ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জে নগর ডায়গনস্টিক সেন্টার

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ

ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগন্জ
  • আপডেট সময় : ৮০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নগর ডায়গনস্টিক সেন্টারে গর্ভবতী মায়ের আলট্রাসোনোগ্রামের ভুল রিপোর্টের কারনে, নবজাতক শিশু বাচ্চার মৃত্যুর অভিযোগে মৃত পুত্র নবজাতক শিশুর মা রুবাইয়া ইসলামের স্বামী মোঃ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায় ১২-১১-২০২৫ ৩ তারিখ বুধবার সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের শুসুন্ডা গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের স্ত্রী গর্ভবতী রুবাইয়া ইসলাম (৩৫),বাচ্চা ডেলিভারির আগ মুহূর্তে নগর ডায়গনস্টিক সেন্টারে, আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে গর্ভে থাকা বাচ্চার ওজন পৌনে তিন কেজি দেখানো হয়। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশু সুস্থ থাকায় মেটারনিটি হাসপাতালের ডাক্তার এবং, সুরাইয়া বেগমের নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে গর্ভবতী মা ও শিশুকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দেন। বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরে ও অক্সিজেন না দিয়ে ২ ঘন্টা হাসপাতালের বেডে ফেলে রেখে উপায়ন্তর না পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। গর্ভবতীর স্বামী এবং নবজাতক শিশু বাচ্চার বাবা মোঃ হাবিবুর রহমান মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিট না পেয়ে, জয়রা রোডে অবস্থিত মানিকগঞ্জ শিশু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের পরামর্শে, পার ডে ৭ হাজার টাকা খরচের চুক্তিতে, শিশু হাসপাতালে সকাল ১১:৩০ টায় ভর্তি করেন।রাত সাড়ে এগারোটায় শিশু বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। নগর ডায়গনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলেন,পৌনে পাঁচ কেজি বাচ্চার ওজন, কিভাবে আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে পৌনে তিন কেজি দেখিয়েছেন, তাহা আল্ট্রাসনোগ্রামের ডাক্তার খাইরুল কবির ভালো জানেন।আমাদের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ঠিক আছে। আল্ট্রাসনোগ্রামের ডাক্তার খাইরুল কবির বলেন, ১২ তারিখে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে, ১৬ তারিখে নরমাল ডেলিভারির পূর্বে মাঝখানে তিন দিনে ২ কেজি ওজন বাড়তে পারে। নরমাল ডেলিভারির সাথে জড়িত ডাক্তার ও ভিজিটর সুরাইয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করেন নি। জয়রা রোডে অবস্থিত শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন,আমাদের হাসপাতালে ও যদি শিশু বাচ্চা মারা যেত, তারপরও আমাদের কিছুই করতে পারবে না,এদিকে নবজাতকের পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ার পরেও, ভালো কোন হাসপাতালে রেফার না করে, প্রতি একদিন ৭০০০ টাকা চুক্তির বিনিময়ে দিন ১১:০০ টার পর ভর্তি করে রাত ১১:০০ টার পর এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,মানিকগঞ্জ শিশু হাসপাতালের সাথে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোন যোগসূত্র থাকতে পারে। আবার মেটার্নি হাসপাতালের সাথে নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর সম্ভাব্য কোন যোগসূত্র আছে। হাবিবুর রহমান বলেন মেটারনিটি হাসপাতালের ডাক্তারসহ স্টাফরা রোগীদের সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরামর্শ না দিয়ে, সরাসরি নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে, ফায়দা নিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী মোঃ হাবিবুর রহমান তার নবজাতক পুত্র শিশুর মৃত্যুর সাথে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বলেন, খুব শীঘ্রই তদন্ত কমিটি গঠন করে, তদন্ত করে দোষীদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৩ ধারায় বলা আছে, এই অপরাধের সাথে জড়িতদের তিন বছর কারাদণ্ড সাথে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মানিকগঞ্জে নগর ডায়গনস্টিক সেন্টার

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নগর ডায়গনস্টিক সেন্টারে গর্ভবতী মায়ের আলট্রাসোনোগ্রামের ভুল রিপোর্টের কারনে, নবজাতক শিশু বাচ্চার মৃত্যুর অভিযোগে মৃত পুত্র নবজাতক শিশুর মা রুবাইয়া ইসলামের স্বামী মোঃ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায় ১২-১১-২০২৫ ৩ তারিখ বুধবার সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের শুসুন্ডা গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের স্ত্রী গর্ভবতী রুবাইয়া ইসলাম (৩৫),বাচ্চা ডেলিভারির আগ মুহূর্তে নগর ডায়গনস্টিক সেন্টারে, আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে গর্ভে থাকা বাচ্চার ওজন পৌনে তিন কেজি দেখানো হয়। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশু সুস্থ থাকায় মেটারনিটি হাসপাতালের ডাক্তার এবং, সুরাইয়া বেগমের নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে গর্ভবতী মা ও শিশুকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দেন। বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরে ও অক্সিজেন না দিয়ে ২ ঘন্টা হাসপাতালের বেডে ফেলে রেখে উপায়ন্তর না পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। গর্ভবতীর স্বামী এবং নবজাতক শিশু বাচ্চার বাবা মোঃ হাবিবুর রহমান মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিট না পেয়ে, জয়রা রোডে অবস্থিত মানিকগঞ্জ শিশু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের পরামর্শে, পার ডে ৭ হাজার টাকা খরচের চুক্তিতে, শিশু হাসপাতালে সকাল ১১:৩০ টায় ভর্তি করেন।রাত সাড়ে এগারোটায় শিশু বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। নগর ডায়গনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলেন,পৌনে পাঁচ কেজি বাচ্চার ওজন, কিভাবে আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে পৌনে তিন কেজি দেখিয়েছেন, তাহা আল্ট্রাসনোগ্রামের ডাক্তার খাইরুল কবির ভালো জানেন।আমাদের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ঠিক আছে। আল্ট্রাসনোগ্রামের ডাক্তার খাইরুল কবির বলেন, ১২ তারিখে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে, ১৬ তারিখে নরমাল ডেলিভারির পূর্বে মাঝখানে তিন দিনে ২ কেজি ওজন বাড়তে পারে। নরমাল ডেলিভারির সাথে জড়িত ডাক্তার ও ভিজিটর সুরাইয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করেন নি। জয়রা রোডে অবস্থিত শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন,আমাদের হাসপাতালে ও যদি শিশু বাচ্চা মারা যেত, তারপরও আমাদের কিছুই করতে পারবে না,এদিকে নবজাতকের পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ার পরেও, ভালো কোন হাসপাতালে রেফার না করে, প্রতি একদিন ৭০০০ টাকা চুক্তির বিনিময়ে দিন ১১:০০ টার পর ভর্তি করে রাত ১১:০০ টার পর এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,মানিকগঞ্জ শিশু হাসপাতালের সাথে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোন যোগসূত্র থাকতে পারে। আবার মেটার্নি হাসপাতালের সাথে নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর সম্ভাব্য কোন যোগসূত্র আছে। হাবিবুর রহমান বলেন মেটারনিটি হাসপাতালের ডাক্তারসহ স্টাফরা রোগীদের সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরামর্শ না দিয়ে, সরাসরি নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে, ফায়দা নিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী মোঃ হাবিবুর রহমান তার নবজাতক পুত্র শিশুর মৃত্যুর সাথে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বলেন, খুব শীঘ্রই তদন্ত কমিটি গঠন করে, তদন্ত করে দোষীদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৩ ধারায় বলা আছে, এই অপরাধের সাথে জড়িতদের তিন বছর কারাদণ্ড সাথে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান আছে।