ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাগমারায় এলজিইডির কাজে নিম্নমানের অভিযোগ, তথ্য দিতে অনীহা প্রকৌশলীর Logo কক্সবাজারে মায়ের সঙ্গে কারাগারে ছয় বছরের শিশু Logo নেছারাবাদে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান Logo গোপালগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান, মাদকসহ আটক ১ Logo ঘাটাইলে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ Logo সুন্দরবন থেকে দেড় বছরে ৬১ দস্যুকে অস্ত্রসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড Logo মনোনয়ন কিনতে গিয়ে লাঞ্ছিত প্রার্থীরা Logo পলিক্রস পেঁয়াজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন, বদলাচ্ছে আয়ের হিসাব Logo ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo লাইসেন্স নেই, অধিক মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করায় জরিমানা

কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে সদাইশাহ এর মাজার

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫০২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক নামক স্থানে কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বহু পুরনো ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে মাজার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং প্রতিদিনই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মাজারের খুব কাছ পর্যন্ত নদী পৌঁছে গেছে, ফলে যে কোনো সময় মূল স্থাপনাটি ভেঙে পড়ে নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাজারটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে জিয়ারত করেন। তাই এই মাজার বিলীন হয়ে গেলে তা হবে একটি অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
তরুন সমাজ সেবক জাবেদুর রহমান রিপন জানান, অতীতেও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে জিও ব্যাগ ফেলা, বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণসহ জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসনের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে শতবর্ষী এই ধর্মীয় নিদর্শন।
এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন রোধে যেভাবে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান রক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে সদাইশাহ এর মাজার

আপডেট সময় :

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক নামক স্থানে কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বহু পুরনো ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে মাজার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং প্রতিদিনই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মাজারের খুব কাছ পর্যন্ত নদী পৌঁছে গেছে, ফলে যে কোনো সময় মূল স্থাপনাটি ভেঙে পড়ে নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাজারটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে জিয়ারত করেন। তাই এই মাজার বিলীন হয়ে গেলে তা হবে একটি অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
তরুন সমাজ সেবক জাবেদুর রহমান রিপন জানান, অতীতেও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে জিও ব্যাগ ফেলা, বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণসহ জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসনের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে শতবর্ষী এই ধর্মীয় নিদর্শন।
এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন রোধে যেভাবে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান রক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান।