| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > এ শূণ্যতা কখনো পূরন হবার নয়   > প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার সফল বাস্তবায়নে ৩৬ বিসিএস আনসারের ১১জন কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ   > আমাদের দাবি , ‘জাতীয় দাম্পত্য দিবস’   > ৫০ দিনে ৪০ হাজার ক্ষুধার্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা   > অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   > রাজশাহী জেলা আনসার ও ভিডিপি’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ   > গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৩০৯   > করোনায় মাদক-জঙ্গি রোধে কঠোরতর ব্যবস্থা : র‌্যাব ডিজি   > রাজশাহী জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় করোনাভাইরাসের প্রভাব হ্রাসে নিরবে কাজ করছে   > ক্যামেরা জার্নালিস্টদের সহায়তা দিলো পারটেক্স গ্রুপ  

   বিশেষ খবর -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
এ শূণ্যতা কখনো পূরন হবার নয়

কাজী নজরুল ইসলাম :

সহস্র সন্তানের বিশাল এক পরিবার আর রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যপ্তিময় এক পরিমন্ডলকে গভীর শুন্যতায় নিমজ্জিত করে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন একজন আজীবন সংগ্রামী মা। তার চলে যাবার শুন্যতা কোনদিন পূরন হবার নয়। আমাদের সকলের প্রিয় ‘কাকি’, চিরচেনা কাকিমা, শৈশব-কৈশরের হাজারো আবদারের ভরসাস্থল, আমার মত হাজারো সন্তানের মহীয়সী জননী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জননেতা আব্দুর রব মুন্সি স্যারের প্রিয়তমা সহধর্মীনি, এতদাঞ্চলের সকলের চিরপরিচিতা তাসলিমা বেগম ডোরা কাকি আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে, গভীর শোক সাগরে ভাসিয়ে, পাভেল-রুবেলের মতই তার হাজারো সন্ততানকে এতিম করে একেবারেই চলে গেলেন স্বর্গালোকের সুখতারা হয়ে না ফেরার দেশে। গত ২৬ মে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন কিডনীর জটিল রোগে ভুগছিলেন কাকি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
১৯৭৪ সালে তখনকার তরুন উদীয়মান জননেতা আব্দুর রব মুন্সির সাথে তাসলিমা বেগম ডোরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬০`র দশকে আব্দুর রব মুন্সি তখন বৃহত্তম ফরিদপুর অঞ্চলের বাম ঘরোনার এক তুমুল আলোচিত ছাত্রনেতা। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঝড় তোলা বক্তা। ৬৪ সালে রব স্যার মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন কলেজের ভিপি নির্বাচিত হবার পর তিনি গোটা ফরিদপুরে ছাত্র রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তী রূপে বিপ্লবের লাল পতাকা হাতে নিয়ে চষে বেড়াতেন। তখন পরিচয় হয় গোপালগঞ্জের আরেক সমাজতন্ত্রবাদী ডাকসাইডেট নেতা লেবু মুন্সির সাথে। লেবু মুন্সির ছোট বোন তাসলিমা ডোরাও তখন গোপালগঞ্জে ছাত্র ইউনিয়নের তুখোর কর্মী ছিলেন। সেই ডোরা এক সময়ে বধু হয়ে আসেন আব্দুর রব মুন্সির কুড়ে ঘরে।
সংসার জীবনে ডোরা কাকি কখনো প্রাচুর্যের স্বাদ পাননি। আজীবন সংগ্রামী এক নারী ছিলেন তিনি। সংসারের ঘানি টানতে এক সময় তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রথমে ৭৫ সালের শেষ দিকে যোগদান করেন সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। কয়েক বছর পর চাকুরী পরিবর্তন করে যুক্ত হন সমাজ সেবা অধিদপ্তরে। রব মুন্সী-ডোরা দম্পতিতে ৬ জন সন্তান জন্ম নিলেও তাদের প্রথম পুত্র সন্তানটি মারা যায়। এরপর তানিয়া, সোনিয়া, সুফিয়া,পাভেল ও রুবেল একে একে কাকিমার কোল আলোকিত করে।
রব মুন্সি স্যার সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলেন রাজনীতিতে। ডোরা কাকি ছিলেন তার ছায়াশক্তি। ছিলেন রাজনীতিতে এক প্রবল অনুপ্রেরণা। ডোরা কাকি ছিলেন ঘোর অমানিশার রাতে রব স্যারের রাজনীতির আলোক বর্তিতা। এত কষ্ট, এত ঝঞ্ঝা ছিল স্যারের রাজনৈতিক জীবনে, তবুও কখনো দমে যাননি কাকি। অনেকগুলো সন্তানেরর পড়া লেখার ভার (নিজের ও গোটা মুন্সি পরিবারের), সরকারি চাকুরী, হতাশাগ্রস্ত শত শত দলীয় কর্মী, স্কুলের অগনিত শিক্ষার্থীদের আবদার-অনুযোগ সব কিছু নিজের ধৈর্য্য আর বিচক্ষনতা দিয়ে মোকাবেলা করতেন কাকি। প্রচন্ড এক সহ্য ক্ষমতা ছিল কাকির।
১৯৮৫ এবং ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর সবচেয়ে দুঃসময় মোকাবেলা করতে হয়েছে রব স্যারের রাজনৈতিক জীবনে। এ সময়গুলোতে নানান মামলা মোকদ্দমা নিয়ে দৌড়াতে হতো স্যারকে। কিন্তু সব কিছু সামলে রাখতেন কাকি। রফিক মৌলভীর দোচালা টিনের ভাড়া ঘরের বাসায় সুর্যোদয় থেকে গভীর রাত অবধি অসংখ্য সমস্যাগ্রস্ত মানুষের ভীর থাকতো। দাদপুরের সেকান্দার হাওলাদার, শাহেবালি সরদার, বিনোদপুরের গনি মিয়া মাদবরের মত মুরুব্বীরা অনেক সমস্যা আর মামলা মাথায় নিয়ে আসতেন স্যারের কাছে। স্যার যখন থাকতেননা, তখন সব শুনে ন্যুনতম একটা শান্তনা দিয়ে হলেও সবাইকে সামলে নিতেন কাকি।
কত কষ্টইনা করে গেছেন গোটা জীবনে। কাকির হাতের এক কাপ লাল চা আর এক বাটি মুড়ি খাননি এ অঞ্চলের ছাত্র থেকে অভিভাবক, নেতা থেকে কর্মী এমন লোক বিরল। কোন দল বা মত ছিলনা কাকির কাছে। সবাইকে এক নজরেই দেখতেন তিনি। তাদের রাজনীতির চরম প্রতিপক্ষ, এমন পরিবারের সদস্য বা সন্তান যারা আংগারিয়া হাই স্কুলে পড়া লেখা করেছে, তারা সবাই ছিল কাকির সন্তানের মতই।
অল্প আয়ের সংসারে হোটেলের মত সব সময় চুলা জ্বলতেই থাকতো। কেউ এলে মুখ দেখেই কাকি বলে দিতে পারতেন, কে অভুক্ত আর কে খেয়ে এসেছে। ক্ষুধা নিয়ে কেউ কোন দিন কাকির বাসা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি, তখন আমাদের নিরাপদ অভয়াশ্রম ছিল কাকির আচঁল। রাত দুইটার সময়ও আমাদের নিজ হাতে খাইয়েছেন কাকি। কখনো এতটুকু বিরক্তি দেখিনি তার ভেতর।
কাকিকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আবেগমথিত হয়েছি বার বার। ঠিক মত হাত চলছিলনা। কয়েকবার লেখাটা এডিট করেছি। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। এত যে স্মৃতি কাকিকে নিয়ে জমা আছে, তা হয়তো কোন কালেও প্রকাশের সুযোগ হবেনা।
৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ছাত্র রাজনীতির পেছনে হেটেছি। ৮০ সাল থেকেই রব স্যারের ছাত্র হয়েছি। সেই থেকেই কাকিকে বিরক্ত করতে শুরু করেছিলাম। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে এত মর্জি করেছি কাকির সাথে যার কিয়দাংশও করিনি নিজের মায়ের সাথে। গত ৪০ বছর থেকে কাকিকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, জেনেছি মায়ের মত করে। অনেক স্মৃতির ভেতর থেকে কিছু কথা উল্লেখ না করলে অসমাপ্ত রয়ে যাবে আমার এই লেখাটি।
আশির দশকের মধ্যভাগে আংগারিয়া পূর্ববাজারে আনোয়ার কামাল ভাই একটি হোমিওপেথিক ডিসমেচারি খুলে বসেন। সেখানেই ছিল আমাদের দলীয় আড্ডার মুল ঠিকানা। ৮৯ সালের আগষ্ট মাসের ৭ তারিখ থেকে শরীয়তপুর কলেজে আমাদের (ছাত্রলীগ) উপর দিয়ে বেশ ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। অনেক ঘটনা প্রবাহের পর ১২ আগষ্ট শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটায় কামাল ভাইর ডিসমেচারির ভেতরে ছাত্রলীগ করার অপরাধে আমাকে ২০/২৫ জনের একদল স্বশস্ত্র লোক নির্দয়ভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে যায়। আল্লাহর কৃপায় আমার কিছু স্বজনের সহায়তায় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমি বেঁচে যাই। মাথায় ১৮টি সেলাই লেগেছিল।
জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতালের বিছানায় যখন প্রথম চোখ মেলি, তখন নিজের মায়ের মুখটি দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল। মাথায় ব্যান্ডেস, বাম হাতে ব্যান্ডেস, সারা শরীরে ভীষন ব্যথা নিয়ে নড়তে পারছিলামনা। হঠাৎ দেখি আমার ডান হাতটি যেন কার কোলের মধ্যে নিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। ভেবেছিলাম আমার মা এসেছেন। কোন রকমে একটু মাথাটা ঘুড়িয়ে দেখি ডোরা কাকি আমার শিয়রে বসা। দু`চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে তার কপোল ভিজে যাচ্ছিল। কাকির হাতের স্পর্শ পেয়ে আমি সব ভুলে গেলাম। মনে হলো আমার শরীরে আর কোন ব্যথাই রইলোনা। সেদিন আমার মায়ের স্থানটি পূরন করেছিলেন কাকি। কেউ আমাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে সাহস পায়নি। শুধু ছুটে গিয়েছিলেন আমার বাবা আর কাকি।
১৯৯০ সালে দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কলস প্রতীক নিয়ে রব স্যার প্রতিদ্বন্দিতা করেন। আমি স্যারের নির্বাচনী প্রচারনার জন্য নিজে তিনটি জারীগান রচনা করি। একশত শ্লোগান সমেত ১৪ মিনিটের একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং তিনটি গানে নিজে কন্ঠ দিয়ে রেকর্ড করে একটি ক্যাসেট বের করি। এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন গোলাম মোস্তফা, আমার বন্ধু কামাল, চুন্নু ফরাজী, শম্ভুনাথ পোদ্দার, আনোয়ার হাওলাদার, নাজমুল হাওলাদার, শেখ রাজ্জাক, আমার মামাতো ভাই মানিক মোল্যা সহ আরো অনেকে। আমার সেই ক্যাসেটিই ছিল স্যারের নির্বাচনের মূল প্রচারনা। জুলমত খানের রকেট মাইকের দোকান থেকে ক্যাসেটটি কপি করে রিক্সায় মাইক বেধে গোটা উপজেলায় প্রচার করা হতো। পুরো রেকর্ডিংটাই ছিল একটা বিস্ফোরণ। এরপর আমার উপর অনেক হুমকি আসতে শুরু করলো। আমার বাবা খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরলেন। নির্বাচনের ৮/১০ দিন আগে আমার এক নিকটাত্মীয় কাকির কাছে এসে বললেন নজরুলকে মেরে ফেলতে পারে, ওকে কোথাও সড়িয়ে দিন। এ কথা শুনে কাকি খুক শান্তভাবে বললেন "ওরে মারতে হলি আমাকে সহ মারতে হবি। কোন্ কুত্তোর বাচ্চা ওরে মারবি তাকে আসতে বলুন। একেবারি আস্ত রাখবোনা"। কাকি সেদিন আমাকে যে সাহস যুগিয়েছিলেন তাতে আমাদের প্রচার স্পৃহা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে শ্রমিক নেতা মতি-মান্নান সহ একটি টিম আমরা একসাথে কাজ করতাম। সেই নির্বাচনে আমরা হেরে যাই। ৭৫ দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকি। সবার মন ভেঙ্গে গেলেও কাকি ছিলেন অদম্য সাহসী। চতুর্দিকের শত শত নির্যাতিত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৩ সালের একটি ঘটনা। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের তৃতীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১০ জুন। ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী আমিন কোতয়াল, জিএস প্রার্থী আমার মামা তানভীর কামাল। আগের বছর নির্বাচনে আমিন কোতয়াল ও হাকিম খলিফা প্যানেল ছাত্রদলের কাছে পরাজিত হয়। জেদ চেপে বসে এবার ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে। দিনরাত পরিশ্রম করছি। প্রায় প্রতিদিনই কলেজে সংঘর্ষ বাধে। নির্বাচনের আগের দিন ৯ জুন বুধবার। সকাল ১০ টায় ভেদরগঞ্জের ছয়গাও থেকে প্রচারনা শুরু করি। বুড়িরহাট, সুবচনি ধরে কালকিনির সুর্যমনি লক্ষ্মীপুর হয়ে প্রতিজন ভোটারের সাথে দেখা করে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টায় এসে স্যারের বাসায় পৌছি। বর্তমান এই বাড়িটিই ছিল। চৌচালা একটি টিনের ঘর তুলে কেবল নিজ বাড়িতে থাকতে শুরু করেছেন স্যার। ১০/১২ জনের একটা টিম। সবাই ক্লান্ত, প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। রব স্যার তখনো জেগে ছিলেন, কয়েকজন প্রতিবেশী ও দলীয় কর্মী নিয়ে কথা বলছিলেন। কাকি ঘুমিয়ে পরেছেন। স্যারের কাছে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরলাম। রাত তখন প্রায় শোয়া একটা। আমাদের কথার শব্দে কাকির ঘুম ভাঙ্গে। বিছানা ছেরে বারান্দায় এসে খুব মমতাভরা কন্ঠে কাকি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোরা সারাদিন কিছু খাইতে পেরেছিলি, রাতে খেয়েছিস? কেউ একজন বলে ফেললো, কাকি রাতে খাওয়া হয়নি। আর দেরী নেই। নীরা খালাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। পাতিলে ভাত কড়াইতে ডাল ছিল। ঝটপট কয়েকটা ডিম ভেজে ডাল গড়ম করে আমাদের প্রত্যেককে রাত দুইটার সময় নিজ হাতে খাওয়ালেন। এমন শত স্মৃতি আছে কাকিকে নিয়ে। যে স্মৃতিগুলো কোনদিনও ভুলতে পারবোনা, ভুলা সম্ভব নয়।

রব স্যার ১৯৭০ ও ৭৩`এ দুইবার সংসদ নির্বাচন এবং দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে পরাজিত হলে দলে ভাটা চলে আসতে শুরু করে। কিন্তু কাকির সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও সদ্ব্যবহার সবাইকে চাঙ্গা করে রাখে। আমাদের অঞ্চলে এক সময় একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়ে যায়। তা ছিল - "ওমুক নেতার রাজনীতি নষ্ট হচ্ছে তার বউর কারনে আর রব মুন্সির রাজনীতি টিকে থাকছে তার বউর কল্যানে"। তাসলিমা বেগম ডোরা কাকিকে নিয়ে লিখলে এমন বহু সত্য সঠিক ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও শেষ হবেনা।

আমাদের সেই পরম পূজনীয়া মাকেই আমরা তার কিছু অকৃতজ্ঞ সন্তান জীবনের গোধুলী বেলায় এসে অনেক কষ্ট দিয়েছি তাকে। এইতো গত ১০ নভেম্বর। স্যারের ৭৮তম জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে শত শত দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে আমাদের দাম্ভিকতার শেষ তীরটি ছুড়ে দিলাম স্যার এবং কাকির বুকে। সেই মুুুহুর্তে আমি অতি সন্তর্পণে কাকির মুখের দিকে তাকালাম। গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম, বিষাক্ত তীরের যন্ত্রনায় দুমড়ে মুচরে যাওয়া হৃদয়টি কাকির কষ্টে ভরা মুখে মুহুর্তেই ভেসে উঠলো। একটা কঠিন দীর্ঘশ্বাস চাপা পরে গেল কাকির অন্তরে। কাকি চলে গেলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও আমাদের দিলেননা। ফাঁকি দিয়ে একেবারেই চলে গেলেন অ--নে--ক দুরে।
কাকির এক প্রিয় সন্তান অধ্যক্ষ ফজলুল হক মোল্যা ২৭ মে একটি ফেইজবুক লাইভ পেইজে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাকির নামে একটি শিক্ষা বৃত্তি ট্রাষ্ট গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। আমি এ প্রস্তাবটি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল এ্যালামনাই সহ অন্যান্য শুভাকাংখীদের এগিয়ে আসতে আহবান জানাচ্ছি।
৪৬ বছরের মধুর বন্ধন ছিন্ন করে, স্বামী-সংসার-সন্তান আর ইহ জগতের মায়া ত্যাগ করে আমাদের রব স্যারকে একা রেখে কাকি চলে গেলেন। সুদীর্ঘ জীবনের প্রেমময় স্মৃতি আকড়ে বেঁচে থাকা আমার স্যারের জন্য যে কতটা বেদনাবিধুর তা একটু চিন্তা করলে অনুভব করতে পারি। আসুন সবাই রাব্বি কারীমের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের স্যারকে প্রিয় হারানোর এই শোককে শক্তিতে পরিনত করে দেন। আল্লাহ যেন স্যারকে দীর্ঘকাল সুস্থ্যভাবে জনকল্যানে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখেন।
আল্লাহর কাছে সবাই আরো দোয়া করুন, আমাদের মমতাময়ী নিরহংকারী কাকিমাকে আল্লাহ যেন ক্ষমা করে দেন। জান্নাতের উচ্চ মাকামে আল্লাহ যেন তাকে স্থান করে দেন। কাকির এতিম সন্তান পাভেল-রুবেলকে এই কষ্ট বহন করার শক্তি যেন আল্লাহ দান করেন।

এ শূণ্যতা কখনো পূরন হবার নয়
                                  

কাজী নজরুল ইসলাম :

সহস্র সন্তানের বিশাল এক পরিবার আর রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যপ্তিময় এক পরিমন্ডলকে গভীর শুন্যতায় নিমজ্জিত করে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন একজন আজীবন সংগ্রামী মা। তার চলে যাবার শুন্যতা কোনদিন পূরন হবার নয়। আমাদের সকলের প্রিয় ‘কাকি’, চিরচেনা কাকিমা, শৈশব-কৈশরের হাজারো আবদারের ভরসাস্থল, আমার মত হাজারো সন্তানের মহীয়সী জননী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জননেতা আব্দুর রব মুন্সি স্যারের প্রিয়তমা সহধর্মীনি, এতদাঞ্চলের সকলের চিরপরিচিতা তাসলিমা বেগম ডোরা কাকি আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে, গভীর শোক সাগরে ভাসিয়ে, পাভেল-রুবেলের মতই তার হাজারো সন্ততানকে এতিম করে একেবারেই চলে গেলেন স্বর্গালোকের সুখতারা হয়ে না ফেরার দেশে। গত ২৬ মে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন কিডনীর জটিল রোগে ভুগছিলেন কাকি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
১৯৭৪ সালে তখনকার তরুন উদীয়মান জননেতা আব্দুর রব মুন্সির সাথে তাসলিমা বেগম ডোরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬০`র দশকে আব্দুর রব মুন্সি তখন বৃহত্তম ফরিদপুর অঞ্চলের বাম ঘরোনার এক তুমুল আলোচিত ছাত্রনেতা। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঝড় তোলা বক্তা। ৬৪ সালে রব স্যার মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন কলেজের ভিপি নির্বাচিত হবার পর তিনি গোটা ফরিদপুরে ছাত্র রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তী রূপে বিপ্লবের লাল পতাকা হাতে নিয়ে চষে বেড়াতেন। তখন পরিচয় হয় গোপালগঞ্জের আরেক সমাজতন্ত্রবাদী ডাকসাইডেট নেতা লেবু মুন্সির সাথে। লেবু মুন্সির ছোট বোন তাসলিমা ডোরাও তখন গোপালগঞ্জে ছাত্র ইউনিয়নের তুখোর কর্মী ছিলেন। সেই ডোরা এক সময়ে বধু হয়ে আসেন আব্দুর রব মুন্সির কুড়ে ঘরে।
সংসার জীবনে ডোরা কাকি কখনো প্রাচুর্যের স্বাদ পাননি। আজীবন সংগ্রামী এক নারী ছিলেন তিনি। সংসারের ঘানি টানতে এক সময় তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রথমে ৭৫ সালের শেষ দিকে যোগদান করেন সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। কয়েক বছর পর চাকুরী পরিবর্তন করে যুক্ত হন সমাজ সেবা অধিদপ্তরে। রব মুন্সী-ডোরা দম্পতিতে ৬ জন সন্তান জন্ম নিলেও তাদের প্রথম পুত্র সন্তানটি মারা যায়। এরপর তানিয়া, সোনিয়া, সুফিয়া,পাভেল ও রুবেল একে একে কাকিমার কোল আলোকিত করে।
রব মুন্সি স্যার সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলেন রাজনীতিতে। ডোরা কাকি ছিলেন তার ছায়াশক্তি। ছিলেন রাজনীতিতে এক প্রবল অনুপ্রেরণা। ডোরা কাকি ছিলেন ঘোর অমানিশার রাতে রব স্যারের রাজনীতির আলোক বর্তিতা। এত কষ্ট, এত ঝঞ্ঝা ছিল স্যারের রাজনৈতিক জীবনে, তবুও কখনো দমে যাননি কাকি। অনেকগুলো সন্তানেরর পড়া লেখার ভার (নিজের ও গোটা মুন্সি পরিবারের), সরকারি চাকুরী, হতাশাগ্রস্ত শত শত দলীয় কর্মী, স্কুলের অগনিত শিক্ষার্থীদের আবদার-অনুযোগ সব কিছু নিজের ধৈর্য্য আর বিচক্ষনতা দিয়ে মোকাবেলা করতেন কাকি। প্রচন্ড এক সহ্য ক্ষমতা ছিল কাকির।
১৯৮৫ এবং ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর সবচেয়ে দুঃসময় মোকাবেলা করতে হয়েছে রব স্যারের রাজনৈতিক জীবনে। এ সময়গুলোতে নানান মামলা মোকদ্দমা নিয়ে দৌড়াতে হতো স্যারকে। কিন্তু সব কিছু সামলে রাখতেন কাকি। রফিক মৌলভীর দোচালা টিনের ভাড়া ঘরের বাসায় সুর্যোদয় থেকে গভীর রাত অবধি অসংখ্য সমস্যাগ্রস্ত মানুষের ভীর থাকতো। দাদপুরের সেকান্দার হাওলাদার, শাহেবালি সরদার, বিনোদপুরের গনি মিয়া মাদবরের মত মুরুব্বীরা অনেক সমস্যা আর মামলা মাথায় নিয়ে আসতেন স্যারের কাছে। স্যার যখন থাকতেননা, তখন সব শুনে ন্যুনতম একটা শান্তনা দিয়ে হলেও সবাইকে সামলে নিতেন কাকি।
কত কষ্টইনা করে গেছেন গোটা জীবনে। কাকির হাতের এক কাপ লাল চা আর এক বাটি মুড়ি খাননি এ অঞ্চলের ছাত্র থেকে অভিভাবক, নেতা থেকে কর্মী এমন লোক বিরল। কোন দল বা মত ছিলনা কাকির কাছে। সবাইকে এক নজরেই দেখতেন তিনি। তাদের রাজনীতির চরম প্রতিপক্ষ, এমন পরিবারের সদস্য বা সন্তান যারা আংগারিয়া হাই স্কুলে পড়া লেখা করেছে, তারা সবাই ছিল কাকির সন্তানের মতই।
অল্প আয়ের সংসারে হোটেলের মত সব সময় চুলা জ্বলতেই থাকতো। কেউ এলে মুখ দেখেই কাকি বলে দিতে পারতেন, কে অভুক্ত আর কে খেয়ে এসেছে। ক্ষুধা নিয়ে কেউ কোন দিন কাকির বাসা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি, তখন আমাদের নিরাপদ অভয়াশ্রম ছিল কাকির আচঁল। রাত দুইটার সময়ও আমাদের নিজ হাতে খাইয়েছেন কাকি। কখনো এতটুকু বিরক্তি দেখিনি তার ভেতর।
কাকিকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আবেগমথিত হয়েছি বার বার। ঠিক মত হাত চলছিলনা। কয়েকবার লেখাটা এডিট করেছি। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। এত যে স্মৃতি কাকিকে নিয়ে জমা আছে, তা হয়তো কোন কালেও প্রকাশের সুযোগ হবেনা।
৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ছাত্র রাজনীতির পেছনে হেটেছি। ৮০ সাল থেকেই রব স্যারের ছাত্র হয়েছি। সেই থেকেই কাকিকে বিরক্ত করতে শুরু করেছিলাম। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে এত মর্জি করেছি কাকির সাথে যার কিয়দাংশও করিনি নিজের মায়ের সাথে। গত ৪০ বছর থেকে কাকিকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, জেনেছি মায়ের মত করে। অনেক স্মৃতির ভেতর থেকে কিছু কথা উল্লেখ না করলে অসমাপ্ত রয়ে যাবে আমার এই লেখাটি।
আশির দশকের মধ্যভাগে আংগারিয়া পূর্ববাজারে আনোয়ার কামাল ভাই একটি হোমিওপেথিক ডিসমেচারি খুলে বসেন। সেখানেই ছিল আমাদের দলীয় আড্ডার মুল ঠিকানা। ৮৯ সালের আগষ্ট মাসের ৭ তারিখ থেকে শরীয়তপুর কলেজে আমাদের (ছাত্রলীগ) উপর দিয়ে বেশ ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। অনেক ঘটনা প্রবাহের পর ১২ আগষ্ট শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটায় কামাল ভাইর ডিসমেচারির ভেতরে ছাত্রলীগ করার অপরাধে আমাকে ২০/২৫ জনের একদল স্বশস্ত্র লোক নির্দয়ভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে যায়। আল্লাহর কৃপায় আমার কিছু স্বজনের সহায়তায় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমি বেঁচে যাই। মাথায় ১৮টি সেলাই লেগেছিল।
জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতালের বিছানায় যখন প্রথম চোখ মেলি, তখন নিজের মায়ের মুখটি দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল। মাথায় ব্যান্ডেস, বাম হাতে ব্যান্ডেস, সারা শরীরে ভীষন ব্যথা নিয়ে নড়তে পারছিলামনা। হঠাৎ দেখি আমার ডান হাতটি যেন কার কোলের মধ্যে নিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। ভেবেছিলাম আমার মা এসেছেন। কোন রকমে একটু মাথাটা ঘুড়িয়ে দেখি ডোরা কাকি আমার শিয়রে বসা। দু`চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে তার কপোল ভিজে যাচ্ছিল। কাকির হাতের স্পর্শ পেয়ে আমি সব ভুলে গেলাম। মনে হলো আমার শরীরে আর কোন ব্যথাই রইলোনা। সেদিন আমার মায়ের স্থানটি পূরন করেছিলেন কাকি। কেউ আমাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে সাহস পায়নি। শুধু ছুটে গিয়েছিলেন আমার বাবা আর কাকি।
১৯৯০ সালে দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কলস প্রতীক নিয়ে রব স্যার প্রতিদ্বন্দিতা করেন। আমি স্যারের নির্বাচনী প্রচারনার জন্য নিজে তিনটি জারীগান রচনা করি। একশত শ্লোগান সমেত ১৪ মিনিটের একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং তিনটি গানে নিজে কন্ঠ দিয়ে রেকর্ড করে একটি ক্যাসেট বের করি। এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন গোলাম মোস্তফা, আমার বন্ধু কামাল, চুন্নু ফরাজী, শম্ভুনাথ পোদ্দার, আনোয়ার হাওলাদার, নাজমুল হাওলাদার, শেখ রাজ্জাক, আমার মামাতো ভাই মানিক মোল্যা সহ আরো অনেকে। আমার সেই ক্যাসেটিই ছিল স্যারের নির্বাচনের মূল প্রচারনা। জুলমত খানের রকেট মাইকের দোকান থেকে ক্যাসেটটি কপি করে রিক্সায় মাইক বেধে গোটা উপজেলায় প্রচার করা হতো। পুরো রেকর্ডিংটাই ছিল একটা বিস্ফোরণ। এরপর আমার উপর অনেক হুমকি আসতে শুরু করলো। আমার বাবা খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরলেন। নির্বাচনের ৮/১০ দিন আগে আমার এক নিকটাত্মীয় কাকির কাছে এসে বললেন নজরুলকে মেরে ফেলতে পারে, ওকে কোথাও সড়িয়ে দিন। এ কথা শুনে কাকি খুক শান্তভাবে বললেন "ওরে মারতে হলি আমাকে সহ মারতে হবি। কোন্ কুত্তোর বাচ্চা ওরে মারবি তাকে আসতে বলুন। একেবারি আস্ত রাখবোনা"। কাকি সেদিন আমাকে যে সাহস যুগিয়েছিলেন তাতে আমাদের প্রচার স্পৃহা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে শ্রমিক নেতা মতি-মান্নান সহ একটি টিম আমরা একসাথে কাজ করতাম। সেই নির্বাচনে আমরা হেরে যাই। ৭৫ দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকি। সবার মন ভেঙ্গে গেলেও কাকি ছিলেন অদম্য সাহসী। চতুর্দিকের শত শত নির্যাতিত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৩ সালের একটি ঘটনা। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের তৃতীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১০ জুন। ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী আমিন কোতয়াল, জিএস প্রার্থী আমার মামা তানভীর কামাল। আগের বছর নির্বাচনে আমিন কোতয়াল ও হাকিম খলিফা প্যানেল ছাত্রদলের কাছে পরাজিত হয়। জেদ চেপে বসে এবার ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে। দিনরাত পরিশ্রম করছি। প্রায় প্রতিদিনই কলেজে সংঘর্ষ বাধে। নির্বাচনের আগের দিন ৯ জুন বুধবার। সকাল ১০ টায় ভেদরগঞ্জের ছয়গাও থেকে প্রচারনা শুরু করি। বুড়িরহাট, সুবচনি ধরে কালকিনির সুর্যমনি লক্ষ্মীপুর হয়ে প্রতিজন ভোটারের সাথে দেখা করে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টায় এসে স্যারের বাসায় পৌছি। বর্তমান এই বাড়িটিই ছিল। চৌচালা একটি টিনের ঘর তুলে কেবল নিজ বাড়িতে থাকতে শুরু করেছেন স্যার। ১০/১২ জনের একটা টিম। সবাই ক্লান্ত, প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। রব স্যার তখনো জেগে ছিলেন, কয়েকজন প্রতিবেশী ও দলীয় কর্মী নিয়ে কথা বলছিলেন। কাকি ঘুমিয়ে পরেছেন। স্যারের কাছে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরলাম। রাত তখন প্রায় শোয়া একটা। আমাদের কথার শব্দে কাকির ঘুম ভাঙ্গে। বিছানা ছেরে বারান্দায় এসে খুব মমতাভরা কন্ঠে কাকি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোরা সারাদিন কিছু খাইতে পেরেছিলি, রাতে খেয়েছিস? কেউ একজন বলে ফেললো, কাকি রাতে খাওয়া হয়নি। আর দেরী নেই। নীরা খালাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। পাতিলে ভাত কড়াইতে ডাল ছিল। ঝটপট কয়েকটা ডিম ভেজে ডাল গড়ম করে আমাদের প্রত্যেককে রাত দুইটার সময় নিজ হাতে খাওয়ালেন। এমন শত স্মৃতি আছে কাকিকে নিয়ে। যে স্মৃতিগুলো কোনদিনও ভুলতে পারবোনা, ভুলা সম্ভব নয়।

রব স্যার ১৯৭০ ও ৭৩`এ দুইবার সংসদ নির্বাচন এবং দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে পরাজিত হলে দলে ভাটা চলে আসতে শুরু করে। কিন্তু কাকির সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও সদ্ব্যবহার সবাইকে চাঙ্গা করে রাখে। আমাদের অঞ্চলে এক সময় একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়ে যায়। তা ছিল - "ওমুক নেতার রাজনীতি নষ্ট হচ্ছে তার বউর কারনে আর রব মুন্সির রাজনীতি টিকে থাকছে তার বউর কল্যানে"। তাসলিমা বেগম ডোরা কাকিকে নিয়ে লিখলে এমন বহু সত্য সঠিক ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও শেষ হবেনা।

আমাদের সেই পরম পূজনীয়া মাকেই আমরা তার কিছু অকৃতজ্ঞ সন্তান জীবনের গোধুলী বেলায় এসে অনেক কষ্ট দিয়েছি তাকে। এইতো গত ১০ নভেম্বর। স্যারের ৭৮তম জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে শত শত দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে আমাদের দাম্ভিকতার শেষ তীরটি ছুড়ে দিলাম স্যার এবং কাকির বুকে। সেই মুুুহুর্তে আমি অতি সন্তর্পণে কাকির মুখের দিকে তাকালাম। গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম, বিষাক্ত তীরের যন্ত্রনায় দুমড়ে মুচরে যাওয়া হৃদয়টি কাকির কষ্টে ভরা মুখে মুহুর্তেই ভেসে উঠলো। একটা কঠিন দীর্ঘশ্বাস চাপা পরে গেল কাকির অন্তরে। কাকি চলে গেলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও আমাদের দিলেননা। ফাঁকি দিয়ে একেবারেই চলে গেলেন অ--নে--ক দুরে।
কাকির এক প্রিয় সন্তান অধ্যক্ষ ফজলুল হক মোল্যা ২৭ মে একটি ফেইজবুক লাইভ পেইজে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাকির নামে একটি শিক্ষা বৃত্তি ট্রাষ্ট গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। আমি এ প্রস্তাবটি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল এ্যালামনাই সহ অন্যান্য শুভাকাংখীদের এগিয়ে আসতে আহবান জানাচ্ছি।
৪৬ বছরের মধুর বন্ধন ছিন্ন করে, স্বামী-সংসার-সন্তান আর ইহ জগতের মায়া ত্যাগ করে আমাদের রব স্যারকে একা রেখে কাকি চলে গেলেন। সুদীর্ঘ জীবনের প্রেমময় স্মৃতি আকড়ে বেঁচে থাকা আমার স্যারের জন্য যে কতটা বেদনাবিধুর তা একটু চিন্তা করলে অনুভব করতে পারি। আসুন সবাই রাব্বি কারীমের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের স্যারকে প্রিয় হারানোর এই শোককে শক্তিতে পরিনত করে দেন। আল্লাহ যেন স্যারকে দীর্ঘকাল সুস্থ্যভাবে জনকল্যানে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখেন।
আল্লাহর কাছে সবাই আরো দোয়া করুন, আমাদের মমতাময়ী নিরহংকারী কাকিমাকে আল্লাহ যেন ক্ষমা করে দেন। জান্নাতের উচ্চ মাকামে আল্লাহ যেন তাকে স্থান করে দেন। কাকির এতিম সন্তান পাভেল-রুবেলকে এই কষ্ট বহন করার শক্তি যেন আল্লাহ দান করেন।

৫০ দিনে ৪০ হাজার ক্ষুধার্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা
                                  

:কাজী নজরুল ইসলাম:


৫০ দিনের করোনা সংকটে কর্মহীন প্রায় ৪০ হাজার ক্ষুধার্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিয়ে মানবিকতার ইতিহাস গড়লেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। তার নির্বাচনী এলাকার শরীয়তপুর সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলার অন্তত ৭০ হাজার অসহায় পরিবারকে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। চলতি মে মাসের মধ্যেই বাকি আরো ৩০ হাজার পরিবারের ঘরে পৌছে এ খাদ্য দ্রব্য।
বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারনে সৃষ্ট বিশ্ব মন্দায় গোটা পৃথিবীর শত কোটি মানুষ এখন ক্ষুধার যন্ত্রনায় ছটফট করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কর্মহীন নিন্ম আয়ের মানুষের অবস্থাও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। দেশের অন্যতম দারিদ্রপ্রবন জেলা শরীয়তপুর। জেলার মোট ভূ-খন্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চরাঞ্চল। শরীয়তপুর-১ নির্বাচনী এলাকার জাজিরা উপজেলার হাজার হাজার পরিবার চরাঞ্চলের অধিবাসী। তারা নদী ভাঙ্গন সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে আছে যুগের পর যুগ। বর্তমান এই মহাসংকটে ক্ষুধার জ্বালা হানা দিয়েছে তাদের ঘরেও।
শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৬০-৭০ হাজার পরিবার কর্মহীন হয়েছে গত দুই মাসে। তাদের পরিবার গুলোতে যখন খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে দেখা দিচ্ছিল তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু। গত দুই মাস যাবৎ হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে রাতে-দিনে, প্রকাশ্যে-গোপনে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে অপুর একঝাক কর্মী বাহিনী। সরকারি ত্রান সহায়তার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গত ৫০ দিনে ইকবাল হোসেন অপু দলীয় ব্যানার ও তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত আলহাজ এ্যাডভোকেট সুলতান হোসেন মিয়া ফাউন্ডেশনের নামে ৪০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। জুন মাসের আগ পর্যন্ত আরো ৩০ হাজার পরিবারের কাছে খাদ্য পৌছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাংসদ অপুর।
গত ১৫ এপ্রিল থেকে শরীয়তপুর জেলা লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এর এক মাস আগে থেকেই ত্রান সহায়তা প্রদান শুরু করেছেন অপু। তার নির্বাচনী এলাকার খেটে খাওয়া কৃষি শ্রমিক, দিন মজুর, রিক্সা চলাল, ভ্যান চালক, অটোরিক্সা চালক, ঠেলা গাড়ি শ্রমিক, বাস-ট্রাক শ্রমিক, ধোপা, নরসুন্দর, ভাসমান জনগোষ্ঠী, বেদে সম্প্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক, প্রতিবন্ধি, নির্মান শ্রমিক, কাঠ মিস্ত্রি, চা দোকানী, গ্যারেজ মিস্ত্রি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালা, কুটির শিল্পের শ্রমিক সহ নানা শ্রেনি পেশার কর্মহীন নিন্মবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন অপু‘র কর্মী বাহিনী। ৫-১০ কেজি চাল, মুশর ডাল, ভোজ্য তেল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, চিনি, লবন, চিড়া, মুড়ি, ছোলা, সাবান থাকছে প্রতিটি খাদ্য সহায়তা প্যাকেটে। শুধু খাদ্য সহায়তা প্রদান করেই থেমে থাকেননি অপু। শুরু থেকেই গোটা নির্বাচনী এলাকাকে করোনা ভাইরাসমুক্ত রাখতে গণসচেতনতামূলক প্রচারনা, লিফলেট বিতরণ, জীবানুণাশক ঔষধ ছেটানো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর বাইরেও নিজের অর্থায়নে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদেরকে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার সহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছেন। ইকবাল হোসেন অপু করোনা মোকাবেলায় বিশেষ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে মেডিকেল টিম গঠন করে ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানেরও ব্যবস্থা করেছেন। গত ১৮ মার্চ থেকেই সাংসদ অপুর নির্দেশে জেলা সদরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, শরীয়তপুর পৗেরসভা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগ সহ দলীয় অঙ্গ-সহযোগি ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা কর্মীরা এবং জাজিরা উপজেলার নেতা-কর্মীরা গোটা নির্বাচনি এলাকায় সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। সাংসদের নির্দেশে বিশেষ করে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য কামরুজ্জামান উজ্জল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন সহ পৌরসভা আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতা-কমীরা এই দুর্যোগে বিপুল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আপদাপন্ন মানুষকে সহায়তার জন্য মোবাইল ফোনে হট লাইন চালু করেছেন অপুর স্বেচ্ছাসেবী টিম। রাত আর দিন নেই, যে কোন সময়ে, নির্বাচনী এলাকার যে কোন স্থান থেকে অভাবী মানুষের কন্ঠস্বর ভেসে আসলেই দ্রুততার সাথে খাদ্য সহায়তা সহ যে কোন সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন অপুর মানবিক যোদ্ধারা।
রমজান মাসের শুরু থেকেই জেলা শহর ও এর আশে পাশে ইফতারের পূর্বে রোজাদার পথচারি ও শ্রমিকদের হাতে পানীয় সহ প্রস্তুতকৃত ইফতারির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন অপুর কর্মীরা। ইতমধ্যে সুলতান হোসেন মিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের দেয়া হয়েছে বিশেষ খাদ্য সামগ্রীর উপহার। ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশে ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা-কর্মীরা পালং-জাজিরায় অনেক কৃষকের পাকা ইরি ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। ৮ মে থেকে শেখ হাসিনা ঘোষিত বাড়ির আঙ্গিনায় সব্জি চাষ কর্মসূচির আওতায় ঘরে ঘরে সশ্যবীজ পৌছে দিচ্ছেন অপু‘র কর্মীরা। তারা সদর উপজেলার পৌরসভা, রুদ্রকর, আঙ্গারিয়া, চিতলিয়া, বিনোদপুর, মাহমুদপুর, চন্দ্রপুর, চিকন্দী, শৌলপাড়া, ডোমসার, তুলাসার ও পালং ইউনিয়ন এবং জাজিরা পৌরসভা সহ কুন্ডেরচর, বিলাশপুর, বড়কান্দি, পালের চর, পূর্ব নাওডুবা, পশ্চিম নাওডুবা, বিকে নগর, সেনেরচর, গোপালপুর, জয়নগর, মূলনা ও জাজিরা ইউনিয়নে সব্জি বীজ বিতরণ শুরু করেছেন। পেঁপে, লাউ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক, লাল শাক, ঢেরশ ও ডাটা বীজ বিতরণ করা হবে নির্বাচনী এলাকার অন্তত তিন হাজার পরিবারকে।
ইকবাল হোসেন অপু এম.পি কর্তৃক বিশ্বব্যাপী এই মহামারির দুর্যোগ মুহুর্তে খাদ্য সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে গোটা জেলা ব্যাপী। অসহায় মানুষের মুখে মুখে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অপু এবং তার কর্মী বাহিনীর প্রশংসা। ঘরে ঘরে কর্মহীন মানুষ এই পবিত্র রমজান মাসে ইকবাল হোসেন অপুর জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘হাত তুলে দোয়া করছেন।
সদর উপজেলার হাজৎখোলা গ্রামের নি:সন্তান আলাতুন নেছা ইকবাল হোসেন অপুর দেয়া খাদ্য সহায়তা পেয়ে বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য-বিছানায় পরা, কোন আয় রোজগারের উপায় ছিলনা। ঘরে কোন খাদ্যও ছিলনা। না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল। এমন সময় কার কাছ থেকে যেন খবর পেয়ে এম.পি সাহেবের লোকেরা আমার বাড়িতে দশ কেজি চাল, ডাল তেল, লবন, পিয়াজ, আলু, চিনি, চিড়া, মুড়ি, ছোলা ও সাবান পৌছে দেয়। হঠাৎ এত উপহার পেয়ে মনে হলো আল্লাহ আমার ঘরে তার রহমত ঢেলে দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে এম.পি সাহেবের জন্য প্রান খুলে দোয়া করি, তাকে যেন আল্লাহ অনেক দিন হায়াত দান করে। তিনি যেন সারা জীন এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারেন।
জাজিরা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ভোলাই শিকদারকান্দি গ্রামের ভ্যান চালক তারা মিয়া আকন বলেন, অনেক দিন যাবৎ ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারিনা। ছেলে সন্তান, বৃদ্ধ মা বাবা নিয়ে অনেক বিপদে ছিলাম। আমাদের এম.পি অপু মিয়া আমাকে কয়েকবারই ত্রান দিয়ে সাহায্য করেছেন। তার উছিলায় দুই বেলা দুইটা ভাত খাওয়ার সুযোগ আল্লাহ করে দিছেন। আমরা এমন মানব দরদী এম.পি সব সময়ই চাই। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, ইতিমধ্যে সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু ঘোষনা দিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার একটি মানুষও যেন অভূক্ত না থাকেন। আমরা তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। এম.পি মহোদয় হট লাইন খুলে দিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে কোন্ বাড়িতে, কোন্ লোকটি অনাহারে রয়েছেন তাকে দ্রুত খাদ্য পৌছে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যতদিন এ দুর্যোগ থাকবে ততদিন আমরা সাংসদের নির্দেশে মাঠে থাকবো।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি মার্চ মাস থেকেই আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সকল প্রকারের সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছি। দেশে লকডাউন ঘোষনার আগে থেকেই ত্রান সহায়তা প্রদান করে আসছি। আমি নিজের অর্থায়নে একটি ত্রান তহবিল গঠন করেছি। সেখানে আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাংখীরা সাধ্যমত সহায়তা করছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় দুইটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০-৭০ হাজার পরিবার কর্মহীন হয়ে পরায় আমি প্রত্যেক পরিবারকে আমার তহবিল ও আমার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি।
অপু আরো বলেন, আমি সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা আমার নির্বাচনী এলাকার অসহায়, দুস্থ্য ও অনাহারী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে। পালং-জাজিরার একটি মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য আমি অন্তত ৭০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহন করেছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ঘরেই খাদ্য সহায়তা পৌচেছে। অনেক পরিবারে একাধিকবারও সহায়তা পৌছানো হয়েছে। জুন মাসের আগে আরো ২৫-৩০ হাজার মানুষকে সহায়তা করতে পারবো ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মানবতার জননী, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে অচিরেই আমরা এই ভয়াবহ করোনা যুদ্ধে দেশকে নিরাপদ করতে সক্ষম হবো। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সকল নাগরিককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থেকে সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা
                                  

রাজশাহী প্রতিনিধি:
করোনা আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসকের অবহেলয়া এবার প্রাণ হারালো আল আমিন নামের এক যুবক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার অলংকার দিঘি গ্রামে। নারায়ণগঞ্জ ফেরত যুবক আল আমিন (২২) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন শনিবার রাত সাড়ে আটটায়।


শনিবার সকালে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি, ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গ্রামে ফেরেন। তবে গ্রামের লোকেরা তাকে বাড়িতে রাখতে দেয়নি। নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল, আদমদিঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রানীনগর উপজেলা হাসপাতালসহ পাঁচটা হাসপাতাল ঘুরেও কোনো চিকিৎসা না পেয়ে শনিবার বিকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে আটটার দিকে আল আমিন মারা যান। মৃত যুবক আল আমিনের বাবা মোখলেসুর রহমান জানান, তার ছেলে নারায়ণগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ করতেন। শনিবার সকালে সে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফেরে। এ সময় গ্রামের লোকেরা তাকে গ্রামে রাখতে বাধা প্রদান করেন। ফলে দ্রুত তাকে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা আল আমিনকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেন ও ফেরত পাঠান।
উপায়ন্তর না দেখে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে মোখলেসুর রহমান ছুটেন পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলা হাসপাতালে। সেখানেও তাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করা হয়। পরে রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুনকে জানালে তার হস্তক্ষেপে আল আমিনকে প্রথমে রানীনগর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আবার নওগাঁ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আল আমিনকে ২৩ নং মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আল আমিন মারা যান। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, আল আমিনের লাশ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আল আমিন করোনায় নয়, মস্তিস্কের সংক্রমণ বা মেনিনজাইটিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির সময় তার শরীরে জ্বরের মাত্রা তীব্র ছিল। মাথা ব্যাথা ও গলা ব্যাথা ছিল।


মেডিকেলের ডেথ প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সর্দিজ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ থাকলেও আল আমিন মারা গেছেন মেনিনজাইটিস বা মস্তিস্কের সংক্রমণে।
তবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কীভাবে আল আমিনের মেনিনজাইটিস শনাক্ত হলো জানতে চাইলে সাইফুল ফেরদৌস কোনো উত্তর দেননি। এছাড়া রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আল আমিনের করোনার কোনো নমুনা সংগ্রহ করেননি বলে জানান তিনি।
এদিকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম জানান, শনিবার যখন আল আমিনকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয় তখন তার তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। অবস্থা বিবেচনা করে তাকে আমরা নওগাঁ জেলা হাসপাতাল পাঠিয়ে দিই। সেখানে করোনার নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল। সেটা করা হয়েছে কিনা তিনি জানেন না।


আজ রোববার সকালে মৃত আল আমিনের বাবা মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কোথাও তার ছেলের সুচিকিৎসা হয়নি। তিনি ছেলেকে নিয়ে পাঁচটা হাসপাতালে ঘুরেছেন। কিন্তু কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। পরে কালিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ও ইউএনও আল মামুন সাহেবের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার রাতে আল আমিন মারা যান। রোববার সকালে নিজ গ্রাম অলরংকারদিঘিতে আল আমিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

আজ বসছে পদ্মা সেতুর ২৭তম স্প্যান
                                  

স্টাফ রিপোর্টার
‘৫সি’ নম্বর এই স্প্যান বসবে ২৭ ও ২৮ নম্বর খুঁটিতে। পাঁচ নম্বর মডিউলের ‘সি’ স্প্যানটি গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মাওয়ার ইয়ার্ড থেকে নিয়ে রওনা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে এই ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ স্প্যানটি নিয়ে ২৮ নম্বর খুঁটির কাছে অ্যাংকর করেছে। পজিশনিংসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড চলছে।


সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। তাই সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সকালেই বসবে ২৭তম স্প্যান। এদিকে মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সেতুর গার্ডার স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে।।

যশোরের নারী এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান প্রত্যাহার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের মনিরামপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


আজ শনিবার জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহারের পর তাকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


ইউসুফ হারুন আরও বলেন, অফিস খোলার পর এ ঘটনার তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় মাঠ পর্যায়ে সব কর্মকর্তাকে সরকারি আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান জনপ্রশাসন সচিব।


প্রসঙ্গত নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যশোরের মনিরামপুরে গত শুক্রবার বিকালে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়।
ওই অভিযানে মাস্ক না পরায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে উঠবস করান সাইয়েমা হাসান। সাজা দেয়ার ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ছবিও তুলে রাখেন তিনি।
ঘটনার দিন রাতে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা।

বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবন আমাদের সবার অনেক বড় প্রেরণা - নরেন্দ্র মোদী
                                  

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আবেগঘন বক্তব্য দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  মঙ্গলবার ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম বলে আখ্যায়িত করেন। বঙ্গবন্ধুর  সমগ্র জীবন আমাদের সবার জন্য অনেক বড় প্রেরণা বলেও মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।   বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ভিডিওবার্তায় একথা বলেন মোদী।
ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৩০ কোটি ভারতীয় ভাই-বন্ধুদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক  অভিনন্দন ও শুভ কামনা।
মোদী বলেন, শেখ হাসিনা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এই ঐতিহাসিক সমারোহে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসজনিত কারণে আমার পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে শেখ হাসিনা নিজেই একটি বিকল্প প্রস্তাব দেন এবং সে কারণে আমি এই ভিডিওর মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছি।  
মোদি বলেন,
বঙ্গবন্ধু মানে—
একজন সাহসী নেতা
একজন দৃঢ়চেতা মানুষ
একজন ঋষিতুল্য শান্তিদূত
একজন ন্যায়, সাম্য ও মর্যাদার রক্ষাকর্তা
একজন পাশবিকতাবিরোধী এবং
যে কোন জোরজুলুমের বিরুদ্ধে একজন ঢাল।
তার এই গুণাবলী সে সময় লাখ লাখ তরুণকে বাংলাদেশের মুক্তির জন্য সমস্ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে নতুন শক্তি দিয়েছিল। আজ আমার খুব ভালো লাগে, যখন দেখি যে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলায়’ রূপান্তরিত করার জন্য দিন-রাত কাজ করে চলেছেন।’

মোদি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের জন্য এক মহান বার্তা। আমরা সবাই ভালো করে জানি, কীভাবে একটি নিপীড়ক ও দমনকারী সরকার সমস্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ‘বাংলা ভূমির’ উপর অবিচারের রাজত্ব চালিয়ে জনগণের সর্বনাশ করেছিল। সে সময় যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল সমাজে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
‘তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ঘৃণা এবং নেতিবাচকতা কখনই কোনো দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না। কিন্তু তার এই ধারণা ও প্রচেষ্টা কিছু লোক পছন্দ করেনি এবং আমাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ এবং আমরা সবাই ভাগ্যবান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ঈশ্বরের আশীর্বাদে রক্ষা পেয়েছিলেন। নয়তো সহিংসতা ও ঘৃণার সমর্থকরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি।’
মোদী বলেন, আতংক ও সহিংসতাকে রাজনীতি এবং কূটনীতির হাতিয়ার করে তোলা কীভাবে একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেয় তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সন্ত্রাস ও সহিংসতার সমর্থকরা আজ কোথায়, কীভাবে আছে এবং বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় আছে এটাও বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে।
‘বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যেভাবে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং উন্নয়নমুখী নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে অন্য সামাজিক সূচক, যেমন: ক্রীড়াক্ষেত্র কিংবা দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, মাইক্রো ফিন্যান্সের মতো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিওবার্তায় আরো বলেন, আমি আনন্দিত যে, গত ৫-৬ বছরে ভারত এবং বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে এবং আমাদের অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা এবং দিশা দিয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার কারণেই আমরা স্থল ও সমুদ্রসীমানার মতো জটিল সমস্যাগুলি সহজে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।  
আজ বাংলাদেশ কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার নয়, উন্নয়ন অংশীদারও। ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ বাড়িঘর এবং কারখানা আলোকিত করছে।
ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সড়ক, রেল, বিমান, জলপথ বা ইন্টারনেট এমন অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দুই দেশের মানুষকে আরও বেশি সংযুক্ত করছে।
মোদী বলেন, আমাদের যৌথ ঐতিহ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, লালন শাহ, জীবনানন্দ দাশ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীরা। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে। তার আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে ভারত সর্বদা সংযুক্ত ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এই অভিন্ন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
আমাদের এই ঐতিহ্য, আত্মিক বন্ধন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ, এই দশকেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী ভিত্তি।
আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে এবং তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী। আমার বিশ্বাস যে, এই দু’টি মাইলফলক কেবল ভারত এবং বাংলাদেশের উন্নয়নকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, দু`দেশের বন্ধনকেও জোরদার করবে।’
আবারও সমগ্র বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।

রক্ত ও গাছ রোপন করে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালন নির্মুল কমিটির
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিপন্ন প্রকৃতি ও আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে দেশব্যাপী রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি। আগামিকাল ১৭ মার্চ বিভিন্ন শাখা ১০০ ব্যাগ রক্তদান এবং ১০০টি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের সূচনা করবে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রূপনগর আবাসিক এলাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ব্রাঞ্চ-১-এ (কলেজ ক্যাম্পাস, রূপনগর সড়ক, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬, রোড নং ১০ ও ১১-এর সংযোগস্থলে)। মুজিববর্ষ উদযাপনকালে দেশে ও বিদেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সকল শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতা ও বিশ্বশান্তির প্রতি বঙ্গবন্ধুর অঙ্গীকারের আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করতে চায় সংগঠনটি।

এদিন বিকেল ৩টায় ১০০ ব্যাগ রক্তদান এবং শতবৃক্ষ রোপণ অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীগণ।
আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য প্রদান করবেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করবেন মুক্তিযুদ্ধে এস ফোর্সের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম, মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আকরাম আহমেদ বীরউত্তম, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টর সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহীদ সন্তান কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল, নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া ও নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর। 

 

শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কমিটি গঠন
                                  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। মোহাম্মদ আবদুস সালামকে সভাপতি ও দুলাল ছৈয়ালকে সাধারণ সম্পাদক, মোঃ ফারুক আলম রাড়ীকে সহ-সভাপতি এবং নাজমুল হুদা শামীমকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি রবিবার বিকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদি হাসান এ কমিটি ঘোষনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে- কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। 

পরবর্তীতে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সঙ্গে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় নির্ধারিত সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাবো পাশাপাশি শরীয়তপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

 

ফুলপুরে বিধবা ভাতার কার্ড পাননি ৭০ বছরের বৃদ্ধা
                                  

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৩নংভাইটকান্দি ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মোছাঃ আমিনা খাতুন(৭০),স্বীম মৃত হোসেন আলী। ৭০ বছর বয়সে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। হতদরিদ্র আমিনা খাতুন তার ভাগ্যে জুটেনি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড।

ভিক্ষাবৃত্তি আমিনা খাতুন বলেন,সরকারের কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা,বার বার সাহায্য চেয়ে প্রতিনিধির সহ সংশি¬ষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে।কোন মতে চলছে জীবন সংসার। অথচ আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ও সচছল মানুষরা বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সুবিধা ভোগ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। আর কত বয়স হলে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড পাব।

স্থানীয়রা জানান ,চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের টাকা দিলেই বয়স্ক,বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাওয়া যায়। এই ব্যাপারে ৫নংওয়ার্ডে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,আমার হাতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড আসলে দেওয়ার জন্য চেষ্ঠা করব।

 

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুরা নির্বাচন করতে পারে না?
                                  

 

 ডেস্ক রিপোর্ট :ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনকে ঘিরে দেশজুড়ে তুমুল প্রতিবাদ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনটির পক্ষে ব্যাপক যুক্তি দিয়ে চলেছেন।

গত শনিবার কর্ণাটকের হুবলিতে এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,

"আফগানিস্তানে বুদ্ধ মূর্তিকে টুকরো করা হয়েছে কামান দিয়ে।

হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘুদের আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি,

তাদের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নেই, শিক্ষার সুযোগ নেই।

হিন্দু, শিখ, জৈন,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা ভারতের এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে"।

আসলে নিজেদের করা আইনের পক্ষে বলতে গিয়ে অমিত শাহ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন আফগানিস্তান,

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে শিখ ও হিন্দুরা কিভাবে নির্যাতনের শিকার হয় ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

কিন্তু আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ভোট দেয়া বা নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার নেই?

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নির্বাচনী অধিকার

পাকিস্তানের সংবিধানের আর্টিক্যাল ৫১(২-এ) অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের দশটি আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত।

মোট ৩৪২টি আসনের মধ্যে ২৭২টিতে সরাসরি ভোট হয় সেখানে।

আর দশটি সংখ্যালঘুদের জন্য ও ৬০টি নারীদের জন্য।

দুভাবে সংখ্যালঘুদের পার্লামেন্টে যাওয়ার সুযোগ আছে পাকিস্তানে।

১. দশ সংরক্ষিত আসন দলগুলোর মধ্যে আসন অনুপাতে ভাগ হয়।

দলগুলো নিজেরা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে তাদের সংসদে পাঠায়।

২. আরেকটি উপায় হলো সংখ্যালঘু যে কেউ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

সেখানে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আছে।

নিজের আসনে যে কাউকে ভোট দিতে পারে সেখানকার সংখ্যালঘুরা। ভোটের অধিকারও সবার জন্য সমান।

এমনটি দেশটির সংবিধানেও সংখ্যালঘুদের প্রতি সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

তাই বলা যায় শুধু সংরক্ষিত আসনেই না, অন্য আসনেও চাইলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মহেশ মালানি, হরিরাম কিশোয়ারি লাল ও

জ্ঞান চাদ আসরানি সরাসরি আসনে নির্বাচন করেছিলেন পার্লামন্টে ও

প্রাদেশিক পরিষদে এবং তারা পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন।

হিন্দু ও শিখদের নির্বাচনী অধিকার কতটা আফগানিস্তানে?

দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতা মোকাবেলা করছে আফগানিস্তান। এখানেই ভিত্তি গড়েছিলো আল কায়েদা।

২০০২ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর হামিদ কারজাই প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

এরপর ২০০৫ সালে নির্বাচন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশটির জনসংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হেসেবে হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘু মাত্র এক থেকে দেড় হাজার।

সংসদের নিম্নকক্ষে ২৪৯টি আসন আছে যেখানে প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচিত হন।

সংখ্যালঘুরা তাতে অংশ নিতে পারেন।

তবে সেখানে নির্বাচন করতে একজন প্রার্থীকে ৫ হাজার ব্যক্তিকের সমর্থন দেখাতে হয় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়েই।

এই আইন সবার জন্য সমান তবে সংখ্যালঘু কারও এতো মানুষের সমর্থন যোগাড় করা কঠিন।

২০১৪ সালে আশরাফ গনির সরকার হিন্দু শিখদের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষে একটি আসন সংরক্ষণ করে।

সেসময় নারিন্দার পাল সিং সংসদে এসেছিলেন।

এর বাইরে উচ্চকক্ষেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে।

এখন দুজন এমপি আছেন সেখানে। প্রেসিডেন্ট তাদের মনোনীত করেছেন।

এর বাইরে সংখ্যালঘুরা নিজ আসনে যাকে খুশী ভোট দিতে পারেন।

তারা যে কোনো জায়গায় নির্বাচনও করতে পারেন যদিও ৫ হাজার লোকের সমর্থন যোগাড় করতে পারেন।

 বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্বাচন করতে পারেন

সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত নেই কিন্তু নারীদের জন্য ৫০টি আসন আছে।

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারীদের জন্য।

২০১৮ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগের সংসদেও সম সংখ্যক সংখ্যালঘু এমপি ছিলেন।

সংরক্ষিত আসন: ভারত ও পাকিস্তানে কতটা পার্থক্য

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণের ও উপজাতীয়দের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় আসন সংরক্ষনের বিধান আছে।

লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৭৯টি নিম্নবর্ণের ও ৪১টি টি উপজাতীয়দের।

রাজ্য সভাগুলোতে ৩ হাজার ৯৬১ টি আসনের মধ্যে এগুলো আছে যথাক্রমে ৫৪৩ ও ৫২৭।

এসব আসনে প্রার্থীও হবেন এ দুটি গোষ্ঠী থেকে।

এর মানে হলো ভারতে সংরক্ষিত আসন নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য, তবে ভোট দিতে পারবে সবাই।

দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেয় কিন্তু তাদের নির্বাচিত হওয়া নির্ভর করতে সবার ভোটের ওপর।

সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে গত দুইদিনে বাংলাদেশি নিহত-৫
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে গত দুইদিনে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তে গোলাগুলিতে

ওই তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

এতে আরও তিনজন বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে।

তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

পুরো ঘটনার খতিয়ে দেখে বিজিবি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির একজন ক্যাম্প কমান্ডার মোখলেসুর রহমান।

জানা যায়, আজ ভোরের দিকে ২০/২৫ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরছিল।

এ সময় ভারতীয় সীমান্তে কেদারিপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জওয়ানরা তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।

এতে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই তিন জন নিহত হন।

স্থানীয়রা দাবি করছেন তারা গরু ব্যবসার সাথে জড়িত।

তবে বিএসএফ বিভিন্ন সময়ে বলেছে, সীমান্তে নানা সময়ে যারা গুলিতে নিহত হয়,

মূলত তারা গরু পাচার ও চোরাকারবারের সাথে জড়িত থাকে।

এর আগে গতকাল, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ`এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার ভোরে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে উপজেলার বনচৌকি সীমান্তের কাছে

এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট –

১৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম তৌহিদুল আলম।

এই ঘটনায় প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ`র হাতে

বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুন বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী-

বিএসএফ`র হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ জন বাংলাদেশি।

এরমধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে।

অথচ এর এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৪ জন।

সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

বাইউস্ট’র পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে গত রোববার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) এর সহযোগীতায় বাইউস্ট অডিটোরিয়ামে, এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ে বিষদ ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনার উদ্বোধন করেন,

উপাচার্য প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এমসালজার হোসেন, এনডিসি, পিএসসি (অব:)।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেনরেজিস্ট্রার কর্নেল সুমন কুমার বড়ুয়া, পিএসসি (অব:),

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ফাতেমা জোহরা এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

সেমিনারে হালনাগাদ তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিআইসিএম রিসোর্স পারসনগণ

শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কৌশল, ঝুঁকি ও সম্ভাবনার দিক সমূহ আলোচনা করেন। বিজ্ঞপ্তি

ভোট গ্রহণের দিন পরিবর্তনে হিন্দু মহাজোট অভিন্দন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ৩০ জানুয়ারী সরস্বতী পুজার দিন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করায় প্রধান মন্ত্রী,

শিক্ষা মন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন এবং সকল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে অভিন্দন জানানো হয়েছে।

গত সোমবার জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়,

সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে ছুটির দিনেও

মিটিং করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

বিভিন্ন সূধীজন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রক মিডিয়া যে ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম ও

সহযোগীতা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকেছেন সেজন্য দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

দেশের হিন্দু সম্প্রদায় সব সময় এভাবেই দেশবাসীর ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করে।
হিন্দু মহাজোটের পক্ষে নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক,

প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, সাংগঠণিক সম্পাদক অধ্যাপক সুব্রত কুমার দাস,

মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডঃ প্রতীভা বাকচীসহ আর্ন্তজাতিক সম্পাদক বিজন সানা প্রমুখ সভায় বকত্ব্য রাখেন।

মজুদ গ্যাস ব্যবহার করা যাবে আর ১১ বছর
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন,

দেশে মজুদ গ্যাস ১১ বছর ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে দেশে ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদ রয়েছে।

গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য স্থানে গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকার মোহাম্মদ এবাদুল করিম।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান গ্যাস ক্ষেত্রসমূহ হতে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে।

এই হারে গ্যাস উৎপাদন অব্যাহত থাকলে উক্ত গ্যাস মজুদ (১০ দশমিক ৬৩) দ্বারা ১১ বছর ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাপেক্স ২০১৯-২০২১ সাল নাগাদ দুটি অনুসন্ধান কূপ,

২০২২-২০৩০ সাল নাগাদ ১৩টি অনুসন্ধান কূপ এবং ২০৩১-২০৪১ সাল নাগাদ ২০টি অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান,

বর্তমানে আমদানিকৃত এলএনজিসহ দেশে দৈনিক ৩ হাজার ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্যাপটিভ পাওয়ার শিল্প সারকারখানা সিএনজি গৃহস্থালী বাণিজ্যিক ও চা বাগান শ্রেণিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবাসিক খাতে গড়ে দৈনিক ৪৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাণিজ্যিক খাতে গড়ে দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকায় সারাদেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।

তবে সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝে মধ্যে বিদ্যুত বিভ্রাট ঘটে।

ভবিষ্যতে বিদ্যুতের উত্তরোত্তর চাহিদা বৃদ্ধি মোকাবেলা করার জন্য সরকার নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে নতুন ইতিহাস
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ১৫ দিন অর্থাৎ  ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের সাড়ে ৬ মাসে (২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি)

এক হাজার ৩০ কোটি (১০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

রেমিটেন্স প্রবাহের এ ইতিবাচক ধারায় রফতানি আয়ে ধাক্কার পরও

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শনিবার(১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স প্রবাহের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়,

২০২০ সালের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত ৯৬ কোটি (প্রায় ১ বিলিয়ন) ডলার এসেছে বাংলাদেশে।

এর আগে দেশের ইতিহাসে দুই সপ্তাহে এতো বেশি রেমিটেন্স আসেনি।

অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৯৪০ কোটি ৩৪ লাখ (৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল বাংলাদেশে।

যা ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।

২০১৯ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে গত ডিসেম্বরে।

এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিটেন্স পেয়েছে বাংলাদেশ ২০১৯ সালের মে মাসে।

 

প্রকৌশলী কে এম আনোয়ার হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন মহাপরিচালক
                                  

স্টাফ রিপোর্ট : প্রকৌশলী কে, এম, আনোয়ার হোসেন গত ৯ জানিুয়ারি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন।

এর আগে তিনি যৌথ নদী কমিশন এর সদস্য পদে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়াও তিনি বোর্ডে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন), প্রধান প্রকৌশলী, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বাপাউবো, সিলেট পদে কর্মরত ছিলেন।   

প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিএসসি-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং

১৯৮৯ সালে এআইটি, ব্যাংকক হতে স্নাতকোত্তর এমএসসি-ইন-ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ৩৬ বছর চাকুরী জীবনে তিনি পরিকল্পনা, নক্সা দপ্তরসহ মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে বাপাউবো’র নদী তীর সংরক্ষণ, সেচ,

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পে এবং যৌথ নদী কমিশনের বিভিন্ন কাজে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরিকালীন তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানী, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, মরক্কো,

অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৬১ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপ-জেলাধীন সিরাজনগর (নয়াচর) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।


   Page 1 of 32
     বিশেষ খবর
এ শূণ্যতা কখনো পূরন হবার নয়
.............................................................................................
৫০ দিনে ৪০ হাজার ক্ষুধার্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা
.............................................................................................
করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা
.............................................................................................
আজ বসছে পদ্মা সেতুর ২৭তম স্প্যান
.............................................................................................
যশোরের নারী এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান প্রত্যাহার
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবন আমাদের সবার অনেক বড় প্রেরণা - নরেন্দ্র মোদী
.............................................................................................
রক্ত ও গাছ রোপন করে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালন নির্মুল কমিটির
.............................................................................................
শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কমিটি গঠন
.............................................................................................
ফুলপুরে বিধবা ভাতার কার্ড পাননি ৭০ বছরের বৃদ্ধা
.............................................................................................
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুরা নির্বাচন করতে পারে না?
.............................................................................................
সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে গত দুইদিনে বাংলাদেশি নিহত-৫
.............................................................................................
বাইউস্ট’র পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ভোট গ্রহণের দিন পরিবর্তনে হিন্দু মহাজোট অভিন্দন
.............................................................................................
মজুদ গ্যাস ব্যবহার করা যাবে আর ১১ বছর
.............................................................................................
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে নতুন ইতিহাস
.............................................................................................
প্রকৌশলী কে এম আনোয়ার হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন মহাপরিচালক
.............................................................................................
বাস্তবায়নের আশ্বাসে পাটকল শ্রমিকদের কাজে যোগদান
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় `বহু বাংলাদেশি টাকার অভাবে টিকিট করতে পারেনি`
.............................................................................................
শেঙ্গেন ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, বাংলাদেশীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে
.............................................................................................
১৯ যুবককে ফেরত পাঠাল বিএসএফ
.............................................................................................
মহেশপুর সীমান্তে একসঙ্গে গরু-মানুষের প্রবেশ
.............................................................................................
দেশে বিমান চলাচল সবচেয়ে বিপদজনক
.............................................................................................
সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
.............................................................................................
ডিআরইউর নতুন সভাপতি আজাদ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ
.............................................................................................
অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে সতর্কাবস্থায় বিজিবি
.............................................................................................
মার্চ থেকে জুলাই বড় অপরাধ ঘটার সময়
.............................................................................................
আইজিপির প্রশংসায় দুদক চেয়ারম্যানের পত্র
.............................................................................................
স্বচ্ছতার প্রয়োজনে সকল নথি ডিজিটাল করা হচ্ছে -গৃহায়ণ চেয়ারম্যান
.............................................................................................
রিফাত হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি রিশান ফরাজী গ্রেফতার
.............................................................................................
সরকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে
.............................................................................................
নারী উদ্যোক্তা মেলায় এবারও সেরা ‘বিটি’
.............................................................................................
বিশ্ব নারী দিবসে ‘নারীর কথা’র মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান
.............................................................................................
নিউইয়র্কে ইডিপি’র বর্ণাঢ্য চতুর্থ বর্ষ উদযাপিত
.............................................................................................
বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, শরীয়তপুরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
বৃহস্পতিবার জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
৯ বছর পর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল
.............................................................................................
গাইবান্ধা পবিস জি.এম পানা উল্যাহ এখন গ্রাম-গঞ্জে আলোর ফেরিওয়ালা
.............................................................................................
অদম্য মেধাবীদের কথা! ওদের পন্থা হতে পারে ধনী রাস্ট্র গড়ার পদ্ধতি!
.............................................................................................
দ্বীপাঞ্চল স›দ্বীপ আলোকিত হল শেখ হাসিনার হাত ধরেই
.............................................................................................
সেনা প্রধানকে সৌদি সরকারের সম্মাননা
.............................................................................................
এবারে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা জামায়াতে অংশ নেবেন
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশের যেসব চাওয়া
.............................................................................................
ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
৮৭ উপজেলায় ভোট ১০ মার্চ
.............................................................................................
সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত
.............................................................................................
৩৩৯ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
.............................................................................................
বইমেলার পর্দা উঠছে কাল
.............................................................................................
অবিলম্বে কৃষিজমি সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের দাবি
.............................................................................................
মানবসেবায় আদম তমিজি ও মানবিক ঢাকা
.............................................................................................
এম পি ফুলবাড়ীতে আসবেন তাই দাড়িয়ে আছি রাস্তায়
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD