ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পচা ভাতে সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দুঃসহ জীবন বিধবা আয়েশার

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে মানবিক সংকটের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এক বিধবা ও তার তিন সন্তানের জীবনে। প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকে চরম দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছেন আয়েশা বেগম।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নর চরলক্ষ্মী গ্রামে একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। পরিবারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি আমির হোসেন লেদুর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগম ও তার তিন ছেলে—সজিব, সৌরভ ও সবুজ—প্রায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় কখনো শুধু পানি খেয়ে, আবার কখনো পচা পান্তাভাত দিয়েই সেহরি ও ইফতার সারতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমির হোসেন পেশায় পিকআপচালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। ভয়াবহ বন্যায় ফসলি জমি তলিয়ে গেলে তার আয় বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজ শুরু করেন তিনি।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আমির হোসেন। মৃত্যুকালে তার পকেটে এক টাকাও ছিল না—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আয়েশা বেগমের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বিদ্যুৎবিহীন ঘরে কুপি জ্বালিয়ে রাত কাটে তাদের। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, রোদে টিনের ঘর অসহনীয় গরম হয়ে ওঠে। তিন সন্তান ভালো খাবারের আবদার করলেও তা পূরণ করার সামর্থ্য নেই বলে জানান আয়েশা।
নিহতের ভাই মজিবুল হক বলেন, নিজেদের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন জানান, আমির হোসেন ছিলেন হাসিখুশি ও পরিশ্রমী মানুষ। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। মাথা গোঁজার মতো স্থায়ী আশ্রয়ও নেই তাদের।
এ বিষয়ে আকিব ওসমান, নির্বাহী কর্মকর্তা, সুবর্ণচর উপজেলা বলেন, পরিবারটির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী সহায়তার বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দারিদ্র্যের এই নির্মম বাস্তবতায় আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন সমাজ ও প্রশাসনের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পচা ভাতে সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দুঃসহ জীবন বিধবা আয়েশার

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে মানবিক সংকটের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এক বিধবা ও তার তিন সন্তানের জীবনে। প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকে চরম দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছেন আয়েশা বেগম।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নর চরলক্ষ্মী গ্রামে একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। পরিবারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি আমির হোসেন লেদুর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগম ও তার তিন ছেলে—সজিব, সৌরভ ও সবুজ—প্রায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় কখনো শুধু পানি খেয়ে, আবার কখনো পচা পান্তাভাত দিয়েই সেহরি ও ইফতার সারতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমির হোসেন পেশায় পিকআপচালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। ভয়াবহ বন্যায় ফসলি জমি তলিয়ে গেলে তার আয় বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজ শুরু করেন তিনি।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আমির হোসেন। মৃত্যুকালে তার পকেটে এক টাকাও ছিল না—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আয়েশা বেগমের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বিদ্যুৎবিহীন ঘরে কুপি জ্বালিয়ে রাত কাটে তাদের। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, রোদে টিনের ঘর অসহনীয় গরম হয়ে ওঠে। তিন সন্তান ভালো খাবারের আবদার করলেও তা পূরণ করার সামর্থ্য নেই বলে জানান আয়েশা।
নিহতের ভাই মজিবুল হক বলেন, নিজেদের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন জানান, আমির হোসেন ছিলেন হাসিখুশি ও পরিশ্রমী মানুষ। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। মাথা গোঁজার মতো স্থায়ী আশ্রয়ও নেই তাদের।
এ বিষয়ে আকিব ওসমান, নির্বাহী কর্মকর্তা, সুবর্ণচর উপজেলা বলেন, পরিবারটির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী সহায়তার বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দারিদ্র্যের এই নির্মম বাস্তবতায় আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন সমাজ ও প্রশাসনের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করছে।