সংবাদ শিরোনাম ::
আরিচা-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পণ্য ওঠানামার নেই পন্টুন
ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগঞ্জ
- আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
- নিয়মবহির্ভূত চার্জে দিশেহারা ঘাটের ইজারাদাররামানিকগঞ্জের আরিচা ও পাটুরিয়া নদী বন্দরে মালামাল ওঠানামার স্থায়ী পন্টুন না থাকা এবং স্পিডবোটের বার্ডিং চার্জ আদায়ে অব্যবস্থাপনার কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ইজারাদাররা। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও দীর্ঘ দিনেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি । দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লোকসানের মুখে পরে এই নৌ-বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ইজারাদাররা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য আরিচা ও পাটুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় শুল্ক ও লেবার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের ইজারা প্রদান করা হলেও সেখানে মালামাল ওঠানামার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পন্টুন নেই। ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সায়মা এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মেসার্স মুবিন ট্রেডার্স’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পন্টুন না থাকায় শ্রমিকদের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা এই ঘাট ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব ও ইজারাদারের আয়ের ওপর।
এনিয়ে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেছেন ইজারাদাররা।
আবেদনপত্রগুলোতে ইজারাদার মো: মনিউর জাহিদ খান ও মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, লঞ্চের বার্ডিং চার্জ নির্ধারণে চরম বৈষম্য কাজ করছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫০ জন যাত্রীর জন্য ১৩ টাকা চার্জ নির্ধারিত থাকলেও, লঞ্চ মালিকরা ধারণক্ষমতা তোয়াক্কা না করে নামমাত্র ২০ টাকা হারে চার্জ প্রদান করছেন।
অন্যদিকে, আরিচা-কাজিরহাট রুটে চলাচলরত স্পিডবোটগুলোর বার্ডিং চার্জ আদায় নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আইনি জটিলতা। ইজারাদারের দাবি, স্পিডবোটের বার্ডিং চার্জ নির্ধারণ করা আছে ৫০ টাকা, যা আদায় করা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, “স্পিডবোট যাত্রী প্রবেশ ফি”-র সাথে বার্ডিং চার্জ অবৈধভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা বিদ্যমান নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক। বিগত কয়েক মাস ধরে স্পিডবোট থেকে কোনো চার্জ আদায় করতে না পেরে ইজারাদার বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু করে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান এবং আরিচা নদী বন্দরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে পাটুরিয়া ১ বা ২ নম্বর ফেরিঘাটে এবং আরিচা ঘাটে দ্রুত র্যাম্পসহ দুইটি স্থায়ী পন্টুন স্থাপনের দাবি জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো সুরাহা মেলেনি।
ভুক্তভোগী ইজারাদাররা জানিয়েছেন, তারা বিধি মোতাবেক সরকারি সকল পাওনাদি পরিশোধ করে ইজারা গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায় দ্রুত পন্টুন স্থাপন এবং স্পিডবোটের বার্ডিং চার্জ আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না দিলে তাদের পক্ষে ঘাট পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা সুব্রত রায় বলেন, বার্দিং চার্জের বিষয়ে আগামী মিটিংয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। আর পাটুরিয়া ঘাটে ১ ও ২ নম্বর ঘাটে একটিতে সাময়িক লেবার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম করছে ইজারাদার। তাদের স্থায়ী পন্টুনের আবেদনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিদর্শন করে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে নির্দিষ্ট স্থানে পন্টুন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কর্তৃপক্ষ।
ইজারাদাররা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন- দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে, যা এই নৌ-বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে ব্যাহত হতে পারে।

















