ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: উপকূলজুড়ে বিচ্ছিন্ন ৪০ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ, অচল মোবাইল নেটওয়ার্ক

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ ৬২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ঘূর্ণিঝড় রেমালের দাপট নিয়ে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান। বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে যতরকমের ব্যবস্থা নিয়েই পরিকল্পনা করে উপকূলের মানুষদের রক্ষায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যার দিকে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। রাত ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। উপকূলে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি তীব্র ঝড়োবাতাস বয়ে যায়।

ঝড়ে দক্ষিণা জনপদের বিশাল এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিদ্যুৎহীন। দুর্ঘটনা বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ে গাছ পড়ে, লাইন ছিঁড়ে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। বিদ্যুৎহীন বহু না জায়গায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ। মোবাইল কোম্পানিগুলো বিকল্প উপায়ে নেটওয়ার্ক চালু রাখার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তরফে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ ৬৯ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। উপকূলের পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও ঝালকাঠি।

পটুয়াখালীতে ৬ লাখ, বাগেরহাটে সাড়ে ৪ লাখ ও ভোলায় সোয়া ৪ লাখ, পিরোজপুরে ৩ লাখ, বরিশালে ১ লাখ ৮০ হাজার, সাতক্ষীরায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ঝালকাঠিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাতে আরও ৮-১০ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওজোপাডিকোরও ২-৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যথাসময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি প্রয়োজনে বাতিল এবং অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ১৬৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গভীর সমুদ্রে তেল খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তার কারণে জ্বালানি তেলবাহী দুটি জাহাজকে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে তেল পরিবহন বন্ধ থাকবে। রেমালের কারণে এলএনজি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানায় পেট্রোবাংলা। দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে (এফএসআরইউ) এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। রাতের মধ্যে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় উপকূলে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মোবাইল কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: উপকূলজুড়ে বিচ্ছিন্ন ৪০ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ, অচল মোবাইল নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

 

ঘূর্ণিঝড় রেমালের দাপট নিয়ে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান। বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে যতরকমের ব্যবস্থা নিয়েই পরিকল্পনা করে উপকূলের মানুষদের রক্ষায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যার দিকে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। রাত ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। উপকূলে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি তীব্র ঝড়োবাতাস বয়ে যায়।

ঝড়ে দক্ষিণা জনপদের বিশাল এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিদ্যুৎহীন। দুর্ঘটনা বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ে গাছ পড়ে, লাইন ছিঁড়ে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। বিদ্যুৎহীন বহু না জায়গায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ। মোবাইল কোম্পানিগুলো বিকল্প উপায়ে নেটওয়ার্ক চালু রাখার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তরফে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ ৬৯ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। উপকূলের পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও ঝালকাঠি।

পটুয়াখালীতে ৬ লাখ, বাগেরহাটে সাড়ে ৪ লাখ ও ভোলায় সোয়া ৪ লাখ, পিরোজপুরে ৩ লাখ, বরিশালে ১ লাখ ৮০ হাজার, সাতক্ষীরায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ঝালকাঠিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাতে আরও ৮-১০ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওজোপাডিকোরও ২-৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যথাসময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি প্রয়োজনে বাতিল এবং অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ১৬৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গভীর সমুদ্রে তেল খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তার কারণে জ্বালানি তেলবাহী দুটি জাহাজকে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে তেল পরিবহন বন্ধ থাকবে। রেমালের কারণে এলএনজি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানায় পেট্রোবাংলা। দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে (এফএসআরইউ) এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। রাতের মধ্যে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় উপকূলে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মোবাইল কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।