কোয়েল পাখির খামারেই সফল উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী মুরাদ
- আপডেট সময় : ৯৫ বার পড়া হয়েছে
শখের বসত কোয়েল পাখি পালন করতে গিয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে কোয়েল পাখির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন লোহাগাড়ার এক প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী। তার খামারে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার ডিম আসে সেখান থেকে প্রতিমাসে ডিম বিক্রি করে ভাল আয় করে যাচ্ছেন।এ খামারীর সফলতা দেখে কোয়েল পাখি পালনে আগ্রহী হচ্ছে এলাকার আরো অনেক যুবকরাও।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের ইসলামিয়া পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মুরাদ। তার পিতার নাম জসিম উদ্দিন। লেগুনা চালক। তারা ২ভাই এক বোন। সবার বড় মুরাদ। সে জন্মগত ভাবে শারিরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটি পায়ের সমস্যা। হাতের উপর ভর সে চলাফেরা করে। প্রতিবন্ধী হলেও হাল ছাড়েনি মুরাদ।
বর্তমানে মুরাদ আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেনীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে কারো কাছে হাত না পেতে নিজের প্রতিভা দিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারির শুরু দিকে তার বাড়ির পার্শ্বে ১২দিনের হাইব্রিড জাতের ৫০পিস কোয়েল পাখি সংগ্রহ করে শখের বসত গড়ে তুলেন খামার।
পরবর্তীতে ৪০ দিনের মধ্যে এ পাখি ডিম দিতে শুরু করল। আস্তে আস্তে তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবসায় নিয়ে গেল মুরাদ। পরবর্তীতে সে ৩হাজার কোয়েল পাখি (মাদার পাখি) নিয়ে ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়। সমৃদ্ধ আর সফলতা শুরু হয় তার এ শ্রমের ও কাজের। মাদার পাখি প্রতিদিন ২হাজার ৭শ টির মত ডিম দিয়ে থাকে। যা বানিজ্যিক ভাবে তার কোয়েল পাখির ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়েছে। কোয়েলের ডিম বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন এই উদ্যোক্তা। পাখির ডিম ও পাখি বিক্রি করে বেশি লাভে রয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির পাশেই পড়ালেখার পাশাপাশি মুরাদ কোয়েল ফার্ম এন্ড হ্যাচারী নামে তার খামারে টিনসেড ঘর রয়েছে।
সেখানে প্রায় ৩ হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন এগুলোর দেখাশুনা করছেন। এছাড়াও তিনজনের মত কর্মচারী রয়েছে তার খামার পরিচালনার জন্য। যার ফলে তাদেরও তৈরি হয়েছে একটি আয়ের উৎস। প্রতিনিয়ত এ খামার থেকে সংগ্রহ হচ্ছে প্রায় ২হাজার ৭শত ডিম। ১০০গ্রাম কোয়েল পাখি পাইকারি দরে বিক্রি ৩৫ টাকায় এবং প্রতি পিস ডিম পাইকারী বিক্রি করছেন ৩ টাকা দরে। খামারটি পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত থাকে। মালিক কে পেয়ে খাবার আশায় ছোটাছুটি করে পাখিগুলো। এছাড়াও খুচরা বিক্রি করার জন্য রয়েছে তার খামারে সুবিধা। যেখানে কোয়েল পাখির ডিম, কোয়েল পাখি পাওয়া যায়। খরচ বাদে এতে তার মাসে আয় হচ্ছে লাখ টাকার মত।
সফল কোয়েল খামারী প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী মোঃ মুরাদ জানান, ২০২৩ সালে বাড়ির পার্শ্বে ১২দিনের হাইব্রিড জাতের ৫০পিস কোয়েল পাখি সংগ্রহ করে শখের বসত গড়ে তুলেছিলাম খামার। ডিমের চাহিদা এবং মাংসের চাহিদা বেশি থাকায় পরিবারের সহায়তায় পরবর্তীতে বানিজ্যিক ভাবে কোয়েল খামার গড়ে তুলি। এই খামারে প্রতিদিন পাখির জন্য চার বেলায় খাবার দেয়া লাগে। দিনে ২ বার ও রাতে ২ বার করে মোট ৪ বার স্টাটার ফিড ও কোয়েল ফিড দিয়ে থাকি।
তিনি আরো জানান, আমার বাবা একজন গাড়ি চালক।আমি জন্মগত ভাবে প্রতিবন্ধী। তবে, আমি আমার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েছি। পড়াশুনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরার জন্য আমি এ ব্যবসা করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছি। বর্তমানে আমার খামারে থাকা ৩ হাজার কোয়েল পাখিই ডিম দেয়। বেশ ভালোই লাভবান হচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মুরাদ প্রতিবন্ধী হলেও তার অনেক প্রতিভা রয়েছে। কর্ম, মেধাকে কাজে লাগিয়ে সে কোয়েল পাখির ব্যবসা করে সফল হয়েছে। সে একজন সফল কোয়েল খামারী। আমরা তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা পেয়ে থাকি।
আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ( ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মুরাদ একজন ভাল ছেলে। সে আমাদের কলেজের ছাত্র। সে শারিরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কঠোর পরিশ্রম ও তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে কোয়েল পাখির খামার করে তিনি লাভবান হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষজন তার কাছ থেকে কোয়েল পাখির ডিম কিনে নিয়ে যান। আপনারা যে কেউ চাইলে এই কোয়েল পাখির খামার করতে পারেন এটা লাভজনক একটি খামার। লালন পালনে তেমন বেশি কষ্ট নেই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ জানান, মুরাদ কোয়েল পাখির পালন করে সফল হয়েছেন। তার ফার্মে প্রথমে ৫০ টি দিয়ে শুরু করেছিল এখন তার ফার্মে প্রায় ৩হাজারের মতো কোয়েল পাখি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজারের মতো ডিম উৎপাদন হয় তার খামারে। মুরাদ কে প্রতিবন্ধী বলবনা, বিশেষ ভাবে সক্ষম একজন বাক্তি। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াশুনার পাশাপাশি কোয়েল পাখি লালন পালন করে সে স্বাবলম্বি হয়েছে। তার প্রতিভা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। মুরাদ একদিন চট্টগ্রাম নয়,বাংলাদেশের সেরা উদ্যোক্ত হবে। তাকে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে সবসময় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।













