মুকসুদপুরে তিন মাস নিখোঁজ তৌহিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ৩৯ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকা তৌহিদুল ইসলাম (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তৌহিদুল ইসলাম মুকসুদপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের বাসিন্দা আকতার আলী মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে পূর্ব ভাকুড়ি গ্রামের পরেশ বিশ্বাসের বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পুকুরে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন স্থানীয় যুবক। এ সময় তন্ময় নামের এক যুবকসহ কয়েকজন পুকুরের পানির নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দ্রুত এলাকাবাসীকে জানানো হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। নিহতের বাবা আকতার আলী মোল্লা নিশ্চিত করেন যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার ছেলে তৌহিদুল ইসলামের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তৌহিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা আকতার আলী মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন,
“আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। এখন তার লাশ পাওয়া গেল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার বিষয়সহ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তৌহিদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি উত্তেজনাও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।




















