ঢাকা,মঙ্গলবার,৬ ভাদ্র ১৪২৮,২০,এপ্রিল,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > অসহায় ও ছিন্নমূলদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ   > মেহেরপুরে লকডাউন মানছে না কেউ   > দাগনভূঞায় আয়েশা ডেইরি ফার্মের সফল উদ্যোক্তা তুহিন   > তীব্র তাপদাহে পুুড়ছে বাগাতিপাড়া   > সখীপুরে অবাধে কাটা হচ্ছে টিলা   > ‘লকডাউনের আগে থেকেই শুটিং করছি না’   > ফুটবলার পগবাকে নিয়ে চলচ্চিত্র   > কুড়িগ্রামে বাজারে অগ্নিকান্ড প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি   > কুমারখালীতে বাজার মনিটরিং কমিটির অভিযান   > ভারতে করোনায় একদিনে আক্রান্ত আড়াই লাখ, মৃত্যু দেড় হাজার  

   বিশেষ খবর -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সখীপুরে অবাধে কাটা হচ্ছে টিলা

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : সখীপুরে অবাধে চলছে লাল মাটির পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এসব পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। তাছাড়া পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও নিচু জমি। বিভিন্ন ফসল ও সবজি আবাদের নাম করে কিংবা বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ২০-৩০ ফুট উঁচু টিলা কেটে সমতলভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের নাকশালা গ্রামের উজ্জল মিয়া ইতোমধ্যে টিলার বিশাল আকৃতির দুটি গাছ ও মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রতি বছর চলে পাহাড়ি টিলা কাটার ধুম। একইভাবে এ বছরও লাল মাটির উচু টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে অনেকটাই সমতলভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায় উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের নাকশালা বাজারের ২০০ গজ পূর্বে ৩০ ফুট উঁচু বিশাল আকৃতির একটি টিলা কেটে মাটি বিক্রি করার দৃশ্য। স্থানীয়রা বলছেন, ইতোমধ্যে টিলা কেটে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে উজ্জল গংরা মিলে ছোটো-বড়ো লাল মাটির অনেক পাহাড়-টিলাসহ বন বিভাগের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলে এলাকাবাসী জানান। বন বিভাগের সংরক্ষিত জমিতে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও এ ব্যাপারে বন বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। সরেজমিন দেখা গেছে শুধু দাড়িয়াপুর নয়, উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামে গিয়েও দেখা যায় বন বিভাগের উচু জমি কেটে পুকুর তৈরি ও পাহাড় কাটার দৃশ্য। উপজেলার প্রতিমাবংকী এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ বনের জমি গর্ত করে পুকুর তৈরি ও মাটি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায় ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আ. ছালাম অর্থের বিনিময়ে প্রতিমা বংকী মৌজায় বনের উচু জমি থেকে প্রথমে গাছ কেটে পরিস্কার করে পরে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন। উপজেলার ভেকু ও মাটি ব্যবসায়ী বাদল ও মোস্তফার সহায়তায় বনের পাহাড়ী উঁচু জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিচু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সালমা ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক আ. ছালাম।
এবিষয়ে আ. ছালাম বলেন মাটি ব্যবসায়ী বাদল ও মোস্তফা সকল জামেলার দায়িত্ব নিয়েছেন, এখন যে এতো জামেলা হবে তা তো বুঝিনি।
কৈয়ামধু বিট কর্মকর্তা বলেন, বনের গাছ আগে কাটতে পারে। তবে ভেকু দিয়ে বনের জমি থেকে মাটি কাটার খবর পেয়ে ওই মাটি কাটা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে দীর্ঘদিন মাটি কাটার পর কাজ বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ওই বিট কর্মকর্তা। যাদবপুরের উজ্জল মিয়াকে বনের জমিসহ অন্যান্য জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান। পরে উজ্জল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন তহশিলদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে বাধা দিয়েছিলাম।
টিলা হলেও জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বাধা দিলেও তারা মানেন না। দেওপাড়া বিটের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘পাহাড় বা টিলা রক্ষা করার দায়িত্ব ইউএনওর আর বন রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। ওই জায়গাটি বন বিভাগের কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’ ইউএনও বলেন, পাহাড় যদি কোনো ব্যক্তির হয় তাহলেও কাটতে পারবেন না। এ রকম যদি কেউ কেটে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সখীপুরে অবাধে কাটা হচ্ছে টিলা
                                  

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : সখীপুরে অবাধে চলছে লাল মাটির পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এসব পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। তাছাড়া পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও নিচু জমি। বিভিন্ন ফসল ও সবজি আবাদের নাম করে কিংবা বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ২০-৩০ ফুট উঁচু টিলা কেটে সমতলভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের নাকশালা গ্রামের উজ্জল মিয়া ইতোমধ্যে টিলার বিশাল আকৃতির দুটি গাছ ও মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রতি বছর চলে পাহাড়ি টিলা কাটার ধুম। একইভাবে এ বছরও লাল মাটির উচু টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে অনেকটাই সমতলভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায় উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের নাকশালা বাজারের ২০০ গজ পূর্বে ৩০ ফুট উঁচু বিশাল আকৃতির একটি টিলা কেটে মাটি বিক্রি করার দৃশ্য। স্থানীয়রা বলছেন, ইতোমধ্যে টিলা কেটে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে উজ্জল গংরা মিলে ছোটো-বড়ো লাল মাটির অনেক পাহাড়-টিলাসহ বন বিভাগের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলে এলাকাবাসী জানান। বন বিভাগের সংরক্ষিত জমিতে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও এ ব্যাপারে বন বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। সরেজমিন দেখা গেছে শুধু দাড়িয়াপুর নয়, উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামে গিয়েও দেখা যায় বন বিভাগের উচু জমি কেটে পুকুর তৈরি ও পাহাড় কাটার দৃশ্য। উপজেলার প্রতিমাবংকী এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ বনের জমি গর্ত করে পুকুর তৈরি ও মাটি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায় ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আ. ছালাম অর্থের বিনিময়ে প্রতিমা বংকী মৌজায় বনের উচু জমি থেকে প্রথমে গাছ কেটে পরিস্কার করে পরে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন। উপজেলার ভেকু ও মাটি ব্যবসায়ী বাদল ও মোস্তফার সহায়তায় বনের পাহাড়ী উঁচু জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিচু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সালমা ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক আ. ছালাম।
এবিষয়ে আ. ছালাম বলেন মাটি ব্যবসায়ী বাদল ও মোস্তফা সকল জামেলার দায়িত্ব নিয়েছেন, এখন যে এতো জামেলা হবে তা তো বুঝিনি।
কৈয়ামধু বিট কর্মকর্তা বলেন, বনের গাছ আগে কাটতে পারে। তবে ভেকু দিয়ে বনের জমি থেকে মাটি কাটার খবর পেয়ে ওই মাটি কাটা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে দীর্ঘদিন মাটি কাটার পর কাজ বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ওই বিট কর্মকর্তা। যাদবপুরের উজ্জল মিয়াকে বনের জমিসহ অন্যান্য জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান। পরে উজ্জল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন তহশিলদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে বাধা দিয়েছিলাম।
টিলা হলেও জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বাধা দিলেও তারা মানেন না। দেওপাড়া বিটের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘পাহাড় বা টিলা রক্ষা করার দায়িত্ব ইউএনওর আর বন রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। ওই জায়গাটি বন বিভাগের কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’ ইউএনও বলেন, পাহাড় যদি কোনো ব্যক্তির হয় তাহলেও কাটতে পারবেন না। এ রকম যদি কেউ কেটে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম বিনষ্ট
                                  

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর অভিযোগে আম জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দকৃত ৪৯ ক্যারেট আম বিনষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার ডাকবাংলা মোড়ে পিক-আপের চাকায় পিষে খাওয়ার অনুপযোগী এসব আম বিনষ্ট করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম, কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল বারী সফু প্রমূখ। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, কাঁচা আম বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাতকরণের প্রচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় বুধবার রাতে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামের মৃতত মনিরউদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহম্মেদের বাড়ি থেকে আমগুলো জব্দ করে পুলিশ। তা খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে বিনষ্ট করা হয়েছে। অপরদিকে, স্থানীয়রা জানান, মোস্তাকসহ চারজন প্রতি বছর অপরিপক্ক কাঁচা আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করে আসছে। রমযান মাসে এরকম কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম যাতে বাজারজাত ও বিক্রয় হতে না পারে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ও আবেদন করেছেন তারা। এবং এর সাথে যারা যুক্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ও দাবী জানান স্থানীয়রা।

বেনাপোলে বন্দরে ২০ হাজার মানুষ করোনা ঝুঁকিতে
                                  

বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল বন্দরে ২০ হাজার ট্রাক চালক, হেলপার ও বন্দর শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষ করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দুই দেশের পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক চালকদের মধ্যে নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা। এতে সংক্রমণ ঝুঁকিতে পড়েতে পারেন বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পণ্য খালাসের শ্রমিকসহ প্রায় ২০ হাজার কর্মজীবী মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, যেহেতু ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব ট্রাক চালকেরা দেশের বেনাপোল বন্দরে আসছেন, বাংলাদেশের চাইতে ভারতে করোনা সংক্রমণের হার বেশি। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করা খুব জরুরি। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরেজমিনে শনিবার বন্দর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ভারত অংশে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল থাকলেও বাংলাদেশ অংশের পণ্য প্রবেশদ্বারে ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ও চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোনো সামাজিক দূরত্ব নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় অবাধে মাস্ক-পিপি ছাড়া চলাফেরা করছেন ভারত ও বাংলাদেশি ট্রাক চালকেরা। দেখা করছেন স্থানীয়দের সঙ্গে। তবে কারো কাছে মাস্ক বা পিপি থাকলেও তা ঠিক মতো ব্যবহার করছেন না। কারো মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছে গলায়। আবার কারো কাছে পিপি থাকলে তা রয়েছে গাড়িতে। এমনটি বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরাও অনেকে দায়িত্ব পালন করছেন মাস্ক ছাড়া। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জানা যায়, দেশ জুড়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সরকার সাতদিনের টানা লকডাউন ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোরতম লকডাউনের ঘোষনা এসেছে সরকারের তরফ থেকে। তবে এ লকডাউনের মধ্যে দেশের শিল্প কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় বেনাপোল বন্দর লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে রেল ও স্থলপথে বেনাপোল-পেট্রাপোল দুই দেশের মধ্যে চলছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য বহনকারী ভারত ও বাংলাদেশি ট্রাক চালকেরা জানান, বেনাপোল বন্দরে এখন আর কেউ ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করে না। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয় না। তবে সুরক্ষার জন্য ট্রাক চালকদের মাস্ক, পিপি পরা উচিত। কিন্তু কেউ কিছু বলে না বলে পরা হয় না।
বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি কলিম উদ্দিন জানান, প্রতিদিন বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি ও রফতানি পণ্য পরিবহনের কাজে প্রায় দেড় হাজার ট্রাক চালক দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। শ্রমিকরা এসব পণ্য খালাস করছে। বন্দরে করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ২০ হাজার অসহায় শ্রমিকরা পড়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে।
বেনাপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুজজামান জানান, আগে করোনা সংক্রমণ রোধে রেলষ্টেশনে বন্দরের পক্ষে স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা কাজ করতেন। এখন আর কেউ আসে না। তবে নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।

গয়েশপুর-ডুবাইল সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, জনদুর্ভোগ
                                  

ময়মনসিংহ ব্যুারো : ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অন্তর্গত গয়েশপুর-ডুবাইল সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারও মানুষ। যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ব্রিজটির মাঝখানে গর্ত থাকায় যানচলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও ব্রিজের পূর্ব পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়ার ফলে হাজারো মানুষের দূর্ভোগের যেনো শেষ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর বটতলা থেকে বড়াই, ডুবাইল হয়ে উদঘাটা সংযোগ সড়কের পিঠাগুড়ী খালের উপর ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে গর্ত দেখা দিয়েছে। সেই সাথে ব্রিজের মাঝখানে বড় একটা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েকটি ইউনিয়নের যানবাহন সহ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও হাজার হাজার পথচারী চরম উৎকন্ঠায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। তাই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুবা এতে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। এসময় চালক লোকমান হোসেন জানান, ব্রিজে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই কঠিন ও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। অটোরিকশা চালক বেলাল উদ্দিন জানান, প্রায়ই এ ব্রিজে অটোরিকশা উল্টে গিয়ে যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হলেও দীর্ঘদিনেও প্রতিকার মিলছে না। এ ব্যাপারে পাইথন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান ঢালী জানান, আমি ব্রিজটি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য আশ্বস্ত করেছেন। জানা যায় ১৯৮৪ সালে এই ব্রিজটি নির্মিত হয়েছিল।এর পরে আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি।

আদৌ তাদের পাওনা পাবেন কি না!
                                  

এফ রহমান রূপক : দোহার প্রজেক্টের মূল ভূমি মালিকরা হতাশ আদৌ তাদের পাওনা পাবেন কি না! দোহার উপজেলার কৃষ্ণদেবপুর মৌজায় নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বি.বি.এল.বি.টি.সি.এম.এল.বি জেভির নিকট থেকে বছরে ১৫ লাখ টাকা এখনও বুঝে না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগীরা। ৭ বিঘা, ২৫ ই.সি.বি এর নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ঠিকাদারী কাজের মালামাল তৈরীর যাবতীয় সরঞ্জাম ও কার্যাদী ভুক্তভোগীদের ভূমি ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে নিজের ভূমি বলে দাবী করে কোম্পানীর সঙ্গে লিখিত চুক্তি করে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি মূল মালিকরা জানতে পারলে তারা চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, দোহার আর্মি ক্যাম্প ইনচার্জ এবং উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কয়েকজন ভূক্তভোগী এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘আমাদের নিজস্ব ভূমি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা গোপনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিজের জমি বলে টাকা আত্মসাত করেছে। আমরা বিষয়টি জেনে কোম্পানীকে আমাদের কাগজপত্র দেখালে তারা পরবর্তী বছরের (১৫ লাখ) টাকা আলাউদ্দিন মোল্লাকে না দিয়ে আটকে দেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেন যে, আপনারা যদি প্রকৃত ভূমি মালিক হয়ে থাকেন তাহলে চুক্তি অনুযায়ী উক্ত ১৫ লাখ টাকা আপনারা ফেরত পাবেন এবং যতোদিন কোম্পানী থাকবে ততোদিন আপনারাই এ টাকা পেতে থাকবেন।
কৃষ্ণদেবপুর মৌজায় আমাদের আর,এস দাগ নং ৮৬৩, ৮৬৬, ৮৬৭, ৮৬৮, ৮৬৯, ৮৭০, ৮৭১, ৮৭২, ৮৭৩ ও ৮৭৬। এই দাগে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার কোন ভূমি নেই। জাল জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এরকম একটি অপরাধমূলক কাজ আমাদের সঙ্গে করেছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে দোহার প্রজেক্টে আমাদের ব্যবহারকৃত ভূমির ক্ষতিপুরণ অনেক আগেই ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে ঘুরাচ্ছেন। আমরা চাই আমাদের জমির মূল পাওনা মালিকপক্ষ অল্প সময়ের মধ্যেই পেতে পারি সেই ব্যবস্থা সরকার করবেন।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বলেন, আমি সকল দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করেছি। খুব শীঘ্রই রিপোর্ট পেশ করবো।

মোরেলগঞ্জে ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমে আসক্ত শিক্ষার্থীরা
                                  

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের কবলে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষ র্থীরা পড়ার টেবিল ছেড়ে আধুনিক স্মার্ট মোবাইলে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ খেলায় আসক্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা বাধা দিলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহলস্নায় এ দৃশ্য নিত্যদিনের। বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জ মিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। পাড়া-মহলস্নায় উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও অনলাইন গেম খেলার দৃশ্য চোখের পড়ার মতো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব কর্মকান্ডের মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে গ্যাং গ্রুপ। শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল ও খেলাধুলার মাঠ ছেড়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মকান্ডে তাদের সময় পার করছে। ইমো, ভাইবার, টুইটার ও হোয়াটস অ্যাপে নতুন নতুন ছবি আপলোড ও চ্যাটিং করে সময় নষ্ট করছে। তৈরি করছে টিকটক ভিডিও। এই কাজে ছাত্রীরাও পিছিয়ে নেই। সারাদিন এমনকি রাত জেগে ইন্টারনেটে খেলছে ফাইটিং ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো নেশা ধরা গেম। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্কুল, কলেজপড়ুয়ারা মোবাইলে এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, যা মাদকের চেয়ে ভয়ংকর। বিকালের সময় মোরেলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ অঞ্চলে দেখা গেছে কিশোররা ইন্টারনেটে ফ্রি ফায়ার গেম নিয়ে পড়ে আছেন। যাদের বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখাসহ শিক্ষা পাঠ গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়ে নেশায় পরিণত করছেন।
উঠতি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন সচেতন মহল। একজন অসচ্ছল পরিবারের সন্তান ডায়মন্ড ও ইউসি কেনার টাকা যোগান দিতে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে। মাদক বিক্রয় ও কিছু টাকার বিনিময়ে মাদক সেবিদের কাছে মাদক পৌছে দেওয়া তার মধ্যে অন্যতম মাধ্যম। কোমল মতি শিশুদের ১০/২০ টাকা জমিয়ে যেখানে ক্রিকেট বল ফুটবল কেনার কথা, সেখানে তারা টাকা জমিয়ে রাখছে ইউসি/ ডায়মন্ড কেনার জন্য। ফায়ার গেমসে অনুরাগীরা জানান, ‘প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন। এখন গেমস না খেলে তাদের অস্বস্তিকর মনে হয় বলে জানা যায় । আরেক জন ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জানায়, ‘তিনি পূর্বে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতেন না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলেন তিনি। মাঝে মধ্যে গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার। তিনি আরো বলেন, ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে সে আর ছাড়তে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি। গেম খেলায় ফোনে মেগাবাইট কিনতে খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই গেম যখন বিনোদন নেওয়ার জন্য খেলতাম তখন মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মেগাবাইট খরচ হতো। মেগাবাইট ছাড়া অন্য কোনো খরচ ছিল না। ধীরে ধীরে যখন এটা ভালো লাগে তখন প্রতিটা ইভেন্টে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ না করলে যেন হয় না। গেমটিতে পুরোপুরিভাবে মনোযোগ দিয়ে যখন খেলি তখন দেখি গেমের ভেতরে এমন কিছু জিনিস আছে যেগুলো না কিনলে নয়। যেমন অলকের দাম ৪০০ টাকা, একটা জার্সি ৩০০ টাকা, নতুন ইভেন্টে আসলেই ২০০০ টাকার নিচে খরচ না করলে হয় না। সম্পূর্ণ ড্রেস কিনতে লাগে ১২০০ টাকা।
একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে অনেকেই বলেন, ‘অলস মস্তিষ্কে শয়তানের বাসা বেঁধেছে’ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এভাবে স্কুল, কলেজ বন্ধ না রেখে সামাজিক দূরত্ব মেনে সপ্তাহে গ্রম্নপ আকারে তিন দিন ক্লাস নেওয়া হলে এমন খেলা করার সময় পেত না অনেকেই। সে জন্য একাধিক অভিভাবক ক্লাসভিত্তিক গ্রম্নপ করে সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। স্কুল চালু করা না হলে শিক্ষার্থীরা গেম খেলার চেয়েও সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, আমাদের অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম, কিন্তু এখনকার যুগে তরুণ প্রজন্মের সন্তানদের দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। উপজেলার গ্রামগঞ্জে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রম্নপ গেম এখন মহামারি আকার ধারণ করছে। ইয়ং জেনারেশন এখন ফ্রি ফায়ারের দিকে আসক্ত। যেটা কিনা একটা অনলাইন গেম সেখানে গ্রম্নপিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার আসর তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পেলেই যথারীতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে।উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান।

মির্জাগঞ্জে আয়রন ব্রিজ এখন মরণ ফাঁদ
                                  

মো. আ. রহিম সজল, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কিসমত শ্রীনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নাপিতখালী খালের উপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজটি সংস্কারের অভাবে অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সিমেন্টের ঢালাই দেয়া স্লিপারগুলোর বেশির ভাগই ভেঙে গেছে, ক্রস অ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরে ব্রিজটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্রিজ দিয়ে পারাপারের সময় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিপাকে পড়ছেন অটোবাইক, মোটরসাইকেল, টেম্পো, রিকশা, ভ্যানসহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাহনের যাত্রীরা। ব্রিজটির এমতাবস্তায় গত ২১ই মার্চ (রবিবার) এলাকাবাসীর উদ্যোগে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রীজে স্লাবের পরিবর্তে কাঠের পাটাতন ও মরিচা ধরে ক্রস অ্যাঙ্গেলগুলো ভেঙ্গে গিয়ে ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেধে চলাচলের উপযোগী করে তোলে। স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০ বছর আগে নাপিতখালী খালের ওপর এ আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করে। বর্তমানে এ ব্রিজটি সংস্কারের অভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ব্রিজটি পাড় হয়ে এলাকার অসংখ্য কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে নিয়ে যায়। ব্রিজটির এমতাবস্থায় কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভােগান্তির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের। ব্রীজটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন দাবী জানিয়ে এলেও তা পূরণ না হওয়াতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শুভ জানান, এই ব্রিজটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো। তাদের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় ছাত্রলীগ। মাধবখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাে.মনিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, এ ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক লোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ব্রীজটি অতিদ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার প্রয়ােজন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিবেন। উপজেলা প্রকৌশলী শেখ আজিম উর রশিদ বলেন, জরাজীর্ণ এ ব্রিজটি খুব দ্রুত পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

টাঙ্গাইলের একতা টাওয়ার হতে পারে রানা প্লাজা
                                  

অলক কুমার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের গণপূর্ত ভবনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবালিয়ায় “একতা টাওয়ার” নামে ১৮ তলা ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা মানছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্মাণাধীন ভবনটিতে যে কোন সময় ঘটতে পারে আরো একটি রানা প্লাজা অধ্যায়। এদিকে অনুমোদনবিহীন অপরিকল্পিতভাবে বেজমেন্টের কাজ শুরু করার কারণে জাতীয় মহাসড়কের ৪র্থ কি.মি. অংশে মূল সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ০১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিসি কমিটিকে লিখিতভাবে জানান। পরবর্তীতে ০৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সুউ”চ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির সদস্য সচিব সকল প্রকার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভবন কর্র্তৃপক্ষকে লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু সকল নির্দেশ অমান্য করে গত ০৫ মার্চ ভবনের বেজমেন্ট ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেন ভবন কর্তৃপক্ষ। গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ভবন কর্তৃপক্ষকে দেয় চিঠির সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য। এদিকে ভবন কর্তৃপক্ষ জানান, ভবনের নকশা, সড়ক ভবনের অনুমোদন পত্র, গণপূর্ত অনুমোদন পত্র, সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন ভবন কর্তৃপক্ষ। তবে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে সাত তলা ভবন নির্মাণের একটি অনুমোদন দেখান নির্মাতারা। টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র জামিলুর রহমান মিরন অনুমোদনের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এছাড়াও ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও রাস্তার প্রশস্ততার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যা গণপূর্ত বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনে ২৩ মিটার বা ৭৫ ফুট রাস্তা দেখালেও বাস্তবে ৫৫ ফুট রাস্তা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সড়ক বিভাগের জরিপ শাখা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. আলিউল হোসেন জানান, একতা টাওয়ারের নির্মাণ কাজের ফলে রাস্তায় ফাটল দেখা দিলে বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা রাস্তার পরিমাপ করেছি অনুমোদনের জন্য দেয় তথ্য মোতাবেক প্রশস্ত রাস্তা এখানে নাই। বিষয়টি বিসি কমিটিকেও জানানো হয়েছে। এবিষয়ে টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সুউ”চ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির সদস্য সচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলাম জানান, কাজ বন্ধের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। তারপরও যদি তারা কাজ চলমান রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নির্মান আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও সুউ”চ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির সভাপতি ড. মো. আতাউল গনি জানান, আমরা এই ভবনটি নির্মাণের অনুমোদন দেইনি। আমরা কোন অবৈধ কাজে উৎসাহ দিবনা। অবৈধ কাজে সম্পৃক্তও হবো না। একতা টাওয়ার কর্তৃপক্ষ যদি অনুমোদন ব্যতিরেকে ভবনের কাজ করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঠোংগা বানিয়ে সফল অর্ধ শতাধিক নারী
                                  

মাজাহারুল ইসলাম চপল, রাজশাহী ব্যুারো : রাজশাহীর বাঘায় সমাজের অসহায় নারীরা তৈরী করছেন কাগজের ঠোংগা। এতে ফিরে এসেছে তাদের সাংসারিক স্বচ্ছলতা। মশিদপুর গ্রামের প্রায় ৫০ জন নারী কাগজের ঠোংগা তৈরী করছে সংসারের কাজের পাশাপাশি। এ সমস্ত হতদরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বাবুল হোসেন নামের এক যুবক। অসহায় জীবনের গল্প শোনালেন বেশ কিছু অসহায় নারী। যারা এখন সকলেই সাংসারিক ভাবে স্বাবলম্বি।
এ সব ঠোংগা তৈরীতে পূর্বে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না তাদের।পার্শ্ববর্তী খায়েরহাট গ্রামের বাবুল হোসেন কয়েক বছর আগে এই গ্রামে ছোট একটি রুম ভাড়া নিয়ে নিজেয় তৈরী করত কাগজের বিভিন্ন আকারের ঠোংগা। আস্তে-ধীরে জিনিসটা সারা ফেলে এলাকায়। আগ্রহী হয় দুই এক জন অসহায় নারী। বাবুলের শেখানো নিয়মে তৈরী করতে থাকেন ঠোংগা। এই গ্রামে এখন প্রায় ৫০ জন নারী ঠোংগা তৈরীর কাজ করছে। এসব মহিলারা প্রতি মাসে প্রায় ৫-৬ মন ঠোংগা তৈরী করতে পারে সংসারের কাজের পাশাপাশি। তাদের ঠোংগা তৈরীর কাচামাল (কাগজ, আঠা, দড়ি) সরবরাহ করে ঠোংগা ব্যবসায়ী বাবুল। প্রতি মন ঠোংগা তৈরী জন্য কমিশন দেওয়া হয় ৩৫০ টাকা। যা মাস শেষে প্রায় দুই হাজার টাকায় এসে দারায়। যা দিয়ে তার সংসার চলছে। বাঁচতে পারছেন আত্ম সম্মান নিয়ে।
বিমলা বেগম জানান, এখানে যারা কাজ পেয়েছেন তারা সকলেই অসহায় হতদরিদ্র আগে তাদের মত মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকাসহ দেশের দুরদুরান্তের গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন কলকারখানায় যেতে হতো। কিন্তু এখন সংখ্যায় কম হলেও তারা বেশ কিছু মহিলা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন। সহিদা বেগম জানান, সমাজে তার মত অসহায় মেয়েদের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু শত অভাব অনটনের মধ্যেও অনেকে কাজ করতে এলাকা ছেড়ে দুরে কোথাও যেতে পারেন না। যে কারণে সরকারী উদ্যোগে অথবা বিত্তবান লোকেরা যদি এমন মফস্বল পর্যায়ে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তাহলে অসহায় নারীদের কর্মসংস্থান হবে। তাদেরকে অন্যের ঘাড়ের বোঝা হতে হবে না। ঠোংগা ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, এখানে যারা কাজ করেন তাদের কাজ খুব প্রয়োজন ছিল। তারা সকলেই মনে করেন প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলে তাদের কাজ থাকবে। ফলে তারা নিজেদের সংসারের কাজের মত যত্নশীলভাবে কাজ করেন। আমি তাদের সারবিক সহায়তা করে থাকি। এছাড়াও এখানে যারা কাজ করে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই সমাজের অসহায় নারী।

রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন : ১১ জনের লাশ উদ্ধার
                                  

সাজ্জাদ সুমন : কক্সবাজারের এবারই ভয়াবহ আগুনে রোহিঙ্গা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই শিশুসহ ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফায়ারম্যান আরশাদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকালও যেখানে ঘর ছিল, বসতি ছিলো সেখানে এখন কিছুই নাই। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বেলা তিনটার দিকে বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে শিবির লাগোয়া ৮-ডব্লিউ ও এইচ, ৯ ও ১১ নম্বর শিবিরেও। রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে আগুনের ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা পুড়ে ছাই হওয়া সেই বাসস্থানে ফিরে আসছেন। দলে দলে পরিবারসহ ফিরছেন পুরোনো ঠিকানায়। অনেকেই নতুন কাঠ, বাস নিয়ে ফিরছে নতুন বাসস্থান তৈরির আশায়। এছাড়া আহতদের সেবা দিচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের বাড়িঘর ও খাবারসহ সব পুড়ে গেছে। আমরা পরিবারসহ খোলা আকাশের নিচে ছিলাম। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পুড়ে যাওয়া স্থানেই ফিরেছি। ক্ষতিগ্রস্ত আরেক রোহিঙ্গা বলেন, বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ায় পরিবারসহ পাশের ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছিলাম। সকালে আবারও পরিবারসহ এখানে এলাম। এ ঘটনায় স্বজন হারানো এক রোহিঙ্গা বলেন, “আমাদের আত্মীয়ের মধ্যে দুইজন শিশু মারা গেছে বলে জেনেছি। তার মধ্যে একজন আড়াই বছর বয়সী মুশরফা, আরেকজন সাড়ে তিনবছর বয়সী তসলিমা।”

কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলে ছাদ বাগানের আগ্রহ বাড়ছে ভবন মালিকদের
                                  

লাকসাম প্রতিনিধি : কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে নানান ধরনের ফল-ফলাদি ও ঔষুধি গাছ বপনে ছাদ বাগানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের ভবন মালিকদের। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ইট-কাঠের চাঁপে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার সবুজ বাগান। সবুজে ভরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘিরে বেড়ে উঠা নাগরিক সমাজের একটি অংশ সবুজ বাগান ধরে রাখতে চায়। দালান-কোঠার আবাসস্থল এলাকার সৌখিন মানুষরা একান্ত নিজস্ব ভাবনা আর প্রচেষ্টায় ভবনের ছাদে শাক-সবজিসহ নানান ধরনের ফল-ফলাদির গাছ বপন করে তৈরি করছেন ছাদ বাগান। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এছাদ বাগান শুধুই সবুজ উপকরণ ধারন করে ক্ষান্ত হয় না, এলাকার পরিবেশ ও মানবদেহে পুষ্টি জোগাতে অন্যতম সহযোগিতার উৎস্য হিসেবে কাজ করে থাকে। ছাদ বাগান তৈরির প্রয়াস এখন শুধু ভবনের আবাসস্থলেই সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে নানাহ কর্মস্থল ও বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায়। পৌরশহরের বেশি ভাগ ভবনের ছাদে এ সবুজ বাগান চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে তার চর্চা অনেক কম। ছাদ বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে ফুল, ফল আর নানান ধরনের সবজি গাছ। অপরদিকে বর্তমান সরকার ইতি মধ্যে ছাদ বাগান মালিকদের উৎসাহ জোগাতে হোল্ডিং টেক্স কমানো এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন। পৌর শহরের ভবন মালিকদের একাধিক সূত্র জানায়, সখের মৌহে এ ছাদ বাগান তৈরি করছি আমরা। কীটনাশক ও ভেজালমুৃক্ত সবজি এবং ফল ফলাদি উৎপাদন করাই আমাদের লক্ষ্য। এ ছাদ বাগান থেকে ফল-সবজি পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা খাচ্ছি। এতে কোন ভেজাল কিংবা রাসায়নিক দ্রব্যের কোন মিশ্রন নেই। এক একটি ভবনের ছাদে সবজির পাশাপাশি প্রায় ৬০/৬৫ প্রজাতির ফুল ও ফল গাছ রয়েছে। পুরো বছর জুড়ে এছাদ বাগানের নানান ধরনের সবজি- ফল আমরা খেয়ে আসছি। যার কোন কমতি নেই। তবে কিছু কিছু ফল ও সবজি বাজারে বিক্রি করেও কিছু টাকা আয় হয়। ওই সূত্রটি আরও জানায়, এ অঞ্চলের প্রতিটি ভবনের ছাদে এ ধরনের ছাদ বাগান তৈরি করলে মানব দেহের পুষ্টির জোগানসহ এলাকার নানাহ পরিবেশ দূষনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। বেশ ক’টি ভবনের ছাদ বাগানে দেখা য্য়া সবজির মধ্যে পুদিনা, ধনিয়া, টমেটো, লাল শাক, পালং শাক, চুয়াই, মূলা, মরিচ, পেয়াজ, শসা, করোলা, শীম, ঝিঙ্গা এবং ফল-ফলাদির মধ্যে আম, পেয়ারা, পেঁপে, লেবু, মাল্টা, কমলা, তেজপাতা, জাম্বুরা, কাঠালসহ নানান ধরনের গাছ ও ফুলের মধ্যে গাঁধা, ডালিয়া, সূর্যমুখি, গোলাপ।

মরে যাচ্ছে বারনই নদী
                                  

মাজহারুল ইসলাম চপল, রাজশাহী ব্যুরো : অব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা হারিয়ে ধংসের পথে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহি বারনই নদী। তার উপর শহরের বর্জ্য ও দুষিত পানি নদীটিকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে ফেলছে। রাজশাহীর ৯টি নদীর মধ্যে এই নদীটি অন্যতম একটি। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দিয়ে বয়ে গেছে দেশের একটি বড় নদী পদ্মা। অবশ্য পদ্মার সঙ্গে তার কোনো তুলনা করা যাবেনা, কারণ হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে পদ্মার উৎপত্তি হয়েছে। আর বারনইয়ের উৎপত্তি হয়েছে নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ের একটি বিল থেকে। তানোর উপজেলার মধ্য দিয়ে শিবনদী নাম ধারণ করে পবা উপজেলার বাগধানী এলাকায় এসে সে বারনই নাম ধারণ করেছে। নদীটি রাজশাহী থেকে নাটোরের আত্রাই নদে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য বড়জোর ৫০ কিলোমিটার, আর গড় প্রস্থ প্রায় ১০০ মিটার হতে পারে। এই নদীটিতে বারো মাস পানি থাকে বলে এই নদীর নাম হয়েছে বারনই। এই নদী সম্পর্কে ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ-ভারতের মুখ্য পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উইলিয়াম উইলসন হান্টার তাঁর স্টাটিস্টিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব বেঙ্গল গ্রন্থে বলেছেন, রাজশাহীর যে কয়টি নদীর নাব্যতা আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে নাব্য হচ্ছে বারনই। এই নদীপথেই বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬০৮ সালে নওগাঁয় এসেছিলেন। অথচ শহরের সারাদিনের বর্জ্য এই নদী দিয়ে নামানোর কারনে নদীটিকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় এই পানিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে , কিন্তু এই বর্জ্যগুলো পুড়িয়ে ফেলার কথা। এ জন্য নদীটিতে টিকতে পারছে না কোনো মাছ। আস্তে আস্তে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে নদীটি। এতে বেকার হয়ে পড়ছে শত শত জেলে। সরকারিভাবে ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বেশ কয়েকবার মাছ ছাড়লেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মরে ভেসে ওঠে। আর এর খেশারত দিতে হচ্ছে এই নদীতে জীবিকা নির্বাহ করা হাজারো জেলে। শুধু জেলেই নয় এর খেশারত দিতে হচ্ছে এই নদীর পানি ব্যবহার করা হাজার হাজার মানুষকে। যার ঠিকানা হচ্ছে ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এছাড়াও নদীর কোল ঘেঁসে রয়েছে কয়েকশত গ্রাম, যারা কিনা নদীর পানিতে ছোটবেলা থেকে গোসল করে বড় হয়েছে, চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তারা নদীতে গোসল না করলে থাকতেও পারে না। বর্তমানে তাদের গোসলের পরিবেশ থাকছেনা। এতে চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্ম রোগে ভুগতে হচ্ছে। এমনকি গন্ধযুক্ত পানি তারা মুখেও নিতে পারছেনা। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই সাংবাদিকদের বলা হয়, তারা তাদের বর্জ্য পানি শোধন করে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করবে। এসব কথা মঝে মধ্যেই পত্র-পত্রিকায় ছাপাও হয়। খুশির ব্যাপার! কয়েক বছর আগে নদীটার ভাটিতে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। শুকনা মৌসুমে বাতাস দিয়ে এই ড্যামের পেট ফোলানো হয়। তখন পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। নদীটা একটা বদ্ধ খালে পরিণত হয়। এতে আটকে যায় যত সব বর্জ্য। বর্তমানে সেটাও আর কাজ করেনা। শহরের দুষিত পানি ও বর্জ্য চলে যাচ্ছে সেই বারনই নদীতে। আর হুমকির মুখে পড়ছে লাখো মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পানিতে কলিফর্ম, সালমোনেলা ও সিগেলা জাতীয় ভয়ংকর সব ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা ডায়রিয়া, আমাশয়, ক্রিমিসহ যাবতীয় পেটের পীড়ার জীবাণু বহন করে।ব্যাকটেরিয়া সালমোনেলার হাত থেকে বাঁচার জন্য সারা পৃথিবীতে সুয়ারেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের এই অবস্থা। এবিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিছন্ন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন ( ডলার ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেন, আমাদের রাজশাহীতে যে সকল নদী আছে এর মধ্যে বারনই নদীটিরই নাব্যতা আছে, বাকী নদীগুলো নামে মাত্র। আমাদের শহরে তুলনামূলক কল-কারখানা কম থাকায় দুষিত পানি ও বর্জ্য কম হয়।

দাগনভূঞার রাতের আধারে লুট হচ্ছে ফসলি জমির মাটি
                                  

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা : ফেনীর-দাগনভূঞায় প্রতিরাতে বাড়ছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহড়া। রাতের আঁধারে লুট হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। রাত ৯ টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এ মাটি কাটার মহাউৎসব। এজন্য একদিকে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে আশপাশের সকল ফসলি জমি। সরকার কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সকল ধরণের অনাবাদি জমিকে আবাদে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি জমিতে বাড়িঘর পর্যন্ত করা যাবে না মর্মে সরকার এরকম একটা আইন করেছেন। অথচ কৃষি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইট ভাটায়। তাই নীতি মালার তোয়াক্কা না করেই দাগনভূঞার ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায়। ফসলি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা ইটের চাহিদা বেশি থাকায় ভাটার মালিকরা বিভিন্ন কৌশলে তা নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এ মাটি ভাটার মালিকরা সরাসরি জমির মালিক থেকে কিনেন না। এখানে কয়েকটি সিন্ডিকেট জড়িত। এ সিন্ডিকেট জমির মালিক থেকে মাটি কিনে তা ইট ভাটায় পৌছায়। ইট ভাটায় পৌছানো পর্যন্ত মাটি বহনকৃত গাড়ি তাদের দায়িত্বে থাকে। এদিকে বিভিন্ন জমির মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা ২ ফুট মাটি বিক্রি করলেও রাতের অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে ৩ থেকে ৪ ফুট মাটি। পরবর্তীতে জমির মালিকরা কতিপয় চক্রের কারনে তা প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। এতে ভুক্তভোগীদের দাবি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ। ভ্যাকু দিয়ে কৃষি ও ফসলি জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে। কোন কোন জমি পনের থেকে বিশ ফুট গভীরে মাটি কাটা হচ্ছে। আর ভেঙ্গে পড়ছে আশপাশের জমি। এলাকার জনগন বলেন, একসময় ফসলে ভরা ছিল মাঠ। চারদিকে ছিল সবুজের সমারোহ। এখন কৃষি জমিতে শুধু বালি আর ইটভাটা। আর ইটভাটার মাটি নেয়ার গাড়ি থেকে সৃষ্ট ধূলায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের জামা কাপড় নষ্ট হচ্ছে। দাগনভূঞা পৌরসভার অবিরামপুর এলাকার কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, ঘণবসতি ও জনবহুল এলাকা অবিরামপুরে স্থাপিত ইটভাটা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছে। ইটভাটার মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষ্ণরামপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, রাতের আধাঁরে ভ্যাকু দিয়ে গভীর খনন করে কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। ভাঙ্গছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। খানা খন্দকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

২৪ বছর ধরে বন্দি হলদীগ্রাম শুল্ক ষ্টেশন স্থাপন
                                  

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর : গারো পাহাড়ের পাদদেশে সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম শুল্ক ষ্টেশন স্থাপন পরিকল্পনাটি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে লাল ফিতায় বন্দী হয়ে পড়েছে। এতে আমদানী, রফতানীকারক ও ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সীমান্তে ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক বন্দর বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে সরকারীভাবে বলা হয়েছে। হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন স্থাপনের বিষয়টি সরকার ব্যাপক পর্যালোচনা করে তা স্থাপনের জন্য সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (শুল্ক) গত ০৩/০৪/১৯৯৫ ইং একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৭৫টি স্থল শুল্ক ষ্টেশন স্থাপনের তফসিল ঘোষণা করে। উক্ত প্রজ্ঞাপন তফসিলে হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন ৭৭নং তালিকায় পড়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন নং ১৫৯৫/কাস/৯৫ ঈঁংঃড়সং ধপ, ১৯৬৯ (রা ড়ভ ১৯৬৯) - এর ঝবপঃরড়হ ৯ (ন) ধহফ (প) - এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসআরও নং ১৫/উ/ঈটঝ/৭২ তারিখ ঃ ২৯ এপ্রিল ১৯৭২ এসআরও নং- ১৪৪/ডি/কাস/৭৪ তারিখঃ ২৫/০৪/৭৪ এসআরও নং ১৮৪-এল/৭৯/৪৯২/ডি/কাস/ তারিখ ঃ ২৬/০৬/৭৯ এসআরও নং- এল/৮১/৬৬২/কাস তারিখ ঃ ২৮/০৮/৮১ এবং এসআরও নং ৩৯৮/এল/৮৯/১২৪৯/কাস তারিখঃ ২৫/১১/৮৯ পূর্বক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। (ক) নিম্নবর্ণিত তফসিলের দ্বিতীয় কলামে উল্লেখিত স্থল শুল্ক ষ্টেশন সমূহ, বাংলাদেশ স্থল ও অভ্যন্তরীণ জল পথে আমদানী এবং রফতানীতব্য মালামালের উপর শুল্ক/কর আরোপের উদ্দেশ্যে স্থাপন করিল এবং (খ) উক্ত তফসিলের তৃতীয় কলামে উল্লেখিত চতুর্থ কলামে উল্লেখিত শ্রেণীর মালামালের জন্য অনুমোদিত রুট হিসাবে স্থল ও অভ্যন্তরীণ জল পথের জন্য সুনির্দিষ্ট করিল যথা (১) বাংলাদেশে আগমন ও বিহর্গমন অথবা (২) উক্ত তফসিলের দ্বিতীয় কলামে উল্লেখিত স্থল শুল্ক ষ্টেশন হতে অভ্যন্তরীণ জল ও স্থল পথে ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত আগমন ও বহির্গমন। উক্ত প্রজ্ঞাপনের তফসিলের তালিকায় ৭৭ নং ক্রমিকে হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশনে অনুমোদিত রুট হলো শেরপুর হলদীগ্রাম রোড এবং সীমান্তে প্রবিষ্ট মহারশী শাখা নদী। প্রজ্ঞাপনে উক্ত রুটে আমদানী ও রফতানীতব্য মালামালের বর্ণনায় রয়েছে এসআরও নং ১৪/ডি/৭২, তারিখ ঃ ২৪/০৪/৭২ এর পার্ট - রর এর অধীনে সুনির্দিষ্টকৃত ওজনের মালামাল (অতঃপর টেবিল হিসাবে উল্লেখিত)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে গত ০৩/০৪/১৯৯৫ তারিখে প্রথম সচিব (শুল্ক) স্বাক্ষরিত উক্ত প্রজ্ঞাপনে হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও অদ্যবধি কোন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অথচ দীর্ঘদিন থেকে হলদীগ্রামে স্থল শুল্ক বন্দর স্থাপনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা উপলদ্ধি করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পর্যালোচনা হয়েছে। বহুবার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোন ফল পাওয়া যায়নি। দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ী মহল থেকেও স্থল বন্দর স্থাপনের দাবী জোরে-সোরে উপস্থাপিত হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই। বিষয়টি নীতিগতভাবে সরকার গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমদানী ও রফতানীকারকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এদিকে, হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন চালু হলে কামালপুর স্থল বন্দরের জট কমে আসবে এবং রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে যে সমস্ত মালামাল কামালপুর স্থল বন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসে তা প্রায় ১শ কিলোমিটার বেশী রাস্তা ঘুরে আসে। অথচ হলদীগ্রাম স্থল বন্দর চালু হলে ঐ অতিরিক্ত ১শ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হবে না। ফলে পরিবহন খরচ ২০ ভাগ কমে যাবে। এছাড়া হলদীগ্রাম থেকে প্রশস্ত ফিডার রোড থাকায় মাত্র সাড়ে ৩ ঘন্টায় মালামাল ঢাকায় পরিবহন করা সম্ভব হবে। হলদীগ্রামে বিপরীতে ভারতের সিসিং পাড়া থেকে তোড়া জেলা শহরে যেতে সময় লাগে মাত্র ৩ ঘন্টা। তোড়া শহর থেকে শিলং মাত্র ৬ ঘন্টা। মোট কথা শিলং থেকে মালামাল হলদীগ্রাম স্থল বন্দর হয়ে ঢাকায় আসতে সময় নেবে মাত্র ১৩/১৪ ঘন্টা। অপরদিকে, হলদীগ্রাম থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের ব্যাংকের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। পাকা সড়ক থাকায় হলদীগ্রাম থেকে ঝিনাইগাতী যাতায়াত করলে সময় লাগে মাত্র ৫/৬ মিনিট। এছাড়া আমদানী, রফতানী পণ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সীমান্ত পর্যন্ত এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা, ফায়ার হাইড্রো সিষ্টেম স্থাপন করলে হলদীগ্রামে স্থল শুল্ক ষ্টেশন চালু করা যায়। এখানকার মানুষের জীবিকার কোন পথ নেই বললেই চলে। হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন চালু হলে পাহাড়ী আদিবাসী সহ বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ বের হবে। ঝিনাইগাতীর বিশিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীরা হলদীগ্রাম স্থল শুল্ক ষ্টেশন স্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, প্রাথমিক ভাবে এ পথে চাল, পাথর, কয়লা, ফলমূল, বাঁশ ইত্যাদি ভারত থেকে আমদানী করা যায়। তিনি বলেন, ভারতের গারো পাহাড় অঞ্চলে কাঁকড়া, কুইচা, তেতুল বিঁচি, ইলিশ মাছ, কচ্ছপ ও পানের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্যের রফতানি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সুগম হবে।

সিলেটে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি এখনো
                                  

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট : আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম শর্তকর্তা কিছু দিনের ভেতরে সিলেটে কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে সিলেটের নিম্না অঞ্চল এলাকা প্রায়ই নিমজ্জ্বিত থাকে বন্যার পানিতে। তলিয়ে যায় হাজার হাজার হেক্টর হাওর বাওরের ধান খেত। হাওরের উন্নয়ন বাধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্প নিয়ে কাজ করলেও তা চলছে ধীর গতিতে। জানা গেছে, এবার সিলেট বিভাগে ৬৭৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগের সকল হাওর রক্ষা বাঁধ ও ক্লোজার নির্মাণে ৬৭৪ দশমিক ৯০৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পাউবো। ৯১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৩৪ কোটি ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কাজের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা অবমুক্ত করেছে পাউবো। পাউবোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলায় বাঁধ ও পিআইসির সংখ্যা সর্বোচ্চ। সুনামগঞ্জ জেলায় ৮০৯টি পিআইসির মাধ্যমে ৬২০ দশমিক ২১৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কাজের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭৯ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে। সিলেট জেলায় ৪৩টি পিআইসির মাধ্যমে ২৩ দশমিক ৭১৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অবমুক্ত হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় ১২টি পিআইসির মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে ৬ দশমিক ৯৬০ কিলোমিটার বাঁধ। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অবমুক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে ২৪ দশমিক ১৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করবে পাউবো। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা অবমুক্ত হয়েছে। পাউবোর সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩৩টি পিআইসির মধ্যে ৩১টির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৪১টির মধ্যে ২২টির, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪৪টির মধ্যে ৪৩টি, তাহিরপুর উপজেলার ৮৩টির মধ্যে ৭৩টি, ধর্মপাশা উপজেলার ১৭০টির মধ্যে ১৬৩টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৪৫টির মধ্যে ২৬টি, জগন্নাথপুর উপজেলার ৩৬টির মধ্যে ২৯টি, দিরাই উপজেলার ১২০টির মধ্যে ১০৫টি, শাল্লা উপজেলার ১৫৬টির মধ্যে ১৪৮টি, ছাতক উপজেলার ১৮টির মধ্যে ১৫টি ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৪৬টি পিআইসির মধ্যে ৩১টির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ৩৯টি পিআইসির মাটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। মাটির কাজ শেষ হওয়া, প্রকল্প সমূহে দূর্বাঘাস লাগানো, সুলুফ কাটিংসহ নানান কাজ চলছে বলে পাউবো সূত্র জানিয়েছে। এ দিকে সিলেট জেলার মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় ২টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৪টি, ওসমানীনগর উপজেলায় ৩টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৭টি, জৈন্তাপর উপজেলায় ৬টি, কানাইঘাট উপজেলায় ৮টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ১টি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১২টি পিআইসি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪টি, বাহুবল উপজেলায় ৩টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, লাখাই উপজেলায় ৮টি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, মাধবপুর উপজেলায় ৭টি ও বানিয়াচং উপজেলায় ১০টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত এলাগুলোতে ৮৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। বর্তমানে দূর্বাঘাস লাগানো, ড্রেসিংসহ অন্যান্য কাজ চলছে। মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৩টি, কুলাউড়া উপজেলায় ৩টি, বড়লেখা উপজেলায় ১টি, কমলগঞ্জ উপজেলায় ১টি, রাজনগর উপজেলায় ৩টি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১টি পিআইসির মাধ্যমে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করছে পাউবো। এ জেলায় ১২টি পিআইসির শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জেলাগুলোতে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বর্ষা মৌসুমের আগে সম্পন্ন নালে। অতি বন্যায় প্রকল্পের কাজ কাজ বেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাওর বিশ্লেষকদের ধারণা ।

শায়েস্তাগঞ্জে পুরানবাজার-হবিগঞ্জ রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ
                                  

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাধীন ৪ নং ওয়ার্ডের দাউদনগর মসজিদ সংলগ্ন পুকুর পাড়ের রাস্তাটির বেহাল দশা। যাত্রীবাহী টমটম সিএনজি ও মালবাহী শতাধিক গাড়ি প্রতিদিন চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে। বিশেষকরে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ট্রাক্টরের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ এবড়ো-থেবড়ো রাস্তা দিয়ে যাত্রীবাহী টমটম ও সিএনজি চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনাজনিত কারনে যাত্রীবাহী টমটম বা সিএনজি পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাউদ নগর বাজার রেলগেইট পার হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক থেকে শুরু হয়ে দাউদ নগর, সুদিয়াখলা গ্রাম অতিক্রম করে পুরানবাজার-হবিগঞ্জ বাইপাস সড়কে গিয়ে মিলিত হয়েছে আলোচ্য রাস্তাটি।
পৌরসভার দাউদ নগর (সাহেব বাড়ি) জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরের দুইপাড় দিয়ে চলে গেছে এ রাস্তা। ওই ব্যাস্ততম রাস্তাটি পুকুরের পাড় ঘেঁষে ভেঙে গিয়ে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় গর্তে পড়ে গিয়ে এমনভাবে কাত হয়, মনে হয় এখনি পুকুরে পড়েযাবে। তাই এ রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা নাহলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তার অবস্থা আরও বিপজ্জনক হবে। সরজমিনে দেখা যায়, পৌর কর্তৃপক্ষের নির্মিত আলোচ্য রাস্তাটি পুকুরে ভেঙ্গে পড়া রোধ করতে কংক্রিটের স্ল্যাব ও ছোট পিলার দিয়ে গার্ড-ওয়াল দেয়া হয়েছে। ওই গার্ড-ওয়ালের কংক্রিটের স্ল্যাব ও ছোট পিলারগুলোর ঢালাই পড়ে গিয়ে রড বেড় হয়ে আছে। যেকোন সময় কংক্রিটের-গার্ডার ভেঙ্গে গিয়ে রাস্তার অংশ পুকুরের পানিতে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসি। এ ব্যাপারে দাউদ নগর হাবেলীর সৈয়দ হাবিবুর রহমান পারভেজ বলেন, এটি একটি ব্যস্ততম রাস্তা, প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই এ বিপজ্জনক রাস্তা দিয়ে লোকজন ও সিএনজি টমটম চলাচল করে। পাশেই একটি শিশুদের স্কুল রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে। তাই যথাশীঘ্র এ রাস্তাটি সংস্কার করা আবশ্যক অন্যথায় জীবনহানিকর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দাউদ নগর হাবেলীর বাসিন্দা সৈয়দ আকিকুর রহমান রিমেল এ ব্যাপারে বলেন, যানবাহন চলাচলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা নাহলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনায় কোন যাত্রীবাহি গাড়ি পুকুরে পড়েগেলে প্রাণহানী ঘটতে পারে। টমটম চালক আব্দুল আলী বলেন, এ রাস্তার ভাঙ্গা অংশ দিয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি ও গাড়ি অকেজো হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। বৃষ্টির দিনে এ রাস্তা দিয়ে চলা আরও বিপজ্জনক হবে। এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ফরিদ আহমদ অলি বলেন, পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের দাউদনগর মসজিদ সংলগ্ন পুকুর পাড়ের রাস্তাটি সংষ্কারের বিষয় আমাদের নজরে আছে। এখন রাস্তা মেরামত করার মতো কোন ফান্ড নাই। তবে ফান্ডের ব্যবস্থা হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ রাস্তা মেরামতকরা হবে।


   Page 1 of 40
     বিশেষ খবর
সখীপুরে অবাধে কাটা হচ্ছে টিলা
.............................................................................................
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম বিনষ্ট
.............................................................................................
বেনাপোলে বন্দরে ২০ হাজার মানুষ করোনা ঝুঁকিতে
.............................................................................................
গয়েশপুর-ডুবাইল সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, জনদুর্ভোগ
.............................................................................................
আদৌ তাদের পাওনা পাবেন কি না!
.............................................................................................
মোরেলগঞ্জে ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমে আসক্ত শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
মির্জাগঞ্জে আয়রন ব্রিজ এখন মরণ ফাঁদ
.............................................................................................
টাঙ্গাইলের একতা টাওয়ার হতে পারে রানা প্লাজা
.............................................................................................
ঠোংগা বানিয়ে সফল অর্ধ শতাধিক নারী
.............................................................................................
রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন : ১১ জনের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলে ছাদ বাগানের আগ্রহ বাড়ছে ভবন মালিকদের
.............................................................................................
মরে যাচ্ছে বারনই নদী
.............................................................................................
দাগনভূঞার রাতের আধারে লুট হচ্ছে ফসলি জমির মাটি
.............................................................................................
২৪ বছর ধরে বন্দি হলদীগ্রাম শুল্ক ষ্টেশন স্থাপন
.............................................................................................
সিলেটে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি এখনো
.............................................................................................
শায়েস্তাগঞ্জে পুরানবাজার-হবিগঞ্জ রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ
.............................................................................................
পল্লীতে সম্ভাবনাময় একটি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত
.............................................................................................
কুশিয়ারা নদীতে একের পর এক জেগে উঠছে বালুচর
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প বন্দরে পরিণত হবে মোংলা বন্দর
.............................................................................................
কাঁঠালিয়ায় সেতু ভেঙ্গে খালে
.............................................................................................
হেরোইনের উপকরণ ‘পপি’ চাষে জড়িত কৃষকরা গ্রেফতার
.............................................................................................
সিলেটে ৫০টি নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস
.............................................................................................
দেশ-বিদেশে বাংলাদেশি হিমায়িত খাবারের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে
.............................................................................................
ফসলী জমির মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় একটি চক্র
.............................................................................................
মুকসুদপুরে ব্রীজ উদ্বোধন
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লেও রফতানি বাণিজ্যে ধ্বস
.............................................................................................
বেনাপোল দিয়ে যাতায়াত বাড়ছে পাসপোর্টধারীদের
.............................................................................................
কক্সবাজার জেলাজুড়ে লবণ উৎপাদনের ধুম
.............................................................................................
গোয়াইনঘাটে বাড়ছে সৌরশক্তির ব্যবহার
.............................................................................................
সরিষাবাড়ীতে হুমকির মুখে ব্রীজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
পুলিশি সেবা পৌঁছাতে ওসির ব্যতিক্রমী আয়োজন
.............................................................................................
দুর্দিনে গাংনীর মৃৎ শিল্পীরা
.............................................................................................
কুয়াশায় কাজে আসছেনা ফগলাইট
.............................................................................................
হিমাগার নেই কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলে
.............................................................................................
বীরগঞ্জে এতিমদের মাঝে কম্বল বিতরণ
.............................................................................................
মোংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ হবে ডিসেম্বরে
.............................................................................................
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে প্রতিষ্ঠিত জীবনে কালিয়াকৈরের কুষ্ঠ রোগীরা
.............................................................................................
গুচ্ছগ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিতরা
.............................................................................................
টুঙ্গিপাড়ায় সাড়ে ৩৫শ’ পরিবার পাচ্ছেন নিরাপদ পানি
.............................................................................................
ফুলপুরে ৭ গ্রামের একমাত্র ভরসা বাঁশের সেতু
.............................................................................................
৩৫৫ কোটি টাকার পণ্য আটক করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন
.............................................................................................
শুরু হচ্ছে পাইপড ওয়াটার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক
.............................................................................................
বাঁশের সাঁকোই ভরসা নিতাই নদে
.............................................................................................
পায়ে হেঁটেই তিস্তা পার আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল
.............................................................................................
কৃষকদের মাঠ ভ্রমণের আয়োজন করলে প্রশিক্ষণ ফলপ্রসূ হবে: জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়া
.............................................................................................
পদ্মার দুর্গম চরে বিদ্যুতের আলো
.............................................................................................
রাজবাড়ীর পেঁয়াজকলি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে
.............................................................................................
মুজিবনগর ভাস্কর্য রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার
.............................................................................................
রায়গঞ্জে একটি বাঁশের সাকো দিয়ে পাঁচ হাজার লোকের চলাচল
.............................................................................................
খাল থেকে বালু উত্তোলনের সড়কে ধস
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop