ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতে বদলে যাবে রাজশাহী:খায়রুজ্জামান লিটন

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেই বদলে যাচ্ছে রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রেলক্রসিং এ ফ্লাইওভার নির্মাণে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। এরই মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যা কিনা খুবই দুঃখজনক। রাজশাহী মহানগরীর অব্যাহত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) মহানগরীতে উন্নয়নকর্মকান্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা তুলে ধরেন তিনি। কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেই ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে রাসিক।

রাজশাহীতে রেলের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী শিগগিরই ট্রেন চলাচলের জন্য ডাবল লাইনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। চালু হতে যাচ্ছে ডাবল ডেকার ট্রেন। কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন নির্মিতব্য ইয়ার্ডে ভারত ও নেপাল থেকে আনিত পণ্য সামগ্রী নামানো ও ওঠানো হবে। আরডিএ-এর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিটি এলাকা উত্তর দিকে বাড়বে।

রাজশাহী সিটির আয়তন তিন থেকে চারগুণ বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। শহরের মধ্যে থাকা রেলক্রসিংগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আগামীতে মানুষ ও যানবাহন সংখ্যাধিক্যের কারণে শহরের উত্তর-দক্ষিণে চলাচল ক্রমবৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে যানজটসহ দুর্ঘটনাও বাড়বে। সার্বিক দিক বিবেচনায় জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগরীতে রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এখনই যদি ফ্লাইওভার তৈরি করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে করা কঠিন হবে এবং নির্মাণ ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, আপাত দৃষ্টিতে ফ্লাইওভারের ব্যবহার সীমিত মনে হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ফ্লাইওভার নির্মাণ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ১৯৬৬-৬৮ সালে রাজশাহী গ্রেটার রোড নির্মাণকালে এই সড়কের নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে কথা উঠেছিল। ২০-৩০ বছর থেকে আমরা দেখছি, এই গ্রেটার রোড নির্মাণ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।

খায়রুজ্জামান লিটন জানান, ৫ বছর স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব হ্রাস ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নদী ও বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সিটি করপোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ করা। এছাড়াও রাজশাহী মহানগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রকল্প।

মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প (৪র্থ পর্যায়) শুরু করা। মহানগরীর কুমারপাড়া গুলগোফুর পেট্রোল পাম্প হতে সাহেব বাজার বড় মসজিদ, বড়কুঠি, পাঠানপাড়া, শিমুলতলা ক্লাব হয়ে ফায়ার-ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। রাজশাহী মহানগরীর চকপাড়া এলাকায় স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সড়ক বাতিতে আলোকায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও রয়েছে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট।

এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌবন্দর, রাজশাহী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন ও বাস চলাচল চালু এবং বঙ্গবন্ধু রিভার সিটির কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানান মেয়র।

দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে, ১৫০ শয্যা রাজশাহী সিটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর সম্প্রসারিত এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজশাহী মহানগরীতে শেখ রাসেল সায়েন্স সিটি ও সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রকল্প ও রাজশাহী মহানগরীর ফ্লাইওভার-ওভারপাস-আন্ডার পাস নির্মাণ ইত্যাদি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতে বদলে যাবে রাজশাহী:খায়রুজ্জামান লিটন

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেই বদলে যাচ্ছে রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রেলক্রসিং এ ফ্লাইওভার নির্মাণে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। এরই মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যা কিনা খুবই দুঃখজনক। রাজশাহী মহানগরীর অব্যাহত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) মহানগরীতে উন্নয়নকর্মকান্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা তুলে ধরেন তিনি। কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেই ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে রাসিক।

রাজশাহীতে রেলের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী শিগগিরই ট্রেন চলাচলের জন্য ডাবল লাইনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। চালু হতে যাচ্ছে ডাবল ডেকার ট্রেন। কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন নির্মিতব্য ইয়ার্ডে ভারত ও নেপাল থেকে আনিত পণ্য সামগ্রী নামানো ও ওঠানো হবে। আরডিএ-এর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিটি এলাকা উত্তর দিকে বাড়বে।

রাজশাহী সিটির আয়তন তিন থেকে চারগুণ বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। শহরের মধ্যে থাকা রেলক্রসিংগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আগামীতে মানুষ ও যানবাহন সংখ্যাধিক্যের কারণে শহরের উত্তর-দক্ষিণে চলাচল ক্রমবৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে যানজটসহ দুর্ঘটনাও বাড়বে। সার্বিক দিক বিবেচনায় জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগরীতে রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এখনই যদি ফ্লাইওভার তৈরি করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে করা কঠিন হবে এবং নির্মাণ ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, আপাত দৃষ্টিতে ফ্লাইওভারের ব্যবহার সীমিত মনে হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ফ্লাইওভার নির্মাণ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ১৯৬৬-৬৮ সালে রাজশাহী গ্রেটার রোড নির্মাণকালে এই সড়কের নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে কথা উঠেছিল। ২০-৩০ বছর থেকে আমরা দেখছি, এই গ্রেটার রোড নির্মাণ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।

খায়রুজ্জামান লিটন জানান, ৫ বছর স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব হ্রাস ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নদী ও বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সিটি করপোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ করা। এছাড়াও রাজশাহী মহানগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রকল্প।

মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প (৪র্থ পর্যায়) শুরু করা। মহানগরীর কুমারপাড়া গুলগোফুর পেট্রোল পাম্প হতে সাহেব বাজার বড় মসজিদ, বড়কুঠি, পাঠানপাড়া, শিমুলতলা ক্লাব হয়ে ফায়ার-ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। রাজশাহী মহানগরীর চকপাড়া এলাকায় স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সড়ক বাতিতে আলোকায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও রয়েছে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট।

এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌবন্দর, রাজশাহী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন ও বাস চলাচল চালু এবং বঙ্গবন্ধু রিভার সিটির কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানান মেয়র।

দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে, ১৫০ শয্যা রাজশাহী সিটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর সম্প্রসারিত এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী মহানগরীর ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজশাহী মহানগরীতে শেখ রাসেল সায়েন্স সিটি ও সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রকল্প ও রাজশাহী মহানগরীর ফ্লাইওভার-ওভারপাস-আন্ডার পাস নির্মাণ ইত্যাদি।