ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

মাগুরার শ্রীপুরে টেন্ডার ছাড়াই কলেজের গাছ বিক্রির অভিযোগ

মোঃ সিরাজুল ইসলাম টোকন, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কমলাপুর জি.কে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের পুরাতন মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস নিয়মবহির্ভূতভাবে টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই গাছগুলো কেটেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গাছ কাটার আগে কোনো নিলাম, মিটিং ও রেজুলেশন করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত (২৬ জানুয়ারি) শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে কলেজের গাছগুলো কেটে বিক্রি করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা গাছ কাটার প্রয়োজন হলে নিলামে বা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার অনুমতি প্রয়োজন। এছাড়া বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়।

কিন্তু এসবের কোন তোয়াক্কা করেননি গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস। অবশ্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকদের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন ইলিয়াস বিশ্বাস। গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস জানান, গাছ কাটার আগে ফোন দিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছিলাম এবং আমাকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গাছ কাটার পরে কলেজ কতৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে বলে আমরা কলেজের কোনো বড়ো গাছ কাটার অনুমতি দেই নাই শুধুমাত্র ছোট গাছ ও আগাছা পরিস্কারের অনুমতি দিয়েছি। এ বিষয়ে প্রথমদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জি.কে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, কলেজের বড়ো গাছ কাটার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি শুধুমাত্র ছোট গাছ ও আগাছা পরিস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ইলিয়াস বিশ্বাসকে কিন্তু সে আমাকে না জানিয়ে সে গাছগুলো কেটেছে। বড়ো গাছ কাটার আমি কোনো অনুমতি দেয়নি। পরে উক্ত বিষয়ে গভর্নিং বডির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইলিয়াস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গাছ বিক্রি করে অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ নুরুজ্জোহা বলেন, কলেজের দক্ষিণ পাশের কিছু আগাছা ও মরা গাছ অপসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাসকে। কিন্তু সে আমাদেরকে না জানিয়ে উওর পাশের বড়ো গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়। কাউকে না জানিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই তার অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখিয়ে সে গাছগুলো কেটেছে। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাগুরার শ্রীপুরে টেন্ডার ছাড়াই কলেজের গাছ বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কমলাপুর জি.কে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের পুরাতন মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস নিয়মবহির্ভূতভাবে টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই গাছগুলো কেটেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গাছ কাটার আগে কোনো নিলাম, মিটিং ও রেজুলেশন করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত (২৬ জানুয়ারি) শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে কলেজের গাছগুলো কেটে বিক্রি করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা গাছ কাটার প্রয়োজন হলে নিলামে বা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার অনুমতি প্রয়োজন। এছাড়া বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়।

কিন্তু এসবের কোন তোয়াক্কা করেননি গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস। অবশ্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকদের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন ইলিয়াস বিশ্বাস। গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাস জানান, গাছ কাটার আগে ফোন দিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছিলাম এবং আমাকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গাছ কাটার পরে কলেজ কতৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে বলে আমরা কলেজের কোনো বড়ো গাছ কাটার অনুমতি দেই নাই শুধুমাত্র ছোট গাছ ও আগাছা পরিস্কারের অনুমতি দিয়েছি। এ বিষয়ে প্রথমদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জি.কে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস,এম নায়েব আলীর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, কলেজের বড়ো গাছ কাটার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি শুধুমাত্র ছোট গাছ ও আগাছা পরিস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ইলিয়াস বিশ্বাসকে কিন্তু সে আমাকে না জানিয়ে সে গাছগুলো কেটেছে। বড়ো গাছ কাটার আমি কোনো অনুমতি দেয়নি। পরে উক্ত বিষয়ে গভর্নিং বডির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইলিয়াস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গাছ বিক্রি করে অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ নুরুজ্জোহা বলেন, কলেজের দক্ষিণ পাশের কিছু আগাছা ও মরা গাছ অপসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ ইলিয়াস বিশ্বাসকে। কিন্তু সে আমাদেরকে না জানিয়ে উওর পাশের বড়ো গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়। কাউকে না জানিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই তার অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখিয়ে সে গাছগুলো কেটেছে। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিয়েছি।