২২ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বরগুনায় অগ্নিঝরা টাউনহল চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট   > বন্যায় মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়াল   > স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হলেন সেব্রিনা ফ্লোরা   > বরিশাইল্লা ‘দাদো’র চরিত্রে মীর সাব্বির   > ২৪ ঘন্টায় আরো ৪৪ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১৭   > ট্রেনের টিকিট হাতবদল হলেই সাজা   > মাদারীপুরের ডাসারে র‌্যাব-৮ এর অভিযানে দেশি-বিদেশী মদ উদ্ধার, আটক ১   > সুবিদখালী বাজার সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগ চরমে !   > এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু   > ভূঞাপুরে ছাত্রলীগ নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার  

   শিক্ষা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা

গণমুক্তি ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা চলতি বছর থেকে আর থাকছে না। একই সঙ্গে বাতিল হতে যাচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। আজ মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এই দুই পরীক্ষা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের উপস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে। আগামী রোববারের মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

জানা গেছে, সমাপনী পরীক্ষা না হলেও এই দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই ফলের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে মেধাবৃত্তি দেওয়ার চিন্তা আছে। শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আর ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো-পাস’ দিয়ে তুলে দেওয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না, তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেওয়া হবে। এজন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যেই কাল বুধবার এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (নেপ) বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষার সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা ন্যূনতম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে তখনই তারা স্কুলে যাবে। যেহেতু কবে প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে তা আমরা জানি না। তাই একাধিক বিকল্প হাতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, করোনায় শিক্ষায় ক্ষতি পূরণে বিশেষ করে সামনে কোন মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সে সংক্রান্ত একটা খসড়া প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। মতামতকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে এনসিটিবি কাজ করবে।

বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা চলতি বছর থেকে আর থাকছে না। একই সঙ্গে বাতিল হতে যাচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। আজ মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এই দুই পরীক্ষা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের উপস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে। আগামী রোববারের মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

জানা গেছে, সমাপনী পরীক্ষা না হলেও এই দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই ফলের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে মেধাবৃত্তি দেওয়ার চিন্তা আছে। শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আর ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো-পাস’ দিয়ে তুলে দেওয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না, তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেওয়া হবে। এজন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যেই কাল বুধবার এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (নেপ) বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষার সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা ন্যূনতম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে তখনই তারা স্কুলে যাবে। যেহেতু কবে প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে তা আমরা জানি না। তাই একাধিক বিকল্প হাতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, করোনায় শিক্ষায় ক্ষতি পূরণে বিশেষ করে সামনে কোন মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সে সংক্রান্ত একটা খসড়া প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। মতামতকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে এনসিটিবি কাজ করবে।

`অটো পাসেই` চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ!
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন বন্ধ রয়েছে। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষ না বাড়িয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার চিন্তা চলছে। এজন্য সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর নভেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদেরকে পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো পাস’ দেওয়া হবে।

আর এতে পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না বা বাদ পরবে সেই অংশের পাঠ পরের শ্রেণিতে দেওয়া হবে। এ জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এর আগে ডিসেম্বরে পরীক্ষা না নেওয়া গেলে শিক্ষাবর্ষ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছিল।

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠক হয়। সেখানে চলতি শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরেই শেষ করার ব্যাপারে আলোচনা হয়। উভয় মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে শিগগিরই আবারও আলোচনায় বসবে বলে জানা যায়।

সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব না হলে ডিসেম্বরে স্কুল-মাদ্রাসা পর্যায়ে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পরে ওই পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে ইতিমধ্যে রিকভারি প্লান জমা দিয়েছে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট। সেখানেও নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব না হলে অটোপাসের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে চলতি শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরেই শেষ করার কথা বলেছেন। এছাড়া জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিও ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করনের কাজ করছে।

অবশেষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : অবশেষে শুরু হচ্ছে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। আজ রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সূচি ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আগামী ২০ অগাস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার শুধু অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। আর মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ, সোনালী ব্যাংক, টেলিটক, বিকাশ এবং রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে।

এবছর মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী। তারাই এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আবেদন করবেন। দেশের মোট ৭ হাজার ৪৭৪টি সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ২৫ লাখ আসন রয়েছে। আর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও আট লাখ আসন ফাঁকা থাকবে।

জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে ৫টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে পারবে। মেধা এবং পছন্দক্রম অনুসারে নির্দিষ্ট কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে। একাদশে ভর্তির জন্য সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল থাকছে। তবে, অন্যান্য কোটা নিয়ে নীতিমালায় কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও ব্যয় কমাতে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। শুধু অনলাইনে সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

গত মার্চ মাসের শুরুতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হল হলেও দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ফল প্রকাশ করতে দেরি হয়। গত ১০ মে থেকে একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে ভর্তি নীতিমালা জারি করা হলেও নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। গত ৩১ মে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

শ্রুতিমধুর নয় এমন বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করবে সরকার
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : শ্রুতিমধুর নয় এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করবে সরকার। দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কুলের নামকরণের প্রস্তাব ৩০ আগস্টের মধ্যে পাঠাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার ‘মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘মানুষগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়েছিল।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনাপত্রে এই বিদ্যালয়ের নামকরণ পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খালিদ আহমেদের স্বাক্ষরে ওই নির্দেশনাপত্র দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সারা দেশে এমন কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম আছে যা শ্রুতিমধুর নয় এবং ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সুশোভন নয়। এসব নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে এর আগেও এ ধরনের কয়েকটি স্কুলের নাম পরিবর্তন করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন এ ধরনের সব বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।

প্রাথমিকের শিক্ষকেরা বেতন কমার শঙ্কায়!
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল এক ধাপ বাড়িয়ে ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এ গ্রেডে শিক্ষকদের বেতন বাড়ার পরিবর্তে প্রতিমাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমে যাবে।

শিক্ষকরা বলছেন, সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড তারা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছেন। কারণ ওই গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করলে শিক্ষকদের বেতন বাড়বে না; বরং অধিকাংশ শিক্ষকদের বেতন কমে যাবে। ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তির পর প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সে কারণে ১৩তম গ্রেডের উপরের ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হলেও শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে যাওয়ার ফল পাবেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, কারও বেতন কমানো হবে না। বেতন স্কেলের ধাপে ধাপে মেলানো হবে। না মিললে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ১৩তম গ্রেডের নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ করলে শিক্ষকদের বেতন ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে যাবে, যা চাকরিজীবনে আর সমন্বয় করা সম্ভব হবে না। এই বিষয়ে অর্থসচিব তাদের কথা দিয়েছিলেন যে, তাদের বেতন নিম্নধাপের পরিবর্তে উচ্চধাপে হবে এবং সেখানে পিপি বলতে কিছু থাকবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, বেতন স্কেল নির্ধারণের সাধারণ নিয়ম হলো ধাপে মিললে মিলল, না মিললে পে-প্রটেকশন দিয়ে পরের ধাপের ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তা সমান হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন কেউ ৩১২৫ টাকা বেতন পান। নতুন গ্রেডে বেতন স্কেল ৩১০০ টাকায় ফিক্সেশন হলেও তার ২৫ টাকা মার যাবে না। পিপি হিসেবে পরের বছর ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে তা যোগ হবে।

এদিকে বেতন স্কেল নির্ধারণের পাশাপাশি ১৩তম গ্রেডের সুবিধা সহকারী শিক্ষকদের সবাই পাবেন কিনা এটা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালের নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগবিধিতে সব শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩তম গ্রেডের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের প্রজ্ঞাপনেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় বিপুল সংখ্যক সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সংবাদ `গুজব`
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে তা নিছক `গুজব` জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

`বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা বোর্ড` নামক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে `ঈদের পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার`।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের পাঠানো বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই সংবাদটি ভিত্তিহীন ও গুজব। `এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল। ` বিজ্ঞপ্তিতি বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তখন সঙ্গে সঙ্গেই গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে। ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা বোর্ড নামে কোনো বোর্ড নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংসদ টিভিতে ক্লাস প্রচার করছে মন্ত্রণালয়। আর উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তরে অনলাইনে ক্লাস চলছে। কয়েক দফা বৃদ্ধির পর আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সহসাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে না।

একাদশে ভর্তি শুরু ৯ আগস্ট
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক: ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির কার্যক্রম আগামী ৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১৫ সেপ্টম্বর পর্যন্ত। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ কার্যক্রম ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তির যাবতীয় তথ্য শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলা হয়।

জানা গেছে, এ বছর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। শুধু অনলাইনে সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভর্তিতে ফি আবেদন ফি ও ভর্তি ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের বাংলা মাধ্যম ভর্তির জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমের ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ লকডাউনের পর অফিস-কারখানা-যানবাহন চালু করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়েছে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত।

এসএইচ/ এমটি

করোনাকালে স্কুল ঝিমিয়ে গেলেও পিছিয়ে নেই শিক্ষা কার্যক্রম
                                  

মো, রফিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় : করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পঞ্চগড়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম আর শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। করোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বাড়িতেই মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় থেকে প্রশ্ন তৈরি করে দিচ্ছেন শিক্ষকরা আর সেই প্রশ্নে সন্তানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন মায়েরা।
স্কুল থেকে প্রশ্ন তৈরি করে খামে ভরে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর সেই প্রশ্ন দিয়েই মায়েরা নিচ্ছেন সন্তানদের পরীক্ষা। ব্যতীক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর রাধানগর হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেনের নির্দেশনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বাড়িতেই মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু করে তারা। রুটিন ও নিয়ম অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। ক্রমান্নয়ে প্রত্যেক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের এই পদ্ধতিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনায় সারা দেশের মতো ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে পঞ্চগড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম আর শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বড় ছন্দপতন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পিছিয়ে পড়ে পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। এই পরিস্থিতির মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন তৈরি করে আলাদা আলাদা খামে ভরে বিনামূল্যে তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়িতে পৌছে দিচ্ছেন। রুটিন অনুযায়ী সেই প্রশ্নে একযোগে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা পরীক্ষা নেন মায়েরা। স্কুলের আদলেই পরীক্ষা নেয়া হলেও এখানে শিক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন মা আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষকরা পরিদর্শন করছেন। প্রশ্ন অনুযায়ী যে যার মতো উত্তর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মায়ের হাতে খাতা তুলে দিচ্ছেন। কেউ ঘরে আবার কেউ বারান্দায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। স্কেল, কলম এমনকি ঘড়িও রাখা আছে সাথে। পাশেই বসে লক্ষ্য রাখছেন মায়েরা। বাড়িতেই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছাসিত শিক্ষার্থীরা। অপর দিকে অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, করোনা কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকরাই খোঁজ খবর রাখছেন। এবং নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমান অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা চলছে, আর শিক্ষার্থীদের বাড়িবাড়ি গিয়ে ঘুরে দেখছেন শিক্ষকরা। ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে আর মায়েরা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

অনলাইন ক্লাস: সুফল শহরে, পিছিয়ে পড়ছে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা
                                  

মহিউদ্দিন তুষার: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সবার আগে যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। করোনা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। দীর্ঘ সময় এই অস্বাভাবিক বিরতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি তারা মানসিকভাবে ভালো নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কুল কবে খুলবে তা স্পষ্ট নয়। করোনাভাইরাসে ভয়াবহতা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাসের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরিয়ান ইবনে আবির রাজধানী ঢাকার পিকেএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। মে মাসের শুরু থেকেই তাদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। কখনো ফেসবুক লাইভ কিংবা জুম ব্যবহার করে শিক্ষকরা তাদের ক্লাস নিচ্ছেন। ক্লাসে অংশ নিতে মায়ের মোবাইল ব্যবহার করে আবির। তার বাবা সাংবাদিক সুমন মাহমুদ জানান, বেলা এগারোটা থেকে দুইটা পর্যন্ত অনলাইনে প্রতিদিন এভাবেই ক্লাস করতে হচ্ছে তার ছেলেকে। পেশাগত কারনে নিজে সময় দিতে না পারাতে ছেলের মা সার্বক্ষণিক নজরে রাখেন। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্লাস হয় ততক্ষণ তার মা পাশে থাকেন। দেখা যায় ঢাকায় সরকারি বেসরকারি বিশেষ করে সুপরিচিত স্কুলগুলোতে গত অনেক দিন ধরেই এমন চর্চা চলছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী ও সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে এ ধরণের অনলাইন শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম বা উভয় মাধ্যমের পরিচিত স্কুলগুলো ফেসবুক বা জুম ব্যবহার করে অনলাইন পাঠদান শুরু করে গত মাসের শুরু থেকেই। তবে শহরাঞ্চলে ঠিক কত স্কুল অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে আর কতগুলোতে চালু করা যায়নি তার কোনো হিসেব নেই। আবার সরকারি স্কুলগুলোতে অনলাইনের চেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে সংসদ টিভির মাধ্যমে স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান প্রক্রিয়াকে।

শহরে অনলাইন ক্লাস করিয়ে একের পর এক চ্যাপটার শেষ হয়ে যাচ্ছে স্কুলে। কিন্তু গ্রাম অঞ্চলে এমন পরিবারের পড়ুয়াও রয়েছে যাদের পরিবারে অ্যান্ড্রয়েড ফোন এখনও বিলাসিতা। অনেকের ঘরে নেই টিভি। অর্থনৈতিক কারণে তা কেনা সম্ভব নয়। আবার কারো কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলেও গ্রামের নেটের সবচেয়ে বেশি সমস্যা। দুই মিনিট নেট থাকলে আবার ৫ মিনিট থাকে না। এছাড়া করোনাকালীন এই সময় নেট ক্রয়ে টাকার হার বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েকগুণ। সব মিলিয়ে দিশেহারা গ্রামের শিক্ষার্থীও তাদের পরিবারগুলো। পাচ্ছেনা অনলাইন ক্লাসে সুফল।   

মরিয়ম আক্তার মহর আলী সরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা কৃষক মা গৃহিণী। মরিয়ম জানেন না কিভাবে অনলাইনে ক্লাস হয়, কারা ক্লাস নিয়ে থাকেন। একই স্কুলের রাশেদ রহমান বলেন তাদের ঘরে টিভি নেই। নাই বিদ্যুৎতের আলো। বড় ভাই ঢাকায় থাকেন তার হাতে বড় ফোন থাকলেও মা ছোট ফোন চালায় আর বাবার হাতে কোন ফোনই নাই। গ্রাম অঞ্চলের এমন একাধিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে একই চিত্র দেখা যায়।   

সিবসেন মোবারক দেওয়ান মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম ওমর আলী বলেন, আমাদের স্কুলটি দুর্গম চরে অবস্থিত। এখানে যেমন নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই আধুনিকতার ছোঁয়া। এই অঞ্চলের মানুষ মূলত জেলে এবং কৃষি উপর। এখানে শহরের মত আধুনিকতার ছোঁয়া ততটা নেই। করোনার এই সময় শহরের শিক্ষার্থীরা যখন অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সিলেবাস শেষ করে ফেলছে। গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তখন পূর্বের পড়া ভূলতে বসেছে।

সানফ্লাওয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ও ক্রিয়েটিভ প্লাস একাডেমিক কোচিং সেন্টারের ইংরেজি শিক্ষক মোঃ ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ দশা। এমতাবস্থায় অনলাইন ক্লাস বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনলাইন ক্লাসের জন্য যে বিষয়গুলো অত্যাবশকীয় তা হল বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন ইত্যাদি। উক্ত সুবিধাগুলো শহরে পর্যাপ্ত থাকলেও গ্রামে এর অবস্থা খুবই করুণ। গ্রামে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা নেই, থাকলেও মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়ে থাকে, তাছাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন ততটা সচরাচর দেখা যায় না। কারো কারো কাছে থাকলেও ইন্টারনেটের বাফারিং ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার জন্য তারা অনলাইন ক্লাসে সময়মত অংশগ্রহণ করতে পারেনা। ফলে শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

ভেদরগঞ্জ হেডকোয়াটার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারি শিক্ষক মো: মোস্তফা (গনিত) বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেটের বেহাল দশার কারণে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বর্তমানে ইন্টারনেট প্যাকেজ অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা অনেক মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর সামর্থ্যরে বাইরে। শুধু তাই নয়, অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছে যারা দরিদ্রতার কারণে স্মার্টফোন সেবার বাইরে রয়েছে।

বিশিষ্টজনদের মতে, করোনাকালীন এই সময়ে অনলাইনে ক্লাস শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। স্বাভাবিক পড়াশোনার সমস্যা কিছুটা লাঘব করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বা পাঠ দিচ্ছে। তবে সেটা শ্রেণিকক্ষে পাঠের যথাযথ বিকল্প নয়। অনলাইনে বা টিভি সম্প্রচারে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট রাখা হয়তো সম্ভব হচ্ছে; কিন্তু করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম যে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে তা অস্বীকার করা যায় না। উচ্চশিক্ষার ৩২ লাখ শিক্ষার্থীর ২৮ লাখই এখনও পড়ালেখার বাইরে। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচীর অর্থায়নে শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও বাইসাইকেল বিতরণ
                                  

কুষ্টিয়া ব্যুরো : ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুমারখালী আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি ও ধলনগর আদিবাসী বহুমুখী সমবায় সমিতির শিক্ষার্থীদের মাঝে বাই-সাইকেল ২০ টি, শিক্ষা উপকরন হিসেবে ৫০ জনকে ছাতা, টিফিন বক্স, পানির পট, স্কেল বক্স ও ৯০ জনকে ১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রশাসনের উপপরিচালক (উপসচিব) মৃনাল কান্তি দে। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) কুমারখালী, এম এ মুহাইমিন আল জিহান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ২ সমিতির নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

করোনাভাইরাসের এই সময়ে অনলাইন পাঠদানে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন প্রভাষক মির্জা আরাফাত জাহান
                                  

এম সাদ্দাম হোসেন পবন : বিশ্বজুড়ে আলোচিত ইস্যু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে মানুষের জীবন ও সম্পদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে গৃহবন্দি দশায় শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখতে অনলাইনের মাধ্যমে কৃষি শিক্ষা পাঠদানে জনপ্রিয়তায় উঠে এসেছেন প্রভাষক মির্জা আরাফাত জাহান। ময়মনসিংহ অঞ্চলের রয়েল মিডিয়া কলেজের প্রভাষক মির্জা আরাফাত জাহান তথ্য প্রযুক্তির আদলে কৃষি শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন পাঠদানে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন। অনলাইন পাঠদানের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসেই অধ্যয়নে মনোযোগ ও পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায় সরাসরি প্রিয় শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিতে পারছেন। রয়েল মিডিয়া কলেজ অনলাইন পাঠদান চালু করায় ওই কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ ফেসবুকের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের বিষয় ভিত্তিক অধ্যায় সম্পর্কিত লেকচারের সুফল দেশের অন্য সব কলেজের শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছে।
১৫ বছরে সাফল্যের দ্বারে উপনীত রয়েল মিডিয়া কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে দায়িত্ববান। শিক্ষার্থীদের পাঠদান পরিবেশ নিশ্চিত করনসহ পাঠ্যক্রমের বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান অন্বেষনে সহায়ক ভূমিকায় শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবের এই দীর্ঘ সময় গৃহে আবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় লেখাপড়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে বড় চিন্তায় ছিলাম। অনলাইনে পাঠদানের ফলে কিছুটা হতাশা দুর হয়েছে। তিনি মনে করেন অনলাইনে পাঠ্যক্রমের বিষয় ভিত্তিক লেকচারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন সমাধান করতে পারছি। প্রভাষক মির্জা আরাফাত জাহান ম্যাডামের কৃষি শিক্ষা বিষয় নিয়ে অতি সহজতর ভাবে লেকচার অনলাইনে পাওয়ায় আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ছিল।
শিক্ষার্থী সাবিনা আক্তার জানান, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে এই দীর্ঘ ক্লান্তিকর পরিবেশ পাঠদানের ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। অনলাইন পাঠদানের কারনে লেখাপড়ায় অনেকটা মনোযোগী হতে পেরেছি।
আইসিটি নিয়ে কাজ করা গবেষক আবদুর রহমান রানা গনমুক্তির বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, সময়ের সাথে সাথে তথ্য প্রযুক্তির আদলে দেশের সব কর্মকান্ড নির্ভরশীল হওয়ায় হাতের নাগালে সমস্যার সমাধান এসেছে। করোনাভাইরাসের এই বৈশ্বিক মহামারিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার আশংকা বিরাজমান। এই সমস্যার প্রভাব প্রশমনে অনলাইন পাঠদানে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে প্রভাষক মির্জা আরাফাতের লেকচার জনপ্রিয়তা অন্যান্য কলেজের ক্ষেত্রে অনুকরনীয় হতে পারে।
জানতে চাইলে রয়েল মিডিয়া কলেজের কৃষি শিক্ষা প্রভাষক আরাফাত জাহান বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রভাব হ্রাসে আমাদের কলেজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইন পাঠদান অব্যাহত রেখেছি। শিক্ষার্থীরা সবাই অনলাইনে পাঠদানের সুফল পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি করোনাভাইরাসের বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের প্রতি মনোবল সক্রিয় হবে।

বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণের ক্ষেত্রে পরীক্ষাবিহীন প্রমোশনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি সিদ্ধান্ত। করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সরকার সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্কুল-কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার পক্ষে নয় শিক্ষা প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা না নিয়েও পরবর্তী ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতে পারবে স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়াই দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের কারিকুলাম শেষ করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রতিষ্ঠান প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও শুরু করে। করোনা ছুটির কারণে তা শেষ করতে পারেনি। কিন্তু আধাসাময়িক পরীক্ষা সবাই নিতে পেরেছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠান চাইলে সাময়িক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ করতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে কখনো প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে কোনো শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়নি। সবাই দ্বিতীয় বর্ষে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং পরের বছরের কারিকুলাম শেষ করে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়।

এ বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহানআরা জানান, তার প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা করোনা ছুটির আগেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বার্ষিক পরীক্ষা কবে কখন কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত লাগবে। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। নিয়মিত অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি শিক্ষা বর্ষের সাত মাস পার হতে চললেও এখনো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি অভ্যন্তরীণ কোনো পরীক্ষা। সেশনের সময় চলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কলেজগুলো। আগামী বছর এপ্রিল মাসে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত আছে। এছাড়া বার্ষিক পরীক্ষা কীভাবে কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে-সে হিসাব কষছে শিক্ষা প্রশাসন।

বার্ষিক পরীক্ষা সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, এটি সরকার থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এখনো করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন পদ্ধতিতে কীভাবে এই পরীক্ষা নেওয়া যায় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

রাবির ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : ইতিহাস, ঐতিহ্যের ৬৭ বছর পেরিয়ে সোমবার ৬৮ বছরে পদার্পণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) । প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ অসংখ্য আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি (গণঅভ্যুত্থানের সময়) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা। যিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। এছাড়াও রাবিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন সংগ্রহের জন্য ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা’।

অন্যান্য বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, সব আবাসিক হল, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে শোভা পায় রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে সাজানো হয় নানা রকম আল্পনা দিয়ে। তবে এবার সেই আয়োজন থাকছে না। করোনার কারণে একেবারেই ‘সীমিত পরিসরে’ উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। জন্মদিনের কেককাটার মতো আয়োজনও থাকছে না এবার।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বড় ধরনের কর্মসূচি পালনে সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, কর্মচারীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় দিবসটি উদযাপনের আয়োজন কমানো হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা রাবির প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেজন্য এবার একেবারে সীমিত পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই থেকে সাতটি বিভাগে ১৫৬ জন ছাত্র এবং পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নয়টি অনুষদের অধীনে ৫৭টি বিভাগ এবং সাতটি ইনস্টিটিউটের অধীনে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের টিউশনি না থাকায় মানবেতর কাটছে দিন!
                                  

মহিউদ্দিন তুষার: সারা দেশে অবস্থিত ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষক শিক্ষিকা বা কর্মচারী রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষক যাদের পরিবার অনেকাংশে টিউশনির আয়ের উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল যেন এক একটা পরিবারের আয়ের উৎস ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রস্থল। কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইভেট বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতন পান, তারা নির্ভর করেন মূলত প্রাইভেট টিউশনির ওপর। করোনাকালে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত এই বন্ধে তাদের টিউশনি যেমন বন্ধ রয়েছে তেমনি অনিশ্চিত হয়েছে তাদের উপার্জন। তারা না পাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন, না পাচ্ছেন প্রাইভেট পড়ানোর বাসা থেকে কোনো বেতন। কাজেই জীবন চালানো, সংসার চালানো তাদের জন্য হয়েছে দুরূহ। গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ শুরু হয়েছে এবং কয়েক দফায় বাড়িয়ে তা রোজার ঈদ শেষ হয়ে চলে এসেছে ঈদুল আযহা। ঘোষণা রয়েছে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে। করোনাকাল আরও দীর্ঘ হলে কিভাবে সামনের দিনগুলো কাটাবে সেই চিন্তায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকারা দিশেহারা। বর্তমান দিনগুলোই বা কিভাবে পার করবেন করছেন সেই চিন্তাও।

এদিকে গত ২৯ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ১৪৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি প্রণোদনাসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মানববন্ধন করেন। তাদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো: নন-এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের মত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময় উত্তরণে কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করণ যা সহজশর্তে ঋণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের জন্য রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করণ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার কমে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করণ। সহজশর্তে-কিন্ডারগার্টেন স্কুল সমূহকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার মত নিজ স্কুলের নামে জে.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকারী এক শিক্ষিকা বলেন, স্কুল থেকে আমাদের যে টাকা বেতন দেওয়া হয় তা খুবই অল্প। টাকার পরিমান বলতে গেলে অনার্স, মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন ২০০০ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেতনের শিক্ষকই বেশি। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা মূলত প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্বশীল। করোনার এই সময় স্কুলগুলো বন্ধ থাকার কারনে আমাদের জীবন জীবিকা খুবই কষ্টে যাচ্ছে। আমরা স্বামী/স্ত্রী দুজনই শিক্ষকতা করি। বর্তমানে আমাদের কোন প্রাইভেট নেই, ঘরে যে টাকা জমা ছিলো তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। করোনার এই ক্লান্তিকাল কবে শেষ হবে আর সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটাবো এই টেনশনে রাতে ঘুম পর্যন্ত আসে না। প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকদের কোন সহযোগিতাও করা হয়নি।
রাজধানী হিরাঝিল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী খান বলেন, আমরা যারা কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করি। প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের নামমাত্র বেতন দেন। সকল শিক্ষকদের নির্বর করতে হয় মূলত প্রাইভেট টিউশনির ওপর। করোনাকালীন দীর্ঘ ও অনিশ্চিত এই বন্ধে আমাদের টিউশনি যেমন বন্ধ রয়েছে তেমনি অনিশ্চিত হয়েছে উপার্জন। আমরা না পাচ্ছি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন, না আছে কোন প্রাইভেট। কাজেই আমাদের জীবন চালানো, সংসার চালানোটাই হয়েছে দুরূহ। শুধু মানবেতর জীবন না এর নিচে যদি কিছু থাকে বর্তমানে আমরা সেই অবস্থাতে আছি। তিনি আরও যোগ করে বলেন, আমরা না পারছি কাউকে বলতে না পারছি এখন সহ্য করতে। একমাত্র ভরসা মহান আল্লাহ। আর দ্বিতীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাদের জন্য কিছু করেন, তবেই আমাদের রক্ষা।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, করোনার ক্রান্তিলগ্নে আমরা প্রায় ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠান সাথে সংশ্লিষ্ট ২০ লাখ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার মানবেতন জীবনযাপন করছি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা কোনো টিউশন ফি আদায় করতে পারিনি। তাই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কিন্ডারগার্টেন জাতীয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত হয় (৯৯ শতাংশ) কিংবা একটু সচ্ছল অথচ বেকার কোনো ছেলে বা মেয়ে নিজের বাসার একটি রুমে হয়তো এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান চালু করেন। করোনাকালীন বন্ধেও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়িভাড়া ঠিকই দিতে হয় যদিও শিক্ষার্থী বেতন নেই এই দুই মাস। অন্যান্য বিলও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক হারে পরিশোধ করতে হয় যা এখনও অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন বন্ধে বেসরকারি অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু নিজস্ব আয়ে চলা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কিন্ডারগার্টেন, স্বীকৃত অথচ নন-এমপিওভুক্ত, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নয়, একেবারেই ব্যক্তিগত এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর দিন কাটছে। সরকারের উচিত কিন্ডারগার্টের স্কুলের শিক্ষকদের জন্য আর্থিক ব্যবস্থা করা।

কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একাধিক শিক্ষক/শিক্ষিকারা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রের বিশাল এই সেক্টরকে টিকির রাখতে এবং অসহায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও গরিব কর্মচারীদের জন্য জীবন বাঁচানো এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেকোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রার্থনা করছি।

এসএইচ/ এমটি

বিসিএসে ইংরেজিতে প্রথম হলেন রংপুরের মুন্নী
                                  

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তি মানুষকে হীরার মতো শক্ত ও দামি করে তুলতে পরে। তেমনই ইচ্ছাশক্তির অধিকারী রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুন্নী রাণী। তিনি ৩৮তম বিসিএসে সারা দেশে ইংরেজি বিষয়ে প্রথম হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন মুন্নী রাণী। স্নাতকে ৩.৫৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৫৯ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। নিজের ভালোলাগা এবং পরিবারের সদস‌্যদের উৎসাহে বিশ্ববিদ‌্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন মুন্নী রাণী। তিনি বর্তমানে রংপুরে সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ইংরেজিতে প্রথম হওয়ার সাফল্য অর্জন করেছেন মুন্নী রানী।

স্নাতকে সারা বছর ক্লাস, অ‌্যাসাইমেন্ট, পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হতো। সবকিছুর পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন মুন্নী। সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা চালিয়েছেন। ইংরেজির শিক্ষার্থী হওয়ায় ইংরেজিতে বেসিক ভালো ছিল। নিয়মিত গণিত ও বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা চর্চা করেছেন।

দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সাফল্য সম্পর্কে মুন্নী রানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই স্বপ্ন দেখতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বিসিএস পরীক্ষার পর নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে, ক্যাডার হতে পারব।’

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত পড়তে হবে। ভেবেচিন্তে ক্যাডার নির্বাচন করতে হবে। গণিত ও ইংরেজির ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। শুরু থেকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যেহেতু বিসিএস পরীক্ষা অনেক প্রতিযোগিতামূলক, এজন্য পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা রাখতে হব। নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। সমসাময়িক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিতে হবে।’

মুন্নী রাণী রংপুরের কে জে ইসলাম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং শঠিবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তার জন্ম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র দেখতে এবং গল্প-উপন্যাস পড়তে খুব ভালবাসেন তিনি।

এসএইচ/ এমটি

ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিতে থাকবে না বয়সসীমা: শিক্ষামন্ত্রী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বয়সসীমা রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একই সঙ্গে এই কোর্সে ভর্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা কমানোর পাশাপাশি ভর্তি ফিও কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ৪১ বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বিদেশ ফেরত দক্ষকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো রকমের বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকের হয়ত প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা আছে কিন্তু তার প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নেই। সে কারণে ভালো চাকরি পাচ্ছে না অথবা চাকরি পেলেও ভালো বেতন পাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি চাইলে এবং যদি তার প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা থাকে, তাহলে সে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে পারবে।

কারিগরির ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিতে ছেলেদের ন্যূনতম যোগ্যতা জিপিএ ৩.৫ থেকে কমিয়ে ২.৫ করা হয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে জিপিএ ৩ থেকে কমিয়ে ২.২৫ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি ফি এক হাজার ৮২৫ টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৯০ টাকা করারও সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

এতদিন এসএসসি পাস করার দুই বছর পর পর্যন্ত পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া যেত। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন যে কোনো বয়সের এসএসসি সার্টিফিকেটধারীরা পলিটেকনিকে ভর্তি হতে পারবেন।

এসএইচ/ এমটি


   Page 1 of 67
     শিক্ষা
বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা
.............................................................................................
`অটো পাসেই` চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ!
.............................................................................................
অবশেষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
.............................................................................................
শ্রুতিমধুর নয় এমন বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করবে সরকার
.............................................................................................
প্রাথমিকের শিক্ষকেরা বেতন কমার শঙ্কায়!
.............................................................................................
ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সংবাদ `গুজব`
.............................................................................................
একাদশে ভর্তি শুরু ৯ আগস্ট
.............................................................................................
করোনাকালে স্কুল ঝিমিয়ে গেলেও পিছিয়ে নেই শিক্ষা কার্যক্রম
.............................................................................................
অনলাইন ক্লাস: সুফল শহরে, পিছিয়ে পড়ছে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচীর অর্থায়নে শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও বাইসাইকেল বিতরণ
.............................................................................................
করোনাভাইরাসের এই সময়ে অনলাইন পাঠদানে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন প্রভাষক মির্জা আরাফাত জাহান
.............................................................................................
বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার
.............................................................................................
রাবির ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের টিউশনি না থাকায় মানবেতর কাটছে দিন!
.............................................................................................
বিসিএসে ইংরেজিতে প্রথম হলেন রংপুরের মুন্নী
.............................................................................................
ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিতে থাকবে না বয়সসীমা: শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
শতবর্ষে পা রাখলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
.............................................................................................
বিজ্ঞান জাদুঘরে অনলাইনে বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
এইচএসসির পরীক্ষার সংখ্যা বা সময় কমানোর ভাবনায় সরকার
.............................................................................................
৬ আগস্ট পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
.............................................................................................
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ১৭৯৪তম ঢাবি
.............................................................................................
কারিগরি শিক্ষায় বেকারত্বের ভয় নেই
.............................................................................................
ছুটির তৃতীয় দফায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ
.............................................................................................
বীরগঞ্জে কোচিং ব্যবসায়ীকে জরিমানা
.............................................................................................
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে বাই-সাইকেল বিদ্যালয়ে যাতায়াত চার শতাধিক
.............................................................................................
বাকৃবির ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
.............................................................................................
মানিকছড়ি ছাত্রলীগ নেতা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ে সাংবাদিক কন্যা মারিয়ার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ
.............................................................................................
নীলফামারী ছমির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজে কর্ম বিরতি ও মানব বন্ধন
.............................................................................................
নাগরপুরে সূর্য আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
.............................................................................................
নাগরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন
.............................................................................................
কালিয়াকৈরে শিক্ষকের ঘরে আগুন
.............................................................................................
কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা
.............................................................................................
রাবিতে ৪৩ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবি
.............................................................................................
টঙ্গীবাড়ীতে মেধা বৃত্তি পরীক্ষার স্বারক ও সনদ প্রদান
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি
.............................................................................................
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই-কৃষি মন্ত্রী
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে নারী দিবসে স্কুল ছাত্রীদের সাইকেল র‌্যালি
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২০ বাকৃবি’তে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুুষ্ঠিত
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পলশা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় সংবংর্ধা ও স্মরণ সভা
.............................................................................................
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে রাবিপ্রবি’র বিভিন্ন কর্মসূচি পালন
.............................................................................................
সাতক্ষীরার বারোপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত
.............................................................................................
রাবির স্কুলশিক্ষক শ্লীলতাহানির অভিযোগে বরখাস্ত
.............................................................................................
গজারিযায় ভাটেরচর দে এ মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন
.............................................................................................
রাবিতে আরবি বিভাগের এলামনাই সম্মিলন আগামিকাল
.............................................................................................
রাবি ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স বিভাগের নবীনবরণ
.............................................................................................
নান্দাইলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান
.............................................................................................
শিক্ষার মানোন্নয়নের চেষ্টায় কোনো ছাড় নয়-এমপি
.............................................................................................
বগুড়া কাহালু উচল বাড়িয়া বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD