ঢাকা,বুধবার,৬ মাঘ ১৪২৮,১৯,জানুয়ারী,২০২২ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের মামলার বাদির উপর হামলা   > ‘গানে গানে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা’   > ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১৫ জানুয়ারী থেকে পরিবহন বন্ধের ঘোষণা   > বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরকারী বিআইডব্লিউটিএ’র আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা   > নর্থ সাউথের আরও দুই ট্রাস্টি রেহেনা ও বেনজীরকে দুদকে তলব   > ঢাকায় অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে ডিএসসিসির অভিযান   > পথ যত কণ্টকাকীর্ণ হোক, আমরা থেমে থাকব না : প্রধানমন্ত্রী   > বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে পারেনি : আবুল হাসেম খান এমপি   > শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ: এনামুল হক শামীম   > আগামী দুইদিনে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা বাড়বে  

   শিক্ষা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নতুন বছরে শিশুদের হাতে হাতে বই

স্টাফ রিপোর্টার : এবারও উৎসব করে বই দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবছর এ দিনে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। এবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেবে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বছরের প্রথমদিন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু হয়েছে। বই হাতে পেয়ে অজানা কবিতা, গল্প আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের শানিত করার অদম্য ইচ্ছায় উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। হাসি-আনন্দে একাকার হয়ে বুকের সঙ্গে দুই হাত দিয়ে মায়ার বাঁধনে নতুন বইগুলো জড়িয়ে রাখছেন শিক্ষার্থীরা। শিশুদের হাতে হাতে নতুন বই। সারাদেশে এ বছর ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যপুস্তক ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ও ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রণীত পাঠ্যপুস্তক রয়েছে এবং এ বিতরণ কার্যক্রম ১২ দিনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং নবম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী ১২ দিনের এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানায়, প্রাথমিকের শতভাগ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৯৫ শতাংশ বই পৌঁছায়।

নতুন বছরে শিশুদের হাতে হাতে বই
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : এবারও উৎসব করে বই দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবছর এ দিনে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। এবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেবে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বছরের প্রথমদিন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু হয়েছে। বই হাতে পেয়ে অজানা কবিতা, গল্প আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের শানিত করার অদম্য ইচ্ছায় উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। হাসি-আনন্দে একাকার হয়ে বুকের সঙ্গে দুই হাত দিয়ে মায়ার বাঁধনে নতুন বইগুলো জড়িয়ে রাখছেন শিক্ষার্থীরা। শিশুদের হাতে হাতে নতুন বই। সারাদেশে এ বছর ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যপুস্তক ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ও ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রণীত পাঠ্যপুস্তক রয়েছে এবং এ বিতরণ কার্যক্রম ১২ দিনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং নবম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী ১২ দিনের এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানায়, প্রাথমিকের শতভাগ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৯৫ শতাংশ বই পৌঁছায়।

কাঁঠালিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
                                  

ফারুক হোসেন খান, কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ৮৩নং পশ্চিম আনইলবুনিয়া কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণী কক্ষে। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন দেয়ল ও পিলারে। প্রায় সময় বিদ্যালয়ের পলেস্তারার টুকরো পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পুরো ছাদ কিংবা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে শ্রেণীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কয়েক ধাপে ভবনটির ছাদ, পিলার ও দেয়াল মেরামত করা হলেও কোন কাজে আসেনি। সরেজমিন পরিদর্শন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, ১৯৭১ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নরে আনইলবুনিয়া গ্রামে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে চারটি কক্ষ ব্যবহৃত হয় প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের কক্ষ এবং শ্রেণি কক্ষ হিসেবে। বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে এবং সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণী কক্ষে। ভবনের বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়লে বিভিন্ন সময় মেরামত করা হলেও কোন কাজে আসেনি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবণের ঝুঁকিনিয়ে পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন জানায়, পুরোনো ভবনের কক্ষে তাদের ক্লাস করতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণি কক্ষে পানি পড়ে। বই খাতা ভিজে যায়। এতে লেখা পড়ার অনেক ক্ষতি হয়। অপর এক শিক্ষার্থী মারিয়াম আক্তার জানায়, আমাদের বিদ্যালয়টি খুবই পুরানো হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তরা ভেঙ্গে পড়ছে। দরজা জানালা ভাঙগা থাকায় বাহিরের বৃষ্টির পানি ক্লাসে পানি ঢুকে পড়ে। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রুহুল আমিন খান বলেন, বিদ্যালয়ের এই ভবনটি ১৯৯৫ সালে তৈল করা হয়েছে। ভবনটি এখন অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ। ভেঙ্গে যাওয়ায় দেয়াল ও পিলার কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। বর্ষার সময় সব রুমের ছাদ থেকে পানি পড়ে। শিশুদের রুমের বাহিরে বসে ক্লাস নিতে হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই, যা আছে তাও ভাঙ্গা। কোন মতে মেরামত করে শিক্ষার্থীদের বসতে দিতে হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে।

হলে বাধ্যতামূলক খাওয়া ও সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে রাবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ
                                  

রাবি প্রতিনিধি : হলে ডাইনিংয়ে বাধ্যতামূলক খাওয়া ও সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রীরা। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হলের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানান, হল প্রশাসন সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদেরকে ডাইনিংয়ে খেতে বাধ্য করেছে। অন্যথায় তাদের সিট বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়। শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আলোচনায় বসেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী মহাল? তবে সিদ্ধান্তে না এসেই আলোচনা থেকে চলে যান তিনি। ছাত্রীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে দাম বেশি নিয়েও মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয় না। হলের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, হল প্রাধক্ষ্য গত মাসে নোটিশ দিয়ে জানান, মেয়েদের ডাইনিং খেতে হবে অন্যথায় সিট বাতিল করা হবে। খাবারের দাম কমানো হবে কিছুদিনের মধ্যে। কিন্তু দাম কমানো হয় নি, খাবারের মানও খারাপ। তাই আমরা আন্দোলন করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তার ওপর গনরুমে পাশে ৪০ জনের রান্নার ব্যবস্থা আছে। সেখানে ১৪০ জন রান্না করছে। এ অবস্থায় রান্না করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে এমন নির্দেশ দেওয়া। হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যবাধকতা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাইনিংয়ে খাবার মানসম্মত ও দাম কম। আমি নিজেই খেয়ে দেখেছি। এছাড়া তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে? তিনি আরও বলেন, ‘আর যারা ব্লকে থাকে তাদের জন্য রান্না ঘরের ব্যবস্থা আছে, তারা সেখানে রান্না করে খেতে পারছে।

সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজ নতুন নামে ‘সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ’
                                  

মহিউদ্দিন তুষার : শরীয়তপুরের সবচেয়ে পুরনো ও প্রথম কলেজ সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজের নাম পরিবর্তন করে সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ নামে নামকরণ করে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত ৩১ অক্টোবর ‘সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজের’ নাম ‘সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ’ নামে নাম করণ করা হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাকের নামে কলেজের নতুন নামকরণের সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিক গণমুক্তিকে কলেজটির অধ্যক্ষ মো: জহির উল্লাহ বলেন, সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজের নাম প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক সরকারি কলেজ হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে। এজন্য আমি বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ কৃতজ্ঞতা শরীয়তপুর-৩ আসনের সাংসদ নাহিম রাজ্জাক এমপির প্রতি। তিনি বলেন, পূর্ব মাদারীপুর কলেজের অবস্থান ডামুড্যা উপজেলাতে কিন্তু নামে পূর্ব মাদারীপুর থাকায় এতদিন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো এখন আর তা হবে না। ডামুড্যা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, পূর্ব মাদারীপুর কলেজ এ জেলার সর্বপ্রথম কলেজ। এ কলেজটি এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রচেষ্টায় জাতীয়করণ করা হয়েছে। জাতীয়করণ করায় কলেজে মেধাসম্পন্ন শিক্ষকদের আগমন ঘটেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয়করণের পর এবার কলেজটি পূর্বের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের নামে করা হয়েছে। কলেজটি আব্দুর রাজ্জাকের নামে করায় ডামুড্যা উপজেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এবং ধন্যবাদ জানাই শরীয়তপুর-৩ আসনের এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, পূর্ব মাদারীপুর কলেজের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হয়েছে এতে আমরা খুশি তবে কলেজের নামটি ব্যক্তির নামে না করে ডামুড্যা সরকারি কলেজ হলে আরও বেশি ভালো হতো। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের নাম পরিবর্তন করা এটা আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিলো। দেরিতে হলেও আমাদের আশা পূরণ হয়েছে। ধন্যবাদ মাননীয় এমপি নাহিম রাজ্জাককে। পূর্ব মাদারীপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. সেলিম বেপারীর মেয়ে সেলিমা পারভীন গণমুক্তিকে বলেন, এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আমার বাবা মরহুম মো. সেলিম বেপারী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক এমপি না। কলেজের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম হলে সেলিম মিয়া কলেজ হবে আব্দুর রাজ্জাকের নামে হবে কেন? তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে কলেজের প্রতিষ্টাতা আমার বাবা সেই কলেজ থেকে আমার বাবার ছবিগুলো পর্যন্ত নামিয়ে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, সবার মনে রাখা উচিত ক্ষমতা কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। ডামুড্যা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলমগীর হুসাইন গণমুক্তিকে বলেন, সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজটি জাতীয় বীর প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের নামে হচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে ভালো সংবাদ। কলেজটি শরীয়তপুর জেলাতে অবস্থিত হলেও পূর্ব মাদারীপুর কলেজের নাম থাকাতে মানুষে মধ্যে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতো। আশা করি এখন আর তেমনটা হবে না। আব্দুর রাজ্জাকের নামে কলেজটির নামকরণ হওয়াতে সারাদেশে পরিচিতও হবে। শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুযোগ্য কন্যা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শরীয়তপুর জেলাধীন ডামুড্যা উপজেলার “সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজ” এর নাম পরিবর্তন করে “সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ” এর নামকরণ করার প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ায়। এর পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি, জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী, এম.পি, মাননীয় উপমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মরত সকলকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা, আন্তরিক অভিনন্দন ও তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা জানাই। শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডে সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজটি। কলেজটি ১৯৬৯ সালে পূর্ব মাদারীপুর কলেজ নামে ডামুড্যা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. সেলিম বেপারী মাদারীপুর মহকুমার পূর্বাঞ্চলে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে তৎকালীন সময়ে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কলেজটিতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ১টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চলমান। কলেজের এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন শিক্ষক পাঠদান করান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে এই কলেজটি জাতীয়করণ হয়।

ভাসমান নৌকায় প্রযুক্তি শিক্ষায় শিশুরা
                                  

মো. কুরবান আলী, সিংড়া : নৌকায় শিক্ষা, নৌকায় প্রযুক্তি, বিনোদন, সাংস্কৃতিক সবই পাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা। বর্ষা এবং বন্যায়ও এমনকি ১২ মাসেই শিশুরা শিক্ষা সুবিধা পায়। সিংড়া উপজেলায় নন্দকুজা, আত্রাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৮ টি নৌকায় স্কুল চালু আছে। এর মধ্যে বিলদহর ও কলম এলাকায় নৌকায় কম্পিউটার শিক্ষা চালু আছে। কম্পিউটার, দর্জি, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষন এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫০০ নারী, কিশোরী এবং শিক্ষার্থী নিয়েছে। নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলায় চালু আছে। নাটোরের সিংড়ায়, গুরুদাসপুর ও নাটোর সদর হালসা এলাকা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, পাবনা জেলায় চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর উপজেলায় নৌকা স্কুল চালু আছে। ৮ টি দেশে এ কার্যক্রম চালু আছে। চলনবিলের এই মডেল গ্রহন করেছে ৮ টি দেশ। ২০০২ সাল থেকে নৌকা স্কুল কার্যক্রম শুরু হয়। যা এখন বিশ্বের মডেল। নৌকা স্কুল শুরুর পর তরুন স্থপতি রেজোয়ান নৌকা স্কুলের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে লাইব্রেরী, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট ও সৌরবিদ্যুত নিয়ে আসে। তার প্রতিষ্ঠান ‘সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থা’ জাতিসংঘ পরিবেশ পুরষ্কারসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পায়। কম্পিউটার প্রশিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, করোনা কালিন সময় ১০ জন করে ৪ টা ল্যাপটপে ট্রেনিং দেয়া হয়। সকাল ১০ টা হতে ১২ টা পর্যন্ত পাঠাগারে বই পড়ানো এবং কম্পিউটার ট্রেনিং দেয়া হয়। ১৩ বছর ধরে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। বিলদহর পশ্চিম পাড়ার হুসনে আরা, তানজিলা এখানে শিখতে এসেছে। বিলদহর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন কম্পিউটার শিখে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। কম্পিউটারে দক্ষ হয়ে দেশের কল্যানে ব্যয় করতে চান। প্রোগ্রাম ম্যানেজার মধুসূদন কর্মকার জানান, কিশোর কিশোরীরা সৌরশক্তি সম্পন্ন লাইব্রেরীর নৌকাতে যায়, যেখানে তারা বই পড়ে আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সংস্থা বন্যাপ্রবন এলাকাতে নৌকায় প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। প্রতিবছর ১৩,৫০০ জন সুবিধাবঞ্চিত কিশোরী ও নারীরা এই প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণ নৌকা থেকে নদীর পাড়ে জলবায়ু পরিবর্তনে মানানসই জীবন যাত্রার উপর সান্ধ্যকালীন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সুপ্রকাশ পাল বলেন, “বর্তমানে ২৬টি স্কুলের নৌকায় প্রতিদিন তিন শিফটে ২,৩৪০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। প্রতিটি নৌকা একবারে ৩০ জন ছাত্রছাত্রী ধারণ করতে পারে। প্রতিদিন সকালে নৌকা স্কুলগুলো বিভিন্ন গ্রামে যায় এবং শিশুদের বাড়ীর সামনে থেকে নৌকায় তুলে নেয়। তারপর নৌকাটি একটি জায়গায় দাঁড়ায় এবং শিশুদের শিক্ষা প্রদান করে।” স্কুলগুলোতে একটি ল্যাপটপ, কয়েক শত বই থাকে এবং সোলার প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের মাধ্যমে নৌকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো চালানো হয়। স্কুলে যাওয়া শিশুরা ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী। ২০০২ থেকে ২০২১ সাল সময়কালে সিধুলাই নৌকাস্কুলে ২১,২৯০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সুবিধা পেয়েছে। নতুন শিক্ষামূলক প্লে-বোটে (খেলা-নৌকা) ছাত্র-ছাত্রীরা খেলা-ধুলা করতে পারে। ২০১৭ সালে রেজোয়ান নৌকা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার করার জন্য খেলা-নৌকা ডিজাইন করেছিলেন। এই নৌকায় ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা করার জন্য শিক্ষামূলক খেলার উপকরণ আছে। যার মধ্যে ডাবল সুয়িং, আলফাবেট ও নিউমারেসি মার্কিংস্, আলফাবেট ও নিউমারেসি ওয়াল প্যানেল, মাঙ্কি বার, স্লাইড সহ শিশুদের জন্য প্রায় ৫০০ বই আছে। এছাড়া ইণ্টারনেট সংযোগযুক্ত চারটি ল্যাপটপের সাহায্যে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও শিশুদের দেখানো হয়। জানা যায়, ২০০২ সালে রেজোয়ান নিজেদের অর্থায়নে একটা ডিজাইনকৃত নৌকা তৈরি করতে সক্ষম হন এবং ভাসমান স্কুল কার্যক্রম চালু করেন। ২০০৫ সালে তরুন স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান একটি অবিশ্বাস্য সুসংবাদ পেলেন। তার দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন বড় আকারে সম্প্রসারনের জন্য বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন তাকে সহযোগিতা করবে। গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা রেজোয়ানের এই ছোট প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে - নৌকার কলেবর বৃদ্ধি পায়, সমস্ত নৌকায় সৌর বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার আনা হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে ৫০,০০০ বই ও ১০০ টিরও বেশি কম্পিউটার আনা হয়। এভাবেই শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা।

এ বছর জেএসসি জেডিসি পরীক্ষা হবে না
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : এ বছর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গণভবন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরাজমান অবস্থায় আলাদা করে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। তবে অন্যান্য শ্রেণির মতো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও শ্রেণি মূল্যায়ন হবে। তাদেরও শ্রেণি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে নবম শ্রেণিতে পড়তে হবে। এর আগে সকালে অপর এক অনুষ্ঠানে ডা. দীপু মণি জানান, এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হবে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে গত সোমবার অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ নভেম্বর এবং এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেখানে সমস্যা হয়েছে, সেখানে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কি-না, তা পর্যবেক্ষণ করছি। অনেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। আমরা এর কোনো সত্যতা পাইনি।

দীপু মনি বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারি চলমান। যদিও সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কাজেই আমাদের তীক্ষ্ন নজর রাখতে হবে, সবার দিকে। কেউ না কেউ অসুস্থ হতেই পারে। বাড়িতে, বাড়ির বাইরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অন্যদিকে, আবার তাদের দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সংক্রমিত হতে পারে। সেটি যেন না ঘটে, তা নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। কোথাও কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়া মাত্র যেন ব্যবস্থা নিতে পারি, সে বিষয়ে আমরা সচেতন ও সজাগ। কোথাও থেকে তথ্য পাওয়ামাত্র দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিসসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগেই বলেছি, কোথাও থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা পড়ার আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি কোথাও হয়, সে ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এসএসসি ১৪ নভেম্বর, এইচএসসি ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বর মাসে হবে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এক বছর বন্ধ থাকার পর এবার হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। ২০২০ সলে বাংলাদেশের সব উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে পাস করিয়ে দেয়া হয়েছিল, যেটাকে অনেকেই `অটোপাস` বলে বর্ণনা করেন। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার তাদের ওয়েবসাইটে দুই পাবলিক পরীক্ষার অনুমোদিত সময়সূচী প্রকাশ করে। এ অনুযায়ী, ১৪ই নভেম্বর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর থেকে। উভয় পরীক্ষা শুরু হবে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয় দিয়ে। প্রতিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দেড় ঘণ্টা ধরে। এমনিতে এসব পাবলিক পরীক্ষার প্রতিটি বিষয় তিন ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা নেয়া হয়। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বা মাউশি এখন পর্যন্ত শুধু এসএসসি পরীক্ষার সূচী প্রকাশ করলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেনি। সাধারণত এসব পাবলিক পরীক্ষা মাউশির অধীনেই নেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খালেদা আকতার বলেন, ``মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত রুটিনের অনুমোদন দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন বোর্ডগুলো তাদের ওয়েবসাইটে নিজস্ব সময়সূচী প্রকাশ করবে।`` মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডও এরই মধ্যে দাখিল পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেছে, যেটা এসএসসি সমমানের এবং একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এসএসসি পরীক্ষা আর এপ্রিল-মে নাগাদ এইচএসসি পরীক্ষা হয়ে থাকে। কিন্তু কোভিড-১৯ সংক্রমণ অব্যাহত থাকার কারণে সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়। পরীক্ষার সময়সূচীতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা এবং বিকাল ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশে দেড় বছরের বেশি সময় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার পর ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে। তখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস নাগাদ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের স্কুলমূখী করতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে: রংপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
                                  

আঃ মতিন, রংপুর প্রতিনিধি : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতকরা ৫ ভাগেরও কম শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় গিয়ে মতবিনিময় করছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন স্কুলের বাহিরে না থাকে। মঙ্গলবার সকালে রংপুর প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারী মোকাবেলায় দীর্ঘ দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকাকালীন আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। স্কুল খোলার পর থেকে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের পরিচালনার দায়িত্ব কর্মকর্তাদের নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে শিক্ষকদের মান-সম্মন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর অনেক সরকার এসেছে, কেউ প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান বাড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে ক্ষমতায় এসে এক সাথে ২৬ হাজারের অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করেছেন। বর্তমানে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে, উপবৃত্তি পাচ্ছে, শিক্ষা উপকরণ দেয়া হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম, পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট খোন্দকার ইকবাল হোসেন, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা।

অনার্সে ভর্তিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক
                                  

বগুড়া অফিস : বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার আসনে ভর্তি হতে শত শত ছাত্রছাত্রী ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ছুটছেন। তবে ৯০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয় হওয়ায় দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। কলেজ সূত্র জানায়, গত ২ জুন ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৯ আগস্ট দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রধান ও মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়। এ চিঠি অনেক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেনি। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কর্তৃপক্ষ চিঠি পেয়ে অনার্সে ভর্তিচ্ছুদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। এ কলেজে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে। তবে সরকারি শাহ সুলতান ও সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে ডোপ টেস্ট ছাড়াই ভর্তি করা হচ্ছে। সরকারি শাহ সুলতান কলেজে এবার অনার্সে এক হাজার ৯২০ জন ও মহিলা কলেজে এক হাজার ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী নেওয়া হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে শাহ সুলতান কলেজে লিখিত ও মহিলা কলেজে মৌখিকভাবে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্স ভর্তিচ্ছুরা ডোপ টেস্টের জন্য শহরের সরকারি, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভিড় করছেন। ডোপ টেস্টের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৫০ টাকা, সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৯০০ টাকা ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা চার্জ নেওয়া হচ্ছে। তবে ভর্তির সময় কম থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়েও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রক্ত ও প্রস্রাব দিতে হচ্ছে। বাড়তি টাকা খরচ করতে হওয়ায় দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ডোপ টেস্ট করতে আসা শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অন্য কলেজে ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে না। অথচ আজিজুল হক কলেজে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। হাতে সময় কম। তারপরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ডোপ টেস্ট করতে হচ্ছে। এক অভিভাবক জানান, ডোপ টেস্ট ভালো উদ্যোগ। তবে ফি বেশি হওয়ায় তার মতো অনেক অভিভাবককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও সময় না থাকায় তাদের ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে। বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেন জানান, তারা কোনো চিঠি না পাওয়ায় ডোপ টেস্ট ছাড়াই ভর্তি করছেন। তবে ছাত্রীদের কাছে পরবর্তীতে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জমা দিতে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করানো হচ্ছে।
সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামীতে ডোপ টেস্ট করতে বাধ্য থাকবে এমন লিখিত অঙ্গীকার নিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি করছেন। সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু তারা নন; দেশের অনেক কলেজে ডোপ টেস্ট করিয়েই অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

স্কুল-কলেজে সপ্তাহে একদিন ক্লাস হবে: শিক্ষা উপমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : স্কুল-কলেজ খোলার পর প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যে সুনির্দিষ্ট তারিখ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ক্লাস শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে তা পরিবর্তন হতে পারে, হয়তো বা আরও বেশিদিন ক্লাস নিতে পারব। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমারর্জেন্সি কেয়ার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, এইচএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষা সশরীরে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এটাই আপাতত লক্ষ্য। অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। আগামীতে নতুন সিলেবাসের রূপরেখা দাঁড় করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন সিলেবাসটা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। নওফেল বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাখাতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় অনলাইনে, অফলাইনে ও টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করেছি। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাসহ সব পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে প্রাথমিকভাবে আমাদের চিন্তা হচ্ছে, করোনার সংক্রমণ হার নিয়ন্ত্রণে রাখা। সংক্রমণ হার এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। স্বাস্থ্যখাতের ওপর তেমন চাপ পড়ছে না।

দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে : দীপু মনি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সব স্কুল কলেজ আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শুক্রবার তার নির্বাচনী এলাকায় এক স্কুলের উদ্বোধন করতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন। তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, "সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১২ই সেপ্টেম্বর থেকেই খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।" কোভিড সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সাথে গত রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সাথে এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কমিটি ওই বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে এ সিদ্ধান্তের ফলে মূলত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খুলে দেয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৫ই অক্টোবর খুলে দেয়ার বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হলেও এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন যে শিক্ষার্থীদের এক ডোজ টিকা দেয়া এবং কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে নিজেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে। গত বছর মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে বা সরাসরি ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, সে নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছিণ। তবে গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঘোষণা করেছিলেন যে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোয় আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যম্যে ক্লাশ শুরু হবে। এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলেও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি সংক্রমণের হার কমে আসায় কোভিড কারিগরি পরামর্শক কমিটির সাথে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন এ সিদ্ধান্তের ফলে মূলত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খুলে দেয়া হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগেই পনের অক্টোবর খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও, এখন মন্ত্রণালয় বলছে শিক্ষার্থীদের এক ডোজ টিকা দেয়ায় এবং কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে নিজেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই তা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে।

শিক্ষাবোর্ডের রেজাল্ট আর্কাইভে ঢুকে সার্টিফিকেট জালিয়াতি, গ্রেপ্তার ৭
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ডিজিটাল রেজাল্ট আর্কাইভে তথ্য পরিবর্তন করে জাল সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ ও অন্যন্য তথ্য বদলে দিয়ে অকৃককার্য শিক্ষার্থীর জন্য জাল সনদ তৈরির অভিযোগ আছে। টাকার বিনিময়ে জাল সনদ তৈরির একটি ঘটনা সামনে আসার পর তদন্ত করে চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রমনা ও চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। তারা হলেন— নূর রিমতি, মো. জামাল হোসেন, এ. কে. এম মোস্তফা কামাল, মো. মারুফ, ফারুক আহম্মেদ স্বপন, মাহবুব আলম ও মো. আবেদ আলী। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি প্রবেশপত্র, সনদপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নাম ও বয়স বদলের জন্য শিক্ষাবোর্ড বরাবর আবেদনপত্র, রেজাল্ট শিট ও খাম জব্দ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিনব এই জালিয়াতির বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার। ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে ডিবির কর্মকর্তা বলেন, ভিকটিম নূর তাবাসসুম সুলতানা ২০১৯ সালে ধানমন্ডি কামরুননেছা গভ. গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য শিক্ষা বোর্ডকে সে যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিল গত ২১ আগস্ট তাতে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। ওই বার্তায় তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক থাকলেও শিক্ষার্থীর নাম ও বাবা-মায়ের নাম এবং জন্ম তারিখ ভিন্ন দেখানো হয়। তখন তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার সনদপত্রে এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এ মামলার তদন্ত করে ডিবি। ঘটনার রহস্য উন্মোচনের ব্যাপারে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, নূর রিমতি ২০১৯ সলে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। কিন্তু তার ইতালি যাওয়ার জন্য এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট প্রয়োজন ছিল। জাল সনদ তৈরির জন্য সে তার মামা মো. জামাল হোসেনের মাধ্যমে এ. কে. এম মোস্তফা কামালের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী মোস্তফা কামাল শিক্ষা বোর্ডের দালাল মো. মারুফ, মাহবুব আলম, ফারুক আহম্মেদ স্বপন, মো. আবেদ আলীদের সাথে সমন্বয় করে নূর তাবাসসুমের জেএসসি এবং এসএসসির সব তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তারা শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন করেন।

সিংড়ায় গুগল মিটে ক্লাস করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
                                  

আফরোজা ইয়াসমিন, নাটোর : কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ দান বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমলমতি শির্ক্ষাথীরা পিছিয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় চলতি ২০২১ সালের মে মাস থেকে গুগল মিট ব্যবহার করে অনলাইন ভিত্তিক পাঠ দানের কার্যত্রম শুরু করেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস। র্স্মাট ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই গুগল মিটে যুক্ত হয়ে ক্লাস করছে উপজেলার ২১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির প্রায় ৩শত শির্ক্ষাথী। উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, ২১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১১৫জন শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং তাদের গুগল মিট প্রশিক্ষনের আওতায় এনে ৮টি ক্লাষ্টারের শিক্ষকদের ৪৫ থেকে ৫০টি সাব-এ ভাগ করে গুগল মিটে প্রতিনিয়ত পাঠ দান কার্যক্রম চলমান আছে। উপজেলার আয়েশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শির্ক্ষাথী হুজাইফার অভিভাবক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,স্কুল বন্ধ থাকায় আমার ছেলে পড়া লেখার মনযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। গুগল মিটে নিয়মিত ক্লাস করায় এখন নিয়মিত পড়া লেখা করছেন। আমরা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই।
পাকুড়িয়া সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও নাটোর জেলা এম্বাসেডর(এটুই) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিংড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের তত্বাবধানে এটুআই কর্তৃক অনুমোদন পেয়ে নাটোর জেলায় প্রথম ২০২০ সালের জুন মাসে চলনবিল অনলাইন স্কুল ফেসবুক পেইজ থেকে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমান গুগল মিটের পাশা পাশি চলনবিল অনলাইন স্কুলও চলমান আছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলী আশরাফ বলেন, গুগল মিটে ৫ম শ্রেণির শির্ক্ষাথীদের পাঠ দান কার্যক্রম চলমান আছে। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে যদি আরও দীর্ঘ সময় লাগে তাহলে পর্যায়ক্রমে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও পাঠ দান কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক শির্ক্ষাথীদের হোম ওর্য়াক (বাড়ির কাজ) বিতরণ কার্যক্রম ৫ম সপ্তাহ পর্যন্ত হয়েছে। চলমান লকডাউনের বিধি নিষেধের কারনে বিতরণ কার্যক্রম শিথিল আছে। বিধি নিষেধ উঠানো হলে পুনরায় এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি ইউনিসেফ ইউনেসকোর
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করতে আর অপেক্ষা না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ খোলার দাবি জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর ও ইউনেসকোর মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুল। গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ কথা জানান। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ১৮ মাস পেরিয়ে গেছে এবং লাখ লাখ শিশুর পড়াশোনা এখনো ব্যাহত হচ্ছে। ১৯টি দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে, যা ১৫ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এটা চলতে পারে না। বন্ধের ক্ষেত্রে স্কুলগুলো সবার শেষে এবং পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে থাকা উচিত।’ যৌথ বিবৃতিতে হেনরিয়েটা ফোর ও অড্রে অ্যাজুল বলেন ‘সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে রাখার প্রচেষ্টায় সরকার অনেক সময়ই স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে এবং দীর্ঘকাল ধরে সেগুলো বন্ধ রেখেছে। এমনকি মহামারিজনিত পরিস্থিতি, যখন এটা দাবি করে না তখনো। প্রায়শই এই ব্যবস্থাগুলো শেষ পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়ার বদলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হলেও বার ও রেস্তোরাঁগুলো খোলা ছিল।’ তারা বলেন, ‘স্কুলে যেতে না পারার কারণে শিশু এবং তরুণ জনগোষ্ঠী যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তা হয়তো কখনোই পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। শেখার ক্ষতি, মানসিক সংকট, সহিংসতা ও নির্যাতনের সম্মুখীন হওয়া থেকে শুরু করে স্কুলভিত্তিক খাবার ও টিকা না পাওয়া বা সামাজিক দক্ষতার বিকাশ কমে যাওয়া– শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাগত অর্জন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততায় এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সংক্রমণের প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো নেই। এদিকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রশমন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি সামাল দেওয়া সম্ভব। স্কুল খুলে দেওয়া বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এবং যে কমিউনিটিতে স্কুল অবস্থিত সেখানকার মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া উচিত।’ টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘স্কুলগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর টিকা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা যায় না। বৈশ্বিক পর্যায়ে টিকা ঘাটতি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় টিকাদানের ক্ষেত্রে সম্মুখ সারির কর্মী ও মারাত্মক অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার প্রদান অব্যাহত থাকবে। স্কুলে প্রবেশের আগে টিকাদান বাধ্যতামূলক না করাসহ সব স্কুলের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমানের অস্পষ্ট সুবিধার জন্য, আমাদের ভবিষ্যৎকে স্কুল বন্ধ রাখার মাধ্যমে জিম্মি রাখা হচ্ছে। অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই আরও বিবেচক হতে হবে। আমরা নিরাপদে যাতে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করতে পারি সে বিবেচনা গ্রহণ করতে হবে।’

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত
                                  

সংসদ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের সময়কালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি অবান্তর বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ গতকাল বুধবার সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যরা ছাটাই প্রস্তাবের সময় বেশিরভাগ সংসদ সদস্য স্কুল খুলে দেওয়ার দাবি করেন। অবশ্য দু-একজন এর বিরোধিতাও করেন। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে বৈশ্বিক সংকট করোনা অতিমারির মধ্যে আমরা চলতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান বলছে, শতকরা ৫ শতাংশ বা তার কমে সংক্রমণের হার না নামা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিজ্ঞান সম্মত নয়। এখন সংক্রমণের হার প্রায় ২৪ শতাংশ। কোনো কোনো জেলায় সংক্রমণ ৫০ শতাংশ বা তারও ঊর্ধ্বে। এই সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি আদৌ যৌক্তিক কিনা, তা ভেবে দেখার দরকার আছে। কারণ এই সংসদ জাতির জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’ দীপু মনি বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করেছিল। তারা খোলার পর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর আবারো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে যেখানে শ্রেণীকক্ষে ২০-২৫ জনের শিক্ষার্থীর বেশি বসে না। আমাদের এখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গায়ে গায়ে লেগে বসে থাকে। সেখানে খোলার প্রশ্নটা একেবারেই অবান্তর।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বলা হয় শিশুদের ইমিউনিটি অনেক বেশি। শিশুরা কম সংক্রমিত হচ্ছে, এটা যেমন বলা হচ্ছে আবার বিজ্ঞান বলছে শিশুদের মাধ্যমে ছড়ানোর আশঙ্কা অনেক বেশি। তারা নিজেরা হয়তো আক্রান্ত হলে তাদের মধ্যে লক্ষণ হয়তো থাকবে না, কিন্তু বাড়িয়ে গিয়ে তাদের বাবা-মাসহ অন্যদের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। সেটা বিবেচনায় থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তাদের কেউ কেউ খুলে দেওয়ার কথা বললেও এসময় খোলা হলে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না বলে একবাক্যে জবাব দেন। তারা বলেন, সন্তানদের মেরে ফেলার জন্য পাঠাতে পারি না। তাদের বিভিন্নভাবে এক্সপ্রেশন প্রকাশ করেন।’
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা খুব শিগগিরই জানাব। কী পদ্ধতি আমরা করব, সবকিছুই আমরা জানাব। তবে, শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সবাইকে বলব উদ্বিগ্ন হবেন না। বৈশ্বিক সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। একইভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হবে। এটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। অবশ্যই আমরা প্রজ্ঞা, জ্ঞানের সব কিছু প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন সারাবিশ্বেই ব্যত্যয় ঘটেছে। আমাদের এখানেও কিছুটা ঘটেছে। কিন্তু, তাদের যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো ক্ষতি না হয়ে যায়, তার জন্য সর্বোচ্চ নজর রাখছি। কেভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করেই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।’

চাকরি নয়, নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকার বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। ভবিষ্যতে সকল জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। অনেক সংশয়ের মধ্যে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইতোমধ্যে সেই সংশয় মিথ্যা প্রমাণিত করে নিজেদের প্রমাণ দিয়েছে। আগামীতে তারাও বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে স্থান পাবে সেই বিশ্বাস আমাদের আছে। শনিবার গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর অনলাইনে ৪র্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। সমাবর্তনে ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ডিগ্রি নেওয়ার পর শুধু চাকরির জন্য ঘুরবেন, এটা যেন না হয়। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্যের চাকরির উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
সমাবর্তনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, গ্রিন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ ফায়জুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০৪১ ছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা তাতে নিঃসন্দেহে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু চাকরির চিন্তা করলে চলবে না। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তাও রাখতে হবে। জ্ঞানার্জনের পথ কখনও শেষ হয় না। নিজের জানার পথ সব সময় খোলা রাখতে হবে। পরিস্থিতি ভালো কিংবা খারাপ হোক, নিজের শিক্ষার দ্বার সব সময় চালু রাখতে হবে। কারণ, মানুষের শিক্ষার সিংহভাগই প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে অর্জিত হয়।


   Page 1 of 71
     শিক্ষা
নতুন বছরে শিশুদের হাতে হাতে বই
.............................................................................................
কাঁঠালিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
.............................................................................................
হলে বাধ্যতামূলক খাওয়া ও সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে রাবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ
.............................................................................................
সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজ নতুন নামে ‘সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ’
.............................................................................................
ভাসমান নৌকায় প্রযুক্তি শিক্ষায় শিশুরা
.............................................................................................
এ বছর জেএসসি জেডিসি পরীক্ষা হবে না
.............................................................................................
এসএসসি ১৪ নভেম্বর, এইচএসসি ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের স্কুলমূখী করতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে: রংপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
অনার্সে ভর্তিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
স্কুল-কলেজে সপ্তাহে একদিন ক্লাস হবে: শিক্ষা উপমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে : দীপু মনি
.............................................................................................
শিক্ষাবোর্ডের রেজাল্ট আর্কাইভে ঢুকে সার্টিফিকেট জালিয়াতি, গ্রেপ্তার ৭
.............................................................................................
সিংড়ায় গুগল মিটে ক্লাস করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি ইউনিসেফ ইউনেসকোর
.............................................................................................
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত
.............................................................................................
চাকরি নয়, নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন অটোপাস
.............................................................................................
সহসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলার কোন ইঙ্গিত মিলছে না
.............................................................................................
শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়
.............................................................................................
বিশ্বের ৮শ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই ঢাবি, বুয়েট ব্র্যাক বা নর্থ সাউথ
.............................................................................................
পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
.............................................................................................
অনুকূল অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ১৩ জুন
.............................................................................................
দেশের ৫৯ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষা ঝুঁকিতে
.............................................................................................
খুলনার সিনিয়র শিক্ষক মওলানা আব্দুস সাত্তার আর নাই
.............................................................................................
মারাত্মক স্বাস্ব্যঝুঁকির মধ্যে হয়ে গেলো এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
.............................................................................................
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদন ১লা এপ্রিল থেকে
.............................................................................................
শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটির বিষয়ে কলিমউল্লাহর বক্তব্য মিথ্যা: ইউজিসি
.............................................................................................
বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা শিক্ষক রাজনীতির শিকার আমি
.............................................................................................
ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে
.............................................................................................
ঢাবির হলের তালা ভেঙে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু ২৪ মে থেকে
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরেক দফা ছুটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
.............................................................................................
অটোপাসেও সন্তষ্ট নন প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী
.............................................................................................
এমপিওভুক্ত ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে
.............................................................................................
একযোগে ৪৬ সরকারি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ
.............................................................................................
বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি; সভাপতি লিটু, সাধারণ সম্পাদক আলিফ
.............................................................................................
উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সঙ্কট নেই : ইউজিসি
.............................................................................................
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত ১৩৪ মামলা আদালতে বিচারাধীন
.............................................................................................
ঢাবির বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সামিয়া রহমান
.............................................................................................
এইচএসসির ফল প্রকাশে সংশোধিত আইনের গেজেট জারি
.............................................................................................
এসএসসির পাঠ্যসূচি কমিয়ে সিলেবাস প্রকাশ
.............................................................................................
মাধ্যমিকে পদোন্নতি পাচ্ছেন ৬ হাজার শিক্ষক
.............................................................................................
ভর্তি ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি নেয়া যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
সমালোচনার মুখে ঢাবির সান্ধ্য এমবিএ কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত
.............................................................................................
টিউশন ফি ছাড়া অন্য খাতে টাকা নিতে পারবে না বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল
.............................................................................................
শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই : ডা. দীপু মনি
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল
.............................................................................................
পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি পাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
.............................................................................................
মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop