ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪

কুড়িগ্রামে সড়কে সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ নেতা

শ্যামল ভৌমিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে সড়কে মোটরসাইকেলের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম সোহান (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুর বিরুদ্ধে।শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের খরিলগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান কুড়িগ্রাম পৌর শহরের হাটির পার এলাকার মৃত আমজাদ হোসেন বুলুর ছেলে। হিহত সোহান বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী কুড়িগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত ব্যবসায়ী সোহানের বন্ধু খন্দকার রেদোয়ান মাহমুদ বলেন, আমরা সোহানসহ তিনজন বন্ধু শহরের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারে সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে আমাদের গাড়ির সামনে এসে ছিটকে পরে। তখন আমরা আহত মোটরসাইকেল আরোহী দুজনকে উদ্ধার করে একটি অটোতে করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠাই দেই। পরে আমরা শহরের দিকে আসার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে এসে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুরসহ তার দলবল আমার জীপ গাড়িকে পথ রোধ করে। কিছু বুঝে উঠার আগে আমাদের উপর হামলা চালায় তারা। তারা বলতে ছিলেন আমরা নাকি মোটরসাইকেলকে সাইড দেই নাই সেখানে। এ কথা বলে আমার বন্ধু সোহানকে আরও মারতে শুরু করে তারা। এতে গুরুত্ব আহত হয় সোহান।

তিনি আরও বলেন, পরে আমার বন্ধু সোহান আহত হলে ছাত্রলীগ নেতা নিজই আমাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়িতে করে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতাল নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালের সামনে এসেও ছাত্রলীগ নেতা ও তার দলবল আবারও সোহানকে ডাং মাইর শুরু করে। আমরা এসে আহত সোহানকে হাসাপাতালে নিলে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে আমি ঢাকায় রয়েছি। ঘটনা জেনেছি। বিন্দুর সাথে একবার কথা হয়েছে। সে নিজের দায় অস্বীকার করেছে।’ ছাত্রলীগ জড়িত থাকার প্রশ্নে সাদ্দাম বলেন, ‘ঘটনায় বিন্দু কিংবা ছাত্রলীগের কোনও নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থাসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যেই জড়িত হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে সড়কে সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময় : ০২:৫১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কুড়িগ্রামে সড়কে মোটরসাইকেলের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম সোহান (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুর বিরুদ্ধে।শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের খরিলগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান কুড়িগ্রাম পৌর শহরের হাটির পার এলাকার মৃত আমজাদ হোসেন বুলুর ছেলে। হিহত সোহান বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী কুড়িগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত ব্যবসায়ী সোহানের বন্ধু খন্দকার রেদোয়ান মাহমুদ বলেন, আমরা সোহানসহ তিনজন বন্ধু শহরের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারে সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে আমাদের গাড়ির সামনে এসে ছিটকে পরে। তখন আমরা আহত মোটরসাইকেল আরোহী দুজনকে উদ্ধার করে একটি অটোতে করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠাই দেই। পরে আমরা শহরের দিকে আসার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে এসে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুরসহ তার দলবল আমার জীপ গাড়িকে পথ রোধ করে। কিছু বুঝে উঠার আগে আমাদের উপর হামলা চালায় তারা। তারা বলতে ছিলেন আমরা নাকি মোটরসাইকেলকে সাইড দেই নাই সেখানে। এ কথা বলে আমার বন্ধু সোহানকে আরও মারতে শুরু করে তারা। এতে গুরুত্ব আহত হয় সোহান।

তিনি আরও বলেন, পরে আমার বন্ধু সোহান আহত হলে ছাত্রলীগ নেতা নিজই আমাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়িতে করে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতাল নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালের সামনে এসেও ছাত্রলীগ নেতা ও তার দলবল আবারও সোহানকে ডাং মাইর শুরু করে। আমরা এসে আহত সোহানকে হাসাপাতালে নিলে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে আমি ঢাকায় রয়েছি। ঘটনা জেনেছি। বিন্দুর সাথে একবার কথা হয়েছে। সে নিজের দায় অস্বীকার করেছে।’ ছাত্রলীগ জড়িত থাকার প্রশ্নে সাদ্দাম বলেন, ‘ঘটনায় বিন্দু কিংবা ছাত্রলীগের কোনও নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থাসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যেই জড়িত হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।