ইটভাটার মালিকানার অংশীদারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৩০ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার মদনে স্থায়ী অংশীদারকে না জানিয়ে এবং অংশীদারের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অন্য স্থানে নতুন নামে টভাটা স্থাপনের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে ব্যাবসায়ী পার্টনারের বিরুদ্ধে। মদনের কাইটাইল গ্রামের সাহাব উদ্দিন আহম্মদ গতকাল মঙ্গলবার একই উপজেলার জাহাঙ্গীর পুর গ্রামের মো. পলাশ উজ্জামান খানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এর আগে সাহাব উদ্দিন আহম্মদ এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী সাহাব উদ্দিন আহম্মদ মদন উপজেলার কাইটাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে মো. পলাশ উজ্জামান খান একই উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া আরও দুইজন অংশিদার আছেন। তারা হচ্ছেন- একই উপজেলার কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. খায়রুল ইসলামও পার্শ^বর্তী আটপাড়া উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের পরিমল সরকার।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের মদন মৌজার নাগডর বিলপাড়ে অবস্থিত মেসার্স তুষার ব্রিকস নামীয় ইটভাটার স্বত্বাধিকারীমদনের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মো. পলাশ উজ্জামান খান। তাঁর সাথে ২০২১ সাল থেকে ব্যাবসায়িক অংশিদার হিসেবে যুক্ত হন একই উপজেলার কাইটাইল গ্রামের সাহাব উদ্দিন আহম্মদ। দীর্ঘদিন যাবৎ চুক্তিভিত্তিক যৌথ ইটভাটার ব্যবসায় জড়িত থাকায় সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আজীবনের জন্য নেত্রকোনা আদালতে নোটারী পাবলিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে যৌথ ইটভাটার ব্যবসায় ৪০% স্থায়ী অংশীদার হিসাবে মূলধন বাবদ সাহাব উদ্দিন আহম্মদ এককভাবে ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৬ টাকা বিনিয়োগ করেন। পলাশ উজ্জামান খান এরই মধ্যে সাহাব উদ্দিনকে না জানিয়ে তার বিনিয়োগকৃত টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কৌশলে ইটভাটা ব্যবসার অংশীদার হতে সাহাব উদ্দিনকে বাদ দিতে গোপনে মেসার্স তুষার ব্রিকসের সীমানা হতে প্রায় একশত মিটার পশ্চিমে উপজেলার কাপাসাটিয়া, গঙ্গানগর ও বাজিতপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য অভয়াশ্রম বিলের ভূয়া দাগ খতিয়ান দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছাড়াই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে মেসার্স পলাশ ব্রিকস নামে আগাম লাইসেন্স সংগ্রহের পাঁয়তারা করছেন পলাশ উজ্জামান খান।
অভিযোগকারী সাহাব উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এমতাবস্থায় অস্তিত্ব বিহীন মেসার্স পলাশ ব্রিকস নামে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রদান করলে আমার বিনিয়োগকৃত টাকা ও অংশীদারীত্ব চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং আমি ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবো। আমাকে পুরো পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। পলাশ-উজ্জামান খানের অসৎ উদ্দেশ্য রুখতে আর আমার ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি রক্ষায় ও অন্যান্য ভবিষ্যৎ বিরূপ বাস্তবতা বিবেচনা করার জন্যে প্রশাসনের কাছে সদয় মর্জি কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. পলাশ উজ্জামান খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সাহাব উদ্দিন আমার সাথে বিনা পুঁজিতে ব্যবসায়িক পার্টনার হইতে চাইছিল। তাকে ব্যবসার পার্টনার না করায় সে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। সে আমার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করছে।
নেত্রকোনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ইটভাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার কাছে পৌছেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















