ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভারত থেকে উজানের পানিতে ফের তলিয়ে যাচ্ছে ফেনীর লোকালয়

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, ফেনী (দাগনভূঞা)
  • আপডেট সময় : ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

oplus_0

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফেনী অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী উপজেলার উঁচু জমিতে পানির অভাবে কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা লাগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার ভোর থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ছেড়ে দেয়া পানি হু হু করে ঢুকে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ফের তলিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন আগের বন্যার পানি নেমে গেলে ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মুহুরী, কহুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ২২টি অংশের সংস্কারকাজ শুরু করে। তবে গতকাল ফের আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে বন্যায় বিপন্ন কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে ফের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন গতকাল বিকেল পর্যন্ত পরশুরাম উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা, পূর্ব অলকা, নোয়াপুর, উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর, মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া, মধ্যম রাঙ্গামাটিয়াসহ ফুলগাজী উপজেলার মুহুরীর নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই গ্রামে কোথাও কোথাও বুক সমান পানি উঠেছে। ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানিতে ৮ জুলাই মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ১৪টি স্থান ভেঙে উপজেলার মির্জানগর, চিতলিয়া, বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন ও পরশুরাম পৌরসভার প্রায় ৩০ গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধরে তিনটি ও পশ্চিম অলকা গ্রামের মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের পাঁচটি স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙন কবলিক এসব বাঁধ দিয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় নতুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক-সেতু। পরশুরামের পর একে একে ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম কয়েকদিন ধরে বন্যার কবলিত ছিল। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো মেরামতের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনী। বাঁধে মাটি দেয়ার কথা থাকলেও বালু দিয়ে তৈরির অভিযোগে এলাকাবাসী সংস্কার ও মেরামতের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।
পরশুরাম-ফুরগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গতকাল থেকে আবারো পানি বাড়ার সংবাদে ফের বন্যা ফের আতঙ্ক যেন ফেনীবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন পরশুরাম প্রেস ক্লাব সভাপতি ও আমার দেশ প্রতিনিধি এম এ হাসান। পরশুরামের পশ্চিম অলকা গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম বলেন, হঠাৎ করে বন্যায় পানি আসায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি পরিবার-পরিজন ও জিনিসপত্র ঘর থেকে বের করার আগে পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে। পাউবো সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরশুরামে ৬০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সোমবার বেলা ১টায় মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমায় অবস্থান করলেও বিকাল ৪টার দিকে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার। এদিকে ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনের পাইপ ও জিও ব্যাগ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় গতকাল সোমবার থেকে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেনী জেলার উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কোনো বাঁধ খুলে দেয়া। যেহেতু আবারো উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে আগামী ২৩ ও ২৪ জুলাই যার কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ওপরে ২৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে খুবই ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তাই ত্রিপুরা রাজ্য কর্তৃপক্ষে আগে থেকে পানি সংরক্ষণ বাঁধগুলো খালি করে ফেলার জন্য খুলে দিয়েছে যাতে করে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে সব বাঁধ খালি হয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য গত তিন ঘণ্টায় ফেনী জেলার পরশুরামে পানি সমতল ৩২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল রাতে মধ্যে ফেনী জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ২০০ বর্গকিলোমিটারে ব্যাপক বন্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ দিকে মুহুরী নদীর ভারত অংশের ৩০ কিলোমিটার উজানে কালসি নামে একটি ব্যারাজ আছে। এই ব্যারাজের উজানে ১৮ কিলোমিটার ওপরে মুহুরী নদীর উৎস এবং কানেক্টিং ক্যানেল আছে কয়েকটা। যেগুলোতে ভারত পানি সংরক্ষণ করে রাখে। যা গুগল আর্থ থেকে দেখা যায়। ওই জমানো পানি ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে কিনা তা যৌথ নদী কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ভারতের ত্রিপুরার কালসি ব্যারাজের আপ ও ডাউন স্টিমের ওয়াটার লেভেলের তথ্য পাওয়াও বাংলাদেশের জন্য অতীব জরুরি মনে করেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারত থেকে উজানের পানিতে ফের তলিয়ে যাচ্ছে ফেনীর লোকালয়

আপডেট সময় :

ফেনী অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী উপজেলার উঁচু জমিতে পানির অভাবে কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা লাগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার ভোর থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ছেড়ে দেয়া পানি হু হু করে ঢুকে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ফের তলিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন আগের বন্যার পানি নেমে গেলে ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মুহুরী, কহুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ২২টি অংশের সংস্কারকাজ শুরু করে। তবে গতকাল ফের আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে বন্যায় বিপন্ন কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে ফের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন গতকাল বিকেল পর্যন্ত পরশুরাম উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা, পূর্ব অলকা, নোয়াপুর, উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর, মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া, মধ্যম রাঙ্গামাটিয়াসহ ফুলগাজী উপজেলার মুহুরীর নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই গ্রামে কোথাও কোথাও বুক সমান পানি উঠেছে। ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানিতে ৮ জুলাই মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ১৪টি স্থান ভেঙে উপজেলার মির্জানগর, চিতলিয়া, বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন ও পরশুরাম পৌরসভার প্রায় ৩০ গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধরে তিনটি ও পশ্চিম অলকা গ্রামের মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের পাঁচটি স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙন কবলিক এসব বাঁধ দিয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় নতুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক-সেতু। পরশুরামের পর একে একে ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম কয়েকদিন ধরে বন্যার কবলিত ছিল। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো মেরামতের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনী। বাঁধে মাটি দেয়ার কথা থাকলেও বালু দিয়ে তৈরির অভিযোগে এলাকাবাসী সংস্কার ও মেরামতের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।
পরশুরাম-ফুরগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গতকাল থেকে আবারো পানি বাড়ার সংবাদে ফের বন্যা ফের আতঙ্ক যেন ফেনীবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন পরশুরাম প্রেস ক্লাব সভাপতি ও আমার দেশ প্রতিনিধি এম এ হাসান। পরশুরামের পশ্চিম অলকা গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম বলেন, হঠাৎ করে বন্যায় পানি আসায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি পরিবার-পরিজন ও জিনিসপত্র ঘর থেকে বের করার আগে পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে। পাউবো সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরশুরামে ৬০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সোমবার বেলা ১টায় মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমায় অবস্থান করলেও বিকাল ৪টার দিকে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার। এদিকে ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনের পাইপ ও জিও ব্যাগ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় গতকাল সোমবার থেকে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেনী জেলার উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কোনো বাঁধ খুলে দেয়া। যেহেতু আবারো উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে আগামী ২৩ ও ২৪ জুলাই যার কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ওপরে ২৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে খুবই ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তাই ত্রিপুরা রাজ্য কর্তৃপক্ষে আগে থেকে পানি সংরক্ষণ বাঁধগুলো খালি করে ফেলার জন্য খুলে দিয়েছে যাতে করে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে সব বাঁধ খালি হয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য গত তিন ঘণ্টায় ফেনী জেলার পরশুরামে পানি সমতল ৩২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল রাতে মধ্যে ফেনী জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ২০০ বর্গকিলোমিটারে ব্যাপক বন্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ দিকে মুহুরী নদীর ভারত অংশের ৩০ কিলোমিটার উজানে কালসি নামে একটি ব্যারাজ আছে। এই ব্যারাজের উজানে ১৮ কিলোমিটার ওপরে মুহুরী নদীর উৎস এবং কানেক্টিং ক্যানেল আছে কয়েকটা। যেগুলোতে ভারত পানি সংরক্ষণ করে রাখে। যা গুগল আর্থ থেকে দেখা যায়। ওই জমানো পানি ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে কিনা তা যৌথ নদী কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ভারতের ত্রিপুরার কালসি ব্যারাজের আপ ও ডাউন স্টিমের ওয়াটার লেভেলের তথ্য পাওয়াও বাংলাদেশের জন্য অতীব জরুরি মনে করেন তারা।