ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

* পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ

‎বরগুনার পাথরঘাটায় টাকার বিনিময় সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথরঘাটার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বেরিবাঁধ ও সংরক্ষিত বনায়নের জমিতে বহুতল ভবন, দোকানঘর ও বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।‎
‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা ও টেংরা বাজার, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি, কালমেঘা ইউনিয়নের কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটা ও জ্ঞানপাড়া এলাকায় বেরিবাঁধের উপর ও ঢালে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অনেক ভূমিহীন পরিবারও সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন।
‎‎অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি স্থাপনার জন্য ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে। এমনকি পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও টাকার বিনিময়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বেরিবাঁধের উপর বন বিভাগের বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে রাতের আঁধারে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে এসব স্থাপনা তোলা হয়।‎
‎পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই জানান, সংরক্ষিত বনায়নের গাছ কেটে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্লট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
‎‎স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তাকে ঘর তুলতে দেওয়া হয়নি। পরে অন্য এক ব্যক্তি ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর অনুমতি পান বলে দাবি করেন তিনি।
‎‎পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর বলেন, অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। শুনে মনে হচ্ছে, যেন পুরো পাথরঘাটার মালিক তিনিই।‎
‎অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটার মো. মামুনের সাথে কথা তার অফিসে গেলে তিনি সংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলবেন না বলেই স্থান ত্যাগ করেন।
‎এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, জমি দখলের অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিচ্ছে এমন তথ্য জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‎
‎সরকারি সম্পদ রক্ষা ও বেরিবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় :

* পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ

‎বরগুনার পাথরঘাটায় টাকার বিনিময় সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথরঘাটার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বেরিবাঁধ ও সংরক্ষিত বনায়নের জমিতে বহুতল ভবন, দোকানঘর ও বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।‎
‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা ও টেংরা বাজার, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি, কালমেঘা ইউনিয়নের কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটা ও জ্ঞানপাড়া এলাকায় বেরিবাঁধের উপর ও ঢালে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অনেক ভূমিহীন পরিবারও সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন।
‎‎অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি স্থাপনার জন্য ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে। এমনকি পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও টাকার বিনিময়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বেরিবাঁধের উপর বন বিভাগের বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে রাতের আঁধারে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে এসব স্থাপনা তোলা হয়।‎
‎পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই জানান, সংরক্ষিত বনায়নের গাছ কেটে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্লট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
‎‎স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তাকে ঘর তুলতে দেওয়া হয়নি। পরে অন্য এক ব্যক্তি ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর অনুমতি পান বলে দাবি করেন তিনি।
‎‎পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর বলেন, অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। শুনে মনে হচ্ছে, যেন পুরো পাথরঘাটার মালিক তিনিই।‎
‎অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটার মো. মামুনের সাথে কথা তার অফিসে গেলে তিনি সংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলবেন না বলেই স্থান ত্যাগ করেন।
‎এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, জমি দখলের অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিচ্ছে এমন তথ্য জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‎
‎সরকারি সম্পদ রক্ষা ও বেরিবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।