| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > ইবি ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি   > ‘ভোটে বিচ্যুতি হলে সরকার হটানোর আন্দোলন’   > পর্দা নয় এবার বাস্তবে বাংলাদেশি ‘ভাইজান’কে দেখল ভারতবাসী!   > সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে : প্রধানমন্ত্রী   > মেডিকেল শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের কাছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   > হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে পদ্মা সেতুর ছবি   > পাকিস্তানের জয়ের পর শোয়েব মালিকের টুইটবার্তা   > সীমান্ত হত্যা: বিএসএফের `গরু পাচার` যুক্তি মানছে না বিজিবি   > ১৩ অভিজাত ক্লাবে জুয়ার বিষয়ে রায় আগামী ২৮ জানুয়ারি   > মুজিববর্ষে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসা  

   লাইফস্টাইল -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
৯১ বছর বয়সে এসে যাজক বললেন তিনি আসলে সমকামী

ডেস্ক রিপোর্ট :"আমি সমকামী হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলাম। এটি আমি নিজে পছন্দ করে নেইনি।

জীবনের বেশির ভাগ সময়ই এটি আশা করেছি যে আমি যদি বাকী সবার হতো হতাম (বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ),

বলছিলেন রিভারেন্ড স্ট্যানলি আন্ডারহিল।

অনেক অল্প বয়সেই তিনি অনুধাবন করেন যে তিনি ঠিক তার বয়সী অন্যদের মতো না।

"আমি আমার ভাইকেও ২০১৮ সালে বই লেখার আগ পর্যন্ত বলিনি যে আমি সমকামী," তিনি বিবিসিকে বলেন।

এই সময় তার বয়স ছিলো ৯১ এবং তার ভাই তার চেয়ে দু বছরের ছোটো।

"এবং সে খুব একটা উদ্বিগ্ন হয়নি। আমি যদি তাকে ও আমার পরিবারকে আগেই বলতে পারতাম।

অবশ্য আমি জানিনা তারা বিষয়টা তখন কিভাবে নিতো"।

নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন যে তিনি বড় হয়েছেন একটি সমস্যাসঙ্কুল ও

অসহিষ্ণু পরিবেশে যেখানে দারিদ্রতা, শ্রেণী বৈষম্য আর মতামত চাপিয়ে দেয়াটাই ছিলো স্বাভাবিক চিত্র।

এসব কারণে তিনি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হন তখন নিজেকে অন্যদের মতো

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন একজন হিসেবেই উপস্থাপন করেন।তার জন্মের মাত্র নয় বছর আগে ১৯১৮ সালে ইংল্যান্ডে ভোটাধিকার পায় নারীরা।

তবে সমকামী হওয়াটা ছিল বেআইনি ও এটিকে `ঈশ্বরকে অসম্মানে`র সাথে তুলনা করা হতো।

ফলশ্রুতিতে অন্য অনেকের মতো আন্ডারহিলও তার সেস্কুয়ালিটি বা যৌন বৈশিষ্ট্য গোপন করেন।

"আমি সচেতনভাবেই নিজের সত্ত্বাকে দমন করি - নিজের ও ঈশ্বরসহ সবার কাছে"।

নিজের সাথে সংগ্রাম

শৈশবে আন্ডারহিল খুবই নার্ভাস ধরনের ব্যক্তি ছিলেন এবং তার অভিভাবক ছিলেন অনেক রক্ষণশীল।

সেখানে নিজের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না বললেই চলে।

"আমি জানতাম না আমি কে। কিন্তু তাদের বলতে পারতামনা ।

আপনি জানেন যে হোমোসেক্সুয়াল শব্দটাই ডিকশনারিতে ছিল না"।

তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করতেন যেখানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করা হতো কিন্তু তার বেতন ছিল খুব কম।

বাবার সাথে তার সম্পর্ক ছিল অনেকটা নির্দেশনা বা আদেশ নিষেধ শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

"আমার ধারণা তিনি আমাদের পছন্দ করতেন না। অবশ্য তিনি বলেননি তিনি কেন এমন ছিলেন"।

মায়ের সাথেও তার ঠিক স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না

আরও ভয়াবহ হলো স্কুলে প্রায়শই তাকে টিটকারি বা হয়রানির শিকার হতে হতো।

আন্ডারহিলকে ডাকা হয় তার চিকিৎসার জন্য কিন্তু তিনি সেখানে অনেক রক্ত দেখে অজ্ঞান হয়ে যান।

পরে অ্যালেক্স নামক একজনকে ডাকা হয় তার শুশ্রূষার জন্য।

প্রেমে পড়া

"চোখে খুলেই দেখলাম অ্যালেক্স আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু একটা বলছিলেন তিনি। আমি শুনিনি কি বলেছেন। কিন্তু আমি তার প্রেমে পড়লাম"।

১৯৪৮ সালে নেভিতে তার চাকরী শেষে তিনি অ্যালেক্সের বাবার কাছ থেকে বেতনহীন হিসাব রক্ষকের ক্লার্ক হিসেবে কাজের অফার পেলাম।

"অ্যালেক্সের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল চমৎকার। মনে হয়নি যে আইন ভঙ্গ করেছি বা এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয়"।

কিন্তু আন্ডারহিল যখন অ্যালেক্সের সাথে এক সাথেই থাকতে চাইলে তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে এটি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অ্যালেক্সের বাবা তাকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নিজের পথ দেখতে বললেন।

আবার অ্যালেক্সের মধ্যেও পরিবর্তন দেখা গেলো। "সেই প্রথম উপসংহারে আসে যে আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল একটা পাপ"।

আন্ডারহিলের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই এক নারীর সাথে প্রেম শুরু করে অ্যালেক্স।

শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালে সে তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে।

বিষণ্ণতা

"এটা ছিলো খুবই কষ্টের। এটা প্রত্যাখ্যানের চেয়ে বড় কিছু ছিল। আমাকে নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছিল"।

অ্যালেক্স এরপর গে কনভারসেশন থেরাপির পরামর্শ দেয়।

এক সকালে সে একদল বন্ধুকে ডাকে এবং তার হাতের ওপর হাত রেখে প্রার্থনা করতে বলে।

"সে ঈশ্বরকে বলছিল আমার ভেতরে থাকা দৈত্যকে বের করে নিতে এবং সমকামী অনুভব থেকে আমাকে মুক্তি দিতে"।

কিন্তু এর ফল ছিল একটা বিপর্যয়। "আমার খুবই খারাপ অনুভূতি হতে লাগলো যা আগে কোনদিন হয়নি।

১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সমকামিতাকে অপরাধের সংজ্ঞার বাইরে আনা হয়।

এমনকি এখনও ৬৮টি দেশে সমকামিতাকে কিছু মাত্রায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর অর্ধেকই একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশের মধ্যে ছিলো।

আন্ডারহিলকে টেস্টসটেরন হরমোনাল ইনজেকশনও নিতে হয়। কিন্তু এটি তার যৌন বিষণ্ণতাই বাড়িয়ে দিয়েছিলো কেবল।

পরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে তিনি বহু সমকামী ব্যক্তিকে খুঁজে পান এবং আন্ডারহিল তাদের সাথে একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করতে কঠিন পরিশ্রম করেন।

"আমি ভালোবাসা পেয়েছি এবং কিছু পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো কিন্তু এগুলো বিকশিত হতে পারেনি প্রতিকূল পরিবেশের জন্য"।

পরে তিনি একটি অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম এর অংশীদার হন এবং সেখানেও তার সেক্সুয়ালিটি একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।

"তারা প্রতি পদক্ষেপে আমাকে নিয়ে উপহাস করতো কারণ আমি একজন সমকামী।

সে কারণে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং ধর্মযাজক হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের দিকে মনোযোগী হই"।

আন্ডারহিল ভুল ব্যাখ্যাকেই সব সমস্যার মূল বলে মনে করেন। তিনি সানডে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই যিশুকে রোল মডেল মনে করেন।

রেডিওতে যিশুর জীবন ভিত্তিক নাটক তাকে বেশ প্রভাবিত করেছিলো। "আমি তাকেই জীবনের গাইড হওয়ার জন্য চেয়েছিলাম"।

যখন তার বয়স ৫০, তার এই গাইডের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার এবং তিনি যোগ দেন সোসাইটি অফ সেইন্ট ফ্রান্সিস-এ।

চার্চের হিপোক্রেসি

তিনি কেন্টারবুড়ি স্কুল অফ মিনিস্ট্রিতে তিন বছর পড়াশোনা করেন যাজক হওয়ার আশায়।

এমনকি কয়েকটি জায়গায় কাজ করেন নিজের সমকামী পরিচয়কে গোপন রেখেই।

তিনি বইয়ে লিখেছেন চার্চ কর্তৃপক্ষের হিপোক্রেসির জন্য তিনি সেটি বলতে পারেননি।

মুক্তি

তিনি লিখেছেন সমকামীদের প্রতি যিশুর মতো সহনশীলতা দেখানোর সুযোগ চার্চ হাতছাড়া করেছে।

এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন লন্ডনে এবং সমকামীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোয় দারুণ খুশী তিনি।

"অবশেষে এটাই মুক্তি," বলছেন তিনি তিনি।

"আমি দুখ পাই এ কারণে যে আমি আমার স্বাভাবিক যৌন জীবন থেকে বঞ্চিত যা আমার জন্য চরম হতাশার কারণ হয়েছিল"।

আমি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বললাম এ বিশ্বের জন্য আমি ভালো নই"।

এরপর তিনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন ও তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

৯১ বছর বয়সে এসে যাজক বললেন তিনি আসলে সমকামী
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :"আমি সমকামী হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলাম। এটি আমি নিজে পছন্দ করে নেইনি।

জীবনের বেশির ভাগ সময়ই এটি আশা করেছি যে আমি যদি বাকী সবার হতো হতাম (বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ),

বলছিলেন রিভারেন্ড স্ট্যানলি আন্ডারহিল।

অনেক অল্প বয়সেই তিনি অনুধাবন করেন যে তিনি ঠিক তার বয়সী অন্যদের মতো না।

"আমি আমার ভাইকেও ২০১৮ সালে বই লেখার আগ পর্যন্ত বলিনি যে আমি সমকামী," তিনি বিবিসিকে বলেন।

এই সময় তার বয়স ছিলো ৯১ এবং তার ভাই তার চেয়ে দু বছরের ছোটো।

"এবং সে খুব একটা উদ্বিগ্ন হয়নি। আমি যদি তাকে ও আমার পরিবারকে আগেই বলতে পারতাম।

অবশ্য আমি জানিনা তারা বিষয়টা তখন কিভাবে নিতো"।

নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন যে তিনি বড় হয়েছেন একটি সমস্যাসঙ্কুল ও

অসহিষ্ণু পরিবেশে যেখানে দারিদ্রতা, শ্রেণী বৈষম্য আর মতামত চাপিয়ে দেয়াটাই ছিলো স্বাভাবিক চিত্র।

এসব কারণে তিনি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হন তখন নিজেকে অন্যদের মতো

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন একজন হিসেবেই উপস্থাপন করেন।তার জন্মের মাত্র নয় বছর আগে ১৯১৮ সালে ইংল্যান্ডে ভোটাধিকার পায় নারীরা।

তবে সমকামী হওয়াটা ছিল বেআইনি ও এটিকে `ঈশ্বরকে অসম্মানে`র সাথে তুলনা করা হতো।

ফলশ্রুতিতে অন্য অনেকের মতো আন্ডারহিলও তার সেস্কুয়ালিটি বা যৌন বৈশিষ্ট্য গোপন করেন।

"আমি সচেতনভাবেই নিজের সত্ত্বাকে দমন করি - নিজের ও ঈশ্বরসহ সবার কাছে"।

নিজের সাথে সংগ্রাম

শৈশবে আন্ডারহিল খুবই নার্ভাস ধরনের ব্যক্তি ছিলেন এবং তার অভিভাবক ছিলেন অনেক রক্ষণশীল।

সেখানে নিজের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না বললেই চলে।

"আমি জানতাম না আমি কে। কিন্তু তাদের বলতে পারতামনা ।

আপনি জানেন যে হোমোসেক্সুয়াল শব্দটাই ডিকশনারিতে ছিল না"।

তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করতেন যেখানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করা হতো কিন্তু তার বেতন ছিল খুব কম।

বাবার সাথে তার সম্পর্ক ছিল অনেকটা নির্দেশনা বা আদেশ নিষেধ শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

"আমার ধারণা তিনি আমাদের পছন্দ করতেন না। অবশ্য তিনি বলেননি তিনি কেন এমন ছিলেন"।

মায়ের সাথেও তার ঠিক স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না

আরও ভয়াবহ হলো স্কুলে প্রায়শই তাকে টিটকারি বা হয়রানির শিকার হতে হতো।

আন্ডারহিলকে ডাকা হয় তার চিকিৎসার জন্য কিন্তু তিনি সেখানে অনেক রক্ত দেখে অজ্ঞান হয়ে যান।

পরে অ্যালেক্স নামক একজনকে ডাকা হয় তার শুশ্রূষার জন্য।

প্রেমে পড়া

"চোখে খুলেই দেখলাম অ্যালেক্স আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু একটা বলছিলেন তিনি। আমি শুনিনি কি বলেছেন। কিন্তু আমি তার প্রেমে পড়লাম"।

১৯৪৮ সালে নেভিতে তার চাকরী শেষে তিনি অ্যালেক্সের বাবার কাছ থেকে বেতনহীন হিসাব রক্ষকের ক্লার্ক হিসেবে কাজের অফার পেলাম।

"অ্যালেক্সের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল চমৎকার। মনে হয়নি যে আইন ভঙ্গ করেছি বা এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয়"।

কিন্তু আন্ডারহিল যখন অ্যালেক্সের সাথে এক সাথেই থাকতে চাইলে তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে এটি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অ্যালেক্সের বাবা তাকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নিজের পথ দেখতে বললেন।

আবার অ্যালেক্সের মধ্যেও পরিবর্তন দেখা গেলো। "সেই প্রথম উপসংহারে আসে যে আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল একটা পাপ"।

আন্ডারহিলের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই এক নারীর সাথে প্রেম শুরু করে অ্যালেক্স।

শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালে সে তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে।

বিষণ্ণতা

"এটা ছিলো খুবই কষ্টের। এটা প্রত্যাখ্যানের চেয়ে বড় কিছু ছিল। আমাকে নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছিল"।

অ্যালেক্স এরপর গে কনভারসেশন থেরাপির পরামর্শ দেয়।

এক সকালে সে একদল বন্ধুকে ডাকে এবং তার হাতের ওপর হাত রেখে প্রার্থনা করতে বলে।

"সে ঈশ্বরকে বলছিল আমার ভেতরে থাকা দৈত্যকে বের করে নিতে এবং সমকামী অনুভব থেকে আমাকে মুক্তি দিতে"।

কিন্তু এর ফল ছিল একটা বিপর্যয়। "আমার খুবই খারাপ অনুভূতি হতে লাগলো যা আগে কোনদিন হয়নি।

১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সমকামিতাকে অপরাধের সংজ্ঞার বাইরে আনা হয়।

এমনকি এখনও ৬৮টি দেশে সমকামিতাকে কিছু মাত্রায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর অর্ধেকই একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশের মধ্যে ছিলো।

আন্ডারহিলকে টেস্টসটেরন হরমোনাল ইনজেকশনও নিতে হয়। কিন্তু এটি তার যৌন বিষণ্ণতাই বাড়িয়ে দিয়েছিলো কেবল।

পরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে তিনি বহু সমকামী ব্যক্তিকে খুঁজে পান এবং আন্ডারহিল তাদের সাথে একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করতে কঠিন পরিশ্রম করেন।

"আমি ভালোবাসা পেয়েছি এবং কিছু পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো কিন্তু এগুলো বিকশিত হতে পারেনি প্রতিকূল পরিবেশের জন্য"।

পরে তিনি একটি অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম এর অংশীদার হন এবং সেখানেও তার সেক্সুয়ালিটি একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।

"তারা প্রতি পদক্ষেপে আমাকে নিয়ে উপহাস করতো কারণ আমি একজন সমকামী।

সে কারণে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং ধর্মযাজক হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের দিকে মনোযোগী হই"।

আন্ডারহিল ভুল ব্যাখ্যাকেই সব সমস্যার মূল বলে মনে করেন। তিনি সানডে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই যিশুকে রোল মডেল মনে করেন।

রেডিওতে যিশুর জীবন ভিত্তিক নাটক তাকে বেশ প্রভাবিত করেছিলো। "আমি তাকেই জীবনের গাইড হওয়ার জন্য চেয়েছিলাম"।

যখন তার বয়স ৫০, তার এই গাইডের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার এবং তিনি যোগ দেন সোসাইটি অফ সেইন্ট ফ্রান্সিস-এ।

চার্চের হিপোক্রেসি

তিনি কেন্টারবুড়ি স্কুল অফ মিনিস্ট্রিতে তিন বছর পড়াশোনা করেন যাজক হওয়ার আশায়।

এমনকি কয়েকটি জায়গায় কাজ করেন নিজের সমকামী পরিচয়কে গোপন রেখেই।

তিনি বইয়ে লিখেছেন চার্চ কর্তৃপক্ষের হিপোক্রেসির জন্য তিনি সেটি বলতে পারেননি।

মুক্তি

তিনি লিখেছেন সমকামীদের প্রতি যিশুর মতো সহনশীলতা দেখানোর সুযোগ চার্চ হাতছাড়া করেছে।

এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন লন্ডনে এবং সমকামীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোয় দারুণ খুশী তিনি।

"অবশেষে এটাই মুক্তি," বলছেন তিনি তিনি।

"আমি দুখ পাই এ কারণে যে আমি আমার স্বাভাবিক যৌন জীবন থেকে বঞ্চিত যা আমার জন্য চরম হতাশার কারণ হয়েছিল"।

আমি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বললাম এ বিশ্বের জন্য আমি ভালো নই"।

এরপর তিনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন ও তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

নাসাার্রিগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস
                                  

শুভ কুমার ঘোষ, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের নাসাার্রিগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউক্যালিপটাস গাছ।

ফলে পরিবেশবান্ধব-ফলদ ও ঔষধি গাছ হুমকীর মুখে পড়ছে।

অকৃত্রিম বন্ধু গাছ মানবজাতির জীবনরক্ষা থেকে শুর“ করে বিভিন্ন উপকারে আসে এটাই সবারই জানা।

মানুষের পরম বন্ধু গাছ নীরব ভাষায় আমাদের সার্থকতার গান শোনায়।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং সাজাতে বৃক্ষের তুলনা নেই।

কিন্তু এমনও কিছু প্রজাতির গাছ আছে যা মানুষ এবং পরিবেশের জন্য হুমকী স্বরূপ।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ধরা পড়া এমন একটি গাছ হচ্ছে ইউক্যালিপটাস।

বিদেশি এই গাছ এখন এদেশের মানুষের সামান্য কিছু লাভের কারণ হলেও এর ক্ষতির দিকটিই সবচেয়ে বেশি। 

ইতিপূবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এই গাছ রোপন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে।

সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে মানুষ ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে

ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদন ও বিপনণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

কিন্তু সেই নিষেধের তোয়াক্কা না করেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার সর্বত্রই এই গাছের উৎপাদন ও বিক্রয় চলছে মহাসমারোহে।

এতে করে ফলদ বৃক্ষের চারা সংকট, আশেপাশের আবাদি জমির ফলন বিপর্যয়সহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

এক শ্রেণির নার্সারির মালিকেরা তাদের নার্সারিতে এই গাছের চারা উৎপাদন করে চলেছে।

অনেকে আবাদি জমি লিজ নিয়ে অন্যান্য ফসলের মতো এই গাছের বীজ বপন করে।

তারপর একটু বড় হলে সেখান থেকেই পাইকারি বিক্রি করে দেয়। অনেকে পুরনো পেশা ছেড়ে এই গাছের চারা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

রিক্সা-ভ্যান যোগে এই গাছের চারা উপজেলার বিভিন্ন হাটে ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছেন। 

দ্র“ত বর্ধনশীল, শক্ত কাঠ ও অল্প স্থানে অল্প খরচে অধিক চারা উৎপাদন করা যায় বলে

নার্সারি মালিকেরা এখন প্রায় সারা বছরই এই গাছের চারা উৎপাদন করছে। 

আর সাধারন মানুষ এই গাছের চারা আগে বসতবাড়ি, ভিটে ও পতিত জমিতে লাগালেও এখন আবাদি জমির আইলে সারি করে এসব গাছ লাগাচ্ছে।

অনেকে জমি বন্ধক নিয়ে সেখানে এই গাছের বাগান গড়ে তুলছে।

সদর উপজেলার শিয়ালকোল বড় হামকুড়িয়া, ছোট হামকুড়িয়া, সার“টিয়া, শিবনাথপুর, শিলন্দা,

কয়েলগাতিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইউক্যালিপটাস গাছের শত শত বিঘা জমিতে বাগান গড়ে উঠেছে।

বড় হামকুড়িয়া গ্রামের চাষী আবু সাঈদ জানান, গত কয়েক বছর যাবৎ এই গাছের বাগান করে লাভবান হচ্ছে।

উৎপাদিত জমিতে ফসলের আবাদ করে যে পরিমান লাভ পাওয়া যায় তারচেয়ে ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান করে দ্বিগুন লাভবান হচ্ছে।

তিনি আরো জানান এই গাছের ক্ষতিকর বিষয়টা জানেন। কিন্তু পেটের তাগিদে বুঝেশুনেই তা করতে হয়েছে।

বর্তমানে অনেক চাষী ক্ষতিকর বিষয়টা জানায় ভবিষ্যতে আর ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান করবেন না বলে জানান।

এদিকে বিস্তীর্ন চরাঞ্চলে শতাধিক নার্সারিসহ কাজিপুর উপজেলার আলমপুর, রৌহাবাড়ি, সোনামুখি, ছালাভরা,স্থলবাড়ি, পার“লকান্দি,

হরিনাথপুর, ঢেকুরিয়া, কুনকুনিয়া, চরকাদহ, পাঁচগাছি, কবিহার, উদগাড়ি, সীমান্তবাজারসহ বহুস্থানে গড়ে উঠেছে এই গাছের নার্সারি।

বিশেষ করে চরাঞ্চলে এই প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে করে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।

অন্যান্য ফসলের ফলন কমে  গেছে। এই গাছের নিকটবর্তি ফলদ বৃক্ষ আগের মতো আর ফল দিচ্ছে না।

কিন্তু উপজেলার নার্সারি মালিকদের এই গাছের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানা নেই।

কাজিপুর উপজেলার স্থলবাড়ি গ্রামের ভাই ভাই নার্সারির মালিক রফিকুল ইসলাম জানান,

এই গাছ বিক্রি হয় বেশি, উৎপাদনও সহজ, তাই চাষ করছি। কিন্তু কি ক্ষতি হয় তা জানি না।

একই কথা জানান, ঢেকুরিয়া হাটে এই গাছ কিনতে আসা এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, নদী শিকস্তি এবং ভাঙন এলাকা হওয়ায় এই গাছ লাগাই, কারণ তাড়াতাড়ি বাড়ে। ক্ষতির কিছু জানিনা।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সন্তোষ চন্দ্র জানান, প্রতিদিন একটি ইউক্যালিপটাস গাছ গড়ে ৩৭ থেকে ৪০ লিটার পানি শোষণ করে নেয়।

মাটির নিচের ৩০ ফুট মতো জায়গা নিয়ে এই গাছ পানি শোষণ করে থাকে। ফলে আশপাশের অন্যান্য গাছের খাবার সংগ্রহে অসুবিধা হয়।

এতে করে আগের মতো ফল দিতে পারে না। তিনি আরো জানান, এই গাছের ফুল ও ফল মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এমনকি কোন পাখি পর্যন্ত এই গাছের ডালে বাসা বাধে না।

কাজিপুর উপজেলার আমিনা মনসুর কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক দিবাকর সরকার জানান, এই গাছের ফুল খুব ছোট।

এগুলো সহজেই মানুষের নাকে মুখে ঢুকে যেতে পারে। আর এর প্রভাব খুবই মারাত্মক।

শ্বাসকষ্ট থেকে শুর“ করে আরো নানা রোগের সৃষ্টি হতে পারে। 

নতুন বছরে কিছু সংকল্প করেছেন? কীভাবে রাখবেন তার পাঁচটি উপায়
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : এসে পড়লো আর একটি নতুন বছর - ২০২০।

আমাদের মধ্যে অনেকেই নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর জন্য একাধিক সংকল্প করি।

সুস্বাস্থ্য অর্জনের অথবা পয়সা অপচয় কমানোর সংকল্প করি।

অথবা নতুন কোনো অভ্যাস অর্জনের চেষ্টা করি, অথবা কোনো বদভ্যাস বর্জনের চেষ্টা করি।

যে সংকল্পই আপনি গ্রহণ করুন, তা অর্জনের জন্য আপনার যেটি অবশ্য প্রয়োজন তা হলো মোটিভেশন বা নিজের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।

কিন্তু আমরা সবাই জানি সেই উদ্দীপনা তৈরি করা কতটা কষ্টকর।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্যানট্রন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ নববর্ষে নেওয়া সংকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।

কিন্তু আপনাকে সেই ৯২ শতাংশ ব্যর্থ মানুষের তালিকায় থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

কীভাবে আপনি সফল হতে পারেন, নীচে তার পাঁচটি উপায় বাতলে দেওয়া হলো। চেষ্টা করে দেখুন। আপনার জন্য শুভেচ্ছা ।

১. ধীরে শুরু করুন

এমন সংকল্প নিন যেটা বাস্তবে মেনে চলা সম্ভব। তাহলেই আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।

প্রধান একটি সমস্যা হচ্ছে আমরা অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করি। "এমন একটা কিছু ভেবে বসি যে নতুন বছরে আমি নতুন এক মানুষ হয়ে উঠবো- এমন ভাবনার ভিত্তিটাই গরল," বলছেন মনোবিজ্ঞানী র‍্যাচেল ওয়েনস্টেইন।

আপনাকে শুরু করতে হবে ধীরে। তারপর আস্তে আস্তে সংকল্পের পারদ চড়াতে হবে।

যেমন, প্রথমেই ম্যারাথন দৌড়ের চিন্তা না করে আপনাকে শুরুতে একটি দৌড়ানোর জুতো কিনে জগিং শুরু করতে হবে।

অথবা আপনি যদি রান্না পছন্দ করেন, প্রথম দিকে আপনি সপ্তাহে একটি আইটেম রাঁধতে অন্যকে সাহায্য করুন যাতে রান্নাটা আপনি রপ্ত করতে পারেন।

কারণ, মিস ওয়েনস্টেইন বলছেন, "বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আসে ধীরে ধীরে।"

২. পরিষ্কার-স্বচ্ছ লক্ষ্য

আমরা অনেক সময় লক্ষ্য স্থির করার আগে ভাবিনা ঠিক কীভাবে তা অর্জন করা যাবে।

সুতরাং খুঁটিনাটি পরিকল্পনা খুবই জরুরী।

"যেমন `আমি জিমে যাবো` এই সংকল্প করার চেয়ে `আমি মঙ্গলবার বিকালে এবং শনিবার সকালে জিমে যাবো` এমন পরিকল্পনা করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে," বলছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিল লিভি।

সুতরাং শুধুমাত্র একটি ধোঁয়াটে মনস্কামনা প্রকাশের চেয়ে এমন কিছু চাইতে হবে যা বাস্তবে করা সম্ভব।

৩. সমর্থন তৈরি

আপনার সংকল্প বাস্তবায়নের পথে যদি আপনি আর কাউকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে তা আপনাকে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।

যেমন কোনো ক্লাসে বন্ধুকে সাথে নেওয়া বা আপনার সংকল্পকে মানুষের সামনে প্রকাশ করলে নিজের মধ্যে প্রণোদনা বাড়বে।

অন্যরা জানলে লক্ষ্য অর্জনে আপনি বেশি করে চেষ্টা করবেন।

ব্রিটেনের ওয়ারইক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল বলছেন, আপনার সংকল্প সফল হলে অন্যের মঙ্গল হতে পারে, ব্যর্থ হলে অন্যের ক্ষতি হতে পারে -এমন পরিস্থিতি মানুষকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে।

সুতরাং আপনার সংকল্প বাস্তবায়নে অন্যদের যুক্ত করুন, তাদের সাহায্য নিন।

৪. ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলতে হবে

যখন লক্ষ্য অর্জন কঠিন মনে হয়, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

কী ধরণের সমস্যার মুখোমুখি আপনাকে হতে হচ্ছে? কোন কৌশল সবচেয়ে কার্যকর? কোন কৌশল কাজে লাগছে না?

বিশ্লেষণের পর আপনাকে বাস্তবমুখী পথ নিতে হবে। স্বল্প অর্জনকেও দাম দিতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে সামান্য অদল-বদলও অনেক সাফল্য বয়ে আনতে পারে।

যেমন, সাদা রংয়ের পাস্তা বা সাদা আটার রুটির বদলে আপনি বাদামি রঙের পাস্তা বা বাদামি গমের আটার রুটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

কেক বা চিপসের বদলে, সবজির স্টিক খেতে পারেন।

এর জন্য খুব একটি কষ্ট করতে হবেনা।

৫. নতুন বছরের সংকল্পকে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে রূপ

সবচেয়ে ভালো এবং কার্যকরী নববর্ষ সংকল্প সেগুলোই যেগুলো আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের একটি অংশ হবে।

আপনার যদি খেলাধুলোর ব্যাপারে আগ্রহই না থাকে, তাহলে আপনার পক্ষে একজন চৌকস অ্যাথলেট হওয়া কখনই সম্ভব নয়।

মনোবিজ্ঞানী ড, অ্যান সুইনবোর্ন বলছেন, "যেসব মানুষ মনের জোরের ওপর নির্ভর করে, তাদের ব্যর্থতার সম্ভাবনা বেশি।"

সুতরাং এমন সংকল্প নিন যা নিয়ে আপনার আগ্রহ রয়েছে। বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি পরিকল্পনা নিন এবং ঝামেলা হলে অন্যের সাহায্য বা পরামর্শ নিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।

 

যৌনকর্মীদের জন্য শ্রমশিবির বন্ধ করে দিচ্ছে চীন
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দেরদের আটক করে কথিত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোয় পাঠানোর শাস্তি বাতিল করেছে চীন।

এরকম অভিযোগে আটক যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দেরদের পুলিশ আটক করার পর সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য কথিত শিক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হতো।

সেখানে তাদের জোরপূর্বক কাজ করতে হতো। বলা হয়, তাদের সেখানে খেলনা এবং বাসাবাড়ির জিনিসপত্র তৈরি করতে হয়।

আজ থেকে (২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯) এই শাস্তি ব্যবস্থার অবসান হচ্ছে। যারা এখনো এসব বন্দীশিবিরে রয়েছেন, তাদের মুক্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।

তবে যৌন পেশা চীনে অবৈধই থাকছে।

এই অপরাধে কেউ দণ্ডিত হলে ১৫ দিনের আটকাদেশ এবং পাঁচ হাজার ইয়ুয়ান (৫৪৬ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

সিনহুয়া বলছে, বিশ বছর আগে `আটক এবং শিক্ষা` ব্যবস্থা চালু করার ফলে `ভালো সামাজিক পরিবেশ এবং জনশৃঙ্খলা` তৈরি হয়েছে।

তবে সেখানে আরো বলা হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি অনেক বেশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৩ সালে বেসরকারি সংস্থা এশিয়া ক্যাটালিস্টের একটি গবেষণায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থার আদৌ কোন উপকারিতা আছে কিনা?

সেই প্রতিবেদনে দুইটি শহরের ৩০জন নারী যৌনকর্মীরা সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক থাকা নারীরা এমন কোন নতুন কাজ শিখতে সক্ষম হননি, যা মুক্তি পাওয়ার পর তাদের জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত সেখানে আটককৃতদের হাতে করার কাজ শেখানো হয়।

সেখানে বলা হয়, ``যে যৌনকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরেই তারা আবার যৌন পেশায় ফিরে গেছেন।``

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১৩ সালে ১৪০জন নারী যৌনকর্মী, খদ্দের, পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। তারা দেখতে পায়, অনেক যৌনকর্মীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পুলিশ স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে।।

একজন যৌনকর্মী দাবি করেছেন, পুলিশ তাকে মিথ্যা কথা বলে স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়েছে।

``পুলিশ আমাকে বললো, এতে কোন সমস্যা হবে না, আমাকে শুধু আমার নাম স্বাক্ষর করতে হবে। এরপরের চার পাঁচদিন পরে তারা আমাকে ছেড়ে দেবে,`` তিনি বলছেন।

``বরং তারা আমাকে হেফাজতে, পরে এবং শিক্ষা কেন্দ্রে ছয় মাস ধরে আটকে রাখে।``

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

এশিয়া ক্যাটালিস্টের পরিচালক শেন টিংটিং বলছেন, ``জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করার ব্যবস্থা বাতিল করা অবশ্যই ভালো একটি ব্যাপার। কিন্তু যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষায় এটা খুবই ছোট একটি পদক্ষেপ।``

``চীনের আইন এবং নীতির লক্ষ্য হচ্ছে যৌনকর্ম নিবারণ এবং দমন করা। কিন্তু উচিত ছিল তাদের নিরাপদ স্বাস্থ্যের জন্য একটি কাঠামো তৈরি এবং যৌন পেশাকে একটি পেশা হিসাবে নিরাপত্তা প্রদান করা,`` তিনি বলছেন।

২০১৩ সালে চীন ঘোষণা দিয়েছিল যে, ছোটখাটো অপরাধীদের জন্য তারা শ্রমশিবিরের মাধ্যমে পুনঃশিক্ষা দেয়ার কার্যক্রম বিলুপ্ত করছে।

এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিচার সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি আলোচিত অন্যায্য ঘটনার প্রেক্ষাপটে। সেসব ঘটনার একটি হলো একজন মাকে শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়েছিল কারণ তিনি ধর্ষণের শিকার হওয়া তার মেয়ের জন্য বিচার দাবি করেছিলেন।

তবে যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দেরদের জন্য `আটক এবং শিক্ষা` ব্যবস্থা চালু ছিল।

পুনরায় শিক্ষা দেয়ার কার্যক্রম একেবারে বাতিল করে দিচ্ছে না চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, শিনজিয়াং প্রদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছামূলক শিক্ষা ক্যাম্প রয়েছে, যা উগ্রপন্থা দমনে সহায়তা করছে।

তবে অধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন যে, চীনের উইগুর সম্প্রদায়ের সদস্যদের জোর করে ধরে এসব ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের ধর্মবিশ্বাস সমালোচনা অথবা ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

`শক্ত মেয়েদেরও আমি টেবিলে বসে কাঁদতে দেখেছি’
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : সৌন্দর্য চর্চা খাতে কটুবাক্য ব্যবহার এবং অন্যায় চাকরি চ্যুতির ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের আহবান জানিয়েছে ব্রিটিশ বিউটি কাউন্সিল, কারণ এই খাতটির কর্মীদের কোন ট্রেড ইউনিয়ন নেই।

বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রামের গোপন অনুসন্ধানে এই খাত জুড়ে কটুবাক্য বা গালাগালির চিত্র বেরিয়ে আসার পর তারা ওই আহবান জানায়।

``আমি দেখেছি, বড় বড় মেয়েরা, শক্ত মেয়েরা তাদের টেবিলে বসে কাঁদছে।

এখানকার পরিবেশ এতটাই বিষাক্ত আর হয়রানিমূলক যে, মানুষজন এই খাত থেকে বেরিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে.`` বলছেন সারাহ (তার আসল নাম নয়), যিনি প্রসাধনী শিল্প জগতের একটি আন্তর্জাতিক নামী ব্র্যান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

তিনি বলছেন, তার বস তার পেছনে কথা বলেন এবং সরবরাহকারীদের বলেছেন যে, তিনি নাকি তাদের গোপন তথ্য অন্যদের বলেছেন।

``এরপর থেকে বস`রা আমাকে শুধুমাত্র প্রজেক্টের আওতায় ছোটখাটো কাজ দিচ্ছেন এবং গত দুই বছর ধরে যে প্রজেক্টে খুব ভালোভাবে কাজ করছিলাম, সেখান থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে,`` তিনি বলছেন।

``জন সম্পদ বিভাগ এবং পরিচালনা পর্ষদ আমার কথাকে গুরুত্ব দেয়নি। আমার প্রচণ্ড রাগ লাগছিল, কিন্তু এটা শুধু ক্ষোভের ব্যাপার নয়- আসলে এটা হৃদয় ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ব্যাপার।``

এরপর ওই কোম্পানি থেকে চাকরি ছেড়ে দেন সারাহ।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে গত বছর ১৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রেখেছে প্রসাধনী শিল্প খাত। চাকরি বাজারের প্রতি ৬০ জনের মধ্যে একজন এই খাতে চাকরি করেন।

ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রাম বিশ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানি পরিচালক থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মেক-আপ আর্টিস্ট, যারা দাবি করেছেন যে, নানা সময়ে তারা গালাগালি, নিপীড়ন এবং খারাপ রীতিনীতির শিকার হয়েছেন।

অনেকে বলেছে, তারা ক্ষোভ, হতাশায় ভুগেছেন, এমনকি কখনো কখনো এসব কারণে আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করেছেন।

প্রায় সবাই বলেছেন, এই খাতটি প্রাতিষ্ঠানিক গালাগালির সংকটে ভুগছে। কিন্তু তারা ভয়ও পান যে, এ নিয়ে যদি তারা কোন অভিযোগ করেন, তাহলে তারা আর চাকরি করতে পারবেন না।

এই খাতে কোন ইউনিয়ন নেই, সুতরাং তাদের এমন কেউ নেই, যে বা যারা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে বা অন্য কোম্পানির সহায়তা চাইবে।

ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রাম যাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের অনেককেই একটি `প্রকাশ না করার শর্তে` চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এটি হচ্ছে এমন একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে মুখ বন্ধ রাখার জন্য কর্মীদের হাজার হাজার পাউন্ড দেয়া হয়।

কিন্তু ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরেও সারাহ এবং আরেকজন নারী কর্মী জানিয়েছেন, তারা চান তাদের ঘটনাগুলো মানুষ জানুক, যদিও তারা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

`নিকোল` একটি নামকরা প্রসাধনী শিল্প কোম্পানির নির্বাহী হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি বলছেন, যখন তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান যে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন, তখন তাকে কাজ থেকে একপ্রকার বাইরে ঠেলে দেয়া হয়।

``আমাকে বৈঠকগুলো থেকে বাইরে রাখা হয়, আমাকে কোন তথ্য দেয়া হতো না, তারা এমনকি ইমেইলে আমাকে যোগ করাও বন্ধ করে দেয়,`` তিনি বলছেন।

``এরপর, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ করে কাজে ফেরার আড়াই মাসের মধ্যে আমাকে বলা হয় যে, এই প্রতিষ্ঠানে আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই এবং আমার চলে যাওয়া উচিত।``

``তারা আমাকে যা বলেছে, সবই আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম, যে আমি একজন খারাপ মানুষ। আমি বিষণ্ণতা, মানসিক চাপের চিকিৎসা করিয়েছি। একটি চিকিৎসা কেন্দ্রেও আমাকে থাকতে হয়েছে। আমি আসলে সত্যিই ভাগ্যবতী যে, আমি ফিরে আসতে পেরেছি...কিন্তু অনেক মানুষ সেটা পারে না।``

তবে শুধু নারীরাই এরকম অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন, তা নয়। জেক, যিনি এখন ফ্রিল্যান্স মেকআপ আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করছেন, বলছেন, তার সঙ্গেও অতীতে অনেক খারাপ আচরণ করা হয়েছে।

``অনেকবার এমন ঘটেছে যে, তাদের আচরণ ছিল এমন, `তুমি কি তাকে সত্যিই তোমার মেক-আপ করতে দিতে চাও? সে একজন পুরুষ, সে জানে না কীভাবে ঠিকমতো মেক-আপ করতে হয়,`` তিনি বলছেন।

``আমি বিষণ্ণতার অনেকগুলো স্তরের ভিতর দিয়ে গিয়েছি। আমার মনে হচ্ছিল, আমার চারদিকে যারা আছে, তাদের কারো আন্তরিকতা নেই।``

কর্মসংস্থান বিষয়ক আইনজীবী ক্যারেন জ্যাকসন বলছেন, প্রসাধনী শিল্পে বৈষম্য করার এরকম শতশত মামলা তিনি নিয়ে তিনি কাজ করছেন, যার মধ্যে গালাগালি এবং হয়রানির মতো অভিযোগ রয়েছে।

``আমি একই কোম্পানির বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ বারবার শুনেছি, যা থেকে বোঝা যায়, যে এরা অতীতের ভুল থেকে কোন শিক্ষা নিচ্ছে না এবং তারা কর্মক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য আচরণ মেনে নিচ্ছে,`` তিনি বলছেন।

``আমি বুঝতে পারি না, কেন তারা এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয় না এবং সমস্যাগুলো দূর করে সবার জীবনকে সহজ করে তোলে না।``

তবে এই শিল্পে এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যারা এখানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন।

বিখ্যাত মেক-আপ আর্টিস্ট ল্যান নগুয়েন-গ্রেয়ালিস বলছেন, পেশাজীবনের শুরুর দিকে তিনিও কটুবাক্য ও হয়রানির শিকার হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতার কারণে নিজেকে অনেক নমনীয় করে তুলেছেন।

``এটা সবটাই বোনদের আন্তরিকতার মতো- অনেক মেয়েরাই দরকার হলে গোপনে আমার কাছে এসে তাদের কথা বলতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, এই মেয়েদের জানার দরকার আছে এই খাতটি খুবই চমৎকার। আপনি যদি সত্যিই একজন ভালো মানুষ হন, তাহলে আপনি এখানে স্থায়ী একটি পেশা জীবন তৈরি করতে পারবেন।``

এই শিল্পের বক্তব্য, মতামত এবং চাহিদার প্রতিনিধিত্ব করে ব্রিটিশ বিউটি কাউন্সিল।

ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানের ফলাফলগুলো প্রচারের পর, সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইলি কেনডাল বলেছেন, ``যেকোনো শিল্পের জন্য এটা খুবই হৃদয়বিদারক ব্যাপার,আমার একে অপরের গলা ধরে টানাটানি করছি।``

``এটার জন্য দায় সরকারের, কারণ এটা শুধুমাত্র প্রসাধনী শিল্প সংক্রান্ত ব্যাপার নয়, এটা একটা জাতীয় ইস্যু। আমি মনে করি, এখানে ন্যায়পালের মতো বা প্রাতিষ্ঠানিক একটি কর্তৃপক্ষ থাকা উচিত, যারা নিশ্চিত করবে যে, এটা যেন সবার জন্য একটি নিরাপদ স্থান হয়ে ওঠে।``

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর একটি বিবৃতিতে বলেছে: ``সমতার আইন অনুযায়ী, কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ, বর্ণ, প্রতিবন্ধীত্ব, ধর্ম, বিশ্বাস, যৌন দৃষ্টিভঙ্গি বা বয়সের কারণে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সুরক্ষা রয়েছে এবং কর্মীরা এরকম ঘটনায় কর্মসংস্থান বিষয়ক ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে।``

 

ভালোবেসে বিয়ে, অতঃপর পরকীয়া-নির্যাতন সত্ত্বেও কেন মানিয়ে চলা
                                  

ডেস্ক রির্পোট : আয়েশা আক্তার (ছদ্মনাম)। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী বিশ বছর আগে ভালোবেসে যাকে বিয়ে করেছিলেন, ১৫ বছর পর সেই ভালোবাসার মানুষেরই ভিন্ন এক রূপ আবিস্কার করেন তিনি।

মিসেস আক্তারের ভাষায়, তার `সুখের সংসার` হঠাৎ করেই এলোমেলো হয়ে যায়। কারণ, তার স্বামী অফিসের এক নারী কলিগের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

"আমি হঠাৎ করেই দেখলাম প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সে শুক্রবার-শনিবারে বাইরে থাকতে শুরু করেছে।"

তিনি বলেন, "বৃহস্পতিবারে অনেক রাত করে বাসায় ফিরছে। আগে কখনো সে এ রকম করেনি। সংসারে ঠিকমতো খরচ দিচ্ছে না।

এরপরই আমি তার পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি আবিস্কার করি।"

"একদিন তার গাড়িতে আমি নতুন একটা মোবাইল খুঁজে পাই। সেই মোবাইল দিয়ে ও লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটার সঙ্গে কথা বলতো।

এমনকি ওরা ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খেয়ে কিভাবে ফিজিক্যাল রিলেশন করেছে সেগুলোও চ্যাটিংয়ে আলোচনা করতো।"

মিসেস আক্তার বলছেন, তিনি যখন এর প্রতিবাদ করেছেন তখন থেকেই মূলতঃ তার উপর স্বামীর অত্যাচার শুরু হয়।

মারধর, গালাগালি, সংসারের খরচ বন্ধ করে দেয়াসহ নানারকম অত্যাচার হয়েছে তার উপর।

"সে পুরুষ মানুষ এবং অনেক টাকা বেতন পায়। আমি কিছুই না। সে জাস্ট এটাই বোঝায় আমাকে। এবং তার ভাবভঙ্গি হচ্ছে, আমি যা ইচ্ছা করবো, পারলে তুই কিছু করে দেখা।"

"আমি এসব কথা পরিবারকে বলেছি, ওদের পরিবারকেও বলেছি। ওরা বুঝিয়েছে, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। মামলা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সবাই নিষেধ করেছে।

দুটো বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবো তাই নির্যাতন সহ্য করেই এখনো সংসার করে যাচ্ছি।"

বাংলাদেশে স্বামীর ঘরে কিংবা নিজ পরিবারে নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থা চললেও অনেকক্ষেত্রে নির্যাতিতরাই এর প্রতিবাদে খুব একটা আগ্রহ দেখান না।

কিন্তু বাংলাদেশে যেসব নারী এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান, তারাও পরিবার কিংবা সমাজকে পাশে পাচ্ছেন না ঠিক মতো।

তামান্না নুপুর নামে আরেকজন নারীর সঙ্গে কথা হয়।

বছরের পর বছর স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে তিন বছর আগে তিনি স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

এখন গাজীপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

তামান্না নুপুর জানাচ্ছেন, বিয়ের পর থেকেই পাঁচ বছর ধরে তিনি স্বামীর পরিবারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

ছোটখাট বিষয়ে কিংবা কারণে-অকারণে তাকে মারধোর করা হতো।

সিগারেট দিয়ে একাধিকবার তার শরীরে ছ্যাকা দেয়ার ঘটনাও আছে।

"ওদের আসলে আমাকে ভালো লাগতো না কোন কারণে।

এজন্যই অত্যাচারের অজুহাত খুঁজতো। বাসায় জানাইছি। তারা বলে, সহ্য করো।"

মিজ নুপুর বলছেন, "কতদিন আর সহ্য করবো? যখন মাত্রা ছাড়ায় গেলো, শশুরবাড়ির সবাই নির্যাতন করতে শুরু করলো তখন আর থাকতে পারলাম না। নিজের সিদ্ধান্তেই তালাক দেই। আমার নিজের পরিবার বলছে, তারা আমার দায়িত্ব নিতে পারবে না।"

তামান্না নুপুর বলছেন, তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা-মা রাজি হননি।

"বাবা বললো, মামলা করে কী হবে? দরকার নাই। এখন পরিবার যদি হেল্প না করে, তাহলে আমার একার পক্ষে তো সম্ভব না। আমি তো থানা-পুলিশের ব্যাপার কিছুই বুঝি না।"

বাংলাদেশে পরিবারের মধ্যে বিশেষত: স্বামীর মাধ্যমে নারী নির্যাতনের যে চিত্র তা বেশ ভয়াবহ।

শারীরিক, মানসিক, আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের মধ্যেই দিনের পর দিন অনেকেই জীবন পার করলেও এ নিয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদের চিত্র খুব একটা দেখা যায় না।

এ নিয়ে সচেতনতাও কম। আবার নিজ পরিবারেও নির্যাতনের মুখে পড়েন অনেকে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নারী নির্যাতনের চিত্র নিয়ে যে জরিপ প্রকাশ করে সেখানে দেখা যায় বাংলাদেশে ৭২.৬ শতাংশ বিবাহিত নারীই কোন না কোনভাবে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন।

এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের হার ৪৯.৬ শতাংশ।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, যারা নির্যাতনের শিকার হয় তাদের ৭২.৭ শতাংশই নির্যাতনের ঘটনা বাইরের কাউকে বলেন না।

আর থানা-পুলিশ পর্যন্ত অভিযোগ পৌঁছান মাত্র ১.১ শতাংশ নির্যাতিত নারী।

অর্থাৎ বেশিরভাগই মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন।

কিন্তু এরকম পরিস্থিতি কেন হলো?

বাংলাদেশে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পরিচালক তৌহিদা খন্দকার বলছেন, "যাদের উপর সহিংসতাটা হয় তারা আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানে না এর প্রতিকারে কোথায়, কার কাছে যেতে হবে।"

"এমনকি এগুলো যে নির্যাতন, সহিংসতা সেটাও অনেকে বোঝেন না বা সেই বার্তাটা তাদের কাছে নেই। পুলিশের কাছে যে যাবে, সেটা ফেইস করার মতো কোয়ালিটিও অনেকের নাই।"

তবে যারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তাদেরও বিচার পেতে আছে নানা ভোগান্তি। বিচারে দীর্ঘসূত্রতা আছে।

"আবার মামলা দায়েরের পর অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব ভিক্টিমকেই নিতে হয়।

সাক্ষী-সাবুদও তাকেই জোগাড় করতে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা খুবই কঠিন।"

এসব জটিলতা জানার পরে অনেকেই মামলা করতে চাননা বলেই মনে করেন তৌহিদা খন্দকার।

বলা হচ্ছে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবার আগে সোচ্চার হতে হবে নির্যাতনের শিকার নারীদেরকেই।

কিন্তু এর জন্য যেরকম পারিবারিক, সামাজিক ও আইনী বাস্তবতা দরকার বাংলাদেশে তার ঘাটতি আছে।

 

ট্রাকের ওপরেই বেডরুম, বাথরুমসহ দোতলা বাড়ি
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ইথিওপিয়ায় একজন চালক তার ট্রাকের ওপর দোতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

কারণ তিনি সাথে করে সবসময় তার বাড়িটি নিয়ে যেতে পারেন।

বাড়িতে আছে তিনটি শোওয়ার ঘর, দুটো বসার ঘর ও তিনটি বাথরুম।

বাড়িটি সত্যিই চমকপ্রদ।

 

কোন বিষয়ে মানুষের মাঝে আসক্তি তৈরি হয় ?
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : কানাডার একজন চিকিৎসক ডা. গাবোর মেইটের বিশ্বাস সব ধরণের আসক্তির পেছনে থাকে মানুষের ভেতরে প্রোথিত ভীতি কিংবা যন্ত্রণা।

যে কারণে তার বিশ্বাস মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেই সঙ্গে চিকিৎসা পদ্ধতিও হওয়া উচিত পরিবর্তিত।

ডা. মেইট তার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখালেখির জন্য পরিচিত। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্তি প্রকোপ যেখানে সেই কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ অপব্যবহারের রোগীদের নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত।

২০১৮ সালে তার কাজের জন্য তিনি কানাডার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান অর্ডার অব কানাডা লাভ করেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, যে কোন আসক্তির পেছনেই প্রবল ভীতি বা তীব্র যন্ত্রনার কোন স্মৃতি থাকে।

এর কারণ কী? বিষয়টি নিয়ে ডা. মেইটের ব্যাখ্যা শোনা যাক।

আসক্তির কারণ অনুসন্ধান করতে চাইলে প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে, আসক্তির ফলে আমরা কী পাই।

সাধারণত মানুষ বলে, "এটা আমাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়, মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখে, যে কোন পরিস্থিতিতে এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ করতে পারার অনুভূতি হয়। মনে হয় সত্যিকারের বেঁচে আছি, তুমুল উত্তেজনা, তীব্র ভালো লাগা ইত্যাদি"

অন্য কথায় আসক্তি মানুষের কিছু বিশেষ প্রয়োজন মেটায় যা তার জীবনে পূরণ হচ্ছিল না।

এসব পর্যায়ে মনোযোগ না পাওয়া, একাকীত্ব আর মানসিক চাপের কারণে মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

মাদকাসক্তদের সংখ্যা বিচার করলে দেখা যায়, যাদের শৈশব খুব খারাপ কেটেছে, তাদের বেশির ভাগের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার আশংকা থাকে।

এর মানে হলো, আসক্তির পেছনে যন্ত্রনা এবং জটিল শৈশব কাজ করে। এর অর্থ হচ্ছে, যাদের শৈশব স্বাভাবিক ছিল না, তারা সবাই আসক্ত হবে--তা নয়। বরং যারা আসক্ত তাদের সবার শৈশব কষ্টে কেটেছে।

আসক্তি দূরীকরণের চিকিৎসার জন্য শাস্তি, ধমকাধমকি বা সমালোচনা নয়, বরং প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য, অনেকের অনেক সাহায্য এবং ব্যাপক বোঝাপড়ার প্রয়োজন।

আসক্তি ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী যত চিকিৎসা আর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলোই ব্যর্থ হয়েছে।

এখন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে আমরা কি সত্যিই পরিস্থিতি বুঝতে পারছি? হয়তো না।

আসক্ত মানুষটির ভোগান্তিটা আমরা একেবারেই খেয়াল করছি না।

আসক্তি নিয়ে লোকের মধ্যে চালু একটি ধারণা হচ্ছে ইচ্ছা করে বা শখের বশে ওই পথে গেছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় আসল ঘটনা সেটা নয়।

আমাদের চারপাশের সমাজের কাঠামোটাই এমন যে কোন ব্যক্তি আসক্ত হলে তাকে ধরে শাস্তি দাও।

"আমি এমন কাউকে চিনি না যে এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবলো, আজ থেকে আসক্ত হয়ে যাব!"

এটা পছন্দের ব্যপার নয়, এটা হয় মানসিক যন্ত্রনা থেকে পালানো বা বাঁচার জন্য। আর কেউই যন্ত্রনার মধ্যে থাকতে ভালোবাসে না।

মাদকাসক্তি নিয়ে সমাজে প্রচলিত আরেকটি ধারণা হলো, এটা বুঝি বংশ পরম্পরায় হয়।

ডা. মেইটের প্রশ্ন - যদি আমি মাতাল হই, আর সারাক্ষণ আমার বাচ্চাকে গালি দিতে থাকি, আর তা থেকে বাঁচার জন্য সে মদ খেতে চায়, তাহলে একে কি বংশ পরম্পরায় মাতাল বলা যাবে?

এটা বংশ গতির সমস্যা নয়, সমস্যা পারিপার্শ্বিকতার।

ফলে এক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্বশীল এবং যৌক্তিক আচরণ করার প্রয়োজন সবার আগে।

এরপর সমাজের অন্যদেরও পাশের মানুষটির জন্য সহমর্মিতা বোধ করার প্রয়োজন রয়েছে।

আরেকটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, শুধু যারা নেশাদ্রব্য দিয়ে নেশা করে তারাই আসক্ত।

কিন্তু সমাজের বিশেষ কোন সংস্কৃতির কারনেও এটা হতে পারে।

কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় কিংবা সংস্কৃতিগতভাবে পানীয় জাতীয় অ্যালকোহল গ্রহণের চল আছে।

কোন কোন গোষ্ঠী নিজেরাই তৈরি করে এমন দ্রব্য।

এটা তাদের সংস্কৃতি, ফলে এখানে আসক্তির অন্যান্য চিকিৎসা কাজে আসবে না।

ডা মেইটের মতে, আসক্তি বলতে আমরা সাধারণভাবে যা বুঝি তা হলো এক ধরণের সাময়িক প্রশান্তির জন্য মানুষ বারবার যার দ্বারস্থ হয়। এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে তার ভেতরে সেটার জন্য আবারো চাহিদা তৈরি হয়।

এটা সিগারেট হতে পারে, ড্রাগ হতে পারে, মদ জাতীয় বস্তু হতে পারে। হতে পারে যৌনতা, জুয়া, শপিং, কাজ, রাজনৈতিক ক্ষমতা, ইন্টারনেটে গেম খেলা---এমন অনেক কিছুই।

কেউ কাজ করেও একই ধরণের আনন্দ পেতে পারেন।

কিন্তু মানসিক প্রশান্তি বা তৃপ্তির জন্য মানুষ সঙ্গীতের দ্বারস্থও হয়।

আসক্তি হয়তো মানুষের অবচেতনে লুকনো এমন এক বোধ যে তিনি হয়ত যথেষ্ঠ ভালো নেই।

হয়তো তাকে কিছু করে প্রমাণ করে দেখাতে হবে এবং হয়তো কেউ তাকে ভালবাসে না।

"তখন কেউ কেউ কাজের ভেতরে ডুব দেয়--যেমন আমি", বলছিলেন ডা. মেইট।

"আমি যখন আমার মাদকাসক্ত রোগীদের আমার গল্প বলি, তারা বলে হ্যাঁ ডাক্তার তুমি আমাদের মতোই।

আসলে শেষ বিচারে আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মতো।"

 

সম্পর্ক ভাঙ্গার পরেও সাবেক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে এক বাসায় থাকতে হয়
                                  

ডেস্ক রির্পোট :``আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি একটা ফাঁদে আটকা পড়ে গেছিআমার সঙ্গে দুইবার এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে``

২৬ বছরের লুসির সঙ্গে যখন তার তৎকালীন ছেলে বন্ধুর সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, তিনি নিজেকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম `লুকায়িত আবাসন` ব্যবস্থার মধ্যে আটকে পড়েছেন বলে দেখতে পান।

এটি হচ্ছে এমন একটা ব্যাপার যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একজন তার বাসা বদলাতে পারেন না।

লুসি যখন তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে লন্ডনের একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, তখন তাকে ছয়মাসের জন্য চুক্তি করতে হয়েছিল।

সে সময় তাদের বেশকিছু পাউন্ড ডিপোজিট দিতে হয়।

সেই ডিপোজিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও আরো তিন মাস ধরে দুজনকে সেই বাসাতেই থাকতে হয়েছে।

বাসায় সোফা-কাম-বিছানা ছিল একটি, যেটি তাদের দুজনকেই শেয়ার করতে হতো।

লুসির জীবনে এরকম ঘটনা আরো একবার ঘটেছে।

যুক্তরাজ্যের বাসা সংক্রান্ত একটি দাতব্য সংস্থা বলছে, সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে একই বাসায় আটকে পড়ার ঘটনা যুক্তরাজ্যে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেল্টার নামের ওই সংস্থাটি বিবিসি থ্রিকে জানিয়েছে, তারা অনেক সময়েই ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে শুনতে পান যে, সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরে মানসিক কষ্টের মধ্যেও আইন ও অর্থনৈতিক কারণে তারা বাসা ছাড়তে পারেন না।

``অনেক মানুষ সামর্থ্যের কারণে যেমন নিজেদের জন্য নতুন বাসা খুঁজে নিতে পারেন না, আবার মেয়াদি চুক্তির কারণেও তাদের পক্ষে নতুন ঠিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না,`` বলছেন দাতব্য সংস্থা শেল্টারের প্রথম নির্বাহী পল নিয়েট।

ন্যাশনাল হাউজিং ফেডারেশনের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে লুসির মতো প্রায় ২৫ লাখ ব্রিটিশ এরকম লুকায়িত আবাসনের মধ্যে রয়েছে, যারা তাদের শেয়ার করা বাড়ি ছাড়তে পারছে না, বা অভিভাবকদের কাছে যেতে পারছে না অথবা সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আঠারো বছর আগে তরুণরা যতটা সম্পদশালী ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক দরিদ্র হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে বর্নমাউথে বসবাস করতেন লুসি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পরে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে একটি বাসায় একত্রে বসবাস করতে শুরু করেন।

সে সময় লন্ডনের ফ্যাশন শিল্পে তিনি চাকরি খুঁজছিলেন।

``আমি তার সঙ্গে একত্রে থাকতে শুরু করি কারণ আমিও সেটা চাইছিলাম-কিন্তু এর বাইরে অর্থনৈতিক ব্যাপারও ছিল যে, খরচগুলো তার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া। কারণ লন্ডনে আমি তখন কম বেতনে চাকরি শুরু করতে যাচ্ছিলাম।``

লুসির সে সময়ে মাসিক আয় ছিল ১৮০০ পাউন্ডের কিছু বেশি আর তিনি বাসা ভাড়া ও বিল বাবদ দিতেন ৮০০ পাউন্ড।

কিন্তু সেই সময়েই তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি সম্পর্কের অবসান চাইছেন।

``প্রথমবারের মতো আমরা দুইজন একত্রে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলাম। যখন আলাদাভাবে থাকা হয়, তখন আসলে সম্পর্কের জটিলতাগুলো বোঝা যায় না।``

কিন্তু সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও আরো তিনমাস তাদের দুজনকে একত্রে এক বাসায় থাকতে হয়। সেখানে এমনকি তাদের একই বিছানায় ঘুমাতে হয়, যা ছিল দুজনের জন্যই একটি কঠিন ব্যাপার।

``আমাদের একটা সোফা ছিল, যেটা আবার বড় করে নিলে বিছানা হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। আমরা পালাক্রমে সেখানে ঘুমাতাম। কিন্তু কখনো কখনো এমন সময় আসতো যে, দুজনেরই ঘুম দরকার। তখন আমাদের একসঙ্গে ঘুমাতে হতো। তবে খানিকটা স্বাধীনতার জন্য আমরা মাঝে একটা বালিশ দিয়ে রাখতাম।``

``যতদিন আমাকে বাসা ভাড়া দিতে হবে, ততদিন আমি সেখানে থাকবো। আমার সেখানে থাকার সব অধিকার আছে।``

যদিও বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু এই বাসাটি তার কর্মক্ষেত্রের কাছে এবং সেখানে তার নিজের মাল-সামানও ছিল।

``আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতাম। হয়তো জোর করে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতাম, বাসায় অ্যালকোহল পান করতাম না, সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে হয়তো একত্রে টিভি দেখতাম। আমরা দুজনেই ছিলাম যেন হেটে চলে বেড়ানো মৃত মানুষের মতো।``

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর লুসি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তিনি আর কখনোই কারো সঙ্গে থাকতে যাবেন না।

``একবারের অভিজ্ঞতাই এতটা ভয়াবহ ছিল যে, আমি নিজেকে বললাম, আর কোন সঙ্গীর সঙ্গে আর একত্রে থাকতে যাবো না।``

কিন্তু ২০১৮ সালে নতুন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে একত্রে থাকতে শুরু করার পর আবার প্রায় একই রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে দেখতে পান লুসি।

``আমার মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও, তার সঙ্গে একত্রে থাকাটা বেশ সুবিধাজনক এবং কম খরচের বলে মনে হলো।

বিশেষ করে আমাদের অন্য মানুষজনের সঙ্গে থাকতে হবে না, যাদের কারণে আমাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং আমি নতুন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করলাম।``

কিন্তু এই সম্পর্ক যখন শেষ হয়ে গেল, এই যুগল অবশ্য ডিপোজিটের মায়া না করে তাদের সেই বাড়ি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। লুসি বর্নমাউথে তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করলেন।

লুসি বলছিলেন, আবাসন খাতের এই পরিস্থিতি তার `মানসিক, শারীরিক আর অর্থনৈতিকভাবে` ভোগান্তির কারণ হয়েছে।

``আমি মনে করি, পুরো ব্যাপারটি অস্বস্তি আর লজ্জার। আবাসনের এরকম পরিস্থিতিতে পড়ার পরেও একজন তরুণীর কোথাও যাবার সুযোগ থাকে না আর ভেঙ্গে পড়া একটি সম্পর্কের মধ্যে থাকলে যেন সেই ব্যর্থতাকেই মেনে নেয়া হয়,`` লুসি বলছিলেন।

 

নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : মাটি ছোঁয়া জামা, পা-ঢাকা পাজামা বা প্যান্ট এবং বড় আকারের জাম্পার - যদি ভাবেন এটি ক্রিসমাসের পোশাক পরিকল্পনার তালিকা, তাহলে ভুল ভাবছেন

আমরা এখনকার চলতি `মডেস্ট ফ্যাশন` বা শালীন ফ্যাশন নিয়ে কথা বলছি।

আপনি যদি এখনো এ বিষয়ে শুনে না থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন এর মূল ব্যাপারটাই হলো একটু ঢেকেঢুকে কাপড় পরা, যার চল নতুন করে পুরো দমে আসতে যাচ্ছে আবার।

শালীনভাবে, কিন্তু ফ্যাশন সম্মত পোশাক পড়ার ব্যাপারটি মুসলিম তরুণীদের মধ্যে ভীষণ জনপ্রিয়।

কিন্তু এখন বিষয়টি আর নির্দিষ্ট কোন ধর্মে বা বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর বর্তমানে এই ফ্যাশন আকৃষ্ট করেছে অনেককে।

২১ বছর বয়সী আশা মোহামুদ একজন শালীন ব্লগার এবং মডেল, ইনস্টাগ্রামে যার ২৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।

রেডিও ওয়ান নিউজবিট অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, শালীন ফ্যাশনের ব্যাপকতা এখন বেড়েছে।

"আমার তো মনে হয় নারীরা এখন আর পুরুষের চোখে সেক্সি বা আকর্ষণীয় হবার জন্য পোশাক পড়েনা, বরং নিজের চোখে ভালো দেখাতে চান তারা। হয়ত আগের মত পুশ-আপ অন্তর্বাস পড়তে দেখবেন না তাদের। তারা হয়ত কেবল একটা টু-পিস স্যুট পড়ে বেরুবেন ।"

ফ্যাশন ব্লগার জোডি ম্যারিয়ট-বেকার বলেছেন, সামাজিক মিডিয়া এবং সমাজের পরিবর্তিত ধ্যান ধারণার কারণে মানুষ এখন শালীন কাপড় পড়তে চায়।

তিনি মনে করেন, সাধারণ কাজ কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনে বা কাজে বেরুতে হলেও এখন শালীন পোশাকই পছন্দ করে লোকে।

মানুষের রুচির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তন কেবল ব্লগাররা নন, অনেক ব্র্যান্ডেরও নজরে পড়েছে।

ব্রিটিশ ব্র্যান্ড জন লুইস এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে দৈর্ঘ্যে বেশি এবং ঢোলা কাপড়ই এখন বেশি পছন্দ।

এ বছরে প্রতিষ্ঠানটি `মিডি ড্রেস` বা মাঝারি দৈর্ঘ্যের পোশাকের, যা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত বা তার চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়, তার বিক্রি ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা পোশাকের বিক্রি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

এমন কাপড়ের চাহিদা কেবল জন লুইসের একারই বাড়েনি, অন্য প্রতিষ্ঠানেরও বেড়েছে।

মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার এবং অ্যাসোস নামের অন্য নামী প্রতিষ্ঠানগুলোরও শালীন পোশাকের বিক্রি বেড়েছে।

যারা নামের পোশাকের কথা মনে আছে? ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল যে পোশাক?

অনেক ব্লগারের মতে লম্বা এবং ঢোলা আকারের জন্য সেটিও মডেস্ট ফ্যাশন বা শালীন ফ্যাশনের একটি নমুনা হবে।

আশা নামের একজন মুসলমান তরুণী মনে করেন, মডেস্ট ফ্যাশন একেকজনের জন্য একেক রকম।

"আমি খাটো স্কার্ট পড়লে কেউ সেটাকে শালীন ভাববে না, কিন্তু আমি এর নিচে একটা ট্রাউজার পড়েছি।

শালীন পোশাক পরার জন্য এখন আর কেবল মুসলমান হবার দরকার নেই। বিষয়টা কেবল কোন ধর্মের জন্য নির্দিষ্ট নয়। এটাই এখন নতুন ধারা বিশ্বের, নতুন ট্রেন্ড।"

এদিকে, ব্লগার জোডি একে দেখেন `অন্তহীন সময়ের জন্য চলনসই, বাহারি এবং ঢোলা হলেও নজরকাড়া` হিসেবে।

আর সেজন্য শীতকাল একেবারে আদর্শ সময়।

এখন পুরো পৃথিবীতে ফ্যাশন জগতে যে ধরণের পরিবর্তন আসছে, তাতে কেবল শীতকাল নয়, বছর জুড়েই মানুষ একটু বড়সড় ঢোলা আর আরামদায়ক জামাকাপড় পড়তে পছন্দ করেন।

"এরকম কাপড়ে আমি খুবই আত্মবিশ্বাস এবং আরাম পাই। আমি যতই খাই না কেন আপনি আমার উঁচু হয়ে থাকা পেট দেখতে পাবেন না।"

ব্রিটেনে এখন এটি এতই আলোচিত বিষয় যে সেখানে একটি মডেল এজেন্সি আছে, যারা শালীন ফ্যাশনের কাপড় পড়েন এমন মডেলদের নিয়ে কাজ করছে।

উমামা মডেলস নামের প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাম্মি হামৌদা মনে করেন ২০২০ সালে এই ফ্যাশন মেইনস্ট্রিম ফ্যাশন হিসেবে বিশ্ব দখল করবে।

 এক বছর আগে যখন তিনি ব্যবসা শুরু করেন, তখন তার মাত্র চারজন মডেল ক্লায়েন্ট ছিল, কিন্তু এখন তিনি ৬০জন মডেলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 "১৯৫০ এর দশকে ব্রিটেনে এটাই ছিল স্বাভাবিক, শালীনভাবেই পোশাক পরতেন নারীরা। সবার জামার ঝুল এবং হাতা ছিল লম্বা।"

তবে, বিক্রেতারা বলছেন, লম্বা জামার কদর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাটো আর আঁটসাঁটো পোশাকের চাহিদা এখনো কমে যায়নি।

আর জোডি মনে করেন, ফ্যাশনে বৈপরীত্য সব সময় ছিল, সামনের দিনেও থাকবে।

 

ব্রিটিশ রানীর পাঁচটি সজ্জাশিল্পী রাজকীয় রহস্য
                                  

ডেস্ক রির্পোট : অ্যাঞ্জেলা কেলি, ব্রিটেনের রানির পোশাক প্রস্ততকারকের পাশাপাশি রানীর একজন বন্ধুও ছিলেন। ব্রিটেনের রানীকে সেবা দিতে গিয়ে কয়েকটি রাজকীয় রহস্য প্রকাশিত হয়েছে, তার নিকটতম সহযোগীর লেখা একটি বইয়ে।

রানীর জন্য কাজ করার সময়গুলোর কথা নেপথ্যে বর্ণনা করেছেন তিনি।

রানির সজ্জাশিল্পী এবং তার পোশাক- রাজতন্ত্রের দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়।

বইটির সারমর্মতে বলা হয়েছে: "রানী ব্যক্তিগতভাবে অ্যাঞ্জেলাকে তাদের অতুলনীয় বন্ধন বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আশীর্বাদ দিয়েছেন"।

বইটির আকর্ষণীয় শিরোনামগুলো এই সপ্তাহে সেলেব্রিটি ম্যাগাজিন হ্যালোতে যুক্ত করা হয়েছে।

মিজ কেলি, যিনি ২০০২ সাল থেকে রানিকে পোশাক পরিয়ে আসছেন, তিনি তার বইতে নিশ্চিত করেছেন যে রানী তার জুতা পরার জন্য একজন রাজকর্মী নিযুক্ত করেছেন।- এবং তিনি এই কাজটি করে থাকেন।

মেস কেলি লিখেছেন: "রানির নিজের জন্য খুব কম সময় থাকে এবং নিজের জুতা পরার মতো সময় তার নেই, এবং আমাদের জুতার মাপ যেহেতু একই তাই এখান থেকেই ধারণা করা যায়।"

মিজ কেলি বলেছেন যে, জেমস বন্ড খ্যাত অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগের সাথে ছোট একটি দৃশ্যে অভিনয় করার প্রস্তাবটি রানী গ্রহণ করতে মাত্র "পাঁচ মিনিট" সময় নিয়েছেন।

"তিনি এই ধারণাটি দেখে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। আমি তখনই জিজ্ঞাসা করলাম তিনি কোন সংলাপ বলতে চান কিনা। বিনা দ্বিধায় রানি জবাব দিয়েছিলেন: `অবশ্যই আমাকে কিছু বলতে হবে। আর যাই হোক তিনি (জেমস বন্ড) তো আমাকে উদ্ধার করতে আসছেন`," মিজ কেলি রানীর এই মন্তব্যের কথা স্মরণ করেন।

"আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে মি. ক্রেইগের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর শুরুতে তিনি কী বলতে চাইবেন: `শুভ সন্ধ্যা, জেমস,` নাকি `শুভ সন্ধ্যা, মিঃ বন্ড`, এবং তিনি বন্ডের চলচ্চিত্র নিয়ে ভালো ধারণা রাখেন। এজন্য তিনি দ্বিতীয় অপশনটা বেছে নেন।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমি… সুসংবাদটি পরিচালক ড্যানি বয়েলের কাছে পৌঁছে দেই। আমি তাকে গিয়ে বললাম যে রানির একমাত্র শর্ত হল যে তিনি বন্ডের সেই প্রচলিত লাইনটি বলবেন যে: "শুভ সন্ধ্যা, মিঃ বন্ড"। এ কথা শুনে মনে হচ্ছিল মি. বয়েল যেন তার চেয়ার থেকেই পড়ে যাবেন।

রয়্যাল অ্যাসকোট বা রাজকীয় ঘোড়দৌড়ে রানির বার্ষিক উপস্থিতি বহুল দর্শনীয় একটি উপলক্ষ।

সেখানে আসা দর্শকেরা কেবল ঘোড়াগুলোর দিকে নজর রাখে, তা নয় - তাদের দৃষ্টি থাকে রানীর পরা হ্যাট বা টুপির দিকেও। অনেকে রানীর এই টুপির রঙ কী হবে তা নিয়ে বাজি ধরে থাকেন।

মিজ কেলি বলেন, যখন রানি জানতে পারলেন এ ধরণের বাজি গত এক বছর ধরে চলে আসছে। তখন তিনি খেলার শেষ পর্যায়ে বুকমেকার প্রধানের সঙ্গে একটি বিষয়ে সম্মত হন। তার হ্যাটের প্রকৃত রঙটি যেন শীঘ্রই সনাক্ত করা না যায় সেজন্য বিভ্রান্ত তিনি প্রাসাদে অন্য ধরণের টুপি ফেলে রাখতেন।

মিজ কেলি লিখেছেন: "প্যাডি পাওয়ারের মালিকের সাথে আমার একটি বৈঠক হয়েছিল যাতে আমরা একমত হয়েছি যে কোন ধরণের প্রতারণা এড়াতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে রানির টুপির রঙের উপর বাজি দেওয়া বন্ধ করা হবে, তবে রানির টুপি রঙ অনুমান করা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং সম্ভবত কেউ কিছুটা অর্থ জিততে পারে।

মিজ কেলি বলেন, "২০০৯ সালে প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে আলিঙ্গন করার মাধ্যমে রানী রাজকীয় প্রোটোকল ভঙ্গ করেছিলেন, এমন খবরও সত্যি।

"বাস্তবে রানির জন্য সেটা ছিল এক নারীর প্রতি আরেক নারীর স্নেহ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করার একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মতো এবং সত্যিই এমন কোনও প্রোটোকল নেই যা মেনে চলতেই হবে," তিনি বলেন।

"যখন কেউ মমতা অনুভব করেন বা কোন রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগতিক দেশের প্রতিনিধি যখন রানিকে এগিয়ে আসার পথ দেখান, তখন এটি সত্যি মানবিক উদারতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং রানী সব সময় তা উষ্ণভাবে স্বাগত জানান। কেউ যদি রানীর ঘনিষ্ঠ হন, তাহলে তাতে হুমকির কিছু নেই। এটা পুরোটাই বিশ্বাস। "

মিসেস ওবামা তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন, তারা দুজন দীর্ঘ সময় ধরে হিল পরে চলার জন্য রাজী হওয়ার কারণে দিন শেষে তাদের পা ব্যথা হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধুমাত্র "দুজন ক্লান্ত নারী ছিলাম যারা তাদের জুতার কারণে যন্ত্রণা ভোগ করছিল।"

মিসেস কেলি প্রকাশ করেছেন যে "কড়া" ইয়র্কশায়ার চা কীভাবে রয়্যাল ক্রাইস্টেনিং গাউনটির একটি প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল যেটা কিনা ২০০৮ সালে জেমস, ভিসকাউন্ট সেভার্নের ক্রাইস্টেনিং-এর জন্য প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল।

"এই পোশাকটিকে যেন আসল পোশাকটির মতো দেখায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সেটাকে ইয়র্কশায়ার চায়ে ডু্বিয়ে রঙ করেছি (যে চা অনেক কড়া)," মিস কেলি সেখানে বলেন।

"আমরা লেইসের প্রতিটি টুকরো ড্রেসারের রান্নাঘর থেকে আনা একটি ছোট বাটিতে রেখেছিলাম। সেই বাটিতে ঠাণ্ডা পানি এবং একটি চায়ের ব্যাগ ভরা ছিল। ওই পানিতে লেইসগুলো পাঁচ মিনিট রেখে দেয়া হয়। এবং নিখুঁত রঙ আসা পর্যন্ত নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।"

 

২৬ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত ১২ রাশির পূর্বাভাস
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক :  পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক জাতিকাদের নানান বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রলজার্স সোসাইটি (বিএএস)’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাস্ট্রলজার অ্যান্ড সাইকিক কনসালটেন্ট ফজলে আজিম।

মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) আপনার মনের কোনো আশা পূরণ হতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্যের ব্যপারে চিন্তিত হতে পারেন। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। প্রয়োজনে তাদের আন্তরিক সহযোগিতা আশা করতে পারেন। মাতৃস্বাস্থ্য সাময়িকভাবে কম ভালো যেতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চুক্তিভিত্তিক কোনো কাজে সম্পৃক্ত হতে পারেন। বিবাহিতদের দাম্পত্য সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।

বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে) গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য কিংবা মেইল হাতে আসতে পারে। স্বল্প দূরত্বে কোথাও ভ্রমণ হতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ ঠিক হবে না। কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুলবোঝাবুঝি এড়াতে সরাসরি কথা বলুন। সন্তানের সাফল্যে আনন্দ পাবেন। মনের কোনো ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন।

মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন) অর্থ প্রাপ্তির যোগ রয়েছে। বাড়িতে অতিথি আসতে পারে। আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। কারও কারও চক্ষু সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যেতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোথাও ভ্রমণ হতে পারে। আপনার মনের কোনো আশা পূরণ হতে পারে। নব দম্পতির সন্তানলাভের চেষ্টায় সাফল্য আসতে পারে। সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এমন সম্পর্ক কিংবা আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

কর্কট রাশি (২২ জুন-২২ জুলাই) সাময়িকভাবে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। প্রতিটি কাজ সময়মতো করার চেষ্টা করুন। কারও সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে। রাগ জেদ নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করুন। হাতে অর্থকড়ি আসতে পারে। কেউ কেউ সঞ্চয়ের সুযোগ পেতে পারেন। চলাফেরায় ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ কিংবা যোগাযোগমূলক কাজে ব্যস্ততা বাড়তে পারে। আপনার মনের আশা পূরণ হতে পারে। জায়গাজমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়া হতে পারে।

সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ অগাস্ট) সাময়িকভাবে সময় কিছুটা চ্যালেঞ্জিং যেতে পারে। না বুঝে কোনো কিছু করা ঠিক হবে না। নিজের কোনো ভুলের জন্য অনুশোচনা জাগতে পারে। সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যের মন জয় করতে সক্ষম হবেন। আয়ের অংক ওঠানামা করতে পারে। ভ্রমণের সুযোগ পেতে পারেন। ভাইবোনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। কারও কারও হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর) অতীতের কোনো কাজের ফল পেতে পারেন। ব্যবসায়িক দিক ভালো যেতে পারে। কারও কারও আয় উপার্জন ভালো যেতে পারে। বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে যেমন উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি সঙ্গ দোষে অপকার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে সচেতন থাকুন। অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ভাই বোনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর) ঝুঁকিপূর্ণ সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। যাদের রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তাদের বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন আছে। শরীর ও মন ভালো থাকতে পারে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। আয় ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। পেশাগত বিষয়ে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রয়োজন হতে পারে।

বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর) দূরে কোথাও ভ্রমণ হতে পারে। প্রবাস সংক্রান্ত আলোনায় অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিলে ভালো করবেন। পেশা/ভাগ্যোন্নয়ণের কথা বলে কেউ কেউ আপনার সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে। সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা বাড়তে পারে। ভাইবোনের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকবে। সাংগঠনিক কাজে দায়দায়িত্ব বাড়তে পারে। কেউ কেউ আপনার দক্ষতার প্রশংসা করতে পারে।

ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর) কোনো ধরনের প্রতিকূল সময় কিংবা পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি কাজ সময়মতো করার চেষ্টা করুন। দূরে কোথাও ভ্রমণ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বা মেইল পেতে পারেন। চাকুরিপ্রার্থীরা ভালো কোনো খবর আশা করতে পারেন। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। আয় উপার্জনের চেষ্টায় সাফল্য পেতে পারেন।

মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি) কারও সঙ্গে তর্ক নয় যুক্তি ও বুদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করুন। সব বিষয়ে বুঝে শুনে এগুলে ভালো করবেন। অন্যথায় ঝুঁকির আশঙ্কা আছে। ভ্রমণ হতে পারে। আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন কারও দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নেতৃত্বের সুযোগ পেতে পারেন।

কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) কারও কারও ক্ষেত্রে শরীর ও মন সাময়িকভাবে কম ভালো যেতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেউ কেউ সাময়িকভাবে চ্যালেঞ্জিং সময় মোকাবেলা করতে পারেন। ব্যবসায়িক আলোচনা কিংবা লেনদেনে লিখিত প্রমাণ রাখলে ভালো করবেন। বদনাম এড়াতে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এমন সম্পর্ক সচেতনভাবে এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ হতে পারে।

মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) নতুন কিছু শেখার সুযোগ পেতে পারেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা বাড়তে পারে। প্রযুক্তিগত শিক্ষায় অগ্রগতি হতে পারে। তরুণ তরুণীদের সম্পর্ক নির্বাচনে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে। অন্যথায় ভুল সিদ্ধান্তের জন্য প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শরীর স্বাস্থ্যের বাড়তি যতেœর প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। কারও ব্যক্তিগত কিংবা গোপন বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া না করলে ভালো করবেন।
জ্যোতিষশাস্ত্রভিত্তিক কোনো পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন এই ঠিকানায় ভধুষবধুরস০৯@মসধরষ.পড়স অথবা ভিজিট করুন যঃঃঢ়://ভধুষবধুরস.পড়স/ সাইটে।

 

দাঁতের যে ক্ষতি করে ফাস্ট ফুড ও সিগারেট
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ফাস্ট ফুডের স্বাদের জন্যই আমাদের পছন্দের তালিকায় এটি থাকে প্রথমে। দিনের যেকোনো সময়েই চকলেট বা অন্য ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে চাইলেও অনেকে দূরে থাকতে পারেন না। আর এই খাদ্যাভ্যাসই ক্ষতি করছে আমাদের দাঁতের। পিৎজা, বার্গারের মতো চিটচিটে কার্বোহাইড্রেট দাঁতের ফাঁকে আটকে থেকে বাড়াচ্ছে দাঁতের ক্ষয়। সেই সঙ্গে খাবারে অতিরিক্ত চিনিও দাঁতের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।

তবে এখানেই শেষ নয়। অত্যাধিক ঠাণ্ডা পানীয় এবং অ্যালকোহলের অ্যাসিডে দাঁতের উপরের আবরণ এনামেলের ক্ষয় হয়। এনামেলের পরের পর্যায় হলো ডেন্টিন, যা অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে থাকে। এনামেল নষ্ট করে ডেন্টিনে আঘাতের পর এই ধরনের খাবার দাঁতের মূল অংশ পাল্প-এ পৌঁছে গিয়ে মারাত্নক ক্ষতি করে।

পাল্প-এ থাকে দাঁতের রক্ত এবং নার্ভ। ফলে সেখানে আঘাত করলেই শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা। দাঁতের চিকিৎসকরা বলেন, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলে মুখের ভিতরে থাকা মাইক্রো অর্গানিজম জেগে ওঠে। মাইক্রো অর্গানিজম সেই খাবার খেয়ে অ্যাসিড তৈরি করে, যা আস্তে আস্তে দাঁতের ক্ষয় করে।

দাঁতের এই ক্ষতি মূলত হয় রাতের বেলায়। কারণ, মস্তিষ্ক ঘুমিয়ে থাকার কারণে মুখ পরিষ্কার করার লালা সে সময়ে নিঃসরণ হয় না। ফলে এই মাইক্রো অর্গানিজম সহজেই দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

ফলে যারা ফাস্টফুড, ঠাণ্ডা পানীয় এবং অ্যালকোহল নিয়মিত খেয়ে থাকেন তাদের দাঁতের এনামেল দ্রুত উঠে যায়। এছাড়াও দাঁতের ক্ষতির জন্য দায়ী ধূমপান। একটানা সিগারেট খেলে দাঁতের উপরে একটি নরম স্তর তৈরি হয়।

চিকিৎসকেরা যাকে প্লাক বলেন। যেকোনো খাবার আটকে রাখতে চুম্বকের মতো কাজ করে এই প্লাক। এমন কি দাঁতের মসৃণ স্তর সরিয়ে দিয়ে এটি একটি রুক্ষ আবরণ তৈরি করে। যেখানে মাইক্রো অর্গানিজমের কাজ আরো দ্রুত হয়। ফলে একই সঙ্গে ক্ষতি হয় মাড়ি এবং দাঁতের।

তাই দাঁত বাঁচাতে ফাস্ট ফুড, ঠাণ্ডা পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা এবং দাঁত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন দাঁতের চিকিৎসকেরা। এছাড়া যদি এই ধরনের খাবার কিছুটা খান তবে সে ক্ষেত্রে খাবার খেয়েই মুখ পরিষ্কার করুন। রাতে খাওয়ার পরে অবশ্যই দাঁত মাজুন।

তবে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার ব্রাশ করেও বের করা যায় না। তখন ফ্লস ব্যবহার করুন। তাতে ফাঁকের খাবার সহজে বেরিয়ে আসে। এছাড়া হ্যান্ডল লাগানো বিশেষ ফ্লস ও ওয়াটার ফ্লসও পাওয়া যায়।

মাথায় উকুন শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
                                  

ডা. সঞ্চিতা বর্মন : বড়দের মতো শিশুদের মাথায়ও উকুনের উপদ্রব হতে পারে। শিশুদের মাথায় উকুন হলে তা শিশু স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। তাই শিশুদের মাথার ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়া জরুরি।

সাধারণত শিশুদের মাথায় উকুন বড়দের মাথা থেকে অথবা অন্য কারো মাথা থেকে আসে। সাথে মাথা নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে বা নিয়মিত চিরুনি দিয়ে না আঁচড়ালে উকুনের উপদ্রব আরো বেড়ে যায়।

শিশুর মাথায় উকুন বেশি হলে মাথার সব চুল ফেলে দিতে হবে। শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। ভালো ব্র্যান্ডের বেবি শ্যাম্পু মাথা পরিষ্কারের সময় ব্যবহার করতে হবে। তবে উকুনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়।

উকুন মারার ওষুধ শিশুর ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরের ভিতরে চলে যেতে পারে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় উকুনের জন্য কিছু ওষুধ লাগাতে বা খেতে হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ


সূত্র: ইত্তেফাক

ধনে পাতার পুষ্টিগুণ
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতীয় উপমহাদেশে ধনে পাতার ব্যবহার নতুন নয়। এটি সাধারণত যে কোনও তরকারি বা সালাদের সাথে বেশি ব্যবহার হয়। কেউ কেউ সবজির সাথে ধনে পাতা মিশিয়ে খাবার বানিয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকা ম্যঙ্গানিজ , ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন সি ও কে এর অন্যতম উৎস। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপতারী।

এবার আসুন আলোচনা করা যাক ধনে পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা সম্পর্কে:

# আমাদের শরীরের ক্ষতিকারক ক্লোরেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

# হজম শক্তি বাড়াতে এবং লিভার কে আরও বেশী সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

# ব্লাড সুগার রোগীদের সুগার লেবেল কন্ট্রোলে রাখে।

# ভিটামিন K আলজাইমার রোগের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

# anti-inflammatory গুণ পাওয়া যায় ধনে পাতাতে যা আরথারাইটিস রোগের উপকারী।

# মুখের আলসার সারিয়ে তুলতে পারে এই ধনে পাতা, এর মধ্যে থাকে অ্যান্টি- সেপ্টিকের ভরপুর গুণ।

# আমাদের স্নায়ু সচল রাখতে ধনে পাতার উপকারিতা অসামান্য।

# এই পাতা পেটের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং বমি বমি ভাব রোধ করতে সাহায্য করে।

# অ্যান্টি অ্যালারজির খুব ভালো উপশমের কাজ করে ধনে পাতা।

# মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পারে এই ধনে পাতা

# প্রচুর ক্যালসিয়াম এবং মিনারেলসের সোর্স এই ধনে পাতা যা আমাদের শরীরের হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে।

# প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ভিটামিন ‘এ’ ভিটামিন ‘সি’ফসফরাস থাকার কারণে এই পাতা দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে এবং চোখের ওপর স্ট্রেস পরতে দেয় না।

তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭

রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : ধনু (23 Nov - 21 Dec)
দিনটি শুভ সম্ভাবনাময়। মূল্যবোধ সমুন্নত থাকতে পারে। অধীনদের কাজে লাগাতে পারবেন। আর্থিক দিক ভালো যাবে। পড়াশোনায় আনন্দ পাবেন।

মকর (22 Dec - 20 Jan)
আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করুন। সে ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে পারেন। নিজের কোনো কাজের স্বীকৃতি পেতে পারেন। ব্যক্তিত্ব দিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারবেন। শরীর ভালো থাকতে পারে।

কুম্ভ (22 Jan - 18 Feb)
কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে পারবেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিদেশযাত্রার সুযোগ পেতে পারেন। ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। অকারণ ব্যয় পরিহার করুন। মামলা-মোকদ্দমা এড়িয়ে চলুন।

মীন (19 Feb - 20 Mar)
রাজনীতিবিদদের জন্য দিনটি শুভ। সাংগঠনিক কাজে সুফল পাবেন। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে। আর্থিক দিক ভালো যাবে। কোনো আশা পূরণ হতে পারে।

মেষ (21Mar - 20 Apr)
সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় হতে পারে। পাবলিক ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকবে। কর্মস্থলে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবেন। পিতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে।

বৃষ (21 Apr - 20 May)
উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি শুভ। জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানার্থে বিদেশযাত্রার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে। পেশাগত দিক ভালো যাবে। কাজকর্মে ভাগ্যের আনুকূল্য পেতে পারেন।

মিথুন (22 May - 21 Jun)
দিনটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। কোনো ধরনের সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। রিপুকে সংযত রাখুন। অন্যথায় বদনাম হতে পারে। পরধন প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে।

কর্কট (22 Jun - 22 Jul)
দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাবে। ব্যাবসায়িক দিক ভালো যেতে পারে। বিক্রয়-বাণিজ্যে লাভবান হতে পারেন। নতুন বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হতে পারে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ।

সিংহ (23 Jul - 23 Aug)
কর্মপরিবেশ অনুকূল নাও থাকতে পারে। কর্মস্থলে কোনো ঝামেলা হতে পারে। কর্মস্থলে যাবতীয় মতানৈক্য এড়িয়ে চলুন। শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। খাওয়াদাওয়ায় সতর্ক থাকুন।

কন্যা (24 Aug - 23 Sep)
বিদ্যার্থীদের জন্য দিনটি শুভ। পড়াশোনায় মন বসাতে পারবেন। ধর্মীয় কাজে আনন্দ পাবেন। সৃজনশীল কাজে সুফল পাবেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে সন্তান লাভের যোগ আছে।

তুলা (24 Sep - 23 Oct)
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা পেতে পারেন। মন ভালো থাকবে। অসুস্থ মায়ের আরোগ্য লাভ হতে পারে। উত্তেজনা পরিহার করুন।

বৃশ্চিক (24 Oct - 22 Nov)
প্রবাসী আপনজনের সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে। ব্যক্তিগত যোগাযোগে সুফল পাবেন। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারেন। কাজকর্মে উত্সাহ বোধ করবেন। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলুন।


   Page 1 of 117
     লাইফস্টাইল
৯১ বছর বয়সে এসে যাজক বললেন তিনি আসলে সমকামী
.............................................................................................
নাসাার্রিগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস
.............................................................................................
নতুন বছরে কিছু সংকল্প করেছেন? কীভাবে রাখবেন তার পাঁচটি উপায়
.............................................................................................
যৌনকর্মীদের জন্য শ্রমশিবির বন্ধ করে দিচ্ছে চীন
.............................................................................................
`শক্ত মেয়েদেরও আমি টেবিলে বসে কাঁদতে দেখেছি’
.............................................................................................
ভালোবেসে বিয়ে, অতঃপর পরকীয়া-নির্যাতন সত্ত্বেও কেন মানিয়ে চলা
.............................................................................................
ট্রাকের ওপরেই বেডরুম, বাথরুমসহ দোতলা বাড়ি
.............................................................................................
কোন বিষয়ে মানুষের মাঝে আসক্তি তৈরি হয় ?
.............................................................................................
সম্পর্ক ভাঙ্গার পরেও সাবেক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে এক বাসায় থাকতে হয়
.............................................................................................
নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড
.............................................................................................
ব্রিটিশ রানীর পাঁচটি সজ্জাশিল্পী রাজকীয় রহস্য
.............................................................................................
২৬ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত ১২ রাশির পূর্বাভাস
.............................................................................................
দাঁতের যে ক্ষতি করে ফাস্ট ফুড ও সিগারেট
.............................................................................................
মাথায় উকুন শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
.............................................................................................
ধনে পাতার পুষ্টিগুণ
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
তারুণ্য ও যৌবন অটুট থাকবে যে ১৬টি খাবারে
.............................................................................................
সহজেই মাংস সিদ্ধ করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শরীর ভাল রাখতে যে নিয়মে হাঁটাহাঁটি করবেন
.............................................................................................
লিপস্টিকের রঙেই লুকিয়ে থাকে নারীদের ব্যক্তিত্ব
.............................................................................................
শীতকালে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখুন ৫ উপায়
.............................................................................................
ওজন কমাতে কমলা খাবেন যেভাবে
.............................................................................................
সকালের নাস্তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ভালো?
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
.............................................................................................
চাপের মধ্যে হৃদযন্ত্র ভালো রাখার ১০ উপায়
.............................................................................................
চুল পড়া কমায় কালিজিরা
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
ব্রেন স্ট্রোক ঠেকানোর সহজ উপায়
.............................................................................................
সহজ উপায়ে ক্রোধ প্রশমন
.............................................................................................
কোল্ড প্রেসড অয়েলে ত্বকের যত্ন
.............................................................................................
টনসিলের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া ৫ টোটকা
.............................................................................................
করলা দিয়ে ত্বকের যত্ন!
.............................................................................................
চোখ সুস্থ রাখে এই ৪টি ব্যায়াম
.............................................................................................
শীতে গোসল না করার ক্ষতি কী?
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
একটানা কাজ করলে যে ক্ষতি হয়
.............................................................................................
টনসিলের ব্যথা কমানোর উপায়
.............................................................................................
সকালের ব্যায়াম
.............................................................................................
চুল পড়া রোধের উপায়
.............................................................................................
বয়সের ছাপের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাবেন যেভাবে
.............................................................................................
কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
শরীরের কতটুকু লবণ প্রয়োজন?
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
টুথপেস্টের মজার ৬ ব্যবহার
.............................................................................................
ত্বক পরিচর্যায় ঘরোয়া ৫ টোটকা
.............................................................................................
ব্রণ দূর করার ঘরোয়া ৬ উপায়
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে ৬টি স্বভাব
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম ।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন ।
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন ।

সম্পাদক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত । সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্ল্যাক্স (৬ষ্ঠ তলা) । ২৮/১ সি টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ ঢাকা-১০০০ । জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা ।
ফোন নাম্বার : ০২-৯৫৮৭৮৫০, ০২-৫৭১৬০৪০৪
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, ০১৯১৬৮২২৫৬৬ ।

E-mail: dailyganomukti@gmail.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি