ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

জাটকা সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

কোটি টাকার জাল ধ্বংস : ছবি সংগ্রহ

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মুলাদী-বাবুগঞ্জের ৩ নদীতে অভিযান কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

‘ইলিশ হলো মাছের রাজা, জাটকা ধরলে হবে সাজা’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ১১-১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করা হয়। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে হাসিনা সরকার সবরকমের ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ চাঁদপুর অভিযান স্থল থেকে জানান, তারা জাটকা সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সফল অভিযানের ফলে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে পুরোপুরি জাটকা শিকার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালের মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার তিন নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও র‌্যাব ৮-এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন।

অভিযানকালে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন রকমের ২০ হাজার মিটার জাল (যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা) জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

বুধবার রাতের অভিযানে মুলাদী মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম, বাবুগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এম এম পারভেজ, র‌্যাব ৮ বরিশালের ডিএডি মো. আজাদুর রহমান, মুলাদী থানার উপ পরিদর্শক মিঠুন মন্ডল যুক্ত ছিলেন।

 

জাটকা সংরক্ষণের ফলে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন প্রতিবছর বাড়েই চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে উলিশের উৎপাদন বেড়ে পৌনে ৬ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে, মা ইলিশ ও জাটকার সফল সরক্ষণে।

মৎস্য অধিদপ্তরের নানামুখী পরিকল্পনা, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন বাড়চ্ছে। পৃথিবীর মোট ইলিশের ৮৫ ভাগই বাংলাদেশে উৎপাদন হয়।

মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষরণে সাধারণ মানুষের সচেতন অংশ গ্রহণ ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করবে।

এবারে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঢাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাছের আড়ৎ, বাজারসহ জনাকীর্ণ স্থানে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব ও এ সংক্রান্ত আইন বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, জাটকা সংরক্ষণে হাট-বাজার ও আড়তে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নৌকা বাইচ, হাডুডু, সাঁতার ইত্যাদি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, জাটকা সমৃদ্ধ এলাকায় ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মৎস্যজীবী ও জেলে পল্লীতে সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণে পথ নাটক, আঞ্চলিক ও লোক সংগীত পরিবেশন এবং জাটকা রক্ষায় জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান ১১ মার্চ চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্বোধন করবেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. জুলফিকার আলী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত সভায় ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাটকা সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান

আপডেট সময় : ০২:২৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪

 

মুলাদী-বাবুগঞ্জের ৩ নদীতে অভিযান কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

‘ইলিশ হলো মাছের রাজা, জাটকা ধরলে হবে সাজা’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ১১-১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করা হয়। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে হাসিনা সরকার সবরকমের ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ চাঁদপুর অভিযান স্থল থেকে জানান, তারা জাটকা সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সফল অভিযানের ফলে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে পুরোপুরি জাটকা শিকার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালের মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার তিন নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও র‌্যাব ৮-এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন।

অভিযানকালে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন রকমের ২০ হাজার মিটার জাল (যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা) জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

বুধবার রাতের অভিযানে মুলাদী মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম, বাবুগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এম এম পারভেজ, র‌্যাব ৮ বরিশালের ডিএডি মো. আজাদুর রহমান, মুলাদী থানার উপ পরিদর্শক মিঠুন মন্ডল যুক্ত ছিলেন।

 

জাটকা সংরক্ষণের ফলে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন প্রতিবছর বাড়েই চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে উলিশের উৎপাদন বেড়ে পৌনে ৬ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে, মা ইলিশ ও জাটকার সফল সরক্ষণে।

মৎস্য অধিদপ্তরের নানামুখী পরিকল্পনা, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন বাড়চ্ছে। পৃথিবীর মোট ইলিশের ৮৫ ভাগই বাংলাদেশে উৎপাদন হয়।

মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষরণে সাধারণ মানুষের সচেতন অংশ গ্রহণ ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করবে।

এবারে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঢাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাছের আড়ৎ, বাজারসহ জনাকীর্ণ স্থানে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব ও এ সংক্রান্ত আইন বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, জাটকা সংরক্ষণে হাট-বাজার ও আড়তে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নৌকা বাইচ, হাডুডু, সাঁতার ইত্যাদি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, জাটকা সমৃদ্ধ এলাকায় ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মৎস্যজীবী ও জেলে পল্লীতে সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণে পথ নাটক, আঞ্চলিক ও লোক সংগীত পরিবেশন এবং জাটকা রক্ষায় জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান ১১ মার্চ চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্বোধন করবেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. জুলফিকার আলী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত সভায় ছিলেন।