ঢাকা,সোমবার,৫ আশ্বিন ১৪২৮,২০,সেপ্টেম্বর,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > টাঙ্গাইলে এক বিদ্যালয়ের ৬০ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে   > নয় বছর ধরে একজন শিক্ষক দ্বারা চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়!   > ফুলতলা-গুনাহার সংযোগ সড়কের বন্ধ থাকা নির্মাণ কাজ শুরু   > ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের   > বার্সার ক্ষতি ৪৮১ মিলিয়ন ইউরো   > ‘আমি সেই যথাযোগ্য মেয়ে হতে পারিনি’   > গোপালগঞ্জে দিনব্যাপী ওরিয়েন্টাল কর্মশালা   > সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সমাবেশ আজ   > নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ সংবর্ধনা   > ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি  

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দেড় হাজার টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫১৬ টাকা করে বেড়েছে। নতুন দাম হিসেবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকায়। নতুন মূল্য গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার সময়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক জটিলতা (উপকরণ কর রেয়াত) ও নানা দাপ্তরিক জটিলতার কারণে ডিলাররা স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারছেন না। এছাড়া চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় দেশীয় বুলিয়ন/পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি স্বর্ণ ৭০ হাজার ৩৩৪ ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার আগের দামই বহাল রয়েছে।
এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা। এর আগে সবশেষ গত ২০ জুন ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দেড় হাজার টাকা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫১৬ টাকা করে বেড়েছে। নতুন দাম হিসেবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকায়। নতুন মূল্য গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার সময়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক জটিলতা (উপকরণ কর রেয়াত) ও নানা দাপ্তরিক জটিলতার কারণে ডিলাররা স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারছেন না। এছাড়া চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় দেশীয় বুলিয়ন/পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি স্বর্ণ ৭০ হাজার ৩৩৪ ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার আগের দামই বহাল রয়েছে।
এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা। এর আগে সবশেষ গত ২০ জুন ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

মোংলা কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা
                                  

মনির হোসেন, মোংলা : বিশ্বজুড়ে করোনার প্রভাব বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সবগুলো সেক্টরেই কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। করোনার থাবায় আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্যেও নেমে আসে স্থবিরতা। এমন দুর্যোগকালীন সময়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রম ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণের কারনে বিদায়ী অর্থবছরে লাভের মুখ দেখেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪০ কোটি ২৩ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং মোংলা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত ২০১৯- ২০ অর্থবছরের তুলনায় এবার ৮২৬ কোটি বেশি আয় করেছে মোংলা কাস্টম হাউস। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে করোনার প্রভাব না থাকলে মোংলা কাস্টমস হাউজের আয় আরও বাড়তো। তারা আরো জানান, করোনা না থাকলে এবার রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতো। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, বিশ্ব অর্থনীতিতে করোনার মারাত্বক প্রভাব থাকা সত্বেও আমাদের বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে বন্দরের আমদানি- রপ্তানিসহ অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা সচল রেখেছি। আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবার দুটি প্রতিষ্ঠানই লাভের মুখ দেখেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রিকন্ডশন্ড গাড়ি আমদানি হয় ১৪ হাজার ৪৭৪টি। বর্তমানে বন্দরে গাড়ি রয়েছে দুই হাজার ৫৬৩টি। করোনা পরিস্থিতির কারনে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা থাকলেও বন্দরে আগের তুলনায় গাড়ি আমদানি কিছুটা বেড়েছে। মোট আমদানির ৬০ শতাংশ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়েই খালাস করা হয়। তবে গাড়ি আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারন করেছিলাম সেটি এবার সম্ভব হয়নি। মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আহম্মেদ বলেন, করোনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারে। যে কারণে চীন নির্ভর আমদানি-রফতানি কমেছে। এছাড়া আমদানি করা রিকন্ডিশন গাড়ি রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত। আমদানিকারকদের গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় নতুন করে গাড়ি আমদানি খুব বেশি হচ্ছে না। তাই গাড়ির খাতে ভাটা পড়ায় এই খাতে যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারন করেছিলাম সেটি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, মোংলা বন্দরে আসা আমাদানি-রফতারি পণ্যে (বাল্ব কার্গো) সিমেন্ট, কিংকার এলপিজি গ্যাসের কাঁচামাল ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি এবং কন্টেইনার জাত পণ্যের ওপর নির্ভর করে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মোংলা কাস্টমস হাউজের পাঁচ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
এর আগে করোনা শুরুর বছর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চার হাজার ৬৯২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো তিন হাজার ১৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এই আয় ছিলো তিন হাজার ২৩৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বিগত অর্থ বছরগুলোর তুলনায় গেলো অর্থ বছরে বেড়েছে রাজস্ব আয়। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় এবং মুনাফা নির্ভর করে মোংলা সমুদ্র বন্দরে আমদানি ও রফতানি পণ্যের ওপর।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায় বেড়ে ৫৭.৫০ শতাংশ অর্জন
                                  

মহসিন মিলন, বেনাপোল : স্থলপথে দেশের সবচেয়ে বড় কাস্টম হাউস বেনাপোল। করোনাকালীন সময়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ছাড়িয়ে গেছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। বিগত সময়ের তুলনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ৫৭.৫০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বেনাপোল কাস্টম হাউস বছর শেষে আয় করেছে ৪ হাজার ১৪৮.২৭ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৯৫১.৭৩ কোটি টাকা কম। তবে গত অর্থবছরের চেয়ে এ বছর সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে স্থলপথে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ৫শ’ কোটি টাকা বেশি। তবে অন্য অর্থবছরের মতো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পিছিয়ে থাকলেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে সাফল্য লাভ করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বছর। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বেনাপোল বন্দরে সক্ষমতা বাড়লে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা কোন বিষয় না। গত ২০১৯-২০২১ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫৬৩.৫৯ কোটি টাকা। তার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৬৩৫.৭৭ কোটি টাকা। সে বছর ২ হাজার ৯২৭.৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর ১ হাজার ৫১২.৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজর ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের কালিতলা পার্কিং এ পন্যবোঝাই ট্রাক দিনের পর দিন আটকে রেখে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হতো। ফলে একটি ট্রাক বাংলাদেশে আসতে ২০/২৫ দিন করে সময় লাগতো। মোটা অংকের রোকসান গুনতে হতো আমদানিকারকদের। বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে ব্যপক হারে আমদানি বেড়েছে। ইতিমধ্যে রেলপথের অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু করা হয়েছে। রেলের উন্নয়ন কাজ শেষে হলে রেলপথে বাড়বে আমদানি। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, স্থলপথে শিল্পকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের কাচামালের শতকরা ৮০ ভাগ পণ্য আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা নেই। নানা অব্যবস্থাপনায় চলছে বন্দরের কার্যক্রম। করোনার কারনে দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল আমদানি রফতানি। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে দ্বিগুন পরিমান রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো: আজিজুর রহমান জানান, করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন সব কিছু স্থবির ছিল, সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে গত বছরের তুলনায় বাড়তি রাজস্ব আয় হয়েছে। শতকরা ৫৭.৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। টি ওয়ার্ক করে সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আমরা সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো জানান, করোনার মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কহারের পণ্য কম এসেছে। তবে তারা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে কাজ করছেন। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বেড়ে রাজস্ব আদায় দ্বিগুন করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

লকডাউন আতঙ্কের ধাক্কায় শেয়ারবাজার পতন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সীমিত আকারে বিধিনিষেধ আজ সোমবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে সরকার। আর এ লকডাউন আতঙ্কের ধাক্কায় ব্যাপক দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। কি হয় কি হয়, কি হতে যাচ্ছে এই এক আতঙ্ক। মানুষ তীব্র গতিতে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। কোন বাধাই তাদে দমাতে পারছে না। এ অবস্থায় গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০০ পয়েন্ট। সূচকটি নেমে এসেছে ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে। লেনদেন শেষে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯৯২ পয়েন্টে। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৯৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল রোববার মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার। তবে হাতবদল হওয়া প্রায় সব শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন শেষে বেড়েছে মাত্র ৫৪টির দর, কমেছে ৩০৬টির, অপরিবর্তিত আছে ১২টির দর। গত কার্যদিবস ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৫৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৯৭ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো বেক্সিমকো, ডাচ্?বাংলা ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেড, ম্যাকসন স্পিনিং, অ্যাগ্রো ডেনিম, কুইন সাউথ, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড, মতিন স্পিনিং ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
দর বাড়ার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো মতিন স্পিনিং, সোনারগাঁও, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড, অ্যাগ্রো ডেনিম, জাহিন স্পিনিং, হুয়া ওয়ে টেক্সটাইলস লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, কুইন সাউথ, জাহিন টেক্সটাইল, শাশা ডেনিমস।
দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো রিপাবলিক, সি পার্ল, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, অগ্রণী ইনস্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, প্রগতি ইনস্যুরেন্স, এস আলম কোল্ড রোল স্টিল লিমিটেড, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স ও সাফকো স্পিনিং।
অপর দিকে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২১৪ কোটি টাকার। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ২৪১টির, অপরিবর্তিত আছে ১২টির দর।

বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব ফাঁকি রোধে বহুমুখী কার্যক্রম
                                  

বেনাপোল প্রতিনিধি : স্থলপথে দেশের সর্ববৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব ফাকি রোধে বহুমুখী কার্যক্রম গৃহন করেছে কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল বন্দর ও রেল পথে আমদানি পণ্যের রাজস্ব আদায়, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, ডিজিটালি অটোমেশন, চোরাচালান ও শুল্কফাঁকি রোধ, নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া পণ্যের নিলাম, ব্যবহারের উপযোগিতা হারানো কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক পণ্য ধ্বংস ইত্যাদি ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয়া হয়। মিথ্যা ঘোষণা, জাল জালিয়াতি ও শুল্কফাঁকি রোধে অসাধু আমদানিকারক ও সিএন্ড এফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টম হাউস। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে ১৯টি লাইসেন্স, বাতিল করা হয়েছে ৩টি। কাস্টমস সুত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রথম মে মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৪৩১.৭৩ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭৫৬ .৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে ১২৮৫.৪৮ কোটি টাকা বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা শতকরা ৫২.০১% বেশী। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত দেড় বছর করোনার কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যেও সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ব্যবসাবান্ধব নীতির পাশাপাশি কাস্টম হাউসের কমিশনারের ডায়নামিক নেতৃত্বের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরীণ নানা উদ্যোগ, কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে শুল্ক আদায়ের পাশাপাশি বছরের পর বছর বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের দ্রুত নিলাম, পচা-ব্যবহার অনুপযোগী পণ্যের নিলাম এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এসেছে। কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম একজন দক্ষ ও ডায়নামিক অফিসার হিসেবে আমদানি রফতানি বানজ্যিকে গতিশীল, রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও শুল্কায়নে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে“বিকম”নামে একটি নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছেন কাস্টমস হাউসে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এ প্রথম বনোপোল কাস্টমস হাউসই একমাত্র ডিজিটাল কাস্টম হাউসে উন্নীত হলো। চালু হয়েছে গেট ডিভিশন, এক্সিট নোট্। বন্দর কর্তৃপক্ষের অসহযোগীতার কারনে নতুন নতুন এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ট্রাক জট এড়াতে কাস্টম হাউস আমদানি পণ্য দ্রুত ছাড়করণে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করছে। গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে, দ্য কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এর সেকশন ৮২ এর সাব সেকশন (১) অনুযায়ী বেনাপোলে বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যচালান অবতরণের পর ৩০ দিনের মধ্যে অথবা কাস্টমসের অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে শুল্ক-কর পরিশোধ করে খালাস নিতে হবে। অন্যথায় উক্ত পণ্য নিলাম বা আইনানুগ উপায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এ অবস্থায় উল্লিখিত আইন লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ও পোর্ট চার্জ পরিহারের লক্ষ্যে বেনাপোল কাস্টম হাউসের অধিক্ষেত্রাধীন বন্দ, মাধ্যমে আমদানি করা ও অখালাসকৃত সব পণ্যচালান দ্রুত খালাস নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. আ জিজুর রহমান। কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈধ আমদানি ও সৎ করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। বিদ্যমান আইন ও বিধি মোতাবেক যথাযথ পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও দ্রুত পণ্যচালান খালাসে সবার সহযোগিতা চাই আমরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা হানা দেয়
                                  

বিবিসি প্রতিবেদন : ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার চুরি করার চেষ্টা চালায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। দীর্ঘ সময় নিয়ে তারা পরিকল্পনাটি করেছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে তারা এমনভাবে সাজিয়েছিল যাতে নির্বিঘ্নে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া যায়। তবে, ছোট কিছু ভুলের কারণে বাইবেলের চরিত্র ল্যাজারাসের সঙ্গে মিলিয়ে নাম দেওয়া ‘ল্যাজারাস হাইস্ট’টি সম্পূর্ণরূপে সফল হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি হ্যাকারদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধারও করা হয়। হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি বেশ কয়েকটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছিল এবং এর শুরু হয়েছিল একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের একটি হ্যাকিং কৌশলের মাধ্যমে। মোটামুটি সব প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগের কর্মীরা তাদের সহকর্মীদের সতর্ক করেন একটি বিষয়ে, যেটি হচ্ছে অচেনা কারও ইমেইল থেকে পাওয়া লিংক এ ক্লিক না করা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু কর্মকর্তার কাছে একটি ইমেইল বার্তা আসে। মেইলটি পাঠিয়েছেন রাসেল আহলাম নামক একজন চাকরিপ্রার্থী। অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় লেখা ইমেইলে ভদ্রলোকের সিভি ও কভার লেটার ডাউনলোড করার জন্য লিংক দেওয়া ছিল। আদতে রাসেল নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই। অন্তত একজন কর্মকর্তা সেই লিংকে ক্লিক করেছিলেন সিভি দেখার উদ্দেশ্যে এবং এভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করেন। সেই লিংক থেকে ভাইরাস ডাউনলোড হয়ে হ্যাকারদের কাছে পুরো নেটওয়ার্ককে উন্মোচিত করে দেয়। ল্যাজারাস গ্রুপের সদস্যরা প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কম্পিউটার ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকেন। তারা এ সময় সব ধরনের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেন এবং কীভাবে চুরি করা অর্থকে ঝামেলাবিহীনভাবে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বের করে নিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে ত্রুটিহীন কৌশলগুলো তৈরি করতে থাকেন। তারা ব্যাংকের সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আদ্যোপান্ত জেনে নিয়েছিলেন, যার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত ‘সুইফট’ প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে হ্যাকাররা তাদের প্রস্তুতি শেষ করে। তাদের সামনে একমাত্র বাঁধা হয়ে দাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মধ্যে একমাত্র অ্যানালগ উপকরণ— কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনের দশম তলায় রাখা একটি প্রিন্টার। এ প্রিন্টারটি রাখা হয়েছিল ব্যাংকের সব লেনদেনের হিসাব কাগজে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। হ্যাকাররা টাকা সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রিন্টারটি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের কীর্তিকলাপের বিস্তারিত প্রিন্ট হয়ে বের হয়ে আসত। এ কারণে প্রথমেই তারা এটিকে অকেজো করে দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা বিকল প্রিন্টারের বিষয়টি লক্ষ্য করলেও ‘আইটি যন্ত্রপাতি প্রায়ই অকেজো হয়’ ভেবে এ ঘটনাটিকে একেবারেই পাত্তা দেননি।
ইতোমধ্যে হ্যাকাররা ৩৫টি ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশটি দিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে যে পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছিলেন, তার প্রায় পুরোটাই হ্যাকাররা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু, এক্ষেত্রে হ্যাকারদের ছোট, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুলের কারণে তারা পুরো টাকাটি সরাতে পারেনি।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা স্থানান্তরের অনুরোধটির (যেটি আসলে হ্যাকারদের করা) সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন দেয়নি। কারণ টাকার গন্তব্য হিসেবে ফিলিপাইনের ‘জুপিটার’ এলাকার একটি ব্যাংকের নাম দেওয়া ছিল। জুপিটার শব্দটি তাদেরকে সতর্ক করে দেয়। কারণ, এই নামে একটি ইরানি জাহাজ ছিল, যেটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি বিবিসির কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জুপিটার শব্দটি লক্ষ্য করার পর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ৩৪টি ট্রান্সফারের মধ্যে ২৯টিই আটকে দেয়। কিন্তু, ইতোমধ্যে পাঁচটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচার হয়ে গিয়েছিল।
একটি ট্রান্সফার করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’ নামক একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাছে, যার পরিমাণ ছিল দুই কোটি ডলার। কিন্তু, সেখানেও হ্যাকাররা ফাউন্ডেশনের ইংরেজি বানানে ভুল করায় শব্দটি ‘ফান্ডেশন’ হয়ে যায় এবং একজন ব্যাকরণপ্রেমী কর্মকর্তা এই ট্রান্সফারটিকেও আটকে দেন। শেষ পর্যন্ত হ্যাকারদের কিছু ভুল এবং দৈবক্রমে আট কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হ্যাকাররা সরাতে পারেনি। অল্পের জন্য বাংলাদেশ বেঁচে যায় ১০০ কোটি ডলারের রিজার্ভ হারানোর হাত থেকে।

রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ আরও বাড়লো
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস মহামারিকালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে একের পর এক রেকর্ড গড়ে। বর্তমানে রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ১৭ জুন কর্মদিবস শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় চার হাজার ৫৪৬ কোটি ডলার)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) ৩ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ- এই ৯টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে মজুদ বাংলাদেশের এই বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে ১১ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। মহামারির বছরেই (২০২০) দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সে বছরের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে। এদিকে চলতি অর্থবছরের ১৭ জুন পর্যন্ত রিজার্ভ ৯.৪২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরুতে (৩০ জুন পর্যন্ত) ৩৬.০৩ বিলিয়ন ডলার ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ মে দেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওইদিন রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। এর আগে চলতি বছরের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ৪৪.০২ বিলিয়ন বা চার হাজার ৪০২ কোটি ডলার অতিক্রম করেছিল। তার আগে ৩০ ডিসেম্বর রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার, ১৫ ডিসেম্বর ৪২ মিলিয়ন ডলার এবং ২৮ অক্টোবর ৪১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথম ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তারপর থেকে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে সে বছরের ডিসেম্বরেই রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম বার্ষিক রিপোর্টে (১৯৭১-১৯৭৩) বলা হয়, স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরপর বাংলাদেশের কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় ছিল না। কিন্তু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ আস্তে আস্তে তার বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় করে নিয়েছে। ১৯৭২ সালের ৩০ জুন রিজার্ভ ছিল ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তার পরের বছরের ২৯ জুনে স্বাধীন দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে মোংলা বন্দরের টার্গেট ৩৪০ কোটি টাকা
                                  

মনির হোসেন, মোংলা : দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলায় একদিকে যেমন বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বেড়েছে অন্যদিকে বেড়েছে রাজস্ব আয়। করোনাকালীন সময়ে দেশের অন্যান্য বন্দরের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকলেও মোংলা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ২৪ ঘন্টাই সচল রাখা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরিচালিত হয়েছে বন্দরের কার্যক্রম যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সারাদেশে করোনার সংক্রমণ থাকলেও বন্দরের আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য কোনো প্রভাবই পড়েনি। গত ৩ বছরে বন্দরে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ১৯৭ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৯- ২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৭৬ টি। একই বছরে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২০৯ মেঃটন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ২০১৮- ১৯ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩১৫ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ২০১৯ - ২০ অর্থবছরে ৩৩৮ কোটি ১৯ লাখ ১৯ টাকা আয় করেছে মোংলা বন্দর। আমরা আশা করছি চলতি অর্থবছর শেষে এ বন্দরের রাজস্ব আয় ৩৪০ কোটিতে পৌঁছবে। বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তফা কামার জানান, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত মোংলা বন্দরে মোট জাহাজ এসেছে ৯১৩ টি যা বন্দর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। আমাদের প্রত্যাশা চলতি অর্থবছরে বন্দরে ১ হাজার জাহাজ আসবে। আর যদি সেটি সম্ভব না হয় তবে আশা রাখছি ৯৭০-৮০ টির মত জাহাজ আগমনের রেকর্ড আমরা দেখাতে পারবো। বন্দরের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দরে জাহাজ এসেছে ৫১৯ টি। ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৯৮ টি, ফেব্রুয়ারিতে ৮৫ টি, মার্চে ৭০ টি, এপ্রিলে ৮৬ টি এবং মে মাসে এসেছে ৫৫ টি। সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে মোট জাহাজ আগমনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৩টি। জুন মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত বন্দরে জাহাজ ভিড়েছে ১৩ টি। এবিষয়ে জানতে চাইলে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েও আমরা বন্দরের কার্যক্রম চালু রেখেছি। বন্দরের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অপারেশনাল কার্যক্রমে শ্রম দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। সবমিলিয়ে সকলের আন্তরিকতার কারনে মোংলা বন্দরের বহুমূখী অর্জন সম্ভব হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় কম
                                  

বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত দেড় বছর করোনার কারণে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কম হয়েছে। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বেঁধে দেয়া লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না বেনাপোল কাস্টম হাউজ। প্রতি অর্থবছরই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকছে। বেনাপোল কাস্টমস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৬৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯২৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল। সরকারের বেশি রাজস্ব আদায় হয় এখান থেকে। তবে বন্দরটি দিয়ে পণ্য আমদানি হয় বেশি। রফতানি হয় তার চার ভাগের এক ভাগ। কাস্টম হাউজের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন পণ্য। বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১৮ লাখ ৭২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পণ্য। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প-কারখানায় ব্যবহূত কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, মেশিনারি যন্ত্রাংশ, সুতা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য। আর রফতানি পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, মেলামাইন, তৈরি পোশাক ও বসুন্ধরা টিস্যু উল্লেখযোগ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশে স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি বছর বন্দরটি দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এর বিপরীতে রফতানি হয় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ও নীতিগত কারণেই রফতানির তুলনায় আমদানিতে অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশের বৃহত্তম এ স্থলবন্দর। এ বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, করোনার ছোবল এবং পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে বৈধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় আমদানি কমে যাওয়ার একটি কারণ। এতে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুপাতে বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়া এবং উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে মহামারী করোনায় নাকাল দেশের ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় উচ্চশুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে আসছে। ফলে রাজস্ব কম আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বেনাপোল বন্দরে বারবার রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। বন্দর কোন ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় অনেক আমদানিকারক বন্দর ছেড়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, দেশের স্থলপথে আমদানি-রফতানির ৭০ শতাংশ হয় বেনাপোল দিয়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় অনেকে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে সরকারের রাজস্ব দ্বিগুণ আদায় হতো। তবে এরই মধ্যে বেনাপোল বন্দর সম্প্রসারণে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, জায়গা অধিগ্রহণের পাশাপাশি কয়েকটি আধুনিক পণ্যাগার নির্মাণ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার জন্য বাজেট হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাড়াতে উঁচু প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনার প্রভাব চলছে। ফলে গত বছর তেমন আমদানি হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিলে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য কম এসেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে কমিশনার বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে। এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য চিঠি দিয়েছি। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানি বেড়ে যাবে। সেইসঙ্গে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আহরণ। আশা করছি, করোনার পরিস্থিতি উন্নতি হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে।

সরকারের নানামূখী উন্নয়নে মোংলা বন্দরে ১১ মাসে ৯১৩টি জাহাজ আগমনের রেকর্ড
                                  

মনির হোসেন, মোংলা : বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনে ৭০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে দেশের দ্বিতীয় সামদ্রিক বন্দর মোংলা। চলতি অর্থবছরের ১ মাস বাকী থাকতেই অতীতে সকল রেকর্ড ভেঙে ৯১৩ টি বাণিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে নোঙর করেছে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা ছিল ২০২০- ২১ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে এক হাজার জাহাজ আগমন করবে। এখনও যেহেতু অর্থবছর শেষ হতে আরো ১ মাস বাকি আছে এখন দেখা যাক কি হয়! জুন মাসে ৮৭ টি জাহাজ বন্দরে ভিড়লেই এক হাজার জাহাজ আগমনের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দর।
বন্দরের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দরে জাহাজ এসেছে ৫১৯ টি। ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৯৮ টি, ফেব্রুয়ারিতে ৮৫ টি, মার্চে ৭০ টি, এপ্রিলে ৮৬ টি এবং মে মাসে এসেছে ৫৫ টি। সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে মোট জাহাজ আগমনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৩টি। তিনি আরো বলেন, বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পার হলেও এত বিপুল সংখ্যক জাহাজ বন্দরে আসেনি। বন্দরের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়ায় বন্দরে বেশী সংখ্যক জাহাজ আগমনের পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, করোনার সংক্রমণের কারনে সারা বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসলেও মোংলা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। আমরা ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়েছি। আমাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা এ বন্দর ব্যবহারে আকৃষ্ট হচ্ছেন। সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান বন্দরের এই কর্মকর্তা।

স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়েছে ব্যবসায়িরা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ২৩৩৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কথা বলে গতকাল সোমবার জরুরি সভা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তারা। সোমবার বেলা একটা থেকে সোনার নতুন দর সারা দেশে কার্যকর করেছে তারা। গতকাল থেকে নতুন দর কার্যকর হওয়ায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার অলংকার কিনতে লাগবে ৭১ হাজার ৪৪২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৬৮ হাজার ২৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫৯ হাজার ৫৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকারের ভরি বিক্রি হবে ৪৯ হাজার ২২২ টাকায়। নতুন করে সোনার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সমিতি জানিয়েছে, করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও নানা জটিল সমীকরণের কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকা ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক জটিলতার কারণে ডিলাররা চাহিদার বিপরীতে সোনা আমদানি করতে পারছে না। সে কারণে দেশীয় বুলিয়ন বা পোদ্দার মার্কেটে বিশুদ্ধ সোনার (পিউর গোল্ড) দাম বেড়েছে। সোনার দাম বাড়ালেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে জুয়েলার্স সমিতি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি আগের মতোই ১ হাজার ৫১৬ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ও ১৮ ক্যারেট রুপার ভরি যথাক্রমে ১ হাজার ৪৩৫ ও ১ হাজার ২২৫ টাকা।

বেসরকারি খাতের পেশাজীবীদের সংগঠন বিপিইএফ’র আহ্বায়ক রফিকুল সদস্য সচিব মাহফুজুর
                                  

স্টাফ রিপোর্টার: আত্মপ্রকাশ করেছে বেসরকারি খাতের পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট এমপ্লয়িজ ফোরাম (বিপিইএফ)। সংবাদ সংস্থা ইউএনবির বিজনেস রিপোর্টার রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এম মাহফুজুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে।

ফরমাল ও ইনফরমাল সব ধরনের সেক্টরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এই ফোরাম। শুক্রবার (৭ মে) বিপিইএফ আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে সংগঠনটির নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করেন। সংগঠনটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জিসান আল জুবায়ের (বিইউবিটি), শফিকুল ইসলাম (ইউএনবি) এবং আরিফুল ইসলামকে (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক) কমিটিতে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আরিফুর রহমান তুহিন (দেশ রূপান্তর), আফজাল হোসেন (ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড), রাজু আরাফাত (বাংলাদেশ প্রতিদিন), হান্নান মুহাম্মদ (আজকের পত্রিকা), কামাল হোসাইন (কালের কণ্ঠ), মোয়াজ্জেম হোসাইন (স্যান্টার্ড গ্রুপ), মহিউদ্দিন তুষার (দৈনিক গণমুক্তি), গোলাম ইয়াসভির (এজেডএম হাসপাতাল লিমিটেড), জাহাঙ্গীর আলম আনসারি (দ্য ট্রাইব্যুনাল), রাজিবুল ইসলাম (প্রতিদিনের সংবাদ), মো. কামরুজ্জামান (দ্য কেওডব্লিউ কোম্পানি), শাহ আলম (বিজনেস টাইমস), কে এম শরিয়তুল্লাহ (প্রেজেন্টনিউজ.নেট), ইলিয়াসুর রহমান ফারাবি (আইনজীবী), এনামুল করিম (মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড), মো. ইলিয়াস মোল্লা (এসিআই লজিস্টিক)।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেল বাংলাদেশ। বিভিন্ন সেক্টর ঈর্ষণীয় উন্নতি করছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি খাত অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। তাদের পেনশন ব্যবস্থা নেই। জব সিকিউরিটি নেই বললেই চলে। মালিকরা ফুলে ফেঁপে উঠলেও শ্রম অধিকার খর্ব হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তিনি আরও বলেন, নীতি নির্ধারকদের উচিৎ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত জনবলের স্বার্থ রক্ষায় অধিক মনযোগী হওয়া। তাহলেই কেবল টেকসই ও উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব হবে। বিপিইএফ প্রাইভেট সেক্টরের বিভিন্ন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

সদস্য সচিব ওয়ালটনের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এম মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রাইভেট সেক্টর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু এই সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা সমস্যা জর্জরিত। বিদ্যমান আইনের তোয়াক্কা করে না অনেক প্রতিষ্ঠানই। ফলে নিগৃহীত ও মানবেতর জীবনযাপন করেন এখানে কর্মরত মানুষ।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের বরাত দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে ২০২০-এর জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ লোক দারিদ্র সীমার নিচে চলে এসেছে। গ্রাম ও নগরের মানুষের ঋণের বোঝা হয়েছে দ্বিগুণ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির তথ্য মতে, গত বছর প্রায় ৬২ শতাংশ চাকরিজীবী তাদের চাকরি হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই চাকরি হারিয়েছেন এপ্রিল ও মে মাসে। সুতরাং বেসরকারি খাতে কর্মরতদের প্রতি যথেষ্ট মনযোগ দেয়ার সময় এখনই।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫০০ কোটি ডলার ছাড়াবে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : মহামারি কারোনার মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক গড়তে চলেছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার। যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক শিগগিরই ৪৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামনে ঈদ। সবসময় ঈদের আগে প্রবাসীরা বেশি করে রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। এবারও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উৎযাপন করতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। মূলত প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ বাড়ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮শে এপ্রিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ৪৪.৮৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪৮৫ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে মজুত এ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে প্রায় ১১ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এর আগে চলতি বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ৪৪.০২ বিলিয়ন বা চার হাজার ৪০২ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। এরও আগে ৩০শে ডিসেম্বর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার, ১৫ই ডিসেম্বর ৪২ মিলিয়ন এবং ২৮শে অক্টোবর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন অতিক্রম করেছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি অর্থবছরের ১০ মাস পার না হতেই রেমিট্যান্স দুই হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি বাংলাদেশে। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮.২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলের প্রবাসীরা। অর্থবছর হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে।

লকডাউনেও স্বাভাবিক রয়েছে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি
                                  

বনাপোল প্রতিনিধি : সরকারের করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণায় দেশে গণপরিবহন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগামী ৭ দিন বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। দুই দেশের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বেনাপোল থেকে দুর পাল্লার যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শতশত পাসপোর্ট যাত্রী আটকা পড়েছে বিভিন্ন পরিবহন অফিসে। অনেকে আবার রাতে ভ্যান রিকশা যোগে বিভিন্ন আত্মীয় সজনদের বাড়িতে আশ্রয়ের জন্য চলে গেছে। বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, লকডাউনের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলেছে। এছাড়া ট্রাকচালকরা আমদানি পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন। পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াতও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি। হঠাৎ করে দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে সরকার ১৮টি প্র¯তাবনা জারি করে। কিন্তু জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার। অবশেষে বাধ্য হয়ে সরকার ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে। এতে গণপরিবহন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে পড়ে। তবে দেশের শিল্প কলকারখানায় উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়।
এদিকে বন্দরের কার্যক্রমের পাশাপাশি বেনাপোল কাস্টমসের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান। বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি জানান, লকডাউনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অনান্য সময়ের মতো চালকরা মালামাল বহন করেছেন। বন্দরে চলাফেরার সময় চালকদের বিশেষ করে মাস্ক ও ডিপো ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কলিমউদ্দীন বলেন, সব সংকট মুহূর্তে বন্দর সচল রাখতে শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে পণ্য খালাসের কাজ করে আসছেন। লকডাউনের মধ্যেও শ্রমিকরা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে পণ্য খালাসের কাজ করছেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন জানান, গত বছরে করোনার সময় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকশানের মুখে পড়েছিলেন। প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে শিল্পকলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে এবার লকডাউনের মধ্যে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল রয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, লকডাউনের মধ্যে এপথে শর্তসাপেক্ষে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারীযাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক আছে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। বর্তমানে মেডিকেল, বিজনেস ও কূটনৈতিক ভিসায় যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। ট্যুরিস্ট ভিসা এখন পর্যšত বন্ধ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভারত ভ্রমণে প্রয়োজন হচ্ছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট।

লকডাউনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসজনিত বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকার আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তবে লকডাউনের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ব্যাংকখাত কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে আগামীকাল রোববার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লকডাউনের বিষয়টি সরকার ছুটির দিনে ঘোষণা করেছে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজ রোববার আমরা সিদ্ধান্ত জানা যাবে। কীভাবে ব্যাংক চলবে সে নির্দেশনা আসবে আজ সোমবার।’

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ
                                  

বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল বন্দর দিয়ে রোববার সকাল থেকে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বানিঝ্য বন্ধ রয়েছে। ভারতে দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে রোববার সকাল-সন্ধ্যা দু দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানামা সহ খালাস প্রক্রিয়া ছিল স্বাভাবিক। বেনাপোল- আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার অব্যাহত আছে স্বাভাবিকভাবে। ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ম্রী কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারী ছুটি থাকায় আমদানি রফতানি বন্ধ আছে। এই উৎসবটি ‘হোলি’ নামে পরিচিত। অশুভ শক্তির বিনাশ হিসাবে ‘হোলি উৎসব’ হয়ে থাকে। হলি উৎসবের কারণে শনিবার দুপুরের পর থেকে সব ধরনের আমদানি রফতানি বানিজ্য কমে যায়। ফলে রোববার বেনাপোল দিয়ে কোনো আমদানি-রফতানি হচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে পুনরায় পুরোদমে আবারো চলবে আমদানি-রফতানি বানিজ্য। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, পাসপোর্ট যাত্রীদের দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত ৮’শ পাসপোর্ট যাত্রী দু দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো: আজিজুর রহমান জানান, ভারতে হোলি উৎসবে সরকারী ছুটি থাকায় আজ রোববার থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে আগেই লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। তবে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও বন্দরে কার্যক্রম চলছে ¯া^ভাবিক নিয়মে। সোমবার সকাল থেকে আবার এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলবে।


   Page 1 of 95
     অর্থ-বাণিজ্য
স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দেড় হাজার টাকা
.............................................................................................
মোংলা কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা
.............................................................................................
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায় বেড়ে ৫৭.৫০ শতাংশ অর্জন
.............................................................................................
লকডাউন আতঙ্কের ধাক্কায় শেয়ারবাজার পতন
.............................................................................................
বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব ফাঁকি রোধে বহুমুখী কার্যক্রম
.............................................................................................
বাংলাদেশ ব্যাংকে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা হানা দেয়
.............................................................................................
রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ আরও বাড়লো
.............................................................................................
চলতি অর্থবছরে মোংলা বন্দরের টার্গেট ৩৪০ কোটি টাকা
.............................................................................................
বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় কম
.............................................................................................
সরকারের নানামূখী উন্নয়নে মোংলা বন্দরে ১১ মাসে ৯১৩টি জাহাজ আগমনের রেকর্ড
.............................................................................................
স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়েছে ব্যবসায়িরা
.............................................................................................
বেসরকারি খাতের পেশাজীবীদের সংগঠন বিপিইএফ’র আহ্বায়ক রফিকুল সদস্য সচিব মাহফুজুর
.............................................................................................
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫০০ কোটি ডলার ছাড়াবে
.............................................................................................
লকডাউনেও স্বাভাবিক রয়েছে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি
.............................................................................................
লকডাউনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ
.............................................................................................
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আছে
.............................................................................................
বড় দর পতনের পর সূচক বাড়লো বাজারে
.............................................................................................
লকডাউন গুজবে আবার দরপতন শেয়ারবাজার
.............................................................................................
টিকা কিনতে ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক
.............................................................................................
শেয়ারে খোয়া গেলো ২০ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধাগুলো পাবে
.............................................................................................
বিশ্ববাজারে তাল রেখে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমলো
.............................................................................................
সুরক্ষার জন্য জাতীয় বীমা
.............................................................................................
ঋণ নিয়ে নয়ছয় করলে কঠোর শাস্তি
.............................................................................................
‘দশ বছরে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে’
.............................................................................................
টানা দরপতনে শেয়ারবাজারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি
.............................................................................................
রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ঋণ শোধের সময় বাড়লো
.............................................................................................
দিনভর ছিলো বড় দরপতনের উদ্বেগ
.............................................................................................
হিলি স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয়
.............................................................................................
ছয় মাসে ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেন বেড়েছে ২৩ শতাংশ
.............................................................................................
দরপতনের শীর্ষে অধিকাংশই বিমা কোম্পানি
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা উধাও
.............................................................................................
ঋণের মেয়াদ বাড়াতে ব্যাংক মালিকদের চাপ
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম দিনেই হতাশা
.............................................................................................
স্বর্ণ ব্যবসার নতুন নিয়মে দাম বাড়বে
.............................................................................................
টানা পতনে হারিয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা মূলধন
.............................................................................................
পরিচালক ও এমডিদের সম্পদের হিসাব নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
.............................................................................................
করোনায় ৫৮ শতাংশ তৈরি পোশাক শ্রমিকের আর্থিক চাপ বেড়েছে
.............................................................................................
ব্যাংক খাতের আগে যাত্রা করেও পিছিয়ে পড়েছে বীমা খাত
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে লেনদেনে সূচকের বড় উত্থান
.............................................................................................
‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান’
.............................................................................................
১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পেল রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার
.............................................................................................
চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে বেড়েছে ঋণ
.............................................................................................
মজুতদারি ঠেকাতে চাল আমদানির উদ্যোগ
.............................................................................................
৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি
.............................................................................................
করোনা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে বেড়েছে অনলাইন ব্যাংকিং
.............................................................................................
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আসছে প্রণোদনা প্যাকেজ
.............................................................................................
রফতানি বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে সরকার
.............................................................................................
নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৮ শতাংশ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop