ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাগমারায় সেনা ক্যাম্পের নামে কাটা হলো সরকারি গাছ

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১০৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগমারা উপজেলাতে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের জ্বালানির যোগানের কথা উল্লেখ করে সড়কের একটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভবানীগঞ্জ–তাহেরপুর সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশেই তারা গাছটি কাটছেন।
গাছ কাটার সময় এক পথচারী মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করলে সেখানে উপস্থিত বাগমারা থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) তার ফোনটি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, দুপুরে ফোনটি নেওয়া হলেও বিকেলে তা ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন যে, সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের রান্নার লাকড়ির প্রয়োজন তাই কাটা হয়েছিল। তার দাবি, গাছটি মৃত ছিল। তারা ১৫০-৬০ জন থাকেন। সেখানে কি পরিমানে লাকড়ি লাগে সেটাতো বোঝেন? আপনি এসে দেখে যান। তার এমন কথার উত্তরে ঐ সাংবাদিক জানান, তিনি শহরে থাকেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাই জানতে চাইলাম।

তবে সরকারি বা বন বিভাগের আওতাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া এ ধরনের গাছ অপসারণ আইনসম্মত নয়।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে মতামত জানানো হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না?
একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি খোলা স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ আইনত অপরাধ না হলে, একজন নাগরিকের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার এখতিয়ার কীভাবে প্রয়োগ করা হলো? এ নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত ব্যাখ্যা এবং বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামছে না। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাগমারায় সেনা ক্যাম্পের নামে কাটা হলো সরকারি গাছ

আপডেট সময় :

বাগমারা উপজেলাতে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের জ্বালানির যোগানের কথা উল্লেখ করে সড়কের একটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভবানীগঞ্জ–তাহেরপুর সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশেই তারা গাছটি কাটছেন।
গাছ কাটার সময় এক পথচারী মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করলে সেখানে উপস্থিত বাগমারা থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) তার ফোনটি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, দুপুরে ফোনটি নেওয়া হলেও বিকেলে তা ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন যে, সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের রান্নার লাকড়ির প্রয়োজন তাই কাটা হয়েছিল। তার দাবি, গাছটি মৃত ছিল। তারা ১৫০-৬০ জন থাকেন। সেখানে কি পরিমানে লাকড়ি লাগে সেটাতো বোঝেন? আপনি এসে দেখে যান। তার এমন কথার উত্তরে ঐ সাংবাদিক জানান, তিনি শহরে থাকেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাই জানতে চাইলাম।

তবে সরকারি বা বন বিভাগের আওতাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া এ ধরনের গাছ অপসারণ আইনসম্মত নয়।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে মতামত জানানো হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না?
একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি খোলা স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ আইনত অপরাধ না হলে, একজন নাগরিকের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার এখতিয়ার কীভাবে প্রয়োগ করা হলো? এ নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত ব্যাখ্যা এবং বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামছে না। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।