ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

পাঠ্যপুস্তক থেকে কৃষি শিক্ষা বাদ দিয়ে ঢোল তবলা দেয়া হয়েছে : শায়খে চরমোনাই

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪ ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে কৃষি শিক্ষা ও গার্হস্থ্য শিক্ষা বাদ দিয়ে ঢোল তবলা দেয়া হয়েছে। এটা শিল্পকলার কাজ, জাতীয় কারিকুলামে এটা হতে পারে না। মুসলিম সন্তানদেরকে একত্রে নাচতে গাইতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ছেলে মেয়েদেরকে বন্ধুদের হাত ধরে চলতে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশকে বেরিকেড করা হয়েছে।

শিক্ষাই আলো, শিক্ষা থেকে যদি জাতিকে বঞ্চিত রাখা যায়, তবে জাতিকে ধ্বংস করা যায়। মাদরাসার বইতে সালামের পরিবর্তে প্রণাম এবং ছেলে মেয়েদের অবাধ চলা ফেরা দেখানো হয়েছে। মা বাবার দ্বীনি পরিবেশ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

শায়খে চরমোনাই বলেন, ট্রান্সজেন্ডারের সমালোচনা করে বলেন, আবুল ফজল ফয়েজীর গোষ্ঠী কিছু আলেম শরীফ শরীফার গল্পকে বৈধতা দিয়েছে। লোভের কারনে শরীফ শরীফার গল্পের মধ্যে ঐ আলেমরা কোন ত্রুটি দেখেনা। আমাদের দাবী ছিলো প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার। সে দাবী কর্নপাত না করে ৫ হাজারের অধিক নাচ গান শেখানোর টিচার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ইসলামের কথা বললে সাম্প্রদায়িক হয়ে যাই। মুসলমানদের জন্য করা সলিমুল্লাহর ইউনিভার্সিটিতে নামাজ, ইফতার করতে আপত্তি থাকলেও মঙ্গলশোভা যাত্রা করতে কোন আপত্তি নেই। দূরদর্শী প্লান নিয়ে আগ্রাসনের কালোথাবা এগিয়ে আসছে। যারা শরীফ শরীফার মধ্যে কোন কিছু দেখেনা তারা আবুল ফজল ফয়েজীর গোষ্ঠী। ওরা ইসলাম ও দেশের দুশমন। এই সরকার তাদেরকে অর্থদিয়ে লালন-পালন করছে।

জাতীয় শিক্ষক ফেরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো: নাছির উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে শুক্রবার (১০ মে) বিকেলে বিকেলে, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নতুন পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: আমাদের করণীয় শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মগজ বিকৃত কিছু বুদ্ধিজীবী শিক্ষা থেকে ইসলামকে দূরে রাখতে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংকীর্ণতা দূর করে লোভকে পরিহার করে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবে ভবিষ্যতে প্রজন্ম ঈমান ইসলাম নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, বাংলাদেশে আগ্রাসন বহুমুখী। এই আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে না পারলে আমাদের কপালে দুর্ভোগ আছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডক্টর আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ইসলাম কাউকে গোলাম তৈরী করে না, ইসলাম মানুষকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে উতসাহ দেয়। মানুষ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য পাশ্ববর্তী রাস্ট্র বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। আমাদের একটি নতুন শিক্ষা কমিশন গঠনের ঘোষণা সময়ের দাবী। স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাইলে রক্ত দিয়ে এ সরকারকে উৎখাত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস বলেন, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে হাবুডুবু খেয়ে বেড়ে উঠেছে তারাই এই কারিকুলাম তৈরী করেছে। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলিয়া মাদরাসা। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা সংরক্ষণে দলমত নির্বিশেষে উদ্যোগ নেয়া দরকার। সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাঠ্যপুস্তক থেকে কৃষি শিক্ষা বাদ দিয়ে ঢোল তবলা দেয়া হয়েছে : শায়খে চরমোনাই

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

 

প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে কৃষি শিক্ষা ও গার্হস্থ্য শিক্ষা বাদ দিয়ে ঢোল তবলা দেয়া হয়েছে। এটা শিল্পকলার কাজ, জাতীয় কারিকুলামে এটা হতে পারে না। মুসলিম সন্তানদেরকে একত্রে নাচতে গাইতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ছেলে মেয়েদেরকে বন্ধুদের হাত ধরে চলতে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশকে বেরিকেড করা হয়েছে।

শিক্ষাই আলো, শিক্ষা থেকে যদি জাতিকে বঞ্চিত রাখা যায়, তবে জাতিকে ধ্বংস করা যায়। মাদরাসার বইতে সালামের পরিবর্তে প্রণাম এবং ছেলে মেয়েদের অবাধ চলা ফেরা দেখানো হয়েছে। মা বাবার দ্বীনি পরিবেশ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

শায়খে চরমোনাই বলেন, ট্রান্সজেন্ডারের সমালোচনা করে বলেন, আবুল ফজল ফয়েজীর গোষ্ঠী কিছু আলেম শরীফ শরীফার গল্পকে বৈধতা দিয়েছে। লোভের কারনে শরীফ শরীফার গল্পের মধ্যে ঐ আলেমরা কোন ত্রুটি দেখেনা। আমাদের দাবী ছিলো প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার। সে দাবী কর্নপাত না করে ৫ হাজারের অধিক নাচ গান শেখানোর টিচার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ইসলামের কথা বললে সাম্প্রদায়িক হয়ে যাই। মুসলমানদের জন্য করা সলিমুল্লাহর ইউনিভার্সিটিতে নামাজ, ইফতার করতে আপত্তি থাকলেও মঙ্গলশোভা যাত্রা করতে কোন আপত্তি নেই। দূরদর্শী প্লান নিয়ে আগ্রাসনের কালোথাবা এগিয়ে আসছে। যারা শরীফ শরীফার মধ্যে কোন কিছু দেখেনা তারা আবুল ফজল ফয়েজীর গোষ্ঠী। ওরা ইসলাম ও দেশের দুশমন। এই সরকার তাদেরকে অর্থদিয়ে লালন-পালন করছে।

জাতীয় শিক্ষক ফেরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো: নাছির উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে শুক্রবার (১০ মে) বিকেলে বিকেলে, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নতুন পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: আমাদের করণীয় শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মগজ বিকৃত কিছু বুদ্ধিজীবী শিক্ষা থেকে ইসলামকে দূরে রাখতে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংকীর্ণতা দূর করে লোভকে পরিহার করে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবে ভবিষ্যতে প্রজন্ম ঈমান ইসলাম নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, বাংলাদেশে আগ্রাসন বহুমুখী। এই আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে না পারলে আমাদের কপালে দুর্ভোগ আছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডক্টর আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ইসলাম কাউকে গোলাম তৈরী করে না, ইসলাম মানুষকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে উতসাহ দেয়। মানুষ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য পাশ্ববর্তী রাস্ট্র বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। আমাদের একটি নতুন শিক্ষা কমিশন গঠনের ঘোষণা সময়ের দাবী। স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাইলে রক্ত দিয়ে এ সরকারকে উৎখাত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস বলেন, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে হাবুডুবু খেয়ে বেড়ে উঠেছে তারাই এই কারিকুলাম তৈরী করেছে। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলিয়া মাদরাসা। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা সংরক্ষণে দলমত নির্বিশেষে উদ্যোগ নেয়া দরকার। সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।