ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

অপহরণের অভয়রাণ্য টেকনাফ, ২৪ ঘণ্টায় অপহৃত ৭ !

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪ ১১১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

গত ২৭ দিনে ২৭ জন অপহরণ

বাংলা অভিধানে ‘অভয়’ শব্দের অর্থ ‘ভয়হীন’ বা ‘নির্ভয়’ আর ‘অরণ্য’ অর্থ ‘বন’ বা ‘জঙ্গল’। অর্থাৎ যে জঙ্গলে প্রাণীদের নির্ভয় বিচরণ নিশ্চিত করা হয়, তাকে অভয়ারণ্য বলা হয়।

টেকনাফের পাহাড়ে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী দিনের পর দিন সেখানের নিরীহ মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। টেকনাফের সাধারণ মানুষ এখন অপহরণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭জন অপহরণের শিকার হয়েছে। অপহৃতদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। গত ২৭ দিনে এখানে ২৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।

দিন দিন অপহরণ বাণিজ্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্যে চলে গিয়েছে। সর্বশেষ টেকনাফে পাহাড়ি এলাকা থেকে চার কিশোরসহ ৭জনকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

অপহরণের শিকার ব্যক্তিরা বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সবজিক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলো। এদিন ৫জন এবং মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় টেকনাফের হোয়াইক্যং খারাংখালি কম্বনিয়া পাড়া পাহাড় থেকে অপর দুজনকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কম্বনিয়া পাড়ার ফিরোজ আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ নুর (১৫) ও হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আমির হোসেনের ছেলে অলী আহমেদ (৩০), ৫ নম্বর ওয়ার্ড করাচি পাড়ার লেদু মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (১৫), বেলালের ছেলে মো. জুনায়েদ (১৩), নুরুল আমিনের ছেলে মো. সাইফুল (১৪), শহর আলীর ছেলে মো. ফরিদ (২৫) ও নাজির হোসেনের ছেলে সোনা মিয়া (২৪।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলে সবজিক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে ৫ শ্রমিক অপহরণের শিকার হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।

মঙ্গলবার মোহাম্মদ নুর গরু চড়াতে গেলে দুপুরের দিকে একদল অস্ত্রধারী পাহাড় থেকে নেমে তাকে ও অলী আহমেদ নামের এক কাঠুরিয়াকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যায়। সন্ধ্যার নাগাদ মোবাইল ফোনে দুজনের মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে।

চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, দিনের পর দিন এভাবে অপহরণের ঘটনা বাড়ার কারণে কৃষক, শ্রমিকসহ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।

তবে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে পাহাড়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

অপর দিতে গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালিতে ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে অপহরণ হয় ৫ শ্রমিক। তাদের ৪ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায়।

৯ মার্চ মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৬ বছরের এক শিশুকে অপহরণ করা হয়। এখনও পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অপহরণের অভয়রাণ্য টেকনাফ, ২৪ ঘণ্টায় অপহৃত ৭ !

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

 

গত ২৭ দিনে ২৭ জন অপহরণ

বাংলা অভিধানে ‘অভয়’ শব্দের অর্থ ‘ভয়হীন’ বা ‘নির্ভয়’ আর ‘অরণ্য’ অর্থ ‘বন’ বা ‘জঙ্গল’। অর্থাৎ যে জঙ্গলে প্রাণীদের নির্ভয় বিচরণ নিশ্চিত করা হয়, তাকে অভয়ারণ্য বলা হয়।

টেকনাফের পাহাড়ে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী দিনের পর দিন সেখানের নিরীহ মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। টেকনাফের সাধারণ মানুষ এখন অপহরণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭জন অপহরণের শিকার হয়েছে। অপহৃতদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। গত ২৭ দিনে এখানে ২৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।

দিন দিন অপহরণ বাণিজ্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্যে চলে গিয়েছে। সর্বশেষ টেকনাফে পাহাড়ি এলাকা থেকে চার কিশোরসহ ৭জনকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

অপহরণের শিকার ব্যক্তিরা বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সবজিক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলো। এদিন ৫জন এবং মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় টেকনাফের হোয়াইক্যং খারাংখালি কম্বনিয়া পাড়া পাহাড় থেকে অপর দুজনকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কম্বনিয়া পাড়ার ফিরোজ আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ নুর (১৫) ও হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আমির হোসেনের ছেলে অলী আহমেদ (৩০), ৫ নম্বর ওয়ার্ড করাচি পাড়ার লেদু মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (১৫), বেলালের ছেলে মো. জুনায়েদ (১৩), নুরুল আমিনের ছেলে মো. সাইফুল (১৪), শহর আলীর ছেলে মো. ফরিদ (২৫) ও নাজির হোসেনের ছেলে সোনা মিয়া (২৪।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলে সবজিক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে ৫ শ্রমিক অপহরণের শিকার হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।

মঙ্গলবার মোহাম্মদ নুর গরু চড়াতে গেলে দুপুরের দিকে একদল অস্ত্রধারী পাহাড় থেকে নেমে তাকে ও অলী আহমেদ নামের এক কাঠুরিয়াকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যায়। সন্ধ্যার নাগাদ মোবাইল ফোনে দুজনের মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে।

চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, দিনের পর দিন এভাবে অপহরণের ঘটনা বাড়ার কারণে কৃষক, শ্রমিকসহ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।

তবে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে পাহাড়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

অপর দিতে গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালিতে ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে অপহরণ হয় ৫ শ্রমিক। তাদের ৪ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায়।

৯ মার্চ মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৬ বছরের এক শিশুকে অপহরণ করা হয়। এখনও পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।