ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

নবীনগর ভূমি অফিসে জালিয়াতি ফাঁস, চাকরি রেখে উধাও

আবদুল হাদী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • আপডেট সময় : ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কেউ কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্ন বুনেন, আবার কেউ প্রতারণার আশ্রয় নেন। তেমনই এক নজিরবিহীন পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা ভূমি অফিসে।সেখানে ‘কবির হোসেন’ পরিচয়ে গত আট বছর ধরে চেইনম্যান পদে চাকরি করা ব্যক্তির মুখোশ অবশেষে খুলে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে—তিনি কবির হোসেন নন, তার প্রকৃত পরিচয় সিকদার মো. সামছুদ্দোহা।
জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য বলছে , তার পিতার নাম আবুল কালাম আজাদ, মাতার নাম ফরিদা খাতুন এবং ভাইয়ের নাম সিকদার মো. সাদরুল আমিন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামে। অথচ চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি পরিচয় দিয়েছেন কসবা উপজেলার শালদানদী জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে।
এদিকে প্রকৃত কবির হোসেনের বাড়ি সরাইলের পরমানন্দপুর গ্রামে। পিতা মৃত রুস্তম আলী এবং মাতা আনোয়ারা বেগম।
পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই চাকরিতে বহাল অবস্থায় গা-ঢাকা দেন ভুয়া কবির। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ ৮ বছরের বেতন ও সুবিধা প্রকৃত কবিরকে দিতে হবে। পরিচয় জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে ফৌজদারি মামলা হবে। জেল-জরিমানার দুটি শাস্তিই হতে পারে।
সরকারি নথিপত্র বলছে, ২০০৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় চেইনম্যান পদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১৮০ রোল নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন প্রকৃত কবির। কিন্তু নিয়োগপত্র না পেয়ে ২০০৮ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। দেশে ফিরে জানতে পারেন—তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি করছেন অন্য একজন।
প্রকৃত কবির হোসেন বলেন,আমি পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি পাইনি। পরে দেখি আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একজন সরকারি চাকরি করছে! বিষয়টি প্রকাশ হতে শুরু করলে সে আমাকে ভয়-ভীতি দেখায়, মোটা অংকের টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলে। কিন্তু আমি সত্য লুকাইনি। এখন সারা দেশ সত্যটা জেনে গেছে।
এদিকে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বলেন,প্রায় দেড় মাস আগে তিনি অফিস ত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে আর ফিরে আসেননি। শুনেছি তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবীনগর ভূমি অফিসে জালিয়াতি ফাঁস, চাকরি রেখে উধাও

আপডেট সময় :

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কেউ কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্ন বুনেন, আবার কেউ প্রতারণার আশ্রয় নেন। তেমনই এক নজিরবিহীন পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা ভূমি অফিসে।সেখানে ‘কবির হোসেন’ পরিচয়ে গত আট বছর ধরে চেইনম্যান পদে চাকরি করা ব্যক্তির মুখোশ অবশেষে খুলে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে—তিনি কবির হোসেন নন, তার প্রকৃত পরিচয় সিকদার মো. সামছুদ্দোহা।
জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য বলছে , তার পিতার নাম আবুল কালাম আজাদ, মাতার নাম ফরিদা খাতুন এবং ভাইয়ের নাম সিকদার মো. সাদরুল আমিন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামে। অথচ চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি পরিচয় দিয়েছেন কসবা উপজেলার শালদানদী জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে।
এদিকে প্রকৃত কবির হোসেনের বাড়ি সরাইলের পরমানন্দপুর গ্রামে। পিতা মৃত রুস্তম আলী এবং মাতা আনোয়ারা বেগম।
পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই চাকরিতে বহাল অবস্থায় গা-ঢাকা দেন ভুয়া কবির। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ ৮ বছরের বেতন ও সুবিধা প্রকৃত কবিরকে দিতে হবে। পরিচয় জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে ফৌজদারি মামলা হবে। জেল-জরিমানার দুটি শাস্তিই হতে পারে।
সরকারি নথিপত্র বলছে, ২০০৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় চেইনম্যান পদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১৮০ রোল নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন প্রকৃত কবির। কিন্তু নিয়োগপত্র না পেয়ে ২০০৮ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। দেশে ফিরে জানতে পারেন—তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি করছেন অন্য একজন।
প্রকৃত কবির হোসেন বলেন,আমি পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি পাইনি। পরে দেখি আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একজন সরকারি চাকরি করছে! বিষয়টি প্রকাশ হতে শুরু করলে সে আমাকে ভয়-ভীতি দেখায়, মোটা অংকের টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলে। কিন্তু আমি সত্য লুকাইনি। এখন সারা দেশ সত্যটা জেনে গেছে।
এদিকে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বলেন,প্রায় দেড় মাস আগে তিনি অফিস ত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে আর ফিরে আসেননি। শুনেছি তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন।