| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ইবি ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি   > ‘ভোটে বিচ্যুতি হলে সরকার হটানোর আন্দোলন’   > পর্দা নয় এবার বাস্তবে বাংলাদেশি ‘ভাইজান’কে দেখল ভারতবাসী!   > সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে : প্রধানমন্ত্রী   > মেডিকেল শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের কাছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   > হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে পদ্মা সেতুর ছবি   > পাকিস্তানের জয়ের পর শোয়েব মালিকের টুইটবার্তা   > সীমান্ত হত্যা: বিএসএফের `গরু পাচার` যুক্তি মানছে না বিজিবি   > ১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি   > মুজিববর্ষে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসা  

   সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রবাদপ্রতিম কবি ফায়েজ আহমেদ ফায়েজের আইকনিক গীতিকবিতা `হাম দেখেঙ্গে` হিন্দু-বিরোধী কি না,

তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি।

গত ১৭ ডিসেম্বর কানপুর আইআইটি-র একদল ছাত্র পুলিশের হাতে নির্যাতিত জামিয়া মিলিয়ার ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানাতে ক্যাম্পাসে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল -

আর সেখানেই গাওয়া হয় ফায়েজের `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু এই গান হিন্দুবিরোধী - প্রতিষ্ঠানের এক অধ্যাপক এই মর্মে অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে,

যার নিন্দায় সরব হয়েছেন ভারতের বহু শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট ও ইতিহাসবিদ।

১৯৭৯ সালে নিউ ইয়র্কে বসে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত কবি ফায়েজ পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউল হকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন তার বিখ্যাত নজ্ম বা কবিতা `হাম দেখেঙ্গে` -

যা পরবর্তী চার দশকে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের কন্ঠস্বর।

ভারতে এফএম রেডিও-র সুপরিচিত জকি সায়মা  বলছিলেন,

"১৯৮৫ সালে লাহোরের এক স্টেডিয়ামে বিখ্যাত গজল গায়িকা ইকবাল বানো গাইতে এসেছিলেন কালো শাড়ি পড়ে - প্রতিবাদের রং হিসেবে পাকিস্তানে যা তখন নিষিদ্ধ ছিল।"

"আর তারপর যখন তিনি ফায়েজের `হাম দিখেঙ্গে` গান ধরলেন, পঞ্চাশ হাজার শ্রোতা তার সঙ্গে গলা মেলাল - মুহুর্মুহু উঠতে লাগল `ইনকিলাব জিন্দাবাদ` স্লোগান।"

স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তখন থেকেই তুমুল জনপ্রিয় `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ছাত্ররা কানপুর আইআইটি-র ক্যাম্পাসে যখন সপ্তাহদুয়েক আগে এই গানটিকেই অস্ত্র করে,

তখনই `হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত লাগার` অভিযোগ ঠুকে দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ভাশিমন্ত শর্মা।

তার ভিত্তিতে কানপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে -

যে পদক্ষেপে পরিষ্কার সাম্প্রদায়িক নকশা দেখছেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট বৃন্দা কারাট।

 মিস কারাট বলছিলেন, "ফায়েজ ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট।

তার লেখাতে তিনি সব সময় ধর্মীয় মেটাফর বা রূপক ব্যবহার করতেন, যেটা তখন ভীষণই জনপ্রিয় আর কার্যকরী ছিল।"

"আর সারা জীবন উনি যা লিখেছেন, ওনার সেই পুরো ইতিহাসটাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

তার জন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা চিরকাল তাকে আক্রমেণের নিশানা করেছে।"

"১৯৫১ সাল থেকে টানা চার বছর তিনি জেল খেটেছেন দেশদ্রোহের অভিযোগে। কমিউনিস্ট ভাবধারা প্রচারের জন্য ১৯৫৮-তে পাকিস্তান সরকার আবার তাকে জেলে পুরেছিল।"

"ফলে আজকের ভারতেও যারা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে, যারা ডিসেন্ট বা প্রতিবাদ সহ্য করতে পারেন না -

তারাই ফায়েজকে সাম্প্রদায়িকতার রঙে চোবাতে চাইছেন। ঈশ্বর তাদের রক্ষা করুন, আমার এটুকুই বলার", মন্তব্য বৃন্দা কারাটের।

আজীবন `কমিউনিস্ট` ফায়েজ আহমেদ ফায়েজ ছিলেন পাকিস্তানে সেই হাতে-গোনা বুদ্ধিজীবীদের একজন - যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

১৯৭১-র মার্চেই পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা `হাজার করো মেরে তন সে` (আমার থেকে দূরে থাকো) - যে কবিতাটি `বাংলাদেশ-১` নামেও পরিচিত।

সেই ফায়েজের কবিতার পংক্তিকে হিন্দুবিরোধী বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু হতেই পারে না - বলছেন ভারতের বিখ্যাত কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার।

জাভেদ আখতারের কথায়, "হাম দিখেঙ্গের এক জায়গায় আছে - `গুঞ্জেগা অনলহক কা নাড়া`। এই অনলহক কি জিনিস, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

তারা জানেন না, অনলহক মানে অহম ব্রহ্ম, আমিই ব্রহ্ম।"

"এটা কিন্তু ইসলামী ভাবনা নয় - বরং এটা অদ্বৈত বেদান্তের দর্শন, সুফিবাদের ভাবনা - যেখানে স্রষ্টা আর সৃষ্টি এক হয়ে যান!"

প্রবীণ ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবও সখেদে বলছেন, "আপত্তি থাকলে ফায়েজ পড়ার দরকার নেই - তাতে লোকসান তোমাদেরই।"

"কই, পাকিস্তানের মুসলিমদের তো `অনলহক কা নাড়া` পড়তে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না?"

"ভারতীয়দের অসুবিধা হলে পড়বেন না, মিটে গেল। কিন্তু ফায়েজের সঙ্গে হিন্দুত্বের কী সম্পর্ক?", প্রশ্ন ইরফান হাবিবের।

ফায়েজকে হিন্দুত্বের প্রিজম দিয়ে বিচার করতে গিয়ে ভারতের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ্যার প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি যে নিজেদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

চাপের মুখে এখন তারা সুর কিছুটা নরম করলেও সেই তদন্ত কমিটি কিন্তু এখনও ভেঙে দেয়া হয়নি!

পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রবাদপ্রতিম কবি ফায়েজ আহমেদ ফায়েজের আইকনিক গীতিকবিতা `হাম দেখেঙ্গে` হিন্দু-বিরোধী কি না,

তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি।

গত ১৭ ডিসেম্বর কানপুর আইআইটি-র একদল ছাত্র পুলিশের হাতে নির্যাতিত জামিয়া মিলিয়ার ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানাতে ক্যাম্পাসে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল -

আর সেখানেই গাওয়া হয় ফায়েজের `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু এই গান হিন্দুবিরোধী - প্রতিষ্ঠানের এক অধ্যাপক এই মর্মে অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে,

যার নিন্দায় সরব হয়েছেন ভারতের বহু শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট ও ইতিহাসবিদ।

১৯৭৯ সালে নিউ ইয়র্কে বসে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত কবি ফায়েজ পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউল হকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন তার বিখ্যাত নজ্ম বা কবিতা `হাম দেখেঙ্গে` -

যা পরবর্তী চার দশকে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের কন্ঠস্বর।

ভারতে এফএম রেডিও-র সুপরিচিত জকি সায়মা  বলছিলেন,

"১৯৮৫ সালে লাহোরের এক স্টেডিয়ামে বিখ্যাত গজল গায়িকা ইকবাল বানো গাইতে এসেছিলেন কালো শাড়ি পড়ে - প্রতিবাদের রং হিসেবে পাকিস্তানে যা তখন নিষিদ্ধ ছিল।"

"আর তারপর যখন তিনি ফায়েজের `হাম দিখেঙ্গে` গান ধরলেন, পঞ্চাশ হাজার শ্রোতা তার সঙ্গে গলা মেলাল - মুহুর্মুহু উঠতে লাগল `ইনকিলাব জিন্দাবাদ` স্লোগান।"

স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তখন থেকেই তুমুল জনপ্রিয় `হাম দেখেঙ্গে`।

কিন্তু ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ছাত্ররা কানপুর আইআইটি-র ক্যাম্পাসে যখন সপ্তাহদুয়েক আগে এই গানটিকেই অস্ত্র করে,

তখনই `হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত লাগার` অভিযোগ ঠুকে দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ভাশিমন্ত শর্মা।

তার ভিত্তিতে কানপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে -

যে পদক্ষেপে পরিষ্কার সাম্প্রদায়িক নকশা দেখছেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট বৃন্দা কারাট।

 মিস কারাট বলছিলেন, "ফায়েজ ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট।

তার লেখাতে তিনি সব সময় ধর্মীয় মেটাফর বা রূপক ব্যবহার করতেন, যেটা তখন ভীষণই জনপ্রিয় আর কার্যকরী ছিল।"

"আর সারা জীবন উনি যা লিখেছেন, ওনার সেই পুরো ইতিহাসটাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

তার জন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা চিরকাল তাকে আক্রমেণের নিশানা করেছে।"

"১৯৫১ সাল থেকে টানা চার বছর তিনি জেল খেটেছেন দেশদ্রোহের অভিযোগে। কমিউনিস্ট ভাবধারা প্রচারের জন্য ১৯৫৮-তে পাকিস্তান সরকার আবার তাকে জেলে পুরেছিল।"

"ফলে আজকের ভারতেও যারা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে, যারা ডিসেন্ট বা প্রতিবাদ সহ্য করতে পারেন না -

তারাই ফায়েজকে সাম্প্রদায়িকতার রঙে চোবাতে চাইছেন। ঈশ্বর তাদের রক্ষা করুন, আমার এটুকুই বলার", মন্তব্য বৃন্দা কারাটের।

আজীবন `কমিউনিস্ট` ফায়েজ আহমেদ ফায়েজ ছিলেন পাকিস্তানে সেই হাতে-গোনা বুদ্ধিজীবীদের একজন - যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

১৯৭১-র মার্চেই পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা `হাজার করো মেরে তন সে` (আমার থেকে দূরে থাকো) - যে কবিতাটি `বাংলাদেশ-১` নামেও পরিচিত।

সেই ফায়েজের কবিতার পংক্তিকে হিন্দুবিরোধী বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু হতেই পারে না - বলছেন ভারতের বিখ্যাত কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার।

জাভেদ আখতারের কথায়, "হাম দিখেঙ্গের এক জায়গায় আছে - `গুঞ্জেগা অনলহক কা নাড়া`। এই অনলহক কি জিনিস, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

তারা জানেন না, অনলহক মানে অহম ব্রহ্ম, আমিই ব্রহ্ম।"

"এটা কিন্তু ইসলামী ভাবনা নয় - বরং এটা অদ্বৈত বেদান্তের দর্শন, সুফিবাদের ভাবনা - যেখানে স্রষ্টা আর সৃষ্টি এক হয়ে যান!"

প্রবীণ ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবও সখেদে বলছেন, "আপত্তি থাকলে ফায়েজ পড়ার দরকার নেই - তাতে লোকসান তোমাদেরই।"

"কই, পাকিস্তানের মুসলিমদের তো `অনলহক কা নাড়া` পড়তে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না?"

"ভারতীয়দের অসুবিধা হলে পড়বেন না, মিটে গেল। কিন্তু ফায়েজের সঙ্গে হিন্দুত্বের কী সম্পর্ক?", প্রশ্ন ইরফান হাবিবের।

ফায়েজকে হিন্দুত্বের প্রিজম দিয়ে বিচার করতে গিয়ে ভারতের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ্যার প্রতিষ্ঠান কানপুর আইআইটি যে নিজেদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

চাপের মুখে এখন তারা সুর কিছুটা নরম করলেও সেই তদন্ত কমিটি কিন্তু এখনও ভেঙে দেয়া হয়নি!

পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পৈত্রিক বাড়ির আঙিনায় প্রিয় ডালিম গাছের নিচে কবির কবরে ফরিদপুর ৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর পক্ষে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, জসীম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা, আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। 

পরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশার্রফ আলী, অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্কর, অধ্যাপক রেজভী জামান, আসমা আক্তার মুক্তা, কবি আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও জীবন সংগ্রাম এবং পল্লী প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় ছিল পল্লীকবির লেখনীর বিষয়। তিনি বাংলা সাহিত্যে নবধারা সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন কবি। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ৭৩ বছর বয়সে পল্লীকবি ঢাকায় মারা যান। পরে পৈত্রিক বাড়ির আঙিনায় প্রিয় ডালিম গাছের নিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

 

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 

অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
                                  
ডেস্ক রিপোর্ট : তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, নরওয়ের রাজার প্রাক্তন জামাতা আরি বেন ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।
বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও নাটকের লেখক বেহন ২০০২ সালে রাজকন্যা মার্থা লুইসকে বিয়ে করেছিলেন তবে দু`বছর আগে এই যুগলটির তালাক হয়েছিল।
তার মুখপাত্র নরওয়ের এনটিবি এজেন্সিকে বলেছিলেন যে বেহন তার নিজের জীবন নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে নরওয়ের রাজা এবং রানী বলেছিলেন যে তিনি "বহু বছর ধরে আমাদের পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন এবং আমরা তাঁর সাথে উষ্ণ এবং ভাল স্মৃতি রাখি"।
তাদের বিয়ের সময় ডেনমার্কে জন্মগ্রহণকারী বেনকে কিং হ্যারাল্ড এবং কুইন সোনজার একমাত্র কন্যা এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রিন্সেস মার্থা লুইসের বিতর্কিত অংশীদার হিসাবে দেখা হয়েছিল।
বেহন তার ভবিষ্যতের স্ত্রীর সাথে তার মায়ের সাথে দেখা করেছিলেন, যিনি ছিলেন রাজকন্যার ফিজিওথেরাপি শিক্ষক। 
তিনি তখন সাদ অ্যাজ হেল নামে একটি ছোট বইয়ের লেখক হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন তবে বিতর্ককে আকৃষ্ট করেছিলেন এবং লাস ভেগাসে মাদক সেবনকারী পতিতাদের সাথে পার্টি করার চিত্রায়িত হয়েছিল।
এই দম্পতির তিন কন্যা ছিল-মওদ, লেয়া এবং এমা-তবে এক বছর পরে তালাক দেওয়ার আগে ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে গেল।  
এ সময় রাজকন্যা এক বিবৃতিতে বলেছিল :"আমরা অপরাধী বোধ করি কারণ আমরা আমাদের সন্তানদের প্রাপ্য নিরাপদ বন্দরেরটি তৈরি করতে পারছি না।"
ডিসেম্বর ২০১৭ সালে, বেহন নোবেল শান্তি পুরষ্কার কনসার্টের পরে তাকে হতাশাগ্রস্থ বলে মনে করেছিলেন হলিউড অভিনেতা কেভিন স্পেসি। 
তিনি জানান, অভিনেতা একটি টেবিলের নীচে পৌঁছেছিলেন এবং অনুপযুক্তভাবে তাকে স্পর্শ করেছিলেন। 
স্পেসি অভিযোগটির কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, একইসাথে তৈরি করা অনেকের মধ্যে একটি।
বাদশাহ হ্যারাল্ড এবং কুইন সোনজা তাদের বিবৃতিতে বেহান সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমরা তাকে চিনি যে আমরা কৃতজ্ঞ।" 
"আমরা দুঃখিত যে আমাদের নাতি-নাতনিরা এখন তাদের প্রিয় বাবাকে হারিয়েছে।"
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ জর্জ এলিয়টের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস `মিডলমার্চ` বইটি বিবিসির রেডিও ফোরকে এমন দারুণ কিছু মোটা মোটা বই পড়ার কথা ভাবতে বাধ্য করেছে।

যে উপন্যাসগুলো বিশাল হয় সেই মোটা বইগুলো সামলানো বা সেগুলো পড়ার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহা দেখা যায়। আসলে অনীহার কিছু নেই।

বিশেষত ই-রিডারের যুগে হাজার হাজার-শব্দকে পকেটে নিয়ে চলা কোন সমস্যা নয়।

এখানে সাহিত্যের কয়েকটি দুর্দান্ত উপন্যাসের নাম দেয়া হল যা সবার তালিকায় যুক্ত করা উচিত। আপনার সাহস থাকলে পড়তে পারেন...

১. হরম্যান মেলভিলের `মোবি-ডিক (দ্য হোয়েল)` (৭২০ পৃষ্ঠা)

তালিকাটি শুরু করছি ছোট একটি ৭২০ পৃষ্ঠার বই দিয়ে, এটি আমেরিকান লেখক মেলভিলের এক অনবদ্য সৃষ্টি।

মোবি-ডিকের গল্প তার কেন্দ্রীয় চরিত্র আহাবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। আহাব হলেন, হোয়েলিং শিপ `পিকোড`এর ক্যাপ্টেন।

তিনি একটি বিশালাকার হোয়াইট স্পার্ম তিমির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কারণ এই তিমি তার হাঁটুর নীচ থেকে পায়ের অংশ নিয়ে গেছে।

এজন্য তিনি পাগলের মতো সাগরে সেই তিমির অনুসন্ধান করে চলেন।

গল্পের বর্ণনাকারী হলেন ইসমায়েল নামে এক নাবিক। এবং এই সাহিত্যে অন্যতম জনপ্রিয় প্রথম লাইনটি হল: "আমাকে ইসমায়েল বলে ডাকুন।"

বইটি অদ্ভুত, পাণ্ডিত্যপূর্ণ, মজার, গভীর অর্থবহ এবং আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হিসাবে বিবেচিত।

২. হানিয়া ইয়ানাগিহারের `আ লিটল লাইফ` (৭৩৬ পৃষ্ঠা)

এই বইটি ম্যান বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে চার বন্ধুর জীবনের গল্পকে ঘিরে। কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে তারা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে যায়।

জেবি হলেন শিল্পী, উইলিয়াম একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতা এবং ম্যালকম একজন স্থপতি। তবে জুড - নিজেকে ক্ষতি করতে চাওয়া একজন আইনজীবী।

যার রয়েছে একটি রহস্যময় অতীত- বইটি জুডের এই গল্পেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।

গল্পটি যতোই এগিয়ে যায়. জুডের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ততোই প্রকাশ পেতে থাকে।

গল্পটি মারাত্মক কষ্টের এবং মন খারাপ করে দেয়ার মতো।

যেখানে কয়েক দশকের ঘটনা বলা হয়েছে এবং বইটির শেষ পৃষ্ঠাগুলো পড়ার সময় আপনার চোখ বেয়ে কান্না আসবেই।

৩. জর্জ এলিয়টের `মিডলমার্চ` (৮৮০ পৃষ্ঠা)

বইটি এলিয়টের মাস্টারপিস হিসাবে বিবেচিত, উপন্যাসটি` মিডলমার্চ` নামে একটি কাল্পনিক শহরের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে।

ভদ্র সম্প্রদায়ের ভূমি মালিক থেকে শুরু করে খামার শ্রমিক বা কারখানার শ্রমিক পর্যন্ত সবার কথাই জায়গা পেয়েছে এই বইটিতে।

তবে মূল ফোকাস ছিল দুটি চরিত্রকে ঘিরে, একজন হলেন জেদি এবং দৃঢ়-ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন ডোরোথিয়া ব্রুক এবং অপরজন আদর্শবাদী টারটিয়াস লিডগেট।

তারা দুজনেই বিপর্যস্ত বৈবাহিক জীবনের শিকার ছিলেন।

বইটি ১৯শতকে লেখা হলেও এতে রয়েছে অবিশ্বাস্যরকম আধুনিকতা বোধ।

কারণ বইটিতে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এই ত্রুটিপূর্ণ দুনিয়ায় একজন নৈতিক ব্যক্তি হয়ে ওঠার পথে নানা সংগ্রামের মতো বড় থিমগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৪. চার্লস ডিকেন্সের `ব্লিক হাউস` (৯২৮ পৃষ্ঠা)

`ব্লিক হাউস` হল ডিকেন্সের দীর্ঘতম উপন্যাস। বইটি জার্নডাইস পরিবারের গল্পকে ঘিরে লেখা হয়েছে।

যাদের আশা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন বার বার ব্যর্থতার মুখে পড়ে।

কারণ জার্নডাইস অ্যান্ড জার্নডাইস মামলাটি দীর্ঘকাল ধরে আইনি মারপ্যাঁচের মধ্যে চলছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

মামলাটি এতোটাই জটিল হয়ে পড়েছে যে এখন বেঁচে থাকা উত্তরাধিকারদের কেউ এই মামলার কিছু বুঝতে পারে না।

ডিকেন্স এই বইটিতে `কোর্ট অব চ্যান্সেরি` নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, এই আদালতে একটি মামলা কয়েক দশক ধরে চলতে পারে।

উপন্যাসটিতে রয়েছে অসংখ্য চরিত্র এবং বেশ কয়েকটি পার্শ্ব কাহিনীও রয়েছে।৫. মিগুয়েল ডি সার্ভেন্টেসের `ডন কুইকসোট` (৯৭৬ পৃষ্ঠা)

ডন কুইকসোট একজন মধ্যবয়সী স্প্যানিশ ভদ্রলোক, যিনি বীরদের অনেক রোম্যান্স গাঁথা পড়েন।

সেই থেকে তিনি তলোয়ার তুলে একজন ভবঘুরে বীর হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের পুরানো ঘোড়া এবং বাস্তববাদী মানসিকতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী অভিযাত্রার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।

ডন কুইকসোটের "বীরত্বপূর্ণ" কাজের মধ্যে রয়েছে উইন্ডমিলের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করা যেগুলোকে তিনি দৈত্য ভেবে ভুল করেছিলেন এমনকি তিনি এক পাল ভেড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।

এই প্রভাবশালী সাহিত্যকে প্রায়শই প্রথম আধুনিক উপন্যাস হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

৬. ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের `ইনফিনিট জেস্ট` (১০৭৯ পৃষ্ঠা)

ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের এই মহাকাব্যটি অদূর ভবিষ্যতের ডিস্টোপিয়াকে ঘিরে লেখা হয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো এই তিন দেশ উত্তর আমেরিকান জাতিগত সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়।

ডিস্টোপিয়া হল সাহিত্যের একটি শাখা। যেখানে এমন একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে কথা বলা হয় যেখানে কেবল দুর্ভোগ আর অবিচারের রাজত্ব।

মূল গল্পটি শুরু হয় একটি টেনিস একাডেমী এবং মাদকাসক্ত নিরাময় সংস্থাকে কেন্দ্র করে।

মূল প্লট লাইনটি হল "ইনফিনিট জেস্ট" শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র দেখার আকাঙ্ক্ষা। যা দর্শকদের অনুভূতিহীন শিথিল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বইটি, এর পরীক্ষামূলক কাঠামোর জন্য বেশ জনপ্রিয় : এখানে ৩৮৮টি এন্ডনোটস রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটির নিজস্ব পাদটীকা রয়েছে।

আপনি যদি মনে করেন বইটি অসীম। তবে এটি মনে রাখা উচিত যে এই লেখাটি পড়ার পর আপনি লেখকের প্রাথমিক খসড়া থেকে ৬০০টি শব্দ বাদ দিতে পারেন।

৭. লিও টলস্টয়ের `ওয়ার অ্যান্ড পিস` (১২৯৬ পৃষ্ঠা)

টলস্টয়ের মহাকাব্যটি রাশিয়ার নেপোলিয়ন যুগকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্র এবং হোম ফ্রন্টের মধ্যে তিনটি কুখ্যাত চরিত্রকে ঘিরে গল্প এগিয়ে যায়।

চরিত্র তিনটি হল: পেরে বেজুখভ, একজন কাউন্টের অবৈধ পুত্র যিনি নিজের উত্তরাধিকারের জন্য লড়াই করছেন; প্রিন্স আন্দ্রেই বলকনস্কি, যিনি নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁর পরিবারকে ছেড়ে চলে এসেছেন; এবং নাতাশা রোস্তভ, একজন অভিজাত ব্যক্তির সুন্দরী অল্পবয়সী মেয়ে।

টলস্টয় একইসাথে সেনাবাহিনী এবং অভিজাতদের উপর যুদ্ধের প্রভাব কেমন হয়, সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন। (যদি বইটিকে খুব দীর্ঘ বলে মনে হয় তবে আপনি বিবিসি অ্যাডাপটেশনের সাহায্য নিতে পারেন)

৮. স্টিফেন কিং এর `দ্য স্ট্যান্ড` (১৩৪৪ পৃষ্ঠা)

দ্য স্ট্যান্ড বইটি হল একটি পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক হরর-ফ্যান্টাসি ঘরনার বই।

যেখানে বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা জৈব যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন অসুখ বিসুখের দ্রুত পরিবর্তনশীল স্ট্রেন নিয়ে গবেষণা করার কথা বলা হয়।

দুর্ঘটনাক্রমে সেই স্ট্রেনগুলো একদিন একটি সিকিওর ফ্যাসিলিটি থেকে বের হয়ে যায়। এবং এই মহামারীতে বিশ্বের ৯৯% এরও বেশি মানুষ মারা যায়।

বইটির দুটি বিকল্প সমাপ্তি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত ৮০০-পৃষ্ঠার মূল সংস্করণে সমাপ্তি ছিল এক রকম।

সেই সময় প্রকাশকরা এর চাইতে বড় পাণ্ডুলিপি মুদ্রণ করতে পারতেন না।

তবে ১৯৯১ সালের পরে, কিং-এর পূর্ণ, অপরিবর্তিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে আরও আশার সঞ্চার করে।

একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত যে, আপনি যে সংস্করণটি পড়েন না কেন, সেজন্য আপনাকে দীর্ঘ সময় সিটে বসে থাকতে হবে।

৯. বিক্রম শেঠের `আ সুইটেবল বয়` (১৫০৪ পৃষ্ঠা)

শেঠ-এর বিশাল উপন্যাসটি ১৯৫০-এর দশকের গোঁড়ার দিকে, স্বাধীনতা-উত্তর, ভারতবর্ষ বিভাজনের পরের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা হয়েছে।

যেখানে চারটি একান্নবর্তী পরিবারের ১৮ মাসের গল্প তুলে ধরা হয়।

গল্পের চরিত্র মিসেস রুপা মেহরার একমাত্র মেয়ে লতার জন্য একজন "উপযুক্ত পাত্র" খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়।

১০. মার্সেল প্রাউস্টের `ইন সার্চ অব লস্ট টাইম` (৩০৩১ পৃষ্ঠা)

হ্যাঁ, আপনি এটি সঠিকভাবে পড়েছেন।

প্রাউস্টের মহাকাব্য `আ লা রিচার্চে দু টেম্পস পারদু` (মূল ফরাসী শিরোনাম) বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। যাকে ১৩টি ভলিউমে ভাগ করা হয়েছে। বইটির মোট শব্দ সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখের মতো।

মূলত, এটি এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম উপন্যাস হিসাবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

এই বইটির সারসংক্ষেপ দেয়ার চেষ্টা করাও হবে ভুল।

তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে বইটির গল্প লেখকের শৈশবের স্মৃতি এবং যৌবনের অভিজ্ঞতাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

লেখক তার পুরো গল্পে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন এই ভেবে যে তার সময় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে এবং এই পৃথিবীর আসলে কোনও অর্থ নেই।

এই বইটি পড়তে আপনাকে অনেক, অনেক বেশি সময় দিতে হবে।

 

সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
                                  

কাজী নজরুল ইসলাম ঃ উৎপাদক কৃষকদের উৎসাহ মূল্য বা ন্যায্য মূল্য প্রদান করা, খাদ্যশস্যের বাজার দর যৌক্তিক পর্যায়ে স্থিতি রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছরই সংগ্রহ মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও গম সংগ্রহ করেন।

প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ শুনে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য শস্য ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র।

জানা গেছে কৃষকের সাথে প্রতারণার ভয়াবহ কাহিনী। পাওয়া গেছে মৃত ব্যক্তির নামে, কৃষি কাজের সাথে জরিত নয় এমন লোকদের থেকে ধান সংগ্রহের প্রমান।

কৃষকের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে শত শত মেট্রিক টন ধান কিনে তা ঢোকানো হলো সরকারি খাদ্যগুদামে।

আবার ধানের মূল্যও ব্যাংক থেকে পরিশোধ করা হলো ওই একই কৃষকের নামে। কিন্তু হতভাগা কৃষক এর কিছুই জানেন না।

কে তার নাম কৃষি তালিকায় অন্তরর্ভূক্ত করলো, কে তার নামের তালিকা খাদ্য বিভাগকে প্রদান করলো, কে তার নামে ব্যাংক হিসেব খুলে কেইই বা আবার টাকা তুলে নিলো, এসবের কোন তথ্যই জানা নেই গত মৌসুমে শরীয়তপুরের বোরো ধান চাষি অনেক কৃষকের কাছে।

বাংলাদেশ এখনো কৃষি নির্ভর দেশ। সরকার এখনো কৃষি অর্থনীতিকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে। কৃষি এবং কৃষককে বলা হচ্ছে দেশের প্রাণ। গোটা দেশবাসীর মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাদ্য তুলে দিতে সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত নিরন্তর হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে কৃষক ফসল উৎপাদন করে চলেছেন সভ্যতার গোড়া থেকেই।

মাত্র কিছুকাল আগেও দেশের বড় কৃষক বা গৃহস্তরাই ছিলেন দেশের সবচে স্বচ্ছল ও সুখী মানুষ।

এখনো বলা হয়ে থাকে দেশের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু সুখে নেই তারা।

দুখের ভাগারে ফেলে সুখ তাদের কপাল থেকে নির্বাসনে গেছে বহু আগেই। দিন দিন ধার দেনা মাথার বোঝাঁ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃষকের।

ঋণ-কর্জ করে, চড়া দরে সাব বীজ কিনে, দ্বিগুন-তিনগুন দরে শ্রমিক নিয়ে, মহাজন-এনজিও থেকে মোটা সুদে টাকা তুলে এখনো আমার দেশের কৃষককে ফসল ফলাতে হয় প্রতি মৌসুমে।

খড়া, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি সহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে অভাগা কৃষক যখন তার উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলেন, ঠিক তখনি তাদের কপাল পুড়ে।

কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধানের বাজারে ধ্বস নামে ভরা মৌসুমে। উৎপাদন ব্যয়ের ধারে কাছেও পৌছেনা ধানের মূল্য।

বাধ্য হয়ে সীমাহীন লোকসান মেনে নিয়ে পানির দরে ধান বিক্রি করতে হয় কৃষককে।

সাম্প্রতিক কালে সরকার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ধান ও গম ক্রয় পদ্ধতি শুরু করেছেন। এর আওতায় প্রতি কেজি বোরো ও আমন ধানের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ টাকায় প্রতি মন ধান খাদ্য বিভাগের কাছে বিক্রি করতে পারবেন উৎপাদক কৃষক।

তাতে কৃষকের খরচ পুষিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

কিন্তু কোন জেলায় কতজন কৃষক কত টন ধান উৎপাদন করলো, আর সরকার সংশ্লিষ্ট জেলায় কতজন কৃষকের কাছ থেকে কত টন বা মন ধান ক্রয় করলো এ নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

আমি এখানে দেশের একটি শতভাগ কৃষিনির্ভর পশ্চাদপদ জেলা শরীয়তপুরের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চেষ্টা করছি।

২০১৯ সালে বোরো মৌসুমে সরকার ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগষ্ট তারিখের মধ্যে দুই দফায় সারা দেশ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।

এর আওতায় শরীয়তপুর জেলায়ও ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেন।

জেলায় ২৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন করেছেন ৮৭ হাজার ৫০৮ জন কৃষক।

কৃষি বিভাগ জেলার ৬টি উপজেলা থেকে খাদ্য বিভাগকে উৎপাদক কৃষকের তালিকা দিয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩৯ জনের।

খাদ্য বিভাগ মাত্র ৮৪০ জন কৃষকের নামে ৫ কোটি ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ধান ক্রয় করেছে ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন।

জেলায় উৎপাদিত প্রায় পৌনে ২ লক্ষ টন ধানের বিপরীতে সরকার কিনলেন মাত্র ১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন ধান। আর সাড়ে ৮৭ হাজার কৃষকের মধ্য থেকে মাত্র ৮৪০ জনের নামে ধান ক্রয় করলো খাদ্য বিভাগ।

যা উৎপাদিত ফসলের মাত্র ১.১৪% এবং উৎপাদক কৃষকের ১% এরও কম অর্থাৎ ০.৯৬%।

এটা শুধু বৈষম্যই নয়, ধান ক্রয়ের নামে কৃষকের সাথে সরকারের রীতিমত উপহাস।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে ৮৪০ বা সাড়ে ৮’শ কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে তার অধিকাংশ কৃষকই জানেন না তাদের নামে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় বা বিক্রি করা হয়েছে।

দেখা গেছে, ৩/৪ বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছেন এমন লোকের নামেও কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সরবরাহ করেছে এবং ওই সকল মৃত ব্যক্তিদের নামে ব্যাংকে হিসাব নাম্বার খুলে, তাদের নামে ধান বিক্রি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ধানের মূল্য তুলে নিয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

শুধু তাই নয়, কোন ভাবেই কৃষি কাজের সাথে জরিত নন এমনকি এক শতাংশ কৃষি জমিও নেই, পরিবারের কেউ কোন দিন কৃষি কাজ করেনি এমন লোকের নামও ধান সংগ্রহের তালিকায় পাওয়া গেছে।

শরীয়তপুর জেলায় এ বছর উপজেলা ভিত্তিক কতজন কৃষক কি পরিমান ধান উৎপাদন করেছেন এবং কতজনের কাছ থেকে সরকার কতটুকু ধান ক্রয় করেছে সে পরিসংখ্যানটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলার সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৫০ জন কৃষক ৪০ হাজার ১৫৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৯৫০ জন উৎপাদক কৃষকের। আর খাদ্য গুদাম ১৬৩ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে মাত্র ৪৪৫ মেট্রিক টন।

নড়িয়া উপজেলায় ১৭ হাজার ৩১৫ জন কৃষক ৩৬ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে ১৯২ জন উৎপাদক কৃষকের তালিকা সররাহ করেছে।

আর খাদ্য গুদাম ১৫৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে ৪৪৭ মেট্রিক টন।

জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ২০০ জন কৃষক ৭ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৩৯৪ জন কৃষকের।

আর ৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে মাত্র ৯০ টন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৯ হাজার ২০০ জন কৃষক ৩০ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন, এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৯১০ জন কৃষকের।

খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৪৯ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ৩৩১ মেট্রিক টন।

ডামুড্যা উপজেলায় ১৩ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ২৭ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ৪৫০ জন কৃষকের।

খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৮৪ জন কৃষকের থেকে কাছ থেকে ২৯৫ মেট্রিক টন।

গোসাইরহাট উপজেলায় ১৮ হাজার কৃষক ৩১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন।

এর বিপরীতে কৃষি বিভাগ খাদ্য বিভাগকে তালিকা সররাহ করেছে ১৪৩ জন কৃষকের আর খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করেছে ১৫০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩৬৫ মেট্রিক টন।

খাদ্য বিভাগকে ঘিরে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকেই শরীয়তপুরে বেশ তৎপর।

সরকারি ভাবে ন্যায্য মূল্যের ধান, গম, চাল ক্রয়ে তারা সব সময়েই দুই নম্বরী পথ বেছে নেয়।

সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকেন চিহ্নিত খাদ্য ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে লালিত সুবিধাবাদী অসাধু নেতা।

খাদ্য ও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কিছু অসৎ লোকের যোগসাজোশে কৃষকের সাথে প্রতারণা করে ওই চক্রটি প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি বিভাগ খাদ্য গুদামকে কৃষকের মূল তালিকা প্রদানের পর ধান সংগ্রহ চালাকালিন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষি কাজের সাথে জরিত নয় এমন কিছু লোকের নামে সম্পূরক তালিকা প্রদান করে থাকেন।

উভয় তালিকায়ই অসংখ্য ভূয়া কৃষকের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আর ভূয়া কৃষকের নামেই বেশীরভাগ ধান সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কৃষকের নামে কৃষি বিভাগ শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দার নাম তালিকাভূক্ত করেছে।

এদের মধ্যে দক্ষিন মধ্যপাড়া গ্রামের সামাদ শেখ মারা গেছেন তিন বছর আগে, তার নামে ৫০ মন ধান ক্রয় করেছে খাদ্য গুদাম।

তার ছেলে ইদ্রিস শেখও মারা গেছে দুই বছর আগে। ইদ্রিসের নামেও খাদ্য গুদাম ক্রয় করেছে ৭৫ মন ধান এবং সামাদ শেখের অপর দুই ছেলে জাকির শেখের নামে ৫০ মন ও ইয়াসিন শেখের নামে ২৫ মন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

উত্তরা ব্যাংক শরীয়তপুর শাখা চেকের মাধ্যমে তাদের ধান বিক্রির টাকা পরিশোধ করেছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সামাদ শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ জানিয়েছেন, তারা অল্প কিছু ধান উৎপাদন করলেও কোথাও কোন ধান বিক্রি করেননি, এমনকি কে তাদের নামে কোথায় ধান বিক্রি করেছে তাও তাদের জানা নেই।

তিনি আরো জানিয়েছেন, তার পিতা সামাদ শেখ ও মেজ ভাই ইদ্রিশ শেখ অনেক আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন।

একই গ্রামের মান্নান ঢালীর ছেলে মুনসুর আলম ঢালী এবং আবু আলম ঢালীর কাছ থেকেও ৭৫ মন করে মোট দেড়‘শ মন ধান ক্রয় করেছে আঙ্গারিয়া খাদ্য গুদাম।

মুনসুর ঢালী এবং আবু আলম ঢালীও জানিয়েছেন তারা সামান্য কিছু ধান উৎপাদন করলেও সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেননি।

উত্তরা ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে ধানের মুল্য বাবদ ৭৮ হাজার টাকা উত্তলোন করেছেন কিনা জানতে চাইলে আবু আলম ঢালী বলেন, “ আমি তো স্বাক্ষর দিতেই জানিনা, টাকা তুলবো কিভাবে”?

একইভাবে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ আক্তার হোসেনের নামে ৫০ মন, মেছের আলী মির্জির নামে ৫০ মন, ইউপি সদস্য খায়রুন নেছার নামে ৫০ মন, গ্রাম পুলিশ জহিরুল ইসলামের নামে ৫০ মন, সাবেক ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের নামে ৫০ মন ধান ক্রয় করেছে ভেদরগঞ্জ খাদ্য গুদাম।

তারা জানিয়েছেন, সরকারি গুদামে তাদের নামে ধান ক্রয় বিষয়ে তারা কিছুই জানেননা।

জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ছাব্বিশ পাড়া গ্রামের ফারুখ মাদবরের নামে ৫০ মন এবং মজিবর খালাসীর নামে ৫০ মন ধান সংগ্রহ করেছে জাজিরা খাদ্য গুদাম। তারা জানিয়েছেন, জাজিরা বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী রশীদ বেপারী তাদের নামে ব্যাংকে একাউন্ট খুলিয়ে প্রতিটি চেকে দুইটি করে পাতায় স্বাক্ষর রেখে চেকের পাতা ছিড়ে রেখেছেন।

রশীদ বেপারী তাদের দুইজনকে মাত্র ২০০ টাকা পথ খরচ দিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ধান গুদামে বিক্রি করিনি। একই উপজেলার বড় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মাঝির নামে জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদাম ৭৫ মন ধান ক্রয় করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় আমার কাছ থেকে যাবতীয় কাগজ ও সই স্বাক্ষর রেখে আমার নামে ৩ টন ধান গুদামে দিয়েছে বলে আমি জানি। তবে আমি নিজে ধান বিক্রি করিনি।

আমার নামে ধান ক্রয়ের বিনিময়ে আমার ওই আত্মীয় আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন।

এমনিভাবে যাদের নামে গুদামে ধান ক্রয় করা হয়েছে এনম অনেক কৃষকের সাথে কথা বলার পর তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেননা বলে বলে জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রনালয়ের ২০১৭ সালের আভ্যন্তরিন খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি উপজেলার ধান ও গম উৎপাদন অনুযায়ী সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ইউনিয়নওয়ারী বিভাজন করবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কর্তৃক সরবরাহ করা মৌসুমে আবাদকৃত জমির পরিমান এবং সম্ভাব্য উৎপাদনের পরমিান সহ ডাটা বেইজ হতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কৃষক নির্বাচন করবে।

উপজেলা কমিটি প্রত্যেকের প্রদেয় খাদ্যশস্যের পরিমান সহ নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ক্রয় কেন্দ্রে প্রেরণ করবে।

এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ও গম ক্রয় করা হবে। ক্রয়কারি কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যেমন, কৃষি কার্ড, পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে তালিকাভূক্ত কৃষকদের সনাক্ত করবেন। তালিকা বহির্ভূত কারো কাছ থেকে ধান গম ক্রয় কার যাবেনা।

আরো বলা হয়েছে, অধিক সংখ্যক কৃষককে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে উপজেলা কমিটি একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বনিন্ম তিন বস্তা পরিমান বা ১২০ কেজি ধান ও ১৫০ কেজি গম থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি বা তিন মেট্রিক টন দাধ ও গম ক্রয় করতে পারবে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে সরকারের এই নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে পদে পদে।

গত ২০ নভেম্বর থেকে নতুন করে সরকার সারা দেশ থেকে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক তালিকা প্রেরণ করেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখের মধ্যে ধান ক্রয় করতে হবে। এর আওতায় শরীয়তপুর জেলায় ১ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয় করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ।

শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানিয়েছেন, কোন অনিয়মের সুযোগ থাকবেনা আমন ধান সংগ্রহে। তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকে লটারীর মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা, সরকার কি শতভাগ নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করবেন, নাকি পূর্বেকার নিয়মের গন্ডিতেই বাধা হবে অসহায় কৃষকের ভাগ্য।

 

""ব্যবধান""
                                  

ও হাঁ আপনি কি ভাবছেন? পুরুষ বলে সব ভোগ করছেন!

আপনার চরিত্রের স্বাধীনতা আছে,
সকালে বেলা বিছানায় চা পাবার অধিকার আছে।

ততটাই স্বাধীনতা তার আছে, সে মনে মনে কি ভাবছে!

বিয়ের পর চাকরি করার মেয়েটির ইচ্ছে আছে।

সেই সাথে স্বামীর পরিবারের চোখ গরম করার রেওয়াজ আছে।

শাশুড়ী বৌকে এক বিন্দু পছন্দ করে না বলে বেড়াচ্ছে।

সই শাশুড়ীকে মাথায় করে না রাখার জন্য মেয়েটি আজও মার খাচ্ছে।

শুনে কি ভিষণ রাগ হচ্ছে? মেয়েটিও গালি দিচ্ছে সেটা আপনারই লাগছে।

ছোট বেলায় বাবা মেয়েকে শিখিয়েছিলো, মেয়েরা গালি দেয় না।

মা ছেলেকে শিখাতে ভুলে গেছে মেয়েদের গালি দিতে হয় না।

জীবনের পথে পুরুষকে বুক টান টান করে চলতে বলেছে।

আর মেয়েরা টান টান করে চলাফেরা করায় ইভটিজিং করতে বলেছে?

হট ম্যানলি বডি স্প্রে আপনি লাগাচ্ছেন কাছে টানতে।

মেয়েটিও মিষ্টি মিন্ট ফ্লেভার নিয়েছে মনকে সাজাতে।

তাই বলে ম্যানলি বডি স্প্রে পারেনা, মিন্ট ফ্লেভারকে ধর্ষণ করতে।

অন্ধকারে পুরুষের ভয় জ্বিন ভুতের; তওবা কাটে রাস্তা কাটতে।

নারীর ভয় পুরুষকে নিয়ে; ও বাবা আপনি জ্বিন ভুতের থেকে কম কিসে।

আহা কি শক্তিশালী আপনি, হচ্ছে না মনে আনন্দ এবার?

মেয়েটার মনের সাথে রেসলিং না খেলে, একটু শান্তি দিন এবার।

নিজের না-বালিকা মেয়ের মতই চোখটা প্রতিবেশীর মেয়েটার উপর রাখুন।

আরে না না কি বলছেন; আমাদের ভদ্র সমাজে এসব হয় না।

ও আচ্ছা! টিনের চালের ঘরের মেয়েটার সাথে আপনার এমন হয় বুঝি?

আর ইংলিশ মিডিয়ামে কটিপতির মেয়েটার দিকে নজর ড্রাইভারের হয়।

ওই, যে মেয়েটার ঘর টিনের চালের; এই ড্রাইভার তার বাবা হয়।

মনটাকে আপনি স্ট্যাটাস দিয়ে বেঁধে, ক্লাস দিয়ে রাপিং করতে পারবেন না।

কামারের ঘরে লোহা পিটিয়ে ধার করলে হবে না, ভোতা মনটাকে ধার দিতে হবে।

শত বছরের বাজে চিন্তা গুলো মনে এলে, টুকরো টুকরো করে কাটতে হবে।

মিটিং মিছিল সেমিনার দিয়ে হয়তো এনজিও স্পন্সরশিপ পাবে।

কিন্তু একই পাত্রে স্বাধীনতাকে ভালোবাসা দিয়ে না মাখলে সমাজ এমনই রবে।

 

কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
                                  

আসাদুজ্জামান জুয়েল : রাজনীতির উপর দূর্বৃত্তের নজর পরেছে! এটা নতুন কিছু নয়। দূর্বৃত্তর কু-নজর রানজীতির উপর পূর্বেও ছিলো, এখন যেমন আছে তেমনি ভবিষ্যতেও থাকবে।

দূর্বৃত্তরা রাজনীতির খালে কচুরিপানার মত। কচুরিপানার বৃদ্ধি যেমন দ্রুত হয় আবার পচেও দ্রুত। কচুরিপানার বন্ধণ খুব দৃঢ় হয়। কিন্তু এখন সময় এসেছে কচুরিপানা সরিয়ে উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

কচুরিপানা অপসারণের সময় কিছু ধ্বংস হবে, কিছু স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে অজানায়, কিছু সরে গিয়ে অন্য জমিতে অবস্থান নিবে। তবে ধ্বংস ক্রিয়া চালু করা, অব্যাহত রাখা এখন সময়ে দাবী।

দূর্বৃত্তরা আমাদের সমাজে রাজনীতির উপর ভর করে জগদ্দল পাথরের মত জেকে বসেছে। আসুন এদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি, এদের অপসারণ করি, এদের ঘৃণা করি।

দূর্বৃত্ত সম্পর্কে ধারনা নিতে গিয়ে যে যে শব্দের ব্যবহার দেখলাম তাতে কারা কারা দূর্বৃত্ত সহজেই বুঝা যায়। বজ্জাত, বজ্জাৎ: [বজ্জাত্] (বিশেষ্য) চালাক; ধূর্ত; বদমাশ; দূর্বৃত্ত; দুষ্ট; দুর্জন; অসৎকর্মকার; মন্দ জন্মের লোক, অন্যের ক্ষতি করার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তি।

বজ্জাতি (বিশেষ্য) বদমায়েশি; দূর্বৃত্তপনা; দুষ্টামি। বিশেষ্যগুলো যাদের নামের পাশে বিশেষণ হিসাবে বসে তাদের গুণ বা দোষ নির্দেশ করে তা দেখলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাজারো বদ মানুষের মুখচ্ছবি। এরা দেশের রক্ত, দেশের মানুষের রক্ত খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে। এদের নির্মূল করা যাবে না তবে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্প্রতি দেশের একটি প্রচীন দলের নেত্রী তার দুটি অঙ্গ সংগঠনকে অনেকটা ছাই দিয়ে ধরেছেন। প্রথমত তাদের সহযোগি ছাত্র সংগঠনের বড় দুটি পদের কর্তাকে বহিস্কার করেছে।

কারন আর কিছুই নয়, পদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর কাছে চাঁদা পাইয়ে দেয়ার জন্য চাপাচাপি করেছেন, অশোভন আচরণ করেছে।

শোনাযাচ্ছে ঈদ বকসিসের নামে তারা উন্নয়ন কাজের এক ঠিকাদরের কাছ থেকে কোটি টাকা সালামিও নিয়েছেন। সত্যি-মিথ্যা আমরা হয়তো জানি না।

তবে এটুকু জানি, পদ পাওয়ার সাথে সাথে তাদের চরিত্র বদলে যায়, চলাফেরার স্টাইল বদলে যায়, বাসস্থানের চিত্র বদলে যায়। যারা একসময় রিক্সায় চড়ে ক্যাম্পসে আসতেন তারা পদ পাওয়ার সাথে সাথে দামী গাড়ি ব্যবহার করেন! ছাত্র হয়ে কোন চাকুরী-ব্যবসা না করেও লাখ টাকার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। পাঁচ বছর পদে থাকার পরে ব্যাংকের পরিচালক হয়ে যান।

একটা ব্যাংক খুলতে কত টাকা লাগে অনেকেই হয়তো জানেন না। ব্যাংক খুলতে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায় চারশত কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন প্রয়োজন হয়।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুসারে ‘১(এক) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর ৩ (তিন) জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ কোন ব্যাংক-কোম্পানীতে সর্বমোট ২০ (বিশ) জনের অধিক পরিচালক থাকিবে না’।

পরিশোধিত মূলধন পরিচালকরা যোগান দেন। ছাত্রলীগ নেতারা মাত্র পাঁচ বছর নেতৃত্ব দিয়ে বিশজন পরিচালকের একজন হয়ে যায় এবং চারশো কটি টাকার একটা অংশ যোগান দিয়ে পরিচালক হন।

এতেই বুঝাযায় তারা কি পরিমান টাকা অবৈধ পথে আয় করে থাকে! একসময় আমরা ঈদের সালামি পেতাম এক টাকা থেকে একশ টাকা। এখন অনেকে একশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পায়।

আমাদের সোনার ছেলেরা ঈদ সালামী এক কোটি থেকে শতকোটি টাকা দাবী করে। কতটা দূর্বৃত্ত হলে এমনটা করতে পারে ভাবাযায়?

ছাত্র নেতাদের পরেই শুরু হয়েছে যুব নেতাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান।

একেকজন যুবনেতা সাত আটজন দেহরক্ষি নিয়ে চলেন। তাদের দেহের কতই না দাম! তারা কতই না নিরাপত্তা হীনতায় জীবনযাপন করছিলেন এতোদিন।

রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলখানায় রাখার ব্যবস্থা করে ভালই করেছেন। স্বাধীন দেশে বর্তমান সময়ে যদি নিরাপত্তাই না পায় তবে আর কিইবা করার আছে!

নিরাপত্তাহীন ভাববেন নাই বা কেন? তাদের কর্মকান্ডই তাদের নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।

একেকজন সোনর যুবক টেন্ডারবাজি করে, ক্যাসিনো পরিচালনা করে, মাদক ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। রাত পোহালেই কোটি কোটি টাকা তাদের ঘড়ে ঢোকে।

সেসব সোনার ছেলেদের বৃদ্ধ মায়েরাও দেড়শো কোটি টাকার এফডিআর হোল্ডার! নিজের নামেতো আছেই। সোনার ছেলেরা যুবক তাই যুব নেতা। যুব নেতা তাই তাদের রক্ত গরম।

সেই গরম রক্ত ঠান্ডা করতে বিদেশী মদ, বিয়ার, বাবা (ইয়াবা ট্যাবলেট) প্রয়োজন হয়। সোনার ছেলেদের মা-বাবার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা! মায়ের নামে রাখে এফডিআর আর বাবাকে জ্বালিয়ে ঘন ধোয়া টেনে নেয় শ্বাসযন্ত্র দিয়ে।

নেবে না কেন, সারারাত জেগে ক্যাসিনো চালাতে হবে, রাত জাগতে বাবার ভূমিকা তুলনাহীন যে! এতো পরিশ্রমের পর একটু বিনোদন প্রয়োজন, ঘরে বিবির কাছে যাওয়ার সময় কই? তাই জুয়ার আসরে, ক্যাসিনোতেই চলে জলসার আয়োজন।

জলসায় নাচন-কোদনের জন্য মডেল, নায়িকার ব্যবস্থাও নাকি থাকে।

সোনার ছেলেরা যখন জলসাঘরে রক্ত ঠান্ডা করায় ব্যস্ত তখন হয়তো নিজের ঘরের সুন্দরী বউ বাড়ির ড্রাাইভারের সাথে ঘাম ঝড়ায়! অবৈধ টাকায় সন্তানরা নেশায় ব্যুদ হয়ে থাকে সেদিকে খেয়াল করার সময়ও পায় না তারা।

অফিসে নগদ টাকা থাকে দশ কোটির উপরে! থাকে অস্ত্র, গোলা-বারুদ, নেশার দ্রব্য! সব ব্যবস্থাই আছে তাদের, শুধু নেই শান্তি! আসলে শান্তি বেগমদের টাকায় পাওয়া যায় কিন্তু টাকায় শান্তি বিক্রি হয় না পৃথিবীর কোথাও।

নগদ টাকা বা এফডিআর থাকা দোষের কিছু নয়। বৈধ পথে প্রদর্শীত আয় থাকলে কোন সমস্যা নেই।

কেউ কেউ দেখলাম রেল লাইনের ধারের কোন বস্তি থেকে উঠে দেশের অভিজাত এলাকা গুলশানে আস্তানা গেড়েছেন।

কেউ কেউ একাধিক দল বদল করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। আসলে তারা দল বদলায় না, একটা দলই সরে সেটা হলো সরকারী দল।

বৈধ অর্থশালী মানুষ অফিসে, বাসায় এত নগদ টাকা রাখেন না। তাদের টাকার নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ব্যাংক বসে আছে ভল্ট খুলে। লেনদেন হবে ব্যাংকের মাধ্যমে।

একমাত্র অবৈধ অর্থই ব্যাংকে লেনদেন করা সমস্যা।

এই দূর্বৃত্তর বিচরণ বা চলাচল শুধু রাজধানীতে বা বড় বড় বিভাগীয় শহরেই নয়। জেলা-উপজেলা পর্যায়েও আছে। বড় জায়গায় বড় দূর্বৃত্ত আর ছোট জায়গায় ছোট দূর্বৃত্ত।

জেলা পর্যায়ে পদ পাওয়ার জন্য হেন কাজ নেই কথিত নেতারা করে না।

পদ পাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে চলে ভাগাভাগি। কেউ আশায় থাকে এলজিইডির, কেউ থাকে সড়ক ও জনপথের, কেউ থাকে পাবলিক হেলথ দখল নেয়ার আশায়, আবার কেই থাকে পিডব্লিউডির আশায়।

এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টেন্ডারবাজী করে ঠুন্ডা টনি’রা হয়ে উঠে সমাজে জননেতা! টেন্ডারের সিডিউল বিক্রি এসপি অফিসেও হয়। সেখানকার দখল অবশ্য কেউ নিতে চায় না!

রাজনীতিতে সকল নেতা খারাপ না। এখনও শহরে, জেলায়, উপজেলায় ভালো ভালো নেতারা আছে।

ভালো মানুষের কারনে যেমন টিকে আছে পৃথিবী তেমনি ভালো নেতারা আছে বলেই তাদের কারনে টিকে আছে রাজনীতি। একটা কমিটিতে হাতে গোনা দুই-চারজন দূর্বৃত্ত থাকে।

ঐ দুই-চারজনের জন্যই বদনামের ভাগিদার হতে হয় গোটা সংগঠনকে। উপরে যাদের কথা এতক্ষণ কীর্ত্তন করলাম তারা সবাই আসলে কচুরিপানার মত। এদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

উনিশশো তিয়াত্তর সালের তিন জুলাই পূর্বদেশ পত্রিকার লীড নিউজ ছিলো ‘উদ্বেল কুষ্টিয়া জাতির পিতাকে বরণ করলো ॥

আওয়ামী লীগ থেকে দুর্নীতিবাজদের বের করে দাও, জীবন দিয়ে জনগণের দুর্দশা মোচন করবো-বঙ্গবন্ধু’। ছিচল্লিশ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যার কার্যক্রম দেখে সেই কথারই প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।

মহান নেতা যা চেয়েছিলেন, হয়তো করে যেতে পারেননি, তাঁর কন্যা সেই পথেই হাটছেন।

নিজের সমালোচনা করা, নিজের অঙ্গে পচন ধরলে চিকিৎসা করা, প্রয়োজনে পচন ধরা অঙ্গ কেটে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোগকে জিইয়ে রাখেন বোকারা।

অসুস্থ সামজে পরজীবীরা শরীরে ভর করতেই পারে, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং চেষ্টা করলে সুস্থ্য থাকাটা কঠিন কিছু নয়। রোগকে ঢেকে রাখাই খারাপ।

আমাদের আশা ও বিশ্বাস দল থেকে দুর্নীতিবাজদের বের করে দিয়ে জনগণের দূর্দশাকে মোচন করবে জননেত্রী। দূর্বৃত্ত নামক কচুরিপানা পরিস্কার করে উন্নয়নের নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন প্রিয় নেত্রী।

লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট।

 

 

রক্ষা করা যাচ্ছেনা জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ
                                  

কাজী নজরুল ইসলাম : দেশের নাগরিকদের মধ্যে দেশাত্ববোধ না থাকলে সে দেশে কখনো আত্ম-নির্ভরশীলতা আসেনা। দেশ কখনো উন্নত হতে পারেনা।

সে দেশের মানুষেরা কখনোই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারেনা, তারা আইন মানেনা। নাগরিক কর্তৃক আইন না মানা দেশে আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠিত হয়না।

আবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে কোন দেশে সুশাসন আসেনা এমনকি নাগরিকরা আইনও মানেনা।

যারা আইন মানেননা তারা সব কিছুই করতে পারে। তারা দেশের সম্পদ লুট, রাহাজানি, সন্ত্রাস, মাদক বিক্রি, মাদক সেবন, ধর্ষণ, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রশ্ন ফাঁস, রাজ কর্তার মহলে বসে চাকুরী প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন বিক্রি, ভাই হত্যা, সন্তান হত্যা এমনকি মাকেও হত্যা করতে পারে।

হ্যা, তাই-ই তো দেখছি দেশপ্রেমহীন আইন অমান্যকারি মানুষগুলো বিপুল আনন্দ আর বিকৃত উল্লাসে মেতে উঠেছে মাতৃ হত্যার উৎসবে -“মা ইলিশ” নিধন যজ্ঞে।

নিজের মায়ের সাথে যখন সামান্য একটি মাছের তুলনা হয় তখন মানুষ বলতেই তার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষরূপি অমানুষগুলো রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাতদিন শিকার করে চলেছে কোটি কোটি টাকা মুল্যের লক্ষ লক্ষ মা ইলিশ।

শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনায়ক আর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী চাইলেই দেশের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব না। মা ইলিশ রক্ষা করতে হলে তুণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিজন কর্মচারিকে পরিশুদ্ধ হয়ে ভূমিকা নিতে হবে সবার আগে।

সরকার এ বছরও মা ইলিশ রক্ষার জন্য ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ঘোষনা করে ইলিশ মাছ শিকার, বিক্রি, বিপনন, পরিবহন, মজুদ ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন।
এ জন্য দেশের উপকুলীয় অঞ্চল সহ ৩৬ জেলার ১৪৭টি উপজেলার মোট ৪ লক্ষাধিক প্রকৃত জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সহায়তাও প্রদান করেছেন।
দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ৯০টি নদী এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদী মিলে মোট ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চালানো হচ্ছে।

চন্দ্র নির্ভর আবর্তনকে অনুসরণ করে বা চন্দ্র পক্ষের সাথে মিল রেখে আশ্বিন মাসের পূর্নিমার ৪ দিন আগে থেকে শুরু করে ১৮ দিন পর পর্যন্ত মা ইলিশ ডিম ছাড়ে।

ডিম দেয়ার আগে সাগর থেকে মিঠা পানিতে উঠে আসে গর্ভবতি মা ইলিশ।

মূলত: প্রজননক্ষম স্ত্রী ইলিশকেই আমরা মা ইলিশ বলি। এ ইলিশ গুলোকে আমরা মায়ের সাথে তুলনা করেছি। সাধারণভাবে যদি বলা হয় তাহলে দেখা যাবে, আমাদের সন্তান সম্ভবা মা, বোন, স্ত্রী, কন্যাকে নিরাপদে তাদের সন্তান প্রসবের জন্য কাছের বা দুরের কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিয়ে যাই।
সন্তান
প্রসবের কাজটিতে ঝুঁকি থাকায় আমরা তাদেরকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে নিশ্চিন্ত হই নিরাপদে তার সন্তানটিকে পৃথিবীর আলো দেখানোয়।
এমনভিাবে একটি মা ইলিশের যখন প্রসব যন্ত্রনা উঠে তখন সেও হাজার মাইল দুরের পথে পাড়ি জমিয়ে চলে আসে নদ নদীতে। বৈচিত্রময় জীবন ইলিশের। সারা বছর সমুদ্রে থাকলেও ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র্র থেকে উঠে আসে মিঠা পানির উজানে।

প্রতিদিন ডিমে ভরা গর্ভবতি একটি মা ইলিশ ডিম ছাড়ার লক্ষ্যে ৭০-৮০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ১ হাজার থেকে ১২ শত কিমি রাস্তা অতিক্রম করে মিঠা পানিতে উঠে আসে।

সাগর থেকে ইলিশ যতই উজানের দিকে আসতে থাকে ততই তার শরীর থেকে লবনের মাত্রা কমে এর স্বাদ বাড়তে থাকে।
মৎস ইন্সটিটিউিটের গবেষনা মতে ইলিশ মাছ সারা বছরই ডিম দেয়, তবে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।
একটি মা ইলিশ ৩ লক্ষ থেকে ২১ ডিম দিতে সক্ষম হলেও গড়ে ৮ থেকে ১২ লক্ষ ডিম দেয় প্রতিটি মা ইলিশ। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেনু ইলিশ জন্ম নেয়।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ ইলিশের রেনু বেঁচে থেকে পূর্নাঙ্গ ইলিশে রূপান্তরিত হয়। প্রজননক্ষম মা ইলিশ ও পরে জাটকা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশের জলসীমায় অন্তত ২০ হাজার কোটি থেকে ২৫ হাজার কোটি পরিপক্ক ইলিশ পাওয়া যাবে মৌসুম শেষে।

বর্তমান শতাব্দির প্রথম দিকে এসে আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হই। আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেতে পেতে বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছিল সুস্বাদু ইলিশ মাছ। টানা এক যুগ পরে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে
বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নজর দেন ইলিশ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে।

প্রথমেই প্রকৃত জেলেদের তালিকা করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রক্ষার কর্মসুচি দিয়ে মা ইলিশ, জাটকা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা সময়ে প্রকৃত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার কর্মসূচিও চালু করা হয়। ২০১০-১১ অর্থ বছর থেকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় ইলিশ রক্ষার।

মা ইলিশ রক্ষায় ২০১১ সাল থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ছিল ১১ দিন। ২০১৫ সালে ছিল ১৫ দিন। ২০১৭ সাল থেকে করা হয়েছে ২২ দিন।

প্রতি বছর দেশে ৯-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে ইলিশ। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত ১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন।

বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা রয়েছে পৃথিবীর বহু দেশে। প্রতি বছর ইলিশ রপ্তানি করে সরকার আয় করছে ৩০০ কোটি টাকারও বেশী।

দেশে নানা প্রজাতির মাছের মোট উৎপাদনের ১২ শতাংশই ইলিশ মাছ। সমগ্র পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট ইলিশের ৭০ ভাগ ইলিশই উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বহু মানুষের জীবন জীবীকা ইলিশের উপর নির্ভরশীল।

৫ লক্ষ জেলে পরিবার ইলিশ আহরণ করলেও এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে অন্তত ২০ লক্ষ মানুষ। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জি.আই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

দেখে শুনে মনে হচ্ছে এ বছর ইলিশ রক্ষা অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আমি শরীয়তপুরের সন্তান। শরীয়তপুর জেলায়ও চারটি উপজেলার নৌ সীমানায় পদ্মা-মেঘনার অন্তত ৮০ কিমি এলাকা রয়েছে ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র।

প্রতি বছরের মত এবছরও সরকার মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের জন্য কিছু আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, কোষ্টগার্ড ও মৎস বিভাগের লোকেদের নিযুক্ত করেছেন।
যাদের ইলিশ রক্ষার এ দায়িত্ব নিয়েছেন তারা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

ফলে, নদীতে সার্বক্ষনিক শত শত ট্রলার ও স্পীডবোট দিয়ে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু চক্র। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এ বছর শুধু শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলাতেই মা ইলিশ নিধন কাজে অন্তত ২০ কোটি টাকা লগ্নি করেছে ইলিশ মাফিয়া চক্র।

২০১৮ সালে শরীয়তপুর জেলায় আইন শৃংখলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন ২২ দিনের অভিযানে ১ হাজার ৩ শত জনকে আটক করে তাদের মধ্যে ৯২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন।

এছারাও কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা, বিপুল পরিমানে মা ইলিশ, জাল, নৌকা ও স্পীডবোট আটক করেছিলেন।

গত বছরের পূনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে আলোকে আমরা দেখেছি মা ইলিশ রক্ষায় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর প্রবল স্বদিচ্ছা ও দেশ প্রেমের চিত্র।

তিনি আগষ্ট মাসের প্রথম দিক থেকেই টানা ৪০ দিন তার নির্বাচনী এলাকার অন্তত ২০টি স্থানে সরকারি কর্মচারি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মা ইলিশ রক্ষার জন্য গণসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালিয়েছেন।

তিনি প্রকৃত জেলে, মৌসুমি জেলে, আড়ৎ মালিক, দাদন ব্যবসায়ী, লগ্নিকারক ও এনজিও কর্মীদের নানা ভাবে বুঝিয়েছেন মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে।

৮ অক্টোবর বিকেল থেকেই সাংসদ তার দলীয় কর্মীদের সরকারি আইন শৃংখলা বাহিনীর সমন্বয়ে নদীতে টহল দিতে পাঠিয়েছেন।

টানা তিন দিনের রাত-দিন টহলে পদ্মা নদীর অন্তত ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় কোন মাছ ধরার নৌকা নামতে দেখা যায়নি। সংসদ সদস্যের এ ভূমিকায় মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে লগ্নিকারিদের।

তারা এ উদ্যোগকে ব্যর্থ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মা ইলিশ রক্ষায় সাংসদের নিয়োগকৃত প্রধান সমন্বয়ককে ফাঁসানো হয় ষড়যন্ত্রের জালে। ব্যর্থ হয় একটি মহৎ উদ্যোগ।

১১ তারিখ বিকেল থেকেই মহা উৎসব শুরু হয় পদ্মার বুক জুরে। শত শত নৌযান নিয়ে শুরু মা ইলিশ নিধন।
১৩ অক্টোবর জেলা আইন শৃংখলা সভায় সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু ইলিশ রক্ষার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করে একটি হৃদয়স্পর্শী ও আবেগভরা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

তারপর সরকারি বাহিনীর টহল কিছুটা জোরদার হলেও থেমে নেই মা ইলিশ ধরা। রাত-দিন নির্দয়ভাবে চলছে ইলিশ হত্যার মহা যজ্ঞ। জেলার শত শত পয়েন্টে গভীর রাত পর্যন্ত বসছে ইলিশের হাট, পানির দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

অভিনব কায়দায় মোটর বাইকে চড়ে, স্কুলের ব্যাগে ভরে একেকজন ইলিশ কিনে ছুটছে জেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। যাচ্ছে বাইরের জেলায়ও।

গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে মা ইলিশ। ছোট্ট একটি জেলা শরীয়তপুরকে নিয়ে বিচার করলে বলা চলে সারা দেশের চিত্র একই। কোথাও কেউ মানছেনা নিষেধাজ্ঞা।

প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলে আর পত্রিকার পাতা খুললেই নজরে পরে মা ইলিশ ধরার নির্মম দৃশ্য। এ অবস্থা থেকে জাতি হিসেবে আমরা কবে রেহাই পাবো, কবে আমাদের মধ্যে বধোদয় হবে আমাদেরই জাতীয় সম্পদ রক্ষার ?

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বনাথ বৈরাগী জানিয়েছেন তার অসহায়ত্বের কথা। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন নৌযান নেই। সীমিত খরচ। লোকবল কম।

ভাড়া করা নৌযান নিয়ে অভিযানে যাই, নদীর এক দিকে গেলে অপর দিকে জাল ফেলে। এদের সাথে কুলিয়ে উঠা যায়না। তারপরেও গত ১০ দিনে ৬ শতাধিক জেলেকে আটক করে তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে ১ বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে।
মা ইলিশ পরিবহনের দায়ে জেলা পুলিশের ৩ সদস্যকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেক জাল, নৌকা, সী বোট ও মা ইলিশ আটক করা হয়েছে।

 

 

কবিতা
                                  

দেখে নিন কে বা কারা সহজেই ফাটকা খেলে
রিক্ততা সৃষ্টি করে শেষে কত আগুন গেলে

ভালবাসা ঢের হয়েছে ভালো-আশা অস্তমিত
নিরীহ আমজনতা দিন দিন আরও ভীত

আলোতে ভাল থাকি আঁধারে জ্বালাবো আলো
তুমিও প্রাশন দেখাও কতটা ভালোর ভালো

একী তবে যুগের হাওয়া নিস্পৃহ তত্বাবধান
অযথা ভয়ে ভীত তোমাদের অণু-মন-প্রাণ

গোলযোগ হলে পড়ে সাধারণ মুছড়ে পড়ে
কখনও ভয়ে লুকোয় চেঁচামেচি আর্তস্বরে

সব কথা বলা কি যায় স্বচ্ছতা থাকাই ভালো
তথাপী বুঝতে হবে কি কথায় কী দাঁড়ালো

যখন তুমি জর্জরিত বেয়াদপ প্রশ্নবানে
অসঙ্গত অসংলগ্ন জেনে নাও কথার মানে

পরিবেশ ছিন্নভিন্ন অহেতুক কলরবে
শান্তি-স্বস্তি যে চাই, ফেরার কি উপায় তবে?

আমাদের চলার জীবন চলবে কোন আদলে
জীবনেরই ছন্দপতন সাময়িক ঝড় বাদলে

অনেক তো বলা হলো কোনও কথা বলবো না আর
নীরব নিষ্পৃহ থাকা মানবতার কদাচার।

বরুন চক্রবর্তী। একাধারে কবি,  গবেষক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সংগঠক এবং সংবাদকর্মী। কবিতার স্রোতস্বীনিতে  ভেসে বেড়ান এবার বাংলা-ওপার বাংলা। গেয়ে বেড়ান সাম্যের গান। যেন চারণ বাউল তিনি। কবিতা, গল্প বলা এখন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। সাহিত্য চর্চা তাকে টেনে এনেছেন সাধারণের কাছে। তার ভক্ত সংখ্যাও কম নয়। কবিতার জমিনই এখন তার আবাসভূমির মর্যাদা পেয়েছে। সাহিত্যের নৌকোয় চড়ে হাতে তুলে নিয়েছেন কবিতার বৈঠা। বেয়ে চলেছেন অভিরাম। টালিগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে দক্ষিণে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে নোঙ্গর করেন তার কবিতার নৌকা।

মৌচাক
                                  

অনেকটা মধু সঞ্চয় করেছে শ্রমিক মৌমাছিটি
আজ সঞ্চিত মধুগুলির পাশে ভীড় করেছে
লুস্ফেনের দল।
লুটে নেবে যা কিছু সম্মান অধিকার
রাণী স্বভাবতই এক এক হাত ধরে নৃত্য করছে
রাণী তো কখনো একার হয়না
যে জিতে নেবে বীর্যের পরিমাপে
এখন অবশ্য দিন পাল্টেছে অর্থ বুঝে নিতে হয়
কড়ায় গন্ডায়
অর্থ দিয়ে কেনা যায় সব অলংকার
শরীর সুবাস ইজ্জত
রাণীরা অসহায় নয় রাজা পাল্টে গেলেও রাণী
থেকে যায় যৌবন বিলিয়ে।
তার যৌবন কামুক হৃদয় আরও বর্ণচ্ছটা ছড়িয়ে
পুরুষ কে বিহবল করে
একে একে শিকার ধরে...
যতক্ষণ মৌচাকে মধুর স্রোত বইবে
পুরুষের ভীড় থাকবে ভোগ থাকবে।
শুধু সন্তানটি ম্রিয়মান
হয়ত সেও একদিন মৌচাকের রাণী হয়ে যাবে...

(অর্চনা দে বিশ্বাস একাধারে একজন সফল শিক্ষক, কবি ও সাংস্কৃতিক জগতের বাসিন্দা। মানুষ গড়ার কারিগড় তিনি। শত ব্যস্তার মাঝেও কবিতার জন্য কলম ধরাটা তাঁর স্বপ্নের সিঁড়ি ভাঙ্গার অংশ। তাঁর লেখা শব্দ প্রয়োগ অসাধারণ। মজবুত গাথুনি। মেদহীন শব্দের মিলন মেলায় ভরে ওঠে কবিতার শরীর। সাহিত্যের স্রোতস্বীনিতে ভেসে বেড়ান এপার-ওপার বাংলায়। নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মানুষিক তৃপ্তি পান।  চলতি পথে খুঁজে পাওয়া নিত্যনতুন উপাদান সযতেœ তুলে নেন লেখার উপাদান  হিসেবে। তাঁর চলনে বলনে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ছাপ স্পষ্ট। সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করাটাই তাঁর ভাবনার একটি অংশ।)

অনগ্রসর মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান ঝর্ণা
                                  

ঋদ্ধিমান চৌধুরী 

 

মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজের প্রতি তার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। নিজের অর্থ-সম্পদ সমাজের লোকদের জন্য অকাতরে খরচ করেন এমন সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, দানশীল ব্যক্তির সংখ্যা কিন্তু কম নয়। অর্থ-সামর্থ্য না থাকলেও মানুষকে উপদেশ বিলিয়ে থাকেন এমন মহৎ ব্যক্তিও আমাদের সমাজে আছেন। নিজের যোগ্যতা, অর্থ-সামর্থ্য ও বিচার-বুদ্ধি দিয়ে আমাদের অন্যের উপকারে এগিয়ে আসতে হবে এটা সামাজি দায়িত্বেরই একটা অংশ। যারা বিভিন্ন সেবামূলক কাজ রয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, এমন এক জীবন সংগ্রামী নারীর নাম ঝর্ণ বাড়ৈ। একাধারে সংগঠক, সমাজসেবী এবং সংস্কৃতি পরিমন্ডলের বাসিন্দা। তিনি জীবনভর কঠোর সংগ্রামী এবং প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেননি। তিনি মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তরুণদের সংগঠিত করে মতবিনিময় করেছেন। সম্পৃক্ত করেছেন মানবসেবায়।


মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ব্যাপারে বাবাই অনুপ্রেরণা। জানালেন, সকালে বাজারের ব্যাগ বাসা ঘর ছেড়ে ফিরেছেন বেলা করে। মাঝের কয়েক ঘণ্টা সময় এলাকার মানুষের নানা সমস্যা সমাধানে ব্যয় করেছেন। এদিকে মা উনুন ধরিয়ে বসে আছেন। আজ বাবা-মা দুজনই স্বর্গীয়। এসময় গলা ধরে আসে ঝর্ণার। বললেন, জানেন দাদা, মানব জীবনের সংক্ষিপ্ত জমিনে সুফল চাষ করে যেতে চাই। এতেই আমার পরম সার্থকতা। তাছাড়া শ্বশুড় বাড়ির পুরো সহযোগিতা না পেলেও কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।


মানব দরদি এই নারী পথশিশু এবং অনাথ শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন পরম মমতায়। বয়স্ক নিবাসের বাসিন্দাদের পাশে গিয়ে যখন দাড়ান, তখন মনে হয় তিনি মায়ের ভূমিকায়। তাদের কল্যাণে নিবেদীত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নানা পার্বনে ভাল মন্দ খাবারের ব্যবস্থা করেন। শিশুদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে নিয়ে যান। শুক্র বুধবার পাড়ার একটি ক্লাবে তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি গান ও কবিতা শোনান এবং শেখান। ঝর্ণা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে গিয়ে স্কুলে পড়ানোর চাকরিটাও ছেড়ে দিয়েছেন! এ যেন এক মহান দৃষ্টান্ত। তার মানবিকগুণের আবেদনটিকে মানবসেবার মাধ্যমে নিবেদিত করেছেন সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর কল্যাণে। কাজ করেন নিভৃতে। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তার জন্যই মানায়। এ কারণেই আজকের একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে শুধু আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তাই তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী। তিনি সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন পশ্চাৎপদ অনগ্রসর মানুষকে যে-কোন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে। ঝর্ণা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান একজন জনদরদী হিসেবে। সমাজের অনগ্রসর ও দুঃস্থ মানুষের সেবা করাটাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেঁেচ নিয়েছেন। দুঃখী, অস্বচ্ছল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প মহিয়ষী করেছে জীবন সংগ্রামে জয়ী এই বাচিক শিল্পীকে। তার এই মানবিক গুণের কারণেই তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষের মনমন্দিরে স্থায়ী আসন পেতে চান। তিনি মনে করেন, সেবাই হচ্ছে ধর্ম ব্রত পালনের মত একটি পবিত্র দায়িত্ব। তাই তার মনে সব সময়ই উদীত হয় ‘মানব সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন। এই দায়িত্ববোধ সমাজের সাম্য, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। তাই একজন দুঃস্থের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে যদি তার জীবনের অবলম্বন তৈরি করে দেয়া যায়-তা হলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় মহৎ কর্তব্য পালন। এই কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের মহত্ব প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে। এই মহত্ব অর্জনের মধ্য দিয়েই সমাজের মলিনতা দূর হয়।


ঝর্ণা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন, সেবা ধর্মে নারীরাই যোগ্য ভূমিকা পালন করেন। সংসারে সন্তানের লালন-পালন-যতœ করে তারাই বড় করে তোলেন। এটা সংসারের জন্য নারীর সেরা সেবা। এ কারণেই নারী সর্বদা মমতাময়ী। তার সেবা ব্রতের মহতী আদর্শ হলেন মাদার তেরেসা। মহিয়ষী মাদার তেরেসার আদর্শকে ধারণ করেই তিনি জীবনের সার্থকতাকে খুঁজে পেতে চান বেহালার প্রতিষ্ঠিত বাচিক শিল্পী ঝর্ণা বাড়ৈ। বলেন, মাদার তেরেসার মমতাময়ী স্পর্শে অনেক অবহেলিত নারী-শিশু সমাজে আলোকিত হয়েছে। দুঃস্থজনের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনিই সেবার ক্ষেত্রে সেরা আদর্শ। তাই মাদার তেরেসা মাতৃজাতির উজ্জ্বল অহংকার। মাদার তেরেসার সেবার আদর্শকে আমৃত্যু অনুসরণ করতে চান ঝর্ণা।


ঝর্ণা মনে করেন, সমাজে নারী শক্তিকে এখনো শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়েছে। নারীরা নানাভাবে কুসংস্কারেরর শিকার। কিছু ধর্মীয় গোড়ামীর কারণেই সমাজ উন্নয়নের নারীরা পুরুষের সমান অবদান রাখতে পারছেন না। সুতরাং নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র শ্লোগানবন্দী হয়ে আছে। ঝর্ণা তার সীমিত সামর্থের মধ্যেই সেবাব্রত’র মন্ত্রে দু’বাহু বাড়িয়ে দিয়েছেন-এটাই তার জীবনের লক্ষ্য। তার দুয়ার সকাল-সন্ধ্যা-রাত অষ্টপ্রহরব্যাপী সমাজের দুঃস্থ ও অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য খোলা। তিনি তাদের জীবনের দ্বীপ জ্বালাতে চান।

পোড়া বৈশাখ
                                  

বকসী বিট---
টেরি বাজারের অলিগলি
হাজারি লেন আর সিনেমা প্যালেসের রাস্তায়----

কে সি দে রোড ধরে ---
ঐতিহ্যের বাহক ঐতিহাসিক
বলীখেলায়----
আগুনের দাগ,
চৈত্র সংক্রান্তির সাজসজ্জায়----

আগুনের দাগ বনানী,চুড়িহাট্টা,
নিমতলি-র পাতায়
মহাকালের নিঃশ্বাসে পোড়খাওয়া বিবেকের তাড়নায়।
প্রিয়জন হারানোর আরো একটি বছর ------
আজ খরচের খাতায়

সংক্রান্তির সংকট কাটেনি আজো----
মাওলানা অধ্যক্ষের লালসার শিকার---
আমার কন্যা মৃত্যুপথযাত্রী
কিশোরী নুসরাত---

মগজটা আজ গনগনে উনুন
পোড়াবো সমাজ, পোড়াবো সভ্যতা -----
ছারখার করতে চাই--
উন্মত্ত আগ্রাসী সন্ত্রাসী যৌনতা---

অঙ্গার আজ---- নবপঞ্জিকা,হালখাতা,জলকেলি উৎসব----
আগুন ঠিকরানো রক্তলাল দ্রোহ,
বিবেকের চাষাবাদ-----

প্রেম পুড়ছে, ভালবাসা পুড়ছে।
পোড়া আত্মারামের দল আজো হিংস্রতার আয়ত্তে----
রাতভর উন্মত্ততার নগ্ন বেসাতি, আত্মশুদ্ধির বুলি ----
গন্তব্য চৌর্যবৃত্তি, অবৈধ মুনাফার মোহ -----

সব কান্না চাপা পড়বে
ইলিশের গুদামজাত রমরমা বাণিজ্যের পসরায়-----
সমাজপতির চাতুর্যের ইশারা,
মুখ মুখোশের ভিড়ে মাঙ্গলিক শোভাযাত্রা----
সার্কাস জোকারের ভূমিকায়।

নির্লজ্জ নির্মমতার উৎকট সুরে
নিরন্তর বয়ানে,
হে বর্বর অসভ্য হিংস্র কুলাঙ্গার
ঘৃণ্য জঘন্য প্রত্যঙ্গের
উন্মাদনায় ----

আর কতকাল গাইবে
ফরমালিন, কার্বাইড মোড়ানো
মিথ্যা অঙ্গীকার পোড়া
শ্লীলতাবিধ্বংসী পীড়ণ সংগীত!!

(ইন্দু বিভা-একাধারে  তিনি একজন শিক্ষক, সমাজসেবক এবং সংগঠক। বহুমাত্রিকতার মাঝেই তার বসবাস। সামাজিক অবক্ষয়ের তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতিতে তাঁর সরল মন হয়ে ওঠে ক্ষুব্ধ। কিন্তু তার প্রতিবাদ ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয় সমাজ দর্পনে। কবিতার সাজানো পংক্তিমালার এক একটি  লাইন যেন এক একটি ‘চাবুকে’র ঘা। সমাজদেহকে বিষমুক্ত করার ফর্মুলা তৈরিতে নির্ঘুম রাত কাঁটে তাঁর।  তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী)

কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
                                  

তাঁর চোখ বাঁধা হলো।
বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ।
থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো,
জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝওে পড়লো কংক্রিটে।
মাৃমাগোৃচেঁচিয়ে উঠলো সে।
পাঁচশো পঞ্চান্নো মার্কা আধ খাওয়া একটা সিগারেট
প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।
পোড়া মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে।
জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ
আমারা কথা বলবো।
লাঠিচার্জ আমাদের ফেরাতে পারেনি
কাঁদানে গ্যাস আমাদের ফেরাতে পারেনি
রাইফেল আমাদের ফেরাতে পারেনি
মেশিন গান আমাদের ফেরাতে পারেনি
আমারা এসেছি,
আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো।
কৃষক তোমাদের পক্ষে যাবে না
শ্রমিক তোমাদের পক্ষে যাবে না
ছাত্র তোমাদের পক্ষে যাবে না
সুন্দর তোমাদের পক্ষে যাবে না
স্বপ্ন তোমাদের পক্ষে যাবে না
তারা সকলেই কষ্টে আছে
তারা সকলেই অনটনে আছে
তারা সকলেই বিক্ষোভের হাত তুলেছে।
তোমাদের পক্ষে যাবে কুকুর
তোমাদের পক্ষে যাবে সুবিধাভোগী
তোমাদের পক্ষে যাবে বিত্তবান নেকড়েরা।
বৃক্ষ তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
শস্য তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
রক্ত তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত শিশুরা।
লক্ষ মৃত্যু আমাদের ফেরাতে পারেনি
আমারা এসেছি।
আমারা আমাদের শিক্ষাহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের চিকিৎসাহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের বস্ত্রহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কথা বলবো।
আমরা তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা থেকে এসেছি
আমরা সিপাহী আন্দোলনের দুর্গ থেকে এসেছি
আমরা তেভাগার কৃষক, নাচোলের যোদ্ধা
আমরা চটকলের শ্রমিক, আমরা সূর্যসেনের ভাই
আমরা একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে এসেছি
কাঁধে স্টেন, কোমরে কার্তুজ, হাতে উন্মত্ত গ্রেনেড
আমরা এসেছি।

পাকিজা মল্লিক
                                  

একদিন যখন জীবনানন্দ বুঝতাম না বা বুঝে উঠার মতো বয়স হয়নি,
ঠিক তখন তাকে উপহার পেয়েছিলাম।

তখন আমার  দীঘল কালো লম্বা চুল, হয়ত বনলতার চেয়েও বেশী নয়তো কম।

আমার সেই প্রথম পাওয়া মেধার স্বীকৃতিকে যার হাতে তুলে দিয়েছিলাম তিনি আমার পরম পাত্র ছিলেন।

জ্ঞানে-গুনে অতুলনীয়

 



তিনি আমায় একটিও কবিতা পড়ে শোনান নি
তাতে অবশ্য আমার কোন আক্ষেপ নেই

তবে আফসোস আছে বৈকি।

সেদিন আমি বনলতা ছিলেম কিনা জানিনা তবে তিনি জীবনানন্দ হয়ে ওঠেননি

কিন্তু আজ আমি বনলতা,
চুলগুলো যার পড়ে গেছে
জীবনানন্দকে যে বুঝতে শিখেছে
নাটোরেই যে শিকড় গেড়েছে

তবে আজো কেউ জীবনানন্দ হয়ে ওঠেনি।

মরুপ্লাবন
                                  

কস্তুরী সাহা

বৃষ্টিভেজা জানালার কাঁচটা বন্ধ
বৃষ্টি আর ভেজায়না আমায়।
বাইরে বৃষ্টি আর বজ্রের কোলাহল
তারায়না আর আমায়।

চারদিক বন্ধ করে বাইরের বৃষ্টি থেকে
নিজেকে বাচিয়ে রেখেছি।
ঘরের ভেতরে যে বৃষ্টি ঝরে
তার বারিধারায় সিক্ত আমি
নিঃস্ব সর্বাহারা রিক্ত আমি
একফোটা বৃষ্টির আশায়।

মরুভূমির ধূলিঝড় থেমে গেছে,
নেমেছে ঘনঘোর শ্রাবণ।
ভেসেছে বালুরাশি, মরুদ্যান
শুষ্কতার বুকে প্লাবন।

ছোট্ট নৌকাটা ডুবে গেছে
মরুসাগরের ঢেউ এ
আমি আজ স্রোতের বিরুদ্ধে
কাটছি প্রাণপন সাঁতার।


(কন্তুরী সাহা একাধারে একজন শিক্ষক, লেখক, সংগঠক, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী)

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিলেন ৪ লেখক
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯’ নিলেন চার লেখক। শুক্রবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবিতায় কাজী রোজি, কথাসাহিত্যে মোহিত কামাল, প্রবন্ধকার ও গবেষণায় সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় আফসান চৌধুরী এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের দুই লাখ টাকার চেক, একটি করে সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিকে অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলার অনুষ্ঠানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাসব্যাপী এ মেলা উদ্বোধন করবেন তিনি। শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তিনি। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর তিনি মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখবেন এবং তার প্রিয় কিছু বই কিনবেন।

বইমেলা কমিটি সূত্র জানায়, প্রতি শুক্র ও শনিবার বইমেলায় শিশু প্রহর থাকবে। এ দুদিন মেলার আসর বসবে বেলা ১১টায়। শিশু প্রহর চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এরপর বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে মেলার দ্বিতীয় পর্ব।

তবে শুক্র ও শনিবার বাদে অন্যান্য দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টা থেকে। উন্মুক্ত থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত।


   Page 1 of 7
     সাহিত্য
পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
.............................................................................................
পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
.............................................................................................
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
.............................................................................................
সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
.............................................................................................
""ব্যবধান""
.............................................................................................
কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
.............................................................................................
রক্ষা করা যাচ্ছেনা জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ
.............................................................................................
কবিতা
.............................................................................................
মৌচাক
.............................................................................................
অনগ্রসর মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান ঝর্ণা
.............................................................................................
পোড়া বৈশাখ
.............................................................................................
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
.............................................................................................
পাকিজা মল্লিক
.............................................................................................
মরুপ্লাবন
.............................................................................................
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিলেন ৪ লেখক
.............................................................................................
শাশুড়ির মন জয় করার ৭ উপায়
.............................................................................................
কেন কেটে নেওয়া হয়েছিল খনার জিব
.............................................................................................
জাতি হিসেবে একাত্তরের বিজয় আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন: ড. আতিউর
.............................................................................................
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ কবি ভাগ্যধন বড়ুয়ার জন্মদিন
.............................................................................................
অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আকিমুন রহমান
.............................................................................................
কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন নির্মলেন্দু গুণ
.............................................................................................
আজ মোহিত কামালের ৬০তম জন্মদিন
.............................................................................................
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ
.............................................................................................
সৈয়দ শামসুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ জাফর ইকবালের জন্মদিন
.............................................................................................
আজ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
বই পড়ে জানা যায় জীবনের বাইরেও অজস্র জীবন আছে: হরিশংকর
.............................................................................................
চারণকবি বিজয় সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি ত্রিদিব দস্তিদারের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
‘দিবানিশি’ প্রতিবাদ, কবিতা আর হাস্যরসের সমাহারে রচিত: সাহিত্য পর্যলোচনায় কবি সামাদ
.............................................................................................
মীর মশাররফ হোসেনের ১৭১-তম জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
বঙ্কিমদৃষ্টিতে তিন চরিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
.............................................................................................
‘নকশিকাঁথা দেশের শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’
.............................................................................................
আজ কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন
.............................................................................................
জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
সাধ
.............................................................................................
পুঁথিসম্রাট আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................
কবি পাবলো নেরুদার প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................
নিসর্গসখা দ্বিজেন শর্মার প্রয়াণবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
পদ্মা নদীর তীরে ধ্বস হুমকিতে গ্রামবাসি
.............................................................................................
পরিবর্তন হোক বাঙ্গালিদের
.............................................................................................
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
ঈদের ছড়া
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত মানিক লাল ঘোষের ৩ ছড়া
.............................................................................................
ব্যাথা সারবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে
.............................................................................................
লেখক হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি