ঢাকা,সোমবার,১২ আশ্বিন ১৪২৮,২৭,সেপ্টেম্বর,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক-ট্যাংকলরী ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন   > নদী খাল দখলের প্রতিবাদে মোংলায় মানববন্ধন   > আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত যাত্রী ছাউনি   > ঝুঁকিপুর্ণ পোনা নদীর সেতু   > অসাধু ডাক্তারের হাতে সরকারি হাসপাতালের সেবা   > চমক নিয়ে ব্রাজিলের দল ঘোষণা   > ‘বাকের খনি’র ট্রিপল সেঞ্চুরি   > কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক   > বাণিজ্য সম্প্রসারণে বৈশ্বিক ভিত্তি বঙ্গবন্ধুর তৈরি করা   > সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তাঁর স্ত্রীর বিচার শুরু  

   বিশেষ খবর -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অসাধু ডাক্তারের হাতে সরকারি হাসপাতালের সেবা

আলিফ হাসান, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা ঈশ্বরদী সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু দিন দিন কমে যাচ্ছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান। সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর প্রাণহানি ঘটছে এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, ঈশ্বরদী সরকারি হাসপাতলে দীর্ঘ দিন ধরে একই ডাক্তার থাকায় জেকে বসেছে ঈশ্বরদীতে। বদলির ভয় না থাকায় তৈরি করেছে কিøনিক বা হয়েছে পাটনার সিপে ডায়াগনষ্টিকের মালিক। যার ফলে ঈশ্বরদীর স্বাস্থ্য সেবা জিম্মি হয়ে আছে কিছু অসাধু ডাক্তারের কাছে। হাসপাতালে সেবা প্রাথী একজন বলেন কোনো পরিক্ষা-নিরিক্ষা করার প্রয়োজন হলে এই হাসপাতালে করার ব্যবস্থা থাকলেও না করে ডাক্তাররা পাঠিয়ে দেয় তাদের নিজিস্ব ক্লিনিকে বা পাটনার সিপে পরিচালিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। বাধ্য হয়ে আমরা বেশি টাকার বিনিময়ে বাহিরে থেকে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছি। হাসপাতালে সেবা নিতে আসে ভর্তিকৃত একাধিক রোগীর স্বজন’রা অভিযোগ করে বলেন, নার্স (স্টাফ) কক্ষে দায়িত্বরত নার্সদের সাথে রোগীদের সেবার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দেখা যায় বেশির ভাগ সময় মোবাইলে কথা বলা নিয়ে ব্যাস্থ থাকে নার্সরা এবং এক থেকে দুইবার সেবার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মারমূখী –খারাপ আচরণ করে থাকেন । ঈশ্বরদীতে বড় বড় শিল্প-কলকারখানা, ইপিজেড,ও রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থপিত হওয়ায় ঘুরে দাড়িয়েছে ঈশ্বরদীর প্রেক্ষাপট। অধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেছে ঈশ্বরদী কিন্তু ছোয়া লাগেনি ঈশ্বরদীর স্বাস্থ্য সেবা খাতে । ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে সুচিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা নিয়ে যেতে বাধ্য হয় রাজশাহী বা পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, এতে অধিকাংশ রোগীয় পথিমধ্যে মৃত্যু হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিম্ন মানের হওয়ায় হতাশ ঈশ্বরদী বাসি ।

অসাধু ডাক্তারের হাতে সরকারি হাসপাতালের সেবা
                                  

আলিফ হাসান, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা ঈশ্বরদী সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু দিন দিন কমে যাচ্ছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান। সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর প্রাণহানি ঘটছে এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, ঈশ্বরদী সরকারি হাসপাতলে দীর্ঘ দিন ধরে একই ডাক্তার থাকায় জেকে বসেছে ঈশ্বরদীতে। বদলির ভয় না থাকায় তৈরি করেছে কিøনিক বা হয়েছে পাটনার সিপে ডায়াগনষ্টিকের মালিক। যার ফলে ঈশ্বরদীর স্বাস্থ্য সেবা জিম্মি হয়ে আছে কিছু অসাধু ডাক্তারের কাছে। হাসপাতালে সেবা প্রাথী একজন বলেন কোনো পরিক্ষা-নিরিক্ষা করার প্রয়োজন হলে এই হাসপাতালে করার ব্যবস্থা থাকলেও না করে ডাক্তাররা পাঠিয়ে দেয় তাদের নিজিস্ব ক্লিনিকে বা পাটনার সিপে পরিচালিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। বাধ্য হয়ে আমরা বেশি টাকার বিনিময়ে বাহিরে থেকে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছি। হাসপাতালে সেবা নিতে আসে ভর্তিকৃত একাধিক রোগীর স্বজন’রা অভিযোগ করে বলেন, নার্স (স্টাফ) কক্ষে দায়িত্বরত নার্সদের সাথে রোগীদের সেবার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দেখা যায় বেশির ভাগ সময় মোবাইলে কথা বলা নিয়ে ব্যাস্থ থাকে নার্সরা এবং এক থেকে দুইবার সেবার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মারমূখী –খারাপ আচরণ করে থাকেন । ঈশ্বরদীতে বড় বড় শিল্প-কলকারখানা, ইপিজেড,ও রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থপিত হওয়ায় ঘুরে দাড়িয়েছে ঈশ্বরদীর প্রেক্ষাপট। অধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেছে ঈশ্বরদী কিন্তু ছোয়া লাগেনি ঈশ্বরদীর স্বাস্থ্য সেবা খাতে । ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে সুচিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা নিয়ে যেতে বাধ্য হয় রাজশাহী বা পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, এতে অধিকাংশ রোগীয় পথিমধ্যে মৃত্যু হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিম্ন মানের হওয়ায় হতাশ ঈশ্বরদী বাসি ।

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকির মুখে ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদ
                                  

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, ফেনী : ফেনী জেলার প্রাচীন স্থাপত্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাগলনাইয়া উপজেলার চাঁদগাজী ভূঞা জামে মসজিদ। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদটি। মসজিদের দেয়ালে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। খসে পড়ছে পলেস্তারা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। আর সেক্ষত্রে বিলুপ্ত হতে পারে প্রাচীন এ স্থাপত্যটি। মুঘল আমলে চাঁদগাজী ভূঞা ছিলেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও জমিদার। তিনি ছিলেন বার ভূঞাদের বংশের উত্তরসূরি। চাঁদগাজী ভূঞা মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চল থেকে লোক লস্কর নিয়ে এখানে আসেন এবং বসতি স্থাপন করেন। এবং সে সময়ই মসজিদটি নির্মিত হয়। মসজিদে প্রবেশের জন্য প্রাচীন কারুকার্য খচিত দরজা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এখন তিনটি কাঠের দরজা রয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রাচীন ঐতিহ্যের সকল চিহ্ন পাওয়া যায়। মসজিদটিতে কয়েকশ মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
১৯৮৭ সালে সরকার চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ বলে চিহ্নিত করে। ১৯৯২ সালে প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় জাদুঘর থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করে মসজিদটির কিছু-কিছু অংশের সংস্কার করা হয়। কিন্তু অর্থ সঙ্কটের কারণে মসজিদটির পুরো সংস্কার সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রাচীন এ মসজিদকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষালয় এখানে গড়ে উঠেছে। এর আগে মক্তবে পড়ে এলাকার ছেলে-মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করলে ও ১৯৮২ সালে চাঁদগাজীর বংশধররা মসজিদের পাশে চাঁদগাজী ভূঁঞা দারুল কুরআন নামে একটি নুরানি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মধ্যযুগীয় রীতি অনুযায়ী নানা কারুকার্য খচিত চাঁদগাজী ভূঞা জামে মসজিদটি চুন, সুড়কী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইট দিয়ে তৈরি, মসজিদের দেওয়ালগুলো বেশ চড়া। ২৮ শতক জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট এবং উচ্চতা ৩৫ ফুট। মসজিদের ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজ এর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
মসজিদের পাশেই একটি দিঘী খনন করেন চাঁদগাজী ভূঞা। স্বচ্ছ পানির দিঘীটি প্রাচীন এ মসজিদকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দিয়েছে নতুন মাত্রা। এছাড়াও চাঁদগাজী ভূঁঞার নামে এ এলাকায় চাঁদগাজী বাজার, চাঁদগাজী ইসলামিক পাঠাগার, চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চাঁদগাজী ভূঁঞার সপ্তম বংশধর ষাটোর্ধ্ব মুফতি মাওলানা আব্দুল গনি ভূঞা বলেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রাচীন এ মসজিদটি। এলাকার ঐতিহ্য রক্ষার্থে এটির সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হালিম ভূঞা বলেন, মসজিদটি সংস্কারে আমরা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঐতিহ্য রক্ষার্থে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

রাজবাড়ীতে দুই বছর ধরে আটকে আছে মহাসড়কের ফোরলেনের উন্নয়ন কাজ
                                  

আতিয়া রহমান, রাজবাড়ী : গত ২০১৮ সালে শুরু হওয়া জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড় থেকে পাংশার শিয়ালডাঙ্গী পর্যন্ত ৪ শত কোটি টাকা ব্যায়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। মাঝে কোভিড-১৯ এর কারনে এ কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে এ রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বাধ সেধেছে জেলা শহরের ৪ কিলোমিটার ফোরলেন কাজের দুই কিলো মিটার অংশে। এ দুই কিলো মিটার ফোরলেনের মাঝে রয়েছে ৮৩ টি বেদ্যুতিক পিলার, কয়েকটি গাছ ও পাকা স্থাপনা। যথা সময়ে এ পিলার ও স্থাপনা অপসারন না করায় আজ প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে এর উন্নয়ন কাজ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী, চালক ও যাত্রীদের। শহরের বড় পুল থেকে জেলা কারাগার সংলগ্ন তালতলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ফোরলেন রাস্তায় ওজোপাডিকো’র ৮৩ টি বৈদ্যুতিক পিলার অপসারন না করায় ৪ কিলোমিটার ফোরলেন কাজটির দুই কিলোমিটার অংশ অসম্পন্ন রয়ে গেছে গত দুই বছর ধরে। এতে জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ও এ পথে চলাচলকরা হাজার হাজার যানবাহন, চালক ও যাত্রীরা পরেছে নানা ধরনের ভোগান্তিতে। শুকনো মৌসুমে ধুলা বালি আর বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও কাদায় দুর্ভোগে পরছেন এসব এলাকার মানুষ। মাঝে মাঝে ঘটছে দুর্ঘটনা। এ দুই কিলোমিটার অংশের এক পাশের অর্ধেক রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা গেলেও বাকি অংশ বৈদ্যুতিক পিলারের কারনে সেখানে কোন কাজ করা যাচ্ছেনা। একারনে একপাশ এখনও দের থেকে দুই ফিট নিচু ও খানাখন্দ রয়েগেছে। আর এ নিচু ও খানাখন্দ স্থান দিয়ে কোন ধরনের যান চলাচল করতে পারছেনা। ৪০০ শত কোটি টাকা ব্যায়ে ৪৮ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের ৪ কিলোমিটার ফোরলেন কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। পিলার অপসারন না করার কারনে পুরো মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ শেষের পথে থাকলেও সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা ৪৮ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজ। বার বার পিলার সরানোর নোটিশ দিয়েও সরানো যাচ্ছেনা পিলার। আর এতে আটকে আছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। চালক, যাত্রী ও এলাকাবাসিরা বলেন, এ রাস্তার কাজ গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুতের পিলারের কারনে সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা। এতে এ রাস্তাদিয়ে চলাচল করা যাচ্ছেনা। কাজ শেষ না হওয়ায় অর্ধেক রাস্তার মাঝে জমছে হাটু পানির ও কাদা। রাস্তার অর্ধেক অংশে পিলার থাকায় শেষ হচ্ছেনা রাস্তার উন্নয়ন কাজ।চলাচল কারা যাচ্ছেনা এ সড়ক দিয়ে।
ওহেদ কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাজবাড়ী প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আমজান হোসেন বলেন, বড়পুল থেকে তালতলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ফোরলেন রাস্তার উপর ৮৩টি পিলার, কয়েকটি গাছ ও পাকা স্থাপনা এখনও অপসারন না করায় ফেরলেন কাজটির অর্ধেক অংশের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ কারনে কাজটির মেয়াদ পর পর চারবার পরিবর্তন কওে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বার বার বিদ্যুৎ বিভাগকে (ওজোপাডিকো) চিঠি দিয়েও হচ্ছেনা কোন লাভ। এ কাজটির ব্যায় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু কাজটি বার বার সময় ক্ষেপন হওয়ায় চুক্তি মূল্য থেকে বেড়ে যাচ্ছে ব্যায়। রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, চার কিলোমিটার ফোরলেন কাজের অগ্রগতি না হওয়ার কারন হিসেবে রাস্তার অর্ধেক অংশে ৮৩টি বৈদ্যুতিক পিলার অপসারন না হওয়ার কথা জানান। বৈদ্যুতিক পিলার না সরানোর কারনে চারবার এ কাজটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পিলার না সরানোর কারনে শেষ হচ্ছেনা উন্নয়ন কাজ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে চলাচলকারী ও চালক যাত্রীদের।

বিদ্যুতের হাতছানি চরাঞ্চলের ৮ হাজার পরিবারে
                                  

শাহিন আকতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : পদ্মা নদী পার থেকে নৌপথেই সময় লাগে ঘন্টা খানেকের বেশি। পদ্মা পেরিয়ে একটি বিছিন্ন জনপথ সীমান্ত ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল। সেখানকার মানুষ এখনও জানে না বিদ্যুতের ব্যবহার। বঞ্চিত বিদ্যুতের সকল ব্যবহার থেকে। এখানকার পরিবেশ ও জীবনযাপন দেখে মনে হবে এটি এক অন্য বাংলাদেশের চিত্র। এবার পাল্টে যাচ্ছে সেই চিত্র। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার পরিবার এবার বিদুৎ সেবার আওতায় আসছে।
সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে বিদুৎ সংযোগ যাবে বিছিন্ন চরাঞ্চলে। সংযোগ দেয়ার পরপরই প্রাথমিকভাবে উজিরপুর ইউনিয়নের ১টি, দুর্লভপুরের ১টি, নারায়নপুরের ৮টি ওয়ার্ড এবং সুন্দরপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের কিছু অংশ মিলে মোট ২৮টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ বিদুৎ সেবার আওতায় আসবে। ইতোমধ্যে ১০৭ কিলোমিটারের মধ্যে দীর্ঘ ৯০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ সম্পন্ন করা হয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে বৈদ্যুতিক তার পরিবহনের জন্য সাবমেরিন কেবল নদী পাড়ে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পল্লী বিদুৎ সমিতি বলছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চরাঞ্চলবাসীর। সীমান্ত ঘেঁষা চরাঞ্চলে বিদুৎ সেবা একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বিদুৎ সুবিধার ফলে এই অঞ্চলের অনুন্নত জনপদে আসবে বৈকল্পিক পরিবর্তন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসায় উন্নয়ন ঘটবে। সেই সাথে বাড়বে সামাজিক উন্নয়ন। ইতোমধ্যেই বাড়ির সামনে পর্যন্ত বৈদুতিক পোল ও তার সংযোগ দেয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এই চরাঞ্চলে বর্তমানে সোলার প্যানেলই একমাত্র ভরসা। তবে সিংগভাগ খেটে-খাওয়া অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস হওয়ায় হাতেগোনা কিছু পরিবার ছাড়া কোথাও সোলারের ব্যবহার নেই। বাধ্য হয়েই অন্ধকারে বসবাস করতে হয় সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষকে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হায়াত মোড়ে সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে। নারায়নপুর দারুল আলিম মাদরাসায় আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আব্দুল আলিম বলেন, ঝড়বৃষ্টি হলেই আমরা ক্লাস করতে পারি না। মাদরাসায় একটি কম্পিউটার আছে, দু-এক দিন রোদ না উঠলে কম্পিউটার ক্লাস করতে পারিনা। গরমের সময় ক্লাস করতে গিয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী আহত হয়ে যায়। এমনকি গ্রীষ্মের সময় বিরতি দিয়েও ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিদুতের সংযোগ আসলে এসব সমস্যা থেকে উত্তোরণ মিলবে। বিদুৎ পেলে ফ্যান, কম্পিউটার চালু থাকবে। আমাদের পড়াশোনার গতিও বাড়বে। কৃষক মো. ইব্রাহিম আলী জানান, চরাঞ্চলে বিদুৎ না থাকায় নানারকম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। এক বিঘা ধান চাষ করতে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বিদুৎ সুবিধা পেলে কৃষি খাতে খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। এক কেজির বেশি মাংস কিনতে পারিনা। কারন এখানে ফ্রিজের কোন সুবিধা নাই। চরাঞ্চলের মানুষের একটি বড় সমস্যা মোবাইল চার্জ করা নিয়ে। হাতেগোনা কয়েকটা বাড়িতে সোলার আছে। তাই প্রতিদিন মোবাইল চার্জ করা নিয়ে বাড়ি বাড়ি দৌড়াতে হয়। চরপাঁকা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ সেতাউর রহমান বলেন, এখানে বিদুৎ আসলে এই অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। গরমের সময় মসজিদে মুসল্লীরা সঠিকভাবে ধীরেসুস্থে নামাজ আদায় করতে পারে না। মুসল্লীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত নামাজ শেষ করতে হয়। বিদুৎ আসলে ফ্যানের বাতাসে সঠিকভাবে ঠান্ডা মস্তিষ্কে, তৃপ্তি সহকারে নামাজ আদায় করতে পারবো। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী মিমিয়ারা খাতুন জানান, চরাঞ্চলে একদিকে যেমন গাছপালা কম, তেমনি অন্যদিকে শতভাগ বাড়িঘর টিনের তৈরি। তাই গরম অনেক বেশি। এছাড়াও রান্নার কাজে ও খাবার পানি হিসেবে নদীর পানিই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বিদ্যুৎ সুবিধা থাকলে মটারের মাধ্যমে নিরাপদ পানি খেতে পেতাম। ছেলেমেয়েরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারেনা। আমরা কোনদিন ভাবিনি যে, পদ্মার চরে বিদ্যুৎ সেবা আসবে। এই কাজের জন্য আমরা অনেক বেশি উৎসাহিত ও আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা এমন উদ্যোগ নেয়ার জন্য। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ পাঁকা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এসএম আলামিন জুয়েল জানান, জন্মের পর থেকেই আমরা অন্ধকারের মধ্যে ছিলাম। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে আলো দেখিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। আমরা কোনদিন কল্পনাও করতে পারিনি যে, চরাঞ্চলে বিদুৎ সুবিধা আসবে। এই অঞ্চলের ১০ শতাংশ মানুষও বিদুতের ব্যবহার জানেনা। এখানে বিদুৎ আসলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি সব খাতেই উন্নয়ন হবে। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে বিদুৎ সুবিধা আসবে, এটা আমাদের স্বপ্নের বাইরে। দেশনায়ক শেখ হাসিনার দুটি যুগান্তকারী উদ্যোগে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ ও বিদুতের উন্নয়ন দেশকে অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আমরা জানি, উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হলো বিদুৎ। এই প্রকল্পে কোন অনিয়ম না করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদুৎ” এই স্লোগান বাস্তবায়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৮টি সীমান্তবর্তী গ্রামে প্রাথমিকভাবে ৭৪০০ পরিবার বিদুৎ সরবরাহ পাবে। বর্তমানে অফগ্রীডের কাজ চলমান রয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। সদর উপজেলার মিরের চর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন রাখা হয়েছে। এছাড়াও পাঁকা থেকে নারায়নপুরের জন্য আরও ২০ কিলোমিটার সাবমেরিন আসবে। বর্তমানে পদ্মায় প্রচুর স্রোত, তাই এটি কমতে শুরু করলে খুব শীগ্রই সাবমেরিন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, বাংলাদেশের কোন প্রতন্ত এলাকা বিদুৎবিহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগের ফলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে। চরাঞ্চলে বিদুৎ সুবিধা হলে এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা, তথ্য-প্রযুক্তি খাত উন্নয়ন হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। শতভাগ বিদুৎতায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুতের ফলে জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে চরাঞ্চলবাসীর।

গজারিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল
                                  

সাইদ হাসান আফরান, গজারিয়ায় : দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণও জরাজীর্ণ হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জামালদি বাস স্ট্যান্ড হয়ে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চল যেতে বিভিন্ন পরিবহন একটি ঝুঁকির্পূণ ক্ষতিগ্রস্ত স্টিলের ব্রীজ (বিইলী ব্রীজ)। প্রায়ই অনাকাঙ্খিত দুর্ঘনার শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন। গত ১৯৯৫ সালে ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে এলজিইডির তত্ত্ববধায়নে এ ব্রীজটি নির্মাণ হয়। সময়ের পরিকল্পনায় দেশের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হলেও এই ব্রীজটি অবহেলিত থেকে যায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি না থাকার কারণে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রীজটি বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গেছে ও মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। মাঝামাঝি স্থানে স্টীলের পাটাতন গুলো সড়ে ফাঁকা হয়ে ব্রীজটি এখন মরন ফাদ পরিণত হয়েছে। ব্রীজটির উপর ভারী যানবাহন উঠলে লোহার পাতলা পাটাতনগুলি বাঁকা হয়ে যায়। যার কারণে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ব্রীজ দিয়ে চলাচলের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে টিকে গ্রুপ, সামুদা কেমিক্যাল ও সুপার বোর্ড এর যৌথ উদ্যোগে বেশ কয়েকবার যৌথ অর্থায়নে যান চলাচলের উপযুক্ত করলেও যথাযথ কর্তপক্ষের উদ্যোগের অভাবে তার দেখভাল করা যায় নাই। এই রাস্তাটি দিয়ে জামালদি বাস স্ট্যান্ড হতে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চল, হোসেন্দী বাজার, গজারিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাঁট, মুন্সীগঞ্জ সদর, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, নৌ পুলিশ , কোস্টগার্ড ও উপজেলা পরিষদে যাতায়াতের এই রাস্তাটির ভূমিকা অপরিহার্য। অটোচালক কামাল হোসেন জানান, গজারিয়া উপজেলা তে এই একটি ব্রীজেই সবচাইতে বেশি অবহেলিত এই ব্রীজ, আমরা প্রতিনিয়হিত দুর্ঘটনা সম্মুখীন হই। আর এই ব্রীজটি কোন কাজ হচ্ছে না গজারিয়া উপজেলার সুদৃষ্টি কামনা করছি। সিএনজি চালক জামাল হোসেন বলেন, এই ব্রীজটি কয়েক বছর ধরে এভাবে জ্বালায় দিয়ে চলছে। কয়েকদিন আগে ও ব্রীজের ফাঁদে গাড়ির চাকা আটকে দুর্ঘটনা ঘটেছে।দ্রুত এ ব্রীজটি স্থায়ী মেরামত চাই। মোটরসাইকেল চালক সোলায়মান বলেন ব্রীজটি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দিনের বেলায় কোনরকম চলাচল করলেও রাতে বেলা চলা সম্ভব না। ট্রাক চালক জামাল হোসেন বলেন এই বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হলে ও আমরা প্রতিনিয়তই ব্রীজটি দিয়ে ভাড়ী মালামাল নিয় চলাচল করি, তবে বৃষ্টির দিন হলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ি।তাই এই ব্রীজটি অতি শীগ্রই নির্মাণের জন্য জোড় দাবি করছি। এলাকাবাসী জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হলে নিও প্রশাসনের সংস্কার পুননির্মাণে এখনো কোন উদ্যো নেয়নি। ব্রীজ দিয়ে চলাচলকরতে গিয়ে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা হতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি অতি দ্রুত সংস্কার বা পুননির্মাণ না করা হলে যে কোন সময় ব্রীজটি ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরনের আশংঙ্কা করছেন তারা। নাজমুল হাসান বলেন, এই ব্রীজটি দিয়ে ঘন্টায় ৬ থেকে ৭ শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। ব্রীজটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ সময়ই যানবাহন পারাপারের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই এলাকাবাসীর দাবি এই ব্রীজটি ভেঙ্গে নতুন করে ডাবল লাইনের ব্রীজ নির্মাণ করা হোক। হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু জানান, এই ব্রীজটি সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে মাসিক উন্নয়ন ও আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেছি। উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন দ্রুত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এলজিইডির গজারিয়া উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ইশতিয়াক আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়েক হাজার মানুষ ও ছোট বড় যানবাহ ব্রীজটি ব্যবহার করেন। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ব্রীজটি সংস্কারের জন্য মাটির গুনাগুন পরীক্ষা করে যথাযথ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই এ অর্থবছরে ব্রীজটি সংস্কার নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

২০ গ্রামের জলাবদ্ধতার আশংকা
                                  

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বস্তল এলাকায় সরকারী খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ্যাম্পায়ার স্টীল মিল নামের এ কোম্পানির বিরুদ্ধে বালু ভরাট করে ওই সরকারী খাল দখলের অভিযোগ উঠে। খাল দখলে ওই এলাকার পানি নিষ্কাষণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসী আশ পাশের ২০ গ্রামের জলাবদ্ধতার সৃষ্টির আশংকা করছেন । এ খাল দখল মুক্ত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় নির্মাণাধীন এ্যাম্পায়ার স্টীল মিল নামের কোম্পানি ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে বালু ভরাটের মাধ্যমে কোম্পানি গড়ে তুলছেন। কোম্পানির ক্রয় করা জমি ছাড়াও অসহায় কৃষকের জমি ও পাশ্ববর্তী খাল ও সরকারী হালট দখল করে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন। সরকারী পাশ্ববর্তী খাল ৩৩ ফুটের জায়গা দখল করে মাত্র ১০ ফুট রেখে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন। ফলে ওই কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ক গোলজার হোসেন প্রধানকে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল মাসে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম খাল দখলের অভিযোগে তাকে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে। কিন্তু কোম্পানির প্রভাবে সে দু’দিন কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসে। গোলজার হোসেন প্রধান পুনরায় গত কয়েকদিন ধরে প্রায় দুই কিলোমিটারের দৈর্ঘ্যে ওই খাল তাদের রেখে দেওয়া ১০ ফুটে বালু ভরাট করে দখল করে নেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ২শ’ বছরের এ খাল দিয়ে নৌকা যোগে মানুষ বিভিন্ন গ্রামে যাতায়ত করতো। বর্তমানে খালটি দখল করে নিয়েছে একটি কোম্পানির পক্ষে গোলজার হোসেন প্রধান। ফলে নৌকা চলার তো দূরের কথা এ এলাকার বৃষ্টির পানিও নিষ্কাষণ হবে না। ফলে এ এলাকার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এছাড়াও ফসলী জমিতে সেচ বন্ধ হয়ে যাবে। বস্তল গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া জানান, নিরীহ কৃষকের জমি কোম্পানির পক্ষে দখলের পাশাপাশি সরকারী খাল ও হালট দখল করে নিয়েছে গোলজার হোসেন প্রধান। এ কোম্পানিকে অবৈধভাবে খাল দখল করে দিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দ্রুত এ খালটি পুর্ন উদ্ধার চাই। এ খাল উদ্ধার না হলে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাবো। পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন কোম্পানি সরকারী খাল দখল করে নেওয়ার কারনে পরিবেশের মারাত্বক বিপর্যয় ঘটছে। দ্রুত দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করতে হবে।

মোরেলগঞ্জে অধিকাংশ সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি জ্বলে না
                                  

এস.এম. সাইফুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পৌর সদরসহ ১৬ ইউনিয়নে স্থাপিত অধিকাংশ সড়ক সোলার বাতি ও হোম সিস্টেম সোলার বাতি অকেজো হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আলোর নীচে হঠাৎ অন্ধকারে প্রত্যন্ত গ্রামের কোলহলমুখর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ভূঁতরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিন্মামনের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই এগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।সড়ক বাতিগুলো না জ্বলায় সরকারের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। সরকারের কোটি কোটি টাকাই জলে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০১৭-১৮ ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ত্রাণ পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় টিআর, কাবিখা, ও বিশেষ বরাদ্ধের প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন সৌর বাতি স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভায় মসজিদ, মন্দির, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তাঘাট, হাট বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১শ’ সোলার সিষ্টেম ল্যাম্পপোষ্ট স্থাপন করা হয় । প্রতিটি ল্যাম্পপোষ্ট স্থাপনে সরকারি বরাদ্ধ ৫৬ হাজার ৪শ’ ৯০ টাকা। প্রতিটি সড়ক বাতি মেরামতের ওয়ারেন্টি ৩ বছর থাকলেও অধিকাংশ সড়কবাতি এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজার, ঘষিয়াখালী, এসবি বাজার, নিশানবাড়িয়ার গুলিশাখালী, গরুরহাট বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর , হোগলাবুনিয়ার ইউনিয়নের নাগেরহাট, লক্ষনের হাট, তেলিগাতির বাজার, কালুরবাজার, এতিমুল্লাহ, হরগাতি, উত্তর ঢুলিগাতি, পঞ্চকরন ইউনিয়নের পাচঁগাও বাজার, দেবরাজ, নতুন বাজার, উত্তর কুমারিয়াজোলা, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিশারীঘাটা বাজার, মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বর, বাদুরতলা, বারইখালী ইউনিয়নের শেখ পাড়া, ভরাঘাটা, তেতুঁলবাড়িয়া বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্নস্থানে বসানো ল্যাম্পপোষ্টের বাতিগুলো এখন অকেজো। র্দীঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এসব ল্যাম্পপোষ্ট বাতি। বারইখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমার লাল, বহরবুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান টিএম রিপন জানান, সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ সড়ক ও হোম সিস্টেম সোলার প্যানেল ল্যাম্প পোষ্ট বাতি। এ বাতিতে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট আলোকিত হলেও অধিকাংশ লাইট অকেজো হয়ে আছে। নির্মান সামগ্রীর ত্রুটির কারনেই এ সমস্যা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে । উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, সোলার প্যানেল বরাদ্ধ এখন আর নেই। ইতোপূর্বে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সময়ে এ সড়ক বাতিগুলো বসানো হয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা এখনও তাদের কাছে রয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ও ব্রীজ মাঠ পর্যায়ে এসব সৌরবাতি স্থাপনের কাজ করেছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রীজ সোলার হোম সিস্ট্রেম রিজোনাল ম্যানেজার এমডি হাফিজুর রহমান বলেন, তারা ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৪শ’ এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৩৭৫টি সোলার ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ করেছেন । অনেকটারই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মেয়াদ থাকা কাজের ৪২টি লাইট মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকী কাজ অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করেছে।

মানিকগঞ্জে অপরাধীরা শেল্টারের সন্ধানে, ভুক্তভোগিরা আশার আলো দেখছেন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার :

ঢাকার অতি নিকটে মানিকগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার কোন কোন এলাকায় অপরাধিরা মানুষের ঘুম হারাম করে তান্ডব চালায়। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, মাদক, ইভটিজিং  এবং মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে নাকাল করার মতো ঘটনা অসংখ্য। এ ধরনের কর্মকান্ডে অনেক প্রভাবশালি জড়িত বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। এদিকে ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটেছে এলাকায়। বাড়িতে সুন্দরি মেয়ে থাকলে তাদের ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তথাকথিত কোন কোন সমাজপতিদের ইঙ্গিতেই এমন অপরাধের জন্ম হয়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়। সিংগাইরে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আলোড়ন হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটা জিডি করার জন্য এক বছর ধরে ঘুরতে হয়েছে সাটুরিয়া থানা পুলিশের কাছে আরেক ভুক্তভোগি মো: হাবিবুল হককে (৫৭)। তিনি  নরওয়ে প্রবাসি বলে এলাকার দুর্বৃত্তরা তার কাছে চাঁদা দাবী করে। জোরপূর্বক জায়গা নিয়ে যাওয়াকে ঘিরে বিরোধ বাধলে বাড়িতে ঢুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। এভাবে তার ওপর তিন দফা হামলার ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় তার পক্ষে কোন জিডি করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। পুলিশের ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) হাবিবুর রহমানের নির্দেশে জিডি নেয়া হয় গত ১৭ জুন ২০২১। এর কয়েকদিন পর জিডিতে থাকা অভিযুক্তদের দিয়ে জিডির বাদি মো: হাবিবুল হক ও  স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করানোয় তিনি এখন বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সুবিচারের আশায়।
আরেক ঘটনায় নিজ সন্তানদের নিয়ে বাড়ীতে নিরাপত্তাহীনায় ভুগছেন এক পরিবার। ঘরের বড় মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ায় তার প্রতিবাদ করেন মা। পরে গলায় উড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি অপরাধীদের কাছ থেকে চম্পা তার সন্তানের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসিদের হাতে খুন হবার উপক্রম হন বলে অভিযোগ করেন। তার ডাক্তারি রিপোর্টও রয়েছে। গতকাল শনিবার চম্পা বলেন, প্রায়ই গভীর রাতে বাড়িতে ঢিল মারে দুর্বৃত্তরা। নিরুপায় হয়ে তখন ভয়ে মেয়েদের নিয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকেন সাটুরিয়া বাজারের নিজ বাড়িতে। সারারাত আর ঘুমাতে পারেন না অজানা আশঙ্কায়। প্রভাবশালিদের ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছেন না। কারণ প্রায়ই হুমকি আসছে। এই ঘটনার পর সাটুরিয়া  থানা তার কোন জিডি বা মামলা গ্রহণ না করায় চম্পা  নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা করেন। তাতে বাদী হন তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। এর পরই হাসান ও সাজু নামের পুলিশ ও আনসার বাহিনীর দুই সদস্য বিনা অনুমতিতে তাদের ঘরে ঢুকে পড়েন এবং মামলা করায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘দেখে নেয়া হবে’। তবে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং কথাকথিত সমাজপতিরা মিলে ‘সামাজিক সমাধান’ করার জন্য ওই চম্পার ওপর এখন কঠোর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবছেন। এদিকে সাটুরিয়ায় ডাকাতরা একটি মিলের বহু লাখ টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়। পরে অবশ্য কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রাজনীতির মিথ্যা আবরণে অনেকে কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এ সব এলাকায়। অনেকে পথের ধুলা মাখানো জীবন থেকে এখন বহুতল ভবনের মালিক। কেবলই রাজনীতির খোলশ বদলে তারা অবৈধ বিত্ত ও সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা যায়। সেই সঙ্গে প্রভাব দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিসহ করা হয়েছে এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা মিলেছে। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা আদায়ের মতো ঘটনা অনেক। বরাইদ, দিঘুলিয়া,  দড়গ্রাম, সাটুরিয়া, হরগজ, ফুকুরহাটি, ধানকোড়া তিল্লী ও বালিয়াটির মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু বিভিন্ন এলাকা ঘিরে দুর্বৃত্তরা গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। স্থানীয় প্রশাসনের  কোন কোন কর্মকর্তা অপরাধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে  নীরবতা অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ। ফলে সামান্য অপরাধিরা এক পর্যায়ে বহু মানুষের জীবনে অমানিশা ডেকে এনেছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগিরা।
এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের শীর্ষ পদে যোগদান করেছেন পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, পিপিএম-বার। পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর সদর উপজেলা, শিবালয় উপজেলা, সিংগাইর উপজেলা, ঘিওর উপজেলা, সাটোরিয়া উপজেলা, হরিরামপুর উপজেলা এবং  দৌলতপুর উপজেলার অপরাধের চিত্র কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে বলে জানা যায়। এলাকার ভুক্তভোগিরা জানান, পেশাদার অপরাধিরা নতুন শেল্টারের সন্ধানে রয়েছে এখন। আগের মতো তারা সঙ্গবদ্ধভাবে চলাচল করছে না। তবে নতুন কোন অপরাধের ছক তারা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা ভুক্তভোগিদের। জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসায় এলাকার অসংখ্য ভুক্তভোগি মানুষ আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন বলে জানান। রাজনীতির নাম করে অপরাধিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রশাসন থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী তাদের।

বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে সিলেটের পাঁচ চিকিৎসকের বিরল নজির
                                  

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের প্রতিপক্ষের হামলায় দেলোয়ার (২০) এর ডান হাতের কব্জি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছে রক্ত। এতে দিশেহারা হয়ে পরেছে পরিবারের সবাই। এত অল্প বয়সে হাত হারিয়ে কীভাবে বাকি জীবন কাটাবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তা। প্রচুর রক্ত ঝরায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন দেলোয়ার। সিদ্ধান্ত হলো ঢাকায় নেওয়া হবে দেলোয়ারকে। কিন্তু শাটডাউনের কারণে ঢাকায় এনে চিকিৎসক পাবেন কিনা তা নিয়েও চলে আলোচনা। ঢাকার কয়েক জায়গায় খোঁজ নিয়েও ভরসা মিলল না। এভাবে কেটে গেল বেশ কয়েক ঘণ্টা। একজনের কাছে খবর পেল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান এর আগেও নাকি বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার হওয়ায় এই চিকিৎসককে পাওয়া কষ্টকর। তিনি এদিন সিলেট থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে বড়লেখায় নিজ বাড়িতে রোগী দেখতে যান। রোগীর লোকজন সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বিকেলে। হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করা হয় ডা. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। প্রথমে তিনি রোগীকে ঢাকায় নিতে বলেন। কারণ, এত সময় পর অপারেশন করলে উন্নতি হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। রোগীর লোকজন তাকে দিয়েই অপারেশন করাবেন জানালে তিনি দেরি না করে দ্রুত রওনা হন। সিলেটে আসতে সন্ধ্যা পার হয়ে যায়। বাসায় না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে আসেন তিনি। পথে থাকতেই নিজের টিমের অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হাসপাতালে আনেন তিনি। হাসপাতালে এসেই বিচ্ছিন্ন হাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি। এ ব্যাপারে ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি এসেই আগে হাত পরীক্ষা করি। কিন্তু হাতটা রোগীর লোকেরা স্যালাইনের মধ্যে ভিজিয়ে রেখেছেন। এতে করে আমি বিপদে পড়ে যাই। কারণ বিচ্ছিন্ন হাত সাধারণত প্লাস্টিকের প্যাকেটে রেখে অন্য প্যাকেটে বরফ দিয়ে রেখে দিতে হয়। এতে করে অপারেশনের পর ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে অপারেশন করলে ভালো ফলাফল হতে পারে। রোগীর লোকদের সঙ্গে কথা বলে অপারেশন শুরু করি।’ তিনি বলেন, এ ধরনের অপারেশন বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ। ধাপে ধাপে এ অপারেশন করতে হয়।

নিরাপত্তাহীনতায় চলছে রাজশাহী সজীব গ্রুপ প্রতিষ্ঠান
                                  

মাজহারুল ইসলাম চপল, ব্যুরো চীফ : সারাদেশ আতঙ্কিত ও আলোচিত নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে সদ্য ঘটে যাওয়া সজীব গ্রুপ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডে। এই ঘটনায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের মনে যেন বেদনার দাগ কাটছে। এখন সকলেরই দৃষ্টি এই গ্রুপের অন্যান প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। এই গ্রুপের এমনই প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর এলাকায়। হাসেম এগ্রো প্রসেসিং লি. ও হাসেম অটোরাইস মিলস্ লি.। এই এলাকাতে দীর্ঘদিন থেকে কোম্পানি দুটো নির্বিঘ্নে কাজ করে আসলেও বর্তমানে তা প্রশ্নবিদ্ধ। আগে থেকে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও অলৌকিক ক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সচেতন মহল ও প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি অনুসন্ধানী টিম যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবস্থিত সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে যেতেই অভিযোগের ফুলঝুড়ি নিয়ে হাজির সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা। সুকৌশলে জানার চেষ্টা করা হয় তাদের দুর্দশার কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, ভেতরে শিশুশ্রম চলছে নির্বিঘ্নে, সেখানে যে জুস তৈরি হচ্ছে তা পচা ও ভাল আম মিশ্রিত। এছাড়াও সেখানে শিশুদের খাটিয়ে পারিশ্রমিক দিচ্ছে যথসামান্য। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনিবারক যন্ত্র পর্যাপ্ত নাই। যেটা আছে তা শুধু নাম মাত্র। অথচ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করার কথা কলকারখানা পরিদর্শন ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের। তাদের কোন ভুমিকা নেই। এদিকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কেউ যদি শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে, তাহলে ঐ প্রতিষ্টানকে অর্থদণ্ড করা হবে। তবে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে। কিন্তু রাজশাহীতে অবস্থিত সজীব গ্রুপের উক্ত প্রতিষ্ঠানে চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় নেই কোন উপযুক্ত সরঞ্জাম। প্রশ্ন উঠেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। শ্রমিকদের অধিকার খর্বসহ নানাবিধ সমস্যা থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেজান জুস কারখানায় কাজ করছে শতাধিক শিশু। এই শিশুদের বেশিরভাগ ১০ বছরের মধ্যে। আবার তারা নোংরা পরিবেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও পাচ্ছেন না নায্য মূল্য। নেই কোন সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। এছাড়াও কারখানাটিতে ইলেকট্রিক চুল্লি থাকার কথা থাকলেও সেখানে জুস তৈরি হচ্ছে লাকড়ি বা খড়ির খড়ির আগুনে। প্রশ্ন রয়েছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়ে। দেখার মত কোন কার্যক্রম নেই কোন প্রতিষ্ঠানের। মিডিয়ার অনুসন্ধানী টিম শত চেষ্টা করেও কারখানার ভিতরে ঢুকতে পারেনি। মিডিয়াকর্মীরা গেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেজার ফোন বন্ধ করে দেয়, এবং লোক মারফত বলতে বলে ম্যানেজার নাই। তবে গেটে কয়েকটি শিশুকে দেখা যায়। পরে রাইস মিলের গেটে গেলে, সেখানে দায়িত্বরত এ্যসিন্ট্যান্ট ম্যানেজার সোহাগ জানান, আমাদের সব ঠিক আছে কিন্তু ভিতরের ঢোকার অনুমতি নাই। বিষয়টি নিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর পরিবেশ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে জানা যায়, রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর এখন অসুস্থ্য। দায়িত্বরত উপ-পরিচালক (ডিডি) তিনি রয়েছেন মাতৃকালীন ছুটিতে, সহকারি পরিচালক (এডি) করোনা আক্রান্ত। আর অফিস লকডাউনে বন্ধ।পরবর্তিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ- মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সেখানে শিশু তো থাকার কথা নয়, আমি ১০ জুলাই কারখানাটি পরিদর্শন করেছি। তবুও আমরা গুরুত্বসহকারে দেখবো। তিনি আরও বলেন, ১৪ বছরের উপরে কেউ শিশু আইনে পড়ে না। শিশুদের অধিকার খর্ব হচ্ছে বললে তিনি বলেন, আমাদের কেউ অভিযোগ দেয়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন এরুপ হওয়া কথা নয়। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা প্রশ্ন করছে উপ-মহাপরিদর্শক বলেন, সেখানে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা। এটা সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শক বলতে পারবেন।

বাড়ি ফিরতে লঞ্চে গাদাগাদি ঘাটে ও ফেরিতে দুর্ভোগ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আর কয়েকদিন পরই ঈদুল আজহা। রাজধানী ছাড়ছে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এ কারণে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌ ঘাটে রয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। গতকাল শনিবার সকাল থেকে এই নৌপথে চলাচলরত প্রতিটি লঞ্চ শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটে আসছে যাত্রীরা। এসব লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিমুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে আসা ছোট ছোট লঞ্চগুলো থেকে বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নামছে যাত্রীরা। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চে যাত্রী বেশি বহন করায় যাত্রীরা ঘাটে আসা মাত্রই নামার জন্য হুড়হুড়ি শুরু করে দেয়। লঞ্চঘাটে কয়েকজন আনসার সদস্য ছাড়া নেই পুলিশ কিংবা বিআইডব্লিউটিএ সদস্যরা। ফলে লঞ্চ চলাচলে কোনো প্রকার নিয়ম মানা হচ্ছে না। লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই। যাত্রীরা বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে গণপরিবহনে ছুঁটছে গন্তব্যে। ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রীরা বলেন, ঘাটে আসার পরে শুনি ফেরিতে পদ্মা পার হতে নাকি ২ থেকে ৩ ঘন্টা চলে যায়। তাই ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠেছি। লঞ্চে ৩৫ টাকার ভাড়া নিল ৫৫ টাকা। অথচ লঞ্চে বসার সিটই পেলাম না। পুরো এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে বাংলাবাজার ঘাট এসে নামলাম। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি অযুহাতে আমাদের থেকে বেশি ভাড়া নিল কেন?
খুলনাগামী আরেক যাত্রী এনাম সরকার বলেন, আমরা তো মুখে মাস্ক ব্যবহার করেছি। কিন্তু লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুললে বাধ্য হয়েই আমাদের অন্য যাত্রীর গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয়। লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না।
মাদারীপুরগামী যাত্রী বলেন, লঞ্চঘাটে যাত্রী আসা মাত্রই তাদের তোলা হচ্ছে। পুরো লঞ্চ ভরে যাওয়ার পরে ছাড়া হচ্ছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ চাইলে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ছাড়তে পারে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।
বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন জানান, বাংলাবাজার থেকে যাত্রী ঢাকামুখী হচ্ছে। সামনে ঈদ থাকায় বেশি যাত্রী আসতেছে ঢাকা থেকে। আমাদের এই নৌপথে ৮৭টি লঞ্চ সচল আছে। লঞ্চগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বহন করতে বলা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা না মানলে আমরা ওই লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় গত তিন দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে কয়েশ যানবাহন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকের চালক ও গরুর ব্যবসায়ীরা। এ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্রোত থাকবেই। প্রতি বছরই এই সময়টা আমাদের খুব খারাপ যায়। স্রোত বেশি থাকায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুনেরও বেশি সময় লাগছে। এরপরেও আমাদের চলাচলরত ১৩টি ফেরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গরুবোঝাই ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও কাচামালের ট্রাকগুলো পারাপার করছি। তবুও ঘাটে যানবাহনের চাপ কমছে না।

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ নয় বাণিজ্যই প্রধান
                                  

অলক কুমার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পৌরসভা ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এই পৌরসভার আয়তন ২৯.৪৩ বর্গ কি.মি. (১১.৩৬ বর্গমাইল)। মোট জনসংখ্যা ১,২৮,৭৮৫ জন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোন পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র নাই। পৌরসভার ভিতরে এসপি পার্ক ও ডিসি লেক নামে ২টি বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও একটিও পৌরসভার নয়। একটিও শিশু পার্ক নয়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শহরের আকুরটাকুর পাড়া মৌজায় ৬৬ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত জমি ১৯৭২ সালে তৎকালিন গণপরিষদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাৎসরিক ভাড়ায় ইজারা নেন। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি ভাড়া পরিশোধ করতেন। এক পর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। মামলায় নিম্ন আদালতে তিনি ডিক্রি পান। সরকার পক্ষ জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লিপ-টু আপিল করেন। ওই সিভিল ডিভিশন মামলায় সরকার পক্ষে রায় দেন আদালত। পরে লতিফ সিদ্দিকী উচ্চ আদালতে সরকারের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সুপ্রিম কোর্টও সরকারের পক্ষে রায় দেন।
টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রস্থলে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দখল থেকে উদ্ধারকৃত ৬৬ শতাংশ এই জমিতে উদ্ধারকৃত জমিতে টাঙ্গাইল পৌরসভা কাঁচাবাজার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এলাকাবাসী ওই জমিতে পার্ক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁরা সেখানে বাজার স্থাপন না করে পার্ক নির্মাণের দাবিতে ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এরপর জমিটি টাঙ্গাইল পৌরসভাকে ইজারা দেওয়া হয়। পৌরসভা সেখানে কাঁচাবাজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই জায়গায় ৬৭টি দোকান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত শেড নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এই লকডাউনের মধ্যেও তড়িঘড়ি করে এই উন্মুক্ত শেড নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, বটতলা বাজারটি সদর সড়কের পাশে স্থানান্তর করা হলে আরও বেশি অসুবিধার সৃষ্টি হবে। সেখানে পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, এখানে বাজার স্থাপন হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে, জনভোগান্তি বাড়বে। সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম প্রান্তে দোকান নির্মাণকাজ চলছে। দোকানের প্রাচীর ৩-৪ ফুট করে উঠে গেছে। অন্য প্রান্তে মাটি সমানকরণের কাজ চলছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জমিটি উদ্ধার করার পর সেখানে ‘শেখ রাসেল শিশুপার্ক’ স্থাপনের পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু পার্কটি বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ রাসেলের নামে ‘শেখ রাসেল শিশুপার্ক’ করার ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পরদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএস-১ সালাউদ্দিন সাহেব পিএম এর অনিহার কথা জানান।এসময় তিনি আরো জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জমিটিতে পার্ক স্থাপন না করে অন্য কোনো জনস্বার্থে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি সরকারি কোনো দপ্তরকে স্থায়ীভাবে দেওয়ার বিধান নেই। এ ছাড়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উদ্ধারকৃত জায়গাটিতে বটতলা বাজার স্থানান্তরের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। পরে অস্থায়ীভাবে শর্ত সাপেক্ষে পৌরসভাকে জমিটি বার্ষিক ভাড়ায় ইজারা দেওয়া হয়। টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, জেলা প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধার হওয়া জায়গাটি পৌরসভাকে বার্ষিক ভাড়ায় ইজারা দেয়। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতিভাবে বটতলা কাঁচাবাজারটি ওই জায়গায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সেই বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে আর তাদের কাছ থেকেই প্রকৃত খরচের টাকা গ্রহণ করে হবে।

প্রতিদিন ৫০০ ভাসমান মানুষকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য পরিদশর্ক সমিতি
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: অসহায় ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। চার দিন ধরে `বাংলাদেশ খাদ্য পরিদর্শক সমিতি ও ফুড অফিসার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি`র পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান ও পুরানা পল্টন এলাকায় ভাসমান মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। গত চার দদিন ধরে প্রতিদিন ৫০০ মানুষের মাঝে এই খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

খাবার বিতরণের সময়ে উপস্থিত ছিলেন- খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ মোল্লা, পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রায়হানুল কবীর, অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ঢাকার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাস, তেজগাঁও সিএসডির ব্যবস্থাপক চন্দ্র শেখর মল্লিক, খাদ্য পরিদর্শক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহমান খান, মহাসচিব উত্তম কুমার দাস, খাদ্য পরিদর্শক সমিতির নেতা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম মাসুদ, মৌসুমি সিরাজ, খন্দকার সেলিম হোসেন, কর্ণেল চিসিউম, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, মাহমুদ হাসান প্রমুখ।

এর আগে গত ৪ জুলাই খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
খাদ্য পরিদর্শক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, চলমান লকডাউনে অনেক লোক কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। লোকজনের চলাচল না থাকায় ভাসমান অসহায় মানুষেরা খাবার সঙ্কটে রয়েছেন। এই সময়ে তারা এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধ্যমতো তাদের সংগঠন মানুষের পাশে থাকবে।

এআর/তুষার

সাজেকে বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা
                                  

বাঘাইছড়ি (রাংগামাটি) প্রতিনিধি : রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা সাজেক ইউনিয়ন এ হঠাৎ করে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ত্রিপুরা পাড়া, বড়ইতলী পাড়া, শিব পাড়া, দেবাছড়া, নরেন্দ্র পাড়া, ১নংওয়ার্ডের মন্দির ছড়া, শিয়ালদহ, তুইচুই, বেটলিং এই সব এলাকায় ম্যালেরিয়া প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে। সাজেকের ৭নং ওয়ার্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় একই পরিবারের শুল্ক মহন ত্রিপুরা (৫৫) পুস্প ত্রিপুরা (২৭) মনিকা ত্রিপুরা তিনজনই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান পুস্প ত্রিপুরা। বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফেতেকার আহমদ জানান, গত বছরের তুলনায় এই বছরে ম্যালেরিয়া রুগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত বছর কড়াকড়ি লগডাউন থাকার কারনে কেউ জুম বা বাশ, গাছ কাটতে জঙ্গলে না যাওয়ায় ম্যালেরিয়া রুগীর সংখ্যা কম ছিলো। এনজিও সংস্থা ব্রাকের হিসাব মতে এই বছর ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত দশ হাজার রুগীর রক্ত পালিমঘা করে ৬৭জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে এর মধ্যে জুন মাসেই ম্যালেরিয়া পজিটিভ আসে ৪৯ জনের। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুন মাসে ম্যালেরিয়া রুগীর সংখ্যা ২৯জন। তবে দুর্গম সাজেক ইউনিয়ন কে আমরা ম্যালেরিয়ার রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছি। গত ২০১৯সালের ২৮হাজার রুগীর রক্ত পরিক্ষা করে ১৩০৬জনের পজিটিভ আসে এবং গত বছর ২০২০সালে ২৮৬৬৭ জন রুগীর রক্ত পরিক্ষা করে ২৮৯জনই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তবে এটি বেসরকারী এনজিও সংস্থা ব্রাকের হিসাব মতে।
সাজেকে আমাদের কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক করার পরিকল্পনা আছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে সাজেকের জনগনকে খুব সহজে তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে। তবে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ইতিমধ্যে রাঙামাটি খাগড়াছড়ি বান্দরবান কক্সবাজারের রামু সহ ম্যালেরিয়া প্রবণ জেলাগুলোতে ‘মাইক্রো প্ল্যান’ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ২০২৫সালের মধ্যে সরাকারের ম্যালেরিয়া রুগীর সংখ্যা শুন্যোর কোঠায় নিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রাকের বাঘাইছড়ি শাখা ব্যাবস্থাপক সুদত্ত চাকমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেনসন চাকমা জানান, সরকারি এবং বেসরকারী হিসাবের চেয়ে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি হবে। কারণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়া রোগীরা রক্ত পরীক্ষা করতে আসে না। জ্বরের লক্ষণ দেখে স্বজনেরা বাজারে এসে ফার্মেসি থেকে ঔষধ নিয়ে যায়। এবং তারা মশারি ব্যাবহার না করার কারনে ম্যালেরিয়ার প্রকপ বেড়ে গেছে তবে আমি আমার ইউনিয়ন এর সদস্যদের জরুরি সভা করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ সহ নিজে কাজ করে যাচ্ছি। সাজেকের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য হীরা নন্দ্র ত্রিপুরা জানান, এর আগে সাজেকে মহামারী আকারে ডায়রিয়া এবং হাম (পোলিও) দেখা দিয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় হ্যালিকপ্টারে করে নিয়ে গিয়ে অনেক মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন তারা। সচেতন মহল মনে করেন বাঘাইছড়িতে এ বছর একটানা বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মশার প্রজনন বেড়েছে। কারণ একটানা বৃষ্টিপাত না হলে পাহাড়ের বিভিন্ন গর্ত ও ছড়ায় পানি জমে মশার প্রজননে সুবিধা হয়। এ ছাড়া ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে সেখান থেকেও ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সন্ধ্যা থেকে মশারি ব্যবহার, আশপাশের ঝোপঝাড় ও নর্দমা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন তারা।তারা আরো আশংকা করেন পর্যটন এলাকা হওয়ায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকলে এক সময় পর্যটকদের মাধ্যমে সারা দেশে ম্যারেরিয়ার জীবানু ছড়াতে পারে তাই ম্যালেরিয়া নির্মুলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তারা।

ছাত্র-সংসদ নির্বাচন ও নেতৃত্ব সংকটে দেশ
                                  

 

মোঃ কামরুল ইসলাম :

আমাদের রক্তে কেনা বহু কাঙ্খিত এ দেশ আমাদেরই বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস মাত্র পঞ্চাশ বছরের। অনেক কিছুই দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। স্বৈরশাসন, সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা, সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা, একদলীয় শাসন, বহুদলীয় শাসন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সুশাসন, দুঃশাসন, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

এদেশে আমরা পেয়েছি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো উজ্জ্বল নক্ষত্র, আরো অনেক উজ্জ্বল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। 

বর্তমান বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি নেতৃত্ব তৈরীর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে উত্তরাধিকারী পদ্ধতি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও একই চিত্র বিদ্যমান। যা সঠিক নেতৃত্ব তৈরীতে মূল অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিবার থেকেও যদি নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলী কারো থাকে তার নেতৃত্ব দিতে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু সে সংখ্যা তো হাতে গোনা। সব রাজনৈতিক পরিবারে শেখ হাসিনার মতো নেত্রী জন্মায় না। 

বাংলাদেশ কিংবা পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই এদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে দেশের শিক্ষিত সমাজ নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলো, যার মূল ভূমিকায় ছিলো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ ছাত্র সংসদ এর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এ ছাত্র-সংসদ নির্বাচন হয়নি (ডাকসু’র একটি নির্বাচন ব্যতীত)। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা কোনো ছাত্র সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো সুযোগ পায়নি। তাহলে কি আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে !  

যে রাজনৈতিক দল যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তখন ক্যাম্পাসে পেশী শক্তির জোরে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য দেখতে পাওয়া যায়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোতে যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচিত করে না তেমনি কাম্পাসভিত্তিক কমিটি গুলোতেও সাধারন কর্মীদের গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচন করার কোনো সুযোগ থাকে না। 

বাংলাদেশে দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহন করেছিলো ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক-শ্রমিক সহ সাধারন জনগন। সেই স্বৈরাচার শাসনামলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। ’৯০ এর গণআন্দোলনের সময় আমান উল্লাহ আমান ছিলেন ডাকসু’র নির্বাচিত ভিপি আর খায়রুল কবির খোকন ছিলেন জিএস। আমান-খোকনের নেতৃত্বে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউিনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্টসহ সকল ছাত্র সংগঠন একত্রিত হয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠন করে এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। পরিশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ স্বৈরশাসক ক্ষমতার মসনদ ত্যাগ করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। 

এদেশের যেকোনো আন্দোলনে ডাকসু, রাকসু, চাকসু, জাকসু, বাকসুসহ সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ছিলেন নেতৃত্বে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা, গণ অভ্যূত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এমকি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্র নেতৃত্ব পিছপা হয়নি। ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্র-ছাত্রীদের যেকোনো দাবী-দাওয়ার আন্দোলনেও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ছাত্র-সংসদ এর নেতৃত্বকে মেনে নিতো কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া। কিন্তু বর্তমানে কোনো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্র-সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কারণে নেতৃত্বের বিকাশ আমরা দেখতে পাই না। দলীয় আদিপত্য বিস্তার করাই হচ্ছে বর্তমান দলীয় নেতাদের মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের। তাহলে ক্যাম্পাস থাকবে স্থিতিশীল। 

প্রতিবছর কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ এর মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় দিবসের উপর আলোচনা সভা, বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, নাট্যানুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠান (যেমন স্বরস্বতী পূজা), বার্ষিক ম্যাগাজিন, বইমেলা, বৈশাখী মেলা, বার্ষিক পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান সহ সারাবছর আরো নানাবিধ অনুষ্ঠান পালিত হতো। সারা বছর ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাশ-পরীক্ষার বাহিরেও কো-কারিকুলাম কার্যক্রম নিয়েও ব্যস্ত থাকতো। আর যেকোনো ছাত্র সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশন তো ছিলো একটা ছোটোখাটো আনন্দ উৎসব। নিজ দলসহ অন্যদলের কর্মীরা অপেক্ষা করতো বিরোধী ছাত্র-সংগঠনের কে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এক দলের কাউন্সিলে অন্য দলের অতিথি হয়ে অংশগ্রহণ ছিলো একটি ভ্রাতৃসুলভ আচরণ। যা আমরা হারাতে বসেছি। 

কোনো ক্যাম্পাসে ছাত্র-সংসদ নির্বাচন মানেই রীতিমতো একটি ঈদ উদযাপনের মতো এক বিশাল মহোৎসব। সবার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতো। কে কে আগামী এক বছর ক্যাম্পাসের নেতৃত্বে থাকবে তা নির্ধারিত হতো? কিন্তু বর্তমানে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি, যা কোনো ভাবেই কাম্য না। আমরা দাবী করি বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, এ দেশে রয়েছে গণতন্ত্রের অনেক ইতিহাস। শুধু মাত্র ক্যাম্পাসভিত্তিক সুষ্ঠু, সুচিন্তিত ছাত্র রাজনীতি বর্তমান অসহিষঞু রাজনীতির চিত্র পাল্টে দিতে পারে। আমরা যদি আমাদের ক্যাম্পাসগুলোকে ২৫ বছর আগের ক্যাম্পাসেও ফিরিয়ে নিতে পারি তবেই বর্তমান চিত্র পাল্টে যাবে।

একটু অতীত বিশ্লেষণে ফিরে গেলেই দেখা যায়- প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে যারা ক্রীড়ামুখী ছিলো তারা সারা বছর তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলত। ফুটবল, বাস্কেটবল, ভলিবল, হান্ডবল, ক্রিকেট সহ দলীয় খেলা, বিভিন্ন এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা কিংবা বিভিন্ন ইনডোর গেমস যেমন-দাবা, টেবিল টেনিস, ব্রিজ, ক্যারামসহ আরো নানাবিধ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। যেখান থেকে আন্তঃবিশ্বাবিদ্যালয় প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতো প্রতিযোগীরা। প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার সুযোগ পেতো ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু বর্তমানে ছাত্র-সংসদ না থাকার কারনে এসকল প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সারা বাংলাদেশে সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।

আমরা দেখতে পেয়েছি বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুলগীতি, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক গান, নৃত্য, দেশীয় সংস্কৃতিতে তুলে ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা নানা প্রতিযোগিতায় সম্মুক্ষীন হতো। যা তাদের মন ও মানসিকার বিকাশ গঠনে সহায়তা করতো। বিভিন্ন উপন্যাস অবলম্বনে বার্ষিক নাটক হতো ক্যাম্পাসে যা, ছাত্র-সংসদ আয়োজন করতো। হিন্দু ধর্মালম্বীরা তাদের শিক্ষাদেবী হিসেবে স্বরস্বতী পূজা পালন করতো প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে, যাতে সকল ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করতো। বিভিন্ন বিষয়ের উপর উপস্থিত বক্তৃতার আয়োজন ছিলো নিয়মিত। যেখান থেকে নেতৃত্ব বিকশিত হতো। বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছিলো একটা রেওয়াজ এর মতো। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আলোচনা সভা-র‌্যালী আয়োজন করতো কারন সাধারন ছাত্রছাত্রীদের সেই দিবসের ইতিহাস বিষয়ে সচেতন করার জন্য। বার্ষিক পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে সারা বছর ক্যাম্পাসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বহির্ভূত কার্যকলাপে অংশগ্রহনে স্বীকৃতিস্বরূপ পুরষ্কার প্রদান করা হতো। যা ছাত্র-ছাত্রীরা আরো বেশী উজ্জ¦বিত হতো। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখার হাতেখড়ি হিসেবে বার্ষিক ম্যাগাজিন ছিলো অন্যতম মাধ্যম। প্রায় প্রত্যেকটি ক্যাম্পাস থেকেই একটি করে বার্ষিক ম্যাগাজিন বের হতো। একটু ভেবে দেখুন ছাত্র সংসদ না থাকায় বর্তমানে কত লেখনীর হাত স্তব্ধ হয়ে গেছে? 

এ সকল কার্যক্রম কেন্দ্রিয় ছাত্র-সংসদ আয়োজন করতো প্রতিটি ক্যাম্পাসে। কেন্দ্রিয় ছাত্রসংসদ এর পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের হল সংসদও ছিলো সরব। হলের সকল দাবী আদায়ের মূল কেন্দ্রই ছিলো হল সংসদ।

সারা বাংলাদেশে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সংসদ নির্বাচন হলে সচেতন সকলে তা খোঁজ খবর রাখতো, সংবাদ মাধ্যমগুলো সে সংবাদ খুবই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতো। গত পচিশ বছরে ঢাকসুর একটি নির্বাচন ব্যতিত বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোনো সরকারী কিংবা বেসরকারী কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ১৯৯৭ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ছিলো সর্বশেষ নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিলেও কার্যতঃ তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র-সংগঠনের নেতা কর্মীদের সহাবস্থান নেই বললেই চলে। যে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তাদের সমর্থনপুষ্ট ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করে রাখে। ক্যাম্পাসের প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। 

প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসেই দেখতে পাওয়া যায় সরকার কর্তৃক সিলেক্টেড ভাইস-চ্যান্সেলর কিংবা প্রিন্সিপাল তাদের অবস্থানকে শক্ত ভিত দেয়ার জন্য সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করার প্রবণতাও দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে অথচ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী। তাদের দাবী-দাওয়া আদায়ে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই এই গণতান্ত্রিক দেশে। সত্যিই সেলুকাস, বিচিত্র এ দেশ আমাদের বাংলাদেশ।

সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা নৈতিকতা বিবর্জিত নানাবিধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সকল ক্যাম্পাসে নানারকম নেশা জাতীয় দ্রব্যের উপস্থিত, আত্মহত্যার প্রবণতা, অসহনশীল মনোভাব থেকে খুন, রাজনৈতিক পেশী শক্তি প্রদর্শনের অশুভ শক্তি প্রকাশ, যার কারণে ধর্ষণ এর মতো ঘটনা, কিছু কিছু শিক্ষকদের মধ্যে অনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, ছাত্র-শিক্ষকদের হাতাহাতি যা সাম্প্রতিক কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে, যা ছিল শিক্ষিত সমাজের কাছে অনভিপ্রেত।

বার্ষিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার যেকোনো ক্যাম্পাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকলেই বার্ষিক ক্যালেন্ডার সুষ্ঠভাবে পালন করা সম্ভব। গত পচিশ বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী সংসদ এর জন্য বাৎসরিক চার্জ/ফি দিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু ছাত্র সংসদ না থাকার কারণে সেই খাতের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এটাও ভাববার বিষয়। যেখানে শিক্ষা বহির্ভূত কোনো কার্যক্রম নেই সেখানে ছাত্র-সংসদ ফি কেনই বা নেয়া হয়। যা প্রতিবছর শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। ছাত্র সংসদবিহীন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদের নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন বন্ধ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চার ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে এ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সংকট থেকে পরিত্রানের সুযোগ পাবে।

লেখক : মোঃ কামরুল ইসলাম, 

প্রেসিডেন্ট, সাস্ট ক্লাব লিমিটেড

আতঙ্কে আট গ্রামের মানুষ
                                  

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নতুন করে সোমেশ্বরী নদীর ভাঙনে চোখের পলকেই বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কামারখালী, বহেরাতলী, বড়ইকান্দি, রানীখং, ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ফারংপাড়া গ্রামের বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুই ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সোমেশ্বরীর ভাঙনে গতদুই বছরে বিলীন হয়েছে ওই এলাকার শত শত পরিবার। শুক্রবার এমনটাই জানালেন কামারখালী এলাকার শত শত মানুষ। জানা গেছে, স্থায়ী কোনো বেরিবাঁধ না থাকায় ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে ওই এলকার আট গ্রামের মানুষ। থামছে না নদী ভাঙ্গন, বাড়ছে সাধারণ মানুষের কান্না। সোমেশ্বরীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানুষের মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদীর পাড়ে বসবাসকৃত আদিবাসী সহ হাজারো মানুষ। নতুন করে নদীর পানি বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয়সহ ঐহিত্যবাহী রানীখং ধর্মপল্লী। ২০১৯-২০অর্থবছরে ভাঙ্গন রোধে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যায়ে নয়শত মিটার ভাঙ্গন এলাকায় ৬টি প্যাকেজের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হলেও ধীরগতিতে কাজ করায় এখনো তা শেষ হয়নি। নয়শত মিটার কাজের মধ্যে মাত্র ২শত মিটার কাজ সম্পন্ন হলেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বাকী কাজগুলো। ভাঙ্গন এলাকা গুলোতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর জন্য ভরে রাখা শত শত ব্যগ পড়ে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ট্রাক্সফোর্স এর তদারকি না থাকায় তা নষ্ট হচ্ছে বলেন জানান এলাকাবাসী। ওই কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বর্ষা শুরু হওয়ার আগ থেকে বারংবার তাগিদ দেয়া হলেও তা কোন প্রকার আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক জানান, আমার বলার ভাষা নাই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এই বিমাতা সুলভ আচরণ দেখে। আমরা এ দেশের নাগরিক কিনা, ঘৃনা হচ্ছে নিজেদের প্রতি। যে কাজ তিন মাসে শেষ হওয়ার কথা, তা এক বছরেও শেষ হচ্ছে না। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছি আমরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নেত্রকোণা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, নদীতে নতুন করে পানি আসার ফলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পাউবো নিয়োজিত টাক্সফোর্স ভাঙ্গন এলাকায় ফেলানোর জন্য বস্তা গুলো গুনে না দিলে ঠিকাদার ফেলতে পারবেনা বিধায় কাজে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। অফিসের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে আজ কালের মধ্যেই নতুন করে বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান জানান, সোমেশ্বরী নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন।


   Page 1 of 44
     বিশেষ খবর
অসাধু ডাক্তারের হাতে সরকারি হাসপাতালের সেবা
.............................................................................................
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকির মুখে ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদ
.............................................................................................
রাজবাড়ীতে দুই বছর ধরে আটকে আছে মহাসড়কের ফোরলেনের উন্নয়ন কাজ
.............................................................................................
বিদ্যুতের হাতছানি চরাঞ্চলের ৮ হাজার পরিবারে
.............................................................................................
গজারিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল
.............................................................................................
২০ গ্রামের জলাবদ্ধতার আশংকা
.............................................................................................
মোরেলগঞ্জে অধিকাংশ সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি জ্বলে না
.............................................................................................
মানিকগঞ্জে অপরাধীরা শেল্টারের সন্ধানে, ভুক্তভোগিরা আশার আলো দেখছেন
.............................................................................................
বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে সিলেটের পাঁচ চিকিৎসকের বিরল নজির
.............................................................................................
নিরাপত্তাহীনতায় চলছে রাজশাহী সজীব গ্রুপ প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
বাড়ি ফিরতে লঞ্চে গাদাগাদি ঘাটে ও ফেরিতে দুর্ভোগ
.............................................................................................
শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ নয় বাণিজ্যই প্রধান
.............................................................................................
প্রতিদিন ৫০০ ভাসমান মানুষকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য পরিদশর্ক সমিতি
.............................................................................................
সাজেকে বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা
.............................................................................................
ছাত্র-সংসদ নির্বাচন ও নেতৃত্ব সংকটে দেশ
.............................................................................................
আতঙ্কে আট গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নীচু এলাকাগুলো
.............................................................................................
সরকারি নিষেধাজ্ঞায় নোয়াখালীতে জেলেদের দুর্দিন
.............................................................................................
যুবলীগের বটবৃক্ষ শেখ ফজলে শামস পরশ
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে নদীর পানি
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে বাজারে উঠছে আম, করোনার প্রভাবেও দাম বেশি
.............................................................................................
তজুমদ্দিনে ঘাটে নেই পন্টুনের সংযোগ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে ২০ গ্রামের মানুষের চলাচল
.............................................................................................
রুপগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-রূপসী মুড়াপাড়া-কাঞ্চন সড়ক
.............................................................................................
বেউথা আন্ধারমানিক সড়কের মরণ দশা
.............................................................................................
অচল হয়ে পড়ছে ৭ গ্রামের মানুষ
.............................................................................................
সড়কতো নয় যেন ছোট ছোট পুকুর!
.............................................................................................
অতি: ডিআইজি’র ফোন ভিকটিম হাবিবুল হককে
.............................................................................................
করোনার থাবায় ক্ষতিগ্রস্থ মোংলার কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
.............................................................................................
গোয়াইনঘাটে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর প্রস্তুত : উদ্বোধনের অপেক্ষা
.............................................................................................
নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন
.............................................................................................
রাজাপুর বাজারে পশুর বর্জে হুমকির মুখে পরিবেশ
.............................................................................................
রামগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার
.............................................................................................
ঢাকায় শিশুদের মুখের লালায় ‘নিকোটিন’
.............................................................................................
ভার্চ্যুয়াল প্রচারণায় ধূমপানের ফাঁদ
.............................................................................................
পরোক্ষ বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বেড়েছে, ভার্চ্যুয়াল প্রচারণায় ধূমপানের ফাঁদ
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে বাস্তবায়িত হচ্ছে এলজিএসপির ২৭৮ প্রকল্প
.............................................................................................
ময়লা-আবর্জনার গন্ধে অতিষ্ঠ সালথার ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
জীবননগরে সারের কৃত্রিম সঙ্কট
.............................................................................................
ভিটেমাটি হারিয়ে নি:স্ব দাগনভূঞার ৯ পরিবার
.............................................................................................
মোবাইল ব্যাংকিং এ সেবা প্রদানে সফলতা
.............................................................................................
সাংবাদিক হাকিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম আর নেই
.............................................................................................
আলোকিত হবে ফরিদপুরের ৮৮ গ্রাম
.............................................................................................
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির করুন দশা
.............................................................................................
সদর ইউএনও আরিফার অমানবিকতায় ক্ষুব্ধ নাঃগঞ্জবাসী
.............................................................................................
জেলা ডিসির বদলী আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
কৃষি জমিতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন অব্যাহত
.............................................................................................
ঢাকায় ফিরতে মানুষের ভরসা পিকআপভ্যান
.............................................................................................
একশ লিচু বেচা-কেনায় কমিশন ১৭ টাকা
.............................................................................................
নোয়াখালীতে ঈদ উপহার পেল ২৫ হাজার পরিবার
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop