মৎস্যজীবিদের রোগাক্রান্ত বকনা বাছুর বিতরণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৪৫ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবিদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।একাদিক বাছুর রোগাক্রান্ত ও ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।গতকাল শুক্রবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।তবে বাছুরগুলো রোগাক্রান্ত,আকারে ছোট ও ওজনে সরকার নির্ধারিত মানের দেওয়া হয়নি।জেলে হিসেবে নিবন্ধন থাকলেও বেশীরভাগই জেলে নয়।এদের মধ্যে কেউ কেউ সুবিধা নেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য বিভাগের সহযোগীতায় জেলে হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছে।এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বকনা বাছুর বিতরণ করা।এবং জেলেদের মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা।এর ফলে জেলে পরিবারগুলো দুধ উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে স্থায়ী আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা।মূলত জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ-শামুক রক্ষায় প্রকৃত জেলেদের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে গবাদি পশু বিতরণ করা।নিবন্ধিত প্রকৃত জেলেদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের বকনা বাছুর বিতরণ করছে এই প্রকল্পে।সুফলভোগী জেলে পরিবারগুলোকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে এই প্রকল্পে।সূত্রে জানা যায় উপজেলায় ৬০ জন নিবন্ধিত জেলেকে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতিটি বাছুর উন্নত জাতের সুস্থ বকনা হতে হবে এবং ওজন হবে অন্তত ৬৫ কেজি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিতরণকৃত বকনা বাছুরগুলি সঠিক নিয়মের মধ্যে নেই।বেশী সংখ্যক বকনা বাছুর দেশীয় জাতের,
রোগাক্রান্ত এবং ওজনে কম।বাছুর প্রতি বর্তমান বাজার দর গড়ে আনুমানিক ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে।এবং ওজন ছিল ৫০ থেকে ৫৫ কেজি।উপজেলার সুফলভোগী অনেকের সংগে কথা বলে জানা যায়-বকনা বাছুর গুলো বেশি সংখ্যক রোগাক্রান্ত,
পচনশীল রোগ ও ওজনে কম রয়েছে।ইতিমধ্যে বকনা বাছুর গুলকে চিকিৎসা করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।গুনতে হচ্ছে অর্থ।সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।সিংগা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুবিধাভুগী তপন রায় প্রতিবেদককে বলেন-লটারির মাধ্যমে বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।দেওয়ার সময় লক্ষ করিনি বাড়িতে আসার পর দেখতে পাই বাছুরের পায়ে ক্ষত,চিকিৎসক এনে অস্ত্র পাচার করতে হয়েছে,আমি সুদে ও ধার করে টাকা এনে চিকিৎসার ব্যয় বহন করছি।তিনি আরো জানান-আমাদের সুস্থ গরু দেওয়ার কথা থাকলেও কেন প্রতারণা করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের কাছে জানানোর কথা বল্লে তিনি বলেন ভয়ে জানাইনি।গরু নিয়ে নিলে যদি আর না দেয়।একই ইউনিয়নের অন্য সুবিধাভোগী সুভাষ ঢালীর স্ত্রী প্রতিবেদককে জানান-যখন বকনা বাছুর টি বাড়িতে এনেছে তখনই শরীরে ক্ষতছিল।আমরা বিভিন্ন ভাবে চিকিৎসা সেবা করছি।প্রতিদিন ইনজেকশন দিতে হচ্ছে।সুস্থ গরু দেওয়ার কথা ছিলো তবে আমাদের অসুস্থ গরু দেয়া হয়েছে।সুবিধাভুগী উপজেলার মাহমুদপু ইউনিয়নের বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস প্রতিবেদককে জানান-আমাকে একটি বকনা বাছুর দেওয়া হয়েছে যার লেজের অর্ধেক অংশ নেই, কোন রোগে হয়তো লেজ পড়ে গিয়েছে,বিকলাঙ্গ গরুর দাম কম থাকে হয়তো সেজন্য এ গরু দিয়ে দ্বায় সেরেছে।আমি স্যারকে বলেছিলাম স্যার বলেছে লেজ জালিয়ে যাবে।উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের সুফলভোগী বিল্লাল ঠাকুর প্রতিবেদককে বলেন-আমি যে গরুটা পেয়েছি তার রানে,
মাথায়,পেটে ও কপালে ক্ষত রয়েছে কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।বাছুর কি উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন গরিব হিসেবে দিয়েছে।পেশায় তিনি একজন কৃষক।বেথুরী ইউনিয়নের সুফলভোগী লিমন সরদার প্রতিবেদককে বলেন-মৎস্য অফিসের মাধ্যমে একটি বাছুর পেয়েছি ওজন ৫০ কেজি হতে পারে।এছাড়াও সুফলভোগী মোঃ জাহিদ মোল্লা,বিপদ বিশ্বাস,চুনে পোদ্দার,কাঞ্চন শেখ,বিকর্ন ভৌমিক,দিপক মল্লিক সহ প্রায় সকলের সাথে কথা বলে যানা যায়,৬০টি বাছুরের মধ্যে ৫টি আকারে ছোট ও ওজনে কম থাকায় বাদ দেওয়া হয়েছিল।পরে সে গুলি আবার তাদের মধ্যে দেওয়া হয়।অনেক অসুস্থ এবং ওজনে কম থাকায় নিতে না চাইলে মৎস্য অফিসার তাদের স্পস্ট জানান আপনারা বাছুর না নিলে প্রকল্প ফেরত চলে যাবে। পরে বাধ্য হয়েই নিয়েছি।সরেজমিন ঘুরে এসে বৃহস্পতিবার(১২ মার্চ)উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আনিচুর রহমান প্রধানের কাছে এ সব বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান-পিডি অফিস থেকে আমাদের সকল কিছু নির্ধারন করে আমি এসব কিছুই জানিনা।আমার তেমন কোন দায়িত্ব ছিল না।অসুস্থ গরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারের দায়িত্ব ছিল।নিবন্ধিত জেলে প্রকৃত জেলে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান এ সব কার্ড আগেই করা ছিল।আর নিয়মে আছে নিবন্ধিত জেলেরা এই সুবিধা পাবে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার শুভঙ্কর দত্তর সাথে কথা বললে তিনি জানান,বকরা বাছুর বিতরণের সময় সবগুলোই সুস্থ ছিল,পরে কোন সমস্যা হলে আমাদের সহায়তায় চিকিৎসা নিতে পারতেন।এ প্রকল্পের গোপালগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক(পিডি)খালিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন-বিতরনের সময় উপজেলায় দায়িত্বে থাকা মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ অফিসার ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী বুঝে নেওয়ার কথা।তবে বকনা বাছুরের ওজন অন্তত ৬৫ কেজি হতে হবে।এবং বাছুর প্রতি মূল্য নির্ধারন করা ৩৫ হাজার টাকা।নিবন্ধিত জেলে যদি প্রকৃত জেলে না হয় সে দায়িত্ব যাহারা নিবন্ধন দিয়েছে তাদের।কারন নিবন্ধিত প্রকৃত জেলেদের সুবিধা দেওয়ার পূর্বে যাচাই-বাছাই করা হয়।এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান-নিবন্ধিত জেলেদের বকনা বাছুর বিতরন করা হয়েছে,তবে এদের মধ্যে যদি প্রকৃত জেলে না থাকে আর জেলে হিসেবে কার্ড পেয়ে থাকে এবং সুবিধা পায় আমরা খতিয়ে দেখব।আর বাছুর বিতরন বা রোগাক্রান্ত থাকলে এবং যদি কোন অনিয়ম থাকে তদন্ত পৃর্বক ব্যবস্তা গ্রহন করবো।


















