ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ Logo সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে আনসার-ভিডিপি Logo নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম Logo কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে, আহত-৭ Logo শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ Logo বাগেরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Logo মাগুরায় দুই আসনে ৭ দলের ১১ প্রার্থী Logo ২য় পদ্মা সেতু ও নদী শাসন ইসু প্রভাব ফেলবে গোয়ালন্দের ভোটের হিসেবে Logo ‘এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই’ Logo পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে

ইউরোতে থামল রোনালদোর যাত্রা, সেমিফাইনালে ফ্রান্স সংগৃহীত ছবি

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ক্লান্তিকর ১২০ মিনিটের ফুটবল শেষে ম্যাচের ভাগ্য গড়াল টাইব্রেকারে। শেষ ষোলোয় অবিশ্বাস্য তিন সেভে পর্তুগালের নায়ক হয়ে ওঠা গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা এবার আর পারলেন না। উল্টো পোস্টে মেরে বসলেন তার সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। ব্যবধান ধরে রেখে, পাঁচ শটের পাঁচটিই জালে জড়িয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে উঠল ফ্রান্স।

হামবুর্গে শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে পরের ধাপে ওঠে ফরাসিরা।

প্রথম ঘণ্টার সাদামাটা ফুটবলের পর, অল্প সময়ের জন্য হলেও খেলায় প্রাণ ফেরে। ভালো কয়েকটি সুযোগও পায় দুই দল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মতো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেনি কেউ।

শেষে গিয়ে পর্তুগালের জন্য কান্না হয়ে আসে টাইব্রেকারে ফেলিক্সের ওই মিস শট। এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল ইউরোয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যাত্রা।

এবারের আসর দিয়ে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতাটিতে নিজের পথচলা শেষের কথা আগেই জানান ৩৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা।

বড় মঞ্চের বাড়তি উত্তেজনা, সঙ্গে নিজেদের সেরা রূপে মেলে ধরার চাপ-সবকিছুর প্রভাবই যেন পড়ে দল দুটির ওপর। শুরু থেকে তাদের খেলায় গতির ঘাটতি খুব বেশি না থাকলেও, আক্রমণগুলো ঠিক গোছানো ছিল না।

২০তম মিনিটে গিয়ে লক্ষ্যে প্রথম শটের দেখা মেলে। দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন থিও এরনঁদেজ, তবে নাগালের মধ্যে থাকায় ঠেকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি গোলরক্ষকের। দ্ইু মিনিটের মধ্যে আরেকটি আক্রমণে ছয় গজ বক্সে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন কিলিয়ান এমবাপে, সেটাও রুখে দেন কস্তা।

প্রথমার্ধে পর্তুগিজদের পারফরম্যান্স ছিল আরও ধারহীন। পজেশন রাখায় এগিয়ে থাকলেও, বিরতির আগে একবারের জন্যও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা। ডি-বক্সের বাইরেই তাদের অপরিকল্পিত আক্রমণগুলো ভেস্তে যাচ্ছিল। আর ফরাসিদের তিন শটের মধ্যে এরনঁদেজের ওই একটিই শুধু ছিল লক্ষ্যে।

বিরতির পর এমবাপের পায়ে গতির ঝলক দেখা যায়। ৫০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে তড়িৎ জায়গা করে নিয়ে শট নেন তিনি; কিন্তু সেটাও গোলরক্ষক বরাবর। এর কিছুক্ষণ পরই বের্নার্দো সিলভার হেডে বল মুখের একপাশে লাগে এমবাপের। নাক ভেঙে যাওয়ায় মুখে মাস্ক পরে খেলছেন তিনি। শুয়ে পড়ে মাস্ক খুলে ফেলেন, কিছুক্ষণ নাক ধরে রাখতে দেখা যায় তাকে। একটু পরই অবশ্য উঠে দাঁড়ান তিনি, কেটে যায় শঙ্কা।

পরের কয়েক মিনিটে পর্তুগালের আক্রমণে যেন প্রাণ সঞ্চার হয়। প্রতিপক্ষের ওপর ছোটখাটো একটা ঝড় বইয়ে দেয় দলটি। ৬১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসের কোনাকুনি শটটি ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মাইক মিয়াঁ।

সুযোগ ছিল তারপরও, আলগা বল পেয়ে জোয়াও কানসেলোর প্রচেষ্টা হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। দুই মিনিট পর আবার ফ্রান্সের বক্সে হানা দেয় পর্তুগাল। এবার ভিতিনিয়ার শট ক্ষীপ্রতায় রুখে দেন মিয়াঁ।

এরপরই পাল্টা-আক্রমণ শাণায় ফ্রান্স। রান্দাল কোলো মুয়ানির কোনাকুনি শট স্লাইড করে আটকে দেন রুবেন দিয়াস। খানিক বাদে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৭৪তম মিনিটে ফ্রান্সের হতাশা বাড়ে আরও। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে উসমান দেম্বেলের শটে পোস্টের বাইরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায় বল।

সবশেষে, টাইব্রেকারে ভাগ্য সহায় ফ্রান্সের, কপাল পুড়েছে পর্তুগালের। ২০১৬ আসরের ফাইনালে রোনালদো-পেপেদের কাছে হেরেই শিরোপাস্বপ্ন ভেঙেছিল ফরাসিদের। আগামী মঙ্গলবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেনের মুখোমুখি হবে দিদিয়ে দেশমের দল।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

আপডেট সময় :

 

ক্লান্তিকর ১২০ মিনিটের ফুটবল শেষে ম্যাচের ভাগ্য গড়াল টাইব্রেকারে। শেষ ষোলোয় অবিশ্বাস্য তিন সেভে পর্তুগালের নায়ক হয়ে ওঠা গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা এবার আর পারলেন না। উল্টো পোস্টে মেরে বসলেন তার সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। ব্যবধান ধরে রেখে, পাঁচ শটের পাঁচটিই জালে জড়িয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে উঠল ফ্রান্স।

হামবুর্গে শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে পরের ধাপে ওঠে ফরাসিরা।

প্রথম ঘণ্টার সাদামাটা ফুটবলের পর, অল্প সময়ের জন্য হলেও খেলায় প্রাণ ফেরে। ভালো কয়েকটি সুযোগও পায় দুই দল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মতো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেনি কেউ।

শেষে গিয়ে পর্তুগালের জন্য কান্না হয়ে আসে টাইব্রেকারে ফেলিক্সের ওই মিস শট। এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল ইউরোয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যাত্রা।

এবারের আসর দিয়ে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতাটিতে নিজের পথচলা শেষের কথা আগেই জানান ৩৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা।

বড় মঞ্চের বাড়তি উত্তেজনা, সঙ্গে নিজেদের সেরা রূপে মেলে ধরার চাপ-সবকিছুর প্রভাবই যেন পড়ে দল দুটির ওপর। শুরু থেকে তাদের খেলায় গতির ঘাটতি খুব বেশি না থাকলেও, আক্রমণগুলো ঠিক গোছানো ছিল না।

২০তম মিনিটে গিয়ে লক্ষ্যে প্রথম শটের দেখা মেলে। দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন থিও এরনঁদেজ, তবে নাগালের মধ্যে থাকায় ঠেকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি গোলরক্ষকের। দ্ইু মিনিটের মধ্যে আরেকটি আক্রমণে ছয় গজ বক্সে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন কিলিয়ান এমবাপে, সেটাও রুখে দেন কস্তা।

প্রথমার্ধে পর্তুগিজদের পারফরম্যান্স ছিল আরও ধারহীন। পজেশন রাখায় এগিয়ে থাকলেও, বিরতির আগে একবারের জন্যও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা। ডি-বক্সের বাইরেই তাদের অপরিকল্পিত আক্রমণগুলো ভেস্তে যাচ্ছিল। আর ফরাসিদের তিন শটের মধ্যে এরনঁদেজের ওই একটিই শুধু ছিল লক্ষ্যে।

বিরতির পর এমবাপের পায়ে গতির ঝলক দেখা যায়। ৫০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে তড়িৎ জায়গা করে নিয়ে শট নেন তিনি; কিন্তু সেটাও গোলরক্ষক বরাবর। এর কিছুক্ষণ পরই বের্নার্দো সিলভার হেডে বল মুখের একপাশে লাগে এমবাপের। নাক ভেঙে যাওয়ায় মুখে মাস্ক পরে খেলছেন তিনি। শুয়ে পড়ে মাস্ক খুলে ফেলেন, কিছুক্ষণ নাক ধরে রাখতে দেখা যায় তাকে। একটু পরই অবশ্য উঠে দাঁড়ান তিনি, কেটে যায় শঙ্কা।

পরের কয়েক মিনিটে পর্তুগালের আক্রমণে যেন প্রাণ সঞ্চার হয়। প্রতিপক্ষের ওপর ছোটখাটো একটা ঝড় বইয়ে দেয় দলটি। ৬১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসের কোনাকুনি শটটি ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মাইক মিয়াঁ।

সুযোগ ছিল তারপরও, আলগা বল পেয়ে জোয়াও কানসেলোর প্রচেষ্টা হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। দুই মিনিট পর আবার ফ্রান্সের বক্সে হানা দেয় পর্তুগাল। এবার ভিতিনিয়ার শট ক্ষীপ্রতায় রুখে দেন মিয়াঁ।

এরপরই পাল্টা-আক্রমণ শাণায় ফ্রান্স। রান্দাল কোলো মুয়ানির কোনাকুনি শট স্লাইড করে আটকে দেন রুবেন দিয়াস। খানিক বাদে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৭৪তম মিনিটে ফ্রান্সের হতাশা বাড়ে আরও। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে উসমান দেম্বেলের শটে পোস্টের বাইরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায় বল।

সবশেষে, টাইব্রেকারে ভাগ্য সহায় ফ্রান্সের, কপাল পুড়েছে পর্তুগালের। ২০১৬ আসরের ফাইনালে রোনালদো-পেপেদের কাছে হেরেই শিরোপাস্বপ্ন ভেঙেছিল ফরাসিদের। আগামী মঙ্গলবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেনের মুখোমুখি হবে দিদিয়ে দেশমের দল।