ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

জামিনে মুক্তি পেয়েও আতঙ্কে শেরপুরের সাংবাদিক রানা!

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিক রানা

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জামিনে মুক্তি পেয়েও আতঙ্কে রয়েছেন শেরপুরের সাংবাদিক রানা! ৮দিন কারাবাসের পর ১২ মার্চ জামিনে মুক্তি পান রানা। সেদিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিসেস জেবুন নাহার তার জামিনের আদেশ দেন। পরে রাতেই রানা শেরপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

রানার জামিনে মুক্তি লাভের পরও আতঙ্কে রয়েছন কেন? প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তার অভিযোগ টাকার বিনিময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ নিয়ে কিছু লোক নানা অপপ্রচার করছে।

সাংবাদিকের স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার শফিউজ্জামান তার ছেলে শাহরিয়ার জাহানকে সঙ্গে নিয়ে এডিপি প্রকল্পের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন। আবেদনটি কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) শীলার কাছে দিয়ে রিসিভড কপি (গ্রহণের অনুলিপি) চান।

শীলা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ফের শীলার কাছে অনুলিপি চান। তখন শীলা বলেন, ইউএনওকে ছাড়া রিসিভড কপি দেওয়া যাবে না। পরে শফিউজ্জামান জেলা প্রশাসককে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এতে ইউএনও আরও ক্ষুব্ধ হন।

একপর্যায়ে নকলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও ও সিএ শীলার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শফিউজ্জামানকে আটক করে। পরে নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শফিউজ্জামানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

সাংবাদিক রানা বলেন, আমি নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসের নানা অনিয়মের অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার জন্য তথ্য চাইলে তারা তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। একাধিক বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য পায়নি।

ডিসি সাহেবের পরামর্শে ঘটনার দিন ৫ মার্চ তথ্য অধিকার আইনে একটি আবেদন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে গেলে, তারা আবেদনের রিসিভ কপি দেয়নি। আবেদনের রিসিভ কপি চাইতে গেলেই আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইউএনও। আমাকে ও আমার ছেলেকে চোর বলে অভিহিত করেন। আমি সিসি ক্যামেররা সামনে ছিলাম। সিসি ক্যামেরা দেখলেই এর প্রমান পাওয়া যাবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক সেদিন ঢাকায় ছিলেন। তিনি না থাকাতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুক্তাদিরুলের সাথে পরামর্শক্রমে ইউএনও ও এসিল্যান্ড আমাকে সাজা প্রদান করেন। আমি কোনরুপ দোষ স্বীকার করিনাই। আমার ওপর বেআইনী ও অন্যায় করা হয়েছে।

নকলা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে তথ্য চাইতে গেলেও তারা কোন তথ্য দেননি।

গত ৫ মার্চ শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিনের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা আবেদন করেন। তিনি ওই আবেদনের রিসিভ কপি চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হন। এ সময় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিক রানাকে ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জামিনে মুক্তি পেয়েও আতঙ্কে শেরপুরের সাংবাদিক রানা!

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪

 

জামিনে মুক্তি পেয়েও আতঙ্কে রয়েছেন শেরপুরের সাংবাদিক রানা! ৮দিন কারাবাসের পর ১২ মার্চ জামিনে মুক্তি পান রানা। সেদিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিসেস জেবুন নাহার তার জামিনের আদেশ দেন। পরে রাতেই রানা শেরপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

রানার জামিনে মুক্তি লাভের পরও আতঙ্কে রয়েছন কেন? প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তার অভিযোগ টাকার বিনিময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ নিয়ে কিছু লোক নানা অপপ্রচার করছে।

সাংবাদিকের স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার শফিউজ্জামান তার ছেলে শাহরিয়ার জাহানকে সঙ্গে নিয়ে এডিপি প্রকল্পের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন। আবেদনটি কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) শীলার কাছে দিয়ে রিসিভড কপি (গ্রহণের অনুলিপি) চান।

শীলা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ফের শীলার কাছে অনুলিপি চান। তখন শীলা বলেন, ইউএনওকে ছাড়া রিসিভড কপি দেওয়া যাবে না। পরে শফিউজ্জামান জেলা প্রশাসককে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এতে ইউএনও আরও ক্ষুব্ধ হন।

একপর্যায়ে নকলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও ও সিএ শীলার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শফিউজ্জামানকে আটক করে। পরে নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শফিউজ্জামানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

সাংবাদিক রানা বলেন, আমি নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসের নানা অনিয়মের অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার জন্য তথ্য চাইলে তারা তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। একাধিক বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য পায়নি।

ডিসি সাহেবের পরামর্শে ঘটনার দিন ৫ মার্চ তথ্য অধিকার আইনে একটি আবেদন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে গেলে, তারা আবেদনের রিসিভ কপি দেয়নি। আবেদনের রিসিভ কপি চাইতে গেলেই আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইউএনও। আমাকে ও আমার ছেলেকে চোর বলে অভিহিত করেন। আমি সিসি ক্যামেররা সামনে ছিলাম। সিসি ক্যামেরা দেখলেই এর প্রমান পাওয়া যাবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক সেদিন ঢাকায় ছিলেন। তিনি না থাকাতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুক্তাদিরুলের সাথে পরামর্শক্রমে ইউএনও ও এসিল্যান্ড আমাকে সাজা প্রদান করেন। আমি কোনরুপ দোষ স্বীকার করিনাই। আমার ওপর বেআইনী ও অন্যায় করা হয়েছে।

নকলা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে তথ্য চাইতে গেলেও তারা কোন তথ্য দেননি।

গত ৫ মার্চ শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিনের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা আবেদন করেন। তিনি ওই আবেদনের রিসিভ কপি চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হন। এ সময় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিক রানাকে ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়।