ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ Logo সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে আনসার-ভিডিপি Logo নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম Logo কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে, আহত-৭ Logo শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ Logo বাগেরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Logo মাগুরায় দুই আসনে ৭ দলের ১১ প্রার্থী Logo ২য় পদ্মা সেতু ও নদী শাসন ইসু প্রভাব ফেলবে গোয়ালন্দের ভোটের হিসেবে Logo ‘এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই’ Logo পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা

ঢাকায় বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রাণের উচ্ছ্বাস

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ৯৪৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতু রাজ। বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসে বাঙালি। সেতারে বসন্ত রাগ প্রকৃতির সঙ্গে ভেসে বেড়ানো সুরের সঙ্গী হয় নগরবাসী। ভোর থেকেই সেজেগুঁজে সপরিবারে পা বাড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার পথে। বকুলতলা তখন কানায় কানায় ভর্তি। সেখানে হলুদ জমিনে লালপেড়ে শাড়ি বাহারীতে সাজিয়ে নিজেদের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে একদিন এই বকুল তলায় নিজেরাও অংশ নিয়েছে নানা অনুষ্ঠান মালায়।

বসন্ত শুধু পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতিতেও রঙ ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। জানান উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাইট মানজার চৌধুরী সুইট।

বকুল তলায় দাঁড়িয়ে সোজা কথায় উচ্চআরিত হয়, ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত। পহেলা ফাগুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতির সব সৌন্দর্য ঝরে নতুন সৌন্দর্যের কচিপাতার আগমনে বোঝা যায় বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে মনের মাঝে একটি সুর বাজে, শিমুলের বনে আজ লেগেছে আগুন।

গাছের পাতায় পাতায়, মাঠের ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকায় আর পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত এসেছে নবযৌবনের ডাক দিয়ে। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য, চিত্রকলায়। বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে।

ফি বারের মতো এবারও, ঢাকায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চারুকলার বকুলতলায় যন্ত্রসঙ্গীতের সুরমূর্ছনা শুরু হয়ে চলে ১০টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠান চলবে চারুকলার বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চে।

বাঙালির জীবনে বসন্তের রয়েছে বিশেষ আবেদন। আছে বিশেষ প্রেম। মন প্রাণ উতলা হয়ে উঠে বসন্তের সূরে নিজেকে ভাসাতে। তাই তো যুগ যুগ ধরে বসন্ত উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব। এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে। আছে প্রকৃতি আর মানব প্রেমের অপূর্ব সম্মিলনের ঐতিহ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢাকায় বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রাণের উচ্ছ্বাস

আপডেট সময় :

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতু রাজ। বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসে বাঙালি। সেতারে বসন্ত রাগ প্রকৃতির সঙ্গে ভেসে বেড়ানো সুরের সঙ্গী হয় নগরবাসী। ভোর থেকেই সেজেগুঁজে সপরিবারে পা বাড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার পথে। বকুলতলা তখন কানায় কানায় ভর্তি। সেখানে হলুদ জমিনে লালপেড়ে শাড়ি বাহারীতে সাজিয়ে নিজেদের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে একদিন এই বকুল তলায় নিজেরাও অংশ নিয়েছে নানা অনুষ্ঠান মালায়।

বসন্ত শুধু পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতিতেও রঙ ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। জানান উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাইট মানজার চৌধুরী সুইট।

বকুল তলায় দাঁড়িয়ে সোজা কথায় উচ্চআরিত হয়, ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত। পহেলা ফাগুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতির সব সৌন্দর্য ঝরে নতুন সৌন্দর্যের কচিপাতার আগমনে বোঝা যায় বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে মনের মাঝে একটি সুর বাজে, শিমুলের বনে আজ লেগেছে আগুন।

গাছের পাতায় পাতায়, মাঠের ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকায় আর পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত এসেছে নবযৌবনের ডাক দিয়ে। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য, চিত্রকলায়। বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে।

ফি বারের মতো এবারও, ঢাকায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চারুকলার বকুলতলায় যন্ত্রসঙ্গীতের সুরমূর্ছনা শুরু হয়ে চলে ১০টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠান চলবে চারুকলার বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চে।

বাঙালির জীবনে বসন্তের রয়েছে বিশেষ আবেদন। আছে বিশেষ প্রেম। মন প্রাণ উতলা হয়ে উঠে বসন্তের সূরে নিজেকে ভাসাতে। তাই তো যুগ যুগ ধরে বসন্ত উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব। এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে। আছে প্রকৃতি আর মানব প্রেমের অপূর্ব সম্মিলনের ঐতিহ্য।