| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > করোনা ভাইরাসে লোকসানে তথ্যপ্রয্ক্তুরি বিনিয়োগকারীরা   > সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৭৬৮৬   > নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ: প্রধানমন্ত্রী   > আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কোনো গরিব না খেয়ে কষ্ট পায় না: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী   > সৌদিতে ৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা   > তিন হাজার শয্যার হাসপাতাল হচ্ছে মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে   > পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   > করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৮৮০   > করোনাভাইরাসের প্রকোপের মাঝেই ইসরাইল থেকে অস্ত্র কিনছে ভারত   > করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা  

   সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন

আসাদুজ্জামান জুয়েল : ভারতের দিল্লিতে চলছে দাঙ্গা। শুধু দিল্লিতেই নয়, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের রাজ্যগুলোর আনাচে কানাচে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ হলেও এখন তা দাড়িয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। এখন পরিস্থিতি মুসলমান বনাম উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে।বর্তমান হিন্দু অধ্যুসিত ভারতে দাঙ্গা হলে হিন্দুরাও তাদের ঘর রক্ষা করতে পারবে না। ‘গ্রামে আগুন লাগলে পীর সাহেবের ঘরও বাদ যায় না’ এই প্রবাদ আমরা সবাই জানি। দাঙ্গায় তাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মুসলিম-হিন্দুসহ অন্য ধর্মের সকলেই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় গুজরাটের দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ ছিলেন স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আজ যখন দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু হয়েছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নরেন্দ্র মোদী আর স্বরাস্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। দাঙ্গা নিয়ে ভয়ের কারন এখানেই। সেদিনও যেমন তারা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে আগুনে ঘি ঢেলেছিলো আজও তার ব্যত্যয় ঘটাবে না। কারন কুকুরের ল্যাজ যে শত বছর ঘি মেখে চুঙ্গায় রাখলেও বের করার পরই কুকড়ে যায়! দিল্লির আগুনের হলকা যেন আমাদের সোনার বাংলায় উত্তাপ না ছড়ায় সেদিকে আমাদের সকলেরই খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদ পোড়ানোর প্রতিবাদ মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিতে হবে। অপর রাষ্ট্রের সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদে ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট না করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে দিল্লিতে টানা চার দিনের দাঙ্গার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন মিডিয়া। এই পরিসংখ্যান সরকারের। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি সেটা ধারনা করা যেতেই পারে। কারন মৃত্যু নিয়ে সরকারী পরিসংখ্যান কখনোই নির্ভরযোগ্য সত্য বলে অতীতেও বিবেচিত হয়নি, এখনও আমার কাছে হয় না। সংবাদ মাধ্যমে জাফরাবাদের এক বাসিন্দা বলেন, “ভেতরের মহল্লায় অশান্তি চলছে। কোথায় কত জনের দেহ পড়ে আছে কেউ জানে না। পুলিশ এখনও ঢুকতে পারেনি ভেতরে।” এতেই আচ করা যায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
দাঙ্গার হাতিয়ার হিসাবে ইট, পাথর, লাঠিই শুধু নয় আরেকটি বড় উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের ওপর অ্যাসিড হামলা। মুস্তাফাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বেশ কিছু আহত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই নষ্ট হয়েছে। দুই চোখ-সহ পুরো মুখ ঝলসে গেছে ওয়কিল নামের আরেকজনের। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পুলিশকেও অ্যাসিড হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিরীহ পুলিশ (যারা দাঙ্গা না থামিয়ে মসজিদে আগুন ধরাতে সহযোগীতা করেছে) তারাও রেহাই পাচ্ছে না। এযেনো গঙ্গাজল সিনেমার বাস্তব প্রয়োগ করছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোড়ারা। এসিডকে গঙ্গাজল ভেবে ছিটিয়ে পবিত্র করছে ভারতকে। আমি একজন মানুষ হিসাবে তীব্র নিন্দা জানাই।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস ভারতে নতুন নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাঙ্গার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে। না থাকলেও সমস্যা নেই। মনে করিয়ে দিচ্ছি।
পুরনো ইতিহাস হাতরে পাওয়া যায় ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু তীর্থযাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুতর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, যাতে ১ হাজারেরও বেশি মতান্তরে দুই হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়- যারা প্রধানত মুসলিম।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সবরমতী এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় একদল মুসলিম তার ওপর আক্রমণে চালায় এবং ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে একটি বগিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের একটি তদন্ত কমিশন ২০০৮ সালে এক রিপোর্টে বলে যে, ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ছিল একটি ষড়যন্ত্র। সরকারি একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ট্রেনের ভেতরের একটি দুর্ঘটনা থেকেই হয়তো আগুনের সূচনা হয়েছিল।
২০১৭ সালে আগুন লাগানোর মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১১ জন মুসলিম ব্যক্তির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। ওই আদালত অন্য আরো ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা বহাল রেখেছে এবং অন্য ৬৩ জনকে খালাস দেয়ার রায় চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে। যাদেরকে ২০১১ সালে আদালত খালাস দিয়েছিল, তার মধ্যে চার ব্যক্তিকে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বলে বলা হয়। আদালত এ ছাড়াও গুজরাট রাজ্য সরকারকে গোধরা ট্রেন অগ্নিকান্ডের শিকার প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজ্য এবং রেল কর্তৃপক্ষ আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
২০০২ সালে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, সে সময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হিন্দু দাঙ্গাকারীদের পরোক্ষভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন। যদিও কমিশন এসব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আর সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিভাবে কমিশন দ্বারা খারিজ করতে হয় তা আমরা ভালোভাবেই জানি।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিযোগ করেছেন, গুজরাট দাঙ্গার সময় প্রশাসন সেনা নামাতে চব্বিশ ঘন্টারও বেশি দেরি করেছিল- যেটা না হলে হয়তো বহু প্রাণহানি ঠেকানো যেত। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ গুজরাট দাঙ্গার মোকাবিলায় মোতায়েন করা সেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি তার সদ্যপ্রকাশিত বইতে দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন, যা ১৪ অক্টোবর ২০১৮ বিবিসির এক রিপোর্টে ওঠে এসেছে। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার ওই বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও দাঙ্গার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের এখনকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় গুজরাটে দুহাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার বইতে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ বর্ণনা করেছেন কীভাবে দাঙ্গাবিধ্বস্ত গুজরাটে পৌঁছানোর পরও তার বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গুজরাটে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর পরই আমি যোধপুরে তখনকার সেনাপ্রধান পদ্মনাভনের ফোন পেলাম। একটু অবাকই হয়েছিলাম, কারণ সেনাপ্রধান সরাসরি ডিভিশন কমান্ডারকে ফোন করে নির্দেশ দিতেন না। কিন্তু পাঞ্জাবে একসঙ্গে কাজ করার পুরনো পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আমাকে ভাল করে চিনতেন, ডাকতেন ‘জুম’ বলে। আর্মি চিফ আমাকে বললেন, জুম- তোমার ট্রুপস নিয়ে এক্ষুনি গুজরাটে চলে যাও, দাঙ্গা ঠেকাও। আকাশপথে একটার পর একটা সর্টি দিয়ে ২০০২-র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি আর ১লা মার্চের মধ্যবর্তী রাতেই যোধপুর থেকে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদে পৌঁছে গিয়েছিল বিশাল সংখ্যক সেনা। কিন্তু সেই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জমিরউদ্দিন শাহ জানাচ্ছেন পুরো রাজ্য জুড়ে তখন চলছে ভয়াবহ দাঙ্গা, কিন্তু তাদের পুরো একটা দিনেরও বেশি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। মধ্যরাতের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন- সেখানে তখন ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজও। কিন্তু তার পরেও সেনারা দাঙ্গা ঠেকানোর জন্য রাস্তায় নামতে পারেনি চব্বিশ ঘন্টারও বেশি সময়। সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ আরও জানাচ্ছেন, আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল গুজরাটে পৌঁছানোর পর বাহিনীকে গাড়ি, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এসকর্ট, কমিউনিকেশন সিস্টেম আর শহরের নকশা দেওয়া হবে। কিন্তু পৌঁছে দেখলাম ওসব কিছুই নেই। একজন ব্রিগেডিয়ার শুধু এসেছিলেন দেখা করতে, তারও কোনও ধারণা ছিল না কেন কিছুই নেই। শুনলাম রাজ্যের মুখ্য সচিব বিদেশে। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তাকে যোগাযোগ করার বহু চেষ্টা করলাম- তিনি ফোনই ধরলেন না। এভাবে মূল্যবান সময়ের অপচয়ে সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হয়েছিল- আর তাতেই দাঙ্গায় প্রাণহানি অনেক বেড়ে যায় বলে বইতে লিখেছেন জমিরউদ্দিন শাহ। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ এর বর্ণনায়ই বুঝাযায় নরেন্দ্র মোদীর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে কিভাবে দাঙ্গা ছড়িয়েছিলো এবং এত বিশাল সংখ্যক মুসলিম-হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেলো।
আমরা বাঙ্গালী। আর আমাদের বদনাম করে অনেকে বলেন ‘হুজুকে বাঙ্গালী’। অনেক সময় পরিবেশ পরিস্থিতি যথাযথ ভাবে বিবেচনা না করেই ঝাপিয়ে পড়ি। অন্য দেশে বৃষ্টি হলে আমরা ছাতা মেলে ধরি বলেও বদনাম আছে। দিল্লির দাঙ্গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের বহু মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছে, আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, মসজিদের ইমামের চোখে মুখে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে, চিরতরে চোখ নষ্ট করে দিচ্ছে, রাস্তায় ফেলে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দাড়িয়ে সিনেমা দেখছে। সন্তানের লাসের কফিনের সামনে পিতাকে পুলিশ লাথি ঘুশি দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোন কোন জায়গায় পুলিশ নিজেরাই মসজিদে আগুন দিচ্ছে। এই খবরগুলো উড়ো খবর নয়, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন মদদ ছাড়া হতে পারে বলে মনে করি না।
প্রখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিক জ্যোতি বসু বলতেন-‘শাসক না চাইলে দাঙ্গা হয় না’ কথাটা বার বার প্রমানিত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী যে একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি তা তার অতীত কর্মেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন দাঙ্গা ভারতে দেখা যাবে বলেই মনে হয়। নরেন্দ্র মোদী চাইলেই গুজরাট দাঙ্গা ঠেকাতে পারতেন, নরেন্দ্র মোদী চাইলেই দিল্লির দাঙ্গাও ঠেকাতে পারতেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী একজন মুসলিম বিদ্বেষী অমানুষ হিসাবে বার বার নিজের পরিচয় দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দিবেন। ইতিহাস নরেন্দ্র মোদীকে মনে রাখবেন, অবশ্যই ঘৃণাভরে মনে রাখবেন। ইতিহাস মুছে যায় না।
তেয়াত্তর বছর বয়সী একটি পরিপক্ক রাষ্ট্র ভারত এখনও ধর্মান্ধতা থেকে বেরোতে পারছে না যা খুবই দুঃখজনক। ভারতের অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে তারাই চিন্তা করবে। আমরা পারি তাদের হিংসাত্বক কাজের প্রতি ঘৃণা করতে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাদের হিংসার আগুন আমাদের মনে পূষে আমরা যেন নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে না জড়াই। আমরা আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে চাই। একজন ভিন্ন ধর্মীয় মানুষও যেন বাংলার মুসলিম দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও যেন মুসলিমদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। সম্প্রীতির জয় হোক, মানবতার জয় হোক।
লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট।

মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন
                                  

আসাদুজ্জামান জুয়েল : ভারতের দিল্লিতে চলছে দাঙ্গা। শুধু দিল্লিতেই নয়, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের রাজ্যগুলোর আনাচে কানাচে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ হলেও এখন তা দাড়িয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। এখন পরিস্থিতি মুসলমান বনাম উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে।বর্তমান হিন্দু অধ্যুসিত ভারতে দাঙ্গা হলে হিন্দুরাও তাদের ঘর রক্ষা করতে পারবে না। ‘গ্রামে আগুন লাগলে পীর সাহেবের ঘরও বাদ যায় না’ এই প্রবাদ আমরা সবাই জানি। দাঙ্গায় তাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মুসলিম-হিন্দুসহ অন্য ধর্মের সকলেই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় গুজরাটের দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ ছিলেন স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আজ যখন দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু হয়েছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নরেন্দ্র মোদী আর স্বরাস্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। দাঙ্গা নিয়ে ভয়ের কারন এখানেই। সেদিনও যেমন তারা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে আগুনে ঘি ঢেলেছিলো আজও তার ব্যত্যয় ঘটাবে না। কারন কুকুরের ল্যাজ যে শত বছর ঘি মেখে চুঙ্গায় রাখলেও বের করার পরই কুকড়ে যায়! দিল্লির আগুনের হলকা যেন আমাদের সোনার বাংলায় উত্তাপ না ছড়ায় সেদিকে আমাদের সকলেরই খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদ পোড়ানোর প্রতিবাদ মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিতে হবে। অপর রাষ্ট্রের সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদে ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট না করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে দিল্লিতে টানা চার দিনের দাঙ্গার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন মিডিয়া। এই পরিসংখ্যান সরকারের। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি সেটা ধারনা করা যেতেই পারে। কারন মৃত্যু নিয়ে সরকারী পরিসংখ্যান কখনোই নির্ভরযোগ্য সত্য বলে অতীতেও বিবেচিত হয়নি, এখনও আমার কাছে হয় না। সংবাদ মাধ্যমে জাফরাবাদের এক বাসিন্দা বলেন, “ভেতরের মহল্লায় অশান্তি চলছে। কোথায় কত জনের দেহ পড়ে আছে কেউ জানে না। পুলিশ এখনও ঢুকতে পারেনি ভেতরে।” এতেই আচ করা যায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
দাঙ্গার হাতিয়ার হিসাবে ইট, পাথর, লাঠিই শুধু নয় আরেকটি বড় উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের ওপর অ্যাসিড হামলা। মুস্তাফাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বেশ কিছু আহত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই নষ্ট হয়েছে। দুই চোখ-সহ পুরো মুখ ঝলসে গেছে ওয়কিল নামের আরেকজনের। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পুলিশকেও অ্যাসিড হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিরীহ পুলিশ (যারা দাঙ্গা না থামিয়ে মসজিদে আগুন ধরাতে সহযোগীতা করেছে) তারাও রেহাই পাচ্ছে না। এযেনো গঙ্গাজল সিনেমার বাস্তব প্রয়োগ করছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোড়ারা। এসিডকে গঙ্গাজল ভেবে ছিটিয়ে পবিত্র করছে ভারতকে। আমি একজন মানুষ হিসাবে তীব্র নিন্দা জানাই।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস ভারতে নতুন নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাঙ্গার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে। না থাকলেও সমস্যা নেই। মনে করিয়ে দিচ্ছি।
পুরনো ইতিহাস হাতরে পাওয়া যায় ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু তীর্থযাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুতর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, যাতে ১ হাজারেরও বেশি মতান্তরে দুই হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়- যারা প্রধানত মুসলিম।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সবরমতী এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় একদল মুসলিম তার ওপর আক্রমণে চালায় এবং ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে একটি বগিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের একটি তদন্ত কমিশন ২০০৮ সালে এক রিপোর্টে বলে যে, ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ছিল একটি ষড়যন্ত্র। সরকারি একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ট্রেনের ভেতরের একটি দুর্ঘটনা থেকেই হয়তো আগুনের সূচনা হয়েছিল।
২০১৭ সালে আগুন লাগানোর মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১১ জন মুসলিম ব্যক্তির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। ওই আদালত অন্য আরো ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা বহাল রেখেছে এবং অন্য ৬৩ জনকে খালাস দেয়ার রায় চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে। যাদেরকে ২০১১ সালে আদালত খালাস দিয়েছিল, তার মধ্যে চার ব্যক্তিকে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বলে বলা হয়। আদালত এ ছাড়াও গুজরাট রাজ্য সরকারকে গোধরা ট্রেন অগ্নিকান্ডের শিকার প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজ্য এবং রেল কর্তৃপক্ষ আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
২০০২ সালে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, সে সময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হিন্দু দাঙ্গাকারীদের পরোক্ষভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন। যদিও কমিশন এসব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আর সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিভাবে কমিশন দ্বারা খারিজ করতে হয় তা আমরা ভালোভাবেই জানি।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিযোগ করেছেন, গুজরাট দাঙ্গার সময় প্রশাসন সেনা নামাতে চব্বিশ ঘন্টারও বেশি দেরি করেছিল- যেটা না হলে হয়তো বহু প্রাণহানি ঠেকানো যেত। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ গুজরাট দাঙ্গার মোকাবিলায় মোতায়েন করা সেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি তার সদ্যপ্রকাশিত বইতে দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন, যা ১৪ অক্টোবর ২০১৮ বিবিসির এক রিপোর্টে ওঠে এসেছে। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার ওই বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও দাঙ্গার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের এখনকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় গুজরাটে দুহাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার বইতে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ বর্ণনা করেছেন কীভাবে দাঙ্গাবিধ্বস্ত গুজরাটে পৌঁছানোর পরও তার বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গুজরাটে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর পরই আমি যোধপুরে তখনকার সেনাপ্রধান পদ্মনাভনের ফোন পেলাম। একটু অবাকই হয়েছিলাম, কারণ সেনাপ্রধান সরাসরি ডিভিশন কমান্ডারকে ফোন করে নির্দেশ দিতেন না। কিন্তু পাঞ্জাবে একসঙ্গে কাজ করার পুরনো পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আমাকে ভাল করে চিনতেন, ডাকতেন ‘জুম’ বলে। আর্মি চিফ আমাকে বললেন, জুম- তোমার ট্রুপস নিয়ে এক্ষুনি গুজরাটে চলে যাও, দাঙ্গা ঠেকাও। আকাশপথে একটার পর একটা সর্টি দিয়ে ২০০২-র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি আর ১লা মার্চের মধ্যবর্তী রাতেই যোধপুর থেকে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদে পৌঁছে গিয়েছিল বিশাল সংখ্যক সেনা। কিন্তু সেই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জমিরউদ্দিন শাহ জানাচ্ছেন পুরো রাজ্য জুড়ে তখন চলছে ভয়াবহ দাঙ্গা, কিন্তু তাদের পুরো একটা দিনেরও বেশি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। মধ্যরাতের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন- সেখানে তখন ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজও। কিন্তু তার পরেও সেনারা দাঙ্গা ঠেকানোর জন্য রাস্তায় নামতে পারেনি চব্বিশ ঘন্টারও বেশি সময়। সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ আরও জানাচ্ছেন, আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল গুজরাটে পৌঁছানোর পর বাহিনীকে গাড়ি, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এসকর্ট, কমিউনিকেশন সিস্টেম আর শহরের নকশা দেওয়া হবে। কিন্তু পৌঁছে দেখলাম ওসব কিছুই নেই। একজন ব্রিগেডিয়ার শুধু এসেছিলেন দেখা করতে, তারও কোনও ধারণা ছিল না কেন কিছুই নেই। শুনলাম রাজ্যের মুখ্য সচিব বিদেশে। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তাকে যোগাযোগ করার বহু চেষ্টা করলাম- তিনি ফোনই ধরলেন না। এভাবে মূল্যবান সময়ের অপচয়ে সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হয়েছিল- আর তাতেই দাঙ্গায় প্রাণহানি অনেক বেড়ে যায় বলে বইতে লিখেছেন জমিরউদ্দিন শাহ। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ এর বর্ণনায়ই বুঝাযায় নরেন্দ্র মোদীর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে কিভাবে দাঙ্গা ছড়িয়েছিলো এবং এত বিশাল সংখ্যক মুসলিম-হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেলো।
আমরা বাঙ্গালী। আর আমাদের বদনাম করে অনেকে বলেন ‘হুজুকে বাঙ্গালী’। অনেক সময় পরিবেশ পরিস্থিতি যথাযথ ভাবে বিবেচনা না করেই ঝাপিয়ে পড়ি। অন্য দেশে বৃষ্টি হলে আমরা ছাতা মেলে ধরি বলেও বদনাম আছে। দিল্লির দাঙ্গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের বহু মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছে, আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, মসজিদের ইমামের চোখে মুখে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে, চিরতরে চোখ নষ্ট করে দিচ্ছে, রাস্তায় ফেলে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দাড়িয়ে সিনেমা দেখছে। সন্তানের লাসের কফিনের সামনে পিতাকে পুলিশ লাথি ঘুশি দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোন কোন জায়গায় পুলিশ নিজেরাই মসজিদে আগুন দিচ্ছে। এই খবরগুলো উড়ো খবর নয়, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন মদদ ছাড়া হতে পারে বলে মনে করি না।
প্রখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিক জ্যোতি বসু বলতেন-‘শাসক না চাইলে দাঙ্গা হয় না’ কথাটা বার বার প্রমানিত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী যে একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি তা তার অতীত কর্মেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন দাঙ্গা ভারতে দেখা যাবে বলেই মনে হয়। নরেন্দ্র মোদী চাইলেই গুজরাট দাঙ্গা ঠেকাতে পারতেন, নরেন্দ্র মোদী চাইলেই দিল্লির দাঙ্গাও ঠেকাতে পারতেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী একজন মুসলিম বিদ্বেষী অমানুষ হিসাবে বার বার নিজের পরিচয় দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দিবেন। ইতিহাস নরেন্দ্র মোদীকে মনে রাখবেন, অবশ্যই ঘৃণাভরে মনে রাখবেন। ইতিহাস মুছে যায় না।
তেয়াত্তর বছর বয়সী একটি পরিপক্ক রাষ্ট্র ভারত এখনও ধর্মান্ধতা থেকে বেরোতে পারছে না যা খুবই দুঃখজনক। ভারতের অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে তারাই চিন্তা করবে। আমরা পারি তাদের হিংসাত্বক কাজের প্রতি ঘৃণা করতে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাদের হিংসার আগুন আমাদের মনে পূষে আমরা যেন নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে না জড়াই। আমরা আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে চাই। একজন ভিন্ন ধর্মীয় মানুষও যেন বাংলার মুসলিম দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও যেন মুসলিমদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। সম্প্রীতির জয় হোক, মানবতার জয় হোক।
লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট।

বইমেলায় দৈনিক গণমুক্তির কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুটি বই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আইনজীবী, লেখক, কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের কলাম সংকলন ‘সমকালীন ভাবনা-২’ ও কাব্যগ্রন্থ ‘তুই থাকিস পরাণের গহীনে’ নামে দুইটি নতুন বই। ‘সমকালীন ভাবনা-২’ শীর্ষক বইটি দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচিত কিছু কলাম। কাব্যগ্রন্থ ‘তুই থাকিস পরাণের গহীনে’ বইটিতে প্রেম-বিরহ-দ্রোহের কিছু নির্বাচিত কবিতা স্থান পেয়েছে। এই নিয়ে আসাদুজ্জামান জুয়েলের লেখা প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ টিতে। ২০১২ সালে প্রথম প্রকাশ পায় প্রবাসীদের সুখ দুঃখ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘যেমন আছি লন্ডনে’।

২০১৯ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায় ভ্রমণ কাহিনী ‘কলকাতা ভ্রমণঃ জীবনে প্রথম কিছু’, নির্বাচিত কলাম সংকলন ‘সমকালীন ভাবনা’ ও প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয়ের শব্দক্ষরণ’। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার থেকে বই দু’টি মেলায় বাবুই প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন নাম্বার ৩২২-৩২৩ এ পাওয়া যাচ্ছে। প্যাভিলিয়নটির অবস্থান টিএসসির গেইট দিয়ে প্রবেশ করলে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মেলা মাঠের শুরুতে। 

আসাদুজ্জামান জুয়েলের ‘সমকালীন ভাবনা-২’ বইয়ে দেশের সমকালীন বিষয়ের উপর লেখা নির্বাচিত কলামগুলো রয়েছে। বইটি রম্য ধাচের লেখা হলেও রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং মুক্ত সমালোচনা। চমকপ্রদ বিষয়বস্তুর আলোচনা-সমালোচনা রম্য আকারে বর্ণনায় সাজানো হয়েছে ১২৮ পৃষ্ঠার বইটিতে যার দাম ৩০০ টাকা। তুই থাকিস পরাণের গহীনে কাব্যগ্রন্থে প্রেম-বিরহ-দ্রোহের কিছু নির্বাচিত কবিতা রয়েছে। ছন্দে ছন্দে প্রেম-বিরহ-দ্রোহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৮০ পৃষ্ঠার বইটিতে যার দাম ২০০ টাকা। বই দু’টির প্রচ্ছদ করেছেন মাহমুদুর রহমান।
এ প্রসঙ্গে লেখক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আমি নিয়মিত দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকায় সরল মানুষ-সহজ কথা ব্যানারে কলাম লিখি। বিভিন্ন বিষয়ে আমার বিবেক যে নাড়া দেয় তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কলামগুলোতে। কঠিন কথা কেউ সহ্য করতে চায় না তাই রম্য আকারে লেখা হয়েছে যা পড়লে গল্পের মজা পাবেন সম্মানিত পাঠকরা। আর কবিতাগুলো প্রেম-বিরহ-দ্রোহর বহিঃপ্রকাশ। ছন্দে ছন্দে মনের ভাব প্রকাশ করেছি। আশা করছি পাঠকদের ভালো লাগবে।
প্রসঙ্গত, বহু গুণে গুণান্বিত আসাদুজ্জামান জুয়েল ১৯৭৮ সালের ৫ জুন শরীয়তপুর জেলার পালং থানার পালং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রওশনারা বেগম ও আবদুর রশীদ খানের কনিষ্ঠ পুত্র আসাদুজ্জামান জুয়েল। শিক্ষা জীবন শুরু মায়ের হাত ধরে। তুলাসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি; শরীয়তপুর সরকারী মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি; জাজিরা ডিগ্রী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ হতে বি.কম পাস করার পর প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ হতে এলএল.বি ও এলএল.এম সম্পন্ন করেন। প্রতিটি ক্যাম্পাসেই কেটেছে তার মধুর দিনগুলো। ২০০৯ সালের ০৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভূক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা বার এসোসিয়েশনে সদস্যভূক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ জেলার শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যভূক্ত হয়ে বর্তমানে আইন পেশার সাথে যুক্ত আছেন। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতি, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও শরীয়তপুর জেলা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সদস্য হিসাবে সার্বক্ষণিক আইন পেশায় নিয়োজিত।
আসাদুজ্জামান জুয়েল লেখালিখি করেন মনের টানে। একই সাথে আইন পেশা ও লেখালিখিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্ম জীবন শুরু লেখালিখির মাধ্যমে। দৈনিক ভোরের কাগজ দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু। এর পর দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠ, দৈনিক গণমুক্তিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ও সাপ্তাহিকে কাজ করেছেন।
আসাদুজ্জামান জুয়েল লেখালিখি করেন বিভিন্ন ব্লগে। আসাদুজ্জামান জুয়েলের নিজস্ব ওয়েবসাইট িি.িধংধফলববিষ.পড়স সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘সরল মানুষ-সহজ কথা’ ব্যানারে নিয়মিত কলাম লেখেন।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে তিনবার ও দুইবার লাইব্রেরী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শরীয়তপুর জেলা ইউনিটের জীবন সদস্য। বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত আছেন।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শরীয়তপুর এর প্যানেল আইনজীবী হিসাবেও কর্মরত আছেন। গরীব-দুঃখীদের মামলা পরিচালনার জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা শরীয়তপুর জেলা শাখার প্যানেল আইনজীবী হিসাবে দুস্থ্যদের আইনগত সহায়তা প্রদান কাজে নিষ্ঠার সাথে জড়িত আছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ও শিক্ষানিকেতন কর্ম কেন্দ্রীক পাঠাগার শরীয়তপুরের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ান বার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইনটেনসিভ ট্রায়েল এডভোকেসী ওয়ার্কশপ, ২০১০ সালে এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার এর উদ্যোগে হিউম্যান রাইটস এন্ড রুল অফ ‘ল’, ২০০২ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এর উদ্যোগে শিশু ও নারী বিষয়ক রিপোর্টিং কর্মশালা, ১৯৯৯ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত কম্পিউটার ট্রেড প্রশিক্ষণ, ২০১০ সালে ইউএসএইড-প্রগতি-কালেরকন্ঠ আয়োজিত দুর্নীতি বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী ও তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণসহ পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। লেখালিখি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে সমাজ সংস্কারে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আসাদুজ্জামান জুয়েলের অর্ধপ্রাণ তার কন্যা রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী। সহধর্মীনি মুনমুন সুলতানা লুনা পেশায় শিক্ষিকা। দুই বোন রেহানা আক্তার রেখা এবং কহিনুর আক্তার শিখা এবং একমাত্র ভাই মোহাম্মদ রুহুল আমীন খান আজাদ একজন প্রবাসী। আসাদুজ্জামান জুয়েলের বাবা আবদুর রশীদ খান শরীয়তপুরের একজন ভাষা সৈনিক।

 

 

দিনাজপুর বানিজ্য মেলার উদ্বোধন
                                  

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি : আজ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে দিনাজপুর গোর এ শহীদ ময়দানে বিকেল ৪:৩০ এ দিনাজপুর বানিজ্যমেলা ২০২০ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য ও মাননীয় হুইপ, ইকবালুর রহিম এমপি।

সভাপতিত্ব করেন সুজাউর রব চৌধুরী, সভাপতি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টি আয়োজনে। চমক পূর্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিনাজপুর বাণিজ্য মেলার প্রধান অতিথি ইকবালুর রহিম এমপি ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম। পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিপিএম (বার)। মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বাবু। আহবায়ক দিনাজপুর বানিজ্য মেলা ২০২০ উপ কমিটি। পরিচালক, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি।

 

 

বাংলা মোদের মাতৃভাষা
                                  

বেলাল হোসেন রৌমারী : বাংলা মোদের মাতৃভাষা বাংলা মোদের প্রাণ।

বাংলা ভাষার জন্য কত বীর যে দিল জান।

বাংলা ভাষায় হাজার গায়ক গায় যে মধুর গান,

বাংলা গানে বাঙ্গালিদের জুড়ায় মনপ্রাণ।

বাংলা ভাষায় মধুর সুরে ডাকছে বিভাবরী

বাংলা মায়ের ডাক শুনে গোমনযে ওঠে ভরি।

বাংলা ভাষায় কথা বলে বাঙ্গালিরা ভাই,

বাংলা ভাষার মতো এতো মধুর ভাষা নাই।

বাংলা ভাষায় রাত্রী জেগে লিখছি কত ছড়া,

বাংলা মোদের প্রাণের ভাষা ছন্দ তালে গড়া।

বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দিল আরো দিল জান

বাংলা মোদের মাতৃভাষা বাংলা মোদের প্রাণ।

 

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষিকাকে শীলতাহানি,কারাদন্ড-১
                                  

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক প্রাথমিক শিক্ষিকাকে শ-ীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগে মিরাজ গাজী (২০) নামের এক যুবককে গতকাল রোববার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বস এ দন্ড প্রদান করেন। দন্ড প্রাপ্ত মিরাজ গাজী উপজেলার ছোটশৌলা গ্রামের হানিফ গাজীর ছেলে।
ওই শিক্ষিকা জানান, রোববার উপজেলা সদরে ইউআরসি প্রশিক্ষন শেষে সন্ধ্যায় ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ছোটশৌলা গ্রামে পৌছলে প্রতিবেশী মিরাজ গাজী শীললতাহানীর চেষ্টা করে করে। এ সময়ে ওই শিক্ষিকা দ্রুত বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় ভগিরথপুর বাজারস্থ পুলিশ ফাড়িতে অভিযোগ দেয়। পরে পুলিশ ওই মিরাজ গাজীকে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বাস এর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।

মিরাজ গাজী ভ্রাম্যমান আদালতে তার দোষ স্বীকার করে। ভ্রাম্যমান আদালত শীলতাহানীর উদেশ্য আক্রমন করার অপরাধে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।


প্রশাসনের সাহসী নির্বাহী কর্মকর্তা
                                  

মহিউদ্দিন তুষার : মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে অসাধারণ আপসহীনতা, বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। অত্যন্ত স্বাধীনচেতা, প্রতিবাদী, প্রাণচঞ্চল এবং কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল হিসেবেই বেশ পরিচিত। আলোকিত, আলোচিত এবং সাহসী এই কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ যোগদান করেন। সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে তিনি সর্বস্থরের মানুষের মন জয় করেছেন।    

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, আবেদন-নিবেদন শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করে জনগণকে সেবা প্রদান করে চলেছেন। এ ছাড়া তিনি মোবাইলে বা লিখিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ এবং আবেদন নিবেদন নিষ্পত্তি করেন। এতে জনদুর্ভোগ লাঘবসহ সরকারের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছেন। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ যেমন সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে প্রশংসিত ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং রোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে জনমত গড়ে তুলছেন। আর এসব বিষয়ে সফলতা পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা যাতে নিয়মিত পরিদর্শন করেন, সে ব্যাপারে উৎসাহ দেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়াও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছেন। তার নেতৃত্বে এ বছর সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে রূপগঞ্জে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার উপযোগী আবহ তৈরি হয়েছে। এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অত্র এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

মমতাজ বেগম (মম) ২৯তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডার। কর্মজীবনের শুরুতে ২০১১ সালে ডিসি অফিসে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের মে মাসে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে একই পদে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে যোগদান করেন। সেখান থেকে ২০১৭ সালে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে ফের ডিসি অফিসে যোগদান করেন। তার পৈতৃক নিবাস শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব সরদার, মাতা আলেয়া বেগম। স্বামী শেখ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সরোয়ার। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। মমতাজ বেগম দুই সন্তানের জননী। প্রথম কন্যাসন্তানের নাম শেখ আফরাহ ইসলাম ও ছেলে শেখ আবরার আযওয়াদ (আরাশ)। মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে মাধুর্য বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। বলা চলে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও প্রতিবাদী এবং প্রচণ্ড প্রাণচঞ্চল, কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব হলেন প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল মমতাজ বেগম।

২০১৩ সাল। দেশে শুরু হয় সরকার পতনের জন্য জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন। ঢাকা ডিসি অফিসে থাকা অবস্থায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করেন একাধারে ৪ মাস। যদিও সারা বছর ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করে ছিলেন, তবে ঐ সময়টা ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রতিদিন বাস ট্রাকের ধর্মঘট হতো এবং মানুষের শরীরে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরসিন ঢেলে তাদের পুড়িয়ে মারা হতো, সেই সময়টায় সফলতার সাথে ম্যাজিস্ট্রেসি করাটা ছিলো বড় চ্যালেঞ্জের। ২০১৩ সালে ভাটারায় শিবিরের বড় আস্তানা ছিলো। ওখান থেকেই জ্বালাও পোড়াওয়ের সংকেত দেওয়া হতো। ভাটারাকে বলা হতো শিবিরের ঘাঁটি। একজন নারী কর্মকর্তা হয়ে এমন বিপজ্জনক স্থানে মমতাজ বেগম নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন সাহসিকতার সাথে। রাত দুইটা কিংবা তিনটার সময় ফোন এলেই ঘটনাস্থলে চলে যেতেন। সেখানে গিয়ে আইনগত যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিতেন। একদিন সকাল ১১টার দিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। ঐ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে শিবির ক্যাডাররা ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে তাদের অনেকেই দৌড়ে চলে যান, কিন্তু মমতাজ বেগম সামনের দিকে এগিয়ে যান। তার সাহসিকতা দেখে পরক্ষণে সাথে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘সাহসী বস’ বলে সম্মান করেন।

২০১৫ সাল। মমতাজ বেগম সবেমাত্র সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এক ভদ্রলোকের জমির সিটি রেকর্ডে সামান্য ভুল ছিলো, ফলে তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন রেকর্ডটি সংশোধনের জন্য। দখল এবং জমির দলিল সূত্রে তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ হলেও নতুন রেকর্ডে উল্লেখ করা হয় ১১ অযুতাংশ। মমতাজ বেগম যোগদানের দু’দিন পরই ওই লোকটি আসলে। তিনি জমির সমস্যা সম্পর্কে তাকে অবগত করলেন। তিনি বললেন তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ কিন্তু রেকর্ডে উঠেছে মাত্র ১১ অযুতাংশ। তবে আমি বর্তমানে ১১ শতাংশ জায়গার দখলে রয়েছি। এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্য দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছেন না। তিনি আরও জানান কোনো এক ব্যক্তির সাথে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সমাধান করতে চাইলেও সেই পক্ষ ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। যার জন্য ৬ বছরেও সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীর মুখে এমন কথা শুনে মমতাজ বেগম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে লোক পাঠান এবং বিবরণের সত্যতা পেলে পরের দিন বিনা পয়সায় জমির সমস্যা সমাধান করে দেন।

২০১৯ সাল। রূপগঞ্জে যোগদানের পরের দিনই এক সংখ্যালঘু বৃদ্ধা তার অফিসে এসে হাজির। মহিলার অভিযোগ স্বামীর কেনা ৫ শতাংশ জমির মধ্যে তার বাড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় চারপাশের লোকজন তাদের জমি একটু একটু করে দখলে নিতে থাকে। একটা সময় তাদের ঘর থেকে বের হবার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ওই বৃদ্ধা। মমতাজ বেগম তার সমস্যা শোনার পর বৃদ্ধার বাড়িতে উপজেলার লোকজন পাঠান ঘটনার সত্যতা জানার জন্য। বৃদ্ধার অভিযোগের সত্যতা মিললে জমির দখলদারদের তা সমাধান করার সময় দিলেও তারা সমাধানে আসতে পারেননি। পরে মমতাজ বেগম দায়িত্ব নিয়ে বৃদ্ধার জমিতে বাউন্ডারি করে দেন। এই ঘটনার পর উপজেলার সবশ্রেণির মানুষ তার কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

মমতাজ বেগম রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত হবার পর ৩৭টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে সবার মাঝে জনসচেতনতামূলক সাড়া ফেলেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৪ কি:মি: জনসচেতনতামূলক স্থিরচিত্র তৈরি করে তিনি শুধু রূপগঞ্জে নয়, সারা বাংলাদেশে আলোচিত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার পরিকল্পনায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন সারাদেশের উপজেলার জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

আরও কিছু ঘটনা
খয়তুন নেছা (৭৫)। স্বামী মৃত ছাদেম আলী বেপারী। আর্থিক সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগমের দপ্তরে আসেন। তার পায়ের হাড় ভাঙ্গা থাকায় চলাচলে অক্ষম এই নারী অন্যের কাঁধে ভর করে এসেছেন। মমতাময়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তৎক্ষণিক খয়তুন নেছাকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করে তার চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনার চেষ্টা করেন। হুইল চেয়ারটি পেয়ে খয়তুন নেছা মমতাজ বেগমের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান।

তিন বোনের সবার বড় রূপা। সংসারে অভাব অনটনে পড়াশুনার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় ওর। রূপাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধন্ত নেয় পরিবার। সেই খবর শুনে মমতাজ বেগম ছুটে যান ওদের বাড়িতে। পরিবারকে বাল্যবিবাহের কুফল বুঝিয়ে মেয়েটির পড়াশুনার দায়িত্ব নেন এই কর্মকর্তা।
মমতাজ বেগম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অপরাধে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ আইন ১৯১০ এর ৪০(ক) ও ৪৪ ধারায় জরিমানা করেন। এছাড়া উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকগণের নিকট হতে আমন ধান ২০১৯-২০২০ সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।
বাংলাদেশে কোনো যুবক বেকার থাকবে না এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সারা দেশে যুবকদেরকে ভ্যানের (গাড়ি) মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রূপগঞ্জ উপজেলায় মাসব্যাপী যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করান মমতাজ বেগম।

দেশে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই কনকনে শীতে যারা অসহায় জীবন যাপন করছেন এমন হতদরিদ্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শীতার্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করতে রাতে কম্বল বিতরণ করেন।

চার বছর আগে আগুনে পুড়ে যায় রেখা দম্পতির ঘর। তার পর থেকেই পলিথিন মোড়ানো ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছিলেন এই পরিবারটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ঘরের জন্য আবেদন করলে তাৎক্ষণিক তিনি এক স্টাফকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান। আবেদনের সত্যতা পাওয়ার পরপরই মমতাজ বেগম দ্রুতই টিন ও নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে যান রেখা দম্পতির বাড়িতে।

এতো গেল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু ঘটনার বিবরণ। বাংলাদেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রায় নারীর অগ্রগতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছেন মমতাজ বেগম। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। মমতাজ বেগম মনে করেন, প্রশাসনে চাকরি করলে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা যায়। প্রশাসনে চাকরির মাধ্যমে জনবান্ধব ইচ্ছাগুলো পূরণ করাও সহজ হয়। তিনি বলেন, সমাজের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষের ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার স্বামী পরিত্যক্ত মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। সেইসঙ্গে নারী শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে ওদের বাইসাইকেল, স্কুল ব্যাগ, ছাতাসহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য সেবা কর্নার খোলা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সকল ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা। প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকলে সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারেন। ইউএনও হিসেবে আইন-শৃঙ্খলাসহ সব দিক দেখভাল করতে হয়। সে ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছি। আমি মনে করি, আমরা সবাই মানুষ। কে পুলিশ, কে ইউএনও, কে এমপি, মন্ত্রী এটা বড় কথা নয়। মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি, মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই।

প্রশাসনের সফল কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। যার অনন্য সাহসিকতা প্রশাসনের ভাবমূর্তি পর্বতসমান উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তার সততা অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত। যিনি সহানুভূতি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার লক্ষ্য একটাই অপরাধ দমন, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণা তিনি পাল্টে দিয়েছেন। চাকরির ছক বাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মতো সেবাপ্রার্থী মানুষকে পরম মমতায় কাছে টেনেছেন, প্রাণ খুলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের পুরনো দীর্ঘসূত্রতার প্রথা ভেঙে তাৎক্ষণিক সিন্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখামাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠে ‘না’ বলেছেন, প্রতিরোধ করেছেন কিন্তু আপস করেননি। প্রশাসনে এমন মমতাজ বেগম আরও প্রয়োজন। যারা পাল্টে দিবে ঘুণেধরা সমাজকে, দেশকে করবে দুর্নীতিমুক্ত।

একুশে বইমেলায় মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪টি নতুন বই
                                  

মনির হোসেন,মোংলা : মোংলা সাহিত্য পরিষদের প্রকাশনায় এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসেছে ৪টি নতুন বই। বইগুলো হল-মোংলা উপজেলার ৩৩ জন লেখকের ৫৬ টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত যৌথকাব্যগ্রন্থ "একুশের বর্ণমালা"। বইটি মোংলা সাহিত্য পরিষদের দ্বিতীয় যৌথকাব্যগ্রন্থ। দক্ষিণ বঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তরুন লেখক আজিজ মোড়লের লেখা দক্ষিণ বঙ্গে হযরত মেছেরশাহ্ (রহঃ) প্রকাশিত হয়েছে এবারের বই মেলায়।

বইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ মোড়ল বলেন, মোংলা, রামপাল তথা দক্ষিণানঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। যা কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে আমাদের সাহিত্যাঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। মোংলা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম চমক হিসেবে এবারের বই মেলায় এসেছে তরুন প্রজম্মের জনপ্রিয় লেখিকা আসমা আক্তার কাজলের একক কাব্যগ্রন্থ "নীল অভিমানে"।

প্রেম বিরহের অসাধারন সংমিশ্রনে লেখা বইটি পাঠক প্রিয়তা পাবেন বলে জানান কবি আসমা আক্তার কাজল। `ভালবাসার সাত রঙ` নিয়ে এবারের একুশে বই মেলায় হাজির হয়েছেন আরেক পাঠক নন্দিত কবি জাহিদুর রহমান। এটা তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ।

বইটি প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন মোংলা সাহিত্য পরিষদ। এবছর মোংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত সবগুলো বই  সব শ্রেণীর পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়তা পাবে বলে এ প্রতিবেদককে জানান সংগঠনের আহবায়ক মনির হোসেন। তিনি আরো জানান, মোংলা উপজেলায় প্রথমবারের মত আমাদের সংগঠন থেকে একসঙ্গে ৪ টি বই প্রকাশ করেছি। আমাদের কাজগুলো দেখে বর্তমান প্রজন্মের তরুনরা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বইগুলো আগামী ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে  মোংলার শহিদ মিনার চত্বরে  তিনদিনব্যাপী বই মেলায় পাওয়া যাবে। এছাড়াও বই মেলার প্রথম দিনে মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪ টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন একসাথেই করা হবে।

 

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কতিপয় সমাজিক প্রতিবন্ধকতা
                                  

মোঃ আরিফুল ইসলাম সরদার :

 শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। যা ব্যতীত ব্যক্তি উন্নয়ন, সমাজের উন্নয়ন, রাষ্ট্রের উন্নয়নসহ যাবতীয় উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। একসময় আমরা নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশ ছিলাম। তা থেকে আমাদের শিক্ষাসহ সকল সূচকে অনেক উন্নতি হয়েছে। যার কারণে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে ২০৪১ সালে একটি উন্নত বাংলাদেলের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব। যার জন্য প্রয়োজন আমাদের সামগ্রিক প্রচেষ্টা।

 

আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যাল্ডসহ বিশ্বের উন্নতগুলো দেশগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখি প্রত্যেকটি দেশেরই শিক্ষার হার শতভাগ বা তার কাছাকাছি। আর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯। শতভাগ অর্জনই আমাদের লক্ষ্য। দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ।

 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুদের বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৭.৯৪%। প্রাথমিক শিক্ষাচক্রে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে ঝরে পড়ছে। পিতামাতার অসচেতনতা, দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, অশিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ এর কারণে শিশুরা শিক্ষার সোপান থেকে ঝরে পড়ছে। এই ঝরে পড়ার হার গত দশ বছরে অর্ধেক কমেছে। এভাবে কমতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা শূন্যের কোটায় আসবে বলে আমরা আশা করি।

 

অভিভাকদের অসচেতনতার কারনে শিক্ষার্থরা ঝরে পড়ে। এটা অনেকটাই নিরসন করা যাচ্ছে মা/অভিভাবক সমাবেশ, উঠান বৈঠক,মত বিনিময় সভা কিংবা হোম ভিজিটের মাধ্যমে। এগুলো যত বেশি বেশি করা যাবে অভিভাবকগনের সচেতনতা ততই বৃদ্ধি পাবে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে শতভাগ উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ রুপালী ব্যাংক শিওর ক্যাশের মাধ্যমে মায়েদের একাউন্টে চলে যায়। এবং উপবৃত্তি পেতে হলে শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে ৮৫ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হয় এবং পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। শতভাগ উপবৃত্তি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মায়েদের সচেতনতায় শিশুরা মিড ডে মীল নিয়ে ইউনিফর্ম পড়ে শিক্ষা উপকরণ নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। আমরা মা সমাবেশসহ প্রতিটি অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন করে থাকি।

 

এর পরে রয়েছে শিশু শ্রম। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি যা শিশুদের অল্প বয়সেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। শিশুরা অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন মৌসুমে কাজে জড়িয়ে পড়ে। কোন কোন অঞ্চলে শিশুরা মাছ ধরতে জেলের পেশা কিংবা ইটভাটায় ঝুকিপূর্ণ কাজ করে। ইটভাটায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রি হয়ে যায়।আবার কোথাও কোথাও ধান, সয়াবিন,  বাদামসহ মৌসুমী শস্যক্ষেতে কাজ করতে চলে যায়। সরেজমিনে পরিদর্শনে এই সকল চিত্র আমরা পাই। এক্ষেত্রে অভিভাবকগনের উদাসীনতা এবং অতি লোভ চরমভাবে দায়ী। ঝরে পড়া রোধে উদাসীন হলে চলবে না। অভিভাবকগণের সহযোগিতা অনেক বেশি প্রয়োজন।

 

দারিদ্রতাকে আমরা আস্তে আস্তে বিদায় দিচ্ছি। এটা খুব একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন।এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না। আমরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন আমাদের সর্বোচ্চ ১ টা কিংবা ২ টা জামা ছিল। এগুলাই আমরা অদল বদল করে গায়ে দিতাম। আর এখন সবারই কম বেশি ৫/৬টা জামা ঘরে থাকে।মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হচ্ছে। দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে আমরা ধীরে ধীরে মুক্ত হচ্ছি। এটাও একসময় পুরোপুরি নিবারণ করা সম্ভব হবে।

 

বাল্যবিবাহের প্রবণতা থেকে এখনও দুর্গম চর অঞ্চলগুলো মুক্ত হতে পারেনি। সরকারের বিধি নিষেধ সত্ত্বেও অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের (বিশেষ করে কন্যা সন্তান) প্রশাসনে অগোচরে গোপনে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বিয়ে দিয়ে দেন। আইন সম্পর্কে সচেতন না হলে, আইন না মানলে নিজের ক্ষতি তথা দেশেরও ক্ষতি।এক্ষেত্রেও সরকারকে সহযোগিতার জন্য অভিভাবকগণের সচেতনতা জরুরী।

 

পৃথিবীতে যে জাতি যত শক্ষিত-সে জাতি তত উন্নত। তাই বাঙ্গালী জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে বর্তমান সরকার আমাদের দেশে শতবাগ শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু অভিনব শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন। কিন্তু তারপরও শতভাগ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শীক্ষার্থী ঝরে পড়াই মূল কারণ। বাল্য বিবাহ, দারিদ্রতা, অভিভাবকের অসচেতনতা,শিক্ষা শেষে হতাশা, পারিবারিক অস্বচ্ছলতা, সমাজিক অবক্ষয়, প্রভৃতি কারণে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে।

 

এদেশে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, অনেক দরিদ্র পরিবারে বাবা মারা গেছে কিংবা বিকলঙ্গ হয়ে পড়ে আছে। এধরণের পরিবারের শিশু সন্তানগুলি মায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কিন্তু মায়েরও অর্থ উর্পাজনের কোন পথ নেই। বাধ্য হয়ে  অন্যের বাড়ীতে ঝি-এর কাজ করেন কিংবা ছোটখাট ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। আবার অনেকে মাঠে দিন মজুরীর কাজও করেন। সরকার থেকে এসব পরিবার যতটুকু সহযোগিতা পান তা নিতান্তই অপ্রতুল বিধায় বাধ্য হয়ে মায়েরা কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে কাজে লাগিয়ে দেন। পরিসংখ্যান মতে, এ ধরণের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার বেশি।

 

এ মুহুর্তে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবুল কালামের একটি উক্তি মনে পড়ে যায়। তিনি বলেছিলেন স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ। স্বপ্ন হলো সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।

 

আমরা স্বপ্ন দেখি উন্নত বাংলাদেশের।এটি বাস্তবে পরিনত হোক তা আমাদের সকলেরই প্রত্যাশা। মানুষ তার প্রত্যাশার সমান বড়। এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার।

 

লেখক : উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী

 

অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : অধ্যাপক ড.আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর ‘নক্ষত্র নিভে যায়’এর প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও

সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির উপর আলোচনা করেন

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, শিক্ষাবিদ ও কথাশিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।

পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রবাদপ্রতিম কবি ফায়েজ আহমেদ ফায়েজের আইকনিক গীতিকবিতা `হাম দেখেঙ্গে` হিন্দু-বিরোধী কি না,

তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি।

গত ১৭ ডিসেম্বর কানপুর আইআইটি-র একদল ছাত্র পুলিশের হাতে নির্যাতিত জামিয়া মিলিয়ার ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানাতে ক্যাম্পাসে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল -

আর সেখানেই গাওয়া হয় ফায়েজের `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু এই গান হিন্দুবিরোধী - প্রতিষ্ঠানের এক অধ্যাপক এই মর্মে অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে,

যার নিন্দায় সরব হয়েছেন ভারতের বহু শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট ও ইতিহাসবিদ।

১৯৭৯ সালে নিউ ইয়র্কে বসে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত কবি ফায়েজ পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউল হকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন তার বিখ্যাত নজ্ম বা কবিতা `হাম দেখেঙ্গে` -

যা পরবর্তী চার দশকে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের কন্ঠস্বর।

ভারতে এফএম রেডিও-র সুপরিচিত জকি সায়মা  বলছিলেন,

"১৯৮৫ সালে লাহোরের এক স্টেডিয়ামে বিখ্যাত গজল গায়িকা ইকবাল বানো গাইতে এসেছিলেন কালো শাড়ি পড়ে - প্রতিবাদের রং হিসেবে পাকিস্তানে যা তখন নিষিদ্ধ ছিল।"

"আর তারপর যখন তিনি ফায়েজের `হাম দিখেঙ্গে` গান ধরলেন, পঞ্চাশ হাজার শ্রোতা তার সঙ্গে গলা মেলাল - মুহুর্মুহু উঠতে লাগল `ইনকিলাব জিন্দাবাদ` স্লোগান।"

স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তখন থেকেই তুমুল জনপ্রিয় `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ছাত্ররা কানপুর আইআইটি-র ক্যাম্পাসে যখন সপ্তাহদুয়েক আগে এই গানটিকেই অস্ত্র করে,

তখনই `হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত লাগার` অভিযোগ ঠুকে দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ভাশিমন্ত শর্মা।

তার ভিত্তিতে কানপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে -

যে পদক্ষেপে পরিষ্কার সাম্প্রদায়িক নকশা দেখছেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট বৃন্দা কারাট।

 মিস কারাট বলছিলেন, "ফায়েজ ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট।

তার লেখাতে তিনি সব সময় ধর্মীয় মেটাফর বা রূপক ব্যবহার করতেন, যেটা তখন ভীষণই জনপ্রিয় আর কার্যকরী ছিল।"

"আর সারা জীবন উনি যা লিখেছেন, ওনার সেই পুরো ইতিহাসটাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

তার জন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা চিরকাল তাকে আক্রমেণের নিশানা করেছে।"

"১৯৫১ সাল থেকে টানা চার বছর তিনি জেল খেটেছেন দেশদ্রোহের অভিযোগে। কমিউনিস্ট ভাবধারা প্রচারের জন্য ১৯৫৮-তে পাকিস্তান সরকার আবার তাকে জেলে পুরেছিল।"

"ফলে আজকের ভারতেও যারা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে, যারা ডিসেন্ট বা প্রতিবাদ সহ্য করতে পারেন না -

তারাই ফায়েজকে সাম্প্রদায়িকতার রঙে চোবাতে চাইছেন। ঈশ্বর তাদের রক্ষা করুন, আমার এটুকুই বলার", মন্তব্য বৃন্দা কারাটের।

আজীবন `কমিউনিস্ট` ফায়েজ আহমেদ ফায়েজ ছিলেন পাকিস্তানে সেই হাতে-গোনা বুদ্ধিজীবীদের একজন - যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

১৯৭১-র মার্চেই পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা `হাজার করো মেরে তন সে` (আমার থেকে দূরে থাকো) - যে কবিতাটি `বাংলাদেশ-১` নামেও পরিচিত।

সেই ফায়েজের কবিতার পংক্তিকে হিন্দুবিরোধী বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু হতেই পারে না - বলছেন ভারতের বিখ্যাত কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার।

জাভেদ আখতারের কথায়, "হাম দিখেঙ্গের এক জায়গায় আছে - `গুঞ্জেগা অনলহক কা নাড়া`। এই অনলহক কি জিনিস, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

তারা জানেন না, অনলহক মানে অহম ব্রহ্ম, আমিই ব্রহ্ম।"

"এটা কিন্তু ইসলামী ভাবনা নয় - বরং এটা অদ্বৈত বেদান্তের দর্শন, সুফিবাদের ভাবনা - যেখানে স্রষ্টা আর সৃষ্টি এক হয়ে যান!"

প্রবীণ ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবও সখেদে বলছেন, "আপত্তি থাকলে ফায়েজ পড়ার দরকার নেই - তাতে লোকসান তোমাদেরই।"

"কই, পাকিস্তানের মুসলিমদের তো `অনলহক কা নাড়া` পড়তে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না?"

"ভারতীয়দের অসুবিধা হলে পড়বেন না, মিটে গেল। কিন্তু ফায়েজের সঙ্গে হিন্দুত্বের কী সম্পর্ক?", প্রশ্ন ইরফান হাবিবের।

ফায়েজকে হিন্দুত্বের প্রিজম দিয়ে বিচার করতে গিয়ে ভারতের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ্যার প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি যে নিজেদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

চাপের মুখে এখন তারা সুর কিছুটা নরম করলেও সেই তদন্ত কমিটি কিন্তু এখনও ভেঙে দেয়া হয়নি!

পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পৈত্রিক বাড়ির আঙিনায় প্রিয় ডালিম গাছের নিচে কবির কবরে ফরিদপুর ৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর পক্ষে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, জসীম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা, আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। 

পরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশার্রফ আলী, অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্কর, অধ্যাপক রেজভী জামান, আসমা আক্তার মুক্তা, কবি আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও জীবন সংগ্রাম এবং পল্লী প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় ছিল পল্লীকবির লেখনীর বিষয়। তিনি বাংলা সাহিত্যে নবধারা সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন কবি। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ৭৩ বছর বয়সে পল্লীকবি ঢাকায় মারা যান। পরে পৈত্রিক বাড়ির আঙিনায় প্রিয় ডালিম গাছের নিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

 

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 

অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
                                  
ডেস্ক রিপোর্ট : তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, নরওয়ের রাজার প্রাক্তন জামাতা আরি বেন ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।
বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও নাটকের লেখক বেহন ২০০২ সালে রাজকন্যা মার্থা লুইসকে বিয়ে করেছিলেন তবে দু`বছর আগে এই যুগলটির তালাক হয়েছিল।
তার মুখপাত্র নরওয়ের এনটিবি এজেন্সিকে বলেছিলেন যে বেহন তার নিজের জীবন নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে নরওয়ের রাজা এবং রানী বলেছিলেন যে তিনি "বহু বছর ধরে আমাদের পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন এবং আমরা তাঁর সাথে উষ্ণ এবং ভাল স্মৃতি রাখি"।
তাদের বিয়ের সময় ডেনমার্কে জন্মগ্রহণকারী বেনকে কিং হ্যারাল্ড এবং কুইন সোনজার একমাত্র কন্যা এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রিন্সেস মার্থা লুইসের বিতর্কিত অংশীদার হিসাবে দেখা হয়েছিল।
বেহন তার ভবিষ্যতের স্ত্রীর সাথে তার মায়ের সাথে দেখা করেছিলেন, যিনি ছিলেন রাজকন্যার ফিজিওথেরাপি শিক্ষক। 
তিনি তখন সাদ অ্যাজ হেল নামে একটি ছোট বইয়ের লেখক হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন তবে বিতর্ককে আকৃষ্ট করেছিলেন এবং লাস ভেগাসে মাদক সেবনকারী পতিতাদের সাথে পার্টি করার চিত্রায়িত হয়েছিল।
এই দম্পতির তিন কন্যা ছিল-মওদ, লেয়া এবং এমা-তবে এক বছর পরে তালাক দেওয়ার আগে ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে গেল।  
এ সময় রাজকন্যা এক বিবৃতিতে বলেছিল :"আমরা অপরাধী বোধ করি কারণ আমরা আমাদের সন্তানদের প্রাপ্য নিরাপদ বন্দরেরটি তৈরি করতে পারছি না।"
ডিসেম্বর ২০১৭ সালে, বেহন নোবেল শান্তি পুরষ্কার কনসার্টের পরে তাকে হতাশাগ্রস্থ বলে মনে করেছিলেন হলিউড অভিনেতা কেভিন স্পেসি। 
তিনি জানান, অভিনেতা একটি টেবিলের নীচে পৌঁছেছিলেন এবং অনুপযুক্তভাবে তাকে স্পর্শ করেছিলেন। 
স্পেসি অভিযোগটির কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, একইসাথে তৈরি করা অনেকের মধ্যে একটি।
বাদশাহ হ্যারাল্ড এবং কুইন সোনজা তাদের বিবৃতিতে বেহান সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমরা তাকে চিনি যে আমরা কৃতজ্ঞ।" 
"আমরা দুঃখিত যে আমাদের নাতি-নাতনিরা এখন তাদের প্রিয় বাবাকে হারিয়েছে।"
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ জর্জ এলিয়টের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস `মিডলমার্চ` বইটি বিবিসির রেডিও ফোরকে এমন দারুণ কিছু মোটা মোটা বই পড়ার কথা ভাবতে বাধ্য করেছে।

যে উপন্যাসগুলো বিশাল হয় সেই মোটা বইগুলো সামলানো বা সেগুলো পড়ার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহা দেখা যায়। আসলে অনীহার কিছু নেই।

বিশেষত ই-রিডারের যুগে হাজার হাজার-শব্দকে পকেটে নিয়ে চলা কোন সমস্যা নয়।

এখানে সাহিত্যের কয়েকটি দুর্দান্ত উপন্যাসের নাম দেয়া হল যা সবার তালিকায় যুক্ত করা উচিত। আপনার সাহস থাকলে পড়তে পারেন...

১. হরম্যান মেলভিলের `মোবি-ডিক (দ্য হোয়েল)` (৭২০ পৃষ্ঠা)

তালিকাটি শুরু করছি ছোট একটি ৭২০ পৃষ্ঠার বই দিয়ে, এটি আমেরিকান লেখক মেলভিলের এক অনবদ্য সৃষ্টি।

মোবি-ডিকের গল্প তার কেন্দ্রীয় চরিত্র আহাবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। আহাব হলেন, হোয়েলিং শিপ `পিকোড`এর ক্যাপ্টেন।

তিনি একটি বিশালাকার হোয়াইট স্পার্ম তিমির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কারণ এই তিমি তার হাঁটুর নীচ থেকে পায়ের অংশ নিয়ে গেছে।

এজন্য তিনি পাগলের মতো সাগরে সেই তিমির অনুসন্ধান করে চলেন।

গল্পের বর্ণনাকারী হলেন ইসমায়েল নামে এক নাবিক। এবং এই সাহিত্যে অন্যতম জনপ্রিয় প্রথম লাইনটি হল: "আমাকে ইসমায়েল বলে ডাকুন।"

বইটি অদ্ভুত, পাণ্ডিত্যপূর্ণ, মজার, গভীর অর্থবহ এবং আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হিসাবে বিবেচিত।

২. হানিয়া ইয়ানাগিহারের `আ লিটল লাইফ` (৭৩৬ পৃষ্ঠা)

এই বইটি ম্যান বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে চার বন্ধুর জীবনের গল্পকে ঘিরে। কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে তারা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে যায়।

জেবি হলেন শিল্পী, উইলিয়াম একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতা এবং ম্যালকম একজন স্থপতি। তবে জুড - নিজেকে ক্ষতি করতে চাওয়া একজন আইনজীবী।

যার রয়েছে একটি রহস্যময় অতীত- বইটি জুডের এই গল্পেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।

গল্পটি যতোই এগিয়ে যায়. জুডের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ততোই প্রকাশ পেতে থাকে।

গল্পটি মারাত্মক কষ্টের এবং মন খারাপ করে দেয়ার মতো।

যেখানে কয়েক দশকের ঘটনা বলা হয়েছে এবং বইটির শেষ পৃষ্ঠাগুলো পড়ার সময় আপনার চোখ বেয়ে কান্না আসবেই।

৩. জর্জ এলিয়টের `মিডলমার্চ` (৮৮০ পৃষ্ঠা)

বইটি এলিয়টের মাস্টারপিস হিসাবে বিবেচিত, উপন্যাসটি` মিডলমার্চ` নামে একটি কাল্পনিক শহরের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে।

ভদ্র সম্প্রদায়ের ভূমি মালিক থেকে শুরু করে খামার শ্রমিক বা কারখানার শ্রমিক পর্যন্ত সবার কথাই জায়গা পেয়েছে এই বইটিতে।

তবে মূল ফোকাস ছিল দুটি চরিত্রকে ঘিরে, একজন হলেন জেদি এবং দৃঢ়-ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন ডোরোথিয়া ব্রুক এবং অপরজন আদর্শবাদী টারটিয়াস লিডগেট।

তারা দুজনেই বিপর্যস্ত বৈবাহিক জীবনের শিকার ছিলেন।

বইটি ১৯শতকে লেখা হলেও এতে রয়েছে অবিশ্বাস্যরকম আধুনিকতা বোধ।

কারণ বইটিতে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এই ত্রুটিপূর্ণ দুনিয়ায় একজন নৈতিক ব্যক্তি হয়ে ওঠার পথে নানা সংগ্রামের মতো বড় থিমগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৪. চার্লস ডিকেন্সের `ব্লিক হাউস` (৯২৮ পৃষ্ঠা)

`ব্লিক হাউস` হল ডিকেন্সের দীর্ঘতম উপন্যাস। বইটি জার্নডাইস পরিবারের গল্পকে ঘিরে লেখা হয়েছে।

যাদের আশা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন বার বার ব্যর্থতার মুখে পড়ে।

কারণ জার্নডাইস অ্যান্ড জার্নডাইস মামলাটি দীর্ঘকাল ধরে আইনি মারপ্যাঁচের মধ্যে চলছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

মামলাটি এতোটাই জটিল হয়ে পড়েছে যে এখন বেঁচে থাকা উত্তরাধিকারদের কেউ এই মামলার কিছু বুঝতে পারে না।

ডিকেন্স এই বইটিতে `কোর্ট অব চ্যান্সেরি` নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, এই আদালতে একটি মামলা কয়েক দশক ধরে চলতে পারে।

উপন্যাসটিতে রয়েছে অসংখ্য চরিত্র এবং বেশ কয়েকটি পার্শ্ব কাহিনীও রয়েছে।৫. মিগুয়েল ডি সার্ভেন্টেসের `ডন কুইকসোট` (৯৭৬ পৃষ্ঠা)

ডন কুইকসোট একজন মধ্যবয়সী স্প্যানিশ ভদ্রলোক, যিনি বীরদের অনেক রোম্যান্স গাঁথা পড়েন।

সেই থেকে তিনি তলোয়ার তুলে একজন ভবঘুরে বীর হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের পুরানো ঘোড়া এবং বাস্তববাদী মানসিকতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী অভিযাত্রার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।

ডন কুইকসোটের "বীরত্বপূর্ণ" কাজের মধ্যে রয়েছে উইন্ডমিলের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করা যেগুলোকে তিনি দৈত্য ভেবে ভুল করেছিলেন এমনকি তিনি এক পাল ভেড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।

এই প্রভাবশালী সাহিত্যকে প্রায়শই প্রথম আধুনিক উপন্যাস হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

৬. ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের `ইনফিনিট জেস্ট` (১০৭৯ পৃষ্ঠা)

ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের এই মহাকাব্যটি অদূর ভবিষ্যতের ডিস্টোপিয়াকে ঘিরে লেখা হয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো এই তিন দেশ উত্তর আমেরিকান জাতিগত সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়।

ডিস্টোপিয়া হল সাহিত্যের একটি শাখা। যেখানে এমন একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে কথা বলা হয় যেখানে কেবল দুর্ভোগ আর অবিচারের রাজত্ব।

মূল গল্পটি শুরু হয় একটি টেনিস একাডেমী এবং মাদকাসক্ত নিরাময় সংস্থাকে কেন্দ্র করে।

মূল প্লট লাইনটি হল "ইনফিনিট জেস্ট" শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র দেখার আকাঙ্ক্ষা। যা দর্শকদের অনুভূতিহীন শিথিল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বইটি, এর পরীক্ষামূলক কাঠামোর জন্য বেশ জনপ্রিয় : এখানে ৩৮৮টি এন্ডনোটস রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটির নিজস্ব পাদটীকা রয়েছে।

আপনি যদি মনে করেন বইটি অসীম। তবে এটি মনে রাখা উচিত যে এই লেখাটি পড়ার পর আপনি লেখকের প্রাথমিক খসড়া থেকে ৬০০টি শব্দ বাদ দিতে পারেন।

৭. লিও টলস্টয়ের `ওয়ার অ্যান্ড পিস` (১২৯৬ পৃষ্ঠা)

টলস্টয়ের মহাকাব্যটি রাশিয়ার নেপোলিয়ন যুগকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্র এবং হোম ফ্রন্টের মধ্যে তিনটি কুখ্যাত চরিত্রকে ঘিরে গল্প এগিয়ে যায়।

চরিত্র তিনটি হল: পেরে বেজুখভ, একজন কাউন্টের অবৈধ পুত্র যিনি নিজের উত্তরাধিকারের জন্য লড়াই করছেন; প্রিন্স আন্দ্রেই বলকনস্কি, যিনি নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁর পরিবারকে ছেড়ে চলে এসেছেন; এবং নাতাশা রোস্তভ, একজন অভিজাত ব্যক্তির সুন্দরী অল্পবয়সী মেয়ে।

টলস্টয় একইসাথে সেনাবাহিনী এবং অভিজাতদের উপর যুদ্ধের প্রভাব কেমন হয়, সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন। (যদি বইটিকে খুব দীর্ঘ বলে মনে হয় তবে আপনি বিবিসি অ্যাডাপটেশনের সাহায্য নিতে পারেন)

৮. স্টিফেন কিং এর `দ্য স্ট্যান্ড` (১৩৪৪ পৃষ্ঠা)

দ্য স্ট্যান্ড বইটি হল একটি পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক হরর-ফ্যান্টাসি ঘরনার বই।

যেখানে বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা জৈব যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন অসুখ বিসুখের দ্রুত পরিবর্তনশীল স্ট্রেন নিয়ে গবেষণা করার কথা বলা হয়।

দুর্ঘটনাক্রমে সেই স্ট্রেনগুলো একদিন একটি সিকিওর ফ্যাসিলিটি থেকে বের হয়ে যায়। এবং এই মহামারীতে বিশ্বের ৯৯% এরও বেশি মানুষ মারা যায়।

বইটির দুটি বিকল্প সমাপ্তি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত ৮০০-পৃষ্ঠার মূল সংস্করণে সমাপ্তি ছিল এক রকম।

সেই সময় প্রকাশকরা এর চাইতে বড় পাণ্ডুলিপি মুদ্রণ করতে পারতেন না।

তবে ১৯৯১ সালের পরে, কিং-এর পূর্ণ, অপরিবর্তিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে আরও আশার সঞ্চার করে।

একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত যে, আপনি যে সংস্করণটি পড়েন না কেন, সেজন্য আপনাকে দীর্ঘ সময় সিটে বসে থাকতে হবে।

৯. বিক্রম শেঠের `আ সুইটেবল বয়` (১৫০৪ পৃষ্ঠা)

শেঠ-এর বিশাল উপন্যাসটি ১৯৫০-এর দশকের গোঁড়ার দিকে, স্বাধীনতা-উত্তর, ভারতবর্ষ বিভাজনের পরের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা হয়েছে।

যেখানে চারটি একান্নবর্তী পরিবারের ১৮ মাসের গল্প তুলে ধরা হয়।

গল্পের চরিত্র মিসেস রুপা মেহরার একমাত্র মেয়ে লতার জন্য একজন "উপযুক্ত পাত্র" খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়।

১০. মার্সেল প্রাউস্টের `ইন সার্চ অব লস্ট টাইম` (৩০৩১ পৃষ্ঠা)

হ্যাঁ, আপনি এটি সঠিকভাবে পড়েছেন।

প্রাউস্টের মহাকাব্য `আ লা রিচার্চে দু টেম্পস পারদু` (মূল ফরাসী শিরোনাম) বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। যাকে ১৩টি ভলিউমে ভাগ করা হয়েছে। বইটির মোট শব্দ সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখের মতো।

মূলত, এটি এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম উপন্যাস হিসাবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

এই বইটির সারসংক্ষেপ দেয়ার চেষ্টা করাও হবে ভুল।

তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে বইটির গল্প লেখকের শৈশবের স্মৃতি এবং যৌবনের অভিজ্ঞতাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

লেখক তার পুরো গল্পে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন এই ভেবে যে তার সময় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে এবং এই পৃথিবীর আসলে কোনও অর্থ নেই।

এই বইটি পড়তে আপনাকে অনেক, অনেক বেশি সময় দিতে হবে।

 

সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
                                  

কাজী নজরুল ইসলাম ঃ উৎপাদক কৃষকদের উৎসাহ মূল্য বা ন্যায্য মূল্য প্রদান করা, খাদ্যশস্যের বাজার দর যৌক্তিক পর্যায়ে স্থিতি রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছরই সংগ্রহ মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও গম সংগ্রহ করেন।

প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ শুনে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য শস্য ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র।

জানা গেছে কৃষকের সাথে প্রতারণার ভয়াবহ কাহিনী। পাওয়া গেছে মৃত ব্যক্তির নামে, কৃষি কাজের সাথে জরিত নয় এমন লোকদের থেকে ধান সংগ্রহের প্রমান।

কৃষকের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে শত শত মেট্রিক টন ধান কিনে তা ঢোকানো হলো সরকারি খাদ্যগুদামে।

আবার ধানের মূল্যও ব্যাংক থেকে পরিশোধ করা হলো ওই একই কৃষকের নামে। কিন্তু হতভাগা কৃষক এর কিছুই জানেন না।

কে তার নাম কৃষি তালিকায় অন্তরর্ভূক্ত করলো, কে তার নামের তালিকা খাদ্য বিভাগকে প্রদান করলো, কে তার নামে ব্যাংক হিসেব খুলে কেইই বা আবার টাকা তুলে নিলো, এসবের কোন তথ্যই জানা নেই গত মৌসুমে শরীয়তপুরের বোরো ধান চাষি অনেক কৃষকের কাছে।

বাংলাদেশ এখনো কৃষি নির্ভর দেশ। সরকার এখনো কৃষি অর্থনীতিকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে। কৃষি এবং কৃষককে বলা হচ্ছে দেশের প্রাণ। গোটা দেশবাসীর মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাদ্য তুলে দিতে সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত নিরন্তর হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে কৃষক ফসল উৎপাদন করে চলেছেন সভ্যতার গোড়া থেকেই।

মাত্র কিছুকাল আগেও দেশের বড় কৃষক বা গৃহস্তরাই ছিলেন দেশের সবচে স্বচ্ছল ও সুখী মানুষ।

এখনো বলা হয়ে থাকে দেশের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু সুখে নেই তারা।

দুখের ভাগারে ফেলে সুখ তাদের কপাল থেকে নির্বাসনে গেছে বহু আগেই। দিন দিন ধার দেনা মাথার বোঝাঁ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃষকের।

ঋণ-কর্জ করে, চড়া দরে সাব বীজ কিনে, দ্বিগুন-তিনগুন দরে শ্রমিক নিয়ে, মহাজন-এনজিও থেকে মোটা সুদে টাকা তুলে এখনো আমার দেশের কৃষককে ফসল ফলাতে হয় প্রতি মৌসুমে।

খড়া, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি সহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে অভাগা কৃষক যখন তার উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলেন, ঠিক তখনি তাদের কপাল পুড়ে।

কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধানের বাজারে ধ্বস নামে ভরা মৌসুমে। উৎপাদন ব্যয়ের ধারে কাছেও পৌছেনা ধানের মূল্য।

বাধ্য হয়ে সীমাহীন লোকসান মেনে নিয়ে পানির দরে ধান বিক্রি করতে হয় কৃষককে।

সাম্প্রতিক কালে সরকার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ধান ও গম ক্রয় পদ্ধতি শুরু করেছেন। এর আওতায় প্রতি কেজি বোরো ও আমন ধানের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ টাকায় প্রতি মন ধান খাদ্য বিভাগের কাছে বিক্রি করতে পারবেন উৎপাদক কৃষক।

তাতে কৃষকের খরচ পুষিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

কিন্তু কোন জেলায় কতজন কৃষক কত টন ধান উৎপাদন করলো, আর সরকার সংশ্লিষ্ট জেলায় কতজন কৃষকের কাছ থেকে কত টন বা মন ধান ক্রয় করলো এ নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

আমি এখানে দেশের একটি শতভাগ কৃষিনির্ভর পশ্চাদপদ জেলা শরীয়তপুরের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চেষ্টা করছি।

২০১৯ সালে বোরো মৌসুমে সরকার ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগষ্ট তারিখের মধ্যে দুই দফায় সারা দেশ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।

এর আওতায় শরীয়তপুর জেলায়ও ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেন।

জেলায় ২৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন করেছেন ৮৭ হাজার ৫০৮ জন কৃষক।

কৃষি বিভাগ জেলার ৬টি উপজেলা থেকে খাদ্য বিভাগকে উৎপাদক কৃষকের তালিকা দিয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩৯ জনের।

খাদ্য বিভাগ মাত্র ৮৪০ জন কৃষকের নামে ৫ কোটি ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ধান ক্রয় করেছে ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন।

জেলায় উৎপাদিত প্রায় পৌনে ২ লক্ষ টন ধানের বিপরীতে সরকার কিনলেন মাত্র ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন ধান। আর সাড়ে ৮৭ হাজার কৃষকের মধ্য থেকে মাত্র ৮৪০ জনের নামে ধান ক্রয় করলো খাদ্য বিভাগ।

যা উৎপাদিত ফসলের মাত্র ১.১৪% এবং উৎপাদক কৃষকের ১% এরও কম অর্থাৎ ০.৯৬%।

এটা শুধু বৈষম্যই নয়, ধান ক্রয়ের নামে কৃষকের সাথে সরকারের রীতিমত উপহাস।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে ৮৪০ বা সাড়ে ৮’শ কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে তার অধিকাংশ কৃষকই জানেন না তাদের নামে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় বা বিক্রি করা হয়েছে।

দেখা গেছে, ৩/৪ বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছেন এমন লোকের নামেও কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সরবরাহ করেছে এবং ওই সকল মৃত ব্যক্তিদের নামে ব্যাংকে হিসাব নাম্বার খুলে, তাদের নামে ধান বিক্রি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ধানের মূল্য তুলে নিয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

শুধু তাই নয়, কোন ভাবেই কৃষি কাজের সাথে জরিত নন এমনকি এক শতাংশ কৃষি জমিও নেই, পরিবারের কেউ কোন দিন কৃষি কাজ করেনি এমন লোকের নামও ধান সংগ্রহের তালিকায় পাওয়া গেছে।

শরীয়তপুর জেলায় এ বছর উপজেলা ভিত্তিক কতজন কৃষক কি পরিমান ধান উৎপাদন করেছেন এবং কতজনের কাছ থেকে সরকার কতটুকু ধান ক্রয় করেছে সে পরিসংখ্যানটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলার সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৫০ জন কৃষক ৪০ হাজার ১৫৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৯৫০ জন উৎপাদক কৃষকের। আর খাদ্য গুদাম ১৬৩ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে মাত্র ৪৪৫ মেট্রিক টন।

নড়িয়া উপজেলায় ১৭ হাজার ৩১৫ জন কৃষক ৩৬ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে ১৯২ জন উৎপাদক কৃষকের তালিকা সররাহ করেছে।

আর খাদ্য গুদাম ১৫৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে ৪৪৭ মেট্রিক টন।

জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ২০০ জন কৃষক ৭ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৩৯৪ জন কৃষকের।

আর ৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে মাত্র ৯০ টন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৯ হাজার ২০০ জন কৃষক ৩০ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন, এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৯১০ জন কৃষকের।

খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৪৯ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ৩৩১ মেট্রিক টন।

ডামুড্যা উপজেলায় ১৩ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ২৭ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৪৫০ জন কৃষকের।

খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৮৪ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ২৯৫ মেট্রিক টন।

গোসাইরহাট উপজেলায় ১৮ হাজার কৃষক ৩১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ১৪৩ জন কৃষকের আর খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৫০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩৬৫ মেট্রিক টন।

খাদ্য বিভাগকে ঘিরে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকেই শরীয়তপুরে বেশ তৎপর।

সরকারি ভাবে ন্যায্য মূল্যের ধান, গম, চাল ক্রয়ে তারা সব সময়েই দুই নম্বরী পথ বেছে নেয়।

সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকেন চিহ্নিত খাদ্য ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে লালিত সুবিধাবাদী অসাধু নেতা।

খাদ্য ও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কিছু অসৎ লোকের যোগসাজোশে কৃষকের সাথে প্রতারণা করে ওই চক্রটি প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি বিভাগ খাদ্য গুদামকে কৃষকের মূল তালিকা প্রদানের পর ধান সংগ্রহ চালাকালিন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষি কাজের সাথে জরিত নয় এমন কিছু লোকের নামে সম্পূরক তালিকা প্রদান করে থাকেন।

উভয় তালিকায়ই অসংখ্য ভূয়া কৃষকের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আর ভূয়া কৃষকের নামেই বেশীরভাগ ধান সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কৃষকের নামে কৃষি বিভাগ শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দার নাম তালিকাভূক্ত করেছে।

এদের মধ্যে দক্ষিন মধ্যপাড়া গ্রামের সামাদ শেখ মারা গেছেন তিন বছর আগে, তার নামে ৫০ মন ধান ক্রয় করেছে খাদ্য গুদাম।

তার ছেলে ইদ্রিস শেখও মারা গেছে দুই বছর আগে। ইদ্রিসের নামেও খাদ্য গুদাম ক্রয় করেছে ৭৫ মন ধান এবং সামাদ শেখের অপর দুই ছেলে জাকির শেখের নামে ৫০ মন ও ইয়াসিন শেখের নামে ২৫ মন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

উত্তরা ব্যাংক শরীয়তপুর শাখা চেকের মাধ্যমে তাদের ধান বিক্রির টাকা পরিশোধ করেছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সামাদ শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ জানিয়েছেন, তারা অল্প কিছু ধান উৎপাদন করলেও কোথাও কোন ধান বিক্রি করেননি, এমনকি কে তাদের নামে কোথায় ধান বিক্রি করেছে তাও তাদের জানা নেই।

তিনি আরো জানিয়েছেন, তার পিতা সামাদ শেখ ও মেজ ভাই ইদ্রিশ শেখ অনেক আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন।

একই গ্রামের মান্নান ঢালীর ছেলে মুনসুর আলম ঢালী এবং আবু আলম ঢালীর কাছ থেকেও ৭৫ মন করে মোট দেড়‘শ মন ধান ক্রয় করেছে আঙ্গারিয়া খাদ্য গুদাম।

মুনসুর ঢালী এবং আবু আলম ঢালীও জানিয়েছেন তারা সামান্য কিছু ধান উৎপাদন করলেও সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেননি।

উত্তরা ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে ধানের মুল্য বাবদ ৭৮ হাজার টাকা উত্তলোন করেছেন কিনা জানতে চাইলে আবু আলম ঢালী বলেন, “ আমি তো স্বাক্ষর দিতেই জানিনা, টাকা তুলবো কিভাবে”?

একইভাবে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ আক্তার হোসেনের নামে ৫০ মন, মেছের আলী মির্জির নামে ৫০ মন, ইউপি সদস্য খায়রুন নেছার নামে ৫০ মন, গ্রাম পুলিশ জহিরুল ইসলামের নামে ৫০ মন, সাবেক ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের নামে ৫০ মন ধান ক্রয় করেছে ভেদরগঞ্জ খাদ্য গুদাম।

তারা জানিয়েছেন, সরকারি গুদামে তাদের নামে ধান ক্রয় বিষয়ে তারা কিছুই জানেননা।

জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ছাব্বিশ পাড়া গ্রামের ফারুখ মাদবরের নামে ৫০ মন এবং মজিবর খালাসীর নামে ৫০ মন ধান সংগ্রহ করেছে জাজিরা খাদ্য গুদাম। তারা জানিয়েছেন, জাজিরা বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী রশীদ বেপারী তাদের নামে ব্যাংকে একাউন্ট খুলিয়ে প্রতিটি চেকে দুইটি করে পাতায় স্বাক্ষর রেখে চেকের পাতা ছিড়ে রেখেছেন।

রশীদ বেপারী তাদের দুইজনকে মাত্র ২০০ টাকা পথ খরচ দিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ধান গুদামে বিক্রি করিনি। একই উপজেলার বড় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মাঝির নামে জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদাম ৭৫ মন ধান ক্রয় করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় আমার কাছ থেকে যাবতীয় কাগজ ও সই স্বাক্ষর রেখে আমার নামে ৩ টন ধান গুদামে দিয়েছে বলে আমি জানি। তবে আমি নিজে ধান বিক্রি করিনি।

আমার নামে ধান ক্রয়ের বিনিময়ে আমার ওই আত্মীয় আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন।

এমনিভাবে যাদের নামে গুদামে ধান ক্রয় করা হয়েছে এনম অনেক কৃষকের সাথে কথা বলার পর তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেননা বলে বলে জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রনালয়ের ২০১৭ সালের আভ্যন্তরিন খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি উপজেলার ধান ও গম উৎপাদন অনুযায়ী সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ইউনিয়নওয়ারী বিভাজন করবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কর্তৃক সরবরাহ করা মৌসুমে আবাদকৃত জমির পরিমান এবং সম্ভাব্য উৎপাদনের পরমিান সহ ডাটা বেইজ হতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কৃষক নির্বাচন করবে।

উপজেলা কমিটি প্রত্যেকের প্রদেয় খাদ্যশস্যের পরিমান সহ নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ক্রয় কেন্দ্রে প্রেরণ করবে।

এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ও গম ক্রয় করা হবে। ক্রয়কারি কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যেমন, কৃষি কার্ড, পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে তালিকাভূক্ত কৃষকদের সনাক্ত করবেন। তালিকা বহির্ভূত কারো কাছ থেকে ধান গম ক্রয় কার যাবেনা।

আরো বলা হয়েছে, অধিক সংখ্যক কৃষককে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে উপজেলা কমিটি একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বনিন্ম তিন বস্তা পরিমান বা ১২০ কেজি ধান ও ১৫০ কেজি গম থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি বা তিন মেট্রিক টন দাধ ও গম ক্রয় করতে পারবে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে সরকারের এই নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে পদে পদে।

গত ২০ নভেম্বর থেকে নতুন করে সরকার সারা দেশ থেকে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক তালিকা প্রেরণ করেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখের মধ্যে ধান ক্রয় করতে হবে। এর আওতায় শরীয়তপুর জেলায় ১ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয় করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ।

শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানিয়েছেন, কোন অনিয়মের সুযোগ থাকবেনা আমন ধান সংগ্রহে। তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকে লটারীর মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা, সরকার কি শতভাগ নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করবেন, নাকি পূর্বেকার নিয়মের গন্ডিতেই বাধা হবে অসহায় কৃষকের ভাগ্য।

 

""ব্যবধান""
                                  

ও হাঁ আপনি কি ভাবছেন? পুরুষ বলে সব ভোগ করছেন!

আপনার চরিত্রের স্বাধীনতা আছে,
সকালে বেলা বিছানায় চা পাবার অধিকার আছে।

ততটাই স্বাধীনতা তার আছে, সে মনে মনে কি ভাবছে!

বিয়ের পর চাকরি করার মেয়েটির ইচ্ছে আছে।

সেই সাথে স্বামীর পরিবারের চোখ গরম করার রেওয়াজ আছে।

শাশুড়ী বৌকে এক বিন্দু পছন্দ করে না বলে বেড়াচ্ছে।

সই শাশুড়ীকে মাথায় করে না রাখার জন্য মেয়েটি আজও মার খাচ্ছে।

শুনে কি ভিষণ রাগ হচ্ছে? মেয়েটিও গালি দিচ্ছে সেটা আপনারই লাগছে।

ছোট বেলায় বাবা মেয়েকে শিখিয়েছিলো, মেয়েরা গালি দেয় না।

মা ছেলেকে শিখাতে ভুলে গেছে মেয়েদের গালি দিতে হয় না।

জীবনের পথে পুরুষকে বুক টান টান করে চলতে বলেছে।

আর মেয়েরা টান টান করে চলাফেরা করায় ইভটিজিং করতে বলেছে?

হট ম্যানলি বডি স্প্রে আপনি লাগাচ্ছেন কাছে টানতে।

মেয়েটিও মিষ্টি মিন্ট ফ্লেভার নিয়েছে মনকে সাজাতে।

তাই বলে ম্যানলি বডি স্প্রে পারেনা, মিন্ট ফ্লেভারকে ধর্ষণ করতে।

অন্ধকারে পুরুষের ভয় জ্বিন ভুতের; তওবা কাটে রাস্তা কাটতে।

নারীর ভয় পুরুষকে নিয়ে; ও বাবা আপনি জ্বিন ভুতের থেকে কম কিসে।

আহা কি শক্তিশালী আপনি, হচ্ছে না মনে আনন্দ এবার?

মেয়েটার মনের সাথে রেসলিং না খেলে, একটু শান্তি দিন এবার।

নিজের না-বালিকা মেয়ের মতই চোখটা প্রতিবেশীর মেয়েটার উপর রাখুন।

আরে না না কি বলছেন; আমাদের ভদ্র সমাজে এসব হয় না।

ও আচ্ছা! টিনের চালের ঘরের মেয়েটার সাথে আপনার এমন হয় বুঝি?

আর ইংলিশ মিডিয়ামে কটিপতির মেয়েটার দিকে নজর ড্রাইভারের হয়।

ওই, যে মেয়েটার ঘর টিনের চালের; এই ড্রাইভার তার বাবা হয়।

মনটাকে আপনি স্ট্যাটাস দিয়ে বেঁধে, ক্লাস দিয়ে রাপিং করতে পারবেন না।

কামারের ঘরে লোহা পিটিয়ে ধার করলে হবে না, ভোতা মনটাকে ধার দিতে হবে।

শত বছরের বাজে চিন্তা গুলো মনে এলে, টুকরো টুকরো করে কাটতে হবে।

মিটিং মিছিল সেমিনার দিয়ে হয়তো এনজিও স্পন্সরশিপ পাবে।

কিন্তু একই পাত্রে স্বাধীনতাকে ভালোবাসা দিয়ে না মাখলে সমাজ এমনই রবে।

 

কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
                                  

আসাদুজ্জামান জুয়েল : রাজনীতির উপর দূর্বৃত্তের নজর পরেছে! এটা নতুন কিছু নয়। দূর্বৃত্তর কু-নজর রানজীতির উপর পূর্বেও ছিলো, এখন যেমন আছে তেমনি ভবিষ্যতেও থাকবে।

দূর্বৃত্তরা রাজনীতির খালে কচুরিপানার মত। কচুরিপানার বৃদ্ধি যেমন দ্রুত হয় আবার পচেও দ্রুত। কচুরিপানার বন্ধণ খুব দৃঢ় হয়। কিন্তু এখন সময় এসেছে কচুরিপানা সরিয়ে উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

কচুরিপানা অপসারণের সময় কিছু ধ্বংস হবে, কিছু স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে অজানায়, কিছু সরে গিয়ে অন্য জমিতে অবস্থান নিবে। তবে ধ্বংস ক্রিয়া চালু করা, অব্যাহত রাখা এখন সময়ে দাবী।

দূর্বৃত্তরা আমাদের সমাজে রাজনীতির উপর ভর করে জগদ্দল পাথরের মত জেকে বসেছে। আসুন এদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি, এদের অপসারণ করি, এদের ঘৃণা করি।

দূর্বৃত্ত সম্পর্কে ধারনা নিতে গিয়ে যে যে শব্দের ব্যবহার দেখলাম তাতে কারা কারা দূর্বৃত্ত সহজেই বুঝা যায়। বজ্জাত, বজ্জাৎ: [বজ্জাত্] (বিশেষ্য) চালাক; ধূর্ত; বদমাশ; দূর্বৃত্ত; দুষ্ট; দুর্জন; অসৎকর্মকার; মন্দ জন্মের লোক, অন্যের ক্ষতি করার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তি।

বজ্জাতি (বিশেষ্য) বদমায়েশি; দূর্বৃত্তপনা; দুষ্টামি। বিশেষ্যগুলো যাদের নামের পাশে বিশেষণ হিসাবে বসে তাদের গুণ বা দোষ নির্দেশ করে তা দেখলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাজারো বদ মানুষের মুখচ্ছবি। এরা দেশের রক্ত, দেশের মানুষের রক্ত খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে। এদের নির্মূল করা যাবে না তবে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্প্রতি দেশের একটি প্রচীন দলের নেত্রী তার দুটি অঙ্গ সংগঠনকে অনেকটা ছাই দিয়ে ধরেছেন। প্রথমত তাদের সহযোগি ছাত্র সংগঠনের বড় দুটি পদের কর্তাকে বহিস্কার করেছে।

কারন আর কিছুই নয়, পদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর কাছে চাঁদা পাইয়ে দেয়ার জন্য চাপাচাপি করেছেন, অশোভন আচরণ করেছে।

শোনাযাচ্ছে ঈদ বকসিসের নামে তারা উন্নয়ন কাজের এক ঠিকাদরের কাছ থেকে কোটি টাকা সালামিও নিয়েছেন। সত্যি-মিথ্যা আমরা হয়তো জানি না।

তবে এটুকু জানি, পদ পাওয়ার সাথে সাথে তাদের চরিত্র বদলে যায়, চলাফেরার স্টাইল বদলে যায়, বাসস্থানের চিত্র বদলে যায়। যারা একসময় রিক্সায় চড়ে ক্যাম্পসে আসতেন তারা পদ পাওয়ার সাথে সাথে দামী গাড়ি ব্যবহার করেন! ছাত্র হয়ে কোন চাকুরী-ব্যবসা না করেও লাখ টাকার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। পাঁচ বছর পদে থাকার পরে ব্যাংকের পরিচালক হয়ে যান।

একটা ব্যাংক খুলতে কত টাকা লাগে অনেকেই হয়তো জানেন না। ব্যাংক খুলতে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায় চারশত কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন প্রয়োজন হয়।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুসারে ‘১(এক) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর ৩ (তিন) জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ কোন ব্যাংক-কোম্পানীতে সর্বমোট ২০ (বিশ) জনের অধিক পরিচালক থাকিবে না’।

পরিশোধিত মূলধন পরিচালকরা যোগান দেন। ছাত্রলীগ নেতারা মাত্র পাঁচ বছর নেতৃত্ব দিয়ে বিশজন পরিচালকের একজন হয়ে যায় এবং চারশো কটি টাকার একটা অংশ যোগান দিয়ে পরিচালক হন।

এতেই বুঝাযায় তারা কি পরিমান টাকা অবৈধ পথে আয় করে থাকে! একসময় আমরা ঈদের সালামি পেতাম এক টাকা থেকে একশ টাকা। এখন অনেকে একশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পায়।

আমাদের সোনার ছেলেরা ঈদ সালামী এক কোটি থেকে শতকোটি টাকা দাবী করে। কতটা দূর্বৃত্ত হলে এমনটা করতে পারে ভাবাযায়?

ছাত্র নেতাদের পরেই শুরু হয়েছে যুব নেতাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান।

একেকজন যুবনেতা সাত আটজন দেহরক্ষি নিয়ে চলেন। তাদের দেহের কতই না দাম! তারা কতই না নিরাপত্তা হীনতায় জীবনযাপন করছিলেন এতোদিন।

রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলখানায় রাখার ব্যবস্থা করে ভালই করেছেন। স্বাধীন দেশে বর্তমান সময়ে যদি নিরাপত্তাই না পায় তবে আর কিইবা করার আছে!

নিরাপত্তাহীন ভাববেন নাই বা কেন? তাদের কর্মকান্ডই তাদের নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।

একেকজন সোনর যুবক টেন্ডারবাজি করে, ক্যাসিনো পরিচালনা করে, মাদক ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। রাত পোহালেই কোটি কোটি টাকা তাদের ঘড়ে ঢোকে।

সেসব সোনার ছেলেদের বৃদ্ধ মায়েরাও দেড়শো কোটি টাকার এফডিআর হোল্ডার! নিজের নামেতো আছেই। সোনার ছেলেরা যুবক তাই যুব নেতা। যুব নেতা তাই তাদের রক্ত গরম।

সেই গরম রক্ত ঠান্ডা করতে বিদেশী মদ, বিয়ার, বাবা (ইয়াবা ট্যাবলেট) প্রয়োজন হয়। সোনার ছেলেদের মা-বাবার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা! মায়ের নামে রাখে এফডিআর আর বাবাকে জ্বালিয়ে ঘন ধোয়া টেনে নেয় শ্বাসযন্ত্র দিয়ে।

নেবে না কেন, সারারাত জেগে ক্যাসিনো চালাতে হবে, রাত জাগতে বাবার ভূমিকা তুলনাহীন যে! এতো পরিশ্রমের পর একটু বিনোদন প্রয়োজন, ঘরে বিবির কাছে যাওয়ার সময় কই? তাই জুয়ার আসরে, ক্যাসিনোতেই চলে জলসার আয়োজন।

জলসায় নাচন-কোদনের জন্য মডেল, নায়িকার ব্যবস্থাও নাকি থাকে।

সোনার ছেলেরা যখন জলসাঘরে রক্ত ঠান্ডা করায় ব্যস্ত তখন হয়তো নিজের ঘরের সুন্দরী বউ বাড়ির ড্রাাইভারের সাথে ঘাম ঝড়ায়! অবৈধ টাকায় সন্তানরা নেশায় ব্যুদ হয়ে থাকে সেদিকে খেয়াল করার সময়ও পায় না তারা।

অফিসে নগদ টাকা থাকে দশ কোটির উপরে! থাকে অস্ত্র, গোলা-বারুদ, নেশার দ্রব্য! সব ব্যবস্থাই আছে তাদের, শুধু নেই শান্তি! আসলে শান্তি বেগমদের টাকায় পাওয়া যায় কিন্তু টাকায় শান্তি বিক্রি হয় না পৃথিবীর কোথাও।

নগদ টাকা বা এফডিআর থাকা দোষের কিছু নয়। বৈধ পথে প্রদর্শীত আয় থাকলে কোন সমস্যা নেই।

কেউ কেউ দেখলাম রেল লাইনের ধারের কোন বস্তি থেকে উঠে দেশের অভিজাত এলাকা গুলশানে আস্তানা গেড়েছেন।

কেউ কেউ একাধিক দল বদল করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। আসলে তারা দল বদলায় না, একটা দলই সরে সেটা হলো সরকারী দল।

বৈধ অর্থশালী মানুষ অফিসে, বাসায় এত নগদ টাকা রাখেন না। তাদের টাকার নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ব্যাংক বসে আছে ভল্ট খুলে। লেনদেন হবে ব্যাংকের মাধ্যমে।

একমাত্র অবৈধ অর্থই ব্যাংকে লেনদেন করা সমস্যা।

এই দূর্বৃত্তর বিচরণ বা চলাচল শুধু রাজধানীতে বা বড় বড় বিভাগীয় শহরেই নয়। জেলা-উপজেলা পর্যায়েও আছে। বড় জায়গায় বড় দূর্বৃত্ত আর ছোট জায়গায় ছোট দূর্বৃত্ত।

জেলা পর্যায়ে পদ পাওয়ার জন্য হেন কাজ নেই কথিত নেতারা করে না।

পদ পাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে চলে ভাগাভাগি। কেউ আশায় থাকে এলজিইডির, কেউ থাকে সড়ক ও জনপথের, কেউ থাকে পাবলিক হেলথ দখল নেয়ার আশায়, আবার কেই থাকে পিডব্লিউডির আশায়।

এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টেন্ডারবাজী করে ঠুন্ডা টনি’রা হয়ে উঠে সমাজে জননেতা! টেন্ডারের সিডিউল বিক্রি এসপি অফিসেও হয়। সেখানকার দখল অবশ্য কেউ নিতে চায় না!

রাজনীতিতে সকল নেতা খারাপ না। এখনও শহরে, জেলায়, উপজেলায় ভালো ভালো নেতারা আছে।

ভালো মানুষের কারনে যেমন টিকে আছে পৃথিবী তেমনি ভালো নেতারা আছে বলেই তাদের কারনে টিকে আছে রাজনীতি। একটা কমিটিতে হাতে গোনা দুই-চারজন দূর্বৃত্ত থাকে।

ঐ দুই-চারজনের জন্যই বদনামের ভাগিদার হতে হয় গোটা সংগঠনকে। উপরে যাদের কথা এতক্ষণ কীর্ত্তন করলাম তারা সবাই আসলে কচুরিপানার মত। এদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

উনিশশো তিয়াত্তর সালের তিন জুলাই পূর্বদেশ পত্রিকার লীড নিউজ ছিলো ‘উদ্বেল কুষ্টিয়া জাতির পিতাকে বরণ করলো ॥

আওয়ামী লীগ থেকে দুর্নীতিবাজদের বের করে দাও, জীবন দিয়ে জনগণের দুর্দশা মোচন করবো-বঙ্গবন্ধু’। ছিচল্লিশ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যার কার্যক্রম দেখে সেই কথারই প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।

মহান নেতা যা চেয়েছিলেন, হয়তো করে যেতে পারেননি, তাঁর কন্যা সেই পথেই হাটছেন।

নিজের সমালোচনা করা, নিজের অঙ্গে পচন ধরলে চিকিৎসা করা, প্রয়োজনে পচন ধরা অঙ্গ কেটে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোগকে জিইয়ে রাখেন বোকারা।

অসুস্থ সামজে পরজীবীরা শরীরে ভর করতেই পারে, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং চেষ্টা করলে সুস্থ্য থাকাটা কঠিন কিছু নয়। রোগকে ঢেকে রাখাই খারাপ।

আমাদের আশা ও বিশ্বাস দল থেকে দুর্নীতিবাজদের বের করে দিয়ে জনগণের দূর্দশাকে মোচন করবে জননেত্রী। দূর্বৃত্ত নামক কচুরিপানা পরিস্কার করে উন্নয়নের নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন প্রিয় নেত্রী।

লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট।

 

 


   Page 1 of 7
     সাহিত্য
মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন
.............................................................................................
বইমেলায় দৈনিক গণমুক্তির কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুটি বই
.............................................................................................
দিনাজপুর বানিজ্য মেলার উদ্বোধন
.............................................................................................
বাংলা মোদের মাতৃভাষা
.............................................................................................
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষিকাকে শীলতাহানি,কারাদন্ড-১
.............................................................................................
প্রশাসনের সাহসী নির্বাহী কর্মকর্তা
.............................................................................................
একুশে বইমেলায় মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪টি নতুন বই
.............................................................................................
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কতিপয় সমাজিক প্রতিবন্ধকতা
.............................................................................................
অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
.............................................................................................
পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
.............................................................................................
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
.............................................................................................
সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
.............................................................................................
""ব্যবধান""
.............................................................................................
কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
.............................................................................................
রক্ষা করা যাচ্ছেনা জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ
.............................................................................................
কবিতা
.............................................................................................
মৌচাক
.............................................................................................
অনগ্রসর মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান ঝর্ণা
.............................................................................................
পোড়া বৈশাখ
.............................................................................................
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
.............................................................................................
পাকিজা মল্লিক
.............................................................................................
মরুপ্লাবন
.............................................................................................
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিলেন ৪ লেখক
.............................................................................................
শাশুড়ির মন জয় করার ৭ উপায়
.............................................................................................
কেন কেটে নেওয়া হয়েছিল খনার জিব
.............................................................................................
জাতি হিসেবে একাত্তরের বিজয় আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন: ড. আতিউর
.............................................................................................
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ কবি ভাগ্যধন বড়ুয়ার জন্মদিন
.............................................................................................
অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আকিমুন রহমান
.............................................................................................
কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন নির্মলেন্দু গুণ
.............................................................................................
আজ মোহিত কামালের ৬০তম জন্মদিন
.............................................................................................
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ
.............................................................................................
সৈয়দ শামসুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ জাফর ইকবালের জন্মদিন
.............................................................................................
আজ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
বই পড়ে জানা যায় জীবনের বাইরেও অজস্র জীবন আছে: হরিশংকর
.............................................................................................
চারণকবি বিজয় সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি ত্রিদিব দস্তিদারের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
‘দিবানিশি’ প্রতিবাদ, কবিতা আর হাস্যরসের সমাহারে রচিত: সাহিত্য পর্যলোচনায় কবি সামাদ
.............................................................................................
মীর মশাররফ হোসেনের ১৭১-তম জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
বঙ্কিমদৃষ্টিতে তিন চরিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
.............................................................................................
‘নকশিকাঁথা দেশের শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’
.............................................................................................
আজ কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন
.............................................................................................
জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
সাধ
.............................................................................................
পুঁথিসম্রাট আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD