ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

এসসিআরএফ’র বিস্ফোরক তথ্য : ৮০ শতাংশ নৌশ্রমিক চর্ম ও জটিলরোগে আক্রান্ত

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী নৌযানে কর্মরত প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারি চর্ম ও পেটের পীড়াসহ নানারকমের জটিল ব্যধিতে ভুগছেন।

চর্মরোগ থেকে স্কিন ক্যান্সার এবং পেটের পীড়া থেকে লিভার সিরোসিজের মতো প্রাণঘাতি রোগেও আক্রান্তর আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের অধিকাংশ নদী ইতোমধ্যে দূষিতর তালিকায়। এছাড়া উপকূলীয় নদ-নদীর পানিতে অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতি রয়েছে। এসব পানি ব্যবহার করে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারিরা জটিলব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে অনেকেই ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন।

ঢাকার সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক প্রতিবেদনে এসব জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সংগঠনের সংবাদ বার্তায় প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে নৌশ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যাত্রী ও পণ্যবাহী সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের নৌযানে পানি শোধনব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।

বছরব্যাপী জরিপ ও অনুসন্ধান চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। যেখানে বলা হয়, জরিপকালে ১০ শ্রেণির নৌযানের শতাধিক শ্রমিক ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের জাহাজ, স্কেভেটর (খননযন্ত্র), ড্রেজার (পলি অপসারণ যন্ত্র), ডাম্ববার্জ ও হাউজবোটসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান রয়েছে।

এসসিআরএফ জানায়, দেশের এক পঞ্চমাংশ উপকূলীয় জনপদ। সেখানকার নদ-নদীর পানিতে প্রায় সারাবছরই অতিরিক্ত লবনাক্ততা বিরাজমান। পাশাপাশি প্রায় সকল নদী মারাত্মক দূষণের শিকার। নৌশ্রমিকরা দিনের পর দিন নৌযানে থাকেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি নৌযানসমূহে কোনো পানি শোধনাগার নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার ও সেরকারি নৌযান মালিক-কোনো কর্তৃপক্ষই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে না। স্বল্পবেতনভোগী নৌশ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সব কাজে নদীর পানি ব্যবহার করছেন। এতে তারা ভয়ানক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসসিআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন নদীর লোনা ও দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মের অনেক রোগসহ কর্কট রোগ (স্কিন ক্যান্সার) ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ হতে পারে।

লিভার সিরোসিস, রক্ত আমাশয়, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক আলসার (পাকস্থলীতে ক্ষত) ও নিয়মিত ডাইরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল আন্ত্রিক পীড়া হতে পারে। এই সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলরত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের নৌযানে পানি শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে এসসিআরএফ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এসসিআরএফ’র বিস্ফোরক তথ্য : ৮০ শতাংশ নৌশ্রমিক চর্ম ও জটিলরোগে আক্রান্ত

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

 

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী নৌযানে কর্মরত প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারি চর্ম ও পেটের পীড়াসহ নানারকমের জটিল ব্যধিতে ভুগছেন।

চর্মরোগ থেকে স্কিন ক্যান্সার এবং পেটের পীড়া থেকে লিভার সিরোসিজের মতো প্রাণঘাতি রোগেও আক্রান্তর আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের অধিকাংশ নদী ইতোমধ্যে দূষিতর তালিকায়। এছাড়া উপকূলীয় নদ-নদীর পানিতে অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতি রয়েছে। এসব পানি ব্যবহার করে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারিরা জটিলব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে অনেকেই ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন।

ঢাকার সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক প্রতিবেদনে এসব জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সংগঠনের সংবাদ বার্তায় প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে নৌশ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যাত্রী ও পণ্যবাহী সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের নৌযানে পানি শোধনব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।

বছরব্যাপী জরিপ ও অনুসন্ধান চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। যেখানে বলা হয়, জরিপকালে ১০ শ্রেণির নৌযানের শতাধিক শ্রমিক ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের জাহাজ, স্কেভেটর (খননযন্ত্র), ড্রেজার (পলি অপসারণ যন্ত্র), ডাম্ববার্জ ও হাউজবোটসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান রয়েছে।

এসসিআরএফ জানায়, দেশের এক পঞ্চমাংশ উপকূলীয় জনপদ। সেখানকার নদ-নদীর পানিতে প্রায় সারাবছরই অতিরিক্ত লবনাক্ততা বিরাজমান। পাশাপাশি প্রায় সকল নদী মারাত্মক দূষণের শিকার। নৌশ্রমিকরা দিনের পর দিন নৌযানে থাকেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি নৌযানসমূহে কোনো পানি শোধনাগার নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার ও সেরকারি নৌযান মালিক-কোনো কর্তৃপক্ষই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে না। স্বল্পবেতনভোগী নৌশ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সব কাজে নদীর পানি ব্যবহার করছেন। এতে তারা ভয়ানক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসসিআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন নদীর লোনা ও দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মের অনেক রোগসহ কর্কট রোগ (স্কিন ক্যান্সার) ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ হতে পারে।

লিভার সিরোসিস, রক্ত আমাশয়, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক আলসার (পাকস্থলীতে ক্ষত) ও নিয়মিত ডাইরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল আন্ত্রিক পীড়া হতে পারে। এই সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলরত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের নৌযানে পানি শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে এসসিআরএফ।