ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

জাতির জন্য সাহিত্য দরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪ ১২০ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাহেদ বিপ্লব

অনেকেই মনে করেন সাহিত্য আমাদের কি এমন প্রয়োজন, কিন্তু এ কথা বলতে একে বারে দ্বিধা নেই, সাহিত্য জাতি গঠনে বিশাল ভূমিকা পালন করে আসছে, আমরা এই কথাটা মানি অথবা না মানি, আজ যে সুশীল সমাজ এমন কি মুক্ত চিন্তার মানুষ পেয়েছি, তা শুধু সাহিত্যের সুবাদে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ শিখিয়েছে সাহিত্য, তার প্রমাণ কাজী নজরুল ইসলাম এর রাজবন্দির জবানবন্দি, যা আমাদের বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, ফররুখ, জসীমউদ্দীনসহ লেখক জাতিকে মাথা উচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, কিন্তু আমরা সেই সব শিক্ষা থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলছি সাহিত্য আমাদের কিছুই দিতে পারেনি, তখন দুঃখ করা ছাড়া আর কি বলার থাকে।

দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে মানুষ হয়েছে? আজ জাতি তাদের হাতে এক ধরনের বন্দি, দুর্নীতি আর অনিয়মে ভরা। সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে, সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি, আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে” কিন্তু আজ শিক্ষার কি হাল হয়েছে। প্রতিযোগিতা মূলক শিক্ষা। এই শিক্ষা আমাদের ছাত্রদের হিংসা, বিদ্বেষ, লোভি, স্বার্থপর করে তোলে। আগে মা বলে দিতেন পরীক্ষা দেবার সময় কারো সাথে কথা বলবে না। কারওটা দেখে লিখবে না, নিজে যা পার তাই লিখবে। আর আজকের মা বলে দিচ্ছেন, পরীক্ষার হলে তোমার কাছে কেউ কিছু জানতে চাইলে তাকে ভুল বলে দেবে।

তোমার সহপাঠী একটা ভুল প্রশ্নের উত্তর দিলে তোমার কাছে হেরে গেল, তুমি বেশি নম্বর পাবে, তুমি চাকরিটা পাবে, তোমার সহপাঠী চাকরিটা পেলো না। এমন মন নিয়ে চলছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, তাহলে এই শিক্ষা আমাদের জাতির কতটুকু কল্যাণ হবে ? শিক্ষা মানুষের কল্যাণে এসেছিলো, কিন্তু সেই শিক্ষা আজ লোভের কারণে অনেকটা অকল্যাণ হচ্ছে। এখান থেকে ফিরে আসতে হলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্যের দিকে ঝুকাতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ অনেকটা নেশায় মেতে রয়েছে, এমনকি আকাশ সংস্কৃতির কারণে অনেকটা বেখেয়াল হয়ে পড়েছে। এই আকাশ সংস্কৃতি থেকে ভাল শিক্ষা না নিয়ে, যে শিক্ষা আমাদের জাতি নিচ্ছে তা কোনদিন এই দেশের এমনকি মানুষের জন্য কল্যাণ হতে পারে না। এই জাতিকে ভাল পথে ফেরাতে হলে স্বদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা আছে বলে আমি মনে করি না। আজ আমাদের তরুণ প্রজন্ম যে শিক্ষা পেয়ে বড় হচ্ছে, সেই শিক্ষার ভেতর কতটা সৎ শিক্ষা, এমনকি সৎ মানুষ হওয়ার শিক্ষা পাচ্ছে? এই শিক্ষার লক্ষ্য হলো টাকা আয় করা এবং যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়া যায় সেই সব চেয়ার দখল করা।

১৯৭১ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমরা কিন্তু সেই লক্ষ্যে খুব একটা বেশি এগোতে পারিনি। শুধুমাত্র নীতিবান মানুষের অভাবে। আমাদের দেশে যে সব নীতিবান মানুষ আছে, সেই সব নীতিবান মানুষ দিয়ে একটা দেশ এমনকি একটি জাতি উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে না। সংস্কৃতির নামে আমাদের ওপরে যে সব সিনেমা, নাটক চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তা থেকে জাতি খুব একটা উপকার পাচ্ছে না, মাঝে মাঝে কিছু ভালো নাটক সিনেমা হচ্ছে তা শুধু হাতে গোনা, সেই দিক থেকে সাহিত্য একটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখনও ভালো ভালো কিছু সৃষ্টি করে যাচ্ছে সাহিত্যিকরা। বাংলাদেশের প্রতি অঞ্চল থেকে তরুণ লেখকরা মিলে লিটলম্যাগ প্রকাশ করে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাতির জন্য সাহিত্য দরকার

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

সাহেদ বিপ্লব

অনেকেই মনে করেন সাহিত্য আমাদের কি এমন প্রয়োজন, কিন্তু এ কথা বলতে একে বারে দ্বিধা নেই, সাহিত্য জাতি গঠনে বিশাল ভূমিকা পালন করে আসছে, আমরা এই কথাটা মানি অথবা না মানি, আজ যে সুশীল সমাজ এমন কি মুক্ত চিন্তার মানুষ পেয়েছি, তা শুধু সাহিত্যের সুবাদে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ শিখিয়েছে সাহিত্য, তার প্রমাণ কাজী নজরুল ইসলাম এর রাজবন্দির জবানবন্দি, যা আমাদের বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, ফররুখ, জসীমউদ্দীনসহ লেখক জাতিকে মাথা উচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, কিন্তু আমরা সেই সব শিক্ষা থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলছি সাহিত্য আমাদের কিছুই দিতে পারেনি, তখন দুঃখ করা ছাড়া আর কি বলার থাকে।

দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে মানুষ হয়েছে? আজ জাতি তাদের হাতে এক ধরনের বন্দি, দুর্নীতি আর অনিয়মে ভরা। সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে, সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি, আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে” কিন্তু আজ শিক্ষার কি হাল হয়েছে। প্রতিযোগিতা মূলক শিক্ষা। এই শিক্ষা আমাদের ছাত্রদের হিংসা, বিদ্বেষ, লোভি, স্বার্থপর করে তোলে। আগে মা বলে দিতেন পরীক্ষা দেবার সময় কারো সাথে কথা বলবে না। কারওটা দেখে লিখবে না, নিজে যা পার তাই লিখবে। আর আজকের মা বলে দিচ্ছেন, পরীক্ষার হলে তোমার কাছে কেউ কিছু জানতে চাইলে তাকে ভুল বলে দেবে।

তোমার সহপাঠী একটা ভুল প্রশ্নের উত্তর দিলে তোমার কাছে হেরে গেল, তুমি বেশি নম্বর পাবে, তুমি চাকরিটা পাবে, তোমার সহপাঠী চাকরিটা পেলো না। এমন মন নিয়ে চলছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, তাহলে এই শিক্ষা আমাদের জাতির কতটুকু কল্যাণ হবে ? শিক্ষা মানুষের কল্যাণে এসেছিলো, কিন্তু সেই শিক্ষা আজ লোভের কারণে অনেকটা অকল্যাণ হচ্ছে। এখান থেকে ফিরে আসতে হলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্যের দিকে ঝুকাতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ অনেকটা নেশায় মেতে রয়েছে, এমনকি আকাশ সংস্কৃতির কারণে অনেকটা বেখেয়াল হয়ে পড়েছে। এই আকাশ সংস্কৃতি থেকে ভাল শিক্ষা না নিয়ে, যে শিক্ষা আমাদের জাতি নিচ্ছে তা কোনদিন এই দেশের এমনকি মানুষের জন্য কল্যাণ হতে পারে না। এই জাতিকে ভাল পথে ফেরাতে হলে স্বদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা আছে বলে আমি মনে করি না। আজ আমাদের তরুণ প্রজন্ম যে শিক্ষা পেয়ে বড় হচ্ছে, সেই শিক্ষার ভেতর কতটা সৎ শিক্ষা, এমনকি সৎ মানুষ হওয়ার শিক্ষা পাচ্ছে? এই শিক্ষার লক্ষ্য হলো টাকা আয় করা এবং যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়া যায় সেই সব চেয়ার দখল করা।

১৯৭১ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমরা কিন্তু সেই লক্ষ্যে খুব একটা বেশি এগোতে পারিনি। শুধুমাত্র নীতিবান মানুষের অভাবে। আমাদের দেশে যে সব নীতিবান মানুষ আছে, সেই সব নীতিবান মানুষ দিয়ে একটা দেশ এমনকি একটি জাতি উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে না। সংস্কৃতির নামে আমাদের ওপরে যে সব সিনেমা, নাটক চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তা থেকে জাতি খুব একটা উপকার পাচ্ছে না, মাঝে মাঝে কিছু ভালো নাটক সিনেমা হচ্ছে তা শুধু হাতে গোনা, সেই দিক থেকে সাহিত্য একটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখনও ভালো ভালো কিছু সৃষ্টি করে যাচ্ছে সাহিত্যিকরা। বাংলাদেশের প্রতি অঞ্চল থেকে তরুণ লেখকরা মিলে লিটলম্যাগ প্রকাশ করে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলছে।