ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

দেরিতে হলেও ইসরায়েলকে ‘অপরাধী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দেরিতে হলেও ইসরায়েলকে ‘অপরাধী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিরপরাধ শিশুদের ওপর বর্বর হামলা ও হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অপরাধী দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, শুক্রবার (৭ জুন) তিনি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পান। সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও জাতিসংঘের এমন কাজে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অনেকটা হুমকির সুরে বলছেন, এই পদক্ষেপের কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ও জাতিসংঘকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে!

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক বাহিনী। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলকে মূলত একজন মাত্র ব্যক্তির সিদ্ধান্তেই এই তালিকায় ফেলা হয়েছে। তিনি হলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতিসংঘ ইসরায়েলকে নয়, নিজেকেই ইতিহাসের কালো তালিকায় যুক্ত করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে জাতিসংঘের বার্ষিক ‘চিল্ড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট’ প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তালিকাভুক্তির বিষয়টি জানান।

বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্যই এমনটা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ১৪ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

এক জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা বলছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হবে।

ইসরায়েলের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ৩৮ শিশুসহ প্রায় ১২০০ জন নিহত হয়। ৪২ শিশুসহ ২৫২ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস।

গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭৩১ জন নিহত হয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশ ছিল নারী ও শিশু।

ইসরায়েলের দাবি, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে জাতিসংঘ হামাসের মিথ্যা তথ্যের উপর নির্ভর করেছে। জাতিসংঘ বলেছে যে তারা এখন হামাস পরিচালিত সরকারি মিডিয়া অফিসের (জিএমও) পরিবর্তে গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করছে। জিএমও বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার আল-আকসা হাসপাতালে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। ওই সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত ও ৩০০ আহত ব্যক্তিকে আনা হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দেরিতে হলেও ইসরায়েলকে ‘অপরাধী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০৭:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

 

দেরিতে হলেও ইসরায়েলকে ‘অপরাধী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিরপরাধ শিশুদের ওপর বর্বর হামলা ও হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অপরাধী দেশের তালিকায় যুক্ত করলো জাতিসংঘ।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, শুক্রবার (৭ জুন) তিনি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পান। সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও জাতিসংঘের এমন কাজে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অনেকটা হুমকির সুরে বলছেন, এই পদক্ষেপের কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ও জাতিসংঘকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে!

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক বাহিনী। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলকে মূলত একজন মাত্র ব্যক্তির সিদ্ধান্তেই এই তালিকায় ফেলা হয়েছে। তিনি হলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতিসংঘ ইসরায়েলকে নয়, নিজেকেই ইতিহাসের কালো তালিকায় যুক্ত করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে জাতিসংঘের বার্ষিক ‘চিল্ড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট’ প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তালিকাভুক্তির বিষয়টি জানান।

বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্যই এমনটা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ১৪ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

এক জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা বলছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হবে।

ইসরায়েলের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ৩৮ শিশুসহ প্রায় ১২০০ জন নিহত হয়। ৪২ শিশুসহ ২৫২ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস।

গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭৩১ জন নিহত হয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশ ছিল নারী ও শিশু।

ইসরায়েলের দাবি, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে জাতিসংঘ হামাসের মিথ্যা তথ্যের উপর নির্ভর করেছে। জাতিসংঘ বলেছে যে তারা এখন হামাস পরিচালিত সরকারি মিডিয়া অফিসের (জিএমও) পরিবর্তে গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করছে। জিএমও বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার আল-আকসা হাসপাতালে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। ওই সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত ও ৩০০ আহত ব্যক্তিকে আনা হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।