| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ভালুকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত   > বান্দরবানে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত   > ভারত-বাংলাদেশ চিত্র প্রদর্শনীতে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম   > যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল এম কম   > কাশ্মীর নিয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে : ইমরানের হুঁশিয়ারি   > তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১,আহত ১০০০   > সড়ক নিরাপত্তায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ব্র্যাক   > শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে ভালো স্কুল হয় না : তথ্যমন্ত্রী   > ইরানের হামলায় মার্কিন সেনাদের মস্তিষ্কে আঘাত   > খেলাধূলার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে চাই : প্রধানমন্ত্রী  

   চট্রগ্রাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি করে ২৪ জন হত্যার দায়ে ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো : এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি চালিয়ে

২৪ জনকে হত্যার দায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সোমবার বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় প্রত্যেকের আরও দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো- কোতোয়ালী থানার তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (মামলার বিচার শুরুর পর থেকেই পলাতক),

সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশের তৎকালীন হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন রায় ঘোষণার পর বলেন,

আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

এসব ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে আসামিদের। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ মোট ৫৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত রোববার ও গতকাল সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে জে সি মণ্ডল

তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম আমরা।

আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ৩২ বছর আগে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন।

আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ। ঘটনাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

এসময় নিহত হন- হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম. স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য,

বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য,

বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, মসর দত্ত, হাশেম মিয়া, মো. কাশেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, মো. শাহাদাত।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে

চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়।

এতে রকিবুল হুদাকে ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বহুল আলোচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।

আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে

এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে

মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন পেট্্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মন্ডল, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সালাম,

মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো.আব্দুল্লাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

আসামিদের মধ্যে রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম মারা গেছেন।

জে সি মন্ডল পলাতক আর বাকি চারজন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।

চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি করে ২৪ জন হত্যার দায়ে ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
                                  

চট্টগ্রাম ব্যুরো : এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি চালিয়ে

২৪ জনকে হত্যার দায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সোমবার বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় প্রত্যেকের আরও দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো- কোতোয়ালী থানার তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (মামলার বিচার শুরুর পর থেকেই পলাতক),

সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশের তৎকালীন হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন রায় ঘোষণার পর বলেন,

আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

এসব ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে আসামিদের। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ মোট ৫৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত রোববার ও গতকাল সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে জে সি মণ্ডল

তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম আমরা।

আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ৩২ বছর আগে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন।

আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ। ঘটনাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

এসময় নিহত হন- হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম. স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য,

বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য,

বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, মসর দত্ত, হাশেম মিয়া, মো. কাশেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, মো. শাহাদাত।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে

চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়।

এতে রকিবুল হুদাকে ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বহুল আলোচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।

আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে

এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে

মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন পেট্্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মন্ডল, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সালাম,

মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো.আব্দুল্লাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

আসামিদের মধ্যে রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম মারা গেছেন।

জে সি মন্ডল পলাতক আর বাকি চারজন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।

চট্টগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
                                  

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় দু’টি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন, ওমর ফারুক (৩০), আ স ম জাহিদ হোসেন (৪১) ও নিগার সুলতানা (২৫)।

নিগার সুলতানা ও জাহিদ হোসেনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ার বিল এলাকায়।

আর ওমর ফারুকের বাসা চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকায়।

আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, শান্তির হাটে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায়

সাত জনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ধর্মঘট শুল্ক কার্যক্রম ব্যাহত চট্টগ্রাম বন্দরে
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : শুল্ক কর্মকর্তাদের হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান ধর্মঘট করছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চত্বরে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন বলে

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু জানিয়েছেন।

ধর্মঘটের কারণে বন্দরে শুল্ক বিভাগের কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ হয়ে রয়েছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়নি।

তবে আগে দাখিল করা বিল অব এন্ট্রির আমদানি পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ চলছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীদের ধর্ঘটের কারণে বুধবার থেকে বন্দরে পণ্য খালাসে সমস্যা হতে পারে বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

কর্মসূচির বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের হয়রানি,

চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে আমরা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

“মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে সম্প্রতি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার।

আমদানিকারকদের অন্যায়ের দায়ভার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কেন নেবে- এটি অন্যায় ও অযৌক্তিক।”

চিঠি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আচরণসহ আটদফা দাবিতে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারী ইউনিয়নের আন্দোলন চলবে বলে তিনি জানান।

এবিষয়ে মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলমের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

 

 

ভোট চলছে চট্টগ্রাম-৮ আসনে
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ জাসদের নেতা মইন উদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।

আজ সোমবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলার ১৭০টি কেন্দ্রের এক হাজার ১৯৬টি ভোট কক্ষে একযোগে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

এ আসনের চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার সংসদে তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন।

এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ভোটের সব প্রস্তুতিই তারা নিয়েছেন।

ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবেন এবং সকলের অংশগ্রহণে একটি ‘প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন’ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা, মহানগরীর চান্দগাঁও ও বায়েজিদের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত

চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটারদের মধ্যে দুই লাখ ৪১ হাজার ১৯৮ জন পুরুষ এবং দুই লাখ ৩৩ হাজার ২৮৭ জন নারী।

এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৪ হাজার ১৩১, বাকি ভোটার চট্টগ্রাম মহানগরীর।

মোট ছয়জন প্রার্থী এ উপ নির্বাচনে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদের নৌকা এবং

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের ধানের শীষের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন সবাই।

বাকি চার প্রার্থী হলেন- বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ (টেলিভিশন), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ (চেয়ার),

ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত (কুঁড়েঘর) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল)।

ভোটের প্রচারের শেষ দিনে নৌকার প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন,

“আগুন সন্ত্রাসীরা’ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে তার।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান অতীতের অভিজ্ঞতায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে চান বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, “অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সার্বত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এবারের ভোট ইভিএমে হবে এবং আমাদের জানা মতে ফ্রেশ ও ফেয়ার ইলেকশন হবে।”

এ আসনের বোয়ালখালী উপজেলা অংশে যে ৬৯ কেন্দ্রে ভোট হবে, সেসব এলাকায় ১২৫০ জন পুলিশ এবং ৮৪০ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

আর চট্টগ্রাম মহানগরী অংশের ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ।

মহানগর পুলিশের কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, “কোনো গোলমালের শঙ্কা নেই।

নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি কয়েকটি কেন্দ্র পরপর টহল পার্টি, স্ট্রাইটিং পার্টি নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।”

দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি নির্বাচিত হন জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল।

এরপর জাসদের একটি অংশ আলাদা হয়ে গঠন করে বাংলাদেশ জাসদ। বাদল ওই অংশের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পান।

তবে বাংলাদেশ জাসদ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না পাওয়ায় একাদশ সংসদ নির্বাচনেও

বাদল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং টানা দ্বিতীয়বারের মত জয়ী হন।

গতবছর ৭ নভেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাদলের মৃত্যু হলে নির্বাচন কমিশন উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

 

 

 

পারকি সৈকতে মদ খেয়ে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
                                  

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা পাঁচ পর্যটক মাদক ব্যবসায়ী নাছিম ও তার ভাইয়ের দোকান থেকে কৌতূহলের বশে মদ খেয়ে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

ঘটনার পর সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে কর্ণফুলী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সৈকতে গড়ে উঠা দোকান গুলো পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-সহকারি পরির্দশক মোহাম্মদ পারভেজ।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সৈকতে ঘুরতে আসেন কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ইব্রাহীমের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৬), চরলক্ষ্যা ৬নং ওয়ার্ডের আবদুল গফুরের ছেলে শরিফ নিশু (২৩), মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে মোজাম্মেল হক ইউরো (২১), নুর উদ্দিনের ছেলে ইয়ার মোহাম্মদ মধু (২২) ও ভোলা জেলার বোরহানগঞ্জের নুর উদ্দিনের ছেলে লিটন মিয়া (২২)।

তারা স্থানীয় মদ ব্যবসায়ী নাছিমের দোকানে বিদেশি মদ চাইলে মদবিক্রেতা নাছিম একটি খোলা বোতল এনে দেন।

খোলা বোতল তাদের সন্দেহ হলে সে জানায়, ‘ওটা ভদকা। একজনকে একটু দিয়েছি, তাই খোলা।’ এরপর পাঁচ যুবক মিলে দুই পেগ করে মদ পান করেন।

ওই মদ খাওয়ার পরপরই তারা অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন। সবার বুক জ্বালাপোড়া করতে শুরু করে।

এর একপর্যায়ে দ্রুত তারা নিজ-নিজ বাড়ি চলে যান। পরে রাতে একইসঙ্গে পাঁচ যুবকই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে অবস্থা গুরুতর অবনতি ঘটার একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার লিটন মিয়া ও বৃহস্পতিবার জসিম উদ্দিন নামে দুই যুবক মারা যান।

এ ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় বাকি তিন যুবক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মদে বিষক্রিয়ার কারণে এই ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলের দায়িত্বরতদের সাথে কথা বলে জানতে পারি বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আনোয়ারার দূর্বার বারখাইনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
                                  

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সামাজিক সংগঠন দূর্বার বারখাইন উদ্যোগে দূর্বার মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিবাশি উচ্চ বিদ্যালয়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াদ্দীন মাহমুদ, আবুল কালাম, সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন, এস.এম ফোরকান, বিদ্যালয় কমিটির সদস্য কবির আহম্মদ আজাদ, ডা. সানি দেব নাথ, ডা. রাশেদুল আলম, সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদ মাসুদ, মুহাম্মদ নিজামুল ইসলাম, লোকমান আলী, মিজানুল ইসলাম, হাছিব, হাসানুল, ইমতিয়াজ, ছাবিত, সাজ্জাদ, মানিক, মুন্না, সাকিব, রাতুল, আরিফ, রিজভী, সিফাত, মোতালেব, মিনহাজসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৮শত জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। উল্লেখ্য, দূর্বার বারখাইন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা এবার দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। যা ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

আনোয়ারায় মাদকসেবী ছেলের বিরুদ্ধে মা-বাবার সংবাদ সম্মেলনে
                                  

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ৭নং ওয়ার্ডে মাদকসেবী ছেলে মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে মা-বাবাকে মারধর ও গৃহবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ছেলে সোলাইমানের শাস্তি দাবি করেছেন মা-বাবা।

বাবা মনির আহমদ (৭৮) ও মা জাহানা বেগম (৬৫), ভাবী রুমা আকতার (২৫)।

অভিযোগ সর্বশেষ গত রোববার (১ ডিসেম্বর) রাতে মাদকসেবী ছেলে তাদেরকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টা ও আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে মা ও ভাবীকে।

প্রাণ বাঁচাতে বৃদ্ধ বাবা চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৩ দিন ধরে আশ্রয় নেয়।

এসময়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতিত বৃদ্ধ পিতা মনির আহমদ ও মা জাহানা বেগম বলেন, নিজের জীবন ও মালের চরম সংকট মুহূর্ত উপস্থিত হয় তখনি বুঝতে পারে তার জীবন সম্পন্ন সংকটময়, যেকোন মুহূর্তে আমাদের জীবনের প্রদীপ অনাকাক্ষিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিভে যেতে পারে, তাও নিজের ছেলের অপকর্মকাণ্ডে।

আমাদের তিন ছেলের মধ্যে মোহাম্মদ লোকমান ও মোহাম্মদ ওসমান প্রবাসে থাকে। তারাই আমাদের এই যাবৎ বরণ পোষণ করে আসতেছে।

মোহাম্মদ সোলাইমান সবার ছোট সে গত ২০১৭ সালে বিদেশ থেকে দেশে এসে আমার ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের সকল সম্পত্তি তার নামে লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ও তার নিজ অর্থে নির্মিত ঘর ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

এতে আমরা রাজি না হওয়াতে বিভিন্ন সময় শারিরিক নির্যাতন করে আসছে। আমাদের বরণ পোষণকারী প্রবাসী দুই ছেলের স্ত্রী সন্তানদেরও আমাদের সাথে মেরে পেলার হুমকি দেয়।

আমাদেরকে কেউ সাহায্য করতে আসলে তাদেরও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

সহযোগিতা করতে আমার স্ত্রী ভাই আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ আলী, নুরুল আলম টিপুকে হত্যা চেষ্টা, হুমকিসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করে এবং টিপুর কাছে ২ লক্ষ টাকা পাবে বলে আদায় করে।

আমার স্ত্রী জাহানা বেগমকে মাথার চুল ধরে টানা হেছড়া করে বাড়ির সামনে মদনা মসজিদের সামনে এনে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। যার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলী তার পুত্র টিপুর নিরাপত্তা চেয়ে আনোয়ারা থানায় মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করে।

সর্বশেষ গত রোববার (১ডিসেম্বর) দেশে ফিরে আমাকে আমার স্ত্রী, পুত্র বধু ও তাদের সন্তানসহ হত্যার চেষ্টা করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ঘরের মধ্যে গৃহবন্দি করে রাখে।

ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে যাতে আমরা কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারি।

তার অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে আনোয়ারা থানায় অভিযোগ করতে গিলে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এএসআই পলাশ মজুমদারের কাছে অতীত ও বর্তমানের সকল নির্যাতনের কথা বললে তিনি আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।

এদিকে আমার ছেলে সোলাইমান আমাকে ফোন করে থানার আসার কারণ জানতে চাই এবং বলে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করলে আমাদের সবাইকে জানে শেষ করে দিবে।

সে ভয়ে আমি থানা থেকে অভিযোগ না করে চট্টগ্রামের হালিশহরের পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে আনোয়ারা থানার এএসআই পলাশ মজুমদার বলেন, এ ঘটনার একটি অভিযোগ করার জন্য একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন।

উনাকে একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলি। পরে তিনি অভিযোগ না করে চলে গেছেন।

প্রবাসী মোহাম্মদ ওসমানের স্ত্রী রুমা আকতার বলেন, দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে শাশুরি ও আমার ছেলে মেয়েদেরসহ আমাদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছে।

আমাদের উপর বিভিন্ন সময় তার ভারাটে সন্ত্রাসী ও সে শারীরিক নির্যাতন করে।

প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও হামলা মামলা ভয়ভীতি দেখায়। আজ অনেক কষ্ট করে পালিয়ে বের হয়েছি।

আপনাদের সহযোগিতা পাব বলে। আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের বাঁচান। হইতো জীবনের শেষ বেলায় আপনারাই একমাত্র ভরসা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শীতে খাগড়াছড়িতে ২ সপ্তাহে শিশুর মৃত্যু ৭
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :  শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে গত দুপ্তাহে ৭ শিশু মারা গেছে।

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো অন্তত ২০ শিশু।

এদিকে, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরের জনজীবন।

দু`দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না এ জেলায়। আজ রোববার (২২ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় যশোরে।

এখানে প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীতের তীব্রতা বেড়েছে চুয়াডাঙ্গায়।

শীতের হাত থেকে রেহাই পেতে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষে ভিড় করছেন পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে।

আগামী আরও কয়েকদিন এ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় অবহাওয়া অফিস।

এদিকে, ঘন কুয়াশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীত বাড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীতে।

আজ রোববার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

কনকনে শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।

অন্যদিকে, হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছেন পঞ্চগড়বাসী।

গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চালাতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

এছাড়া রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহে স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রামের অনেক নেতার আগমন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলন সফল করতে ১২টি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এসব কমিটি সম্মেলনের সবধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আর এই সম্মেলন প্রস্তুতির মধ্যদিয়েই কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জোর লবিং-তদবিরও সেরে নিচ্ছেন দলীয় নেতারা। তবে এবারের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এখন থেকেই।

এবার নানা কারণে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের স্থান দেয়ার গুঞ্জনও বইছে। ফলে কমিটিতে আসতে পারেন চট্টগ্রামের অনেক নেতা। চট্টগ্রাম শহরে তাদের নামও ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে।

চট্টগ্রামের স্বচ্ছ এবং পরিচ্ছন্ন ত্যাগী নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে কারা আসছেন আর কারা বাদ পড়ছেন; তা জানা যাবে সম্মেলনে কমিটির তালিকা প্রকাশ করার পর।

একাধিক সূত্র জানায়, ১/১১ সময় দলের অধিকাংশ নেতার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ ছিলেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৯ সালে সম্মেলনে সমালোচিতদের বাদ দিয়ে কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন।

এবার ক্যাসিনোকান্ডসহ অনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডে দলের একশ্রেণির নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে ২০০৯ সালের পর এবারের কমিটিতেই বড় ধরনের একটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় জরিপ পর্যালোচনা করে এবারো বর্তমান কমিটির অর্ধেক নেতাকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করছে ক্ষমতাসীন দলটি।

এক্ষেত্রে তৃণমুলে যারা সন্ত্রাস আর দুর্র্নীতিকে লালন-পালন করেছেন তারাই দলের পদ থেকে ছিটকে পড়বেন বলে জোরালো গুঞ্জন চলছে চট্টগ্রামে।

আওয়ামী লীগের এক সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কমিটিতে পরিবর্তন আসবে। সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সব পদেই পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটা বাদ পড়া না বলে দায়িত্বের পরিবর্তন হয় মাত্র। এবারের সম্মেলনে শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব থাকবে। যারা ইতোমধ্যে বিতর্কিত তারা কমিটিতে কোন স্থান পাবেন না। নতুন-পুরানো মিলিয়েই কমিটি হবে। অনেকের পদ পরিবর্তন হতে পারে। আসতে পারেন নতুন মুখও।’

 দলীয় সূত্র জানায়, আস্থা ও ভালোবাসার মূর্তপ্রতীক হয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারো সভাপতি হবেন।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজন দৌড়ঝাঁপ করছেন। এই পদে পরিবর্তন হলেও হতে পারে।

এবার পদ হারাতে পারেন বর্তমান কমিটির বহু নেতা। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। আবার নতুন করে যোগও হবেন কেউ কেউ।

আর কমিটিতে চট্টগ্রামের নেতাদের আধিপত্য থাকবেই এমনটাই আলোচনা চলছে।

এরইমধ্যে গত কমিটিতে থাকা তিন নেতা পদোন্নতি পেতে পারেন। উপদেষ্টা পরিষদেও চট্টগ্রাম থেকে নতুন কেউ আসতে পারেন।

বিগত কাউন্সিলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্থান পাওয়া ছিল চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড়ই চমক।

পরে প্রেসিডিয়ামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, উপদেষ্টা পরিষদে ড. অনুপম সেন, ইসহাক মিয়া, ড. প্রণব কুমার বড়-য়া, প্রচার সম্পাদক পদে ড. হাসান মাহমুদ, উপ-সম্পাদক পদে আমিনুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়-য়ার ঠাঁই হয়।

পরে ইসহাক মিয়ার মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। কমিটির সদস্য করা হয় রাঙামাটির দীপংকর তালুকদারকে।

সে সময় কয়েক ধাপে কমিটি ঘোষণায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়-য়াকে প্রথমে সদস্য ও পরে উপ-দপ্তর সম্পাদক করে চট্টগ্রামবাসীর জন্য আরো একটি চমক দেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

এবার ২১তম কাউন্সিলে ঘুরেফিরে আলোচনায় আছেন গত কমিটিতে থাকা চট্টগ্রামের এসব নেতারা।

এর বাইরেও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেল কমিটিতে আসতে পারেন।

এবারই প্রথম বারের মতো কক্সবাজার থেকে একজন নেতাকে কমিটিতে জায়গা দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

তবে দল ও সংগঠন পৃথকের যে পরিকল্পনা আছে আওয়ামী লীগের তার বাস্তবিক রূপ দেয়া হলে হিসেব-নিকেশটা একেবারেই পাল্টে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, এবারে কমিটিতে কারা আসবেন তা শুধুমাত্র নেত্রীই জানেন।

অত্যন্ত নান্দনিক ও জাঁকজমকভাবে সম্মেলনের এখন পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। ত্যাগী প্রবীণ-নবীণের সমন্বয়ে ডায়ানামিক নেতারাই এবার নেতৃত্বে আসবেন।

তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তার জন্য কমিটির তালিকা প্রকাশ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।

টেকনাফে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক-১
                                  

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে নাফ নদ সাঁতরিয়ে পাচারের সময় ৪৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোঃ হাফেজ আহম্মদ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বডার্র গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ভোর রাতে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমোড়া নাফ নদ সীমান্তে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।

সে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী সাঁতরিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছিল।আটক রোহিঙ্গা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা জাদিমোড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের মৃত আলী হোসনের ছেলে।

গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কণের্ল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান এক ক্ষুদে বার্তায় এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানায়, ওই সময় দমদমিয়া বিওপি বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল মায়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান পাচারের গোপন সংবাদে উক্ত এলাকায় জঙ্গলের ভিতরে কৌশলগত অবস্থান নেয়।

এর কিছুক্ষণ পর একজন লোক মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে নাফ নদী সাঁতরিয়ে এসে একটি বস্তা নিয়ে জাদিমোড়া নাফ নদী পাড়ের কেওড়া জঙ্গলে উঠার সাথে সাথে বিজিবি চ্যালেঞ্জ করলে সে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় চেষ্টা করেন।

পরে বিজিবি সদস্যরা বস্তাসহ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার বস্তা থেকে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৩২ লাখ টাকা বলে জানায়।

উদ্ধার ইয়াবাসহ আটক রোহিঙ্গাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন।

নারীরা হাল ধরলে এগিয়ে যাবে দেশের পর্যটন শিল্প-ভূবন চন্দ্র বিশ্বাস
                                  

চট্টগ্রাম ব্যুরো : নারীরা হাল ধরলেই দেশের পর্যটন শিল্প এগিয়ে যাবে। দেশের বৃহত্তম সেবা খাত পর্যটনের উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে নারীদের অংশগ্রহণ অনিবার্য। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব ড .ভূবনচন্দ্র  বিশ্বাস বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ট্যুরিজম বিষয়ক এক সেমিনার এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

পর্যটন শিল্পে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরতে গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ডস্থ ১৩তম আন্তর্জাতিক মহিলা এসএমই বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ ২০১৯ এর সেমিনার হলে এ সেমিনার এর আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন টেকসই পর্যটন এমন একটি প্রক্রিয়া যা আজকের চাহিদা মেটাবে এবং ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্থ করবেনা।

আগামী প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে নয়, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উন্নয়নই আমরা চাই।

আর এর জন্য সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তির ইতিবাচক মনোভাব, ব্যক্তিগত অংশগ্রহণ ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তার সমন্বয় প্রয়োজন।

চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী’র সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সাংসদ ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সদস্য সাবিহা নাহার বেগম, এশিয়ান ইউনিভাসির্টি ফর উইম্যান এর রেজিস্টার দেব ডোলেন্ড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন ও সম্মানিত অতিথি বাংলাদেম ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এ্যাসোসিয়েশান এর সভাপতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোটেল আগ্রাবাদ এর সিইও এইচ এম হাকিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা এবং সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ১৩ তম আন্তর্জাতিক মহিলা এসএমই বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ ২০১৯ এর চেয়ারপর্সন ডা. মুনাল মাহবুব।

মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, লিঙ্গ বৈষম্যতা দূর করে নারীদের কাজগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে এবং পর্যটন শিল্পে সেগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং নারীদের গতানুগতিক ব্যবসা থেকে বের হয়ে পর্যটনসহ অন্যান্য খাতগুলোতেও কাজ করতে হবে যা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন পর্যটনের অন্যতম সম্ভাবনার ক্ষেত্র চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে হবে যেখানে চট্টগ্রামের নারী উদ্যোক্তারা ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

এছাড়াও চট্টগ্রামকে ছোট ছোট আঙ্গিকে সাজিয়ে পর্যটনের আকর্ষণবিন্দুতে পরিণত করার পরামর্শ দেন বিশেষ অতিথি সাবিহা নাহার বেগম।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রেখা আলম চৌধূরী, পরিচালক, সদস্যসহ বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর কর্মকর্তা ও কর্মকর্মচারীবৃন্দ।

 

পাহাড়ে উপজাতিরা বলির পাঠা, বাঙালীদের চাপা ক্ষোভ
                                  

চট্টগ্রাম ব্যুরো : পাহাড়ে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে সাধারণ উপজাতি ও বাঙালীরা। অস্ত্রধারী উপজাতি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে আগ্রহ হারিয়েন ব্যবসায়ীরা। চাষাবাদ বন্ধকরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন সেখানকার চাষি ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সেখানে বাঙালীদের গড়া বিভিন্ন সংগঠন সন্ত্রাসীদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিক্ষপ্তভাবে প্রতিবাদ জানালেও এতে কর্নপাত করেনি দেশী ও আন্তজাতিক কোনো মহল।

উল্টো পাহাড় থেকে বাঙালী বিতাড়নের নামে উপজাতি অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনের রাজত্বেও পক্ষে ছাপাই গেয়ে চলেছে সুশীল সমাজের ব্যানারে বিশেষ একটি মহল। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একজোট হয়ে কাজ করার প্রত্যয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে “পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ” নামে নবগঠিত একটি সংগঠণ।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে এমন পরিস্থিতির কথা সাংবাদিকদের জানান বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য কাজী মজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের চাঁদা দেয়া ছাড়া নিস্তার মিলেনা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া সেখানকার অধিবাসিদের।

তাই বিভিন্ন সময় বাঙালীদের নিয়ে এককভাবে গড়া সকল সংগঠণ বিলুপ্তির করা হয়েছে।

উপজাতি ও বাঙালী অধিকার আদায়ে গঠন করা হয়েছে নতুন সংগঠন “পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। 

এরআগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য “পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ’র” আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুইয়া।

তিনি বলেন, পাহাড়ি বাঙালি ভেদাভেদ ভুলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত নিপীড়িত ও বঞ্চিত সব মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ নামে নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ।

এখন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনরত পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম বিলুপ্ত করা হল। সেই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র-নৃ- গোষ্ঠি তথা উপজাতি ও বাঙালী সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সাথে নিয়ে এক ও অভিন্ন লক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কাজ করবে।

এই সংগঠনের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে কাজ করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ কওে তিনি বলেন, দেশবাসীকে আমরা দৃঢ়তার সাথে জানাতে চাই, সম্ভাবনাময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র স্বাধীনতার পর  থেকেই আমাদের তাড়া করে ফিরছে।

এই ষড়যন্ত্র হয়তো অনেক আগেই বাস্তবায়িত হয়ে যেতো, যদি না পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের দেশ প্রেমিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যগণ সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতো।

কিন্তু সেই দেশ প্রেমিক নিরাপত্তা বাহিনীর নামেও ষড়যন্ত্রকারীরা নানা অপবাদ এবং মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।

তাদের অপপ্রচারের কারণেই পাহাড়ে বেশ কিছু অঞ্চল থেকে সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে নেয়ার ফলে সেসব এলাকার মানুষ এখন আর রাতে ঘুমাতে পারেনা। 

প্রতিনিয়তই সবুজ পাহাড়ে রক্ত ঝরছে, কখনো বাঙালিদের আবার কখনো বা উপজাতিদের। খুনের পাশাপাশি পাহাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প ও কৃষিখাত স্থবির হয়ে রয়েছে চাঁদাবাজীর যাতাকলে।

একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও উপজাতিদের মধ্যে সহিংসতা ও সংঘাত তৈরি এবং উপজাতিদের বিপন্নতা ধুয়াতুলে আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি নিয়ে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর জাতীয় ইসুতে বিদেশী শক্তিকে জড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এরই পাশাপাশি স্বার্থান্বেষী মহল উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং দুস্কৃতিকারীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের স্বাধীন ‘জুম্মল্যান্ড’ তৈরির প্রক্রিয়া তরান্বিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এসব ষড়যন্ত্র অনন্তকাল চলতে দেয়া যায় না।

একই সাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোকে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাহাড়িদের হাতে বলির পাঠা হতে দেয়া সম্ভভ নয়।

যার কারণে পাহাড়ি-উপজাতি ভেদাভেদ ভুলে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে “পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের” ঐক্যবদ্ধ হওয়া। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটির  সদস্য ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আলমগীর কবির, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, অধ্যক্ষ আবু তাহের, এসএম মাসুম রানা, আব্দুল হামিদ রানা, মো. আবুল কাইয়ুম, বান্দরবান সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন, এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, মো. রেজাউল করিম, মো. আরিফ বিল্লাহ, মো, আব্দুল মজিদ, মো. সোলায়মান, মো, মনিরুজ্জামান মনির, মো. শেখ আহমেদ রাজু, মো. আনিছুজ্জামান ডালিম, মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দিন, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. আসাদ উল্লাহ, লোকমান হোসেন, সালমা আহমেদ মৌ, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. শাহজাহান আলম, মো. আতাউর রহমান, আফসার উদ্দিন ও আলম খানসহ আরও অনেকে।

উল্লেখ্য :  গত ৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংগঠনটি আত্ম প্রকাশ করে।

 

চট্টগ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে যুবকের মৃত্যু
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাড়িতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এক যুবক।

গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী কাজী কোরবান আলী সওদাগর বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানায়।

নিহত নুরুল আজিম (৩০), ওই বাড়ির মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

বোয়ালখালী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা কৃতিরঞ্জন বড়ুয়া জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার স্টেশনের দুটি গাড়ি গিয়ে রাত ২টার দিকে আগুন নেভায়।

এসময় আগুনে পুড়ে নুরুল আজিম নামে একজন নিহত হয়েছে।

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আগুনে দুইটি ঘর পুড়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল ক্ষতি হয়েছে।

বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু জানান, তার ঘরের পাশের ঘরে এ আগুন লাগে। নিহত নুরুল আজিম তার চাচাত ভাই।

কালাম বলেন, রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা আজিমের সন্তান ও স্ত্রী আগুন লাগার পর বাড়ি থেকে বের হতে পারলেও তিনি বের হতে পারেননি।

 

নদীতে ঝাঁপ দেয়া যুবকের লাশ উদ্ধার
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পুলিশের তারা খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়া নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে।

 গতকাল সোমবার রাত আড়াইটার সময় নদীতে লাশ ভেসে উঠলে নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দোহাজারী পৌর সদরের বার্মা কলোনিতে ছাবের আহমদ (৫৫) অন্যান্য দিনের মতো একটি চায়ের দোকানে টিভি দেখছিল।

এ সময় সময় হঠাৎ একদল টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানে বসা অন্যরা পালিয়ে গেলে ছাবের আহমদ ও তাদের সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং আত্মরক্ষার জন্য শঙ্খনদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়।

পরবর্তীতে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের ৪ জনের একটি ডুবুরি দল গতকাল সোমবার বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেন।

পরে গতকাল সোমবার রাত আড়াইটার সময় নিখোঁজ সাবের আহমদের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে তার আত্মীয়স্বজন পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

নিহত সাবের আহমদ পূর্ব দোহাজারী ৭নং ওয়ার্ডের নজির আহমদের ছেলে বলে জানা যায়।

 

পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছরেও পাহাড়ে সংঘাত থামছে না
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশে পার্বত্য চুক্তির ২২ বছর পার হলেও তিন পার্বত্য জেলায় সংঘাত, অস্থিরতা বেড়েই চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ স্বীকার করেছেন।

এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েই বিতর্ক এখনও থামছে না।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাহাড়ীদের একটি সংগঠন জনসংহতি সমিতি অভিযোগ করছে, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন গোষ্ঠী নানান উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় থাকার সুযোগ পাচ্ছে এবং সেকারণে সেখানে অস্থিরতা বাড়ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের অনেকে বলছেন, চাঁদাবাজি এবং অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই আঞ্চলিক দল এবং গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং সংঘাত হচ্ছে।

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জন সংহতি সমিতির মধ্যে এই শান্তি চুক্তিটি হয়েছিল।

এই চুক্তির মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান হয়েছিল। পাহাড়ে তার একটা ইতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত ২২ বছরে এসব প্রশ্ন আর অভিযোগের পাল্লা ভারি হয়েছে।

পার্বত্য তিন জেলায় জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যাকে পাহাড়িদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, এর সমাধানে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে পাহাড়িদের সংগঠনগুলোর প্রশ্ন রয়েছে।

রাঙামাটি থেকে একজন মানবাধিকার কর্মী টুকু তালুকদার বলছেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনেক রকম স্বার্থ তৈরি হয়েছে, সেজন্য সংকট বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন,"আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে চুক্তি হওয়ার পর সরকার তার বাস্তবায়ন শুরু করেছিল। তার পর বিএনপি সরকার আসলো। তখন সেই চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একটা বিরতিতে পড়লো।তখন এখানে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ ঢুকে যায়।"

"ইন্টারেস্ট গ্রুপ যখন ঢুকে যায়, তখন চুক্তিবিরোধীরা অনেক ইস্যু নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে। আবার আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। কারণ ইন্টারেস্ট গ্রুপ বেড়ে গেছে। এখানে বিষয় জিইয়ে রাখা এবং অনেক ইন্টারেস্ট গ্রুপের কারণে বিষয়টা ঘোলাটে হয়ে গেছে," বলেন তিনি।

পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিনটি জেলা পরিষদ গঠনকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেগুলোতে ২২ বছরে কোন নির্বাচন করা হয়নি।

এছাড়া আঞ্চলিক পরিষদের হাতে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং সব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করাসহ চুক্তির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করে আসছে পাহাড়ি সংগঠনগুলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির কারণে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়িদের রাজনৈতিক দলগুলো অধিপত্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকেছে। সেজন্য তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লামার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিও বিভক্ত হয়েছে। ভাগ হয়েছে চুক্তি বিরোধী পাহাড়িদের একটি সংগঠন ইউপিডিএফ।

পার্বত্য এলাকায় নাগরিক পরিষদ নামের বাঙালীদের একটি সংগঠনের একজন নেত্রী নুরজাহান বেগম বলছেন, "আঞ্চলিক দলগুলো এবং সেখানে তৎপর বিভিন্ন গোষ্ঠীর এখন আয়ের মূল উৎস হয়েছে চাঁদাবাজি। ফলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য অস্ত্রের ব্যবহার এবং সংঘাত বেড়েই চলেছে। এখানে অর্থস্বার্থই এখন একমাত্র বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

পার্বত্য চট্টগ্রামের পুলিশ বলছে, অধিপত্য বিস্তারে গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। সে কারণে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ রয়েছে।

পার্বত্য এলাকার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে তিন পার্বত্য জেলায় সংঘাতে কমপক্ষে ২২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাহাড়িদের সংগঠন বা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত যেমন বাড়ছে, তেমনি পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যেও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়েছে।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির নেতা উষাতুন তালুকদার বলেছেন, চুক্তির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংকট কাটছে না।

তিনি বলেন, "অনেকে বলে থাকেন, আমরা অস্ত্র রেখে এসেছি বা নতুন করে এগুলো বের করেছি। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক দল। খুবই আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছার সাথে চুক্তি করে আমরা ফিরে এসেছি। এসে দেখা গেলো যে, নানা কারণে এমন পরিস্থিতি হচ্ছে। যারা এখন অস্ত্রবাজি করছে, তাদের তো আদর্শ নেই।"

"যে উদ্দেশ্য নিয়ে চুক্তি হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য বা আদর্শের ধারে কাছে যাওয়া কি সম্ভব হয়েছে? চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে এখানে শান্তি আসবে না।"

সরকার বরাবরের মতো এখনও এসব বক্তব্য মানতে রাজি নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তির ছোটোখাটো যে বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর দিকে সরকারের নজর রযেছে।

 

রাঙামাটিতে জেএসএস’র কালেক্টর বিক্রম নিহত
                                  

রাঙামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তির মাত্র একদিন আগে ঝড়েগেল আরও একটি প্রাণ।

গতকাল রোববার দুপুরে রাঙামাটি সদর উপজেলাস্থ আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বড় আদম এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে জেএসএস এর এক কালেক্টরকে।

রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।

নিহতের নাম বিক্রম চাকমা ওরফে সুমন চাকমা এবং তার বাড়ি রাঙামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের চার রাউন্ড গুলির খোসা পড়ে থাকা অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। নিহতের দুই হাতে, বুকের এক পাশে গুলির চিহ্ন দেখা  গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, মূলত: রাইফেল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই বিক্রমকে হত্যা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গুলির খোসাগুলো দেখে সেরকমটাই মনে করছেন তিনি।

স্থানীয় দোকানদাররা জানান, কয়েকজন মুখোশপড়া পাহাড়ি যুবক সশস্ত্র অবস্থায় বিক্রমকে নিয়ে এসে গুলি করে মৃত্যু ।

সে সময় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, অন্তত ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলির আওয়াজ তারা শুনেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিক্রম জেলার কাউখালী ও ঘাগড়া এলাকায় চাঁদা আদায়ের কাজ করতেন।

কয়েক মাস আগে রাঙামাটির শীর্ষ চাঁদাবাজ জ্ঞান শংকর চাকমা নিহত হওয়ার পর তার স্থানে দায়িত্ব পান বিক্রম।

পরবর্তীতে তিনি চীফ কালেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে নিজ এলাকা থেকে সটকে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বিক্রম।

তবে পালিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।

গতকাল রোববার ভোররাতে স্বগোত্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতেই নিহত হয়েছে বিক্রম চাকমা।

পাহাড়ী অস্ত্রধারীরা তাকে গুলি করে হত্যার পর বড় আদমের অদূরে একটি দোকানের পেছনে লাশ ফেলে রেখে যায়।


   Page 1 of 8
     চট্রগ্রাম
চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি করে ২৪ জন হত্যার দায়ে ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
চট্টগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
.............................................................................................
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ধর্মঘট শুল্ক কার্যক্রম ব্যাহত চট্টগ্রাম বন্দরে
.............................................................................................
ভোট চলছে চট্টগ্রাম-৮ আসনে
.............................................................................................
পারকি সৈকতে মদ খেয়ে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
.............................................................................................
আনোয়ারার দূর্বার বারখাইনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
আনোয়ারায় মাদকসেবী ছেলের বিরুদ্ধে মা-বাবার সংবাদ সম্মেলনে
.............................................................................................
শীতে খাগড়াছড়িতে ২ সপ্তাহে শিশুর মৃত্যু ৭
.............................................................................................
কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রামের অনেক নেতার আগমন
.............................................................................................
টেকনাফে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক-১
.............................................................................................
নারীরা হাল ধরলে এগিয়ে যাবে দেশের পর্যটন শিল্প-ভূবন চন্দ্র বিশ্বাস
.............................................................................................
পাহাড়ে উপজাতিরা বলির পাঠা, বাঙালীদের চাপা ক্ষোভ
.............................................................................................
চট্টগ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে যুবকের মৃত্যু
.............................................................................................
নদীতে ঝাঁপ দেয়া যুবকের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছরেও পাহাড়ে সংঘাত থামছে না
.............................................................................................
রাঙামাটিতে জেএসএস’র কালেক্টর বিক্রম নিহত
.............................................................................................
এনআইডি জালিয়াতি, ইসির আরও দুকর্মচারী কারাগারে
.............................................................................................
বাসে ধর্ষণ চেষ্টা, ফুটেজ দেখে আটক ৩
.............................................................................................
আনোয়ারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহবায়কের মায়ের মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
আনোয়ারায় বৃদ্ধের লাশ দাফনে বাধা যুবলীগ নেতার
.............................................................................................
থমকে আছে চবির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ
.............................................................................................
চট্টগ্রামের বিচার বিভাগে স্মরণ সভা
.............................................................................................
চট্টগ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে তিনজন গ্রামবাসীর মৃত্যু
.............................................................................................
রাউজানের জঙ্গলে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা
.............................................................................................
চট্টগ্রামে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন
.............................................................................................
অবরোধকারীদের বাধায় পরীক্ষা দেয়া হলনা পিইসি পরীক্ষার্থীর!
.............................................................................................
নিউ মার্কেটের যাত্রী ছাউনীতে বিক্রি হচ্ছে পেট্র্রোল বোমার রশদ
.............................................................................................
মহাসড়কের পাশে জঙ্গলে অজ্ঞাত নারীর লাশ
.............................................................................................
অনুদান নয়, ঘাতক ট্রাক চালকের মৃত্যুদণ্ড চাই
.............................................................................................
রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতির দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত-৩
.............................................................................................
পিইসি পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া হলো না প্রধান শিক্ষিকা অ্যানির
.............................................................................................
চট্টগ্রামে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে বিস্ফোরণে নিহত ৭
.............................................................................................
“স্বাস্থ্য বিভাগে এসআই-এসআইডি পদায়নে হারিয়ে গেছে আইন”
.............................................................................................
বাস-ট্রাকের ধাক্কায় মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩,আহত-৫
.............................................................................................
চেয়ারম্যানের মায়ের মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
মানিকছড়িতে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ
.............................................................................................
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে চলছে হরিলুট
.............................................................................................
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
১০ নভেম্বর চট্টগ্রামের আসছে তাহের শাহ্সহ তিন পাকিস্তানী
.............................................................................................
নগরের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু
.............................................................................................
আন্ত:জেলা ডাকাত দলের ১১ সদস্য গ্রেফতার
.............................................................................................
বান্দরবানে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব
.............................................................................................
আনোয়ারায় শেভরণ চক্ষু হাসপাতাল নির্মান
.............................................................................................
দ্বিতীয় বিয়ের সম্মতি না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা
.............................................................................................
বাঁশখালীতে ঘুষের টাকাসহ ভূমি কর্মকর্তা আটক
.............................................................................................
আনোয়ারায় কৃষকের লাগানো ধান কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা!
.............................................................................................
চলন্ত লরীতে চালকের ঘুম, দূর্ঘটনায় নিহত দুই
.............................................................................................
জেলা প্রশাসক কর্তৃক বাঙ্গালীদের স্থায়ী বাসিন্দা সনদ ও ভূমি রেজিষ্ট্রেশনে জটিলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে উত্তাল খাগড়াছড়ি
.............................................................................................
আনোয়ারায় প্রাইভেটকার, নগদ টাকাসহ ৩ লক্ষ টাকার বিদেশী মদ উদ্ধার গ্রেপ্তার- ৫
.............................................................................................
আনোয়ারায় পল্লী চিকিৎসকদের বানানো হচ্ছে বলির পাঁঠা প্রশিক্ষণের নামে প্রত্যারণা, বাদ পড়েনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি