ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নবীনগরে সানশাইন আলুতে বাড়ছে প্রত্যাশা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপিত আলুর প্রদর্শনী প্লটে নতুন একটি জাত ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএডিসি উদ্ভাবিত আলু-১ (সানশাইন) জাতের আলু আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও বাজার উপযোগী গুণাগুণের কারণে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগরে প্রায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে নতুন জাত ও আধুনিক চাষপদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের ট্রায়ালে শতাংশপ্রতি গড় ফলন প্রায় তিন মণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে জাতটির ভালো সামঞ্জস্য দেখা গেছে।
সম্প্রতি কয়েকটি প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গাছের বৃদ্ধি, কন্দের আকার ও রঙে একধরনের সমতা রয়েছে। অনেক কৃষক মাঠে গিয়ে আলু হাতে নিয়ে দেখছেন, ফলন ও গুণগত মান নিয়ে আলোচনা করছেন। উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, আলুর আকৃতি সমান হওয়ায় বাছাই ও বাজারজাতকরণে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি উজ্জ্বল রঙের কারণে পাইকারি বাজারে চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত জাত, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকেরা সরাসরি ফলন ও ব্যবস্থাপনার ফলাফল দেখতে পারছেন। এতে নতুন জাত গ্রহণে তাঁদের আস্থা বাড়ছে।
উপজেলার কয়েকজন আলুচাষি জানান, চলতি মৌসুমে ফলন সন্তোষজনক হলে আগামী বছর অধিক জমিতে বিএডিসি আলু-১ (সানশাইন) জাতের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারাও মনে করছেন, বাজারসংযোগ ও সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এই জাত স্থানীয় পর্যায়ে আলু উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন জাতের আলু প্রদর্শনীকে ঘিরে নবীনগরে কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আগামী মৌসুমে আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবীনগরে সানশাইন আলুতে বাড়ছে প্রত্যাশা

আপডেট সময় :

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপিত আলুর প্রদর্শনী প্লটে নতুন একটি জাত ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএডিসি উদ্ভাবিত আলু-১ (সানশাইন) জাতের আলু আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও বাজার উপযোগী গুণাগুণের কারণে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগরে প্রায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে নতুন জাত ও আধুনিক চাষপদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের ট্রায়ালে শতাংশপ্রতি গড় ফলন প্রায় তিন মণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে জাতটির ভালো সামঞ্জস্য দেখা গেছে।
সম্প্রতি কয়েকটি প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গাছের বৃদ্ধি, কন্দের আকার ও রঙে একধরনের সমতা রয়েছে। অনেক কৃষক মাঠে গিয়ে আলু হাতে নিয়ে দেখছেন, ফলন ও গুণগত মান নিয়ে আলোচনা করছেন। উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, আলুর আকৃতি সমান হওয়ায় বাছাই ও বাজারজাতকরণে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি উজ্জ্বল রঙের কারণে পাইকারি বাজারে চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত জাত, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকেরা সরাসরি ফলন ও ব্যবস্থাপনার ফলাফল দেখতে পারছেন। এতে নতুন জাত গ্রহণে তাঁদের আস্থা বাড়ছে।
উপজেলার কয়েকজন আলুচাষি জানান, চলতি মৌসুমে ফলন সন্তোষজনক হলে আগামী বছর অধিক জমিতে বিএডিসি আলু-১ (সানশাইন) জাতের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারাও মনে করছেন, বাজারসংযোগ ও সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এই জাত স্থানীয় পর্যায়ে আলু উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন জাতের আলু প্রদর্শনীকে ঘিরে নবীনগরে কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আগামী মৌসুমে আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।