ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীতে পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফ্যাক্টরী

বিপর্যস্ত পরিবেশ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

নরসিংদী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবাসিক এলাকায় রাস্তার পাশে লাইসেন্সবিহীন পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফ্যাক্টরী গড়ে উঠার কারনে এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার শালিধা এলাকায় নরসিংদী মদনগঞ্জ সড়কের পার্শ্বে ডায়নামিক পাইরোল পাইবোলাইসিস ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লি: নামে একটি পুরাতন টায়ার ফ্যাক্টরী গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন শতশত মেট্রিকটন পুরাতন টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দিনরাত ২৪ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্তস্থানে পুরাতন টায়ার জ্বালিয়ে বিটুমিন এবং পোড়া তৈল তৈরী করা হচ্ছে। ফলে এ টায়ার ফ্যাক্টরী থেকে নির্গত ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং এ ফ্যাক্টরীর পাশে প্রতিষ্ঠিত আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লি: এ কর্মরত শতশত কর্মচারীসহ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এখানকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমানত শাহ গ্রæপের স্বত্ত¡াধিকারী মো: হেলাল মিয়া জানান, গত ২৯/১০/২৩ইং তারিখে পরিবেশ-বন ও জলবায়ু বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করে এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দুইলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কথায় বলে চোর নাহি শুনে কোন দিন ধর্মের কাহিনী। এ ফ্যাক্টরীর বেলায়ও ঠিক তেমনটি ঘটেছে। দুইলাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পর এ ফ্যাক্টরীর মালিক আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এবং আরো বেশি করে পুরাতন টায়ার জ্বালাতে থাকে। পরবর্তীতে মো: হেলাল মিয়া অতিষ্ঠ হয়ে গত ৩/১১/২৫ইং তারিখে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী প্রেসক্লাব বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ টায়ার ফ্যাক্টরীতে পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফলে এগুলো থেকে বিষাক্ত কার্বন মিশ্রিত স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয় যা আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লি: এ কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী ও এলাকার মানুষসহ প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মারাত্বক ঝুকি বাড়ায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং সালের রাত আনুমানিক ৩টার সময় এ টায়ার ফ্যাক্টরীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়। এতে করে এলাকার মানুষের মারাত্বক ক্ষতি সাধিত হয়।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে সকল প্রকার চেষ্টা করা হবে। তবে লাইসেন্স ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটি চলতে দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কারণ মানুষের ক্ষতি হবে এমন কাজ করতে দেওয়া হবেনা।
এব্যাপারে ডায়নামিক পাইরোল পাইবোলাইসিস ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লি: এর স্বত্ত¡াধিকারী বাবুল চন্দ্র বর্মন এর সাথে আলাপ করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন গিয়ে এতে আমার কিছু আসে যায়না। আমার ফ্যাক্টরী চলবে। একদিনের জন্যও বন্ধ হবেনা। লাইসেন্স নবায়নের ব্যাপারে জ্ঞিজ্ঞাসা করলে বাবুল চন্দ্র বলেন, আমার ফ্যাক্টরী চালাতে হলে লাইসেন্স এর দরকার নেই। যদি কারো ক্ষমতা থাকে তাহলে আমার ফ্যাক্টরী বন্ধ করতে বলুন।
নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: বজলুল হুদা জানান, এ বিষয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ফ্যাক্টরী থেকে আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা প্রদান করার পরও ফ্যাক্টরী মালিক নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে তার পেশি শক্তির বলে একটি ভাড়াকৃত জায়গায় পুনরায় পূর্বের ন্যায় পুরাতন টায়ার প্রজ্বলন করে আসছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের নির্গত গ্যাসের কারনে এলাকার মানুষ শ্বাস প্রশাসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগছে এবং এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে ধূষিত হচ্ছে।
ভ‚ক্তভোগীদের দাবি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক জনস্বার্থে জনসাধারনের সৃষ্ঠ জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুকি থেকে পরিত্রান, আবাদ যোগ্য জমি রক্ষা এবং আমানতশাহ গ্রপের শিল্প প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রক্ষিত কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও মালামাল ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষার জন্য এবং পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ মানুষের জীবন, প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য এবং জীবন রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ অথবা এখান থেকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হউক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীতে পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফ্যাক্টরী

বিপর্যস্ত পরিবেশ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় :

আবাসিক এলাকায় রাস্তার পাশে লাইসেন্সবিহীন পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফ্যাক্টরী গড়ে উঠার কারনে এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার শালিধা এলাকায় নরসিংদী মদনগঞ্জ সড়কের পার্শ্বে ডায়নামিক পাইরোল পাইবোলাইসিস ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লি: নামে একটি পুরাতন টায়ার ফ্যাক্টরী গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন শতশত মেট্রিকটন পুরাতন টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দিনরাত ২৪ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্তস্থানে পুরাতন টায়ার জ্বালিয়ে বিটুমিন এবং পোড়া তৈল তৈরী করা হচ্ছে। ফলে এ টায়ার ফ্যাক্টরী থেকে নির্গত ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং এ ফ্যাক্টরীর পাশে প্রতিষ্ঠিত আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লি: এ কর্মরত শতশত কর্মচারীসহ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এখানকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমানত শাহ গ্রæপের স্বত্ত¡াধিকারী মো: হেলাল মিয়া জানান, গত ২৯/১০/২৩ইং তারিখে পরিবেশ-বন ও জলবায়ু বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করে এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দুইলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কথায় বলে চোর নাহি শুনে কোন দিন ধর্মের কাহিনী। এ ফ্যাক্টরীর বেলায়ও ঠিক তেমনটি ঘটেছে। দুইলাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পর এ ফ্যাক্টরীর মালিক আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এবং আরো বেশি করে পুরাতন টায়ার জ্বালাতে থাকে। পরবর্তীতে মো: হেলাল মিয়া অতিষ্ঠ হয়ে গত ৩/১১/২৫ইং তারিখে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী প্রেসক্লাব বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ টায়ার ফ্যাক্টরীতে পুরাতন টায়ার পোড়ানোর ফলে এগুলো থেকে বিষাক্ত কার্বন মিশ্রিত স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয় যা আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লি: এ কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী ও এলাকার মানুষসহ প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মারাত্বক ঝুকি বাড়ায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং সালের রাত আনুমানিক ৩টার সময় এ টায়ার ফ্যাক্টরীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়। এতে করে এলাকার মানুষের মারাত্বক ক্ষতি সাধিত হয়।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে সকল প্রকার চেষ্টা করা হবে। তবে লাইসেন্স ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটি চলতে দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কারণ মানুষের ক্ষতি হবে এমন কাজ করতে দেওয়া হবেনা।
এব্যাপারে ডায়নামিক পাইরোল পাইবোলাইসিস ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লি: এর স্বত্ত¡াধিকারী বাবুল চন্দ্র বর্মন এর সাথে আলাপ করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন গিয়ে এতে আমার কিছু আসে যায়না। আমার ফ্যাক্টরী চলবে। একদিনের জন্যও বন্ধ হবেনা। লাইসেন্স নবায়নের ব্যাপারে জ্ঞিজ্ঞাসা করলে বাবুল চন্দ্র বলেন, আমার ফ্যাক্টরী চালাতে হলে লাইসেন্স এর দরকার নেই। যদি কারো ক্ষমতা থাকে তাহলে আমার ফ্যাক্টরী বন্ধ করতে বলুন।
নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: বজলুল হুদা জানান, এ বিষয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ফ্যাক্টরী থেকে আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা প্রদান করার পরও ফ্যাক্টরী মালিক নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে তার পেশি শক্তির বলে একটি ভাড়াকৃত জায়গায় পুনরায় পূর্বের ন্যায় পুরাতন টায়ার প্রজ্বলন করে আসছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের নির্গত গ্যাসের কারনে এলাকার মানুষ শ্বাস প্রশাসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগছে এবং এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে ধূষিত হচ্ছে।
ভ‚ক্তভোগীদের দাবি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক জনস্বার্থে জনসাধারনের সৃষ্ঠ জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুকি থেকে পরিত্রান, আবাদ যোগ্য জমি রক্ষা এবং আমানতশাহ গ্রপের শিল্প প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রক্ষিত কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও মালামাল ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষার জন্য এবং পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ মানুষের জীবন, প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য এবং জীবন রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ অথবা এখান থেকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হউক।