২২ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > বরগুনায় অগ্নিঝরা টাউনহল চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট   > বন্যায় মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়াল   > স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হলেন সেব্রিনা ফ্লোরা   > বরিশাইল্লা ‘দাদো’র চরিত্রে মীর সাব্বির   > ২৪ ঘন্টায় আরো ৪৪ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১৭   > ট্রেনের টিকিট হাতবদল হলেই সাজা   > মাদারীপুরের ডাসারে র‌্যাব-৮ এর অভিযানে দেশি-বিদেশী মদ উদ্ধার, আটক ১   > সুবিদখালী বাজার সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগ চরমে !   > এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু   > ভূঞাপুরে ছাত্রলীগ নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার  

   সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাসসহ বিভিন্ন আঙ্গিক সাহিত্যের প্রসার ঘটিয়েছে। বৈচিত্র্যময় সাহিত্যের অনেক কিছুই কোন একটি বইয়ে একত্রে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন বই থেকে শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করতে হয় সাহিত্যের সকল তথ্য। করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেই কষ্ট লাঘব করতে বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, চিন্তাবিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের একক প্রচেষ্টায় ‘‘বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র’’ নামে একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

যেখানে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের ইতিহাস থেকে শুরু করে পাওয়া যাবে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সাহিত্যের আলোচনা। বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র এর ওয়েবসাইটে ‘‘ই-বুক’’ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সঙ্গে থাকছে গুণীজনদের সাহিত্য সমালোচনা।

হাতের কাছে বই না থাকলেও এখানে পাঠকরা পাবেন সাহিত্যের ই-বুক, অডিও-বুক এবং ভিডিও। এছাড়াও সংগঠনটির নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল-এ সাহিত্যের আলোচনা থেকে উপকৃত হবেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। বিশেষত সাহিত্যের বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা। আর ওয়েবসাইটটি নিয়মিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও গ্রন্থ আপলোডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, তবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে এই সংগঠনটি। উপরন্তু গবেষকদের লেখাকে ই-বুক আকারে প্রকাশেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, তাঁর সঙ্গে একদল তরুণ গবেষক আছেন যারা আইটি ও সাহিত্য বিষয়ে ভালো ধারণা রাখেন। তাদের নাম ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করা হবে।

বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাসসহ বিভিন্ন আঙ্গিক সাহিত্যের প্রসার ঘটিয়েছে। বৈচিত্র্যময় সাহিত্যের অনেক কিছুই কোন একটি বইয়ে একত্রে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন বই থেকে শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করতে হয় সাহিত্যের সকল তথ্য। করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেই কষ্ট লাঘব করতে বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, চিন্তাবিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের একক প্রচেষ্টায় ‘‘বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র’’ নামে একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

যেখানে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের ইতিহাস থেকে শুরু করে পাওয়া যাবে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সাহিত্যের আলোচনা। বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র এর ওয়েবসাইটে ‘‘ই-বুক’’ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সঙ্গে থাকছে গুণীজনদের সাহিত্য সমালোচনা।

হাতের কাছে বই না থাকলেও এখানে পাঠকরা পাবেন সাহিত্যের ই-বুক, অডিও-বুক এবং ভিডিও। এছাড়াও সংগঠনটির নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল-এ সাহিত্যের আলোচনা থেকে উপকৃত হবেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। বিশেষত সাহিত্যের বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা। আর ওয়েবসাইটটি নিয়মিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও গ্রন্থ আপলোডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, তবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে এই সংগঠনটি। উপরন্তু গবেষকদের লেখাকে ই-বুক আকারে প্রকাশেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, তাঁর সঙ্গে একদল তরুণ গবেষক আছেন যারা আইটি ও সাহিত্য বিষয়ে ভালো ধারণা রাখেন। তাদের নাম ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করা হবে।

হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
মৃত্যুর পর বহুপ্রতিভার অধিকারী এই মানুষটিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়।

প্রতি বছরই নানা আয়োজনে পালিত হয় হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী। করোনার কারণে এবার স্বল্প পরিসরে পালিত হবে দিনটি।

জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি।

আসুক না বাঁধা
                                  

আসুক না বাঁধা

রমজান আলী রনি

আযানের সুরে মসজিদে হাঁটা
আসুক না বাঁধা বিঁধুক না কাঁটা
কাফের, মুশরিক নিপাত করে
তোমার নামে যাব সিফাত পড়ে।

নজরানা ফুল দাও তাওহীদে
তোমার নামে যাই আহার-নিদে
মাওলা পুলসিরাত পার কর-
হে তুমি বাঁচাও হে তুমিই মার।

আঁধারে সীমানায় আলোক নূর
পাখপাখালি ডাকে যে সুমধুর।

যে যায় সে দীর্ঘ যায়
                                  

সুহিতা সুলতানা

দাউদ আল হাফিজ আমাদের বন্ধু, আমাদের সুহৃদ। ১৯৯৫ সালে দাউদকে প্রথম দেখি আজিজ সুপার মার্কেটে। তখন আজিজ মার্কেটের ভরা যৌবন। কত মহারথিরা যে সেখানে আসতেন নাম বলে শেষ করা যাবে না। বাচ্চু ভাইয়ের বিশাকা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হবে ‘ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন’—তা নিয়ে কী মহাব্যস্ততা আমাদের। অনিকেত শামীমের ‘লোক’-এ বসে আমরা দিনরাত্রি সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। দাউদ, রণক, শামীম, চঞ্চল আশরাফ, আমি। তুমুল আড্ডার মধ্য দিয়ে আমরা কী নিখুঁতভাবে সম্পাদনার কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলাম।

পঞ্চাশ থেকে নব্বই দশকের মধ্য থেকে ষাটজন কবিকে নির্বাচন করাও ছিল দুঃসাধ্য। প্রতি সন্ধ্যায় আমাদের আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। স্যারের নির্দেশনাও আমাদের সম্পাদনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ কাফেলায় আরেক জন নিয়মিত আসতেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন। আমাদের এমনই দুর্ভাগ্য এ লেখাটি যখন লিখতে বসেছি, তখন মাথার ওপর থেকে সরে গেছে আর্শীবাদের হাত—চলে গেছেন হুমায়ুন আজাদ স্যার, খোন্দকার আশরাফ হোসেন। ক’দিন আগে চলে গেলেন আমাদের প্রিয় বন্ধু দাউদ আল হাফিজ।

বুকের পাজর ভেঙে ভেঙে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। দাউদ এত দ্রুত চলে যাবে এটাও মানতে হবে! এরকম কষ্টের লেখা লিখতাম না হয়ত—সম্পাদকের অনুরোধে লিখতে বসেছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। কতবার রণককে ফোন করেছি, খলিল মজিদকে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না দাউদ চলে গেছে না ফেরার দেশে।

আবার ১৯৯৫ সালে ফিরে যাচ্ছি...সৈয়দ আলী আহসান, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা—কত কবির বাড়িতেই না আমরা গিয়েছি সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য। দাউদ সব সময় থাকতো আমাদের সাথে। কী জোরে প্রাণ খুলেই না দাউদ হাসতো। ওর ভেতরের কষ্টগুলো বুঝতে পারতাম না। কী অদম্য মেধাবী একটা ছেলে এ শহরে একটা ভালো চাকরি পাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতে পারে না। কখনো কখনো অকপটে কষ্টের কথাগুলো বলে ফেলতো।

দাউদ হাঁটতে পছন্দ করতো ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনের পথ ধরে। টেড হিউজের কবিতা পড়তো হাঁটতে হাঁটতে, মজা করে প্রায়ই বলতো ইংল্যান্ডে থাকলে আপনি সিলভিয়া হয়ে যেতেন। দাউদের কথায় আমরা কেউ রাগ করতাম না। ওর মেধাকে সবাই মূল্যায়ন করতো। ওর হাতের লেখাও ছিল অসাধারণ। একবিংশ পত্রিকার সাথে ও যুক্ত ছিল বরাবরই। খোন্দকার আশরাফ হোসেন ওকে অনেক প্রশ্রয় দিতেন, সেটা আমরা আশরাফ ভাইকে বললে উনি বলতেন, দাউদ তো অন্য রকম। অন্য রকমটা কী তা জানা হয়নি আর।

অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় রণক আর আমার যৌথ সম্পাদনায় ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন প্রকাশিত হবে। প্রচ্ছদ করে দিল বিনা পারিশ্রমিকে মাহমুদুর রহমান দীপন। মন দিয়ে প্রুফ দেখতো দাউদ। শামীম ওর লোকের কক্ষটি আমাদের জন্য ছেড়েই দিয়েছিল একরকম। ৯৫-এর বইমেলায় তুমুল আলোচিত হলো গ্রন্থটি। বিশাকার স্টলের সামনে জমে উঠতো আড্ডা। তুষার গায়েন, মোহাম্মদ আলীও মাঝে মাঝে আসতো আড্ডায়।

ছফা ভাই (আহমদ ছফা) তখন আজিজের দু’তলায় বসতেন, আমাদের ব্যস্ততা দেখে রেগে গিয়ে বলতেন, ‘কী হবে সুহিতা এসব করে?’ আমরা কোনো উত্তর দিতাম না। হুমায়ুন আজাদ স্যার ছিলেন আমাদের আশার আলো। সম্পাদনা গ্রন্থটি হাতে নিয়ে স্যার বলেছিলেন, ‘অনেকদিন পর একটা ভালো কাজ করলে তোমরা।’ আজ স্যার থাকলে দাউদের মৃত্যু মানতে পারতেন না।

দাউদের কোথায় যেন একটা হাহাকার ছিল। যেটা বলতে লজ্জা পেত অনেক সময়।

দাউদ রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার লাবণ্য-অমিত চরিত্রের বর্ণনা সুন্দর করে দিত। জীবনানন্দ দাশ ওর প্রিয় কবি ছিল। তবে কবি হবার জন্য ওর খুব অস্থিরতা ছিল এটা আমার মনে হয়নি কখনো। তবে নতুন কোনো কবিতা লিখলে পকেট থেকে বের করে আমাদের শোনাতো। শাদা প্যান্ট-শার্টই পরতো বেশি, মজা করে বলতাম এই স্কুল ড্রেস মার্কা পোশাক এখনো পরেন দাউদ? হেসে উত্তর দিত, অত টাকা নেই যে রঙিন পোশাক কেনার!

তারপর অনেকদিন আর দাউদের সাথে দেখা নেই, মাঝে মাঝে ফোন করতো। গ্রামই ছিল ওর পছন্দের জায়গা। বারবার গ্রামেই ফিরে যেত ও। ঢাকার জীবন ওকে স্বস্তি দেয়নি একটুও। রবার্ট ফ্রস্ট, টলস্টয়, কার্ল মার্কস, মানিক, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, আহমদ শরীফ, বদরুদ্দীন উমর, সুনীল ও বিনয় মজুমদারের লেখা নিয়ে আলোচনা করতে করতে জমিয়ে তুলতো সাহিত্যের আড্ডা। প্রিয় স্যার বলতে কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়লেও প্রায় ৭-৮ টি ভাষা জানতো ও। শৈলকুপার কৃতি সন্তান দাউদ আল হাফিজের নামটি হয়ত একদিন ম্লান হয়ে আসবে, মানুষের চোখ ধূসর হয়ে আসবে। তবে কারো কারো হৃদয়ে এ নামটি থেকে যাবে হয়ত বা।

‘আনাবাস অথবা দ্বিধার গন্ধম’ এই একটি মাত্র কবিতা গ্রন্থের জনক দাউদ। সব কিছুতেই ওর পরিমিতি বোধ। দাউদ অন্যদের মতো ছিল না, ছিল একটু আলাদা। প্রেম করে বিয়েও করেছিল ছাত্র অবস্থায়। তারপর লেখাপড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেলেও মন পড়ে থাকতো শৈলকুপায়। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, পিছুটান অর্থ-সংকট ওকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল।

‘হে রাখাল, হে দুগ্ধবতী গাভী, হে গ্রাম্য কিশোরী, আমি আবার আসবো ফিরে

তোমাদের মোহন ঠিকানায়।’

‘আজ আমার বিশ্বাস নেই অন্য কোনো তীর্থ।’

দাউদের চার স্তবকের কবিতার শরীর জুড়ে তীরবিদ্ধ যন্ত্রণা ছিল—

‘দারিদ্র্যের এক মহান পুরোহিত কবি

বিদ্রোহী মানুষের অপার দুধ ভাত আর

সমূহ শান্তি সংগ্রহ শত্রু শিবিরে ছুঁড়েছেন

অনলবর্ষী কবিতা-কার্তুজ।’

আনাবাস পর্বের ভেতরে তিন স্তবকে ‘শূন্যে শূন্যে ঘুরছে/ শূন্যভুবন ত্রিভুবনের ত্রিত্ত্বসকল/ খ ও খামার জলেস্থলে…’

দাউদের কাব্য বিশ্লেষণ করবার জন্য এ লেখাটি নয়। সামগ্রিক দিকটাই তুলে আনা। একটা বাউল মন ছিল ওর। ওর অস্তিত্ব ও চিন্তার জগৎ ঘিরে সেটাই উপলদ্ধি করা যায়।

জগৎ সংসারে যা দেখা যায় তার প্রায় সবটা জুড়েই কৃত্রিমতা, স্বার্থের র‌্যাপিন কাগজে মোড়ানো হৃদপিণ্ডহীন জড়বস্তু।

‘সবুর, ছবর, তিতিক্ষা এই তিনে মানবজীবন।’

চলে যাবার আগে দাউদের চিন্তাজগতের ভাবনা ছিল এরকম।

এই দাউদ আল হাফিজই যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ও একটু একটু করে সামনে আগাতে চেয়েছিল। দারিদ্র্যের কষাঘাত মেধাকেও পিষ্ট করে দেয়। আগাতে পারেনি বেশি দূর। ফিরে গেছে বারবার গ্রামের মেঠো পথ ধরে, জন্মের ঠিকানায়। শহর ওকে ধরে রাখতে পারেনি। ইট কাঠ পাথর ধুলো পেছনে ফেলে চলে গেছে প্রাণপ্রবাহের কাছে।

আর কত হারানোর বেদনা সইব?
                                  

গোপাল অধিকারী

প্রতিদিন চলে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। সূর্য উঠছে, দিন হচ্ছে । তারপরও কেমন যেন আঁধার বিরাজ করছে সকলের প্রাণে। কে পূরণ করবে তাঁদের অভাব, কবে কাটবে আধার? হারানোর বেদনাকে ভারি করে চলে গেলেন ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। নিভে গেল আরেকটি নক্ষত্র। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বাংলাদেশ নামক সৌরজগতে করোনাকালে আমরা হারাচ্ছি আমাদের মূল্যবান নক্ষত্রগুলো। জগতে একটি মন্দ কাজ করা খুবই সহজ। বির্তকিত হওয়া সময়ে ব্যাপার। কিন্তু ভাল দিকনির্দেশনা দেওয়া আর ভালটা প্রতিষ্ঠা করা সময়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এমনই কঠিন সময় পেরিয়ে নিজেকে আলোকিত করেছিলেন কামাল লোহানী। কামাল লোহানীর প্রকৃত নাম আবু নাইম মোহা. মোস্তফাা কামাল খান লোহানী। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া গ্রামের খান মনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন ১৯৫২ সালে। পরে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে। পাবনা জেলা স্কুলে শেষ বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে কামাল লোহানীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৩ সালে নুরুল আমিনসহ মুসলিম লীগ নেতাদের পাবনা আগমন প্রতিরোধ করতে গিয়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়। মুক্ত হতে না হতেই আবার ১৯৫৪ সালে গ্রেপ্তার হন কামাল লোহানী। সেই সময় তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শে দীক্ষিত হন। পরের বছর আবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে একই কারাকক্ষে তার বন্দিজীবন কাটে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ পালনে পাকিস্থানি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ছায়ানটের নেতৃত্বে কামাল লোহানী ও হাজারো রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক কর্মী সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরের বছর কামাল লোহানী ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। ষাটের দশকের শেষ ভাগে ন্যাপের (ভাসানী) রাজনীতিতে জড়িয়ে কামাল লোহানী যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে পূর্ব বাংলার শিল্পীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তার সঙ্গেও কামাল লোহানী সম্পৃক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কামাল লোহানী একজন শিল্পী, একজন সাংবাদিক ও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালকের দায়িত্ব পান। কামাল লোহানী পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তার কর্মস্থল ছিল দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তা প্রভৃতি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নে দু’দফা যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হন। কামাল লোহানী ১৯৮১ সালে দৈনিক বার্তার সম্পাদকের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন উদ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কামাল লোহানী দেখেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে থাকার চিত্র ও তাঁর মধ্যে ছিল বেদতার তীক্ত অভিজ্ঞতা। দেশের ভাষা আন্দোলন, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সকল কিছুতে ছিল তাঁর অগ্রনী ভ’মিকা। অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে তাঁর মুখের স্বাধীনতার বাণী আমরা ক’জন জানি। প্রবাদে আছে, “পুরাতন চাউল ভাতে বাড়ে”। প্রকৃতই কামাল লোহানীর মত গুণীজন থাকায় আমরা স্বাধীনতা নামক সোনার হরিণ অর্জনের স্বাদের কিছুটা আস্বাদন করতে পারি। প্রেরণা পায় দেশপ্রেমের। তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। আমাদের দেশপ্রেমের প্রেরণা যোগাতে এমন মানুষদের যুগে যুগে প্রয়োজন। তাছাড়া এক সময় ভবিষ্য প্রজন্মকে দেশপ্রেম শেখানোর প্রবাদ পুরুষ থাকবে না। আমাদের তাদের কর্ম থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা প্রয়োজন । কারণ তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের আলোর পথ দেখাবে। একটি মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকে না। বেঁচে থাকে তার কর্ম। কর্মের ছোঁয়ায় অলোকিত হয় নতুন প্রজন্ম। তারপরও কিছু গুণীজনের বিদায় যেন একটি হতাশার মুখে ফেলে দেয়। অনুভূত হয় নির্দেশনার অভাব। আমার কাছে মনে হয় একটি পরিবারের পিতা কিছু না করতে পারলেও তার সহঅবস্থানে থাকাটা আমাদের বটবৃক্ষ। তাঁর উপস্থিতি আমাদের সকল কাজের অস্তি। আমাদের বিপথ থেকে ফিরে আসার শেষ সম্বল। আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। তাই এমন গুণীজনকে হারানো অপূরণীয় ক্ষতি। হে মহান পুরুষ তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি, তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। এই বাণীটা ছাড়া কিছুই করার নেই আমাদের ক্ষমতা।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

ভেন্টিলেটর বিভ্রাট
                                  

এক ক্ষুদ্ররাজ্য- চন্দ্রপুর। রাজ্যে রাজা, মন্ত্রী, সৈন্যসামন্ত, ডাক্তার, বিভিন্ন দফতর, প্রজাসাধারণ- সবই আছে। চন্দ্রপুররাজ্য লন্ডভন্ড এক নতুন ভাইরাসের কারণে। চন্দ্রপুরেই নয়; নতুন এই ভাইরাসের ভয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ গৃহবাসী হল। কোথাও নেই কোনো কোলাহল। শিশুপার্কগুলো শিশুশূন্য, রাইড সব খা-খা করছে। বিশাল বিশাল বহুতল প্রাসাদগুলো দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে।

ভেতরে ভেতরে মানুষ বন্দি, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। রাজার চোখে প্রজাদের জীবনরক্ষার চিন্তায় ঘুম নেই। চোখের কোণে দাগ পড়েছে, কপালে চিন্তার ভাঁজ। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। দেশের হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ। প্রতিদিন শতশত রোগী মারা যাচ্ছেন। ডাক্তাররা ভয়ে অর্ধেক গা-ঢাকা দিয়েছে।

হাসপাতালে ডাক্তার নেই, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি নেই, ওষুধ নেই। তাই রাজা তার সকল দফতর ডেকে জরুরি পরামর্শ ডাকলেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা রাজাকে লক্ষাধিক ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। রাজা দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ লক্ষাধিক ভেন্টিলেটর স্থাপনে জরুরি নির্দেশ দিলেন। সময় দিলেন একমাস। মোটা মাথা, মোটা শরীর নিয়ে হেলেদুলে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার দফতরে লম্বা এক নির্দেশ জারি করলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে পূর্ব থেকে বিদ্যমান বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটর অর্থাৎ ঘুলঘুলিগুলো রেখে যেন চার-পাঁচগুণ করা হয়।

এমনকি দেশের সব ধনী মানুষের পাকা ঘরগুলোতেও যেন তা দ্বিগুণ করা হয়। যেমন আদেশ তেমন কাজ। এ কাজে মন্ত্রী হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দিলেন। রাজ্যজুড়ে সব পাকাঘরে বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করার কী বিশাল কর্মযজ্ঞ। একসপ্তাহে কোটি ভেন্টিলেটর স্থাপন হল। মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে সুসংবাদটি প্রচার করলেন। রাজাকে জানালেন। দেশজুড়ে এমন সংবাদে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল। সব মিডিয়ায় প্রচার হয়ে গেল। উন্নত দেশগুলো এ খবরে হতভম্ব হয়ে যায়।

এদিকে কোটি ভেন্টিলেটর স্থাপনের খবরে রাজাও অবাক। রাজা মন্ত্রীকে ডেকে আগে বাড়িতে বাড়িতে ভেন্টিলেটর কীভাবে হলো দেখতে চাইলেন। মন্ত্রী মহা আহ্লাদি হয়ে রাজাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটরগুলো দেখালেন। রাজা সব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কেবল বললেন, আপনার মাথাটা যেমন মোটা, কাজও তেমন। আপনার কাজের পুরস্কার পেয়ে যাবেন।

বিকালে রাজার আদেশপত্র এল মন্ত্রীর হাতে। ‘আদেশপত্র পাওয়ামাত্র চিরদিনের জন্য হোম কোয়ারান্টিনে চলে যাবেন। আপনার দীর্ঘ চিকিৎসা প্রয়োজন।’ মন্ত্রী আর কখনো নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পেলেন না।

আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী
                                  

মনির হোসেন, মোংলা : আজ ২১ জুন। তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহথর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার রুদ্র স্মৃতি সংসদ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠাখালীতে সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সন্ধ্যায় রুদ্র সংসদ কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে। এছাড়াও মোংলা সাহিত্য পরিষদ, মোংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারস, তারুণ্য মোংলা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অকাল প্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্য চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন`এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীকথ-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্য নাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকোথ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূলথ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রামথ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদথ থেকে পরপর দু‌‌`বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শিশুসাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান
                                  

মাহমুদ আলবেনী

শিশু সাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান অপরিমিত। উৎকর্ষের বিচারে বাংলা সাহিত্যের তিনি প্রায় অপ্রতিদ্বন্দী। এর প্রধান কারন নজরুলের কবি মানসের একদিকে একটি শৈশব লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তিনি নিজেই বলেন-

“আমি চির শিশু, চির কিশোর”

তাঁর মধ্যে একটা শিশুসুলভ সারল্য রয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁর মন শিশুর প্রতি আশ্চার্য সংবেদনশীল। তাই তিনি অতি সহজে শিশুর সাথে একাত্ম হতে পেরেছেন। মনস্তত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। শিশুর স্বপ্ন-সাধ, আশা-আকাঙ্খা, খেলাধুলা, হাসি-তামাশা, কীর্তিকলাপ, অনুকরনপ্রিয়তা, স্কুল জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, মা-বাবার সাথে মান অভিমান, বুড়ো দাদুকে নিয়ে হাস্যালাপ, ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন কল্পনার রথে চড়ে দুঃসাহসিক অভিযান এসব তিনি নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং সার্থক ভাবে রূপদান করেছেন তার রচনায়। এখানেই তিনি অনন্য আর একারনেই তিনি শিশু সাহিত্য রচনায় অপ্রতিদ্ব›দ্বী।
নজরুল উপলব্ধি করেছেন, শিশু মন অতিমাত্রায় খেয়ালী, স্বপ্নময় ও আশ্চার্য কল্পনাপ্রবন। তাই রুপকথার রাজ্যে তার অবাধ সঞ্চালন। সে অদ্ভুত ও রহস্য রসের রসিক। আবোল তাবোল চিন্তায়, বাস্তবতার বৈপরীত্যজনিত কাল্পনিক ভাবনায় ও প্রকৃতির রহস্য রঙের বিষয় বস্তুতে তার অসীম আগ্রহ ও কৌতুহল। সেই জন্যে এইসব রচনায় তার আনন্দের পরিমান ও বেশী। শিশু শিক্ষামূলক কবিতায় নজরুল কখনো শিশুকে তার কর্তব্যকর্ম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, কখনো তাকে আত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে বলেছেন, আবার কখনো তাকে মহৎকর্ম ও জ্ঞানের পথে আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু শিক্ষামূলক কবিতা রচনার পাশাপাশি শিশুদের আনন্দ বিধান বিষয়ক সাহিত্য সৃষ্টিতে নজরুলের প্রতিভার স্মৃতি হয়েছে বেশী। ঝিঙেফুল কাব্যগ্রন্থে ঝিঙেফুল নামক কবিতা ছাড়া- খুকী ও কাঠবেড়ালী, খোকার খুশি, খাঁদু-দাদু, দিদির বেতে খোকা, মা খোকার বুদ্ধি, খোকার গল্প বলা, চিঠি, প্রভাতী, লিচু চোর, হোদল-কুতকুতের বিজ্ঞাপন, ঠ্যাং ফুলি ও পিলে পটকা, এই তেরটি কবিতা আছে। এই গ্রন্থের প্রতিটি কবিতা রসে ভরপুর।
শিশুদের হাসি-তামাশা, আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন আশা বিধৃত হয়েছে প্রতিটি কবিতার ছত্রে ছত্রে। প্রভাতী কবিতায় প্রভাতের বর্ননা অত্যন্ত সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। উৎসবমুখর ঝলাধারার মতো কবিতাটির গতি ও অবারিত-

‘ভোর হলো দোর খোলো খুকুমনি ওঠরে
ঐ ডাকে যুঁই শাখে ফুল-খুকী ছোটরে’

নজরুলের শিশু কবিতায় আছে শব্দের বর্নাঢ্য ব্যবহার আর ছন্দের ঝংকার। এ জন্যে তাঁর কবিতায় সাধারন বিষয় ও অনেক জায়গায় অসামান্য হয়ে উঠেছে রুপলাবন্যে। ঝিঙেফুল কাব্যের ভূমিকায় ‘ফিরোজিয়া’ শব্দ ব্যবহারে নৈপুন্য সহজচেই লক্ষ্য করা যায়। সেই সঙ্গে অনুপ্রাস ব্যবহারে অনুবর্নন সৃষ্টি। এটি একটি নিটোল মিষ্টি কবিতা-

ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল!
সবুজপাতার দেশে ফিরোজিয়া ঝিঙেফুল! ঝিঙেফুল!

খুকুও কাঠবেড়ালী কবিতায় কাঠবেড়ালীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত খুকুর উক্তির মধ্যে শিশু হৃদয়ের কল্পনা বিলাস এবং জিবজন্তুর জীবন সম্পর্কে তার ভাষা ও ছন্দ শিশুসুলভ চাঞ্চল্যে ভরা-

‘কাঠবেড়ালী! কাঠবেড়ালী! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ ভাত খাও?
বাতাবি লেবু? লাউ
বিড়াল বাচ্চা কুকুর ছানা? তাও?

দাদুর সাথে খোকা খুকুর সম্পর্ক যেমন মধুর তেমনি সহজ ও গভীর। কেননা বার্ধক্য তো দ্বিতীয় শৈশবই। ‘খাকু দাদু’ কবিতায় দাদুর নাক সম্পর্কে শিশুর গবেষণা কৌতুককর-

‘অমা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?
খাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা- নাক ডেঙ্গা ডেং ড্যাং’

শিশুদের দুরন্তপনার শেষ নেই। কতরকম দুষ্টুমি সে যে করে। ‘লিচু চোর’ শিশুমনের উত্তেজনাময় কাজ করার প্রবৃত্তি ব্যক্ত হয়েছে। একটা হালকা রঙের সুর কবিতাকে বিশেষভাবে মনোগ্রাহী করে তুলেছে। লিচু চুরি করতে গিয়ে যে কান্ড ঘটে তা যথার্থ হাস্যোদ্দীপক। কবিতাটির ছন্দের ঝংকারটি ও বিশেষ উপভোগ্য-

“বাবুদের তাল পুকুরে
হাবুদের ডাল কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া
বলি থাক একটু দাড়া”

চুরি করতে গিয়ে শিশুর অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবেই সাময়িকভাবে রোমঞ্চকর হলেও পরিনামে মোটেই সুখকর হয়নি। তাই কবিতাটির শেষে শিশুর অনুতাপজনিত উক্তির মধ্যে একটি নীতিকথা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে-

“যাব ফেব? কান মলি তাই,,
চুরিতে আঁর যদি যাই।”

শিশুর মন উদ্দাম। উধাও হয়ে দেশ-দেশান্তর ঘুরে বেড়াতে চায়। তাই সে যাবে অচিন দেশে, তুহিন মেরু পার হয়ে, বরফ ঢাকা পাহাড় ডিঙিয়ে, হাওয়ায় চড়ে, চাঁদের দেশে আর না হয় পাতালে। সমস্ত দুনিয়াটা সে হাতের মুঠোয় পেতে চায়-

“থাকবো না কো বদ্ধ ঘরে
দেখবো এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘুর্ণি পাকে”

শৈশবে নজরুল যে জীবন কাটিয়েছেন তা মুক্ত, স্বাধীন ও অবাধ। বাধা বাধাবন্ধনহীন শিশু নজরুলেরই স্বপ্নসাধ, স্কুল ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। তাঁর কবিতাতেও শিশু যুদ্ধে যোগদানের স্বপ্নই দেখে-

“মাগো আমি যুদ্ধে যাবো
নিষেধ কি মা আর মানি?
রাত্তিরে রোজ ঘুমের ঘোরে
ডাকে পোলান্ড জার্মানি”

নজরুলের মধ্যে যে দুঃসাহসিকতা, তাঁর শিশু ও সেই দুঃসাহসিকতার স্বপ্নই দেখে। তাঁর শিশু ও অকুতোভয়। দুঃসাহসিক শিশু নিত্যনতুনের যাত্রী। সে ঝর্ণার মতো উদ্দাম, চঞ্চল। আকাশের মতো বাধাহীন। বেদুইনের মতো সঞ্চারশীল এবং মুক্ত চিত্ত-

“মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম
মোরা ঝর্ণার মতো চঞ্চল
মোরা বিধাতার মতো নির্ভর
মোরা প্রকৃতির মতো স্বচ্ছল”

নজরুল উপলব্ধি করেছেন, শিশুর মন আশ্চার্য কল্পনাপ্রবন। তাই শিশু কল্পনার রথে চড়ে উড়ে যেতে চায় সূর্যি মামার আগে। তার কলতালে জেগে উঠবে সাগর পাহাড় নদী। তাকে দেখে ঝর্ণামাসী উৎফুল্ল হয়ে উঠবে। তাই ছোট্ট খোকা হতে চায় ঘুম জাগানো পাখী-

“আমি হবো সকাল বেলার পাখী
সবার আগে কুসুম বাগে
উঠবো আমি ডাকি”।

সংখ্যার দিক থেকে নজরুলের শিশু সাহিত্য বিস্তৃত কম। কিন্তু বিষয়বস্তুর অভিনত্তে¡ নন্দিত। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যের সংখ্যা- ঝিঙেফুল (১৯২৬), সাত ভাই চম্পা, পিলে পটকা (১৯৬৪), মঞ্চায়ন (১৯৫৫) ও ঘুম পাড়ানী পাখি (১৯৬৮)।
তিনি শিশুদের জন্য শুধু নাট্যধর্মী কবিতা রচনা করেননি, নাটিকাও রচনা করেছেন। যেমন: পুতুলের বিয়ে। শিশুদের জন্য এ নাটিকাটি খুব উপভোগ্য। শিশুদের জন্য এরূপ অভিনয়োপযোগী নাটিকা বাংলা সাহিত্যে নেই বললেই চলে। এই নাটকিট নজরুলের এক অপুর্ব সৃষ্টি। নজরুলের ছিল একটা চির কিশোর মন, যার সাহায্যে তিনি শিশুদের হৃদয়ে প্রবেশ করে তাদের মনের স্বচ্ছন্দ প্রকাশে সহায়তা করেছেন। শিশু চরিত্র আঁকতে গিয়ে তিনি দর্শনের দ্বারস্ত হননি। আপন মনের অভিজ্ঞতায় তাদের বিস্তৃতি রাজ্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখানে কোন কৃত্তিমতা আসেনি। এসেছে মনের স্বাভাবিক প্রকাশ। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোন থেকে নজরুল প্রবেশ করেছেন শিশুমনের এক বিচিত্র জড়তে। নজরুল দুর থেকে এই জগতকে পর্যবেক্ষণ করেননি বলেই তার শিশুতোষ কবিতায় এসেছে স্বাভাবিক ছন্দ। নজরুলের কন্ঠে বিদ্রোহী চেনতার কবিতার অবয়ব পরিবর্তনে যেভাবে সহায়তা করেছিল সেভাবেই তাঁর বিদ্রোহী চেতনার পাশে যে কোমল একটা মন তাও সোপন করেছিল, তার প্রকাশ ঘটেছে তার শিশু সাহিত্যে।

গসপেলে আছে- Expart you be converted and become aslittle children, you shall not enter the kingdom of heaven. যিশুর উক্তির তাৎপর্য এই যে যদি শিশুর মত সরল, নিষ্পাপ হওয়া যায় তা হলেই স্বর্গরাজ্য লাভ করা সম্ভব। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শিশু স্রষ্টার কতখানি প্রিয়! শিশু দেবোপম। এ জন্যই ইংরেজী বা ইউরোপয়ী সাহিত্যে শিশুকে বিশেষ একটি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই ইউরোপীয় ইংরেজী শিশুসাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছেন- যে জগতে উপনীত হয়ে সব দেশের সবকালের শিশু বিমোহিত হেব। ইংরেজী সাহিত্য লুইস ক্যারলের অবাক জগতে এলিস’ শিশুদের জন্য রচিত এক অত্যাশ্চার্য সৃষ্টি। কিন্তু ইউরোপীয় সাহিত্যের তুলনায় বাংলা শিশু সাহিত্যের দৈন্য সুপ্রকট। এর হেতু নানাবিধ। তবে মোটামুটি দু একটি কারন উল্লেখ করা যেতে পারে; আমরা জন্মেই বুড়িয়ে যাই। তাই শিশুকে ঠিক শিশু বলে ভাবি না, বুড়ো থেকো বলেই ভাবি এবং শিশুদের জন্য যে সাহিত্য লেখা হয় তা শিশুদের উপযোগী নয়। বড়দের সাহিত্য হয়ে পড়ে। বাংলায় শিশু সাহিত্য অবহেলিত। গাথা এবং রূপকথার লৌকিক ধারায় বেশ প্রাচুর্য ছিল উনিশ শতকের বিখ্যাত লেখকেরা শিশুদের জন্য মৌলিক কিছু লেখার কথা ভাবেন নি। শিশুদের জন্য লেখার তাগিদ আসে বিশ শতকে। সেই সময় নজরুল বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করেই শিশু সাহিত্যের এ দৈন্যদশা ঘুচিয়ে দেন। তাঁর মন ছিল শিশুর মত সরল, শিশুর মতো নিস্পাট। তিনি শিশুদের মনপ্রাণ দিয়েই ভালোবাসতেন। তিনি শিশুদের মনস্তত্ব সম্পর্কে জানতেন। শিশুদের প্রতি তাঁর অন্তরের দরদ তাঁর শিশু সাহিত্যকে করে তুলেছে প্রানস্পর্শী ও আবেগময়।
এ জন্যই তাঁর শিশু সাহিত্য হয়ে উঠেছে স্বার্থক ও অনবদ্য।

লেখক : বাংলা শিশু সাহিত্য ও নজরুল

লকডাউন
                                  

জনির বউ এতটা লক্ষ্মী যে তাদের দুজনের মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি। আসলেই অবিশ্বাস্য একটা বিষয়। অন্তত জনির এমনটাই মনে হয়। বিয়ের এক বছর হতে চলল তবু জনির কোনো সিদ্ধান্তে মনা কোনো দিন আপত্তি তোলেনি। জনি যা বলে তাতেই মনা হ্যাঁ, হুম, বলে সায় দিয়ে যায়। বিয়ের আগে মনা কখনো শাড়ি পরেনি। বিয়ের পর সে সালোয়ার কামিজ পরত কিন্তু জনি একদিন বলে, তুমি শাড়ি পরার অভ্যাস করলে আমি খুশি হবো। জনির আর কিছু বলার প্রয়োজনই হয়নি। মনা তার সব শটস্, জিন্স, টি শার্ট, সালোয়ার কামিজ কবাটে উঠিয়ে রেখেছে। এখন সর্বক্ষণ সে শাড়ি পরে থাকে। জনি চাকরি করে একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে। খুবই ব্যস্ততা তার। কখনো নারায়ণগঞ্জে, কখনো আশুলিয়ায় দৌঁড়ের ওপর থাকতে হয় তাকে। ভালোই চলছিল তাদের জীবন। হঠাৎ করে এলো করোনার কাল। আস্তে আস্তে দেশের অবস্থা এমন দিকে গড়ালো সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা হল। জনি এখন সারাদিন বাড়িতে। দুজনে গল্প করে, চা খায় বারান্দায় বসে। এটা ওটা নিয়ে গল্প করে। মনার একটা খারাপ অভ্যাস ছিলো। সে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হটস্অ্যাপ, টিকটক সব ধরনের একাউন্ট আছে তার। জনি বলে, দেখছি মোবাইলটা তোমার হাসবেন্ড হয়ে গেছে।

মনা বলে, কী করব বলো। তুমি সারা দিন বাইরে। সময় কাটে না। এসব করে সময় কাটাই।

—আমি তাই তো বলছি একটা বাচ্চা নাও।

—ঠিক আছে আর কিছুদিন যাক।

জনির বউ অপরূপ সুন্দরী তাই জনি বাইরে চাকরির জন্য পাঠাতে চায় না। বলা তো যায় না। রাস্তা-ঘাটে কোথায় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। নারায়ণগঞ্জে বখাটেদের তো অভাব নেই। একদিন গোসল সেরে জনি গামছা দিয়ে চুল মুছতে মুছতে রুমে ঢোকে। অন্যদিন এই সময় তার ভীষণ ব্যস্ততা থাকে। কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে নাস্তা সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হওয়া যায় সেই চেষ্টা চলে। আজ বেলা করে ঘুম থেকে উঠে নাস্তাটা সেরে গোসলে গেছিল। এরপর হাতে কোনো কাজ নেই। বই-পেপার পড়া, টিভি দেখা এসবে তার তেমন কোনো আগ্রহ নাই। কথায় আছে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। জনির মাথায় কী যে শয়তানি চাপলো সে ভাবলো বউয়ের সাথে একটু মজা করা যাক। জনি বলল, এই তুমি সারা দিন ফেসবুকে কার কার সঙ্গে কথা বলো?

মনা ফোনটা বন্ধ করে জনির দিকে তাকালো। দুঃখিত। তুমি কখন এলে খেয়াল করিনি। চা খাবে? চা করে দেই?

—লাগবে না।

—তাহলে এখানে এসে বসো। জনির ভেজা মাথায় হাত বুলিয়ে শুকিয়ে দিচ্ছি। তোমাকে বললাম এই সময় নাড়া হয়ে যাও। সবসময় বাড়িতে থাকছো। আরাম পেতে।

—না ঠিক আছে।

মনা জোর করে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে জনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। জনি ভাবে, এই মেয়ে কী দিয়ে তৈরি—রাগ বলতে কি তার কিছু নেই। জনির মনে জেদ চেপে গেল। সে যেভাবেই হোক মনাকে খেপিয়ে তুলবে তারপর ক্ষমা চেয়ে নেবে।

তার কয়েকদিন পরের কথা। মনা বারান্দায় গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল। জনি বারান্দায় গিয়ে হুট করে মনার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিল। ফোনে নম্বরটা ছোট বোন শিল্পীর নামে সেভ করা। তবু জনি বলল—বারান্দায় এসে লুকিয়ে লুকিয়ে কার সাথে কথা বলছ? মনে করেছ আমি বুঝি না!

—কী বলছ এসব বাজে কথা? আমি আমার ছোট বোন শিল্পীর সাথে কথা বলছিলাম। আমি শুনেছিলাম ছেলে মানুষ বেকার হয়ে বাড়িতে বসে থাকলে মাথা ঠিক থাকে না। সেই হয়েছে তোমার দশা।

—আমাকে উল্টা-পাল্টা বলে পার পাবা না? তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটাও প্রেম করেনি সেটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?

—তুমিও তাহলে প্রেম করেছো অনেক?

জনি কী উত্তর দিবে বুঝে উঠতে পারে না। দুয়েকটা প্রেম সে যে করেনি সেটা বললে ঠিক হবে না। কিন্তু ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে গিয়ে ওসব আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি। এম.এ. করার দশ বছর পর সে বিয়ে করেছে। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করবে কীভাবে। দীর্ঘদিন অল্প বেতনে ছোটখাটো চাকরি করেছে তারপর এই চাকরি এবং বিয়ে। মনার সঙ্গে বিয়েটা তার পারিবারিকভাবেই হয়েছে। তবে বিয়ের আগে তারা মাসখানেক নিজের মতো করে ঘুরেছে। একে অপরের মনের কথা শেয়ার করেছে বিয়ের বাজার তারা দুজনে মিলে করেছিলো। জনি বলে, সে সময় পেলাম কই। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এই করতে বরতে তো অর্ধেকটা জীবন পার হয়ে গেল।

—আমার জীবনটা তোমার কাছে উন্মুক্ত বইয়ের মতো। সবই তো তোমাকে বলেছি বিয়ের আগে। আমি একটা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। মাথায় কাপড় না দিয়ে বাইরে কখনো বের হইনি। কোনো ছেলে বন্ধু তো দূরের কথা—কোনো বান্ধবীর বাড়িতে পর্যন্ত যাওয়া নিষেধ ছিল।

—ও তো কথা জানি না। আমি সারা দিন অফিস করে মরি আর তুমি কার সাথে মারিয়ে বেড়াও। এসব চলবে না। যদি আমার সাথে সংসার করতে চাও তো যেভাবে বলছি সেভাবে চলবে। না তো বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিব।

—বিয়ে এক বছরও হলো না। এরই মধ্যে আমাকে তোমার আর ভালো লাগছে না?

—এই সব বলে সিমপ্যাথি নেবার চেষ্টা করবে না।

—তুমি বলার পর থেকে আমি ফেসবুক বন্ধ করে রেখেছি আর খুলিনি। ফোনটাও কি ব্যবহার করতে পারব না?

—নাহ। পারবা না। বোনের সাথে কথা বলছি বলে আড়ালে প্রেমিকের সাথে কথা বলবে সে চলবে না।

—তোমার মুখে কি কোনো কথা আটকায় না। মনা চোখের জল মুছতে মুছতে ঘরে চলে গেল। রাতে খাবার টেবিলে মনা কোনো কথা বলল না। মায়াভরা কাজল চোখের মেয়েটির জন্য জনির খুব মায়া হল। কী যে সে করছে। অহেতুক মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছে। না এটা ঠিক হচ্ছে না। রাতে অস্থির মন নিয়ে জনি ছাদে একা একা হাঁটাহাঁটি করছিল। হাঁটতে হাঁটতে সে ভীষণ একাকিত্ব বোধ করতে শুরু করে। নিঃসঙ্গ চাঁদটাকে তার অসহ্য মনে হয়। দ্রুত সে নিচে নেমে আসে। শোবার ঘরে গিয়ে দেখে মনা একা একা বসে কাঁদছে। জনি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। তারপর বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বুকে মাথা রাখে। মনার হাত দুটোকে টেনে এনে নিজের মাথার উপর রাখে। মনা হাত দুটো সরিয়ে নেয়। জনি আবার মনার হাত দুটোকে তার মাথার উপর রাখে। মনা আবার হাত সরিয়ে নেয়। তৃতীয়বারে মনা নিজেই জনিকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে। জনির ঠোঁটে চুমু খায়। মনা বলে, তুমি বাচ্চা নিতে চাইলে আমার কোনো আপত্তি নেই।

—তাহলে আজ থেকেই সে চেষ্টা শুরু করা যাক।

—ওরে বদমাশ। সুড়সুড়ি। সে জনির কোমরে সুড়সুড়ি দেয়। মনা ভালা করেই জানে জনির কোমরে অনেক সুড়সুড়ি। জনি ছিটকে দূরে সরে যায়।

পরের দিন সকালে জনি ভাবে, নাহ আর নাহ। এই খেলা বাদ দিতে হবে। খুব রিক্সি হয়ে যাচ্ছে গেইমটা। কিন্তু ঠিক তখনই মাথার মধ্যে পোকা কিলবিল করে ওঠে। মনা বিছানা ঠিক করতে করতে বলে, কবে যে লকডাউন অবস্থা থেকে মুক্তি পাবো। নারায়ণগঞ্জের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।

—কেন? যদি সমস্যা হয় আমার হবে। অফিস আর ক’মাস বেতন দিতে পারবে? বেতন বন্ধ হলে সংসার চালাব কীভাবে? এসব তো আমার ভাবনা। তুমি তো বিন্দাস আছো।

—তারপরও।

—তারপরও কী? প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলতে পারছ না।

—কী বলছ এসব! অবাক হয়ে মনা জনির দিকে তাকায়।

জনি জানে, মনা সে ধরনের নারী যাদের জীবনের উদ্দেশ্য স্বামী সেবা—পতিব্রতা যাদের কাছে পরম ধর্ম। জনি তার মুখে একটা কৃত্রিম উষ্ণতা ধরে রাখে।

মনা এবার সত্যি ভয় পেয়ে যায়। সে বলে, তোমার সাথে আজকাল কথা বলতে ভয় হয়। মনা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

—ধুর। জনি ভীষণ বিরক্ত। এ মেয়ে কী দিয়ে গড়া এত কিছুর পরও উত্তেজিত হয় না।

তবে একটা প্রতিক্রিয়া মনা দেখায়—জনির সাথে সে একেবারে কথা বন্ধ করে দেয়। জনি আবার এমন গুমোট পরিবেশ সহ্য করতে পারে না। বাড়িতে তারা দুইজন প্রাণী। লোকডাউন চলছে। বাইরে যাওয়া একেবারে বন্ধ। এখন যদি মনার সাথে সে কথা বলতে না পারে তো দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে! জনি সিদ্ধান্ত নেয়—এই খেলা শেষ করতে হবে। এভাবে দুই দিন কেটে গেছে। আজ ছিল পহেলা বৈশাখ। লকডাউন শুরু হবার আগে জনি একটা শাড়ি কিনে এনেছিল। ভেবেছিল মনা সেটা পরবে। বাড়িতে যা কিছু আছে তা দিয়েই ভালো-মন্দ রান্না করবে। কিন্তু সেটা করে না মনা। জনি ভাবে, নাহ। এবার সত্যি সত্যি এই খেলা শেষ করবে। রাত তখন ১১টা। মনা শোবার ঘরে আর আসে না। ব্যালকুনির অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকে। বিকেল থেকে আকাশে মেঘ ছিলো, কোথাও না কোথাও কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। জনি বিছানায় না গিয়ে চেয়ারে বসে থাকে। বরোটা বেজে যায় তবু মনা ঘরে আসে না। বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে আকাশ রূপালি আলোয় ভরে যাচ্ছে। সে আলোয় মনার তন্বী তনু জানালার ওপারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনির মাথায় কী যে ভূত চাপল সে ব্যালকুনির আঁধারে মনার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এখানে কী করছ?

—কী বলবা না কোন সেই প্রেমিক? কার জন্য মন খারাপ করে এখানে দাঁড়িয়ে আছো? এই তোমার শেষ সুযোগ। মনা অবাক হয়ে জনির দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে ভয়ের রেখা। বিজলির আলোয় মনার ঠোঁট দুটো কেঁপে কেঁপে ওঠে। জনি আবার বলে, কী বলবা না, কে সে?

—তুমি যেদিন বলেছিলে ফেসবুক বন্ধ করে দিতে সেদিন থেকে ওর সাথে কথা বন্ধ করেছি।

হঠাৎ ঝড় উঠল। সাথে এলোমেলো বৃষ্টি। বজ্রপাতের শব্দে জনির কান যেন ঝালা-ফালা হয়ে গেল। মাঝে মাঝে লকডাউন ভেঙে বাজার করার জন্য জনিকে বাইরে যেতে হয়েছে। শরীরে ঘাম দিয়ে যেন জ্বর আসছে তার। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে নাকি সে?

মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন
                                  

আসাদুজ্জামান জুয়েল : ভারতের দিল্লিতে চলছে দাঙ্গা। শুধু দিল্লিতেই নয়, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের রাজ্যগুলোর আনাচে কানাচে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ হলেও এখন তা দাড়িয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। এখন পরিস্থিতি মুসলমান বনাম উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে।বর্তমান হিন্দু অধ্যুসিত ভারতে দাঙ্গা হলে হিন্দুরাও তাদের ঘর রক্ষা করতে পারবে না। ‘গ্রামে আগুন লাগলে পীর সাহেবের ঘরও বাদ যায় না’ এই প্রবাদ আমরা সবাই জানি। দাঙ্গায় তাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মুসলিম-হিন্দুসহ অন্য ধর্মের সকলেই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় গুজরাটের দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ ছিলেন স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আজ যখন দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু হয়েছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নরেন্দ্র মোদী আর স্বরাস্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। দাঙ্গা নিয়ে ভয়ের কারন এখানেই। সেদিনও যেমন তারা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে আগুনে ঘি ঢেলেছিলো আজও তার ব্যত্যয় ঘটাবে না। কারন কুকুরের ল্যাজ যে শত বছর ঘি মেখে চুঙ্গায় রাখলেও বের করার পরই কুকড়ে যায়! দিল্লির আগুনের হলকা যেন আমাদের সোনার বাংলায় উত্তাপ না ছড়ায় সেদিকে আমাদের সকলেরই খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদ পোড়ানোর প্রতিবাদ মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিতে হবে। অপর রাষ্ট্রের সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদে ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট না করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে দিল্লিতে টানা চার দিনের দাঙ্গার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন মিডিয়া। এই পরিসংখ্যান সরকারের। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি সেটা ধারনা করা যেতেই পারে। কারন মৃত্যু নিয়ে সরকারী পরিসংখ্যান কখনোই নির্ভরযোগ্য সত্য বলে অতীতেও বিবেচিত হয়নি, এখনও আমার কাছে হয় না। সংবাদ মাধ্যমে জাফরাবাদের এক বাসিন্দা বলেন, “ভেতরের মহল্লায় অশান্তি চলছে। কোথায় কত জনের দেহ পড়ে আছে কেউ জানে না। পুলিশ এখনও ঢুকতে পারেনি ভেতরে।” এতেই আচ করা যায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
দাঙ্গার হাতিয়ার হিসাবে ইট, পাথর, লাঠিই শুধু নয় আরেকটি বড় উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের ওপর অ্যাসিড হামলা। মুস্তাফাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বেশ কিছু আহত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই নষ্ট হয়েছে। দুই চোখ-সহ পুরো মুখ ঝলসে গেছে ওয়কিল নামের আরেকজনের। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পুলিশকেও অ্যাসিড হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিরীহ পুলিশ (যারা দাঙ্গা না থামিয়ে মসজিদে আগুন ধরাতে সহযোগীতা করেছে) তারাও রেহাই পাচ্ছে না। এযেনো গঙ্গাজল সিনেমার বাস্তব প্রয়োগ করছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোড়ারা। এসিডকে গঙ্গাজল ভেবে ছিটিয়ে পবিত্র করছে ভারতকে। আমি একজন মানুষ হিসাবে তীব্র নিন্দা জানাই।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস ভারতে নতুন নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাঙ্গার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে। না থাকলেও সমস্যা নেই। মনে করিয়ে দিচ্ছি।
পুরনো ইতিহাস হাতরে পাওয়া যায় ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু তীর্থযাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুতর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, যাতে ১ হাজারেরও বেশি মতান্তরে দুই হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়- যারা প্রধানত মুসলিম।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সবরমতী এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় একদল মুসলিম তার ওপর আক্রমণে চালায় এবং ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে একটি বগিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের একটি তদন্ত কমিশন ২০০৮ সালে এক রিপোর্টে বলে যে, ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ছিল একটি ষড়যন্ত্র। সরকারি একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ট্রেনের ভেতরের একটি দুর্ঘটনা থেকেই হয়তো আগুনের সূচনা হয়েছিল।
২০১৭ সালে আগুন লাগানোর মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১১ জন মুসলিম ব্যক্তির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। ওই আদালত অন্য আরো ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা বহাল রেখেছে এবং অন্য ৬৩ জনকে খালাস দেয়ার রায় চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে। যাদেরকে ২০১১ সালে আদালত খালাস দিয়েছিল, তার মধ্যে চার ব্যক্তিকে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বলে বলা হয়। আদালত এ ছাড়াও গুজরাট রাজ্য সরকারকে গোধরা ট্রেন অগ্নিকান্ডের শিকার প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজ্য এবং রেল কর্তৃপক্ষ আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
২০০২ সালে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, সে সময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হিন্দু দাঙ্গাকারীদের পরোক্ষভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন। যদিও কমিশন এসব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আর সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিভাবে কমিশন দ্বারা খারিজ করতে হয় তা আমরা ভালোভাবেই জানি।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিযোগ করেছেন, গুজরাট দাঙ্গার সময় প্রশাসন সেনা নামাতে চব্বিশ ঘন্টারও বেশি দেরি করেছিল- যেটা না হলে হয়তো বহু প্রাণহানি ঠেকানো যেত। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ গুজরাট দাঙ্গার মোকাবিলায় মোতায়েন করা সেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি তার সদ্যপ্রকাশিত বইতে দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন, যা ১৪ অক্টোবর ২০১৮ বিবিসির এক রিপোর্টে ওঠে এসেছে। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার ওই বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও দাঙ্গার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের এখনকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় গুজরাটে দুহাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম। ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার বইতে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ বর্ণনা করেছেন কীভাবে দাঙ্গাবিধ্বস্ত গুজরাটে পৌঁছানোর পরও তার বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গুজরাটে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর পরই আমি যোধপুরে তখনকার সেনাপ্রধান পদ্মনাভনের ফোন পেলাম। একটু অবাকই হয়েছিলাম, কারণ সেনাপ্রধান সরাসরি ডিভিশন কমান্ডারকে ফোন করে নির্দেশ দিতেন না। কিন্তু পাঞ্জাবে একসঙ্গে কাজ করার পুরনো পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আমাকে ভাল করে চিনতেন, ডাকতেন ‘জুম’ বলে। আর্মি চিফ আমাকে বললেন, জুম- তোমার ট্রুপস নিয়ে এক্ষুনি গুজরাটে চলে যাও, দাঙ্গা ঠেকাও। আকাশপথে একটার পর একটা সর্টি দিয়ে ২০০২-র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি আর ১লা মার্চের মধ্যবর্তী রাতেই যোধপুর থেকে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদে পৌঁছে গিয়েছিল বিশাল সংখ্যক সেনা। কিন্তু সেই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জমিরউদ্দিন শাহ জানাচ্ছেন পুরো রাজ্য জুড়ে তখন চলছে ভয়াবহ দাঙ্গা, কিন্তু তাদের পুরো একটা দিনেরও বেশি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। মধ্যরাতের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন- সেখানে তখন ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজও। কিন্তু তার পরেও সেনারা দাঙ্গা ঠেকানোর জন্য রাস্তায় নামতে পারেনি চব্বিশ ঘন্টারও বেশি সময়। সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ আরও জানাচ্ছেন, আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল গুজরাটে পৌঁছানোর পর বাহিনীকে গাড়ি, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এসকর্ট, কমিউনিকেশন সিস্টেম আর শহরের নকশা দেওয়া হবে। কিন্তু পৌঁছে দেখলাম ওসব কিছুই নেই। একজন ব্রিগেডিয়ার শুধু এসেছিলেন দেখা করতে, তারও কোনও ধারণা ছিল না কেন কিছুই নেই। শুনলাম রাজ্যের মুখ্য সচিব বিদেশে। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তাকে যোগাযোগ করার বহু চেষ্টা করলাম- তিনি ফোনই ধরলেন না। এভাবে মূল্যবান সময়ের অপচয়ে সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হয়েছিল- আর তাতেই দাঙ্গায় প্রাণহানি অনেক বেড়ে যায় বলে বইতে লিখেছেন জমিরউদ্দিন শাহ। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ এর বর্ণনায়ই বুঝাযায় নরেন্দ্র মোদীর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে কিভাবে দাঙ্গা ছড়িয়েছিলো এবং এত বিশাল সংখ্যক মুসলিম-হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেলো।
আমরা বাঙ্গালী। আর আমাদের বদনাম করে অনেকে বলেন ‘হুজুকে বাঙ্গালী’। অনেক সময় পরিবেশ পরিস্থিতি যথাযথ ভাবে বিবেচনা না করেই ঝাপিয়ে পড়ি। অন্য দেশে বৃষ্টি হলে আমরা ছাতা মেলে ধরি বলেও বদনাম আছে। দিল্লির দাঙ্গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের বহু মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছে, আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, মসজিদের ইমামের চোখে মুখে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে, চিরতরে চোখ নষ্ট করে দিচ্ছে, রাস্তায় ফেলে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দাড়িয়ে সিনেমা দেখছে। সন্তানের লাসের কফিনের সামনে পিতাকে পুলিশ লাথি ঘুশি দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোন কোন জায়গায় পুলিশ নিজেরাই মসজিদে আগুন দিচ্ছে। এই খবরগুলো উড়ো খবর নয়, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন মদদ ছাড়া হতে পারে বলে মনে করি না।
প্রখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিক জ্যোতি বসু বলতেন-‘শাসক না চাইলে দাঙ্গা হয় না’ কথাটা বার বার প্রমানিত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী যে একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি তা তার অতীত কর্মেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন দাঙ্গা ভারতে দেখা যাবে বলেই মনে হয়। নরেন্দ্র মোদী চাইলেই গুজরাট দাঙ্গা ঠেকাতে পারতেন, নরেন্দ্র মোদী চাইলেই দিল্লির দাঙ্গাও ঠেকাতে পারতেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী একজন মুসলিম বিদ্বেষী অমানুষ হিসাবে বার বার নিজের পরিচয় দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দিবেন। ইতিহাস নরেন্দ্র মোদীকে মনে রাখবেন, অবশ্যই ঘৃণাভরে মনে রাখবেন। ইতিহাস মুছে যায় না।
তেয়াত্তর বছর বয়সী একটি পরিপক্ক রাষ্ট্র ভারত এখনও ধর্মান্ধতা থেকে বেরোতে পারছে না যা খুবই দুঃখজনক। ভারতের অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে তারাই চিন্তা করবে। আমরা পারি তাদের হিংসাত্বক কাজের প্রতি ঘৃণা করতে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাদের হিংসার আগুন আমাদের মনে পূষে আমরা যেন নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে না জড়াই। আমরা আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে চাই। একজন ভিন্ন ধর্মীয় মানুষও যেন বাংলার মুসলিম দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও যেন মুসলিমদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। সম্প্রীতির জয় হোক, মানবতার জয় হোক।
লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট।

বইমেলায় দৈনিক গণমুক্তির কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুটি বই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আইনজীবী, লেখক, কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের কলাম সংকলন ‘সমকালীন ভাবনা-২’ ও কাব্যগ্রন্থ ‘তুই থাকিস পরাণের গহীনে’ নামে দুইটি নতুন বই। ‘সমকালীন ভাবনা-২’ শীর্ষক বইটি দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচিত কিছু কলাম। কাব্যগ্রন্থ ‘তুই থাকিস পরাণের গহীনে’ বইটিতে প্রেম-বিরহ-দ্রোহের কিছু নির্বাচিত কবিতা স্থান পেয়েছে। এই নিয়ে আসাদুজ্জামান জুয়েলের লেখা প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ টিতে। ২০১২ সালে প্রথম প্রকাশ পায় প্রবাসীদের সুখ দুঃখ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘যেমন আছি লন্ডনে’।

২০১৯ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায় ভ্রমণ কাহিনী ‘কলকাতা ভ্রমণঃ জীবনে প্রথম কিছু’, নির্বাচিত কলাম সংকলন ‘সমকালীন ভাবনা’ ও প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয়ের শব্দক্ষরণ’। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার থেকে বই দু’টি মেলায় বাবুই প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন নাম্বার ৩২২-৩২৩ এ পাওয়া যাচ্ছে। প্যাভিলিয়নটির অবস্থান টিএসসির গেইট দিয়ে প্রবেশ করলে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মেলা মাঠের শুরুতে। 

আসাদুজ্জামান জুয়েলের ‘সমকালীন ভাবনা-২’ বইয়ে দেশের সমকালীন বিষয়ের উপর লেখা নির্বাচিত কলামগুলো রয়েছে। বইটি রম্য ধাচের লেখা হলেও রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং মুক্ত সমালোচনা। চমকপ্রদ বিষয়বস্তুর আলোচনা-সমালোচনা রম্য আকারে বর্ণনায় সাজানো হয়েছে ১২৮ পৃষ্ঠার বইটিতে যার দাম ৩০০ টাকা। তুই থাকিস পরাণের গহীনে কাব্যগ্রন্থে প্রেম-বিরহ-দ্রোহের কিছু নির্বাচিত কবিতা রয়েছে। ছন্দে ছন্দে প্রেম-বিরহ-দ্রোহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৮০ পৃষ্ঠার বইটিতে যার দাম ২০০ টাকা। বই দু’টির প্রচ্ছদ করেছেন মাহমুদুর রহমান।
এ প্রসঙ্গে লেখক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আমি নিয়মিত দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকায় সরল মানুষ-সহজ কথা ব্যানারে কলাম লিখি। বিভিন্ন বিষয়ে আমার বিবেক যে নাড়া দেয় তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কলামগুলোতে। কঠিন কথা কেউ সহ্য করতে চায় না তাই রম্য আকারে লেখা হয়েছে যা পড়লে গল্পের মজা পাবেন সম্মানিত পাঠকরা। আর কবিতাগুলো প্রেম-বিরহ-দ্রোহর বহিঃপ্রকাশ। ছন্দে ছন্দে মনের ভাব প্রকাশ করেছি। আশা করছি পাঠকদের ভালো লাগবে।
প্রসঙ্গত, বহু গুণে গুণান্বিত আসাদুজ্জামান জুয়েল ১৯৭৮ সালের ৫ জুন শরীয়তপুর জেলার পালং থানার পালং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রওশনারা বেগম ও আবদুর রশীদ খানের কনিষ্ঠ পুত্র আসাদুজ্জামান জুয়েল। শিক্ষা জীবন শুরু মায়ের হাত ধরে। তুলাসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি; শরীয়তপুর সরকারী মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি; জাজিরা ডিগ্রী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ হতে বি.কম পাস করার পর প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ হতে এলএল.বি ও এলএল.এম সম্পন্ন করেন। প্রতিটি ক্যাম্পাসেই কেটেছে তার মধুর দিনগুলো। ২০০৯ সালের ০৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভূক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা বার এসোসিয়েশনে সদস্যভূক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ জেলার শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যভূক্ত হয়ে বর্তমানে আইন পেশার সাথে যুক্ত আছেন। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতি, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও শরীয়তপুর জেলা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সদস্য হিসাবে সার্বক্ষণিক আইন পেশায় নিয়োজিত।
আসাদুজ্জামান জুয়েল লেখালিখি করেন মনের টানে। একই সাথে আইন পেশা ও লেখালিখিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্ম জীবন শুরু লেখালিখির মাধ্যমে। দৈনিক ভোরের কাগজ দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু। এর পর দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠ, দৈনিক গণমুক্তিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ও সাপ্তাহিকে কাজ করেছেন।
আসাদুজ্জামান জুয়েল লেখালিখি করেন বিভিন্ন ব্লগে। আসাদুজ্জামান জুয়েলের নিজস্ব ওয়েবসাইট িি.িধংধফলববিষ.পড়স সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘সরল মানুষ-সহজ কথা’ ব্যানারে নিয়মিত কলাম লেখেন।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে তিনবার ও দুইবার লাইব্রেরী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শরীয়তপুর জেলা ইউনিটের জীবন সদস্য। বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত আছেন।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শরীয়তপুর এর প্যানেল আইনজীবী হিসাবেও কর্মরত আছেন। গরীব-দুঃখীদের মামলা পরিচালনার জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা শরীয়তপুর জেলা শাখার প্যানেল আইনজীবী হিসাবে দুস্থ্যদের আইনগত সহায়তা প্রদান কাজে নিষ্ঠার সাথে জড়িত আছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ও শিক্ষানিকেতন কর্ম কেন্দ্রীক পাঠাগার শরীয়তপুরের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ান বার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইনটেনসিভ ট্রায়েল এডভোকেসী ওয়ার্কশপ, ২০১০ সালে এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার এর উদ্যোগে হিউম্যান রাইটস এন্ড রুল অফ ‘ল’, ২০০২ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এর উদ্যোগে শিশু ও নারী বিষয়ক রিপোর্টিং কর্মশালা, ১৯৯৯ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত কম্পিউটার ট্রেড প্রশিক্ষণ, ২০১০ সালে ইউএসএইড-প্রগতি-কালেরকন্ঠ আয়োজিত দুর্নীতি বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী ও তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণসহ পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। লেখালিখি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে সমাজ সংস্কারে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আসাদুজ্জামান জুয়েলের অর্ধপ্রাণ তার কন্যা রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী। সহধর্মীনি মুনমুন সুলতানা লুনা পেশায় শিক্ষিকা। দুই বোন রেহানা আক্তার রেখা এবং কহিনুর আক্তার শিখা এবং একমাত্র ভাই মোহাম্মদ রুহুল আমীন খান আজাদ একজন প্রবাসী। আসাদুজ্জামান জুয়েলের বাবা আবদুর রশীদ খান শরীয়তপুরের একজন ভাষা সৈনিক।

 

 

দিনাজপুর বানিজ্য মেলার উদ্বোধন
                                  

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি : আজ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে দিনাজপুর গোর এ শহীদ ময়দানে বিকেল ৪:৩০ এ দিনাজপুর বানিজ্যমেলা ২০২০ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য ও মাননীয় হুইপ, ইকবালুর রহিম এমপি।

সভাপতিত্ব করেন সুজাউর রব চৌধুরী, সভাপতি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টি আয়োজনে। চমক পূর্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিনাজপুর বাণিজ্য মেলার প্রধান অতিথি ইকবালুর রহিম এমপি ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম। পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিপিএম (বার)। মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বাবু। আহবায়ক দিনাজপুর বানিজ্য মেলা ২০২০ উপ কমিটি। পরিচালক, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি।

 

 

বাংলা মোদের মাতৃভাষা
                                  

বেলাল হোসেন রৌমারী : বাংলা মোদের মাতৃভাষা বাংলা মোদের প্রাণ।

বাংলা ভাষার জন্য কত বীর যে দিল জান।

বাংলা ভাষায় হাজার গায়ক গায় যে মধুর গান,

বাংলা গানে বাঙ্গালিদের জুড়ায় মনপ্রাণ।

বাংলা ভাষায় মধুর সুরে ডাকছে বিভাবরী

বাংলা মায়ের ডাক শুনে গোমনযে ওঠে ভরি।

বাংলা ভাষায় কথা বলে বাঙ্গালিরা ভাই,

বাংলা ভাষার মতো এতো মধুর ভাষা নাই।

বাংলা ভাষায় রাত্রী জেগে লিখছি কত ছড়া,

বাংলা মোদের প্রাণের ভাষা ছন্দ তালে গড়া।

বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দিল আরো দিল জান

বাংলা মোদের মাতৃভাষা বাংলা মোদের প্রাণ।

 

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষিকাকে শীলতাহানি,কারাদন্ড-১
                                  

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক প্রাথমিক শিক্ষিকাকে শ-ীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগে মিরাজ গাজী (২০) নামের এক যুবককে গতকাল রোববার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বস এ দন্ড প্রদান করেন। দন্ড প্রাপ্ত মিরাজ গাজী উপজেলার ছোটশৌলা গ্রামের হানিফ গাজীর ছেলে।
ওই শিক্ষিকা জানান, রোববার উপজেলা সদরে ইউআরসি প্রশিক্ষন শেষে সন্ধ্যায় ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ছোটশৌলা গ্রামে পৌছলে প্রতিবেশী মিরাজ গাজী শীললতাহানীর চেষ্টা করে করে। এ সময়ে ওই শিক্ষিকা দ্রুত বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় ভগিরথপুর বাজারস্থ পুলিশ ফাড়িতে অভিযোগ দেয়। পরে পুলিশ ওই মিরাজ গাজীকে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বাস এর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।

মিরাজ গাজী ভ্রাম্যমান আদালতে তার দোষ স্বীকার করে। ভ্রাম্যমান আদালত শীলতাহানীর উদেশ্য আক্রমন করার অপরাধে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।


প্রশাসনের সাহসী নির্বাহী কর্মকর্তা
                                  

মহিউদ্দিন তুষার : মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে অসাধারণ আপসহীনতা, বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। অত্যন্ত স্বাধীনচেতা, প্রতিবাদী, প্রাণচঞ্চল এবং কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল হিসেবেই বেশ পরিচিত। আলোকিত, আলোচিত এবং সাহসী এই কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ যোগদান করেন। সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে তিনি সর্বস্থরের মানুষের মন জয় করেছেন।    

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, আবেদন-নিবেদন শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করে জনগণকে সেবা প্রদান করে চলেছেন। এ ছাড়া তিনি মোবাইলে বা লিখিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ এবং আবেদন নিবেদন নিষ্পত্তি করেন। এতে জনদুর্ভোগ লাঘবসহ সরকারের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছেন। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ যেমন সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে প্রশংসিত ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং রোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে জনমত গড়ে তুলছেন। আর এসব বিষয়ে সফলতা পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা যাতে নিয়মিত পরিদর্শন করেন, সে ব্যাপারে উৎসাহ দেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়াও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছেন। তার নেতৃত্বে এ বছর সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে রূপগঞ্জে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার উপযোগী আবহ তৈরি হয়েছে। এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অত্র এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

মমতাজ বেগম (মম) ২৯তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডার। কর্মজীবনের শুরুতে ২০১১ সালে ডিসি অফিসে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের মে মাসে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে একই পদে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে যোগদান করেন। সেখান থেকে ২০১৭ সালে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে ফের ডিসি অফিসে যোগদান করেন। তার পৈতৃক নিবাস শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব সরদার, মাতা আলেয়া বেগম। স্বামী শেখ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সরোয়ার। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। মমতাজ বেগম দুই সন্তানের জননী। প্রথম কন্যাসন্তানের নাম শেখ আফরাহ ইসলাম ও ছেলে শেখ আবরার আযওয়াদ (আরাশ)। মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে মাধুর্য বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। বলা চলে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও প্রতিবাদী এবং প্রচণ্ড প্রাণচঞ্চল, কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব হলেন প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল মমতাজ বেগম।

২০১৩ সাল। দেশে শুরু হয় সরকার পতনের জন্য জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন। ঢাকা ডিসি অফিসে থাকা অবস্থায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করেন একাধারে ৪ মাস। যদিও সারা বছর ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করে ছিলেন, তবে ঐ সময়টা ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রতিদিন বাস ট্রাকের ধর্মঘট হতো এবং মানুষের শরীরে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরসিন ঢেলে তাদের পুড়িয়ে মারা হতো, সেই সময়টায় সফলতার সাথে ম্যাজিস্ট্রেসি করাটা ছিলো বড় চ্যালেঞ্জের। ২০১৩ সালে ভাটারায় শিবিরের বড় আস্তানা ছিলো। ওখান থেকেই জ্বালাও পোড়াওয়ের সংকেত দেওয়া হতো। ভাটারাকে বলা হতো শিবিরের ঘাঁটি। একজন নারী কর্মকর্তা হয়ে এমন বিপজ্জনক স্থানে মমতাজ বেগম নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন সাহসিকতার সাথে। রাত দুইটা কিংবা তিনটার সময় ফোন এলেই ঘটনাস্থলে চলে যেতেন। সেখানে গিয়ে আইনগত যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিতেন। একদিন সকাল ১১টার দিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। ঐ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে শিবির ক্যাডাররা ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে তাদের অনেকেই দৌড়ে চলে যান, কিন্তু মমতাজ বেগম সামনের দিকে এগিয়ে যান। তার সাহসিকতা দেখে পরক্ষণে সাথে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘সাহসী বস’ বলে সম্মান করেন।

২০১৫ সাল। মমতাজ বেগম সবেমাত্র সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এক ভদ্রলোকের জমির সিটি রেকর্ডে সামান্য ভুল ছিলো, ফলে তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন রেকর্ডটি সংশোধনের জন্য। দখল এবং জমির দলিল সূত্রে তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ হলেও নতুন রেকর্ডে উল্লেখ করা হয় ১১ অযুতাংশ। মমতাজ বেগম যোগদানের দু’দিন পরই ওই লোকটি আসলে। তিনি জমির সমস্যা সম্পর্কে তাকে অবগত করলেন। তিনি বললেন তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ কিন্তু রেকর্ডে উঠেছে মাত্র ১১ অযুতাংশ। তবে আমি বর্তমানে ১১ শতাংশ জায়গার দখলে রয়েছি। এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্য দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছেন না। তিনি আরও জানান কোনো এক ব্যক্তির সাথে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সমাধান করতে চাইলেও সেই পক্ষ ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। যার জন্য ৬ বছরেও সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীর মুখে এমন কথা শুনে মমতাজ বেগম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে লোক পাঠান এবং বিবরণের সত্যতা পেলে পরের দিন বিনা পয়সায় জমির সমস্যা সমাধান করে দেন।

২০১৯ সাল। রূপগঞ্জে যোগদানের পরের দিনই এক সংখ্যালঘু বৃদ্ধা তার অফিসে এসে হাজির। মহিলার অভিযোগ স্বামীর কেনা ৫ শতাংশ জমির মধ্যে তার বাড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় চারপাশের লোকজন তাদের জমি একটু একটু করে দখলে নিতে থাকে। একটা সময় তাদের ঘর থেকে বের হবার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ওই বৃদ্ধা। মমতাজ বেগম তার সমস্যা শোনার পর বৃদ্ধার বাড়িতে উপজেলার লোকজন পাঠান ঘটনার সত্যতা জানার জন্য। বৃদ্ধার অভিযোগের সত্যতা মিললে জমির দখলদারদের তা সমাধান করার সময় দিলেও তারা সমাধানে আসতে পারেননি। পরে মমতাজ বেগম দায়িত্ব নিয়ে বৃদ্ধার জমিতে বাউন্ডারি করে দেন। এই ঘটনার পর উপজেলার সবশ্রেণির মানুষ তার কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

মমতাজ বেগম রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত হবার পর ৩৭টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে সবার মাঝে জনসচেতনতামূলক সাড়া ফেলেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৪ কি:মি: জনসচেতনতামূলক স্থিরচিত্র তৈরি করে তিনি শুধু রূপগঞ্জে নয়, সারা বাংলাদেশে আলোচিত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার পরিকল্পনায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন সারাদেশের উপজেলার জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

আরও কিছু ঘটনা
খয়তুন নেছা (৭৫)। স্বামী মৃত ছাদেম আলী বেপারী। আর্থিক সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগমের দপ্তরে আসেন। তার পায়ের হাড় ভাঙ্গা থাকায় চলাচলে অক্ষম এই নারী অন্যের কাঁধে ভর করে এসেছেন। মমতাময়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তৎক্ষণিক খয়তুন নেছাকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করে তার চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনার চেষ্টা করেন। হুইল চেয়ারটি পেয়ে খয়তুন নেছা মমতাজ বেগমের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান।

তিন বোনের সবার বড় রূপা। সংসারে অভাব অনটনে পড়াশুনার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় ওর। রূপাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধন্ত নেয় পরিবার। সেই খবর শুনে মমতাজ বেগম ছুটে যান ওদের বাড়িতে। পরিবারকে বাল্যবিবাহের কুফল বুঝিয়ে মেয়েটির পড়াশুনার দায়িত্ব নেন এই কর্মকর্তা।
মমতাজ বেগম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অপরাধে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ আইন ১৯১০ এর ৪০(ক) ও ৪৪ ধারায় জরিমানা করেন। এছাড়া উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকগণের নিকট হতে আমন ধান ২০১৯-২০২০ সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।
বাংলাদেশে কোনো যুবক বেকার থাকবে না এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সারা দেশে যুবকদেরকে ভ্যানের (গাড়ি) মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রূপগঞ্জ উপজেলায় মাসব্যাপী যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করান মমতাজ বেগম।

দেশে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই কনকনে শীতে যারা অসহায় জীবন যাপন করছেন এমন হতদরিদ্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শীতার্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করতে রাতে কম্বল বিতরণ করেন।

চার বছর আগে আগুনে পুড়ে যায় রেখা দম্পতির ঘর। তার পর থেকেই পলিথিন মোড়ানো ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছিলেন এই পরিবারটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ঘরের জন্য আবেদন করলে তাৎক্ষণিক তিনি এক স্টাফকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান। আবেদনের সত্যতা পাওয়ার পরপরই মমতাজ বেগম দ্রুতই টিন ও নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে যান রেখা দম্পতির বাড়িতে।

এতো গেল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু ঘটনার বিবরণ। বাংলাদেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রায় নারীর অগ্রগতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছেন মমতাজ বেগম। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। মমতাজ বেগম মনে করেন, প্রশাসনে চাকরি করলে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা যায়। প্রশাসনে চাকরির মাধ্যমে জনবান্ধব ইচ্ছাগুলো পূরণ করাও সহজ হয়। তিনি বলেন, সমাজের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষের ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার স্বামী পরিত্যক্ত মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। সেইসঙ্গে নারী শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে ওদের বাইসাইকেল, স্কুল ব্যাগ, ছাতাসহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য সেবা কর্নার খোলা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সকল ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা। প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকলে সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারেন। ইউএনও হিসেবে আইন-শৃঙ্খলাসহ সব দিক দেখভাল করতে হয়। সে ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছি। আমি মনে করি, আমরা সবাই মানুষ। কে পুলিশ, কে ইউএনও, কে এমপি, মন্ত্রী এটা বড় কথা নয়। মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি, মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই।

প্রশাসনের সফল কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। যার অনন্য সাহসিকতা প্রশাসনের ভাবমূর্তি পর্বতসমান উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তার সততা অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত। যিনি সহানুভূতি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার লক্ষ্য একটাই অপরাধ দমন, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণা তিনি পাল্টে দিয়েছেন। চাকরির ছক বাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মতো সেবাপ্রার্থী মানুষকে পরম মমতায় কাছে টেনেছেন, প্রাণ খুলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের পুরনো দীর্ঘসূত্রতার প্রথা ভেঙে তাৎক্ষণিক সিন্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখামাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠে ‘না’ বলেছেন, প্রতিরোধ করেছেন কিন্তু আপস করেননি। প্রশাসনে এমন মমতাজ বেগম আরও প্রয়োজন। যারা পাল্টে দিবে ঘুণেধরা সমাজকে, দেশকে করবে দুর্নীতিমুক্ত।

একুশে বইমেলায় মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪টি নতুন বই
                                  

মনির হোসেন,মোংলা : মোংলা সাহিত্য পরিষদের প্রকাশনায় এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসেছে ৪টি নতুন বই। বইগুলো হল-মোংলা উপজেলার ৩৩ জন লেখকের ৫৬ টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত যৌথকাব্যগ্রন্থ "একুশের বর্ণমালা"। বইটি মোংলা সাহিত্য পরিষদের দ্বিতীয় যৌথকাব্যগ্রন্থ। দক্ষিণ বঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তরুন লেখক আজিজ মোড়লের লেখা দক্ষিণ বঙ্গে হযরত মেছেরশাহ্ (রহঃ) প্রকাশিত হয়েছে এবারের বই মেলায়।

বইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ মোড়ল বলেন, মোংলা, রামপাল তথা দক্ষিণানঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। যা কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে আমাদের সাহিত্যাঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। মোংলা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম চমক হিসেবে এবারের বই মেলায় এসেছে তরুন প্রজম্মের জনপ্রিয় লেখিকা আসমা আক্তার কাজলের একক কাব্যগ্রন্থ "নীল অভিমানে"।

প্রেম বিরহের অসাধারন সংমিশ্রনে লেখা বইটি পাঠক প্রিয়তা পাবেন বলে জানান কবি আসমা আক্তার কাজল। `ভালবাসার সাত রঙ` নিয়ে এবারের একুশে বই মেলায় হাজির হয়েছেন আরেক পাঠক নন্দিত কবি জাহিদুর রহমান। এটা তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ।

বইটি প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন মোংলা সাহিত্য পরিষদ। এবছর মোংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত সবগুলো বই  সব শ্রেণীর পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়তা পাবে বলে এ প্রতিবেদককে জানান সংগঠনের আহবায়ক মনির হোসেন। তিনি আরো জানান, মোংলা উপজেলায় প্রথমবারের মত আমাদের সংগঠন থেকে একসঙ্গে ৪ টি বই প্রকাশ করেছি। আমাদের কাজগুলো দেখে বর্তমান প্রজন্মের তরুনরা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বইগুলো আগামী ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে  মোংলার শহিদ মিনার চত্বরে  তিনদিনব্যাপী বই মেলায় পাওয়া যাবে। এছাড়াও বই মেলার প্রথম দিনে মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪ টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন একসাথেই করা হবে।

 


   Page 1 of 8
     সাহিত্য
বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
.............................................................................................
হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আসুক না বাঁধা
.............................................................................................
যে যায় সে দীর্ঘ যায়
.............................................................................................
আর কত হারানোর বেদনা সইব?
.............................................................................................
ভেন্টিলেটর বিভ্রাট
.............................................................................................
আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
শিশুসাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান
.............................................................................................
লকডাউন
.............................................................................................
মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন
.............................................................................................
বইমেলায় দৈনিক গণমুক্তির কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুটি বই
.............................................................................................
দিনাজপুর বানিজ্য মেলার উদ্বোধন
.............................................................................................
বাংলা মোদের মাতৃভাষা
.............................................................................................
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষিকাকে শীলতাহানি,কারাদন্ড-১
.............................................................................................
প্রশাসনের সাহসী নির্বাহী কর্মকর্তা
.............................................................................................
একুশে বইমেলায় মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪টি নতুন বই
.............................................................................................
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কতিপয় সমাজিক প্রতিবন্ধকতা
.............................................................................................
অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
.............................................................................................
পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
.............................................................................................
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
.............................................................................................
সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
.............................................................................................
""ব্যবধান""
.............................................................................................
কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
.............................................................................................
রক্ষা করা যাচ্ছেনা জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ
.............................................................................................
কবিতা
.............................................................................................
মৌচাক
.............................................................................................
অনগ্রসর মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান ঝর্ণা
.............................................................................................
পোড়া বৈশাখ
.............................................................................................
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
.............................................................................................
পাকিজা মল্লিক
.............................................................................................
মরুপ্লাবন
.............................................................................................
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিলেন ৪ লেখক
.............................................................................................
শাশুড়ির মন জয় করার ৭ উপায়
.............................................................................................
কেন কেটে নেওয়া হয়েছিল খনার জিব
.............................................................................................
জাতি হিসেবে একাত্তরের বিজয় আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন: ড. আতিউর
.............................................................................................
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ কবি ভাগ্যধন বড়ুয়ার জন্মদিন
.............................................................................................
অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আকিমুন রহমান
.............................................................................................
কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন নির্মলেন্দু গুণ
.............................................................................................
আজ মোহিত কামালের ৬০তম জন্মদিন
.............................................................................................
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ
.............................................................................................
সৈয়দ শামসুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ জাফর ইকবালের জন্মদিন
.............................................................................................
আজ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
বই পড়ে জানা যায় জীবনের বাইরেও অজস্র জীবন আছে: হরিশংকর
.............................................................................................
চারণকবি বিজয় সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি ত্রিদিব দস্তিদারের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD