ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

ছারছীনা দরবারে ৩ দিনব্যাপী মাহফিল

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শতবর্ষের ঐতিহ্য-ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ছারছীনা দরবার শরীফে মহাধুমধামে শুরু হয়েছে ১৩৫তম তিনদিনব্যাপী ঐতিহাসিক ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল। গতকাল শুক্রবার বাদ মাগরিব দরবার শরীফের সাজানো ময়দান পরিণত হয় এক মহা আধ্যাত্মিক পরিবেশে।
দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা, আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) নিজের পবিত্র জিকিরের তা’লীম, গভীর নসীহত ও রূহানী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তাঁর কথামালা, দিকনির্দেশনা এবং আধ্যাত্মিক উপদেশে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে।
তিনদিনব্যাপী বিশেষ তা’লীম ও আলোচনার আয়োজন মাহফিল উপলক্ষে আগামী তিন দিন বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব ধারাবাহিকভাবে পীর ছাহেব কেবলা বিশেষ তা’লীম প্রদান করবেন। দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, মুফতি, খতীব, মাশায়েখ এবং ছারছীনা আলিয়া ও দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সম্মানিত আসাতিজায়ে কেরামগণ কুরআন-হাদীস, তাসাউফ, আকীদা, সমাজ সংস্কার, নৈতিকতা ও ইলমে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাঞ্জল বয়ান করবেন।
প্রতিদিনের মাহফিলে নামাজ, জিকির-আসকার, ইলমী আলোচনা, নসীহত—সব মিলিয়ে বিশাল জনগমায়নের মধ্য দিয়ে ছারছীনা পরিণত হয়েছে উপমহাদেশের এক অনন্য রূহানী কেন্দ্রবিন্দুতে।
আখেরি মুনাজাত ১ ডিসেম্বর আগামী ১ ডিসেম্বর, সোমবার বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী মাহফিলের পরম প্রতীক্ষিত আখেরি মুনাজাত। লাখো মুমিন মুসল্লির সমবেত আমিনে মুখরিত হয়ে উঠবে দরবার শরীফের ময়দান। আখেরি দোয়া পরিচালনা করবেন পীর ছাহেব কেবলা নিজেই।
হাজারো মানুষের ঢল—মিলনমেলায় ছারছীনা মাহফিলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পীরভাই, মুহিব্বীন ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কেউ রিজার্ভ বাসে, কেউ লঞ্চ-স্টিমারে, কেউ ট্রলার, পিকআপ, ট্রাক বা প্রাইভেটকারে। রাস্তায় এখনো অসংখ্য কাফেলার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। পুরো ছারছীনা দরবার এলাকা এখন রূপ নিয়েছে মুসল্লিদের বিশাল মিলনমেলায়—যেখানে মানুষের মুখে মুখে শুধু দোয়া, জিকির আর আধ্যাত্মিকতার আবেশ।
সর্বাত্মক প্রস্তুতি — স্বেচ্ছাসেবকদের নিবেদিত ভূমিকা মাহফিলকে সফল করতে ছারছীনা মিডিয়া ফোরাম দারুসসুন্নাত জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে; পানি সরবরাহ, বিশুদ্ধ খাবার, থাকার জায়গা, যানবাহন সমন্বয়—সব ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবক দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শাখার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মুসল্লিদের সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন।
আধ্যাত্মিক আবেশে মুখরিত ছারছীনা রাতের আকাশে চাঁদের আলো, দরবার শরীফের মিনারের নূরানী পরিবেশ এবং হাজারো মানুষের সম্মিলিত জিকির—সব মিলিয়ে ছারছীনা দরবারের পরিবেশ এখন এক অনন্য রূহানী আবেশে ভরপুর। ধর্মীয় উচ্ছ্বাস, অনুগত্য, ভক্তি ও ভালোবাসার অপূর্ব সমন্বয়ে ছারছীনা দরবার পরিণত হয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে। এই ঐতিহাসিক মাহফিলকে ঘিরে ছারছীনা এখন যেন এক পুণ্যময় সমাগমস্থল—আধ্যাত্মিকতার বাতিঘর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছারছীনা দরবারে ৩ দিনব্যাপী মাহফিল

আপডেট সময় :

শতবর্ষের ঐতিহ্য-ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ছারছীনা দরবার শরীফে মহাধুমধামে শুরু হয়েছে ১৩৫তম তিনদিনব্যাপী ঐতিহাসিক ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল। গতকাল শুক্রবার বাদ মাগরিব দরবার শরীফের সাজানো ময়দান পরিণত হয় এক মহা আধ্যাত্মিক পরিবেশে।
দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা, আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) নিজের পবিত্র জিকিরের তা’লীম, গভীর নসীহত ও রূহানী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তাঁর কথামালা, দিকনির্দেশনা এবং আধ্যাত্মিক উপদেশে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে।
তিনদিনব্যাপী বিশেষ তা’লীম ও আলোচনার আয়োজন মাহফিল উপলক্ষে আগামী তিন দিন বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব ধারাবাহিকভাবে পীর ছাহেব কেবলা বিশেষ তা’লীম প্রদান করবেন। দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, মুফতি, খতীব, মাশায়েখ এবং ছারছীনা আলিয়া ও দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সম্মানিত আসাতিজায়ে কেরামগণ কুরআন-হাদীস, তাসাউফ, আকীদা, সমাজ সংস্কার, নৈতিকতা ও ইলমে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাঞ্জল বয়ান করবেন।
প্রতিদিনের মাহফিলে নামাজ, জিকির-আসকার, ইলমী আলোচনা, নসীহত—সব মিলিয়ে বিশাল জনগমায়নের মধ্য দিয়ে ছারছীনা পরিণত হয়েছে উপমহাদেশের এক অনন্য রূহানী কেন্দ্রবিন্দুতে।
আখেরি মুনাজাত ১ ডিসেম্বর আগামী ১ ডিসেম্বর, সোমবার বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী মাহফিলের পরম প্রতীক্ষিত আখেরি মুনাজাত। লাখো মুমিন মুসল্লির সমবেত আমিনে মুখরিত হয়ে উঠবে দরবার শরীফের ময়দান। আখেরি দোয়া পরিচালনা করবেন পীর ছাহেব কেবলা নিজেই।
হাজারো মানুষের ঢল—মিলনমেলায় ছারছীনা মাহফিলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পীরভাই, মুহিব্বীন ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কেউ রিজার্ভ বাসে, কেউ লঞ্চ-স্টিমারে, কেউ ট্রলার, পিকআপ, ট্রাক বা প্রাইভেটকারে। রাস্তায় এখনো অসংখ্য কাফেলার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। পুরো ছারছীনা দরবার এলাকা এখন রূপ নিয়েছে মুসল্লিদের বিশাল মিলনমেলায়—যেখানে মানুষের মুখে মুখে শুধু দোয়া, জিকির আর আধ্যাত্মিকতার আবেশ।
সর্বাত্মক প্রস্তুতি — স্বেচ্ছাসেবকদের নিবেদিত ভূমিকা মাহফিলকে সফল করতে ছারছীনা মিডিয়া ফোরাম দারুসসুন্নাত জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে; পানি সরবরাহ, বিশুদ্ধ খাবার, থাকার জায়গা, যানবাহন সমন্বয়—সব ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবক দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শাখার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মুসল্লিদের সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন।
আধ্যাত্মিক আবেশে মুখরিত ছারছীনা রাতের আকাশে চাঁদের আলো, দরবার শরীফের মিনারের নূরানী পরিবেশ এবং হাজারো মানুষের সম্মিলিত জিকির—সব মিলিয়ে ছারছীনা দরবারের পরিবেশ এখন এক অনন্য রূহানী আবেশে ভরপুর। ধর্মীয় উচ্ছ্বাস, অনুগত্য, ভক্তি ও ভালোবাসার অপূর্ব সমন্বয়ে ছারছীনা দরবার পরিণত হয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে। এই ঐতিহাসিক মাহফিলকে ঘিরে ছারছীনা এখন যেন এক পুণ্যময় সমাগমস্থল—আধ্যাত্মিকতার বাতিঘর।