ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

শরীয়তপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বালতিতে করে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

নড়িয়া (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গতকাল সোমবার উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-সমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোররাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের লোকজন। এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
সারিকা বেগম নামের এক নারী বলেন, আমার স্বামী-সন্তান বিদেশে থাকে। আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
চন্দ্রবান বেগম নামের আরেকজন বলেন, আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। এ কারণে হঠাৎ করেই আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমার স্বামী ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। উল্টো তারাই আগে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।
অন্যদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য শারমিন বেগম দাবি করেন, হাফিজ ভূইয়ার লোকজনই এলাকায় আগে থেকে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শরীয়তপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বালতিতে করে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট সময় :

গতকাল সোমবার উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-সমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোররাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের লোকজন। এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
সারিকা বেগম নামের এক নারী বলেন, আমার স্বামী-সন্তান বিদেশে থাকে। আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
চন্দ্রবান বেগম নামের আরেকজন বলেন, আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। এ কারণে হঠাৎ করেই আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমার স্বামী ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। উল্টো তারাই আগে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।
অন্যদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য শারমিন বেগম দাবি করেন, হাফিজ ভূইয়ার লোকজনই এলাকায় আগে থেকে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।