ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

মুকসুদপুরে সড়ক দখলমুক্তে ইউএনও’র উদ্যোগ

জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান

ফকির মিরাজ আলী শেখ, গোপালগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ৩১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মূল সড়কে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়ির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করলেও রাস্তার একাংশ দখল করে রাখা এসব গুঁড়ি জনজীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল। বিশেষ করে রাতে এবং বৃষ্টির সময়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
এমন বাস্তবতায় জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে উপজেলা ব্যাপী এবং জলিরপাড় এলাকায় গত শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) দুপুরে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবির। তাঁর দূরদর্শী নির্দেশনা ও সরাসরি তদারকিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়ক দখল করে রাখা বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়িগুলো অপসারণ করেন এবং সেগুলো মূল সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখা হয়। এতে করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরে আসে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবির বলেন—
“জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে মূল সড়কে বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকার কারণে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”
তিনি আরও বলেন—
“আমরা চাই, সড়ক যেন সকলের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন থাকে। তাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অপসারণে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকবে। তবে শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়—এক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কেউ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অসচেতনতার কারণে সড়কে কোনো কিছু ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন—
“সড়ক আমাদের সবার। এটি দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ঝুঁকিপূর্ণ কিছু চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
অভিযান চলাকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম কর্মী, মুকসুদপুর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবিরের এমন সময়োপযোগী, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তারা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে অনেকেই দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে দেখছেন, যা জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুকসুদপুরে সড়ক দখলমুক্তে ইউএনও’র উদ্যোগ

জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান

আপডেট সময় :

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মূল সড়কে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়ির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করলেও রাস্তার একাংশ দখল করে রাখা এসব গুঁড়ি জনজীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল। বিশেষ করে রাতে এবং বৃষ্টির সময়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
এমন বাস্তবতায় জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে উপজেলা ব্যাপী এবং জলিরপাড় এলাকায় গত শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) দুপুরে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবির। তাঁর দূরদর্শী নির্দেশনা ও সরাসরি তদারকিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়ক দখল করে রাখা বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়িগুলো অপসারণ করেন এবং সেগুলো মূল সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখা হয়। এতে করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরে আসে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবির বলেন—
“জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে মূল সড়কে বেওয়ারিশ গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকার কারণে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”
তিনি আরও বলেন—
“আমরা চাই, সড়ক যেন সকলের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন থাকে। তাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অপসারণে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকবে। তবে শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়—এক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কেউ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অসচেতনতার কারণে সড়কে কোনো কিছু ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন—
“সড়ক আমাদের সবার। এটি দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ঝুঁকিপূর্ণ কিছু চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
অভিযান চলাকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম কর্মী, মুকসুদপুর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবিরের এমন সময়োপযোগী, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তারা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে অনেকেই দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে দেখছেন, যা জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।