরে অনুমতি পেলে মরদেহ শ্রদ্ধা জানাতে রাখা হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে। এরপর তাকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।

ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস আরও জানান, এন্ড্রু কিশোরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে। এর আগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালেও তিনি বলে গেছেন, তাকে যেনো রাজশাহীতে বাবা-মায়ের পাশে কবর দেওয়া হয়।

এন্ড্রু কিশোরের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

সিঙ্গাপুরে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে গত ২০ জুন রাজশাহীতে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় ওঠেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। বোন ও দুলাভাই দু`জনই চিকিৎসক হওয়ায় তাদের তত্ত্বাবধানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এর আগে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল এন্ড্রু কিশোরকে। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। কয়েক মাস কেমোথেরাপিসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলার পর চিকিৎসকদের ইতিবাচক মন্তব্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতিও শুরু হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

মে মাসের ১৩ তারিখ দেশে ফেরার টিকিট নেওয়া হলেও এন্ডু কিশোর দুর্বল বোধ করায় তা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়বার টিকিক নেওয়া হয় ১০ জুনের। কিন্তু ২ জুন এন্ডু কিশোর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৪ জুন আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ জুন আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তার শরীরে আবারও ক্যানসার ফিরে এসেছে।

করোনার নমুনা টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোগীদের কাছ থেকে করোনার নমুনা নিয়ে সেগুলো টেস্ট না করেই মনগড়া রিপোর্ট দিত রিজেন্ট হাসপাতাল। হাসপাতালটির ল্যাবে গিয়ে এই চিত্র দেখতে পেয়েছে র‌্যাব।

সোমবার বিকেলে রিজেন্টের উত্তরার শাখায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অভিযানে গিয়ে র‌্যাব দেখতে পায়, করোনা টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিত রিজেন্টের উত্তরা শাখা। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া করোনা রিপোর্টসহ নানা নথি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিলসহ নানা অভিযোগ জমা পড়েছে যার সত্যতাও মিলেছে।

অভিযানের বিষয়ে সারোয়ার আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে আমরা অনেক অভিযোগ পাচ্ছিলাম তাদের বিরুদ্ধে। আমরা এখানে এসে দেখেছি তারা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত অসংখ্য নমুনার মধ্যে তারা মাত্র ৪২০০ এর মতো নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর চেয়ে দ্বিগুণ নমুনা পরীক্ষা না করেই করোনা ‘নেগেটিভ-পজিটিভ’ রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা এখানে ২৬ জনের নমুনা পেয়েছি, যেগুলো পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে রিজেন্ট।

তিনি বলেন, হাসপাতাল ভবনের পাশের ভবনের রিজেন্টের আইটি শাখা। সেখানেই নমুনা সংগ্রহের ভুয়া আইডি তৈরি করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করানো হয়। এভাবে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

রিজেন্টে গিয়ে ধরা পড়লো যেসব অনিয়ম
মনগড়া রিপোর্ট তৈরি ছাড়াও অভিযানে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে।

হাসপাতালটিকে ইন-হাউজ রোগীদের কোভিড টেস্ট ও চিকিৎসা দেয়ার অনুমতি দেয়া হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিল। উদ্ধার করা ভুয়া রিপোর্টের অধিকাংশ নমুনাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এছাড়া হাসপাতালটি ২০১৪ সালের পর তাদের লাইসেন্স আর নবায়ন করেনি। করোনার পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা থাকলেও রোগীদের কাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করতো বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

র‌্যাব হেফাজতে ৮ জন
এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেফতার না দেখানো হলেও হাসপাতালের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়েছে (আটক) র‌্যাব। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

তারা দাবি করেছেন, ভুয়া রিপোর্টের বিষয়ে কিছুই জানতেন না তারা।

অভিযান চলাকালে র‌্যাব হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে উপস্থিত হতে বললেও তিনি উপস্থিত হননি। রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।

এদিকে বিকেলে একদিকে যখন রিজেন্টের উত্তরায় অভিযান চলছিল, অন্যদিকে রিজেন্টের মিরপুরের শাখা ঘিরে রাখে র‌্যাব। সেখানেও শুরু হয় অভিযান।

রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়া যায় কিনা এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৬ জুলাই) একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, একটা যুগান্তকারী প্রস্তাব এসেছে প্রধামন্ত্রীর কাছ থেকে। আমি ওখানে ছিলাম, আমরা এটাকে সমর্থন করি।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এটা আমরা ভাবছি, সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের অর্থ জনগণের সঞ্চয় তাদের কল্যাণেই ব্যয় হবে। এজন্য যে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা প্রয়োজন সেগুলো আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয় আছে, তারা দেখবে। আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্যই সহায়তা করব।

এম এ মান্নান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের পক্ষে অর্থ সংরক্ষণ করে। ওখান থেকে ঋণ নিতে পারি। বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তা করবে কীভাবে এটা করা যায়। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয় হাতে রাখা নিরাপদ। সেটা যেকোন অর্থনীতিতে। তিন মাসের আমদানির সমপরিমাণ টাকা থাকলে স্বস্তিদায়ক হবে। এখন যে রিজার্ভ আমাদের আছে সেটা তিন মাস নয়, এক বছরের আমদানির সমপরিমাণ। সুতরাং আমদানি ব্যয়ের যুক্তিসংগত সংরক্ষণ রেখে বাকি টাকাতে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে পারি। নিজেদের অর্থ নিজেরা ব্যবহার করব।

সোমবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

দিনাজপুরে বাসচাপায় ভ্যানের ৫ যাত্রী নিহত
                                  

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিআরটিসির বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ জন। আহতদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের বীরগঞ্জ উপজেলার পঁচিশ মাইল নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে পঁচিশ মাইল বাজারে চার্জার ভ্যানকে পঞ্চগড়মুখী একটি বিআরটিসির বাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ৪ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। এছাড়া ভ্যানের অপর ২ জন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসটি ভ্যানকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছ গিয়ে ধাক্কা দেয়।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান জানান, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এখনও উদ্ধার কাজ চলছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

দুর্যোগে ১১ হাজার টন চাল ও পৌনে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : বন্যা, নদীভাঙ্গন, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা হিসেবে দিতে ১০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়া বন্যা দুর্গত ১২ জেলায় ২৪ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য কিনতে ২৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য কিনতে আরও ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এসব ত্রাণ সামগ্রী ডিসিদের অনুকূলে বরাদ্দ দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

কোন জেলা বিশেষ শ্রেণিতে এবং কোনগুলো ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণিতে রয়েছে তা তুলে ধরে সেসব জেলার জন্য কতটুকু চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দিতে হবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বিশেষ শ্রেণি এবং‘এ’, শ্রেণির জেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল ও তিন লাখ টাকা, ‘বি’ শ্রেণিতে দেড়শ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির জেলাগুলোতে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বরাদ্দ শুধু আপৎকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্তিরণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে এগুলো বিতরণ করা যাবে না।

মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-১৩ অনুসরণ করে এসব ত্রাণ বিতরণের নির্দেশনা দিয়ে নিরীক্ষার জন্য ডিসিদের প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

প্রতি মাসের ব্যয় বিবরণী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে হবে ডিসিদের।

এবার কোরবানি দিতে পারবেন না ৩০-৩৫ শতাংশ মানুষ
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটিতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাদের প্রিয় পশু কোরবানি করেন। অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় দিনটি। কিন্তু এবার সে পরিস্থিতি নেই। মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে।
প্রতিবার কোরবানি দেন এমন ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ মানুষ এবার ঈদে কোরবানি দিতে পারবেন না। করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ। গত চার মাসে করোনা, সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, কালবৈশাখী, অতিবৃষ্টি ও সর্বশেষ বন্যায় মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, ব্যবসায়ীর ব্যবসা নেই। চাকরি হারিয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা। এসব কারণে এবার কোরবানির সংখ্যা কমবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনার কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও হাট কর্তৃপক্ষ হাটের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে। তারপরও অনেক স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পশুর হাট না বসাতে সরকার নিষেধ করছে। সরকার বলছে, জীবিকার তাগিদে বের হতে হবে তবে আগে জীবন। জীবনকে রক্ষা করতে যা কিছু করণীয় তা করতে হবে।

গতবছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল প্রায় এক কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে কোরবানিতে পশু জবাই করা হয়েছিল এক কোটি ৬ লাখ। গতবছরের প্রস্ততকৃত প্রায় ১২ লাখ পশু সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত) ছিল। এর মধ্যে করোনার শুরু থেকে গত চার মাসে পশু জবাই এবং বিক্রির সংখ্যাও কমে গেছে। দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে সারাদেশে দিনে ৪৫ কোটি টাকার গরু কেনাবেচা হয়েছে। সাধারণত মাংস বিক্রির জন্য কসাইদের কাছে এসব গরু বিক্রি হয়। কিন্তু গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দিনে গড়ে ১০ কোটি টাকার বেশি গরু কেনাবেচা হয়নি। এই তথ্য দিয়েছে ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দেশের পশু খামারিরা এবার করোনার শুরু থেকে আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হলো, গতবছরে কোরবানির হাটে তোলা পশু অবিক্রিত আছে ১২ লাখ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গত চার মাসে অজবাইকৃত পশু। তাই এবার খামার থেকে এত সংখ্যক গবাদিপশু কোরবানির পশুর হাটে উঠতে পারবে কি-না, তা সন্দিহান খামারিরা। উঠলেও বিক্রি হওয়া ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তা দূর হচ্ছে তাদের। খামারিরা বলছেন, এবার গো-খাদ্যের যে দাম তাতে অনেক খামারি হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই এবারের কোরবানির পশু যদি আরেক বছর লালন-পালন করতে হয় তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে তাদের।

দেশের গরু-ছাগলের খামারিদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, সরকার এবার কোরবানির হাটের যে চাহিদা নিরূপণ করেছে, তা থেকেও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গবাদিপশু কম বিক্রি হবে। কারণ, ক্রেতাদের হাতে টাকা নেই। খামার থেকে হাটে গরু নিয়ে আসার মতো পুঁজি নেই অনেকের। তাছাড়া এবার ট্রাকভাড়াও বেশি।

সংগঠনটি বলছে, কোরবানির হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সরকার কতটুকু উদ্যোগ নেবে, তা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে। তারা বলছেন, কোরবানির হাট এমনিতেই অপরিচ্ছন্ন থাকে। তাই গরু রাখার জায়গাগুলো যদি নিরাপদ দূরত্বে না থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের কাছে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার গরুর হাটে বিক্রি কম হতে পারে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে এবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসবে না। তাছাড়া বাংলাদেশে যে পশু আছে কোরবানির জন্য তা যথেষ্ট।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার বলেন, যেহেতু এবার দেশের পরিস্থিতিটা অস্বাভাবিক, সে কারণে অন্য বছরগুলোর তুলনায় কোরবানির সংখ্যা এবার কম হবে। তিনি বলেন, এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশেই নয়; সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা। গত চার মাসে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকার কথা নয়। তবে একেবারে হোপলেস (হতাশ) হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। প্রতিবছর যেখানে একজন একাই একটা পশু কোরবানি দিতেন এবার শেয়ারে দেবেন। কোরবানি চলবেই তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে হয়তো প্রতিবছরের মতো স্বাভাবিক হবে না।

বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিডিএফ) সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে সমস্যা তো হবেই। কারণ করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই, আমাদের ৬০ হাজার আইনজীবী আছেন। এর মধ্যে ২০ হাজার আইনজীবী কোরবানি দিতে পারবেন। বাকি ৪০ হাজার আইনজীবী কোরবানি দিতে পারবেন না। এ রকম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধেক মানুষই নানাভাবে আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

সবজির বাজারে `আগুন`
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েকদিন ধরে অতিবৃষ্টি আর বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। হঠাৎ করেই বেড়েছে কাঁচামরিচ, করলা, টমেটো, বরবটি ও শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম। তাছাড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া পণ্য পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম আরও বেড়েছে। সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আরও বেড়েছে। এ ছাড়া মাংসসহ অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। কিন্তু চাহিদা তো কমেনি, বরং করোনা পরিস্থিতির এই সময়ে সবজির চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে। কারণ করোনা পরিস্থিতির জন্য অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা মাছ-মাংস নয়, সবজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নুতন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের সবজির দাম চড়া। বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে কাঁকরল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা-চিচিঙ্গা-পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টম্যাটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ও বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। লাউ ও কুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। অথচ দেড়-দুই মাস আগেও এসব সবজি পানির দরে বিক্রি হয়েছে। তখন সবজিচাষিরা ক্রেতা না পাওয়ায় খেত থেকেই সবজি তোলেননি। কারণ সবজি বিক্রি করে তখন শ্রমিকের মজুরিই ওঠেনি।

সবজির দাম বেশি প্রসঙ্গে শান্তিনগর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে সবজি আসা কমে গেছে। সেখানে অনেক সবজিখেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এজন্য সবজির দাম বেড়েছে। তবে নতুন করে আর ডিমের দাম বাড়েনি। বাজারে প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হয় ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়।

চালের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের চালের মধ্যে মোটা চাল ইরি-স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪৮ টাকা, সরু চাল নাজিরশাইল-মিনিকেট ৫২ থেকে ৬৫ টাকা এবং মাঝারি মানের চাল পাইজাম-লতা ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তদবির নয়, বদলি হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে: বেনজীর আহমেদ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশ অফিসার এবং বাহিনীর জন্য বাস্তবসম্মত বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলির তদবির কালচার বিদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

আজ শনিবার বিকেলে রাজারবাগে পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত বিশেষ অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিএমপির সব থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি জানান, ইতোমধ্যে গতানুগতিক ধারা পাল্টে বদলিতে আনা হয়েছে নতুনত্ব। অধিকাংশ পুলিশ অফিসার এবং সদস্য সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঢাকার বাইরে যেতে চান না, এই সংকট নিরসনের লক্ষে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান আইজিপি।

দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের চাকরিকে আর্কষণীয় করতে বিভাগীয় শহরগুলোতে পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে গত তিন মাসে পুলিশ বদলে গেছে। পুলিশ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। করোনায় পুলিশ জনগণের পাশে গিয়ে যেভাবে সেবা দিয়েছে, এর বেশিরভাগই পুলিশের কাজ ছিল না। কিন্তু পুলিশ এ কাজটি করেছে একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুলিশ এতো সম্মান, এতো মর্যাদা আর কখনো পায়নি, গত তিনমাসে যা পেয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের পক্ষে কথা বলছে, পুলিশের জন্য লিখছে, যারা কথায় কথায় পুলিশের সমালোচনা করতেন, তারাও আজ পুলিশের পক্ষে হৃদয় উজাড় করে বলছেন, পুলিশকে সমর্থন করেছেন। যে সম্মান-মর্যাদা আমরা গত তিন মাসে পেয়েছি তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে মানুষের সাথে থাকতে হয়, তাদের কাছে যেতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়।

তিনি বলেন, জনগণের পুলিশ হতে হলে এ বাহিনীকে সব ধরনের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। পুলিশে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। মাদকের সাথে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। পুলিশকে যেতে হবে জনগণের দোরগোড়ায়।

করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৫০০ শয্যার কভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ১২ দিনে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকায় একটি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন,শুধু তাই নয়, পুলিশ সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আবাসন ব্যবস্থা এবং ডিউটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে।

আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব। আসুন, আমরা পরিবর্তিত হই, দেশকে পরিবর্তন করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

আইজিপি বক্তব্যের শুরুতে করোনায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ৪৬ পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানান। আইজিপি এসব পরিবারের অংশ হিসেবে সুখে-দুঃখে তাদের সাথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স বাতিল না হলে দেশে কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। শনিবার (৪ জুলাই) বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিম এ ঘোষণা দেন।

তারা জানান, বাজেটে বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো না হলে আগামী জুলাই মাস থেকেই বাড়ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটর দাম।

আইএসপিএবির নেতারা বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার ওপর প্রায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও বেড়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় জরুরি নানা যন্ত্রাংশের দাম।

`সরকারের নানা মহলে যোগাযোগ করেও এর কোনো সুরহা হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। জুলাইয়ের মধ্যে বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স বাতিল না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হতে পারে।`

আইএসপিএবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ৮০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে কমপক্ষে তিন কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।

৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিমানের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ফ্লাইট স্থগিত
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

শনিবার (৪ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে নোটিশ সেকশনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, দুবাই, আবুধাবি ও লন্ডন রুটের ফ্লাইট ছাড়া বাকি সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ৩০ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে ফ্লাইট বন্ধের কারণ বলা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে , করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী সংকটের কারণে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। বিমান জানিয়েছে, ফ্লাইট চালুর সময় পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে বিমানের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই) জানানো হয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ঢাকা থেকে কানাডায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ। দেশটির টরেন্টো শহরে যাবে বিমানের এই ফ্লাইট।


   Page 1 of 359
     জাতীয়
ফ্রন্টলাইনার্স ইউএনও দম্পতিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসেবায়
.............................................................................................
কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ হারাবেন পাপুল: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
করোনা পরীক্ষায় ফি: পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তের সংখ্যাও
.............................................................................................
সাধ্যের মধ্যেই থাকবে ভ্যাকসিন: ড. আসিফ মাহমুদ
.............................................................................................
প্রধান কার্যালয়সহ রিজেন্টের দুই হাসপাতাল সিলগালা
.............................................................................................
এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য ১৫ জুলাই, অপেক্ষা সন্তানদের
.............................................................................................
করোনার নমুনা টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল
.............................................................................................
রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
দিনাজপুরে বাসচাপায় ভ্যানের ৫ যাত্রী নিহত
.............................................................................................
দুর্যোগে ১১ হাজার টন চাল ও পৌনে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ
.............................................................................................
এবার কোরবানি দিতে পারবেন না ৩০-৩৫ শতাংশ মানুষ
.............................................................................................
সবজির বাজারে `আগুন`
.............................................................................................
তদবির নয়, বদলি হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে: বেনজীর আহমেদ
.............................................................................................
সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি
.............................................................................................
৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিমানের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ফ্লাইট স্থগিত
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ কাড়ল আরও ৪২ জনের, নতুন আক্রান্ত ৩১১৪
.............................................................................................
ডা. জাফরুল্লাহর ফুসফুসে তিন ধরনের জীবাণু, শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে
.............................................................................................
করোনাভাইরাস: ২৪ ঘন্টায় ৩৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪০১৯
.............................................................................................
বাংলাদেশে করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ
.............................................................................................
বিসিএস মৎস্য ক্যাডারের ২৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি
.............................................................................................
ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান আর নেই
.............................................................................................
জঙ্গি সংগঠনগুলো হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে: ডিএমপি কমিশনার
.............................................................................................
ভয়াল হলি আর্টিজান হামলার ৪ বছর: যা ঘটেছিল সেদিন
.............................................................................................
যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি
.............................................................................................
২৬ ঘন্টা পর উদ্ধার হলো ডুবে যাওয়া লঞ্চ "মর্নিং বার্ড"
.............................................................................................
লঞ্চডুবি: দ্বিতীয় দিনে চলছে উদ্ধার অভিযান
.............................................................................................
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবি: ১২ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার এক ব্যক্তি
.............................................................................................
আরো ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
করোনায় এবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর স্ত্রী‌‌`র মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় প্রতিরক্ষা সচিব মোহসীন চৌধুরীর মৃত্যু
.............................................................................................
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবে মৃত্যু বেড়ে ৩২
.............................................................................................
দুই কুয়েতি এমপির বিরুদ্ধে পাপুলকে সহায়তার অভিযোগ
.............................................................................................
নকল স্যানিটাইজারে বাজার সয়লাব
.............................................................................................
শহীদ কামারুজ্জামানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
ছয় জেলায় বন্যা, পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
.............................................................................................
পুরান ঢাকার পলিথিন কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
.............................................................................................
এমপি পাপুলকে কুয়েত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
.............................................................................................
তথ্যসচিব কারোনাভাইরাসে আক্রান্ত
.............................................................................................
অবশেষে করোনাকে জয় করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী
.............................................................................................
না ফেরার দেশে কবি ও সাংবাদিক মাশুক চৌধুরী
.............................................................................................
করোনা মোকাবেলায় সম্মুখ সমরের আলোচিত যোদ্ধাগণ
.............................................................................................
জাতির কল্যাণকর অর্জনে আ. লীগের ভূমিকা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলে চীন সবার আগে বাংলাদেশে পাঠাবে
.............................................................................................
করোনা জয় করে বাসায় ফিরলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
.............................................................................................
১০ জেলার ২৭ রেড জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
.............................................................................................
১৭০ সাংসদকে করোনা পরীক্ষার নির্দেশ
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
.............................................................................................
এমপি পাপুলের ১৪০ কোটি টাকা জব্দের আবেদন
.............................................................................................
করোনায় কামাল লোহানীর জীবনাবসান
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD