ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্রাক্তন স্বামীকে ফাঁসাতে নিজ কন্যা হত্যা করালো মা  

এম এ রহমান দুলাল ভুইয়া ফেনী জেলা প্রতিনিধি 
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিন-দুপুরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে উম্মে সালমা লামিয়া (৭) নামের পরশুরামের সেই কন্যা শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় সেই কন্যার জন্মদায়িনী মা আয়েশা আক্তার কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৮ ই ফেব্রুয়ারী -২০২৪ ইং বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত হেলমেটধারী ওই দুকন্যাই যুবককে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।এ জন্য গ্রেপ্তাররের পর আদালতে হাজির করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আয়েশার ৭দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে,জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-(১) এর আদালত রিমান্ড শুনানি না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো দির্দেশ প্রদান করেন ফেনীর আদালত ।

মো. শাহাদাত হোসেন পুলিশ ইনচার্জ পরশুরাম মডেল থানা । তিনি নিশ্চিত করে জানান, নিহত লামিয়ার পিতা ও আয়শা আক্তারের প্রাক্তন স্বামী গাড়ী চালক নুরুন্নবীকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা করান শিশুটির মা আয়েশা আক্তার নিজেই । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং বিশেষ তদন্তে এবং সাক্ষ প্রমানে এর সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরশুরাম মডেল থানা সুএে জানা যায় যে , গত ৬ই ফেব্রুয়ারী – ২০২৪ ইং মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় নিহত লামিয়ার পিতা মোঃ নূর নবী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে পরশুরাম থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় একইদিন রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা আয়েশা আক্তার ও সৎ মা রেহানা আক্তারকে আটক করে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ । এরপর দীর্ঘ তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশুটির আপন মা আয়েশাকে স্বীকার উক্ত্তিতের ভিক্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সৎ মা রেহানাকে বাদী মোঃ নুর নবী নিহত শিশুটির পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহত লামিয়ার পিতা নূর নবী জানান , দীর্ঘ দিন আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও আমার পূর্বের স্ত্রী আয়েশার সাথে বিরোধ চলে আসছিল। সে আমাকে ও আমার বর্তমান স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসাতেই আয়েশা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ৭ই ফেব্রুয়ারী ফেনী সদর জেনারেল মডেল হাসপাতালে লামিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন বিকেলে পরশুরামের বাঁশপদুয়ার তার নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে ৬ ই ফেব্রুয়ারী দুপুর ১-৩০ মিঃ সময় হেলমেট পরা দুই যুবক ফেনী জেলার পরশুরাম পৌর এলাকার পশ্চিম বাঁশপদুয়া গ্রামের এয়ার আহাম্মদের ভাড়া বাসায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিয়াকে স্কচটেপ দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাস রোধে হত্যা করে। এ সময় লামিয়ার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রাক্তন স্বামীকে ফাঁসাতে নিজ কন্যা হত্যা করালো মা  

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

দিন-দুপুরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে উম্মে সালমা লামিয়া (৭) নামের পরশুরামের সেই কন্যা শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় সেই কন্যার জন্মদায়িনী মা আয়েশা আক্তার কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৮ ই ফেব্রুয়ারী -২০২৪ ইং বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত হেলমেটধারী ওই দুকন্যাই যুবককে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।এ জন্য গ্রেপ্তাররের পর আদালতে হাজির করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আয়েশার ৭দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে,জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-(১) এর আদালত রিমান্ড শুনানি না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো দির্দেশ প্রদান করেন ফেনীর আদালত ।

মো. শাহাদাত হোসেন পুলিশ ইনচার্জ পরশুরাম মডেল থানা । তিনি নিশ্চিত করে জানান, নিহত লামিয়ার পিতা ও আয়শা আক্তারের প্রাক্তন স্বামী গাড়ী চালক নুরুন্নবীকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা করান শিশুটির মা আয়েশা আক্তার নিজেই । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং বিশেষ তদন্তে এবং সাক্ষ প্রমানে এর সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরশুরাম মডেল থানা সুএে জানা যায় যে , গত ৬ই ফেব্রুয়ারী – ২০২৪ ইং মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় নিহত লামিয়ার পিতা মোঃ নূর নবী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে পরশুরাম থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় একইদিন রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা আয়েশা আক্তার ও সৎ মা রেহানা আক্তারকে আটক করে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ । এরপর দীর্ঘ তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশুটির আপন মা আয়েশাকে স্বীকার উক্ত্তিতের ভিক্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সৎ মা রেহানাকে বাদী মোঃ নুর নবী নিহত শিশুটির পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহত লামিয়ার পিতা নূর নবী জানান , দীর্ঘ দিন আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও আমার পূর্বের স্ত্রী আয়েশার সাথে বিরোধ চলে আসছিল। সে আমাকে ও আমার বর্তমান স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসাতেই আয়েশা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ৭ই ফেব্রুয়ারী ফেনী সদর জেনারেল মডেল হাসপাতালে লামিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন বিকেলে পরশুরামের বাঁশপদুয়ার তার নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে ৬ ই ফেব্রুয়ারী দুপুর ১-৩০ মিঃ সময় হেলমেট পরা দুই যুবক ফেনী জেলার পরশুরাম পৌর এলাকার পশ্চিম বাঁশপদুয়া গ্রামের এয়ার আহাম্মদের ভাড়া বাসায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিয়াকে স্কচটেপ দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাস রোধে হত্যা করে। এ সময় লামিয়ার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।